মূল লেখায় যান
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজা ও রমজান

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ١٨٣ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ কুতিবা ‘আলাইকুমুস সিয়া-মু কামা কুতিবা ‘আলাল লাযীনা মিন কাবলিকুম লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূনহে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকেদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।সূরা আল-বাকারা ২:১৮৩

রমজান মাসের রোজা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের, মুকীম ও সামর্থ্যবান মুসলিমের উপর ফরজ। রোজা মানে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তের সাথে পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকা।

সেহরি ও ইফতার

  • সেহরি খাওয়া সুন্নাত, এতে বরকত রয়েছে (বুখারী ১৯২৩); সুবহে সাদিকের আগে শেষ সময় পর্যন্ত দেরি করা উত্তম।
  • সূর্যাস্তের সাথে সাথে দেরি না করে ইফতার করা সুন্নাত (বুখারী ১৯৫৭); খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা উত্তম।
  • আপনার এলাকার আজকের সেহরি ও ইফতারের সময় দেখুন সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি পাতায়।

ইফতারের পর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলতেন:

ذَهَبَ الظَّمَأُ، وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللّٰهُযাহাবায যামা-উ, ওয়াবতাল্লাতিল ‘উরূকু, ওয়া সাবাতাল আজরু ইন শা-আল্লা-হপিপাসা দূর হয়েছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে প্রতিদান নির্ধারিত হয়েছে।
(আবু দাউদ ২৩৫৭) আমাদের দেশে প্রচলিত “আল্লা-হুম্মা লাকা সুমতু…” দোয়াটিও বর্ণিত আছে।

যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়

  • ইচ্ছাকৃত খাওয়া, পান করা বা স্ত্রী-সহবাস (সহবাসে কাযা ও কাফফারা দুটোই)।
  • ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করা।
  • ধূমপান করা, নাক বা মুখ দিয়ে ওষুধ বা খাদ্য পেটে পৌঁছানো।
  • মাসিক বা নিফাস শুরু হওয়া।

ভুলে খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙে না — মনে পড়ার সাথে সাথে বিরত থাকুন (বুখারী ১৯৩৩)। ইনজেকশন, চোখের ড্রপ, অনিচ্ছায় বমি, মিসওয়াক ও স্বপ্নদোষে রোজা ভাঙে না।

যাদের রোজা না রাখার অনুমতি আছে

অসুস্থ ব্যক্তি ও মুসাফির — পরে কাযা করবেন; গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা (নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে) — পরে কাযা; অতি বৃদ্ধ যিনি কখনো রোজা রাখতে পারবেন না — প্রতিটি রোজার বদলে ফিদইয়া দেবেন।

যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার আগের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (বুখারী ৩৮, মুসলিম ৭৬০) রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করুন — যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।