۞ وَقَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَآءَنَا لَوْلَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ أَوْ نَرَىٰ رَبَّنَا ۗ لَقَدِ ٱسْتَكْبَرُوا۟ فِىٓ أَنفُسِهِمْ وَعَتَوْ عُتُوًّۭا كَبِيرًۭا ٢١
ওয়াকা-লাল লাযীনা লা ইয়ারজূনা লিকা-আনা লাওলা- উনযিলা ‘আলাইনাল মালা-ইকাতু আও নারা রাব্বানা লাকাদিসতাকবারূ ফী আনফুসিহিম ওয়া‘আতাও ‘উতুওয়ান কাবীরা
যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা নাযিল করা হয় না কেন? অথবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাই না কেন? তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে আর তারা মেতে উঠেছে গুরুতর অবাধ্যতায়।
يَوْمَ يَرَوْنَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ لَا بُشْرَىٰ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُجْرِمِينَ وَيَقُولُونَ حِجْرًۭا مَّحْجُورًۭا ٢٢
ইয়াওমা ইয়ারাওনাল মালা-ইকাতা লা বুশরা ইয়াওমাইযিল লিলমুজরিমীনা ওয়ায়াকূলূনা হিজরাম মাহজূরা
যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে দেখতে পাবে, অপরাধীদের জন্য সেদিন কোন সুখবর থাকবে না, আর (ফেরেশতাগণ বলবে তোমাদের সুখ-শান্তির পথে আছে) দুর্লঙ্ঘ বাধা।
وَقَدِمْنَآ إِلَىٰ مَا عَمِلُوا۟ مِنْ عَمَلٍۢ فَجَعَلْنَٰهُ هَبَآءًۭ مَّنثُورًا ٢٣
ওয়াকাদিমনা- ইলা মা ‘আমিলূ মিন ‘আমালিন ফাজা‘আলনা-হু হাবা-আম মানছূরা
তারা (দুনিয়ায়) যে ‘আমাল করেছিল আমি সেদিকে অগ্রসর হব, অতঃপর তাকে বানিয়ে দেব ছড়ানো ছিটানো ধূলিকণা (সদৃশ)।
أَصْحَٰبُ ٱلْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌۭ مُّسْتَقَرًّۭا وَأَحْسَنُ مَقِيلًۭا ٢٤
আসহা-বুল জান্নাতি ইয়াওমাইযিন খাইরুম মুসতাকার্রাঁ ওয়াআহসানু মাকীলা
সেদিন জান্নাতবাসীরা স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে উত্তম আর বিশ্রামস্থল হিসেবে উৎকৃষ্ট অবস্থায় থাকবে।
وَيَوْمَ تَشَقَّقُ ٱلسَّمَآءُ بِٱلْغَمَٰمِ وَنُزِّلَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ تَنزِيلًا ٢٥
ওয়ায়াওমা তাশাক্কাকুস সামা-উ বিলগামা-মি ওয়ানুয্যিলাল মালা-ইকাতু তানযীলা
সেদিন মেঘমালা সহ আকাশ বিদীর্ণ হবে আর ফেরেশতাদেরকে ধীরে ধীরে নীচে নামিয়ে দেয়া হবে।
ٱلْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ ٱلْحَقُّ لِلرَّحْمَٰنِ ۚ وَكَانَ يَوْمًا عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ عَسِيرًۭا ٢٦
আলমুলকু ইয়াওমাইযিনিল হাক্কু লির্রাহমা-ন ওয়াকা-না ইয়াওমান ‘আলাল কা-ফিরীনা ‘আসীরা
সেদিন সত্যিকারের কর্তৃত্ব হবে দয়াময় (আল্লাহ)’র এবং কাফিরদের জন্য দিনটি হবে কঠিন।
وَيَوْمَ يَعَضُّ ٱلظَّالِمُ عَلَىٰ يَدَيْهِ يَقُولُ يَٰلَيْتَنِى ٱتَّخَذْتُ مَعَ ٱلرَّسُولِ سَبِيلًۭا ٢٧
ওয়ায়াওমা ইয়া‘আদ্দুয যা-লিমু ‘আলা ইয়াদাইহি ইয়াকূলু ইয়া-লাইতানিত তাখাযতু মা‘আর রাসূলি সাবীলা
অপরাধী সেদিন স্বীয় হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম।
يَٰوَيْلَتَىٰ لَيْتَنِى لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًۭا ٢٨
ইয়া-ওয়াইলাতা লাইতানী লাম আত-তাখিয ফুলা-নান খালীলা
হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম!
لَّقَدْ أَضَلَّنِى عَنِ ٱلذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَآءَنِى ۗ وَكَانَ ٱلشَّيْطَٰنُ لِلْإِنسَٰنِ خَذُولًۭا ٢٩
লাকাদ আদাল্লানী ‘আনিয যিকরি বা‘দা ইয জা-আনী ওয়াকা-নাশ শাইতা-নু লিলইনসা-নি খাযূলা
সে তো আমাকে উপদেশ বাণী থেকে বিভ্রান্ত করেছিল আমার কাছে তা আসার পর, শয়ত্বান মানুষের প্রতি বিশ্বাসঘাতক।
وَقَالَ ٱلرَّسُولُ يَٰرَبِّ إِنَّ قَوْمِى ٱتَّخَذُوا۟ هَٰذَا ٱلْقُرْءَانَ مَهْجُورًۭا ٣٠
ওয়াকা-লার রাসূলু ইয়া-রাব্বি ইন্না কাওমিত তাখাযূ হা-যাল কুরআ-না মাহজূরা
রসূল বলবে- ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জাতির লোকেরা এ কুরআনকে পরিত্যক্ত গণ্য করেছিল।’
وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِىٍّ عَدُوًّۭا مِّنَ ٱلْمُجْرِمِينَ ۗ وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ هَادِيًۭا وَنَصِيرًۭا ٣١
ওয়াকাযা-লিকা জা‘আলনা লিকুল্লি নাবিয়্যিন ‘আদুওয়াম মিনাল মুজরিমীন ওয়াকাফা বিরাব্বিকা হা-দিয়াঁ ওয়ানাসীরা
এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য হতে শত্রু বানিয়ে দিয়েছি, পথ প্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ ٱلْقُرْءَانُ جُمْلَةًۭ وَٰحِدَةًۭ ۚ كَذَٰلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِۦ فُؤَادَكَ ۖ وَرَتَّلْنَٰهُ تَرْتِيلًۭا ٣٢
ওয়াকা-লাল লাযীনা কাফারূ লাওলা নুয্যিলা ‘আলাইহিল কুরআ-নু জুমলাতাঁ ওয়া-হিদাহ কাযা-লিকা লিনুছাব্বিতা বিহী ফুআ-দাকা ওয়ারাত্তালনা-হু তারতীলা
কাফিররা বলে- তার কাছে পুরো কুরআন এক সাথে অবতীর্ণ করা হল না কেন? আমি এভাবেই অবতীর্ণ করেছি। তোমার হৃদয়কে তা দ্বারা সুদৃঢ় করার জন্য আমি তোমার কাছে তা ধীরে ধীরে পরিকল্পিত স্তরে ক্রমশঃ আবৃত্তি করিয়েছি।
وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَٰكَ بِٱلْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا ٣٣
ওয়ালা ইয়া’তূনাকা বিমাছালিন ইল্লা জি’না-কা বিলহাক্কি ওয়াআহসানা তাফসীরা
তোমার কাছে তারা এমন কোন সমস্যাই নিয়ে আসে না যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করিনি।
ٱلَّذِينَ يُحْشَرُونَ عَلَىٰ وُجُوهِهِمْ إِلَىٰ جَهَنَّمَ أُو۟لَٰٓئِكَ شَرٌّۭ مَّكَانًۭا وَأَضَلُّ سَبِيلًۭا ٣٤
আল্লাযীনা ইউহশারূনা ‘আলা উজূহিহিম ইলা জাহান্নামা উলা-ইকা শার্রুম মাকা-নাঁ ওয়াআদাল্লু সাবীলা
যাদেরকে মুখের ভরে জাহান্নামের পানে একত্রিত করা হবে, তারা মর্যাদার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিকৃষ্ট আর পথের দিক থেকে সবচেয়ে গুমরাহ্।
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَٰبَ وَجَعَلْنَا مَعَهُۥٓ أَخَاهُ هَٰرُونَ وَزِيرًۭا ٣٥
ওয়ালাকাদ আ-তাইনা মূসাল কিতা-বা ওয়াজা‘আলনা মা‘আহূ আখা-হু হা-রূনা ওয়াযীরা
আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম আর তার সাথে তার ভাই হারূনকে আমি সাহায্যকারী বানিয়েছিলাম।
فَقُلْنَا ٱذْهَبَآ إِلَى ٱلْقَوْمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا فَدَمَّرْنَٰهُمْ تَدْمِيرًۭا ٣٦
ফাকুলনাযহাবা- ইলাল কাওমিল লাযীনা কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা ফাদাম্মারনা-হুম তাদমীরা
অতঃপর তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তোমরা সেই জাতির নিকট যাও যারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’ অতঃপর আমি তাদেরকে পূর্ণ বিধ্বস্তিতে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিলাম।
وَقَوْمَ نُوحٍۢ لَّمَّا كَذَّبُوا۟ ٱلرُّسُلَ أَغْرَقْنَٰهُمْ وَجَعَلْنَٰهُمْ لِلنَّاسِ ءَايَةًۭ ۖ وَأَعْتَدْنَا لِلظَّٰلِمِينَ عَذَابًا أَلِيمًۭا ٣٧
ওয়াকাওমা নূহিল লাম্মা কায্যাবুর রুসুলা আগরাকনা-হুম ওয়াজা‘আলনা-হুম লিন্না-সি আ-য়াতাঁ ওয়াআ‘তাদনা লিয্যা-লিমীনা ‘আযা-বান আলীমা
আর নূহের জাতি যখন রসূলদেরকে মিথ্যারোপ করল, আমি তাদেরকে ডুবিয়ে দিলাম, আর মানুষের জন্য তাদেরকে নিদর্শন বানিয়ে দিলাম। আমি যালিমদের জন্য ভয়াবহ শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
وَعَادًۭا وَثَمُودَا۟ وَأَصْحَٰبَ ٱلرَّسِّ وَقُرُونًۢا بَيْنَ ذَٰلِكَ كَثِيرًۭا ٣٨
ওয়া‘আ-দাঁ ওয়াছামূদা ওয়াআসহা-বার রাস্সি ওয়াকুরূনাম বাইনা যা-লিকা কাছীরা
সে রকমই আমি ধ্বংস করেছি ‘আদ, সামূদ, কূপবাসী আর তাদের মধ্যবর্তী বহু বহু বংশধরকে।
وَكُلًّۭا ضَرَبْنَا لَهُ ٱلْأَمْثَٰلَ ۖ وَكُلًّۭا تَبَّرْنَا تَتْبِيرًۭا ٣٩
ওয়াকুল্লান দারাবনা লাহুল আমছা-লা ওয়াকুল্লান তাব্বারনা তাতবীরা
আমি তাদের প্রত্যেকের জন্য দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছিলাম (যাতে তারা সঠিক পথের সন্ধান পেতে পারে) আর তাদের প্রত্যেককেই সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম (তাদের পাপের কারণে)।
وَلَقَدْ أَتَوْا۟ عَلَى ٱلْقَرْيَةِ ٱلَّتِىٓ أُمْطِرَتْ مَطَرَ ٱلسَّوْءِ ۚ أَفَلَمْ يَكُونُوا۟ يَرَوْنَهَا ۚ بَلْ كَانُوا۟ لَا يَرْجُونَ نُشُورًۭا ٤٠
ওয়ালাকাদ আতাও ‘আলাল কারইয়াতিল লাতী উমতিরাত মাতারাস সাও’ আফালাম ইয়াকূনূ ইয়ারাওনাহা বাল কা-নূ লা ইয়ারজূনা নুশূরা
তারা (অর্থাৎ কাফিররা) তো সে জনপদ দিয়েই অতিক্রম করে যার উপর বর্ষিত হয়েছিল অকল্যাণের বৃষ্টি, তারা কি তা দেখে না? আসলে তারা পুনরুত্থানের কথা চিন্তা করে না।
وَإِذَا رَأَوْكَ إِن يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَٰذَا ٱلَّذِى بَعَثَ ٱللَّهُ رَسُولًا ٤١
ওয়াইযা রাআওকা ইন ইয়াত্তাখিযূনাকা ইল্লা হুযুওয়ান আহা-যাল লাযী বা‘আছাল্লা-হু রাসূলা
তারা যখন তোমাকে দেখে, তারা তোমাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র ছাড়া অন্য কিছু গণ্য করে না, আর বলে : এটা কি সেই লোক আল্লাহ যাকে রসূল করে পাঠিয়েছেন?
إِن كَادَ لَيُضِلُّنَا عَنْ ءَالِهَتِنَا لَوْلَآ أَن صَبَرْنَا عَلَيْهَا ۚ وَسَوْفَ يَعْلَمُونَ حِينَ يَرَوْنَ ٱلْعَذَابَ مَنْ أَضَلُّ سَبِيلًا ٤٢
ইন কা-দা লাইউদিল্লুনা ‘আন আ-লিহাতিনা লাওলা- আন সাবারনা ‘আলাইহা ওয়াসাওফা ইয়া‘লামূনা হীনা ইয়ারাওনাল ‘আযা-বা মান আদাল্লু সাবীলা
সে তো আমাদেরকে আমাদের ইলাহদের থেকে অবশ্যই সরিয়ে দিত যদি আমরা তাদের প্রতি দৃঢ়চিত্ত না থাকতাম। যখন তারা শাস্তি দেখবে তখন জানবে যে পথের ক্ষেত্রে কারা অধিক ভ্রষ্ট ছিল।
أَرَءَيْتَ مَنِ ٱتَّخَذَ إِلَٰهَهُۥ هَوَىٰهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا ٤٣
আরাআইতা মানিত তাখাযা ইলা-হাহূ হাওয়া-হু আফাআনতা তাকূনু ‘আলাইহি ওয়াকীলা
তুমি কি তাকে দেখ না যে তার খেয়াল খুশিকে ইলাহরুপে গ্রহণ করেছে? এর পরেও কি তুমি তার কাজের জিম্মাদার হতে চাও?
أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ ۚ إِنْ هُمْ إِلَّا كَٱلْأَنْعَٰمِ ۖ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا ٤٤
আম তাহসাবু আন-না আকছারাহুম ইয়াসমা‘ঊনা আও ইয়া‘কিলূন ইন হুম ইল্লা কালআন‘আ-মি বাল হুম আদাল্লু সাবীলা
তুমি কি এটা মনে কর যে, তাদের অধিকাংশ লোক শুনে বা বুঝে? তারা পশু বৈ তো নয়, বরং তারা সঠিক পথ থেকে আরো বেশি ভ্রষ্ট।
أَلَمْ تَرَ إِلَىٰ رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ ٱلظِّلَّ وَلَوْ شَآءَ لَجَعَلَهُۥ سَاكِنًۭا ثُمَّ جَعَلْنَا ٱلشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيلًۭا ٤٥
আলাম তারা ইলা রাব্বিকা কাইফা মাদ্দায যিল্লা ওয়ালাও শা-আ লাজা‘আলাহূ সা-কিনান ছুম্মা জা‘আলনাশ শামসা ‘আলাইহি দালীলা
তুমি কি তোমার প্রতিপালককে দেখ না কীভাবে তিনি ছায়াকে দীর্ঘ করেন (সূর্য উদয়ের সময়ে, অতঃপর তা ক্রমেই ছোট হতে হতে দুপুর বেলা ছায়া ক্ষুদ্র আকৃতি ধারণ করে, দুপুরের পর আবার ছায়া দীর্ঘ হতে থাকে), তিনি চাইলে ছায়াকে অবশ্যই স্থির রাখতে পারতেন। সূর্যকেই আমি করেছি তার (অর্থাৎ ছায়ার) নির্ণায়ক (সূর্যের অবস্থানের কারণেই ছায়া ছোট ও দীর্ঘ হয়)।
ثُمَّ قَبَضْنَٰهُ إِلَيْنَا قَبْضًۭا يَسِيرًۭا ٤٦
ছুম্মা কাবাদনা-হু ইলাইনা কাবদাঁ ইয়াসীরা
অতঃপর আমি তাকে নিজের দিকে গুটিয়ে নেই, ধীরে ধীরে ক্রমাগতভাবে (কারো মৃত্যু হলে, কিছু বিনাশ হলে, কিছু গুটানো হলে- সব কিছুই আল্লাহর দিকে চলে যায়)।
وَهُوَ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيْلَ لِبَاسًۭا وَٱلنَّوْمَ سُبَاتًۭا وَجَعَلَ ٱلنَّهَارَ نُشُورًۭا ٤٧
ওয়াহুওয়াল লাযী জা‘আলা লাকুমুল লাইলা লিবা-সাঁ ওয়ান্নাওমা সুবা-তাঁ ওয়াজা‘আলান নাহা-রা নুশূরা
তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে করেছেন আরামপ্রদ আর দিনকে করেছেন (নিদ্রারূপী সাময়িক মৃত্যুর পর) আবার জীবন্ত হয়ে উঠার সময়।
وَهُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ ٱلرِّيَٰحَ بُشْرًۢا بَيْنَ يَدَىْ رَحْمَتِهِۦ ۚ وَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ طَهُورًۭا ٤٨
ওয়াহুওয়াল লাযী আরসালার রিয়া-হা বুশরাম বাইনা ইয়াদাই রাহমাতিহ ওয়াআনযালনা মিনাস সামা-ই মা-আন তাহূরা
তিনিই তার (বৃষ্টিরূপী) অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদ হিসেবে বায়ু পাঠিয়ে দেন আর আমি আকাশ থেকে বিশুদ্ধ পানি বর্ষণ করি।
لِّنُحْۦِىَ بِهِۦ بَلْدَةًۭ مَّيْتًۭا وَنُسْقِيَهُۥ مِمَّا خَلَقْنَآ أَنْعَٰمًۭا وَأَنَاسِىَّ كَثِيرًۭا ٤٩
লিনুহীয়া বিহী বালদাতাম মাইতাঁ ওয়ানুসকিয়াহূ মিম্মা খালাকনা- আন‘আ-মাঁ ওয়াআনা-সিয়্যা কাছীরা
যা দিয়ে আমি মৃত যমীনকে জীবিত করে তুলি এবং তৃষ্ণা নিবারণ করি আমার সৃষ্টির অন্তর্গত অনেক জীবজন্তুর ও মানুষের।
وَلَقَدْ صَرَّفْنَٰهُ بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوا۟ فَأَبَىٰٓ أَكْثَرُ ٱلنَّاسِ إِلَّا كُفُورًۭا ٥٠
ওয়ালাকাদ সার্রাফনা-হু বাইনাহুম লিয়ায্যাক্কারূ ফাআবা- আকছারুন না-সি ইল্লা কুফূরা
আমি পানিকে (সকলের প্রয়োজন মেটানোর জন্য) তাদের মাঝে বণ্টন করি যাতে তারা (আল্লাহর অনুগ্রহের কথা) স্মরণ করে, কিন্তু মানুষদের অধিকাংশই ঈমান গ্রহণ করতে অস্বীকার ক’রে কেবল কুফরিই করল।
وَلَوْ شِئْنَا لَبَعَثْنَا فِى كُلِّ قَرْيَةٍۢ نَّذِيرًۭا ٥١
ওয়ালাও শি’না লাবা‘আছনা ফী কুল্লি কারইয়াতিন নাযীরা
আমি ইচ্ছে করলে প্রত্যেক জনবসতিতে সতর্ককারী পাঠাতাম। (কিন্তু সারা বিশ্বের জন্য একজন নবী পাঠিয়ে সকলকে একই উম্মাত হওয়ার অনুগ্রহ লাভে ধন্য করেছি)।
فَلَا تُطِعِ ٱلْكَٰفِرِينَ وَجَٰهِدْهُم بِهِۦ جِهَادًۭا كَبِيرًۭا ٥٢
ফালা তুতি‘ইল কা-ফিরীনা ওয়াজা-হিদহুম বিহী জিহা-দান কাবীরা
কাজেই তুমি কাফিরদের আনুগত্য করো না: আর কুরআনের সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কর- কঠোর সংগ্রাম।
۞ وَهُوَ ٱلَّذِى مَرَجَ ٱلْبَحْرَيْنِ هَٰذَا عَذْبٌۭ فُرَاتٌۭ وَهَٰذَا مِلْحٌ أُجَاجٌۭ وَجَعَلَ بَيْنَهُمَا بَرْزَخًۭا وَحِجْرًۭا مَّحْجُورًۭا ٥٣
ওয়াহুওয়াল লাযী মারাজাল বাহরাইনি হা-যা ‘আযবুন ফুরা-তুঁ ওয়াহা-যা মিলহুন উজা-জুঁ ওয়াজা‘আলা বাইনাহুমা বারযাখাঁ ওয়াহিজরাম মাহজূরা
তিনিই সমুদ্রকে দু’ ধারায় প্রবাহিত করেছেন- একটি সুপেয় সুস্বাদু আরেকটি লবণাক্ত কটু, উভয়ের মাঝে টেনে দিয়েছেন এক আবরণ- এক অনতিক্রম্য বিভক্তি-প্রাচীর।
وَهُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ مِنَ ٱلْمَآءِ بَشَرًۭا فَجَعَلَهُۥ نَسَبًۭا وَصِهْرًۭا ۗ وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيرًۭا ٥٤
ওয়াহুওয়াল লাযী খালাকা মিনাল মা-ই বাশারান ফাজা‘আলাহূ নাসাবাঁ ওয়াসিহরা ওয়াকা-না রাব্বুকা কাদীরা
তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানুষ, অতঃপর মানুষকে করেছেন বংশ সম্পর্কীয় ও বিবাহ সম্পর্কীয়, তোমার প্রতিপালক সব কিছু করতে সক্ষম।
وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُهُمْ وَلَا يَضُرُّهُمْ ۗ وَكَانَ ٱلْكَافِرُ عَلَىٰ رَبِّهِۦ ظَهِيرًۭا ٥٥
ওয়ায়া‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি মা লা ইয়ানফা‘উহুম ওয়ালা ইয়াদুর্রুহুম ওয়াকা-নাল কা-ফিরু ‘আলা রাব্বিহী যাহীরা
তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ‘ইবাদাত করে যা না পারে তাদের কোন উপকার করতে, আর না পারে কোন ক্ষতি করতে, আর কাফির হচ্ছে তার প্রতিপালকের বিরুদ্ধে সাহায্যকারী।
وَمَآ أَرْسَلْنَٰكَ إِلَّا مُبَشِّرًۭا وَنَذِيرًۭا ٥٦
ওয়ামা- আরসালনা-কা ইল্লা মুবাশ্শিরাঁ ওয়ানাযীরা
আমি তোমাকে পাঠিয়েছি কেবল সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে।
قُلْ مَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِلَّا مَن شَآءَ أَن يَتَّخِذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلًۭا ٥٧
কুল মা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইল্লা মান শা-আ আন ইয়াত্তাখিযা ইলা রাব্বিহী সাবীলা
বল- এজন্য আমি তোমাদের কাছে এছাড়া কোন প্রতিদান চাই না যে, যার ইচ্ছে সে তার প্রতিপালকের দিকে পথ অবলম্বন করুক।
وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱلْحَىِّ ٱلَّذِى لَا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِۦ ۚ وَكَفَىٰ بِهِۦ بِذُنُوبِ عِبَادِهِۦ خَبِيرًا ٥٨
ওয়াতাওয়াক্কাল ‘আলাল হাইয়্যিল লাযী লা ইয়ামূতু ওয়াসাব্বিহ বিহামদিহ ওয়াকাফা বিহী বিযুনূবি ‘ইবা-দিহী খাবীরা
আর তুমি নির্ভর কর সেই চিরঞ্জীবের উপর যিনি মরবেন না। আর তাঁর প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা কর। তিনি তাঁর বান্দাহদের গুনাহর খবর রাখার ব্যাপারে যথেষ্ট।
ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِى سِتَّةِ أَيَّامٍۢ ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ عَلَى ٱلْعَرْشِ ۚ ٱلرَّحْمَٰنُ فَسْـَٔلْ بِهِۦ خَبِيرًۭا ٥٩
আল্লাযী খালাকাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ওয়ামা বাইনাহুমা ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন ছুম্মাসতাওয়া ‘আলাল ‘আরশ আর-রাহমা-নু ফাসআল বিহী খাবীরা
তিনি আসমান, যমীন আর এ দু’য়ের ভিতরে যা আছে তা ছ’দিনে (ছ’টি সময় স্তরে) সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমুন্নত হয়েছেন। তিনিই রাহমান, কাজেই তাঁর সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস কর যে এ সম্পর্কিত জ্ঞান রাখে।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱسْجُدُوا۟ لِلرَّحْمَٰنِ قَالُوا۟ وَمَا ٱلرَّحْمَٰنُ أَنَسْجُدُ لِمَا تَأْمُرُنَا وَزَادَهُمْ نُفُورًۭا ۩ ٦٠
ওয়াইযা কীলা লাহুমুসজুদূ লির্রাহমা-নি কা-লূ ওয়ামার রাহমা-নু আনাসজুদু লিমা তা’মুরুনা ওয়াযা-দাহুম নুফূরা
তাদেরকে যখন বলা হয় ‘রহমান’-এর উদ্দেশ্যে সাজদায় অবনত হও, তারা বলে- ‘রহমান আবার কী? আমাদেরকে তুমি যাকেই সেজদা করতে বলবে আমরা তাকেই সেজদা করব নাকি?’ এতে তাদের অবাধ্যতাই বেড়ে যায়। [সাজদাহ]
تَبَارَكَ ٱلَّذِى جَعَلَ فِى ٱلسَّمَآءِ بُرُوجًۭا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَٰجًۭا وَقَمَرًۭا مُّنِيرًۭا ٦١
তাবা-রাকাল লাযী জা‘আলা ফিস সামা-ই বুরূজাঁ ওয়াজা‘আলা ফীহা সিরা-জাঁ ওয়াকামারাম মুনীরা
কতই না কল্যাণময় তিনি যিনি আসমানে নক্ষত্ররাজির সমাবেশ ঘটিয়েছেন আর তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ আর আলো বিকিরণকারী চন্দ্র।
وَهُوَ ٱلَّذِى جَعَلَ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ خِلْفَةًۭ لِّمَنْ أَرَادَ أَن يَذَّكَّرَ أَوْ أَرَادَ شُكُورًۭا ٦٢
ওয়াহুওয়াল লাযী জা‘আলাল লাইলা ওয়ান্নাহা-রা খিলফাতাল লিমান আরা-দা আন ইয়ায্যাক্কারা আও আরা-দা শুকূরা
আর তিনিই রাত আর দিনকে করেছেন পরস্পরের অনুগামী তাদের জন্য যারা উপদেশ গ্রহণ করতে চায়, অথবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চায়।
وَعِبَادُ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى ٱلْأَرْضِ هَوْنًۭا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ ٱلْجَٰهِلُونَ قَالُوا۟ سَلَٰمًۭا ٦٣
ওয়া‘ইবা-দুর রাহমা-নিল লাযীনা ইয়ামশূনা ‘আলাল আরদি হাওনাঁ ওয়াইযা খা-তাবাহুমুল জা-হিলূনা কা-লূ সালা-মা
আর রহমানের বান্দা তারাই যারা যমীনে নম্রভাবে চলাফেরা করে আর অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে সম্বোধন করলে তারা বলে- ‘শান্তি’, (আমরা বিতর্কে লিপ্ত হতে চাই না)।
وَٱلَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًۭا وَقِيَٰمًۭا ٦٤
ওয়াল্লাযীনা ইয়াবীতূনা লিরাব্বিহিম সুজ্জাদাঁ ওয়াকিয়া-মা
আর তারা রাত কাটায় তাদের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সাজদায় অবনত ও দন্ডায়মান অবস্থায়।
وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا ٱصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ ۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا ٦٥
ওয়াল্লাযীনা ইয়াকূলূনা রাব্বানাসরিফ ‘আন্না ‘আযা-বা জাহান্নামা ইন্না ‘আযা-বাহা কা-না গারা-মা
আর তারা বলে : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি দূর কর, তার শাস্তি তো ভয়াবহ বিপদ।’
إِنَّهَا سَآءَتْ مُسْتَقَرًّۭا وَمُقَامًۭا ٦٦
ইন্নাহা সা-আত মুসতাকার্রাঁ ওয়ামুকা-মা
তা আবাসস্থল আর অবস্থান নেয়ার জায়গা হিসেবে কতই না নিকৃষ্ট!
وَٱلَّذِينَ إِذَآ أَنفَقُوا۟ لَمْ يُسْرِفُوا۟ وَلَمْ يَقْتُرُوا۟ وَكَانَ بَيْنَ ذَٰلِكَ قَوَامًۭا ٦٧
ওয়াল্লাযীনা ইযা- আনফাকূ লাম ইউসরিফূ ওয়ালাম ইয়াকতুরূ ওয়াকা-না বাইনা যা-লিকা কাওয়া-মা
আর যখন তারা ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না, আর কৃপণতাও করে না; এ দু’য়ের মধ্যবর্তী পন্থা গ্রহণ করে।
وَٱلَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًۭا ٦٨
ওয়াল্লাযীনা লা ইয়াদ‘ঊনা মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ওয়ালা ইয়াকতুলূনান নাফসাল লাতী হার্রামাল্লা-হু ইল্লা বিলহাক্কি ওয়ালা ইয়াযনূন ওয়ামান ইয়াফ‘আল যা-লিকা ইয়ালকা আছা-মা
তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডাকে না। আর যথার্থতা ব্যতীত কোন প্রাণ হত্যা করে না যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন আর তারা ব্যভিচার করে না। আর যে এগুলো করে সে শাস্তির সাক্ষাৎ লাভ করবে।
يُضَٰعَفْ لَهُ ٱلْعَذَابُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِۦ مُهَانًا ٦٩
ইউদা-‘আফ লাহুল ‘আযা-বু ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়ায়াখলুদ ফীহী মুহা-না
ক্বিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে আর সে সেখানে লাঞ্ছিত হয়ে চিরবাস করবে।
إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلًۭا صَٰلِحًۭا فَأُو۟لَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِهِمْ حَسَنَٰتٍۢ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ٧٠
ইল্লা মান তা-বা ওয়াআ-মানা ওয়া‘আমিলা ‘আমালান সা-লিহান ফাউলা-ইকা ইউবাদ্দিলুল্লা-হু সাইয়্যিআ-তিহিম হাসানা-ত ওয়াকা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা
তবে তারা নয় যারা তাওবাহ করবে, ঈমান আনবে, আর সৎ কাজ করবে। আল্লাহ এদের পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তিত করে দেবেন; আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
وَمَن تَابَ وَعَمِلَ صَٰلِحًۭا فَإِنَّهُۥ يَتُوبُ إِلَى ٱللَّهِ مَتَابًۭا ٧١
ওয়ামান তা-বা ওয়া‘আমিলা সা-লিহান ফাইন্নাহূ ইয়াতূবু ইলাল্লা-হি মাতা-বা
আর যে ব্যক্তি তাওবাহ করে আর সৎকাজ করে, সে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে- পূর্ণ প্রত্যাবর্তন।
وَٱلَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ ٱلزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا۟ بِٱللَّغْوِ مَرُّوا۟ كِرَامًۭا ٧٢
ওয়াল্লাযীনা লা ইয়াশহাদূনায যূরা ওয়াইযা মার্রূ বিল্লাগউই মার্রূ কিরা-মা
আর যারা মিথ্যে সাক্ষ্য দেয় না, আর বেহুদা কর্মকান্ডের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে সসম্মানে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
وَٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا۟ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِمْ لَمْ يَخِرُّوا۟ عَلَيْهَا صُمًّۭا وَعُمْيَانًۭا ٧٣
ওয়াল্লাযীনা ইযা যুক্কিরূ বিআ-য়া-তি রাব্বিহিম লাম ইয়াখির্রূ ‘আলাইহা সুম্মাঁ ওয়া‘উমইয়া-না
আর তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের আয়াত স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে যারা তার প্রতি বধির ও অন্ধের ন্যায় আচরণ করে না (শুনেও শুনে না, দেখেও দেখে না- এমন করে না)।
وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَٰجِنَا وَذُرِّيَّٰتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍۢ وَٱجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا ٧٤
ওয়াল্লাযীনা ইয়াকূলূনা রাব্বানা হাব লানা মিন আযওয়া-জিনা ওয়াযুর্রিয়্যা-তিনা কুর্রাতা আ‘ইউনিঁ ওয়াজ‘আলনা লিলমুত্তাকীনা ইমা-মা
আর যারা প্রার্থনা করে : হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান কর যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় আর আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দাও।
أُو۟لَٰٓئِكَ يُجْزَوْنَ ٱلْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا۟ وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةًۭ وَسَلَٰمًا ٧٥
উলা-ইকা ইউজযাওনাল গুরফাতা বিমা সাবারূ ওয়াইউলাক্কাওনা ফীহা তাহিয়্যাতাঁ ওয়াসালা-মা
এদেরকেই তাদের ধৈর্যধারণের কারণে জান্নাতের সুউচ্চ স্থান দান ক’রে পুরস্কৃত করা হবে। সেখানে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানানো হবে সংবর্ধনা ও সালাম জানিয়ে।
خَٰلِدِينَ فِيهَا ۚ حَسُنَتْ مُسْتَقَرًّۭا وَمُقَامًۭا ٧٦
খা-লিদীনা ফীহা হাসুনাত মুসতাকার্রাঁ ওয়ামুকা-মা
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, আবাসস্থল ও অবস্থানস্থল হিসেবে তা কতই না উৎকৃষ্ট!
قُلْ مَا يَعْبَؤُا۟ بِكُمْ رَبِّى لَوْلَا دُعَآؤُكُمْ ۖ فَقَدْ كَذَّبْتُمْ فَسَوْفَ يَكُونُ لِزَامًۢا ٧٧
কুল মা ইয়া‘বাউ বিকুম রাব্বী লাওলা দু‘আ-উকুম ফাকাদ কায্যাবতুম ফাসাওফা ইয়াকূনু লিযা-মা
(কাফিরদেরকে) বল : ‘তোমাদের ব্যাপারে আমার প্রতিপালকের কী প্রয়োজন পড়েছে তোমরা যদি তাঁকে না ডাকো? তোমরা তো তাঁকে অস্বীকার করেছ, কাজেই শীঘ্রই তোমাদের উপর এসে পড়বে অপ্রতিরোধ্য (শাস্তি)।
الشعراء
সূরা আশ-শুআরা
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
طسٓمٓ ١
ত্বা সী-ন মী-ম
ত্ব-সীন-মীম।
تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِ ٢
তিলকা আ-য়া-তুল কিতা-বিল মুবীন
এগুলো সুস্পষ্ট (বা সুস্পষ্টকারী) কিতাবের আয়াত।
لَعَلَّكَ بَٰخِعٌۭ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ ٣
লা‘আল্লাকা বা-খি‘উন নাফসাকা আল্লা ইয়াকূনূ মু’মিনীন
তুমি হয়ত এ দুঃখে তোমার প্রাণনাশ করবে যে, তারা মু’মিন হচ্ছে না।
إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ءَايَةًۭ فَظَلَّتْ أَعْنَٰقُهُمْ لَهَا خَٰضِعِينَ ٤
ইন নাশাআ নুনায্যিল ‘আলাইহিম মিনাস সামা-ই আ-য়াতান ফাযাল্লাত আ‘না-কুহুম লাহা খা-দি‘ঈন
আমি ইচ্ছে করলে তাদের কাছে আসমান থেকে এমন নিদর্শন পাঠাতাম যে তার সামনে তাদের মাথা নত হয়ে যেত (অর্থাৎ তারা ঈমান আনতে বাধ্য হত)।
وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍۢ مِّنَ ٱلرَّحْمَٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا۟ عَنْهُ مُعْرِضِينَ ٥
ওয়ামা ইয়া’তীহিম মিন যিকরিম মিনার রাহমা-নি মুহদাছিন ইল্লা কা-নূ ‘আনহু মু‘রিদীন
তাদের কাছে যখনই দয়াময় আল্লাহর পক্ষ হতে নতুন কোন নসীহত আসে তখনই তারা তাত্থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
فَقَدْ كَذَّبُوا۟ فَسَيَأْتِيهِمْ أَنۢبَٰٓؤُا۟ مَا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ٦
ফাকাদ কায্যাবূ ফাসায়া’তীহিম আমবা-উ মা কা-নূ বিহী ইয়াসতাহযিঊন
তারা (আল্লাহর বাণীকে) অস্বীকারই করেছে, শীঘ্রই তাদের কাছে তার সত্য উদঘাটিত হবে যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلْأَرْضِ كَمْ أَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍۢ كَرِيمٍ ٧
আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাল আরদি কাম আমবাতনা ফীহা মিন কুল্লি যাওজিন কারীম
তারা কি যমীনের দিকে চেয়ে দেখে না, আমি তাতে সব ধরনের উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ পয়দা করেছি।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ٨
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে (আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা ক’রে ঈমান আনার জন্য), কিন্তু তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ٩
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক মহা পরাক্রমশালী, অতি দয়ালু।
وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱئْتِ ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٠
ওয়াইয না-দা রাব্বুকা মূসা- আনি তিল কাওমায যা-লিমীন
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডাক দিয়ে বললেন, ‘তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও,
قَوْمَ فِرْعَوْنَ ۚ أَلَا يَتَّقُونَ ١١
কাওমা ফির‘আওন আলা ইয়াত্তাকূন
ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি ভয় করে না?
قَالَ رَبِّ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ ١٢
কা-লা রাব্বি ইন্নী আখা-ফু আন ইউকায্যিবূন
সে বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার ভয় হচ্ছে তারা আমাকে মিথ্যে মনে ক’রে প্রত্যাখ্যান করবে।
وَيَضِيقُ صَدْرِى وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِى فَأَرْسِلْ إِلَىٰ هَٰرُونَ ١٣
ওয়ায়াদীকু সাদরী ওয়ালা ইয়ানতালিকু লিসা-নী ফাআরসিল ইলা হা-রূন
আর আমার অন্তর সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, আমার জিহ্বা সাবলীলভাবে কথা বলতে পারে না। কাজেই আপনি হারূনের প্রতি রিসালাত দিন।
وَلَهُمْ عَلَىَّ ذَنۢبٌۭ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ ١٤
ওয়ালাহুম ‘আলাইয়্যা যামবুন ফাআখা-ফু আন ইয়াকতুলূন
তদুপরি আমার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগও তাদের আছে, কাজেই আমার ভয় হচ্ছে তারা আমাকে হত্যা করবে।’
قَالَ كَلَّا ۖ فَٱذْهَبَا بِـَٔايَٰتِنَآ ۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَ ١٥
কা-লা কাল্লা ফাযহাবা বিআ-য়া-তিনা- ইন্না মা‘আকুম মুসতামি‘ঊন
আল্লাহ বললেন, ‘কক্ষনো না, তোমরা দু’জনে আমার (দেয়া) নিদর্শন নিয়ে যাও, আমি তোমাদের সঙ্গে থেকে সব কিছু শুনতে থাকব।
فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٦
ফা’তিয়া ফির‘আওনা ফাকূলা- ইন্না রাসূলু রাব্বিল ‘আ-লামীন
কাজেই তোমরা দু’জনে ফেরাউনের কাছে যাও আর গিয়ে বল যে, আমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রেরিত রসূল।
أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ١٧
আন আরসিল মা‘আনা বানী ইসরা-ঈল
বানী ইসরাঈলকে আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দাও।’
قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًۭا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ ١٨
কা-লা আলাম নুরাব্বিকা ফীনা ওয়ালীদাঁ ওয়ালাবিছতা ফীনা মিন ‘উমুরিকা সিনীন
ফেরাউন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শিশুকালে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? আর তুমি কি তোমার জীবনের কতকগুলো বছর আমাদের মাঝে কাটাওনি?
وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ ٱلَّتِى فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ ١٩
ওয়াফা‘আলতা ফা‘লাতাকাল লাতী ফা‘আলতা ওয়াআনতা মিনাল কা-ফিরীন
তুমি তোমার কর্ম যা করার করেছ (আমাদের একজন লোককে হত্যা ক’রে), তুমি বড় অকৃতজ্ঞ।’
قَالَ فَعَلْتُهَآ إِذًۭا وَأَنَا۠ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ ٢٠
কা-লা ফা‘আলতুহা- ইযাঁ ওয়াআনা মিনাদ দা-ল্লীন
মূসা বলল : ‘আমি তো তা করেছিলাম সে সময় যখন আমি ছিলাম (সঠিক পথ সম্পর্কে) অজ্ঞ।
فَفَرَرْتُ مِنكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِى رَبِّى حُكْمًۭا وَجَعَلَنِى مِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ ٢١
ফাফারারতু মিনকুম লাম্মা খিফতুকুম ফাওয়াহাবা লী রাব্বী হুকমাঁ ওয়াজা‘আলানী মিনাল মুরসালীন
অতঃপর তোমাদের ভয়ে ভীত হয়ে আমি তোমাদের থেকে পালিয়ে গেলাম। অতঃপর আমার রবব আমাকে প্রজ্ঞা দান করলেন, আর আমাকে করলেন রসূলদের একজন।
وَتِلْكَ نِعْمَةٌۭ تَمُنُّهَا عَلَىَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٢٢
ওয়াতিলকা নি‘মাতুন তামুন্নুহা ‘আলাইয়্যা আন ‘আব্বাত্তা বানী ইসরা-ঈল
তুমি আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের খোঁটা দিচ্ছ তাতো এই যে, তুমি বানী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছ।’
قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٢٣
কা-লা ফির‘আওনু ওয়ামা রাব্বুল ‘আ-লামীন
ফেরাউন বলল : ‘বিশ্বজগতের প্রতিপালক আবার কী?’
قَالَ رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَآ ۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ ٢٤
কা-লা রাব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ামা বাইনাহুমা- ইন কুনতুম মূকিনীন
মূসা বলল : ‘(যিনি) আসমান ও যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর প্রতিপালক- যদি তোমরা নিঃসন্দেহে বিশ্বাসী হও।
قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُۥٓ أَلَا تَسْتَمِعُونَ ٢٥
কা-লা লিমান হাওলাহূ আলা তাসতামি‘ঊন
ফেরাউন তার চারপাশের লোকেদেরকে বলল- ‘তোমরা শুনছ তো?’
قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ ٢٦
কা-লা রাব্বুকুম ওয়ারাব্বু আ-বা-ইকুমুল আওয়ালীন
মূসা বলল : ‘(তিনি) তোমাদের প্রতিপালক ও শুরু থেকে পূর্ববর্তী তোমাদের বাপ-দাদাদেরও প্রতিপালক।’
قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ ٱلَّذِىٓ أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌۭ ٢٧
কা-লা ইন্না রাসূলাকুমুল লাযী উরসিলা ইলাইকুম লামাজনূন
(ফিরআউন) বলল: ‘তোমাদের রসূল যে তোমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছে সে নিশ্চিতই পাগল।’
قَالَ رَبُّ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَآ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ ٢٨
কা-লা রাব্বুল মাশরিকি ওয়ালমাগরিবি ওয়ামা বাইনাহুমা- ইন কুনতুম তা‘কিলূন
(মূসা) বললঃ ‘(তিনিই) পূর্ব ও পশ্চিমের প্রতিপালক, আর এ উভয় দিকের মাঝে যা আছে তারও- যদি তোমাদের বুদ্ধিসুদ্ধি থাকে।’
قَالَ لَئِنِ ٱتَّخَذْتَ إِلَٰهًا غَيْرِى لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ ٱلْمَسْجُونِينَ ٢٩
কা-লা লাইনিত তাখাযতা ইলা-হান গাইরী লাআজ‘আলান্নাকা মিনাল মাসজূনীন
(ফেরাউন) বলল : ‘যদি তুমি আমাকে বাদ দিয়ে (অন্য কিছুকে) ইলাহ হিসেবে গ্রহণ কর, তাহলে আমি তোমাকে অবশ্য অবশ্যই কারারুদ্ধ করব।’
قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَىْءٍۢ مُّبِينٍۢ ٣٠
কা-লা আওয়ালাও জি’তুকা বিশাইইম মুবীন
(মূসা) বলল : ‘আমি যদি তোমার কাছে কোন স্পষ্ট জিনিস নিয়ে আসি তবুও?
قَالَ فَأْتِ بِهِۦٓ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ٣١
কা-লা ফা’তি বিহী ইন কুনতা মিনাস সা-দিকীন
(ফেরাউন) বলল : ‘তাহলে তা আনো, যদি তুমি সত্যবাদী হও।’
فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ ثُعْبَانٌۭ مُّبِينٌۭ ٣٢
ফাআলকা ‘আসা-হু ফাইযা হিয়া ছু‘বা-নুম মুবীন
তখন মূসা তার লাঠি ছুঁড়ে দিল আর সহসাই তা স্পষ্ট এক অজগর হয়ে গেল।
وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنَّٰظِرِينَ ٣٣
ওয়ানাযা‘আ ইয়াদাহূ ফাইযা হিয়া বাইদা-উ লিন্না-যিরীন
আর মূসা (বগলের নীচ দিয়ে) নিজের হাত টেনে বের করল, আর তা দর্শকদের সামনে ঝকমক করতে লাগল।
قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُۥٓ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٌۭ ٣٤
কা-লা লিলমালাই হাওলাহূ ইন্না হা-যা লাসা-হিরুন ‘আলীম
ফেরাউন তার চারপাশের প্রধানদের বলল : ‘সে অবশ্যই এক দক্ষ যাদুকর।
يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِۦ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ ٣٥
ইউরীদু আন ইউখরিজাকুম মিন আরদিকুম বিসিহরিহী ফামা-যা তা’মুরূন
যাদুর বলে সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন বল তোমাদের নির্দেশ কী?’
قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَٱبْعَثْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ ٣٦
কা-লূ আরজিহ ওয়াআখা-হু ওয়াব‘আছ ফিল মাদা-ইনি হা-শিরীন
তারা বলল : ‘তাকে ও তার ভাইকে (কিছু সময়) অপেক্ষায় ফেলে রাখুন আর জড়ো করার জন্য ঘোষকদেরকে নগরে নগরে পাঠিয়ে দিন।
يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍۢ ٣٧
ইয়া’তূকা বিকুল্লি সাহ্হা-রিন ‘আলীম
তারা আপনার কাছে প্রত্যেকটি অভিজ্ঞ যাদুকরকে নিয়ে আসবে।’
فَجُمِعَ ٱلسَّحَرَةُ لِمِيقَٰتِ يَوْمٍۢ مَّعْلُومٍۢ ٣٨
ফাজুমি‘আস সাহারাতু লিমীকা-তি ইয়াওমিম মা‘লূম
কাজেই যাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল একটি নির্দিষ্ট দিন ক্ষণের জন্য যা ছিল সুবিদিত।
وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَ ٣٩
ওয়াকীলা লিন্না-সি হাল আনতুম মুজতামি‘ঊন
আর জনগণকে বলা হল- ‘তোমরা কি সম্মিলিত হবে?
لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ ٱلسَّحَرَةَ إِن كَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَٰلِبِينَ ٤٠
লা‘আল্লানা নাত্তাবি‘উস সাহারাতা ইন কা-নূ হুমুল গা-লিবীন
যাতে আমরা যাদুকরদের (এবং তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ফেরাউনের) দীন অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।
فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالُوا۟ لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ ٱلْغَٰلِبِينَ ٤١
ফালাম্মা জা-আস সাহারাতু কা-লূ লিফির‘আওনা আইন্না লানা লাআজরান ইন কুন্না নাহনুল গা-লিবীন
যাদুকররা যখন আসলো, তারা ফেরাউনকে বলল : ‘আমরা জয়ী হলে আমাদেরকে পুরস্কার দেয়া হবে তো?’
قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًۭا لَّمِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ ٤٢
কা-লা না‘আম ওয়াইন্নাকুম ইযাল লামিনাল মুকার্রাবীন
ফেরাউন বলল- ‘হাঁ, তখন তোমরা অবশ্যই আমার নৈকট্যলাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلْقُوا۟ مَآ أَنتُم مُّلْقُونَ ٤٣
কা-লা লাহুম মূসা- আলকূ মা- আনতুম মুলকূন
মূসা তাদেরকে বলল- ‘নিক্ষেপ কর যা তোমরা নিক্ষেপ করবে।’
فَأَلْقَوْا۟ حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا۟ بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ ٱلْغَٰلِبُونَ ٤٤
ফাআলকাও হিবা-লাহুম ওয়া‘ইসিয়্যাহুম ওয়াকা-লূ বি‘ইয্যাতি ফির‘আওনা ইন্না লানাহনুল গা-লিবূন
তখন তারা তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো নিক্ষেপ করল আর তারা বলল- ‘ফেরাউনের ইযযতের শপথ! আমরা অবশ্যই জয়ী হব।’
فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ ٤٥
ফাআলকা মূসা ‘আসা-হু ফাইযা হিয়া তালকাফু মা ইয়া’ফিকূন
অতঃপর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল। হঠাৎ তা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গিলতে লাগল।
فَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَ ٤٦
ফাউলকিয়াস সাহারাতু সা-জিদীন
তখন যাদুকররা সিজদায় লুটিয়ে পড়ল।
قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٤٧
কা-লূ আ-মান্না বিরাব্বিল ‘আ-লামীন
তারা বলল- ‘আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম রাব্বুল ‘আলামীনের প্রতি,
رَبِّ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ ٤٨
রাব্বি মূসা ওয়াহা-রূন
যিনি মূসা ও হারুনের প্রতিপালক।’
قَالَ ءَامَنتُمْ لَهُۥ قَبْلَ أَنْ ءَاذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُۥ لَكَبِيرُكُمُ ٱلَّذِى عَلَّمَكُمُ ٱلسِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ۚ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَٰفٍۢ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ ٤٩
কা-লা আ-মানতুম লাহূ কাবলা আন আ-যানা লাকুম ইন্নাহূ লাকাবীরুকুমুল লাযী ‘আল্লামাকুমুস সিহরা ফালাসাওফা তা‘লামূন লাউকাত্তি‘আন্না আইদিয়াকুম ওয়াআরজুলাকুম মিন খিলা-ফিঁ ওয়ালাউসাল্লিবান্নাকুম আজমা‘ঈন
ফেরাউন বলল- ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তাতে বিশ্বাস আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের ওস্তাদ যে তোমাদেরকে যাদু শিখিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা (এর পরিণাম) জানতে পারবে। আমি অবশ্য অবশ্যই তোমাদের হাত-পাগুলোকে বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব আর তোমাদের সব্বাইকে অবশ্য অবশ্যই ‘শূলে চড়াব।
قَالُوا۟ لَا ضَيْرَ ۖ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ ٥٠
কা-লূ লা দাইরা ইন্না- ইলা রাব্বিনা মুনকালিবূন
তারা বলল- কোনই ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রতিপালকের পানে প্রত্যাবর্তন করব।
إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَٰيَٰنَآ أَن كُنَّآ أَوَّلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٥١
ইন্না নাতমা‘উ আন ইয়াগফিরা লানা রাব্বুনা খাতা-য়া-না- আন কুন্না- আওয়ালাল মু’মিনীন
আমাদের একমাত্র আশা এই যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করবেন, কারণ আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে প্রথম।’
۞ وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِىٓ إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ ٥٢
ওয়াআওহাইনা- ইলা মূসা- আন আসরি বি‘ইবা-দী ইন্নাকুম মুত্তাবা‘ঊন
আমি মূসাকে ওহীযোগে নির্দেশ দিলাম আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিকালে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ ٥٣
ফাআরসালা ফির‘আওনু ফিল মাদা-ইনি হা-শিরীন
অতঃপর ফেরাউন শহরে নগরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দিল।
إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَشِرْذِمَةٌۭ قَلِيلُونَ ٥٤
ইন্না হা-উলা-ই লাশিরযিমাতুন কালীলূন
(এই ব’লে যে) এরা (বানী ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল।
وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَآئِظُونَ ٥٥
ওয়াইন্নাহুম লানা লাগা-ইযূন
তারা আমাদেরকে অবশ্যই ক্রোধান্বিত করেছে।
وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَٰذِرُونَ ٥٦
ওয়াইন্না লাজামী‘উন হা-যিরূন
আর আমরা অবশ্যই সদা সতর্ক একটি দল।
فَأَخْرَجْنَٰهُم مِّن جَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍۢ ٥٧
ফাআখরাজনা-হুম মিন জান্না-তিঁ ওয়া‘উইউন
এভাবে আমি ফেরাউন গোষ্ঠীকে (তাদের নিজেদেরই) উদ্যানরাজি আর ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিস্কার করলাম।
وَكُنُوزٍۢ وَمَقَامٍۢ كَرِيمٍۢ ٥٨
ওয়াকুনূযিঁ ওয়ামাকা-মিন কারীম
আর ধনভন্ডারসমূহ ও সম্মানজনক অবস্থান থেকে।
كَذَٰلِكَ وَأَوْرَثْنَٰهَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٥٩
কাযা-লিকা ওয়াআওরাছনা-হা বানী ইসরা-ঈল
এভাবেই ঘটেছিল, আমি বানী ইসরাঈলকে এসব কিছুর উত্তরাধিকারী করে দিয়েছিলাম।
فَأَتْبَعُوهُم مُّشْرِقِينَ ٦٠
ফাআতবা‘ঊহুম মুশরিকীন
কাজেই তারা (অর্থাৎ ফেরাউন গোষ্ঠী) সূর্যোদয়কালে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।
فَلَمَّا تَرَٰٓءَا ٱلْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَٰبُ مُوسَىٰٓ إِنَّا لَمُدْرَكُونَ ٦١
ফালাম্মা তারা-আল জাম‘আ-নি কা-লা আসহা-বু মূসা- ইন্না লামুদরাকূন
যখন দু‘দল পরস্পরকে দেখল তখন মূসার সঙ্গীরা বলল- ‘আমরা তো ধরা পড়েই গেলাম।’
قَالَ كَلَّآ ۖ إِنَّ مَعِىَ رَبِّى سَيَهْدِينِ ٦٢
কা-লা কাল্লা- ইন্না মা‘ইয়া রাব্বী সায়াহদীন
মূসা বলল- ‘কক্ষনো না, আমার রব আমার সঙ্গে আছেন, শীঘ্রই তিনি আমাকে পথ নির্দেশ করবেন।
فَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْبَحْرَ ۖ فَٱنفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍۢ كَٱلطَّوْدِ ٱلْعَظِيمِ ٦٣
ফাআওহাইনা- ইলা মূসা- আনিদরিব বি‘আসা-কাল বাহরা ফানফালাকা ফাকা-না কুল্লু ফিরকিন কাত্তাওদিল ‘আযীম
তখন আমি মূসার প্রতি ওয়াহী করলাম- ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে তা বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক ভাগ সুবিশাল পর্বতের ন্যায় হয়ে গেল।
وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ ٱلْءَاخَرِينَ ٦٤
ওয়াআযলাফনা ছাম্মাল আ-খারীন
আমি সেখানে অপর দলটিকে পৌছে দিলাম।
وَأَنجَيْنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓ أَجْمَعِينَ ٦٥
ওয়াআনজাইনা মূসা ওয়ামাম মা‘আহূ আজমা‘ঈন
আর মূসা ও তার সঙ্গী সবাইকে উদ্ধার করলাম।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْءَاخَرِينَ ٦٦
ছুম্মা আগরাকনাল আ-খারীন
অতঃপর অপর দলটিকে ডুবিয়ে মারলাম।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ٦٧
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ٦٨
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
তোমার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, বড়ই দয়ালু।
وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَٰهِيمَ ٦٩
ওয়াতলু ‘আলাইহিম নাবাআ ইবরা-হীম
ওদেরকে ইবরাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দাও।
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَا تَعْبُدُونَ ٧٠
ইয কা-লা লিআবীহি ওয়াকাওমিহী মা তা‘বুদূন
যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল- ‘তোমরা কিসের ইবাদত কর?’
قَالُوا۟ نَعْبُدُ أَصْنَامًۭا فَنَظَلُّ لَهَا عَٰكِفِينَ ٧١
কা-লূ না‘বুদু আসনা-মান ফানাযাল্লু লাহা ‘আ-কিফীন
তারা বলেছিল- ‘আমরা মূর্তির পূজা করি, আর আমরা সদা সর্বদা তাদেরকে আঁকড়ে থাকি।’
قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ ٧٢
কা-লা হাল ইয়াসমা‘ঊনাকুম ইয তাদ‘ঊন
ইবরাহীম বলল- ‘তোমরা যখন (তাদেরকে) ডাক তখন কি তারা তোমাদের কথা শোনে?
أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ ٧٣
আও ইয়ানফা‘ঊনাকুম আও ইয়াদুর্রূন
কিংবা তোমাদের উপকার করে অথবা অপকার?’
قَالُوا۟ بَلْ وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ ٧٤
কা-লূ বাল ওয়াজাদনা- আ-বা-আনা কাযা-লিকা ইয়াফ‘আলূন
তারা বলল- ‘না তবে আমরা আমাদের পিতৃদেরকে এরকম করতে দেখেছি।’
قَالَ أَفَرَءَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ ٧٥
কা-লা আফারাআইতুম মা কুনতুম তা‘বুদূন
সে বলল-তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমরা কিসের পূজা করে যাচ্ছ?
أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُمُ ٱلْأَقْدَمُونَ ٧٦
আনতুম ওয়াআ-বা-উকুমুল আকদামূন
তোমরা আর তোমাদের আগের পিতৃপুরুষরা?
فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّۭ لِّىٓ إِلَّا رَبَّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٧٧
ফাইন্নাহুম ‘আদুউল লী ইল্লা রাব্বাল ‘আ-লামীন
তারা সবাই আমার শত্রু, বিশ্বজগতের পালনকর্তা ছাড়া।
ٱلَّذِى خَلَقَنِى فَهُوَ يَهْدِينِ ٧٨
আল্লাযী খালাকানী ফাহুওয়া ইয়াহদীন
তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তিনিই আমাকে পথ দেখান।
وَٱلَّذِى هُوَ يُطْعِمُنِى وَيَسْقِينِ ٧٩
ওয়াল্লাযী হুওয়া ইউত‘ইমুনী ওয়ায়াসকীন
আর তিনিই আমাকে খাওয়ান ও পান করান।
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ ٨٠
ওয়াইযা মারিদতু ফাহুওয়া ইয়াশফীন
আর আমি যখন পীড়িত হই তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন।
وَٱلَّذِى يُمِيتُنِى ثُمَّ يُحْيِينِ ٨١
ওয়াল্লাযী ইউমীতুনী ছুম্মা ইউহইয়ীন
যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, পুনরায় আমাকে জীবিত করবেন।
وَٱلَّذِىٓ أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِى خَطِيٓـَٔتِى يَوْمَ ٱلدِّينِ ٨٢
ওয়াল্লাযী আতমা‘উ আন ইয়াগফিরা লী খাতীআতী ইয়াওমাদ দীন
আর যিনি, আমি আশা করি- কিয়ামাতের দিন আমার দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন।
رَبِّ هَبْ لِى حُكْمًۭا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّٰلِحِينَ ٨٣
রাব্বি হাব লী হুকমাঁ ওয়াআলহিকনী বিস্সা-লিহীন
হে আমার পালনকর্তা! আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অর্ন্তভুক্ত কর।
وَٱجْعَل لِّى لِسَانَ صِدْقٍۢ فِى ٱلْءَاخِرِينَ ٨٤
ওয়াজ‘আল লী লিসা-না সিদকিন ফিল আ-খিরীন
এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।
وَٱجْعَلْنِى مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ ٱلنَّعِيمِ ٨٥
ওয়াজ‘আলনী মিন ওয়ারাছাতি জান্নাতিন না‘ঈম
এবং আমাকে নি‘য়ামাতপূর্ণ জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর।
وَٱغْفِرْ لِأَبِىٓ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ ٨٦
ওয়াগফির লিআবী ইন্নাহূ কা-না মিনাদ দা-ল্লীন
আর তুমি আমার পিতাকে ক্ষমা কর, তিনি তো গুমরাহদের অর্ন্তভুক্ত।
وَلَا تُخْزِنِى يَوْمَ يُبْعَثُونَ ٨٧
ওয়ালা তুখযিনী ইয়াওমা ইউব‘আছূন
এবং পুনরুত্থান দিবসে আমাকে অপমানিত করো না।
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌۭ وَلَا بَنُونَ ٨٨
ইয়াওমা লা ইয়ানফা‘উ মা-লুঁ ওয়ালা বানূন
যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি কোন কাজে আসবে না।
إِلَّا مَنْ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلْبٍۢ سَلِيمٍۢ ٨٩
ইল্লা মান আতাল্লা-হা বিকালবিন সালীম
কেবল (সাফল্য লাভ করবে) সে ব্যক্তি যে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহর নিকট আসবে।
وَأُزْلِفَتِ ٱلْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ ٩٠
ওয়াউযলিফাতিল জান্নাতু লিলমুত্তাকীন
আর জান্নাতকে মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে।
وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ ٩١
ওয়াবুর্রিযাতিল জাহীমু লিলগা-উঈন
এবং পথভ্রষ্টদের সম্মুখে জাহান্নামকে উন্মোচিত করা হবে।
وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ ٩٢
ওয়াকীলা লাহুম আইনা মা কুনতুম তা‘বুদূন
আর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যার ‘ইবাদাত করতে তারা কোথায়
مِن دُونِ ٱللَّهِ هَلْ يَنصُرُونَكُمْ أَوْ يَنتَصِرُونَ ٩٣
মিন দূনিল্লা-হি হাল ইয়ানসুরূনাকুম আও ইয়ানতাসিরূন
আল্লাহকে বাদ দিয়ে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে কিংবা তাদের নিজেদেরকে সাহায্য করতে পারে?
فَكُبْكِبُوا۟ فِيهَا هُمْ وَٱلْغَاوُۥنَ ٩٤
ফাকুবকিবূ ফীহা হুম ওয়ালগা-ঊন
অতঃপর তাদেরকে ও পথভ্রষ্টদেরকে জাহান্নামে মুখের ভরে নিক্ষেপ করা হবে।
وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ ٩٥
ওয়াজুনূদু ইবলীসা আজমা‘ঊন
আর ইবলীসের দলবল সবাইকে।
قَالُوا۟ وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ ٩٦
কা-লূ ওয়াহুম ফীহা ইয়াখতাসিমূন
সেখানে তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে বলবে,
تَٱللَّهِ إِن كُنَّا لَفِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍ ٩٧
তাল্লা-হি ইন কুন্না লাফী দালা-লিম মুবীন
‘আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্য স্পষ্ট গুমরাহীতে ছিলাম।
إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٩٨
ইয নুসাউঈকুম বিরাব্বিল ‘আ-লামীন
যখন আমরা তোমাদেরকে সর্বজগতের পালনকর্তার সমকক্ষ স্থির করতাম।
وَمَآ أَضَلَّنَآ إِلَّا ٱلْمُجْرِمُونَ ٩٩
ওয়ামা- আদাল্লানা- ইল্লাল মুজরিমূন
অপরাধীরাই আমাদেরকে গোমরাহ্ করেছিল।
فَمَا لَنَا مِن شَٰفِعِينَ ١٠٠
ফামা লানা মিন শা-ফি‘ঈন
কাজেই আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।
وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍۢ ١٠١
ওয়ালা সাদীকিন হামীম
একজন অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই।
فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةًۭ فَنَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٠٢
ফালাও আন-না লানা কার্রাতান ফানাকূনা মিনাল মু’মিনীন
আমাদের যদি একটিবার পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তাহলে আমরা মু’মিনদের অর্ন্তভুক্ত হয়ে যেতাম।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٠٣
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٠٤
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
তোমার প্রতিপালক, তিনি অবশ্যই মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٠٥
কায্যাবাত কাওমু নূহিনিল মুরসালীন
নূহের কওম রসুলগণকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখান করেছিল।
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٠٦
ইয কা-লা লাহুম আখূহুম নূহুন আলা তাত্তাকূন
যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি ভয় করবে না (আল্লাহকে)?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ١٠٧
ইন্নী লাকুম রাসূলুন আমীন
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রাসুল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٠٨
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমার অনুসরণ কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٠٩
ওয়ামা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা ‘আলা রাব্বিল ‘আ-লামীন
আমি তার জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছেই আছে।’
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١١٠
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।
۞ قَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ لَكَ وَٱتَّبَعَكَ ٱلْأَرْذَلُونَ ١١١
কা-লূ আনু’মিনু লাকা ওয়াত্তাবা‘আকাল আরযালূন
তারা বলল- ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস করব যখন তোমার অনুসরণ করছে একেবারে নিম্নশ্রেণীর লোকেরা।’
قَالَ وَمَا عِلْمِى بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١١٢
কা-লা ওয়ামা ‘ইলমী বিমা কা-নূ ইয়া‘মালূন
নূহ বলল- ‘তারা কী করত সেটা আমার জানা নেই।
إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّى ۖ لَوْ تَشْعُرُونَ ١١٣
ইন হিসা-বুহুম ইল্লা ‘আলা রাব্বী লাও তাশ‘উরূন
তাদের হিসাব নেয়া তো আমার প্রতিপালকের কাজ, যদি তোমরা বুঝতে!
وَمَآ أَنَا۠ بِطَارِدِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١١٤
ওয়ামা- আনা বিতা-রিদিল মু’মিনীন
মু’মিনদেরকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।
إِنْ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ١١٥
ইন আনা ইল্লা নাযীরুম মুবীন
আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’
قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰنُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمَرْجُومِينَ ١١٦
কা-লূ লাইল লাম তানতাহি ইয়া-নূহু লাতাকূনান্না মিনাল মারজূমীন
তারা বলল- ‘হে নূহ! তুমি যদি বিরত না হও, তাহলে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।’
قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِى كَذَّبُونِ ١١٧
কা-লা রাব্বি ইন্না কাওমী কায্যাবূন
নূহ বলল- ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় আমাকে প্রত্যাখান করছে।
فَٱفْتَحْ بَيْنِى وَبَيْنَهُمْ فَتْحًۭا وَنَجِّنِى وَمَن مَّعِىَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١١٨
ফাফতাহ বাইনী ওয়াবাইনাহুম ফাতহাঁ ওয়ানাজ্জিনী ওয়ামাম মা‘ইয়া মিনাল মু’মিনীন
কাজেই তুমি আমার ও তাদের মধ্যে ফয়সালা ক’রে দাও, আর আমাকে ও আমার সঙ্গী মু’মিনদেরকে ক্ষমা কর।’
فَأَنجَيْنَٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ ١١٩
ফাআনজাইনা-হু ওয়ামাম মা‘আহূ ফিল ফুলকিল মাশহূন
অতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গে যারা ছিল তাদেরকে বোঝাই নৌযানে রক্ষা করলাম।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ ٱلْبَاقِينَ ١٢٠
ছুম্মা আগরাকনা বা‘দুল বা-কীন
তারপর অবশিষ্ট সবাইকে ডুবিয়ে দিলাম।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٢١
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٢٢
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
তোমার প্রতিপালক, অবশ্যই তিনি প্রবল পরাক্রান্ত, পরম দয়ালু।
كَذَّبَتْ عَادٌ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٢٣
কায্যাবাত ‘আ-দুনিল মুরসালীন
‘আদ সম্প্রদায় রসূলগণকে মিথ্যে সাব্যস্ত করেছিল।
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٢٤
ইয কা-লা লাহুম আখূহুম হূদুন আলা তাত্তাকূন
যখন তাদের ভাই হূদ তাদেরকে বলল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ١٢٥
ইন্নী লাকুম রাসূলুন আমীন
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) এক বিশ্বস্ত রসুল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٢٦
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٢٧
ওয়ামা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা ‘আলা রাব্বিল ‘আ-লামীন
আর এ জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান আছে কেবল বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট।
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ ءَايَةًۭ تَعْبَثُونَ ١٢٨
আতাবনূনা বিকুল্লি রী‘ইন আ-য়াতান তা‘বাছূন
তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অনর্থক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছ?
وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ ١٢٩
ওয়াতাত্তাখিযূনা মাসা-নি‘আ লা‘আল্লাকুম তাখলুদূন
আর বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ. যেন তোমরা চিরদিন থাকবে?
وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ ١٣٠
ওয়াইযা বাতাশতুম বাতাশতুম জাব্বা-রীন
আর যখন তোমরা (দুর্বল শ্রেণীর লোকদের উপর) আঘাত হান, তখন আঘাত হান নিষ্ঠুর মালিকের মত।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٣١
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর।
وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِىٓ أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ ١٣٢
ওয়াত্তাকুল লাযী আমাদ্দাকুম বিমা তা‘লামূন
ভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে যাবতীয় বস্তু দান করেছেন যা তোমাদের জানা আছে।
أَمَدَّكُم بِأَنْعَٰمٍۢ وَبَنِينَ ١٣٣
আমাদ্দাকুম বিআন‘আ-মিঁ ওয়াবানীন
যিনি তোমাদেরকে দান করেছেন গবাদি পশু ও সন্তান-সন্তুতি।
وَجَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍ ١٣٤
ওয়াজান্না-তিঁ ওয়া‘উইউন
আর উদ্যানরাজি ও ঝর্ণাসমূহ।
إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ١٣٥
ইন্নী আখা-ফু ‘আলাইকুম ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আযীম
আমি তোমাদের জন্য মহা দিবসের শাস্তির ভয় করছি।’
قَالُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْنَآ أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ ٱلْوَٰعِظِينَ ١٣٦
কা-লূ সাওয়া-উন ‘আলাইনা- আওয়া‘আযতা আম লাম তাকুম মিনাল ওয়া-‘ইযীন
তারা বলল- ‘তুমি নসীহত কর আর না কর, আমাদের জন্য দু’ই সমান।
إِنْ هَٰذَآ إِلَّا خُلُقُ ٱلْأَوَّلِينَ ١٣٧
ইন হা-যা- ইল্লা খুলুকুল আওয়ালীন
এসব (কথাবার্তা বলা) পূর্ববর্তী লোকেদের অভ্যাস ছাড়া আর অন্য কিছুই না।
وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ ١٣٨
ওয়ামা নাহনু বিমু‘আয্যাবীন
আমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না।’
فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَٰهُمْ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٣٩
ফাকায্যাবূহু ফাআহলাকনা-হুম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
অতঃপর তারা তাকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখ্যান করল। তখন আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম। অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٤٠
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু।
كَذَّبَتْ ثَمُودُ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٤١
কায্যাবাত ছামূদুল মুরসালীন
সামূদ জাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَٰلِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٤٢
ইয কা-লা লাহুম আখূহুম সা-লিহুন আলা তাত্তাকূন
যখন তাদের ভাই সালিহ তাদেরকে বলেছিল- তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ١٤٣
ইন্নী লাকুম রাসূলুন আমীন
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রসূল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٤٤
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মান্য কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٤٥
ওয়ামা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা ‘আলা রাব্বিল ‘আ-লামীন
আর এজন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো আছে একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট।
أَتُتْرَكُونَ فِى مَا هَٰهُنَآ ءَامِنِينَ ١٤٦
আতুতরাকূনা ফী মা হা-হুনা- আ-মিনীন
তোমাদেরকে কি এখানে যে সব (ভোগ বিলাস) আছে তাতেই নিরাপদে রেখে দেয়া হবে?
فِى جَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍۢ ١٤٧
ফী জান্না-তিঁ ওয়া‘উইউন
উদ্যানরাজি আর ঝার্ণাসমূহে।
وَزُرُوعٍۢ وَنَخْلٍۢ طَلْعُهَا هَضِيمٌۭ ١٤٨
ওয়াযুরূ‘ইঁ ওয়ানাখলিন তাল‘উহা হাদীম
আর শষ্যক্ষেতে ও ফুলে আচ্ছাদিত (ফলে ভারাক্রান্ত) খেজুর বাগানে?
وَتَنْحِتُونَ مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًۭا فَٰرِهِينَ ١٤٩
ওয়াতানহিতূনা মিনাল জিবা-লি বুইউতান ফা-রিহীন
এবং তোমরা দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করছ।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٥٠
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মান্য কর।
وَلَا تُطِيعُوٓا۟ أَمْرَ ٱلْمُسْرِفِينَ ١٥١
ওয়ালা তুতী‘ঊ আমরাল মুসরিফীন
এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের নির্দেশ মান্য কর না।
ٱلَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ ١٥٢
আল্লাযীনা ইউফসিদূনা ফিল আরদি ওয়ালা ইউসলিহূন
যারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, সংস্কার করে না।’
قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ ١٥٣
কা-লূ ইন্নামা- আনতা মিনাল মুসাহ্হারীন
তারা বলল- ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন।
مَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُنَا فَأْتِ بِـَٔايَةٍ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ١٥٤
মা- আনতা ইল্লা বাশারুম মিছলুনা ফা’তি বিআ-য়াতিন ইন কুনতা মিনাস সা-দিকীন
তুমি আমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কিছুই না। কাজেই তুমি সত্যবাদী হলে একটা নিদর্শন হাজির কর।
قَالَ هَٰذِهِۦ نَاقَةٌۭ لَّهَا شِرْبٌۭ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍۢ مَّعْلُومٍۢ ١٥٥
কা-লা হা-যিহী না-কাতুল লাহা শিরবুঁ ওয়ালাকুম শিরবু ইয়াওমিম মা‘লূম
সালিহ বলল- ‘এই একটি উটনি, এর জন্য আছে পানি পানের পালা আর তোমাদের জন্য আছে পানি পানের পালা নির্ধারিত দিনে।
وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوٓءٍۢ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ١٥٦
ওয়ালা তামাস্সূহা বিসূইন ফায়া’খুযাকুম ‘আযা-বু ইয়াওমিন ‘আযীম
অনিষ্ট সাধনের নিমিত্তে তাকে স্পর্শ কর না, তাহলে তোমাদেরকে মহা দিবসের আযাব পাকড়াও করবে।
فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا۟ نَٰدِمِينَ ١٥٧
ফা‘আকারূহা ফাআসবাহূ না-দিমীন
কিন্তু তারা তাকে বধ করল, ফলে তারা অনুতপ্ত হল।
فَأَخَذَهُمُ ٱلْعَذَابُ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٥٨
ফাআখাযাহুমুল ‘আযা-ব ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
অতঃপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٥٩
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
আর তোমার প্রতিপালক তিনি তো মহা পরাক্রমশালী, বড়ই দয়ালু।
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٦٠
কায্যাবাত কাওমু লূতিনিল মুরসালীন
লূতের সম্প্রদায় রসুলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٦١
ইয কা-লা লাহুম আখূহুম লূতুন আলা তাত্তাকূন
যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ١٦٢
ইন্নী লাকুম রাসূলুন আমীন
আমি তো তোমাদের জন্য (প্রেরিত) একজন বিশ্বস্ত রসূল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٦٣
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মান্য কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٦٤
ওয়ামা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা ‘আলা রাব্বিল ‘আ-লামীন
আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান একমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে।
أَتَأْتُونَ ٱلذُّكْرَانَ مِنَ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٦٥
আতা’তূনায যুকরা-না মিনাল ‘আ-লামীন
জগতের সকল প্রাণীর মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সঙ্গে উপগত হও,
وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَٰجِكُم ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ ١٦٦
ওয়াতাযারূনা মা খালাকা লাকুম রাব্বুকুম মিন আযওয়া-জিকুম বাল আনতুম কাওমুন ‘আ-দূন
এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে ত্যাগ কর? রবং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’
قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰلُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُخْرَجِينَ ١٦٧
কা-লূ লাইল লাম তানতাহি ইয়া-লূতু লাতাকূনান্না মিনাল মুখরাজীন
তারা বলল- ‘হে লূত! তুমি যদি বিরত না হও তবে তুমি অবশ্য অবশ্যই বহিস্কৃত হবে।’
قَالَ إِنِّى لِعَمَلِكُم مِّنَ ٱلْقَالِينَ ١٦٨
কা-লা ইন্নী লি‘আমালিকুম মিনাল কা-লীন
লূত বলল- ‘আমি তোমাদের এ কাজকে ঘৃণা করি।
رَبِّ نَجِّنِى وَأَهْلِى مِمَّا يَعْمَلُونَ ١٦٩
রাব্বি নাজ্জিনী ওয়াআহলী মিম্মা ইয়া‘মালূন
হে আমার প্রতিপালক! তারা যা করে তা থেকে তুমি আমাকে ও আমার পরিবারবর্গকে রক্ষা কর।’
فَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ ١٧٠
ফানাজ্জাইনা-হু ওয়াআহলাহূ আজমা‘ঈন
অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গের সকলকে রক্ষা করলাম
إِلَّا عَجُوزًۭا فِى ٱلْغَٰبِرِينَ ١٧١
ইল্লা ‘আজূযান ফিল গা-বিরীন
এক বৃদ্ধা ছাড়া। সে ছিল পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْءَاخَرِينَ ١٧٢
ছুম্মা দাম্মারনাল আ-খারীন
অতঃপর অন্যদের সকলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিলাম।
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًۭا ۖ فَسَآءَ مَطَرُ ٱلْمُنذَرِينَ ١٧٣
ওয়াআমতারনা ‘আলাইহিম মাতারান ফাসা-আ মাতারুল মুনযারীন
তাদের উপর বর্ষণ করলাম (শাস্তির) বৃষ্টি, ভয় প্রদর্শিতদের জন্য এ বৃষ্টি ছিল কতই না মন্দ!
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٧٤
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٧٥
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
তোমার প্রতিপালক, তিনি মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু।
كَذَّبَ أَصْحَٰبُ لْـَٔيْكَةِ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٧٦
কায্যাবা আসহা-বু লআইকাতিল মুরসালীন
বনের অধিবাসীরা রসূলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٧٧
ইয কা-লা লাহুম শু‘আইবুন আলা তাত্তাকূন
যখন শু‘আয়ব তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ١٧٨
ইন্নী লাকুম রাসূলুন আমীন
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রাসুল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٧٩
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٨٠
ওয়ামা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা ‘আলা রাব্বিল ‘আ-লামীন
এ জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো রয়েছে একমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট।
۞ أَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا۟ مِنَ ٱلْمُخْسِرِينَ ١٨١
আওফুল কাইলা ওয়ালা তাকূনূ মিনাল মুখসিরীন
মাপে পূর্ণ মাত্রায় দাও আর যারা মাপে কম দেয় তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
وَزِنُوا۟ بِٱلْقِسْطَاسِ ٱلْمُسْتَقِيمِ ١٨٢
ওয়াযিনূ বিলকিসতা-সিল মুসতাকীম
সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে।
وَلَا تَبْخَسُوا۟ ٱلنَّاسَ أَشْيَآءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ١٨٣
ওয়ালা তাবখাসুন না-সা আশইয়া-আহুম ওয়ালা তা‘ছাও ফিল আরদি মুফসিদীন
মানুষকে তাদের প্রাপ্যবস্তু কম দিবে না। আর পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না।
وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ وَٱلْجِبِلَّةَ ٱلْأَوَّلِينَ ١٨٤
ওয়াত্তাকুল লাযী খালাকাকুম ওয়ালজিবিল্লাতাল আওয়ালীন
এবং ভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী বংশাবলীকে সৃষ্টি করেছেন।’
قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ ١٨٥
কা-লূ ইন্নামা- আনতা মিনাল মুসাহ্হারীন
তারা বলল- ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন।
وَمَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ ٱلْكَٰذِبِينَ ١٨٦
ওয়ামা- আনতা ইল্লা বাশারুম মিছলুনা ওয়াইন নাযুন্নুকা লামিনাল কা-যিবীন
তুমি আমাদের মতই মানুষ বৈ নও, আমরা মনে করি তুমি অবশ্য মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ١٨٧
ফাআসকিত ‘আলাইনা কিসাফাম মিনাস সামা-ই ইন কুনতা মিনাস সা-দিকীন
তুমি সত্যবাদী হলে আকাশের এক টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।’
قَالَ رَبِّىٓ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ ١٨٨
কা-লা রাব্বী আ‘লামু বিমা তা‘মালূন
শু‘আয়ব বলল- ‘তোমরা যা কর, আমার প্রতিপালক সে সম্পর্কে বেশি অবগত।’
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ ٱلظُّلَّةِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ١٨٩
ফাকায্যাবূহু ফাআখাযাহুম ‘আযা-বু ইয়াওমিয যুল্লাহ ইন্নাহূ কা-না ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আযীম
কিন্তু তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল। ফলে তাদেরকে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের শাস্তি পাকড়াও করল। তা ছিল এক মহা দিবসের ‘আযাব।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٩٠
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٩١
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
আর তোমার প্রতিপালক, তিনি অবশ্যই মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু।
وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٩٢
ওয়াইন্নাহূ লাতানযীলু রাব্বিল ‘আ-লামীন
অবশ্যই এ কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ।
نَزَلَ بِهِ ٱلرُّوحُ ٱلْأَمِينُ ١٩٣
নাযালা বিহির রূহুল আমীন
বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল) একে নিয়ে অবতরণ করেছে
عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَ ١٩٤
‘আলা কালবিকা লিতাকূনা মিনাল মুনযিরীন
তোমার অন্তরে যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّۢ مُّبِينٍۢ ١٩٥
বিলিসা-নিন ‘আরাবিয়্যিম মুবীন
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
وَإِنَّهُۥ لَفِى زُبُرِ ٱلْأَوَّلِينَ ١٩٦
ওয়াইন্নাহূ লাফী যুবুরিল আওয়ালীন
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে।
أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ ءَايَةً أَن يَعْلَمَهُۥ عُلَمَٰٓؤُا۟ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ١٩٧
আওয়ালাম ইয়াকুল লাহুম আ-য়াতান আন ইয়া‘লামাহূ ‘উলামা-উ বানী ইসরা-ঈল
এটা কি তাদের জন্য নিদর্শন নয় যে, বানী ইসরাঈলের পন্ডিতগণ তা জানত (যে তা সত্য)।
وَلَوْ نَزَّلْنَٰهُ عَلَىٰ بَعْضِ ٱلْأَعْجَمِينَ ١٩٨
ওয়ালাও নায্যালনা-হু ‘আলা বা‘দিল আ‘জামীন
আমি যদি তা কোন অনারবের প্রতি অবতীর্ণ করতাম,
فَقَرَأَهُۥ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ مُؤْمِنِينَ ١٩٩
ফাকারাআহূ ‘আলাইহিম মা কা-নূ বিহী মু’মিনীন
অতঃপর সে তা তাদের নিকট পাঠ করত, তাহলে তারা তাতে বিশ্বাস আনত না।
كَذَٰلِكَ سَلَكْنَٰهُ فِى قُلُوبِ ٱلْمُجْرِمِينَ ٢٠٠
কাযা-লিকা সালাকনা-হু ফী কুলূবিল মুজরিমীন
এভাবে আমি অপরাধীদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।
لَا يُؤْمِنُونَ بِهِۦ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ ٢٠١
লা ইউ’মিনূনা বিহী হাত্তা ইয়ারাউল ‘আযা-বাল আলীম
তারা এর প্রতি ঈমান আনবে না যতক্ষণ না তারা ভয়াবহ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
فَيَأْتِيَهُم بَغْتَةًۭ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ٢٠٢
ফায়া’তিয়াহুম বাগতাতাঁ ওয়াহুম লা ইয়াশ‘উরূন
কাজেই তা তাদের কাছে হঠাৎ এসে পড়বে, তারা কিছুই বুঝতে পারবে না।
فَيَقُولُوا۟ هَلْ نَحْنُ مُنظَرُونَ ٢٠٣
ফায়াকূলূ হাল নাহনু মুনযারূন
তারা তখন বলবে- ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেয়া হবে?’
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ ٢٠٤
আফাবি‘আযা-বিনা ইয়াসতা‘জিলূন
তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?
أَفَرَءَيْتَ إِن مَّتَّعْنَٰهُمْ سِنِينَ ٢٠٥
আফারাআইতা ইম মাত্তা‘না-হুম সিনীন
তুমি কি ভেবে দেখেছ আমি যদি তাদেরকে কতক বছর ভোগ বিলাস করতে দেই,
ثُمَّ جَآءَهُم مَّا كَانُوا۟ يُوعَدُونَ ٢٠٦
ছুম্মা জা-আহুম মা কা-নূ ইউ‘আদূন
অতঃপর তাদেরকে যে বিষয়ের ও‘য়াদা দেয়া হত তা তাদের কাছে এসে পড়ে।
مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يُمَتَّعُونَ ٢٠٧
মা- আগনা ‘আনহুম মা কা-নূ ইউমাত্তা‘ঊন
তখন তাদের বিলাসের সামগ্রী তাদের কোন উপকারে আসবে না।
وَمَآ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ ٢٠٨
ওয়ামা- আহলাকনা মিন কারইয়াতিন ইল্লা লাহা মুনযিরূন
আমি এমন কোন জনপদ ধ্বংস করিনি যার জন্য কোন ভয় প্রদর্শনকারী ছিল না
ذِكْرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَٰلِمِينَ ٢٠٩
যিকরা ওয়ামা কুন্না যা-লিমীন
স্মরণ করানোর জন্য। আমি কখনো অন্যায়কারী নই।
وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ ٱلشَّيَٰطِينُ ٢١٠
ওয়ামা তানায্যালাত বিহিশ শায়া-তীন
শয়ত্বানরা তা (অর্থাৎ কুরআন) নিয়ে অবতরণ করেনি।
وَمَا يَنۢبَغِى لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ ٢١١
ওয়ামা ইয়ামবাগী লাহুম ওয়ামা ইয়াসতাতী‘ঊন
তারা এ কাজের যোগ্য নয় আর তারা এর সামর্থ্যও রাখে না।
إِنَّهُمْ عَنِ ٱلسَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ ٢١٢
ইন্নাহুম ‘আনিস সাম‘ই লামা‘যূলূন
তাদেরকে এটা শোনা থেকে অবশ্যই দূরে রাখা হয়েছে।
فَلَا تَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ فَتَكُونَ مِنَ ٱلْمُعَذَّبِينَ ٢١٣
ফালা তাদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ফাতাকূনা মিনাল মু‘আয্যাবীন
কাজেই তুমি অন্য কোন ইলাহ্কে আল্লাহর সঙ্গে ডেক না। ডাকলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَ ٢١٤
ওয়াআনযির ‘আশীরাতাকাল আকরাবীন
আর তুমি সতর্ক কর তোমার নিকটাত্মীয় স্বজনদের
وَٱخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٢١٥
ওয়াখফিদ জানা-হাকা লিমানিত তাবা‘আকা মিনাল মু’মিনীন
যে সকল বিশ্বাসীরা তোমার আনুগত্য করে তাদের জন্য তুমি তোমার অনুকম্পার বাহু প্রসারিত কর।
فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّى بَرِىٓءٌۭ مِّمَّا تَعْمَلُونَ ٢١٦
ফাইন ‘আসাওকা ফাকুল ইন্নী বারীউম মিম্মা তা‘মালূন
তারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তাহলে তুমি বলে দাও- তোমরা যা কর তার সঙ্গে আমি সম্পর্কহীন।
وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ ٢١٧
ওয়াতাওয়াক্কাল ‘আলাল ‘আযীযির রাহীম
আর তুমি প্রবল পরাক্রান্ত পরম দয়ালুর উপর নির্ভর কর;
ٱلَّذِى يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ ٢١٨
আল্লাযী ইয়ারা-কা হীনা তাকূম
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (নামাযের জন্য) দন্ডায়মান হও।
وَتَقَلُّبَكَ فِى ٱلسَّٰجِدِينَ ٢١٩
ওয়াতাকাল্লুবাকা ফিস সা-জিদীন
আর (তিনি দেখেন) সাজদাকারীদের সঙ্গে তোমার চলাফিরা।
إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ٢٢٠
ইন্নাহূ হুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম
তিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।
هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ ٱلشَّيَٰطِينُ ٢٢١
হাল উনাব্বিউকুম ‘আলা মান তানায্যালুশ শায়া-তীন
আমি কি তোমাদেরকে জানাব কাদের নিকট শয়ত্বানরা অবতীর্ণ হয়।
تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍۢ ٢٢٢
তানায্যালু ‘আলা কুল্লি আফ-ফা-কিন আছীম
তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি চরম মিথ্যুক ও পাপীর নিকট।
يُلْقُونَ ٱلسَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَٰذِبُونَ ٢٢٣
ইউলকূনাস সাম‘আ ওয়াআকছারুহুম কা-যিবূন
ওরা কান পেতে থাকে আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
وَٱلشُّعَرَآءُ يَتَّبِعُهُمُ ٱلْغَاوُۥنَ ٢٢٤
ওয়াশ্শু‘আরা-উ ইয়াত্তাবি‘উহুমুল গা-ঊন
বিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে,
أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِى كُلِّ وَادٍۢ يَهِيمُونَ ٢٢٥
আলাম তারা আন-নাহুম ফী কুল্লি ওয়া-দিঁ ইয়াহীমূন
তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?
وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ ٢٢٦
ওয়াআন্নাহুম ইয়াকূলূনা মা লা ইয়াফ‘আলূন
আর তারা যা বলে তা তারা নিজেরা করে না।
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَذَكَرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًۭا وَٱنتَصَرُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا۟ ۗ وَسَيَعْلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ أَىَّ مُنقَلَبٍۢ يَنقَلِبُونَ ٢٢٧
ইল্লাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি ওয়াযাকারুল্লা-হা কাছীরাঁ ওয়ানতাসারূ মিম বা‘দি মা যুলিমূ ওয়াসায়া‘লামুল লাযীনা যালামূ আইয়্যা মুনকালাবিঁ ইয়ানকালিবূন
কিন্তু ওরা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আর আল্লাহকে খুব বেশি স্মরণ করে আর নির্যাতিত হওয়ার পর নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে। যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ (মহা সংকটময়) জায়গায় তারা ফিরে যাচ্ছে।
النمل
সূরা আন-নামল
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
طسٓ ۚ تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْقُرْءَانِ وَكِتَابٍۢ مُّبِينٍ ١
ত্বা সী-ন তিলকা আ-য়া-তুল কুরআ-নি ওয়াকিতা-বিম মুবীন
তা-সীন, এগুলো কুরআনের আয়াত ও সুস্পষ্ট কিতাবের;
هُدًۭى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ ٢
হুদাঁ ওয়াবুশরা লিলমু’মিনীন
মু’মিনদের জন্য পথের দিশা ও সুসংবাদ
ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُم بِٱلْءَاخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ٣
আল্লাযীনা ইউকীমূনাস সালা-তা ওয়াইউ’তূনায যাকা-তা ওয়াহুম বিলআ-খিরাতি হুম ইউকিনূন
যারা নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে আর তারা আখিরাতে বিশ্বাসী।
إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِ زَيَّنَّا لَهُمْ أَعْمَٰلَهُمْ فَهُمْ يَعْمَهُونَ ٤
ইন্নাল লাযীনা লা ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি যাইয়্যান্না লাহুম আ‘মা-লাহুম ফাহুম ইয়া‘মাহূন
যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের (চোখে) তাদের কর্মকান্ডকে আমি সুশোভিত করেছি, কাজেই তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়,
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَهُمْ سُوٓءُ ٱلْعَذَابِ وَهُمْ فِى ٱلْءَاخِرَةِ هُمُ ٱلْأَخْسَرُونَ ٥
উলা-ইকাল লাযীনা লাহুম সূউল ‘আযা-বি ওয়াহুম ফিল আ-খিরাতি হুমুল আখসারূন
এরাই হল যাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি আর এরাই আখিরাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।
وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى ٱلْقُرْءَانَ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ ٦
ওয়াইন্নাকা লাতুলাক্কাল কুরআ-না মিল লাদুন হাকীমিন ‘আলীম
নিশ্চয় তোমাকে কুরআন দেয়া হয়েছে মহাবিজ্ঞ সর্বজ্ঞের নিকট হতে।
إِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِأَهْلِهِۦٓ إِنِّىٓ ءَانَسْتُ نَارًۭا سَـَٔاتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ ءَاتِيكُم بِشِهَابٍۢ قَبَسٍۢ لَّعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ ٧
ইয কা-লা মূসা লিআহলিহী ইন্নী আ-নাসতু না-রান সাআ-তীকুম মিনহা বিখাবারিন আও আ-তীকুম বিশিহা-বিন কাবাসিল লা‘আল্লাকুম তাসতালূন
স্মরণ কর যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল- ‘আমি আগুন দেখেছি, কাজেই আমি শীঘ্রই সেখান থেকে তোমাদের জন্য খবর নিয়ে আসব কিংবা তোমাদের কাছে জ্বলন্ত আগুন নিয়ে আসব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।’
فَلَمَّا جَآءَهَا نُودِىَ أَنۢ بُورِكَ مَن فِى ٱلنَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَٰنَ ٱللَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٨
ফালাম্মা জা-আহা নূদিয়া আম বূরিকা মান ফিন না-রি ওয়ামান হাওলাহা ওয়াসুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন
অতঃপর সে যখন আগুনের কাছে আসল তখন আওয়াজ হল- ‘ধন্য, যারা আছে এই আলোর মধ্যে আর তার আশেপাশে, বিশ্বজাহানের প্রতিপালক পবিত্র, মহিমান্বিত।
يَٰمُوسَىٰٓ إِنَّهُۥٓ أَنَا ٱللَّهُ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٩
ইয়া-মূসা- ইন্নাহূ আনাল্লা-হুল ‘আযীযুল হাকীম
হে মূসা! আমি মহা পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময় আল্লাহ।
وَأَلْقِ عَصَاكَ ۚ فَلَمَّا رَءَاهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَآنٌّۭ وَلَّىٰ مُدْبِرًۭا وَلَمْ يُعَقِّبْ ۚ يَٰمُوسَىٰ لَا تَخَفْ إِنِّى لَا يَخَافُ لَدَىَّ ٱلْمُرْسَلُونَ ١٠
ওয়াআলকি ‘আসা-ক ফালাম্মা রাআ-হা তাহতায্যু কাআন্নাহা জা-ন্নুঁ ওয়াল্লা মুদবিরাঁ ওয়ালাম ইউ‘আক্কিব ইয়া-মূসা লা তাখাফ ইন্নী লা ইয়াখা-ফু লাদাইয়্যাল মুরসালূন
তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর; অতঃপর যখন সে ওটাকে ছুটাছুটি করতে দেখল যেন ওটা একটা সাপ, তখন সে পেছনের দিকে ছুটতে লাগল এবং ফিরেও দেখল না। (তখন বলা হল) হে মূসা! তুমি ভয় করো না, নিশ্চয়ই আমার কাছে রসূলগণ ভয় পায় না।
إِلَّا مَن ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًۢا بَعْدَ سُوٓءٍۢ فَإِنِّى غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١١
ইল্লা মান যালামা ছুম্মা বাদ্দালা হুসনাম বা‘দা সূইন ফাইন্নী গাফূরুর রাহীম
তবে যে অত্যাচার করে অতঃপর মন্দ কাজের পরিবর্তে সৎ কাজ করে, তাহলে নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِى جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَآءَ مِنْ غَيْرِ سُوٓءٍۢ ۖ فِى تِسْعِ ءَايَٰتٍ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِۦٓ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَوْمًۭا فَٰسِقِينَ ١٢
ওয়াআদখিল ইয়াদাকা ফী জাইবিকা তাখরুজ বাইদা-আ মিন গাইরি সূইন ফী তিস‘ই আ-য়া-তিন ইলা ফির‘আওনা ওয়াকাওমিহ ইন্নাহুম কা-নূ কাওমান ফা-সিকীন
আর তুমি তোমার হাত বগলে ঢুকাও, তা শুভ্র হয়ে বের হয়ে আসবে দোষমুক্ত অবস্থায়, তা হল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের নিকট নিয়ে আসা নয়টি নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।
فَلَمَّا جَآءَتْهُمْ ءَايَٰتُنَا مُبْصِرَةًۭ قَالُوا۟ هَٰذَا سِحْرٌۭ مُّبِينٌۭ ١٣
ফালাম্মা জা-আতহুম আ-য়া-তুনা মুবসিরাতান কা-লূ হা-যা সিহরুম মুবীন
অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার দৃশ্যমান নিদর্শন আসল, তারা বলল- ‘এটা স্পষ্ট যাদু।
وَجَحَدُوا۟ بِهَا وَٱسْتَيْقَنَتْهَآ أَنفُسُهُمْ ظُلْمًۭا وَعُلُوًّۭا ۚ فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُفْسِدِينَ ١٤
ওয়াজাহাদূ বিহা ওয়াসতাইকানাতহা- আনফুসুহুম যুলমাঁ ওয়া‘উলুওয়া ফানযুর কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুফসিদীন
তারা অন্যায় ঔদ্ধত্যভরে নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করল যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখ, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল!
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا دَاوُۥدَ وَسُلَيْمَٰنَ عِلْمًۭا ۖ وَقَالَا ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٍۢ مِّنْ عِبَادِهِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٥
ওয়ালাকাদ আ-তাইনা দা-ঊদা ওয়াসুলাইমা-না ‘ইলমাঁ ওয়াকা-লাল হামদু লিল্লা-হিল লাযী ফাদ্দালানা ‘আলা কাছীরিম মিন ‘ইবা-দিহিল মু’মিনীন
আমি দাঊদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তারা উভয়ে বলেছিল, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর বহু মু’মিন বান্দাদের উপর আমাদেরকে মর্যাদা দান করেছেন।’
وَوَرِثَ سُلَيْمَٰنُ دَاوُۥدَ ۖ وَقَالَ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ ٱلطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَىْءٍ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْفَضْلُ ٱلْمُبِينُ ١٦
ওয়াওয়ারিছা সুলাইমা-নু দা-ঊদা ওয়াকা-লা ইয়া-আইয়্যুহান না-সু ‘উল্লিমনা মানতিকাত তাইরি ওয়াঊতীনা মিন কুল্লি শাইইন ইন্না হা-যা লাহুওয়াল ফাদলুল মুবীন
সুলাইমান দাঊদের উত্তরাধিকারী হয়েছিল। সে বলেছিল- ‘হে মানুষেরা! আমাকে পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে আর আমাদেরকে সব কিছু দেয়া হয়েছে, এটা (আল্লাহর পক্ষ হতে) অবশ্যই সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’
وَحُشِرَ لِسُلَيْمَٰنَ جُنُودُهُۥ مِنَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِ وَٱلطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ ١٧
ওয়াহুশিরা লিসুলাইমা-না জুনূদুহূ মিনাল জিন্নি ওয়ালইনসি ওয়াত্তাইরি ফাহুম ইউযা‘ঊন
সুলাইমানের সামনে তার সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল, জ্বিন, মানুষ ও পক্ষীকুলকে; অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন বুহ্যে বিন্যস্ত করা হল।
حَتَّىٰٓ إِذَآ أَتَوْا۟ عَلَىٰ وَادِ ٱلنَّمْلِ قَالَتْ نَمْلَةٌۭ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّمْلُ ٱدْخُلُوا۟ مَسَٰكِنَكُمْ لَا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَٰنُ وَجُنُودُهُۥ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ١٨
হাত্তা- ইযা- আতাও ‘আলা ওয়া-দিন নামলি কা-লাত নামলাতুঁ ইয়া-আইয়্যুহান নামলুদখুলূ মাসা-কিনাকুম লা ইয়াহতিমান্নাকুম সুলাইমা-নু ওয়াজুনূদুহূ ওয়াহুম লা ইয়াশ‘উরূন
যখন তারা পিপীলিকার উপত্যকায় আসল তখন একটি পিপীলিকা বলল- ‘ওহে পিঁপড়ার দল! তোমাদের বাসস্থানে ঢুকে পড়, যাতে সুলাইমান ও তার সৈন্যবাহিনী তাদের অগোচরে তোমাদেরকে পদপিষ্ট ক’রে না ফেলে।
فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًۭا مِّن قَوْلِهَا وَقَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلَىٰ وَٰلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَٰلِحًۭا تَرْضَىٰهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١٩
ফাতাবাস্সামা দা-হিকাম মিন কাওলিহা ওয়াকা-লা রাব্বি আওযি‘নী আন আশকুরা নি‘মাতাকাল লাতী আন‘আমতা ‘আলাইয়্যা ওয়া‘আলা ওয়া-লিদাইয়্যা ওয়াআন আ‘মালা সা-লিহান তারদা-হু ওয়াআদখিলনী বিরাহমাতিকা ফী ‘ইবা-দিকাস সা-লিহীন
সুলাইমান তার কথায় খুশিতে মুচকি হাসল আর বলল- ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি ও আমার পিতামাতার প্রতি যে অনুগ্রহ দান করেছ তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আমাকে শক্তি দান কর আর যাতে এমন সৎকাজ করতে পারি যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও আর তোমার দয়ায় আমাকে তোমার সৎকর্মশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।’
وَتَفَقَّدَ ٱلطَّيْرَ فَقَالَ مَا لِىَ لَآ أَرَى ٱلْهُدْهُدَ أَمْ كَانَ مِنَ ٱلْغَآئِبِينَ ٢٠
ওয়াতাফাক্কাদাত তাইরা ফাকা-লা মা লিয়া লা- আরাল হুদহুদা আম কা-না মিনাল গা-ইবীন
অতঃপর সুলাইমান পাখীদের খোঁজ খবর নিল। সে বলল, কী ব্যাপার, হুদহুদকে তো দেখছি না, নাকি সে অনুপস্থিত?
لَأُعَذِّبَنَّهُۥ عَذَابًۭا شَدِيدًا أَوْ لَأَا۟ذْبَحَنَّهُۥٓ أَوْ لَيَأْتِيَنِّى بِسُلْطَٰنٍۢ مُّبِينٍۢ ٢١
লাউ‘আয্যিবান্নাহূ ‘আযা-বান শাদীদান আও লাআযবাহান্নাহূ আও লায়া’তিয়ান্নী বিসুলতা-নিম মুবীন
আমি তাকে অবশ্য অবশ্যই শাস্তি দেব কঠিন শাস্তি কিংবা তাকে অবশ্য অবশ্যই হত্যা করব অথবা সে অবশ্য অবশ্যই আমাকে তার (অনুপস্থিতির) উপযুক্ত কারণ দর্শাবে।’
فَمَكَثَ غَيْرَ بَعِيدٍۢ فَقَالَ أَحَطتُ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهِۦ وَجِئْتُكَ مِن سَبَإٍۭ بِنَبَإٍۢ يَقِينٍ ٢٢
ফামাকাছা গাইরা বা‘ঈদিন ফাকা-লা আহাততু বিমা লাম তুহিত বিহী ওয়াজি’তুকা মিন সাবাইম বিনাবাইঁ ইয়াকীন
অতঃপর হুদহুদ অবিলম্বে এসে বলল- ‘আমি যা অবগত হয়েছি আপনি তা অবগত নন, আমি সাবা থেকে নিশ্চিত খবর নিয়ে আপনার কাছে এসেছি।
إِنِّى وَجَدتُّ ٱمْرَأَةًۭ تَمْلِكُهُمْ وَأُوتِيَتْ مِن كُلِّ شَىْءٍۢ وَلَهَا عَرْشٌ عَظِيمٌۭ ٢٣
ইন্নী ওয়াজাত্তুমরাআতান তামলিকুহুম ওয়াঊতিয়াত মিন কুল্লি শাইইঁ ওয়ালাহা ‘আরশুন ‘আযীম
আমি দেখলাম এক নারী তাদের উপর রাজত্ব করছে আর তাকে সব কিছুই দেয়া হয়েছে আর তার আছে এক বিরাট সিংহাসন।
وَجَدتُّهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ ٱلشَّيْطَٰنُ أَعْمَٰلَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ ٱلسَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ ٢٤
ওয়াজাত্তুহা ওয়াকাওমাহা ইয়াসজুদূনা লিশ্শামসি মিন দূনিল্লা-হি ওয়াযাইয়্যানা লাহুমুশ শাইতা-নু আ‘মা-লাহুম ফাসাদ্দাহুম ‘আনিস সাবীলি ফাহুম লা ইয়াহতাদূন
এবং আমি তাকে আর তার সম্প্রদায়কে দেখলাম আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করতে। শয়ত্বান তাদের কাজকে তাদের জন্য শোভন করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে বাধা দিয়ে রেখেছে কাজেই তারা সৎপথ পায় না।
أَلَّا يَسْجُدُوا۟ لِلَّهِ ٱلَّذِى يُخْرِجُ ٱلْخَبْءَ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ ٢٥
আল্লা ইয়াসজুদূ লিল্লা-হিল লাযী ইউখরিজুল খাবআ ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ায়া‘লামু মা তুখফূনা ওয়ামা তু‘লিনূন
(শয়ত্বান বাধা দিয়ে রেখেছে) যাতে তারা আল্লাহকে সেজদা না করে যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর লুক্কায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন তোমরা যা গোপন কর আর তোমরা যা প্রকাশ কর।
ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْعَظِيمِ ۩ ٢٦
আল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া রাব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম
আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ্ নেই, (তিনি) মহান ‘আরশের অধিপতি।’[সাজদাহ]
۞ قَالَ سَنَنظُرُ أَصَدَقْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ ٱلْكَٰذِبِينَ ٢٧
কা-লা সানানযুরু আসাদাকতা আম কুনতা মিনাল কা-যিবীন
সুলাইমান বলল- ‘এখন আমি দেখব, তুমি সত্য বলেছ, না তুমি মিথ্যেবাদী।
ٱذْهَب بِّكِتَٰبِى هَٰذَا فَأَلْقِهْ إِلَيْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَٱنظُرْ مَاذَا يَرْجِعُونَ ٢٨
ইযহাব বিকিতা-বী হা-যা ফাআলকিহ ইলাইহিম ছুম্মা তাওয়াল্লা ‘আনহুম ফানযুর মা-যা ইয়ারজি‘ঊন
আমার এই পত্র নিয়ে যাও আর এটা তাদের কাছে অর্পণ কর। অতঃপর তাদের কাছ থেকে সরে পড় তারপর দেখ, তারা কী জবাব দেয়।’
قَالَتْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَؤُا۟ إِنِّىٓ أُلْقِىَ إِلَىَّ كِتَٰبٌۭ كَرِيمٌ ٢٩
কা-লাত ইয়া-আইয়্যুহাল মালাউ ইন্নী উলকিয়া ইলাইয়্যা কিতা-বুন কারীম
সেই নারী বলল- ‘ওহে সভাসদগণ! এই যে আমাকে এক সম্মানযোগ্য পত্র দেয়া হয়েছে।
إِنَّهُۥ مِن سُلَيْمَٰنَ وَإِنَّهُۥ بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣٠
ইন্নাহূ মিন সুলাইমা-না ওয়াইন্নাহূ বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম
এটা সুলাইমানের পক্ষ হতে আর তা এই : অসীম দাতা, অতীব দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু,
أَلَّا تَعْلُوا۟ عَلَىَّ وَأْتُونِى مُسْلِمِينَ ٣١
আল্লা তা‘লূ ‘আলাইয়্যা ওয়া’তূনী মুসলিমীন
আমার প্রতি উদ্ধত হয়ো না, অনুগত হয়ে আমার কাছে হাজির হও।
قَالَتْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَؤُا۟ أَفْتُونِى فِىٓ أَمْرِى مَا كُنتُ قَاطِعَةً أَمْرًا حَتَّىٰ تَشْهَدُونِ ٣٢
কা-লাত ইয়া-আইয়্যুহাল মালাউ আফতূনী ফী আমরী মা কুনতু কা-তি‘আতান আমরান হাত্তা তাশহাদূন
সে বলল, ওহে সভাসদরা! তোমরা আমার কর্তব্য সম্পর্কে আমাকে সিদ্ধান্ত দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতীত আমি কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি।’
قَالُوا۟ نَحْنُ أُو۟لُوا۟ قُوَّةٍۢ وَأُو۟لُوا۟ بَأْسٍۢ شَدِيدٍۢ وَٱلْأَمْرُ إِلَيْكِ فَٱنظُرِى مَاذَا تَأْمُرِينَ ٣٣
কা-লূ নাহনু উলূ কুওয়াতিঁ ওয়াউলূ বা’সিন শাদীদিঁ ওয়ালআমরু ইলাইকি ফানযুরী মা-যা তা’মুরীন
তারা বলল- ‘আমরা শক্তির অধিকারী ও কঠোর যোদ্ধা, কিন্তু সিন্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী আপনিই, কাজেই চিন্তা করে দেখুন, আপনি কী আদেশ করবেন।’
قَالَتْ إِنَّ ٱلْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا۟ قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا وَجَعَلُوٓا۟ أَعِزَّةَ أَهْلِهَآ أَذِلَّةًۭ ۖ وَكَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ ٣٤
কা-লাত ইন্নাল মুলূকা ইযা দাখালূ কারইয়াতান আফসাদূহা ওয়াজা‘আলূ আ‘ইয্যাতা আহলিহা- আযিল্লাতাঁ ওয়াকাযা-লিকা ইয়াফ‘আলূন
সে বলল- ‘রাজারা যখন কোন জনপদে ঢুকে তখন বিপর্যয় ডেকে আনে এবং তথাকার সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে অপমানিত করে ছাড়ে আর এরাও তাই করবে।
وَإِنِّى مُرْسِلَةٌ إِلَيْهِم بِهَدِيَّةٍۢ فَنَاظِرَةٌۢ بِمَ يَرْجِعُ ٱلْمُرْسَلُونَ ٣٥
ওয়াইন্নী মুরসিলাতুন ইলাইহিম বিহাদিয়্যাতিন ফানা-যিরাতুম বিমা ইয়ারজি‘উল মুরসালূন
আমি তাঁর কাছে উপঢৌকন পাঠাচ্ছি, তারপর দেখি, দূতেরা কী (জবাব) নিয়ে আসে।’
فَلَمَّا جَآءَ سُلَيْمَٰنَ قَالَ أَتُمِدُّونَنِ بِمَالٍۢ فَمَآ ءَاتَىٰنِۦَ ٱللَّهُ خَيْرٌۭ مِّمَّآ ءَاتَىٰكُم بَلْ أَنتُم بِهَدِيَّتِكُمْ تَفْرَحُونَ ٣٦
ফালাম্মা জা-আ সুলাইমা-না কা-লা আতুমিদ্দূনানি বিমা-লিন ফামা- আ-তা-নিল্লা-হু খাইরুম মিম্মা- আ-তা-কুম বাল আনতুম বিহাদিয়্যাতিকুম তাফরাহূন
অতঃপর দূতরা যখন সুলাইমানের কাছে আসল, সুলাইমান বলল- ‘তোমরা কি আমাকে সম্পদ দিয়ে সাহায্য করছ, কিন্তু আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে উত্তম, বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে আনন্দ কর।
ٱرْجِعْ إِلَيْهِمْ فَلَنَأْتِيَنَّهُم بِجُنُودٍۢ لَّا قِبَلَ لَهُم بِهَا وَلَنُخْرِجَنَّهُم مِّنْهَآ أَذِلَّةًۭ وَهُمْ صَٰغِرُونَ ٣٧
ইরজি‘ ইলাইহিম ফালানা’তিয়ান্নাহুম বিজুনূদিল লা কিবালা লাহুম বিহা ওয়ালানুখরিজান্নাহুম মিনহা- আযিল্লাতাঁ ওয়াহুম সা-গিরূন
তাদের কাছে ফিরে যাও, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে এক সেনাবাহিনী নিয়ে আসব যার মুকাবালা করার শক্তি তাদের নেই, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে অপমানিত করে সেখানে থেকে বের করে দেব আর তারা হবে অপদস্থ।’
قَالَ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَؤُا۟ أَيُّكُمْ يَأْتِينِى بِعَرْشِهَا قَبْلَ أَن يَأْتُونِى مُسْلِمِينَ ٣٨
কা-লা ইয়া-আইয়্যুহাল মালাউ আইয়্যুকুম ইয়া’তীনী বি‘আরশিহা কাবলা আন ইয়া’তূনী মুসলিমীন
সুলাইমান বলল- ‘হে সভাসদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পণ করে আসার আগে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার নিকট নিয়ে আসবে?’
قَالَ عِفْرِيتٌۭ مِّنَ ٱلْجِنِّ أَنَا۠ ءَاتِيكَ بِهِۦ قَبْلَ أَن تَقُومَ مِن مَّقَامِكَ ۖ وَإِنِّى عَلَيْهِ لَقَوِىٌّ أَمِينٌۭ ٣٩
কা-লা ‘ইফরীতুম মিনাল জিন্নি আনা আ-তীকা বিহী কাবলা আন তাকূমা মিম মাকা-মিকা ওয়াইন্নী ‘আলাইহি লাকাউইয়্যুন আমীন
এক শক্তিধর জ্বিন বলল- ‘আপনি আপনার জায়গা থেকে উঠবার আগে আমি তা আপনার কাছে এনে দেব, এ কাজে আমি অবশ্যই ক্ষমতার অধিকারী ও আস্থাভাজন।
قَالَ ٱلَّذِى عِندَهُۥ عِلْمٌۭ مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ أَنَا۠ ءَاتِيكَ بِهِۦ قَبْلَ أَن يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ ۚ فَلَمَّا رَءَاهُ مُسْتَقِرًّا عِندَهُۥ قَالَ هَٰذَا مِن فَضْلِ رَبِّى لِيَبْلُوَنِىٓ ءَأَشْكُرُ أَمْ أَكْفُرُ ۖ وَمَن شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّى غَنِىٌّۭ كَرِيمٌۭ ٤٠
কা-লাল লাযী ‘ইনদাহূ ‘ইলমুম মিনাল কিতা-বি আনা আ-তীকা বিহী কাবলা আন ইয়ারতাদ্দা ইলাইকা তারফুক ফালাম্মা রাআ-হু মুসতাকির্রান ‘ইনদাহূ কা-লা হা-যা মিন ফাদলি রাব্বী লিয়াবলুওয়ানী আআশকুরু আম আকফুরু ওয়ামান শাকারা ফাইন্নামা ইয়াশকুরু লিনাফসিহী ওয়ামান কাফারা ফাইন্না রাব্বী গানিয়্যুন কারীম
যার কাছে কিতাবের (তাওরাতের) জ্ঞান ছিল সে বলল- ‘আপনার দৃষ্টি আপনার দিকে ফিরে আসার পূর্বেই আমি তা আপনার কাছে এনে দেব।’ সুলাইমান যখন তা তার সামনে রক্ষিত দেখতে পেল তখন সে বলল- ‘এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ, আমাকে পরীক্ষা করার জন্য- আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞ হই। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে নিজের কল্যাণেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর যে অকৃতজ্ঞ হয় (সে জেনে রাখুক), নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অভাবমুক্ত, মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ।’
قَالَ نَكِّرُوا۟ لَهَا عَرْشَهَا نَنظُرْ أَتَهْتَدِىٓ أَمْ تَكُونُ مِنَ ٱلَّذِينَ لَا يَهْتَدُونَ ٤١
কা-লা নাক্কিরূ লাহা ‘আরশাহা নানযুর আতাহতাদী আম তাকূনু মিনাল লাযীনা লা ইয়াহতাদূন
সুলাইমান বলল- ‘তার সিংহাসনের আকৃতি বদলে দাও, অতঃপর আমরা দেখি, সে (তার নিজের পৌঁছার পূর্বেই আলৌকিকভাবে তার সিংহাসন সুলায়মানের দরবারে রক্ষিত দেখে সত্য) পথের দিশা পায়, না যারা পথের দিশা পায় না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।
فَلَمَّا جَآءَتْ قِيلَ أَهَٰكَذَا عَرْشُكِ ۖ قَالَتْ كَأَنَّهُۥ هُوَ ۚ وَأُوتِينَا ٱلْعِلْمَ مِن قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ ٤٢
ফালাম্মা জা-আত কীলা আহা-কাযা ‘আরশুকি কা-লাত কাআন্নাহূ হুও ওয়াঊতীনাল ‘ইলমা মিন কাবলিহা ওয়াকুন্না মুসলিমীন
যখন সে নারী আসল তখন তাকে বলা হল- ‘এটা কি তোমার সিংহাসন?’ সে বলল, ‘এটা যেন সেটাই, আমাদেরকে এর আগেই (আপনার সম্পর্কে) জ্ঞান দান করা হয়েছে আর আমরা আত্মসমর্পণ করেছি।
وَصَدَّهَا مَا كَانَت تَّعْبُدُ مِن دُونِ ٱللَّهِ ۖ إِنَّهَا كَانَتْ مِن قَوْمٍۢ كَٰفِرِينَ ٤٣
ওয়াসাদ্দাহা মা কা-নাত তা‘বুদু মিন দূনিল্লা-হি ইন্নাহা কা-নাত মিন কাওমিন কা-ফিরীন
আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত তাই তাকে সত্য পথে চলা থেকে বাধা দিয়ে রেখেছিল, সে নারী ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
قِيلَ لَهَا ٱدْخُلِى ٱلصَّرْحَ ۖ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةًۭ وَكَشَفَتْ عَن سَاقَيْهَا ۚ قَالَ إِنَّهُۥ صَرْحٌۭ مُّمَرَّدٌۭ مِّن قَوَارِيرَ ۗ قَالَتْ رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَٰنَ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٤٤
কীলা লাহাদখুলিস সারহা ফালাম্মা রাআতহু হাসিবাতহু লুজ্জাতাঁ ওয়াকাশাফাত ‘আন সা-কাইহা কা-লা ইন্নাহূ সারহুম মুমার্রাদুম মিন কাওয়া-রীর কা-লাত রাব্বি ইন্নী যালামতু নাফসী ওয়াআসলামতু মা‘আ সুলাইমা-না লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন
তাকে বলা হল- ‘প্রাসাদে প্রবেশ কর।’ যখন সে তা দেখল, সে ওটাকে পানির হ্রদ মনে করল এবং সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। সুলাইমান বলল- ‘এটা তো স্বচ্ছ কাঁচমন্ডিত প্রাসাদ। সে নারী বলল- হে আমার প্রতিপালক! আমি অবশ্যই নিজের প্রতি যুলম করেছি আর আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করছি।’
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَآ إِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَٰلِحًا أَنِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ ٤٥
ওয়ালাকাদ আরসালনা- ইলা ছামূদা আখা-হুম সা-লিহান আনি‘বুদুল্লা-হা ফাইযা হুম ফারীকা-নি ইয়াখতাসিমূন
আমি সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম (এই আদেশ দিয়ে যে) তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর। অতঃপর তারা দু’ভাগ হয়ে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল।
قَالَ يَٰقَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِٱلسَّيِّئَةِ قَبْلَ ٱلْحَسَنَةِ ۖ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ٤٦
কা-লা ইয়া-কাওমি লিমা তাসতা‘জিলূনা বিস্সাইয়্যিআতি কাবলাল হাসানাতি লাওলা তাসতাগফিরূনাল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন
সালিহ্ বলল- ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কল্যাণের পূর্বে দ্রুত অকল্যাণ কামনা করছ কেন? তোমরা কেন আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর না যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও?’
قَالُوا۟ ٱطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ ۚ قَالَ طَٰٓئِرُكُمْ عِندَ ٱللَّهِ ۖ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌۭ تُفْتَنُونَ ٤٧
কা-লুত তাইয়্যারনা বিকা ওয়াবিমাম মা‘আক কা-লা তা-ইরুকুম ‘ইনদাল্লা-হি বাল আনতুম কাওমুন তুফতানূন
তারা বলল- আমরা তোমাকে আর তোমার সঙ্গে যারা আছে তাদেরকে অকল্যাণের কারণ ব’লে মনে করি।’ সে বলল- ‘তোমাদের অকল্যাণ আল্লাহর নিকট, বরং তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
وَكَانَ فِى ٱلْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍۢ يُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ ٤٨
ওয়াকা-না ফিল মাদীনাতি তিস‘আতু রাহতিঁ ইউফসিদূনা ফিল আরদি ওয়ালা ইউসলিহূন
আর সেই শহরে ছিল নয় ব্যক্তি যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করত আর তারা সংশোধন করত না।
قَالُوا۟ تَقَاسَمُوا۟ بِٱللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُۥ وَأَهْلَهُۥ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيِّهِۦ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ أَهْلِهِۦ وَإِنَّا لَصَٰدِقُونَ ٤٩
কা-লূ তাকা-সামূ বিল্লা-হি লানুবাইয়্যিতান্নাহূ ওয়াআহলাহূ ছুম্মা লানাকূলান্না লিওয়ালিয়্যিহী মা শাহিদনা মাহলিকা আহলিহী ওয়াইন্না লাসা-দিকূন
তারা বলল- ‘তোমরা আল্লাহর নামে শপথ কর যে, তোমরা রাত্রিযোগে তাকে আর তার পরিবারবর্গকে অবশ্য অবশ্যই আক্রমণ করবে, অতঃপর আমরা তার অভিভাবককে অবশ্য অবশ্যই বলব, আমরা তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড প্রত্যক্ষ করিনি। আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’
وَمَكَرُوا۟ مَكْرًۭا وَمَكَرْنَا مَكْرًۭا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ٥٠
ওয়ামাকারূ মাকরাঁ ওয়ামাকারনা মাকরাঁ ওয়াহুম লা ইয়াশ‘উরূন
তারা এক চক্রান্ত করেছিল আর আমিও এক কৌশল অবলম্বন করেছিলাম, কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।
فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ مَكْرِهِمْ أَنَّا دَمَّرْنَٰهُمْ وَقَوْمَهُمْ أَجْمَعِينَ ٥١
ফানযুর কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতু মাকরিহিম আন-না দাম্মারনা-হুম ওয়াকাওমাহুম আজমা‘ঈন
অতঃপর দেখ তাদের চক্রান্তের পরিণতি কেমন হয়েছিল? আমিই তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে, সকলকে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
فَتِلْكَ بُيُوتُهُمْ خَاوِيَةًۢ بِمَا ظَلَمُوٓا۟ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يَعْلَمُونَ ٥٢
ফাতিলকা বুইউতুহুম খা-উইয়াতাম বিমা যালামূ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিঁ ইয়া‘লামূন
এই তো তাদের ঘরদোর সম্পূর্ণ উজাড়, কারণ তারা বাড়াবাড়ি করেছিল। এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে।
وَأَنجَيْنَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَكَانُوا۟ يَتَّقُونَ ٥٣
ওয়াআনজাইনাল লাযীনা আ-মানূ ওয়াকা-নূ ইয়াত্তাকূন
আর যারা ঈমান এনেছিল ও (আল্লাহকে) ভয় করত তাদেরকে রক্ষা করেছিলাম।
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦٓ أَتَأْتُونَ ٱلْفَٰحِشَةَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ ٥٤
ওয়ালূতান ইয কা-লা লিকাওমিহী আতা’তূনাল ফা-হিশাতা ওয়াআনতুম তুবসিরূন
স্মরণ কর লূতের কথা, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল- তোমরা দেখে-শুনে কেন অশ্লীল কাজ করছ,
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ ٱلرِّجَالَ شَهْوَةًۭ مِّن دُونِ ٱلنِّسَآءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌۭ تَجْهَلُونَ ٥٥
আইন্নাকুম লাতা’তূনার রিজা-লা শাহওয়াতাম মিন দূনিন নিসা-আ বাল আনতুম কাওমুন তাজহালূন
তোমরা কি কাম আসক্তি মিটানোর জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের নিকট গমন কর? তোমরা এমন এক জাতি যারা মূর্খের আচরণ করছ।