। সাঈদ ইবনু ইয়াযীদ আবু মাসলাম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জুতা পরে নামায আদায় করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ -সহীহ। সিফাতুস সালাত মূল, বুখারী ও মুসলিম এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনু আবু হাবীবা, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, আমর ইবনু হুরাইস, সাদ্দাদ ইবনু আওস, আওস আস-সাকাফী, আবু হুরাইরা ও আতা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমগণ এ হাদীসের সমর্থনে সমাধান গ্রহণ করেছেন (জুতা পরা অবস্থায় নামায আদায় করা বৈধ, যদি তাতে নাপাক না থাকে)।
Sa'eed bin Yazid Abu Maslamah said:"I said to Anas bin Malik: 'Would Allah's Messenger (S) perform Salat wearing his sandals?' He said: 'Yes
। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাকাআত নামায আদায় করে সালাম ফিরালেন। যুল-ইয়াদাইন (রাঃ) তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! নামায কি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে না আপনি ভুলে গেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (লোকদের) প্রশ্ন করলেনঃ যুল-ইয়াদাইন কি ঠিক বলছে? লোকেরা বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাড়ালেন, বাকী দুই রাকাআত আদায় করালেন, তারপর সালাম ফিরালেন, তারপর তাকবীর বললেন, এবং আগের সিজদার সমান অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সময় সিজদায় থাকলেন, তারপর তাকবীর বলে মাথা তুললেন। তিনি আবার সিজদা্য় গিয়ে আগের সিজদার সমান বা তার চেয়ে বেশি সময় সিজদায় কাটালেন। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১২১৪), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনু হুসাইন, ইবনু উমার ও যুল-ইয়াদাইন (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরা হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসকে কেন্দ্র করে বিদ্বানদের মধ্যে মত পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। কুফাবাসীদের একদল বলেছেন, যদি ভুলে অথবা অজ্ঞতাবশত অথবা যে কোন প্রকারে নামাযের মধ্যে কথা বলা হয় তবে আবার নামায আদায় করতে হবে। কেননা এ হাদীসটি নামাযের মধ্যে কথাবার্তা হারাম হওয়ার পূর্বেকার। ইমাম শাফিঈর মতে উল্লেখিত হাদীসটি সহীহ। তিনি এ হাদীসের সমর্থক। তিনি বলেছেন, “রোযাদার যদি ভুলক্রমে পানাহার করে ফেলে তবে তাকে এ রোযা আর রাখতে হবে না (কাযা করতে হবে না)। কেননা আল্লাহ তা'আলাই তাকে এ রিযক দিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটির তুলনায় পূর্বোল্লেখিত হাদীসটি বেশি সহীহ। তিনি আরো বলেছেন, ফাকীহগণ আবু হুরাইরার হাদীস অনুযায়ী রোযা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা এবং ভুলে পানাহার করার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। আবু হুরাইরার হাদীস প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ বলেন, নামায পূর্ণ হয়েছে এই মনে করে যদি ইমাম নামাযের মধ্যে কথা বলে এবং পরে জানতে পারে যে, নামায এখনও বাকী রয়েছে-এ অবস্থায় সে বাকী নামায পূর্ণ করবে (কথা বলায় নামায বাতিল হয়নি)। নামায এখনো বাকী রয়েছে একথা জেনেও মুক্তাদী যদি কথা বলে তবে তাকে আবার নামায আদায় করতে হবে। তিনি এ যুক্তি প্রদান করেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফরয নামাযে (ওহীর মাধ্যমে) কম বেশি করা হত। এজন্য যুল-ইয়াদাইনের বিশ্বাস ছিল হয়ত নামায পূর্ণ হয়েছে। তাই তিনি কথা বলেছেন, কিন্তু আজকাল এরূপ কথা চলবে না, কেননা এখন আর নামাযের কম-বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এজন্য আজকাল আর যুল-ইয়াদাইনের মত (নামায কি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে?) প্রশ্ন করা চলবে না। ইমাম ইসহাকও এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদের সাথে একমত।
Abu Hurairah narrated:"The Prophet (S) turned (finished the prayer) after two (Rak'ah), so Dhul-Yadain said: 'Has the prayer been shortened or have you forgotten O Messenger of Allah?" The Prophet (S) said: 'Is what Dhul-Yadain said the truth?' The people said yes, so Allah's Messenger (S) stood to perform the last two (Rakah) of Salat, then he said the Taslim. Then he said the Takbir and prostrated in a manner the same or longer than his (normal) prostrations
। বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযর ও মাগরিবের নামাযে দু’আ কুনৃত পাঠ করতেন। --সহীহ। মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আলী, আনাস, আবু হুরাইরা, ইবনু আব্বাস এবং খুফাফ ইবনু ঈমাআ ইবনু রাহাযাহ আলগিফারী (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ বারাআর হাদীসটি হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞগণ ফযরের নামাযে দু'আ কুনৃত পাঠ নিয়ে মতভেদ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অন্যরা ফযরের নামাযে কুনূত পাঠের পক্ষে মত দিয়েছেন। ইমাম মালিক ও শাফিঈ এ মত মেনে নিয়েছেন। আহমাদ ও ইসহাক বলেন, আমাদের মতে ফযরে কোন কুনূত পাঠ করবে না। হ্যাঁ যদি কোথাও মুসলিমদের উপর মুসিবত এসে যায় তবে ইমাম সাহেব মুসলিম বাহিনীর জন্য দু’আ করতে পারেন।
Al-Bara bin Azib narrated:"The Prophet (S) would perform the Qunut in the Subh and Maghrib prayers
। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, শুনেছিঃ তোমাদের কেউ যখন তার নামাযে ভুল করে তারপর সে বলতে পারছে না সে কি এক রাক’আত আদায় করেছে না দুই রাকাআত আদায় করেছে, এমতাবস্থায় সে এক রাকাআতের উপরই ভিত্তি করবে। সে কি দুই রাকাআত আদায় করেছে না তিন রাকাআত — তা ঠিক করতে না পারলে দুই রাকাআতকেই ভিত্তি ধরবে। সে তিন রাক’আত আদায় করেছে না চার রাকাআত — তা ঠিক করতে না পারলে তিন রাকাআতকেই ভিত্তি ধরবে এবং সালাম ফিরানোর আগে দুটি সিজদা করবে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১২০৯)। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। আবদুর রহমান (রাঃ)-এর নিকট হতে অপরাপর সূত্রেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। যুহুরী তার সনদ পরম্পরায় আব্দুর রহঃমান ইবনু আউফের সুত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
Abdur-Rahman bi Awf narrated that he heard the Prophet (S) saying:"When one of you becomes forgetful in his Salat so that he does not know if he prayed one or two, then let him consider it one. When he does not know if he prayed three or four, then let him consider it three, and let him perform two prostrations before he says the Taslim