যাকাত
যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। কুরআনে বহু জায়গায় নামাজের সাথে যাকাতের কথা এসেছে। যাকাত সম্পদকে পবিত্র করে এবং সমাজের অভাবী মানুষের অধিকার আদায় করে।
কার উপর যাকাত ফরজ
যে মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের, মৌলিক প্রয়োজন ও ঋণ বাদে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, এবং সেই সম্পদের উপর এক চান্দ্র বছর পূর্ণ হয়েছে — তার উপর যাকাত ফরজ।
| নিসাব | পরিমাণ |
|---|---|
| স্বর্ণ | ৭.৫ ভরি (প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম) |
| রুপা | ৫২.৫ ভরি (প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম) |
| নগদ অর্থ ও ব্যবসায়িক পণ্য | রুপার নিসাবের মূল্যের সমান (হানাফি মতে, গরিবদের জন্য বেশি উপকারী বলে) |
যাকাতের হার: মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ)। যাকাতযোগ্য সম্পদ: নগদ টাকা, ব্যাংকে জমা, স্বর্ণ-রুপা, ব্যবসার পণ্য, শেয়ার, পাওনা টাকা ইত্যাদি। বসবাসের বাড়ি, ব্যবহারের গাড়ি, আসবাব ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে যাকাত নেই।
যাকাত পাওয়ার যোগ্য আট শ্রেণি
- ফকির (যার কিছুই নেই)
- মিসকিন (যার প্রয়োজনের চেয়ে কম আছে)
- যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মী
- যাদের অন্তর ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করা প্রয়োজন
- দাসমুক্তি
- ঋণগ্রস্ত
- আল্লাহর পথে
- মুসাফির (বিপদগ্রস্ত পথিক)
নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি, সন্তান-নাতি-নাতনি ও স্বামী-স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া যায় না; তবে ভাই-বোন, চাচা-মামা প্রমুখ গরিব আত্মীয়দের দেওয়া উত্তম — এতে যাকাত ও আত্মীয়তা রক্ষা দুটোরই সওয়াব।
সাদাকাতুল ফিতর
ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় যে ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন, তার উপর নিজের ও নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব; ঈদের নামাজের আগে আদায় করা উত্তম।