মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
فاطر

সূরা ফাতির

আদি স্রষ্টা · সূরা নং ৩৫ · ৪৫ আয়াত · ৫ রুকু · মাক্কী · পারা ২২
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ جَاعِلِ ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ رُسُلًا أُو۟لِىٓ أَجْنِحَةٍۢ مَّثْنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَ ۚ يَزِيدُ فِى ٱلْخَلْقِ مَا يَشَآءُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ١
আলহামদু লিল্লা-হি ফা-তিরিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি জা-‘ইলিল মালা-ইকাতি রুসুলান উলী আজনিহাতিম মাছনা ওয়াছুলা-ছা ওয়ারুবা-‘ ইয়াযীদু ফিল খালকি মা ইয়াশা-আ ইন্নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
যাবতীয় প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর জন্য। তিনি দূত মনোনীত করেন ফেরেশতামন্ডলীকে, যারা দুই দুই বা তিন তিন বা চার চার ডানা বিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছে বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান।
مَّا يَفْتَحِ ٱللَّهُ لِلنَّاسِ مِن رَّحْمَةٍۢ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا ۖ وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُۥ مِنۢ بَعْدِهِۦ ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٢
মা ইয়াফতাহিল্লা-হু লিন্না-সি মির রাহমাতিন ফালা মুমসিকা লাহা ওয়ামা ইউমসিক ফালা মুরসিলা লাহূ মিম বা‘দিহ ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম
আল্লাহ মানুষের জন্য তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা খুলে দেন তা নিবারণ করার কেউ নেই। আর তিনি যা বারিত করেন অতঃপর কেউ তা প্রেরণ করতে পারে না। তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ هَلْ مِنْ خَٰلِقٍ غَيْرُ ٱللَّهِ يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ ٣
ইয়া-আইয়্যুহান না-সুযকুরূ নি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম হাল মিন খা-লিকিন গাইরুল্লা-হি ইয়ারযুকুকুম মিনাস সামা-ই ওয়ালআরদ লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া ফাআন্না তু’ফাকূন
হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর। তিনি ছাড়া কোন সৃষ্টিকর্তা আছে কি যে তোমাদেরকে আকাশ ও যমীন থেকে রিযক দান করে? তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তাহলে কীভাবে তোমরা বিপথগামী হচ্ছ?
وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌۭ مِّن قَبْلِكَ ۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ ٤
ওয়াইন ইউকায্যিবূকা ফাকাদ কুয্যিবাত রুসুলুম মিন কাবলিক ওয়াইলাল্লা-হি তুরজা‘উল উমূর
তারা যদি তোমাকে মিথ্যে বলে অস্বীকার করে, তাহলে (তাদের এ আচরণ তো কোন নতুন বিষয় নয়) তোমার পূর্বেও রসূলদেরকে মিথ্যে বলে অস্বীকার করা হয়েছে। (যে যা-ই কিছু করুক না কেন) সমস্ত কার্যকলাপ (হিসাব নিকাশের জন্য) আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ ۖ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا ۖ وَلَا يَغُرَّنَّكُم بِٱللَّهِ ٱلْغَرُورُ ٥
ইয়া-আইয়্যুহান না-সু ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুন ফালা তাগুর্রান্নাকুমুল হায়া-তুদ দুনইয়া ওয়ালা ইয়াগুর্রান্নাকুম বিল্লা-হিল গারূর
হে মানুষ! আল্লাহর ওয়া‘দা সত্য, কাজেই পার্থিব জীবন কিছুতেই যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে; আর সেই প্রধান প্রতারক (শয়ত্বান) যেন কিছুতেই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত না করে।
إِنَّ ٱلشَّيْطَٰنَ لَكُمْ عَدُوٌّۭ فَٱتَّخِذُوهُ عَدُوًّا ۚ إِنَّمَا يَدْعُوا۟ حِزْبَهُۥ لِيَكُونُوا۟ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلسَّعِيرِ ٦
ইন্নাশ শাইতা-না লাকুম ‘আদুউন ফাত্তাখিযূহু ‘আদুওয়া ইন্নামা ইয়াদ‘ঊ হিযবাহূ লিয়াকূনূ মিন আসহা-বিস সা‘ঈর
শয়ত্বান তোমাদের শত্রু, কাজেই তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ কর। সে কেবল তার দলবলকে ডাকে, যাতে তারা জ্বলন্ত অগ্নির সঙ্গী হয়।
ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَهُمْ عَذَابٌۭ شَدِيدٌۭ ۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌۭ وَأَجْرٌۭ كَبِيرٌ ٧
আল্লাযীনা কাফারূ লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুঁ ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি লাহুম মাগফিরাতুঁ ওয়াআজরুন কাবীর
যারা কুফুরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আর যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা প্রতিফল।
أَفَمَن زُيِّنَ لَهُۥ سُوٓءُ عَمَلِهِۦ فَرَءَاهُ حَسَنًۭا ۖ فَإِنَّ ٱللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ ۖ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَٰتٍ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِمَا يَصْنَعُونَ ٨
আফামান যুইয়্যিনা লাহূ সূউ ‘আমালিহী ফারাআ-হু হাসানান ফাইন্নাল্লা-হা ইউদিল্লু মান ইয়াশা-উ ওয়ায়াহদী মান ইয়াশা-উ ফালা তাযহাব নাফসুকা ‘আলাইহিম হাসারা-ত ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিমা ইয়াসনা‘ঊন
যাকে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় ক’রে দেখানো হয়, অতঃপর সে সেটাকে উত্তম মনে করে (সে কি তার সমান, যে সৎ পথে পরিচালিত?) আল্লাহ যাকে ইচ্ছে বিপথগামী করেন, আর যাকে ইচ্ছে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। কাজেই তাদের জন্য আক্ষেপ ক’রে, তুমি তোমার জীবনকে ধ্বংস হতে দিও না। তারা যা করে আল্লাহ তা খুব ভালভাবেই জানেন।
وَٱللَّهُ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ ٱلرِّيَٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابًۭا فَسُقْنَٰهُ إِلَىٰ بَلَدٍۢ مَّيِّتٍۢ فَأَحْيَيْنَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ كَذَٰلِكَ ٱلنُّشُورُ ٩
ওয়াল্লা-হুল লাযী আরসালার রিয়া-হা ফাতুছীরু সাহা-বান ফাসুকনা-হু ইলা বালাদিম মাইয়্যিতিন ফাআহইয়াইনা বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা কাযা-লিকান নুশূর
আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘ সঞ্চার করে, অতঃপর আমি তা নির্জীব ভূখন্ডের দিকে পরিচালিত করি। অতঃপর আমি তা দিয়ে মৃত্তিকাকে তার মৃত্যুর পর আবার সঞ্জীবিত করি। এভাবেই (ঘটবে) পুনরুত্থান।
مَن كَانَ يُرِيدُ ٱلْعِزَّةَ فَلِلَّهِ ٱلْعِزَّةُ جَمِيعًا ۚ إِلَيْهِ يَصْعَدُ ٱلْكَلِمُ ٱلطَّيِّبُ وَٱلْعَمَلُ ٱلصَّٰلِحُ يَرْفَعُهُۥ ۚ وَٱلَّذِينَ يَمْكُرُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ لَهُمْ عَذَابٌۭ شَدِيدٌۭ ۖ وَمَكْرُ أُو۟لَٰٓئِكَ هُوَ يَبُورُ ١٠
মান কা-না ইউরীদুল ‘ইয্যাতা ফালিল্লা-হিল ‘ইয্যাতু জামী‘আ ইলাইহি ইয়াস‘আদুল কালিমুত তাইয়্যিবু ওয়াল‘আমালুস সা-লিহু ইয়ারফা‘উহ ওয়াল্লাযীনা ইয়ামকুরূনাস সাইয়্যিআ-তি লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুঁ ওয়ামাকরু উলা-ইকা হুওয়া ইয়াবূর
কেউ সম্মান-সুখ্যাতি চাইলে (আল্লাহকে উপেক্ষা করে তা লাভ করা যাবে না), সে জেনে নিক যাবতীয় সম্মান-সুখ্যাতির অধিকারী হলেন আল্লাহ। তাঁরই দিকে উত্থিত হয় পবিত্র কথাগুলো আর সৎকাজ সেগুলোকে উচ্চে তুলে ধরে। যারা মন্দ কাজের চক্রান্ত করে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। তাদের চক্রান্ত নিষ্ফল হবে।
وَٱللَّهُ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍۢ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍۢ ثُمَّ جَعَلَكُمْ أَزْوَٰجًۭا ۚ وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَىٰ وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِۦ ۚ وَمَا يُعَمَّرُ مِن مُّعَمَّرٍۢ وَلَا يُنقَصُ مِنْ عُمُرِهِۦٓ إِلَّا فِى كِتَٰبٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٌۭ ١١
ওয়াল্লা-হু খালাকাকুম মিন তুরা-বিন ছুম্মা মিন নুতফাতিন ছুম্মা জা‘আলাকুম আযওয়া-জা ওয়ামা তাহমিলু মিন উনছা ওয়ালা তাদা‘উ ইল্লা বি‘ইলমিহ ওয়ামা ইউ‘আম্মারু মিম মু‘আম্মারিঁ ওয়ালা ইউনকাসু মিন ‘উমুরিহী ইল্লা ফী কিতা-ব ইন্না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াসীর
আল্লাহ তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর শুক্র-বিন্দু হতে, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে করেছেন (স্বামী-স্ত্রীর) জোড়া। তাঁর অবগতি ব্যতীত কোন নারী গর্ভ ধারণ করে না বা (তার বোঝা) হালকা করে না। কোন দীর্ঘায়ুর আয়ু দীর্ঘ করা হয় না, আর তার আয়ু কমানো হয় না কিতাবের লিখন ছাড়া। এটা (অর্থাৎ এ সবের হিসাব রাখা ও তত্ত্বাবধান করা) আল্লাহর জন্য সহজ।
وَمَا يَسْتَوِى ٱلْبَحْرَانِ هَٰذَا عَذْبٌۭ فُرَاتٌۭ سَآئِغٌۭ شَرَابُهُۥ وَهَٰذَا مِلْحٌ أُجَاجٌۭ ۖ وَمِن كُلٍّۢ تَأْكُلُونَ لَحْمًۭا طَرِيًّۭا وَتَسْتَخْرِجُونَ حِلْيَةًۭ تَلْبَسُونَهَا ۖ وَتَرَى ٱلْفُلْكَ فِيهِ مَوَاخِرَ لِتَبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِهِۦ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ١٢
ওয়ামা ইয়াসতাউইল বাহরা-নি হা-যা ‘আযবুন ফুরা-তুন সা-ইগুন শারা-বুহূ ওয়াহা-যা মিলহুন উজা-জুঁ ওয়ামিন কুল্লিন তা’কুলূনা লাহমান তারিয়্যাঁ ওয়াতাসতাখরিজূনা হিলইয়াতান তালবাসূনাহা ওয়াতারাল ফুলকা ফীহি মাওয়া-খিরা লিতাবতাগূ মিন ফাদলিহী ওয়ালা‘আল্লাকুম তাশকুরূন
দু’টি দরিয়াও এক রকম নয়। একটি সুমিষ্ট, সুস্বাদু, সুপেয়; অন্যটি লবণাক্ত, বিস্বাদ। তথাপি তোমরা সকল (প্রকার পানি) থেকে তাজা গোশত আহার কর আর বের কর অলংকার- পরিধান করার জন্যে। তোমরা দেখতে পাও নৌযানগুলো ঢেউয়ের বুক চিরে চলাচল করে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ খোঁজ করতে পার, আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ كُلٌّۭ يَجْرِى لِأَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ ٱلْمُلْكُ ۚ وَٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ مَا يَمْلِكُونَ مِن قِطْمِيرٍ ١٣
ইউলিজুল লাইলা ফিন নাহা-রি ওয়াইউলিজুন নাহা-রা ফিল লাইলি ওয়াসাখ্খারাশ শামসা ওয়ালকামারা কুল্লুঁ ইয়াজরী লিআজালিম মুসাম্মা যা-লিকুমুল্লা-হু রাব্বুকুম লাহুল মুলক ওয়াল্লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূনিহী মা ইয়ামলিকূনা মিন কিতমীর
তিনি রাতকে দিনে ঢুকিয়ে দেন, আর দিনকে রাতে ঢুকিয়ে দেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে তাঁর নিয়ন্ত্রণের অধীনে (কাজে নিয়োজিত) রেখেছেন। প্রত্যেকেই নির্ধারিত সময় অনুসারে গতিশীল আছে। এই হলেন আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক। রাজত্ব তাঁরই। তোমরা তাঁর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা তো খেজুরের অাঁটি সংলগ্ন (অত্যন্ত পাতলা ও দুর্বল) আবরণেরও মালিক নয়।
إِن تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا۟ دُعَآءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا۟ مَا ٱسْتَجَابُوا۟ لَكُمْ ۖ وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ ۚ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍۢ ١٤
ইন তাদ‘ঊহুম লা ইয়াসমা‘ঊ দু‘আ-আকুম ওয়ালাও সামি‘ঊ মাসতাজা-বূ লাকুম ওয়ায়াওমাল কিয়া-মাতি ইয়াকফুরূনা বিশিরকিকুম ওয়ালা ইউনাব্বিউকা মিছলু খাবীর
তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না আর যদি শুনেও, তবুও তোমাদের (ডাকে) সাড়া দিতে পারবে না। আর তোমরা যে তাদেরকে (আল্লাহর) অংশীদার গণ্য করতে, ক্বিয়ামতের দিন তা তারা অস্বীকার করবে। কেউই তোমাদেরকে সর্বজ্ঞ আল্লাহর মত খবর জানাতে পারবে না।
۞ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ أَنتُمُ ٱلْفُقَرَآءُ إِلَى ٱللَّهِ ۖ وَٱللَّهُ هُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ ١٥
ইয়া-আইয়্যুহান না-সু আনতুমুল ফুকারা-উ ইলাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু হুওয়াল গানিয়্যুল হামীদ
হে মানুষ! তোমরাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী, আর আল্লাহ তিনি তো অভাবহীন, প্রশংসিত।
إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ وَيَأْتِ بِخَلْقٍۢ جَدِيدٍۢ ١٦
ইন ইয়াশাআ ইউযহিবকুম ওয়ায়া’তি বিখালকিন জাদীদ
তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে বিলুপ্ত করতে পারেন, আর এক নতুন সৃষ্টি আনতে পারেন।
وَمَا ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ بِعَزِيزٍۢ ١٧
ওয়ামা যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি বি‘আযীয
এটা আল্লাহর পক্ষে কঠিন নয়।
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌۭ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۚ وَإِن تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَىٰ حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَىْءٌۭ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰٓ ۗ إِنَّمَا تُنذِرُ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِٱلْغَيْبِ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ ۚ وَمَن تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّىٰ لِنَفْسِهِۦ ۚ وَإِلَى ٱللَّهِ ٱلْمَصِيرُ ١٨
ওয়ালা তাযিরু ওয়া-যিরাতুঁ উইযরা উখরা ওয়াইন তাদ‘উ মুছকালাতুন ইলা হিমলিহা লা ইউহমাল মিনহু শাইউঁ ওয়ালাও কা-না যা কুরবা- ইন্নামা তুনযিরুল লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি ওয়াআকা-মুস সালা-হ ওয়ামান তাযাক্কা ফাইন্নামা ইয়াতাযাক্কা লিনাফসিহ ওয়াইলাল্লা-হিল মাসীর
কোন বহনকারী অন্যের (পাপের) বোঝা বইবে না। কেউ যদি তার গুরুভার বয়ে দেয়ার জন্য অন্যকে ডাকে তবে তার কিছুই বয়ে দেয়া হবে না- নিকটাত্মীয় হলেও। তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পার, যারা না দেখেই তাদের প্রতিপালককে ভয় করে আর নামায প্রতিষ্ঠা করে। যে কেউ নিজেকে পরিশুদ্ধ করে সে তো পরিশুদ্ধ করে নিজের কল্যাণেই। আল্লাহর দিকেই (সকলের) প্রত্যাবর্তন।
وَمَا يَسْتَوِى ٱلْأَعْمَىٰ وَٱلْبَصِيرُ ١٩
ওয়ামা ইয়াসতাউইল আ‘মা ওয়ালবাসীর
অন্ধ আর চোখওয়ালা সমান নয়।
وَلَا ٱلظُّلُمَٰتُ وَلَا ٱلنُّورُ ٢٠
ওয়ালায যুলুমা-তু ওয়ালান নূর
আর অন্ধকার ও আলোও (সমান নয়)।
وَلَا ٱلظِّلُّ وَلَا ٱلْحَرُورُ ٢١
ওয়ালায যিল্লু ওয়ালাল হারূর
আর ছায়া ও রোদও (সমান নয়)।
وَمَا يَسْتَوِى ٱلْأَحْيَآءُ وَلَا ٱلْأَمْوَٰتُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُسْمِعُ مَن يَشَآءُ ۖ وَمَآ أَنتَ بِمُسْمِعٍۢ مَّن فِى ٱلْقُبُورِ ٢٢
ওয়ামা ইয়াসতাউইল আহইয়া-উ ওয়ালাল আমওয়া-ত ইন্নাল্লা-হা ইউসমি‘উ মান ইয়াশা-উ ওয়ামা- আনতা বিমুসমি‘ইম মান ফিল কুবূর
আর জীবিত ও মৃতও সমান নয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন শোনান; যারা ক্ববরে আছে তুমি তাদেরকে শোনাতে পার না।
إِنْ أَنتَ إِلَّا نَذِيرٌ ٢٣
ইন আনতা ইল্লা নাযীর
তুমি তো কেবল একজন সতর্ককারী।
إِنَّآ أَرْسَلْنَٰكَ بِٱلْحَقِّ بَشِيرًۭا وَنَذِيرًۭا ۚ وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌۭ ٢٤
ইন্না- আরসালনা-কা বিলহাক্কি বাশীরাঁ ওয়ানাযীরা ওয়াইম মিন উম্মাতিন ইল্লা খালা ফীহা নাযীর
আমি তোমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি।
وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَبِٱلزُّبُرِ وَبِٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُنِيرِ ٢٥
ওয়াইন ইউকায্যিবূকা ফাকাদ কায্যাবাল লাযীনা মিন কাবলিহিম জা-আতহুম রুসুলুহুম বিলবাইয়্যিনা-তি ওয়াবিয্যুবুরি ওয়াবিলকিতা-বিল মুনীর
তারা যদি তোমাকে মিথ্যে ব’লে অস্বীকার করে, (তাহলে জেনে রেখ, এটা কোন নতুন ব্যাপার নয়, কারণ) তাদের পূর্ববর্তীরাও (নবী-রসূলদেরকে) মিথ্যে ব’লে অস্বীকার করেছিল। তাদের কাছে তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন, লিখিত দলীল ও আলোকপ্রদ কিতাব নিয়ে এসেছিল।
ثُمَّ أَخَذْتُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ۖ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ ٢٦
ছুম্মা আখাযতুল লাযীনা কাফারূ ফাকাইফা কা-না নাকীর
যারা কুফরী করেছিল, অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম। কী (ভয়ংকর) ছিল আমার শাস্তি!
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَخْرَجْنَا بِهِۦ ثَمَرَٰتٍۢ مُّخْتَلِفًا أَلْوَٰنُهَا ۚ وَمِنَ ٱلْجِبَالِ جُدَدٌۢ بِيضٌۭ وَحُمْرٌۭ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَٰنُهَا وَغَرَابِيبُ سُودٌۭ ٢٧
আলাম তারা আন-নাল্লা-হা আনযালা মিনাস সামা-ই মা-আন ফাআখরাজনা বিহী ছামারা-তিম মুখতালিফান আলওয়া-নুহা ওয়ামিনাল জিবা-লি জুদাদুম বীদুঁ ওয়াহুমরুম মুখতালিফুন আলওয়া-নুহা ওয়াগারা-বীবু সূদ
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর আমি তা দিয়ে রং বেরংয়ের ফলমূল উদগত করি। পাহাড়ের মধ্যে আছে বিভিন্ন বর্ণের গিরিপথ- সাদা, লাল আর নিকষ কালো।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ وَٱلدَّوَآبِّ وَٱلْأَنْعَٰمِ مُخْتَلِفٌ أَلْوَٰنُهُۥ كَذَٰلِكَ ۗ إِنَّمَا يَخْشَى ٱللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ ٱلْعُلَمَٰٓؤُا۟ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ ٢٨
ওয়ামিনান না-সি ওয়াদ্দাওয়া-ব্বি ওয়ালআন‘আ-মি মুখতালিফুন আলওয়া-নুহূ কাযা-লিক ইন্নামা ইয়াখশাল্লা-হা মিন ‘ইবা-দিহিল ‘উলামা-আ ইন্নাল্লা-হা ‘আযীযুন গাফূর
তেমনিভাবে মানুষ, জীব-জন্তু আর গৃহপালিত পশুদের মধ্যেও রয়েছে তাদের বিভিন্ন রং। আল্লাহর বান্দাহদের মধ্যে তারাই তাঁকে ভয় করে যারা জ্ঞানী। আল্লাহ মহা ক্ষমতাশালী, পরম দয়ালু।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَٰبَ ٱللَّهِ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنفَقُوا۟ مِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ سِرًّۭا وَعَلَانِيَةًۭ يَرْجُونَ تِجَٰرَةًۭ لَّن تَبُورَ ٢٩
ইন্নাল লাযীনা ইয়াতলূনা কিতা-বাল্লা-হি ওয়াআকা-মুস সালা-তা ওয়াআনফাকূ মিম্মা রাযাকনা-হুম সির্রাঁ ওয়া‘আলা-নিয়াতাঁ ইয়ারজূনা তিজা-রাতাল লান তাবূর
যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে আর আল্লাহ তাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তাথেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসায়ের আশা করে যাতে কক্ষনো লোকসান হবে না।
لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِۦٓ ۚ إِنَّهُۥ غَفُورٌۭ شَكُورٌۭ ٣٠
লিইউওয়াফ্ফিয়াহুম উজূরাহুম ওয়ায়াযীদাহুম মিন ফাদলিহ ইন্নাহূ গাফূরুন শাকূর
কারণ, তিনি তাদেরকে তাদের প্রতিফল পূর্ণমাত্রায় দান করবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো বেশি দিবেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, (ভাল কাজের) বড়ই মর্যাদাদানকারী।
وَٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ هُوَ ٱلْحَقُّ مُصَدِّقًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِعِبَادِهِۦ لَخَبِيرٌۢ بَصِيرٌۭ ٣١
ওয়াল্লাযী আওহাইনা- ইলাইকা মিনাল কিতা-বি হুওয়াল হাক্কু মুসাদ্দিকাল লিমা বাইনা ইয়াদাইহ ইন্নাল্লা-হা বি‘ইবা-দিহী লাখাবীরুম বাসীর
আমি যে কিতাবটি হতে তোমার প্রতি ওয়াহী করেছি তা সত্য, পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী। আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের সম্পর্কে অবশ্যই সব খবর রাখেন এবং সব দেখেন।
ثُمَّ أَوْرَثْنَا ٱلْكِتَٰبَ ٱلَّذِينَ ٱصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا ۖ فَمِنْهُمْ ظَالِمٌۭ لِّنَفْسِهِۦ وَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌۭ وَمِنْهُمْ سَابِقٌۢ بِٱلْخَيْرَٰتِ بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَضْلُ ٱلْكَبِيرُ ٣٢
ছুম্মা আওরাছনাল কিতা-বাল লাযীনাসতাফাইনা মিন ‘ইবা-দিনা ফামিনহুম যা-লিমুল লিনাফসিহী ওয়ামিনহুম মুকতাসিদুঁ ওয়ামিনহুম সা-বিকুম বিলখাইরা-তি বিইযনিল্লা-হ যা-লিকা হুওয়াল ফাদলুল কাবীর
অতঃপর সেই কিতাবটির উত্তরাধিকারী করেছি আমি আমার বান্দাহদের মধ্যে হতে যাদেরকে বেছে নিয়েছি। অতঃপর তাদের কতক নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছে, আর কতক মধ্যপন্থী। তাদের কতক আল্লাহর নির্দেশে সৎ কাজে অগ্রণী। এটাই (মানুষের প্রতি আল্লাহর) খুবই বড় দয়া।
جَنَّٰتُ عَدْنٍۢ يَدْخُلُونَهَا يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍۢ وَلُؤْلُؤًۭا ۖ وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌۭ ٣٣
জান্না-তু ‘আদনিঁ ইয়াদখুলূনাহা ইউহাল্লাওনা ফীহা মিন আসা-উইরা মিন যাহাবিঁ ওয়ালু’লুআঁ ওয়ালিবা-সুহুম ফীহা হারীর
স্থায়ী জান্নাতে তারা প্রবেশ করবে। যেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার কঙ্কণে অলঙ্কৃত করা হবে। যেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।
وَقَالُوا۟ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِىٓ أَذْهَبَ عَنَّا ٱلْحَزَنَ ۖ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌۭ شَكُورٌ ٣٤
ওয়াকা-লুল হামদু লিল্লা-হিল লাযী আযহাবা ‘আন্নাল হাযানা ইন্না রাব্বানা লাগাফূরুন শাকূর
আর তারা বলবে- যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের দুঃখ কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। আমাদের প্রতিপালক অবশ্যই পরম ক্ষমাশীল, (ভাল কাজের) বড়ই মর্যাদাদানকারী।
ٱلَّذِىٓ أَحَلَّنَا دَارَ ٱلْمُقَامَةِ مِن فَضْلِهِۦ لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌۭ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌۭ ٣٥
আল্লাযী আহাল্লানা দা-রাল মুকা-মাতি মিন ফাদলিহী লা ইয়ামাস্সুনা ফীহা নাসাবুঁ ওয়ালা ইয়ামাস্সুনা ফীহা লুগূব
যিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী আবাস দান করেছেন। সেখানে ক্লেশ আমাদেরকে স্পর্শ করে না, ক্লান্তিও আমাদেরকে স্পর্শ করে না।
وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَىٰ عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا۟ وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُم مِّنْ عَذَابِهَا ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِى كُلَّ كَفُورٍۢ ٣٦
ওয়াল্লাযীনা কাফারূ লাহুম না-রু জাহান্নামা লা ইউকদা ‘আলাইহিম ফায়ামূতূ ওয়ালা ইউখাফ্ফাফু ‘আনহুম মিন ‘আযা-বিহা কাযা-লিকা নাজযী কুল্লা কাফূর
আর যারা কুফুরী করে, তাদের জন্য আছে জাহান্নামের আগুন। তাদের জন্য কোন সময় নির্ধারণ করা হবে না যে, তারা (নির্ধারিত সময় আসলে) মরে যাবে, আর তাদের থেকে শাস্তিও কমানো হবে না। প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।
وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَآ أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَٰلِحًا غَيْرَ ٱلَّذِى كُنَّا نَعْمَلُ ۚ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُم مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تَذَكَّرَ وَجَآءَكُمُ ٱلنَّذِيرُ ۖ فَذُوقُوا۟ فَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِن نَّصِيرٍ ٣٧
ওয়াহুম ইয়াসতারিখূনা ফীহা রাব্বানা- আখরিজনা না‘মাল সা-লিহান গাইরাল লাযী কুন্না না‘মাল আওয়ালাম নু‘আম্মিরকুম মা ইয়াতাযাক্কারু ফীহি মান তাযাক্কারা ওয়াজা-আকুমুন নাযীরু ফাযূকূ ফামা লিয্যা-লিমীনা মিন নাসীর
সেখানে তারা চিৎকার করে বলবে- হে আমাদের পালনকর্তা! বের করুন আমাদেরকে, আমরা সৎকাজ করব, আমরা যে কাজ করতাম তা করব না। আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি যে, তখন কেউ নসীহত গ্রহণ করতে চাইলে নসীহত গ্রহণ করতে পারতে? আর তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল। কাজেই শাস্তি ভোগ কর, যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।
إِنَّ ٱللَّهَ عَٰلِمُ غَيْبِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ إِنَّهُۥ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ٣٨
ইন্নাল্লা-হা ‘আ-লিমু গাইবিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ইন্নাহূ ‘আলীমুম বিযা-তিস সুদূর
আল্লাহ আসমান যমীনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত। অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি বিশেষভাবে জ্ঞাত।
هُوَ ٱلَّذِى جَعَلَكُمْ خَلَٰٓئِفَ فِى ٱلْأَرْضِ ۚ فَمَن كَفَرَ فَعَلَيْهِ كُفْرُهُۥ ۖ وَلَا يَزِيدُ ٱلْكَٰفِرِينَ كُفْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ إِلَّا مَقْتًۭا ۖ وَلَا يَزِيدُ ٱلْكَٰفِرِينَ كُفْرُهُمْ إِلَّا خَسَارًۭا ٣٩
হুওয়াল লাযী জা‘আলাকুম খালা-ইফা ফিল আরদ ফামান কাফারা ফা‘আলাইহি কুফরুহূ ওয়ালা ইয়াযীদুল কা-ফিরীনা কুফরুহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম ইল্লা মাকতাঁ ওয়ালা ইয়াযীদুল কা-ফিরীনা কুফরুহুম ইল্লা খাসা-রা
তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে (নিজের) প্রতিনিধি করেছেন। অতএব যে কুফুরী করবে তার কুফুরীর জন্য সে নিজেই দায়ী হবে। কাফিরদের কুফর তাদের প্রতিপালকের ঘৃণাই বৃদ্ধি করে। কাফিরদের কুফর তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।
قُلْ أَرَءَيْتُمْ شُرَكَآءَكُمُ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَرُونِى مَاذَا خَلَقُوا۟ مِنَ ٱلْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌۭ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ أَمْ ءَاتَيْنَٰهُمْ كِتَٰبًۭا فَهُمْ عَلَىٰ بَيِّنَتٍۢ مِّنْهُ ۚ بَلْ إِن يَعِدُ ٱلظَّٰلِمُونَ بَعْضُهُم بَعْضًا إِلَّا غُرُورًا ٤٠
কুল আরাআইতুম শুরাকা-আকুমুল লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূনিল্লা-হি আরূনী মা-যা খালাকূ মিনাল আরদি আম লাহুম শিরকুন ফিস সামা-ওয়া-তি আম আ-তাইনা-হুম কিতা-বান ফাহুম ‘আলা বাইয়্যিনাতিম মিনহ বাল ইন ইয়া‘ইদুয যা-লিমূনা বা‘দুহুম বা‘দান ইল্লা গুরূরা
বল- তোমরা কি তোমাদের শরীকদেরকে দেখেছ আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডেকে থাক? তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাও; কিংবা আকাশমন্ডলীতে তাদের কোন শরীকানা আছে কি? কিংবা আমি কি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি যাত্থেকে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর তারা আছে? বরং সীমালঙ্ঘনকারীরা একে অপরকে প্রতারণামূলক ওয়া‘দা দিয়ে থাকে।
۞ إِنَّ ٱللَّهَ يُمْسِكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ أَن تَزُولَا ۚ وَلَئِن زَالَتَآ إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍۢ مِّنۢ بَعْدِهِۦٓ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًۭا ٤١
ইন্নাল্লা-হা ইউমসিকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা আন তাযূলা ওয়ালাইন যা-লাতা- ইন আমসাকাহুমা মিন আহাদিম মিম বা‘দিহ ইন্নাহূ কা-না হালীমান গাফূরা
আল্লাহই আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন যাতে ও দু’টো টলে না যায়। ও দু’টো যদি টলে যায় তাহলে তিনি ছাড়া কে ও দু’টোকে স্থির রাখবে? তিনি পরম সহিষ্ণু, পরম ক্ষমাশীল।
وَأَقْسَمُوا۟ بِٱللَّهِ جَهْدَ أَيْمَٰنِهِمْ لَئِن جَآءَهُمْ نَذِيرٌۭ لَّيَكُونُنَّ أَهْدَىٰ مِنْ إِحْدَى ٱلْأُمَمِ ۖ فَلَمَّا جَآءَهُمْ نَذِيرٌۭ مَّا زَادَهُمْ إِلَّا نُفُورًا ٤٢
ওয়াআকসামূ বিল্লা-হি জাহদা আইমা-নিহিম লাইন জা-আহুম নাযীরুল লায়াকূনুন্না আহদা মিন ইহদাল উমামি ফালাম্মা জা-আহুম নাযীরুম মা যা-দাহুম ইল্লা নুফূরা
আর তারা (অর্থাৎ মক্কার মুশরিকরা) শক্তভাবে কসম খেয়ে বলত যে, তাদের কাছে সতর্ককারী আসলে তারা অন্য যে কোন সম্প্রদায়ের চেয়ে অবশ্য অবশ্যই সৎ পথের অধিক অনুসারী হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের কাছে যখন সতর্ককারী আসল, তা বাড়িয়েই তুলল তাদের ঘৃণা,
ٱسْتِكْبَارًۭا فِى ٱلْأَرْضِ وَمَكْرَ ٱلسَّيِّئِ ۚ وَلَا يَحِيقُ ٱلْمَكْرُ ٱلسَّيِّئُ إِلَّا بِأَهْلِهِۦ ۚ فَهَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا سُنَّتَ ٱلْأَوَّلِينَ ۚ فَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ ٱللَّهِ تَبْدِيلًۭا ۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ ٱللَّهِ تَحْوِيلًا ٤٣
ইসতিকবা-রান ফিল আরদি ওয়ামাকরাস সাইয়্যি’ ওয়ালা ইয়াহীকুল মাকরুস সাইয়্যিউ ইল্লা বিআহলিহ ফাহাল ইয়ানযুরূনা ইল্লা সুন্নাতাল আওয়ালীন ফালান তাজিদা লিসুন্নাতিল্লা-হি তাবদীলাঁ ওয়ালান তাজিদা লিসুন্নাতিল্লা-হি তাহউঈলা
যমীনে উদ্ধত আচরণ আর কু-চক্রান্ত। কু-চক্রান্ত তাকেই ঘিরে ধরবে যে তা করবে। তাহলে তারা কি তাদের পূর্ববর্তীদের উপর (আল্লাহর পক্ষ হতে) যে বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে তারই অপেক্ষা করছে? তুমি আল্লাহর বিধানে কক্ষনো কোন পরিবর্তন পাবে না। তুমি আল্লাহর বিধানে কক্ষনো কোন ব্যতিক্রম পাবে না।
أَوَلَمْ يَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَكَانُوٓا۟ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةًۭ ۚ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُعْجِزَهُۥ مِن شَىْءٍۢ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِى ٱلْأَرْضِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَلِيمًۭا قَدِيرًۭا ٤٤
আওয়ালাম ইয়াসীরূ ফিল আরদি ফায়ানযুরূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়াকা-নূ আশাদ্দা মিনহুম কুওয়াহ ওয়ামা কা-নাল্লা-হু লিইউ‘জিযাহূ মিন শাইইন ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালা ফিল আরদ ইন্নাহূ কা-না ‘আলীমান কাদীরা
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? তাহলে দেখত, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল। তারা তো শক্তিতে ছিল এদের চেয়েও শক্তিশালী। আসমান ও যমীনের কোন কিছুই আল্লাহকে অপারগ করতে পারে না। তিনি সর্বজ্ঞাতা, সকল শক্তির অধিকারী।
وَلَوْ يُؤَاخِذُ ٱللَّهُ ٱلنَّاسَ بِمَا كَسَبُوا۟ مَا تَرَكَ عَلَىٰ ظَهْرِهَا مِن دَآبَّةٍۢ وَلَٰكِن يُؤَخِّرُهُمْ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ۖ فَإِذَا جَآءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِعِبَادِهِۦ بَصِيرًۢا ٤٥
ওয়ালাও ইউআ-খিযুল্লা-হুন না-সা বিমা কাসাবূ মা তারাকা ‘আলা যাহরিহা মিন দা-ব্বাতিঁ ওয়ালা-কিন ইউআখ্খিরুহুম ইলা- আজালিম মুসাম্মান ফাইযা জা-আ আজালুহুম ফাইন্নাল্লা-হা কা-না বি‘ইবা-দিহী বাসীরা
আল্লাহ মানুষকে তার কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতে চাইলে ভূপৃষ্ঠের একটি প্রাণীকেও রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি তাদের জন্য একটা নির্ধারিত কাল পর্যন্ত সময় বিলম্বিত করেন। অতঃপর তাদের সে নির্ধারিত সময় যখন এসে যায়, (তখন আল্লাহর ফয়সালা কার্যকরী হতে এক মুহূর্তও বিলম্ব ঘটে না), কারণ আল্লাহ (প্রতিটি মুহূর্তে) তাঁর বান্দাহদের পর্যবেক্ষণকারী।