মক্কার তেরো বছরের ধৈর্য
প্রথম তিন বছর দাওয়াত ছিল গোপনে। প্রথম ঈমান আনেন খাদিজা (রাঃ), আবু বকর (রাঃ), আলী (রাঃ) ও যায়েদ (রাঃ)। এরপর সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য ঘোষণা।
বিরোধিতা শুরু হলো সাথে সাথেই — কারণ তাওহিদ মূর্তি-ব্যবসা ও গোত্রের অহংকার দুটোকেই ভেঙে দেয়। নির্যাতনের শিকার হলেন বিশেষত দুর্বলেরা:
- বিলাল (রাঃ) — উত্তপ্ত বালিতে বুকে পাথর চাপিয়ে; মুখে একটাই শব্দ, “আহাদ, আহাদ”।
- সুমাইয়া (রাঃ) — ইসলামের প্রথম শহীদ।
- পুরো বনু হাশিম — তিন বছরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কট, গাছের পাতা খেয়ে দিন কাটানো।
এই সময়েই দুইবার হাবশায় (আবিসিনিয়া) হিজরত হয়, যেখানে খ্রিস্টান বাদশাহ নাজাশি সাহাবিদের আশ্রয় দেন। তারপর আসে দুঃখের বছর — আবু তালিব ও খাদিজা (রাঃ) দুজনেই ইন্তেকাল করেন।
তায়েফে দাওয়াত দিতে গিয়ে পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে ফেরার পথে তিনি দোয়া করেন — নিজের জন্য নয়, তাদের হেদায়েতের জন্য। ফেরেশতা পাহাড় চাপা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি বলেন: “না, আশা করি এদের বংশধর থেকেই আল্লাহর ইবাদতকারী বের হবে।”
মক্কার পাঠ: সত্যের পথে কষ্ট আসবেই, আর জবাব দিতে হবে ধৈর্য ও উত্তম ব্যবহারে।