মূল লেখায় যান
২ নভেম্বর ২০২৬ ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
الجزء ٢٦

পারা ২৬

১৯৫ আয়াত

الأحقاف
সূরা আল-আহকাফ

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
حمٓ ١
হা- মী-ম
হা-মীম।
تَنزِيلُ ٱلْكِتَٰبِ مِنَ ٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَكِيمِ ٢
তানযীলুল কিতা-বি মিনাল্লা-হিল ‘আযীযিল হাকীম
কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হতে।
مَا خَلَقْنَا ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَآ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَأَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ۚ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ عَمَّآ أُنذِرُوا۟ مُعْرِضُونَ ٣
মা খালাকনাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ওয়ামা বাইনাহুমা- ইল্লা বিলহাক্কি ওয়াআজালিম মুসাম্মা ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ‘আম্মা- উনযিরূ মু‘রিদূন
আমি আকাশ, যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে যা আছে তা প্রকৃত উদ্দেশ্যে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছি। কিন্তু কাফিরগণ, যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয় তাত্থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
قُلْ أَرَءَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَرُونِى مَاذَا خَلَقُوا۟ مِنَ ٱلْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌۭ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ ۖ ٱئْتُونِى بِكِتَٰبٍۢ مِّن قَبْلِ هَٰذَآ أَوْ أَثَٰرَةٍۢ مِّنْ عِلْمٍ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ٤
কুল আরাআইতুম মা তাদ‘ঊনা মিন দূনিল্লা-হি আরূনী মা-যা খালাকূ মিনাল আরদি আম লাহুম শিরকুন ফিস সামা-ওয়া-তি তূনী বিকিতা-বিম মিন কাবলি হা-যা- আও আছা-রাতিম মিন ‘ইলমিন ইন কুনতুম সা-দিকীন
বল- তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক, তাদের বিষয়ে চিন্তা করে দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা যমীনে কী সৃষ্টি করেছে অথবা আকাশমন্ডলে তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে কি? এর আগের কোন কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোন জ্ঞান আমার কাছে উপস্থিত কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّن يَدْعُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَن لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُۥٓ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ وَهُمْ عَن دُعَآئِهِمْ غَٰفِلُونَ ٥
ওয়ামান আদাল্লু মিম্মান ইয়াদ‘ঊ মিন দূনিল্লা-হি মাল লা ইয়াসতাজীবু লাহূ ইলা ইয়াওমিল কিয়া-মাতি ওয়াহুম ‘আন দু‘আ-ইহিম গা-ফিলূন
তার চেয়ে অধিক গুমরাহ কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাকে সাড়া দেবে না, আর তাদের ডাকাডাকি সম্পর্কেও তারা (একদম) বেখবর?
وَإِذَا حُشِرَ ٱلنَّاسُ كَانُوا۟ لَهُمْ أَعْدَآءًۭ وَكَانُوا۟ بِعِبَادَتِهِمْ كَٰفِرِينَ ٦
ওয়াইযা হুশিরান না-সু কা-নূ লাহুম আ‘দা-আঁ ওয়াকা-নূ বি‘ইবা-দাতিহিম কা-ফিরীন
ক্বিয়ামতের দিন মানুষকে যখন একত্রিত করা হবে, তখন ঐগুলো (অর্থাৎ উপাস্যরা) হবে মানুষের শত্রু আর মানুষ যে তাদের ‘ইবাদাত করেছিল তা তারা অস্বীকার করবে।
وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتُنَا بَيِّنَٰتٍۢ قَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ هَٰذَا سِحْرٌۭ مُّبِينٌ ٧
ওয়াইযা তুতলা ‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা বাইয়্যিনা-তিন কা-লাল লাযীনা কাফারূ লিলহাক্কি লাম্মা জা-আহুম হা-যা সিহরুম মুবীন
তাদের কাছে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত আবৃত্তি করা হয় আর সত্য যখন তাদের কাছে উপস্থিত হয়, তখন কাফিররা বলে- এটাতো প্রকাশ্য যাদু।
أَمْ يَقُولُونَ ٱفْتَرَىٰهُ ۖ قُلْ إِنِ ٱفْتَرَيْتُهُۥ فَلَا تَمْلِكُونَ لِى مِنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَا تُفِيضُونَ فِيهِ ۖ كَفَىٰ بِهِۦ شَهِيدًۢا بَيْنِى وَبَيْنَكُمْ ۖ وَهُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٨
আম ইয়াকূলূনাফতারা-হু কুল ইনিফতারাইতুহূ ফালা তামলিকূনা লী মিনাল্লা-হি শাইআন হুওয়া আ‘লামু বিমা তুফীদূনা ফীহি কাফা বিহী শাহীদাম বাইনী ওয়াবাইনাকুম ওয়াহুওয়াল গাফূরুর রাহীম
তারা কি বলতে চায় যে, রসূল নিজেই তা রচনা করেছে? বল, তা যদি আমি রচনা করে থাকি তাহলে তোমরা আল্লাহর শাস্তি হতে আমাকে কিছুতেই বাঁচাতে পারবে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন যে বিষয়ে তোমরা মত্ত আছ। আমার আর তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট, আর তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
قُلْ مَا كُنتُ بِدْعًۭا مِّنَ ٱلرُّسُلِ وَمَآ أَدْرِى مَا يُفْعَلُ بِى وَلَا بِكُمْ ۖ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰٓ إِلَىَّ وَمَآ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ٩
কুল মা কুনতু বিদ‘আম মিনার রুসুলি ওয়ামা- আদরী মা ইউফ‘আলু বী ওয়ালা বিকুম ইন আত-তাবি‘উ ইল্লা মা ইউহা- ইলাইয়্যা ওয়ামা- আনা ইল্লা নাযীরুম মুবীন
বল, আমি রসূলদের মধ্যে নতুন নই, আর আমি এও জানি না যে, আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে আর তোমাদের সঙ্গেইবা কেমন (ব্যবহার করা হবে), আমি কেবল তাই মেনে চলি যা আমার প্রতি ওয়াহী করা হয়। আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।
قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِن كَانَ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ وَكَفَرْتُم بِهِۦ وَشَهِدَ شَاهِدٌۭ مِّنۢ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ عَلَىٰ مِثْلِهِۦ فَـَٔامَنَ وَٱسْتَكْبَرْتُمْ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٠
কুল আরাআইতুম ইন কা-না মিন ‘ইনদিল্লা-হি ওয়াকাফারতুম বিহী ওয়াশাহিদা শা-হিদুম মিম বানী ইসরা-ঈলা ‘আলা মিছলিহী ফাআ-মানা ওয়াসতাকবারতুম ইন্নাল্লা-হা লা ইয়াহদিল কাওমায যা-লিমীন
বল- তোমরা কি ভেবে দেখেছ যদি এ (কুরআন) আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে আর তা তোমরা প্রত্যাখ্যান কর অথচ এ ধরনের কালাম সম্পর্কে বানী ইসরাঈলের একজন [‘আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাযি.)] সাক্ষ্যও দিয়েছে। সে ঈমান আনল আর তোমরা অহঙ্কার করলে? আল্লাহ যালিম লোকদেরকে সঠিক পথ দেখান না।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَوْ كَانَ خَيْرًۭا مَّا سَبَقُونَآ إِلَيْهِ ۚ وَإِذْ لَمْ يَهْتَدُوا۟ بِهِۦ فَسَيَقُولُونَ هَٰذَآ إِفْكٌۭ قَدِيمٌۭ ١١
ওয়াকা-লাল লাযীনা কাফারূ লিল্লাযীনা আ-মানূ লাও কা-না খাইরাম মা সাবাকূনা- ইলাইহ ওয়াইয লাম ইয়াহতাদূ বিহী ফাসায়াকূলূনা হা-যা- ইফকুন কাদীম
কাফিররা মু’মিনদের সম্পর্কে বলে, তা (অর্থাৎ কুরআন) যদি ভাল হত তাহলে তারা আমাদেরকে পেছনে ফেলে ওটার দিকে এগিয়ে যেতে পারত না (আমরাই কুরআনকে আগে গ্রহণ করে নিতাম) আর যেহেতু তারা এর দ্বারা (অর্থাৎ কাফিররা এ কুরআন দ্বারা) সঠিক পথ পায়নি, সে কারণে তারা অবশ্যই বলবে- এটা এক পুরনো মিথ্যে।
وَمِن قَبْلِهِۦ كِتَٰبُ مُوسَىٰٓ إِمَامًۭا وَرَحْمَةًۭ ۚ وَهَٰذَا كِتَٰبٌۭ مُّصَدِّقٌۭ لِّسَانًا عَرَبِيًّۭا لِّيُنذِرَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ وَبُشْرَىٰ لِلْمُحْسِنِينَ ١٢
ওয়ামিন কাবলিহী কিতা-বু মূসা- ইমা-মাঁ ওয়ারাহমাহ ওয়াহা-যা কিতা-বুম মুসাদ্দিকুল লিসা-নান ‘আরাবিয়্যাল লিইউনযিরাল লাযীনা যালামূ ওয়াবুশরা লিলমুহসিনীন
অথচ ইতোপূর্বে মূসার কিতাব এসেছিল পথপ্রদর্শক ও রহমত স্বরূপ। আর (এখন অবতীর্ণ) এ কিতাব তার সমর্থক, আরবী ভাষায়, যালিমদেরকে সতর্ক করার জন্য আর সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য।
إِنَّ ٱلَّذِينَ قَالُوا۟ رَبُّنَا ٱللَّهُ ثُمَّ ٱسْتَقَٰمُوا۟ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ١٣
ইন্নাল লাযীনা কা-লূ রাব্বুনাল্লা-হু ছুম্মাসতাকা-মূ ফালা খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা হুম ইয়াহযানূন
যারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’, অতঃপর (তাদের কথার উপর) সুদৃঢ় থাকে, তাহলে তাদের কোন ভয় নেই, আর তারা দুঃখিত হবে না।
أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْجَنَّةِ خَٰلِدِينَ فِيهَا جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١٤
উলা-ইকা আসহা-বুল জান্নাতি খা-লিদীনা ফীহা জাযা-আম বিমা কা-নূ ইয়া‘মালূন
তারাই জান্নাতের অধিবাসী, তাতে তারা চিরকাল থাকবে, তারা যে কাজ করত তার পুরস্কার স্বরূপ।
وَوَصَّيْنَا ٱلْإِنسَٰنَ بِوَٰلِدَيْهِ إِحْسَٰنًا ۖ حَمَلَتْهُ أُمُّهُۥ كُرْهًۭا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًۭا ۖ وَحَمْلُهُۥ وَفِصَٰلُهُۥ ثَلَٰثُونَ شَهْرًا ۚ حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُۥ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةًۭ قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلَىٰ وَٰلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَٰلِحًۭا تَرْضَىٰهُ وَأَصْلِحْ لِى فِى ذُرِّيَّتِىٓ ۖ إِنِّى تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّى مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ ١٥
ওয়াওয়াস্সাইনাল ইনসা-না বিওয়া-লিদাইহি ইহসা-নান হামালাতহু উম্মুহূ কুরহাঁ ওয়াওয়াদা‘আতহু কুরহাঁ ওয়াহামলুহূ ওয়াফিসা-লুহূ ছালা-ছূনা শাহরা হাত্তা- ইযা বালাগা আশুদ্দাহূ ওয়াবালাগা আরবা‘ঈনা সানাতান কা-লা রাব্বি আওযি‘নী আন আশকুরা নি‘মাতাকাল লাতী আন‘আমতা ‘আলাইয়্যা ওয়া‘আলা ওয়া-লিদাইয়্যা ওয়াআন আ‘মালা সা-লিহান তারদা-হু ওয়াআসলিহ লী ফী যুর্রিয়্যাতী ইন্নী তুবতু ইলাইকা ওয়াইন্নী মিনাল মুসলিমীন
আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার পিতামাতার প্রতি সদয় আচরণের। তার মা তাকে বহন করেছে কষ্টের সাথে, আর তাকে প্রসব করেছে কষ্টের সাথে। তাকে গর্ভে ধারণ ও দুধপান ছাড়ানোয় সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন পূর্ণ শক্তি লাভ করে এবং চল্লিশ বছরে পৌঁছে যায়, তখন সে বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে আর আমার পিতা-মাতাকে যে নি‘মাত দান করেছ তজ্জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার শক্তি আমাকে দান কর, আর আমাকে এমন সৎকর্ম করার সামর্থ দাও যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও, আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ ক’রে আমার প্রতি অনুগ্রহ কর, আমি অনুশোচনাভরে তোমার দিকে ফিরে আসছি, আর আমি অনুগত বান্দাহদের অন্তর্ভুক্ত।
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ نَتَقَبَّلُ عَنْهُمْ أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا۟ وَنَتَجَاوَزُ عَن سَيِّـَٔاتِهِمْ فِىٓ أَصْحَٰبِ ٱلْجَنَّةِ ۖ وَعْدَ ٱلصِّدْقِ ٱلَّذِى كَانُوا۟ يُوعَدُونَ ١٦
উলা-ইকাল লাযীনা নাতাকাব্বালু ‘আনহুম আহসানা মা ‘আমিলূ ওয়ানাতাজা-ওয়াযু ‘আন সাইয়্যিআ-তিহিম ফী আসহা-বিল জান্নাতি ওয়া‘দাস সিদকিল লাযী কা-নূ ইউ‘আদূন
এই লোকদের হতে আমি তাদের সর্বোত্তম ‘আমালগুলো গ্রহণ করি আর তাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেই, তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে যে ও‘য়াদা দেয়া হয়েছে তা সত্য ও‘য়াদা।
وَٱلَّذِى قَالَ لِوَٰلِدَيْهِ أُفٍّۢ لَّكُمَآ أَتَعِدَانِنِىٓ أَنْ أُخْرَجَ وَقَدْ خَلَتِ ٱلْقُرُونُ مِن قَبْلِى وَهُمَا يَسْتَغِيثَانِ ٱللَّهَ وَيْلَكَ ءَامِنْ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ فَيَقُولُ مَا هَٰذَآ إِلَّآ أَسَٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ ١٧
ওয়াল্লাযী কা-লা লিওয়া-লিদাইহি উফ্ফিল লাকুমা- আতা‘ইদা-নিনী আন উখরাজা ওয়াকাদ খালাতিল কুরূনু মিন কাবলী ওয়াহুমা ইয়াসতাগীছা-নিল্লা-হা ওয়াইলাকা আ-মিন ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুন ফায়াকূলু মা হা-যা- ইল্লা- আসা-তীরুল আওয়ালীন
আর যে নিজ পিতামাতাকে বলে, ‘তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে ভয় দেখাও যে, (মৃতুর পর) আমাকে উঠানো হবে অথচ আমার পূর্বে বহু মানব গোষ্ঠী অতীত হয়ে গেছে (কই, কেউ তো উঠে আসল না)। বাপ-মা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে (সন্তানকে তিরস্কার করে) বলে- দুর্ভোগ তোমার জন্য, তুমি ঈমান আন, আল্লাহর ও‘য়াদা সত্য।’ তখন সে বলে- ‘এ সব পুরান কালের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই না।’
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ حَقَّ عَلَيْهِمُ ٱلْقَوْلُ فِىٓ أُمَمٍۢ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِم مِّنَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِ ۖ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ خَٰسِرِينَ ١٨
উলা-ইকাল লাযীনা হাক্কা ‘আলাইহিমুল কাওলু ফী উমামিন কাদ খালাত মিন কাবলিহিম মিনাল জিন্নি ওয়ালইনসি ইন্নাহুম কা-নূ খা-সিরীন
এরা হল তারাই যাদের প্রতি আল্লাহর ‘আযাবের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তাদের মত জ্বিন ও মানুষের মধ্যে হতে যারা তাদের পূর্বে গত হয়ে গেছে। এরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
وَلِكُلٍّۢ دَرَجَٰتٌۭ مِّمَّا عَمِلُوا۟ ۖ وَلِيُوَفِّيَهُمْ أَعْمَٰلَهُمْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ١٩
ওয়ালিকুল্লিন দারাজা-তুম মিম্মা ‘আমিলূ ওয়ালিইউওয়াফ্ফিয়াহুম আ‘মা-লাহুম ওয়াহুম লা ইউযলামূন
প্রত্যেকের জন্য মর্যাদা আছে তার কৃতকর্ম অনুসারে, যেন আল্লাহ তাদের কর্মের পুরোপুরি প্রতিফল দেন। তাদের উপর কক্ষনো যুলম করা হবে না।
وَيَوْمَ يُعْرَضُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ عَلَى ٱلنَّارِ أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَٰتِكُمْ فِى حَيَاتِكُمُ ٱلدُّنْيَا وَٱسْتَمْتَعْتُم بِهَا فَٱلْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ ٱلْهُونِ بِمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ فِى ٱلْأَرْضِ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ وَبِمَا كُنتُمْ تَفْسُقُونَ ٢٠
ওয়ায়াওমা ইউ‘রাদুল লাযীনা কাফারূ ‘আলান না-রি আযহাবতুম তাইয়্যিবা-তিকুম ফী হায়া-তিকুমুদ দুনইয়া ওয়াসতামতা‘তুম বিহা ফালইয়াওমা তুজযাওনা ‘আযা-বাল হূনি বিমা কুনতুম তাসতাকবিরূনা ফিল আরদি বিগাইরিল হাক্কি ওয়াবিমা কুনতুম তাফসুকূন
যেদিন কাফিরদেরকে জাহান্নামের সামনে হাজির করা হবে, (তাদেরকে বলা হবে)- ‘তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনেই তোমাদের অংশের নি‘মাতগুলো নিঃশেষ করেছ আর তা ভোগ করেছ। কাজেই আজ তোমাদেরকে অপমানজনক শাস্তি দ্বারা প্রতিফল দেয়া হবে, কেননা তোমরা দুনিয়াতে অন্যায়ভাবে অহঙ্কার করেছিলে আর না-ফরমানী করেছিলে।
۞ وَٱذْكُرْ أَخَا عَادٍ إِذْ أَنذَرَ قَوْمَهُۥ بِٱلْأَحْقَافِ وَقَدْ خَلَتِ ٱلنُّذُرُ مِنۢ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِۦٓ أَلَّا تَعْبُدُوٓا۟ إِلَّا ٱللَّهَ إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ٢١
ওয়াযকুর আখা ‘আ-দিন ইয আনযারা কাওমাহূ বিলআহকা-ফি ওয়াকাদ খালাতিন নুযুরু মিম বাইনি ইয়াদাইহি ওয়ামিন খালফিহী আল্লা তা‘বুদূ ইল্লাল্লা-হা ইন্নী আখা-ফু ‘আলাইকুম ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আযীম
স্মরণ কর ‘আদ জাতির ভ্রাতার (হূদ) কথা। সে তার আহকাফবাসী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল। (এ ধরনের) সতর্ককারীরা তার পূর্বেও এসেছিল আর তার পরেও এসেছিল (যারা বলেছিল) যে, ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ‘ইবাদাত করো না। আমি তোমাদের উপর এক ভয়াবহ দিনের ‘আযাবের আশঙ্কা করছি।’
قَالُوٓا۟ أَجِئْتَنَا لِتَأْفِكَنَا عَنْ ءَالِهَتِنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَآ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ٢٢
কা-লূ আজি’তানা লিতা’ফিকানা ‘আন আ-লিহাতিনা ফা’তিনা বিমা তা‘ইদুনা- ইন কুনতা মিনাস সা-দিকীন
লোকেরা বলেছিল- ‘তুমি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্যগুলো হতে সরিয়ে নেয়ার জন্য আমাদের কাছে এসেছ। কাজেই তুমি আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো আমাদের কাছে যদি তুমি সত্যবাদী হও।’
قَالَ إِنَّمَا ٱلْعِلْمُ عِندَ ٱللَّهِ وَأُبَلِّغُكُم مَّآ أُرْسِلْتُ بِهِۦ وَلَٰكِنِّىٓ أَرَىٰكُمْ قَوْمًۭا تَجْهَلُونَ ٢٣
কা-লা ইন্নামাল ‘ইলমু ‘ইনদাল্লা-হি ওয়াউবাল্লিগুকুম মা- উরসিলতু বিহী ওয়ালা-কিন্নী আরা-কুম কাওমান তাজহালূন
সে বলল (‘আযাব কখন আসবে না আসবে) ‘সে বিষয়ের জ্ঞান তো আল্লাহর নিকট আছে। আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তাই শুধু তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। কিন্তু আমি দেখছি তোমরা এমন এক জাতি যারা মূর্খের আচরণ করছে।
فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًۭا مُّسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا۟ هَٰذَا عَارِضٌۭ مُّمْطِرُنَا ۚ بَلْ هُوَ مَا ٱسْتَعْجَلْتُم بِهِۦ ۖ رِيحٌۭ فِيهَا عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ٢٤
ফালাম্মা রাআওহু ‘আ-রিদাম মুসতাকবিলা আওদিয়াতিহিম কা-লূ হা-যা ‘আ-রিদুম মুমতিরুনা বাল হুওয়া মাসতা‘জালতুম বিহী রীহুন ফীহা ‘আযা-বুন আলীম
অতঃপর তারা যখন তাদের উপত্যকার দিকে মেঘ আসতে দেখল তখন তারা বলল- ‘এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দিবে।’ না, তা হল সেই জিনিস তোমরা যা তাড়াতাড়ি নিয়ে আসতে চেয়েছিলে। এ হল ঝড়, যাতে আছে ভয়াবহ ‘আযাব।
تُدَمِّرُ كُلَّ شَىْءٍۭ بِأَمْرِ رَبِّهَا فَأَصْبَحُوا۟ لَا يُرَىٰٓ إِلَّا مَسَٰكِنُهُمْ ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْقَوْمَ ٱلْمُجْرِمِينَ ٢٥
তুদাম্মিরু কুল্লা শাইইম বিআমরি রাব্বিহা ফাআসবাহূ লা ইউরা- ইল্লা মাসা-কিনুহুম কাযা-লিকা নাজযিল কাওমাল মুজরিমীন
ওটা তার প্রতিপালকের নির্দেশে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। অবস্থা এই দাঁড়াল যে, তাদের (ধ্বংসপ্রাপ্ত) বসতিগুলো ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছিল না। অপরাধী জাতিকে আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।
وَلَقَدْ مَكَّنَّٰهُمْ فِيمَآ إِن مَّكَّنَّٰكُمْ فِيهِ وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًۭا وَأَبْصَٰرًۭا وَأَفْـِٔدَةًۭ فَمَآ أَغْنَىٰ عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَآ أَبْصَٰرُهُمْ وَلَآ أَفْـِٔدَتُهُم مِّن شَىْءٍ إِذْ كَانُوا۟ يَجْحَدُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ٢٦
ওয়ালাকাদ মাক্কান্না-হুম ফীমা- ইম মাক্কান্না-কুম ফীহি ওয়াজা‘আলনা লাহুম সাম‘আঁ ওয়াআবসা-রাঁ ওয়াআফইদাতান ফামা- আগনা ‘আনহুম সাম‘উহুম ওয়ালা- আবসা-রুহুম ওয়ালা- আফইদাতুহুম মিন শাইইন ইয কা-নূ ইয়াজহাদূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়াহা-কা বিহিম মা কা-নূ বিহী ইয়াসতাহযিঊন
তাদেরকে আমি যতটা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, তোমাদেরকে (হে কুরায়শ!) তেমন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করিনি আর তাদেরকে দিয়েছিলাম কান, চোখ ও হৃদয়। কিন্তু তাদের কান, তাদের চোখ আর তাদের হৃদয় তাদের কোন উপকারে আসেনি যেহেতু তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত। তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করত তা-ই তাদেরকে ঘিরে ফেলল।
وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا مَا حَوْلَكُم مِّنَ ٱلْقُرَىٰ وَصَرَّفْنَا ٱلْءَايَٰتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ٢٧
ওয়ালাকাদ আহলাকনা মা হাওলাকুম মিনাল কুরা ওয়াসার্রাফনাল আ-য়া-তি লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন
আমি ধ্বংস করেছিলাম তোমাদের চারপাশের জনপদ। আমি নানাভাবে নিদর্শন দেখিয়েছিলাম যাতে তারা (সঠিক পথে) ফিরে আসে।
فَلَوْلَا نَصَرَهُمُ ٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ قُرْبَانًا ءَالِهَةًۢ ۖ بَلْ ضَلُّوا۟ عَنْهُمْ ۚ وَذَٰلِكَ إِفْكُهُمْ وَمَا كَانُوا۟ يَفْتَرُونَ ٢٨
ফালাওলা নাসারাহুমুল লাযীনাত তাখাযূ মিন দূনিল্লা-হি কুরবা-নান আ-লিহাতাম বাল দাল্লূ ‘আনহুম ওয়াযা-লিকা ইফকুহুম ওয়ামা কা-নূ ইয়াফতারূন
আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ব্যতিরেকে যাদেরকে তারা ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তারা (অর্থাৎ কল্পিত ইলাহ) তাদের থেকে হারিয়ে গেল। আসলে তা ছিল তাদের মিথ্যাচার আর মনগড়া উদ্ভাবন।
وَإِذْ صَرَفْنَآ إِلَيْكَ نَفَرًۭا مِّنَ ٱلْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ ٱلْقُرْءَانَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوٓا۟ أَنصِتُوا۟ ۖ فَلَمَّا قُضِىَ وَلَّوْا۟ إِلَىٰ قَوْمِهِم مُّنذِرِينَ ٢٩
ওয়াইয সারাফনা- ইলাইকা নাফারাম মিনাল জিন্নি ইয়াসতামি‘ঊনাল কুরআ-না ফালাম্মা হাদারূহু কা-লূ আনসিতূ ফালাম্মা কুদিয়া ওয়াল্লাও ইলা কাওমিহিম মুনযিরীন
স্মরণ কর, যখন জ্বিনদের একটি দলকে তোমার প্রতি ফিরিয়ে দিয়েছিলাম যারা কুরআন শুনছিল। তারা যখন সে স্থানে উপস্থিত হল, তখন তারা পরস্পরে বলল- চুপ করে শুন। পড়া যখন শেষ হল তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেল সতর্ককারীরূপে।
قَالُوا۟ يَٰقَوْمَنَآ إِنَّا سَمِعْنَا كِتَٰبًا أُنزِلَ مِنۢ بَعْدِ مُوسَىٰ مُصَدِّقًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِىٓ إِلَى ٱلْحَقِّ وَإِلَىٰ طَرِيقٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ٣٠
কা-লূ ইয়া-কাওমানা- ইন্না সামি‘না কিতা-বান উনযিলা মিম বা‘দি মূসা মুসাদ্দিকাল লিমা বাইনা ইয়াদাইহি ইয়াহদী ইলাল হাক্কি ওয়াইলা তারীকিম মুসতাকীম
(ফিরে গিয়ে) তারা বলল- হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা একটি কিতাব (এর পাঠ) শুনেছি যা মূসার পরে অবতীর্ণ হয়েছে, তা পূর্বেকার কিতাবগুলোর সত্যতা প্রতিপন্ন করে, সত্যের দিকে আর সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে।
يَٰقَوْمَنَآ أَجِيبُوا۟ دَاعِىَ ٱللَّهِ وَءَامِنُوا۟ بِهِۦ يَغْفِرْ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍۢ ٣١
ইয়া-কাওমানা- আজীবূ দা-‘ইয়াল্লা-হি ওয়াআ-মিনূ বিহী ইয়াগফির লাকুম মিন যুনূবিকুম ওয়াইউজিরকুম মিন ‘আযা-বিন আলীম
হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহবানকারীর প্রতি সাড়া দাও এবং তার প্রতি ঈমান আন, আল্লাহ তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন আর তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক ‘আযাব থেকে রক্ষা করবেন।
وَمَن لَّا يُجِبْ دَاعِىَ ٱللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزٍۢ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُۥ مِن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءُ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ فِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍ ٣٢
ওয়ামাল লা ইউজিব দা-‘ইয়াল্লা-হি ফালাইসা বিমু‘জিযিন ফিল আরদি ওয়ালাইসা লাহূ মিন দূনিহী আওলিয়া-আ উলা-ইকা ফী দালা-লিম মুবীন
আর যে আল্লাহর দিকে আহবানকারীর প্রতি সাড়া দিবে না, দুনিয়াতে সে আল্লাহকে ব্যর্থ করতে পারবে না, আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে নেই তার কোন সাহায্যকারী, পৃষ্ঠপোষক। তারা আছে সুস্পষ্ট গুমরাহীতে।
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّ ٱللَّهَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَلَمْ يَعْىَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَٰدِرٍ عَلَىٰٓ أَن يُحْۦِىَ ٱلْمَوْتَىٰ ۚ بَلَىٰٓ إِنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٣٣
আওয়ালাম ইয়ারাও আন-নাল্লা-হাল লাযী খালাকাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ওয়ালাম ইয়া‘ইয়া বিখালকিহিন্না বিকা-দিরিন ‘আলা- আন ইউহীয়াল মাওতা বালা- ইন্নাহূ ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন আর ওগুলোর সৃষ্টিতে তিনি ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতদেরকে জীবন দিতে সক্ষম? নিঃসন্দেহে তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।
وَيَوْمَ يُعْرَضُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ عَلَى ٱلنَّارِ أَلَيْسَ هَٰذَا بِٱلْحَقِّ ۖ قَالُوا۟ بَلَىٰ وَرَبِّنَا ۚ قَالَ فَذُوقُوا۟ ٱلْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ ٣٤
ওয়ায়াওমা ইউ‘রাদুল লাযীনা কাফারূ ‘আলান না-রি আলাইসা হা-যা বিলহাক্কি কা-লূ বালা ওয়ারাব্বিনা কা-লা ফাযূকুল ‘আযা-বা বিমা কুনতুম তাকফুরূন
কাফিরদেরকে যেদিন জাহান্নামের সামনে হাজির করা হবে (তখন তাদেরকে বলা হবে) এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, ‘কসম আমাদের প্রতিপালকের! এটা সত্য।’ তাদেরকে বলা হবে, ‘তাহলে ‘আযাব আস্বাদন কর, যেহেতু তোমরা সত্যকে অমান্য করেছিলে।
فَٱصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُو۟لُوا۟ ٱلْعَزْمِ مِنَ ٱلرُّسُلِ وَلَا تَسْتَعْجِل لَّهُمْ ۚ كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوٓا۟ إِلَّا سَاعَةًۭ مِّن نَّهَارٍۭ ۚ بَلَٰغٌۭ ۚ فَهَلْ يُهْلَكُ إِلَّا ٱلْقَوْمُ ٱلْفَٰسِقُونَ ٣٥
ফাসবির কামা সাবারা উলুল ‘আযমি মিনার রুসুলি ওয়ালা তাসতা‘জিল লাহুম কাআন্নাহুম ইয়াওমা ইয়ারাওনা মা ইউ‘আদূনা লাম ইয়ালবাছূ ইল্লা সা-‘আতাম মিন নাহা-র বালা-গ ফাহাল ইউহলাকু ইল্লাল কাওমুল ফা-সিকূন
কাজেই তুমি ধৈর্য ধর যেমনভাবে ধৈর্য ধারণ করেছিল দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী রসূলগণ। আর এই লোকেদের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করো না। কারণ যে বিষয়ে তাদেরকে সাবধান করা হয়েছে যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন তারা মনে করবে যে, একদিনের কিছু অংশের অধিক তারা দুনিয়াতে অবস্থান করেনি। (তোমার দায়িত্ব) পৌঁছানো, অতঃপর পাপাচারী সম্প্রদায় ছাড়া আর কে ধ্বংস হবে?

محمد
সূরা মুহাম্মাদ

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَصَدُّوا۟ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ أَضَلَّ أَعْمَٰلَهُمْ ١
আল্লাযীনা কাফারূ ওয়াসাদ্দূ ‘আন সাবীলিল্লা-হি আদাল্লা আ‘মা-লাহুম
যারা কুফুরী করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আল্লাহ তাদের সকল কর্ম ব্যর্থ করে দেন।
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَءَامَنُوا۟ بِمَا نُزِّلَ عَلَىٰ مُحَمَّدٍۢ وَهُوَ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۙ كَفَّرَ عَنْهُمْ سَيِّـَٔاتِهِمْ وَأَصْلَحَ بَالَهُمْ ٢
ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি ওয়াআ-মানূ বিমা নুয্যিলা ‘আলা মুহাম্মাদিঁ ওয়াহুওয়াল হাক্কু মির রাব্বিহিম কাফ্ফারা ‘আনহুম সাইয়্যিআ-তিহিম ওয়াআসলাহা বা-লাহুম
আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আর মুহাম্মাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে- কারণ তা তাদের প্রতিপালকের প্রেরিত সত্য- তিনি তাদের মন্দ কাজগুলো মুছে দেবেন, আর তাদের অবস্থার উন্নতি ঘটাবেন।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱتَّبَعُوا۟ ٱلْبَٰطِلَ وَأَنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّبَعُوا۟ ٱلْحَقَّ مِن رَّبِّهِمْ ۚ كَذَٰلِكَ يَضْرِبُ ٱللَّهُ لِلنَّاسِ أَمْثَٰلَهُمْ ٣
যা-লিকা বিআন্নাল লাযীনা কাফারুত তাবা‘উল বা-তিলা ওয়াআন্নাল লাযীনা আ-মানুত তাবা‘উল হাক্কা মির রাব্বিহিম কাযা-লিকা ইয়াদরিবুল্লা-হু লিন্না-সি আমছা-লাহুম
এর কারণ এই যে, যারা কুফুরী করে তারা মিথ্যার অনুসরণ করে, আর যারা ঈমান আনে তারা তাদের প্রতিপালকের প্রেরিত সত্যের অনুসরণ করে। এমনিভাবে আল্লাহ মানুষের জন্য তাদের (মধ্যেকার পাপী এবং পুণ্যবানের) দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন।
فَإِذَا لَقِيتُمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَضَرْبَ ٱلرِّقَابِ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَثْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا۟ ٱلْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنًّۢا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَآءً حَتَّىٰ تَضَعَ ٱلْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ۚ ذَٰلِكَ وَلَوْ يَشَآءُ ٱللَّهُ لَٱنتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَٰكِن لِّيَبْلُوَا۟ بَعْضَكُم بِبَعْضٍۢ ۗ وَٱلَّذِينَ قُتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَٰلَهُمْ ٤
ফাইযা লাকীতুমুল লাযীনা কাফারূ ফাদারবার রিকা-বি হাত্তা- ইযা- আছখানতুমূহুম ফাশুদ্দুল ওয়াছা-কা ফাইম্মা মান্নাম বা‘দু ওয়াইম্মা ফিদা-আন হাত্তা তাদা‘আল হারবু আওযা-রাহা যা-লিকা ওয়ালাও ইয়াশা-উল্লা-হু লানতাসারা মিনহুম ওয়ালা-কিল লিয়াবলুওয়া বা‘দাকুম বিবা‘দ ওয়াল্লাযীনা কুতিলূ ফী সাবীলিল্লা-হি ফালান ইউদিল্লা আ‘মা-লাহুম
অতঃপর যখন তোমরা কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত হানো, অবশেষে যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাস্ত কর, তখন তাদেরকে শক্তভাবে বেঁধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ কর। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করে। এ নির্দেশই তোমাদেরকে দেয়া হল। আল্লাহ ইচ্ছে করলে (নিজেই) তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের একজনকে অন্যের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান (এজন্য তোমাদেরকে যুদ্ধ করার সুযোগ দেন)। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয় তিনি তাদের কর্মফল কক্ষনো বিনষ্ট করবেন না।
سَيَهْدِيهِمْ وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ ٥
সায়াহদীহিম ওয়াইউসলিহু বা-লাহুম
তিনি তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন আর তাদের অবস্থা ভাল করে দেন।
وَيُدْخِلُهُمُ ٱلْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ ٦
ওয়াইউদখিলুহুমুল জান্নাতা ‘আর্রাফাহা লাহুম
অতঃপর তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন যা তাদেরকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِن تَنصُرُوا۟ ٱللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ ٧
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইন তানসুরুল্লা-হা ইয়ানসুরকুম ওয়াইউছাব্বিত আকদা-মাকুম
হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য কর, তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন আর তোমাদের পাগুলোকে দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন।
وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَتَعْسًۭا لَّهُمْ وَأَضَلَّ أَعْمَٰلَهُمْ ٨
ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ফাতা‘সাল লাহুম ওয়াআদাল্লা আ‘মা-লাহুম
যারা কুফরী করে তাদের জন্য দুর্ভোগ আর তিনি তাদের কর্মকে বিনষ্ট করে দেবেন।
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا۟ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَٰلَهُمْ ٩
যা-লিকা বিআন্নাহুম কারিহূ মা- আনযালাল্লা-হু ফাআহবাতা আ‘মা-লাহুম
তা এজন্য যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তারা তা অপছন্দ করে, কাজেই আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করেন।
۞ أَفَلَمْ يَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ دَمَّرَ ٱللَّهُ عَلَيْهِمْ ۖ وَلِلْكَٰفِرِينَ أَمْثَٰلُهَا ١٠
আফালাম ইয়াসীরূ ফিল আরদি ফায়ানযুরূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল লাযীনা মিন কাবলিহিম দাম্মারাল্লা-হু ‘আলাইহিম ওয়ালিলকা-ফিরীনা আমছা-লুহা
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি অতঃপর দেখেনি তাদের আগে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে? আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, কাফিরদের জন্য আছে অনুরূপ শাস্তি।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ مَوْلَى ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَأَنَّ ٱلْكَٰفِرِينَ لَا مَوْلَىٰ لَهُمْ ١١
যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা মাওলাল লাযীনা আ-মানূ ওয়াআন্নাল কা-ফিরীনা লা মাওলা লাহুম
এর কারণ এই যে, যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের অভিভাবক আর কাফিরদের কোন অভিভাবক নেই।
إِنَّ ٱللَّهَ يُدْخِلُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ ۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ ٱلْأَنْعَٰمُ وَٱلنَّارُ مَثْوًۭى لَّهُمْ ١٢
ইন্নাল্লা-হা ইউদখিলুল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ইয়াতামাত্তা‘ঊনা ওয়ায়া’কুলূনা কামা তা’কুলুল আন‘আ-মু ওয়ান্না-রু মাছওয়াল লাহুম
যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে আল্লাহ তাদেরকে প্রবিষ্ট করবেন জান্নাতে যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। আর যারা কুফুরী করে তারা ভোগ বিলাসে মত্ত থাকে আর আহার করে যেভাবে আহার করে জন্তু জানোয়াররা। জাহান্নামই তাদের বাসস্থান।
وَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ هِىَ أَشَدُّ قُوَّةًۭ مِّن قَرْيَتِكَ ٱلَّتِىٓ أَخْرَجَتْكَ أَهْلَكْنَٰهُمْ فَلَا نَاصِرَ لَهُمْ ١٣
ওয়াকাআইয়্যিম মিন কারইয়াতিন হিয়া আশাদ্দু কুওয়াতাম মিন কারইয়াতিকাল লাতী আখরাজাতকা আহলাকনা-হুম ফালা না-সিরা লাহুম
তোমার যে জনপদ থেকে তারা তোমাকে বের করে দিয়েছে তার অপেক্ষা শক্তিশালী কত জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, অতঃপর কেউ ছিল না তাদের সাহায্যকারী।
أَفَمَن كَانَ عَلَىٰ بَيِّنَةٍۢ مِّن رَّبِّهِۦ كَمَن زُيِّنَ لَهُۥ سُوٓءُ عَمَلِهِۦ وَٱتَّبَعُوٓا۟ أَهْوَآءَهُم ١٤
আফামান কা-না ‘আলা বাইয়্যিনাতিম মির রাব্বিহী কামান যুইয়্যিনা লাহূ সূউ ‘আমালিহী ওয়াত্তাবা‘ঊ আহওয়া-আহুম
যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক থেকে আগত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত সে কি তার মত যার কাছে তার মন্দ কর্ম সুশোভিত করা হয়েছে আর তারা নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে।
مَّثَلُ ٱلْجَنَّةِ ٱلَّتِى وُعِدَ ٱلْمُتَّقُونَ ۖ فِيهَآ أَنْهَٰرٌۭ مِّن مَّآءٍ غَيْرِ ءَاسِنٍۢ وَأَنْهَٰرٌۭ مِّن لَّبَنٍۢ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُۥ وَأَنْهَٰرٌۭ مِّنْ خَمْرٍۢ لَّذَّةٍۢ لِّلشَّٰرِبِينَ وَأَنْهَٰرٌۭ مِّنْ عَسَلٍۢ مُّصَفًّۭى ۖ وَلَهُمْ فِيهَا مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ وَمَغْفِرَةٌۭ مِّن رَّبِّهِمْ ۖ كَمَنْ هُوَ خَٰلِدٌۭ فِى ٱلنَّارِ وَسُقُوا۟ مَآءً حَمِيمًۭا فَقَطَّعَ أَمْعَآءَهُمْ ١٥
মাছালুল জান্নাতিল লাতী উ‘ইদাল মুত্তাকূনা ফীহা- আনহা-রুম মিম মা-ইন গাইরি আ-সিনিঁ ওয়াআনহা-রুম মিল লাবানিল লাম ইয়াতাগাইয়্যার তা‘মুহূ ওয়াআনহা-রুম মিন খামরিল লায্যাতিল লিশ্শা-রিবীনা ওয়াআনহা-রুম মিন ‘আসালিম মুসাফ্ফাঁ ওয়ালাহুম ফীহা মিন কুল্লিছ ছামারা-তি ওয়ামাগফিরাতুম মির রাব্বিহিম কামান হুওয়া খা-লিদুন ফিন না-রি ওয়াসুকূ মা-আন হামীমান ফাকাত্তা‘আ আম‘আ-আহুম
মুত্তাক্বীদেরকে যে জান্নাতের ও‘য়াদা দেয়া হয়েছে তার উপমা হলঃ তাতে আছে নির্মল পানির ঝর্ণা, আর আছে দুধের নদী যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু মদের নদী আর পরিশোধিত মধুর নদী। তাদের জন্য সেখানে আছে সব রকম ফলমূল আর তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে ক্ষমা। (এরা কি) তাদের মত যারা চিরকাল থাকবে জাহান্নামে যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে গরম পানীয় যা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলবে?
وَمِنْهُم مَّن يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ حَتَّىٰٓ إِذَا خَرَجُوا۟ مِنْ عِندِكَ قَالُوا۟ لِلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ مَاذَا قَالَ ءَانِفًا ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ طَبَعَ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَٱتَّبَعُوٓا۟ أَهْوَآءَهُمْ ١٦
ওয়ামিনহুম মান ইয়াসতামি‘উ ইলাইকা হাত্তা- ইযা খারাজূ মিন ‘ইনদিকা কা-লূ লিল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা মা-যা কা-লা আ-নিফা উলা-ইকাল লাযীনা তাবা‘আল্লা-হু ‘আলা কুলূবিহিম ওয়াত্তাবা‘ঊ আহওয়া-আহুম
তাদের মধ্যে কতক লোক তোমার কথা শুনে, অতঃপর যখন তারা তোমার কাছ থেকে বেরিয়ে যায়, তখন যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাদেরকে বলে- এই মাত্র সে কী বলল? এদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন আর তারা নিজেদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে।
وَٱلَّذِينَ ٱهْتَدَوْا۟ زَادَهُمْ هُدًۭى وَءَاتَىٰهُمْ تَقْوَىٰهُمْ ١٧
ওয়াল্লাযীনাহতাদাও যা-দাহুম হুদাঁ ওয়াআ-তা-হুম তাকওয়া-হুম
যারা সঠিক পথে চলে আল্লাহ তাদের সৎপথ প্রাপ্তি বৃদ্ধি করে দেন আর তাদেরকে তাক্বওয়া দান করেন।
فَهَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا ٱلسَّاعَةَ أَن تَأْتِيَهُم بَغْتَةًۭ ۖ فَقَدْ جَآءَ أَشْرَاطُهَا ۚ فَأَنَّىٰ لَهُمْ إِذَا جَآءَتْهُمْ ذِكْرَىٰهُمْ ١٨
ফাহাল ইয়ানযুরূনা ইল্লাস সা-‘আতা আন তা’তিয়াহুম বাগতাতান ফাকাদ জা-আ আশরা-তুহা ফাআন্না লাহুম ইযা জা-আতহুম যিকরা-হুম
তারা কি শুধু এ অপেক্ষায় আছে যে, ক্বিয়ামত তাদের কাছে অকস্মাৎ এসে পড়ুক? ক্বিয়ামতের লক্ষণগুলো তো এসেই গেছে। কাজেই তা এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে?
فَٱعْلَمْ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ وَٱسْتَغْفِرْ لِذَنۢبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ ۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَىٰكُمْ ١٩
ফা‘লাম আন-নাহূ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াসতাগফির লিযামবিকা ওয়ালিলমু’মিনীনা ওয়ালমু’মিনা-ত ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামু মুতাকাল্লাবাকুম ওয়ামাছওয়া-কুম
কাজেই জেনে রেখ, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার ভুলত্রুটির জন্য আর মু’মিন ও মু’মিনাদের জন্য, আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত।
وَيَقُولُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَوْلَا نُزِّلَتْ سُورَةٌۭ ۖ فَإِذَآ أُنزِلَتْ سُورَةٌۭ مُّحْكَمَةٌۭ وَذُكِرَ فِيهَا ٱلْقِتَالُ ۙ رَأَيْتَ ٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ نَظَرَ ٱلْمَغْشِىِّ عَلَيْهِ مِنَ ٱلْمَوْتِ ۖ فَأَوْلَىٰ لَهُمْ ٢٠
ওয়ায়াকূলুল লাযীনা আ-মানূ লাওলা নুয্যিলাত সূরাতুন ফাইযা- উনযিলাত সূরাতুম মুহকামাতুঁ ওয়াযুকিরা ফীহাল কিতা-লু রাআইতাল লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুঁ ইয়ানযুরূনা ইলাইকা নাযারাল মাগশিয়্যি ‘আলাইহি মিনাল মাওতি ফাআওলা লাহুম
মু’মিনরা বলে- একটি সূরাহ নাযিল হয় না কেন? অতঃপর যখন কোন সুস্পষ্ট অর্থবোধক সূরাহ অবতীর্ণ হয় আর তাতে যুদ্ধের কথা উল্লেখ থাকে, তখন যাদের অন্তরে রোগ আছে তুমি তাদেরকে দেখবে মৃত্যুর ভয়ে জ্ঞানহারা লোকের মত তোমার দিকে তাকাচ্ছে। কাজেই ধ্বংস তাদের জন্য।
طَاعَةٌۭ وَقَوْلٌۭ مَّعْرُوفٌۭ ۚ فَإِذَا عَزَمَ ٱلْأَمْرُ فَلَوْ صَدَقُوا۟ ٱللَّهَ لَكَانَ خَيْرًۭا لَّهُمْ ٢١
তা-‘আতুঁ ওয়াকাওলুম মা‘রূফ ফাইযা ‘আযামাল আমরু ফালাও সাদাকুল্লা-হা লাকা-না খাইরাল লাহুম
(আল্লাহর) আনুগত্য করা ও ন্যায়সঙ্গত কথা বলা। অতঃপর যুদ্ধের সিদ্ধান্ত হলে তারা যদি আল্লাহর নিকট দেয়া অঙ্গীকার পূর্ণ করত, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত।
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُفْسِدُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوٓا۟ أَرْحَامَكُمْ ٢٢
ফাহাল ‘আসাইতুম ইন তাওয়াল্লাইতুম আন তুফসিদূ ফিল আরদি ওয়াতুকাত্তি‘ঊ আরহা-মাকুম
ক্ষমতা পেলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে আর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَعَنَهُمُ ٱللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَىٰٓ أَبْصَٰرَهُمْ ٢٣
উলা-ইকাল লাযীনা লা‘আনাহুমুল্লা-হু ফাআসাম্মাহুম ওয়াআ‘মা- আবসা-রাহুম
এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদেরকে বধির করেন আর তাদের দৃষ্টিশক্তিকে করেন অন্ধ।
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلْقُرْءَانَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَآ ٢٤
আফালা ইয়াতাদাব্বারূনাল কুরআ-না আম ‘আলা কুলূবিন আকফা-লুহা-
তারা কি কুরআন সম্বন্ধে গভীরভাবে চিন্তা করে না, না তাদের অন্তরে তালা দেয়া আছে?
إِنَّ ٱلَّذِينَ ٱرْتَدُّوا۟ عَلَىٰٓ أَدْبَٰرِهِم مِّنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ ٱلْهُدَى ۙ ٱلشَّيْطَٰنُ سَوَّلَ لَهُمْ وَأَمْلَىٰ لَهُمْ ٢٥
ইন্নাল লাযীনারতাদ্দূ ‘আলা- আদবা-রিহিম মিম বা‘দি মা তাবাইয়্যানা লাহুমুল হুদাশ শাইতা-নু সাওয়ালা লাহুম ওয়াআমলা লাহুম
যাদের কাছে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হওয়ার পর তারা পিছনে ফিরে যায়, শয়ত্বান তাদের জন্য তাদের কাজকে সুন্দর করে দেখায়, আর তাদেরকে দেয় মিথ্যা আশা।
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا۟ لِلَّذِينَ كَرِهُوا۟ مَا نَزَّلَ ٱللَّهُ سَنُطِيعُكُمْ فِى بَعْضِ ٱلْأَمْرِ ۖ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ إِسْرَارَهُمْ ٢٦
যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-লূ লিল্লাযীনা কারিহূ মা নায্যালাল্লা-হু সানুতী‘উকুম ফী বা‘দিল আমরি ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামু ইসরা-রাহুম
এ কারণেই আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাকে যারা অপছন্দ করে তাদেরকে তারা বলে দিয়েছে যে, কোন কোন ব্যাপারে আমরা তোমাদেরকে মানবো। আল্লাহ তাদের গোপন কথাবার্তাকে খুব ভাল করেই জানেন।
فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَٰرَهُمْ ٢٧
ফাকাইফা ইযা তাওয়াফ্ফাতহুমুল মালা-ইকাতু ইয়াদরিবূনা উজূহাহুম ওয়াআদবা-রাহুম
তখন কেমন দশা হবে যখন ফেরেশতারা তাদের মুখে আর পিঠে মারতে মারতে তাদের জান বের করবে।
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمُ ٱتَّبَعُوا۟ مَآ أَسْخَطَ ٱللَّهَ وَكَرِهُوا۟ رِضْوَٰنَهُۥ فَأَحْبَطَ أَعْمَٰلَهُمْ ٢٨
যা-লিকা বিআন্নাহুমুত তাবা‘ঊ মা- আসখাতাল্লা-হা ওয়াকারিহূ রিদওয়া-নাহূ ফাআহবাতা আ‘মা-লাহুম
এর কারণ এই যে, তারা তারই অনুসরণ করে যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, আর তারা তাঁর সন্তোষকে অপছন্দ করে, ফলে তিনি তাদের সমস্ত ‘আমাল নষ্ট করে দিয়েছেন।
أَمْ حَسِبَ ٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ أَن لَّن يُخْرِجَ ٱللَّهُ أَضْغَٰنَهُمْ ٢٩
আম হাসিবাল লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুন আল লান ইউখরিজাল্লা-হু আদগা-নাহুম
যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ কক্ষনো তাদের লুকানো বিদ্বেষভাব প্রকাশ করে দিবেন না?
وَلَوْ نَشَآءُ لَأَرَيْنَٰكَهُمْ فَلَعَرَفْتَهُم بِسِيمَٰهُمْ ۚ وَلَتَعْرِفَنَّهُمْ فِى لَحْنِ ٱلْقَوْلِ ۚ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ أَعْمَٰلَكُمْ ٣٠
ওয়ালাও নাশা-উ লাআরাইনা-কাহুম ফালা‘আরাফতাহুম বিসীমা-হুম ওয়ালাতা‘রিফান্নাহুম ফী লাহনিল কাওল ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামু আ‘মা-লাকুম
আমি যদি ইচ্ছে করতাম তাহলে আমি তোমায় ওদেরকে দেখিয়ে দিতাম। তুমি তাদের মুখ দেখে অবশ্যই চিনতে পারবে আর তাদের কথাবার্তার ধরন দেখে তুমি তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই চিনতে পারবে। আল্লাহ তোমাদের ‘আমাল সম্পর্কে ভালভাবেই জানেন।
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّىٰ نَعْلَمَ ٱلْمُجَٰهِدِينَ مِنكُمْ وَٱلصَّٰبِرِينَ وَنَبْلُوَا۟ أَخْبَارَكُمْ ٣١
ওয়ালানাবলুওয়ান্নাকুম হাত্তা না‘লামাল মুজা-হিদীনা মিনকুম ওয়াস্সা-বিরীনা ওয়ানাবলুওয়া আখবা-রাকুম
আমি তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি জেনে নিতে পারি তোমাদের মধ্যে মুজাহিদ আর ধৈর্যশীলদেরকে, আর তোমাদের অবস্থা যাচাই করতে পারি।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَصَدُّوا۟ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَشَآقُّوا۟ ٱلرَّسُولَ مِنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ ٱلْهُدَىٰ لَن يَضُرُّوا۟ ٱللَّهَ شَيْـًۭٔا وَسَيُحْبِطُ أَعْمَٰلَهُمْ ٣٢
ইন্নাল লাযীনা কাফারূ ওয়াসাদ্দূ ‘আন সাবীলিল্লা-হি ওয়াশা-ক্কুর রাসূলা মিম বা‘দি মা তাবাইয়্যানা লাহুমুল হুদা লান ইয়াদুর্রুল্লা-হা শাইআঁ ওয়াসাইউহবিতু আ‘মা-লাহুম
যারা কুফুরী করে আর আল্লাহর পথে চলতে বাধা সৃষ্টি করে, আর তাদের নিকট সত্য পথ স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও রসূলের বিরোধিতা করে, তারা আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তাদের যাবতীয় ‘আমাল নষ্ট করে দিবেন।
۞ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوٓا۟ أَعْمَٰلَكُمْ ٣٣
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ আতী‘উল্লা-হা ওয়াআতী‘উর রাসূলা ওয়ালা তুবতিলূ আ‘মা-লাকুম
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর আর রসূলের আনুগত্য কর আর তোমাদের ‘আমালগুলোকে নষ্ট করে দিও না।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَصَدُّوا۟ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ مَاتُوا۟ وَهُمْ كُفَّارٌۭ فَلَن يَغْفِرَ ٱللَّهُ لَهُمْ ٣٤
ইন্নাল লাযীনা কাফারূ ওয়াসাদ্দূ ‘আন সাবীলিল্লা-হি ছুম্মা মা-তূ ওয়াহুম কুফ্ফা-রুন ফালান ইয়াগফিরাল্লা-হু লাহুম
যারা কুফরী করে আর (মানুষকে) আল্লাহর পথে চলতে বাধা দেয় আর এভাবে কাফির অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাদেরকে কক্ষনো ক্ষমা করবেন না।
فَلَا تَهِنُوا۟ وَتَدْعُوٓا۟ إِلَى ٱلسَّلْمِ وَأَنتُمُ ٱلْأَعْلَوْنَ وَٱللَّهُ مَعَكُمْ وَلَن يَتِرَكُمْ أَعْمَٰلَكُمْ ٣٥
ফালা তাহিনূ ওয়াতাদ‘ঊ ইলাস সালমি ওয়াআনতুমুল আ‘লাওনা ওয়াল্লা-হু মা‘আকুম ওয়ালান ইয়াতিরাকুম আ‘মা-লাকুম
কাজেই তোমরা সাহস-হারা হয়ে যেও না আর সন্ধির আবেদন করে বসো না, প্রবল তো তোমরাই। আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে আছেন, তিনি তোমাদের ‘আমাল কক্ষনো বিনষ্ট করবেন না।
إِنَّمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا لَعِبٌۭ وَلَهْوٌۭ ۚ وَإِن تُؤْمِنُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ يُؤْتِكُمْ أُجُورَكُمْ وَلَا يَسْـَٔلْكُمْ أَمْوَٰلَكُمْ ٣٦
ইন্নামাল হায়া-তুদ দুনইয়া লা‘ইবুঁ ওয়ালাহও ওয়াইন তু’মিনূ ওয়াতাত্তাকূ ইউ’তিকুম উজূরাকুম ওয়ালা ইয়াসআলকুম আমওয়া-লাকুম
দুনিয়ার এ জীবন তো খেলা আর তামাশা মাত্র। তোমরা যদি ঈমান আন, আর আল্লাহকে ভয় করে চল, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিফল দিবেন (আর এর বিপরীতে) তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের মাল ধন চাইবেন না।
إِن يَسْـَٔلْكُمُوهَا فَيُحْفِكُمْ تَبْخَلُوا۟ وَيُخْرِجْ أَضْغَٰنَكُمْ ٣٧
ইন ইয়াসআলকুমূহা ফাইউহফিকুম তাবখালূ ওয়াইউখরিজ আদগা-নাকুম
তিনি যদি তোমাদের কাছে তা চাইতেন আর সেজন্য চাপ দিতেন তাহলে তোমরা কৃপণতা করতে আর তাতে তিনি তোমাদের বিদ্বেষভাব প্রকাশ করে দিতেন।
هَٰٓأَنتُمْ هَٰٓؤُلَآءِ تُدْعَوْنَ لِتُنفِقُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَمِنكُم مَّن يَبْخَلُ ۖ وَمَن يَبْخَلْ فَإِنَّمَا يَبْخَلُ عَن نَّفْسِهِۦ ۚ وَٱللَّهُ ٱلْغَنِىُّ وَأَنتُمُ ٱلْفُقَرَآءُ ۚ وَإِن تَتَوَلَّوْا۟ يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوٓا۟ أَمْثَٰلَكُم ٣٨
হা-আনতুম হা-উলা-ই তুদ‘আওনা লিতুনফিকূ ফী সাবীলিল্লা-হি ফামিনকুম মান ইয়াবখালু ওয়ামান ইয়াবখাল ফাইন্নামা ইয়াবখালু ‘আন নাফসিহ ওয়াল্লা-হুল গানিয়্যু ওয়াআনতুমুল ফুকারা-আ ওয়াইন তাতাওয়াল্লাও ইয়াসতাবদিল কাওমান গাইরাকুম ছুম্মা লা ইয়াকূনূ আমছা-লাকুম
দেখ, তোমরা তো তারাই, তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার জন্য ডাক দেয়া হচ্ছে, তখন তোমাদের কিছু লোক কৃপণতা করছে। যে কৃপণতা করে, সে কৃপণতা করে কেবল নিজের আত্মার সাথে। আল্লাহ তো অভাবহীন আর তোমরাই অভাবী। তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন, তখন তারা তোমাদের মত হবে না।

الفتح
সূরা আল-ফাতহ

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًۭا مُّبِينًۭا ١
ইন্না ফাতাহনা লাকা ফাতহাম মুবীনা
আমি তোমাকে দিয়েছি স্পষ্ট বিজয়।
لِّيَغْفِرَ لَكَ ٱللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِن ذَنۢبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ وَيُتِمَّ نِعْمَتَهُۥ عَلَيْكَ وَيَهْدِيَكَ صِرَٰطًۭا مُّسْتَقِيمًۭا ٢
লিয়াগফিরা লাকাল্লা-হু মা তাকাদ্দামা মিন যামবিকা ওয়ামা তাআখ্খারা ওয়াইউতিম্মা নি‘মাতাহূ ‘আলাইকা ওয়ায়াহদিয়াকা সিরা-তাম মুসতাকীমা
যাতে আল্লাহ তোমার আগের ও পিছের যাবতীয় ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করেন, তোমার উপর তাঁর নি‘মাত পূর্ণ করেন এবং তোমাকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
وَيَنصُرَكَ ٱللَّهُ نَصْرًا عَزِيزًا ٣
ওয়ায়ানসুরাকাল্লা-হু নাসরান ‘আযীযা
আর আল্লাহ তোমাকে প্রবল পরাক্রান্ত সাহায্য দান করেন।
هُوَ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ ٱلسَّكِينَةَ فِى قُلُوبِ ٱلْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوٓا۟ إِيمَٰنًۭا مَّعَ إِيمَٰنِهِمْ ۗ وَلِلَّهِ جُنُودُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًۭا ٤
হুওয়াল লাযী আনযালাস সাকীনাতা ফী কুলূবিল মু’মিনীনা লিয়াযদা-দূ ঈমা-নাম মা‘আ ঈমা-নিহিম ওয়ালিল্লা-হি জুনূদুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা
তিনিই মু’মিনদের দিলে প্রশান্তি নাযিল করেন যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে আরো ঈমান বাড়িয়ে নেয়। আসমান ও যমীনের যাবতীয় বাহিনী আল্লাহর কর্তৃত্বের অধীন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
لِّيُدْخِلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا وَيُكَفِّرَ عَنْهُمْ سَيِّـَٔاتِهِمْ ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عِندَ ٱللَّهِ فَوْزًا عَظِيمًۭا ٥
লিইউদখিলাল মু’মিনীনা ওয়ালমু’মিনা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা ওয়াইউকাফ্ফিরা ‘আনহুম সাইয়্যিআ-তিহিম ওয়াকা-না যা-লিকা ‘ইনদাল্লা-হি ফাওযান ‘আযীমা
(তিনি এ কাজ করেন এজন্য) যাতে তিনি মু’মিন পুরুষ ও মু’মিনা নারীকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করেন যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। তাতে তারা চিরকাল থাকবে। তিনি তাদের পাপ মোচন করে দিবেন। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই বিরাট সাফল্য।
وَيُعَذِّبَ ٱلْمُنَٰفِقِينَ وَٱلْمُنَٰفِقَٰتِ وَٱلْمُشْرِكِينَ وَٱلْمُشْرِكَٰتِ ٱلظَّآنِّينَ بِٱللَّهِ ظَنَّ ٱلسَّوْءِ ۚ عَلَيْهِمْ دَآئِرَةُ ٱلسَّوْءِ ۖ وَغَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِمْ وَلَعَنَهُمْ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَهَنَّمَ ۖ وَسَآءَتْ مَصِيرًۭا ٦
ওয়াইউ‘আয্যিবাল মুনা-ফিকীনা ওয়ালমুনা-ফিকা-তি ওয়ালমুশরিকীনা ওয়ালমুশরিকা-তিয যা-ন্নীনা বিল্লা-হি যান্নাস সাও’ ‘আলাইহিম দা-ইরাতুস সাওই ওয়াগাদিবাল্লা-হু ‘আলাইহিম ওয়ালা‘আনাহুম ওয়াআ‘আদ্দা লাহুম জাহান্নামা ওয়াসা-আত মাসীরা
আর তিনি মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিকা নারী, মুশরিক পুরুষ ও মুশরিকা নারীকে শাস্তি দিবেন যারা আল্লাহ সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করে। তাদের জন্য আছে অশুভ চক্র। আল্লাহ তাদের উপর রাগান্বিত হয়েছেন আর তাদেরকে লা‘নাত করেছেন। তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জাহান্নাম। তা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল!
وَلِلَّهِ جُنُودُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا ٧
ওয়ালিল্লা-হি জুনূদুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আযীযান হাকীমা
আসমান ও যমীনের যাবতীয় বাহিনী আল্লাহর কর্তৃত্বের অধীন। আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, মহা প্রজ্ঞাময়।
إِنَّآ أَرْسَلْنَٰكَ شَٰهِدًۭا وَمُبَشِّرًۭا وَنَذِيرًۭا ٨
ইন্না- আরসালনা-কা শা-হিদাঁ ওয়ামুবাশ্শিরাঁ ওয়ানাযীরা
(হে রাসূল) আমি তোমাকে (সত্যের) সাক্ষ্যদাতা. (বিশ্বাসীদের জন্য) সুসংবাদদাতা ও (অবিশ্বাসীদের জন্য) সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি।
لِّتُؤْمِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةًۭ وَأَصِيلًا ٩
লিতু’মিনূ বিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ওয়াতু‘আয্যিরূহু ওয়াতুওয়াক্কিরূহু ওয়াতুসাব্বিহূহু বুকরাতাঁ ওয়াআসীলা
যেন (ওহে মানুষেরা) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আন, রসূলকে শক্তি যোগাও আর তাকে সম্মান কর, আর সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর মহিমা ঘোষণা কর।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ ٱللَّهَ يَدُ ٱللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ ۚ فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَىٰ نَفْسِهِۦ ۖ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِمَا عَٰهَدَ عَلَيْهُ ٱللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًۭا ١٠
ইন্নাল লাযীনা ইউবা-য়ি‘ঊনাকা ইন্নামা ইউবা-য়ি‘ঊনাল্লা-হা ইয়াদুল্লা-হি ফাওকা আইদীহিম ফামান নাকাছা ফাইন্নামা ইয়ানকুছু ‘আলা নাফসিহী ওয়ামান আওফা বিমা ‘আ-হাদা ‘আলাইহুল্লা-হা ফাসাইউ’তীহি আজরান ‘আযীমা
যারা তোমার কাছে বাই‘আত (অর্থাৎ আনুগত্য করার শপথ) করে আসলে তারা আল্লাহর কাছে বাই‘আত করে। তাদের হাতের উপর আছে আল্লাহর হাত। এক্ষণে যে এ ও‘য়াদা ভঙ্গ করে, এ ও‘য়াদা ভঙ্গের কুফল তার নিজেরই উপর পড়বে। আর যে ও‘য়াদা পূর্ণ করবে- যা সে আল্লাহর সঙ্গে করেছে- তিনি অচিরেই তাকে মহা পুরস্কার দান করবেন।
سَيَقُولُ لَكَ ٱلْمُخَلَّفُونَ مِنَ ٱلْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَآ أَمْوَٰلُنَا وَأَهْلُونَا فَٱسْتَغْفِرْ لَنَا ۚ يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِم مَّا لَيْسَ فِى قُلُوبِهِمْ ۚ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ لَكُم مِّنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًۢا ۚ بَلْ كَانَ ٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًۢا ١١
সায়াকূলু লাকাল মুখাল্লাফূনা মিনাল আ‘রা-বি শাগালাতনা- আমওয়া-লুনা ওয়াআহলূনা ফাসতাগফির লানা ইয়াকূলূনা বিআলসিনাতিহিম মা লাইসা ফী কুলূবিহিম কুল ফামান ইয়ামলিকু লাকুম মিনাল্লা-হি শাইআন ইন আরা-দা বিকুম দার্রান আও আরা-দা বিকুম নাফ‘আ বাল কা-নাল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা খাবীরা
(যুদ্ধ থেকে) পিছ-পড়া বেদুঈনরা তোমাকে বলবে- আমাদের মালধন আর আমাদের পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত রেখেছিল, কাজেই (হে নবী) আপনি আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। (তাদেরকে) বল, আল্লাহ তোমাদের কোন ক্ষতি বা কোন কল্যাণ করার ইচ্ছে করলে তাঁর বিপক্ষে তোমাদের জন্য কিছু করার ক্ষমতা কার আছে? (কারো কোন ওকালতির দরকার নেই) বরং তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহই খবর রাখেন।
بَلْ ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَنقَلِبَ ٱلرَّسُولُ وَٱلْمُؤْمِنُونَ إِلَىٰٓ أَهْلِيهِمْ أَبَدًۭا وَزُيِّنَ ذَٰلِكَ فِى قُلُوبِكُمْ وَظَنَنتُمْ ظَنَّ ٱلسَّوْءِ وَكُنتُمْ قَوْمًۢا بُورًۭا ١٢
বাল যানানতুম আল লান ইয়ানকালিবার রাসূলু ওয়ালমু’মিনূনা ইলা- আহলীহিম আবাদাঁ ওয়াযুইয়্যিনা যা-লিকা ফী কুলূবিকুম ওয়াযানানতুম যান্নাস সাওই ওয়াকুনতুম কাওমাম বূরা
বরং তোমরা ধারণা করেছিলে যে, রসূল ও মু’মিনগণ কক্ষনো তাদের পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে আসতে পারবে না, আর এ খেয়ালটা তোমাদের মনে খুবই চমৎকার ক’রে দেয়া হয়েছিল। তোমরা ধারণা করেছিলে বড়ই কু-ধারণা, আসলে তোমরা হলে ধ্বংসের যোগ্য একটা সম্প্রদায়।
وَمَن لَّمْ يُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ فَإِنَّآ أَعْتَدْنَا لِلْكَٰفِرِينَ سَعِيرًۭا ١٣
ওয়ামাল লাম ইউ’মিম বিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ফাইন্না- আ‘তাদনা লিলকা-ফিরীনা সা‘ঈরা
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, আমি (সে সব) কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুন।
وَلِلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ١٤
ওয়ালিল্লা-হি মুলকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ইয়াগফিরু লিমান ইয়াশা-উ ওয়াইউ‘আয্যিবু মান ইয়াশা-আ ওয়াকা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা
আসমান যমীনের রাজত্ব আল্লাহর; যাকে চান তিনি ক্ষমা করেন, যাকে ইচ্ছে ‘আযাব দেন। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
سَيَقُولُ ٱلْمُخَلَّفُونَ إِذَا ٱنطَلَقْتُمْ إِلَىٰ مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ ۖ يُرِيدُونَ أَن يُبَدِّلُوا۟ كَلَٰمَ ٱللَّهِ ۚ قُل لَّن تَتَّبِعُونَا كَذَٰلِكُمْ قَالَ ٱللَّهُ مِن قَبْلُ ۖ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا ۚ بَلْ كَانُوا۟ لَا يَفْقَهُونَ إِلَّا قَلِيلًۭا ١٥
সায়াকূলুল মুখাল্লাফূনা ইযানতালাকতুম ইলা মাগা-নিমা লিতা’খুযূহা যারূনা নাত্তাবি‘কুম ইউরীদূনা আন ইউবাদ্দিলূ কালা-মাল্লা-হ কুল লান তাত্তাবি‘ঊনা কাযা-লিকুম কা-লাল্লা-হু মিন কাবলু ফাসায়াকূলূনা বাল তাহসুদূনানা বাল কা-নূ লা ইয়াফকাহূনা ইল্লা কালীলা
তোমরা যখন গানীমাতের মাল সংগ্রহ করার জন্য যেতে থাকবে তখন পিছনে থেকে যাওয়া লোকগুলো বলবে- ‘আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর ফরমানকে বদলে দিতে চায়। বল ‘তোমরা কিছুতেই আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না, (খাইবার অভিযানে অংশগ্রহণ এবং সেখানে পাওয়া গানীমাত কেবল তাদের জন্য যারা ইতোপূর্বে হুদাইবিয়ার সফর ও বাই‘আতে রিয্ওয়ানে অংশ নিয়েছে) এমন কথা আল্লাহ পূর্বেই বলে দিয়েছেন। তখন তারা বলবে- ‘তোমরা বরং আমাদের প্রতি হিংসা পোষণ করছ।’ (এটা যে আল্লাহর হুকুম তা তারা বুঝছে না) বরং তারা খুব কমই বুঝে।
قُل لِّلْمُخَلَّفِينَ مِنَ ٱلْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَىٰ قَوْمٍ أُو۟لِى بَأْسٍۢ شَدِيدٍۢ تُقَٰتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ ۖ فَإِن تُطِيعُوا۟ يُؤْتِكُمُ ٱللَّهُ أَجْرًا حَسَنًۭا ۖ وَإِن تَتَوَلَّوْا۟ كَمَا تَوَلَّيْتُم مِّن قَبْلُ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًۭا ١٦
কুল লিলমুখাল্লাফীনা মিনাল আ‘রা-বি সাতুদ‘আওনা ইলা কাওমিন উলী বা’সিন শাদীদিন তুকা-তিলূনাহুম আও ইউসলিমূনা ফাইন তুতী‘ঊ ইউ’তিকুমুল্লা-হু আজরান হাসানাঁ ওয়াইন তাতাওয়াল্লাও কামা তাওয়াল্লাইতুম মিন কাবলু ইউ‘আয্যিবকুম ‘আযা-বান আলীমা
বেদুঈনদের যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বল- ‘তোমাদেরকে যুদ্ধ করতে ডাকা হবে খুবই শক্তিশালী এক জাতির বিরুদ্ধে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করবে। তোমরা যদি তখন তা মান্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দিবেন। আর যদি পিঠ ফিরিয়ে নাও যেমন তোমরা আগে পিঠ ফিরিয়ে নিয়েছিলে, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তি দিবেন।
لَّيْسَ عَلَى ٱلْأَعْمَىٰ حَرَجٌۭ وَلَا عَلَى ٱلْأَعْرَجِ حَرَجٌۭ وَلَا عَلَى ٱلْمَرِيضِ حَرَجٌۭ ۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ يُدْخِلْهُ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ ۖ وَمَن يَتَوَلَّ يُعَذِّبْهُ عَذَابًا أَلِيمًۭا ١٧
লাইসা ‘আলাল আ‘মা হারাজুঁ ওয়ালা ‘আলাল আ‘রাজি হারাজুঁ ওয়ালা ‘আলাল মারীদি হারাজ ওয়ামান ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ইউদখিলহু জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ওয়ামান ইয়াতাওয়াল্লা ইউ‘আয্যিবহু ‘আযা-বান আলীমা
অন্ধের উপর কোন দোষ নেই, খোঁড়ার উপর কোন দোষ নেই, রোগীর উপর কোন দোষ নেই। আর যে কেউই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন, যার নীচ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। আর যে ব্যক্তি পিঠ ফিরিয়ে নিবে, তিনি তাকে কষ্টদায়ক শাস্তি দিবেন।
۞ لَّقَدْ رَضِىَ ٱللَّهُ عَنِ ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ ٱلشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ ٱلسَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَٰبَهُمْ فَتْحًۭا قَرِيبًۭا ١٨
লাকাদ রাদিয়াল্লা-হু ‘আনিল মু’মিনীনা ইয ইউবা-য়ি‘ঊনাকা তাহতাশ শাজারাতি ফা‘আলিমা মা ফী কুলূবিহিম ফাআনযালাস সাকীনাতা ‘আলাইহিম ওয়াআছা-বাহুম ফাতহান কারীবা
মু’মিনদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা (হুদাইবিয়ায়) গাছের তলে তোমার কাছে বায়‘আত নিল। আল্লাহ জানতেন তাদের অন্তরে কী আছে, এজন্য তিনি তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন আর পুরস্কার হিসেবে তাদেরকে দিলেন নিকট আসন্ন বিজয়।
وَمَغَانِمَ كَثِيرَةًۭ يَأْخُذُونَهَا ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًۭا ١٩
ওয়ামাগা-নিমা কাছীরাতাঁ ইয়া’খুযূনাহা ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আযীযান হাকীমা
আর বিপুল পরিমাণ গানীমাত যা তারা লাভ করবে। আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।
وَعَدَكُمُ ٱللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةًۭ تَأْخُذُونَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هَٰذِهِۦ وَكَفَّ أَيْدِىَ ٱلنَّاسِ عَنكُمْ وَلِتَكُونَ ءَايَةًۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ وَيَهْدِيَكُمْ صِرَٰطًۭا مُّسْتَقِيمًۭا ٢٠
ওয়া‘আদাকুমুল্লা-হু মাগা-নিমা কাছীরাতান তা’খুযূনাহা ফা‘আজ্জালা লাকুম হা-যিহী ওয়াকাফ্ফা আইদিয়ান না-সি ‘আনকুম ওয়ালিতাকূনা আ-য়াতাল লিলমু’মিনীনা ওয়ায়াহদিয়াকুম সিরা-তাম মুসতাকীমা
আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ গানীমাতের ও‘য়াদা দিয়েছেন যা তোমরা লাভ করবে। এটা তিনি তোমাদেরকে আগেই দিলেন আর মানুষদের (অর্থাৎ মাক্কার কুরায়শদের) হাতকে তোমাদের (উপর পতিত হওয়া) থেকে সংযত করে রাখলেন যাতে তা মু’মিনদের জন্য একটা নিদর্শন হয় (যে প্রকৃত মু’মিনদেরকে আল্লাহ অতি সংকটময় মুহূর্তেও রক্ষা করতে পারেন), আর তিনি তোমাদেরকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
وَأُخْرَىٰ لَمْ تَقْدِرُوا۟ عَلَيْهَا قَدْ أَحَاطَ ٱللَّهُ بِهَا ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرًۭا ٢١
ওয়াউখরা লাম তাকদিরূ ‘আলাইহা কাদ আহা-তাল্লা-হু বিহা ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীরা
এবং আরো অন্য (সাহায্য, সম্পদ ও বিজয়) যা এখনও তোমাদের অধিকারে আসেনি, আল্লাহ তা স্বীয় আয়ত্তে রেখেছেন, আল্লাহ সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।
وَلَوْ قَٰتَلَكُمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوَلَّوُا۟ ٱلْأَدْبَٰرَ ثُمَّ لَا يَجِدُونَ وَلِيًّۭا وَلَا نَصِيرًۭا ٢٢
ওয়ালাও কা-তালাকুমুল লাযীনা কাফারূ লাওয়াল্লাউল আদবা-রা ছুম্মা লা ইয়াজিদূনা ওয়ালিয়্যাঁ ওয়ালা নাসীরা
কাফিরগণ যদি তোমাদের সাথে যুদ্ধ বাঁধাত, তাহলে তারা অবশ্যই পিঠ ফিরিয়ে নিত, সে অবস্থায় তারা কোন পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী পেত না।
سُنَّةَ ٱللَّهِ ٱلَّتِى قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلُ ۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ ٱللَّهِ تَبْدِيلًۭا ٢٣
সুন্নাতাল্লা-হিল লাতী কাদ খালাত মিন কাবলু ওয়ালান তাজিদা লিসুন্নাতিল্লা-হি তাবদীলা
(এটাই) আল্লাহর বিধান, অতীতেও তাই হয়েছে, তুমি আল্লাহর বিধানে কক্ষনো কোন পরিবর্তন পাবে না।
وَهُوَ ٱلَّذِى كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُم بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنۢ بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا ٢٤
ওয়াহুওয়াল লাযী কাফ্ফা আইদিয়াহুম ‘আনকুম ওয়াআইদিয়াকুম ‘আনহুম বিবাতনি মাক্কাতা মিম বা‘দি আন আযফারাকুম ‘আলাইহিম ওয়াকা-নাল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা বাসীরা
মক্কা উপত্যকায় তিনিই তাদের হাত তোমাদের থেকে আর তোমাদের হাত তাদের থেকে বিরত রেখেছিলেন তোমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা দেখেন।
هُمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَصَدُّوكُمْ عَنِ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ وَٱلْهَدْىَ مَعْكُوفًا أَن يَبْلُغَ مَحِلَّهُۥ ۚ وَلَوْلَا رِجَالٌۭ مُّؤْمِنُونَ وَنِسَآءٌۭ مُّؤْمِنَٰتٌۭ لَّمْ تَعْلَمُوهُمْ أَن تَطَـُٔوهُمْ فَتُصِيبَكُم مِّنْهُم مَّعَرَّةٌۢ بِغَيْرِ عِلْمٍۢ ۖ لِّيُدْخِلَ ٱللَّهُ فِى رَحْمَتِهِۦ مَن يَشَآءُ ۚ لَوْ تَزَيَّلُوا۟ لَعَذَّبْنَا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ٢٥
হুমুল লাযীনা কাফারূ ওয়াসাদ্দূকুম ‘আনিল মাসজিদিল হারা-মি ওয়ালহাদইয়া মা‘কূফান আন ইয়াবলুগা মাহিল্লাহ ওয়ালাওলা রিজা-লুম মু’মিনূনা ওয়ানিসা-উম মু’মিনা-তুল লাম তা‘লামূহুম আন তাতাঊহুম ফাতুসীবাকুম মিনহুম মা‘আর্রাতুম বিগাইরি ‘ইলমিল লিইউদখিলাল্লা-হু ফী রাহমাতিহী মান ইয়াশা-আ লাও তাযাইয়্যালূ লা‘আয্যাবনাল লাযীনা কাফারূ মিনহুম ‘আযা-বান আলীমা
কুফুরী তো তারাই করেছিল আর তোমাদেরকে মাসজিদুল হারাম থেকে বাধা দিয়েছিল। বাধা দিয়েছিল কুরবানীর পশুগুলোকে কুরবানীর স্থানে পৌঁছতে। মু’মিন পুরুষ আর মু’মিন নারীরা যদি (মাক্কায় কাফিরদের মাঝে) না থাকত যাদের সম্পর্কে তোমরা জান না আর অজ্ঞতাবশতই তোমরা তাদেরকে পর্যুদস্ত করে দিবে যার ফলে তোমাদের উপর কলঙ্ক লেপন হবে-এমন সম্ভাবনা না থাকত, তাহলে তোমাদেরকে যুদ্ধের আদেশ দেয়া হত। যুদ্ধের আদেশ দেয়া হয়নি যাতে আল্লাহ যাকে ইচ্ছে তাঁর রহমাতের মধ্যে শামিল করে নিতে পারেন। (মাক্কায় অনেক মু’মিন আর কাফিররা একত্রিত না থেকে) যদি তারা পৃথক হয়ে থাকত, তাহলে আমি তাদের মধ্যে কাফিরদেরকে ভয়াবহ শাস্তি দিতাম।
إِذْ جَعَلَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ ٱلْجَٰهِلِيَّةِ فَأَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ ٱلتَّقْوَىٰ وَكَانُوٓا۟ أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمًۭا ٢٦
ইয জা‘আলাল লাযীনা কাফারূ ফী কুলূবিহিমুল হামিয়্যাতা হামিয়্যাতাল জা-হিলিয়্যাতি ফাআনযালাল্লা-হু সাকীনাতাহূ ‘আলা রাসূলিহী ওয়া‘আলাল মু’মিনীনা ওয়াআলযামাহুম কালিমাতাত তাকওয়া ওয়াকা-নূ আহাক্কা বিহা ওয়াআহলাহা ওয়াকা-নাল্লা-হু বিকুল্লি শাইইন ‘আলীমা
কাফিররা যখন তাদের অন্তরে জিদ ও হঠকারিতা জাগিয়ে তুলল- অজ্ঞতার যুগের জিদ ও হঠকারিতা- তখন আল্লাহ তাঁর রসূল ও মু’মিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন আর তাদের জন্য তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ-বাণী অপরিহার্য (রূপে পালনীয়) ক’রে দিলেন; আর তারাই ছিল এর সবচেয়ে বেশি হকদার ও যোগ্য অধিকারী। আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী।
لَّقَدْ صَدَقَ ٱللَّهُ رَسُولَهُ ٱلرُّءْيَا بِٱلْحَقِّ ۖ لَتَدْخُلُنَّ ٱلْمَسْجِدَ ٱلْحَرَامَ إِن شَآءَ ٱللَّهُ ءَامِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ ۖ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا۟ فَجَعَلَ مِن دُونِ ذَٰلِكَ فَتْحًۭا قَرِيبًا ٢٧
লাকাদ সাদাকাল্লা-হু রাসূলাহুর রু’ইয়া বিলহাক্কি লাতাদখুলুন্নাল মাসজিদাল হারা-মা ইন শা-আল্লা-হু আ-মিনীনা মুহাল্লিকীনা রুঊসাকুম ওয়ামুকাস্সিরীনা লা তাখা-ফূনা ফা‘আলিমা মা লাম তা‘লামূ ফাজা‘আলা মিন দূনি যা-লিকা ফাতহান কারীবা
আল্লাহ তাঁর রসূলকে প্রকৃত সত্য স্বপ্নই দেখিয়েছিলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা অবশ্য অবশ্যই মাসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে, মস্তক মুন্ডিত অবস্থায় ও চুল কেটে, ভয়ভীতিহীন হয়ে। আল্লাহ জানেন, যা তোমরা জান না। (সেই স্বপ্ন তো পূর্ণ হবেই) তদুপরি তিনি দিলেন (হুদাইবিয়ার চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে) নিকটাসন্ন বিজয়।
هُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلْهُدَىٰ وَدِينِ ٱلْحَقِّ لِيُظْهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدًۭا ٢٨
হুওয়াল লাযী আরসালা রাসূলাহূ বিলহুদা ওয়াদীনিল হাক্কি লিইউযহিরাহূ ‘আলাদ দীনি কুল্লিহ ওয়াকাফা বিল্লা-হি শাহীদা
তিনিই তাঁর রসূলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে সকল দ্বীনের উপর সেটিকে বিজয়ী করার জন্য। (এ ব্যাপারে) সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
مُّحَمَّدٌۭ رَّسُولُ ٱللَّهِ ۚ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلْكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيْنَهُمْ ۖ تَرَىٰهُمْ رُكَّعًۭا سُجَّدًۭا يَبْتَغُونَ فَضْلًۭا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضْوَٰنًۭا ۖ سِيمَاهُمْ فِى وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ ٱلسُّجُودِ ۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمْ فِى ٱلتَّوْرَىٰةِ ۚ وَمَثَلُهُمْ فِى ٱلْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْـَٔهُۥ فَـَٔازَرَهُۥ فَٱسْتَغْلَظَ فَٱسْتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِۦ يُعْجِبُ ٱلزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ ٱلْكُفَّارَ ۗ وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةًۭ وَأَجْرًا عَظِيمًۢا ٢٩
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লা-হ ওয়াল্লাযীনা মা‘আহূ আশিদ্দা-উ ‘আলাল কুফ্ফা-রি রুহামা-উ বাইনাহুম তারা-হুম রুক্কা‘আন সুজ্জাদাঁ ইয়াবতাগূনা ফাদলাম মিনাল্লা-হি ওয়ারিদওয়া-নান সীমা-হুম ফী উজূহিহিম মিন আছারিস সুজূদ যা-লিকা মাছালুহুম ফিত তাওরা-হ ওয়ামাছালুহুম ফিল ইনজীলি কাযার‘ইন আখরাজা শাতআহূ ফাআ-যারাহূ ফাসতাগলাযা ফাসতাওয়া ‘আলা সূকিহী ইউ‘জিবুয যুর্রা-‘আ লিয়াগীযা বিহিমুল কুফ্ফা-র ওয়া‘আদাল্লা-হুল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি মিনহুম মাগফিরাতাঁ ওয়াআজরান ‘আযীমা
মুহাম্মাদ আল্লাহর রসুল। আর যে সব লোক তাঁর সঙ্গে আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের পরস্পরের প্রতি দয়াশীল। তাদেরকে তুমি দেখবে রুকূ‘ ও সাজদায় অবনত অবস্থায়, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধানে নিয়োজিত। তাদের চিহ্ন হল, তাদের মুখমন্ডলে সেজদা্র প্রভাব পরিস্ফুট হয়ে আছে। তাদের এমন দৃষ্টান্তের কথা তাওরাতে আছে, তাদের দৃষ্টান্ত ইঞ্জিলেও আছে। (তারা) যেন একটা চারাগাছ তার কচিপাতা বের করে, তারপর তা শক্ত হয়, অতঃপর তা কান্ডের উপর মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে যায়- যা চাষীকে আনন্দ দেয়। (এভাবে আল্লাহ মু’মিনদেরকে দুর্বল অবস্থা থেকে দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় ক’রে দেন) যাতে কাফিরদের অন্তর গোস্বায় জ্বলে যায়। তাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনে আর সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

الحجرات
সূরা আল-হুজুরাত

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تُقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىِ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ١
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তুকাদ্দিমূ বাইনা ইয়াদায়িল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ওয়াত্তাকুল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা সামী‘উন ‘আলীম
ওহে মু’মিনগণ! তোমরা (কোন বিষয়েই) আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আগে বেড়ে যেয়ো না, আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَرْفَعُوٓا۟ أَصْوَٰتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ ٱلنَّبِىِّ وَلَا تَجْهَرُوا۟ لَهُۥ بِٱلْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَن تَحْبَطَ أَعْمَٰلُكُمْ وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ ٢
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তারফা‘ঊ আসওয়া-তাকুম ফাওকা সাওতিন নাবিয়্যি ওয়ালা তাজহারূ লাহূ বিলকাওলি কাজাহরি বা‘দিকুম লিবা‘দিন আন তাহবাতা আ‘মা-লুকুম ওয়াআনতুম লা তাশ‘উরূন
হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর আওয়াজের উপর তোমাদের আওয়াজ উচ্চ করো না। তোমরা নিজেরা পরস্পরে যেমন উচ্চ আওয়াজে কথা বল, তাঁর সঙ্গে সে রকম উচ্চ আওয়াজে কথা বলো না। তা করলে তোমাদের (যাবতীয়) কাজকর্ম নিস্ফল হয়ে যাবে, আর তোমরা একটু টেরও পাবে না।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَغُضُّونَ أَصْوَٰتَهُمْ عِندَ رَسُولِ ٱللَّهِ أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱمْتَحَنَ ٱللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَىٰ ۚ لَهُم مَّغْفِرَةٌۭ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ ٣
ইন্নাল লাযীনা ইয়াগুদ্দূনা আসওয়া-তাহুম ‘ইনদা রাসূলিল্লা-হি উলা-ইকাল লাযীনামতাহানাল্লা-হু কুলূবাহুম লিত্তাকওয়া লাহুম মাগফিরাতুঁ ওয়াআজরুন ‘আযীম
যারা আল্লাহর রসূলের সামনে তাদের আওয়াজ নীচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরগুলোকে তাকওয়ার জন্য যাচাই-বাছাই করে নিয়েছেন। তাদের জন্য আছে ক্ষমা আর বিরাট পুরস্কার।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِن وَرَآءِ ٱلْحُجُرَٰتِ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ٤
ইন্নাল লাযীনা ইউনা-দূনাকা মিন ওয়ারা-ইল হুজুরা-তি আকছারুহুম লা ইয়া‘কিলূন
যারা তোমাকে হুজরার বাইরে থেকে (উচ্চঃস্বরে) ডাকে, তাদের অধিকাংশেরই কোন জ্ঞান নেই।
وَلَوْ أَنَّهُمْ صَبَرُوا۟ حَتَّىٰ تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ لَكَانَ خَيْرًۭا لَّهُمْ ۚ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ٥
ওয়ালাও আন-নাহুম সাবারূ হাত্তা তাখরুজা ইলাইহিম লাকা-না খাইরাল লাহুম ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম
তারা যদি ধৈর্য ধরত যে পর্যন্ত না তুমি তাদের কাছে বেরিয়ে আস, সেটাই তাদের জন্য উত্তম হত। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِن جَآءَكُمْ فَاسِقٌۢ بِنَبَإٍۢ فَتَبَيَّنُوٓا۟ أَن تُصِيبُوا۟ قَوْمًۢا بِجَهَٰلَةٍۢ فَتُصْبِحُوا۟ عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَٰدِمِينَ ٦
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইন জা-আকুম ফা-সিকুম বিনাবাইন ফাতাবাইয়্যানূ আন তুসীবূ কাওমাম বিজাহা-লাতিন ফাতুসবিহূ ‘আলা মা ফা‘আলতুম না-দিমীন
হে মু’মিনগণ! কোন পাপাচারী যদি তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসে, তাহলে তার সত্যতা যাচাই করে লও, তা না হলে তোমরা অজ্ঞতাবশতঃ কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসবে, অতঃপর তোমরা যা করেছ সেজন্য তোমাদেরকে অনুতপ্ত হতে হবে।
وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ فِيكُمْ رَسُولَ ٱللَّهِ ۚ لَوْ يُطِيعُكُمْ فِى كَثِيرٍۢ مِّنَ ٱلْأَمْرِ لَعَنِتُّمْ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ ٱلْإِيمَٰنَ وَزَيَّنَهُۥ فِى قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ ٱلْكُفْرَ وَٱلْفُسُوقَ وَٱلْعِصْيَانَ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلرَّٰشِدُونَ ٧
ওয়া‘লামূ আন-না ফীকুম রাসূলাল্লা-হ লাও ইউতী‘উকুম ফী কাছীরিম মিনাল আমরি লা‘আনিত্তুম ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা হাব্বাবা ইলাইকুমুল ঈমা-না ওয়াযাইয়্যানাহূ ফী কুলূবিকুম ওয়াকার্রাহা ইলাইকুমুল কুফরা ওয়ালফুসূকা ওয়াল‘ইসইয়া-ন উলা-ইকা হুমুর রা-শিদূন
তোমরা জেনে রেখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল বর্তমান আছে। সে যদি অধিকাংশ বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিত, তাহলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন। তোমাদের অন্তরে সেটিকে সুশোভিত করেছেন আর তোমাদের কাছে কুফুরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে ঘৃণিত করেছেন। তারাই সত্য পথপ্রাপ্ত।
فَضْلًۭا مِّنَ ٱللَّهِ وَنِعْمَةًۭ ۚ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ ٨
ফাদলাম মিনাল্লা-হি ওয়ানি‘মাহ ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম
(যা) আল্লাহর করুণা ও অনুগ্রহ। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
وَإِن طَآئِفَتَانِ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٱقْتَتَلُوا۟ فَأَصْلِحُوا۟ بَيْنَهُمَا ۖ فَإِنۢ بَغَتْ إِحْدَىٰهُمَا عَلَى ٱلْأُخْرَىٰ فَقَٰتِلُوا۟ ٱلَّتِى تَبْغِى حَتَّىٰ تَفِىٓءَ إِلَىٰٓ أَمْرِ ٱللَّهِ ۚ فَإِن فَآءَتْ فَأَصْلِحُوا۟ بَيْنَهُمَا بِٱلْعَدْلِ وَأَقْسِطُوٓا۟ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُقْسِطِينَ ٩
ওয়াইন তা-ইফাতা-নি মিনাল মু’মিনীনাকতাতালূ ফাআসলিহূ বাইনাহুমা ফাইম বাগাত ইহদা-হুমা ‘আলাল উখরা ফাকা-তিলুল লাতী তাবগী হাত্তা তাফীআ ইলা- আমরিল্লা-হ ফাইন ফা-আত ফাআসলিহূ বাইনাহুমা বিল‘আদলি ওয়াআকসিতূ ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুকসিতীন
মু’মিনদের দু’দল লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর একটি দল অপরটির উপর বাড়াবাড়ি করলে যে দলটি বাড়াবাড়ি করে, তার বিরুদ্ধে তোমরা লড়াই কর যতক্ষণ না সে দলটি আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। অতঃপর যদি দলটি ফিরে আসে, তাহলে তাদের মধ্যে ইনসাফের সঙ্গে ফয়সালা কর আর সুবিচার কর; আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।
إِنَّمَا ٱلْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌۭ فَأَصْلِحُوا۟ بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ١٠
ইন্নামাল মু’মিনূনা ইখওয়াতুন ফাআসলিহূ বাইনা আখাওয়াইকুম ওয়াত্তাকুল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন
মু’মিনরা পরস্পর ভাই ভাই, কাজেই তোমাদের ভাইদের মধ্যে শান্তি-সমঝোতা স্থাপন কর, আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা দয়া প্রাপ্ত হও।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا يَسْخَرْ قَوْمٌۭ مِّن قَوْمٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُونُوا۟ خَيْرًۭا مِّنْهُمْ وَلَا نِسَآءٌۭ مِّن نِّسَآءٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُنَّ خَيْرًۭا مِّنْهُنَّ ۖ وَلَا تَلْمِزُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا۟ بِٱلْأَلْقَٰبِ ۖ بِئْسَ ٱلِٱسْمُ ٱلْفُسُوقُ بَعْدَ ٱلْإِيمَٰنِ ۚ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ١١
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা ইয়াসখার কাওমুম মিন কাওমিন ‘আসা- আন ইয়াকূনূ খাইরাম মিনহুম ওয়ালা নিসা-উম মিন নিসা-ইন ‘আসা- আন ইয়াকুন্না খাইরাম মিনহুন্না ওয়ালা তালমিযূ আনফুসাকুম ওয়ালা তানা-বাযূ বিলআলকা-বি বি’সা লিসমুল ফুসূকু বা‘দাল ঈমা-ন ওয়ামাল লাম ইয়াতুব ফাউলা-ইকা হুমুয যা-লিমূন
হে মু’মিনগণ! কোন সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর নারীরা যেন অন্য নারীদেরক ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারিণীদের চেয়ে উত্তম। তোমরা একে অন্যের নিন্দা করো না, একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। ঈমান গ্রহণের পর (ঈমানের আগে কৃত অপরাধকে যা মনে করিয়ে দেয় সেই) মন্দ নাম কতই না মন্দ! (এ সব হতে) যারা তাওবাহ না করে তারাই যালিম।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱجْتَنِبُوا۟ كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ ٱلظَّنِّ إِثْمٌۭ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا۟ وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًۭا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٌۭ رَّحِيمٌۭ ١٢
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুজতানিবূ কাছীরাম মিনায যান্নি ইন্না বা‘দায যান্নি ইছমুঁ ওয়ালা তাজাস্সাসূ ওয়ালা ইয়াগতাব বা‘দুকুম বা‘দা আইউহিব্বু আহাদুকুম আন ইয়া’কুলা লাহমা আখীহি মাইতান ফাকারিহতুমূহ ওয়াত্তাকুল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা তাওয়া-বুর রাহীম
হে মু’মিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা হতে বিরত থাক। কতক ধারণা পাপের অন্তর্ভুক্ত। তোমরা অন্যের দোষ খোঁজাখুঁজি করো না, একে অন্যের অনুপস্থিতিতে দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো সেটাকে ঘৃণাই করে থাক। আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ খুব বেশি তাওবাহ ক্ববূলকারী, অতি দয়ালু।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَٰكُم مِّن ذَكَرٍۢ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَٰكُمْ شُعُوبًۭا وَقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوٓا۟ ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ ٱللَّهِ أَتْقَىٰكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌۭ ١٣
ইয়া-আইয়্যুহান না-সু ইন্না খালাকনা-কুম মিন যাকারিঁ ওয়াউনছা ওয়াজা‘আলনা-কুম শু‘ঊবাঁ ওয়াকাবা-ইলা লিতা‘আ-রাফূ ইন্না আকরামাকুম ‘ইনদাল্লা-হি আতকা-কুম ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুন খাবীর
হে মানুষ! তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই লোকই অধিক সম্মানীয় যে লোক অধিক মুত্তাক্বী। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সব খবর রাখেন।
۞ قَالَتِ ٱلْأَعْرَابُ ءَامَنَّا ۖ قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا۟ وَلَٰكِن قُولُوٓا۟ أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ ٱلْإِيمَٰنُ فِى قُلُوبِكُمْ ۖ وَإِن تُطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ لَا يَلِتْكُم مِّنْ أَعْمَٰلِكُمْ شَيْـًٔا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌ ١٤
কা-লাতিল আ‘রা-বু আ-মান্না কুল লাম তু’মিনূ ওয়ালা-কিন কূলূ আসলামনা ওয়ালাম্মা ইয়াদখুলিল ঈমা-নু ফী কুলূবিকুম ওয়াইন তুতী‘উল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ লা ইয়ালিতকুম মিন আ‘মা-লিকুম শাইআ ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
বেদুঈনরা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। বল- ‘তোমরা ঈমান আননি, বরং তোমরা বল, ‘আমরা (মৌখিক) আনুগত্য স্বীকার করেছি’, এখন পর্যন্ত তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি। তোমরা যদি আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে মান্য কর তাহলে তোমাদের কৃতকর্মের কিছুই কমতি করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
إِنَّمَا ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا۟ وَجَٰهَدُوا۟ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلصَّٰدِقُونَ ١٥
ইন্নামাল মু’মিনূনাল লাযীনা আ-মানূ বিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ছুম্মা লাম ইয়ারতা-বূ ওয়াজা-হাদূ বিআমওয়া-লিহিম ওয়াআনফুসিহিম ফী সাবীলিল্লা-হ উলা-ইকা হুমুস সা-দিকূন
মু’মিন তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর ঈমান আনে, অতঃপর কোনরূপ সন্দেহ করে না, আর তাদের মাল দিয়ে ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে; তারাই সত্যবাদী।
قُلْ أَتُعَلِّمُونَ ٱللَّهَ بِدِينِكُمْ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۚ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ ١٦
কুল আতু‘আল্লিমূনাল্লা-হা বিদীনিকুম ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামু মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ ওয়াল্লা-হু বিকুল্লি শাইইন ‘আলীম
বল, ‘তোমরা কি তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে আল্লাহকে অবগত করতে চাও’? আল্লাহ তো জানেন যা আছে আসমানে আর যা আছে যমীনে। আল্লাহ প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সবিশেষ অবগত।
يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا۟ ۖ قُل لَّا تَمُنُّوا۟ عَلَىَّ إِسْلَٰمَكُم ۖ بَلِ ٱللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَىٰكُمْ لِلْإِيمَٰنِ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ١٧
ইয়ামুন্নূনা ‘আলাইকা আন আসলামূ কুল লা তামুন্নূ ‘আলাইয়্যা ইসলা-মাকুম বালিল্লা-হু ইয়ামুন্নু ‘আলাইকুম আন হাদা-কুম লিলঈমা-নি ইন কুনতুম সা-দিকীন
এই লোকেরা মনে করে যে, তারা ইসলাম কবূল ক’রে তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছে। তাদেরকে বলে দাও, ‘তোমরা তোমাদের ইসলাম কবূলের দ্বারা আমার প্রতি কোন অনুগ্রহ করনি বরং আল্লাহ্ই তোমাদেরকে ঈমানের পথে পরিচালিত ক’রে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তোমরা যদি (তোমাদের ঈমান আনার দাবীতে) সত্যবাদী হয়েই থাক।
إِنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ غَيْبَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَٱللَّهُ بَصِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ ١٨
ইন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামু গাইবাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়াল্লা-হু বাসীরুম বিমা তা‘মালূন
আসমান ও যমীনের গোপন বিষয়ের খবর আল্লাহই জানেন। তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন।

ق
সূরা ক্বাফ

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
قٓ ۚ وَٱلْقُرْءَانِ ٱلْمَجِيدِ ١
ক্বা-ফ ওয়ালকুরআ-নিল মাজীদ
ক্বাফ, শপথ মাহাত্ম্যপূর্ণ কুরআনের (যে তুমি আল্লাহর রসূল।)
بَلْ عَجِبُوٓا۟ أَن جَآءَهُم مُّنذِرٌۭ مِّنْهُمْ فَقَالَ ٱلْكَٰفِرُونَ هَٰذَا شَىْءٌ عَجِيبٌ ٢
বাল ‘আজিবূ আন জা-আহুম মুনযিরুম মিনহুম ফাকা-লাল কা-ফিরূনা হা-যা শাইউন ‘আজীব
বরং এ লোকেরা বিস্মিত হচ্ছে যে, তাদের কাছে তাদেরই মধ্য হতে একজন সর্তককারী এসেছে। যার কারণে কাফিররা বলে- ‘এতো বড়ই আশ্চর্যজনক ব্যাপার!
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًۭا ۖ ذَٰلِكَ رَجْعٌۢ بَعِيدٌۭ ٣
আইযা মিতনা ওয়াকুন্না তুরা-বান যা-লিকা রাজ‘উম বা‘ঈদ
আমরা যখন মরে যাব আর মাটি হয়ে যাব (তখন আমাদেরকে আবার আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে)? এ ফিরে যাওয়াটা তো বহু দূরের ব্যাপার।
قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنقُصُ ٱلْأَرْضُ مِنْهُمْ ۖ وَعِندَنَا كِتَٰبٌ حَفِيظٌۢ ٤
কাদ ‘আলিমনা মা তানকুসুল আরদু মিনহুম ওয়া‘ইনদানা কিতা-বুন হাফীয
আমি জানি মাটি তাদের কতটুকু ক্ষয় করে আর আমার কাছে আছে এক কিতাব যা (সব কিছুর পূর্ণ বিবরণ) সংরক্ষণ করে।
بَلْ كَذَّبُوا۟ بِٱلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ فَهُمْ فِىٓ أَمْرٍۢ مَّرِيجٍ ٥
বাল কায্যাবূ বিলহাক্কি লাম্মা জা-আহুম ফাহুম ফী আমরিম মারীজ
তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা তা অস্বীকার করেছে, কাজেই এখন তারা সংশয়ের মধ্যে পড়ে আছে।
أَفَلَمْ يَنظُرُوٓا۟ إِلَى ٱلسَّمَآءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَٰهَا وَزَيَّنَّٰهَا وَمَا لَهَا مِن فُرُوجٍۢ ٦
আফালাম ইয়ানযুরূ ইলাস সামা-ই ফাওকাহুম কাইফা বানাইনা-হা ওয়াযাইয়্যান্না-হা ওয়ামা লাহা মিন ফুরূজ
তারা কি তাদের উপরে অবস্থিত আকাশের দিকে তাকায় না, কীভাবে আমি তাকে বানিয়েছি, তাকে সুশোভিত করেছি আর তাতে নেই কোন ফাটল?
وَٱلْأَرْضَ مَدَدْنَٰهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَٰسِىَ وَأَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍۭ بَهِيجٍۢ ٧
ওয়ালআরদা মাদাদনা-হা ওয়াআলকাইনা ফীহা রাওয়া-সিয়া ওয়াআমবাতনা ফীহা মিন কুল্লি যাওজিম বাহীজ
আর পৃথিবী- তাকে করেছি বিস্তৃত আর তাতে সংস্থাপিত করেছি পর্বতরাজি আর তাতে উদ্গত করেছি যাবতীয় সুদৃশ্য উদ্ভিদরাজি।
تَبْصِرَةًۭ وَذِكْرَىٰ لِكُلِّ عَبْدٍۢ مُّنِيبٍۢ ٨
তাবসিরাতাঁ ওয়াযিকরা লিকুল্লি ‘আবদিম মুনীব
প্রতিটি (আল্লাহ) অভিমুখী বান্দাহর জন্য চক্ষু উন্মোচনকারী ও উপদেশ হিসেবে।
وَنَزَّلْنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ مُّبَٰرَكًۭا فَأَنۢبَتْنَا بِهِۦ جَنَّٰتٍۢ وَحَبَّ ٱلْحَصِيدِ ٩
ওয়ানায্যালনা মিনাস সামা-ই মা-আম মুবা-রাকান ফাআমবাতনা বিহী জান্না-তিঁ ওয়াহাব্বাল হাসীদ
আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি আর তা দিয়ে সৃষ্টি করি বাগান আর মাড়াইযোগ্য শস্যদানা,
وَٱلنَّخْلَ بَاسِقَٰتٍۢ لَّهَا طَلْعٌۭ نَّضِيدٌۭ ١٠
ওয়ান্নাখলা বা-সিকা-তিল লাহা তাল‘উন নাদীদ
আর উঁচু খেজুর গাছ যাতে আছে খেজুর গুচ্ছ স্তরে স্তরে সাজানো।
رِّزْقًۭا لِّلْعِبَادِ ۖ وَأَحْيَيْنَا بِهِۦ بَلْدَةًۭ مَّيْتًۭا ۚ كَذَٰلِكَ ٱلْخُرُوجُ ١١
রিযকাল লিল‘ইবা-দি ওয়াআহইয়াইনা বিহী বালদাতাম মাইতা কাযা-লিকাল খুরূজ
বান্দাহদের রিযক হিসেবে। আর আমি পানি দিয়ে জীবন্ত করে তুলি মৃত যমীনকে। এভাবেই বের করা হবে (ক্ববর থেকে মানুষদের)।
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍۢ وَأَصْحَٰبُ ٱلرَّسِّ وَثَمُودُ ١٢
কায্যাবাত কাবলাহুম কাওমু নূহিঁ ওয়াআসহা-বুর রাস্সি ওয়াছামূদ
এদের আগে সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল নূহের জাতি, রাস্‌স ও সামুদ জাতি,
وَعَادٌۭ وَفِرْعَوْنُ وَإِخْوَٰنُ لُوطٍۢ ١٣
ওয়া‘আ-দুঁ ওয়াফির‘আওনু ওয়াইখওয়া-নু লূত
‘আদ, ফেরাউন ও লূত জাতি,
وَأَصْحَٰبُ ٱلْأَيْكَةِ وَقَوْمُ تُبَّعٍۢ ۚ كُلٌّۭ كَذَّبَ ٱلرُّسُلَ فَحَقَّ وَعِيدِ ١٤
ওয়াআসহা-বুল আইকাতি ওয়াকাওমু তুব্বা‘ কুল্লুন কায্যাবার রুসুলা ফাহাক্কা ওয়া‘ঈদ
আইকাবাসী ও তুব্বার জাতি। তারা সকলেই রসূলদেরকে মিথ্যা বলে অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদের উপর আমার শাস্তি অবধারিত হয়েছিল।
أَفَعَيِينَا بِٱلْخَلْقِ ٱلْأَوَّلِ ۚ بَلْ هُمْ فِى لَبْسٍۢ مِّنْ خَلْقٍۢ جَدِيدٍۢ ١٥
আফা‘আয়ীনা বিলখালকিল আওয়াল বাল হুম ফী লাবসিম মিন খালকিন জাদীদ
আমরা কি প্রথমবার সৃষ্টি করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি? বস্তুতঃ তারা নতুন সৃষ্টি বিষয়ে সন্দেহে পড়ে আছে।
وَلَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِۦ نَفْسُهُۥ ۖ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ ٱلْوَرِيدِ ١٦
ওয়ালাকাদ খালাকনাল ইনসা-না ওয়ানা‘লামু মা তুওয়াসউইসু বিহী নাফসুহূ ওয়ানাহনু আকরাবু ইলাইহি মিন হাবলিল ওয়ারীদ
আমিই মানুষকে সৃষ্টি করেছি, আর তার প্রবৃত্তি তাকে (নিত্য নতুন) কী কুমন্ত্রণা দেয় তাও আমি জানি। আমি তার গলার শিরা থেকেও নিকটবর্তী।
إِذْ يَتَلَقَّى ٱلْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ ٱلْيَمِينِ وَعَنِ ٱلشِّمَالِ قَعِيدٌۭ ١٧
ইয ইয়াতালাক্কাল মুতালাক্কিয়া-নি ‘আনিল ইয়ামীনি ওয়া‘আনিশ শিমা-লি কা‘ঈদ
(তদুপরি) দু’জন লেখক ডানে ও বামে বসে (মানুষের ‘আমাল) লিখছে।
مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌۭ ١٨
মা ইয়ালফিযু মিন কাওলিন ইল্লা লাদাইহি রাকীবুন ‘আতীদ
যে কথাই মানুষ উচ্চারণ করে (তা সংরক্ষণের জন্য) তার নিকটে একজন সদা তৎপর প্রহরী আছে।
وَجَآءَتْ سَكْرَةُ ٱلْمَوْتِ بِٱلْحَقِّ ۖ ذَٰلِكَ مَا كُنتَ مِنْهُ تَحِيدُ ١٩
ওয়াজা-আত সাকরাতুল মাওতি বিলহাক্কি যা-লিকা মা কুনতা মিনহু তাহীদ
মৃত্যুর যন্ত্রণা প্রকৃতই আসবে যাত্থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য তুমি চেষ্টা করতে।
وَنُفِخَ فِى ٱلصُّورِ ۚ ذَٰلِكَ يَوْمُ ٱلْوَعِيدِ ٢٠
ওয়ানুফিখা ফিস সূর যা-লিকা ইয়াওমুল ওয়া‘ঈদ
অতঃপর সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। সেটাই হল শাস্তির দিন (যে সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল)।
وَجَآءَتْ كُلُّ نَفْسٍۢ مَّعَهَا سَآئِقٌۭ وَشَهِيدٌۭ ٢١
ওয়াজা-আত কুল্লু নাফসিম মা‘আহা সা-ইকুঁ ওয়াশাহীদ
(সেদিন) প্রত্যেক ব্যক্তি আসবে এমন অবস্থায় যে একজন (ফেরেশতা) তাকে হাঁকিয়ে নিয়ে আসবে আর একজন (ফেরেশতা) থাকবে সাক্ষ্যদাতা হিসেবে।
لَّقَدْ كُنتَ فِى غَفْلَةٍۢ مِّنْ هَٰذَا فَكَشَفْنَا عَنكَ غِطَآءَكَ فَبَصَرُكَ ٱلْيَوْمَ حَدِيدٌۭ ٢٢
লাকাদ কুনতা ফী গাফলাতিম মিন হা-যা ফাকাশাফনা ‘আনকা গিতা-আকা ফাবাসারুকাল ইয়াওমা হাদীদ
(বলা হবে) ‘এ দিন সম্পর্কে তুমি ছিলে উদাসীন। তোমার সামনে যে পর্দা ছিল তা আমি সরিয়ে দিয়েছি। (সে কারণে) তোমার দৃষ্টি আজ খুব তীক্ষ্ম।
وَقَالَ قَرِينُهُۥ هَٰذَا مَا لَدَىَّ عَتِيدٌ ٢٣
ওয়াকা-লা কারীনুহূ হা-যা মা লাদাইয়্যা ‘আতীদ
তার সঙ্গী (ফেরেশতা) বলবে ‘এই যে আমার কাছে (‘আমালনামা) প্রস্তুত।’
أَلْقِيَا فِى جَهَنَّمَ كُلَّ كَفَّارٍ عَنِيدٍۢ ٢٤
আলকিয়া ফী জাহান্নামা কুল্লা কাফ্ফা-রিন ‘আনীদ
(নির্দেশ দেয়া হবে) তোমরা উভয়ে প্রত্যেক অবাধ্য কাফিরকে নিক্ষেপ কর জাহান্নামে।
مَّنَّاعٍۢ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍۢ مُّرِيبٍ ٢٥
মান্না-‘ইল লিলখাইরি মু‘তাদিম মুরীব
(যারা ছিল) কল্যাণের প্রতিবন্ধক, সীমালঙ্ঘনকারী ও সন্দিগ্ধ চিত্ত।
ٱلَّذِى جَعَلَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ فَأَلْقِيَاهُ فِى ٱلْعَذَابِ ٱلشَّدِيدِ ٢٦
আল্লাযী জা‘আলা মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ফাআলকিয়া-হু ফিল ‘আযা-বিশ শাদীদ
যে আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছিল। কাজেই তোমরা উভয়ে তাকে কঠিন ‘আযাবে নিক্ষেপ কর।
۞ قَالَ قَرِينُهُۥ رَبَّنَا مَآ أَطْغَيْتُهُۥ وَلَٰكِن كَانَ فِى ضَلَٰلٍۭ بَعِيدٍۢ ٢٧
কা-লা কারীনুহূ রাব্বানা মা- আতগাইতুহূ ওয়ালা-কিন কা-না ফী দালা-লিম বা‘ঈদ
তার সঙ্গী বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তাকে বিদ্রোহী বানাইনি বরং সে নিজেই ছিল সুদূর গুমরাহীর মধ্যে।’
قَالَ لَا تَخْتَصِمُوا۟ لَدَىَّ وَقَدْ قَدَّمْتُ إِلَيْكُم بِٱلْوَعِيدِ ٢٨
কা-লা লা তাখতাসিমূ লাদাইয়্যা ওয়াকাদ কাদ্দামতু ইলাইকুম বিলওয়া‘ঈদ
আল্লাহ বলবেন, ‘আমার সামনে বাদানুবাদ করো না, আমি আগেই তোমাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম।
مَا يُبَدَّلُ ٱلْقَوْلُ لَدَىَّ وَمَآ أَنَا۠ بِظَلَّٰمٍۢ لِّلْعَبِيدِ ٢٩
মা ইউবাদ্দালুল কাওলু লাদাইয়্যা ওয়ামা- আনা বিযাল্লা-মিল লিল‘আবীদ
আমার কথা কক্ষনো বদলে না, আর আমি আমার বান্দাহদের প্রতি যুলমকারীও নই।
يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ ٱمْتَلَأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِن مَّزِيدٍۢ ٣٠
ইয়াওমা নাকূলু লিজাহান্নামা হালিমতালা’তি ওয়াতাকূলু হাল মিম মাযীদ
সে দিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করব, ‘তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছ’? সে বলবে, ‘আরো বেশি আছে কি?’
وَأُزْلِفَتِ ٱلْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ غَيْرَ بَعِيدٍ ٣١
ওয়াউযলিফাতিল জান্নাতু লিলমুত্তাকীনা গাইরা বা‘ঈদ
মুত্তাক্বীদের জন্য জান্নাতকে নিকটে আনা হবে- তা মোটেই দূরে থাকবে না।
هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٍۢ ٣٢
হা-যা মা তূ‘আদূনা লিকুল্লি আওয়া-বিন হাফীয
(বলা হবে) ‘এ হল তাই যার ও‘য়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল- প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী ও (গুনাহ থেকে) খুব বেশি হিফাযাতকারীর জন্য।
مَّنْ خَشِىَ ٱلرَّحْمَٰنَ بِٱلْغَيْبِ وَجَآءَ بِقَلْبٍۢ مُّنِيبٍ ٣٣
মান খাশিয়ার রাহমা-না বিলগাইবি ওয়াজা-আ বিকালবিম মুনীব
যে না দেখেই দয়াময় (আল্লাহকে) ভয় করত, আর আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য বিনয়ে অবনত অন্তর নিয়ে উপস্থিত হত।
ٱدْخُلُوهَا بِسَلَٰمٍۢ ۖ ذَٰلِكَ يَوْمُ ٱلْخُلُودِ ٣٤
উদখুলূহা বিসালা-মিন যা-লিকা ইয়াওমুল খুলূদ
(তাদেরকে বলা হবে) ‘শান্তির সঙ্গে এতে প্রবেশ কর, এটা চিরস্থায়ী জীবনের দিন।’
لَهُم مَّا يَشَآءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌۭ ٣٥
লাহুম মা ইয়াশা-ঊনা ফীহা ওয়ালাদাইনা মাযীদ
সেখানে তাদের জন্য তা-ই আছে যা তারা ইচ্ছে করবে, আর আমার কাছে (তাছাড়াও) আরো বেশি আছে।
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هُمْ أَشَدُّ مِنْهُم بَطْشًۭا فَنَقَّبُوا۟ فِى ٱلْبِلَٰدِ هَلْ مِن مَّحِيصٍ ٣٦
ওয়াকাম আহলাকনা কাবলাহুম মিন কারনিন হুম আশাদ্দু মিনহুম বাতশান ফানাক্কাবূ ফিল বিলা-দি হাল মিম মাহীস
তাদের পূর্বে আমি কত জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি যারা শক্তিতে ছিল তাদের চেয়ে প্রবল, যার ফলে তারা দুনিয়া চষে বেড়াত; তারা পালানোর কোন জায়গা পেয়েছিল কি?
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَذِكْرَىٰ لِمَن كَانَ لَهُۥ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى ٱلسَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌۭ ٣٧
ইন্না ফী যা-লিকা লাযিকরা লিমান কা-না লাহূ কালবুন আও আলকাস সাম‘আ ওয়াহুওয়া শাহীদ
এতে অবশ্যই উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার আছে (বোধশক্তিসম্পন্ন) অন্তর কিংবা যে খুব মন দিয়ে কথা শুনে।
وَلَقَدْ خَلَقْنَا ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِى سِتَّةِ أَيَّامٍۢ وَمَا مَسَّنَا مِن لُّغُوبٍۢ ٣٨
ওয়ালাকাদ খালাকনাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ওয়ামা বাইনাহুমা ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিঁ ওয়ামা মাস্সানা মিল লুগূব
আকাশ, যমীন আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে তা আমি ছ’ দিনে সৃষ্টি করেছি; ক্লান্তি আমাকে স্পর্শ করেনি। (আমি সকল মানুষকে বিচারের জন্য হাজির করবই)।
فَٱصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ ٱلشَّمْسِ وَقَبْلَ ٱلْغُرُوبِ ٣٩
ফাসবির ‘আলা মা ইয়াকূলূনা ওয়াসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা কাবলা তুলূ‘ইশ শামসি ওয়াকাবলাল গুরূব
কাজেই তারা (মিথ্যা, উপহাসপূর্ণ ও অপমানজনক কথা) যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর আর সূর্যোদয়ের পূর্বে আর সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের মহিমা ও প্রশংসা ঘোষণা কর।
وَمِنَ ٱلَّيْلِ فَسَبِّحْهُ وَأَدْبَٰرَ ٱلسُّجُودِ ٤٠
ওয়ামিনাল লাইলি ফাসাব্বিহহু ওয়াআদবা-রাস সুজূদ
আর তাঁর প্রশংসা ঘোষণা কর রাত্রির একাংশে আর নামাযের পরে।
وَٱسْتَمِعْ يَوْمَ يُنَادِ ٱلْمُنَادِ مِن مَّكَانٍۢ قَرِيبٍۢ ٤١
ওয়াসতামি‘ ইয়াওমা ইউনা-দিল মুনা-দি মিম মাকা-নিন কারীব
আর শোন, যেদিন এক ঘোষণাকারী (প্রত্যেক ব্যক্তির) নিকটবর্তী স্থান থেকে ডাক দিবে,
يَوْمَ يَسْمَعُونَ ٱلصَّيْحَةَ بِٱلْحَقِّ ۚ ذَٰلِكَ يَوْمُ ٱلْخُرُوجِ ٤٢
ইয়াওমা ইয়াসমা‘ঊনাস সাইহাতা বিলহাক্ক যা-লিকা ইয়াওমুল খুরূজ
যেদিন সমস্ত মানুষ প্রকৃতই শুনতে পাবে এক (ভয়ংকর) ধ্বনি। সেদিনটি হবে (ভূগর্ভ থেকে সকল আত্মার) বের হওয়ার দিন।
إِنَّا نَحْنُ نُحْىِۦ وَنُمِيتُ وَإِلَيْنَا ٱلْمَصِيرُ ٤٣
ইন্না নাহনু নুহইয়ী ওয়ানুমীতু ওয়াইলাইনাল মাসীর
আমিই জীবন দেই, আমিই মুত্যু দেই, আর আমার কাছেই (সব্বাইকে) ফিরে আসতে হবে।
يَوْمَ تَشَقَّقُ ٱلْأَرْضُ عَنْهُمْ سِرَاعًۭا ۚ ذَٰلِكَ حَشْرٌ عَلَيْنَا يَسِيرٌۭ ٤٤
ইয়াওমা তাশাক্কাকুল আরদু ‘আনহুম সিরা-‘আ যা-লিকা হাশরুন ‘আলাইনা ইয়াসীর
যেদিন পৃথিবী দীর্ণ বিদীর্ণ হবে, আর মানুষ ছুটে যাবে (হাশরের পানে)। এই একত্রীকরণ আমার জন্য খুবই সহজ।
نَّحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُونَ ۖ وَمَآ أَنتَ عَلَيْهِم بِجَبَّارٍۢ ۖ فَذَكِّرْ بِٱلْقُرْءَانِ مَن يَخَافُ وَعِيدِ ٤٥
নাহনু আ‘লামু বিমা ইয়াকূলূনা ওয়ামা- আনতা ‘আলাইহিম বিজাব্বা-রিন ফাযাক্কির বিলকুরআ-নি মান ইয়াখা-ফু ওয়া‘ঈদ
তারা (তোমার বিরুদ্ধে) যা বলে তা আমি ভাল করেই জানি, তুমি তাদের উপর জবরদস্তিকারী নও। কাজেই যে আমার শাস্তির ভয়প্রদর্শনকে ভয় করে, তাকে তুমি কুরআনের সাহায্যে উপদেশ দাও।

الذاريات
সূরা আয-যারিয়াত

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلذَّٰرِيَٰتِ ذَرْوًۭا ١
ওয়ায্যা-রিয়া-তি যারওয়া
শপথ সেই বাতাসের যা ধূলাবালি উড়ায়,
فَٱلْحَٰمِلَٰتِ وِقْرًۭا ٢
ফালহা-মিলা-তি উইকরা
আর যা উঠিয়ে নেয় আর বহন করে ভারী বোঝা,
فَٱلْجَٰرِيَٰتِ يُسْرًۭا ٣
ফালজা-রিয়া-তি ইউসরা
আর যা ধীর ও শান্ত গতিতে বয়ে চলে
فَٱلْمُقَسِّمَٰتِ أَمْرًا ٤
ফালমুকাস্সিমা-তি আমরা
আর যারা কর্ম বণ্টন করে,
إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَصَادِقٌۭ ٥
ইন্নামা তূ‘আদূনা লাসা-দিক
তোমাদেরকে যার ও‘য়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই সত্য।
وَإِنَّ ٱلدِّينَ لَوَٰقِعٌۭ ٦
ওয়াইন্নাদ দীনা লাওয়া-কি‘
কর্মফল দিবস অবশ্যই আসবে।
وَٱلسَّمَآءِ ذَاتِ ٱلْحُبُكِ ٧
ওয়াস্সামা-ই যা-তিল হুবুক
বহু পথ বিশিষ্ট আকাশের শপথ।
إِنَّكُمْ لَفِى قَوْلٍۢ مُّخْتَلِفٍۢ ٨
ইন্নাকুম লাফী কাওলিম মুখতালিফ
(পরকাল সম্পর্কে) তোমরা অবশ্যই রয়েছ মতভেদের মধ্যে।
يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ أُفِكَ ٩
ইউ’ফাকু ‘আনহু মান উফিক
যারা সেই (সত্য) মানতে ভুল করে তারাই গুমরাহ।
قُتِلَ ٱلْخَرَّٰصُونَ ١٠
কুতিলাল খার্রা-সূন
অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক,
ٱلَّذِينَ هُمْ فِى غَمْرَةٍۢ سَاهُونَ ١١
আল্লাযীনা হুম ফী গামরাতিন সা-হূন
যারা অজ্ঞতা ও উদাসীনতার মধ্যে রয়েছে।
يَسْـَٔلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ ٱلدِّينِ ١٢
ইয়াসআলূনা আইয়্যা-না ইয়াওমুদ দীন
তারা জিজ্ঞেস করে- ‘প্রতিফল দিবস কবে হবে?’
يَوْمَ هُمْ عَلَى ٱلنَّارِ يُفْتَنُونَ ١٣
ইয়াওমা হুম ‘আলান না-রি ইউফতানূন
(তা হবে সেদিন) যেদিন তাদেরকে আগুনে শাস্তি দেয়া হবে।
ذُوقُوا۟ فِتْنَتَكُمْ هَٰذَا ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تَسْتَعْجِلُونَ ١٤
যূকূ ফিতনাতাকুম হা-যাল লাযী কুনতুম বিহী তাসতা‘জিলূন
(তাদেরকে বলা হবে) তোমরা তোমাদের (কৃতকর্মের) শাস্তি ভোগ কর, এটা হচ্ছে তাই যার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করছিলে।
إِنَّ ٱلْمُتَّقِينَ فِى جَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍ ١٥
ইন্নাল মুত্তাকীনা ফী জান্না-তিঁ ওয়া‘উইউন
মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাত আর ঝর্ণাধারার মাঝে।
ءَاخِذِينَ مَآ ءَاتَىٰهُمْ رَبُّهُمْ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَبْلَ ذَٰلِكَ مُحْسِنِينَ ١٦
আ-খিযীনা মা- আ-তা-হুম রাব্বুহুম ইন্নাহুম কা-নূ কাবলা যা-লিকা মুহসিনীন
তাদের প্রতিপালক যা তাদেরকে দিবেন তা তারা ভোগ করবে, কারণ তারা পূর্বে (দুনিয়ার জীবনে) ছিল সৎকর্মশীল,
كَانُوا۟ قَلِيلًۭا مِّنَ ٱلَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ ١٧
কা-নূ কালীলাম মিনাল লাইলি মা ইয়াহজা‘ঊন
তারা রাত্রিকালে খুব কমই শয়ন করত।
وَبِٱلْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ ١٨
ওয়াবিলআসহা-রি হুম ইয়াসতাগফিরূন
আর তারা রাত্রির শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করত।
وَفِىٓ أَمْوَٰلِهِمْ حَقٌّۭ لِّلسَّآئِلِ وَٱلْمَحْرُومِ ١٩
ওয়াফী আমওয়া-লিহিম হাক্কুল লিস্সা-ইলি ওয়ালমাহরূম
এবং তাদের ধন-মালে আছে যাঞ্ঝাকারী ও বঞ্চিতদের অধিকার (যা তারা আদায় করত)।
وَفِى ٱلْأَرْضِ ءَايَٰتٌۭ لِّلْمُوقِنِينَ ٢٠
ওয়াফিল আরদি আ-য়া-তুল লিলমূকিনীন
নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে আছে নিদর্শন,
وَفِىٓ أَنفُسِكُمْ ۚ أَفَلَا تُبْصِرُونَ ٢١
ওয়াফী আনফুসিকুম আফালা তুবসিরূন
আর (নিদর্শন আছে) তোমাদের মাঝেও, তোমরা কি দেখ না?
وَفِى ٱلسَّمَآءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ ٢٢
ওয়াফিস সামা-ই রিযকুকুম ওয়ামা তূ‘আদূন
এবং আকাশে আছে তোমাদের রিযক আর আছে যার ও‘য়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে।
فَوَرَبِّ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ إِنَّهُۥ لَحَقٌّۭ مِّثْلَ مَآ أَنَّكُمْ تَنطِقُونَ ٢٣
ফাওয়ারাব্বিস সামা-ই ওয়ালআরদি ইন্নাহূ লাহাক্কুম মিছলা মা- আন-নাকুম তানতিকূন
আকাশ ও যমীনের প্রতিপালকের শপথ! এ সব অবশ্যই সত্য, এমনই দৃঢ় সত্য যেমন তোমরা (যে কথাবার্তা) বলে থাক (সেই কথাবার্তা বলার ব্যাপারটা যেমন নিঃসন্দেহে সত্য)।
هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ضَيْفِ إِبْرَٰهِيمَ ٱلْمُكْرَمِينَ ٢٤
হাল আতা-কা হাদীছু দাইফি ইবরা-হীমাল মুকরামীন
তোমার কাছে ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের খবর পৌঁছেছে কি?
إِذْ دَخَلُوا۟ عَلَيْهِ فَقَالُوا۟ سَلَٰمًۭا ۖ قَالَ سَلَٰمٌۭ قَوْمٌۭ مُّنكَرُونَ ٢٥
ইয দাখালূ ‘আলাইহি ফাকা-লূ সালা-মান কা-লা সালা-মুন কাওমুম মুনকারূন
যখন তারা তার সামনে উপস্থিত হল তখন বলল, ‘সালাম’। সে উত্তর দিল- ‘সালাম’। (ইবরাহীম মনে মনে ভাবল এদেরকে তো দেখছি) অপরিচিত লোক।
فَرَاغَ إِلَىٰٓ أَهْلِهِۦ فَجَآءَ بِعِجْلٍۢ سَمِينٍۢ ٢٦
ফারা-গা ইলা- আহলিহী ফাজা-আ বি‘ইজলিন সামীন
তখন সে তাড়াতাড়ি তার ঘরের লোকেদের নিকট চলে গেল এবং একটি মোটাতাজা (ভাজা) বাছুর নিয়ে আসল।
فَقَرَّبَهُۥٓ إِلَيْهِمْ قَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ ٢٧
ফাকার্রাবাহূ ইলাইহিম কা-লা আলা তা’কুলূন
অতঃপর সেটিকে তাদের সামনে রেখে দিল এবং বলল- ‘তোমরা খাচ্ছ না কেন?’
فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةًۭ ۖ قَالُوا۟ لَا تَخَفْ ۖ وَبَشَّرُوهُ بِغُلَٰمٍ عَلِيمٍۢ ٢٨
ফাআওজাসা মিনহুম খীফাতান কা-লূ লা তাখাফ ওয়াবাশ্শারূহু বিগুলা-মিন ‘আলীম
(যখন তারা খেল না) তখন সে তাদের ব্যাপারে মনে ভয় পেয়ে গেল। তারা বলল- ‘তুমি ভয় পেও না’, অতঃপর তারা তাকে এক জ্ঞানবান পুত্রের সুসংবাদ দিল।
فَأَقْبَلَتِ ٱمْرَأَتُهُۥ فِى صَرَّةٍۢ فَصَكَّتْ وَجْهَهَا وَقَالَتْ عَجُوزٌ عَقِيمٌۭ ٢٩
ফাআকবালাতিমরাআতুহূ ফী সার্রাতিন ফাসাক্কাত ওয়াজহাহা ওয়াকা-লাত ‘আজূযুন ‘আকীম
তখন তার স্ত্রী চিৎকার করতে করতে এগিয়ে আসল। সে নিজের কপালে আঘাত করে বলল ‘(আমি) এক বৃদ্ধা, বন্ধ্যা’ (আমার কীভাবে সন্তান হবে?)
قَالُوا۟ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ ۖ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْحَكِيمُ ٱلْعَلِيمُ ٣٠
কা-লূ কাযা-লিকি কা-লা রাব্বুকি ইন্নাহূ হুওয়াল হাকীমুল ‘আলীম
তারা বলল- ‘‘তোমার প্রতিপালক এ রকমই বলেছেন, তিনি মহা প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ"।