মূল লেখায় যান
১ নভেম্বর ২০২৬ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
الجزء ٢٧

পারা ২৭

৩৯৯ আয়াত
۞ قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا ٱلْمُرْسَلُونَ ٣١
কা-লা ফামা খাতবুকুম আইয়্যুহাল মুরসালূন
ইবরাহীম বলল- ‘ওহে আল্লাহর দূতগণ (ফেরেশতারা)! তোমাদের কাজ কী (এখন)?’
قَالُوٓا۟ إِنَّآ أُرْسِلْنَآ إِلَىٰ قَوْمٍۢ مُّجْرِمِينَ ٣٢
কা-লূ ইন্না- উরসিলনা- ইলা কাওমিম মুজরিমীন
তারা বলল- ‘আমাদেরকে এক অপরাধী জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে'।
لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجَارَةًۭ مِّن طِينٍۢ ٣٣
লিনুরসিলা ‘আলাইহিম হিজা-রাতাম মিন তীন
যেন তাদের উপর মাটির পাথর বর্ষণ করি
مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ لِلْمُسْرِفِينَ ٣٤
মুসাওয়ামাতান ‘ইনদা রাব্বিকা লিলমুসরিফীন
যা তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত হয়ে আছে সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য।
فَأَخْرَجْنَا مَن كَانَ فِيهَا مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٣٥
ফাআখরাজনা মান কা-না ফীহা মিনাল মু’মিনীন
সেখানে যারা মু’মিন ছিল আমি তাদেরকে বের করে এনেছিলাম,
فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍۢ مِّنَ ٱلْمُسْلِمِينَ ٣٦
ফামা ওয়াজাদনা ফীহা গাইরা বাইতিম মিনাল মুসলিমীন
আমি সেখানে মুসলিমদের একটি পরিবার ছাড়া আর পাইনি।
وَتَرَكْنَا فِيهَآ ءَايَةًۭ لِّلَّذِينَ يَخَافُونَ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ ٣٧
ওয়াতারাকনা ফীহা- আ-য়াতাল লিল্লাযীনা ইয়াখা-ফূনাল ‘আযা-বাল আলীম
আর তাদের জন্য সেখানে একটা নিদর্শন রেখে দিলাম যারা অত্যন্ত পীড়াদায়ক ‘আযাবের ভয় করে।
وَفِى مُوسَىٰٓ إِذْ أَرْسَلْنَٰهُ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ بِسُلْطَٰنٍۢ مُّبِينٍۢ ٣٨
ওয়াফী মূসা- ইয আরসালনা-হু ইলা ফির‘আওনা বিসুলতা-নিম মুবীন
আর মূসার ঘটনাতেও (নিদর্শন আছে) যখন আমি তাকে স্পষ্ট প্রমাণসহ ফেরাউনের কাছে পাঠিয়েছিলাম,
فَتَوَلَّىٰ بِرُكْنِهِۦ وَقَالَ سَٰحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌۭ ٣٩
ফাতাওয়াল্লা বিরুকনিহী ওয়াকা-লা সা-হিরুন আও মাজনূন
তখন সে তার ক্ষমতার দাপটে মুখ ফিরিয়ে নিল আর বলল- ‘এ লোক একটা যাদুকর না হয় পাগল।’
فَأَخَذْنَٰهُ وَجُنُودَهُۥ فَنَبَذْنَٰهُمْ فِى ٱلْيَمِّ وَهُوَ مُلِيمٌۭ ٤٠
ফাআখাযনা-হু ওয়াজুনূদাহূ ফানাবাযনা-হুম ফিল ইয়াম্মি ওয়াহুওয়া মুলীম
শেষে আমি তাকে আর তার সৈন্য সামন্তকে পাকড়াও করলাম আর তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। সে ছিল ধিকৃত নিন্দিত।
وَفِى عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ ٱلرِّيحَ ٱلْعَقِيمَ ٤١
ওয়াফী ‘আ-দিন ইয আরসালনা ‘আলাইহিমুর রীহাল ‘আকীম
আর ‘আদ-এর ঘটনাতেও (নিদর্শন আছে)। আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম অকল্যাণের বাতাস।
مَا تَذَرُ مِن شَىْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلَّا جَعَلَتْهُ كَٱلرَّمِيمِ ٤٢
মা তাযারু মিন শাইইন আতাত ‘আলাইহি ইল্লা জা‘আলাতহু কার্রামীম
তা যা কিছুর উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ধ্বংসস্তুপে পরিণত না করে ছাড়েনি।
وَفِى ثَمُودَ إِذْ قِيلَ لَهُمْ تَمَتَّعُوا۟ حَتَّىٰ حِينٍۢ ٤٣
ওয়াফী ছামূদা ইয কীলা লাহুম তামাত্তা‘ঊ হাত্তা হীন
আর সামূদের ঘটনাতেও (নিদর্শন আছে) যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভোগ করে লও।’
فَعَتَوْا۟ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّٰعِقَةُ وَهُمْ يَنظُرُونَ ٤٤
ফা‘আতাও ‘আন আমরি রাব্বিহিম ফাআখাযাতহুমুস সা-‘ইকাতু ওয়াহুম ইয়ানযুরূন
কিন্তু তারা ধৃষ্টতার সঙ্গে তাদের প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল। ফলে বজ্রাঘাত তাদেরকে পাকড়াও করল যা তারা চেয়ে চেয়ে দেখছিল।
فَمَا ٱسْتَطَٰعُوا۟ مِن قِيَامٍۢ وَمَا كَانُوا۟ مُنتَصِرِينَ ٤٥
ফামাসতাতা-‘ঊ মিন কিয়া-মিঁ ওয়ামা কা-নূ মুনতাসিরীন
তারা (পায়ের ভরে) উঠে দাঁড়াতেও পারল না আর আত্মরক্ষা করতেও পারল না।
وَقَوْمَ نُوحٍۢ مِّن قَبْلُ ۖ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَوْمًۭا فَٰسِقِينَ ٤٦
ওয়াকাওমা নূহিম মিন কাবলু ইন্নাহুম কা-নূ কাওমান ফা-সিকীন
ইতোপূর্বে আমি নূহের জাতিকে ধ্বংস করেছিলাম, তারা ছিল এক পাপাচারী জাতি।
وَٱلسَّمَآءَ بَنَيْنَٰهَا بِأَيْي۟دٍۢ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ ٤٧
ওয়াস্সামা-আ বানাইনা-হা বিআইদিঁ ওয়াইন্না লামূসি‘ঊন
আমি নিজ হাত দ্বারা আসমান সৃষ্টি করেছি আর আমি অবশ্যই মহা প্রশস্তকারী।
وَٱلْأَرْضَ فَرَشْنَٰهَا فَنِعْمَ ٱلْمَٰهِدُونَ ٤٨
ওয়ালআরদা ফারাশনা-হা ফানি‘মাল মা-হিদূন
আর যমীন- তাকে আমিই বিছিয়েছি, আমি কতই না সুন্দর (সমতল) প্রসারণকারী!
وَمِن كُلِّ شَىْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ٤٩
ওয়ামিন কুল্লি শাইইন খালাকনা যাওজাইনি লা‘আল্লাকুম তাযাক্কারূন
আমি প্রত্যেকটি বস্তু সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।
فَفِرُّوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ ۖ إِنِّى لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ٥٠
ফাফির্রূ ইলাল্লা-হি ইন্নী লাকুম মিনহু নাযীরুম মুবীন
অতএব দৌড়াও আল্লাহর দিকে, আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ হতে স্পষ্ট সতর্ককারী।
وَلَا تَجْعَلُوا۟ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ ۖ إِنِّى لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ٥١
ওয়ালা তাজ‘আলূ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ইন্নী লাকুম মিনহু নাযীরুম মুবীন
তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ স্থির করো না, আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী।
كَذَٰلِكَ مَآ أَتَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا قَالُوا۟ سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ ٥٢
কাযা-লিকা মা- আতাল লাযীনা মিন কাবলিহিম মির রাসূলিন ইল্লা কা-লূ সা-হিরুন আও মাজনূন
এভাবে যখনই তাদের আগের লোকেদের মধ্যে কোন রসূল এসেছে, তখনই তারা বলেছে- ‘সে যাদুকর না হয় উন্মাদ।’
أَتَوَاصَوْا۟ بِهِۦ ۚ بَلْ هُمْ قَوْمٌۭ طَاغُونَ ٥٣
আতাওয়া-সাও বিহ বাল হুম কাওমুন তা-গূন
তারা কি বংশ পরম্পরায় এরই অসিয়ত (অর্থাৎ অন্তিম সবক) দিয়ে আসছে, বরং তারা সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ فَمَآ أَنتَ بِمَلُومٍۢ ٥٤
ফাতাওয়াল্লা ‘আনহুম ফামা- আনতা বিমালূম
কাজেই তুমি তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে লও, তার জন্য তুমি তিরস্কৃত হবে না।
وَذَكِّرْ فَإِنَّ ٱلذِّكْرَىٰ تَنفَعُ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٥٥
ওয়াযাক্কির ফাইন্নায যিকরা তানফা‘উল মু’মিনীন
আর তুমি উপদেশ দিতে থাক, কেননা উপদেশ মু’মিনদের উপকার করবে।
وَمَا خَلَقْتُ ٱلْجِنَّ وَٱلْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ٥٦
ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়ালইনসা ইল্লা লিয়া‘বুদূন
আমি জ্বিন ও মানবকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র এ কারণে যে, তারা আমারই ‘ইবাদাত করবে।
مَآ أُرِيدُ مِنْهُم مِّن رِّزْقٍۢ وَمَآ أُرِيدُ أَن يُطْعِمُونِ ٥٧
মা- উরীদু মিনহুম মির রিযকিঁ ওয়ামা- উরীদু আন ইউত‘ইমূন
আমি তাদের থেকে রিযক চাই না, আর আমি এও চাই না যে, তারা আমাকে খাওয়াবে।
إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلرَّزَّاقُ ذُو ٱلْقُوَّةِ ٱلْمَتِينُ ٥٨
ইন্নাল্লা-হা হুওয়ার রায্যা-কু যুল কুওয়াতিল মাতীন
আল্লাহই তো রিযকদাতা, মহা শক্তিধর, প্রবল পরাক্রান্ত।
فَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ ذَنُوبًۭا مِّثْلَ ذَنُوبِ أَصْحَٰبِهِمْ فَلَا يَسْتَعْجِلُونِ ٥٩
ফাইন্না লিল্লাযীনা যালামূ যানূবাম মিছলা যানূবি আসহা-বিহিম ফালা ইয়াসতা‘জিলূন
কাজেই যারা যুলম করেছে তাদের প্রাপ্য তাই যে প্রাপ্য পূর্বে ছিল তাদের মত লোকেদের; কাজেই (নিজেদের প্রাপ্য পাওয়ার জন্য) তারা যেন তাড়াহুড়া না করে।
فَوَيْلٌۭ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن يَوْمِهِمُ ٱلَّذِى يُوعَدُونَ ٦٠
ফাওয়াইলুল লিল্লাযীনা কাফারূ মিন ইয়াওমিহিমুল লাযী ইউ‘আদূন
কাফিরদের জন্য ধ্বংস (নেমে আসবে) তাদের সেদিনের যেদিনের ভয় তাদেরকে দেখানো হয়েছে।

الطور
সূরা আত-তূর

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلطُّورِ ١
ওয়াত্তূর
শপথ তূর (পর্বত) এর,
وَكِتَٰبٍۢ مَّسْطُورٍۢ ٢
ওয়াকিতা-বিম মাসতূর
শপথ কিতাবের যা লিখিত
فِى رَقٍّۢ مَّنشُورٍۢ ٣
ফী রাক্কিম মানশূর
খোলা পৃষ্ঠায়,
وَٱلْبَيْتِ ٱلْمَعْمُورِ ٤
ওয়ালবাইতিল মা‘মূর
শপথ বেশি বেশি আবাদকৃত ঘরের,
وَٱلسَّقْفِ ٱلْمَرْفُوعِ ٥
ওয়াস্সাকফিল মারফূ‘
শপথ সুউচ্চ ছাদের,
وَٱلْبَحْرِ ٱلْمَسْجُورِ ٦
ওয়ালবাহরিল মাসজূর
শপথ তরঙ্গায়িত সমুদ্রের,
إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَٰقِعٌۭ ٧
ইন্না ‘আযা-বা রাব্বিকা লাওয়া-কি‘
তোমার প্রতিপালকের ‘আযাব অবশ্যই সংঘটিত হবে।
مَّا لَهُۥ مِن دَافِعٍۢ ٨
মা লাহূ মিন দা-ফি‘
তার প্রতিরোধকারী কেউ নেই।
يَوْمَ تَمُورُ ٱلسَّمَآءُ مَوْرًۭا ٩
ইয়াওমা তামূরুস সামা-উ মাওরা
যেদিন আকাশ প্রচন্ডভাবে কাঁপবে,
وَتَسِيرُ ٱلْجِبَالُ سَيْرًۭا ١٠
ওয়াতাসীরুল জিবা-লু সাইরা
আর পর্বত হবে দ্রুত চলমান,
فَوَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ١١
ফাওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
ধ্বংস সেদিন সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
ٱلَّذِينَ هُمْ فِى خَوْضٍۢ يَلْعَبُونَ ١٢
আল্লাযীনা হুম ফী খাওদিঁ ইয়াল‘আবূন
যারা নিরর্থক কথার খেলায় মগ্ন আছে।
يَوْمَ يُدَعُّونَ إِلَىٰ نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا ١٣
ইয়াওমা ইউদা‘‘ঊনা ইলা না-রি জাহান্নামা দা‘‘আ
যেদিন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে তাড়িয়ে নেয়া হবে ধাক্কাতে ধাক্কাতে,
هَٰذِهِ ٱلنَّارُ ٱلَّتِى كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ ١٤
হা-যিহিন না-রুল লাতী কুনতুম বিহা তুকায্যিবূন
(বলা হবে) এটা হল জাহান্নামের সেই আগুন তোমরা যাকে মিথ্যে জানতে।
أَفَسِحْرٌ هَٰذَآ أَمْ أَنتُمْ لَا تُبْصِرُونَ ١٥
আফাসিহরুন হা-যা- আম আনতুম লা তুবসিরূন
এটা কি যাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না?
ٱصْلَوْهَا فَٱصْبِرُوٓا۟ أَوْ لَا تَصْبِرُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْكُمْ ۖ إِنَّمَا تُجْزَوْنَ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ١٦
ইসলাওহা ফাসবিরূ আও লা তাসবিরূ সাওয়া-উন ‘আলাইকুম ইন্নামা তুজযাওনা মা কুনতুম তা‘মালূন
এখন এর ভিতর জ্বলতে থাক, অতঃপর ধৈর্য ধর কিংবা ধৈর্য না ধর, তোমাদের জন্য দুই-ই সমান। তোমাদেরকে সেই প্রতিফলই দেয়া হবে যা তোমরা ‘আমাল করতে।
إِنَّ ٱلْمُتَّقِينَ فِى جَنَّٰتٍۢ وَنَعِيمٍۢ ١٧
ইন্নাল মুত্তাকীনা ফী জান্না-তিঁ ওয়ানা‘ঈম
মুত্তাক্বীরা থাকবে জান্নাতে আর নি‘মাত সম্ভারের মাঝে,
فَٰكِهِينَ بِمَآ ءَاتَىٰهُمْ رَبُّهُمْ وَوَقَىٰهُمْ رَبُّهُمْ عَذَابَ ٱلْجَحِيمِ ١٨
ফা-কিহীনা বিমা- আ-তা-হুম রাব্বুহুম ওয়াওয়াকা-হুম রাব্বুহুম ‘আযা-বাল জাহীম
তারা ভোগ করবে তাদের প্রতিপালক যা তাদেরকে দিবেন, আর তাদের প্রতিপালক তাদেরকে জাহান্নামের ‘আযাব থেকে রক্ষা করবেন।
كُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ هَنِيٓـًٔۢا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ١٩
কুলূ ওয়াশরাবূ হানীআম বিমা কুনতুম তা‘মালূন
(তাদেরকে বলা হবে) খাও আর পান কর খুব মজা করে- তোমরা যে ‘আমাল করতে তার প্রতিফল হিসেবে।
مُتَّكِـِٔينَ عَلَىٰ سُرُرٍۢ مَّصْفُوفَةٍۢ ۖ وَزَوَّجْنَٰهُم بِحُورٍ عِينٍۢ ٢٠
মুত্তাকিঈনা ‘আলা সুরুরিম মাসফূফাতিঁ ওয়াযাওয়াজনা-হুম বিহূরিন ‘ঈন
তারা সারিবদ্ধভাবে সাজানো আসনে হেলান দিয়ে বসবে, আর আমি তাদের বিয়ে দিয়ে দেব সুন্দর বড় বড় উজ্জ্বল চক্ষু বিশিষ্টা কুমারীদের সঙ্গে।
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيمَٰنٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَآ أَلَتْنَٰهُم مِّنْ عَمَلِهِم مِّن شَىْءٍۢ ۚ كُلُّ ٱمْرِئٍۭ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌۭ ٢١
ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ ওয়াত্তাবা‘আতহুম যুর্রিয়্যাতুহুম বিঈমা-নিন আলহাকনা বিহিম যুর্রিয়্যাতাহুম ওয়ামা- আলাতনা-হুম মিন ‘আমালিহিম মিন শাই’ কুল্লুমরিইম বিমা কাসাবা রাহীন
যারা ঈমান আনে আর তাদের সন্তান সন্ততিরা ঈমানের সাথে পিতামাতাকে অনুসরণ করে, আমি তাদের সাথে তাদের সন্তান সন্ততিকে মিলিত করব। তাদের ‘আমালের কোন কিছু থেকেই আমি তাদেরকে বঞ্চিত করব না। প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ।
وَأَمْدَدْنَٰهُم بِفَٰكِهَةٍۢ وَلَحْمٍۢ مِّمَّا يَشْتَهُونَ ٢٢
ওয়াআমদাদনা-হুম বিফা-কিহাতিঁ ওয়ালাহমিম মিম্মা ইয়াশতাহূন
আমি তাদেরকে দিব ফলমূল আর গোশত যা তারা পছন্দ করবে।
يَتَنَٰزَعُونَ فِيهَا كَأْسًۭا لَّا لَغْوٌۭ فِيهَا وَلَا تَأْثِيمٌۭ ٢٣
ইয়াতানা-যা‘ঊনা ফীহা কা’সাল লা লাগউন ফীহা ওয়ালা তা’ছীম
তারা সেখানে পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করবে পানপাত্র, থাকবে না সেখানে কোন বেহুদা বকবকানি, থাকবে না কোন পাপের কাজ।
۞ وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌۭ لَّهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤٌۭ مَّكْنُونٌۭ ٢٤
ওয়ায়াতূফু ‘আলাইহিম গিলমা-নুল লাহুম কাআন্নাহুম লু’লুউম মাকনূন
তাদের চতুর্দিকে ঘুর ঘুর ক’রে তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে কিশোরেরা (যারা এতই সুন্দর) যেন সযত্নে লুকিয়ে রাখা মণিমুক্তা।
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ يَتَسَآءَلُونَ ٢٥
ওয়াআকবালা বা‘দুহুম ‘আলা বা‘দিঁ ইয়াতাসা-আলূন
তারা পরস্পরের নিকট এগিয়ে গিয়ে একে অপরকে জিজ্ঞেস করবে,
قَالُوٓا۟ إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِىٓ أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ ٢٦
কা-লূ ইন্না কুন্না কাবলু ফী আহলিনা মুশফিকীন
তারা বলবে, ‘পূর্বে আমরা আমাদের পরিবারে (দুনিয়াবী নানা কারণে ও আখিরাতের ‘আযাবের আশংকায়) ভয় ভীতির মধ্যে ছিলাম।
فَمَنَّ ٱللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَىٰنَا عَذَابَ ٱلسَّمُومِ ٢٧
ফামান্নাল্লা-হু ‘আলাইনা ওয়াওয়াকা-না ‘আযা-বাস সামূম
অবশেষে আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন আর আমাদেরকে ঝলসে দেয়া বাতাসের ‘আযাব থেকে রক্ষা করেছেন।
إِنَّا كُنَّا مِن قَبْلُ نَدْعُوهُ ۖ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْبَرُّ ٱلرَّحِيمُ ٢٨
ইন্না কুন্না মিন কাবলু নাদ‘ঊহু ইন্নাহূ হুওয়াল বার্রুর রাহীম
পূর্বে আমরা তাঁর কাছেই দু‘আ করতাম, তিনি অতি অনুগ্রহকারী, পরম দয়াবান।
فَذَكِّرْ فَمَآ أَنتَ بِنِعْمَتِ رَبِّكَ بِكَاهِنٍۢ وَلَا مَجْنُونٍ ٢٩
ফাযাক্কির ফামা- আনতা বিনি‘মাতি রাব্বিকা বিকা-হিনিঁ ওয়ালা মাজনূন
কাজেই তুমি উপদেশ দিতে থাক, তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহে তুমি গণকও নও, আর পাগলও নও।
أَمْ يَقُولُونَ شَاعِرٌۭ نَّتَرَبَّصُ بِهِۦ رَيْبَ ٱلْمَنُونِ ٣٠
আম ইয়াকূলূনা শা-‘ইরুন নাতারাব্বাসু বিহী রাইবাল মানূন
তারা কি বলে সে একজন কবি, যার জন্য আমরা কালচক্রের (বিপদাপদের) অপেক্ষা করছি।
قُلْ تَرَبَّصُوا۟ فَإِنِّى مَعَكُم مِّنَ ٱلْمُتَرَبِّصِينَ ٣١
কুল তারাব্বাসূ ফাইন্নী মা‘আকুম মিনাল মুতারাব্বিসীন
ওদেরকে বল- তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষা করছি। (অতঃপর উভয় পক্ষই দেখতে পাবে কার কী পরিণতি হয়)।
أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلَٰمُهُم بِهَٰذَآ ۚ أَمْ هُمْ قَوْمٌۭ طَاغُونَ ٣٢
আম তা’মুরুহুম আহলা-মুহুম বিহা-যা- আম হুম কাওমুন তা-গূন
তাদের বুদ্ধি বিবেক কি তাদেরকে এ নির্দেশ দেয়, নাকি তারা মূলতঃই এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি?
أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُۥ ۚ بَل لَّا يُؤْمِنُونَ ٣٣
আম ইয়াকূলূনা তাকাওয়ালাহ বাল লা ইউ’মিনূন
তারা কি বলে- ‘সে নিজেই (কুরআন) রচনা করে নিয়েছে? আসলে তারা ঈমানই আনেনি।
فَلْيَأْتُوا۟ بِحَدِيثٍۢ مِّثْلِهِۦٓ إِن كَانُوا۟ صَٰدِقِينَ ٣٤
ফালইয়া’তূ বিহাদীছিম মিছলিহী ইন কা-নূ সা-দিকীন
তারা সত্যবাদী হলে এ রকম একটা কালাম তারা নিয়ে আসুক না কেন।
أَمْ خُلِقُوا۟ مِنْ غَيْرِ شَىْءٍ أَمْ هُمُ ٱلْخَٰلِقُونَ ٣٥
আম খুলিকূ মিন গাইরি শাইইন আম হুমুল খা-লিকূন
তারা কি সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই সৃষ্টিকর্তা?
أَمْ خَلَقُوا۟ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ ۚ بَل لَّا يُوقِنُونَ ٣٦
আম খালাকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ বাল লা ইউকিনূন
নাকি তারা আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছে? আসলে তারা নিশ্চিত বিশ্বাসী নয়।
أَمْ عِندَهُمْ خَزَآئِنُ رَبِّكَ أَمْ هُمُ ٱلْمُصَۣيْطِرُونَ ٣٧
আম ‘ইনদাহুম খাযা-ইনু রাব্বিকা আম হুমুল মুসাইতিরূন
নাকি তোমার প্রতিপালকের ধনভান্ডারগুলো তাদের হাতে, না তারা এর নিয়ন্ত্রক?
أَمْ لَهُمْ سُلَّمٌۭ يَسْتَمِعُونَ فِيهِ ۖ فَلْيَأْتِ مُسْتَمِعُهُم بِسُلْطَٰنٍۢ مُّبِينٍ ٣٨
আম লাহুম সুল্লামুঁ ইয়াসতামি‘ঊনা ফীহি ফালইয়া’তি মুসতামি‘উহুম বিসুলতা-নিম মুবীন
নাকি তাদের কাছে, সিঁড়ি আছে যাতে তারা (আকাশে উঠে যায় আর গোপন কথা) শুনে থাকে? থাকলে তাদের (সেই) শ্রোতা স্পষ্ট প্রমাণ হাজির করুক।
أَمْ لَهُ ٱلْبَنَٰتُ وَلَكُمُ ٱلْبَنُونَ ٣٩
আম লাহুল বানা-তু ওয়ালাকুমুল বানূন
নাকি আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান, আর তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান?
أَمْ تَسْـَٔلُهُمْ أَجْرًۭا فَهُم مِّن مَّغْرَمٍۢ مُّثْقَلُونَ ٤٠
আম তাসআলুহুম আজরান ফাহুম মিম মাগরামিম মুছকালূন
নাকি তুমি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাচ্ছ, যার ফলে তারা ঋণে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছে?
أَمْ عِندَهُمُ ٱلْغَيْبُ فَهُمْ يَكْتُبُونَ ٤١
আম ‘ইনদাহুমুল গাইবু ফাহুম ইয়াকতুবূন
নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান আছে, আর তারা তা লিখছে?
أَمْ يُرِيدُونَ كَيْدًۭا ۖ فَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ هُمُ ٱلْمَكِيدُونَ ٤٢
আম ইউরীদূনা কাইদান ফাল্লাযীনা কাফারূ হুমুল মাকীদূন
নাকি তারা (তোমার বিরুদ্ধে) চক্রান্ত করতে চায়? তাহলে কিন্তু কাফিররাই চক্রান্তের ফাঁদে আটকা পড়বে।
أَمْ لَهُمْ إِلَٰهٌ غَيْرُ ٱللَّهِ ۚ سُبْحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ ٤٣
আম লাহুম ইলা-হুন গাইরুল্লা-হ সুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা ইউশরিকূন
নাকি আল্লাহ ছাড়া তাদের জন্য ইলাহ্ আছে? তারা যাকে শরীক গণ্য করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র।
وَإِن يَرَوْا۟ كِسْفًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ سَاقِطًۭا يَقُولُوا۟ سَحَابٌۭ مَّرْكُومٌۭ ٤٤
ওয়াইন ইয়ারাও কিসফাম মিনাস সামা-ই সা-কিতাঁ ইয়াকূলূ সাহা-বুম মারকূম
আকাশের কোন খন্ড ভেঙ্গে পড়তে দেখলে তারা বলত- ‘এটা তো পুঞ্জীভূত মেঘ। (তাদেরকে আল্লাহর যতই বিস্ময়কর নিদর্শন দেখানো হোক না কেন, তারা ঈমান আনবে না।)
فَذَرْهُمْ حَتَّىٰ يُلَٰقُوا۟ يَوْمَهُمُ ٱلَّذِى فِيهِ يُصْعَقُونَ ٤٥
ফাযারহুম হাত্তা ইউলা-কূ ইয়াওমাহুমুল লাযী ফীহি ইউস‘আকূন
কাজেই তাদেরকে উপেক্ষা কর যতক্ষণ না তারা সাক্ষাৎ করে তাদের সেদিনের যেদিন তারা হবে বজ্রাহত।
يَوْمَ لَا يُغْنِى عَنْهُمْ كَيْدُهُمْ شَيْـًۭٔا وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ٤٦
ইয়াওমা লা ইউগনী ‘আনহুম কাইদুহুম শাইআঁ ওয়ালা হুম ইউনসারূন
সেদিন তাদের ষড়যন্ত্র তাদের কোন কাজে আসবে না, আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।
وَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ عَذَابًۭا دُونَ ذَٰلِكَ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ٤٧
ওয়াইন্না লিল্লাযীনা যালামূ ‘আযা-বান দূনা যা-লিকা ওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লা ইয়া‘লামূন
যালিমদের জন্য এছাড়া আরো ‘আযাব রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
وَٱصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا ۖ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ حِينَ تَقُومُ ٤٨
ওয়াসবির লিহুকমি রাব্বিকা ফাইন্নাকা বিআ‘ইউনিনা ওয়াসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা হীনা তাকূম
তুমি ধৈর্য ধরে তোমার প্রতিপালকের হুকুমের অপেক্ষায় থাক, কারণ তুমি আমার চোখের সামনেই আছ। আর তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা ঘোষণা কর যখন তুমি উঠ (মাজলিস শেষে, অথবা বিছানা ছেড়ে কিংবা নামাযের জন্য)।
وَمِنَ ٱلَّيْلِ فَسَبِّحْهُ وَإِدْبَٰرَ ٱلنُّجُومِ ٤٩
ওয়ামিনাল লাইলি ফাসাব্বিহহু ওয়াইদবা-রান নুজূম
আর রাত্রিকালে তাঁর প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা কর আর (রাতের শেষভাগে যখন) তারকারাজি অস্তমিত হয়ে যায়।

النجم
সূরা আন-নাজম

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ ١
ওয়ান্নাজমি ইযা হাওয়া
শপথ তারকার যখন তা অস্ত যায়,
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ ٢
মা দাল্লা সা-হিবুকুম ওয়ামা গাওয়া
তোমাদের (মাঝে ছোট থেকে বড় হয়েছে সেই) সঙ্গী গুমরাহও নয় আর ভুলপথে পরিচালিতও নয়,
وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلْهَوَىٰٓ ٣
ওয়ামা ইয়ানতিকু ‘আনিল হাওয়া-
আর সে মনগড়া কথাও বলে না।
إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْىٌۭ يُوحَىٰ ٤
ইন হুওয়া ইল্লা ওয়াহা ইউহা
তাতো ওয়াহী যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়,
عَلَّمَهُۥ شَدِيدُ ٱلْقُوَىٰ ٥
‘আল্লামাহূ শাদীদুল কুওয়া
তাকে শিক্ষা দেয় শক্তিশালী,
ذُو مِرَّةٍۢ فَٱسْتَوَىٰ ٦
যূ মির্রাতিন ফাসতাওয়া
প্রজ্ঞার অধিকারী (জিবরাঈল) সে নিজ আকৃতিতে স্থির হয়ে ছিল,
وَهُوَ بِٱلْأُفُقِ ٱلْأَعْلَىٰ ٧
ওয়াহুওয়া বিলউফুকিল আ‘লা
আর সে ছিল ঊর্ধ্ব দিগন্তে,
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ ٨
ছুম্মা দানা ফাতাদাল্লা
অতঃপর সে (নবীর) নিকটবর্তী হল, অতঃপর আসলো আরো নিকটে,
فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَىٰ ٩
ফাকা-না কা-বা কাওসাইনি আও আদনা
ফলে [নবী (সাঃ) ও জিবরাঈলের মাঝে] দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা আরো কম।
فَأَوْحَىٰٓ إِلَىٰ عَبْدِهِۦ مَآ أَوْحَىٰ ١٠
ফাআওহা- ইলা ‘আবদিহী মা- আওহা
তখন (আল্লাহ) তাঁর বান্দাহর প্রতি ওয়াহী করলেন যা ওয়াহী করার ছিল।
مَا كَذَبَ ٱلْفُؤَادُ مَا رَأَىٰٓ ١١
মা কাযাবাল ফুআ-দু মা রাআ-
(নবীর) অন্তঃকরণ মিথ্যে মনে করেনি যা সে দেখে ছিল।
أَفَتُمَٰرُونَهُۥ عَلَىٰ مَا يَرَىٰ ١٢
আফাতুমা-রূনাহূ ‘আলা মা ইয়ারা
সে যা দেখেছে সে বিষয়ে তোমরা কি তার সঙ্গে বিতর্ক করবে?
وَلَقَدْ رَءَاهُ نَزْلَةً أُخْرَىٰ ١٣
ওয়ালাকাদ রাআ-হু নাযলাতান উখরা
অবশ্যই সে [অর্থাৎ নবী (সা.)] তাকে [অর্থাৎ জিবরাঈল (আঃ)-কে] আরেকবার দেখেছিল
عِندَ سِدْرَةِ ٱلْمُنتَهَىٰ ١٤
‘ইনদা সিদরাতিল মুনতাহা
শেষসীমার বরই গাছের কাছে,
عِندَهَا جَنَّةُ ٱلْمَأْوَىٰٓ ١٥
‘ইনদাহা জান্নাতুল মা’ওয়া-
যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত।
إِذْ يَغْشَى ٱلسِّدْرَةَ مَا يَغْشَىٰ ١٦
ইয ইয়াগশাস সিদরাতা মা ইয়াগশা
যখন গাছটি যা দিয়ে ঢেকে থাকার তা দিয়ে ঢাকা ছিল, (যার বর্ণনা মানুষের বোধগম্য নয়)
مَا زَاغَ ٱلْبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ ١٧
মা যা-গাল বাসারু ওয়ামা তাগা
(নবীর) দৃষ্টি ভ্রমও ঘটেনি, সীমা ছাড়িয়েও যায়নি।
لَقَدْ رَأَىٰ مِنْ ءَايَٰتِ رَبِّهِ ٱلْكُبْرَىٰٓ ١٨
লাকাদ রাআ মিন আ-য়া-তি রাব্বিহিল কুবরা-
সে তার প্রতিপালকের বড় বড় নিদর্শন দেখেছিল।
أَفَرَءَيْتُمُ ٱللَّٰتَ وَٱلْعُزَّىٰ ١٩
আফারাআইতুমুল লা-তা ওয়াল‘উয্যা
তোমরা কি লাত ও উযযা সম্পর্কে ভেবে দেখেছ?
وَمَنَوٰةَ ٱلثَّالِثَةَ ٱلْأُخْرَىٰٓ ٢٠
ওয়ামানা-তাছ ছা-লিছাতাল উখরা-
আর তৃতীয় আরেকটি মানাৎ সম্পর্কে? (এ সব অক্ষম, বাকশক্তিহীন, নড়া-চড়ার শক্তিহীন মূর্তিগুলোর পূজা করা কতটা যুক্তিযুক্ত)
أَلَكُمُ ٱلذَّكَرُ وَلَهُ ٱلْأُنثَىٰ ٢١
আলাকুমুয যাকারু ওয়ালাহুল উনছা
কী! তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান আর আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান?
تِلْكَ إِذًۭا قِسْمَةٌۭ ضِيزَىٰٓ ٢٢
তিলকা ইযান কিসমাতুন দীযা-
তাহলে এটাতো খুবই অসঙ্গত ভাগ-বাঁটোয়ারা।
إِنْ هِىَ إِلَّآ أَسْمَآءٌۭ سَمَّيْتُمُوهَآ أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَٰنٍ ۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَمَا تَهْوَى ٱلْأَنفُسُ ۖ وَلَقَدْ جَآءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ ٱلْهُدَىٰٓ ٢٣
ইন হিয়া ইল্লা- আসমা-উন সাম্মাইতুমূহা- আনতুম ওয়াআ-বা-উকুম মা- আনযালাল্লা-হু বিহা মিন সুলতা-ন ইন ইয়াত্তাবি‘ঊনা ইল্লায যান্না ওয়ামা তাহওয়াল আনফুসু ওয়ালাকাদ জা-আহুম মির রাব্বিহিমুল হুদা-
এগুলো তো কেবল কতকগুলো নাম যে নাম তোমরা আর তোমাদের পিতৃ পৃরুষরা রেখেছ, এর পক্ষে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তারা তো শুধু অনুমান আর প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, যদিও তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে।
أَمْ لِلْإِنسَٰنِ مَا تَمَنَّىٰ ٢٤
আম লিলইনসা-নি মা তামান্না
মানুষ কি তাই পায় যা সে চায়? (আল্লাহ যাকে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে দেন ইহকালে আর পরকালে),
فَلِلَّهِ ٱلْءَاخِرَةُ وَٱلْأُولَىٰ ٢٥
ফালিল্লা-হিল আ-খিরাতু ওয়ালঊলা
কেননা আল্লাহই পরকাল আর ইহকালের মালিক।
۞ وَكَم مِّن مَّلَكٍۢ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغْنِى شَفَٰعَتُهُمْ شَيْـًٔا إِلَّا مِنۢ بَعْدِ أَن يَأْذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرْضَىٰٓ ٢٦
ওয়াকাম মিম মালাকিন ফিস সামা-ওয়া-তি লা তুগনী শাফা-‘আতুহুম শাইআন ইল্লা মিম বা‘দি আন ইয়া’যানাল্লা-হু লিমান ইয়াশা-উ ওয়ায়ারদা-
আকাশে কতই না ফেরেশতা আছে তাদের সুপারিশ কোনই কাজে আসবে না, তবে (কাজে আসবে) যদি তিনি অনুমতি দেন যার জন্য আল্লাহ ইচ্ছে করবেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।
إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِ لَيُسَمُّونَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ تَسْمِيَةَ ٱلْأُنثَىٰ ٢٧
ইন্নাল লাযীনা লা ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি লাইউসাম্মূনাল মালা-ইকাতা তাসমিয়াতাল উনছা
যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তারাই ফেরেশতাদের স্ত্রীবাচক নামে নামকরণ করে থাকে।
وَمَا لَهُم بِهِۦ مِنْ عِلْمٍ ۖ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ ۖ وَإِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغْنِى مِنَ ٱلْحَقِّ شَيْـًۭٔا ٢٨
ওয়ামা লাহুম বিহী মিন ‘ইলমিন ইন ইয়াত্তাবি‘ঊনা ইল্লায যান্না ওয়াইন্নায যান্না লা ইউগনী মিনাল হাক্কি শাইআ
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনই জ্ঞান নেই, তারা কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করছে, আর প্রকৃত সত্যের মুকাবালায় অনুমান কোনই কাজে আসে না।
فَأَعْرِضْ عَن مَّن تَوَلَّىٰ عَن ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَّا ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا ٢٩
ফাআ‘রিদ ‘আম মান তাওয়াল্লা ‘আন যিকরিনা ওয়ালাম ইউরিদ ইল্লাল হায়া-তাদ দুনইয়া
কাজেই যে আমার স্মরণ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় আর পার্থিব জীবন ছাড়া (অন্য কিছুই) কামনা করে না, তুমি তাকে এড়িয়ে চল।
ذَٰلِكَ مَبْلَغُهُم مِّنَ ٱلْعِلْمِ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ ٱهْتَدَىٰ ٣٠
যা-লিকা মাবলাগুহুম মিনাল ‘ইলম ইন্না রাব্বাকা হুওয়া আ‘লামু বিমান দাল্লা ‘আন সাবীলিহী ওয়াহুওয়া আ‘লামু বিমানিহতাদা
তাদের জ্ঞানের দৌড় ঐ পর্যন্তই। তোমার প্রতিপালক খুব ভাল করেই জানেন কে তার পথ থেকে গুমরাহ হয়ে গেছে, আর তিনি ভালই জানেন কে সঠিক পথে আছে।
وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ لِيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ أَسَٰٓـُٔوا۟ بِمَا عَمِلُوا۟ وَيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ بِٱلْحُسْنَى ٣١
ওয়ালিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদি লিয়াজযিয়াল লাযীনা আসা-ঊ বিমা ‘আমিলূ ওয়ায়াজযিয়াল লাযীনা আহসানূ বিলহুসনা
যা আছে আকাশে আর যা আছে যমীনে সব আল্লাহরই- যাতে তিনি যারা মন্দ কাজ করে তাদেরকে তাদের কাজের প্রতিফল দেন আর যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে দেন শুভ প্রতিফল।
ٱلَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَٰٓئِرَ ٱلْإِثْمِ وَٱلْفَوَٰحِشَ إِلَّا ٱللَّمَمَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ وَٰسِعُ ٱلْمَغْفِرَةِ ۚ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ ٱلْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌۭ فِى بُطُونِ أُمَّهَٰتِكُمْ ۖ فَلَا تُزَكُّوٓا۟ أَنفُسَكُمْ ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ ٱتَّقَىٰٓ ٣٢
আল্লাযীনা ইয়াজতানিবূনা কাবা-ইরাল ইছমি ওয়ালফাওয়া-হিশা ইল্লাল লামাম ইন্না রাব্বাকা ওয়া-সি‘উল মাগফিরাহ হুওয়া আ‘লামু বিকুম ইয আনশাআকুম মিনাল আরদি ওয়াইয আনতুম আজিন্নাতুন ফী বুতূনি উম্মাহা-তিকুম ফালা তুযাক্কূ আনফুসাকুম হুওয়া আ‘লামু বিমানিত তাকা-
যারা বিরত থাকে বড় বড় পাপ আর অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে ছোট খাট দোষ-ত্রুটি ছাড়া; বস্তুতঃ তোমার প্রতিপালক ক্ষমা করার ব্যাপারে অতি প্রশস্ত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে খুব ভালভাবেই জানেন যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন আর যখন তোমরা তোমাদের মায়েদের পেটে ভ্রুণ অবস্থায় ছিলে। কাজেই নিজেদেরকে খুব পবিত্র মনে করো না। কে তাক্বওয়া অবলম্বন করে তা তিনি ভালভাবেই জানেন।
أَفَرَءَيْتَ ٱلَّذِى تَوَلَّىٰ ٣٣
আফারাআইতাল লাযী তাওয়াল্লা
তুমি কি তাকে দেখেছ যে (আল্লাহ হতে) মুখ ফিরিয়ে নেয়?
وَأَعْطَىٰ قَلِيلًۭا وَأَكْدَىٰٓ ٣٤
ওয়াআ‘তা কালীলাঁ ওয়াআকদা-
এবং সামান্য দান করে অতঃপর (হৃদয়) শক্ত করে ফেলে?
أَعِندَهُۥ عِلْمُ ٱلْغَيْبِ فَهُوَ يَرَىٰٓ ٣٥
আ‘ইনদাহূ ‘ইলমুল গাইবি ফাহুওয়া ইয়ারা-
তার কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যার কারণে সে দেখতে পায়?
أَمْ لَمْ يُنَبَّأْ بِمَا فِى صُحُفِ مُوسَىٰ ٣٦
আম লাম ইউনাব্বাআ বিমা ফী সুহুফি মূসা
নাকি মূসার কিতাবের তথ্য তার কাছে পৌঁছানো হয়নি,
وَإِبْرَٰهِيمَ ٱلَّذِى وَفَّىٰٓ ٣٧
ওয়াইবরা-হীমাল লাযী ওয়াফ্ফা-
আর ইবরাহীমের (কিতাবের খবর) যে (ইবরাহীম) ছিল পুরোপুরি দায়িত্ব পালনকারী।
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌۭ وِزْرَ أُخْرَىٰ ٣٨
আল্লা তাযিরু ওয়া-যিরাতুঁ উইযরা উখরা
(সে খবর এই) যে, কোন বোঝা বহনকারী বইবে না অপরের বোঝা।
وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَٰنِ إِلَّا مَا سَعَىٰ ٣٩
ওয়াআল লাইসা লিলইনসা-নি ইল্লা মা সা‘আ
আর এই যে, মানুষ যা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে তাছাড়া কিছুই পায় না,
وَأَنَّ سَعْيَهُۥ سَوْفَ يُرَىٰ ٤٠
ওয়াআন্না সা‘ইয়াহূ সাওফা ইউরা
আর এই যে, তার চেষ্টা সাধনার ফল শীঘ্রই তাকে দেখানো হবে,
ثُمَّ يُجْزَىٰهُ ٱلْجَزَآءَ ٱلْأَوْفَىٰ ٤١
ছুম্মা ইউজযা-হুল জাযা-আল আওফা
অতঃপর তাকে দেয়া হবে পূর্ণ প্রতিফল
وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلْمُنتَهَىٰ ٤٢
ওয়াআন্না ইলা রাব্বিকাল মুনতাহা
আর এই যে, শেষ গন্তব্য হল তোমার প্রতিপালক পর্যন্ত,
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَىٰ ٤٣
ওয়াআন্নাহূ হুওয়া আদহাকা ওয়াআবকা
আর এই যে, তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান।
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَمَاتَ وَأَحْيَا ٤٤
ওয়াআন্নাহূ হুওয়া আমা-তা ওয়াআহইয়া
আর এই যে, তিনিই মারেন, তিনিই বাঁচান।
وَأَنَّهُۥ خَلَقَ ٱلزَّوْجَيْنِ ٱلذَّكَرَ وَٱلْأُنثَىٰ ٤٥
ওয়াআন্নাহূ খালাকায যাওজাইনিয যাকারা ওয়ালউনছা
আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন জোড়া- পুরুষ আর নারী,
مِن نُّطْفَةٍ إِذَا تُمْنَىٰ ٤٦
মিন নুতফাতিন ইযা তুমনা
এক ফোঁটা শুক্র হতে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয়
وَأَنَّ عَلَيْهِ ٱلنَّشْأَةَ ٱلْأُخْرَىٰ ٤٧
ওয়াআন্না ‘আলাইহিন নাশআতাল উখরা
আর এই যে, পুনরায় সৃষ্টির দায়িত্বভার তাঁরই উপর,
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَغْنَىٰ وَأَقْنَىٰ ٤٨
ওয়াআন্নাহূ হুওয়া আগনা ওয়াআকনা
আর এই যে, তিনিই অভাবমুক্ত করেন আর সম্পদ দেন,
وَأَنَّهُۥ هُوَ رَبُّ ٱلشِّعْرَىٰ ٤٩
ওয়াআন্নাহূ হুওয়া রাব্বুশ শি‘রা
আর এই যে, শি‘রা (অর্থাৎ লুব্ধক নক্ষত্র)’র তিনিই প্রতিপালক,
وَأَنَّهُۥٓ أَهْلَكَ عَادًا ٱلْأُولَىٰ ٥٠
ওয়াআন্নাহূ আহলাকা ‘আ-দানিল ঊলা
আর এই যে, তিনিই প্রাচীন ‘আদ জাতিকে ধ্বংস করেছিলেন,
وَثَمُودَا۟ فَمَآ أَبْقَىٰ ٥١
ওয়াছামূদা ফামা- আবকা
আর সামূদ জাতিকেও, তাদের একজনকেও বাকী রাখেননি।
وَقَوْمَ نُوحٍۢ مِّن قَبْلُ ۖ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ هُمْ أَظْلَمَ وَأَطْغَىٰ ٥٢
ওয়াকাওমা নূহিম মিন কাবলু ইন্নাহুম কা-নূ হুম আযলামা ওয়াআতগা
আর তার পূর্বে নূহের জাতিকেও, তারা ছিল অত্যধিক যালিম ও সীমালঙ্ঘনকারী।
وَٱلْمُؤْتَفِكَةَ أَهْوَىٰ ٥٣
ওয়ালমু’তাফিকাতা আহওয়া
তিনি (লূত জাতির) উল্টানো আবাস ভূমিকে উঠিয়ে নিক্ষেপ করেছিলেন,
فَغَشَّىٰهَا مَا غَشَّىٰ ٥٤
ফাগাশ্শা-হা মা গাশ্শা
অতঃপর তাকে আচ্ছন্ন করল যা তাকে আচ্ছন্ন করেছে।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكَ تَتَمَارَىٰ ٥٥
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকা তাতামা-রা
অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন নি‘মাতে সন্দেহ পোষণ করবে?
هَٰذَا نَذِيرٌۭ مِّنَ ٱلنُّذُرِ ٱلْأُولَىٰٓ ٥٦
হা-যা নাযীরুম মিনান নুযুরিল ঊলা-
অতীতের সতর্ককারীদের মত এ (নবীও) একজন সতর্ককারী।
أَزِفَتِ ٱلْءَازِفَةُ ٥٧
আযিফাতিল আ-যিফাহ
আগমনকারী মুহূর্ত (ক্বিয়ামত) নিকটবর্তী।
لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ ٱللَّهِ كَاشِفَةٌ ٥٨
লাইসা লাহা মিন দূনিল্লা-হি কা-শিফাহ
আল্লাহ ছাড়া কেউ তা সরাতে পারে না (বা প্রকাশ করতে পারে না)।
أَفَمِنْ هَٰذَا ٱلْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ ٥٩
আফামিন হা-যাল হাদীছি তা‘জাবূন
তোমরা কি এ কথায় বিস্মিত হচ্ছ?
وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ ٦٠
ওয়াতাদহাকূনা ওয়ালা তাবকূন
আর হাসছ, কাঁদছ না?
وَأَنتُمْ سَٰمِدُونَ ٦١
ওয়াআনতুম সা-মিদূন
বৃথা খেল-তামাশায় সময় ক্ষেপন করছ,
৫৩:৬২ সিজদা
فَٱسْجُدُوا۟ لِلَّهِ وَٱعْبُدُوا۟ ۩ ٦٢
ফাসজুদূ লিল্লা-হি ওয়া‘বুদূ
তাই, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদায় পতিত হও আর তাঁর বন্দেগী কর।[সাজদাহ]

القمر
সূরা আল-কামার

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
ٱقْتَرَبَتِ ٱلسَّاعَةُ وَٱنشَقَّ ٱلْقَمَرُ ١
ইকতারাবাতিস সা-‘আতু ওয়ানশাক্কাল কামার
ক্বিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চন্দ্র খন্ডিত হয়েছে,
وَإِن يَرَوْا۟ ءَايَةًۭ يُعْرِضُوا۟ وَيَقُولُوا۟ سِحْرٌۭ مُّسْتَمِرٌّۭ ٢
ওয়াইন ইয়ারাও আ-য়াতাঁ ইউ‘রিদূ ওয়ায়াকূলূ সিহরুম মুসতামির্র
কিন্তু তারা যখন কোন নিদর্শন দেখে তখন মুখ ফিরিয়ে নেয় আর বলে- ‘এটা তো সেই আগের থেকে চলে আসা যাদু।’
وَكَذَّبُوا۟ وَٱتَّبَعُوٓا۟ أَهْوَآءَهُمْ ۚ وَكُلُّ أَمْرٍۢ مُّسْتَقِرٌّۭ ٣
ওয়াকায্যাবূ ওয়াত্তাবা‘ঊ আহওয়া-আহুম ওয়াকুল্লু আমরিম মুসতাকির্র
তারা সত্যকে অস্বীকার করে, আর নিজেদের কামনা বাসনার অনুসরণ করে। প্রতিটি বিষয়েরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে (সময় আসলেই বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে)।
وَلَقَدْ جَآءَهُم مِّنَ ٱلْأَنۢبَآءِ مَا فِيهِ مُزْدَجَرٌ ٤
ওয়ালাকাদ জা-আহুম মিনাল আমবা-ই মা ফীহি মুযদাজার
এই লোকেদের কাছে তো (অতীতের জাতিগুলোর) সংবাদ এসেছে যাতে আছে সাবধান বাণী।
حِكْمَةٌۢ بَٰلِغَةٌۭ ۖ فَمَا تُغْنِ ٱلنُّذُرُ ٥
হিকমাতুম বা-লিগাতুন ফামা তুগনিন নুযুর
তা (হল) সুদূর প্রসারী জ্ঞান, কিন্তু সেই সতর্কবাণী কোন কাজে আসেনি।
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ ۘ يَوْمَ يَدْعُ ٱلدَّاعِ إِلَىٰ شَىْءٍۢ نُّكُرٍ ٦
ফাতাওয়াল্লা ‘আনহুম ইয়াওমা ইয়াদ‘উদ দা-‘ই ইলা শাইইন নুকুর
কাজেই (হে নবী) তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও (আর অপেক্ষা কর সে দিনের) যেদিন এক আহবানকারী (তাদেরকে) আহবান করবে এক ভয়াবহ বিষয়ের দিকে।
خُشَّعًا أَبْصَٰرُهُمْ يَخْرُجُونَ مِنَ ٱلْأَجْدَاثِ كَأَنَّهُمْ جَرَادٌۭ مُّنتَشِرٌۭ ٧
খুশ্শা‘আন আবসা-রুহুম ইয়াখরুজূনা মিনাল আজদা-ছি কাআন্নাহুম জারা-দুম মুনতাশির
ভীত-শংকিত চোখে তারা তাদের কবর থেকে বের হয়ে আসবে- যেন তারা বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল।
مُّهْطِعِينَ إِلَى ٱلدَّاعِ ۖ يَقُولُ ٱلْكَٰفِرُونَ هَٰذَا يَوْمٌ عَسِرٌۭ ٨
মুহতি‘ঈনা ইলাদ দা-‘ই ইয়াকূলুল কা-ফিরূনা হা-যা ইয়াওমুন ‘আসির
ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তারা আহবানকারীর দিকে ছুটে আসবে। কাফিররা বলবে- ‘‘কঠিন এ দিন’’।
۞ كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍۢ فَكَذَّبُوا۟ عَبْدَنَا وَقَالُوا۟ مَجْنُونٌۭ وَٱزْدُجِرَ ٩
কায্যাবাত কাবলাহুম কাওমু নূহিন ফাকায্যাবূ ‘আবদানা ওয়াকা-লূ মাজনূনুঁ ওয়াযদুজির
তাদের আগে নূহের জাতিও সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা আমার বান্দাহকে অস্বীকার করেছিল আর বলেছিল- ‘‘একটা পাগল’’; আর তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল।
فَدَعَا رَبَّهُۥٓ أَنِّى مَغْلُوبٌۭ فَٱنتَصِرْ ١٠
ফাদা‘আ রাব্বাহূ আন-নী মাগলূবুন ফানতাসির
তখন সে তার প্রতিপালককে ডেকেছিল- ‘‘আমি পরাস্ত হয়েছি, কাজেই তুমি এর প্রতিবিধান কর।’’
فَفَتَحْنَآ أَبْوَٰبَ ٱلسَّمَآءِ بِمَآءٍۢ مُّنْهَمِرٍۢ ١١
ফাফাতাহনা- আবওয়া-বাস সামা-ই বিমা-ইম মুনহামির
তখন আমি আকাশের দরজাগুলো খুলে দিয়ে মুষলধারায় বৃষ্টি বর্ষিয়েছিলাম।
وَفَجَّرْنَا ٱلْأَرْضَ عُيُونًۭا فَٱلْتَقَى ٱلْمَآءُ عَلَىٰٓ أَمْرٍۢ قَدْ قُدِرَ ١٢
ওয়াফাজ্জারনাল আরদা ‘উইউনান ফালতাকাল মা-উ ‘আলা- আমরিন কাদ কুদির
আর যমীন থেকে উৎসারিত করেছিলাম ঝর্ণাধারা, অতঃপর (সব) পানি মিলিত হল যে পরিমাণ (পূর্বেই) নির্ধারিত করা হয়েছিল।
وَحَمَلْنَٰهُ عَلَىٰ ذَاتِ أَلْوَٰحٍۢ وَدُسُرٍۢ ١٣
ওয়াহামালনা-হু ‘আলা যা-তি আলওয়া-হিঁ ওয়াদুসুর
আর আমি নূহকে বহন করলাম কাষ্ঠ আর কীলক যুক্ত (নৌযানে)।
تَجْرِى بِأَعْيُنِنَا جَزَآءًۭ لِّمَن كَانَ كُفِرَ ١٤
তাজরী বিআ‘ইউনিনা জাযা-আল লিমান কা-না কুফির
যা আমার চোখের সামনে (ও আমার তত্ত্বাবধানে) ভেসে চলল সেই ব্যক্তির পক্ষে প্রতিশোধ হিসেবে যাকে অমান্য ও অস্বীকার করা হয়েছিল।
وَلَقَد تَّرَكْنَٰهَآ ءَايَةًۭ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍۢ ١٥
ওয়ালাকাত তারাকনা-হা- আ-য়াতান ফাহাল মিম মুদ্দাকির
এ (ঘটনা) টিকে আমি (চিরকালের জন্য) নিদর্শন হিসেবে রেখে দিলাম, অতএব উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?
فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِى وَنُذُرِ ١٦
ফাকাইফা কা-না ‘আযা-বী ওয়ানুযুর
কত ভয়ংকর ছিল আমার ‘আযাব ও ভীতি প্রদর্শন।
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا ٱلْقُرْءَانَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍۢ ١٧
ওয়ালাকাদ ইয়াস্সারনাল কুরআ-না লিয্যিকরি ফাহাল মিম মুদ্দাকির
আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?
كَذَّبَتْ عَادٌۭ فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِى وَنُذُرِ ١٨
কায্যাবাত ‘আ-দুন ফাকাইফা কা-না ‘আযা-বী ওয়ানুযুর
‘আদ জাতি সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে কত ভয়ংকর ছিল আমার ‘আযাব ও ভীতি প্রদর্শন।
إِنَّآ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًۭا صَرْصَرًۭا فِى يَوْمِ نَحْسٍۢ مُّسْتَمِرٍّۢ ١٩
ইন্না- আরসালনা ‘আলাইহিম রীহান সারসারান ফী ইয়াওমি নাহসিম মুসতামির্র
আমি তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু এক অবিরাম অশুভ দিনে,
تَنزِعُ ٱلنَّاسَ كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍۢ مُّنقَعِرٍۢ ٢٠
তানযি‘উন না-সা কাআন্নাহুম আ‘জা-যু নাখলিম মুনকা‘ইর
মানুষকে তা উৎপাটিত করেছিল যেন তারা উৎপাটিত খেজুর গাছের কান্ড।
فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِى وَنُذُرِ ٢١
ফাকাইফা কা-না ‘আযা-বী ওয়ানুযুর
ফলে কত ভয়ংকর ছিল আমার ‘আযাব ও ভীতি প্রদর্শন।
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا ٱلْقُرْءَانَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍۢ ٢٢
ওয়ালাকাদ ইয়াস্সারনাল কুরআ-না লিয্যিকরি ফাহাল মিম মুদ্দাকির
আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, উপদেশ গ্রহণের কেউ আছে কি?
كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِٱلنُّذُرِ ٢٣
কায্যাবাত ছামূদু বিন্নুযুর
সামূদ জাতিও ভয়প্রদর্শনকারীদেরকে অস্বীকার করেছিল,
فَقَالُوٓا۟ أَبَشَرًۭا مِّنَّا وَٰحِدًۭا نَّتَّبِعُهُۥٓ إِنَّآ إِذًۭا لَّفِى ضَلَٰلٍۢ وَسُعُرٍ ٢٤
ফাকা-লূ আবাশারাম মিন্না ওয়া-হিদান নাত্তাবি‘উহূ ইন্না- ইযাল লাফী দালা-লিঁ ওয়াসু‘উর
তারা বলেছিল, ‘আমরা কি আমাদেরই মধ্যেকার মাত্র একটা লোকের অনুসরণ করব? তাহলে তো আমরা গুমরাহী আর পাগলামিতে পড়ে যাব।
أَءُلْقِىَ ٱلذِّكْرُ عَلَيْهِ مِنۢ بَيْنِنَا بَلْ هُوَ كَذَّابٌ أَشِرٌۭ ٢٥
আউলকিয়ায যিকরু ‘আলাইহি মিম বাইনিনা বাল হুওয়া কায্যা-বুন আশির
আমাদের (এত মানুষের) মধ্যে শুধু কি তার উপরই বাণী পাঠানো হয়েছে? না, বরং সে বড়ই মিথ্যুক, দাম্ভিক।
سَيَعْلَمُونَ غَدًۭا مَّنِ ٱلْكَذَّابُ ٱلْأَشِرُ ٢٦
সায়া‘লামূনা গাদাম মানিল কায্যা-বুল আশির
আগামীকালই তারা জানতে পারবে কে বড়ই মিথ্যুক, দাম্ভিক
إِنَّا مُرْسِلُوا۟ ٱلنَّاقَةِ فِتْنَةًۭ لَّهُمْ فَٱرْتَقِبْهُمْ وَٱصْطَبِرْ ٢٧
ইন্না মুরসিলুন না-কাতি ফিতনাতাল লাহুম ফারতাকিবহুম ওয়াসতাবির
আমি একটা উষ্ট্রী পাঠাচ্ছি, তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য, কাজেই (হে সালিহ!) তুমি তাদের আচরণ লক্ষ্য কর আর ধৈর্য ধর।
وَنَبِّئْهُمْ أَنَّ ٱلْمَآءَ قِسْمَةٌۢ بَيْنَهُمْ ۖ كُلُّ شِرْبٍۢ مُّحْتَضَرٌۭ ٢٨
ওয়ানাব্বি’হুম আন-নাল মা-আ কিসমাতুম বাইনাহুম কুল্লু শিরবিম মুহতাদার
আর তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে (ও উষ্ট্রীর মধ্যে) পানি বণ্টিত হবে, প্রত্যেকের পানি পানের পালা আসবে।
فَنَادَوْا۟ صَاحِبَهُمْ فَتَعَاطَىٰ فَعَقَرَ ٢٩
ফানা-দাও সা-হিবাহুম ফাতা‘আ-তা ফা‘আকার
শেষে তারা তাদের এক সঙ্গীকে ডাকল আর সে তাকে (অর্থাৎ উষ্ট্রীটিকে) ধরে হত্যা করল।
فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِى وَنُذُرِ ٣٠
ফাকাইফা কা-না ‘আযা-বী ওয়ানুযুর
ফলে কত ভয়ংকর হয়েছিল আমার ‘আযাব ও ভীতি প্রদর্শন।
إِنَّآ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ صَيْحَةًۭ وَٰحِدَةًۭ فَكَانُوا۟ كَهَشِيمِ ٱلْمُحْتَظِرِ ٣١
ইন্না- আরসালনা ‘আলাইহিম সাইহাতাঁ ওয়া-হিদাতান ফাকা-নূ কাহাশীমিল মুহতাযির
আমি তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম একটি মাত্র প্রচন্ড ধ্বনি। ফলে তারা খোঁয়াড়ওয়ালাদের (নির্মিত) ভেঙ্গে চুরে যাওয়া শুকনা ডালপালার মত গুঁড়িয়ে গেল।
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا ٱلْقُرْءَانَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍۢ ٣٢
ওয়ালাকাদ ইয়াস্সারনাল কুরআ-না লিয্যিকরি ফাহাল মিম মুদ্দাকির
আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, উপদেশ গ্রহণের কেউ আছে কি?
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍۭ بِٱلنُّذُرِ ٣٣
কায্যাবাত কাওমু লূতিম বিন্নুযুর
লূতের জাতি সতর্কবাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল,
إِنَّآ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ حَاصِبًا إِلَّآ ءَالَ لُوطٍۢ ۖ نَّجَّيْنَٰهُم بِسَحَرٍۢ ٣٤
ইন্না- আরসালনা ‘আলাইহিম হা-সিবান ইল্লা- আ-লা লূতিন নাজ্জাইনা-হুম বিসাহার
আমি তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম প্রস্তরবর্ষী প্রচন্ড বাতাস, (যা তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল) লূতের পরিবারকে বাদ দিয়ে। আমি তাদেরকে রাতের শেষ প্রহরে উদ্ধার করে নিয়েছিলাম।
نِّعْمَةًۭ مِّنْ عِندِنَا ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِى مَن شَكَرَ ٣٥
নি‘মাতাম মিন ‘ইনদিনা কাযা-লিকা নাজযী মান শাকার
আমার পক্ষ হতে অনুগ্রহস্বরূপ; এভাবেই আমি তাকে প্রতিফল দেই যে কৃতজ্ঞ হয়।
وَلَقَدْ أَنذَرَهُم بَطْشَتَنَا فَتَمَارَوْا۟ بِٱلنُّذُرِ ٣٦
ওয়ালাকাদ আনযারাহুম বাতশাতানা ফাতামা-রাও বিন্নুযুর
লূত আমার কঠোর পাকড়াও সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিল, কিন্তু তারা সতর্কবাণীর বিষয়ে বাক বিতন্ডা করেছিল।
وَلَقَدْ رَٰوَدُوهُ عَن ضَيْفِهِۦ فَطَمَسْنَآ أَعْيُنَهُمْ فَذُوقُوا۟ عَذَابِى وَنُذُرِ ٣٧
ওয়ালাকাদ রা-ওয়াদূহু ‘আন দাইফিহী ফাতামাসনা- আ‘ইউনাহুম ফাযূকূ ‘আযা-বী ওয়ানুযুর
তারা লূতকে তার মেহমানদের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করল তখন আমি তাদের চোখগুলোকে অন্ধ করে দিলাম আর বললাম ‘আমার ‘আযাব ও সতর্কবাণীর স্বাদ গ্রহণ কর।’
وَلَقَدْ صَبَّحَهُم بُكْرَةً عَذَابٌۭ مُّسْتَقِرٌّۭ ٣٨
ওয়ালাকাদ সাব্বাহাহুম বুকরাতান ‘আযা-বুম মুসতাকির্র
অতি সকালে নির্ধারিত শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করল।
فَذُوقُوا۟ عَذَابِى وَنُذُرِ ٣٩
ফাযূকূ ‘আযা-বী ওয়ানুযুর
তখন আমি বললাম- ‘আমার শাস্তি ও সতর্কবাণীর স্বাদ গ্রহণ কর।
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا ٱلْقُرْءَانَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍۢ ٤٠
ওয়ালাকাদ ইয়াস্সারনাল কুরআ-না লিয্যিকরি ফাহাল মিম মুদ্দাকির
আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। উপদেশ গ্রহণের কেউ আছে কি?
وَلَقَدْ جَآءَ ءَالَ فِرْعَوْنَ ٱلنُّذُرُ ٤١
ওয়ালাকাদ জা-আ আ-লা ফির‘আওনান নুযুর
ফেরাউন গোষ্ঠীর কাছেও (আমার) সতর্কবাণী এসেছিল।
كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا كُلِّهَا فَأَخَذْنَٰهُمْ أَخْذَ عَزِيزٍۢ مُّقْتَدِرٍ ٤٢
কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা কুল্লিহা ফাআখাযনা-হুম আখযা ‘আযীযিম মুকতাদির
তারা আমার সকল নিদর্শনকে অস্বীকার করেছিল, তখন আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম মহাপরাক্রমশালী ও ক্ষমতাবানের পাকড়াওয়ে।
أَكُفَّارُكُمْ خَيْرٌۭ مِّنْ أُو۟لَٰٓئِكُمْ أَمْ لَكُم بَرَآءَةٌۭ فِى ٱلزُّبُرِ ٤٣
আকুফ্ফা-রুকুম খাইরুম মিন উলা-ইকুম আম লাকুম বারা-আতুন ফিয যুবুর
তোমাদের (মক্কাবাসী) কাফিররা কি এ লোকেদের চেয়ে ভাল? নাকি (আসমানী) গ্রন্থাদিতে তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা লেখা আছে?
أَمْ يَقُولُونَ نَحْنُ جَمِيعٌۭ مُّنتَصِرٌۭ ٤٤
আম ইয়াকূলূনা নাহনু জামী‘উম মুনতাসির
নাকি তারা বলে- ‘আমরা সংঘবদ্ধ দল, নিজেদের প্রতিরক্ষায় সক্ষম।
سَيُهْزَمُ ٱلْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ ٱلدُّبُرَ ٤٥
সাইউহযামুল জাম‘উ ওয়াইউওয়াল্লূনাদ দুবুর
এ সংঘবদ্ধ দল শীঘ্রই পরাজিত হবে আর পিছন ফিরে পালাবে।
بَلِ ٱلسَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَٱلسَّاعَةُ أَدْهَىٰ وَأَمَرُّ ٤٦
বালিস সা-‘আতু মাও‘ইদুহুম ওয়াস্সা-‘আতু আদহা ওয়াআমার্র
বরং ক্বিয়ামত হল (তাদের দুষ্কর্মের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য) তাদেরকে দেয়া নির্ধারিত সময়, ক্বিয়ামত অতি কঠিন, অতিশয় তিক্ত।
إِنَّ ٱلْمُجْرِمِينَ فِى ضَلَٰلٍۢ وَسُعُرٍۢ ٤٧
ইন্নাল মুজরিমীনা ফী দালা-লিঁ ওয়াসু‘উর
পাপীরা আছে গুমরাহী আর পাগলামির মধ্যে।
يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِى ٱلنَّارِ عَلَىٰ وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا۟ مَسَّ سَقَرَ ٤٨
ইয়াওমা ইউসহাবূনা ফিন না-রি ‘আলা উজূহিহিম যূকূ মাস্সা সাকার
যেদিন তাদেরকে মুখের ভরে আগুনের মধ্যে হিঁচড়ে টেনে আনা হবে (তখন বলা হবে) ‘জাহান্নামের স্পর্শ আস্বাদন কর।’
إِنَّا كُلَّ شَىْءٍ خَلَقْنَٰهُ بِقَدَرٍۢ ٤٩
ইন্না কুল্লা শাইইন খালাকনা-হু বিকাদার
আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।
وَمَآ أَمْرُنَآ إِلَّا وَٰحِدَةٌۭ كَلَمْحٍۭ بِٱلْبَصَرِ ٥٠
ওয়ামা- আমরুনা- ইল্লা ওয়া-হিদাতুন কালামহিম বিলবাসার
আমার আদেশ তো মাত্র একটি কথা- চোখের পলকের মত।
وَلَقَدْ أَهْلَكْنَآ أَشْيَاعَكُمْ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍۢ ٥١
ওয়ালাকাদ আহলাকনা- আশইয়া-‘আকুম ফাহাল মিম মুদ্দাকির
আমি তোমাদের মত দলগুলোকে ইতোপূর্বে ধ্বংস করেছি, কাজেই উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?
وَكُلُّ شَىْءٍۢ فَعَلُوهُ فِى ٱلزُّبُرِ ٥٢
ওয়াকুল্লু শাইইন ফা‘আলূহু ফিয যুবুর
তারা যা কিছু করেছে তা আছে ‘আমালনামায়,
وَكُلُّ صَغِيرٍۢ وَكَبِيرٍۢ مُّسْتَطَرٌ ٥٣
ওয়াকুল্লু সাগীরিঁ ওয়াকাবীরিম মুসতাতার
ছোট আর বড় সবই আছে লিপিবদ্ধ।
إِنَّ ٱلْمُتَّقِينَ فِى جَنَّٰتٍۢ وَنَهَرٍۢ ٥٤
ইন্নাল মুত্তাকীনা ফী জান্না-তিঁ ওয়ানাহার
মুত্তাক্বীরা থাকবে বাগান আর ঝর্ণাধারার মাঝে,
فِى مَقْعَدِ صِدْقٍ عِندَ مَلِيكٍۢ مُّقْتَدِرٍۭ ٥٥
ফী মাক‘আদি সিদকিন ‘ইনদা মালীকিম মুকতাদির
প্রকৃত সম্মান ও মর্যাদার স্থানে, সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী (আল্লাহ)’র নিকটে।

الرحمن
সূরা আর-রাহমান

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
ٱلرَّحْمَٰنُ ١
আর-রাহমা-ন
পরম দয়ালু (আল্লাহ),
عَلَّمَ ٱلْقُرْءَانَ ٢
‘আল্লামাল কুরআ-ন
তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন,
خَلَقَ ٱلْإِنسَٰنَ ٣
খালাকাল ইনসা-ন
তিনিই মানুষ সৃষ্টি করেছেন,
عَلَّمَهُ ٱلْبَيَانَ ٤
‘আল্লামাহুল বায়া-ন
তিনিই শিখিয়েছেন মনের কথা প্রকাশ করতে,
ٱلشَّمْسُ وَٱلْقَمَرُ بِحُسْبَانٍۢ ٥
আশ-শামসু ওয়ালকামারু বিহুসবা-ন
সূর্য ও চন্দ্র আবর্তন করে সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী।
وَٱلنَّجْمُ وَٱلشَّجَرُ يَسْجُدَانِ ٦
ওয়ান্নাজমু ওয়াশ্শাজারু ইয়াসজুদা-ন
তৃণলতা গাছপালা (তাঁরই জন্য) সাজদায় অবনত,
وَٱلسَّمَآءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ ٱلْمِيزَانَ ٧
ওয়াস্সামা-আ রাফা‘আহা ওয়াওয়াদা‘আল মীযা-ন
তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত, আর স্থাপন করেছেন (ন্যায়ের) মানদন্ড,
أَلَّا تَطْغَوْا۟ فِى ٱلْمِيزَانِ ٨
আল্লা তাতগাও ফিল মীযা-ন
যাতে তোমরা মানদন্ডে সীমালঙ্ঘন না কর,
وَأَقِيمُوا۟ ٱلْوَزْنَ بِٱلْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوا۟ ٱلْمِيزَانَ ٩
ওয়াআকীমুল ওয়াযনা বিলকিসতি ওয়ালা তুখসিরুল মীযা-ন
সুবিচারের সঙ্গে ওজন প্রতিষ্ঠা কর আর ওজনে কম দিও না,
وَٱلْأَرْضَ وَضَعَهَا لِلْأَنَامِ ١٠
ওয়ালআরদা ওয়াদা‘আহা লিলআনা-ম
আর যমীন- তিনি (তাঁর) প্রাণীকুলের জন্য তাকে করেছেন বিস্তৃত,
فِيهَا فَٰكِهَةٌۭ وَٱلنَّخْلُ ذَاتُ ٱلْأَكْمَامِ ١١
ফীহা ফা-কিহাতুঁ ওয়ান্নাখলু যা-তুল আকমা-ম
এতে আছে নানান ফলমূল, আর খেজুর গাছ যার ফল আবরণে ঢাকা,
وَٱلْحَبُّ ذُو ٱلْعَصْفِ وَٱلرَّيْحَانُ ١٢
ওয়ালহাব্বু যুল ‘আসফি ওয়ার্রাইহা-ন
আর খোসা ও ডাটা বিশিষ্ট দানা আর সুগন্ধী গাছ।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ١٣
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?
خَلَقَ ٱلْإِنسَٰنَ مِن صَلْصَٰلٍۢ كَٱلْفَخَّارِ ١٤
খালাকাল ইনসা-না মিন সালসা-লিন কালফাখ্খা-র
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির মত শুকনা পচা কাদা হতে,
وَخَلَقَ ٱلْجَآنَّ مِن مَّارِجٍۢ مِّن نَّارٍۢ ١٥
ওয়াখালাকাল জা-ন্না মিম মা-রিজিম মিন না-র
আর জ্বিনকে সৃষ্টি করেছেন ধোঁয়াবিহীন আগুন হতে।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ١٦
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
رَبُّ ٱلْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ ٱلْمَغْرِبَيْنِ ١٧
রাব্বুল মাশরিকাইনি ওয়ারাব্বুল মাগরিবাইন
তিনিই দু’টি উদয় স্থান ও দু’টি অস্তাচলের নিয়ন্ত্রক,
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ١٨
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
مَرَجَ ٱلْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ ١٩
মারাজাল বাহরাইনি ইয়ালতাকিয়া-ন
দু’টি সমুদ্রকে তিনিই প্রবাহিত করেন যারা পরস্পর মিলিত হয়,
بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌۭ لَّا يَبْغِيَانِ ٢٠
বাইনাহুমা বারযাখুল লা ইয়াবগিয়া-ন
(কিন্তু তা সত্ত্বেও) উভয়ের মাঝে আছে এক আড়াল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٢١
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
يَخْرُجُ مِنْهُمَا ٱللُّؤْلُؤُ وَٱلْمَرْجَانُ ٢٢
ইয়াখরুজু মিনহুমাল লু’লুউ ওয়ালমারজা-ন
এ সব দরিয়া হতে বের হয় মুক্তা ও প্রবাল,
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٢٣
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
وَلَهُ ٱلْجَوَارِ ٱلْمُنشَـَٔاتُ فِى ٱلْبَحْرِ كَٱلْأَعْلَٰمِ ٢٤
ওয়ালাহুল জাওয়া-রিল মুনশাআ-তু ফিল বাহরি কালআ‘লা-ম
পর্বত সম জাহাজসমূহ তাঁরই, যা দরিয়ার বুকে শান্তভাবে চলাচল করে।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٢٥
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍۢ ٢٦
কুল্লু মান ‘আলাইহা ফা-ন
পৃথিবী পৃষ্ঠে যা আছে সবই ধ্বংসশীল,
وَيَبْقَىٰ وَجْهُ رَبِّكَ ذُو ٱلْجَلَٰلِ وَٱلْإِكْرَامِ ٢٧
ওয়ায়াবকা ওয়াজহু রাব্বিকা যুল জালা-লি ওয়ালইকরা-ম
কিন্তু চিরস্থায়ী তোমার প্রতিপালকের চেহারা (সত্তা)- যিনি মহীয়ান, গরীয়ান,
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٢٨
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
يَسْـَٔلُهُۥ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِى شَأْنٍۢ ٢٩
ইয়াসআলুহূ মান ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ কুল্লা ইয়াওমিন হুওয়া ফী শা’ন
আকাশ আর পৃথিবীতে যারা আছে তারা (নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যা কিছু দরকার) তাঁর কাছেই চায়, প্রতি মুহূর্ত তিনি নতুন নতুন গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত (কাউকেও বাঁচাচ্ছেন, কাউকেও মারছেন, কাউকেও সম্মানিত ক’রে ঊর্ধ্বে উঠাচ্ছেন, কাউকেও অপমানিত ক’রে নামিয়ে দিচ্ছেন ইত্যাদি)।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٣٠
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
سَنَفْرُغُ لَكُمْ أَيُّهَ ٱلثَّقَلَانِ ٣١
সানাফরুগু লাকুম আইয়্যুহাছ ছাকালা-ন
(দায়িত্বের) ভারে ভারাক্রান্ত ওহে (জ্বিন ও মানুষ) দু’ (জাতি)! অতি শীঘ্র (কর্মমুক্ত হয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য) আমি তোমাদের প্রতি মনোনিবেশ করব,
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٣٢
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
يَٰمَعْشَرَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِ إِنِ ٱسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا۟ مِنْ أَقْطَارِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ فَٱنفُذُوا۟ ۚ لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَٰنٍۢ ٣٣
ইয়া-মা‘শারাল জিন্নি ওয়ালইনসি ইনিসতাতা‘তুম আন তানফুযূ মিন আকতা-রিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ফানফুযূ লা তানফুযূনা ইল্লা বিসুলতা-ন
হে জ্বিন ও মানুষ জাতি! তোমরা যদি আকাশ ও পৃথিবীর সীমানা অতিক্রম করতে পার তাহলে অতিক্রম কর, কিন্তু (আল্লাহর) প্রমাণপত্র ছাড়া তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٣٤
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌۭ مِّن نَّارٍۢ وَنُحَاسٌۭ فَلَا تَنتَصِرَانِ ٣٥
ইউরসালু ‘আলাইকুমা শুওয়া-যুম মিন না-রিঁ ওয়ানুহা-সুন ফালা তানতাসিরা-ন
(অতিক্রম করতে চাইলে) তোমাদের দিকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া ছেড়ে দেয়া হবে, তখন তোমরা তা প্রতিরোধ করতে পারবে না।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٣٦
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
فَإِذَا ٱنشَقَّتِ ٱلسَّمَآءُ فَكَانَتْ وَرْدَةًۭ كَٱلدِّهَانِ ٣٧
ফাইযানশাক্কাতিস সামা-উ ফাকা-নাত ওয়ারদাতান কাদ্দিহা-ন
যখন আকাশ দীর্ণ বিদীর্ণ হবে আর লাল চামড়ার মত রক্তবর্ণ ধারণ করবে
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٣٨
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
فَيَوْمَئِذٍۢ لَّا يُسْـَٔلُ عَن ذَنۢبِهِۦٓ إِنسٌۭ وَلَا جَآنٌّۭ ٣٩
ফায়াওমাইযিল লা ইউসআলু ‘আন যামবিহী ইনসুঁ ওয়ালা জা-ন্ন
সে দিন না মানুষকে, না জ্বিনকে তার গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٤٠
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
يُعْرَفُ ٱلْمُجْرِمُونَ بِسِيمَٰهُمْ فَيُؤْخَذُ بِٱلنَّوَٰصِى وَٱلْأَقْدَامِ ٤١
ইউ‘রাফুল মুজরিমূনা বিসীমা-হুম ফাইউ’খাযু বিন্নাওয়া-সী ওয়ালআকদা-ম
অপরাধীদেরকে চিনতে পারা যাবে তাদের চেহারা থেকেই, আর মাথার ঝুঁটি ও পা ধরে তাদেরকে পাকড়াও করা হবে।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٤٢
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
هَٰذِهِۦ جَهَنَّمُ ٱلَّتِى يُكَذِّبُ بِهَا ٱلْمُجْرِمُونَ ٤٣
হা-যিহী জাহান্নামুল লাতী ইউকায্যিবু বিহাল মুজরিমূন
এটা সেই জাহান্নাম যাকে অপরাধীরা মিথ্যে মনে করেছিল।
يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ ءَانٍۢ ٤٤
ইয়াতূফূনা বাইনাহা ওয়াবাইনা হামীমিন আ-ন
সেই জাহান্নাম আর ফুটন্ত পানিতে তারা ঘুরপাক খেতে থাকবে।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٤٥
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ جَنَّتَانِ ٤٦
ওয়ালিমান খা-ফা মাকা-মা রাব্বিহী জান্নাতা-ন
আর যে তার প্রতিপালকের সামনে হাজির হওয়ার ভয় রাখে তার জন্য আছে দু’টো বাগান।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٤٧
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
ذَوَاتَآ أَفْنَانٍۢ ٤٨
যাওয়া-তা- আফনা-ন
দু’টোই শাখা পল্লবে ভরপুর।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٤٩
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ ٥٠
ফীহিমা ‘আইনা-নি তাজরিয়া-ন
দু’বাগানেই আছে দু’টো করে প্রবহমান ঝর্ণা।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٥١
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
فِيهِمَا مِن كُلِّ فَٰكِهَةٍۢ زَوْجَانِ ٥٢
ফীহিমা মিন কুল্লি ফা-কিহাতিন যাওজা-ন
উভয় বাগানে আছে প্রত্যেকটি ফলের দু’টি প্রকার।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٥٣
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
مُتَّكِـِٔينَ عَلَىٰ فُرُشٍۭ بَطَآئِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍۢ ۚ وَجَنَى ٱلْجَنَّتَيْنِ دَانٍۢ ٥٤
মুত্তাকিঈনা ‘আলা ফুরুশিম বাতা-ইনুহা মিন ইসতাবরাক ওয়াজানাল জান্নাতাইনি দা-ন
তারা হেলান দিয়ে বসবে শয্যার উপর যার আস্তর হবে পুরু রেশমের। দু’বাগানের ফল হবে নিকটবর্তী (জান্নাতীদের নাগালের মধ্যে)।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٥٥
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
فِيهِنَّ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌۭ قَبْلَهُمْ وَلَا جَآنٌّۭ ٥٦
ফীহিন্না কা-সিরা-তুত তারফি লাম ইয়াতমিছহুন্না ইনসুন কাবলাহুম ওয়ালা জা-ন্ন
তার মধ্যে থাকবে সতীসাধ্বী সংযত-নয়না (কুমারী)রা, পূর্বে যাদেরকে স্পর্শ করেনি কোন মানুষ আর কোন জ্বিন।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٥٧
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
كَأَنَّهُنَّ ٱلْيَاقُوتُ وَٱلْمَرْجَانُ ٥٨
কাআন্নাহুন্নাল ইয়া-কূতু ওয়ালমারজা-ন
তারা যেন পদ্মরাগ ও প্রবাল।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٥٩
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
هَلْ جَزَآءُ ٱلْإِحْسَٰنِ إِلَّا ٱلْإِحْسَٰنُ ٦٠
হাল জাযা-উল ইহসা-নি ইল্লাল ইহসা-ন
উত্তম কাজের প্রতিফল উত্তম পুরস্কার ছাড়া কী হতে পারে?
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٦١
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
وَمِن دُونِهِمَا جَنَّتَانِ ٦٢
ওয়ামিন দূনিহিমা জান্নাতা-ন
এ দু’টো বাগান ছাড়াও আরো বাগান আছে।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٦٣
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
مُدْهَآمَّتَانِ ٦٤
মুদহা-ম্মাতা-ন
ঘন সবুজ এ বাগান দু’টো।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٦٥
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ ٦٦
ফীহিমা ‘আইনা-নি নাদ্দা-খাতা-ন
দু’টো বাগানেই আছে অবিরাম ও প্রচুর পরিমাণে উৎক্ষিপ্তমান দু’টো ঝর্ণাধারা।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٦٧
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
فِيهِمَا فَٰكِهَةٌۭ وَنَخْلٌۭ وَرُمَّانٌۭ ٦٨
ফীহিমা ফা-কিহাতুঁ ওয়ানাখলুঁ ওয়ারুম্মা-ন
তাতে আছে ফলমূল, আর খেজুর আর ডালিম,
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٦٩
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
فِيهِنَّ خَيْرَٰتٌ حِسَانٌۭ ٧٠
ফীহিন্না খাইরা-তুন হিসা-ন
তাতে আছে উত্তম স্বভাব চরিত্রের সুন্দরী (কুমারী)রা।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٧١
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
حُورٌۭ مَّقْصُورَٰتٌۭ فِى ٱلْخِيَامِ ٧٢
হূরুম মাকসূরা-তুন ফিল খিয়া-ম
(সুসজ্জিত) প্যাভিলিয়নে সুরক্ষিত থাকবে সুলোচনা সুন্দরীরা।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٧٣
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌۭ قَبْلَهُمْ وَلَا جَآنٌّۭ ٧٤
লাম ইয়াতমিছহুন্না ইনসুন কাবলাহুম ওয়ালা জা-ন্ন
পূর্বে যাদেরকে স্পর্শ কোন মানুষেও করেনি, কোন জ্বিনেও করেনি।
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٧٥
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
مُتَّكِـِٔينَ عَلَىٰ رَفْرَفٍ خُضْرٍۢ وَعَبْقَرِىٍّ حِسَانٍۢ ٧٦
মুত্তাকিঈনা ‘আলা রাফরাফিন খুদরিঁ ওয়া‘আবকারিয়্যিন হিসা-ন
তারা হেলান দিবে সবুজ তাকীয়াহ্ আর সুন্দর সুসজ্জিত গালিচার উপরে,
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٧٧
ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন
অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?
تَبَٰرَكَ ٱسْمُ رَبِّكَ ذِى ٱلْجَلَٰلِ وَٱلْإِكْرَامِ ٧٨
তাবা-রাকাসমু রাব্বিকা যিল জালা-লি ওয়ালইকরা-ম
মাহাত্ম্য ও সম্মানের অধিকারী তোমার প্রতিপালকের নাম বড়ই কল্যাণময়।

الواقعة
সূরা আল-ওয়াকিআ

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
إِذَا وَقَعَتِ ٱلْوَاقِعَةُ ١
ইযা ওয়াকা‘আতিল ওয়া-কি‘আহ
যখন সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনাটি ঘটবে,
لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ ٢
লাইসা লিওয়াক‘আতিহা কা-যিবাহ
তখন তার সংঘটন অস্বীকার করার কেউ থাকবে না,
خَافِضَةٌۭ رَّافِعَةٌ ٣
খা-ফিদাতুর রা-ফি‘আহ
(অনেককে করা হবে) নীচু, (অনেককে করা হবে) উঁচু,
إِذَا رُجَّتِ ٱلْأَرْضُ رَجًّۭا ٤
ইযা রুজ্জাতিল আরদু রাজ্জা
যখন পৃথিবী প্রবল কম্পনে হবে প্রকম্পিত,
وَبُسَّتِ ٱلْجِبَالُ بَسًّۭا ٥
ওয়াবুস্সাতিল জিবা-লু বাস্সা
আর পাহাড়গুলো হবে চূর্ণ বিচূর্ণ,
فَكَانَتْ هَبَآءًۭ مُّنۢبَثًّۭا ٦
ফাকা-নাত হাবা-আম মুমবাছ্ছা
তখন তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।
وَكُنتُمْ أَزْوَٰجًۭا ثَلَٰثَةًۭ ٧
ওয়াকুনতুম আযওয়া-জান ছালা-ছাহ
আর তোমরা হবে তিন অংশে বিভক্ত,
فَأَصْحَٰبُ ٱلْمَيْمَنَةِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلْمَيْمَنَةِ ٨
ফাআসহা-বুল মাইমানাতি মা- আসহা-বুল মাইমানাহ
তখন (হবে) ডান দিকের একটি দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল।
وَأَصْحَٰبُ ٱلْمَشْـَٔمَةِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلْمَشْـَٔمَةِ ٩
ওয়াআসহা-বুল মাশআমাতি মা- আসহা-বুল মাশআমাহ
আর বাম দিকের একটি দল; কত দুর্ভাগা বাম দিকের দলটি।
وَٱلسَّٰبِقُونَ ٱلسَّٰبِقُونَ ١٠
ওয়াস্সা-বিকূনাস সা-বিকূন
আর (ঈমানে) অগ্রবর্তীরা তো (পরকালেও) অগ্রবর্তী,
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلْمُقَرَّبُونَ ١١
উলা-ইকাল মুকার্রাবূন
তারাই (আল্লাহর) নৈকট্যপ্রাপ্ত
فِى جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ ١٢
ফী জান্না-তিন না‘ঈম
(তারা থাকবে) নি‘মাতে পরিপূর্ণ জান্নাতে।
ثُلَّةٌۭ مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ ١٣
ছুল্লাতুম মিনাল আওয়ালীন
পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে বহু সংখ্যক।
وَقَلِيلٌۭ مِّنَ ٱلْءَاخِرِينَ ١٤
ওয়াকালীলুম মিনাল আ-খিরীন
আর পরবর্তীদের মধ্য হতে কম সংখ্যক।
عَلَىٰ سُرُرٍۢ مَّوْضُونَةٍۢ ١٥
‘আলা সুরুরিম মাওদূনাহ
(তারা থাকবে) মণিমুক্তা খচিত আসনে,
مُّتَّكِـِٔينَ عَلَيْهَا مُتَقَٰبِلِينَ ١٦
মুত্তাকিঈনা ‘আলাইহা মুতাকা-বিলীন
তাতে তারা হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখী হয়ে।
يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَٰنٌۭ مُّخَلَّدُونَ ١٧
ইয়াতূফু ‘আলাইহিম উইলদা-নুম মুখাল্লাদূন
তাদের চারপাশে ঘুর ঘুর করবে (সেবায় নিয়োজিত) চির কিশোররা।
بِأَكْوَابٍۢ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍۢ مِّن مَّعِينٍۢ ١٨
বিআকওয়া-বিঁ ওয়াআবা-রীকা ওয়াকা’সিম মিম মা‘ঈন
পানপাত্র, কেটলি আর ঝর্ণার প্রবাহিত স্বচ্ছ সুরায় ভরা পেয়ালা নিয়ে,
لَّا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ ١٩
লা ইউসাদ্দা‘ঊনা ‘আনহা ওয়ালা ইউনযিফূন
তা পান করলে মাথা ঘুরবে না, জ্ঞানও লোপ পাবে না
وَفَٰكِهَةٍۢ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَ ٢٠
ওয়াফা-কিহাতিম মিম্মা ইয়াতাখাইয়্যারূন
আর নানান ফলমূল, ইচ্ছেমত যেটা তারা বেছে নেবে,
وَلَحْمِ طَيْرٍۢ مِّمَّا يَشْتَهُونَ ٢١
ওয়ালাহমি তাইরিম মিম্মা ইয়াশতাহূন
আর পাখীর গোশত যেটা তাদের মনে চাইবে,
وَحُورٌ عِينٌۭ ٢٢
ওয়াহূরুন ‘ঈন
আর (সেখানে থাকবে) ডাগর ডাগর উজ্জ্বল সুন্দর চোখওয়ালা সুন্দরীরা,
كَأَمْثَٰلِ ٱللُّؤْلُؤِ ٱلْمَكْنُونِ ٢٣
কাআমছা-লিল লু’লুইল মাকনূন
সযত্নে লুকিয়ে রাখা মুক্তোর মত,
جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ٢٤
জাযা-আম বিমা কা-নূ ইয়া‘মালূন
তাদের কর্মের প্রতিদান হিসেবে!
لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًۭا وَلَا تَأْثِيمًا ٢٥
লা ইয়াসমা‘ঊনা ফীহা লাগওয়াঁ ওয়ালা তা’ছীমা
সেখানে তারা শুনবে না কোন অনর্থক কথাবার্তা, আর পাপের বুলি,
إِلَّا قِيلًۭا سَلَٰمًۭا سَلَٰمًۭا ٢٦
ইল্লা কীলান সালা-মান সালা-মা
এমন কথা ছাড়া যা হবে শান্তিময়, নিরাপদ,
وَأَصْحَٰبُ ٱلْيَمِينِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلْيَمِينِ ٢٧
ওয়াআসহা-বুল ইয়ামীনি মা- আসহা-বুল ইয়ামীন
আর ডানদিকের দল, কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
فِى سِدْرٍۢ مَّخْضُودٍۢ ٢٨
ফী সিদরিম মাখদূদ
তারা থাকবে কাঁটা বিহীন বরই গাছগুলোর মাঝে,
وَطَلْحٍۢ مَّنضُودٍۢ ٢٩
ওয়াতালহিম মানদূদ
কলা গাছের মাঝে যাতে আছে থরে থরে সাজানো কলা,
وَظِلٍّۢ مَّمْدُودٍۢ ٣٠
ওয়াযিল্লিম মামদূদ
বিস্তীর্ণ অঞ্চল-জুড়া ছায়ায়,
وَمَآءٍۢ مَّسْكُوبٍۢ ٣١
ওয়ামা-ইম মাসকূব
অবিরাম প্রবহমান পানির ধারে,
وَفَٰكِهَةٍۢ كَثِيرَةٍۢ ٣٢
ওয়াফা-কিহাতিন কাছীরাহ
আর পর্যাপ্ত ফলমূল পরিবেষ্টিত হয়ে,
لَّا مَقْطُوعَةٍۢ وَلَا مَمْنُوعَةٍۢ ٣٣
লা মাকতূ‘আতিঁ ওয়ালা মামনূ‘আহ
যা কখনও শেষ হবে না, কক্ষনো নিষিদ্ধও হবে না।
وَفُرُشٍۢ مَّرْفُوعَةٍ ٣٤
ওয়াফুরুশিম মারফূ‘আহ
আর উঁচু উঁচু বিছানায়।
إِنَّآ أَنشَأْنَٰهُنَّ إِنشَآءًۭ ٣٥
ইন্না- আনশা’না-হুন্না ইনশা-আ
তাদেরকে (অর্থাৎ ঐ হুরদেরকে) আমি সৃষ্টি করেছি এক অভিনব সৃষ্টিতে,
فَجَعَلْنَٰهُنَّ أَبْكَارًا ٣٦
ফাজা‘আলনা-হুন্না আবকা-রা
আর তাদেরকে করেছি কুমারী,
عُرُبًا أَتْرَابًۭا ٣٧
‘উরুবান আতরা-বা
স্বামী ভক্তা, অনুরক্তা আর সমবয়স্কা,
لِّأَصْحَٰبِ ٱلْيَمِينِ ٣٨
লিআসহা-বিল ইয়ামীন
(এ সব হল) ডান দিকের লোকদের জন্য,
ثُلَّةٌۭ مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ ٣٩
ছুল্লাতুম মিনাল আওয়ালীন
(যারা হবে) পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে বহু সংখ্যক
وَثُلَّةٌۭ مِّنَ ٱلْءَاخِرِينَ ٤٠
ওয়াছুল্লাতুম মিনাল আ-খিরীন
আর পরবর্তীদের মধ্য থেকে বহুসংখ্যক
وَأَصْحَٰبُ ٱلشِّمَالِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلشِّمَالِ ٤١
ওয়াআসহা-বুশ শিমা-লি মা- আসহা-বুশ শিমা-ল
আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বামদিকের দল!
فِى سَمُومٍۢ وَحَمِيمٍۢ ٤٢
ফী সামূমিঁ ওয়াহামীম
(তারা থাকবে) অত্যধিক গরম হাওয়া, ফুটন্ত পানি
وَظِلٍّۢ مِّن يَحْمُومٍۢ ٤٣
ওয়াযিল্লিম মিন ইয়াহমূম
আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
لَّا بَارِدٍۢ وَلَا كَرِيمٍ ٤٤
লা বা-রিদিঁ ওয়ালা কারীম
যা শীতলও নয়, তৃপ্তিদায়কও নয়।
إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَبْلَ ذَٰلِكَ مُتْرَفِينَ ٤٥
ইন্নাহুম কা-নূ কাবলা যা-লিকা মুতরাফীন
ইতোপূর্বে তারা ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল,
وَكَانُوا۟ يُصِرُّونَ عَلَى ٱلْحِنثِ ٱلْعَظِيمِ ٤٦
ওয়াকা-নূ ইউসির্রূনা ‘আলাল হিনছিল ‘আযীম
আর অবিরাম ক’রে যেত বড় বড় পাপের কাজ,
وَكَانُوا۟ يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًۭا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ ٤٧
ওয়াকা-নূ ইয়াকূলূনা আইযা মিতনা ওয়াকুন্না তুরা-বাঁ ওয়া‘ইযা-মান আইন্না লামাব‘ঊছূন
আর তারা বলত- ‘আমরা যখন মরে যাব আর মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে (নতুন জীবন দিয়ে) আবার উঠানো হবে?
أَوَءَابَآؤُنَا ٱلْأَوَّلُونَ ٤٨
আওয়াআ-বা-উনাল আওয়ালূন
আর আমাদের বাপদাদাদেরকেও?
قُلْ إِنَّ ٱلْأَوَّلِينَ وَٱلْءَاخِرِينَ ٤٩
কুল ইন্নাল আওয়ালীনা ওয়ালআ-খিরীন
বল- ‘পূর্ববর্তী আর পরবর্তী
لَمَجْمُوعُونَ إِلَىٰ مِيقَٰتِ يَوْمٍۢ مَّعْلُومٍۢ ٥٠
লামাজমূ‘ঊনা ইলা মীকা-তি ইয়াওমিম মা‘লূম
অবশ্যই সকলকে একত্রিত করা হবে একটা নির্ধারিত দিনে যা (আল্লাহর) জানা আছে।
ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا ٱلضَّآلُّونَ ٱلْمُكَذِّبُونَ ٥١
ছুম্মা ইন্নাকুম আইয়্যুহাদ দা-ল্লূনাল মুকায্যিবূন
তখন হে গুমরাহ (সত্য) প্রত্যাখ্যানকারীরা!
لَءَاكِلُونَ مِن شَجَرٍۢ مِّن زَقُّومٍۢ ٥٢
লাআ-কিলূনা মিন শাজারিম মিন যাক্কূম
তোমরা অবশ্যই জাক্কুম গাছ থেকে আহার করবে,
فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ ٥٣
ফামা-লিঊনা মিনহাল বুতূন
তা দিয়ে তোমরা তোমাদের পেট ভর্তি করবে,
فَشَٰرِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ ٱلْحَمِيمِ ٥٤
ফাশা-রিবূনা ‘আলাইহি মিনাল হামীম
আর তার উপর পান করবে ফুটন্ত পানি,
فَشَٰرِبُونَ شُرْبَ ٱلْهِيمِ ٥٥
ফাশা-রিবূনা শুরবাল হীম
আর তা পান করবে পিপাসা-কাতর উটের মত
هَٰذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ ٱلدِّينِ ٥٦
হা-যা নুযুলুহুম ইয়াওমাদ দীন
প্রতিফল দেয়ার দিনে এই হবে তাদের আপ্যায়ন
نَحْنُ خَلَقْنَٰكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ ٥٧
নাহনু খালাকনা-কুম ফালাওলা তুসাদ্দিকূন
আমিই তো তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাহলে তোমরা সত্যকে বিশ্বাস করবে না কেন?
أَفَرَءَيْتُم مَّا تُمْنُونَ ٥٨
আফারাআইতুম মা তুমনূন
তোমরা কি ভেবে দেখেছ- তোমরা যে বীর্য নিক্ষেপ কর,
ءَأَنتُمْ تَخْلُقُونَهُۥٓ أَمْ نَحْنُ ٱلْخَٰلِقُونَ ٥٩
আআনতুম তাখলুকূনাহূ আম নাহনুল খা-লিকূন
তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না তার সৃষ্টিকর্তা আমিই।
نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ ٱلْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ ٦٠
নাহনু কাদ্দারনা বাইনাকুমুল মাওতা ওয়ামা নাহনু বিমাসবূকীন
তোমাদের মধ্যে মৃত্যু আমিই নির্ধারণ করি, আর আমি কিছুমাত্র অক্ষম নই
عَلَىٰٓ أَن نُّبَدِّلَ أَمْثَٰلَكُمْ وَنُنشِئَكُمْ فِى مَا لَا تَعْلَمُونَ ٦١
‘আলা- আন নুবাদ্দিলা আমছা-লাকুম ওয়ানুনশিআকুম ফী মা লা তা‘লামূন
তোমাদের আকার আকৃতি পরিবর্তন করতে আর তোমাদেরকে (নতুনভাবে) এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না।
وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ ٱلنَّشْأَةَ ٱلْأُولَىٰ فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ ٦٢
ওয়ালাকাদ ‘আলিমতুমুন নাশআতাল ঊলা ফালাওলা তাযাক্কারূন
তোমরা তোমাদের প্রথম সৃষ্টি সম্বন্ধে অবশ্যই জান তাহলে (আল্লাহ যে তোমাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম এ কথা) তোমরা অনুধাবন কর না কেন?
أَفَرَءَيْتُم مَّا تَحْرُثُونَ ٦٣
আফারাআইতুম মা তাহরুছূন
তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমরা যে বীজ বপন কর সে সম্পর্কে?
ءَأَنتُمْ تَزْرَعُونَهُۥٓ أَمْ نَحْنُ ٱلزَّٰرِعُونَ ٦٤
আআনতুম তাযরা‘ঊনাহূ আম নাহনুয যা-রি‘ঊন
তোমরাই কি তা উৎপন্ন কর, না আমিই উৎপন্নকারী?
لَوْ نَشَآءُ لَجَعَلْنَٰهُ حُطَٰمًۭا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ ٦٥
লাও নাশা-উ লাজা‘আলনা-হু হুতা-মান ফাযালতুম তাফাক্কাহূন
আমি ইচ্ছে করলে তাকে অবশ্যই খড়কুটা করে দিতে পারি, তখন তোমরা হয়ে যাবে বিস্ময়ে হতবাক।
إِنَّا لَمُغْرَمُونَ ٦٦
ইন্না লামুগরামূন
(আর বলবে যে) ‘আমরা তো দায়গ্রস্ত হয়ে পড়লাম,
بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ ٦٧
বাল নাহনু মাহরূমূন
বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেলাম।
أَفَرَءَيْتُمُ ٱلْمَآءَ ٱلَّذِى تَشْرَبُونَ ٦٨
আফারাআইতুমুল মা-আল লাযী তাশরাবূন
তোমরা কি পানি সম্পর্কে চিন্তা করে দেখেছ যা তোমরা পান কর?
ءَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ ٱلْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ ٱلْمُنزِلُونَ ٦٩
আআনতুম আনযালতুমূহু মিনাল মুযনি আম নাহনুল মুনযিলূন
তা কি তোমরাই মেঘ থেকে বর্ষণ কর, নাকি তার বষর্ণকারী আমিই?
لَوْ نَشَآءُ جَعَلْنَٰهُ أُجَاجًۭا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ ٧٠
লাও নাশা-উ জা‘আলনা-হু উজা-জান ফালাওলা তাশকুরূন
আমি ইচ্ছে করলে তাকে লবণাক্ত করে দিতে পারি, তাহলে কেন তোমরা শোকর আদায় কর না?
أَفَرَءَيْتُمُ ٱلنَّارَ ٱلَّتِى تُورُونَ ٧١
আফারাআইতুমুন না-রাল লাতী তূরূন
তোমরা যে আগুন জ্বালাও সে সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করে দেখেছ?
ءَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَآ أَمْ نَحْنُ ٱلْمُنشِـُٔونَ ٧٢
আআনতুম আনশা’তুম শাজারাতাহা- আম নাহনুল মুনশিঊন
তার (জ্বালানোর) গাছ (অর্থাৎ কাঠ) কি তোমরাই বানিয়েছ, নাকি আমিই বানিয়েছি?
نَحْنُ جَعَلْنَٰهَا تَذْكِرَةًۭ وَمَتَٰعًۭا لِّلْمُقْوِينَ ٧٣
নাহনু জা‘আলনা-হা তাযকিরাতাঁ ওয়ামাতা-‘আল লিলমুকউঈন
আমি তাকে (অর্থাৎ আগুনকে) করেছি স্মারক (যা জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়) আর মরুর অধিবাসীদের জন্য দরকারী ও আরামের বস্তু।
فَسَبِّحْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلْعَظِيمِ ٧٤
ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল ‘আযীম
কাজেই (হে নবী!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের মহিমা ও গৌরব ঘোষণা কর।
۞ فَلَآ أُقْسِمُ بِمَوَٰقِعِ ٱلنُّجُومِ ٧٥
ফালা- উকসিমু বিমাওয়া-কি‘ইন নুজূম
উপরন্তু আমি শপথ করছি তারকারাজির অস্তাচলের।
وَإِنَّهُۥ لَقَسَمٌۭ لَّوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ ٧٦
ওয়াইন্নাহূ লাকাসামুল লাও তা‘লামূনা ‘আযীম
তা অবশ্যই অতি বড় শপথ যদি তোমরা জানতে!
إِنَّهُۥ لَقُرْءَانٌۭ كَرِيمٌۭ ٧٧
ইন্নাহূ লাকুরআ-নুন কারীম
অবশ্যই তা সম্মানিত কুরআন,
فِى كِتَٰبٍۢ مَّكْنُونٍۢ ٧٨
ফী কিতা-বিম মাকনূন
(যা লিখিত আছে) সুরক্ষিত কিতাবে,
لَّا يَمَسُّهُۥٓ إِلَّا ٱلْمُطَهَّرُونَ ٧٩
লা ইয়ামাস্সুহূ ইল্লাল মুতাহ্হারূন
পূত-পবিত্র (ফেরেশতা) ছাড়া (শয়ত্বানেরা) তা স্পর্শ করতে পারে না,
تَنزِيلٌۭ مِّن رَّبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٨٠
তানযীলুম মির রাব্বিল ‘আ-লামীন
জগৎ সমূহের প্রতিপালকের নিকট থেকে অবতীর্ণ,
أَفَبِهَٰذَا ٱلْحَدِيثِ أَنتُم مُّدْهِنُونَ ٨١
আফাবিহা-যাল হাদীছি আনতুম মুদহিনূন
তবুও কি তোমরা এ বাণীকে তুচ্ছ মনে করছ?
وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ ٨٢
ওয়াতাজ‘আলূনা রিযকাকুম আন-নাকুম তুকায্যিবূন
আর তাকে মিথ্যে বলাকেই তোমরা তোমাদের জীবিকা বানিয়ে নিয়েছ।
فَلَوْلَآ إِذَا بَلَغَتِ ٱلْحُلْقُومَ ٨٣
ফালাওলা- ইযা বালাগাতিল হুলকূম
তাহলে কেন (তোমরা বাধা দাও না) যখন প্রাণ এসে যায় কণ্ঠনালীতে?
وَأَنتُمْ حِينَئِذٍۢ تَنظُرُونَ ٨٤
ওয়াআনতুম হীনাইযিন তানযুরূন
আর তোমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখ,
وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنكُمْ وَلَٰكِن لَّا تُبْصِرُونَ ٨٥
ওয়ানাহনু আকরাবু ইলাইহি মিনকুম ওয়ালা-কিল লা তুবসিরূন
আর আমি তোমাদের চেয়ে তার (অর্থাৎ প্রাণের) নিকটবর্তী, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা।
فَلَوْلَآ إِن كُنتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ ٨٦
ফালাওলা- ইন কুনতুম গাইরা মাদীনীন
তোমরা যদি (আমার) কর্তৃত্বের অধীন না হও
تَرْجِعُونَهَآ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ٨٧
তারজি‘ঊনাহা- ইন কুনতুম সা-দিকীন
তাহলে তোমরা তাকে (অর্থাৎ তোমাদের প্রাণকে মৃত্যুর সময়) ফিরিয়ে নাও না কেন যদি তোমরা (তোমাদের দাবীতে) সত্যবাদী হয়েই থাক?
فَأَمَّآ إِن كَانَ مِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ ٨٨
ফাআম্মা- ইন কা-না মিনাল মুকার্রাবীন
অতএব সে যদি (আল্লাহর) নৈকট্য প্রাপ্তদের একজন হয়
فَرَوْحٌۭ وَرَيْحَانٌۭ وَجَنَّتُ نَعِيمٍۢ ٨٩
ফারাওহুঁ ওয়ারাইহা-নুঁ ওয়াজান্নাতু না‘ঈম
তাহলে (তার জন্য আছে) আরাম-শান্তি, উত্তম রিযক আর নি‘মাতে-ভরা জান্নাত।
وَأَمَّآ إِن كَانَ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلْيَمِينِ ٩٠
ওয়াআম্মা- ইন কা-না মিন আসহা-বিল ইয়ামীন
আর যদি সে ডান দিকের একজন হয়
فَسَلَٰمٌۭ لَّكَ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلْيَمِينِ ٩١
ফাসালা-মুল লাকা মিন আসহা-বিল ইয়ামীন
তাহলে হে ডানের বাসিন্দা! তোমার জন্য আছে শান্তি ও নিরাপত্তা।
وَأَمَّآ إِن كَانَ مِنَ ٱلْمُكَذِّبِينَ ٱلضَّآلِّينَ ٩٢
ওয়াআম্মা- ইন কা-না মিনাল মুকায্যিবীনাদ দা-ল্লীন
আর সে যদি সত্য অস্বীকারকারী গুমরাহদের অন্তর্গত হয়,
فَنُزُلٌۭ مِّنْ حَمِيمٍۢ ٩٣
ফানুযুলুম মিন হামীম
তবে তার আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে।
وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ ٩٤
ওয়াতাসলিয়াতু জাহীম
আর (তার জন্য আছে) জাহান্নামের আগুনের দহন,
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ حَقُّ ٱلْيَقِينِ ٩٥
ইন্না হা-যা লাহুওয়া হাক্কুল ইয়াকীন
এটা সুনিশ্চিত সত্য।
فَسَبِّحْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلْعَظِيمِ ٩٦
ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল ‘আযীম
কাজেই তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের গৌরব ও মহিমা ঘোষণা কর।

الحديد
সূরা আল-হাদীদ

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ١
সাব্বাহা লিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম
আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর গৌরব ও মহিমা ঘোষণা করে, তিনি প্রবল পরাক্রান্ত, মহা প্রজ্ঞাবান।
لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌ ٢
লাহূ মুলকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ইউহইয়ী ওয়াইউমীতু ওয়াহুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
আসমান ও যমীনের রাজত্ব তাঁরই, তিনিই জীবন দেন, আর তিনিই মৃত্যু দেন, তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
هُوَ ٱلْأَوَّلُ وَٱلْءَاخِرُ وَٱلظَّٰهِرُ وَٱلْبَاطِنُ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ ٣
হুওয়াল আওয়ালু ওয়ালআ-খিরু ওয়ায্যা-হিরু ওয়ালবা-তিনু ওয়াহুওয়া বিকুল্লি শাইইন ‘আলীম
তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনি প্রকাশিত আবার গুপ্ত, তিনি সকল বিষয় পূর্ণরূপে জ্ঞাত।
هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ فِى سِتَّةِ أَيَّامٍۢ ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ عَلَى ٱلْعَرْشِ ۚ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِى ٱلْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا ۖ وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌۭ ٤
হুওয়াল লাযী খালাকাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন ছুম্মাসতাওয়া ‘আলাল ‘আরশ ইয়া‘লামু মা ইয়ালিজু ফিল আরদি ওয়ামা ইয়াখরুজু মিনহা ওয়ামা ইয়ানযিলু মিনাস সামা-ই ওয়ামা ইয়া‘রুজু ফীহা ওয়াহুওয়া মা‘আকুম আইনা মা কুনতুম ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা বাসীর
তিনি আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর আরশে সমুন্নত হয়েছেন। তিনি জানেন যা যমীনে প্রবেশ করে, আর যা তাত্থেকে বের হয়, আর যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়, আর যা তাতে উঠে যায়, তোমরা যেখানেই থাক তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, তোমরা যে কাজই কর না কেন, আল্লাহ তা দেখেন।
لَّهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ ٥
লাহূ মুলকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়াইলাল্লা-হি তুরজা‘উল উমূর
আসমান ও যমীনের রাজত্ব তাঁরই, যাবতীয় বিষয় তাঁরই দিকে ফিরে যায় (চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য)।
يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ ۚ وَهُوَ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ٦
ইউলিজুল লাইলা ফিন নাহা-রি ওয়াইউলিজুন নাহা-রা ফিল লাইল ওয়াহুওয়া ‘আলীমুম বিযা-তিস সুদূর
তিনিই রাতকে প্রবেশ করান দিনের ভিতর, আর দিনকে ঢুকিয়ে দেন রাতের ভিতর, অন্তরের গোপনতত্ত্ব সম্পর্কে তিনি পূর্ণরূপে অবগত।
ءَامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَأَنفِقُوا۟ مِمَّا جَعَلَكُم مُّسْتَخْلَفِينَ فِيهِ ۖ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنكُمْ وَأَنفَقُوا۟ لَهُمْ أَجْرٌۭ كَبِيرٌۭ ٧
আ-মিনূ বিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ওয়াআনফিকূ মিম্মা জা‘আলাকুম মুসতাখলাফীনা ফীহি ফাল্লাযীনা আ-মানূ মিনকুম ওয়াআনফাকূ লাহুম আজরুন কাবীর
তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনো, আর তিনি তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করেছেন তাত্থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর । কারণ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে আর ব্যয় করে, তাদের জন্য আছে বিরাট প্রতিফল।
وَمَا لَكُمْ لَا تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ ۙ وَٱلرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ لِتُؤْمِنُوا۟ بِرَبِّكُمْ وَقَدْ أَخَذَ مِيثَٰقَكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ٨
ওয়ামা লাকুম লা তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ার্রাসূলু ইয়াদ‘ঊকুম লিতু’মিনূ বিরাব্বিকুম ওয়াকাদ আখাযা মীছা-কাকুম ইন কুনতুম মু’মিনীন
তোমাদের কী হল যে, তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে না যখন রসূল তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আনার জন্য ডাকছে আর তিনি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন, যদি তোমরা বিশ্বাসী হয়েই থাক।
هُوَ ٱلَّذِى يُنَزِّلُ عَلَىٰ عَبْدِهِۦٓ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍۢ لِّيُخْرِجَكُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ ۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ بِكُمْ لَرَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ ٩
হুওয়াল লাযী ইউনায্যিলু ‘আলা ‘আবদিহী আ-য়া-তিম বাইয়্যিনা-তিল লিইউখরিজাকুম মিনায যুলুমা-তি ইলান নূর ওয়াইন্নাল্লা-হা বিকুম লারাঊফুর রাহীম
তিনিই তাঁর বান্দাহর উপর সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেন তোমাদেরকে ঘোর অন্ধকার থেকে আলোতে আনার জন্য, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের প্রতি বড়ই করুণাশীল, অতি দয়ালু।
وَمَا لَكُمْ أَلَّا تُنفِقُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَٰثُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ لَا يَسْتَوِى مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ ٱلْفَتْحِ وَقَٰتَلَ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةًۭ مِّنَ ٱلَّذِينَ أَنفَقُوا۟ مِنۢ بَعْدُ وَقَٰتَلُوا۟ ۚ وَكُلًّۭا وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلْحُسْنَىٰ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ١٠
ওয়ামা লাকুম আল্লা তুনফিকূ ফী সাবীলিল্লা-হি ওয়ালিল্লা-হি মীরা-ছুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ লা ইয়াসতাউঈ মিনকুম মান আনফাকা মিন কাবলিল ফাতহি ওয়াকা-তাল উলা-ইকা আ‘যামু দারাজাতাম মিনাল লাযীনা আনফাকূ মিম বা‘দু ওয়াকা-তালূ ওয়াকুল্লাঁ ওয়া‘আদাল্লা-হুল হুসনা ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা খাবীর
তোমাদের হল কী যে তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে না! আকাশ ও পৃথিবীর উত্তরাধিকার তো আল্লাহরই জন্য (কাজেই তাঁর পথে ব্যয় করলে তোমরা গরীব হয়ে যাবে এ আশঙ্কার কোন কারণ নেই)। তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে আর যুদ্ধ করেছে তারা সমান নয় (তাদের, যারা তা বিজয়ের পরে করেছে); তাদের মর্যাদা অনেক বড় তাদের তুলনায় যারা পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। উভয়ের জন্যই আল্লাহ কল্যাণের ও‘য়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কিছু কর সে সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ণভাবে অবগত।
مَّن ذَا ٱلَّذِى يُقْرِضُ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًۭا فَيُضَٰعِفَهُۥ لَهُۥ وَلَهُۥٓ أَجْرٌۭ كَرِيمٌۭ ١١
মান যাল লাযী ইউকরিদুল্লা-হা কারদান হাসানান ফাইউদা-‘ইফাহূ লাহূ ওয়ালাহূ আজরুন কারীম
এমন কে আছে যে, আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিবে? তাহলে তিনি তা তার জন্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিবেন আর তার জন্য আছে সম্মানজনক প্রতিফল।
يَوْمَ تَرَى ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ يَسْعَىٰ نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَٰنِهِم بُشْرَىٰكُمُ ٱلْيَوْمَ جَنَّٰتٌۭ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا ۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ ١٢
ইয়াওমা তারাল মু’মিনীনা ওয়ালমু’মিনা-তি ইয়াস‘আ নূরুহুম বাইনা আইদীহিম ওয়াবিআইমা-নিহিম বুশরা-কুমুল ইয়াওমা জান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা যা-লিকা হুওয়াল ফাওযুল ‘আযীম
সে দিন তুমি মু’মিন ও মু’মিনাদের দেখবে, তাদের সামনে আর তাদের ডানে তাদের জ্যোতি ছুটতে থাকবে। (তাদেরকে বলা হবে) ‘আজ তোমাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ যার নীচ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তাতে (তোমরা) চিরকাল থাকবে। এটাই হল বিরাট সফলতা।
يَوْمَ يَقُولُ ٱلْمُنَٰفِقُونَ وَٱلْمُنَٰفِقَٰتُ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱنظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ٱرْجِعُوا۟ وَرَآءَكُمْ فَٱلْتَمِسُوا۟ نُورًۭا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍۢ لَّهُۥ بَابٌۢ بَاطِنُهُۥ فِيهِ ٱلرَّحْمَةُ وَظَٰهِرُهُۥ مِن قِبَلِهِ ٱلْعَذَابُ ١٣
ইয়াওমা ইয়াকূলুল মুনা-ফিকূনা ওয়ালমুনা-ফিকা-তু লিল্লাযীনা আ-মানুনযুরূনা নাকতাবিস মিন নূরিকুম কীলারজি‘ঊ ওয়ারা-আকুম ফালতামিসূ নূরান ফাদুরিবা বাইনাহুম বিসূরিল লাহূ বা-বুম বা-তিনুহূ ফীহির রাহমাতু ওয়াযা-হিরুহূ মিন কিবালিহিল ‘আযা-ব
সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা মু’মিনদেরকে বলবে- ‘তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর, তোমাদের জ্যোতি থেকে আমরা কিছুটা নিয়ে নেই।’ তাদেরকে বলা হবে- ‘তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও, ‘আর আলোর খোঁজ কর।’ তখন তাদের মাঝে একটি আড়াল খাড়া করে দেয়া হবে যার থাকবে একটি দরজা। তার ভিতর ভাগে থাকবে রহমত আর বহির্ভাগের সর্বত্র থাকবে ‘আযাব।
يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ ۖ قَالُوا۟ بَلَىٰ وَلَٰكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَٱرْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ ٱلْأَمَانِىُّ حَتَّىٰ جَآءَ أَمْرُ ٱللَّهِ وَغَرَّكُم بِٱللَّهِ ٱلْغَرُورُ ١٤
ইউনা-দূনাহুম আলাম নাকুম মা‘আকুম কা-লূ বালা ওয়ালা-কিন্নাকুম ফাতানতুম আনফুসাকুম ওয়াতারাব্বাসতুম ওয়ারতাবতুম ওয়াগার্রাতকুমুল আমা-নিয়্যু হাত্তা জা-আ আমরুল্লা-হি ওয়াগার্রাকুম বিল্লা-হিল গারূর
তারা মু’মিনদেরকে ডেকে বলবে- ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’ তারা উত্তর দিবে, ‘হাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদে ফেলে দিয়েছ, তোমরা অপেক্ষা করেছিলে (আমাদের ধ্বংসের জন্য), তোমরা সন্দেহে পতিত ছিলে, আর মিথ্যে আশা আকাঙ্ক্ষা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর হুকুম এসে গেল, আর বড় প্রতারক (শাইত্বন) তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারিত করল।
فَٱلْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنكُمْ فِدْيَةٌۭ وَلَا مِنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ۚ مَأْوَىٰكُمُ ٱلنَّارُ ۖ هِىَ مَوْلَىٰكُمْ ۖ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ١٥
ফালইয়াওমা লা ইউ’খাযু মিনকুম ফিদইয়াতুঁ ওয়ালা মিনাল লাযীনা কাফারূ মা’ওয়া-কুমুন না-রু হিয়া মাওলা-কুম ওয়াবি’সাল মাসীর
আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না, আর যারা কুফুরী করেছিল তাদের কাছ থেকেও না। তোমাদের বসবাসের জায়গা জাহান্নাম, সেটাই তোমাদের যথাযোগ্য স্থান। কতই না নিকৃষ্ট সেই আশ্রয়স্থল!
۞ أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ ٱللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ ٱلْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ ٱلْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ ۖ وَكَثِيرٌۭ مِّنْهُمْ فَٰسِقُونَ ١٦
আলাম ইয়া’নি লিল্লাযীনা আ-মানূ আন তাখশা‘আ কুলূবুহুম লিযিকরিল্লা-হি ওয়ামা নাযালা মিনাল হাক্কি ওয়ালা ইয়াকূনূ কাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা মিন কাবলু ফাতা-লা ‘আলাইহিমুল আমাদু ফাকাসাত কুলূবুহুম ওয়াকাছীরুম মিনহুম ফা-সিকূন
যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সে সময় কি এখনও আসেনি যে আল্লাহর স্মরণে আর যে প্রকৃত সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের অন্তর বিগলিত হয়ে যাবে? আর তারা যেন সেই লোকদের মত না হয়ে যায় যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তাদের উপর অতিবাহিত হয়ে গেল বহু বহু যুগ আর তাদের অন্তর কঠিন হয়ে পড়ল। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।
ٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ يُحْىِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ ٱلْءَايَٰتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ١٧
ই‘লামূ আন-নাল্লা-হা ইউহইয়িল আরদা বা‘দা মাওতিহা কাদ বাইয়্যান্না লাকুমুল আ-য়া-তি লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন
জেনে রেখ, আল্লাহই যমীনকে তার মৃত্যুর পর আবার জীবিত করেন। আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে নিদর্শন বর্ণনা করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।
إِنَّ ٱلْمُصَّدِّقِينَ وَٱلْمُصَّدِّقَٰتِ وَأَقْرَضُوا۟ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًۭا يُضَٰعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌۭ كَرِيمٌۭ ١٨
ইন্নাল মুস্সাদ্দিকীনা ওয়ালমুস্সাদ্দিকা-তি ওয়াআকরাদুল্লা-হা কারদান হাসানাঁ ইউদা-‘আফু লাহুম ওয়ালাহুম আজরুন কারীম
দানশীল পুরুষরা আর দানশীলা নারীরা আর যারা আল্লাহকে ঋণ দেয়- উত্তম ঋণ, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে, আর তাদের জন্য আছে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিদান।
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦٓ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلصِّدِّيقُونَ ۖ وَٱلشُّهَدَآءُ عِندَ رَبِّهِمْ لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُورُهُمْ ۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَآ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْجَحِيمِ ١٩
ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ বিল্লা-হি ওয়ারুসুলিহী উলা-ইকা হুমুস সিদ্দীকূনা ওয়াশ্শুহাদা-উ ‘ইনদা রাব্বিহিম লাহুম আজরুহুম ওয়ানূরুহুম ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ওয়াকায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা- উলা-ইকা আসহা-বুল জাহীম
আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনে তারাই তাদের প্রতিপালকের নিকট সিদ্দীক ও শহীদ। তাদের জন্য আছে তাদের প্রতিদান ও তাদের নূর। আর যারা কুফুরী করে আর আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করে, তারাই জাহান্নামের বাসিন্দা।
ٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا لَعِبٌۭ وَلَهْوٌۭ وَزِينَةٌۭ وَتَفَاخُرٌۢ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌۭ فِى ٱلْأَمْوَٰلِ وَٱلْأَوْلَٰدِ ۖ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ ٱلْكُفَّارَ نَبَاتُهُۥ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَىٰهُ مُصْفَرًّۭا ثُمَّ يَكُونُ حُطَٰمًۭا ۖ وَفِى ٱلْءَاخِرَةِ عَذَابٌۭ شَدِيدٌۭ وَمَغْفِرَةٌۭ مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضْوَٰنٌۭ ۚ وَمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَآ إِلَّا مَتَٰعُ ٱلْغُرُورِ ٢٠
ই‘লামূ আন-নামাল হায়া-তুদ দুনইয়া লা‘ইবুঁ ওয়ালাহউঁ ওয়াযীনাতুঁ ওয়াতাফা-খুরুম বাইনাকুম ওয়াতাকা-ছুরুন ফিল আমওয়া-লি ওয়ালআওলা-দি কামাছালি গাইছিন আ‘জাবাল কুফ্ফা-রা নাবা-তুহূ ছুম্মা ইয়াহীজু ফাতারা-হু মুসফার্রান ছুম্মা ইয়াকূনু হুতা-মাঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি ‘আযা-বুন শাদীদুঁ ওয়ামাগফিরাতুম মিনাল্লা-হি ওয়ারিদওয়া-ন ওয়ামাল হায়া-তুদ দুনইয়া- ইল্লা মাতা-‘উল গুরূর
তোমরা জেনে রেখ, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার আর ধন-মাল ও সন্তানাদিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। তার উদাহরণ হল বৃষ্টি, আর তা হতে উৎপন্ন শষ্যাদি কৃষকের মনকে আনন্দে ভরে দেয়, তারপর তা পেকে যায়, তখন তুমি তাকে হলুদ বর্ণ দেখতে পাও, পরে তা খড় ভুষি হয়ে যায়। (আর আখেরাতের চিত্র অন্যরকম, পাপাচারীদের জন্য), আখেরাতে আছে কঠিন শাস্তি, (আর নেককারদের জন্য আছে) আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোঁকার বস্তু ছাড়া আর কিছুই না।
سَابِقُوٓا۟ إِلَىٰ مَغْفِرَةٍۢ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ ۚ ذَٰلِكَ فَضْلُ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظِيمِ ٢١
সা-বিকূ ইলা মাগফিরাতিম মির রাব্বিকুম ওয়াজান্নাতিন ‘আরদুহা কা‘আরদিস সামা-ই ওয়ালআরদি উ‘ইদ্দাত লিল্লাযীনা আ-মানূ বিল্লা-হি ওয়ারুসুলিহ যা-লিকা ফাদলুল্লা-হি ইউ’তীহি মান ইয়াশা-আ ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আযীম
তোমরা এগিয়ে যাও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও জান্নাত লাভের জন্য, যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার মত। তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলদের প্রতি ঈমান এনেছে। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি তা দেন যাকে ইচ্ছে করেন, আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।
مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍۢ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِى كِتَٰبٍۢ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَآ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٌۭ ٢٢
মা- আসা-বা মিম মুসীবাতিন ফিল আরদি ওয়ালা ফী আনফুসিকুম ইল্লা ফী কিতা-বিম মিন কাবলি আন নাবরাআহা- ইন্না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াসীর
পৃথিবীতে অথবা তোমাদের নিজেদের উপর এমন কোন মুসীবত আসে না যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। এটা (করা) আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।
لِّكَيْلَا تَأْسَوْا۟ عَلَىٰ مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا۟ بِمَآ ءَاتَىٰكُمْ ۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍۢ فَخُورٍ ٢٣
লিকাইলা তা’সাও ‘আলা মা ফা-তাকুম ওয়ালা তাফরাহূ বিমা- আ-তা-কুম ওয়াল্লা-হু লা ইউহিব্বু কুল্লা মুখতা-লিন ফাখূর
এটা এজন্য যে, তোমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য তোমরা যেন হতাশাগ্রস্ত না হও, আর তোমাদেরকে যা দান করা হয়েছে তার জন্য তোমরা যেন উৎফুল্ল না হও, কেননা আল্লাহ অহংকারী ও অধিক গর্বকারীকে পছন্দ করেন না-
ٱلَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلْبُخْلِ ۗ وَمَن يَتَوَلَّ فَإِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ ٢٤
আল্লাযীনা ইয়াবখালূনা ওয়ায়া’মুরূনান না-সা বিলবুখল ওয়ামান ইয়াতাওয়াল্লা ফাইন্নাল্লা-হা হুওয়াল গানিয়্যুল হামীদ
যারা কৃপণতা করে আর মানুষকে কৃপণতা করার আদেশ দেয় এবং যে ব্যক্তি (আল্লাহর পথ হতে) মুখ ফিরিয়ে নেয় (সে জেনে রাখুক) আল্লাহ অভাব মুক্ত, প্রশংসিত।
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْمِيزَانَ لِيَقُومَ ٱلنَّاسُ بِٱلْقِسْطِ ۖ وَأَنزَلْنَا ٱلْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌۭ شَدِيدٌۭ وَمَنَٰفِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ ٱللَّهُ مَن يَنصُرُهُۥ وَرُسُلَهُۥ بِٱلْغَيْبِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ قَوِىٌّ عَزِيزٌۭ ٢٥
লাকাদ আরসালনা রুসুলানা বিলবাইয়্যিনা-তি ওয়াআনযালনা মা‘আহুমুল কিতা-বা ওয়ালমীযা-না লিয়াকূমান না-সু বিলকিসতি ওয়াআনযালনাল হাদীদা ফীহি বা’সুন শাদীদুঁ ওয়ামানা-ফি‘উ লিন্না-সি ওয়ালিয়া‘লামাল্লা-হু মান ইয়ানসুরুহূ ওয়ারুসুলাহূ বিলগাইব ইন্নাল্লা-হা কাউইয়্যুন ‘আযীয
আমি আমার রসূলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠিয়েছি আর তাদের সঙ্গে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও (সত্য মিথ্যার) মানদন্ড যাতে মানুষ ইনসাফ ও সুবিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আমি অবতীর্ণ করেছি লোহা যাতে আছে প্রচন্ড শক্তি আর মানুষের জন্য নানাবিধ উপকার যাতে আল্লাহ পরীক্ষা করতে পারেন আল্লাহকে না দেখেই তাঁকে আর তাঁর রসূলদেরকে কারা (এই লোহার শক্তি দিয়ে ও যাবতীয় উপায়ে) সাহায্য করে। আল্লাহ বড়ই শক্তিমান, মহাপরিক্রমশালী।
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًۭا وَإِبْرَٰهِيمَ وَجَعَلْنَا فِى ذُرِّيَّتِهِمَا ٱلنُّبُوَّةَ وَٱلْكِتَٰبَ ۖ فَمِنْهُم مُّهْتَدٍۢ ۖ وَكَثِيرٌۭ مِّنْهُمْ فَٰسِقُونَ ٢٦
ওয়ালাকাদ আরসালনা নূহাঁ ওয়াইবরা-হীমা ওয়াজা‘আলনা ফী যুর্রিয়্যাতিহিমান নুবুওয়াতা ওয়ালকিতা-বা ফামিনহুম মুহতাদিঁ ওয়াকাছীরুম মিনহুম ফা-সিকূন
আমি নূহ (আলাইহিস সালাম) আর ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে পাঠিয়েছিলাম আর তাদের বংশধরদের মধ্যে নুবুওয়াত ও কিতাবের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সঠিক পথ অবলম্বন করেছিল আর তাদের অধিকাংশই ছিল পাপাচারী।
ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِم بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ٱبْنِ مَرْيَمَ وَءَاتَيْنَٰهُ ٱلْإِنجِيلَ وَجَعَلْنَا فِى قُلُوبِ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُ رَأْفَةًۭ وَرَحْمَةًۭ وَرَهْبَانِيَّةً ٱبْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَٰهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ٱبْتِغَآءَ رِضْوَٰنِ ٱللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا ۖ فَـَٔاتَيْنَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ ۖ وَكَثِيرٌۭ مِّنْهُمْ فَٰسِقُونَ ٢٧
ছুম্মা কাফ্ফাইনা ‘আলা- আ-ছা-রিহিম বিরুসুলিনা ওয়াকাফ্ফাইনা বি‘ঈসাবনি মারইয়ামা ওয়াআ-তাইনা-হুল ইনজীলা ওয়াজা‘আলনা ফী কুলূবিল লাযীনাত তাবা‘ঊহু রা’ফাতাঁ ওয়ারাহমাতাঁ ওয়ারাহবা-নিয়্যাতামিবতাদা‘ঊহা মা কাতাবনা-হা ‘আলাইহিম ইল্লাবতিগা-আ রিদওয়া-নিল্লা-হি ফামা রা‘আওহা হাক্কা রি‘আ-য়াতিহা ফাআ-তাইনাল লাযীনা আ-মানূ মিনহুম আজরাহুম ওয়াকাছীরুম মিনহুম ফা-সিকূন
অতঃপর তাদের পথ ধরে আমি আমার রসূলদেরকে পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর তাদের পেছনে আমি মারইয়াম-পুত্র ‘ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে পাঠিয়েছিলাম আর তাকে দিয়েছিলাম ইঞ্জীল। আর যারা তাকে অনুসরণ করেছিল তাদের অন্তরে দিয়েছিলাম করুণা ও দয়ামায়া। আর বৈরাগ্যবাদ- তা তারা নিজেরাই নতুনভাবে চালু করেছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। আমি তাদের উপর এ বিধান অপরিহার্য করিনি। আর সেটাও তারা লালন করতে পারেনি যেভাবে তা লালন করা প্রয়োজন ছিল। তাদের মধ্যে যারা ঈমান গ্রহণ করেছিল তাদেরকে আমি তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের অধিকাংশই ছিল পাপাচারী।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَءَامِنُوا۟ بِرَسُولِهِۦ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِن رَّحْمَتِهِۦ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًۭا تَمْشُونَ بِهِۦ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ۚ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ٢٨
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুত তাকুল্লা-হা ওয়াআ-মিনূ বিরাসূলিহী ইউ’তিকুম কিফলাইনি মির রাহমাতিহী ওয়ায়াজ‘আল লাকুম নূরান তামশূনা বিহী ওয়ায়াগফির লাকুম ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম
ওহে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আন, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দিবেন আর তিনি তোমাদের জন্য আলোর ব্যবস্থা করবেন যা দিয়ে তোমরা পথ চলবে, আর তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
لِّئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ ٱلْكِتَٰبِ أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَىٰ شَىْءٍۢ مِّن فَضْلِ ٱللَّهِ ۙ وَأَنَّ ٱلْفَضْلَ بِيَدِ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظِيمِ ٢٩
লিআল্লা ইয়া‘লামা আহলুল কিতা-বি আল্লা ইয়াকদিরূনা ‘আলা শাইইম মিন ফাদলিল্লা-হি ওয়াআন্নাল ফাদলা বিয়াদিল্লা-হি ইউ’তীহি মান ইয়াশা-আ ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আযীম
(আমি আহলে কিতাব ছাড়া অন্যত্র নুবুওয়াত দিলাম) এ জন্য যে, আহলে কিতাবগণ যেন জেনে নিতে পারে যে, আল্লাহর অনুগ্রহের কোন কিছুকেই তাদের নিয়ন্ত্রণ করার কোন ক্ষমতা নেই, আর (তারা যেন আরো জেনে নিতে পারে যে) অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর হাতেই, যাকে ইচ্ছে তিনিই তা দেন। আল্লাহ বিশাল অনুগ্রহের অধিকারী।