النبإ
সূরা আন-নাবা
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
عَمَّ يَتَسَآءَلُونَ ١
‘আম্মা ইয়াতাসা-আলূন
লোকেরা কোন বিষয়ে একে অন্যের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?
عَنِ ٱلنَّبَإِ ٱلْعَظِيمِ ٢
‘আনিন নাবাইল ‘আযীম
(ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার) সেই মহা সংবাদের বিষয়ে,
ٱلَّذِى هُمْ فِيهِ مُخْتَلِفُونَ ٣
আল্লাযী হুম ফীহি মুখতালিফূন
যে বিষয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্য আছে।
كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ٤
কাল্লা সায়া‘লামূন
কক্ষনো না, (তারা যা ধারণা করে তা একেবারে, অলীক ও অবাস্তব), তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।
ثُمَّ كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ٥
ছুম্মা কাল্লা সায়া‘লামূন
আবার বলছি, কক্ষনো না (তাদের ধারণা একেবারে অলীক ও অবাস্তব), তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।
أَلَمْ نَجْعَلِ ٱلْأَرْضَ مِهَٰدًۭا ٦
আলাম নাজ‘আলিল আরদা মিহা-দা
(আমি যে সব কিছুকে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে সক্ষম তা তোমরা অস্বীকার করছ কীভাবে) আমি কি যমীনকে (তোমাদের জন্য) শয্যা বানাইনি?
وَٱلْجِبَالَ أَوْتَادًۭا ٧
ওয়ালজিবা-লা আওতা-দা
আর পর্বতগুলোকে কীলক (বানাইনি)?
وَخَلَقْنَٰكُمْ أَزْوَٰجًۭا ٨
ওয়াখালাকনা-কুম আযওয়া-জা
আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়।
وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًۭا ٩
ওয়াজা‘আলনা নাওমাকুম সুবা-তা
আর তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রামদায়ী।
وَجَعَلْنَا ٱلَّيْلَ لِبَاسًۭا ١٠
ওয়াজা‘আলনাল লাইলা লিবা-সা
রাতকে করেছি আবরণ,
وَجَعَلْنَا ٱلنَّهَارَ مَعَاشًۭا ١١
ওয়াজা‘আলনান নাহা-রা মা‘আ-শা
আর দিনকে করেছি জীবিকা সংগ্রহের মাধ্যম।
وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًۭا شِدَادًۭا ١٢
ওয়াবানাইনা ফাওকাকুম সাব‘আন শিদা-দা
আর তোমাদের উর্ধ্বদেশে বানিয়েছি সাতটি সুদৃঢ় আকাশ।
وَجَعَلْنَا سِرَاجًۭا وَهَّاجًۭا ١٣
ওয়াজা‘আলনা সিরা-জাঁ ওয়াহ্হা-জা
এবং সৃষ্টি করেছি উজ্জ্বল প্রদীপ।
وَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلْمُعْصِرَٰتِ مَآءًۭ ثَجَّاجًۭا ١٤
ওয়াআনযালনা মিনাল মু‘সিরা-তি মা-আন ছাজ্জা-জা
আর আমি বর্ষণ করি বৃষ্টিবাহী মেঘমালা থেকে প্রচুর পানি,
لِّنُخْرِجَ بِهِۦ حَبًّۭا وَنَبَاتًۭا ١٥
লিনুখরিজা বিহী হাব্বাঁ ওয়ানাবা-তা
যাতে আমি তা দিয়ে উৎপন্ন করি শস্য ও উদ্ভিদ,
وَجَنَّٰتٍ أَلْفَافًا ١٦
ওয়াজান্না-তিন আলফা-ফা
আর ঘন উদ্যান।
إِنَّ يَوْمَ ٱلْفَصْلِ كَانَ مِيقَٰتًۭا ١٧
ইন্না ইয়াওমাল ফাসলি কা-না মীকা-তা
নিশ্চয়ই নির্ধারিত আছে মীমাংসার দিন,
يَوْمَ يُنفَخُ فِى ٱلصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًۭا ١٨
ইয়াওমা ইউনফাখু ফিস সূরি ফাতা’তূনা আফওয়া-জা
সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, আর তোমরা দলে দলে আসবে,
وَفُتِحَتِ ٱلسَّمَآءُ فَكَانَتْ أَبْوَٰبًۭا ١٩
ওয়াফুতিহাতিস সামা-উ ফাকা-নাত আবওয়া-বা
আকাশ খুলে দেয়া হবে আর তাতে হবে অনেক দরজা।
وَسُيِّرَتِ ٱلْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا ٢٠
ওয়াসুইয়্যিরাতিল জিবা-লু ফাকা-নাত সারা-বা
আর পর্বতগুলোকে করা হবে চলমান, ফলে তা নিছক মরীচিকায় পরিণত হবে।
إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًۭا ٢١
ইন্না জাহান্নামা কা-নাত মিরসা-দা
জাহান্নাম তো ওঁৎ পেতে আছে,
لِّلطَّٰغِينَ مَـَٔابًۭا ٢٢
লিত্তা-গীনা মাআ-বা
(আর তা হল) সীমালঙ্ঘনকারীদের আশ্রয়স্থল।
لَّٰبِثِينَ فِيهَآ أَحْقَابًۭا ٢٣
লা-বিছীনা ফীহা- আহকা-বা
সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে থাকবে,
لَّا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًۭا وَلَا شَرَابًا ٢٤
লা ইয়াযূকূনা ফীহা বারদাঁ ওয়ালা শারা-বা
সেখানে তারা কোন শীতল ও পানীয় আস্বাদন করবে না
إِلَّا حَمِيمًۭا وَغَسَّاقًۭا ٢٥
ইল্লা হামীমাঁ ওয়াগাস্সা-কা
ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়া;
جَزَآءًۭ وِفَاقًا ٢٦
জাযা-আঁ উইফা-কা
উপযুক্ত প্রতিফল।
إِنَّهُمْ كَانُوا۟ لَا يَرْجُونَ حِسَابًۭا ٢٧
ইন্নাহুম কা-নূ লা ইয়ারজূনা হিসা-বা
তারা (তাদের কৃতকর্মের) কোন হিসাব-নিকাশ আশা করত না,
وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا كِذَّابًۭا ٢٨
ওয়াকায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা কিয্যা-বা
তারা আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করেছিল- পুরোপুরি অস্বীকার।
وَكُلَّ شَىْءٍ أَحْصَيْنَٰهُ كِتَٰبًۭا ٢٩
ওয়াকুল্লা শাইইন আহসাইনা-হু কিতা-বা
সবকিছুই আমি সংরক্ষণ করে রেখেছি লিখিতভাবে।
فَذُوقُوا۟ فَلَن نَّزِيدَكُمْ إِلَّا عَذَابًا ٣٠
ফাযূকূ ফালান নাযীদাকুম ইল্লা ‘আযা-বা
অতএব এখন স্বাদ গ্রহণ কর, আমি তোমাদের জন্য কেবল শাস্তিই বৃদ্ধি করব (অন্য আর কিছু নয়)।
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا ٣١
ইন্না লিলমুত্তাকীনা মাফা-যা
(অন্য দিকে) মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্য।
حَدَآئِقَ وَأَعْنَٰبًۭا ٣٢
হাদা-ইকা ওয়াআ‘না-বা
বাগান, আঙ্গুর,
وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًۭا ٣٣
ওয়াকাওয়া-‘ইবা আতরা-বা
আর সমবয়স্কা নব্য যুবতী
وَكَأْسًۭا دِهَاقًۭا ٣٤
ওয়াকা’সান দিহা-কা
এবং পরিপূর্ণ পানপাত্র।
لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًۭا وَلَا كِذَّٰبًۭا ٣٥
লা ইয়াসমা‘ঊনা ফীহা লাগওয়াঁ ওয়ালা কিয্যা-বা
সেখানে তারা শুনবে না অসার অর্থহীন আর মিথ্যে কথা,
جَزَآءًۭ مِّن رَّبِّكَ عَطَآءً حِسَابًۭا ٣٦
জাযা-আম মির রাব্বিকা ‘আতা-আন হিসা-বা
এটা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রতিফল, যথোচিত দান।
رَّبِّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ٱلرَّحْمَٰنِ ۖ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًۭا ٣٧
রাব্বিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ামা বাইনাহুমার রাহমা-নি লা ইয়ামলিকূনা মিনহু খিতা-বা
যিনি আকাশ, পৃথিবী আর এগুলোর মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর প্রতিপালক, তিনি অতি দয়াময়, তাঁর সম্মুখে কথা বলার সাহস কারো হবে না।
يَوْمَ يَقُومُ ٱلرُّوحُ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ صَفًّۭا ۖ لَّا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحْمَٰنُ وَقَالَ صَوَابًۭا ٣٨
ইয়াওমা ইয়াকূমুর রূহু ওয়ালমালা-ইকাতু সাফ্ফাল লা ইয়াতাকাল্লামূনা ইল্লা মান আযিনা লাহুর রাহমা-নু ওয়াকা-লা সাওয়া-বা
সেদিন রূহ (জিবরাঈল) আর ফেরেশতারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে, কেউ কোন কথা বলতে পারবে না, সে ব্যতীত যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দিবেন, আর সে যথার্থ কথাই বলবে।
ذَٰلِكَ ٱلْيَوْمُ ٱلْحَقُّ ۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ مَـَٔابًا ٣٩
যা-লিকাল ইয়াওমুল হাক্কু ফামান শা-আত তাখাযা ইলা রাব্বিহী মাআ-বা
এ দিনটি সত্য, সুনিশ্চিত, অতএব যার ইচ্ছে সে তার প্রতিপালকের দিকে আশ্রয় গ্রহণ করুক।
إِنَّآ أَنذَرْنَٰكُمْ عَذَابًۭا قَرِيبًۭا يَوْمَ يَنظُرُ ٱلْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ ٱلْكَافِرُ يَٰلَيْتَنِى كُنتُ تُرَٰبًۢا ٤٠
ইন্না- আনযারনা-কুম ‘আযা-বান কারীবাঁ ইয়াওমা ইয়ানযুরুল মারউ মা কাদ্দামাত ইয়াদা-হু ওয়ায়াকূলুল কা-ফিরু ইয়া-লাইতানী কুনতু তুরা-বা
আমি তোমাদেরকে নিকটবর্তী শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করছি, যেদিন মানুষ দেখতে পাবে তার হাতগুলো আগেই কী (‘আমাল) পাঠিয়েছে আর কাফির বলবে- ‘হায়! আমি যদি মাটি হতাম (তাহলে আমাকে আজকের এ ‘আযাবের সম্মুখীন হতে হত না)।
النازعات
সূরা আন-নাযিআত
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلنَّٰزِعَٰتِ غَرْقًۭا ١
ওয়ান্না-যি‘আ-তি গারকা
শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা (পাপীদের আত্মা) নির্মমভাবে টেনে বের করে,
وَٱلنَّٰشِطَٰتِ نَشْطًۭا ٢
ওয়ান্না-শিতা-তি নাশতা
আর যারা (নেককারদের আত্মা) খুবই সহজভাবে বের করে,
وَٱلسَّٰبِحَٰتِ سَبْحًۭا ٣
ওয়াস্সা-বিহা-তি সাবহা
শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা দ্রুতগতিতে সাঁতার কাটে,
فَٱلسَّٰبِقَٰتِ سَبْقًۭا ٤
ফাস্সা-বিকা-তি সাবকা
আর (আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য) ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে যায়,
فَٱلْمُدَبِّرَٰتِ أَمْرًۭا ٥
ফালমুদাব্বিরা-তি আমরা
অতঃপর সব কাজের ব্যবস্থা করে।
يَوْمَ تَرْجُفُ ٱلرَّاجِفَةُ ٦
ইয়াওমা তারজুফুর রা-জিফাহ
সেদিন ভূকম্পন প্রকম্পিত করবে,
تَتْبَعُهَا ٱلرَّادِفَةُ ٧
তাতবা‘উহার রা-দিফাহ
তারপর আসবে আরেকটি ভূকম্পন।
قُلُوبٌۭ يَوْمَئِذٍۢ وَاجِفَةٌ ٨
কুলূবুঁ ইয়াওমাইযিঁ ওয়া-জিফাহ
কত হৃদয় সে দিন ভয়ে ভীত হয়ে পড়বে,
أَبْصَٰرُهَا خَٰشِعَةٌۭ ٩
আবসা-রুহা খা-শি‘আহ
তাদের দৃষ্টি নত হবে,
يَقُولُونَ أَءِنَّا لَمَرْدُودُونَ فِى ٱلْحَافِرَةِ ١٠
ইয়াকূলূনা আইন্না লামারদূদূনা ফিল হা-ফিরাহ
তারা বলে, ‘আমাদেরকে কি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে?
أَءِذَا كُنَّا عِظَٰمًۭا نَّخِرَةًۭ ١١
আইযা কুন্না ‘ইযা-মান নাখিরাহ
আমরা যখন পচা-গলা হাড় হয়ে যাব (তখনও)?’
قَالُوا۟ تِلْكَ إِذًۭا كَرَّةٌ خَاسِرَةٌۭ ١٢
কা-লূ তিলকা ইযান কার্রাতুন খা-সিরাহ
তারা বলে, ‘অবস্থা যদি তাই হয় তাহলে এই ফিরিয়ে আনাটাতো সর্বনাশের ব্যাপার হবে।’
فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌۭ وَٰحِدَةٌۭ ١٣
ফাইন্নামা হিয়া যাজরাতুঁ ওয়া-হিদাহ
ওটা তো কেবল একটা বিকট আওয়াজ,
فَإِذَا هُم بِٱلسَّاهِرَةِ ١٤
ফাইযা হুম বিস্সা-হিরাহ
সহসাই তারা খোলা ময়দানে আবির্ভূত হবে।
هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ مُوسَىٰٓ ١٥
হাল আতা-কা হাদীছু মূসা-
মূসার বৃত্তান্ত তোমার কাছে পৌঁছেছে কি?
إِذْ نَادَىٰهُ رَبُّهُۥ بِٱلْوَادِ ٱلْمُقَدَّسِ طُوًى ١٦
ইয না-দা-হু রাব্বুহূ বিলওয়া-দিল মুকাদ্দাসি তুওয়া
যখন তার প্রতিপালক তাকে পবিত্র তুয়া প্রান্তরে ডাক দিয়ে বলেছিলেন
ٱذْهَبْ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُۥ طَغَىٰ ١٧
ইযহাব ইলা ফির‘আওনা ইন্নাহূ তাগা
‘ফেরাউনের কাছে যাও, সে সীমালঙ্ঘন করেছে,
فَقُلْ هَل لَّكَ إِلَىٰٓ أَن تَزَكَّىٰ ١٨
ফাকুল হাল লাকা ইলা- আন তাযাক্কা
তাকে জিজ্ঞেস কর, ‘তুমি কি পবিত্রতা অবলম্বন করতে ইচ্ছুক?
وَأَهْدِيَكَ إِلَىٰ رَبِّكَ فَتَخْشَىٰ ١٩
ওয়াআহদিয়াকা ইলা রাব্বিকা ফাতাখশা
আর আমি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথ দেখাই যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর?’
فَأَرَىٰهُ ٱلْءَايَةَ ٱلْكُبْرَىٰ ٢٠
ফাআরা-হুল আ-য়াতাল কুবরা
অতঃপর মূসা তাকে বিরাট নিদর্শন দেখাল।
فَكَذَّبَ وَعَصَىٰ ٢١
ফাকায্যাবা ওয়া‘আসা
কিন্তু সে অস্বীকার করল ও অমান্য করল।
ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَىٰ ٢٢
ছুম্মা আদবারা ইয়াস‘আ
অতঃপর সে (আল্লাহর বিরুদ্ধে) জোর প্রচেষ্টা চালানোর জন্য (সত্যের) উল্টোপথে ফিরে গেল।
فَحَشَرَ فَنَادَىٰ ٢٣
ফাহাশারা ফানা-দা
সে লোকদেরকে একত্রিত করল আর ঘোষণা দিল।
فَقَالَ أَنَا۠ رَبُّكُمُ ٱلْأَعْلَىٰ ٢٤
ফাকা-লা আনা রাব্বুকুমুল আ‘লা
সে বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ রব’।
فَأَخَذَهُ ٱللَّهُ نَكَالَ ٱلْءَاخِرَةِ وَٱلْأُولَىٰٓ ٢٥
ফাআখাযাহুল্লা-হু নাকা-লাল আ-খিরাতি ওয়ালঊলা-
পরিশেষে আল্লাহ তাকে আখেরাত ও দুনিয়ার ‘আযাবে পাকড়াও করলেন।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَعِبْرَةًۭ لِّمَن يَخْشَىٰٓ ٢٦
ইন্না ফী যা-লিকা লা‘ইবরাতাল লিমান ইয়াখশা-
যে ভয় করে এমন প্রতিটি লোকের জন্য এতে অবশ্যই শিক্ষা আছে।
ءَأَنتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ ٱلسَّمَآءُ ۚ بَنَىٰهَا ٢٧
আআনতুম আশাদ্দু খালকান আমিস সামা-আ বানা-হা
তোমাদের সৃষ্টি বেশি কঠিন না আকাশের? তিনি তো সেটা সৃষ্টি করেছেন।
رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّىٰهَا ٢٨
রাফা‘আ সামকাহা ফাসাওয়া-হা
তার ছাদ অনেক উচ্চে তুলেছেন, অতঃপর তাকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছেন।
وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَىٰهَا ٢٩
ওয়াআগতাশা লাইলাহা ওয়াআখরাজা দুহা-হা
তিনি তার রাতকে আঁধারে ঢেকে দিয়েছেন, আর তার দিবালোক প্রকাশ করেছেন।
وَٱلْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَىٰهَآ ٣٠
ওয়ালআরদা বা‘দা যা-লিকা দাহা-হা-
অতঃপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন।
أَخْرَجَ مِنْهَا مَآءَهَا وَمَرْعَىٰهَا ٣١
আখরাজা মিনহা মা-আহা ওয়ামার‘আ-হা
তিনি তার ভিতর থেকে বের করেছেন তার পানি ও তার তৃণভূমি।
وَٱلْجِبَالَ أَرْسَىٰهَا ٣٢
ওয়ালজিবা-লা আরসা-হা
পবর্তকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন,
مَتَٰعًۭا لَّكُمْ وَلِأَنْعَٰمِكُمْ ٣٣
মাতা-‘আল লাকুম ওয়ালিআন‘আ-মিকুম
এ সমস্ত তোমাদের আর তোমাদের গৃহপালিত পশুগুলোর জীবিকার সামগ্রী।
فَإِذَا جَآءَتِ ٱلطَّآمَّةُ ٱلْكُبْرَىٰ ٣٤
ফাইযা জা-আতিত তা-ম্মাতুল কুবরা
অতঃপর যখন মহাসংকট এসে যাবে।
يَوْمَ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَٰنُ مَا سَعَىٰ ٣٥
ইয়াওমা ইয়াতাযাক্কারুল ইনসা-নু মা সা‘আ
সেদিন মানুষ স্মরণ করবে যা কিছু করার জন্য সে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِمَن يَرَىٰ ٣٦
ওয়াবুর্রিযাতিল জাহীমু লিমান ইয়ারা
এবং জাহান্নামকে দেখানো হবে এমন ব্যক্তিকে যে দেখতে পায়।
فَأَمَّا مَن طَغَىٰ ٣٧
ফাআম্মা মান তাগা
অতঃপর (দুনিয়ায়) যে লোক সীমালঙ্ঘন করেছিল,
وَءَاثَرَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا ٣٨
ওয়াআ-ছারাল হায়া-তাদ দুনইয়া
আর পার্থিব জীবনকে (পরকালের উপর) প্রাধান্য দিয়েছিল
فَإِنَّ ٱلْجَحِيمَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ ٣٩
ফাইন্নাল জাহীমা হিয়াল মা’ওয়া
জাহান্নামই হবে তার আবাসস্থল।
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ وَنَهَى ٱلنَّفْسَ عَنِ ٱلْهَوَىٰ ٤٠
ওয়াআম্মা মান খা-ফা মাকা-মা রাব্বিহী ওয়ানাহান নাফসা ‘আনিল হাওয়া
আর যে লোক তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করেছিল এবং নিজেকে কামনা বাসনা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিল,
فَإِنَّ ٱلْجَنَّةَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ ٤١
ফাইন্নাল জান্নাতা হিয়াল মা’ওয়া
জান্নাতই হবে তার বাসস্থান।
يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَىٰهَا ٤٢
ইয়াসআলূনাকা ‘আনিস সা-‘আতি আইয়্যা-না মুরসা-হা
এরা তোমাকে জিজ্ঞেস করে ক্বিয়ামত সম্পর্কে- ‘কখন তা ঘটবে?’
فِيمَ أَنتَ مِن ذِكْرَىٰهَآ ٤٣
ফীমা আনতা মিন যিকরা-হা-
এর আলোচনার সাথে তোমার কী সম্পর্ক?
إِلَىٰ رَبِّكَ مُنتَهَىٰهَآ ٤٤
ইলা রাব্বিকা মুনতাহা-হা-
এ সংক্রান্ত জ্ঞান তোমার প্রতিপালক পর্যন্তই শেষ।
إِنَّمَآ أَنتَ مُنذِرُ مَن يَخْشَىٰهَا ٤٥
ইন্নামা- আনতা মুনযিরু মান ইয়াখশা-হা
যারা একে ভয় করে তুমি কেবল তাদের সতর্ককারী।
كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوٓا۟ إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَىٰهَا ٤٦
কাআন্নাহুম ইয়াওমা ইয়ারাওনাহা লাম ইয়ালবাছূ ইল্লা ‘আশিয়্যাতান আও দুহা-হা
যেদিন তারা তা দেখবে সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা (পৃথিবীতে) এক সন্ধ্যা বা এক সকালের বেশি অবস্থান করেনি।
عبس
সূরা আবাসা
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
عَبَسَ وَتَوَلَّىٰٓ ١
‘আবাসা ওয়াতাওয়াল্লা-
(নবী) মুখ ভার করল আর মুখ ঘুরিয়ে নিল।
أَن جَآءَهُ ٱلْأَعْمَىٰ ٢
আন জা-আহুল আ‘মা
(কারণ সে যখন কুরায়শ সরদারদের সাথে আলোচনায় রত ছিল তখন) তার কাছে এক অন্ধ ব্যক্তি আসল।
وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُۥ يَزَّكَّىٰٓ ٣
ওয়ামা ইউদরীকা লা‘আল্লাহূ ইয়ায্যাক্কা-
(হে নবী!) তুমি কি জান, সে হয়ত পরিশুদ্ধ হত।
أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ ٱلذِّكْرَىٰٓ ٤
আও ইয়ায্যাক্কারু ফাতানফা‘আহুয যিকরা-
কিংবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে লাগত।
أَمَّا مَنِ ٱسْتَغْنَىٰ ٥
আম-মা মানিসতাগনা
পক্ষান্তরে যে পরোয়া করে না,
فَأَنتَ لَهُۥ تَصَدَّىٰ ٦
ফাআনতা লাহূ তাসাদ্দা
তার প্রতি তুমি মনোযোগ দিচ্ছ।
وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّىٰ ٧
ওয়ামা ‘আলাইকা আল্লা ইয়ায্যাক্কা
সে পরিশুদ্ধ না হলে তোমার উপর কোন দোষ নেই।
وَأَمَّا مَن جَآءَكَ يَسْعَىٰ ٨
ওয়াআম্মা মান জা-আকা ইয়াস‘আ
পক্ষান্তরে যে লোক তোমার কাছে ছুটে আসল।
وَهُوَ يَخْشَىٰ ٩
ওয়াহুওয়া ইয়াখশা
আর সে ভয়ও করে,
فَأَنتَ عَنْهُ تَلَهَّىٰ ١٠
ফাআনতা ‘আনহু তালাহ্হা
তুমি তার প্রতি অমনোযোগী হলে।
كَلَّآ إِنَّهَا تَذْكِرَةٌۭ ١١
কাল্লা- ইন্নাহা তাযকিরাহ
না, এটা মোটেই ঠিক নয়, এটা তো উপদেশ বাণী,
فَمَن شَآءَ ذَكَرَهُۥ ١٢
ফামান শা-আ যাকারাহ
কাজেই যার ইচ্ছে তা স্মরণে রাখবে,
فِى صُحُفٍۢ مُّكَرَّمَةٍۢ ١٣
ফী সুহুফিম মুকার্রামাহ
(এটা লিপিবদ্ধ আছে) মর্যাদাসম্পন্ন কিতাবসমূহে
مَّرْفُوعَةٍۢ مُّطَهَّرَةٍۭ ١٤
মারফূ‘আতিম মুতাহ্হারাহ
সমুন্নত, পবিত্র।
بِأَيْدِى سَفَرَةٍۢ ١٥
বিআইদী সাফারাহ
(এমন) লেখকদের হাতে
كِرَامٍۭ بَرَرَةٍۢ ١٦
কিরা-মিম বারারাহ
(যারা) মহা সম্মানিত পূত-পবিত্র।
قُتِلَ ٱلْإِنسَٰنُ مَآ أَكْفَرَهُۥ ١٧
কুতিলাল ইনসা-নু মা- আকফারাহ
মানুষ ধ্বংস হোক! কোন্ জিনিস তাকে সত্য প্রত্যাখ্যানে উদ্বুদ্ধ করল?
مِنْ أَىِّ شَىْءٍ خَلَقَهُۥ ١٨
মিন আইয়্যি শাইইন খালাকাহ
আল্লাহ তাকে কোন বস্তু হতে সৃষ্টি করেছেন?
مِن نُّطْفَةٍ خَلَقَهُۥ فَقَدَّرَهُۥ ١٩
মিন নুতফাতিন খালাকাহূ ফাকাদ্দারাহ
শুক্রবিন্দু হতে। তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে পরিমিতভাবে গড়ে তুলেছেন।
ثُمَّ ٱلسَّبِيلَ يَسَّرَهُۥ ٢٠
ছুম্মাস সাবীলা ইয়াস্সারাহ
অতঃপর তিনি (উপায়-উপকরণ ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে জীবনে চলার জন্য) তার পথ সহজ করে দিয়েছেন।
ثُمَّ أَمَاتَهُۥ فَأَقْبَرَهُۥ ٢١
ছুম্মা আমা-তাহূ ফাআকবারাহ
অতঃপর তার মৃত্যু ঘটান এবং তাকে কবরস্থ করেন।
ثُمَّ إِذَا شَآءَ أَنشَرَهُۥ ٢٢
ছুম্মা ইযা শা-আ আনশারাহ
অতঃপর যখন তিনি চাইবেন তাকে আবার জীবিত করবেন।
كَلَّا لَمَّا يَقْضِ مَآ أَمَرَهُۥ ٢٣
কাল্লা লাম্মা ইয়াকদি মা- আমারাহ
না, মোটেই না, আল্লাহ তাকে যে নির্দেশ দিয়ে ছিলেন তা সে এখনও পূর্ণ করেনি।
فَلْيَنظُرِ ٱلْإِنسَٰنُ إِلَىٰ طَعَامِهِۦٓ ٢٤
ফালইয়ানযুরিল ইনসা-নু ইলা তা‘আ-মিহ
মানুষ তার খাদ্যের ব্যপারটাই ভেবে দেখুক না কেন।
أَنَّا صَبَبْنَا ٱلْمَآءَ صَبًّۭا ٢٥
আন-না সাবাবনাল মা-আ সাব্বা
আমি প্রচুর পানি ঢালি,
ثُمَّ شَقَقْنَا ٱلْأَرْضَ شَقًّۭا ٢٦
ছুম্মা শাকাকনাল আরদা শাক্কা
তারপর যমীনকে বিদীর্ণ করে দেই,
فَأَنۢبَتْنَا فِيهَا حَبًّۭا ٢٧
ফাআমবাতনা ফীহা হাব্বা
অতঃপর তাতে আমি উৎপন্ন করি-শস্য,
وَعِنَبًۭا وَقَضْبًۭا ٢٨
ওয়া‘ইনাবাঁ ওয়াকাদবা
আঙ্গুর, তাজা শাক-শব্জী,
وَزَيْتُونًۭا وَنَخْلًۭا ٢٩
ওয়াযাইতূনাঁ ওয়ানাখলা
যয়তূন, খেজুর,
وَحَدَآئِقَ غُلْبًۭا ٣٠
ওয়াহাদা-ইকা গুলবা
আর ঘন বৃক্ষ পরিপূর্ণ বাগবাগিচা,
وَفَٰكِهَةًۭ وَأَبًّۭا ٣١
ওয়াফা-কিহাতাঁ ওয়াআব্বা
আর নানান জাতের ফল আর ঘাস-লতাপাতা।
مَّتَٰعًۭا لَّكُمْ وَلِأَنْعَٰمِكُمْ ٣٢
মাতা-‘আল লাকুম ওয়ালিআন‘আ-মিকুম
তোমাদের আর তোমাদের গৃহপালিত পশুগুলোর ভোগের জন্য।
فَإِذَا جَآءَتِ ٱلصَّآخَّةُ ٣٣
ফাইযা জা-আতিস সা-খ্খাহ
অবশেষে যখন কান-ফাটানো শব্দ আসবে;
يَوْمَ يَفِرُّ ٱلْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ ٣٤
ইয়াওমা ইয়াফির্রুল মারউ মিন আখীহ
সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে,
وَأُمِّهِۦ وَأَبِيهِ ٣٥
ওয়াউম্মিহী ওয়াআবীহ
তার মা, তার বাপ,
وَصَٰحِبَتِهِۦ وَبَنِيهِ ٣٦
ওয়াসা-হিবাতিহী ওয়াবানীহ
তার স্ত্রী ও তার সন্তান থেকে,
لِكُلِّ ٱمْرِئٍۢ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍۢ شَأْنٌۭ يُغْنِيهِ ٣٧
লিকুল্লিমরিইম মিনহুম ইয়াওমাইযিন শা’নুঁ ইউগনীহ
সেদিন তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকবে।
وُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍۢ مُّسْفِرَةٌۭ ٣٨
উজূহুঁ ইয়াওমাইযিম মুসফিরাহ
সেদিন কতক মুখ উজ্জ্বল হবে,
ضَاحِكَةٌۭ مُّسْتَبْشِرَةٌۭ ٣٩
দা-হিকাতুম মুসতাবশিরাহ
সহাস্য, উৎফুল্ল।
وَوُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌۭ ٤٠
ওয়াউজূহুঁ ইয়াওমাইযিন ‘আলাইহা গাবারাহ
সেদিন কতক মুখ হবে ধূলিমলিন।
تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ ٤١
তারহাকুহা কাতারাহ
কালিমা ওগুলোকে আচ্ছন্ন করবে।
أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْكَفَرَةُ ٱلْفَجَرَةُ ٤٢
উলা-ইকা হুমুল কাফারাতুল ফাজারাহ
তারাই আল্লাহকে প্রত্যাখ্যানকারী, পাপাচারী।
التكوير
সূরা আত-তাকভীর
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
إِذَا ٱلشَّمْسُ كُوِّرَتْ ١
ইযাশ শামসু কুউইরাত
যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবে
وَإِذَا ٱلنُّجُومُ ٱنكَدَرَتْ ٢
ওয়াইযান নুজূমুনকাদারাত
আর তারকাগুলো যখন তাদের উজ্জ্বলতা হারিয়ে খসে পড়বে।
وَإِذَا ٱلْجِبَالُ سُيِّرَتْ ٣
ওয়াইযাল জিবা-লু সুইয়্যিরাত
পর্বতগুলোকে যখন চলমান করা হবে,
وَإِذَا ٱلْعِشَارُ عُطِّلَتْ ٤
ওয়াইযাল ‘ইশা-রু ‘উত্তিলাত
যখন দশ মাসের গর্ভবতী উটনিগুলোকে অযত্নে পরিত্যাগ করা হবে,
وَإِذَا ٱلْوُحُوشُ حُشِرَتْ ٥
ওয়াইযাল উহূশু হুশিরাত
যখন বনের জন্তু জানোয়ারকে (বন থেকে গুটিয়ে এনে লোকালয়ে) একত্রিত করা হবে,
وَإِذَا ٱلْبِحَارُ سُجِّرَتْ ٦
ওয়াইযাল বিহা-রু সুজ্জিরাত
যখন সমুদ্রগুলোকে প্রজ্জ্বলিত করে উত্তাল করা হবে।
وَإِذَا ٱلنُّفُوسُ زُوِّجَتْ ٧
ওয়াইযান নুফূসু যুউইজাত
যখন দেহের সঙ্গে আত্মাগুলোকে আবার জুড়ে দেয়া হবে,
وَإِذَا ٱلْمَوْءُۥدَةُ سُئِلَتْ ٨
ওয়াইযাল মাওঊদাতু সুইলাত
যখন জীবন্ত পুঁতে-ফেলা কন্যা-শিশুকে জিজ্ঞেস করা হবে,
بِأَىِّ ذَنۢبٍۢ قُتِلَتْ ٩
বিআইয়্যি যামবিন কুতিলাত
কোন্ অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?
وَإِذَا ٱلصُّحُفُ نُشِرَتْ ١٠
ওয়াইযাস সুহুফু নুশিরাত
যখন ‘আমালনামাগুলো খুলে ধরা হবে,
وَإِذَا ٱلسَّمَآءُ كُشِطَتْ ١١
ওয়াইযাস সামা-উ কুশিতাত
যখন আসমানের পর্দা সরিয়ে ফেলা হবে।
وَإِذَا ٱلْجَحِيمُ سُعِّرَتْ ١٢
ওয়াইযাল জাহীমু সু‘‘ইরাত
যখন জাহান্নামকে উসকে দেয়া হবে,
وَإِذَا ٱلْجَنَّةُ أُزْلِفَتْ ١٣
ওয়াইযাল জান্নাতু উযলিফাত
আর জান্নাতকে নিকটে আনা হবে,
عَلِمَتْ نَفْسٌۭ مَّآ أَحْضَرَتْ ١٤
‘আলিমাত নাফসুম মা- আহদারাত
তখন প্রত্যেক ব্যক্তি জানতে পারবে সে কী (সঙ্গে) নিয়ে এসেছে।
فَلَآ أُقْسِمُ بِٱلْخُنَّسِ ١٥
ফালা- উকসিমু বিলখুন্নাস
আমি শপথ করছি (গ্রহের) যা পেছনে সরে যায়,
ٱلْجَوَارِ ٱلْكُنَّسِ ١٦
আলজাওয়া-রিল কুন্নাস
চলে ও লুকিয়ে যায়,
وَٱلَّيْلِ إِذَا عَسْعَسَ ١٧
ওয়াল্লাইলি ইযা ‘আস‘আস
শপথ রাতের যখন তা বিদায় নেয়
وَٱلصُّبْحِ إِذَا تَنَفَّسَ ١٨
ওয়াস্সুবহি ইযা তানাফ্ফাস
আর ঊষার যখন তা নিঃশ্বাস ফেলে অন্ধকারকে বের করে দেয়,
إِنَّهُۥ لَقَوْلُ رَسُولٍۢ كَرِيمٍۢ ١٩
ইন্নাহূ লাকাওলু রাসূলিন কারীম
এ কুরআন নিশ্চয়ই সম্মানিত রসূলের (অর্থাৎ জিবরাঈলের) আনীত বাণী।
ذِى قُوَّةٍ عِندَ ذِى ٱلْعَرْشِ مَكِينٍۢ ٢٠
যী কুওয়াতিন ‘ইনদা যিল ‘আরশি মাকীন
যে শক্তিশালী, ‘আরশের মালিক (আল্লাহ)’র নিকট মর্যাদাশীল।
مُّطَاعٍۢ ثَمَّ أَمِينٍۢ ٢١
মুতা-‘ইন ছাম্মা আমীন
সেখানে মান্য ও বিশ্বস্ত।
وَمَا صَاحِبُكُم بِمَجْنُونٍۢ ٢٢
ওয়ামা সা-হিবুকুম বিমাজনূন
(ওহে মাক্কাবাসী!) তোমাদের সঙ্গী (মুহাম্মাদ) পাগল নয়।
وَلَقَدْ رَءَاهُ بِٱلْأُفُقِ ٱلْمُبِينِ ٢٣
ওয়ালাকাদ রাআ-হু বিলউফুকিল মুবীন
সে সেই বাণী বাহককে সুস্পষ্ট দিগন্তে দেখেছে,
وَمَا هُوَ عَلَى ٱلْغَيْبِ بِضَنِينٍۢ ٢٤
ওয়ামা হুওয়া ‘আলাল গাইবি বিদানীন
সে গায়বের (জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার) ব্যাপারে কৃপণতা করে না।
وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَيْطَٰنٍۢ رَّجِيمٍۢ ٢٥
ওয়ামা হুওয়া বিকাওলি শাইতা-নির রাজীম
আর তা কোন অভিশপ্ত শয়ত্বানের বাণী নয়।
فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ ٢٦
ফাআইনা তাযহাবূন
কাজেই তোমরা (সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে) কোথায় চলেছ?
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌۭ لِّلْعَٰلَمِينَ ٢٧
ইন হুওয়া ইল্লা যিকরুল লিল‘আ-লামীন
এটা তো কেবল বিশ্ববাসীদের জন্য উপদেশ।
لِمَن شَآءَ مِنكُمْ أَن يَسْتَقِيمَ ٢٨
লিমান শা-আ মিনকুম আন ইয়াসতাকীম
তার জন্য- যে তোমাদের মধ্যে সরল সঠিক পথে চলতে চায়।
وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٢٩
ওয়ামা তাশা-ঊনা ইল্লা- আন ইয়াশা-আল্লা-হু রাব্বুল ‘আ-লামীন
তোমরা ইচ্ছে কর না যদি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছে না করেন।
الإنفطار
সূরা আল-ইনফিতার
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
إِذَا ٱلسَّمَآءُ ٱنفَطَرَتْ ١
ইযাস সামা-উনফাতারাত
যখন আসমান ফেটে যাবে,
وَإِذَا ٱلْكَوَاكِبُ ٱنتَثَرَتْ ٢
ওয়াইযাল কাওয়া-কিবুনতাছারাত
যখন তারকাগুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে (ঝরে) পড়বে,
وَإِذَا ٱلْبِحَارُ فُجِّرَتْ ٣
ওয়াইযাল বিহা-রু ফুজ্জিরাত
সমুদ্রকে যখন উত্তাল করে তোলা হবে,
وَإِذَا ٱلْقُبُورُ بُعْثِرَتْ ٤
ওয়াইযাল কুবূরু বু‘ছিরাত
যখন কবরস্থ মানুষদেরকে উঠানো হবে,
عَلِمَتْ نَفْسٌۭ مَّا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ ٥
‘আলিমাত নাফসুম মা কাদ্দামাত ওয়াআখ্খারাত
তখন প্রত্যেকে জেনে নিবে সে কী আগে পাঠিয়েছিল, আর কী পেছনে ছেড়ে এসেছিল।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلْإِنسَٰنُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ ٱلْكَرِيمِ ٦
ইয়া-আইয়্যুহাল ইনসা-নু মা গার্রাকা বিরাব্বিকাল কারীম
হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে?
ٱلَّذِى خَلَقَكَ فَسَوَّىٰكَ فَعَدَلَكَ ٧
আল্লাযী খালাকাকা ফাসাওয়া-কা ফা‘আদালাক
যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন, অতঃপর তোমাকে করেছেন ভারসাম্যপূর্ণ।
فِىٓ أَىِّ صُورَةٍۢ مَّا شَآءَ رَكَّبَكَ ٨
ফী আইয়্যি সূরাতিম মা শা-আ রাক্কাবাক
তিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছেমত আকৃতিতে গঠন করেছেন।
كَلَّا بَلْ تُكَذِّبُونَ بِٱلدِّينِ ٩
কাল্লা বাল তুকায্যিবূনা বিদ্দীন
না (তোমাদের এই বিভ্রান্তি মোটেই সঠিক নয়), তোমরা তো (আখেরাতের) শাস্তি ও পুরস্কারকে অস্বীকার করে থাক;
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَٰفِظِينَ ١٠
ওয়াইন্না ‘আলাইকুম লাহা-ফিযীন
অবশ্যই তোমাদের উপর নিযুক্ত আছে তত্ত্বাবধায়কগণ;
كِرَامًۭا كَٰتِبِينَ ١١
কিরা-মান কা-তিবীন
সম্মানিত লেখকগণ (যারা লিপিবদ্ধ করছে তোমাদের কার্যকলাপ),
يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ ١٢
ইয়া‘লামূনা মা তাফ‘আলূন
তারা জানে তোমরা যা কর।
إِنَّ ٱلْأَبْرَارَ لَفِى نَعِيمٍۢ ١٣
ইন্নাল আবরা-রা লাফী না‘ঈম
নেককারগণ থাকবে নানান নি‘মাতের মাঝে
وَإِنَّ ٱلْفُجَّارَ لَفِى جَحِيمٍۢ ١٤
ওয়াইন্নাল ফুজ্জা-রা লাফী জাহীম
আর পাপীরা থাকবে জাহান্নামে,
يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ ٱلدِّينِ ١٥
ইয়াসলাওনাহা ইয়াওমাদ দীন
কর্মফলের দিন তারা তাতে প্রবেশ করবে।
وَمَا هُمْ عَنْهَا بِغَآئِبِينَ ١٦
ওয়ামা হুম ‘আনহা বিগা-ইবীন
তারা সেখান থেকে কক্ষনো উধাও হয়ে যেতে পারবে না।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا يَوْمُ ٱلدِّينِ ١٧
ওয়ামা- আদরা-কা মা ইয়াওমুদ দীন
তুমি কি জান কর্মফলের দিনটি কী?
ثُمَّ مَآ أَدْرَىٰكَ مَا يَوْمُ ٱلدِّينِ ١٨
ছুম্মা মা- আদরা-কা মা ইয়াওমুদ দীন
আবার বলি, তুমি কি জান কর্মফলের দিনটি কী ?
يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌۭ لِّنَفْسٍۢ شَيْـًۭٔا ۖ وَٱلْأَمْرُ يَوْمَئِذٍۢ لِّلَّهِ ١٩
ইয়াওমা লা তামলিকু নাফসুল লিনাফসিন শাইআঁ ওয়ালআমরু ইয়াওমাইযিল্লিল্লা-হ
সেদিন কোন মানুষ অপরের জন্য কিছু করার সামর্থ্য রাখবে না, সেদিন সকল কর্তৃত্ব থাকবে একমাত্র আল্লাহরই (ইখতিয়ারে)।
المطففين
সূরা আল-মুতাফফিফীন
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَيْلٌۭ لِّلْمُطَفِّفِينَ ١
ওয়াইলুল লিলমুতাফ্ফিফীন
দুর্ভোগ ঠকবাজদের জন্য (যারা মাপে বা ওজনে কম দেয়),
ٱلَّذِينَ إِذَا ٱكْتَالُوا۟ عَلَى ٱلنَّاسِ يَسْتَوْفُونَ ٢
আল্লাযীনা ইযাকতা-লূ ‘আলান না-সি ইয়াসতাওফূন
যারা লোকের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পুরামাত্রায় নেয়,
وَإِذَا كَالُوهُمْ أَو وَّزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ ٣
ওয়াইযা কা-লূহুম আও ওয়াযানূহুম ইউখসিরূন
আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় বা ওজন ক’রে দেয় তখন কম দেয়।
أَلَا يَظُنُّ أُو۟لَٰٓئِكَ أَنَّهُم مَّبْعُوثُونَ ٤
আলা ইয়াযুন্নু উলা-ইকা আন-নাহুম মাব‘ঊছূন
তারা কি চিন্তা করে না যে (তাদের মৃত্যুর পর) তাদেরকে আবার উঠানো হবে,
لِيَوْمٍ عَظِيمٍۢ ٥
লিয়াওমিন ‘আযীম
এক মহা দিবসে।
يَوْمَ يَقُومُ ٱلنَّاسُ لِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٦
ইয়াওমা ইয়াকূমুন না-সু লিরাব্বিল ‘আ-লামীন
যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে।
كَلَّآ إِنَّ كِتَٰبَ ٱلْفُجَّارِ لَفِى سِجِّينٍۢ ٧
কাল্লা- ইন্না কিতা-বাল ফুজ্জা-রি লাফী সিজ্জীন
(তারা যে সব ধারণা করছে তা) কক্ষনো না, নিশ্চয়ই পাপীদের ‘আমালনামা সিজ্জীনে (সংরক্ষিত) আছে।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا سِجِّينٌۭ ٨
ওয়ামা- আদরা-কা মা সিজ্জীন
তুমি কি জান সিজ্জীন কী
كِتَٰبٌۭ مَّرْقُومٌۭ ٩
কিতা-বুম মারকূম
সীলমোহরকৃত কিতাব।
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ١٠
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সেদিন দুর্ভোগ হবে অস্বীকারকারীদের,
ٱلَّذِينَ يُكَذِّبُونَ بِيَوْمِ ٱلدِّينِ ١١
আল্লাযীনা ইউকায্যিবূনা বিয়াওমিদ দীন
যারা কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করে।
وَمَا يُكَذِّبُ بِهِۦٓ إِلَّا كُلُّ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ ١٢
ওয়ামা ইউকায্যিবু বিহী ইল্লা কুল্লু মু‘তাদিন আছীম
কেবল সীমালঙ্ঘনকারী, পাপাচারী ছাড়া কেউই তা অস্বীকার করে না।
إِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِ ءَايَٰتُنَا قَالَ أَسَٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ ١٣
ইযা তুতলা ‘আলাইহি আ-য়া-তুনা কা-লা আসা-তীরুল আওয়ালীন
তার সামনে যখন আমার আয়াত পড়ে শোনানো হয়, তখন সে বলে, ‘এ তো প্রাচীন কালের লোকেদের কাহিনী’’।
كَلَّا ۖ بَلْ ۜ رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ١٤
কাল্লা বাল রা-না ‘আলা কুলূবিহিম মা কা-নূ ইয়াকসিবূন
কক্ষনো না, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং ধরিয়ে দিয়েছে।
كَلَّآ إِنَّهُمْ عَن رَّبِّهِمْ يَوْمَئِذٍۢ لَّمَحْجُوبُونَ ١٥
কাল্লা- ইন্নাহুম ‘আর রাব্বিহিম ইয়াওমাইযিল লামাহজূবূন
কক্ষনো না, তারা সেদিন তাদের প্রতিপালক থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে।
ثُمَّ إِنَّهُمْ لَصَالُوا۟ ٱلْجَحِيمِ ١٦
ছুম্মা ইন্নাহুম লাসা-লুল জাহীম
অতঃপর তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
ثُمَّ يُقَالُ هَٰذَا ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ ١٧
ছুম্মা ইউকা-লু হা-যাল লাযী কুনতুম বিহী তুকায্যিবূন
অতঃপর বলা হবে ‘এটাই তা যা তোমরা অস্বীকার করতে।’
كَلَّآ إِنَّ كِتَٰبَ ٱلْأَبْرَارِ لَفِى عِلِّيِّينَ ١٨
কাল্লা- ইন্না কিতা-বাল আবরা-রি লাফী ‘ইল্লিয়্যীন
(ভাল-মন্দের বিচার হবে না, শাস্তি-পুরস্কার কিছুই হবে না তা) কক্ষনো না, নিশ্চয়ই সৎলোকদের ‘আমালমানা ‘ইল্লিয়ীনে (সংরক্ষিত) আছে।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا عِلِّيُّونَ ١٩
ওয়ামা- আদরা-কা মা ‘ইল্লিয়্যূন
তুমি কি জান ইল্লিয়ীন কী?
كِتَٰبٌۭ مَّرْقُومٌۭ ٢٠
কিতা-বুম মারকূম
সীলমোহরকৃত কিতাব।
يَشْهَدُهُ ٱلْمُقَرَّبُونَ ٢١
ইয়াশহাদুহুল মুকার্রাবূন
আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত (ফেরেশতারা) তার তত্ত্বাবধান করে।
إِنَّ ٱلْأَبْرَارَ لَفِى نَعِيمٍ ٢٢
ইন্নাল আবরা-রা লাফী না‘ঈম
পুণ্যবান লোকেরা থাকবে অফুরন্ত নি‘মাতের মাঝে।
عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ ٢٣
‘আলাল আরা-ইকি ইয়ানযুরূন
উচ্চ আসনে বসে তারা (চারদিকের সবকিছু) দেখতে থাকবে।
تَعْرِفُ فِى وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ ٱلنَّعِيمِ ٢٤
তা‘রিফু ফী উজূহিহিম নাদরাতান না‘ঈম
তুমি তাদের মুখে আরাম আয়েশের উজ্জ্বলতা দেখতে পাবে।
يُسْقَوْنَ مِن رَّحِيقٍۢ مَّخْتُومٍ ٢٥
ইউসকাওনা মির রাহীকিম মাখতূম
তাদেরকে পান করানো হবে সীল-আঁটা উৎকৃষ্ট পানীয়।
خِتَٰمُهُۥ مِسْكٌۭ ۚ وَفِى ذَٰلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ ٱلْمُتَنَٰفِسُونَ ٢٦
খিতা-মুহূ মিসক ওয়াফী যা-লিকা ফালইয়াতানা-ফাসিল মুতানা-ফিসূন
তার সীল হবে মিশকের, প্রতিযোগীরা এ বিষয়েই প্রতিযোগিতা করুক।
وَمِزَاجُهُۥ مِن تَسْنِيمٍ ٢٧
ওয়ামিযা-জুহূ মিন তাসনীম
তাতে মেশানো থাকবে ‘তাসনীম,
عَيْنًۭا يَشْرَبُ بِهَا ٱلْمُقَرَّبُونَ ٢٨
‘আইনাঁ ইয়াশরাবু বিহাল মুকার্রাবূন
ওটা একটা ঝর্ণা, যাত্থেকে (আল্লাহর) নৈকট্যপ্রাপ্তরা পান করবে।
إِنَّ ٱلَّذِينَ أَجْرَمُوا۟ كَانُوا۟ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يَضْحَكُونَ ٢٩
ইন্নাল লাযীনা আজরামূ কা-নূ মিনাল লাযীনা আ-মানূ ইয়াদহাকূন
পাপাচারী লোকেরা (দুনিয়ায়) মু’মিনদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত।
وَإِذَا مَرُّوا۟ بِهِمْ يَتَغَامَزُونَ ٣٠
ওয়াইযা মার্রূ বিহিম ইয়াতাগা-মাযূন
আর তারা যখন তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা করত।
وَإِذَا ٱنقَلَبُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمُ ٱنقَلَبُوا۟ فَكِهِينَ ٣١
ওয়াইযানকালাবূ ইলা- আহলিহিমুনকালাবূ ফাকিহীন
আর তারা যখন তাদের আপন জনদের কাছে ফিরে আসত, তখন (মু’মিনদেরকে ঠাট্টা ক’রে আসার কারণে) ফিরত উৎফুল্ল হয়ে।
وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوٓا۟ إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَضَآلُّونَ ٣٢
ওয়াইযা রাআওহুম কা-লূ ইন্না হা-উলা-ই লাদা-ল্লূন
আর তারা যখন মু’মিনদেরকে দেখত তখন বলত, ‘এরা তো অবশ্যই গুমরাহ্।’
وَمَآ أُرْسِلُوا۟ عَلَيْهِمْ حَٰفِظِينَ ٣٣
ওয়ামা- উরসিলূ ‘আলাইহিম হা-ফিযীন
তাদেরকে তো মু’মিনদের হিফাযাতকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি (মু’মিনদের কৃতকর্মের হিসাব মু’মিনরাই দিবে)।
فَٱلْيَوْمَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنَ ٱلْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ ٣٤
ফালইয়াওমাল লাযীনা আ-মানূ মিনাল কুফ্ফা-রি ইয়াদহাকূন
আজ (জান্নাত হতে) মু’মিনরা কাফিরদের (পরিণতির) উপর হাসছে,
عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ ٣٥
‘আলাল আরা-ইকি ইয়ানযুরূন
উচ্চ আসনে বসে তাদের অবস্থা দেখছে।
هَلْ ثُوِّبَ ٱلْكُفَّارُ مَا كَانُوا۟ يَفْعَلُونَ ٣٦
হাল ছুউইবাল কুফ্ফা-রু মা কা-নূ ইয়াফ‘আলূন
কাফিররা যা করত তার ‘সওয়াব’ পেল তো?
الإنشقاق
সূরা আল-ইনশিকাক
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
إِذَا ٱلسَّمَآءُ ٱنشَقَّتْ ١
ইযাস সামা-উনশাক্কাত
যখন আসমান ফেটে যাবে,
وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ ٢
ওয়াআযিনাত লিরাব্বিহা ওয়াহুক্কাত
এবং স্বীয় রব-এর নির্দেশ পালন করবে, আর তাই তার করণীয়।
وَإِذَا ٱلْأَرْضُ مُدَّتْ ٣
ওয়াইযাল আরদু মুদ্দাত
এবং যমীনকে যখন প্রসারিত করা হবে,
وَأَلْقَتْ مَا فِيهَا وَتَخَلَّتْ ٤
ওয়াআলকাত মা ফীহা ওয়াতাখাল্লাত
আর তা তার ভেতরে যা আছে তা বাইরে নিক্ষেপ করবে ও খালি হয়ে যাবে।
وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ ٥
ওয়াআযিনাত লিরাব্বিহা ওয়াহুক্কাত
এবং স্বীয় রব-এর নির্দেশ পালন করবে আর তাই তার করণীয়।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلْإِنسَٰنُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَىٰ رَبِّكَ كَدْحًۭا فَمُلَٰقِيهِ ٦
ইয়া-আইয়্যুহাল ইনসা-নু ইন্নাকা কা-দিহুন ইলা রাব্বিকা কাদহান ফামুলা-কীহ
হে মানুষ! তোমাকে তোমার রব পর্যন্ত পৌঁছতে বহু কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে।
فَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ ٧
ফাআম্মা মান ঊতিয়া কিতা-বাহূ বিয়ামীনিহ
অতঃপর যার ‘আমালনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে।
فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًۭا يَسِيرًۭا ٨
ফাসাওফা ইউহা-সাবু হিসা-বাঁ ইয়াসীরা
তার হিসাব সহজভাবেই নেয়া হবে।
وَيَنقَلِبُ إِلَىٰٓ أَهْلِهِۦ مَسْرُورًۭا ٩
ওয়ায়ানকালিবু ইলা- আহলিহী মাসরূরা
সে তার স্বজনদের কাছে সানন্দে ফিরে যাবে।
وَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ وَرَآءَ ظَهْرِهِۦ ١٠
ওয়াআম্মা মান ঊতিয়া কিতা-বাহূ ওয়ারা-আ যাহরিহ
আর যাকে তার ‘আমালনামা তার পিঠের পিছন দিক থেকে দেয়া হবে,
فَسَوْفَ يَدْعُوا۟ ثُبُورًۭا ١١
ফাসাওফা ইয়াদ‘ঊ ছুবূরা
সে মৃত্যুকে ডাকবে,
وَيَصْلَىٰ سَعِيرًا ١٢
ওয়ায়াসলা সা‘ঈরা
এবং জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
إِنَّهُۥ كَانَ فِىٓ أَهْلِهِۦ مَسْرُورًا ١٣
ইন্নাহূ কা-না ফী আহলিহী মাসরূরা
সে তার পরিবার-পরিজনের মাঝে আনন্দে মগ্ন ছিল,
إِنَّهُۥ ظَنَّ أَن لَّن يَحُورَ ١٤
ইন্নাহূ যান্না আল লান ইয়াহূর
সে ভাবত যে, সে কক্ষনো (আল্লাহর কাছে) ফিরে যাবে না।
بَلَىٰٓ إِنَّ رَبَّهُۥ كَانَ بِهِۦ بَصِيرًۭا ١٥
বালা- ইন্না রাব্বাহূ কা-না বিহী বাসীরা
অবশ্যই ফিরে যাবে, তার প্রতিপালক তার প্রতি দৃষ্টি রাখছেন।
فَلَآ أُقْسِمُ بِٱلشَّفَقِ ١٦
ফালা- উকসিমু বিশ্শাফাক
আমি শপথ করি সন্ধ্যাকালীন লালিমার,
وَٱلَّيْلِ وَمَا وَسَقَ ١٧
ওয়াল্লাইলি ওয়ামা ওয়াসাক
আর রাতের এবং তা যা কিছুর সমাবেশ ঘটায় তার,
وَٱلْقَمَرِ إِذَا ٱتَّسَقَ ١٨
ওয়ালকামারি ইযাত তাসাক
আর চাঁদের যখন তা পূর্ণ চাঁদে পরিণত হয়,
لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَن طَبَقٍۢ ١٩
লাতারকাবুন্না তাবাকান ‘আন তাবাক
অবশ্যই তোমরা (আধ্যাত্মিক ও জাগতিক সর্বক্ষেত্রে) স্তরে স্তরে উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে উর্ধ্বে উঠবে।
فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ٢٠
ফামা লাহুম লা ইউ’মিনূন
অতএব তাদের কী হল যে তারা ঈমান আনে না?
وَإِذَا قُرِئَ عَلَيْهِمُ ٱلْقُرْءَانُ لَا يَسْجُدُونَ ۩ ٢١
ওয়াইযা কুরিআ ‘আলাইহিমুল কুরআ-নু লা ইয়াসজুদূন
আর তাদের কাছে যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন সাজদাহ করে না?[সাজদাহ]
بَلِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يُكَذِّبُونَ ٢٢
বালিল লাযীনা কাফারূ ইউকায্যিবূন
(কুরআন শুনে সেজদা করা তো দূরের কথা) বরং কাফিররা ওটাকে অস্বীকারই করে।
وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُوعُونَ ٢٣
ওয়াল্লা-হু আ‘লামু বিমা ইউ‘ঊন
আল্লাহ খুব ভাল করেই জানেন তারা (তাদের অন্তরে) কী লুকিয়ে রাখে।
فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ٢٤
ফাবাশ্শিরহুম বি‘আযা-বিন আলীম
কাজেই তাদেরকে মর্মান্তিক ‘আযাবের সুসংবাদ দাও।
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍۭ ٢٥
ইল্লাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি লাহুম আজরুন গাইরু মামনূন
কিন্তু যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তারা বাদে; তাদের জন্য আছে অফুরন্ত প্রতিদান।
البروج
সূরা আল-বুরূজ
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلسَّمَآءِ ذَاتِ ٱلْبُرُوجِ ١
ওয়াস্সামা-ই যা-তিল বুরূজ
শপথ গ্রহ-নক্ষত্র শোভিত আকাশের
وَٱلْيَوْمِ ٱلْمَوْعُودِ ٢
ওয়ালইয়াওমিল মাও‘ঊদ
আর সেদিনের যার ও‘য়াদা করা হয়েছে,
وَشَاهِدٍۢ وَمَشْهُودٍۢ ٣
ওয়াশা-হিদিঁ ওয়ামাশহূদ
আর যে দেখে আর যা দেখা যায় তার শপথ
قُتِلَ أَصْحَٰبُ ٱلْأُخْدُودِ ٤
কুতিলা আসহা-বুল উখদূদ
ধ্বংস হয়েছে গর্ত ওয়ালারা
ٱلنَّارِ ذَاتِ ٱلْوَقُودِ ٥
আন-না-রি যা-তিল ওয়াকূদ
(যে গর্তে) দাউ দাউ করে জ্বলা ইন্ধনের আগুন ছিল,
إِذْ هُمْ عَلَيْهَا قُعُودٌۭ ٦
ইয হুম ‘আলাইহা কু‘ঊদ
যখন তারা গর্তের কিনারায় বসে ছিল
وَهُمْ عَلَىٰ مَا يَفْعَلُونَ بِٱلْمُؤْمِنِينَ شُهُودٌۭ ٧
ওয়াহুম ‘আলা মা ইয়াফ‘আলূনা বিলমু’মিনীনা শুহূদ
আর তারা মু’মিনদের সাথে যা করছিল তা দেখছিল
وَمَا نَقَمُوا۟ مِنْهُمْ إِلَّآ أَن يُؤْمِنُوا۟ بِٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَمِيدِ ٨
ওয়ামা নাকামূ মিনহুম ইল্লা- আন ইউ’মিনূ বিল্লা-হিল ‘আযীযিল হামীদ
তারা তাদেরকে নির্যাতন করেছিল একমাত্র এই কারণে যে, তারা মহাপরাক্রান্ত প্রসংসিত আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল।
ٱلَّذِى لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ شَهِيدٌ ٩
আল্লাযী লাহূ মুলকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়াল্লা-হু ‘আলা কুল্লি শাইইন শাহীদ
আসমান ও যমীনের রাজ্বত্ব যাঁর, আর সেই আল্লাহ সব কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী।
إِنَّ ٱلَّذِينَ فَتَنُوا۟ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا۟ فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ ٱلْحَرِيقِ ١٠
ইন্নাল লাযীনা ফাতানুল মু’মিনীনা ওয়ালমু’মিনা-তি ছুম্মা লাম ইয়াতূবূ ফালাহুম ‘আযা-বু জাহান্নামা ওয়ালাহুম ‘আযা-বুল হারীক
যারা মু’মিন পুরুষ ও নারীদের প্রতি যুলম পীড়ন চালায় অতঃপর তাওবাহ করে না, তাদের জন্য আছে জাহান্নামের শাস্তি, আর আছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার যন্ত্রণা।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُمْ جَنَّٰتٌۭ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ ۚ ذَٰلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْكَبِيرُ ١١
ইন্নাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি লাহুম জান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-র যা-লিকাল ফাওযুল কাবীর
যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের জন্য আছে জান্নাত, যার পাদদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে নির্ঝরিণী, এটা বিরাট সাফল্য।
إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ ١٢
ইন্না বাতশা রাব্বিকা লাশাদীদ
তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও অবশ্যই বড় কঠিন।
إِنَّهُۥ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ ١٣
ইন্নাহূ হুওয়া ইউবদিউ ওয়াইউ‘ঈদ
তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেন অতঃপর সৃষ্টির আবর্তন ঘটান।
وَهُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلْوَدُودُ ١٤
ওয়াহুওয়াল গাফূরুল ওয়াদূদ
তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়,
ذُو ٱلْعَرْشِ ٱلْمَجِيدُ ١٥
যুল ‘আরশিল মাজীদ
‘আরশের অধিপতি, মহা সম্মানিত।
فَعَّالٌۭ لِّمَا يُرِيدُ ١٦
ফা‘‘আ-লুল লিমা ইউরীদ
যা করতে চান তাই করেন।
هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ٱلْجُنُودِ ١٧
হাল আতা-কা হাদীছুল জুনূদ
তোমার কাছে কি সৈন্য বাহিনীর খবর পৌছেছে?
فِرْعَوْنَ وَثَمُودَ ١٨
ফির‘আওনা ওয়াছামূদ
ফেরাউন ও সামূদের? (আল্লাহর ক্ষমতার বিরুদ্ধে তাদের লোক-লস্কর কোন কাজে আসেনি)।
بَلِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى تَكْذِيبٍۢ ١٩
বালিল লাযীনা কাফারূ ফী তাকযীব
তবুও কাফিররা সত্য প্রত্যাখ্যান করেই চলেছে।
وَٱللَّهُ مِن وَرَآئِهِم مُّحِيطٌۢ ٢٠
ওয়াল্লা-হু মিন ওয়ারা-ইহিম মুহীত
আর আল্লাহ আড়াল থেকে ওদেরকে ঘিরে রেখেছেন।
بَلْ هُوَ قُرْءَانٌۭ مَّجِيدٌۭ ٢١
বাল হুওয়া কুরআ-নুম মাজীদ
(কাফিররা অমান্য করলেও এ কুরআনের কোনই ক্ষতি হবে না) বস্তুতঃ এটা সম্মানিত কুরআন,
فِى لَوْحٍۢ مَّحْفُوظٍۭ ٢٢
ফী লাওহিম মাহফূয
সুরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।
الطارق
সূরা আত-তারিক
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلسَّمَآءِ وَٱلطَّارِقِ ١
ওয়াস্সামা-ই ওয়াত্তা-রিক
শপথ আসমানের আর যা রাতে আসে তার,
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلطَّارِقُ ٢
ওয়ামা- আদরা-কা মাত তা-রিক
তুমি কি জান যা রাতে আসে তা কী?
ٱلنَّجْمُ ٱلثَّاقِبُ ٣
আন-নাজমুছ ছা-কিব
উজ্জ্বল নক্ষত্র।
إِن كُلُّ نَفْسٍۢ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌۭ ٤
ইন কুল্লু নাফসিল লাম্মা ‘আলাইহা হা-ফিয
প্রত্যেক আত্মার সাথে একজন সংরক্ষক আছে।
فَلْيَنظُرِ ٱلْإِنسَٰنُ مِمَّ خُلِقَ ٥
ফালইয়ানযুরিল ইনসা-নু মিম্মা খুলিক
অতঃপর মানুষ চিন্তা করে দেখুক কোন জিনিস থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
خُلِقَ مِن مَّآءٍۢ دَافِقٍۢ ٦
খুলিকা মিম মা-ইন দা-ফিক
তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে বের হয়ে আসা পানি থেকে।
يَخْرُجُ مِنۢ بَيْنِ ٱلصُّلْبِ وَٱلتَّرَآئِبِ ٧
ইয়াখরুজু মিম বাইনিস সুলবি ওয়াত্তারা-ইব
যা বের হয় শিরদাঁড়া ও পাঁজরের মাঝখান থেকে।
إِنَّهُۥ عَلَىٰ رَجْعِهِۦ لَقَادِرٌۭ ٨
ইন্নাহূ ‘আলা রাজ‘ইহী লাকা-দির
তিনি মানুষকে আবার (জীবনে) ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই সক্ষম।
يَوْمَ تُبْلَى ٱلسَّرَآئِرُ ٩
ইয়াওমা তুবলাস সারা-ইর
যেদিন (কাজকর্ম আকীদা বিশ্বাস ও নিয়্যাত সম্পর্কিত) গোপন বিষয়াদি যাচাই পরখ করা হবে।
فَمَا لَهُۥ مِن قُوَّةٍۢ وَلَا نَاصِرٍۢ ١٠
ফামা লাহূ মিন কুওয়াতিঁ ওয়ালা না-সির
সেদিন মানুষের না থাকবে নিজের কোন সামর্থ্য, আর না থাকবে কোন সাহায্যকারী।
وَٱلسَّمَآءِ ذَاتِ ٱلرَّجْعِ ١١
ওয়াস্সামা-ই যা-তির রাজ‘
ঘুরে ঘুরে আসা বৃষ্টিবাহী আকাশের শপথ,
وَٱلْأَرْضِ ذَاتِ ٱلصَّدْعِ ١٢
ওয়ালআরদি যা-তিস সাদ‘
এবং গাছপালার চারা গজানোর সময় বক্ষ দীর্ণকারী যমীনের শপথ, (বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে বৃক্ষলতার উৎপাদন যেমন অকাট্য সত্য, তেমনি কুরআন যা ঘোষণা করে তাও অকাট্য সত্য)
إِنَّهُۥ لَقَوْلٌۭ فَصْلٌۭ ١٣
ইন্নাহূ লাকাওলুন ফাসল
কুরআন (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী) চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী বাণী,
وَمَا هُوَ بِٱلْهَزْلِ ١٤
ওয়ামা হুওয়া বিলহাযল
এবং তা কোন হাসি-ঠাট্টামূলক কথা নয়।
إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًۭا ١٥
ইন্নাহুম ইয়াকীদূনা কাইদা
এবং তারা (সত্যের বিরুদ্ধে) ষড়যন্ত্র করছে,
وَأَكِيدُ كَيْدًۭا ١٦
ওয়াআকীদু কাইদা
আর আমিও (তাদের অন্যায় ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র ভন্ডুল করার) কৌশল করছি।
فَمَهِّلِ ٱلْكَٰفِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًۢا ١٧
ফামাহ্হিলিল কা-ফিরীনা আমহিলহুম রুওয়াইদা
কাজেই (এই ষড়যন্ত্রকারী) কাফিরদেরকে অবকাশ দাও, তাদেরকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও।
الأعلى
সূরা আল-আলা
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
سَبِّحِ ٱسْمَ رَبِّكَ ٱلْأَعْلَى ١
সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ‘লা
তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
ٱلَّذِى خَلَقَ فَسَوَّىٰ ٢
আল্লাযী খালাকা ফাসাওয়া
যিনি সৃষ্টি করেছেন অতঃপর করেছেন (দেহের প্রতিটি অঙ্গকে) সামঞ্জস্যপূর্ণ।
وَٱلَّذِى قَدَّرَ فَهَدَىٰ ٣
ওয়াল্লাযী কাদ্দারা ফাহাদা
যিনি সকল বস্তুকে পরিমাণ মত সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর (জীবনে চলার) পথনির্দেশ করেছেন।
وَٱلَّذِىٓ أَخْرَجَ ٱلْمَرْعَىٰ ٤
ওয়াল্লাযী আখরাজাল মার‘আ
যিনি তৃণ ইত্যাদি বের করেছেন।
فَجَعَلَهُۥ غُثَآءً أَحْوَىٰ ٥
ফাজা‘আলাহূ গুছা-আন আহওয়া
অতঃপর তাকে কাল আবর্জনায় পরিণত করেছেন।
سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنسَىٰٓ ٦
সানুকরিউকা ফালা তানসা-
আমি তোমাকে পড়িয়ে দেব, যার ফলে তুমি ভুলে যাবে না।
إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُ ۚ إِنَّهُۥ يَعْلَمُ ٱلْجَهْرَ وَمَا يَخْفَىٰ ٧
ইল্লা মা শা-আল্লা-হ ইন্নাহূ ইয়া‘লামুল জাহরা ওয়ামা ইয়াখফা
তবে ওটা বাদে যেটা আল্লাহ (রহিত করার) ইচ্ছে করবেন। তিনি জানেন যা প্রকাশ্য আর যা গোপন।
وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَىٰ ٨
ওয়ানুয়াস্সিরুকা লিলইউসরা
আমি তোমার জন্য সহজপথ (অনুসরণ করা) আরো সহজ করে দেব।
فَذَكِّرْ إِن نَّفَعَتِ ٱلذِّكْرَىٰ ٩
ফাযাক্কির ইন নাফা‘আতিয যিকরা
কাজেই তুমি উপদেশ দাও যদি উপদেশ উপকার দেয়।
سَيَذَّكَّرُ مَن يَخْشَىٰ ١٠
সায়ায্যাক্কারু মান ইয়াখশা
যে ভয় করে সে উপদেশ গ্রহণ করবে।
وَيَتَجَنَّبُهَا ٱلْأَشْقَى ١١
ওয়ায়াতাজান্নাবুহাল আশকা
আর তা উপেক্ষা করবে যে চরম হতভাগা।
ٱلَّذِى يَصْلَى ٱلنَّارَ ٱلْكُبْرَىٰ ١٢
আল্লাযী ইয়াসলান না-রাল কুবরা
যে ভয়াবহ আগুনে প্রবেশ করবে।
ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَىٰ ١٣
ছুম্মা লা ইয়ামূতু ফীহা ওয়ালা ইয়াহইয়া
অতঃপর সেখানে সে না (মরার মত) মরবে, আর না (বাঁচার মত) বাঁচবে।
قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ ١٤
কাদ আফলাহা মান তাযাক্কা
সাফল্য লাভ করবে সে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে,
وَذَكَرَ ٱسْمَ رَبِّهِۦ فَصَلَّىٰ ١٥
ওয়াযাকারাসমা রাব্বিহী ফাসাল্লা
আর তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও নামায কায়েম করে।
بَلْ تُؤْثِرُونَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا ١٦
বাল তু’ছিরূনাল হায়া-তাদ দুনইয়া
কিন্তু তোমরা তো দুনিয়ার জীবনকেই প্রাধান্য দাও,
وَٱلْءَاخِرَةُ خَيْرٌۭ وَأَبْقَىٰٓ ١٧
ওয়ালআ-খিরাতু খাইরুঁ ওয়াআবকা-
অথচ আখিরাতই অধিক উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।
إِنَّ هَٰذَا لَفِى ٱلصُّحُفِ ٱلْأُولَىٰ ١٨
ইন্না হা-যা লাফিস সুহুফিল ঊলা
আগের কিতাবগুলোতে এ কথা (লিপিবদ্ধ) আছে,
صُحُفِ إِبْرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ ١٩
সুহুফি ইবরা-হীমা ওয়ামূসা
ইবরাহীম ও মূসার কিতাবে।
الغاشية
সূরা আল-গাশিয়াহ
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ٱلْغَٰشِيَةِ ١
হাল আতা-কা হাদীছুল গা-শিয়াহ
(সব কিছুকে) আচ্ছন্নকারী কিয়ামাতের খবর তোমার কাছে পৌঁছেছে কি?
وُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍ خَٰشِعَةٌ ٢
উজূহুঁ ইয়াওমাইযিন খা-শি‘আহ
কতক মুখ সেদিন নীচু হবে
عَامِلَةٌۭ نَّاصِبَةٌۭ ٣
‘আ-মিলাতুন না-সিবাহ
হবে কর্মক্লান্ত, শ্রান্ত।
تَصْلَىٰ نَارًا حَامِيَةًۭ ٤
তাসলা না-রান হা-মিয়াহ
তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
تُسْقَىٰ مِنْ عَيْنٍ ءَانِيَةٍۢ ٥
তুসকা মিন ‘আইনিন আ-নিয়াহ
টগবগে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে তাদেরকে পান করানো হবে।
لَّيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٍۢ ٦
লাইসা লাহুম তা‘আ-মুন ইল্লা মিন দারী‘
কাঁটাযুক্ত শুকনো ঘাস ছাড়া তাদের জন্য আর কোন খাদ্য থাকবে না।
لَّا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِى مِن جُوعٍۢ ٧
লা ইউসমিনু ওয়ালা ইউগনী মিন জূ‘
যা পুষ্টিসাধন করবে না, আর ক্ষুধাও মিটাবে না।
وُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍۢ نَّاعِمَةٌۭ ٨
উজূহুঁ ইয়াওমাইযিন না-‘ইমাহ
কতক মুখ সেদিন হবে আনন্দে উজ্জ্বল।
لِّسَعْيِهَا رَاضِيَةٌۭ ٩
লিসা‘ইয়িহা রা-দিয়াহ
নিজেদের চেষ্টা-সাধনার জন্য সন্তুষ্ট।
فِى جَنَّةٍ عَالِيَةٍۢ ١٠
ফী জান্নাতিন ‘আ-লিয়াহ
উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ জান্নাতে,
لَّا تَسْمَعُ فِيهَا لَٰغِيَةًۭ ١١
লা তাসমা‘উ ফীহা লা-গিয়াহ
সেখানে শুনবে না কোন অনর্থক কথাবার্তা,
فِيهَا عَيْنٌۭ جَارِيَةٌۭ ١٢
ফীহা ‘আইনুন জা-রিয়াহ
সেখানে থাকবে প্রবহমান ঝর্ণা,
فِيهَا سُرُرٌۭ مَّرْفُوعَةٌۭ ١٣
ফীহা সুরুরুম মারফূ‘আহ
সেখানে থাকবে উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন আসন,
وَأَكْوَابٌۭ مَّوْضُوعَةٌۭ ١٤
ওয়াআকওয়া-বুম মাওদূ‘আহ
পানপাত্র থাকবে প্রস্তুত।
وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌۭ ١٥
ওয়ানামা-রিকু মাসফূফাহ
সারি সারি বালিশ,
وَزَرَابِىُّ مَبْثُوثَةٌ ١٦
ওয়াযারা-বিয়্যু মাবছূছাহ
আর থাকবে মখমল- বিছানো।
أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى ٱلْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ ١٧
আফালা ইয়ানযুরূনা ইলাল ইবিলি কাইফা খুলিকাত
(ক্বিয়ামত হবে একথা যারা অমান্য করে) তারা কি উটের প্রতি লক্ষ্য করে না, (সৃষ্টি কুশলতায় ভরপুর ক’রে) কী ভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে?
وَإِلَى ٱلسَّمَآءِ كَيْفَ رُفِعَتْ ١٨
ওয়াইলাস সামা-ই কাইফা রুফি‘আত
এবং আসমানের দিকে, কীভাবে তা ঊর্ধ্বে উঠানো হয়েছে?
وَإِلَى ٱلْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ ١٩
ওয়াইলাল জিবা-লি কাইফা নুসিবাত
এবং পর্বতমালার দিকে, কী রকম দৃঢ়ভাবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে?
وَإِلَى ٱلْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ ٢٠
ওয়াইলাল আরদি কাইফা সুতিহাত
আর যমীনের দিকে, কীভাবে তাকে বিছিয়ে দেয়া হয়েছে?
فَذَكِّرْ إِنَّمَآ أَنتَ مُذَكِّرٌۭ ٢١
ফাযাক্কির ইন্নামা- আনতা মুযাক্কির
কাজেই তুমি তাদেরকে উপদেশ দাও, তুমি একজন উপদেশদাতা মাত্র।
لَّسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ ٢٢
লাসতা ‘আলাইহিম বিমুসাইতির
তুমি তাদের ওপর জবরদস্তিকারী নও।
إِلَّا مَن تَوَلَّىٰ وَكَفَرَ ٢٣
ইল্লা মান তাওয়াল্লা ওয়াকাফার
তবে কেউ কুফুরি করলে এবং মুখ ফিরিয়ে নিলে
فَيُعَذِّبُهُ ٱللَّهُ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَكْبَرَ ٢٤
ফাইউ‘আয্যিবুহুল্লা-হুল ‘আযা-বাল আকবার
আল্লাহ তাকে মহাশাস্তিতে শাস্তি দেবেন।
إِنَّ إِلَيْنَآ إِيَابَهُمْ ٢٥
ইন্না ইলাইনা- ইয়া-বাহুম
তাদেরকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে।
ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُم ٢٦
ছুম্মা ইন্না ‘আলাইনা হিসা-বাহুম
অতঃপর তাদের হিসাব নেয়া তো আমারই কাজ।
الفجر
সূরা আল-ফাজর
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلْفَجْرِ ١
ওয়ালফাজর
ঊষার শপথ,
وَلَيَالٍ عَشْرٍۢ ٢
ওয়ালায়া-লিন ‘আশর
(জিলহাজ্জ মাসের প্রথম) দশ রাতের শপথ,
وَٱلشَّفْعِ وَٱلْوَتْرِ ٣
ওয়াশ্শাফ‘ই ওয়ালওয়াতর
জোড় ও বেজোড়ের শপথ,
وَٱلَّيْلِ إِذَا يَسْرِ ٤
ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াসর
আর রাতের শপথ যখন তা গত হতে থাকে,
هَلْ فِى ذَٰلِكَ قَسَمٌۭ لِّذِى حِجْرٍ ٥
হাল ফী যা-লিকা কাসামুল লিযী হিজর
অবশ্যই এতে জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য শপথ আছে।
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ ٦
আলাম তারা কাইফা ফা‘আলা রাব্বুকা বি‘আ-দ
তুমি কি দেখনি তোমার প্রতিপালক ‘আদ জাতির সঙ্গে কী ব্যবহার করেছিলেন?
إِرَمَ ذَاتِ ٱلْعِمَادِ ٧
ইরামা যা-তিল ‘ইমা-দ
উচ্চ স্তম্ভ নির্মাণকারী ইরাম গোত্রের প্রতি?
ٱلَّتِى لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِى ٱلْبِلَٰدِ ٨
আল্লাতী লাম ইউখলাক মিছলুহা ফিল বিলা-দ
যার সমতুল্য অন্য কোন দেশে নির্মিত হয়নি।
وَثَمُودَ ٱلَّذِينَ جَابُوا۟ ٱلصَّخْرَ بِٱلْوَادِ ٩
ওয়াছামূদাল লাযীনা জা-বুস সাখরা বিলওয়া-দ
এবং সামূদের প্রতি যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল?
وَفِرْعَوْنَ ذِى ٱلْأَوْتَادِ ١٠
ওয়াফির‘আওনা যিল আওতা-দ
এবং (সেনা ছাউনী স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত) কীলক-এর অধিপতি ফেরাউনের প্রতি?
ٱلَّذِينَ طَغَوْا۟ فِى ٱلْبِلَٰدِ ١١
আল্লাযীনা তাগাও ফিল বিলা-দ
যারা দেশে সীমালঙ্ঘনমূলক আচরণ করেছিল,
فَأَكْثَرُوا۟ فِيهَا ٱلْفَسَادَ ١٢
ফাআকছারূ ফীহাল ফাসা-দ
আর সেখানে বহু বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ ١٣
ফাসাব্বা ‘আলাইহিম রাব্বুকা সাওতা ‘আযা-ব
অতঃপর তোমার প্রতিপালক তাদের উপর শাস্তির চাবুক হানলেন
إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلْمِرْصَادِ ١٤
ইন্না রাব্বাকা লাবিলমিরসা-দ
তোমার প্রতিপালক অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন (যেমন ঘাঁটিতে শত্রুর প্রতি দৃষ্টি রাখা হয়)।
فَأَمَّا ٱلْإِنسَٰنُ إِذَا مَا ٱبْتَلَىٰهُ رَبُّهُۥ فَأَكْرَمَهُۥ وَنَعَّمَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَكْرَمَنِ ١٥
ফাআম্মাল ইনসা-নু ইযা মাবতালা-হু রাব্বুহূ ফাআকরামাহূ ওয়ানা‘‘আমাহূ ফায়াকূলু রাব্বী আকরামান
মানুষ এমন যে, তার প্রতিপালক যখন তাকে পরীক্ষা করেন সম্মান ও অনুগ্রহ দান ক’রে, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে সম্মানিত করেছেন।’
وَأَمَّآ إِذَا مَا ٱبْتَلَىٰهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَهَٰنَنِ ١٦
ওয়াআম্মা- ইযা মাবতালা-হু ফাকাদারা ‘আলাইহি রিযকাহূ ফায়াকূলু রাব্বী আহা-নান
আর যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করেন তার রিযক সঙ্কুচিত ক’রে, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন।’
كَلَّا ۖ بَل لَّا تُكْرِمُونَ ٱلْيَتِيمَ ١٧
কাল্লা বাল লা তুকরিমূনাল ইয়াতীম
না (রিযক) কক্ষনো (মান-সম্মানের মানদন্ড) নয়, বরং তোমরা ইয়াতীমের প্রতি সম্মানজনক আচরণ কর না,
وَلَا تَحَٰٓضُّونَ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ ١٨
ওয়ালা তাহা-দ্দূনা ‘আলা তা‘আ-মিল মিসকীন
আর তোমরা ইয়াতীম মিসকিনকে খাদ্য দেয়ার জন্য পরস্পরকে উৎসাহিত কর না,
وَتَأْكُلُونَ ٱلتُّرَاثَ أَكْلًۭا لَّمًّۭا ١٩
ওয়াতা’কুলূনাত তুরা-ছা আকলাল লাম্মা
আর তোমরা উত্তরাধিকারীদের সব সম্পদ খেয়ে ফেল।
وَتُحِبُّونَ ٱلْمَالَ حُبًّۭا جَمًّۭا ٢٠
ওয়াতুহিব্বূনাল মা-লা হুব্বান জাম্মা
আর তোমরা ধনসম্পদকে অতিরিক্ত ভালবাস।
كَلَّآ إِذَا دُكَّتِ ٱلْأَرْضُ دَكًّۭا دَكًّۭا ٢١
কাল্লা- ইযা দুক্কাতিল আরদু দাক্কান দাক্কা
এটা মোটেই ঠিক নয়, যখন পৃথিবীকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে বালি বানিয়ে দেয়া হবে,
وَجَآءَ رَبُّكَ وَٱلْمَلَكُ صَفًّۭا صَفًّۭا ٢٢
ওয়াজা-আ রাব্বুকা ওয়ালমালাকু সাফ্ফান সাফ্ফা
আর যখন তোমার প্রতিপালক আসবেন আর ফেরেশতারা আসবে সারিবদ্ধ হয়ে,
وَجِا۟ىٓءَ يَوْمَئِذٍۭ بِجَهَنَّمَ ۚ يَوْمَئِذٍۢ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَٰنُ وَأَنَّىٰ لَهُ ٱلذِّكْرَىٰ ٢٣
ওয়াজীআ ইয়াওমাইযিম বিজাহান্নাম ইয়াওমাইযিঁ ইয়াতাযাক্কারুল ইনসা-নু ওয়াআন্না লাহুয যিকরা
আর জাহান্নামকে সেদিন (সামনাসামনি) আনা হবে। সেদিন মানুষ উপলব্ধি করবে, কিন্তু তখন এ উপলব্ধি তার কী কাজে আসবে?
يَقُولُ يَٰلَيْتَنِى قَدَّمْتُ لِحَيَاتِى ٢٤
ইয়াকূলু ইয়া-লাইতানী কাদ্দামতু লিহায়া-তী
সে বলবে, ‘হায়! আমার (এখনকার) জীবনের জন্য যদি আমি (সৎকর্ম) আগে পাঠাতাম!
فَيَوْمَئِذٍۢ لَّا يُعَذِّبُ عَذَابَهُۥٓ أَحَدٌۭ ٢٥
ফায়াওমাইযিল লা ইউ‘আয্যিবু ‘আযা-বাহূ আহাদ
অতঃপর সেদিন তাঁর শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিতে পারবে না
وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُۥٓ أَحَدٌۭ ٢٦
ওয়ালা ইউছিকু ওয়াছা-কাহূ আহাদ
এবং তাঁর বাঁধনের মত কেউ বাঁধতে পারবে না।
يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفْسُ ٱلْمُطْمَئِنَّةُ ٢٧
ইয়া-আইয়্যাতুহান নাফসুল মুতমাইন্নাহ
(অপর দিকে নেককার লোককে বলা হবে) হে প্রশান্ত আত্মা!
ٱرْجِعِىٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةًۭ مَّرْضِيَّةًۭ ٢٨
ইরজি‘ঈ ইলা রাব্বিকি রা-দিয়াতাম মারদিয়্যাহ
তোমার রব-এর দিকে ফিরে এসো সন্তুষ্ট হয়ে এবং (তোমার রব-এর) সন্তুষ্টির পাত্র হয়ে।
فَٱدْخُلِى فِى عِبَٰدِى ٢٩
ফাদখুলী ফী ‘ইবা-দী
অতঃপর আমার (নেক) বান্দাহদের মধ্যে শামিল হও
وَٱدْخُلِى جَنَّتِى ٣٠
ওয়াদখুলী জান্নাতী
আর আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।
البلد
সূরা আল-বালাদ
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
لَآ أُقْسِمُ بِهَٰذَا ٱلْبَلَدِ ١
লা- উকসিমু বিহা-যাল বালাদ
(কাফিররা বলছে দুনিয়ার জীবনই সবকিছু) না, আমি এই (মক্কা) নগরের শপথ করছি (যে নগরে সকলেই নিরাপদ),
وَأَنتَ حِلٌّۢ بِهَٰذَا ٱلْبَلَدِ ٢
ওয়াআনতা হিল্লুম বিহা-যাল বালাদ
আর তুমি এই নগরের হালালকারী।
وَوَالِدٍۢ وَمَا وَلَدَ ٣
ওয়াওয়া-লিদিঁ ওয়ামা ওয়ালাদ
শপথ জন্মদাতা (আদম)-এর আর যা সে জন্ম দিয়েছে (সেই সমস্ত মানুষের),
لَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ فِى كَبَدٍ ٤
লাকাদ খালাকনাল ইনসা-না ফী কাবাদ
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি অত্যন্ত কষ্ট ও শ্রমের মাঝে, (দুনিয়ার প্রত্যেকটি মানুষ কোন না কোন কষ্টের মধ্যে পতিত আছে)।
أَيَحْسَبُ أَن لَّن يَقْدِرَ عَلَيْهِ أَحَدٌۭ ٥
আয়াহসাবু আল লান ইয়াকদিরা ‘আলাইহি আহাদ
সে কি মনে করে যে তার উপর কেউ ক্ষমতাবান নেই?
يَقُولُ أَهْلَكْتُ مَالًۭا لُّبَدًا ٦
ইয়াকূলু আহলাকতু মা-লাল লুবাদা
সে (গর্বের সঙ্গে) বলে যে, আমি প্রচুর ধন-সম্পদ উড়িয়েছি।
أَيَحْسَبُ أَن لَّمْ يَرَهُۥٓ أَحَدٌ ٧
আয়াহসাবু আল লাম ইয়ারাহূ আহাদ
সে কি মনে করে যে তাকে কেউ দেখেনি?
أَلَمْ نَجْعَل لَّهُۥ عَيْنَيْنِ ٨
আলাম নাজ‘আল লাহূ ‘আইনাইন
আমি কি তাকে দু’টো চোখ দিইনি?
وَلِسَانًۭا وَشَفَتَيْنِ ٩
ওয়ালিসা-নাঁ ওয়াশাফাতাইন
আর একটা জিহবা আর দু’টো ঠোঁট?
وَهَدَيْنَٰهُ ٱلنَّجْدَيْنِ ١٠
ওয়াহাদাইনা-হুন নাজদাইন
আর আমি তাকে (পাপ ও পুণ্যের) দু’টো পথ দেখিয়েছি।
فَلَا ٱقْتَحَمَ ٱلْعَقَبَةَ ١١
ফালাকতাহামাল ‘আকাবাহ
(মানুষকে এত গুণবৈশিষ্ট্য ও মেধা দেয়া সত্ত্বেও) সে (ধর্মের) দুর্গম গিরি পথে প্রবেশ করল না।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْعَقَبَةُ ١٢
ওয়ামা- আদরা-কা মাল ‘আকাবাহ
তুমি কি জান দুর্গম গিরিপথ কী?
فَكُّ رَقَبَةٍ ١٣
ফাক্কু রাকাবাহ
(তা হচ্ছে) দাসমুক্তি।
أَوْ إِطْعَٰمٌۭ فِى يَوْمٍۢ ذِى مَسْغَبَةٍۢ ١٤
আও ইত‘আ-মুন ফী ইয়াওমিন যী মাসগাবাহ
অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে খাদ্য দান
يَتِيمًۭا ذَا مَقْرَبَةٍ ١٥
ইয়াতীমান যা মাকরাবাহ
নিকটাত্মীয় ইয়াতীমকে,
أَوْ مِسْكِينًۭا ذَا مَتْرَبَةٍۢ ١٦
আও মিসকীনান যা মাতরাবাহ
অথবা দারিদ্র-ক্লিষ্ট মিসকীনকে।
ثُمَّ كَانَ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلصَّبْرِ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلْمَرْحَمَةِ ١٧
ছুম্মা কা-না মিনাল লাযীনা আ-মানূ ওয়াতাওয়া-সাও বিস্সাবরি ওয়াতাওয়া-সাও বিলমারহামাহ
তদুপরি সে মু’মিনদের মধ্যে শামিল হয় আর পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের ও দয়া প্রদর্শনের উপদেশ দেয়।
أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْمَيْمَنَةِ ١٨
উলা-ইকা আসহা-বুল মাইমানাহ
তারাই ডানপন্থী (সৌভাগ্যবান লোক)।
وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا هُمْ أَصْحَٰبُ ٱلْمَشْـَٔمَةِ ١٩
ওয়াল্লাযীনা কাফারূ বিআ-য়া-তিনা হুম আসহা-বুল মাশআমাহ
আর যারা আমার আয়াতকে অস্বীকার করে তারাই বামপন্থী (হতভাগা)।
عَلَيْهِمْ نَارٌۭ مُّؤْصَدَةٌۢ ٢٠
‘আলাইহিম না-রুম মু’সাদাহ
তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে অবরুদ্ধকারী আগুন।
الشمس
সূরা আশ-শামস
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلشَّمْسِ وَضُحَىٰهَا ١
ওয়াশ্শামসি ওয়াদুহা-হা
শপথ সূর্যের ও তার (উজ্জ্বল) কিরণের,
وَٱلْقَمَرِ إِذَا تَلَىٰهَا ٢
ওয়ালকামারি ইযা তালা-হা
শপথ চাঁদের যখন তা সূর্যের পিছনে আসে,
وَٱلنَّهَارِ إِذَا جَلَّىٰهَا ٣
ওয়ান্নাহা-রি ইযা জাল্লা-হা
শপথ দিনের যখন তা সূর্যকে উদ্ভাসিত করে,
وَٱلَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰهَا ٤
ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগশা-হা
শপথ রাতের যখন তা সূর্যকে ঢেকে নেয়,
وَٱلسَّمَآءِ وَمَا بَنَىٰهَا ٥
ওয়াস্সামা-ই ওয়ামা বানা-হা
শপথ আসমানের আর সেটা যিনি বানিয়েছেন তাঁর,
وَٱلْأَرْضِ وَمَا طَحَىٰهَا ٦
ওয়ালআরদি ওয়ামা তাহা-হা
শপথ যমীনের আর সেটা যিনি বিছিয়েছেন তাঁর,
وَنَفْسٍۢ وَمَا سَوَّىٰهَا ٧
ওয়ানাফসিঁ ওয়ামা সাওয়া-হা
শপথ প্রাণের আর তাঁর যিনি তা সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন,
فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَىٰهَا ٨
ফাআলহামাহা ফুজূরাহা ওয়াতাকওয়া-হা
অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন।
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّىٰهَا ٩
কাদ আফলাহা মান যাক্কা-হা
সেই সফলকাম হয়েছে যে নিজ আত্মাকে পবিত্র করেছে।
وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّىٰهَا ١٠
ওয়াকাদ খা-বা মান দাস্সা-হা
সেই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজ আত্মাকে কলূষিত করেছে।
كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوَىٰهَآ ١١
কায্যাবাত ছামূদু বিতাগওয়া-হা-
সামূদ জাতি সীমালঙ্ঘন ক’রে (তাদের নবীকে মেনে নিতে) অস্বীকার করেছিল।
إِذِ ٱنۢبَعَثَ أَشْقَىٰهَا ١٢
ইযিমবা‘আছা আশকা-হা
যখন তাদের সবচেয়ে হতভাগা লোকটি মাথা চাড়া দিয়ে উঠল।
فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ ٱللَّهِ نَاقَةَ ٱللَّهِ وَسُقْيَٰهَا ١٣
ফাকা-লা লাহুম রাসূলুল্লা-হি না-কাতাল্লা-হি ওয়াসুকইয়া-হা
তখন আল্লাহর রাসূল (সালিহ) তাদেরকে বলল, ‘এটা আল্লাহর উটনি, একে পানি পান করতে বাধা দিও না।
فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُم بِذَنۢبِهِمْ فَسَوَّىٰهَا ١٤
ফাকায্যাবূহু ফা‘আকারূহা ফাদামদামা ‘আলাইহিম রাব্বুহুম বিযামবিহিম ফাসাওয়া-হা
কিন্তু তারা রসূলের কথা অগ্রাহ্য করল এবং উটনির পায়ের রগ কেটে দিল। শেষ পর্যন্ত তাদের পাপের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ধ্বংস করে মাটিতে মিশিয়ে দিলেন।
وَلَا يَخَافُ عُقْبَٰهَا ١٥
ওয়ালা ইয়াখা-ফু ‘উকবা-হা
আর তিনি (তাঁর এ কাজের) কোন খারাপ পরিণতির ভয় মোটেই পোষণ করেন না।
الليل
সূরা আল-লাইল
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰ ١
ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগশা
শপথ রাতের যখন তা (আলোকে) ঢেকে দেয়,
وَٱلنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّىٰ ٢
ওয়ান্নাহা-রি ইযা তাজাল্লা
শপথ দিনের যখন তা উদ্ভাসিত হয়ে উঠে।
وَمَا خَلَقَ ٱلذَّكَرَ وَٱلْأُنثَىٰٓ ٣
ওয়ামা খালাকায যাকারা ওয়ালউনছা-
আর শপথ তাঁর যিনি সৃষ্টি করেছেন পুরুষ ও নারী,
إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّىٰ ٤
ইন্না সা‘ইয়াকুম লাশাত্তা
তোমাদের চেষ্টা সাধনা অবশ্যই বিভিন্নমুখী।
فَأَمَّا مَنْ أَعْطَىٰ وَٱتَّقَىٰ ٥
ফাআম্মা মান আ‘তা ওয়াত্তাকা
অতএব যে ব্যক্তি (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) দান করে ও (আল্লাহকে) ভয় করে,
وَصَدَّقَ بِٱلْحُسْنَىٰ ٦
ওয়াসাদ্দাকা বিলহুসনা
এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে,
فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلْيُسْرَىٰ ٧
ফাসানুয়াস্সিরুহূ লিলইউসরা
আমি তার জন্য সহজ পথে চলা সহজ করে দেব।
وَأَمَّا مَنۢ بَخِلَ وَٱسْتَغْنَىٰ ٨
ওয়াআম্মা মাম বাখিলা ওয়াসতাগনা
আর যে ব্যক্তি কৃপণতা করে আর (আল্লাহর প্রতি) বেপরোয়া হয়,
وَكَذَّبَ بِٱلْحُسْنَىٰ ٩
ওয়াকায্যাবা বিলহুসনা
আর যা উত্তম তা অমান্য করে,
فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلْعُسْرَىٰ ١٠
ফাসানুয়াস্সিরুহূ লিল‘উসরা
আমি তার জন্য কঠিন পথ (অর্থাৎ অন্যায়, অসত্য, হিংসা ও হানাহানির পথ) সহজ করে দিব।
وَمَا يُغْنِى عَنْهُ مَالُهُۥٓ إِذَا تَرَدَّىٰٓ ١١
ওয়ামা ইউগনী ‘আনহু মা-লুহূ ইযা তারাদ্দা-
যখন সে ধ্বংস হবে (অর্থাৎ মরবে) তখন তার (সঞ্চিত) ধন-সম্পদ কোনই কাজে আসবে না।
إِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدَىٰ ١٢
ইন্না ‘আলাইনা লালহুদা
সঠিক পথ দেখানো অবশ্যই আমারই কাজ
وَإِنَّ لَنَا لَلْءَاخِرَةَ وَٱلْأُولَىٰ ١٣
ওয়াইন্না লানা লালআ-খিরাতা ওয়ালঊলা
আর পরকাল ও ইহকালের একমাত্র মালিক আমি।
فَأَنذَرْتُكُمْ نَارًۭا تَلَظَّىٰ ١٤
ফাআনযারতুকুম না-রান তালায্যা
কাজেই আমি তোমাদেরকে দাউ দাউ ক’রে জ্বলা আগুন সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি।
لَا يَصْلَىٰهَآ إِلَّا ٱلْأَشْقَى ١٥
লা ইয়াসলা-হা- ইল্লাল আশকা
চরম হতভাগা ছাড়া কেউ তাতে প্রবেশ করবে না।
ٱلَّذِى كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ١٦
আল্লাযী কায্যাবা ওয়াতাওয়াল্লা
যে অস্বীকার করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়
وَسَيُجَنَّبُهَا ٱلْأَتْقَى ١٧
ওয়াসাইউজান্নাবুহাল আতকা
তাত্থেকে দূরে রাখা হবে এমন ব্যক্তিকে যে আল্লাহকে খুব বেশি ভয় করে,
ٱلَّذِى يُؤْتِى مَالَهُۥ يَتَزَكَّىٰ ١٨
আল্লাযী ইউ’তী মা-লাহূ ইয়াতাযাক্কা
যে পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজের ধন-সম্পদ দান করে,
وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُۥ مِن نِّعْمَةٍۢ تُجْزَىٰٓ ١٩
ওয়ামা লিআহাদিন ‘ইনদাহূ মিন নি‘মাতিন তুজযা-
(সে দান করে) তার প্রতি কারো অনুগ্রহের প্রতিদান হিসেবে নয়,
إِلَّا ٱبْتِغَآءَ وَجْهِ رَبِّهِ ٱلْأَعْلَىٰ ٢٠
ইল্লাবতিগা-আ ওয়াজহি রাব্বিহিল আ‘লা
একমাত্র তার মহান প্রতিপালকের চেহারা (সন্তোষ) লাভের আশায়।
وَلَسَوْفَ يَرْضَىٰ ٢١
ওয়ালাসাওফা ইয়ারদা
সে অবশ্যই অতি শীঘ্র (আল্লাহর নি‘মাত পেয়ে) সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।
الضحى
সূরা আদ-দুহা
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلضُّحَىٰ ١
ওয়াদ্দুহা
সকালের উজ্জ্বল আলোর শপথ,
وَٱلَّيْلِ إِذَا سَجَىٰ ٢
ওয়াল্লাইলি ইযা সাজা
রাতের শপথ যখন তা হয় শান্ত-নিঝুম,
مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَىٰ ٣
মা ওয়াদ্দা‘আকা রাব্বুকা ওয়ামা কালা
তোমার প্রতিপালক তোমাকে কক্ষনো পরিত্যাগ করেননি, আর তিনি অসন্তুষ্টও নন।
وَلَلْءَاخِرَةُ خَيْرٌۭ لَّكَ مِنَ ٱلْأُولَىٰ ٤
ওয়ালালআ-খিরাতু খাইরুল লাকা মিনাল ঊলা
অবশ্যই পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে তোমার জন্য হবে অধিক উৎকৃষ্ট।
وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰٓ ٥
ওয়ালাসাওফা ইউ‘তীকা রাব্বুকা ফাতারদা-
শীঘ্রই তোমার প্রতিপালক তোমাকে (এত নি‘মাত) দিবেন যার ফলে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।
أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًۭا فَـَٔاوَىٰ ٦
আলাম ইয়াজিদকা ইয়াতীমান ফাআ-ওয়া
তিনি কি তোমাকে ইয়াতীম অবস্থায় পান নাই? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন।
وَوَجَدَكَ ضَآلًّۭا فَهَدَىٰ ٧
ওয়াওয়াজাদাকা দা-ল্লান ফাহাদা
তিনি তোমাকে পেয়েছিলেন পথের দিশা-হীন, অতঃপর দেখালেন সঠিক পথ।
وَوَجَدَكَ عَآئِلًۭا فَأَغْنَىٰ ٨
ওয়াওয়াজাদাকা ‘আ-ইলান ফাআগনা
তিনি তোমাকে পেলেন নিঃস্ব, অতঃপর করলেন অভাবমুক্ত।
فَأَمَّا ٱلْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ ٩
ফাআম্মাল ইয়াতীমা ফালা তাকহার
কাজেই তুমি ইয়াতীমের প্রতি কঠোরতা করবে না।
وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنْهَرْ ١٠
ওয়াআম্মাস সা-ইলা ফালা তানহার
এবং ভিক্ষুককে ধমক দিবে না।
وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ ١١
ওয়াআম্মা বিনি‘মাতি রাব্বিকা ফাহাদ্দিছ
আর তুমি তোমার রব-এর নি‘মাতকে (তোমার কথা, কাজকর্ম ও আচরণের মাধ্যমে) প্রকাশ করতে থাক।
الشرح
সূরা আলাম নাশরাহ
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ ١
আলাম নাশরাহ লাকা সাদরাক
(হে নবী! ওয়াহীর মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞান ও মানসিক শক্তি দিয়ে) আমি কি তোমার বক্ষদেশকে প্রসারিত করে দেইনি?
وَوَضَعْنَا عَنكَ وِزْرَكَ ٢
ওয়াওয়াদা‘না ‘আনকা উইযরাক
আর আমি তোমার হতে সরিয়ে দিয়েছি (সমাজের অনাচার, অশ্লীলতা ও পঙ্কিলতা দেখে তোমার অন্তরে জেগে উঠা দুঃখ, বেদনা, উদ্বেগ ও অস্থিরতার) ভার,
ٱلَّذِىٓ أَنقَضَ ظَهْرَكَ ٣
আল্লাযী আনকাদা যাহরাক
যা তোমার কোমরকে ভেঙ্গে দিচ্ছিল।
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ ٤
ওয়ারাফা‘না লাকা যিকরাক
এবং আমি (মু’মিনদের যাবতীয় আবশ্যিক ‘ইবাদাত আযান, ইক্বামাত, নামায, খুৎবাহ ইত্যাদির মাধ্যমে) তোমার স্মৃতিকে উচ্চ মর্যাদায় তুলে ধরেছি।
فَإِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًا ٥
ফাইন্না মা‘আল ‘উসরি ইউসরা
কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে,
إِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًۭا ٦
ইন্না মা‘আল ‘উসরি ইউসরা
নিঃসন্দেহে কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।
فَإِذَا فَرَغْتَ فَٱنصَبْ ٧
ফাইযা ফারাগতা ফানসাব
কাজেই তুমি যখনই অবসর পাবে, ‘ইবাদাতের কঠোর শ্রমে লেগে যাবে,
وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَٱرْغَب ٨
ওয়াইলা রাব্বিকা ফারগাব
এবং তোমার রব-এর প্রতি গভীরভাবে মনোযোগ দিবে।
التين
সূরা আত-তীন
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلتِّينِ وَٱلزَّيْتُونِ ١
ওয়াত্তীনি ওয়ায্যাইতূন
শপথ তীন ও যায়তূন-এর (যা জন্মে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন এলাকায় যে স্থান বহু পুণ্যময় নবী ও রসূলের স্মৃতিতে ধন্য)।
وَطُورِ سِينِينَ ٢
ওয়াতূরি সীনীন
শপথ সিনাই পর্বতের (যা নবী মূসার স্মৃতি বিজড়িত),
وَهَٰذَا ٱلْبَلَدِ ٱلْأَمِينِ ٣
ওয়াহা-যাল বালাদিল আমীন
আর (ইবরাহীম ও ইসমাঈল কর্তৃক নির্মিত কা‘বার) এই নিরাপদ নগরীর শপথ,
لَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ فِىٓ أَحْسَنِ تَقْوِيمٍۢ ٤
লাকাদ খালাকনাল ইনসা-না ফী আহসানি তাকউঈম
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি অতি উত্তম আকার আকৃতি দিয়ে, (এবং জ্ঞান ও যোগ্যতা দিয়ে যার সুন্দরতম নমুনা হল নবী রসূলগণ)।
ثُمَّ رَدَدْنَٰهُ أَسْفَلَ سَٰفِلِينَ ٥
ছুম্মা রাদাদনা-হু আসফালা সা-ফিলীন
আবার উল্টোদিকে তাকে করেছি হীনদের হীনমত (যেমন আল্লাহ বিদ্রোহী কাফির, অত্যাচারী রাজা-বাদশা-শাসক, খুনী, পুতুল পূজারী ইত্যাদি)।
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍۢ ٦
ইল্লাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি ফালাহুম আজরুন গাইরু মামনূন
কিন্তু তাদেরকে নয় যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, তাদের জন্য তো আছে অফুরন্ত প্রতিদান।
فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِٱلدِّينِ ٧
ফামা ইউকায্যিবুকা বা‘দু বিদ্দীন
(ভাল কাজের পুরস্কার দেয়া আর অন্যায় কাজের শাস্তি দেয়াই ইনসাফপূর্ণ কথা) কাজেই শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার করতে কিসে তোমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছে?
أَلَيْسَ ٱللَّهُ بِأَحْكَمِ ٱلْحَٰكِمِينَ ٨
আলাইসাল্লা-হু বিআহকামিল হা-কিমীন
আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম (বিচারক) নন?
العلق
সূরা আল-আলাক
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
ٱقْرَأْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلَّذِى خَلَقَ ١
ইকরাআ বিসমি রাব্বিকাল লাযী খালাক
পাঠ কর তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন,
خَلَقَ ٱلْإِنسَٰنَ مِنْ عَلَقٍ ٢
খালাকাল ইনসা-না মিন ‘আলাক
সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট-বাঁধা রক্তপিন্ড হতে।
ٱقْرَأْ وَرَبُّكَ ٱلْأَكْرَمُ ٣
ইকরাআ ওয়ারাব্বুকাল আকরাম
পাঠ কর, আর তোমার রব বড়ই অনুগ্রহশীল।
ٱلَّذِى عَلَّمَ بِٱلْقَلَمِ ٤
আল্লাযী ‘আল্লামা বিলকালাম
যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলম দিয়ে,
عَلَّمَ ٱلْإِنسَٰنَ مَا لَمْ يَعْلَمْ ٥
‘আল্লামাল ইনসা-না মা লাম ইয়া‘লাম
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না,
كَلَّآ إِنَّ ٱلْإِنسَٰنَ لَيَطْغَىٰٓ ٦
কাল্লা- ইন্নাল ইনসা-না লায়াতগা-
না (এমন আচরণ করা) মোটেই ঠিক নয়, মানুষ অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করে,
أَن رَّءَاهُ ٱسْتَغْنَىٰٓ ٧
আর রাআ-হুসতাগনা-
কারণ, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে,
إِنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلرُّجْعَىٰٓ ٨
ইন্না ইলা রাব্বিকার রুজ‘আ-
নিঃসন্দেহে (সকলকে) ফিরে যেতে হবে তোমার প্রতিপালকের দিকে।
أَرَءَيْتَ ٱلَّذِى يَنْهَىٰ ٩
আরাআইতাল লাযী ইয়ানহা
তুমি কি তাকে (অর্থাৎ আবূ জাহলকে) দেখেছ যে নিষেধ করে,
عَبْدًا إِذَا صَلَّىٰٓ ١٠
‘আবদান ইযা সাল্লা-
এক বান্দাহকে [অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (সা.)-কে] যখন সে নামায আদায় করতে থাকে?
أَرَءَيْتَ إِن كَانَ عَلَى ٱلْهُدَىٰٓ ١١
আরাআইতা ইন কা-না ‘আলাল হুদা-
তুমি কি ভেবে দেখেছ (যাকে নিষেধ করা হচ্ছে) সে যদি সৎ পথে থাকে,
أَوْ أَمَرَ بِٱلتَّقْوَىٰٓ ١٢
আও আমারা বিত্তাকওয়া-
আর তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দেয় (তাহলে তার এ কাজগুলো কেমন মনে কর?)
أَرَءَيْتَ إِن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰٓ ١٣
আরাআইতা ইন কায্যাবা ওয়াতাওয়াল্লা-
তোমার কী ধারণা যদি সে (অর্থাৎ নিষেধকারী ব্যক্তি) সত্যকে অস্বীকার করে আর মুখ ফিরিয়ে নেয় (তাহলে তার এ কাজ কেমন মনে কর?)
أَلَمْ يَعْلَم بِأَنَّ ٱللَّهَ يَرَىٰ ١٤
আলাম ইয়া‘লাম বিআন্নাল্লা-হা ইয়ারা
সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন?
كَلَّا لَئِن لَّمْ يَنتَهِ لَنَسْفَعًۢا بِٱلنَّاصِيَةِ ١٥
কাল্লা লাইল লাম ইয়ানতাহি লানাসফা‘আম বিন্না-সিয়াহ
না, (সে যা করতে চায়) তা কক্ষনো করতে পারবে না, সে যদি বিরত না হয় তাহলে আমি অবশ্যই তার মাথার সামনের চুলগুচ্ছ ধরে হেঁচড়ে নিয়ে যাব-
نَاصِيَةٍۢ كَٰذِبَةٍ خَاطِئَةٍۢ ١٦
না-সিয়াতিন কা-যিবাতিন খা-তিআহ
মিথ্যাচারী পাপাচারী চুলগুচ্ছ
فَلْيَدْعُ نَادِيَهُۥ ١٧
ফালইয়াদ‘উ না-দিয়াহ
কাজেই সে তার সভাষদদের ডাকুক।
سَنَدْعُ ٱلزَّبَانِيَةَ ١٨
সানাদ‘উয যাবা-নিয়াহ
আমিও ‘আযাবের ফেরেশতাদেরকে ডাকব,
كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَٱسْجُدْ وَٱقْتَرِب ۩ ١٩
কাল্লা লা তুতি‘হু ওয়াসজুদ ওয়াকতারিব
না, তুমি কক্ষনো তার অনুসরণ করো না, তুমি সাজদাহ কর আর (আল্লাহর) নৈকট্য লাভ কর।[সাজদাহ]
القدر
সূরা আল-কদর
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْرِ ١
ইন্না- আনযালনা-হু ফী লাইলাতিল কাদর
আমি কুরআনকে কাদরের রাতে নাযিল করেছি,
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ ٢
ওয়ামা- আদরা-কা মা লাইলাতুল কাদর
তুমি কি জান ক্বাদরের রাত কী?
لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ خَيْرٌۭ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍۢ ٣
লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর
ক্বাদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও অধিক উত্তম,
تَنَزَّلُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍۢ ٤
তানায্যালুল মালা-ইকাতু ওয়ার্রূহু ফীহা বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমর
এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ তাদের রব-এর অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে অবতীর্ণ হয়।
سَلَٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ ٱلْفَجْرِ ٥
সালা-মুন হিয়া হাত্তা মাতলা‘ইল ফাজর
(এ রাতে বিরাজ করে) শান্তি আর শান্তি- ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।
البينة
সূরা আল-বাইয়্যিনাহ
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
لَمْ يَكُنِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ وَٱلْمُشْرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ ٱلْبَيِّنَةُ ١
লাম ইয়াকুনিল লাযীনা কাফারূ মিন আহলিল কিতা-বি ওয়ালমুশরিকীনা মুনফাক্কীনা হাত্তা তা’তিয়াহুমুল বাইয়্যিনাহ
কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কাফির ছিল তারা আর মুশরিকরা (তাদের ভ্রান্ত মত ও পথ হতে) সরে আসত না যতক্ষণ না তাদের কাছে আসত সুস্পষ্ট প্রমাণ।
رَسُولٌۭ مِّنَ ٱللَّهِ يَتْلُوا۟ صُحُفًۭا مُّطَهَّرَةًۭ ٢
রাসূলুম মিনাল্লা-হি ইয়াতলূ সুহুফাম মুতাহ্হারাহ
(অর্থাৎ) আল্লাহর নিকট হতে একজন রসূল, যে পাঠ করে পবিত্র গ্রন্থ।
فِيهَا كُتُبٌۭ قَيِّمَةٌۭ ٣
ফীহা কুতুবুন কাইয়্যিমাহ
যাতে আছে সঠিক বিধান।
وَمَا تَفَرَّقَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ ٱلْبَيِّنَةُ ٤
ওয়ামা তাফার্রাকাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা ইল্লা মিম বা‘দি মা জা-আতহুমুল বাইয়্যিনাহ
যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের মাঝে বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর।
وَمَآ أُمِرُوٓا۟ إِلَّا لِيَعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ ۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلْقَيِّمَةِ ٥
ওয়ামা- উমিরূ ইল্লা লিয়া‘বুদুল্লা-হা মুখলিসীনা লাহুদ দীনা হুনাফা-আ ওয়াইউকীমুস সালা-তা ওয়াইউ’তুয যাকা-হ ওয়াযা-লিকা দীনুল কাইয়্যিমাহ
তাদেরকে এ ছাড়া অন্য কোন হুকুমই দেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে। আর তারা নামায প্রতিষ্ঠা করবে আর যাকাত দিবে। আর এটাই সঠিক সুদৃঢ় দ্বীন।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ وَٱلْمُشْرِكِينَ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَآ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ ٱلْبَرِيَّةِ ٦
ইন্নাল লাযীনা কাফারূ মিন আহলিল কিতা-বি ওয়ালমুশরিকীনা ফী না-রি জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা- উলা-ইকা হুম শার্রুল বারিয়্যাহ
কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফুরী করে তারা আর মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। এরাই সৃষ্টির অধম।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ خَيْرُ ٱلْبَرِيَّةِ ٧
ইন্নাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি উলা-ইকা হুম খাইরুল বারিয়্যাহ
যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে তারা সৃষ্টির উত্তম।
جَزَآؤُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّٰتُ عَدْنٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًۭا ۖ رَّضِىَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا۟ عَنْهُ ۚ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِىَ رَبَّهُۥ ٨
জাযা-উহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম জান্না-তু ‘আদনিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা- আবাদার রাদিয়াল্লা-হু ‘আনহুম ওয়ারাদূ ‘আনহ যা-লিকা লিমান খাশিয়া রাব্বাহ
তাদের প্রতিপালকের কাছে তাদের প্রতিদান আছে স্থায়ী জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদ-নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল স্থায়ীভাবে থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট, আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এ সব কিছু তার জন্য যে তার প্রতিপালককে ভয় করে।
الزلزلة
সূরা আয-যিলযাল
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
إِذَا زُلْزِلَتِ ٱلْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ١
ইযা যুলযিলাতিল আরদু যিলযা-লাহা
পৃথিবীকে যখন তার প্রচন্ড কম্পনে কাঁপিয়ে দেয়া হবে,
وَأَخْرَجَتِ ٱلْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ٢
ওয়াআখরাজাতিল আরদু আছকা-লাহা
পৃথিবী তার (ভেতরের যাবতীয়) বোঝা বাইরে নিক্ষেপ করবে,
وَقَالَ ٱلْإِنسَٰنُ مَا لَهَا ٣
ওয়াকা-লাল ইনসা-নু মা লাহা
এবং মানুষ বলবে ‘এর কী হয়েছে?’
يَوْمَئِذٍۢ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ٤
ইয়াওমাইযিন তুহাদ্দিছু আখবা-রাহা
সে দিন পৃথিবী তার (নিজের উপর সংঘটিত) বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,
بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا ٥
বিআন্না রাব্বাকা আওহা লাহা
কারণ তোমার প্রতিপালক তাকে আদেশ করবেন,
يَوْمَئِذٍۢ يَصْدُرُ ٱلنَّاسُ أَشْتَاتًۭا لِّيُرَوْا۟ أَعْمَٰلَهُمْ ٦
ইয়াওমাইযিঁ ইয়াসদুরুন না-সু আশতা-তাল লিইউরাও আ‘মা-লাহুম
সেদিন মানুষ বের হবে ভিন্ন ভিন্ন দলে যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো যায়,
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًۭا يَرَهُۥ ٧
ফামান ইয়া‘মাল মিছকা-লা যার্রাতিন খাইরাঁ ইয়ারাহ
অতএব কেউ অণু পরিমাণও সৎ কাজ করলে সে তা দেখবে,
وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍۢ شَرًّۭا يَرَهُۥ ٨
ওয়ামান ইয়া‘মাল মিছকা-লা যার্রাতিন শার্রাঁ ইয়ারাহ
আর কেউ অণু পরিমাণও অসৎ কাজ করলে সেও তা দেখবে।
العاديات
সূরা আল-আদিয়াত
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلْعَٰدِيَٰتِ ضَبْحًۭا ١
ওয়াল‘আ-দিয়া-তি দাবহা
শপথ সেই (ঘোড়া) গুলোর যারা ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ায়,
فَٱلْمُورِيَٰتِ قَدْحًۭا ٢
ফালমূরিয়া-তি কাদহা
অতঃপর (নিজের ক্ষুরের) ঘর্ষণে আগুন ছুটায়,
فَٱلْمُغِيرَٰتِ صُبْحًۭا ٣
ফালমুগীরা-তি সুবহা
অতঃপর সকালে হঠাৎ আক্রমণ চালায়,
فَأَثَرْنَ بِهِۦ نَقْعًۭا ٤
ফাআছারনা বিহী নাক‘আ
আর সে সময় ধূলি উড়ায়,
فَوَسَطْنَ بِهِۦ جَمْعًا ٥
ফাওয়াসাতনা বিহী জাম‘আ
অতঃপর (শত্রু) দলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে (এভাবে মানুষ নিজের শক্তি-সামর্থ্য ও আল্লাহর এক অতি বড় নি‘মাত ঘোড়াকে অপরের সম্পদ লুণ্ঠন ও অন্যের প্রতি যুলমের কাজে ব্যবহার করে),
إِنَّ ٱلْإِنسَٰنَ لِرَبِّهِۦ لَكَنُودٌۭ ٦
ইন্নাল ইনসা-না লিরাব্বিহী লাকানূদ
বস্তুতঃ মানুষ তার রব-এর প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ।
وَإِنَّهُۥ عَلَىٰ ذَٰلِكَ لَشَهِيدٌۭ ٧
ওয়াইন্নাহূ ‘আলা যা-লিকা লাশাহীদ
আর সে নিজেই (নিজের কাজ-কর্মের মাধ্যমে) এ বিষয়ের সাক্ষী।
وَإِنَّهُۥ لِحُبِّ ٱلْخَيْرِ لَشَدِيدٌ ٨
ওয়াইন্নাহূ লিহুব্বিল খাইরি লাশাদীদ
আর ধন-সম্পদের প্রতি অবশ্যই সে খুবই আসক্ত।
۞ أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِى ٱلْقُبُورِ ٩
আফালা ইয়া‘লামু ইযা বু‘ছিরা মা ফিল কুবূর
সে কি জানে না, কবরে যা আছে তা যখন উত্থিত হবে,
وَحُصِّلَ مَا فِى ٱلصُّدُورِ ١٠
ওয়াহুস্সিলা মা ফিস সুদূর
আর অন্তরে যা (কিছু লুকানো) আছে তা প্রকাশ করা হবে,
إِنَّ رَبَّهُم بِهِمْ يَوْمَئِذٍۢ لَّخَبِيرٌۢ ١١
ইন্না রাব্বাহুম বিহিম ইয়াওমাইযিল লাখাবীর
নিঃসন্দেহে তাদের প্রতিপালক সেদিন তাদের সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত থাকবেন।
القارعة
সূরা আল-কারিআহ
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
ٱلْقَارِعَةُ ١
আলকা-রি‘আহ
মহা বিপদ
مَا ٱلْقَارِعَةُ ٢
মাল কা-রি‘আহ
কী সেই মহা বিপদ?
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْقَارِعَةُ ٣
ওয়ামা- আদরা-কা মাল কা-রি‘আহ
মহা বিপদ সম্পর্কে তুমি কী জান?
يَوْمَ يَكُونُ ٱلنَّاسُ كَٱلْفَرَاشِ ٱلْمَبْثُوثِ ٤
ইয়াওমা ইয়াকূনুন না-সু কালফারা-শিল মাবছূছ
সে দিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত
وَتَكُونُ ٱلْجِبَالُ كَٱلْعِهْنِ ٱلْمَنفُوشِ ٥
ওয়াতাকূনুল জিবা-লু কাল‘ইহনিল মানফূশ
আর পর্বতগুলো হবে ধুনা রঙ্গিন পশমের মত।
فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَٰزِينُهُۥ ٦
ফাআম্মা মান ছাকুলাত মাওয়া-যীনুহ
অতঃপর যার (সৎ কর্মের) পাল্লা ভারি হবে।
فَهُوَ فِى عِيشَةٍۢ رَّاضِيَةٍۢ ٧
ফাহুওয়া ফী ‘ঈশাতির রা-দিয়াহ
সে সুখী জীবন যাপন করবে।
وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَٰزِينُهُۥ ٨
ওয়াআম্মা মান খাফ্ফাত মাওয়া-যীনুহ
আর যার (সৎকর্মের) পাল্লা হালকা হবে,
فَأُمُّهُۥ هَاوِيَةٌۭ ٩
ফাউম্মুহূ হা-উইয়াহ
(জাহান্নামের) অতলস্পর্শী গর্তই হবে তার বাসস্থান।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا هِيَهْ ١٠
ওয়ামা- আদরা-কা মা হিয়াহ
তুমি কি জান তা কী?
نَارٌ حَامِيَةٌۢ ١١
না-রুন হা-মিয়াহ
জ্বলন্ত আগুন।
التكاثر
সূরা আত-তাকাসুর
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
أَلْهَىٰكُمُ ٱلتَّكَاثُرُ ١
আলহা-কুমুত তাকা-ছুর
অধিক (পার্থিব) সুখ সম্ভোগ লাভের মোহ তোমাদেরকে (অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে) ভুলিয়ে রেখেছে।
حَتَّىٰ زُرْتُمُ ٱلْمَقَابِرَ ٢
হাত্তা যুরতুমুল মাকা-বির
এমনকি (এ অবস্থাতেই) তোমরা কবরে এসে পড়।
كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ٣
কাল্লা সাওফা তা‘লামূন
(তোমরা যে ভুল ধারণায় ডুবে আছো তা) মোটেই ঠিক নয়, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে,
ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ٤
ছুম্মা কাল্লা সাওফা তা‘লামূন
আবার বলি, মোটেই ঠিক নয়, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।
كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ ٱلْيَقِينِ ٥
কাল্লা লাও তা‘লামূনা ‘ইলমাল ইয়াকীন
কক্ষনো না, তোমরা যদি নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে জানতে! (তাহলে সাবধান হয়ে যেতে)
لَتَرَوُنَّ ٱلْجَحِيمَ ٦
লাতারাউন্নাল জাহীম
তোমরা অবশ্য অবশ্যই জাহান্নাম দেখতে পাবে,
ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ ٱلْيَقِينِ ٧
ছুম্মা লাতারাউন্নাহা ‘আইনাল ইয়াকীন
আবার বলি, তোমরা তা অবশ্য অবশ্যই দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পাবে,
ثُمَّ لَتُسْـَٔلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ ٱلنَّعِيمِ ٨
ছুম্মা লাতুসআলুন্না ইয়াওমাইযিন ‘আনিন না‘ঈম
তারপর তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই (যা কিছু দেয়া হয়েছে এমন সব) নি‘মাত সম্পর্কে সেদিন জিজ্ঞেস করা হবে।
العصر
সূরা আল-আসর
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلْعَصْرِ ١
ওয়াল‘আসর
কালের শপথ
إِنَّ ٱلْإِنسَٰنَ لَفِى خُسْرٍ ٢
ইন্নাল ইনসা-না লাফী খুসর
মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে (ডুবে) আছে,
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلْحَقِّ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلصَّبْرِ ٣
ইল্লাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি ওয়াতাওয়া-সাও বিলহাক্কি ওয়াতাওয়া-সাও বিস্সাবর
কিন্তু তারা নয় যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়।
الهمزة
সূরা আল-হুমাযাহ
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَيْلٌۭ لِّكُلِّ هُمَزَةٍۢ لُّمَزَةٍ ١
ওয়াইলুল লিকুল্লি হুমাযাতিল লুমাযাহ
দুর্ভোগ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনাসামনি) মানুষের নিন্দা করে আর (অসাক্ষাতে) দুর্নাম করে,
ٱلَّذِى جَمَعَ مَالًۭا وَعَدَّدَهُۥ ٢
আল্লাযী জামা‘আ মা-লাঁ ওয়া‘আদ্দাদাহ
যে ধন-সম্পদ জমা করে আর বার বার গণনা করে,
يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُۥٓ أَخْلَدَهُۥ ٣
ইয়াহসাবু আন-না মা-লাহূ আখলাদাহ
সে মনে করে যে, তার ধন-সম্পদ চিরকাল তার সাথে থাকবে,
كَلَّا ۖ لَيُنۢبَذَنَّ فِى ٱلْحُطَمَةِ ٤
কাল্লা লাইউমবাযান্না ফিল হুতামাহ
কক্ষনো না, তাকে অবশ্যই চূর্ণ-বিচূর্ণকারীর মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে,
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْحُطَمَةُ ٥
ওয়ামা- আদরা-কা মাল হুতামাহ
তুমি কি জান চূর্ণ-বিচূর্ণকারী কী?
نَارُ ٱللَّهِ ٱلْمُوقَدَةُ ٦
না-রুল্লা-হিল মূকাদাহ
তা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন,
ٱلَّتِى تَطَّلِعُ عَلَى ٱلْأَفْـِٔدَةِ ٧
আল্লাতী তাত্তালি‘উ ‘আলাল আফইদাহ
যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।
إِنَّهَا عَلَيْهِم مُّؤْصَدَةٌۭ ٨
ইন্নাহা ‘আলাইহিম মু’সাদাহ
তা তাদেরকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রাখবে,
فِى عَمَدٍۢ مُّمَدَّدَةٍۭ ٩
ফী ‘আমাদিম মুমাদ্দাদাহ
(লেলিহান অগ্নিশিখার) উঁচু উঁচু স্তম্ভে।
الفيل
সূরা আল-ফীল
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَٰبِ ٱلْفِيلِ ١
আলাম তারা কাইফা ফা‘আলা রাব্বুকা বিআসহা-বিল ফীল
তুমি কি দেখনি (কা‘বা ঘর ধ্বংসের জন্য আগত) হাতীওয়ালাদের সঙ্গে তোমার প্রতিপালক কীরূপ ব্যবহার করেছিলেন?
أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِى تَضْلِيلٍۢ ٢
আলাম ইয়াজ‘আল কাইদাহুম ফী তাদলীল
তিনি কি তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেননি?
وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ ٣
ওয়াআরসালা ‘আলাইহিম তাইরান আবা-বীল
তিনি তাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি।
تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍۢ مِّن سِجِّيلٍۢ ٤
তারমীহিম বিহিজা-রাতিম মিন সিজ্জীল
যারা তাদের উপর পাথরের কাঁকর নিক্ষেপ করেছিল।
فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍۢ مَّأْكُولٍۭ ٥
ফাজা‘আলাহুম কা‘আসফিম মা’কূল
অতঃপর তিনি তাদেরকে করে দিলেন ভক্ষিত তৃণ-ভুষির মত।
قريش
সূরা কুরাইশ
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
لِإِيلَٰفِ قُرَيْشٍ ١
লিঈলা-ফি কুরাইশ
কুরাইশদের অভ্যস্ত হওয়ার কারণে,
إِۦلَٰفِهِمْ رِحْلَةَ ٱلشِّتَآءِ وَٱلصَّيْفِ ٢
ঈলা-ফিহিম রিহলাতাশ শিতা-ই ওয়াস্সাইফ
(অর্থাৎ) শীত ও গ্রীষ্মে তাদের বিদেশ সফরে অভ্যস্ত হওয়ার (কারণে)
فَلْيَعْبُدُوا۟ رَبَّ هَٰذَا ٱلْبَيْتِ ٣
ফালইয়া‘বুদূ রাব্বা হা-যাল বাইত
তাদের কর্তব্য হল এই (কা‘বা) ঘরের রবের ‘ইবাদাত করা,
ٱلَّذِىٓ أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍۢ وَءَامَنَهُم مِّنْ خَوْفٍۭ ٤
আল্লাযী আত‘আমাহুম মিন জূ‘ইঁ ওয়াআ-মানাহুম মিন খাওফ
যিনি তাদেরকে (কা‘বা ঘরের খাদিম হওয়ার কারণে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে) ক্ষুধায় খাদ্য দিচ্ছেন এবং তাদেরকে ভয়-ভীতি হতে নিরাপদ করেছেন।
الماعون
সূরা আল-মাঊন
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
أَرَءَيْتَ ٱلَّذِى يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ ١
আরাআইতাল লাযী ইউকায্যিবু বিদ্দীন
তুমি কি তাকে দেখেছ, যে কর্মফল (দিবসকে) অস্বীকার করে?
فَذَٰلِكَ ٱلَّذِى يَدُعُّ ٱلْيَتِيمَ ٢
ফাযা-লিকাল লাযী ইয়াদু‘‘উল ইয়াতীম
সে তো সেই (লোক) যে ইয়াতীমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়,
وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ ٣
ওয়ালা ইয়াহুদ্দু ‘আলা তা‘আ-মিল মিসকীন
এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহ দেয় না
فَوَيْلٌۭ لِّلْمُصَلِّينَ ٤
ফাওয়াইলুল লিলমুসাল্লীন
অতএব দুর্ভোগ সে সব নামায আদায়কারীর
ٱلَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ٥
আল্লাযীনা হুম ‘আন সালা-তিহিম সা-হূন
যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে উদাসীন,
ٱلَّذِينَ هُمْ يُرَآءُونَ ٦
আল্লাযীনা হুম ইউরা-ঊন
যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে,
وَيَمْنَعُونَ ٱلْمَاعُونَ ٧
ওয়ায়ামনা‘ঊনাল মা-‘ঊন
এবং প্রয়োজনীয় গৃহসামগ্রী দানের ছোট খাট সাহায্য করা থেকেও বিরত থাকে।
الكوثر
সূরা আল-কাওসার
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
إِنَّآ أَعْطَيْنَٰكَ ٱلْكَوْثَرَ ١
ইন্না- আ‘তাইনা-কাল কাওছার
আমি তোমাকে (হাওযে) কাওসার দান করেছি।
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنْحَرْ ٢
ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার
কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায আদায় কর এবং কুরবানী কর,
إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ ٱلْأَبْتَرُ ٣
ইন্না শা-নিআকা হুওয়াল আবতার
(তোমার নাম-চিহ্ন কোন দিন মুছবে না, বরং) তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীরাই নাম চিহ্নহীন- নির্মূল।
الكافرون
সূরা আল-কাফিরূন
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
قُلْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْكَٰفِرُونَ ١
কুল ইয়া-আইয়্যুহাল কা-ফিরূন
বল, ‘হে কাফিররা!’
لَآ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ٢
লা- আ‘বুদু মা তা‘বুদূন
তোমরা যার ‘ইবাদাত কর, আমি তার ‘ইবাদাত করি না,
وَلَآ أَنتُمْ عَٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ ٣
ওয়ালা- আনতুম ‘আ-বিদূনা মা- আ‘বুদ
আর আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী নও,
وَلَآ أَنَا۠ عَابِدٌۭ مَّا عَبَدتُّمْ ٤
ওয়ালা- আনা ‘আ-বিদুম মা ‘আবাত্তুম
আর আমি তার ‘ইবাদাতকারী নই তোমরা যার ‘ইবাদাত করে থাক,
وَلَآ أَنتُمْ عَٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ ٥
ওয়ালা- আনতুম ‘আ-বিদূনা মা- আ‘বুদ
আর আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী নও,
لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِىَ دِينِ ٦
লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন
তোমাদের পথ ও পন্থা তোমাদের জন্য (সে পথে চলার পরিণতি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে) আর আমার জন্য আমার পথ (যে সত্য পথে চলার জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, এ পথ ছেড়ে আমি অন্য কোন পথ গ্রহণ করতে মোটেই প্রস্তুত নই)।
النصر
সূরা আন-নাসর
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
إِذَا جَآءَ نَصْرُ ٱللَّهِ وَٱلْفَتْحُ ١
ইযা জা-আ নাসরুল্লা-হি ওয়ালফাতহ
যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও (ইসলামের চূড়ান্ত) বিজয়,
وَرَأَيْتَ ٱلنَّاسَ يَدْخُلُونَ فِى دِينِ ٱللَّهِ أَفْوَاجًۭا ٢
ওয়ারাআইতান না-সা ইয়াদখুলূনা ফী দীনিল্লা-হি আফওয়া-জা
আর তুমি মানুষদের দেখবে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে,
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَٱسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ تَوَّابًۢا ٣
ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াসতাগফিরহ ইন্নাহূ কা-না তাওয়া-বা
তখন তুমি (শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে) তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে আর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। তিনি বড়ই তাওবা কবূলকারী।
المسد
সূরা আল-লাহাব
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
تَبَّتْ يَدَآ أَبِى لَهَبٍۢ وَتَبَّ ١
তাব্বাত ইয়াদা- আবী লাহাবিঁ ওয়াতাব্ব
আবূ লাহাবের হাত দু‘টো ধ্বংস হোক, ধ্বংস হোক সে নিজে,
مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُۥ وَمَا كَسَبَ ٢
মা- আগনা ‘আনহু মা-লুহূ ওয়ামা কাসাব
তার ধন-সম্পদ আর সে যা অর্জন করেছে তা তার কোন কাজে আসল না,
سَيَصْلَىٰ نَارًۭا ذَاتَ لَهَبٍۢ ٣
সায়াসলা না-রান যা-তা লাহাব
অচিরে সে প্রবেশ করবে লেলিহান শিখাযুক্ত আগুনে,
وَٱمْرَأَتُهُۥ حَمَّالَةَ ٱلْحَطَبِ ٤
ওয়ামরাআতুহূ হাম্মা-লাতাল হাতাব
আর তার স্ত্রীও- যে কাঠবহনকারিণী (যে কাঁটার সাহায্যে নবী-কে কষ্ট দিত এবং একজনের কথা অন্যজনকে ব’লে পারস্পরিক বিবাদের আগুন জ্বালাত)।
فِى جِيدِهَا حَبْلٌۭ مِّن مَّسَدٍۭ ٥
ফী জীদিহা হাবলুম মিম মাসাদ
আর (দুনিয়াতে তার বহনকৃত কাঠ-খড়ির পরিবর্তে জাহান্নামে) তার গলায় শক্ত পাকানো রশি বাঁধা থাকবে।
الإخلاص
সূরা আল-ইখলাস
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١
কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ
বল, তিনি আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়,
ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢
আল্লা-হুস সামাদ
আল্লাহ কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন, সবই তাঁর মুখাপেক্ষী,
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣
লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ
তিনি কাউকে জন্ম দেন না, আর তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি।
وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤
ওয়ালাম ইয়াকুল লাহূ কুফুওয়ান আহাদ
তাঁর সমকক্ষ কেউ নয়।
الفلق
সূরা আল-ফালাক
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ ١
কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক
বল, ‘আমি আশ্রয় চাচ্ছি সকাল বেলার রব-এর,
مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ٢
মিন শার্রি মা খালাক
তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে,
وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ٣
ওয়ামিন শার্রি গা-সিকিন ইযা ওয়াকাব
আর অন্ধকার রাতের অনিষ্ট হতে যখন তা আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ ٤
ওয়ামিন শার্রিন নাফ্ফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ
এবং (জাদু করার উদ্দেশ্যে) গিরায় ফুৎকারকারিণীদের অনিষ্ট হতে,
وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ٥
ওয়ামিন শার্রি হা-সিদিন ইযা হাসাদ
এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে।
الناس
সূরা আন-নাস
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ١
কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন না-স
বল, ‘আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের,
مَلِكِ ٱلنَّاسِ ٢
মালিকিন না-স
মানুষের অধিপতির,
إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ ٣
ইলা-হিন না-স
মানুষের প্রকৃত ইলাহর,
مِن شَرِّ ٱلْوَسْوَاسِ ٱلْخَنَّاسِ ٤
মিন শার্রিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স
যে নিজেকে লুকিয়ে রেখে বার বার এসে কুমন্ত্রণা দেয় তার অনিষ্ট হতে,
ٱلَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ ٱلنَّاسِ ٥
আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-স
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে
مِنَ ٱلْجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ ٦
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স
(এই কুমন্ত্রণাদাতা হচ্ছে) জিন্নের মধ্য হতে এবং মানুষের মধ্য হতে।