মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
البقرة

সূরা আল-বাকারা

গাভী · সূরা নং ২ · ২৮৬ আয়াত · ৪০ রুকু · মাদানী · পারা ১
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
الٓمٓ ١
আলিফ লা-ম মী-ম
আলিফ, লাম, মীম।
ذَٰلِكَ ٱلْكِتَٰبُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًۭى لِّلْمُتَّقِينَ ٢
যা-লিকাল কিতা-বু লা রাইবা ফীহি হুদাল লিলমুত্তাকীন
এটা ঐ (মহান) কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথ নির্দেশ।
ٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِٱلْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ يُنفِقُونَ ٣
আল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিলগাইবি ওয়াইউকীমূনাস সালা-তা ওয়ামিম্মা রাযাকনা-হুম ইউনফিকূন
যারা গায়বের প্রতি ঈমান আনে, নামায কায়িম করে এবং আমি যে জীবনোপকরণ তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।
وَٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِٱلْءَاخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ٤
ওয়াল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিমা- উনযিলা ইলাইকা ওয়ামা- উনযিলা মিন কাবলিকা ওয়াবিলআ-খিরাতি হুম ইউকিনূন
আর তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তাতে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং পরকালের প্রতিও তারা নিশ্চিত বিশ্বাসী।
أُو۟لَٰٓئِكَ عَلَىٰ هُدًۭى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ٥
উলা-ইকা ‘আলা হুদাম মির রাব্বিহিম ওয়াউলা-ইকা হুমুল মুফলিহূন
তারাই তাদের প্রতিপালকের হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে, আর তারাই সফলকাম।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْهِمْ ءَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ٦
ইন্নাল লাযীনা কাফারূ সাওয়া-উন ‘আলাইহিম আআনযারতাহুম আম লাম তুনযিরহুম লা ইউ’মিনূন
নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে তাদেরকে তুমি ভয় দেখাও আর না দেখাও উভয়টাই তাদের জন্য সমান, তারা ঈমান আনবে না।
خَتَمَ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ ۖ وَعَلَىٰٓ أَبْصَٰرِهِمْ غِشَٰوَةٌۭ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ ٧
খাতামাল্লা-হু ‘আলা কুলূবিহিম ওয়া‘আলা সাম‘ইহিম ওয়া‘আলা- আবসা-রিহিম গিশা-ওয়াতুঁ ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন ‘আযীম
আল্লাহ তাদের অন্তর ও কানের উপর মোহর করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখে আছে আবরণ আর তাদের জন্য আছে মহা শাস্তি।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ ٨
ওয়ামিনান না-সি মান ইয়াকূলু আ-মান্না বিল্লা-হি ওয়াবিলইয়াওমিল আ-খিরি ওয়ামা হুম বিমু’মিনীন
মানুষের মধ্যে এমন লোক আছে যারা বলে, ‘‘আমরা আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাতের দিনের প্রতি ঈমান এনেছি’’ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মু’মিন নয়।
يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّآ أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ ٩
ইউখা-দি‘ঊনাল্লা-হা ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ ওয়ামা ইয়াখদা‘ঊনা ইল্লা- আনফুসাহুম ওয়ামা ইয়াশ‘উরূন
তারা আল্লাহ ও মু’মিনদেরকে প্রতারিত করে, আসলে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রতারিত করে না, কিন্তু এটা তারা উপলব্ধি করতে পারে না।
فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضًۭا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۢ بِمَا كَانُوا۟ يَكْذِبُونَ ١٠
ফী কুলূবিহিম মারাদুন ফাযা-দাহুমুল্লা-হু মারাদাঁ ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীমুম বিমা কা-নূ ইয়াকযিবূন
তাদের অন্তরে আছে ব্যাধি, অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যেবাদী।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ قَالُوٓا۟ إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ ١١
ওয়াইযা কীলা লাহুম লা তুফসিদূ ফিল আরদি কা-লূ ইন্নামা নাহনু মুসলিহূন
তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না’; তারা বলে, ‘আমরা তো সংশোধনকারী’।
أَلَآ إِنَّهُمْ هُمُ ٱلْمُفْسِدُونَ وَلَٰكِن لَّا يَشْعُرُونَ ١٢
আলা- ইন্নাহুম হুমুল মুফসিদূনা ওয়ালা-কিল লা ইয়াশ‘উরূন
মূলতঃ তারাই অশান্তি সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ ءَامِنُوا۟ كَمَآ ءَامَنَ ٱلنَّاسُ قَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ كَمَآ ءَامَنَ ٱلسُّفَهَآءُ ۗ أَلَآ إِنَّهُمْ هُمُ ٱلسُّفَهَآءُ وَلَٰكِن لَّا يَعْلَمُونَ ١٣
ওয়াইযা কীলা লাহুম আ-মিনূ কামা- আ-মানান না-সু কা-লূ আনু’মিনু কামা- আ-মানাস সুফাহা-আ আলা- ইন্নাহুম হুমুস সুফাহা-উ ওয়ালা-কিল লা ইয়া‘লামূন
যখন তাদেরকে বলা হয়, যে সব লোক ঈমান এনেছে তাদের মতো তোমরাও ঈমান আন, তারা বলে, ‘নির্বোধেরা যেমন ঈমান এনেছে, আমরাও কি তেমনি ঈমান আনব’? আসলে তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা তা’ বুঝতে পারে না।
وَإِذَا لَقُوا۟ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَوْا۟ إِلَىٰ شَيَٰطِينِهِمْ قَالُوٓا۟ إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِءُونَ ١٤
ওয়াইযা লাকুল লাযীনা আ-মানূ কা-লূ আ-মান্না ওয়াইযা খালাও ইলা শায়া-তীনিহিম কা-লূ ইন্না মা‘আকুম ইন্নামা নাহনু মুসতাহযিঊন
যখন তারা মু’মিনদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’; আর যখন তারা নিভৃতে তাদের শয়ত্বানদের (সর্দারদের) সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে, ‘আমরা তোমাদের সাথেই আছি, আমরা শুধু তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-তামাশা করি মাত্র’।
ٱللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِى طُغْيَٰنِهِمْ يَعْمَهُونَ ١٥
আল্লা-হু ইয়াসতাহযিউ বিহিম ওয়ায়ামুদ্দুহুম ফী তুগইয়া-নিহিম ইয়া‘মাহূন
আল্লাহ তাদের সঙ্গে (জবাবে) উপহাস করেন এবং তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের মত তাদেরকে ঘুরে মরার অবকাশ দেন।
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلضَّلَٰلَةَ بِٱلْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَٰرَتُهُمْ وَمَا كَانُوا۟ مُهْتَدِينَ ١٦
উলা-ইকাল লাযীনাশতারাউদ দালা-লাতা বিলহুদা ফামা রাবিহাত তিজা-রাতুহুম ওয়ামা কা-নূ মুহতাদীন
তারাই হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহী ক্রয় করেছে, কিন্তু তাতে তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি, আর তারা সৎপথপ্রাপ্তও নয়।
مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ ٱلَّذِى ٱسْتَوْقَدَ نَارًۭا فَلَمَّآ أَضَآءَتْ مَا حَوْلَهُۥ ذَهَبَ ٱللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِى ظُلُمَٰتٍۢ لَّا يُبْصِرُونَ ١٧
মাছালুহুম কামাছালিল লাযিসতাওকাদা না-রান ফালাম্মা- আদা-আত মা হাওলাহূ যাহাবাল্লা-হু বিনূরিহিম ওয়াতারাকাহুম ফী যুলুমা-তিল লা ইউবসিরূন
তাদের উদাহরণ, যেমন এক ব্যক্তি আগুন জ্বালালো, তা যখন তার চারদিক আলোকিত করল আল্লাহ তখন তাদের জ্যোতি অপসারণ করে দিলেন এবং তাদেরকে এমন ঘন অন্ধকারে ফেলে দিলেন যে, তারা কিছুই দেখতে পায় না।
صُمٌّۢ بُكْمٌ عُمْىٌۭ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ ١٨
সুম্মুম বুকমুন ‘উমা ফাহুম লা ইয়ারজি‘ঊন
তারা বধির, মূক, অন্ধ; কাজেই তারা (হিদায়াতের দিকে) ফিরে আসবে না।
أَوْ كَصَيِّبٍۢ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ فِيهِ ظُلُمَٰتٌۭ وَرَعْدٌۭ وَبَرْقٌۭ يَجْعَلُونَ أَصَٰبِعَهُمْ فِىٓ ءَاذَانِهِم مِّنَ ٱلصَّوَٰعِقِ حَذَرَ ٱلْمَوْتِ ۚ وَٱللَّهُ مُحِيطٌۢ بِٱلْكَٰفِرِينَ ١٩
আও কাসাইয়্যিবিম মিনাস সামা-ই ফীহি যুলুমা-তুঁ ওয়ারা‘দুঁ ওয়াবারকুঁ ইয়াজ‘আলূনা আসা-বি‘আহুম ফী আ-যা-নিহিম মিনাস সাওয়া-‘ইকি হাযারাল মাওত ওয়াল্লা-হু মুহীতুম বিলকা-ফিরীন
অথবা যেমন আকাশের বর্ষণমুখর মেঘ, যাতে আছে গাঢ় অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ চমক, বজ্রধ্বনিতে মৃত্যু ভয়ে তারা তাদের কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেয়। আল্লাহ কাফেরদেরকে পরিবেষ্টন করে আছেন।
يَكَادُ ٱلْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَٰرَهُمْ ۖ كُلَّمَآ أَضَآءَ لَهُم مَّشَوْا۟ فِيهِ وَإِذَآ أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا۟ ۚ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَٰرِهِمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٢٠
ইয়াকা-দুল বারকু ইয়াখতাফু আবসা-রাহুম কুল্লামা- আদা-আ লাহুম মাশাও ফীহি ওয়াইযা- আযলামা ‘আলাইহিম কা-মূ ওয়ালাও শা-আল্লা-হু লাযাহাবা বিসাম‘ইহিম ওয়াআবসা-রিহিম ইন্নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
বিদ্যুৎচমক তাদের দৃষ্টিশক্তি প্রায় কেড়ে নেয়, যখনই বিদ্যুৎচমক তাদের সামনে প্রকাশিত হয়, তখনই তারা পথ চলতে থাকে এবং যখন তাদের উপর অন্ধকার ছেয়ে যায়, তখন তারা থমকে দাঁড়ায়, আল্লাহ ইচ্ছে করলে তাদের শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি হরণ করতে পারতেন, আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱعْبُدُوا۟ رَبَّكُمُ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ وَٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ٢١
ইয়া-আইয়্যুহান না-সু‘বুদূ রাব্বাকুমুল লাযী খালাকাকুম ওয়াল্লাযীনা মিন কাবলিকুম লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূন
হে মানুষ! ‘তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদাত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী (পরহেযগার) হতে পার’।
ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ فِرَٰشًۭا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءًۭ وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَخْرَجَ بِهِۦ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ رِزْقًۭا لَّكُمْ ۖ فَلَا تَجْعَلُوا۟ لِلَّهِ أَندَادًۭا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ٢٢
আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা ফিরা-শাঁ ওয়াস্সামা-আ বিনা-আঁ ওয়াআনযালা মিনাস সামা-ই মা-আন ফাআখরাজা বিহী মিনাছ ছামারা-তি রিযকাল লাকুম ফালা তাজ‘আলূ লিল্লা-হি আনদা-দাঁ ওয়াআনতুম তা‘লামূন
যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন এবং আকাশ হতে পানি বর্ষণ ক’রে তদ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেন, কাজেই জেনে বুঝে কাউকেও আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করো না।
وَإِن كُنتُمْ فِى رَيْبٍۢ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا۟ بِسُورَةٍۢ مِّن مِّثْلِهِۦ وَٱدْعُوا۟ شُهَدَآءَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ٢٣
ওয়াইন কুনতুম ফী রাইবিম মিম্মা নায্যালনা ‘আলা ‘আবদিনা ফা’তূ বিসূরাতিম মিম মিছলিহী ওয়াদ‘ঊ শুহাদা-আকুম মিন দূনিল্লা-হি ইন কুনতুম সা-দিকীন
আমি আমার বান্দাহর প্রতি যা নাযিল করেছি তাতে তোমাদের কোন সন্দেহ থাকলে তোমরা তার মত কোন সূরাহ এনে দাও আর তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে আহবান কর।
فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟ وَلَن تَفْعَلُوا۟ فَٱتَّقُوا۟ ٱلنَّارَ ٱلَّتِى وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلْحِجَارَةُ ۖ أُعِدَّتْ لِلْكَٰفِرِينَ ٢٤
ফাইল লাম তাফ‘আলূ ওয়ালান তাফ‘আলূ ফাত্তাকুন না-রাল লাতী ওয়াকূদুহান না-সু ওয়ালহিজা-রাতু উ‘ইদ্দাত লিলকা-ফিরীন
যদি তোমরা না পার এবং কক্ষনো পারবেও না, তাহলে সেই আগুনকে ভয় কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর, যা প্রস্তুত রয়েছে কাফেরদের জন্য।
وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوا۟ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍۢ رِّزْقًۭا ۙ قَالُوا۟ هَٰذَا ٱلَّذِى رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوا۟ بِهِۦ مُتَشَٰبِهًۭا ۖ وَلَهُمْ فِيهَآ أَزْوَٰجٌۭ مُّطَهَّرَةٌۭ ۖ وَهُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٢٥
ওয়াবাশ্শিরিল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি আন-না লাহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু কুল্লামা রুযিকূ মিনহা মিন ছামারাতির রিযকান কা-লূ হা-যাল লাযী রুযিকনা মিন কাবলু ওয়াউতূ বিহী মুতাশা-বিহাঁ ওয়ালাহুম ফীহা- আযওয়া-জুম মুতাহ্হারাতুঁ ওয়াহুম ফীহা খা-লিদূন
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আছে জান্নাত, যার নিম্নদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তাদেরকে যখনই ফলমূল খেতে দেয়া হবে, তখনই তারা বলবে, আমাদেরকে পূর্বে জীবিকা হিসেবে যা দেয়া হতো, এতো তারই মতো। একই রকম ফল তাদেরকে দেয়া হবে এবং সেখানে রয়েছে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিণী, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে।
۞ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَسْتَحْىِۦٓ أَن يَضْرِبَ مَثَلًۭا مَّا بَعُوضَةًۭ فَمَا فَوْقَهَا ۚ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۖ وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَيَقُولُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلًۭا ۘ يُضِلُّ بِهِۦ كَثِيرًۭا وَيَهْدِى بِهِۦ كَثِيرًۭا ۚ وَمَا يُضِلُّ بِهِۦٓ إِلَّا ٱلْفَٰسِقِينَ ٢٦
ইন্নাল্লা-হা লা ইয়াসতাহইয়ী আন ইয়াদরিবা মাছালাম মা বা‘ঊদাতান ফামা ফাওকাহা ফাআম্মাল লাযীনা আ-মানূ ফায়া‘লামূনা আন-নাহুল হাক্কু মির রাব্বিহিম ওয়াআম্মাল লাযীনা কাফারূ ফায়াকূলূনা মা-যা- আরা-দাল্লা-হু বিহা-যা মাছালা ইউদিল্লু বিহী কাছীরাঁ ওয়ায়াহদী বিহী কাছীরা ওয়ামা ইউদিল্লু বিহী ইল্লাল ফা-সিকীন
নিশ্চয় আল্লাহতো মশা অথবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কোন বস্তুর উদাহরণ দিতে লজ্জাবোধ করেন না; অতএব যারা ঈমানদার তারা জানে যে, এ সত্য তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে এসেছে, কিন্তু যারা অবিশ্বাসী তারা বলে যে, আল্লাহ কী উদ্দেশ্যে এ উদাহরণ পেশ করেছেন? (আসল ব্যাপার হল) তিনি এর দ্বারা অনেককেই বিভ্রান্ত করেন, আবার অনেককেই সৎপথে পরিচালিত করেন। বস্তুতঃ তিনি ফাসিকদের ছাড়া আর কাউকেও বিভ্রান্ত করেন না।
ٱلَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ مِيثَٰقِهِۦ وَيَقْطَعُونَ مَآ أَمَرَ ٱللَّهُ بِهِۦٓ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ ٢٧
আল্লাযীনা ইয়ানকুদূনা ‘আহদাল্লা-হি মিম বা‘দি মীছা-কিহী ওয়ায়াকতা‘ঊনা মা- আমারাল্লা-হু বিহী আন ইউসালা ওয়াইউফসিদূনা ফিল আরদ উলা-ইকা হুমুল খা-সিরূন
যারা আল্লাহর সঙ্গে সুদৃঢ় অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখার নির্দেশ আল্লাহ করেছেন, তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِٱللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَٰتًۭا فَأَحْيَٰكُمْ ۖ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ٢٨
কাইফা তাকফুরূনা বিল্লা-হি ওয়াকুনতুম আমওয়া-তান ফাআহইয়া-কুম ছুম্মা ইউমীতুকুম ছুম্মা ইউহইয়ীকুম ছুম্মা ইলাইহি তুরজা‘ঊন
তোমরা আল্লাহকে কীভাবে অস্বীকার করছ? অথচ তোমরা ছিলে মৃত, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জীবন্ত করেছেন, আবার তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর আবার জীবিত করবেন, তারপর তাঁর দিকেই তোমরা ফিরে যাবে।
هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ لَكُم مَّا فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًۭا ثُمَّ ٱسْتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ فَسَوَّىٰهُنَّ سَبْعَ سَمَٰوَٰتٍۢ ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ ٢٩
হুওয়াল লাযী খালাকা লাকুম মা ফিল আরদি জামী‘আন ছুম্মাসতাওয়া- ইলাস সামা-ই ফাসাওয়া-হুন্না সাব‘আ সামা-ওয়া-ত ওয়াহুওয়া বিকুল্লি শাইইন ‘আলীম
পৃথিবীর সবকিছু তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোসংযোগ করেন এবং তা সপ্তাকাশে বিন্যস্ত করেন, তিনি সকল বিষয়ে বিশেষভাবে অবহিত।
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَٰٓئِكَةِ إِنِّى جَاعِلٌۭ فِى ٱلْأَرْضِ خَلِيفَةًۭ ۖ قَالُوٓا۟ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ ٱلدِّمَآءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّىٓ أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ٣٠
ওয়াইয কা-লা রাব্বুকা লিলমালা-ইকাতি ইন্নী জা-‘ইলুন ফিল আরদি খালীফাতান কা-লূ আতাজ‘আলু ফীহা মান ইউফসিদু ফীহা ওয়ায়াসফিকুদ দিমা-আ ওয়ানাহনু নুসাব্বিহু বিহামদিকা ওয়ানুকাদ্দিসু লাকা কা-লা ইন্নী আ‘লামু মা লা তা‘লামূন
স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক যখন ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘আমি যমীনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি’; তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকেও পয়দা করবেন যে অশান্তি সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসামূলক তাসবীহ পাঠ ও পবিত্রতা ঘোষণা করি’। তিনি বললেন, ‘আমি যা জানি, তোমরা তা জান না’।
وَعَلَّمَ ءَادَمَ ٱلْأَسْمَآءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ فَقَالَ أَنۢبِـُٔونِى بِأَسْمَآءِ هَٰٓؤُلَآءِ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ٣١
ওয়া‘আল্লামা আ-দামাল আসমা-আ কুল্লাহা ছুম্মা ‘আরাদাহুম ‘আলাল মালা-ইকাতি ফাকা-লা আমবিঊনী বিআসমা-ই হা-উলা-ই ইন কুনতুম সা-দিকীন
এবং তিনি আদাম (আ.)-কে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘এ বস্তুগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।
قَالُوا۟ سُبْحَٰنَكَ لَا عِلْمَ لَنَآ إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَآ ۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْحَكِيمُ ٣٢
কা-লূ সুবহা-নাকা লা ‘ইলমা লানা- ইল্লা মা ‘আল্লামতানা- ইন্নাকা আনতাল ‘আলীমুল হাকীম
তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র মহান, আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন, তাছাড়া আমাদের কোন জ্ঞানই নেই, নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়’।
قَالَ يَٰٓـَٔادَمُ أَنۢبِئْهُم بِأَسْمَآئِهِمْ ۖ فَلَمَّآ أَنۢبَأَهُم بِأَسْمَآئِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّىٓ أَعْلَمُ غَيْبَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ ٣٣
কা-লা ইয়া-আ-দামু আমবি’হুম বিআসমা-ইহিম ফালাম্মা- আমবাআহুম বিআসমা-ইহিম কা-লা আলাম আকুল লাকুম ইন্নী আ‘লামু গাইবাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়াআ‘লামু মা তুবদূনা ওয়ামা কুনতুম তাকতুমূন
তিনি নির্দেশ করলেন, ‘হে আদাম! এ জিনিসগুলোর নাম তাদেরকে জানিয়ে দাও’। যখন সে এ সকল নাম তাদেরকে বলে দিল, তখন তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অদৃশ্য বস্তু সম্পর্কে আমি নিশ্চিতভাবে অবহিত এবং তোমরা যা প্রকাশ কর ও গোপন কর, আমি তাও অবগত’?
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ٱسْجُدُوا۟ لِءَادَمَ فَسَجَدُوٓا۟ إِلَّآ إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَٱسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ ٣٤
ওয়াইয কুলনা লিলমালা-ইকাতিসজুদূ লিআ-দামা ফাসাজাদূ ইল্লা- ইবলীসা আবা ওয়াসতাকবারা ওয়াকা-না মিনাল কা-ফিরীন
যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, আদামকে সাজদাহ কর, তখন ইবলীস ছাড়া সকলেই সাজদাহ করল, সে অমান্য করল ও অহঙ্কার করল, কাজেই সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
وَقُلْنَا يَٰٓـَٔادَمُ ٱسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ ٱلْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ ٣٥
ওয়াকুলনা ইয়া-আ-দামুসকুন আনতা ওয়াযাওজুকাল জান্নাতা ওয়াকুলা মিনহা রাগাদান হাইছু শি’তুমা ওয়ালা তাকরাবা হা-যিহিশ শাজারাতা ফাতাকূনা মিনায যা-লিমীন
আমি বললাম, ‘হে আদাম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং যেখানে যা ইচ্ছে খাও, কিন্তু এই গাছের নিকটে যেয়ো না, গেলে তোমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের মধ্যে শামিল হবে’।
فَأَزَلَّهُمَا ٱلشَّيْطَٰنُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ ۖ وَقُلْنَا ٱهْبِطُوا۟ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّۭ ۖ وَلَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّۭ وَمَتَٰعٌ إِلَىٰ حِينٍۢ ٣٦
ফাআযাল্লাহুমাশ শাইতা-নু ‘আনহা ফাআখরাজাহুমা মিম্মা কা-না ফীহি ওয়াকুলনাহবিতূ বা‘দুকুম লিবা‘দিন ‘আদুউঁ ওয়ালাকুম ফিল আরদি মুসতাকার্রুঁ ওয়ামাতা-‘উন ইলা হীন
কিন্তু শয়ত্বান তাত্থেকে তাদের পদস্খলন ঘটাল এবং তারা দু’জন যেখানে ছিল, তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দিল; আমি বললাম, ‘নেমে যাও, তোমরা পরস্পর পরস্পরের শত্রু, দুনিয়াতে কিছু কালের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা আছে’।
فَتَلَقَّىٰٓ ءَادَمُ مِن رَّبِّهِۦ كَلِمَٰتٍۢ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ ٣٧
ফাতালাক্কা- আ-দামু মির রাব্বিহী কালিমা-তিন ফাতা-বা ‘আলাইহ ইন্নাহূ হুওয়াত তাওয়া-বুর রাহীম
তারপর আদাম (আ.) তার প্রতিপালকের নিকট হতে কিছু বাণী প্রাপ্ত হল, অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করলেন, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
قُلْنَا ٱهْبِطُوا۟ مِنْهَا جَمِيعًۭا ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّى هُدًۭى فَمَن تَبِعَ هُدَاىَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ٣٨
কুলনাহবিতূ মিনহা জামী‘আন ফাইম্মা ইয়া’তিয়ান্নাকুম মিন্নী হুদান ফামান তাবি‘আ হুদা-য়া ফালা খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা হুম ইয়াহযানূন
আমি বললাম, ‘তোমরা সকলেই এখান হতে নেমে যাও, পরে যখন আমার নিকট হতে তোমাদের কাছে সৎপথের নির্দেশ আসবে তখন যারা আমার সৎপথের অনুসরণ করবে তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না’।
وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَآ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٣٩
ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ওয়াকায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা- উলা-ইকা আসহা-বুন না-রি হুম ফীহা খা-লিদূন
আর যারা কুফরী করবে ও আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামী; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
يَٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتِىَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا۟ بِعَهْدِىٓ أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّٰىَ فَٱرْهَبُونِ ٤٠
ইয়া-বানী ইসরা-ঈলাযকুরূ নি‘মাতিয়াল লাতী আন‘আমতু ‘আলাইকুম ওয়াআওফূ বি‘আহদী ঊফি বি‘আহদিকুম ওয়াইয়্যা-য়া ফারহাবূন
হে বানী ইসরাঈল! আমার সেই অনুগ্রহকে স্মরণ কর, যদ্বারা আমি তোমাদেরকে অনুগৃহীত করেছি এবং আমার সঙ্গে তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করব এবং তোমরা কেবল আমাকেই ভয় কর।
وَءَامِنُوا۟ بِمَآ أَنزَلْتُ مُصَدِّقًۭا لِّمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُوٓا۟ أَوَّلَ كَافِرٍۭ بِهِۦ ۖ وَلَا تَشْتَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِى ثَمَنًۭا قَلِيلًۭا وَإِيَّٰىَ فَٱتَّقُونِ ٤١
ওয়াআ-মিনূ বিমা- আনযালতু মুসাদ্দিকাল লিমা মা‘আকুম ওয়ালা তাকূনূ আওয়ালা কা-ফিরিম বিহী ওয়ালা তাশতারূ বিআ-য়া-তী ছামানান কালীলাঁ ওয়াইয়্যা-য়া ফাত্তাকূন
আর তোমরা ঈমান আন সেই কিতাবের প্রতি, যা তোমাদের নিকট আছে তার প্রত্যয়নকারী এবং তোমরাই তার প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হয়ো না এবং আমার আয়াতের বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করো না, তোমরা কেবল আমাকেই ভয় কর।
وَلَا تَلْبِسُوا۟ ٱلْحَقَّ بِٱلْبَٰطِلِ وَتَكْتُمُوا۟ ٱلْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ٤٢
ওয়ালা তালবিসুল হাক্কা বিলবা-তিলি ওয়াতাকতুমুল হাক্কা ওয়াআনতুম তা‘লামূন
তোমরা সত্যকে মিথ্যের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করো না।
وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱرْكَعُوا۟ مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ ٤٣
ওয়াআকীমুস সালা-তা ওয়াআ-তুয যাকা-তা ওয়ারকা‘ঊ মা‘আর রা-কি‘ঈন
তোমরা নামায কায়িম কর, যাকাত দাও এবং রুকূ‘কারীদের সঙ্গে রুকূ‘ কর।
۞ أَتَأْمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ ٱلْكِتَٰبَ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ٤٤
আতা’মুরূনান না-সা বিলবির্রি ওয়াতানসাওনা আনফুসাকুম ওয়াআনতুম তাতলূনাল কিতা-ব আফালা তা‘কিলূন
তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দিবে এবং নিজেদের কথা ভুলে যাবে, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর, তবে কি তোমরা বুঝ না?
وَٱسْتَعِينُوا۟ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٰةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى ٱلْخَٰشِعِينَ ٤٥
ওয়াসতা‘ঈনূ বিস্সাবরি ওয়াস্সালা-হ ওয়াইন্নাহা লাকাবীরাতুন ইল্লা ‘আলাল খা-শি‘ঈন
তোমরা ধৈর্য্য ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর, আর তা আল্লাহভীরু ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য সকলের কাছে নিশ্চিতভাবে কঠিন।
ٱلَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَٰقُوا۟ رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَٰجِعُونَ ٤٦
আল্লাযীনা ইয়াযুন্নূনা আন-নাহুম মুলা-কূ রাব্বিহিম ওয়াআন্নাহুম ইলাইহি রা-জি‘ঊন
যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে যে, তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ ঘটবেই এবং তাঁরই দিকে তারা ফিরে যাবে।
يَٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتِىَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّى فَضَّلْتُكُمْ عَلَى ٱلْعَٰلَمِينَ ٤٧
ইয়া-বানী ইসরা-ঈলাযকুরূ নি‘মাতিয়াল লাতী আন‘আমতু ‘আলাইকুম ওয়াআন্নী ফাদ্দালতুকুম ‘আলাল ‘আ-লামীন
হে বানী ইসরাঈল! আমার সেই অনুগ্রহকে স্মরণ কর যদ্বারা আমি তোমাদেরকে অনুগৃহীত করেছিলাম এবং পৃথিবীতে সকলের উপরে তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।
وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًۭا لَّا تَجْزِى نَفْسٌ عَن نَّفْسٍۢ شَيْـًۭٔا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَٰعَةٌۭ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌۭ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ٤٨
ওয়াত্তাকূ ইয়াওমাল লা তাজযী নাফসুন ‘আন নাফসিন শাইআঁ ওয়ালা ইউকবালু মিনহা শাফা-‘আতুঁ ওয়ালা ইউ’খাযু মিনহা ‘আদলুঁ ওয়ালা হুম ইউনসারূন
তোমরা সেদিনকে ভয় কর যেদিন কেউ কারো উপকারে আসবে না এবং কারও সুপারিশ গৃহীত হবে না এবং কারও নিকট থেকে ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবে না আর তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না।
وَإِذْ نَجَّيْنَٰكُم مِّنْ ءَالِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوٓءَ ٱلْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَآءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَآءَكُمْ ۚ وَفِى ذَٰلِكُم بَلَآءٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌۭ ٤٩
ওয়াইয নাজ্জাইনা-কুম মিন আ-লি ফির‘আওনা ইয়াসূমূনাকুম সূআল ‘আযা-বি ইউযাব্বিহূনা আবনা-আকুম ওয়ায়াসতাহইউনা নিসা-আকুম ওয়াফী যা-লিকুম বালা-উম মির রাব্বিকুম ‘আযীম
স্মরণ কর, আমি যখন তোমাদেরকে ফেরাউন গোষ্ঠী হতে মুক্তি দিয়েছিলাম, যারা তোমাদের পুত্র সন্তানকে হত্যা ক’রে আর তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রেখে তোমাদেরকে মর্মান্তিক যাতনা দিত আর এতে তোমাদের প্রভুর পক্ষ হতে ছিল মহাপরীক্ষা।
وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ ٱلْبَحْرَ فَأَنجَيْنَٰكُمْ وَأَغْرَقْنَآ ءَالَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ ٥٠
ওয়াইয ফারাকনা বিকুমুল বাহরা ফাআনজাইনা-কুম ওয়াআগরাকনা- আ-লা ফির‘আওনা ওয়াআনতুম তানযুরূন
স্মরণ কর, যখন তোমাদের জন্য সাগরকে বিভক্ত করেছিলাম এবং তোমাদেরকে উদ্ধার করেছিলাম এবং ফেরাউন গোষ্ঠীকে নিমজ্জিত করেছিলাম আর তোমরা তা চেয়ে চেয়ে দেখছিলে।
وَإِذْ وَٰعَدْنَا مُوسَىٰٓ أَرْبَعِينَ لَيْلَةًۭ ثُمَّ ٱتَّخَذْتُمُ ٱلْعِجْلَ مِنۢ بَعْدِهِۦ وَأَنتُمْ ظَٰلِمُونَ ٥١
ওয়াইয ওয়া-‘আদনা মূসা- আরবা‘ঈনা লাইলাতান ছুম্মাত তাখাযতুমুল ‘ইজলা মিম বা‘দিহী ওয়াআনতুম যা-লিমূন
যখন মূসার উপর চল্লিশ রজনীর ওয়া‘দা করেছিলাম (কিতাব প্রদানের জন্য), তার (প্রস্থানের) পর তোমরা তখন বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিলে, বস্তুতঃ তোমরা তো ছিলে যালিম।
ثُمَّ عَفَوْنَا عَنكُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ٥٢
ছুম্মা ‘আফাওনা ‘আনকুম মিম বা‘দি যা-লিকা লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন
এরপরও আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
وَإِذْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ٥٣
ওয়াইয আ-তাইনা মূসাল কিতা-বা ওয়ালফুরকা-না লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন
স্মরণ কর, যখন আমি মূসাকে কিতাব ও ফুরকান দিয়েছিলাম, যাতে তোমরা সৎপথ অবলম্বন কর।
وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦ يَٰقَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنفُسَكُم بِٱتِّخَاذِكُمُ ٱلْعِجْلَ فَتُوبُوٓا۟ إِلَىٰ بَارِئِكُمْ فَٱقْتُلُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌۭ لَّكُمْ عِندَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ ٥٤
ওয়াইয কা-লা মূসা লিকাওমিহী ইয়া-কাওমি ইন্নাকুম যালামতুম আনফুসাকুম বিত্তিখা-যিকুমুল ‘ইজলা ফাতূবূ ইলা বা-রিইকুম ফাকতুলূ আনফুসাকুম যা-লিকুম খাইরুল লাকুম ‘ইনদা বা-রিইকুম ফাতা-বা ‘আলাইকুম ইন্নাহূ হুওয়াত তাওয়া-বুর রাহীম
স্মরণ কর, মূসা যখন আপন কওমের লোককে বলল, ‘হে আমার কওম! বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ ক’রে তোমরা নিজেদের প্রতি কঠিন অত্যাচার করেছ, কাজেই তোমরা তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট তাওবাহ কর এবং তোমরা নিজেদেরকে (নিরপরাধীরা অপরাধীদেরকে) হত্যা কর, তোমাদের স্রষ্টার নিকট এটাই শ্রেয়, অতঃপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করলেন, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
وَإِذْ قُلْتُمْ يَٰمُوسَىٰ لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّىٰ نَرَى ٱللَّهَ جَهْرَةًۭ فَأَخَذَتْكُمُ ٱلصَّٰعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ ٥٥
ওয়াইয কুলতুম ইয়া-মূসা লান নু’মিনা লাকা হাত্তা নারাল্লা-হা জাহরাতান ফাআখাযাতকুমুস সা-‘ইকাতু ওয়াআনতুম তানযুরূন
স্মরণ কর, যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মূসা! আমরা আল্লাহকে সরাসরি না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কক্ষনো বিশ্বাস করব না’। তখন বজ্র তোমাদেরকে পাকড়াও করেছিল আর তোমরা নিজেরাই তা প্রত্যক্ষ করছিলে।
ثُمَّ بَعَثْنَٰكُم مِّنۢ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ٥٦
ছুম্মা বা‘আছনা-কুম মিম বা‘দি মাওতিকুম লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন
অতঃপর তোমাদের মৃত্যুর পর আমি তোমাদেরকে আবার জীবিত করলাম, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ ٱلْغَمَامَ وَأَنزَلْنَا عَلَيْكُمُ ٱلْمَنَّ وَٱلسَّلْوَىٰ ۖ كُلُوا۟ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقْنَٰكُمْ ۖ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَٰكِن كَانُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ٥٧
ওয়াযাল্লালনা ‘আলাইকুমুল গামা-মা ওয়াআনযালনা ‘আলাইকুমুল মান্না ওয়াস্সালওয়া কুলূ মিন তাইয়্যিবা-তি মা রাযাকনা-কুম ওয়ামা যালামূনা ওয়ালা-কিন কা-নূ আনফুসাহুম ইয়াযলিমূন
আমি মেঘ দ্বারা তোমাদের উপর ছায়া বিস্তার করলাম, তোমাদের কাছে মান্না ও সালওয়া প্রেরণ করলাম, (আর বললাম)তোমাদেরকে যা দান করেছি তাথেকে বৈধ বস্তুগুলো খাও, আর মূলত তারা আমার প্রতি কোন যুলম করেনি, বরং তারা নিজেদের প্রতিই যুলম করেছিল।
وَإِذْ قُلْنَا ٱدْخُلُوا۟ هَٰذِهِ ٱلْقَرْيَةَ فَكُلُوا۟ مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًۭا وَٱدْخُلُوا۟ ٱلْبَابَ سُجَّدًۭا وَقُولُوا۟ حِطَّةٌۭ نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطَٰيَٰكُمْ ۚ وَسَنَزِيدُ ٱلْمُحْسِنِينَ ٥٨
ওয়াইয কুলনাদখুলূ হা-যিহিল কারইয়াতা ফাকুলূ মিনহা হাইছু শি’তুম রাগাদাঁ ওয়াদখুলুল বা-বা সুজ্জাদাঁ ওয়াকূলূ হিত্তাতুন নাগফির লাকুম খাতা-য়া-কুম ওয়াসানাযীদুল মুহসিনীন
স্মরণ কর, যখন আমি বললাম, এ জনপদে প্রবেশ কর, সেখানে যা ইচ্ছে স্বচ্ছন্দে আহার কর, দ্বার দিয়ে নতশিরে প্রবেশ কর এবং বল; ‘ক্ষমা চাই’। আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব এবং সৎকর্মশীলদের প্রতি আমার দান বৃদ্ধি করব।
فَبَدَّلَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ قَوْلًا غَيْرَ ٱلَّذِى قِيلَ لَهُمْ فَأَنزَلْنَا عَلَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ رِجْزًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ بِمَا كَانُوا۟ يَفْسُقُونَ ٥٩
ফাবাদ্দালাল লাযীনা যালামূ কাওলান গাইরাল লাযী কীলা লাহুম ফাআনযালনা ‘আলাল লাযীনা যালামূ রিজযাম মিনাস সামা-ই বিমা কা-নূ ইয়াফসুকূন
কিন্তু যারা অত্যাচার করেছিল তারা তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল, কাজেই যালিমদের প্রতি আমি আকাশ হতে শাস্তি প্রেরণ করলাম, কারণ তারা সত্য ত্যাগ করেছিল।
۞ وَإِذِ ٱسْتَسْقَىٰ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦ فَقُلْنَا ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْحَجَرَ ۖ فَٱنفَجَرَتْ مِنْهُ ٱثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًۭا ۖ قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍۢ مَّشْرَبَهُمْ ۖ كُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ مِن رِّزْقِ ٱللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ٦٠
ওয়াইযিসতাসকা মূসা লিকাওমিহী ফাকুলনাদরিব বি‘আসা-কাল হাজারা ফানফাজারাত মিনহুছনাতা ‘আশরাতা ‘আইনান কাদ ‘আলিমা কুল্লু উনা-সিম মাশরাবাহুম কুলূ ওয়াশরাবূ মির রিযকিল্লা-হি ওয়ালা তা‘ছাও ফিল আরদি মুফসিদীন
স্মরণ কর, যখন মূসা (আ.) তার কওমের জন্য পানি প্রার্থনা করল, আমি বললাম, ‘তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর’। ফলে তাথেকে বারটি ঝর্ণা প্রবাহিত হল, প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানের জায়গা চিনে নিল,(বললাম) ‘আল্লাহ প্রদত্ত রিয্ক হতে তোমরা পানাহার কর এবং দুষ্কৃতিকারীর মত পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না’।
وَإِذْ قُلْتُمْ يَٰمُوسَىٰ لَن نَّصْبِرَ عَلَىٰ طَعَامٍۢ وَٰحِدٍۢ فَٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنۢبِتُ ٱلْأَرْضُ مِنۢ بَقْلِهَا وَقِثَّآئِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا ۖ قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ ٱلَّذِى هُوَ أَدْنَىٰ بِٱلَّذِى هُوَ خَيْرٌ ۚ ٱهْبِطُوا۟ مِصْرًۭا فَإِنَّ لَكُم مَّا سَأَلْتُمْ ۗ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ ٱلذِّلَّةُ وَٱلْمَسْكَنَةُ وَبَآءُو بِغَضَبٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ ۗ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا۟ يَكْفُرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَيَقْتُلُونَ ٱلنَّبِيِّۦنَ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ ۗ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا۟ وَّكَانُوا۟ يَعْتَدُونَ ٦١
ওয়াইয কুলতুম ইয়া-মূসা লান নাসবিরা ‘আলা তা‘আ-মিঁ ওয়া-হিদিন ফাদ‘উ লানা রাব্বাকা ইউখরিজ লানা মিম্মা তুমবিতুল আরদু মিম বাকলিহা ওয়াকিছ্ছা-ইহা ওয়াফূমিহা ওয়া‘আদাসিহা ওয়াবাসালিহা কা-লা আতাসতাবদিলূনাল লাযী হুওয়া আদনা বিল্লাযী হুওয়া খাইর ইহবিতূ মিসরান ফাইন্না লাকুম মা সাআলতুম ওয়াদুরিবাত ‘আলাইহিমুয যিল্লাতু ওয়ালমাসকানাতু ওয়াবা-ঊ বিগাদাবিম মিনাল্লা-হ যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-নূ ইয়াকফুরূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়ায়াকতুলূনান নাবিয়্যীনা বিগাইরিল হাক্ক যা-লিকা বিমা ‘আসাও ওয়াকা-নূ ইয়া‘তাদূন
স্মরণ কর, যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মূসা! আমরা একই রকম খাদ্যে কক্ষনো ধৈর্য ধারণ করব না, কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য দু‘আ কর, তিনি যেন ভূমি হতে উৎপাদিত দ্রব্য শাক-সব্জি, কাঁকড়, গম, মসুর ও পেঁয়াজ আমাদের জন্য উৎপাদন করেন’। মূসা বললঃ ‘তোমরা কি উৎকৃষ্ট বস্তুকে নিকৃষ্ট বস্তুর সঙ্গে বদল করতে চাও, তবে কোন নগরে প্রবেশ কর; তোমরা যা চাও তা সেখানে আছে’ এবং তাদেরকে লাঞ্ছনা ও দারিদ্রের কশাঘাত করা হল ও তারা আল্লাহর কোপে পতিত হল। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহর নিদর্শনকে অস্বীকার করত এবং নাবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন করার জন্যই তাদের এ পরিণতি হয়েছিল।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ هَادُوا۟ وَٱلنَّصَٰرَىٰ وَٱلصَّٰبِـِٔينَ مَنْ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَعَمِلَ صَٰلِحًۭا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ٦٢
ইন্নাল লাযীনা আ-মানূ ওয়াল্লাযীনা হা-দূ ওয়ান্নাসা-রা ওয়াস্সা-বিঈনা মান আ-মানা বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি ওয়া‘আমিলা সা-লিহান ফালাহুম আজরুহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম ওয়ালা খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা হুম ইয়াহযানূন
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, যারা ইয়াহূদী হয়েছে এবং খৃষ্টান ও সাবিঈন- যারাই আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَٰقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُوا۟ مَآ ءَاتَيْنَٰكُم بِقُوَّةٍۢ وَٱذْكُرُوا۟ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ٦٣
ওয়াইয আখাযনা মীছা-কাকুম ওয়ারাফা‘না ফাওকাকুমুত তূরা খুযূ মা- আ-তাইনা-কুম বিকুওয়াতিঁ ওয়াযকুরূ মা ফীহি লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূন
স্মরণ কর, যখন তোমাদের শপথ নিয়েছিলাম এবং তূর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরেছিলাম, বলেছিলাম, 'আমি যা দিলাম দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ কর এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ রেখ, যেন তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার'।
ثُمَّ تَوَلَّيْتُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ ۖ فَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ لَكُنتُم مِّنَ ٱلْخَٰسِرِينَ ٦٤
ছুম্মা তাওয়াল্লাইতুম মিম বা‘দি যা-লিকা ফালাওলা ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়ারাহমাতুহূ লাকুনতুম মিনাল খা-সিরীন
এরপরেও তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে; আল্লাহর অনুগ্রহ ও অনুকম্পা তোমাদের প্রতি না থাকলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যায়ভুক্ত হয়ে যেতে।
وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ ٱلَّذِينَ ٱعْتَدَوْا۟ مِنكُمْ فِى ٱلسَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا۟ قِرَدَةً خَٰسِـِٔينَ ٦٥
ওয়ালাকাদ ‘আলিমতুমুল লাযীনা‘তাদাও মিনকুম ফিস সাবতি ফাকুলনা লাহুম কূনূ কিরাদাতান খা-সিঈন
তোমাদের মধ্যে যারা শনিবার সম্পর্কে সীমালঙ্ঘন করেছিল, তাদেরকে তোমরা অবশ্যই জান, আমি তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তোমরা ঘৃণিত বানরে পরিণত হও’।
فَجَعَلْنَٰهَا نَكَٰلًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةًۭ لِّلْمُتَّقِينَ ٦٦
ফাজা‘আলনা-হা নাকা-লাল লিমা বাইনা ইয়াদাইহা ওয়ামা খালফাহা ওয়ামাও‘ইযাতাল লিলমুত্তাকীন
আমি তা তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীগণের শিক্ষা গ্রহণের জন্য দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ স্বরূপ করেছি।
وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تَذْبَحُوا۟ بَقَرَةًۭ ۖ قَالُوٓا۟ أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًۭا ۖ قَالَ أَعُوذُ بِٱللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْجَٰهِلِينَ ٦٧
ওয়াইয কা-লা মূসা লিকাওমিহী ইন্নাল্লা-হা ইয়া’মুরুকুম আন তাযবাহূ বাকারাতান কা-লূ আতাত্তাখিযুনা হুযুওয়ান কা-লা আ‘ঊযু বিল্লা-হি আন আকূনা মিনাল জা-হিলীন
স্মরণ কর, যখন মূসা (আ.) স্বীয় সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে একটি গরু যবহ করার আদেশ দিচ্ছেন’; তারা বলেছিল, ‘তুমি কি আমাদের সঙ্গে ঠাট্টা করছো’? মূসা বলল, আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি, যাতে আমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না হই।
قَالُوا۟ ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِىَ ۚ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌۭ لَّا فَارِضٌۭ وَلَا بِكْرٌ عَوَانٌۢ بَيْنَ ذَٰلِكَ ۖ فَٱفْعَلُوا۟ مَا تُؤْمَرُونَ ٦٨
কা-লুদ‘উ লানা রাব্বাকা ইউবাইয়্যিল লানা মা হিই কা-লা ইন্নাহূ ইয়াকূলু ইন্নাহা বাকারাতুল লা ফা-রিদুঁ ওয়ালা বিকরুন ‘আওয়া-নুম বাইনা যা-লিকা ফাফ‘আলূ মা তু’মারূন
তারা বলল, ‘আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালককে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে বল তা কীরূপ’? মূসা বলল, ‘আল্লাহ বলছেন, তা এমন এক গরু যা বৃদ্ধও নয় এবং অল্প বয়স্কও নয়- মধ্য বয়সী। সুতরাং যা (করতে) আদিষ্ট হয়েছ, তা পালন কর’।
قَالُوا۟ ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا لَوْنُهَا ۚ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌۭ صَفْرَآءُ فَاقِعٌۭ لَّوْنُهَا تَسُرُّ ٱلنَّٰظِرِينَ ٦٩
কা-লুদ‘উ লানা রাব্বাকা ইউবাইয়্যিল লানা মা লাওনুহা কা-লা ইন্নাহূ ইয়াকূলু ইন্নাহা বাকারাতুন সাফরা-উ ফা-কি‘উল লাওনুহা তাসুর্রুন না-যিরীন
তারা বলল, ‘আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালককে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে বল, ওর রং কী’? মূসা বলল, ‘আল্লাহ বলছেন, তা হলুদ বর্ণের গরু, তার রং উজ্জ্বল গাঢ়, যা দর্শকদেরকে আনন্দ দেয়’।
قَالُوا۟ ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِىَ إِنَّ ٱلْبَقَرَ تَشَٰبَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّآ إِن شَآءَ ٱللَّهُ لَمُهْتَدُونَ ٧٠
কা-লুদ‘উ লানা রাব্বাকা ইউবাইয়্যিল লানা মা হিয়া ইন্নাল বাকারা তাশা-বাহা ‘আলাইনা ওয়াইন্না- ইন শা-আল্লা-হু লামুহতাদূন
তারা বলল, ‘আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালককে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে বল গরুটি কেমন? কারণ সব গরু আমাদের কাছে সমান, আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নিশ্চয় আমরা পথের দিশা পাব।’
قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌۭ لَّا ذَلُولٌۭ تُثِيرُ ٱلْأَرْضَ وَلَا تَسْقِى ٱلْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌۭ لَّا شِيَةَ فِيهَا ۚ قَالُوا۟ ٱلْـَٰٔنَ جِئْتَ بِٱلْحَقِّ ۚ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا۟ يَفْعَلُونَ ٧١
কা-লা ইন্নাহূ ইয়াকূলু ইন্নাহা বাকারাতুল লা যালূলুন তুছীরুল আরদা ওয়ালা তাসকিল হারছা মুসাল্লামাতুল লা শিয়াতা ফীহা কা-লুল আ-না জি’তা বিলহাক্ক ফাযাবাহূহা ওয়ামা কা-দূ ইয়াফ‘আলূন
মূসা বলল, ‘তিনি বলছেন, তা এমন এক গরু যা জমি চাষে ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়নি বরং সুস্থ ও নিখুঁত’। তারা বলল, ‘এখন তুমি সত্য প্রকাশ করেছ’। তারা তাকে যবহ করল যদিও তাদের জন্য সেটা প্রায় অসম্ভব ছিল।
وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًۭا فَٱدَّٰرَْٰٔتُمْ فِيهَا ۖ وَٱللَّهُ مُخْرِجٌۭ مَّا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ ٧٢
ওয়াইয কাতালতুম নাফসান ফাদ্দা-আ-তুম ফীহা ওয়াল্লা-হু মুখরিজুম মা কুনতুম তাকতুমূন
স্মরণ কর, তোমরা যখন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে এবং একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করছিলে, তোমরা যা গোপন করছিলে আল্লাহ তা প্রকাশ করে দিলেন।
فَقُلْنَا ٱضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا ۚ كَذَٰلِكَ يُحْىِ ٱللَّهُ ٱلْمَوْتَىٰ وَيُرِيكُمْ ءَايَٰتِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ٧٣
ফাকুলনাদরিবূহু বিবা‘দিহা কাযা-লিকা ইউহইয়িল্লা-হুল মাওতা ওয়াইউরীকুম আ-য়া-তিহী লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন
আমি বললাম, ‘তার (অর্থাৎ যবহকৃত গরুর) কোন অংশ দ্বারা একে আঘাত কর’। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবন দান করেন, আর তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন দেখিয়ে থাকেন যাতে তোমরা জ্ঞানলাভ করতে পার।
ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ فَهِىَ كَٱلْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةًۭ ۚ وَإِنَّ مِنَ ٱلْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ ٱلْأَنْهَٰرُ ۚ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ ٱلْمَآءُ ۚ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَهْبِطُ مِنْ خَشْيَةِ ٱللَّهِ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ٧٤
ছুম্মা কাসাত কুলূবুকুম মিম বা‘দি যা-লিকা ফাহিয়া কালহিজা-রাতি আও আশাদ্দু কাসওয়াহ ওয়াইন্না মিনাল হিজা-রাতি লামা ইয়াতাফাজ্জারু মিনহুল আনহা-র ওয়াইন্না মিনহা লামা ইয়াশ্শাক্কাকু ফায়াখরুজু মিনহুল মা-আ ওয়াইন্না মিনহা লামা ইয়াহবিতু মিন খাশইয়াতিল্লা-হ ওয়ামাল্লা-হু বিগা-ফিলিন ‘আম্মা তা‘মালূন
এরপরও তোমাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেল, তা পাথর কিংবা তদপেক্ষা কঠিন। কতক পাথরও এমন আছে যে তা হতে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয় এবং কতক এরূপ যে, ফেটে যাওয়ার পর তা হতে পানি নির্গত হয়। আবার কতক এমন যা আল্লাহর ভয়ে ধ্বসে পড়ে এবং তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে বেখেয়াল নন।
۞ أَفَتَطْمَعُونَ أَن يُؤْمِنُوا۟ لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌۭ مِّنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَٰمَ ٱللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُۥ مِنۢ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ٧٥
আফাতাতমা‘ঊনা আন ইউ’মিনূ লাকুম ওয়াকাদ কা-না ফারীকুম মিনহুম ইয়াসমা‘ঊনা কালা-মাল্লা-হি ছুম্মা ইউহার্রিফূনাহূ মিম বা‘দি মা ‘আকালূহু ওয়াহুম ইয়া‘লামূন
তোমরা কি এই আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? অথচ তাদের একদল আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত ও বুঝার পর জেনে শুনে তা বিকৃত করত।
وَإِذَا لَقُوا۟ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍۢ قَالُوٓا۟ أَتُحَدِّثُونَهُم بِمَا فَتَحَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَآجُّوكُم بِهِۦ عِندَ رَبِّكُمْ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ٧٦
ওয়াইযা লাকুল লাযীনা আ-মানূ কা-লূ আ-মান্না ওয়াইযা খালা বা‘দুহুম ইলা বা‘দিন কা-লূ আতুহাদ্দিছূনাহুম বিমা ফাতাহাল্লা-হু ‘আলাইকুম লিইউহা-জ্জূকুম বিহী ‘ইনদা রাব্বিকুম আফালা তা‘কিলূন
যখন তারা মু’মিনদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, ‘আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি’। আবার যখন তারা নিভৃতে একে অন্যের সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে, ‘আল্লাহ তোমাদের কাছে যা (তাওরাতে) ব্যক্ত করেছেন [মুহাম্মাদ (সা.) সম্পর্কে] তোমরা কি তা তাদেরকে বলে দাও যাতে এর দ্বারা তারা তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে তোমাদের বিরুদ্ধে যুক্তি পেশ করবে? তোমরা কি বুঝ না’?
أَوَلَا يَعْلَمُونَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ ٧٧
আওয়ালা ইয়া‘লামূনা আন-নাল্লা-হা ইয়া‘লামু মা ইউসির্রূনা ওয়ামা ইউ‘লিনূন
তাদের কি জানা নেই যে, যা তারা গোপন রাখে অথবা প্রকাশ করে অবশ্যই আল্লাহ তা জানেন?
وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ ٱلْكِتَٰبَ إِلَّآ أَمَانِىَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ ٧٨
ওয়ামিনহুম উম্মিয়্যূনা লা ইয়া‘লামূনাল কিতা-বা ইল্লা- আমা-নিয়্যা ওয়াইন হুম ইল্লা ইয়াযুন্নূন
তাদের মাঝে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে, যাদের মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা ছাড়া কিতাবের কোন জ্ঞানই নেই, তারা কেবল অলীক ধারণা পোষণ করে।
فَوَيْلٌۭ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ ٱلْكِتَٰبَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَٰذَا مِنْ عِندِ ٱللَّهِ لِيَشْتَرُوا۟ بِهِۦ ثَمَنًۭا قَلِيلًۭا ۖ فَوَيْلٌۭ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌۭ لَّهُم مِّمَّا يَكْسِبُونَ ٧٩
ফাওয়াইলুল লিল্লাযীনা ইয়াকতুবূনাল কিতা-বা বিআইদীহিম ছুম্মা ইয়াকূলূনা হা-যা মিন ‘ইনদিল্লা-হি লিয়াশতারূ বিহী ছামানান কালীলান ফাওয়াইলুল লাহুম মিম্মা কাতাবাত আইদীহিম ওয়াওয়াইলুল লাহুম মিম্মা ইয়াকসিবূন
সুতরাং অভিসম্পাত তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং নিকৃষ্ট মূল্য লাভের জন্য বলে এটা আল্লাহর নিকট হতে, তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য তাদের শাস্তি অবধারিত এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্যও শাস্তি রয়েছে।
وَقَالُوا۟ لَن تَمَسَّنَا ٱلنَّارُ إِلَّآ أَيَّامًۭا مَّعْدُودَةًۭ ۚ قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِندَ ٱللَّهِ عَهْدًۭا فَلَن يُخْلِفَ ٱللَّهُ عَهْدَهُۥٓ ۖ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ٨٠
ওয়াকা-লূ লান তামাস্সানান না-রু ইল্লা- আইয়্যা-মাম মা‘দূদাহ কুল আত-তাখাযতুম ‘ইনদাল্লা-হি ‘আহদান ফালান ইউখলিফাল্লা-হু ‘আহদাহূ আম তাকূলূনা ‘আলাল্লা-হি মা লা তা‘লামূন
তারা বলে, ‘গুটি কয়েক দিন ছাড়া আগুন কক্ষনো আমাদেরকে স্পর্শ করবে না’। বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর নিকট হতে প্রতিশ্রুতি নিয়েছো যে প্রতিশ্রুতি আল্লাহ ভঙ্গ করবেন না? কিংবা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না’।
بَلَىٰ مَن كَسَبَ سَيِّئَةًۭ وَأَحَٰطَتْ بِهِۦ خَطِيٓـَٔتُهُۥ فَأُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٨١
বালা মান কাসাবা সাইয়্যিআতাঁ ওয়াআহা-তাত বিহী খাতীআতুহূ ফাউলা-ইকা আসহা-বুন না-রি হুম ফীহা খা-লিদূন
তবে হাঁ, যারা পাপ কাজ করে এবং যাদের পাপরাশি তাদেরকে ঘিরে ফেলে তারাই জাহান্নামী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٨٢
ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি উলা-ইকা আসহা-বুল জান্নাতি হুম ফীহা খা-লিদূন
আর যারা ঈমান আনে ও নেক ‘আমাল করে তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে।
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَٰقَ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا ٱللَّهَ وَبِٱلْوَٰلِدَيْنِ إِحْسَانًۭا وَذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَقُولُوا۟ لِلنَّاسِ حُسْنًۭا وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًۭا مِّنكُمْ وَأَنتُم مُّعْرِضُونَ ٨٣
ওয়াইয আখাযনা মীছা-কা বানী ইসরা-ঈলা লা তা‘বুদূনা ইল্লাল্লা-হা ওয়াবিলওয়া-লিদাইনি ইহসা-নাঁ ওয়াযিল কুরবা ওয়ালইয়াতা-মা ওয়ালমাসা-কীনি ওয়াকূলূ লিন্না-সি হুসনাঁ ওয়াআকীমুস সালা-তা ওয়াআ-তুয যাকা-তা ছুম্মা তাওয়াল্লাইতুম ইল্লা কালীলাম মিনকুম ওয়াআনতুম মু‘রিদূন
আর স্মরণ কর, যখন বানী ইসরাঈলের শপথ নিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ‘ইবাদাত করবে না, মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, অনাথ ও দরিদ্রদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে এবং মানুষের সাথে সদালাপ করবে, নামায কায়িম করবে এবং যাকাত দিবে। কিন্তু অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া তোমরা অগ্রাহ্যকারী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলে।
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَٰقَكُمْ لَا تَسْفِكُونَ دِمَآءَكُمْ وَلَا تُخْرِجُونَ أَنفُسَكُم مِّن دِيَٰرِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنتُمْ تَشْهَدُونَ ٨٤
ওয়াইয আখাযনা মীছা-কাকুম লা তাসফিকূনা দিমা-আকুম ওয়ালা তুখরিজূনা আনফুসাকুম মিন দিয়া-রিকুম ছুম্মা আকরারতুম ওয়াআনতুম তাশহাদূন
আর যখন তোমাদের শপথ নিয়েছিলাম যে, তোমরা একে অন্যের রক্তপাত করবে না এবং স্বজনদেরকে স্বদেশ হতে বহিষ্কার করবে না, তারপর তোমরা তা স্বীকার করেছিলে আর এ বিষয়ে তোমরাই সাক্ষী।
ثُمَّ أَنتُمْ هَٰٓؤُلَآءِ تَقْتُلُونَ أَنفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقًۭا مِّنكُم مِّن دِيَٰرِهِمْ تَظَٰهَرُونَ عَلَيْهِم بِٱلْإِثْمِ وَٱلْعُدْوَٰنِ وَإِن يَأْتُوكُمْ أُسَٰرَىٰ تُفَٰدُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ ۚ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ ٱلْكِتَٰبِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍۢ ۚ فَمَا جَزَآءُ مَن يَفْعَلُ ذَٰلِكَ مِنكُمْ إِلَّا خِزْىٌۭ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ۖ وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ يُرَدُّونَ إِلَىٰٓ أَشَدِّ ٱلْعَذَابِ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ٨٥
ছুম্মা আনতুম হা-উলা-ই তাকতুলূনা আনফুসাকুম ওয়াতুখরিজূনা ফারীকাম মিনকুম মিন দিয়া-রিহিম তাযা-হারূনা ‘আলাইহিম বিলইছমি ওয়াল‘উদওয়া-নি ওয়াইন ইয়া’তূকুম উসা-রা তুফা-দূহুম ওয়াহুওয়া মুহার্রামুন ‘আলাইকুম ইখরা-জুহুম আফাতু’মিনূনা বিবা‘দিল কিতা-বি ওয়াতাকফুরূনা বিবা‘দ ফামা জাযা-উ মান ইয়াফ‘আলু যা-লিকা মিনকুম ইল্লা খিযা ফিল হায়া-তিদ দুনইয়া ওয়ায়াওমাল কিয়া-মাতি ইউরাদ্দূনা ইলা- আশাদ্দিল ‘আযা-ব ওয়ামাল্লা-হু বিগা-ফিলিন ‘আম্মা তা‘মালূন
পরন্ত তোমরাই সেই লোক যারা পরস্পর নিজেদেরকে হত্যা করছ এবং তোমাদের একদলকে স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করছ, তোমরা নিজেরা তাদের বিরুদ্ধে অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন করে পরস্পরের সহযোগিতা করছ এবং তারা যখন বন্দীরূপে তোমাদের নিকট হাজির হয়, তখন তোমরা মুক্তিপণ আদায় কর, মূলতঃ তাদের বহিষ্করণই তোমাদের জন্য ছিল নিষিদ্ধ; তাহলে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান কর? অতএব তোমাদের যারা এমন করে তাদের পার্থিব জগতে লাঞ্ছনা ও অবমাননা ছাড়া আর কী প্রতিদান হতে পারে? এবং ক্বিয়ামাতের দিন তারা কঠিন শাস্তির মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে, আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন।
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا بِٱلْءَاخِرَةِ ۖ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ ٱلْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ٨٦
উলা-ইকাল লাযীনাশতারাউল হায়া-তাদ দুনইয়া বিলআ-খিরাতি ফালা ইউখাফ্ফাফু ‘আনহুমুল ‘আযা-বু ওয়ালা হুম ইউনসারূন
তারাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করে। কাজেই তাদের শাস্তি কম করা হবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَٰبَ وَقَفَّيْنَا مِنۢ بَعْدِهِۦ بِٱلرُّسُلِ ۖ وَءَاتَيْنَا عِيسَى ٱبْنَ مَرْيَمَ ٱلْبَيِّنَٰتِ وَأَيَّدْنَٰهُ بِرُوحِ ٱلْقُدُسِ ۗ أَفَكُلَّمَا جَآءَكُمْ رَسُولٌۢ بِمَا لَا تَهْوَىٰٓ أَنفُسُكُمُ ٱسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًۭا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًۭا تَقْتُلُونَ ٨٧
ওয়ালাকাদ আ-তাইনা মূসাল কিতা-বা ওয়াকাফ্ফাইনা মিম বা‘দিহী বির্রুসুলি ওয়াআ-তাইনা ‘ঈসাবনা মারইয়ামাল বাইয়্যিনা-তি ওয়াআইয়্যাদনা-হু বিরূহিল কুদুস আফাকুল্লামা জা-আকুম রাসূলুম বিমা লা তাহওয়া- আনফুসুকুমুসতাকবারতুম ফাফারীকান কায্যাবতুম ওয়াফারীকান তাকতুলূন
এবং নিশ্চয়ই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তার পরে ক্রমান্বয়ে রসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, মারইয়াম পুত্র ঈসাকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছি এবং ‘পবিত্র আত্মা’যোগে (জিবরাঈলের মাধ্যমে) তাকে শক্তিশালী করেছি, অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন কিছু এনেছে যা তোমাদের মনঃপুত নয়, তখনই তোমরা অহংকার করেছ এবং কিছু সংখ্যককে অস্বীকার করেছ এবং কিছু সংখ্যককে হত্যা করেছ।
وَقَالُوا۟ قُلُوبُنَا غُلْفٌۢ ۚ بَل لَّعَنَهُمُ ٱللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلًۭا مَّا يُؤْمِنُونَ ٨٨
ওয়াকা-লূ কুলূবুনা গুলফ বাল লা‘আনাহুমুল্লা-হু বিকুফরিহিম ফাকালীলাম মা ইউ’মিনূন
তারা দাবী করেছিল যে, ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত’, বরং কুফরী করার কারণে আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত করেছেন, অতএব তাদের অল্প সংখ্যকই ঈমান আনে।
وَلَمَّا جَآءَهُمْ كِتَٰبٌۭ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ مُصَدِّقٌۭ لِّمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا۟ مِن قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَلَمَّا جَآءَهُم مَّا عَرَفُوا۟ كَفَرُوا۟ بِهِۦ ۚ فَلَعْنَةُ ٱللَّهِ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ ٨٩
ওয়ালাম্মা জা-আহুম কিতা-বুম মিন ‘ইনদিল্লা-হি মুসাদ্দিকুল লিমা মা‘আহুম ওয়াকা-নূ মিন কাবলু ইয়াসতাফতিহূনা ‘আলাল লাযীনা কাফারূ ফালাম্মা জা-আহুম মা ‘আরাফূ কাফারূ বিহ ফালা‘নাতুল্লা-হি ‘আলাল কা-ফিরীন
তাদের কাছে যা আছে, তার সমর্থক কিতাব যখন আল্লাহর নিকট থেকে আসল, যদিও পূর্বে কাফিরদের বিরুদ্ধে তারা এর সাহায্যে বিজয় প্রার্থনা করত, আর সেটাকে তারা চিনতেও পারল, তবুও যখন তা তাদের নিকট আসল, তখন তারা তা অবিশ্বাস করল; সুতরাং অবিশ্বাসকারীদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত।
بِئْسَمَا ٱشْتَرَوْا۟ بِهِۦٓ أَنفُسَهُمْ أَن يَكْفُرُوا۟ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بَغْيًا أَن يُنَزِّلَ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ ۖ فَبَآءُو بِغَضَبٍ عَلَىٰ غَضَبٍۢ ۚ وَلِلْكَٰفِرِينَ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ٩٠
বি’সামাশতারাও বিহী আনফুসাহুম আন ইয়াকফুরূ বিমা- আনযালাল্লা-হু বাগইয়ান আন ইউনায্যিলাল্লা-হু মিন ফাদলিহী ‘আলা মান ইয়াশা-উ মিন ‘ইবা-দিহী ফাবা-ঊ বিগাদাবিন ‘আলা গাদাব ওয়ালিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বুম মুহীন
তা কতই না নিকৃষ্ট যার বিনিময়ে তারা নিজেদের আত্মাকে বিক্রি করেছে, তা এই যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, জিদের বশে তারা তা প্রত্যাখ্যান করত শুধু এজন্য যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছে অনুগ্রহ করেন, অতএব তারা ক্রোধের উপর ক্রোধের পাত্র হল এবং কাফিরদের জন্যই লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ ءَامِنُوا۟ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُوا۟ نُؤْمِنُ بِمَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَآءَهُۥ وَهُوَ ٱلْحَقُّ مُصَدِّقًۭا لِّمَا مَعَهُمْ ۗ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنۢبِيَآءَ ٱللَّهِ مِن قَبْلُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ٩١
ওয়াইযা কীলা লাহুম আ-মিনূ বিমা- আনযালাল্লা-হু কা-লূ নু’মিনু বিমা- উনযিলা ‘আলাইনা ওয়ায়াকফুরূনা বিমা ওয়ারা-আহূ ওয়াহুওয়াল হাক্কু মুসাদ্দিকাল লিমা মা‘আহুম কুল ফালিমা তাকতুলূনা আমবিয়া-আল্লা-হি মিন কাবলু ইন কুনতুম মু’মিনীন
আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাতে ঈমান আন’; তারা বলে, ‘আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আমরা বিশ্বাস করি’। অথচ পরবর্তী কিতাবকে (কুরআনকে) তারা প্রত্যাখ্যান করে, যদিও তা সত্য এবং যা তাদের নিকট আছে তার সমর্থক। বল, ‘যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে তবে কেন তোমরা পূর্বে নাবীদেরকে হত্যা করেছিলে’?
۞ وَلَقَدْ جَآءَكُم مُّوسَىٰ بِٱلْبَيِّنَٰتِ ثُمَّ ٱتَّخَذْتُمُ ٱلْعِجْلَ مِنۢ بَعْدِهِۦ وَأَنتُمْ ظَٰلِمُونَ ٩٢
ওয়ালাকাদ জা-আকুম মূসা বিলবাইয়্যিনা-তি ছুম্মাত তাখাযতুমুল ‘ইজলা মিম বা‘দিহী ওয়াআনতুম যা-লিমূন
এবং নিশ্চয়ই মূসা তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছে, তারপরেও তোমরা যালিম সেজে গো-বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিলে।
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَٰقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُوا۟ مَآ ءَاتَيْنَٰكُم بِقُوَّةٍۢ وَٱسْمَعُوا۟ ۖ قَالُوا۟ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأُشْرِبُوا۟ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ ۚ قُلْ بِئْسَمَا يَأْمُرُكُم بِهِۦٓ إِيمَٰنُكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ٩٣
ওয়াইয আখাযনা মীছা-কাকুম ওয়ারাফা‘না ফাওকাকুমুত তূরা খুযূ মা- আ-তাইনা-কুম বিকুওয়াতিঁ ওয়াসমা‘ঊ কা-লূ সামি‘না ওয়া‘আসাইনা ওয়াউশরিবূ ফী কুলূবিহিমুল ‘ইজলা বিকুফরিহিম কুল বি’সামা ইয়া’মুরুকুম বিহী ঈমা-নুকুম ইন কুনতুম মু’মিনীন
স্মরণ কর, যখন তোমাদের শপথ নিয়েছিলাম এবং তূর পর্বতকে তোমাদের ঊর্ধ্বে তুলেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘যা দিলাম তা দৃঢ়রূপে ধারণ কর এবং শ্রবণ কর’। তারা বলেছিল, আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম। কুফুরীর কারণে তাদের অন্তরে গো-বৎস-প্রীতি শিকড় গেড়ে বসেছিল। বল, ‘যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তবে তোমাদের বিশ্বাস যার নির্দেশ দেয়, তা কতই না নিকৃষ্ট’!
قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ ٱلدَّارُ ٱلْءَاخِرَةُ عِندَ ٱللَّهِ خَالِصَةًۭ مِّن دُونِ ٱلنَّاسِ فَتَمَنَّوُا۟ ٱلْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ٩٤
কুল ইন কা-নাত লাকুমুদ দা-রুল আ-খিরাতু ‘ইনদাল্লা-হি খা-লিসাতাম মিন দূনিন না-সি ফাতামান্নাউল মাওতা ইন কুনতুম সা-দিকীন
বল, ‘যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্যলোক ছাড়া কেবলমাত্র তোমাদের জন্যই হয়, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক’।
وَلَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًۢا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِٱلظَّٰلِمِينَ ٩٥
ওয়ালান ইয়াতামান্নাওহু আবাদাম বিমা কাদ্দামাত আইদীহিম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিয্যা-লিমীন
কিন্তু তাদের কৃতকর্মের জন্য তারা কক্ষনো তা কামনা করবে না এবং আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে খুবই অবহিত।
وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ ٱلنَّاسِ عَلَىٰ حَيَوٰةٍۢ وَمِنَ ٱلَّذِينَ أَشْرَكُوا۟ ۚ يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍۢ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِۦ مِنَ ٱلْعَذَابِ أَن يُعَمَّرَ ۗ وَٱللَّهُ بَصِيرٌۢ بِمَا يَعْمَلُونَ ٩٦
ওয়ালাতাজিদান্নাহুম আহরাসান না-সি ‘আলা হায়া-তিঁ ওয়ামিনাল লাযীনা আশরাকূ ইয়াওয়াদ্দু আহাদুহুম লাও ইউ‘আম্মারু আলফা সানাতিঁ ওয়ামা হুওয়া বিমুযাহযিহিহী মিনাল ‘আযা-বি আন ইউ‘আম্মার ওয়াল্লা-হু বাসীরুম বিমা ইয়া‘মালূন
অবশ্যই তুমি তাদেরকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে সকল মানুষ এমনকি মুশরিক অপেক্ষাও অধিক লোভী দেখতে পাবে, তাদের প্রত্যেকেই আকাঙ্ক্ষা করে যদি হাজার বছর আয়ু দেয়া হত, কিন্তু দীর্ঘায়ু তাদেরকে শাস্তি হতে রেহাই দিতে পারবে না, তারা যা করে, আল্লাহ তার দ্রষ্টা।
قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّۭا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُۥ نَزَّلَهُۥ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ ٱللَّهِ مُصَدِّقًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًۭى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ ٩٧
কুল মান কা-না ‘আদুওয়াল লিজিবরীলা ফাইন্নাহূ নায্যালাহূ ‘আলা কালবিকা বিইযনিল্লা-হি মুসাদ্দিকাল লিমা বাইনা ইয়াদাইহি ওয়াহুদাঁ ওয়াবুশরা লিলমু’মিনীন
বল, ‘যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হয়েছে, (সে রাগে মরে যাক) কেননা সে তো আল্লাহর হুকুমে তোমার অন্তরে কুরআন পৌঁছিয়ে দিয়েছে, যা এর পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং যাতে ঈমানদারদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ রয়েছে’।
مَن كَانَ عَدُوًّۭا لِّلَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَىٰلَ فَإِنَّ ٱللَّهَ عَدُوٌّۭ لِّلْكَٰفِرِينَ ٩٨
মান কা-না ‘আদুওয়াল্লিল্লা-হি ওয়ামালা-ইকাতিহী ওয়ারুসুলিহী ওয়াজিবরীলা ওয়ামীকা-লা ফাইন্নাল্লা-হা ‘আদুউল লিলকা-ফিরীন
যে ব্যক্তি আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাদের ও তাঁর রসূলগণের এবং জিবরাঈলের ও মীকাইলের শত্রু সাজবে, নিশ্চয়ই আল্লাহও (এসব) কাফিরদের শত্রু।
وَلَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍۢ ۖ وَمَا يَكْفُرُ بِهَآ إِلَّا ٱلْفَٰسِقُونَ ٩٩
ওয়ালাকাদ আনযালনা- ইলাইকা আ-য়া-তিম বাইয়্যিনা-তিঁ ওয়ামা ইয়াকফুরু বিহা- ইল্লাল ফা-সিকূন
এবং আমি তোমার নিকট সুস্পষ্ট আয়াত নাযিল করেছি, ফাসিকরা ছাড়া অন্য কেউ তা অস্বীকার করে না।
أَوَكُلَّمَا عَٰهَدُوا۟ عَهْدًۭا نَّبَذَهُۥ فَرِيقٌۭ مِّنْهُم ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ١٠٠
আওয়াকুল্লামা ‘আ-হাদূ ‘আহদান নাবাযাহূ ফারীকুম মিনহুম বাল আকছারুহুম লা ইউ’মিনূন
এটা কি নয় যে তারা যখনই কোন অঙ্গীকার করে, তখনই তাদের কোন না কোন দল সেই অঙ্গীকারকে বর্জন করে? বরং তাদের অধিকাংশই ঈমান রাখে না।
وَلَمَّا جَآءَهُمْ رَسُولٌۭ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ مُصَدِّقٌۭ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌۭ مِّنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ كِتَٰبَ ٱللَّهِ وَرَآءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ١٠١
ওয়ালাম্মা জা-আহুম রাসূলুম মিন ‘ইনদিল্লা-হি মুসাদ্দিকুল লিমা মা‘আহুম নাবাযা ফারীকুম মিনাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা কিতা-বাল্লা-হি ওয়ারা-আ যুহূরিহিম কাআন্নাহুম লা ইয়া‘লামূন
এবং যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ হতে রসূল আসল যে এদের নিকট যে কিতাব রয়েছে, সেই কিতাবের সমর্থক, তখন যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে পিঠের পিছনে ফেলে দিল, যেন তারা কিছুই জানে না।
وَٱتَّبَعُوا۟ مَا تَتْلُوا۟ ٱلشَّيَٰطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَٰنَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَٰنُ وَلَٰكِنَّ ٱلشَّيَٰطِينَ كَفَرُوا۟ يُعَلِّمُونَ ٱلنَّاسَ ٱلسِّحْرَ وَمَآ أُنزِلَ عَلَى ٱلْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَٰرُوتَ وَمَٰرُوتَ ۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَآ إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌۭ فَلَا تَكْفُرْ ۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِۦ بَيْنَ ٱلْمَرْءِ وَزَوْجِهِۦ ۚ وَمَا هُم بِضَآرِّينَ بِهِۦ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ ۚ وَلَقَدْ عَلِمُوا۟ لَمَنِ ٱشْتَرَىٰهُ مَا لَهُۥ فِى ٱلْءَاخِرَةِ مِنْ خَلَٰقٍۢ ۚ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا۟ بِهِۦٓ أَنفُسَهُمْ ۚ لَوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ ١٠٢
ওয়াত্তাবা‘ঊ মা তাতলুশ শায়া-তীনু ‘আলা মুলকি সুলাইমা-না ওয়ামা কাফারা সুলাইমা-নু ওয়ালা-কিন্নাশ শায়া-তীনা কাফারূ ইউ‘আল্লিমূনান না-সাস সিহরা ওয়ামা- উনযিলা ‘আলাল মালাকাইনি বিবা-বিলা হা-রূতা ওয়ামা-রূত ওয়ামা ইউ‘আল্লিমা-নি মিন আহাদিন হাত্তা ইয়াকূলা- ইন্নামা নাহনু ফিতনাতুন ফালা তাকফুর ফায়াতা‘আল্লামূনা মিনহুমা মা ইউফার্রিকূনা বিহী বাইনাল মারই ওয়াযাওজিহ ওয়ামা হুম বিদা-র্রীনা বিহী মিন আহাদিন ইল্লা বিইযনিল্লা-হ ওয়ায়াতা‘আল্লামূনা মা ইয়াদুর্রুহুম ওয়ালা ইয়ানফা‘উহুম ওয়ালাকাদ ‘আলিমূ লামানিশতারা-হু মা লাহূ ফিল আ-খিরাতি মিন খালা-ক ওয়ালাবি’সা মা শারাও বিহী আনফুসাহুম লাও কা-নূ ইয়া‘লামূন
এবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়ত্বানরা যা পাঠ করত, তারা তা অনুসরণ করত, মূলতঃ সুলায়মান কুফরী করেনি বরং শয়ত্বানরাই কুফুরী করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবিলের দু’জন ফেরেশতা হারূত ও মারূতের উপর পৌঁছানো হয়েছিল এবং ফেরেশতাদ্বয় কাউকেও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, আমরা পরীক্ষা স্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরী কর না,এতদসত্ত্বেও তারা উভয়ের নিকট হতে এমন জিনিস শিক্ষা করতো, যদ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতো, মূলতঃ তারা তাদের এ কাজ দ্বারা আল্লাহর বিনা হুকুমে কারও ক্ষতি করতে পারত না, বস্তুতঃ এরা এমন বিদ্যা শিখত, যদ্দ্বারা তাদের ক্ষতি সাধিত হত আর এদের কোন উপকার হত না এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি ঐ কাজ অবলম্বন করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না, আর যার পরিবর্তে তারা স্বীয় আত্মাগুলোকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না জঘন্য, যদি তারা জানত!
وَلَوْ أَنَّهُمْ ءَامَنُوا۟ وَٱتَّقَوْا۟ لَمَثُوبَةٌۭ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ خَيْرٌۭ ۖ لَّوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ ١٠٣
ওয়ালাও আন-নাহুম আ-মানূ ওয়াত্তাকাও লামাছূবাতুম মিন ‘ইনদিল্লা-হি খাইরুল লাও কা-নূ ইয়া‘লামূন
আর যদি তারা ঈমান আনত এবং মুত্তাকী হত তবে আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠতর সুফল ছিল, যদি তারা জানত!
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَقُولُوا۟ رَٰعِنَا وَقُولُوا۟ ٱنظُرْنَا وَٱسْمَعُوا۟ ۗ وَلِلْكَٰفِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ١٠٤
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তাকূলূ রা-‘ইনা ওয়াকূলুনযুরনা ওয়াসমা‘ঊ ওয়ালিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বুন আলীম
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ‘রা‘এনা’ বলে সম্বোধন করো না, (যার অর্থ আমাদের রাখাল) বরং তোমরা বলবে ‘‘উনযুরনা’’ (অর্থাৎ আমাদের প্রতি নেকদৃষ্টি দিবেন!) এবং শুনে নাও, বস্তুতঃ অবিশ্বাসীদের জন্যই রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি।
مَّا يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ وَلَا ٱلْمُشْرِكِينَ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْكُم مِّنْ خَيْرٍۢ مِّن رَّبِّكُمْ ۗ وَٱللَّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِۦ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظِيمِ ١٠٥
মা ইয়াওয়াদ্দুল লাযীনা কাফারূ মিন আহলিল কিতা-বি ওয়ালাল মুশরিকীনা আন ইউনায্যালা ‘আলাইকুম মিন খাইরিম মির রাব্বিকুম ওয়াল্লা-হু ইয়াখতাস্সু বিরাহমাতিহী মান ইয়াশা-আ ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আযীম
গ্রন্থধারীদের মধ্যে যারা অবিশ্বাসী তারা ও মুশরিকরা এটা চায় না যে, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের প্রতি কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক অথচ আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় দয়ায় নির্দিষ্ট করে নেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
۞ مَا نَنسَخْ مِنْ ءَايَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍۢ مِّنْهَآ أَوْ مِثْلِهَآ ۗ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌ ١٠٦
মা নানসাখ মিন আ-য়াতিন আও নুনসিহা না’তি বিখাইরিম মিনহা- আও মিছলিহা- আলাম তা‘লাম আন-নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা ভুলিয়ে দিলে, তাত্থেকে উত্তম কিংবা তারই মত আয়াত নিয়ে আসি, তুমি কি জান না যে, আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।
أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۗ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّۢ وَلَا نَصِيرٍ ١٠٧
আলাম তা‘লাম আন-নাল্লা-হা লাহূ মুলকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়ামা লাকুম মিন দূনিল্লা-হি মিন ওয়ালিয়্যিঁ ওয়ালা নাসীর
তুমি কি জান না যে, আকাশমন্ডলী ও ভূমন্ডলের রাজত্ব সেই আল্লাহরই এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনও অভিভাবক নেই এবং সাহায্যকারীও নেই।
أَمْ تُرِيدُونَ أَن تَسْـَٔلُوا۟ رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَىٰ مِن قَبْلُ ۗ وَمَن يَتَبَدَّلِ ٱلْكُفْرَ بِٱلْإِيمَٰنِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ ١٠٨
আম তুরীদূনা আন তাসআলূ রাসূলাকুম কামা সুইলা মূসা মিন কাবল ওয়ামান ইয়াতাবাদ্দালিল কুফরা বিলঈমা-নি ফাকাদ দাল্লা সাওয়া-আস সাবীল
তোমরা কি তোমাদের রসূলকে তেমন প্রশ্ন করতে চাও যেমন মূসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল? যে ব্যক্তি ঈমানের পরিবর্তে কুফরী করে, সে ব্যক্তি অবশ্যই সরল পথ হতে বিচ্যুত হয়।
وَدَّ كَثِيرٌۭ مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّنۢ بَعْدِ إِيمَٰنِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًۭا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم مِّنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ ٱلْحَقُّ ۖ فَٱعْفُوا۟ وَٱصْفَحُوا۟ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ١٠٩
ওয়াদ্দা কাছীরুম মিন আহলিল কিতা-বি লাও ইয়ারুদ্দূনাকুম মিম বা‘দি ঈমা-নিকুম কুফ্ফা-রান হাসাদাম মিন ‘ইনদি আনফুসিহিম মিম বা‘দি মা তাবাইয়্যানা লাহুমুল হাক্কু ফা‘ফূ ওয়াসফাহূ হাত্তা ইয়া’তিয়াল্লা-হু বিআমরিহ ইন্নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
গ্রন্থধারীগণের অনেকেই তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও তাদের অন্তরে পোষিত হিংসার দাহনে ইচ্ছে পোষণ করে যে, যদি তোমাদেরকে তোমাদের ঈমান আনার পর কুফরীতে ফিরিয়ে নিতে পারত; সুতরাং তোমরা ক্ষমা কর ও মার্জনা কর যে পর্যন্ত না আল্লাহ স্বীয় হুকুম প্রকাশ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।
وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍۢ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌۭ ١١٠
ওয়াআকীমুস সালা-তা ওয়াআ-তুয যাকা-হ ওয়ামা তুকাদ্দিমূ লিআনফুসিকুম মিন খাইরিন তাজিদূহু ‘ইনদাল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা বিমা তা‘মালূনা বাসীর
এবং তোমরা নামায কায়িম কর এবং যাকাত দাও এবং যা কিছু সৎ কার্যাবলী তোমরা স্বীয় আত্মার জন্যে আগে পাঠাবে, তোমরা তা আল্লাহর নিকট পাবে, তোমরা যা কিছু করছো নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’ দেখছেন।
وَقَالُوا۟ لَن يَدْخُلَ ٱلْجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوْ نَصَٰرَىٰ ۗ تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ ۗ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَٰنَكُمْ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ١١١
ওয়াকা-লূ লান ইয়াদখুলাল জান্নাতা ইল্লা মান কা-না হূদান আও নাসা-রা তিলকা আমা-নিয়্যুহুম কুল হা-তূ বুরহা-নাকুম ইন কুনতুম সা-দিকীন
তারা বলে, ইয়াহূদী এবং নাসারাগণ ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, ওটা তাদের আকাঙ্ক্ষা মাত্র। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে নিজেদের দলীল পেশ কর’।
بَلَىٰ مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُۥ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌۭ فَلَهُۥٓ أَجْرُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ١١٢
বালা মান আসলামা ওয়াজহাহূ লিল্লা-হি ওয়াহুওয়া মুহসিনুন ফালাহূ আজরুহূ ‘ইনদা রাব্বিহী ওয়ালা খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা হুম ইয়াহযানূন
বরং যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে আর সৎকর্মশীল হয়, তার জন্য তার প্রতিপালকের নিকট পুণ্যফল রয়েছে, তাদের কোন ভয় নেই, তাদের কোন দুঃখ নেই।
وَقَالَتِ ٱلْيَهُودُ لَيْسَتِ ٱلنَّصَٰرَىٰ عَلَىٰ شَىْءٍۢ وَقَالَتِ ٱلنَّصَٰرَىٰ لَيْسَتِ ٱلْيَهُودُ عَلَىٰ شَىْءٍۢ وَهُمْ يَتْلُونَ ٱلْكِتَٰبَ ۗ كَذَٰلِكَ قَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ ۚ فَٱللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ فِيمَا كَانُوا۟ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ١١٣
ওয়াকা-লাতিল ইয়াহূদু লাইসাতিন নাসা-রা ‘আলা শাইইঁ ওয়াকা-লাতিন নাসা-রা লাইসাতিল ইয়াহূদু ‘আলা শাইইঁ ওয়াহুম ইয়াতলূনাল কিতা-ব কাযা-লিকা কা-লাল লাযীনা লা ইয়া‘লামূনা মিছলা কাওলিহিম ফাল্লা-হু ইয়াহকুমু বাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফীমা কা-নূ ফীহি ইয়াখতালিফূন
আর ইয়াহূদীরা বলে যে, নাসারাদের মাযহাবের কোন ভিত্তি নেই; নাসারারা বলে যে, ইয়াহূদীদের মাযহাবের কোন ভিত্তি নেই, অথচ তারা কিতাব পাঠ করে, এভাবে যারা কিছু জানে না তারাও ওদের মতই বলে, যার সম্বন্ধে তারা মতবিরোধ করছে, আল্লাহ ক্বিয়ামাতের দিন তাদের মধ্যে সেই বিষয়ের সমাধান করবেন।
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَٰجِدَ ٱللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا ٱسْمُهُۥ وَسَعَىٰ فِى خَرَابِهَآ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَآ إِلَّا خَآئِفِينَ ۚ لَهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا خِزْىٌۭ وَلَهُمْ فِى ٱلْءَاخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ ١١٤
ওয়ামান আযলামু মিম্মাম মানা‘আ মাসা-জিদাল্লা-হি আন ইউযকারা ফীহাসমুহূ ওয়াসা‘আ ফী খারা-বিহা- উলা-ইকা মা কা-না লাহুম আন ইয়াদখুলূহা- ইল্লা খা-ইফীন লাহুম ফিদ দুনইয়া খিযা ওয়ালাহুম ফিল আ-খিরাতি ‘আযা-বুন ‘আযীম
তার চেয়ে বড় যালেম কে, যে ব্যক্তি আল্লাহর মাসজিদগুলোতে আল্লাহর নাম নিতে বাধা দেয় এবং ওগুলোর ধ্বংস সাধনের চেষ্টা করে? অথচ ভয়ে ভীত না হয়ে তাদের জন্য মাসজিদে প্রবেশ সঙ্গত ছিল না, এদের জন্য দুনিয়াতে আছে লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
وَلِلَّهِ ٱلْمَشْرِقُ وَٱلْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا۟ فَثَمَّ وَجْهُ ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ وَٰسِعٌ عَلِيمٌۭ ١١٥
ওয়ালিল্লা-হিল মাশরিকু ওয়ালমাগরিব ফাআইনামা তুওয়াল্লূ ফাছাম্মা ওয়াজহুল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা ওয়া-সি‘উন ‘আলীম
পূর্ব পশ্চিম আল্লাহরই, সুতরাং তোমরা যে দিকেই মুখ কর না কেন, সেদিকেই আছে আল্লাহর চেহারা, আল্লাহ সুবিস্তৃত, সর্বজ্ঞ।
وَقَالُوا۟ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدًۭا ۗ سُبْحَٰنَهُۥ ۖ بَل لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ كُلٌّۭ لَّهُۥ قَٰنِتُونَ ١١٦
ওয়াকা-লুত তাখাযাল্লা-হু ওয়ালাদা সুবহা-নাহূ বাল লাহূ মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি কুল্লুল লাহূ কা-নিতূন
তারা বলে যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন, তিনি অতি পবিত্র, বরং যা কিছু আকাশসমূহে এবং ভূ-মন্ডলে আছে সমস্তই তাঁর, সকলই তাঁর অনুগত।
بَدِيعُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ وَإِذَا قَضَىٰٓ أَمْرًۭا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ ١١٧
বাদী‘উস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়াইযা কাদা- আমরান ফাইন্নামা ইয়াকূলু লাহূ কুন ফায়াকূন
আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকারী, যখন কোন কাজ করতে মনস্থ করেন, তখন তার জন্য শুধু বলেন, হয়ে যাও, তক্ষুনি তা হয়ে যায়।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ لَوْلَا يُكَلِّمُنَا ٱللَّهُ أَوْ تَأْتِينَآ ءَايَةٌۭ ۗ كَذَٰلِكَ قَالَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّثْلَ قَوْلِهِمْ ۘ تَشَٰبَهَتْ قُلُوبُهُمْ ۗ قَدْ بَيَّنَّا ٱلْءَايَٰتِ لِقَوْمٍۢ يُوقِنُونَ ١١٨
ওয়াকা-লাল লাযীনা লা ইয়া‘লামূনা লাওলা ইউকাল্লিমুনাল্লা-হু আও তা’তীনা- আ-য়াহ কাযা-লিকা কা-লাল লাযীনা মিন কাবলিহিম মিছলা কাওলিহিম তাশা-বাহাত কুলূবুহুম কাদ বাইয়্যান্নাল আ-য়া-তি লিকাওমিঁ ইউকিনূন
যারা কিছু জানে না তারা বলে, কেন আল্লাহ আমাদের সঙ্গে কথা বলেন না? কিংবা আমাদের নিকট কোন নির্দেশ কেন আসে না? এভাবে আগের লোকেরাও তাদের মতই বলত, এদের অন্তরগুলো একই রকম, আমি দৃঢ় বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শনাবলী পরিষ্কারভাবে বিবৃত করেছি।
إِنَّآ أَرْسَلْنَٰكَ بِٱلْحَقِّ بَشِيرًۭا وَنَذِيرًۭا ۖ وَلَا تُسْـَٔلُ عَنْ أَصْحَٰبِ ٱلْجَحِيمِ ١١٩
ইন্না- আরসালনা-কা বিলহাক্কি বাশীরাঁ ওয়ানাযীরাঁ ওয়ালা তুসআলু ‘আন আসহা-বিল জাহীম
আমি তোমাকে সত্যদ্বীনসহ সুসংবাদদাতা এবং ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি, জাহান্নামীদের সম্বন্ধে তোমাকে কোন প্রশ্ন করা হবে না।
وَلَن تَرْضَىٰ عَنكَ ٱلْيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى ٱللَّهِ هُوَ ٱلْهُدَىٰ ۗ وَلَئِنِ ٱتَّبَعْتَ أَهْوَآءَهُم بَعْدَ ٱلَّذِى جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ ۙ مَا لَكَ مِنَ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّۢ وَلَا نَصِيرٍ ١٢٠
ওয়ালান তারদা ‘আনকাল ইয়াহূদু ওয়ালান নাসা-রা হাত্তা তাত্তাবি‘আ মিল্লাতাহুম কুল ইন্না হুদাল্লা-হি হুওয়াল হুদা ওয়ালাইনিত তাবা‘তা আহওয়া-আহুম বা‘দাল লাযী জা-আকা মিনাল ‘ইলমি মা লাকা মিনাল্লা-হি মিন ওয়ালিয়্যিঁ ওয়ালা নাসীর
ইয়াহূদী ও নাসারারা তোমার প্রতি রাজী হবে না যে পর্যন্ত না তুমি তাদের ধর্মের আদর্শ গ্রহণ কর। বল, ‘আল্লাহর দেখানো পথই প্রকৃত সুপথ এবং তুমি যদি জ্ঞান আসার পরেও এদের ইচ্ছে অনুযায়ী চল, তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর ক্রোধ হতে রক্ষা করার মত কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না’।
ٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَٰهُمُ ٱلْكِتَٰبَ يَتْلُونَهُۥ حَقَّ تِلَاوَتِهِۦٓ أُو۟لَٰٓئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِۦ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِهِۦ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ ١٢١
আল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতা-বা ইয়াতলূনাহূ হাক্কা তিলা-ওয়াতিহী উলা-ইকা ইউ’মিনূনা বিহ ওয়ামান ইয়াকফুর বিহী ফাউলা-ইকা হুমুল খা-সিরূন
আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা যথাযথভাবে কিতাব তিলাওয়াত করে, তারাই এতে বিশ্বাস পোষণ করে আর যারা এর প্রতি অবিশ্বাস করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
يَٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتِىَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّى فَضَّلْتُكُمْ عَلَى ٱلْعَٰلَمِينَ ١٢٢
ইয়া-বানী ইসরা-ঈলাযকুরূ নি‘মাতিয়াল লাতী আন‘আমতু ‘আলাইকুম ওয়াআন্নী ফাদ্দালতুকুম ‘আলাল ‘আ-লামীন
হে বানী ইসরাঈল! আমার সেই অনুগ্রহ স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি এবং আমি তোমাদেরকে বিশ্বজগতের সকলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।
وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًۭا لَّا تَجْزِى نَفْسٌ عَن نَّفْسٍۢ شَيْـًۭٔا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌۭ وَلَا تَنفَعُهَا شَفَٰعَةٌۭ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ١٢٣
ওয়াত্তাকূ ইয়াওমাল লা তাজযী নাফসুন ‘আন নাফসিন শাইআঁ ওয়ালা ইউকবালু মিনহা ‘আদলুঁ ওয়ালা তানফা‘উহা শাফা-‘আতুঁ ওয়ালা হুম ইউনসারূন
আর তোমরা সেই দিনের ভয় কর, যে দিন কেউ কারো কোন কাজে আসবে না এবং কারো পক্ষ হতে কোন ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবে না এবং কারও সুপারিশ ফল দিবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।
۞ وَإِذِ ٱبْتَلَىٰٓ إِبْرَٰهِۦمَ رَبُّهُۥ بِكَلِمَٰتٍۢ فَأَتَمَّهُنَّ ۖ قَالَ إِنِّى جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًۭا ۖ قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِى ۖ قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِى ٱلظَّٰلِمِينَ ١٢٤
ওয়াইযিবতালা- ইবরা-হীমা রাব্বুহূ বিকালিমা-তিন ফাআতাম্মাহুন্না কা-লা ইন্নী জা-‘ইলুকা লিন্না-সি ইমা-মান কা-লা ওয়ামিন যুর্রিয়্যাতী কা-লা লা ইয়ানা-লু ‘আহদিয যা-লিমীন
এবং স্মরণ কর যখন ইবরাহীমকে তার প্রতিপালক কতিপয় বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর সে সেগুলো পূর্ণ করল, তখন আল্লাহ বললেন, ‘আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করছি’। ইব্রাহীম আরয করল, ‘আর আমার বংশধর হতেও’? নির্দেশ হল, আমার অঙ্গীকারের মধ্যে যালিমরা শামিল নয়।
وَإِذْ جَعَلْنَا ٱلْبَيْتَ مَثَابَةًۭ لِّلنَّاسِ وَأَمْنًۭا وَٱتَّخِذُوا۟ مِن مَّقَامِ إِبْرَٰهِۦمَ مُصَلًّۭى ۖ وَعَهِدْنَآ إِلَىٰٓ إِبْرَٰهِۦمَ وَإِسْمَٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِىَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلْعَٰكِفِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ ١٢٥
ওয়াইয জা‘আলনাল বাইতা মাছা-বাতাল লিন্না-সি ওয়াআমনাঁ ওয়াত্তাখিযূ মিম মাকা-মি ইবরা-হীমা মুসাল্লাঁ ওয়া‘আহিদনা- ইলা- ইবরা-হীমা ওয়াইসমা-‘ঈলা আন তাহ্হিরা বাইতিয়া লিত্তা-ইফীনা ওয়াল‘আ-কিফীনা ওয়ার্রুক্কা‘ইস সুজূদ
এবং স্মরণ কর যখন আমি কা‘বাগৃহকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র এবং নিরাপদস্থল করলাম এবং বললাম, ‘মাকামে ইবরাহীমকে সলাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর’ এবং ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে বলেছিলাম, ‘আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ই‘তিকাফকারী এবং রুকূ ও সাজদাহকারীদের জন্য পবিত্র রাখবে’।
وَإِذْ قَالَ إِبْرَٰهِۦمُ رَبِّ ٱجْعَلْ هَٰذَا بَلَدًا ءَامِنًۭا وَٱرْزُقْ أَهْلَهُۥ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ مَنْ ءَامَنَ مِنْهُم بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ ۖ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُۥ قَلِيلًۭا ثُمَّ أَضْطَرُّهُۥٓ إِلَىٰ عَذَابِ ٱلنَّارِ ۖ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ١٢٦
ওয়াইয কা-লা ইবরা-হীমু রাব্বিজ‘আল হা-যা বালাদান আ-মিনাঁ ওয়ারযুক আহলাহূ মিনাছ ছামারা-তি মান আ-মানা মিনহুম বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি কা-লা ওয়ামান কাফারা ফাউমাত্তি‘উহূ কালীলান ছুম্মা আদতার্রুহূ ইলা ‘আযা-বিন না-রি ওয়াবি’সাল মাসীর
স্মরণ কর যখন ইবরাহীম প্রার্থনা করেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি এ শহরকে নিরাপদস্থল কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমান আনে, তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান কর’। নির্দেশ হল, ‘যে কেউ কুফরী করবে তাকেও আমি কিছু দিনের জন্য উপকার লাভ করতে দেব এবং তারপর তাকে জাহান্নামের আগুনে দাখিল করব, আর কতই না নিকৃষ্ট তাদের ফেরার জায়গা’!
وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَٰهِۦمُ ٱلْقَوَاعِدَ مِنَ ٱلْبَيْتِ وَإِسْمَٰعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّآ ۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ١٢٧
ওয়াইয ইয়ারফা‘উ ইবরা-হীমুল কাওয়া-‘ইদা মিনাল বাইতি ওয়াইসমা-‘ঈলু রাব্বানা তাকাব্বাল মিন্না- ইন্নাকা আনতাস সামী‘উল ‘আলীম
আর (স্মরণ কর) যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি তুলছিল, তখন প্রার্থনা করল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা’।
رَبَّنَا وَٱجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَآ أُمَّةًۭ مُّسْلِمَةًۭ لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَآ ۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ ١٢٨
রাব্বানা ওয়াজ‘আলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়ামিন যুর্রিয়্যাতিনা- উম্মাতাম মুসলিমাতাল লাকা ওয়াআরিনা মানা-সিকানা ওয়াতুব ‘আলাইনা- ইন্নাকা আনতাত তাওয়া-বুর রাহীম
হে আমাদের প্রতিপালক! ‘আমাদেরকে তোমার অনুগত কর, আমাদের খান্দানে একদল সৃষ্টি কর, যারা তোমার আজ্ঞাবহ হয় আর আমাদেরকে ইবাদাতের নিয়ম-কানুন শিক্ষা দাও এবং আমাদের অপরাধ ক্ষমা কর, নিশ্চয়ই তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
رَبَّنَا وَٱبْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًۭا مِّنْهُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ١٢٩
রাব্বানা ওয়াব‘আছ ফীহিম রাসূলাম মিনহুম ইয়াতলূ ‘আলাইহিম আ-য়া-তিকা ওয়াইউ‘আল্লিমুহুমুল কিতা-বা ওয়ালহিকমাতা ওয়াইউযাক্কীহিম ইন্নাকা আনতাল ‘আযীযুল হাকীম
‘হে আমাদের প্রতিপালক! এদের কাছে একজন রসূল এদের মধ্য হতে প্রেরণ কর, যে এদেরকে তোমার আয়াতগুলো পড়ে শুনাবে এবং এদেরকে কিতাব ও জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দেবে এবং এদেরকে বিশুদ্ধ করবে, নিশ্চয় তুমি ক্ষমতাশালী, প্রজ্ঞাময়।’
وَمَن يَرْغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبْرَٰهِۦمَ إِلَّا مَن سَفِهَ نَفْسَهُۥ ۚ وَلَقَدِ ٱصْطَفَيْنَٰهُ فِى ٱلدُّنْيَا ۖ وَإِنَّهُۥ فِى ٱلْءَاخِرَةِ لَمِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١٣٠
ওয়ামান ইয়ারগাবু ‘আম মিল্লাতি ইবরা-হীমা ইল্লা মান সাফিহা নাফসাহ ওয়ালাকাদিসতাফাইনা-হু ফিদ দুনইয়া ওয়াইন্নাহূ ফিল আ-খিরাতি লামিনাস সা-লিহীন
সেই নির্বোধ ছাড়া অন্য এমন কে আছে যে মিল্লাতে ইব্রাহীম হতে ফিরে যাবে এবং নিশ্চয় আমি তাকে পছন্দ করেছি এবং আখেরাতেও সে নেককারদের অন্তর্গত হবে।
إِذْ قَالَ لَهُۥ رَبُّهُۥٓ أَسْلِمْ ۖ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٣١
ইয কা-লা লাহূ রাব্বুহূ আসলিম কা-লা আসলামতু লিরাব্বিল ‘আ-লামীন
তার প্রতিপালক যখন তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি আত্মসমর্পণ কর’, উত্তরে সে বলল, ‘আমি সারা জগতের প্রতিপালকের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম’।
وَوَصَّىٰ بِهَآ إِبْرَٰهِۦمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَٰبَنِىَّ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصْطَفَىٰ لَكُمُ ٱلدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ ١٣٢
ওয়াওয়াস্সা বিহা- ইবরা-হীমু বানীহি ওয়ায়া‘কূবু ইয়া-বানিয়্যা ইন্নাল্লা-হাসতাফা লাকুমুদ দীনা ফালা তামূতুন্না ইল্লা ওয়াআনতুম মুসলিমূন
আর এ বিষয়ে ইবরাহীম ও ইয়া‘কূব স্বীয় পুত্রগণকে অন্তিম উপদেশ দান করে গেছে- ‘হে পুত্রগণ! আল্লাহ এ দ্বীনকে তোমাদের জন্য পছন্দ করেছেন; কাজেই তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না’।
أَمْ كُنتُمْ شُهَدَآءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ ٱلْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنۢ بَعْدِى قَالُوا۟ نَعْبُدُ إِلَٰهَكَ وَإِلَٰهَ ءَابَآئِكَ إِبْرَٰهِۦمَ وَإِسْمَٰعِيلَ وَإِسْحَٰقَ إِلَٰهًۭا وَٰحِدًۭا وَنَحْنُ لَهُۥ مُسْلِمُونَ ١٣٣
আম কুনতুম শুহাদা-আ ইয হাদারা ইয়া‘কূবাল মাওতু ইয কা-লা লিবানীহি মা তা‘বুদূনা মিম বা‘দী কা-লূ না‘বুদু ইলা-হাকা ওয়াইলা-হা আ-বা-ইকা ইবরা-হীমা ওয়াইসমা-‘ঈলা ওয়াইসহা-কা ইলা-হাঁ ওয়া-হিদাঁ ওয়ানাহনু লাহূ মুসলিমূন
তোমরা কি সে সময় উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু এসে পৌঁছেছিল? তখন সে তার পুত্রদেরকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আমার পরে তোমরা কার উপাসনা করবে’? পুত্রগণ উত্তর দিয়েছিল, ‘আমরা আপনার এবং আপনার পূর্বপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের উপাসনা করব, যিনি অদ্বিতীয় উপাস্য এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পিত।
تِلْكَ أُمَّةٌۭ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْـَٔلُونَ عَمَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١٣٤
তিলকা উম্মাতুন কাদ খালাত লাহা মা কাসাবাত ওয়ালাকুম মা কাসাবতুম ওয়ালা তুসআলূনা ‘আম্মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
এ লোকেরা গত হয়ে গেছে, তাদের জন্য তাদের কৃতকর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কৃতকর্ম এবং তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না।
وَقَالُوا۟ كُونُوا۟ هُودًا أَوْ نَصَٰرَىٰ تَهْتَدُوا۟ ۗ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَٰهِۦمَ حَنِيفًۭا ۖ وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ١٣٥
ওয়াকা-লূ কূনূ হূদান আও নাসা-রা তাহতাদূ কুল বাল মিল্লাতা ইবরা-হীমা হানীফাঁ ওয়ামা কা-না মিনাল মুশরিকীন
ওরা বলে, ‘তোমরা ইয়াহূদী বা নাসারা হয়ে যাও তাহলে সঠিক পথ পাবে’। বল, ‘বরং একনিষ্ঠ হয়ে ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্গত ছিলেন না’।
قُولُوٓا۟ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَآ أُنزِلَ إِلَىٰٓ إِبْرَٰهِۦمَ وَإِسْمَٰعِيلَ وَإِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاطِ وَمَآ أُوتِىَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَآ أُوتِىَ ٱلنَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍۢ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُۥ مُسْلِمُونَ ١٣٦
কূলূ আ-মান্না বিল্লা-হি ওয়ামা- উনযিলা ইলাইনা ওয়ামা- উনযিলা ইলা- ইবরা-হীমা ওয়াইসমা-‘ঈলা ওয়াইসহা-কা ওয়ায়া‘কূবা ওয়ালআসবা-তি ওয়ামা- ঊতিয়া মূসা ওয়া‘ঈসা ওয়ামা- ঊতিয়ান নাবিয়্যূনা মির রাব্বিহিম লা নুফার্রিকু বাইনা আহাদিম মিনহুম ওয়ানাহনু লাহূ মুসলিমূন
তোমরা বল, ‘আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা ইবরাহীম ও ইসমা‘ঈল এবং ইসহাক ও ইয়াকূব ও বংশধরদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যা মূসা ও ‘ঈসাকে দেয়া হয়েছে আর যা অন্যান্য নাবীগণকে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে দেয়া হয়েছে (এ সবের প্রতিও ঈমান এনেছি), আমরা এদের মধ্য হতে কোন একজনের ব্যাপারেও কোন পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পিত’।
فَإِنْ ءَامَنُوا۟ بِمِثْلِ مَآ ءَامَنتُم بِهِۦ فَقَدِ ٱهْتَدَوا۟ ۖ وَّإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا هُمْ فِى شِقَاقٍۢ ۖ فَسَيَكْفِيكَهُمُ ٱللَّهُ ۚ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ١٣٧
ফাইন আ-মানূ বিমিছলি মা- আ-মানতুম বিহী ফাকাদিহতাদাও ওয়াইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নামা হুম ফী শিকা-কিন ফাসায়াকফীকাহুমুল্লা-হ ওয়াহুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম
সুতরাং এরা যদি তেমন ঈমান আনে, যেমন তোমরা ঈমান এনেছো, তাহলে তারা সঠিক পথ পাবে আর যদি অস্বীকার করে, তবে তারা ভেদাভেদে লিপ্ত, সে অবস্থায় তোমার জন্য তাদের (অনিষ্ট হতে বাঁচার জন্য) আল্লাহ্ই যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা।
صِبْغَةَ ٱللَّهِ ۖ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ ٱللَّهِ صِبْغَةًۭ ۖ وَنَحْنُ لَهُۥ عَٰبِدُونَ ١٣٨
সিবগাতাল্লা-হি ওয়ামান আহসানু মিনাল্লা-হি সিবগাতাঁ ওয়ানাহনু লাহূ ‘আ-বিদূন
(আমাদের দ্বীন) আল্লাহর রঙে রঞ্জিত এবং আল্লাহর রঙ অপেক্ষা আর কার রঙ উত্তম হবে? এবং আমরা তাঁরই ‘ইবাদাতকারী।
قُلْ أَتُحَآجُّونَنَا فِى ٱللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَآ أَعْمَٰلُنَا وَلَكُمْ أَعْمَٰلُكُمْ وَنَحْنُ لَهُۥ مُخْلِصُونَ ١٣٩
কুল আতুহা-জ্জূনানা ফিল্লা-হি ওয়াহুওয়া রাব্বুনা ওয়ারাব্বুকুম ওয়ালানা- আ‘মা-লুনা ওয়ালাকুম আ‘মা-লুকুম ওয়ানাহনু লাহূ মুখলিসূন
বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর সম্বন্ধে আমাদের সাথে ঝগড়া করছ? অথচ তিনি আমাদেরও প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক এবং আমাদের জন্য আমাদের কৃতকর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কৃতকর্ম এবং আমরা তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ।’
أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَٰهِۦمَ وَإِسْمَٰعِيلَ وَإِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاطَ كَانُوا۟ هُودًا أَوْ نَصَٰرَىٰ ۗ قُلْ ءَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ ٱللَّهُ ۗ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَٰدَةً عِندَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ١٤٠
আম তাকূলূনা ইন্না ইবরা-হীমা ওয়াইসমা-‘ঈলা ওয়াইসহা-কা ওয়ায়া‘কূবা ওয়ালআসবা-তা কা-নূ হূদান আও নাসা-রা কুল আআনতুম আ‘লামু আমিল্লা-হ ওয়ামান আযলামু মিম্মান কাতামা শাহা-দাতান ‘ইনদাহূ মিনাল্লা-হ ওয়ামাল্লা-হু বিগা-ফিলিন ‘আম্মা তা‘মালূন
তোমরা কি বলছ, ইবরাহীম ও ইসমাঈল এবং ইসহাক ও ইয়াকূব এবং তার বংশধর সকলেই ইয়াহূদী কিংবা নাসারা ছিল’? বল,‘ তোমরাই বেশী জান নাকি আল্লাহ’? ঐ ব্যক্তি হতে বড় যালিম আর কে হবে, যে আল্লাহর পক্ষ হতে আগত সাক্ষ্যকে গোপন করে? তোমরা যা কিছু করছ, আল্লাহ সে বিষয়ে গাফিল নন।
تِلْكَ أُمَّةٌۭ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْـَٔلُونَ عَمَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١٤١
তিলকা উম্মাতুন কাদ খালাত লাহা মা কাসাবাত ওয়ালাকুম মা কাসাবতুম ওয়ালা তুসআলূনা ‘আম্মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
এ সব লোক যারা ছিল, তারা গত হয়ে গেছে, তাদের জন্য তাদের কামাই আর তোমাদের জন্য তোমাদের কামাই আর তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না।
۞ سَيَقُولُ ٱلسُّفَهَآءُ مِنَ ٱلنَّاسِ مَا وَلَّىٰهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ ٱلَّتِى كَانُوا۟ عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّهِ ٱلْمَشْرِقُ وَٱلْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ١٤٢
সায়াকূলুস সুফাহা-উ মিনান না-সি মা ওয়াল্লা-হুম ‘আন কিবলাতিহিমুল লাতী কা-নূ ‘আলাইহা কুল্লিল্লা-হিল মাশরিকু ওয়ালমাগরিব ইয়াহদী মান ইয়াশা-উ ইলা সিরা-তিম মুসতাকীম
শীঘ্রই এ নির্বোধেরা বলবে, কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল তাদের সেই ক্বিবলা হতে যা তারা অনুসরণ করে আসছিল। বল, পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহরই, তিনি যাকে ইচ্ছে সরল পথ প্রদর্শন করেন।
وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَٰكُمْ أُمَّةًۭ وَسَطًۭا لِّتَكُونُوا۟ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ وَيَكُونَ ٱلرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًۭا ۗ وَمَا جَعَلْنَا ٱلْقِبْلَةَ ٱلَّتِى كُنتَ عَلَيْهَآ إِلَّا لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ ٱلرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ ۚ وَإِن كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى ٱلَّذِينَ هَدَى ٱللَّهُ ۗ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَٰنَكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ ١٤٣
ওয়াকাযা-লিকা জা‘আলনা-কুম উম্মাতাঁ ওয়াসাতাল লিতাকূনূ শুহাদা-আ ‘আলান না-সি ওয়ায়াকূনার রাসূলু ‘আলাইকুম শাহীদা ওয়ামা জা‘আলনাল কিবলাতাল লাতী কুনতা ‘আলাইহা- ইল্লা লিনা‘লামা মান ইয়াত্তাবি‘উর রাসূলা মিম্মান ইয়ানকালিবু ‘আলা ‘আকিবাইহ ওয়াইন কা-নাত লাকাবীরাতান ইল্লা ‘আলাল লাযীনা হাদাল্লা-হ ওয়ামা কা-নাল্লা-হু লিইউদী‘আ ঈমা-নাকুম ইন্নাল্লা-হা বিন্না-সি লারাঊফুর রাহীম
আর এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মাত করেছি, যাতে তোমরা লোকেদের উপর সাক্ষী হও এবং নাবী তোমাদের উপর সাক্ষী হয়। আর তুমি এ যাবৎ যে ক্বিবলার উপর ছিলে, তাকে এ উদ্দেশ্যে ক্বিবলা করেছিলাম, যাতে আমি জানতে পারি কে রসূলের অনুসরণ করে আর কে পায়ের ভরে উল্টো দিকে ফিরে যায়। আল্লাহ যাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন তারা বাদে অন্যের নিকট এটা বড়ই কষ্টকর ছিল। আর আল্লাহ তোমাদের ঈমান বিনষ্ট করবেন না, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি করুণাশীল, অতি দয়ালু।
قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِى ٱلسَّمَآءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةًۭ تَرْضَىٰهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُۥ ۗ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ ١٤٤
কাদ নারা তাকাল্লুবা ওয়াজহিকা ফিস সামা-ই ফালানুওয়াল্লিয়ান্নাকা কিবলাতান তারদা-হা ফাওয়াল্লি ওয়াজহাকা শাতরাল মাসজিদিল হারা-ম ওয়াহাইছু মা কুনতুম ফাওয়াল্লূ উজূহাকুম শাতরাহ ওয়াইন্নাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা লায়া‘লামূনা আন-নাহুল হাক্কু মির রাব্বিহিম ওয়ামাল্লা-হু বিগা-ফিলিন ‘আম্মা ইয়া‘মালূন
নিশ্চয়ই আমি তোমার আকাশের দিকে মুখ ফিরিয়ে দেখাকে লক্ষ্য করেছি, যে ক্বিবলা তুমি পছন্দ কর, আমি তোমাকে সেদিকে ফিরে যেতে আদেশ করছি। তুমি মাসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক, ওরই দিকে মুখ ফিরাও; বস্তুতঃ যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের জানা আছে যে, ক্বিবলার পরিবর্তন তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রকৃতই সত্য এবং তারা যা করে আল্লাহ সে সম্পর্কে মোটেই গাফিল নন।
وَلَئِنْ أَتَيْتَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ بِكُلِّ ءَايَةٍۢ مَّا تَبِعُوا۟ قِبْلَتَكَ ۚ وَمَآ أَنتَ بِتَابِعٍۢ قِبْلَتَهُمْ ۚ وَمَا بَعْضُهُم بِتَابِعٍۢ قِبْلَةَ بَعْضٍۢ ۚ وَلَئِنِ ٱتَّبَعْتَ أَهْوَآءَهُم مِّنۢ بَعْدِ مَا جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ ۙ إِنَّكَ إِذًۭا لَّمِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٤٥
ওয়ালাইন আতাইতাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা বিকুল্লি আ-য়াতিম মা তাবি‘ঊ কিবলাতাক ওয়ামা- আনতা বিতা-বি‘ইন কিবলাতাহুম ওয়ামা বা‘দুহুম বিতা-বি‘ইন কিবলাতা বা‘দ ওয়ালাইনিত তাবা‘তা আহওয়া-আহুম মিম বা‘দি মা জা-আকা মিনাল ‘ইলমি ইন্নাকা ইযাল লামিনায যা-লিমীন
আর যদি তুমি কিতাবধারীদের সামনে সমুদয় দলীল হাজির কর, তবুও তারা তোমার ক্বিবলার অনুসরণ করবে না আর তুমিও তাদের ক্বিবলার অনুসরণকারী নও, আর তারা একে অপরের ক্বিবলার অনুসরণকারী নয়। যদি তুমি তোমার নিকট জ্ঞান আসার পরেও তাদের মনগড়া মতবাদসমূহের অনুসরণ কর, সে অবস্থায় তুমিও অবাধ্য দলেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।
ٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَٰهُمُ ٱلْكِتَٰبَ يَعْرِفُونَهُۥ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَآءَهُمْ ۖ وَإِنَّ فَرِيقًۭا مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ ٱلْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ١٤٦
আল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতা-বা ইয়া‘রিফূনাহূ কামা ইয়া‘রিফূনা আবনা-আহুম ওয়াইন্না ফারীকাম মিনহুম লায়াকতুমূনাল হাক্কা ওয়াহুম ইয়া‘লামূন
আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে সে রকমই চিনে, যেমন চিনে নিজের পুত্রদেরকে, আর ওদের কতকলোক জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে থাকে।
ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۖ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُمْتَرِينَ ١٤٧
আলহাক্কু মির রাব্বিকা ফালা তাকূনান্না মিনাল মুমতারীন
প্রকৃত সত্য তোমার প্রতিপালকের নিকট হতেই (এসেছে), কাজেই তোমরা সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
وَلِكُلٍّۢ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا ۖ فَٱسْتَبِقُوا۟ ٱلْخَيْرَٰتِ ۚ أَيْنَ مَا تَكُونُوا۟ يَأْتِ بِكُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ١٤٨
ওয়ালিকুল্লিঁ উইজহাতুন হুওয়া মুওয়াল্লীহা ফাসতাবিকুল খাইরা-ত আইনা মা তাকূনূ ইয়া’তি বিকুমুল্লা-হু জামী‘আ ইন্নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
প্রত্যেকের জন্যই একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে, সেদিকেই সে মুখ করে। কাজেই তোমরা সৎ কাজের দিকে ধাবমান হও। যেখানেই তোমরা অবস্থান কর, আল্লাহ তোমাদের সকলকে একত্রিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।
وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۖ وَإِنَّهُۥ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ١٤٩
ওয়ামিন হাইছু খারাজতা ফাওয়াল্লি ওয়াজহাকা শাতরাল মাসজিদিল হারা-মি ওয়াইন্নাহূ লালহাক্কু মির রাব্বিক ওয়ামাল্লা-হু বিগা-ফিলিন ‘আম্মা তা‘মালূন
আর তুমি যেখান থেকেই বের হও, নিজের মুখ মাসজিদে হারামের দিকে ফেরাও, নিশ্চয়ই তা তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে পাঠানো সত্য, বস্তুতঃ তোমরা যা করছ আল্লাহ সে সম্পর্কে মোটেই গাফিল নন।
وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُۥ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مِنْهُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَٱخْشَوْنِى وَلِأُتِمَّ نِعْمَتِى عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ١٥٠
ওয়ামিন হাইছু খারাজতা ফাওয়াল্লি ওয়াজহাকা শাতরাল মাসজিদিল হারা-ম ওয়াহাইছু মা কুনতুম ফাওয়াল্লূ উজূহাকুম শাতরাহূ লিআল্লা ইয়াকূনা লিন্না-সি ‘আলাইকুম হুজ্জাতুন ইল্লাল লাযীনা যালামূ মিনহুম ফালা তাখশাওহুম ওয়াখশাওনী ওয়ালিউতিম্মা নি‘মাতী ‘আলাইকুম ওয়ালা‘আল্লাকুম তাহতাদূন
তুমি যেখান থেকেই বের হও, নিজের মুখ মাসজিদে হারামের দিকে ফিরাও, তোমরা যেখানেই থাক না কেন, নিজেদের মুখগুলো ওর দিকে করিও, যাতে তাদের মধ্যেকার যালিম লোক ছাড়া অন্যান্য লোকেদের তোমাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলার না থাকে, কাজেই তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর, যাতে আমি তোমাদের প্রতি আমার নি‘মাত পূর্ণ করতে পারি, যাতে তোমরা সত্য পথে পরিচালিত হতে পার।
كَمَآ أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًۭا مِّنكُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْكُمْ ءَايَٰتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا۟ تَعْلَمُونَ ١٥١
কামা- আরসালনা ফীকুম রাসূলাম মিনকুম ইয়াতলূ ‘আলাইকুম আ-য়া-তিনা ওয়াইউযাক্কীকুম ওয়াইউ‘আল্লিমুকুমুল কিতা-বা ওয়ালহিকমাতা ওয়াইউ‘আল্লিমুকুম মা লাম তাকূনূ তা‘লামূন
যেমন (তোমরা আমার একটি অনুগ্রহ লাভ করেছ যে) আমি তোমাদেরই মধ্য হতে তোমাদের কাছে একজন রসূল পাঠিয়েছি, যে আমার আয়াতগুলো তোমাদেরকে পড়ে শুনায়, তোমাদেরকে শুদ্ধ করে, তোমাদেরকে কিতাব ও জ্ঞান-বিজ্ঞান (সুন্নাত) শিক্ষা দেয় এবং তোমাদেরকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দেয় যা তোমরা জানতে না।
فَٱذْكُرُونِىٓ أَذْكُرْكُمْ وَٱشْكُرُوا۟ لِى وَلَا تَكْفُرُونِ ١٥٢
ফাযকুরূনী আযকুরকুম ওয়াশকুরূ লী ওয়ালা তাকফুরূন
কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব এবং আমার শোকর করতে থাক, না-শোকরী করো না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱسْتَعِينُوا۟ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٰةِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٣
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুসতা‘ঈনূ বিস্সাবরি ওয়াস্সালা-হ ইন্নাল্লা-হা মা‘আস সা-বিরীন
হে মু’মিনগণ! ধৈর্য ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
وَلَا تَقُولُوا۟ لِمَن يُقْتَلُ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمْوَٰتٌۢ ۚ بَلْ أَحْيَآءٌۭ وَلَٰكِن لَّا تَشْعُرُونَ ١٥٤
ওয়ালা তাকূলূ লিমান ইউকতালু ফী সাবীলিল্লা-হি আমওয়া-ত বাল আহইয়া-উঁ ওয়ালা-কিল লা তাশ‘উরূন
আর আল্লাহর পথে নিহতদেরকে মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা বুঝ না।
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَىْءٍۢ مِّنَ ٱلْخَوْفِ وَٱلْجُوعِ وَنَقْصٍۢ مِّنَ ٱلْأَمْوَٰلِ وَٱلْأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِ ۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٥
ওয়ালানাবলুওয়ান্নাকুম বিশাইইম মিনাল খাওফি ওয়ালজূ‘ই ওয়ানাকসিম মিনাল আমওয়া-লি ওয়ালআনফুসি ওয়াছ্ছামারা-ত ওয়াবাশ্শিরিস সা-বিরীন
তোমাদেরকে ভয় ও ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি (এসবের) কোনকিছুর দ্বারা নিশ্চয়ই পরীক্ষা করব, ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর।
ٱلَّذِينَ إِذَآ أَصَٰبَتْهُم مُّصِيبَةٌۭ قَالُوٓا۟ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّآ إِلَيْهِ رَٰجِعُونَ ١٥٦
আল্লাযীনা ইযা- আসা-বাতহুম মুসীবাতুন কা-লূ ইন্না লিল্লা-হি ওয়াইন্না- ইলাইহি রা-জি‘ঊন
নিশ্চয়ই যারা বিপদকালে বলে থাকে, ‘আমরা আল্লাহরই আর আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’।
أُو۟لَٰٓئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَٰتٌۭ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌۭ ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُهْتَدُونَ ١٥٧
উলা-ইকা ‘আলাইহিম সালাওয়া-তুম মির রাব্বিহিম ওয়ারাহমাতুঁ ওয়াউলা-ইকা হুমুল মুহতাদূন
এদের প্রতি রয়েছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে অনুগ্রহ ও করুণা আর এরাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।
۞ إِنَّ ٱلصَّفَا وَٱلْمَرْوَةَ مِن شَعَآئِرِ ٱللَّهِ ۖ فَمَنْ حَجَّ ٱلْبَيْتَ أَوِ ٱعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًۭا فَإِنَّ ٱللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ ١٥٨
ইন্নাস সাফা ওয়ালমারওয়াতা মিন শা‘আ-ইরিল্লা-হি ফামান হাজ্জাল বাইতা আউই‘তামারা ফালা জুনা-হা ‘আলাইহি আন ইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা ওয়ামান তাতাওয়া‘আ খাইরান ফাইন্নাল্লা-হা শা-কিরুন ‘আলীম
নিশ্চয়ই ‘সাফা’ এবং ‘মারওয়া’ আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম। কাজেই যে ব্যক্তি কাবাগৃহের হাজ্জ অথবা ‘উমরাহ করবে, এ দু’টোর সাঈ করাতে তাদের কোনই গুনাহ নেই এবং যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন সৎ কাজ করবে তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ (তার ব্যাপারে) গুণগ্রাহী এবং সর্বজ্ঞ।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلْنَا مِنَ ٱلْبَيِّنَٰتِ وَٱلْهُدَىٰ مِنۢ بَعْدِ مَا بَيَّنَّٰهُ لِلنَّاسِ فِى ٱلْكِتَٰبِ ۙ أُو۟لَٰٓئِكَ يَلْعَنُهُمُ ٱللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ ٱللَّٰعِنُونَ ١٥٩
ইন্নাল লাযীনা ইয়াকতুমূনা মা- আনযালনা মিনাল বাইয়্যিনা-তি ওয়ালহুদা মিম বা‘দি মা বাইয়্যান্না-হু লিন্না-সি ফিল কিতা-বি উলা-ইকা ইয়াল‘আনুহুমুল্লা-হু ওয়ায়াল‘আনুহুমুল লা-‘ইনূন
নিশ্চয়ই যারা আমার অবতীর্ণ কোন দলীল এবং হিদায়াতকে লোকেদের জন্য আমি কিতাবের মধ্যে বর্ণনা করার পরেও গোপন করে, আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত করেন আর অভিসম্পাতকারীরাও তাদের প্রতি অভিসম্পাত করে থাকে।
إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُوا۟ وَأَصْلَحُوا۟ وَبَيَّنُوا۟ فَأُو۟لَٰٓئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنَا ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ ١٦٠
ইল্লাল লাযীনা তা-বূ ওয়াআসলাহূ ওয়াবাইয়্যানূ ফাউলা-ইকা আতূবু ‘আলাইহিম ওয়াআনাত তাওয়া-বুর রাহীম
কিন্তু যারা তাওবাহ করে এবং সংশোধন করে নেয় এবং (সত্যকে) সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, তাদের তাওবাহ আমি কবুল করি, বস্তুতঃ আমি অত্যধিক তাওবাহ কবুলকারী, পরম দয়ালু।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَمَاتُوا۟ وَهُمْ كُفَّارٌ أُو۟لَٰٓئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ ٱللَّهِ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلنَّاسِ أَجْمَعِينَ ١٦١
ইন্নাল লাযীনা কাফারূ ওয়ামা-তূ ওয়াহুম কুফ্ফা-রুন উলা-ইকা ‘আলাইহিম লা‘নাতুল্লা-হি ওয়ালমালা-ইকাতি ওয়ান্না-সি আজমা‘ঈন
নিশ্চয় যারা কাফির এবং কাফের অবস্থাতেই মারা যায়, এমন লোকেদের প্রতি আল্লাহর, ফেরেশতাদের এবং সকল মানুষের অভিসম্পাত।
خَٰلِدِينَ فِيهَا ۖ لَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ ٱلْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ ١٦٢
খা-লিদীনা ফীহা লা ইউখাফ্ফাফু ‘আনহুমুল ‘আযা-বু ওয়ালা হুম ইউনযারূন
তাতে তারা চিরকাল থাকবে, তাদের উপর ‘আযাব হালকা করা হবে না আর তাদেরকে বিরামও দেয়া হবে না।
وَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ ۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلرَّحْمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ ١٦٣
ওয়াইলা-হুকুম ইলা-হুঁ ওয়া-হিদুল লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়ার রাহমা-নুর রাহীম
তোমাদের উপাস্য হচ্ছেন এক আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই। তিনি পরম করুনাময়, অতি দয়ালু।
إِنَّ فِى خَلْقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَٰفِ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَٱلْفُلْكِ ٱلَّتِى تَجْرِى فِى ٱلْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ ٱلنَّاسَ وَمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن مَّآءٍۢ فَأَحْيَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٍۢ وَتَصْرِيفِ ٱلرِّيَٰحِ وَٱلسَّحَابِ ٱلْمُسَخَّرِ بَيْنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ لَءَايَٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ١٦٤
ইন্না ফী খালকিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ওয়ালফুলকিল লাতী তাজরী ফিল বাহরি বিমা ইয়ানফা‘উন না-সা ওয়ামা- আনযালাল্লা-হু মিনাস সামা-ই মিম মা-ইন ফাআহইয়া বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা ওয়াবাছ্ছা ফীহা মিন কুল্লি দা-ব্বাতিঁ ওয়াতাসরীফির রিয়া-হি ওয়াস্সাহা-বিল মুসাখ্খারি বাইনাস সামা-ই ওয়ালআরদি লাআ-য়া-তিল লিকাওমিঁ ইয়া‘কিলূন
নিশ্চয়ই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে, রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে, লোকের উপকারী দ্রব্যাদিসহ সমুদ্রে চলাচলকারী জলযানের মধ্যে এবং আকাশ হতে আল্লাহর বর্ষিত সেই পানির মধ্যে যদ্বারা তিনি পৃথিবীকে- মরে যাওয়ার পর আবার জীবিত করেন এবং তাতে সকল প্রকার জীব-জন্তুর বিস্তারণে এবং বাতাসের গতি পরিবর্তনের মধ্যে এবং আকাশ ও ভূমন্ডলের মধ্যস্থলে নিয়ন্ত্রিত মেঘপুঞ্জের মধ্যে বিবেকসম্পন্ন লোকেদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَندَادًۭا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ ٱللَّهِ ۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَشَدُّ حُبًّۭا لِّلَّهِ ۗ وَلَوْ يَرَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ إِذْ يَرَوْنَ ٱلْعَذَابَ أَنَّ ٱلْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًۭا وَأَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعَذَابِ ١٦٥
ওয়ামিনান না-সি মান ইয়াত্তাখিযু মিন দূনিল্লা-হি আনদা-দাঁ ইউহিব্বূনাহুম কাহুব্বিল্লা-হি ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ আশাদ্দু হুব্বাল্লিল্লা-হ ওয়ালাও ইয়ারাল লাযীনা যালামূ ইয ইয়ারাওনাল ‘আযা-বা আন-নাল কুওয়াতা লিল্লা-হি জামী‘আঁ ওয়াআন্নাল্লা-হা শাদীদুল ‘আযা-ব
আর কোন কোন লোক এমনও আছে, যে আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, আল্লাহকে ভালবাসার মত তাদেরকে ভালবাসে। কিন্তু যারা মু’মিন আল্লাহর সঙ্গে তাদের ভালবাসা প্রগাঢ় এবং কী উত্তমই হত যদি এ যালিমরা শাস্তি দেখার পর যেমন বুঝবে তা যদি এখনই বুঝত যে, সমস্ত শক্তি আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর।
إِذْ تَبَرَّأَ ٱلَّذِينَ ٱتُّبِعُوا۟ مِنَ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوا۟ وَرَأَوُا۟ ٱلْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ ٱلْأَسْبَابُ ١٦٦
ইয তাবার্রাআল লাযীনাত তুবি‘ঊ মিনাল লাযীনাত তাবা‘ঊ ওয়ারাআউল ‘আযা-বা ওয়াতাকাত্তা‘আত বিহিমুল আসবা-ব
স্মরণ কর, যাদেরকে অনুসরণ করা হত তারা অনুসরণকারীদের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্কের কথা অস্বীকার করবে, তারা শাস্তি দেখবে আর তাদের মধ্যেকার যাবতীয় সম্পর্ক সম্বন্ধ ছিন্ন হয়ে যাবে।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوا۟ لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةًۭ فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا۟ مِنَّا ۗ كَذَٰلِكَ يُرِيهِمُ ٱللَّهُ أَعْمَٰلَهُمْ حَسَرَٰتٍ عَلَيْهِمْ ۖ وَمَا هُم بِخَٰرِجِينَ مِنَ ٱلنَّارِ ١٦٧
ওয়াকা-লাল লাযীনাত তাবা‘ঊ লাও আন-না লানা কার্রাতান ফানাতাবার্রাআ মিনহুম কামা তাবার্রাঊ মিন্না কাযা-লিকা ইউরীহিমুল্লা-হু আ‘মা-লাহুম হাসারা-তিন ‘আলাইহিম ওয়ামা হুম বিখা-রিজীনা মিনান না-র
অনুসরণকারীরা বলবে, যদি কোনও প্রকারে আমাদের ফিরে যাবার সুযোগ ঘটত, তাহলে আমরাও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম যেমনভাবে তারা সম্পর্ক ছিন্ন করল। এভাবে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজগুলো দেখাবেন তাদের জন্য আক্ষেপরূপে এবং জাহান্নাম হতে তারা বের হতে পারবে না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ كُلُوا۟ مِمَّا فِى ٱلْأَرْضِ حَلَٰلًۭا طَيِّبًۭا وَلَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَٰنِ ۚ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّۭ مُّبِينٌ ١٦٨
ইয়া-আইয়্যুহান না-সু কুলূ মিম্মা ফিল আরদি হালা-লান তাইয়্যিবাঁ ওয়ালা তাত্তাবি‘ঊ খুতুওয়া-তিশ শাইতা-ন ইন্নাহূ লাকুম ‘আদুউম মুবীন
ওহে মনুষ্যজাতি! ভূমন্ডলে বিদ্যমান বস্তুগুলো হতে হালাল উত্তম জিনিসগুলো খাও এবং শায়ত্বনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলো না, বস্তুতঃ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
إِنَّمَا يَأْمُرُكُم بِٱلسُّوٓءِ وَٱلْفَحْشَآءِ وَأَن تَقُولُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ١٦٩
ইন্নামা ইয়া’মুরুকুম বিস্সূই ওয়ালফাহশা-ই ওয়াআন তাকূলূ ‘আলাল্লা-হি মা লা তা‘লামূন
সে তোমাদেরকে শুধু অসৎ এবং অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়, আর তোমাদেরকে নির্দেশ দেয় আল্লাহর সম্বন্ধে এমন কথা বলার যা তোমরা জান না।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱتَّبِعُوا۟ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُوا۟ بَلْ نَتَّبِعُ مَآ أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ ءَابَآءَنَآ ۗ أَوَلَوْ كَانَ ءَابَآؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْـًۭٔا وَلَا يَهْتَدُونَ ١٧٠
ওয়াইযা কীলা লাহুমুত তাবি‘ঊ মা- আনযালাল্লা-হু কা-লূ বাল নাত্তাবি‘উ মা- আলফাইনা ‘আলাইহি আ-বা-আনা- আওয়ালাও কা-না আ-বা-উহুম লা ইয়া‘কিলূনা শাইআঁ ওয়ালা ইয়াহতাদূন
যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা ঐ জিনিসের অনুসরণ কর যা আল্লাহ নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই উপর চলব, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি, যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই বুঝত না এবং সঠিক পথে চলত না তবুও।
وَمَثَلُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ كَمَثَلِ ٱلَّذِى يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَآءًۭ وَنِدَآءًۭ ۚ صُمٌّۢ بُكْمٌ عُمْىٌۭ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ١٧١
ওয়ামাছালুল লাযীনা কাফারূ কামাছালিল লাযী ইয়ান‘ইকু বিমা লা ইয়াসমা‘উ ইল্লা দু‘আ-আঁ ওয়ানিদা-আ সুম্মুম বুকমুন ‘উমা ফাহুম লা ইয়া‘কিলূন
এ কাফিরদের তুলনা সেই ব্যক্তির মত যে এমন কিছুকে ডাকে যা হাঁক-ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনে না, বধির, মূক ও অন্ধ; কাজেই তারা বুঝবে না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُلُوا۟ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقْنَٰكُمْ وَٱشْكُرُوا۟ لِلَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ ١٧٢
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ কুলূ মিন তাইয়্যিবা-তি মা রাযাকনা-কুম ওয়াশকুরূ লিল্লা-হি ইন কুনতুম ইয়্যা-হু তা‘বুদূন
হে মু’মিনগণ! আমার দেয়া পবিত্র বস্তুগুলো খেতে থাক এবং আল্লাহর উদ্দেশে শোকর করতে থাক, যদি তোমরা তাঁরই ‘ইবাদত করে থাক।
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ ٱلْمَيْتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحْمَ ٱلْخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ بِهِۦ لِغَيْرِ ٱللَّهِ ۖ فَمَنِ ٱضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍۢ وَلَا عَادٍۢ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌ ١٧٣
ইন্নামা হার্রামা ‘আলাইকুমুল মাইতাতা ওয়াদ্দামা ওয়ালাহমাল খিনযীরি ওয়ামা- উহিল্লা বিহী লিগাইরিল্লা-হি ফামানিদতুর্রা গাইরা বা-গিঁ ওয়ালা ‘আ-দিন ফালা- ইছমা ‘আলাইহ ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি হারাম করেছেন মৃত-জীব, রক্ত এবং শূকরের মাংস এবং সেই জন্তু যার প্রতি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম নেয়া হয়েছে, তবে যে ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়ে কিন্তু সে নাফরমান ও সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তার উপর কোন গুনাহ নেই, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَيَشْتَرُونَ بِهِۦ ثَمَنًۭا قَلِيلًا ۙ أُو۟لَٰٓئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ إِلَّا ٱلنَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ١٧٤
ইন্নাল লাযীনা ইয়াকতুমূনা মা- আনযালাল্লা-হু মিনাল কিতা-বি ওয়ায়াশতারূনা বিহী ছামানান কালীলান উলা-ইকা মা ইয়া’কুলূনা ফী বুতূনিহিম ইল্লান না-রা ওয়ালা ইউকাল্লিমুহুমুল্লা-হু ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়ালা ইউযাক্কীহিম ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম
কিতাব হতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, যারা এটা গোপন করে এবং এর বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, এরা নিজেদের পেটে একমাত্র আগুন ভক্ষণ করে, ওদের সাথে আল্লাহ ক্বিয়ামাতের দিন কথা বলবেন না এবং ওদেরকে পবিত্রও করবেন না; এবং ওদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلضَّلَٰلَةَ بِٱلْهُدَىٰ وَٱلْعَذَابَ بِٱلْمَغْفِرَةِ ۚ فَمَآ أَصْبَرَهُمْ عَلَى ٱلنَّارِ ١٧٥
উলা-ইকাল লাযীনাশতারাউদ দালা-লাতা বিলহুদা ওয়াল‘আযা-বা বিলমাগফিরাহ ফামা- আসবারাহুম ‘আলান না-র
এরা এমন লোক, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহী এবং ক্ষমার বিনিময়ে শাস্তি ক্রয় করেছে, তারা আগুন সহ্য করতে কতই না ধৈর্যশীল!
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ نَزَّلَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ ۗ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ ٱخْتَلَفُوا۟ فِى ٱلْكِتَٰبِ لَفِى شِقَاقٍۭ بَعِيدٍۢ ١٧٦
যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা নায্যালাল কিতা-বা বিলহাক্ক ওয়াইন্নাল লাযীনাখতালাফূ ফিল কিতা-বি লাফী শিকা-কিম বা‘ঈদ
(তাদের প্রতি শাস্তির হুকুম দেয়া হয়েছে) এজন্য যে, আল্লাহ্ই কিতাবকে সত্যরূপে নাযিল করেছেন আর যারা কিতাব সম্বন্ধে মতভেদ করেছে তারা চরম মতভেদে পড়ে আছে।
۞ لَّيْسَ ٱلْبِرَّ أَن تُوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ قِبَلَ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ وَلَٰكِنَّ ٱلْبِرَّ مَنْ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلْكِتَٰبِ وَٱلنَّبِيِّۦنَ وَءَاتَى ٱلْمَالَ عَلَىٰ حُبِّهِۦ ذَوِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينَ وَٱبْنَ ٱلسَّبِيلِ وَٱلسَّآئِلِينَ وَفِى ٱلرِّقَابِ وَأَقَامَ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَى ٱلزَّكَوٰةَ وَٱلْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَٰهَدُوا۟ ۖ وَٱلصَّٰبِرِينَ فِى ٱلْبَأْسَآءِ وَٱلضَّرَّآءِ وَحِينَ ٱلْبَأْسِ ۗ أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ صَدَقُوا۟ ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُتَّقُونَ ١٧٧
লাইসাল বির্রা আন তুওয়াল্লূ উজূহাকুম কিবালাল মাশরিকি ওয়ালমাগরিবি ওয়ালা-কিন্নাল বির্রা মান আ-মানা বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি ওয়ালমালা-ইকাতি ওয়ালকিতা-বি ওয়ান্নাবিয়্যীনা ওয়াআ-তাল মা-লা ‘আলা হুব্বিহী যাউইল কুরবা ওয়ালইয়াতা-মা ওয়ালমাসা-কীনা ওয়াবনাস সাবীলি ওয়াস্সা-ইলীনা ওয়াফির রিকা-বি ওয়াআকা-মাস সালা-তা ওয়াআ-তায যাকা-তা ওয়ালমূফূনা বি‘আহদিহিম ইযা ‘আ-হাদূ ওয়াস্সা-বিরীনা ফিল বা’সা-ই ওয়াদ্দার্রা-ই ওয়াহীনাল বা’স উলা-ইকাল লাযীনা সাদাকূ ওয়াউলা-ইকা হুমুল মুত্তাকূন
তোমরা নিজেদের মুখ পূর্ব দিকে কর কিংবা পশ্চিম দিকে এতে কোন কল্যাণ নেই বরং কল্যাণ আছে এতে যে, কোন ব্যক্তি ঈমান আনবে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নাবীগণের প্রতি এবং আল্লাহর ভালবাসার্থে ধন-সম্পদ আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম-মিসকীন, মুসাফির ও যাচ্ঞাকারীদের এবং দাসত্বজীবন হতে নিস্কৃতি দিতে দান করবে এবং নামায কায়িম করবে ও যাকাত দিতে থাকবে, ওয়া‘দা করার পর স্বীয় ওয়া‘দা পূর্ণ করবে এবং অভাবে, দুঃখ-ক্লেশে ও সংকটে ধৈর্য ধারণ করবে, এ লোকেরাই সত্যপরায়ণ আর এ লোকেরাই মুত্তাকী।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِصَاصُ فِى ٱلْقَتْلَى ۖ ٱلْحُرُّ بِٱلْحُرِّ وَٱلْعَبْدُ بِٱلْعَبْدِ وَٱلْأُنثَىٰ بِٱلْأُنثَىٰ ۚ فَمَنْ عُفِىَ لَهُۥ مِنْ أَخِيهِ شَىْءٌۭ فَٱتِّبَاعٌۢ بِٱلْمَعْرُوفِ وَأَدَآءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَٰنٍۢ ۗ ذَٰلِكَ تَخْفِيفٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌۭ ۗ فَمَنِ ٱعْتَدَىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَلَهُۥ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ١٧٨
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ কুতিবা ‘আলাইকুমুল কিসা-সু ফিল কাতলাল হুর্রু বিলহুর্রি ওয়াল‘আবদু বিল‘আবদি ওয়ালউনছা বিলউনছা ফামান ‘উফিয়া লাহূ মিন আখীহি শাইউন ফাত্তিবা-‘উম বিলমা‘রূফি ওয়াআদা-উন ইলাইহি বিইহসা-ন যা-লিকা তাখফীফুম মির রাব্বিকুম ওয়ারাহমাহ ফামানি‘তাদা বা‘দা যা-লিকা ফালাহূ ‘আযা-বুন আলীম
হে মু’মিনগণ! তোমাদের প্রতি নিহতদের কিসাস সম্পর্কে আদেশ দেয়া যাচ্ছে, স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন, গোলামের বদলে গোলাম এবং স্ত্রীলোকের বদলে স্ত্রীলোক, অতঃপর যাকে তার ভাইয়ের পক্ষ হতে কিছু অংশ মাফ ক’রে দেয়া হয়, সে অবস্থায় যথাযথ বিধির অনুসরণ করা ও সততার সঙ্গে তার দেয় আদায় করা বিধেয়, এটা তোমাদের প্রভুর পক্ষ হতে ভার লাঘব ও অনুগ্রহ, এরপর যে কেউ বাড়াবাড়ি করবে, তার জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
وَلَكُمْ فِى ٱلْقِصَاصِ حَيَوٰةٌۭ يَٰٓأُو۟لِى ٱلْأَلْبَٰبِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ١٧٩
ওয়ালাকুম ফিল কিসা-সি হায়া-তুঁ ইয়া-উলিল আলবা-বি লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূন
কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন নিহিত রয়েছে, যাতে হে জ্ঞানী সমাজ! (হত্যানুষ্ঠান হতে) তোমরা নিবৃত্ত থাক।
كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ ٱلْمَوْتُ إِن تَرَكَ خَيْرًا ٱلْوَصِيَّةُ لِلْوَٰلِدَيْنِ وَٱلْأَقْرَبِينَ بِٱلْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى ٱلْمُتَّقِينَ ١٨٠
কুতিবা ‘আলাইকুম ইযা হাদারা আহাদাকুমুল মাওতু ইন তারাকা খাইরানিল ওয়াসিয়্যাতু লিলওয়া-লিদাইনি ওয়ালআকরাবীনা বিলমা‘রূফি হাক্কান ‘আলাল মুত্তাকীন
তোমাদেরকে নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে যে, যখন তোমাদের কারও সামনে মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং সেই ব্যক্তি কিছু সম্পত্তি ছেড়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি যেন সঙ্গতভাবে ওয়াসীয়াত করে যায় পিতা-মাতা ও নিকট সম্পর্কীয়দের জন্য, মুত্তাকীদের জন্য এটা একটা কর্তব্য।
فَمَنۢ بَدَّلَهُۥ بَعْدَمَا سَمِعَهُۥ فَإِنَّمَآ إِثْمُهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُۥٓ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ١٨١
ফামাম বাদ্দালাহূ বা‘দামা সামি‘আহূ ফাইন্নামা- ইছমুহূ ‘আলাল লাযীনা ইউবাদ্দিলূনাহ ইন্নাল্লা-হা সামী‘উন ‘আলীম
অতঃপর যে ব্যক্তি তা শুনে নেয়ার পর ওয়াসীয়াতের পরিবর্তন ঘটাবে, তবে তার গুনাহ সেই লোকদেরই প্রতি যারা তার পরিবর্তন ঘটাবে, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
فَمَنْ خَافَ مِن مُّوصٍۢ جَنَفًا أَوْ إِثْمًۭا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١٨٢
ফামান খা-ফা মিম মূসিন জানাফান আও ইছমান ফাআসলাহা বাইনাহুম ফালা- ইছমা ‘আলাইহ ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
যে ব্যক্তি ওয়াসীয়াতকারীর পক্ষ হতে পক্ষপাতিত্বের ভয় করে কিংবা অন্যায়ের আশঙ্কা করে, অতঃপর সে যদি তাদের মধ্যে মিটমাট করে দেয়, তবে তার কোনই গুনাহ নেই, নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ١٨٣
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ কুতিবা ‘আলাইকুমুস সিয়া-মু কামা কুতিবা ‘আলাল লাযীনা মিন কাবলিকুম লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূন
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকেদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।
أَيَّامًۭا مَّعْدُودَٰتٍۢ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍۢ فَعِدَّةٌۭ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدْيَةٌۭ طَعَامُ مِسْكِينٍۢ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًۭا فَهُوَ خَيْرٌۭ لَّهُۥ ۚ وَأَن تَصُومُوا۟ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ١٨٤
আইয়্যা-মাম মা‘দূদা-ত ফামান কা-না মিনকুম মারীদান আও ‘আলা সাফারিন ফা‘ইদ্দাতুম মিন আইয়্যা-মিন উখার ওয়া‘আলাল লাযীনা ইউতীকূনাহূ ফিদইয়াতুন তা‘আ-মু মিসকীনিন ফামান তাতাওয়া‘আ খাইরান ফাহুওয়া খাইরুল লাহ ওয়াআন তাসূমূ খাইরুল লাকুম ইন কুনতুম তা‘লামূন
(রোযা) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য, অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে পীড়িত কিংবা মুসাফির সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে এবং শক্তিহীনদের উপর কর্তব্য হচ্ছে ফিদইয়া প্রদান করা, এটা একজন মিসকীনকে অন্নদান করা এবং যে ব্যক্তি নিজের খুশীতে সৎ কাজ করতে ইচ্ছুক, তার পক্ষে তা আরও উত্তম আর সে অবস্থায় রোযা পালন করাই তোমাদের পক্ষে উত্তম, যদি তোমরা বুঝ।
شَهْرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلْقُرْءَانُ هُدًۭى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٍۢ مِّنَ ٱلْهُدَىٰ وَٱلْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍۢ فَعِدَّةٌۭ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا۟ ٱلْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا۟ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ١٨٥
শাহরু রামাদা-নাল লাযী উনযিলা ফীহিল কুরআ-নু হুদাল লিন্না-সি ওয়াবাইয়্যিনা-তিম মিনাল হুদা ওয়ালফুরকা-ন ফামান শাহিদা মিনকুমুশ শাহরা ফালইয়াসুমহু ওয়ামান কা-না মারীদান আও ‘আলা সাফারিন ফা‘ইদ্দাতুম মিন আইয়্যা-মিন উখার ইউরীদুল্লা-হু বিকুমুল ইউসরা ওয়ালা ইউরীদু বিকুমুল ‘উসরা ওয়ালিতুকমিলুল ‘ইদ্দাতা ওয়ালিতুকাব্বিরুল্লা-হা ‘আলা মা হাদা-কুম ওয়ালা‘আল্লাকুম তাশকুরূন
রমাযান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে, কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোযা পালন করে আর যে পীড়িত কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে, আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান, যা কষ্টদায়ক তা চান না যেন তোমরা মেয়াদ পূর্ণ করতে পার, আর তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর, আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِى عَنِّى فَإِنِّى قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ ٱلدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖ فَلْيَسْتَجِيبُوا۟ لِى وَلْيُؤْمِنُوا۟ بِى لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ ١٨٦
ওয়াইযা সাআলাকা ‘ইবা-দী ‘আন্নী ফাইন্নী কারীবুন উজীবু দা‘ওয়াতাদ দা-‘ই ইযা দা‘আ-নি ফালইয়াসতাজীবূ লী ওয়ালইউ’মিনূ বী লা‘আল্লাহুম ইয়ারশুদূন
যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে তোমার নিকট জিজ্ঞেস করে, আমি তো (তাদের) নিকটেই, আহবানকারী যখন আমাকে আহবান করে আমি তার আহবানে সাড়া দেই; সুতরাং তাদের উচিত আমার নির্দেশ মান্য করা এবং আমার প্রতি ঈমান আনা, যাতে তারা সরলপথ প্রাপ্ত হয়।
أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ ٱلصِّيَامِ ٱلرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَآئِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌۭ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌۭ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ ٱللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَٱلْـَٰٔنَ بَٰشِرُوهُنَّ وَٱبْتَغُوا۟ مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ ٱلْخَيْطُ ٱلْأَبْيَضُ مِنَ ٱلْخَيْطِ ٱلْأَسْوَدِ مِنَ ٱلْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا۟ ٱلصِّيَامَ إِلَى ٱلَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَٰكِفُونَ فِى ٱلْمَسَٰجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ ءَايَٰتِهِۦ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ١٨٧
উহিল্লা লাকুম লাইলাতাস সিয়া-মির রাফাছু ইলা নিসা-ইকুম হুন্না লিবা-সুল লাকুম ওয়াআনতুম লিবা-সুল লাহুন্ন ‘আলিমাল্লা-হু আন-নাকুম কুনতুম তাখতা-নূনা আনফুসাকুম ফাতা-বা ‘আলাইকুম ওয়া‘আফা ‘আনকুম ফালআ-না বা-শিরূহুন্না ওয়াবতাগূ মা কাতাবাল্লা-হু লাকুম ওয়াকুলূ ওয়াশরাবূ হাত্তা ইয়াতাবাইয়্যানা লাকুমুল খাইতুল আবইয়াদু মিনাল খাইতিল আসওয়াদি মিনাল ফাজরি ছুম্মা আতিম্মুস সিয়া-মা ইলাল লাইল ওয়ালা তুবা-শিরূহুন্না ওয়াআনতুম ‘আ-কিফূনা ফিল মাসা-জিদ তিলকা হুদূদুল্লা-হি ফালা তাকরাবূহা কাযা-লিকা ইউবাইয়্যিনুল্লা-হু আ-য়া-তিহী লিন্না-সি লা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূন
তোমাদের জন্য রমাযানের রাতে তোমাদের বিবিগণের নিকট গমন করা জায়িয করা হয়েছে, তারা তোমাদের আচ্ছাদন আর তোমরা তাদের আচ্ছাদন। আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিলেন। অতএব, এখন থেকে তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তা লাভ কর এবং তোমরা আহার ও পান করতে থাক যে পর্যন্ত তোমাদের জন্য কালো রেখা হতে ঊষাকালের সাদা রেখা প্রকাশ না পায়। তৎপর রাতের আগমন পর্যন্ত রোযা পূর্ণ কর, আর মাসজিদে ই’তিকাফ অবস্থায় তাদের সাথে সহবাস করো না। এসব আল্লাহর আইন, কাজেই এগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না। আল্লাহ মানবজাতির জন্য নিজের আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা মুত্তাকী হতে পারে।
وَلَا تَأْكُلُوٓا۟ أَمْوَٰلَكُم بَيْنَكُم بِٱلْبَٰطِلِ وَتُدْلُوا۟ بِهَآ إِلَى ٱلْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا۟ فَرِيقًۭا مِّنْ أَمْوَٰلِ ٱلنَّاسِ بِٱلْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ١٨٨
ওয়ালা তা’কুলূ আমওয়া-লাকুম বাইনাকুম বিলবা-তিলি ওয়াতুদলূ বিহা- ইলাল হুক্কা-মি লিতা’কুলূ ফারীকাম মিন আমওয়া-লিন না-সি বিলইছমি ওয়াআনতুম তা‘লামূন
আর তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের মাল গ্রাস করো না এবং জানা সত্ত্বেও অসৎ উপায়ে লোকের মাল গ্রাস করার উদ্দেশে তা বিচারকের নিকট নিয়ে যেও না।
۞ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْأَهِلَّةِ ۖ قُلْ هِىَ مَوَٰقِيتُ لِلنَّاسِ وَٱلْحَجِّ ۗ وَلَيْسَ ٱلْبِرُّ بِأَن تَأْتُوا۟ ٱلْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَٰكِنَّ ٱلْبِرَّ مَنِ ٱتَّقَىٰ ۗ وَأْتُوا۟ ٱلْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَٰبِهَا ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ١٨٩
ইয়াসআলূনাকা ‘আনিল আহিল্লাতি কুল হিয়া মাওয়া-কীতু লিন্না-সি ওয়ালহাজ্জ ওয়ালাইসাল বির্রু বিআন তা’তুল বুইউতা মিন যুহূরিহা ওয়ালা-কিন্নাল বির্রা মানিত তাকা ওয়া’তুল বুইউতা মিন আবওয়া-বিহা ওয়াত্তাকুল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন
লোকেরা তোমাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। বল, তা মানুষের ও হাজ্জের জন্য সময় নির্ধারক। তোমরা যে গৃহের পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ কর, তাতে কোন পুণ্য নেই, বরং পুণ্য আছে কেউ তাকওয়া অবলম্বন করলে, কাজেই তোমরা (সদর) দরজাগুলো দিয়ে গৃহে প্রবেশ কর এবং আল্লাহ্কে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
وَقَٰتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يُقَٰتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلْمُعْتَدِينَ ١٩٠
ওয়াকা-তিলূ ফী সাবীলিল্লা-হিল লাযীনা ইউকা-তিলূনাকুম ওয়ালা তা‘তাদূ ইন্নাল্লা-হা লা ইউহিব্বুল মু‘তাদীন
তোমরা আল্লাহর পথে সেই লোকেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, কিন্তু সীমা অতিক্রম করো না। আল্লাহ নিশ্চয়ই সীমা অতিক্রমকারীকে ভালবাসেন না।
وَٱقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُم مِّنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ ۚ وَٱلْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ ٱلْقَتْلِ ۚ وَلَا تُقَٰتِلُوهُمْ عِندَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَٰتِلُوكُمْ فِيهِ ۖ فَإِن قَٰتَلُوكُمْ فَٱقْتُلُوهُمْ ۗ كَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلْكَٰفِرِينَ ١٩١
ওয়াকতুলূহুম হাইছু ছাকিফতুমূহুম ওয়াআখরিজূহুম মিন হাইছু আখরাজূকুম ওয়ালফিতনাতু আশাদ্দু মিনাল কাতল ওয়ালা তুকা-তিলূহুম ‘ইনদাল মাসজিদিল হারা-মি হাত্তা ইউকা-তিলূকুম ফীহি ফাইন কা-তালূকুম ফাকতুলূহুম কাযা-লিকা জাযা-উল কা-ফিরীন
তাদেরকে যেখানেই পাও হত্যা কর এবং তাদেরকে বের করে দাও যেখান থেকে তারা তোমাদেরকে বের করে দিয়েছে। বস্তুতঃ ফিতনা হত্যার চেয়েও গুরুতর। তোমরা মাসজিদে হারামের নিকট তাদের সাথে যুদ্ধ করো না, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের সাথে সেখানে যুদ্ধ না করে, কিন্তু যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, তবে তোমরাও তাদের হত্যা কর, এটাই কাফিরদের প্রতিদান।
فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١٩٢
ফাইনিনতাহাও ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
অতঃপর যদি তারা বিরত হয়, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌۭ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ لِلَّهِ ۖ فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَلَا عُدْوَٰنَ إِلَّا عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ ١٩٣
ওয়াকা-তিলূহুম হাত্তা লা তাকূনা ফিতনাতুঁ ওয়ায়াকূনাদ দীনু লিল্লা-হি ফাইনিনতাহাও ফালা ‘উদওয়া-না ইল্লা ‘আলায যা-লিমীন
ফিতনা দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত এবং দীন আল্লাহর জন্য নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, অতঃপর যদি তারা বিরত হয় তবে যালিমদের উপরে ছাড়া কোনও প্রকারের কঠোরতা অবলম্বন জায়িয হবে না।
ٱلشَّهْرُ ٱلْحَرَامُ بِٱلشَّهْرِ ٱلْحَرَامِ وَٱلْحُرُمَٰتُ قِصَاصٌۭ ۚ فَمَنِ ٱعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ فَٱعْتَدُوا۟ عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا ٱعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلْمُتَّقِينَ ١٩٤
আশ-শাহরুল হারা-মু বিশ্শাহরিল হারা-মি ওয়ালহুরুমা-তু কিসা-স ফামানি‘তাদা ‘আলাইকুম ফা‘তাদূ ‘আলাইহি বিমিছলি মা‘তাদা ‘আলাইকুম ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়া‘লামূ আন-নাল্লা-হা মা‘আল মুত্তাকীন
সম্মানিত মাস হচ্ছে সম্মানিত মাসের বিনিময়ে এবং পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব সবার জন্য সমান, কাজেই যে কেউ তোমাদের প্রতি কঠোর আচরণ করে, তবে তোমরাও তাদের প্রতি কঠোর আচরণ কর যেমনি কঠোরতা সে তোমাদের প্রতি করেছে এবং আল্লাহ্কে ভয় কর এবং জেনে রেখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন।
وَأَنفِقُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَا تُلْقُوا۟ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى ٱلتَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوٓا۟ ۛ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُحْسِنِينَ ١٩٥
ওয়াআনফিকূ ফী সাবীলিল্লা-হি ওয়ালা তুলকূ বিআইদীকুম ইলাত তাহলুকাতি ওয়াআহসিনূ ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুহসিনীন
তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় কর এবং স্বহস্তে নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না এবং কল্যাণকর কাজ করে যাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ কল্যাণকারীদেরকে ভালবাসেন।
وَأَتِمُّوا۟ ٱلْحَجَّ وَٱلْعُمْرَةَ لِلَّهِ ۚ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِ ۖ وَلَا تَحْلِقُوا۟ رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ يَبْلُغَ ٱلْهَدْىُ مَحِلَّهُۥ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِۦٓ أَذًۭى مِّن رَّأْسِهِۦ فَفِدْيَةٌۭ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍۢ ۚ فَإِذَآ أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِٱلْعُمْرَةِ إِلَى ٱلْحَجِّ فَمَا ٱسْتَيْسَرَ مِنَ ٱلْهَدْىِ ۚ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَٰثَةِ أَيَّامٍۢ فِى ٱلْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ ۗ تِلْكَ عَشَرَةٌۭ كَامِلَةٌۭ ۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُۥ حَاضِرِى ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ١٩٦
ওয়াআতিম্মুল হাজ্জা ওয়াল‘উমরাতা লিল্লা-হ ফাইন উহসিরতুম ফামাসতাইসারা মিনাল হাদইয়ি ওয়ালা তাহলিকূ রুঊসাকুম হাত্তা ইয়াবলুগাল হাদইউ মাহিল্লাহ ফামান কা-না মিনকুম মারীদান আও বিহী আযাম মির রা’সিহী ফাফিদইয়াতুম মিন সিয়া-মিন আও সাদাকাতিন আও নুসুক ফাইযা- আমিনতুম ফামান তামাত্তা‘আ বিল‘উমরাতি ইলাল হাজ্জি ফামাসতাইসারা মিনাল হাদই ফামাল লাম ইয়াজিদ ফাসিয়া-মু ছালা-ছাতি আইয়্যা-মিন ফিল হাজ্জি ওয়াসাব‘আতিন ইযা রাজা‘তুম তিলকা ‘আশারাতুন কা-মিলাহ যা-লিকা লিমাল লাম ইয়াকুন আহলুহূ হা-দিরিল মাসজিদিল হারা-ম ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়া‘লামূ আন-নাল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হাজ্জ ও ‘উমরাহকে পূর্ণ কর, কিন্তু যদি তোমরা বাধাগ্রস্ত হও, তবে যা সম্ভব কুরবানী দিবে এবং কুরবানী যথাস্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত নিজেদের মস্তক মুন্ডন করো না, তবে তোমাদের মধ্যে যে পীড়িত কিংবা মাথায় যন্ত্রণাগ্রস্ত, সে রোযা কিংবা সদাক্বাহ বা কুরবানী দ্বারা ফিদইয়া দিবে এবং যখন তোমরা নিরাপদ থাক, তখন যে কেউ ‘উমরাহকে হাজ্জের সঙ্গে মিলিয়ে উপকার লাভ করতে ইচ্ছুক, সে যেমন সম্ভব কুরবানী দিবে এবং যার পক্ষে সম্ভব না হয়, সে ব্যক্তি হাজ্জের দিনগুলোর মধ্যে তিনদিন এবং গৃহে ফেরার পর সাতদিন, এই মোট দশদিন রোযা পালন করবে। এটা সেই লোকের জন্য, যার পরিবারবর্গ মাসজিদে হারামের বাসিন্দা নয়। আল্লাহকে ভয় কর আর জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।
ٱلْحَجُّ أَشْهُرٌۭ مَّعْلُومَٰتٌۭ ۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ ٱلْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِى ٱلْحَجِّ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ يَعْلَمْهُ ٱللَّهُ ۗ وَتَزَوَّدُوا۟ فَإِنَّ خَيْرَ ٱلزَّادِ ٱلتَّقْوَىٰ ۚ وَٱتَّقُونِ يَٰٓأُو۟لِى ٱلْأَلْبَٰبِ ١٩٧
আলহাজ্জু আশহুরুম মা‘লূমা-ত ফামান ফারাদা ফীহিন্নাল হাজ্জা ফালা রাফাছা ওয়ালা ফুসূকা ওয়ালা জিদা-লা ফিল হাজ্জ ওয়ামা তাফ‘আলূ মিন খাইরিঁ ইয়া‘লামহুল্লা-হ ওয়াতাযাওয়াদূ ফাইন্না খাইরায যা-দিত তাকওয়া ওয়াত্তাকূনি ইয়া-উলিল আলবা-ব
হাজ্জ হয় কয়েকটি নির্দিষ্ট মাসে, অতঃপর এ মাসগুলোতে যে কেউ হাজ্জ করার মনস্থ করবে, তার জন্য হাজ্জের মধ্যে স্ত্রী সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয় এবং তোমরা যে কোন সৎ কাজই কর, আল্লাহ তা জানেন এবং তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা করবে আর তাক্বওয়াই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে জ্ঞানী সমাজ! আমাকেই ভয় করতে থাক।
لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا۟ فَضْلًۭا مِّن رَّبِّكُمْ ۚ فَإِذَآ أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَٰتٍۢ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ عِندَ ٱلْمَشْعَرِ ٱلْحَرَامِ ۖ وَٱذْكُرُوهُ كَمَا هَدَىٰكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِۦ لَمِنَ ٱلضَّآلِّينَ ١٩٨
লাইসা ‘আলাইকুম জুনা-হুন আন তাবতাগূ ফাদলাম মির রাব্বিকুম ফাইযা- আফাদতুম মিন ‘আরাফা-তিন ফাযকুরুল্লা-হা ‘ইনদাল মাশ‘আরিল হারা-মি ওয়াযকুরূহু কামা হাদা-কুম ওয়াইন কুনতুম মিন কাবলিহী লামিনাদ দা-ল্লীন
তোমাদের প্রতি কোন গুনাহ নেই যদি তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ খোঁজ কর এবং যখন তোমরা আরাফাত হতে ফিরবে তখন মাশ‘আরুল হারামের নিকট আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং তাঁকে স্মরণ করবে যেরূপ তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, বস্তুতঃ তোমরা এর আগে ছিলে পথভ্রষ্টদের অন্তর্গত।
ثُمَّ أَفِيضُوا۟ مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ ٱلنَّاسُ وَٱسْتَغْفِرُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١٩٩
ছুম্মা আফীদূ মিন হাইছু আফা-দান না-সু ওয়াসতাগফিরুল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
তারপর তোমরা ফিরে আসবে যেখান থেকে লোকেরা ফিরে আসে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থী হও, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَٰسِكَكُمْ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَذِكْرِكُمْ ءَابَآءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًۭا ۗ فَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِى ٱلدُّنْيَا وَمَا لَهُۥ فِى ٱلْءَاخِرَةِ مِنْ خَلَٰقٍۢ ٢٠٠
ফাইযা কাদাইতুম মানা-সিকাকুম ফাযকুরুল্লা-হা কাযিকরিকুম আ-বা-আকুম আও আশাদ্দা যিকরা ফামিনান না-সি মান ইয়াকূলু রাব্বানা- আ-তিনা ফিদ দুনইয়া ওয়ামা লাহূ ফিল আ-খিরাতি মিন খালা-ক
অতঃপর মহান হাজ্জের করণীয় কার্যাবলী সমাপ্ত করবে, তখন আল্লাহর স্মরণে মশগুল হও, যেমন তোমরা নিজেদের বাপ-দাদাদের স্মরণে মশগুল থাক, বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ কর। লোকেদের কেউ কেউ বলে থাকে- হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ দুনিয়াতেই প্রদান কর, বস্তুতঃ সে আখেরাতে কিছুই পাবে না।
وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِى ٱلدُّنْيَا حَسَنَةًۭ وَفِى ٱلْءَاخِرَةِ حَسَنَةًۭ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ٢٠١
ওয়ামিনহুম মান ইয়াকূলু রাব্বানা- আ-তিনা ফিদ দুনইয়া হাসানাতাঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাঁ ওয়াকিনা ‘আযা-বান না-র
লোকেদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছে, যারা বলে থাকে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দাও এবং আখেরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব হতে রক্ষা কর।
أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌۭ مِّمَّا كَسَبُوا۟ ۚ وَٱللَّهُ سَرِيعُ ٱلْحِسَابِ ٢٠٢
উলা-ইকা লাহুম নাসীবুম মিম্মা কাসাবূ ওয়াল্লা-হু সারী‘উল হিসা-ব
এরাই সেই লোক, যাদের কৃতকার্যে তাদের প্রাপ্য অংশ রয়েছে এবং আল্লাহ সত্বর হিসাবগ্রহণকারী।
۞ وَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ فِىٓ أَيَّامٍۢ مَّعْدُودَٰتٍۢ ۚ فَمَن تَعَجَّلَ فِى يَوْمَيْنِ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلَآ إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ لِمَنِ ٱتَّقَىٰ ۗ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ٢٠٣
ওয়াযকুরুল্লা-হা ফী আইয়্যা-মিম মা‘দূদা-ত ফামান তা‘আজ্জালা ফী ইয়াওমাইনি ফালা- ইছমা ‘আলাইহি ওয়ামান তাআখ্খারা ফালা- ইছমা ‘আলাইহ লিমানিত তাকা ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়া‘লামূ আন-নাকুম ইলাইহি তুহশারূন
তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করবে; অতঃপর যে ব্যক্তি তাড়াতাড়ি ক’রে দু’দিনে চলে যায় তার প্রতি কোন গুনাহ নেই এবং যে ব্যক্তি অধিক সময় পর্যন্ত বিলম্ব করবে, তার প্রতিও গুনাহ নেই, এটা তার জন্য যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করবে এবং আল্লাহ্কে ভয় করতে থাকবে এবং জেনে রেখ, তোমরা সকলেই তাঁরই দিকে একত্রিত হবে।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُۥ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَيُشْهِدُ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا فِى قَلْبِهِۦ وَهُوَ أَلَدُّ ٱلْخِصَامِ ٢٠٤
ওয়ামিনান না-সি মান ইউ‘জিবুকা কাওলুহূ ফিল হায়া-তিদ দুনইয়া ওয়াইউশহিদুল্লা-হা ‘আলা মা ফী কালবিহী ওয়াহুওয়া আলাদ্দুল খিসা-ম
মানুষের মধ্যে এমন আছে, পার্থিব জীবন সম্পর্কিত যার কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করে, আর সে ব্যক্তি তার অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে আল্লাহকে সাক্ষী রাখে অথচ সে ব্যক্তি খুবই ঝগড়াটে।
وَإِذَا تَوَلَّىٰ سَعَىٰ فِى ٱلْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ ٱلْحَرْثَ وَٱلنَّسْلَ ۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلْفَسَادَ ٢٠٥
ওয়াইযা তাওয়াল্লা সা‘আ ফিল আরদি লিইউফসিদা ফীহা ওয়াইউহলিকাল হারছা ওয়ান্নাসল ওয়াল্লা-হু লা ইউহিব্বুল ফাসা-দ
যখন তোমার কাছ থেকে সে ব্যক্তি ফিরে যায়, তখন দেশের মধ্যে অনিষ্ট ঘটাতে এবং শস্যাদি ও পশুসমূহকে ধবংস করতে চেষ্টা করে কিন্তু আল্লাহ ফাসাদ পছন্দ করেন না।
وَإِذَا قِيلَ لَهُ ٱتَّقِ ٱللَّهَ أَخَذَتْهُ ٱلْعِزَّةُ بِٱلْإِثْمِ ۚ فَحَسْبُهُۥ جَهَنَّمُ ۚ وَلَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ ٢٠٦
ওয়াইযা কীলা লাহুত তাকিল্লা-হা আখাযাতহুল ‘ইয্যাতু বিলইছম ফাহাসবুহূ জাহান্নাম ওয়ালাবি’সাল মিহা-দ
যখন তাকে বলা হয়, আল্লাহকে ভয় কর, তখন অহঙ্কার তাকে গুনাহর দিকে আকর্ষণ করে, জাহান্নামই তার জন্য যথেষ্ট আর তা কতই না জঘন্য আবাসস্থল!
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَشْرِى نَفْسَهُ ٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ رَءُوفٌۢ بِٱلْعِبَادِ ٢٠٧
ওয়ামিনান না-সি মান ইয়াশরী নাফসাহুবতিগা-আ মারদা-তিল্লা-হ ওয়াল্লা-হু রাঊফুম বিল‘ইবা-দ
মানুষের মধ্যে এমন আছে যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিজের প্রাণ দিয়ে থাকে, বস্তুতঃ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যধিক দয়ালু।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱدْخُلُوا۟ فِى ٱلسِّلْمِ كَآفَّةًۭ وَلَا تَتَّبِعُوا۟ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيْطَٰنِ ۚ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّۭ مُّبِينٌۭ ٢٠٨
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুদখুলূ ফিস সিলমি কা-ফ্ফাতাঁ ওয়ালা তাত্তাবি‘ঊ খুতুওয়া-তিশ শাইতা-ন ইন্নাহূ লাকুম ‘আদুউম মুবীন
হে মু’মিনগণ! ইসলামের মধ্যে পূর্ণভাবে প্রবেশ কর এবং শায়ত্বনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলো না, নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
فَإِن زَلَلْتُم مِّنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْكُمُ ٱلْبَيِّنَٰتُ فَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ٢٠٩
ফাইন যালালতুম মিম বা‘দি মা জা-আতকুমুল বাইয়্যিনা-তু ফা‘লামূ আন-নাল্লা-হা ‘আযীযুন হাকীম
তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট হুকুম পৌঁছার পরেও যদি তোমাদের পদস্খলন ঘটে তবে জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّآ أَن يَأْتِيَهُمُ ٱللَّهُ فِى ظُلَلٍۢ مِّنَ ٱلْغَمَامِ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَقُضِىَ ٱلْأَمْرُ ۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ ٢١٠
হাল ইয়ানযুরূনা ইল্লা- আন ইয়া’তিয়াহুমুল্লা-হু ফী যুলালিম মিনাল গামা-মি ওয়ালমালা-ইকাতু ওয়াকুদিয়াল আমর ওয়াইলাল্লা-হি তুরজা‘উল উমূর
এরা কি এজন্য অপেক্ষা করছে যে, মেঘমালার ছত্র লাগিয়ে ফেরেশতাদের সঙ্গে নিয়ে আল্লাহ তাদের কাছে আগমন করবেন, অতঃপর সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে? বস্তুতঃ সকল কার্য আল্লাহর নিকটেই ফিরে যায় (চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য)।
سَلْ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ كَمْ ءَاتَيْنَٰهُم مِّنْ ءَايَةٍۭ بَيِّنَةٍۢ ۗ وَمَن يُبَدِّلْ نِعْمَةَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ٢١١
সাল বানী ইসরা-ঈলা কাম আ-তাইনা-হুম মিন আ-য়াতিম বাইয়্যিনাহ ওয়ামান ইউবাদ্দিল নি‘মাতাল্লা-হি মিম বা‘দি মা জা-আতহু ফাইন্নাল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব
বানী ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস কর, আমি তাদেরকে কত সুস্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছি। কোন ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামাত তার নিকট পৌঁছার পর পরিবর্তন করলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর।
زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ۘ وَٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ فَوْقَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۗ وَٱللَّهُ يَرْزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍۢ ٢١٢
যুইয়্যিনা লিল্লাযীনা কাফারুল হায়া-তুদ দুনইয়া ওয়ায়াসখারূনা মিনাল লাযীনা আ-মানূ ওয়াল্লাযীনাত তাকাও ফাওকাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাহ ওয়াল্লা-হু ইয়ারযুকু মান ইয়াশা-উ বিগাইরি হিসা-ব
কাফিরদের নিকট পার্থিব জীবন মোহনীয় করা হয়েছে এবং তারা মুমিনদেরকে বিদ্রূপ করে থাকে, বস্তুতঃ ক্বিয়ামাতের দিন মুত্তাকীগণ তাদের চেয়ে উন্নত অবস্থায় থাকবে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত রিযক দিয়ে থাকেন।
كَانَ ٱلنَّاسُ أُمَّةًۭ وَٰحِدَةًۭ فَبَعَثَ ٱللَّهُ ٱلنَّبِيِّۦنَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ ٱلنَّاسِ فِيمَا ٱخْتَلَفُوا۟ فِيهِ ۚ وَمَا ٱخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا ٱلَّذِينَ أُوتُوهُ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ ٱلْبَيِّنَٰتُ بَغْيًۢا بَيْنَهُمْ ۖ فَهَدَى ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لِمَا ٱخْتَلَفُوا۟ فِيهِ مِنَ ٱلْحَقِّ بِإِذْنِهِۦ ۗ وَٱللَّهُ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍ ٢١٣
কা-নান না-সু উম্মাতাঁ ওয়া-হিদাতান ফাবা‘আছাল্লা-হুন নাবিয়্যীনা মুবাশ্শিরীনা ওয়ামুনযিরীনা ওয়াআনযালা মা‘আহুমুল কিতা-বা বিলহাক্কি লিয়াহকুমা বাইনান না-সি ফীমাখতালাফূ ফীহ ওয়ামাখতালাফা ফীহি ইল্লাল লাযীনা ঊতূহু মিম বা‘দি মা জা-আতহুমুল বাইয়্যিনা-তু বাগইয়াম বাইনাহুম ফাহাদাল্লা-হুল লাযীনা আ-মানূ লিমাখতালাফূ ফীহি মিনাল হাক্কি বিইযনিহ ওয়াল্লা-হু ইয়াহদী মান ইয়াশা-উ ইলা সিরা-তিম মুসতাকীম
মানুষ একই দলভুক্ত ছিল। তারপর আল্লাহ তাদের নিকট নাবীগণকে প্রেরণ করেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে এবং তাদের মাধ্যমে কিতাব নাযিল করেন সত্যভাবে, মানুষদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য যে বিষয়ে তারা মতপার্থক্য করেছিল। এতদসত্ত্বেও যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল, তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পর পারস্পরিক জিদের কারণেই তারা মতভেদ সৃষ্টি করল। অতঃপর আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে সেই সত্য পথ নিজের করুণায় দেখিয়ে দিলেন, যে সম্বন্ধে তারা মতভেদ করছিল, আল্লাহ যাকে ইচ্ছে সোজা পথ প্রদর্শন করেন।
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُم ۖ مَّسَّتْهُمُ ٱلْبَأْسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلْزِلُوا۟ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ مَتَىٰ نَصْرُ ٱللَّهِ ۗ أَلَآ إِنَّ نَصْرَ ٱللَّهِ قَرِيبٌۭ ٢١٤
আম হাসিবতুম আন তাদখুলুল জান্নাতা ওয়ালাম্মা ইয়া’তিকুম মাছালুল লাযীনা খালাও মিন কাবলিকুম মাস্সাতহুমুল বা’সা-উ ওয়াদ্দার্রা-উ ওয়াযুলযিলূ হাত্তা ইয়াকূলার রাসূলু ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ মা‘আহূ মাতা নাসরুল্লা-হ আলা- ইন্না নাসরাল্লা-হি কারীব
তোমরা কি এমন ধারণা পোষণ কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ লাভ করবে, অথচ এখনও পর্যন্ত তোমাদের আগের লোকেদের মত অবস্থা তোমাদের সামনে আসেনি? তাদেরকে অভাবের তীব্র তাড়না এবং মুসীবত স্পর্শ করেছিল এবং তারা এতদূর বিকম্পিত হয়েছিল যে, নাবী ও তার সঙ্গের মু’মিনগণ চিৎকার করে বলেছিল- আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।
يَسْـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ ۖ قُلْ مَآ أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍۢ فَلِلْوَٰلِدَيْنِ وَٱلْأَقْرَبِينَ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌۭ ٢١٥
ইয়াসআলূনাকা মা-যা ইউনফিকূনা কুল মা- আনফাকতুম মিন খাইরিন ফালিলওয়া-লিদাইনি ওয়ালআকরাবীনা ওয়ালইয়াতা-মা ওয়ালমাসা-কীনি ওয়াবনিস সাবীল ওয়ামা তাফ‘আলূ মিন খাইরিন ফাইন্নাল্লা-হা বিহী ‘আলীম
তোমাকে লোকে জিজ্ঞেস করছে, তারা কী ব্যয় করবে? বলে দাও, সৎকাজে যা-ই ব্যয় কর, তা তোমাদের মাতা-পিতা ও নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম ও অভাবগ্রস্ত মুসাফিরদের প্রাপ্য। তোমরা যা কিছু সৎ কাজ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে বিশেষভাবে অবহিত।
كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌۭ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰٓ أَن تَكْرَهُوا۟ شَيْـًۭٔا وَهُوَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّوا۟ شَيْـًۭٔا وَهُوَ شَرٌّۭ لَّكُمْ ۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ٢١٦
কুতিবা ‘আলাইকুমুল কিতা-লু ওয়াহুওয়া কুরহুল লাকুম ওয়া‘আসা- আন তাকরাহূ শাইআঁ ওয়াহুওয়া খাইরুল লাকুম ওয়া‘আসা- আন তুহিব্বূ শাইআঁ ওয়াহুওয়া শার্রুল লাকুম ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামু ওয়াআনতুম লা তা‘লামূন
তোমাদের প্রতি যুদ্ধ লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপ্রিয় কিন্তু তোমরা কোন কিছু অপছন্দ কর সম্ভবতঃ তোমাদের জন্য তা কল্যাণকর এবং সম্ভবতঃ কোন কিছু তোমাদের কাছে প্রিয় অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহ্ই জানেন, তোমরা জান না।
يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلشَّهْرِ ٱلْحَرَامِ قِتَالٍۢ فِيهِ ۖ قُلْ قِتَالٌۭ فِيهِ كَبِيرٌۭ ۖ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَكُفْرٌۢ بِهِۦ وَٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِۦ مِنْهُ أَكْبَرُ عِندَ ٱللَّهِ ۚ وَٱلْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ ٱلْقَتْلِ ۗ وَلَا يَزَالُونَ يُقَٰتِلُونَكُمْ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ ٱسْتَطَٰعُوا۟ ۚ وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِۦ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌۭ فَأُو۟لَٰٓئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَٰلُهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٢١٧
ইয়াসআলূনাকা ‘আনিশ শাহরিল হারা-মি কিতা-লিন ফীহি কুল কিতা-লুন ফীহি কাবীরুঁ ওয়াসাদ্দুন ‘আন সাবীলিল্লা-হি ওয়াকুফরুম বিহী ওয়ালমাসজিদিল হারা-মি ওয়াইখরা-জু আহলিহী মিনহু আকবারু ‘ইনদাল্লা-হ ওয়ালফিতনাতু আকবারু মিনাল কাতল ওয়ালা ইয়াযা-লূনা ইউকা-তিলূনাকুম হাত্তা ইয়ারুদ্দূকুম ‘আন দীনিকুম ইনিসতাতা-‘ঊ ওয়ামান ইয়ারতাদিদ মিনকুম ‘আন দীনিহী ফায়ামুত ওয়াহুওয়া কা-ফিরুন ফাউলা-ইকা হাবিতাত আ‘মা-লুহুম ফিদ দুনইয়া ওয়ালআ-খিরাতি ওয়াউলা-ইকা আসহা-বুন না-রি হুম ফীহা খা-লিদূন
পবিত্র মাসে লড়াই করা সম্বন্ধে তোমাকে তারা জিজ্ঞেস করছে। বল, এতে যুদ্ধ করা ভয়ঙ্কর গুনাহ। পক্ষান্তরে আল্লাহর পথ হতে বাধা দান, আল্লাহর সঙ্গে কুফুরী, কা‘বা গৃহে যেতে বাধা দেয়া এবং তাত্থেকে তার বাসিন্দাদেরকে বের করে দেয়া আল্লাহর নিকট তার চেয়ে অধিক অন্যায়। ফিতনা হত্যা হতেও গুরুতর অন্যায়। যদি তাদের সাধ্যে কুলায় তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই থাকবে, যে পর্যন্ত না তারা তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন হতে ফিরিয়ে না দেয় এবং তোমাদের যে কেউ নিজের দ্বীন হতে ফিরে যায়, অতঃপর সেই ব্যক্তি কাফির অবস্থায় মারা যায়, তবে এমন লোকের কর্ম দুনিয়াতে এবং আখেরাতে ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর এরা অগ্নিবাসী, চিরকালই তাতে থাকবে।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ هَاجَرُوا۟ وَجَٰهَدُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أُو۟لَٰٓئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ ٱللَّهِ ۚ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ٢١٨
ইন্নাল লাযীনা আ-মানূ ওয়াল্লাযীনা হা-জারূ ওয়াজা-হাদূ ফী সাবীলিল্লা-হি উলা-ইকা ইয়ারজূনা রাহমাতাল্লা-হ ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং হিজরত করেছে ও আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, এরাই আল্লাহর রহমত আশা করে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
۞ يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْخَمْرِ وَٱلْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَآ إِثْمٌۭ كَبِيرٌۭ وَمَنَٰفِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَآ أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا ۗ وَيَسْـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ ٱلْعَفْوَ ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلْءَايَٰتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ ٢١٩
ইয়াসআলূনাকা ‘আনিল খামরি ওয়ালমাইসিরি কুল ফীহিমা- ইছমুন কাবীরুঁ ওয়ামানা-ফি‘উ লিন্না-সি ওয়াইছমুহুমা- আকবারু মিন নাফ‘ইহিমা ওয়ায়াসআলূনাকা মা-যা ইউনফিকূনা কুলিল ‘আফও কাযা-লিকা ইউবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি লা‘আল্লাকুম তাতাফাক্কারূন
তোমাকে লোকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘ঐ দু’টোতে আছে ভয়ঙ্কর গুনাহ এবং মানুষের জন্য উপকারও কিন্তু এ দু’টোর পাপ এ দু’টোর উপকার অপেক্ষা অধিক’। তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, কী তারা ব্যয় করবে? বল, ‘যা উদ্বৃত্ত’। এভাবে আল্লাহ তোমাদের প্রতি আদেশাবলী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর ।
فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ ۗ وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْيَتَٰمَىٰ ۖ قُلْ إِصْلَاحٌۭ لَّهُمْ خَيْرٌۭ ۖ وَإِن تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَٰنُكُمْ ۚ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ ٱلْمُفْسِدَ مِنَ ٱلْمُصْلِحِ ۚ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ٢٢٠
ফিদ দুনইয়া ওয়ালআ-খিরাহ ওয়ায়াসআলূনাকা ‘আনিল ইয়াতা-মা কুল ইসলা-হুল লাহুম খাইরুঁ ওয়াইন তুখা-লিতূহুম ফাইখওয়া-নুকুম ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুল মুফসিদা মিনাল মুসলিহ ওয়ালাও শা-আল্লা-হু লাআ‘নাতাকুম ইন্নাল্লা-হা ‘আযীযুন হাকীম
দুনিয়া এবং আখিরাত সম্বন্ধে। আরও তারা তোমাকে ইয়াতীমদের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে; বল, ‘তাদের উপকার করা উত্তম’ এবং যদি তাদের সঙ্গে তোমরা একত্রে থাক, তবে তারা তো তোমাদেরই ভাই। বস্তুতঃ আল্লাহ জানেন কে অনিষ্টকারী আর কে কল্যাণকামী এবং আল্লাহ যদি ইচ্ছে করতেন, নিশ্চয়ই এ বিষয়ে তোমাদেরকে কঠোরতার মধ্যে নিক্ষেপ করতেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ প্রবল পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
وَلَا تَنكِحُوا۟ ٱلْمُشْرِكَٰتِ حَتَّىٰ يُؤْمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌۭ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌۭ مِّن مُّشْرِكَةٍۢ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ ۗ وَلَا تُنكِحُوا۟ ٱلْمُشْرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤْمِنُوا۟ ۚ وَلَعَبْدٌۭ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌۭ مِّن مُّشْرِكٍۢ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ ۗ أُو۟لَٰٓئِكَ يَدْعُونَ إِلَى ٱلنَّارِ ۖ وَٱللَّهُ يَدْعُوٓا۟ إِلَى ٱلْجَنَّةِ وَٱلْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِۦ ۖ وَيُبَيِّنُ ءَايَٰتِهِۦ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ٢٢١
ওয়ালা তানকিহুল মুশরিকা-তি হাত্তা ইউ’মিন্ন ওয়ালাআমাতুম মু’মিনাতুন খাইরুম মিম মুশরিকাতিঁ ওয়ালাও আ‘জাবাতকুম ওয়ালা তুনকিহুল মুশরিকীনা হাত্তা ইউ’মিনূ ওয়ালা‘আবদুম মু’মিনুন খাইরুম মিম মুশরিকিঁ ওয়ালাও আ‘জাবাকুম উলা-ইকা ইয়াদ‘ঊনা ইলান না-রি ওয়াল্লা-হু ইয়াদ‘ঊ ইলাল জান্নাতি ওয়ালমাগফিরাতি বিইযনিহী ওয়াইউবাইয়্যিনু আ-য়া-তিহী লিন্না-সি লা‘আল্লাহুম ইয়াতাযাক্কারূন
মুশরিকা নারীরা ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা তাদেরকে বিবাহ করো না। মূলতঃ মু’মিন ক্রীতদাসী মুশরিকা নারী হতে উত্তম ওদেরকে তোমাদের যতই ভাল লাগুক না কেন, ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে বিবাহ দিও না, বস্তুতঃ মুশরিককে তোমাদের যতই ভাল লাগুক না কেন, মু’মিন গোলাম তার চেয়ে উত্তম। ওরা অগ্নির দিকে আহবান করে আর আল্লাহ নিজের অনুগ্রহে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন। তিনি মানুষদের জন্য নিজের হুকুমগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।
وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًۭى فَٱعْتَزِلُوا۟ ٱلنِّسَآءَ فِى ٱلْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ ٱللَّهُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلتَّوَّٰبِينَ وَيُحِبُّ ٱلْمُتَطَهِّرِينَ ٢٢٢
ওয়ায়াসআলূনাকা ‘আনিল মাহীদি কুল হুওয়া আযান ফা‘তাযিলুন নিসা-আ ফিল মাহীদি ওয়ালা তাকরাবূহুন্না হাত্তা ইয়াতহুরনা ফাইযা তাতাহ্হারনা ফা’তূহুন্না মিন হাইছু আমারাকুমুল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুত তাওয়া-বীনা ওয়াইউহিব্বুল মুতাতাহ্হিরীন
লোকেরা তোমাকে ঋতু সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘তা অশুচি’। কাজেই ঋতুকালে স্ত্রী-সহবাস হতে বিরত থাক এবং যে পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। তারপর যখন পবিত্র হবে, তখন তাদের সঙ্গে সহবাস কর, যেভাবে আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাহ্কারীদেরকে ভালবাসেন আর পবিত্রতা অবলম্বীদেরকেও ভালবাসেন।
نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌۭ لَّكُمْ فَأْتُوا۟ حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ ۖ وَقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُمْ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّكُم مُّلَٰقُوهُ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٢٢٣
নিসা-উকুম হারছুল লাকুম ফা’তূ হারছাকুম আন-না শি’তুম ওয়াকাদ্দিমূ লিআনফুসিকুম ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়া‘লামূ আন-নাকুম মুলা-কূহ ওয়াবাশ্শিরিল মু’মিনীন
তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যে প্রকারে ইচ্ছে গমন কর এবং নিজেদের জন্য ভবিষ্যতের বন্দোবস্ত কর এবং আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ যে, তোমাদেরকে তাঁর কাছে হাজির হতে হবে। আর বিশ্বাসীদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।
وَلَا تَجْعَلُوا۟ ٱللَّهَ عُرْضَةًۭ لِّأَيْمَٰنِكُمْ أَن تَبَرُّوا۟ وَتَتَّقُوا۟ وَتُصْلِحُوا۟ بَيْنَ ٱلنَّاسِ ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ٢٢٤
ওয়ালা তাজ‘আলুল্লা-হা ‘উরদাতাল লিআইমা-নিকুম আন তাবার্রূ ওয়াতাত্তাকূ ওয়াতুসলিহূ বাইনান না-স ওয়াল্লা-হু সামী‘উন ‘আলীম
তোমরা সৎকাজ, তাকওয়া অবলম্বন এবং মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন হতে বিরত থাকবে- আল্লাহর নামে এমন শপথ করে তাকে অজুহাত করে নিও না। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা।
لَّا يُؤَاخِذُكُمُ ٱللَّهُ بِٱللَّغْوِ فِىٓ أَيْمَٰنِكُمْ وَلَٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌۭ ٢٢٥
লা ইউআ-খিযুকুমুল্লা-হু বিল্লাগউই ফী আইমা-নিকুম ওয়ালা-কিন ইউআ-খিযুকুম বিমা কাসাবাত কুলূবুকুম ওয়াল্লা-হু গাফূরুন হালীম
আল্লাহ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না, কিন্তু তোমাদের অন্তরের সংকল্পের জন্য দায়ী করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, সহনশীল।
لِّلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِن نِّسَآئِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍۢ ۖ فَإِن فَآءُو فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ٢٢٦
লিল্লাযীনা ইউ’লূনা মিন নিসা-ইহিম তারাব্বুসু আরবা‘আতি আশহুরিন ফাইন ফা-ঊ ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
যারা নিজেদের স্ত্রীদের নিকট না যাওয়ার জন্য শপথ গ্রহণ করে, তাদের জন্য চার মাসের অবকাশ আছে। যদি তারা (উক্ত সময়ের মধ্যে) ফিরে আসে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَإِنْ عَزَمُوا۟ ٱلطَّلَٰقَ فَإِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ٢٢٧
ওয়াইন ‘আযামুত তালা-কা ফাইন্নাল্লা-হা সামী‘উন ‘আলীম
এবং তারা যদি তালাক দেয়ার দৃঢ়প্রত্যয় গ্রহণ করে, তবে আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
وَٱلْمُطَلَّقَٰتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَٰثَةَ قُرُوٓءٍۢ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ ٱللَّهُ فِىٓ أَرْحَامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤْمِنَّ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِى ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوٓا۟ إِصْلَٰحًۭا ۚ وَلَهُنَّ مِثْلُ ٱلَّذِى عَلَيْهِنَّ بِٱلْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌۭ ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ٢٢٨
ওয়ালমুতাল্লাকা-তু ইয়াতারাব্বাসনা বিআনফুসিহিন্না ছালা-ছাতা কুরূ’ ওয়ালা ইয়াহিল্লু লাহুন্না আন ইয়াকতুমনা মা খালাকাল্লা-হু ফী আরহা-মিহিন্না ইন কুন্না ইউ’মিন্না বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খির ওয়াবু‘ঊলাতুহুন্না আহাক্কু বিরাদ্দিহিন্না ফী যা-লিকা ইন আরা-দূ ইসলা-হা ওয়ালাহুন্না মিছলুল লাযী ‘আলাইহিন্না বিলমা‘রূফ ওয়ালির্রিজা-লি ‘আলাইহিন্না দারাজাহ ওয়াল্লা-হু ‘আযীযুন হাকীম
তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন মাসিক পর্যন্ত প্রতীক্ষা করবে এবং তাদের পক্ষে জায়িয নয় সে বস্তু গোপন করা যা তাদের পেটে আল্লাহ সৃজন করেছেন, যদি তারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে। তাদের স্বামীরা তাদেরকে উক্ত সময়ের মধ্যে পুনঃ গ্রহণে অধিক হকদার, যদি তারা আপোস-নিস্পত্তি করতে চায় এবং পুরুষদের উপর নারীদেরও হাক্ব আছে, যেমন নিয়ম অনুযায়ী পুরুষদের নারীদের উপরও হাক্ব আছে, অবশ্য নারীদের উপর পুরুষদের বিশেষ মর্যাদা আছে এবং আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাশীল।
ٱلطَّلَٰقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌۢ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌۢ بِإِحْسَٰنٍۢ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا۟ مِمَّآ ءَاتَيْتُمُوهُنَّ شَيْـًٔا إِلَّآ أَن يَخَافَآ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا ٱفْتَدَتْ بِهِۦ ۗ تِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ ٱللَّهِ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٢٢٩
আত-তালা-কু মার্রাতা-নি ফাইমসা-কুম বিমা‘রূফিন আও তাসরীহুম বিইহসা-ন ওয়ালা ইয়াহিল্লু লাকুম আন তা’খুযূ মিম্মা- আ-তাইতুমূহুন্না শাইআন ইল্লা- আন ইয়াখা-ফা- আল্লা ইউকীমা হুদূদাল্লা-হি ফাইন খিফতুম আল্লা ইউকীমা হুদূদাল্লা-হি ফালা জুনা-হা ‘আলাইহিমা ফীমাফতাদাত বিহ তিলকা হুদূদুল্লা-হি ফালা তা‘তাদূহা ওয়ামান ইয়াতা‘আদ্দা হুদূদাল্লা-হি ফাউলা-ইকা হুমুয যা-লিমূন
তালাক দুই দফা, অতঃপর হয় ভালভাবে পুনঃ গ্রহণ কিংবা সদ্ব্যবহার সহকারে বিদায় দান এবং তোমাদের পক্ষে তাদেরকে দেয়া মালের কিছুই ফিরিয়ে নেয়া জায়িয হবে না, কিন্তু যদি তারা উভয়ে আশঙ্কা করে যে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না (তাহলে অন্য ব্যবস্থা)। অতঃপর যদি তোমরা (উভয় পক্ষের শালিসগণ) আশঙ্কা কর যে উভয়পক্ষ আল্লাহর আইনসমূহ ঠিক রাখতে পারবে না, তাহলে উভয়ের প্রতি কোন গুনাহ নেই যদি কোন কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী নিজেকে মুক্ত করতে চায়। এগুলো আল্লাহর আইন, কাজেই তোমরা এগুলোকে লঙ্ঘন করো না, আর যারা আল্লাহর আইনসমূহ লঙ্ঘন করবে, তারাই যালিম।
فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُۥ مِنۢ بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُۥ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَآ أَن يَتَرَاجَعَآ إِن ظَنَّآ أَن يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍۢ يَعْلَمُونَ ٢٣٠
ফাইন তাল্লাকাহা ফালা তাহিল্লু লাহূ মিম বা‘দু হাত্তা তানকিহা যাওজান গাইরাহ ফাইন তাল্লাকাহা ফালা জুনা-হা ‘আলাইহিমা- আন ইয়াতারা-জা‘আ- ইন যান্না- আন ইউকীমা হুদূদাল্লা-হ ওয়াতিলকা হুদূদুল্লা-হি ইউবাইয়্যিনুহা লিকাওমিঁ ইয়া‘লামূন
অতঃপর যদি সে তাকে (চূড়ান্ত) তালাক দেয়, তবে এরপর সেই পুরুষের পক্ষে সেই স্ত্রী (বিবাহ) হালাল হবে না, যে পর্যন্ত না সে অন্য কাউকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করে। অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়, তবে উভয়ের পুনরায় মিলিত হওয়াতে গুনাহ নেই, যদি উভয়ের আস্থা জন্মে যে উভয়ে আল্লাহর আইনসমূহ ঠিক রাখতে পারবে। এসব আল্লাহর (আইন) সীমাসমূহ, এগুলোকে সেই লোকদের জন্য তিনি বর্ণনা করেন যারা জ্ঞানী।
وَإِذَا طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍۢ ۚ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًۭا لِّتَعْتَدُوا۟ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُۥ ۚ وَلَا تَتَّخِذُوٓا۟ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ هُزُوًۭا ۚ وَٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَآ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ وَٱلْحِكْمَةِ يَعِظُكُم بِهِۦ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ ٢٣١
ওয়াইযা তাল্লাকতুমুন নিসা-আ ফাবালাগনা আজালাহুন্না ফাআমসিকূহুন্না বিমা‘রূফিন আও সার্রিহূহুন্না বিমা‘রূফ ওয়ালা তুমসিকূহুন্না দিরা-রাল লিতা‘তাদূ ওয়ামান ইয়াফ‘আল যা-লিকা ফাকাদ যালামা নাফসাহ ওয়ালা তাত্তাখিযূ আ-য়া-তিল্লা-হি হুযুওয়া ওয়াযকুরূ নি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়ামা- আনযালা ‘আলাইকুম মিনাল কিতা-বি ওয়ালহিকমাতি ইয়া‘ইযুকুম বিহ ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়া‘লামূ আন-নাল্লা-হা বিকুল্লি শাইইন ‘আলীম
যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং তাদের ইদ্দত পূর্ণ হয়ে আসে তখন হয় তাদেরকে ভালভাবে গ্রহণ করে রেখে দাও, নইলে ভালভাবে বিদায় দাও, আর বাড়াবাড়ি করে তাদের ক্ষতি করার উদ্দেশে আটকে রেখো না। যে এমন করবে, সে নিজেরই উপর যুলম করে। তোমরা আল্লাহর আহকামকে হাসি-ঠাট্টারূপে গ্রহণ করো না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ, তাঁর কিতাব ও জ্ঞানগর্ভ বাক্যাবলী (সুন্নাত) যা তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন, যদ্দ্বারা তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, তা স্মরণ কর আর আল্লাহকে ভয় কর আর জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।
وَإِذَا طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَٰجَهُنَّ إِذَا تَرَٰضَوْا۟ بَيْنَهُم بِٱلْمَعْرُوفِ ۗ ذَٰلِكَ يُوعَظُ بِهِۦ مَن كَانَ مِنكُمْ يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ ۗ ذَٰلِكُمْ أَزْكَىٰ لَكُمْ وَأَطْهَرُ ۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ٢٣٢
ওয়াইযা তাল্লাকতুমুন নিসা-আ ফাবালাগনা আজালাহুন্না ফালা তা‘দুলূহুন্না আন ইয়ানকিহনা আযওয়া-জাহুন্না ইযা তারা-দাও বাইনাহুম বিলমা‘রূফ যা-লিকা ইউ‘আযু বিহী মান কা-না মিনকুম ইউ’মিনু বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খির যা-লিকুম আযকা লাকুম ওয়াআতহার ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামু ওয়াআনতুম লা তা‘লামূন
যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, তারপর তাদের ইদ্দৎ পূর্ণ হয়ে যায়, সে অবস্থায় তারা স্বামীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে তাদেরকে বাধা দিও না যখন তারা বৈধভাবে উভয়ে আপোষে সম্মত হয়। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাসী তাকে এ উপদেশ দেয়া হচ্ছে। এটা তোমাদের পক্ষে অতি বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতার বিষয় এবং আল্লাহ্ই বিশেষরূপে জানেন, তোমরা জান না।
۞ وَٱلْوَٰلِدَٰتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَٰدَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ ۖ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ ٱلرَّضَاعَةَ ۚ وَعَلَى ٱلْمَوْلُودِ لَهُۥ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِٱلْمَعْرُوفِ ۚ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَا تُضَآرَّ وَٰلِدَةٌۢ بِوَلَدِهَا وَلَا مَوْلُودٌۭ لَّهُۥ بِوَلَدِهِۦ ۚ وَعَلَى ٱلْوَارِثِ مِثْلُ ذَٰلِكَ ۗ فَإِنْ أَرَادَا فِصَالًا عَن تَرَاضٍۢ مِّنْهُمَا وَتَشَاوُرٍۢ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا ۗ وَإِنْ أَرَدتُّمْ أَن تَسْتَرْضِعُوٓا۟ أَوْلَٰدَكُمْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِذَا سَلَّمْتُم مَّآ ءَاتَيْتُم بِٱلْمَعْرُوفِ ۗ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌۭ ٢٣٣
ওয়ালওয়া-লিদা-তু ইউরদি‘না আওলা-দাহুন্না হাওলাইনি কা-মিলাইনি লিমান আরা-দা আন ইউতিম্মার রাদা-‘আহ ওয়া‘আলাল মাওলূদি লাহূ রিযকুহুন্না ওয়াকিসওয়াতুহুন্না বিলমা‘রূফ লা তুকাল্লাফু নাফসুন ইল্লা উস‘আহা লা তুদা-র্রা ওয়া-লিদাতুম বিওয়ালাদিহা ওয়ালা মাওলূদুল লাহূ বিওয়ালাদিহ ওয়া‘আলাল ওয়া-রিছি মিছলু যা-লিক ফাইন আরা-দা ফিসা-লান ‘আন তারা-দিম মিনহুমা ওয়াতাশা-উরিন ফালা জুনা-হা ‘আলাইহিমা ওয়াইন আরাত্তুম আন তাসতারদি‘ঊ আওলা-দাকুম ফালা জুনা-হা ‘আলাইকুম ইযা সাল্লামতুম মা- আ-তাইতুম বিলমা‘রূফ ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়া‘লামূ আন-নাল্লা-হা বিমা তা‘মালূনা বাসীর
যে ব্যক্তি দুধপান কাল পূর্ণ করাতে ইচ্ছুক তার জন্য মায়েরা নিজেদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু’ বৎসরকাল স্তন্য দান করবে। জনকের উপর দায়িত্ব হল ভালভাবে তাদের অন্নবস্ত্রের ব্যবস্থা করা। কাউকেও সাধ্যের অতিরিক্ত হুকুম দেয়া হয় না, যেন মাকে তার সন্তানের জন্য এবং সন্তানের জন্মদাতাকে সন্তানের জন্য কষ্ট দেয়া না হয় এবং ওয়ারিশের প্রতিও একই রকম নির্দেশ, তৎপর যদি উভয়ের সম্মতি ও যুক্তিক্রমে দুধ ছাড়াতে ইচ্ছে করে, তবে তাদের প্রতি কোন গুনাহ নেই এবং যদি তোমরা স্বীয় সন্তানদেরকে কোন ধাত্রী দ্বারা দুধ পান করাতে ইচ্ছে কর, তবে তোমাদের প্রতি কোন গুনাহ নেই, যদি তোমরা যা দিতে চাচ্ছিলে তা যথারীতি আদায় করে দাও। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ, তোমরা যা কিছুই কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًۭا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍۢ وَعَشْرًۭا ۖ فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِىٓ أَنفُسِهِنَّ بِٱلْمَعْرُوفِ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ٢٣٤
ওয়াল্লাযীনা ইউতাওয়াফ্ফাওনা মিনকুম ওয়ায়াযারূনা আযওয়া-জাঁ ইয়াতারাব্বাসনা বিআনফুসিহিন্না আরবা‘আতা আশহুরিঁ ওয়া‘আশরান ফাইযা বালাগনা আজালাহুন্না ফালা জুনা-হা ‘আলাইকুম ফীমা ফা‘আলনা ফী আনফুসিহিন্না বিলমা‘রূফ ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা খাবীর
তোমাদের মধ্য হতে যারা স্ত্রীদেরকে রেখে মারা যাবে সে অবস্থায় স্ত্রীরা নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন বিরত রাখবে। তারপর যখন তাদের ইদ্দৎকাল পূর্ণ হবে, তখন তোমাদের নিজেদের সম্বন্ধে বৈধভাবে যা কিছু করবে তাতে তোমাদের কোন গুনাহ নেই। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু করছ, আল্লাহ সে বিষয়ে পরিজ্ঞাত।
وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُم بِهِۦ مِنْ خِطْبَةِ ٱلنِّسَآءِ أَوْ أَكْنَنتُمْ فِىٓ أَنفُسِكُمْ ۚ عَلِمَ ٱللَّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَٰكِن لَّا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّآ أَن تَقُولُوا۟ قَوْلًۭا مَّعْرُوفًۭا ۚ وَلَا تَعْزِمُوا۟ عُقْدَةَ ٱلنِّكَاحِ حَتَّىٰ يَبْلُغَ ٱلْكِتَٰبُ أَجَلَهُۥ ۚ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ فَٱحْذَرُوهُ ۚ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌۭ ٢٣٥
ওয়ালা জুনা-হা ‘আলাইকুম ফীমা ‘আর্রাদতুম বিহী মিন খিতবাতিন নিসা-ই আও আকনানতুম ফী আনফুসিকুম ‘আলিমাল্লা-হু আন-নাকুম সাতাযকুরূনাহুন্না ওয়ালা-কিল লা তুওয়া-‘ইদূহুন্না সির্রান ইল্লা- আন তাকূলূ কাওলাম মা‘রূফা ওয়ালা তা‘যিমূ ‘উকদাতান নিকা-হি হাত্তা ইয়াবলুগাল কিতা-বু আজালাহ ওয়া‘লামূ আন-নাল্লা-হা ইয়া‘লামু মা ফী আনফুসিকুম ফাহযারূহ ওয়া‘লামূ আন-নাল্লা-হা গাফূরুন হালীম
তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই যদি তোমরা কথার ইশারায় নারীদেরকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠাও, কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ। আল্লাহ অবগত আছেন যে, ঐ স্ত্রীলোকদের সাথে তোমাদের বিবাহ করার খেয়াল সত্বরই জাগবে, কিন্তু তাদের সাথে গোপন অঙ্গীকার করো না, কিন্তু বৈধভাবে কথাবার্তা বলতে পার এবং তোমরা বিবাহ সম্পাদনের সংকল্প করো না যে পর্যন্ত ইদ্দৎ পূর্ণ না হয় এবং জেনে রেখ, আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাদের মনোভাব জ্ঞাত আছেন, সুতরাং তাঁকে ভয় কর এবং জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম সহিষ্ণু।
لَّا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ مَا لَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَفْرِضُوا۟ لَهُنَّ فَرِيضَةًۭ ۚ وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى ٱلْمُوسِعِ قَدَرُهُۥ وَعَلَى ٱلْمُقْتِرِ قَدَرُهُۥ مَتَٰعًۢا بِٱلْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى ٱلْمُحْسِنِينَ ٢٣٦
লা জুনা-হা ‘আলাইকুম ইন তাল্লাকতুমুন নিসা-আ মা লাম তামাস্সূহুন্না আও তাফরিদূ লাহুন্না ফারীদাহ ওয়ামাত্তি‘ঊহুন্না ‘আলাল মূসি‘ই কাদারুহূ ওয়া‘আলাল মুকতিরি কাদারুহূ মাতা-‘আম বিলমা‘রূফি হাক্কান ‘আলাল মুহসিনীন
তোমাদের প্রতি কোন গুনাহ নেই, যদি তোমরা স্ত্রীদেরকে স্পর্শ না ক’রে, কিংবা তাদের মহর ধার্য না করে তালাক দাও এবং তোমরা স্ত্রীদের জন্য খরচের সংস্থান করবে, অবস্থাপন্ন ব্যক্তি তার সাধ্যমত এবং অবস্থাহীন ব্যক্তি তার সাধ্যমত বিধি অনুযায়ী খরচপত্রের ব্যবস্থা করবে, পুণ্যবানদের উপর এটা দায়িত্ব।
وَإِن طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةًۭ فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ إِلَّآ أَن يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوَا۟ ٱلَّذِى بِيَدِهِۦ عُقْدَةُ ٱلنِّكَاحِ ۚ وَأَن تَعْفُوٓا۟ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۚ وَلَا تَنسَوُا۟ ٱلْفَضْلَ بَيْنَكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ٢٣٧
ওয়াইন তাল্লাকতুমূহুন্না মিন কাবলি আন তামাস্সূহুন্না ওয়াকাদ ফারাদতুম লাহুন্না ফারীদাতান ফানিসফু মা ফারাদতুম ইল্লা- আন ইয়া‘ফূনা আও ইয়া‘ফুওয়াল লাযী বিয়াদিহী ‘উকদাতুন নিকা-হ ওয়াআন তা‘ফূ আকরাবু লিত্তাকওয়া ওয়ালা তানসাউল ফাদলা বাইনাকুম ইন্নাল্লা-হা বিমা তা‘মালূনা বাসীর
যদি তোমরা তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দাও, অথচ তাদের মহর ধার্য করা হয়, সে অবস্থায় ধার্যকৃত মহরের অর্ধেক, কিন্তু যদি স্ত্রীরা দাবী মাফ করে দেয় কিংবা যার হাতে বিয়ের বন্ধন আছে সে মাফ করে দেয়, বস্তুতঃ ক্ষমা করাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী এবং তোমরা পারস্পরিক সহায়তা হতে বিমুখ হয়ো না, যা কিছু তোমরা করছ আল্লাহ নিশ্চয়ই তার সম্যক দ্রষ্টা।
حَٰفِظُوا۟ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ وَٱلصَّلَوٰةِ ٱلْوُسْطَىٰ وَقُومُوا۟ لِلَّهِ قَٰنِتِينَ ٢٣٨
হা-ফিযূ ‘আলাস সালাওয়া-তি ওয়াস্সালা-তিল উসতা ওয়াকূমূ লিল্লা-হি কা-নিতীন
তোমরা সলাতের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সলাতের প্রতি এবং আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দন্ডায়মান হও।
فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًۭا ۖ فَإِذَآ أَمِنتُمْ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَمَا عَلَّمَكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا۟ تَعْلَمُونَ ٢٣٩
ফাইন খিফতুম ফারিজা-লান আও রুকবা-নান ফাইযা- আমিনতুম ফাযকুরুল্লা-হা কামা ‘আল্লামাকুম মা লাম তাকূনূ তা‘লামূন
যদি তোমরা ভয় কর, তবে পদচারী কিংবা আরোহী অবস্থায়ই নামায আদায় করবে। যখন নিরুদ্বেগ হবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা তোমরা জানতে না।
وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًۭا وَصِيَّةًۭ لِّأَزْوَٰجِهِم مَّتَٰعًا إِلَى ٱلْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍۢ ۚ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِى مَا فَعَلْنَ فِىٓ أَنفُسِهِنَّ مِن مَّعْرُوفٍۢ ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ٢٤٠
ওয়াল্লাযীনা ইউতাওয়াফ্ফাওনা মিনকুম ওয়ায়াযারূনা আযওয়া-জাঁ ওয়াসিয়্যাতাল লিআযওয়া-জিহিম মাতা-‘আন ইলাল হাওলি গাইরা ইখরা-জ ফাইন খারাজনা ফালা জুনা-হা ‘আলাইকুম ফী মা ফা‘আলনা ফী আনফুসিহিন্না মিম মা‘রূফ ওয়াল্লা-হু ‘আযীযুন হাকীম
তোমাদের মধ্যে যারা বিবিদেরকে রেখে মারা যাবে, তারা বিবিদের জন্য অসিয়ত করবে যেন এক বৎসরকাল সুযোগ-সুবিধা পায় এবং গৃহ হতে বের ক’রে দেয়া না হয়, তবে যদি তারা নিজেরাই বের হয়ে যায়, তবে তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই তারা নিজেদের ব্যাপারে বৈধভাবে কিছু করলে; আল্লাহ মহাশক্তিধর, সুবিজ্ঞ।
وَلِلْمُطَلَّقَٰتِ مَتَٰعٌۢ بِٱلْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى ٱلْمُتَّقِينَ ٢٤١
ওয়ালিলমুতাল্লাকা-তি মাতা-‘উম বিলমা‘রূফি হাক্কান ‘আলাল মুত্তাকীন
তালাকপ্রাপ্তা নারীদের সঙ্গতভাবে ভরণ-পোষণ করা মুত্তাকীদের কর্তব্য।
كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمْ ءَايَٰتِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ٢٤٢
কাযা-লিকা ইউবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুম আ-য়া-তিহী লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন
তোমাদের জন্য আল্লাহ নিজের আহকাম এমনভাবে ব্যাখ্যা করে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার।
۞ أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ خَرَجُوا۟ مِن دِيَٰرِهِمْ وَهُمْ أُلُوفٌ حَذَرَ ٱلْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ ٱللَّهُ مُوتُوا۟ ثُمَّ أَحْيَٰهُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ ٢٤٣
আলাম তারা ইলাল লাযীনা খারাজূ মিন দিয়া-রিহিম ওয়াহুম উলূফুন হাযারাল মাওতি ফাকা-লা লাহুমুল্লা-হু মূতূ ছুম্মা আহইয়া-হুম ইন্নাল্লা-হা লাযূ ফাদলিন ‘আলান না-সি ওয়ালা-কিন্না আকছারান না-সি লা ইয়াশকুরূন
তুমি কি সেই লোকদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা মৃত্যুকে এড়াবার জন্য নিজেদের ঘর থেকে হাজারে হাজারে বের হয়ে গিয়েছিল, তখন আল্লাহ তাদেরকে বললেন, ‘তোমাদের মৃত্যু হোক’। তৎপর তাদেরকে জীবিত করে উঠালেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ লোকেদের প্রতি দয়াশীল কিন্তু অধিকাংশ লোক শোকর করে না।
وَقَٰتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ٢٤٤
ওয়াকা-তিলূ ফী সাবীলিল্লা-হি ওয়া‘লামূ আন-নাল্লা-হা সামী‘উন ‘আলীম
তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর এবং জেনে রেখ, আল্লাহ নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
مَّن ذَا ٱلَّذِى يُقْرِضُ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًۭا فَيُضَٰعِفَهُۥ لَهُۥٓ أَضْعَافًۭا كَثِيرَةًۭ ۚ وَٱللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْصُۜطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ٢٤٥
মান যাল লাযী ইউকরিদুল্লা-হা কারদান হাসানান ফাইউদা-‘ইফাহূ লাহূ আদ‘আ-ফান কাছীরাহ ওয়াল্লা-হু ইয়াকবিদু ওয়ায়াবসুতু ওয়াইলাইহি তুরজা‘ঊন
এমন ব্যক্তি কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম কর্জ প্রদান করবে? তাহলে তার সেই কর্জকে তার জন্য আল্লাহ বহু গুণ বর্ধিত করে দেবেন এবং আল্লাহই সীমিত ও প্রসারিত ক’রে থাকেন এবং তাঁর দিকেই তোমরা ফিরে যাবে।
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلْمَلَإِ مِنۢ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ مِنۢ بَعْدِ مُوسَىٰٓ إِذْ قَالُوا۟ لِنَبِىٍّۢ لَّهُمُ ٱبْعَثْ لَنَا مَلِكًۭا نُّقَٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِن كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِتَالُ أَلَّا تُقَٰتِلُوا۟ ۖ قَالُوا۟ وَمَا لَنَآ أَلَّا نُقَٰتِلَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَقَدْ أُخْرِجْنَا مِن دِيَٰرِنَا وَأَبْنَآئِنَا ۖ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ ٱلْقِتَالُ تَوَلَّوْا۟ إِلَّا قَلِيلًۭا مِّنْهُمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِٱلظَّٰلِمِينَ ٢٤٦
আলাম তারা ইলাল মালাই মিম বানী ইসরা-ঈলা মিম বা‘দি মূসা- ইয কা-লূ লিনাবিয়্যিল লাহুমুব‘আছ লানা মালিকান নুকা-তিল ফী সাবীলিল্লা-হি কা-লা হাল ‘আসাইতুম ইন কুতিবা ‘আলাইকুমুল কিতা-লু আল্লা তুকা-তিলূ কা-লূ ওয়ামা লানা- আল্লা নুকা-তিলা ফী সাবীলিল্লা-হি ওয়াকাদ উখরিজনা মিন দিয়া-রিনা ওয়াআবনা-ইনা ফালাম্মা কুতিবা ‘আলাইহিমুল কিতা-লু তাওয়াল্লাও ইল্লা কালীলাম মিনহুম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিয্যা-লিমীন
তুমি কি মূসার পরবর্তী বানী ইসরাঈলের প্রধানদের প্রতি লক্ষ্য করনি? তারা তাদের নাবীকে বলেছিল, ‘আমাদের জন্য একজন বাদশাহ ঠিক করুন, যাতে আমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করি’। নির্দেশ হল, ‘এমন সম্ভাবনা আছে কি যে, যদি তোমাদের প্রতি জিহাদের হুকুম দেয়া হয় তবে তোমরা জিহাদ করবে না’? তারা বলল, ‘আমরা কী ওজরে আল্লাহর পথে জিহাদ করব না, যখন আমরা আমাদের গৃহ ও সন্তানাদি হতে বহিস্কৃত হয়েছি’। অতঃপর যখন তাদের প্রতি জিহাদের হুকুম হল, তখন তাদের অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া সকলেই ফিরে দাঁড়াল এবং আল্লাহ যালিমদেরকে খুব ভালভাবেই জানেন।
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ ٱللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًۭا ۚ قَالُوٓا۟ أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ ٱلْمُلْكُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ أَحَقُّ بِٱلْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةًۭ مِّنَ ٱلْمَالِ ۚ قَالَ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصْطَفَىٰهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَهُۥ بَسْطَةًۭ فِى ٱلْعِلْمِ وَٱلْجِسْمِ ۖ وَٱللَّهُ يُؤْتِى مُلْكَهُۥ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌۭ ٢٤٧
ওয়াকা-লা লাহুম নাবিয়্যুহুম ইন্নাল্লা-হা কাদ বা‘আছা লাকুম তা-লূতা মালিকা কা-লূ আন-না ইয়াকূনু লাহুল মুলকু ‘আলাইনা ওয়ানাহনু আহাক্কু বিলমুলকি মিনহু ওয়ালাম ইউ’তা সা‘আতাম মিনাল মা-ল কা-লা ইন্নাল্লা-হাসতাফা-হু ‘আলাইকুম ওয়াযা-দাহূ বাসতাতান ফিল ‘ইলমি ওয়ালজিসমি ওয়াল্লা-হু ইউ’তী মুলকাহূ মান ইয়াশা-আ ওয়াল্লা-হু ওয়া-সি‘উন ‘আলীম
তাদেরকে তাদের নাবী বলল, আল্লাহ যথার্থই তালুতকে তোমাদের বাদশাহ ঠিক করেছেন। তারা বলল, ‘আমাদের উপর কী প্রকারে তার রাজক্ষমতা মিলতে পারে যখন তার চেয়ে আমরাই রাজশক্তির অধিক যোগ্যপাত্র আর তাকে আর্থিক স্বচ্ছলতাও প্রদান করা হয়নি’! নাবী বলল, আল্লাহ তাকেই তোমাদের উপর পছন্দ করেছেন এবং তাকে জ্ঞানে ও দেহে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছে নিজের রাজ্য দান করেন, বস্তুতঃ আল্লাহ পর্যাপ্ত দাতা ও প্রজ্ঞাময়।
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ ءَايَةَ مُلْكِهِۦٓ أَن يَأْتِيَكُمُ ٱلتَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌۭ مِّمَّا تَرَكَ ءَالُ مُوسَىٰ وَءَالُ هَٰرُونَ تَحْمِلُهُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ٢٤٨
ওয়াকা-লা লাহুম নাবিয়্যুহুম ইন্না আ-য়াতা মুলকিহী আন ইয়া’তিয়াকুমুত তা-বূতু ফীহি সাকীনাতুম মির রাব্বিকুম ওয়াবাকিয়্যাতুম মিম্মা তারাকা আ-লু মূসা ওয়াআ-লু হা-রূনা তাহমিলুহুল মালা-ইকাহ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লাকুম ইন কুনতুম মু’মিনীন
তাদের নাবী তাদেরকে বলল, তালুতের বাদশাহ হওয়ার নিদর্শন এই যে, তোমাদের নিকট সিন্দুক আসবে, যার মধ্যে তোমাদের প্রতিপালকের শান্তি বাণী রয়েছে এবং সেই অবশিষ্ট জিনিস, যা মূসা ও হারূন সম্প্রদায় রেখে গেছে, ওটা ফেরেশতাগণ উঠিয়ে আনবে, এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন আছে যদি তোমরা মু’মিন হও।
فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِٱلْجُنُودِ قَالَ إِنَّ ٱللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍۢ فَمَن شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّى وَمَن لَّمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُۥ مِنِّىٓ إِلَّا مَنِ ٱغْتَرَفَ غُرْفَةًۢ بِيَدِهِۦ ۚ فَشَرِبُوا۟ مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًۭا مِّنْهُمْ ۚ فَلَمَّا جَاوَزَهُۥ هُوَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ قَالُوا۟ لَا طَاقَةَ لَنَا ٱلْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦ ۚ قَالَ ٱلَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَٰقُوا۟ ٱللَّهِ كَم مِّن فِئَةٍۢ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةًۭ كَثِيرَةًۢ بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ٢٤٩
ফালাম্মা ফাসালা তা-লূতু বিলজুনূদি কা-লা ইন্নাল্লা-হা মুবতালীকুম বিনাহারিন ফামান শারিবা মিনহু ফালাইসা মিন্নী ওয়ামাল লাম ইয়াত‘আমহু ফাইন্নাহূ মিন্নী ইল্লা মানিগতারাফা গুরফাতাম বিয়াদিহ ফাশারিবূ মিনহু ইল্লা কালীলাম মিনহুম ফালাম্মা জা-ওয়াযাহূ হুওয়া ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ মা‘আহূ কা-লূ লা তা-কাতা লানাল ইয়াওমা বিজা-লূতা ওয়াজুনূদিহ কা-লাল লাযীনা ইয়াযুন্নূনা আন-নাহুম মুলা-কুল্লা-হি কাম মিন ফিআতিন কালীলাতিন গালাবাত ফিআতান কাছীরাতাম বিইযনিল্লা-হ ওয়াল্লা-হু মা‘আস সা-বিরীন
অতঃপর যখন তালুত সৈন্যসহ রওয়ানা হল, বলল, ‘আল্লাহ একটা নদী দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করবেন, মূলতঃ যে কেউ ওটার পানি পান করবে সে ব্যক্তি আমার দলভুক্ত নয় আর যে তা খাবে না, সে নিশ্চয়ই আমার দলভুক্ত হবে, কিন্তু যে এক অঞ্জলি পানি নিবে সেও (আমার দলভুক্ত)’। অতঃপর অতি অল্প সংখ্যক ছাড়া তারা সকলেই তাত্থেকে পান করল। এরপর তালুত এবং তার সাথী মু’মিনগণ নদী পার হয়ে বলল, ‘আজ জ্বালুত ও তার সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই। কিন্তু যাদের এ ধারণা ছিল যে, তাদেরকে আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে তারা বলল, ‘আল্লাহর হুকুমে বহু ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র দল বৃহৎ দলের উপর জয়যুক্ত হয়েছে’। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
وَلَمَّا بَرَزُوا۟ لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦ قَالُوا۟ رَبَّنَآ أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًۭا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ ٢٥٠
ওয়ালাম্মা বারাযূ লিজা-লূতা ওয়াজুনূদিহী কা-লূ রাব্বানা- আফরিগ ‘আলাইনা সাবরাঁ ওয়াছাব্বিত আকদা-মানা ওয়ানসুরনা ‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন
যখন তারা জ্বালুত ও তার সৈন্যদের সম্মুখীন হল, তখন বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্যধারণের শক্তি দান কর এবং আমাদের পদগুলো দৃঢ় রেখ এবং কাফির দলের উপর আমাদেরকে জয়যুক্ত কর’।
فَهَزَمُوهُم بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُۥدُ جَالُوتَ وَءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلْمُلْكَ وَٱلْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُۥ مِمَّا يَشَآءُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍۢ لَّفَسَدَتِ ٱلْأَرْضُ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلْعَٰلَمِينَ ٢٥١
ফাহাযামূহুম বিইযনিল্লা-হি ওয়াকাতালা দা-ঊদু জা-লূতা ওয়াআ-তা-হুল্লা-হুল মুলকা ওয়ালহিকমাতা ওয়া‘আল্লামাহূ মিম্মা ইয়াশা-আ ওয়ালাওলা দাফ‘উল্লা-হিন না-সা বা‘দাহুম বিবা‘দিল লাফাসাদাতিল আরদু ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা যূ ফাদলিন ‘আলাল ‘আ-লামীন
অতঃপর তারা আল্লাহর হুকুমে তাদেরকে (শত্রুদেরকে) পরাজিত করল এবং দাঊদ জ্বালুতকে কতল করল এবং আল্লাহ দাঊদকে রাজ্য ও হেকমত দান করলেন এবং তাকে শিক্ষা দিলেন যা ইচ্ছে। যদি আল্লাহ মানবজাতির একদলকে অন্যদল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত, কিন্তু আল্লাহ সর্বজগতের প্রতি কৃপালু।
تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِٱلْحَقِّ ۚ وَإِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ ٢٥٢
তিলকা আ-য়া-তুল্লা-হি নাতলূহা ‘আলাইকা বিলহাক্ক ওয়াইন্নাকা লামিনাল মুরসালীন
এসব আল্লাহরই আয়াত, যা আমি সঠিকভাবে তোমাকে পড়িয়ে শুনাচ্ছি এবং নিশ্চয়ই তুমি রসূলদের অন্তর্ভুক্ত।
۞ تِلْكَ ٱلرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ ۘ مِّنْهُم مَّن كَلَّمَ ٱللَّهُ ۖ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَٰتٍۢ ۚ وَءَاتَيْنَا عِيسَى ٱبْنَ مَرْيَمَ ٱلْبَيِّنَٰتِ وَأَيَّدْنَٰهُ بِرُوحِ ٱلْقُدُسِ ۗ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ مَا ٱقْتَتَلَ ٱلَّذِينَ مِنۢ بَعْدِهِم مِّنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ ٱلْبَيِّنَٰتُ وَلَٰكِنِ ٱخْتَلَفُوا۟ فَمِنْهُم مَّنْ ءَامَنَ وَمِنْهُم مَّن كَفَرَ ۚ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ مَا ٱقْتَتَلُوا۟ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ ٢٥٣
তিলকার রুসুলু ফাদ্দালনা বা‘দাহুম ‘আলা বা‘দ মিনহুম মান কাল্লামাল্লা-হু ওয়ারাফা‘আ বা‘দাহুম দারাজা-ত ওয়াআ-তাইনা ‘ঈসাবনা মারইয়ামাল বাইয়্যিনা-তি ওয়াআইয়্যাদনা-হু বিরূহিল কুদুস ওয়ালাও শা-আল্লা-হু মাকতাতালাল লাযীনা মিম বা‘দিহিম মিম বা‘দি মা জা-আতহুমুল বাইয়্যিনা-তু ওয়ালা-কিনিখতালাফূ ফামিনহুম মান আ-মানা ওয়ামিনহুম মান কাফার ওয়ালাও শা-আল্লা-হু মাকতাতালূ ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ইয়াফ‘আলু মা ইউরীদ
এ রসূলগণ এরূপ যে, তাদের মধ্যে কাউকে অন্য কারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যে, তাদের সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং তাদের কাউকে পদমর্যাদায় উচ্চ করেছেন। আমি মারইয়ামের পুত্র ঈসাকে সুস্পষ্ট দলীলসমূহ প্রদান করেছি, রূহুল কুদুস (জিবরাঈল) দ্বারা সাহায্য করেছি এবং আল্লাহ যদি ইচ্ছে করতেন, তাহলে তাদের পরবর্তীরা তাদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল পৌঁছার পর পরস্পর যুদ্ধ বিগ্রহ করত না, কিন্তু তারা পরস্পর মতভেদ সৃষ্টি করল, তাদের কেউ কেউ ঈমান আনল এবং কেউ কেউ কুফরী করল, আল্লাহ যদি ইচ্ছে করতেন, তাহলে তারা যুদ্ধবিগ্রহ করত না, কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন, তা-ই করে থাকেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنفِقُوا۟ مِمَّا رَزَقْنَٰكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ يَوْمٌۭ لَّا بَيْعٌۭ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌۭ وَلَا شَفَٰعَةٌۭ ۗ وَٱلْكَٰفِرُونَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٢٥٤
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ আনফিকূ মিম্মা রাযাকনা-কুম মিন কাবলি আন ইয়া’তিয়া ইয়াওমুল লা বাই‘উন ফীহি ওয়ালা খুল্লাতুঁ ওয়ালা শাফা-‘আহ ওয়ালকা-ফিরূনা হুমুয যা-লিমূন
হে ঈমানদারগণ! আমার দেয়া জীবিকা থেকে খরচ কর সেদিন আসার পূর্বে যেদিন কোন বিক্রয়, বন্ধুত্ব এবং সুপারিশ কাজে আসবে না। বস্তুতঃ কাফিরগণই অত্যাচারী।
ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌۭ وَلَا نَوْمٌۭ ۚ لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍۢ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ ۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ ٢٥٥
আল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূম লা তা’খুযুহূ সিনাতুঁ ওয়ালা নাওম লাহূ মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ মান যাল লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহ ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ওয়ালা ইয়াঊদুহূ হিফযুহুমা ওয়াহুওয়াল ‘আলিয়্যুল ‘আযীম
আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করে? তিনি লোকদের সমুদয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অবস্থা জানেন। পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর জ্ঞানের কোনকিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়, তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে করেন সেটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দু’য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না, তিনি উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান।
لَآ إِكْرَاهَ فِى ٱلدِّينِ ۖ قَد تَّبَيَّنَ ٱلرُّشْدُ مِنَ ٱلْغَىِّ ۚ فَمَن يَكْفُرْ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسْتَمْسَكَ بِٱلْعُرْوَةِ ٱلْوُثْقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَا ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ٢٥٦
লা- ইকরা-হা ফিদ দীনি কাত তাবাইয়্যানার রুশদু মিনাল গাই ফামান ইয়াকফুর বিত্তা-গূতি ওয়াইউ’মিম বিল্লা-হি ফাকাদিসতামসাকা বিল‘উরওয়াতিল উছকা লানফিসা-মা লাহা ওয়াল্লা-হু সামী‘উন ‘আলীম
দীনের মধ্যে জবরদস্তির অবকাশ নেই, নিশ্চয় হিদায়াত গোমরাহী হতে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। কাজেই যে ব্যক্তি মিথ্যে মা’বুদদেরকে (তাগুতকে) অমান্য করল এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল, নিশ্চয়ই সে দৃঢ়তর রজ্জু ধারণ করল যা ছিন্ন হওয়ার নয়। আল্লাহ সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞাতা।
ٱللَّهُ وَلِىُّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يُخْرِجُهُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ ۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَوْلِيَآؤُهُمُ ٱلطَّٰغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ ٱلنُّورِ إِلَى ٱلظُّلُمَٰتِ ۗ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٢٥٧
আল্লা-হু ওয়ালিয়্যুল লাযীনা আ-মানূ ইউখরিজুহুম মিনায যুলুমা-তি ইলান নূরি ওয়াল্লাযীনা কাফারূ আওলিয়া-উহুমুত তা-গূতু ইউখরিজূনাহুম মিনান নূরি ইলায যুলুমা-ত উলা-ইকা আসহা-বুন না-রি হুম ফীহা খা-লিদূন
আল্লাহ মু’মিনদের অভিভাবক, তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং কাফিরদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত, সে তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই আগুনের বাসিন্দা, এরা চিরকাল সেখানে থাকবে।
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِى حَآجَّ إِبْرَٰهِۦمَ فِى رَبِّهِۦٓ أَنْ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلْمُلْكَ إِذْ قَالَ إِبْرَٰهِۦمُ رَبِّىَ ٱلَّذِى يُحْىِۦ وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا۠ أُحْىِۦ وَأُمِيتُ ۖ قَالَ إِبْرَٰهِۦمُ فَإِنَّ ٱللَّهَ يَأْتِى بِٱلشَّمْسِ مِنَ ٱلْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنَ ٱلْمَغْرِبِ فَبُهِتَ ٱلَّذِى كَفَرَ ۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ ٢٥٨
আলাম তারা ইলাল লাযী হা-জ্জা ইবরা-হীমা ফী রাব্বিহী আন আ-তা-হুল্লা-হুল মুলকা ইয কা-লা ইবরা-হীমু রাব্বিয়াল লাযী ইউহইয়ী ওয়াইউমীতু কা-লা আনা উহইয়ী ওয়াউমীতু কা-লা ইবরা-হীমু ফাইন্নাল্লা-হা ইয়া’তী বিশ্শামসি মিনাল মাশরিকি ফা’তি বিহা মিনাল মাগরিবি ফাবুহিতাল লাযী কাফার ওয়াল্লা-হু লা ইয়াহদিল কাওমায যা-লিমীন
তুমি কি সেই ব্যক্তির ঘটনা সম্পর্কে চিন্তা কর নি, যে ইবরাহীমের সঙ্গে তার প্রতিপালক সম্বন্ধে তর্ক করেছিল, যেহেতু আল্লাহ তাকে রাজত্ব দান করেছিলেন। ইবরাহীম তাকে যখন বলল, ‘আমার প্রতিপালক তিনিই, যিনি জীবিত করেন এবং মৃত্যু ঘটান’। সে বলল, ‘আমিও জীবিত করি এবং মৃত্যু ঘটাই’। ইবরাহীম বলল, ‘আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর’। তখন সেই কাফিরটি হতভম্ব হয়ে গেল। বস্তুতঃ আল্লাহ যালিমদেরকে সুপথ দেখান না।
أَوْ كَٱلَّذِى مَرَّ عَلَىٰ قَرْيَةٍۢ وَهِىَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحْىِۦ هَٰذِهِ ٱللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۖ فَأَمَاتَهُ ٱللَّهُ مِا۟ئَةَ عَامٍۢ ثُمَّ بَعَثَهُۥ ۖ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ۖ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍۢ ۖ قَالَ بَل لَّبِثْتَ مِا۟ئَةَ عَامٍۢ فَٱنظُرْ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْ ۖ وَٱنظُرْ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ ءَايَةًۭ لِّلنَّاسِ ۖ وَٱنظُرْ إِلَى ٱلْعِظَامِ كَيْفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًۭا ۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُۥ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٢٥٩
আও কাল্লাযী মার্রা ‘আলা কারইয়াতিঁ ওয়াহিয়া খা-উইয়াতুন ‘আলা ‘উরূশিহা কা-লা আন-না ইউহইয়ী হা-যিহিল্লা-হু বা‘দা মাওতিহা ফাআমা-তাহুল্লা-হু মিআতা ‘আ-মিন ছুম্মা বা‘আছাহূ কা-লা কাম লাবিছতা কা-লা লাবিছতু ইয়াওমান আও বা‘দা ইয়াওমিন কা-লা বাল লাবিছতা মিআতা ‘আ-মিন ফানযুর ইলা তা‘আ-মিকা ওয়াশারা-বিকা লাম ইয়াতাসান্নাহ ওয়ানযুর ইলা হিমা-রিকা ওয়ালিনাজ‘আলাকা আ-য়াতাল লিন্না-সি ওয়ানযুর ইলাল ‘ইযা-মি কাইফা নুনশিযুহা ছুম্মা নাকসূহা লাহমা ফালাম্মা তাবাইয়্যানা লাহূ কা-লা আ‘লামু আন-নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
কিংবা এমন ব্যক্তির ঘটনা সম্পর্কে (তুমি কি চিন্তা করনি) যে এক নগর দিয়ে এমন অবস্থায় যাচ্ছিল যে তা উজাড় অবস্থায় ছিল। সে বলল, ‘আল্লাহ এ নগরীকে এর মৃত্যুর পরে কীভাবে জীবিত করবেন’? তখন আল্লাহ তাকে একশ’ বছর মৃত রাখলেন। তারপর তাকে জীবিত করে তুললেন ও জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি এ অবস্থায় কতকাল ছিলে’? সে বলল, ‘একদিন ছিলাম কিংবা একদিন হতেও কম’। আল্লাহ বললেন, ‘বরং তুমি একশ’ বছর ছিলে, এক্ষণে তুমি তোমার খাদ্যের ও পানীয়ের দিকে লক্ষ্য কর, এটা পচে যায়নি। আর গাধাটার দিকে তাকিয়ে দেখ, আর এতে উদ্দেশ্য এই যে, আমি তোমাকে মানুষের জন্য উদাহরণ করব। আবার তুমি হাড়গুলোর দিকে লক্ষ্য কর, আমি কীভাবে ওগুলো জোড়া লাগিয়ে দেই, তারপর গোশত দ্বারা ঢেকে দেই। এরপর যখন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন সে বলল, ‘এখন আমি পূর্ণ বিশ্বাস করছি যে, আল্লাহ্ই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’।
وَإِذْ قَالَ إِبْرَٰهِۦمُ رَبِّ أَرِنِى كَيْفَ تُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ ۖ قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن ۖ قَالَ بَلَىٰ وَلَٰكِن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِى ۖ قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةًۭ مِّنَ ٱلطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ ٱجْعَلْ عَلَىٰ كُلِّ جَبَلٍۢ مِّنْهُنَّ جُزْءًۭا ثُمَّ ٱدْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًۭا ۚ وَٱعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌۭ ٢٦٠
ওয়াইয কা-লা ইবরা-হীমু রাব্বি আরিনী কাইফা তুহইয়িল মাওতা কা-লা আওয়ালাম তু’মিন কা-লা বালা ওয়ালা-কিল লিয়াতমাইন্না কালবী কা-লা ফাখুয আরবা‘আতাম মিনাত তাইরি ফাসুরহুন্না ইলাইকা ছুম্মাজ‘আল ‘আলা কুল্লি জাবালিম মিনহুন্না জুযআন ছুম্মাদ‘উহুন্না ইয়া’তীনাকা সা‘ইয়া ওয়া‘লাম আন-নাল্লা-হা ‘আযীযুন হাকীম
যখন ইবরাহীম বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি মৃতকে কীরূপে জীবিত করবে আমাকে দেখাও’। আল্লাহ বললেন, ‘তুমি কি বিশ্বাস কর না’? সে আরয করল, ‘নিশ্চয়ই, তবে যাতে আমার অন্তঃকরণ স্বস্তি লাভ করে (এজন্য তা দেখতে চাই)’। আল্লাহ বললেন, তাহলে চারটি পাখী নাও এবং তাদেরকে বশীভূত কর। তারপর ওদের এক এক টুকরো প্রত্যেক পাহাড়ের উপর রেখে দাও, অতঃপর সেগুলোকে ডাক দাও, তোমার নিকট দৌড়ে আসবে। জেনে রেখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
مَّثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنۢبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِى كُلِّ سُنۢبُلَةٍۢ مِّا۟ئَةُ حَبَّةٍۢ ۗ وَٱللَّهُ يُضَٰعِفُ لِمَن يَشَآءُ ۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ ٢٦١
মাছালুল লাযীনা ইউনফিকূনা আমওয়া-লাহুম ফী সাবীলিল্লা-হি কামাছালি হাব্বাতিন আমবাতাত সাব‘আ সানা-বিলা ফী কুল্লি সুমবুলাতিম মিআতু হাব্বাহ ওয়াল্লা-হু ইউদা-‘ইফু লিমান ইয়াশা-আ ওয়াল্লা-হু ওয়া-সি‘উন ‘আলীম
যারা আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ব্যয় করে, তাদের (দানের) তুলনা সেই বীজের মত, যাত্থেকে সাতটি শীষ জন্মিল, প্রত্যেক শীষে একশত করে দানা এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন, বর্ধিত হারে দিয়ে থাকেন। বস্তুতঃ আল্লাহ প্রাচুর্যের অধিকারী, জ্ঞানময়।
ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَآ أَنفَقُوا۟ مَنًّۭا وَلَآ أَذًۭى ۙ لَّهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ٢٦٢
আল্লাযীনা ইউনফিকূনা আমওয়া-লাহুম ফী সাবীলিল্লা-হি ছুম্মা লা ইউতবি‘ঊনা মা- আনফাকূ মান্নাঁ ওয়ালা- আযাল লাহুম আজরুহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম ওয়ালা খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা হুম ইয়াহযানূন
যারা আল্লাহর পথে নিজেদের ধন ব্যয় ক’রে নিজেদের দানের কথা মনে করিয়ে দেয় না আর (দান গ্রহীতাকে) কষ্ট দেয় না, তাদের প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের নিকট নির্ধারিত আছে, তাদের কোন ভয় নেই, মর্মপীড়াও নেই।
۞ قَوْلٌۭ مَّعْرُوفٌۭ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌۭ مِّن صَدَقَةٍۢ يَتْبَعُهَآ أَذًۭى ۗ وَٱللَّهُ غَنِىٌّ حَلِيمٌۭ ٢٦٣
কাওলুম মা‘রূফুঁ ওয়ামাগফিরাতুন খাইরুম মিন সাদাকাতিঁ ইয়াতবা‘উহা- আযা ওয়াল্লা-হু গানিয়্যুন হালীম
যে দানের পর কষ্ট দেয়া হয় তার চেয়ে ভাল কথা ও ক্ষমা উত্তম; বস্তুতঃ আল্লাহ অভাবমুক্ত ও পরম সহিষ্ণু।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تُبْطِلُوا۟ صَدَقَٰتِكُم بِٱلْمَنِّ وَٱلْأَذَىٰ كَٱلَّذِى يُنفِقُ مَالَهُۥ رِئَآءَ ٱلنَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ ۖ فَمَثَلُهُۥ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَيْهِ تُرَابٌۭ فَأَصَابَهُۥ وَابِلٌۭ فَتَرَكَهُۥ صَلْدًۭا ۖ لَّا يَقْدِرُونَ عَلَىٰ شَىْءٍۢ مِّمَّا كَسَبُوا۟ ۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْكَٰفِرِينَ ٢٦٤
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তুবতিলূ সাদাকা-তিকুম বিলমান্নি ওয়ালআযা কাল্লাযী ইউনফিকু মা-লাহূ রিআ-আন না-সি ওয়ালা ইউ’মিনু বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি ফামাছালুহূ কামাছালি সাফওয়া-নিন ‘আলাইহি তুরা-বুন ফাআসা-বাহূ ওয়া-বিলুন ফাতারাকাহূ সালদাল লা ইয়াকদিরূনা ‘আলা শাইইম মিম্মা কাসাবূ ওয়াল্লা-হু লা ইয়াহদিল কাওমাল কা-ফিরীন
হে ঈমানদারগণ! দানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমরা নিজেদের দান-খয়রাতকে সে ব্যক্তির ন্যায় ব্যর্থ করে দিও না যে নিজের ধন লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করে থাকে, অথচ সে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী নয়। তার তুলনা সেই মসৃণ পাথরের মত, যাতে সামান্য কিছু মাটি আছে, অতঃপর প্রবল বৃষ্টিপাত তাকে পরিষ্কার করে ফেলে। তারা স্বীয় কৃত কার্যের ফল কিছুই পাবে না; আল্লাহ কাফিরদেরকে পথপ্রদর্শন করেন না।
وَمَثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمُ ٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِ ٱللَّهِ وَتَثْبِيتًۭا مِّنْ أَنفُسِهِمْ كَمَثَلِ جَنَّةٍۭ بِرَبْوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٌۭ فَـَٔاتَتْ أُكُلَهَا ضِعْفَيْنِ فَإِن لَّمْ يُصِبْهَا وَابِلٌۭ فَطَلٌّۭ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ٢٦٥
ওয়ামাছালুল লাযীনা ইউনফিকূনা আমওয়া-লাহুমুবতিগা-আ মারদা-তিল্লা-হি ওয়াতাছবীতাম মিন আনফুসিহিম কামাছালি জান্নাতিম বিরাবওয়াতিন আসা-বাহা ওয়া-বিলুন ফাআ-তাত উকুলাহা দি‘ফাইনি ফাইল লাম ইউসিবহা ওয়া-বিলুন ফাতাল্ল ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা বাসীর
যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি সাধন ও নিজেদের মনে (ঈমানের) দৃঢ়তা সৃষ্টির উদ্দেশে নিজেদের ধন ব্যয় করে থাকে তাদের তুলনা সেই বাগানের ন্যায় যা উচ্চভূমিতে অবস্থিত, তাতে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে দ্বিগুণ ফল ধরে, যদি তাতে বৃষ্টিপাত নাও হয়, তবে শিশির বিন্দুই যথেষ্ট, তোমরা যা কিছুই কর, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَن تَكُونَ لَهُۥ جَنَّةٌۭ مِّن نَّخِيلٍۢ وَأَعْنَابٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ لَهُۥ فِيهَا مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ وَأَصَابَهُ ٱلْكِبَرُ وَلَهُۥ ذُرِّيَّةٌۭ ضُعَفَآءُ فَأَصَابَهَآ إِعْصَارٌۭ فِيهِ نَارٌۭ فَٱحْتَرَقَتْ ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلْءَايَٰتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ ٢٦٦
আয়াওয়াদ্দু আহাদুকুম আন তাকূনা লাহূ জান্নাতুম মিন নাখীলিঁ ওয়াআ‘না-বিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু লাহূ ফীহা মিন কুল্লিছ ছামারা-তি ওয়াআসা-বাহুল কিবারু ওয়ালাহূ যুর্রিয়্যাতুন দু‘আফা-উ ফাআসা-বাহা- ই‘সা-রুন ফীহি না-রুন ফাহতারাকাত কাযা-লিকা ইউবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি লা‘আল্লাকুম তাতাফাক্কারূন
তোমাদের কেউ কি পছন্দ করে যে, তার এমন একটা খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান হোক, যার নীচ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তার জন্য তাতে সব রকম ফল আছে, আর তার বার্ধক্যও সমুপস্থিত, তার কতকগুলো সন্তান-সন্ততি আছে যারা কাজকর্মের লায়েক নয়, এ অবস্থায় বাগানের উপর অগ্নি হাওয়া বয়ে গেল, যার ফলে সেটি জ্বলে গেল? আল্লাহ তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ এভাবে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা চিন্তা করে দেখ।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنفِقُوا۟ مِن طَيِّبَٰتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّآ أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ ٱلْأَرْضِ ۖ وَلَا تَيَمَّمُوا۟ ٱلْخَبِيثَ مِنْهُ تُنفِقُونَ وَلَسْتُم بِـَٔاخِذِيهِ إِلَّآ أَن تُغْمِضُوا۟ فِيهِ ۚ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ غَنِىٌّ حَمِيدٌ ٢٦٧
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ আনফিকূ মিন তাইয়্যিবা-তি মা কাসাবতুম ওয়ামিম্মা- আখরাজনা লাকুম মিনাল আরদি ওয়ালা তায়াম্মামুল খাবীছা মিনহু তুনফিকূনা ওয়ালাসতুম বিআ-খিযীহি ইল্লা- আন তুগমিদূ ফীহ ওয়া‘লামূ আন-নাল্লা-হা গানিয়্যুন হামীদ
হে মু’মিনগণ! তোমাদের উপার্জিত উত্তম সম্পদ থেকে এবং তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা উৎপন্ন করেছি তাত্থেকে ব্যয় কর এবং নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার নিয়ত করো না, বস্তুতঃ তোমরা তা গ্রহণ কর না, যদি না তোমাদের চক্ষু বন্ধ করে থাক। আর জেনে রেখ, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত।
ٱلشَّيْطَٰنُ يَعِدُكُمُ ٱلْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُم بِٱلْفَحْشَآءِ ۖ وَٱللَّهُ يَعِدُكُم مَّغْفِرَةًۭ مِّنْهُ وَفَضْلًۭا ۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌۭ ٢٦٨
আশ-শাইতা-নু ইয়া‘ইদুকুমুল ফাকরা ওয়ায়া’মুরুকুম বিলফাহশা-ই ওয়াল্লা-হু ইয়া‘ইদুকুম মাগফিরাতাম মিনহু ওয়াফাদলা ওয়াল্লা-হু ওয়া-সি‘উন ‘আলীম
শয়ত্বান তোমাদেরকে গরীব হয়ে যাওয়ার ভয় দেখায় এবং লজ্জাকর বিষয়ের নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ পক্ষ হতে তোমাদের সাথে ক্ষমার ও অনুগ্রহের ওয়াদা করছেন এবং আল্লাহ প্রাচুর্যের অধিকারী, মহাজ্ঞানী।
يُؤْتِى ٱلْحِكْمَةَ مَن يَشَآءُ ۚ وَمَن يُؤْتَ ٱلْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِىَ خَيْرًۭا كَثِيرًۭا ۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّآ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَٰبِ ٢٦٩
ইউ’তিল হিকমাতা মান ইয়াশা-আ ওয়ামান ইউ’তাল হিকমাতা ফাকাদ ঊতিয়া খাইরান কাছীরা ওয়ামা ইয়ায্যাক্কারু ইল্লা- উলুল আলবা-ব
যাকে ইচ্ছে তিনি হিকমাত দান করেন এবং যে ব্যক্তি এ জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়, নিঃসন্দেহে সে মহাসম্পদ প্রাপ্ত হয় এবং উপদেশ তারাই গ্রহণ করে, যারা জ্ঞানী।
وَمَآ أَنفَقْتُم مِّن نَّفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُم مِّن نَّذْرٍۢ فَإِنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُهُۥ ۗ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ ٢٧٠
ওয়ামা- আনফাকতুম মিন নাফাকাতিন আও নাযারতুম মিন নাযরিন ফাইন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুহ ওয়ামা লিয্যা-লিমীনা মিন আনসা-র
তোমরা যে ব্যয়ই কর কিংবা যে কোন মানৎ কর, আল্লাহ নিশ্চয়ই তা জানেন কিন্তু যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।
إِن تُبْدُوا۟ ٱلصَّدَقَٰتِ فَنِعِمَّا هِىَ ۖ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا ٱلْفُقَرَآءَ فَهُوَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۚ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّـَٔاتِكُمْ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ٢٧١
ইন তুবদুস সাদাকা-তি ফানি‘ইম্মা হিয়া ওয়াইন তুখফূহা ওয়াতু’তূহাল ফুকারা-আ ফাহুওয়া খাইরুল লাকুম ওয়াইউকাফ্ফিরু ‘আনকুম মিন সাইয়্যিআ-তিকুম ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা খাবীর
যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান কর তবে তাও উত্তম, আর যদি তোমরা তা গোপনে কর এবং তা অভাবগ্রস্তদেরকে দান কর, তবে তা তোমাদের জন্য আরো উত্তম, অধিকন্তু তিনি তোমাদের কিছু গুনাহ মোচন করে দেবেন, বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা করছ, আল্লাহ তার খবর রাখেন।
۞ لَّيْسَ عَلَيْكَ هُدَىٰهُمْ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَهْدِى مَن يَشَآءُ ۗ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ فَلِأَنفُسِكُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ٱبْتِغَآءَ وَجْهِ ٱللَّهِ ۚ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ ٢٧٢
লাইসা ‘আলাইকা হুদা-হুম ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ইয়াহদী মান ইয়াশা-আ ওয়ামা তুনফিকূ মিন খাইরিন ফালিআনফুসিকুম ওয়ামা তুনফিকূনা ইল্লাবতিগা-আ ওয়াজহিল্লা-হ ওয়ামা তুনফিকূ মিন খাইরিঁ ইউওয়াফ্ফা ইলাইকুম ওয়াআনতুম লা তুযলামূন
তাদেরকে ঠিক পথে নিয়ে আসা তোমার দায়িত্ব নয়, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে ঠিক পথে পরিচালিত করেন, বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, তা তোমাদের নিজেদের জন্যই এবং তোমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ব্যয় করে থাক এবং যা কিছু তোমরা মাল হতে ব্যয় করবে, তোমাদেরকে তার ফল পুরোপুরি দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।
لِلْفُقَرَآءِ ٱلَّذِينَ أُحْصِرُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًۭا فِى ٱلْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ ٱلْجَاهِلُ أَغْنِيَآءَ مِنَ ٱلتَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُم بِسِيمَٰهُمْ لَا يَسْـَٔلُونَ ٱلنَّاسَ إِلْحَافًۭا ۗ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ ٢٧٣
লিলফুকারা-ইল লাযীনা উহসিরূ ফী সাবীলিল্লা-হি লা ইয়াসতাতী‘ঊনা দারবান ফিল আরদি ইয়াহসাবুহুমুল জা-হিলু আগনিয়া-আ মিনাত তা‘আফ্ফুফি তা‘রিফুহুম বিসীমা-হুম লা ইয়াসআলূনান না-সা ইলহা-ফা ওয়ামা তুনফিকূ মিন খাইরিন ফাইন্নাল্লা-হা বিহী ‘আলীম
ওটা সেই অভাবগ্রস্তদের প্রাপ্য যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ আছে, দেশময় ঘুরে বেড়াতে পারে না, ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বী না হওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে, তাদের চেহারা দেখে তুমি তাদেরকে চিনতে পারবে। তারা লোকেদের কাছে নাছোড় হয়ে ভিক্ষা করে না এবং তোমাদের মাল হতে যা কিছু ব্যয় করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত।
ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُم بِٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ سِرًّۭا وَعَلَانِيَةًۭ فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ٢٧٤
আল্লাযীনা ইউনফিকূনা আমওয়া-লাহুম বিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি সির্রাঁ ওয়া‘আলা-নিয়াতান ফালাহুম আজরুহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম ওয়ালা খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা হুম ইয়াহযানূন
যারা নিজেদের মাল রাতে ও দিনে, প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে ব্যয় করে থাকে, তাদের জন্য সেই দানের সওয়াব তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে এবং তাদের কোন ভয় নেই, তারা চিন্তিতও হবে না।
ٱلَّذِينَ يَأْكُلُونَ ٱلرِّبَوٰا۟ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِى يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيْطَٰنُ مِنَ ٱلْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوٓا۟ إِنَّمَا ٱلْبَيْعُ مِثْلُ ٱلرِّبَوٰا۟ ۗ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلْبَيْعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰا۟ ۚ فَمَن جَآءَهُۥ مَوْعِظَةٌۭ مِّن رَّبِّهِۦ فَٱنتَهَىٰ فَلَهُۥ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُۥٓ إِلَى ٱللَّهِ ۖ وَمَنْ عَادَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٢٧٥
আল্লাযীনা ইয়া’কুলূনার রিবা লা ইয়াকূমূনা ইল্লা কামা ইয়াকূমুল লাযী ইয়াতাখাব্বাতুহুশ শাইতা-নু মিনাল মাস্স যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-লূ ইন্নামাল বাই‘উ মিছলুর রিবা ওয়াআহাল্লাল্লা-হুল বাই‘আ ওয়াহার্রামার রিবা ফামান জা-আহূ মাও‘ইযাতুম মির রাব্বিহী ফানতাহা ফালাহূ মা সালাফা ওয়াআমরুহূ ইলাল্লা-হি ওয়ামান ‘আ-দা ফাউলা-ইকা আসহা-বুন না-রি হুম ফীহা খা-লিদূন
যারা সূদ খায়, তারা সেই লোকের মত দাঁড়াবে যাকে শয়ত্বান স্পর্শ দ্বারা বেহুশ করে দেয়, এ শাস্তি এজন্য যে, তারা বলে, ‘ক্রয়-বিক্রয় সূদের মতই’, অথচ কারবারকে আল্লাহ হালাল করেছেন এবং তিনি সূদকে হারাম করেছেন। সুতরাং যার নিকট তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে উপদেশবাণী পৌঁছল এবং সে বিরত হল, পূর্বে যা (সূদের আদান-প্রদান) হয়ে গেছে, তা তারই, তার বিষয় আল্লাহর জিম্মায় এবং যারা আবার আরম্ভ করবে তারাই অগ্নির বাসিন্দা, তারা তাতে চিরকাল থাকবে।
يَمْحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰا۟ وَيُرْبِى ٱلصَّدَقَٰتِ ۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ ٢٧٦
ইয়ামহাকুল্লা-হুর রিবা ওয়াইউরবিস সাদাকা-ত ওয়াল্লা-হু লা ইউহিব্বু কুল্লা কাফ্ফা-রিন আছীম
আল্লাহ সূদকে বিলুপ্ত করেন এবং খয়রাতকে বৃদ্ধি করেন, আল্লাহ অকৃতজ্ঞ পাপীদেরকে ভালবাসেন না।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ٢٧٧
ইন্নাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি ওয়াআকা-মুস সালা-তা ওয়াআ-তাউয যাকা-তা লাহুম আজরুহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম ওয়ালা খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা হুম ইয়াহযানূন
যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, নামায কায়িম করে এবং যাকাত আদায় করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট সওয়াব নির্ধারিত আছে। তাদের কোন ভয় নেই, তারা চিন্তিতও না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَذَرُوا۟ مَا بَقِىَ مِنَ ٱلرِّبَوٰٓا۟ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ٢٧٨
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুত তাকুল্লা-হা ওয়াযারূ মা বাকিয়া মিনার রিবা- ইন কুনতুম মু’মিনীন
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং বাকী সূদ ছেড়ে দাও, যদি তোমরা ঈমানদার হও।
فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟ فَأْذَنُوا۟ بِحَرْبٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ۖ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَٰلِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ ٢٧٩
ফাইল লাম তাফ‘আলূ ফা’যানূ বিহারবিম মিনাল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ওয়াইন তুবতুম ফালাকুম রুঊসু আমওয়া-লিকুম লা তাযলিমূনা ওয়ালা তুযলামূন
অতঃপর যদি না ছাড় তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নিকট হতে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে লও। কিন্তু যদি তোমরা তাওবাহ কর, তবে তোমরা তোমাদের মূলধন পাবে, এতে তোমাদের দ্বারা অত্যাচার হবে না, আর তোমরাও অত্যাচারিত হবে না।
وَإِن كَانَ ذُو عُسْرَةٍۢ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍۢ ۚ وَأَن تَصَدَّقُوا۟ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٢٨٠
ওয়াইন কা-না যূ ‘উসরাতিন ফানাযিরাতুন ইলা মাইসারাহ ওয়াআন তাসাদ্দাকূ খাইরুল লাকুম ইন কুনতুম তা‘লামূন
যদি সে (ঋণ গ্রহণকারী) দরিদ্র হয়, তবে স্বচ্ছল অবস্থা আসা পর্যন্ত অবকাশ দিবে আর মাফ করে দেয়া তোমাদের পক্ষে অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!
وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًۭا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى ٱللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍۢ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ٢٨١
ওয়াত্তাকূ ইয়াওমান তুরজা‘ঊনা ফীহি ইলাল্লা-হি ছুম্মা তুওয়াফ্ফা কুল্লু নাফসিম মা কাসাবাত ওয়াহুম লা ইউযলামূন
তোমরা সেদিনের ভয় কর, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। অতঃপর প্রত্যেক লোককে তার কৃতকর্মের বিনিময় দেয়া হবে এবং তারা কিছুমাত্র অত্যাচারিত হবে না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى فَٱكْتُبُوهُ ۚ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌۢ بِٱلْعَدْلِ ۚ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَن يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ ٱللَّهُ ۚ فَلْيَكْتُبْ وَلْيُمْلِلِ ٱلَّذِى عَلَيْهِ ٱلْحَقُّ وَلْيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْـًۭٔا ۚ فَإِن كَانَ ٱلَّذِى عَلَيْهِ ٱلْحَقُّ سَفِيهًا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَن يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُۥ بِٱلْعَدْلِ ۚ وَٱسْتَشْهِدُوا۟ شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْ ۖ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌۭ وَٱمْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ ٱلشُّهَدَآءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَىٰهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَىٰهُمَا ٱلْأُخْرَىٰ ۚ وَلَا يَأْبَ ٱلشُّهَدَآءُ إِذَا مَا دُعُوا۟ ۚ وَلَا تَسْـَٔمُوٓا۟ أَن تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا إِلَىٰٓ أَجَلِهِۦ ۚ ذَٰلِكُمْ أَقْسَطُ عِندَ ٱللَّهِ وَأَقْوَمُ لِلشَّهَٰدَةِ وَأَدْنَىٰٓ أَلَّا تَرْتَابُوٓا۟ ۖ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً حَاضِرَةًۭ تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلَّا تَكْتُبُوهَا ۗ وَأَشْهِدُوٓا۟ إِذَا تَبَايَعْتُمْ ۚ وَلَا يُضَآرَّ كَاتِبٌۭ وَلَا شَهِيدٌۭ ۚ وَإِن تَفْعَلُوا۟ فَإِنَّهُۥ فُسُوقٌۢ بِكُمْ ۗ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۖ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱللَّهُ ۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ ٢٨٢
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা তাদা-য়ানতুম বিদাইনিন ইলা- আজালিম মুসাম্মান ফাকতুবূহ ওয়ালইয়াকতুব বাইনাকুম কা-তিবুম বিল‘আদল ওয়ালা ইয়া’বা কা-তিবুন আন ইয়াকতুবা কামা ‘আল্লামাহুল্লা-হ ফালইয়াকতুব ওয়ালইউমলিলিল লাযী ‘আলাইহিল হাক্কু ওয়ালইয়াত্তাকিল্লা-হা রাব্বাহূ ওয়ালা ইয়াবখাস মিনহু শাইআ ফাইন কা-নাল লাযী ‘আলাইহিল হাক্কু সাফীহান আও দা‘ঈফান আও লা ইয়াসতাতী‘উ আন ইউমিল্লা হুওয়া ফালইউমলিল ওয়ালিয়্যুহূ বিল‘আদল ওয়াসতাশহিদূ শাহীদাইনি মির রিজা-লিকুম ফাইল লাম ইয়াকূনা রাজুলাইনি ফারাজুলুঁ ওয়ামরাআতা-নি মিম্মান তারদাওনা মিনাশ শুহাদা-ই আন তাদিল্লা ইহদা-হুমা ফাতুযাক্কিরা ইহদা-হুমাল উখরা ওয়ালা ইয়া’বাশ শুহাদা-উ ইযা মা দু‘ঊ ওয়ালা তাসআমূ আন তাকতুবূহু সাগীরান আও কাবীরান ইলা- আজালিহ যা-লিকুম আকসাতু ‘ইনদাল্লা-হি ওয়াআকওয়ামু লিশ্শাহা-দাতি ওয়াআদনা- আল্লা তারতা-বূ ইল্লা- আন তাকূনা তিজা-রাতান হা-দিরাতান তুদীরূনাহা বাইনাকুম ফালাইসা ‘আলাইকুম জুনা-হুন আল্লা তাকতুবূহা ওয়াআশহিদূ ইযা তাবা-য়া‘তুম ওয়ালা ইউদা-র্রা কা-তিবুঁ ওয়ালা শাহীদ ওয়াইন তাফ‘আলূ ফাইন্নাহূ ফুসূকুম বিকুম ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়াইউ‘আল্লিমুকুমুল্লা-হ ওয়াল্লা-হু বিকুল্লি শাইইন ‘আলীম
হে বিশ্বাসীগণ! যখন তোমরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধারে কারবার করবে, তখন তা লিখে রাখবে, তোমাদের মধ্যে যেন কোন একজন লেখক ন্যায্যভাবে লিখে দেয়, লেখক যেন লিখতে অস্বীকার না করে, যেরূপ আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিয়েছেন, কাজেই সে যেন লিখে এবং কর্জ-গ্রহীতা যেন লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয় এবং তার প্রতিপালক আল্লাহর ভয় রাখে এবং প্রাপ্য হতে যেন কোনও প্রকারের কাটছাঁট না করে। যদি কর্জ-গ্রহীতা স্বল্প-বুদ্ধি অথবা দুর্বল কিংবা লেখার বিষয়বস্তু বলতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক যেন লেখার বিষয়বস্তু ন্যায্যভাবে বলে দেয় এবং তোমাদের আপন পুরুষ লোকের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী রাখ, যদি দু’জন পুরুষ না পাওয়া যায়, তাহলে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রী লোক, যাদের সাক্ষ্য সম্পর্কে তোমরা রাজী আছ, এটা এজন্য যে, যদি একজন ভুলে যায় তবে অন্যজন স্মরণ করিয়ে দেবে এবং যখন সাক্ষীগণকে ডাকা হবে, তখন যেন (সাক্ষ্য দিতে) অস্বীকার না করে। ছোট হোক বা বড় হোক তোমরা নির্দিষ্ট মেয়াদসহ লিখে রাখাকে তাচ্ছিল্যভরে উপেক্ষা করো না, এ লিখে রাখা আল্লাহর নিকট ইনসাফ বজায় রাখার জন্য দৃঢ়তর, সঠিক প্রমাণের জন্য সহজতর এবং তোমরা যাতে কোনও সন্দেহে পতিত না হও এর নিকটবর্তী। কিন্তু যদি কোন সওদা তোমরা পরস্পর নগদ নগদ সম্পাদন কর, তবে না লিখলেও তোমাদের কোন দোষ নেই। আর তোমরা যখন পরস্পর কেনাবেচা কর তখন সাক্ষী রেখ। কোনও লেখক ও সাক্ষীকে যেন কষ্ট দেয়া না হয় এবং যদি এরূপ কর, তাহলে তোমাদের গুনাহ হবে। কাজেই আল্লাহকে ভয় কর এবং আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সুপরিজ্ঞাত।
۞ وَإِن كُنتُمْ عَلَىٰ سَفَرٍۢ وَلَمْ تَجِدُوا۟ كَاتِبًۭا فَرِهَٰنٌۭ مَّقْبُوضَةٌۭ ۖ فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُم بَعْضًۭا فَلْيُؤَدِّ ٱلَّذِى ٱؤْتُمِنَ أَمَٰنَتَهُۥ وَلْيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥ ۗ وَلَا تَكْتُمُوا۟ ٱلشَّهَٰدَةَ ۚ وَمَن يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُۥٓ ءَاثِمٌۭ قَلْبُهُۥ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌۭ ٢٨٣
ওয়াইন কুনতুম ‘আলা সাফারিঁ ওয়ালাম তাজিদূ কা-তিবান ফারিহা-নুম মাকবূদাতুন ফাইন আমিনা বা‘দুকুম বা‘দান ফালইউআদ্দিল লাযি তুমিনা আমা-নাতাহূ ওয়ালইয়াত্তাকিল্লা-হা রাব্বাহ ওয়ালা তাকতুমুশ শাহা-দাহ ওয়ামান ইয়াকতুমহা ফাইন্নাহূ আ-ছিমুন কালবুহ ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা ‘আলীম
যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোন লেখক না পাও, তাহলে বন্ধক রাখার জিনিসগুলো অন্যের দখলে রাখতে হবে, যদি তোমরা পরস্পর পরস্পরকে বিশ্বাস কর তাহলে যাকে বিশ্বাস করা হয়েছে সে যেন আমানত ফিরিয়ে দেয় এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে। তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না, যে ব্যক্তি তা গোপন করে, তার অন্তর পাপী। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত।
لِّلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ وَإِن تُبْدُوا۟ مَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُم بِهِ ٱللَّهُ ۖ فَيَغْفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُ ۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌ ٢٨٤
লিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ ওয়াইন তুবদূ মা ফী আনফুসিকুম আও তুখফূহু ইউহা-সিবকুম বিহিল্লা-হু ফায়াগফিরু লিমান ইয়াশা-উ ওয়াইউ‘আয্যিবু মান ইয়াশা-আ ওয়াল্লা-হু ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
যা কিছু আকাশসমূহে ও ভূমন্ডলে আছে, সবকিছু আল্লাহরই। তোমাদের অন্তরে যা আছে, তা তোমরা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর আল্লাহ তার হিসাব তোমাদের নিকট হতে গ্রহণ করবেন। সুতরাং যাকে ইচ্ছে তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছে তিনি শাস্তি দিবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍۢ مِّن رُّسُلِهِۦ ۚ وَقَالُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ ٱلْمَصِيرُ ٢٨٥
আ-মানার রাসূলু বিমা- উনযিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়ালমু’মিনূন কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি ওয়ামালা-ইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়ারুসুলিহী লা নুফার্রিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ ওয়াকা-লূ সামি‘না ওয়াআতা‘না গুফরা-নাকা রাব্বানা ওয়াইলাইকাল মাসীর
রসূল (সাঃ) তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা তার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছে এবং মু’মিনগণও। তারা সবাই আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাবসমূহের উপর এবং রসূলগণের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে, (তারা বলে), ‘আমরা রসূলগণের মধ্যে কারও ব্যাপারে তারতম্য করি না’ এবং তারা এ কথাও বলে যে, ‘আমরা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা কর আর প্রত্যাবর্তন তোমারই দিকে’।
لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًۭا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦ ۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَآ ۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ ٢٨٦
লা ইউকাল্লিফুল্লা-হু নাফসান ইল্লা উস‘আহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া‘আলাইহা মাকতাসাবাত রাব্বানা লা তুআ-খিযনা- ইন নাসীনা- আও আখতা’না রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল ‘আলাইনা- ইসরান কামা হামালতাহূ ‘আলাল লাযীনা মিন কাবলিনা রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা তা-কাতা লানা বিহী ওয়া‘ফু ‘আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা- আনতা মাওলা-না ফানসুরনা ‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন
আল্লাহ কোন ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু আরোপ করেন না, সে ভাল যা করেছে সে তার সওয়াব পাবে এবং স্বীয় মন্দ কৃতকর্মের জন্য সে নিজেই নিগ্রহ ভোগ করবে। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তাহলে আমাদেরকে পাকড়াও করো না, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের আগের লোকেদের উপর যেমন গুরু-দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না; হে আমাদের প্রতিপালক! যে ভার বহনের ক্ষমতা আমাদের নেই, এমন ভার আমাদের উপর চাপিয়ে দিও না, (ভুল-ত্রুটি উপেক্ষা করে) আমাদেরকে রেহাই দাও, আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর; তুমিই আমাদের প্রতিপালক, কাজেই আমাদেরকে কাফিরদের উপর জয়যুক্ত কর।