। উম্মুল ফযল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। অসুখের কারণে এ সময়ে তার মাথায় পট্টি বাধা ছিল। তিনি মাগরিবের নামায আদায় করলেন এবং তাতে সূরা “ওয়াল মুরসালাত" পাঠ করলেন তারপর তিনি মহান আল্লাহ তা'আলার সাথে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আর কখনও এ সূরা পাঠ করেননি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮৩১), বুখারী ও মুসলিম এ অনুচ্ছেদে যুবাইর ইবনু মুতঈম, ইবনু উমার, আবু আইউব ও যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ উম্মুল ফযলের হাদীসটি হাসান সহীহ। বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের উভয় রাকআতে সূরা আল-আরাফ হতেও পাঠ করেছেন। আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি মাগরিবের নামাযে সূরা তুর পাঠ করেছেন। উমার (রাঃ) মাগরিবের নামাযে ছোট সূরা (কিসারি মুফাসসাল) পাঠ করার জন্য আবু মূসা (রাঃ)-কে নির্দেশ পাঠান। আবু বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি মাগরিবের নামাযে ছোট আকারের সূরা পাঠ করতেন। ইমাম তিরমিয়ী বলেন, বিশেষজ্ঞ ‘আলিমগণ এরকমই 'আমল করেছেন। ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক এরকমই বলেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, ইমাম মালিক মাগরিবের নামাযে সূরা তুর, মুরসালাত ইত্যাদির মত লম্বা সূরা পাঠ করা মাকরূহ জানতেন। শাফিঈ আরো বলেন, আমি মাগরিবের নামাযে এ ধরনের লম্বা সূরা পাঠ করা মাকরূহ মনে করি না, বরং মুস্তাহাব মনে করি।
Umm Al-Fadl narrated:"Allah's Messenger came out to us with his head bandaged from his illness. He prayed Maghrib, reciting (Surat) Al-Mursalat." [She said:] "He did not pray it again until he met Allah the Might and Sublime
। জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর এবং আসরের নামাযে সূরা “ওয়াস সামায়ি যাতিল বুরূজ’, ‘ওয়াস সামায়ি ওয়াত তারিকু এ ধরনের (আকার বিশিষ্ট) সূরা পাঠ করতেন। —হাসান সহীহ। সিফাতুস সালাত— (৯৪), সহীহ আবু দাউদ- (৭৬৭)। এ অনুচ্ছেদে খাব্বাব, আবু সাঈদ, আবু কাতাদা, যাইদ ইবনু সাবিত ও বারাআ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ জাবির ইবনু সামুরার হাদীসটি হাসান সহীহ্। এক বর্ণনায় আছে, সাজদা’র মত লম্বা সূরা পাঠ করেছেন। অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি যুহরের প্রথম রাকআতে তিরিশ আয়াত পরিমাণ এবং দ্বিতীয় রাকআতে পনের আয়াত পরিমাণ কিরাআত পাঠ করতেন। উমার (রাঃ) হতেও বর্ণিত আছে, তিনি আবু মূসা (রাঃ)-কে লিখে পাঠানঃ যুহরের নামাযে মধ্যম (আওসাতে মুফাসসাল) ধরনের সূরা পাঠ কর। কিছু বিদ্বান আসরের নামাযে মাগরিবের নামাযের মত সূরা অর্থাৎ কিসারি মুফাসসাল ধরনের সূরা পাঠ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইবরাহীম নাখঈ বলেছেন, আসরের নামাযের কিরা'আত মাগরিবের নামাযের কিরা'আতের সমান হবে। তিনি আরো বলেছেন, যুহরের নামাযের কিরা'আত আসরের কিরা'আতের চার গুণ লম্বা হবে।
Jabir bin Samurah narrated:"For Zuhr and Asr, Allah's Messenger would recite: By the heavens, holding the Buruj and (By the heavens and At-Tariq) and similar to them
حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْعِشَاءِ الآخِرَةِ بِالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَنَحْوِهَا مِنَ السُّوَرِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ بُرَيْدَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَرَأَ فِي الْعِشَاءِ الآخِرَةِ بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ . وَرُوِيَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ فِي الْعِشَاءِ بِسُوَرٍ مِنْ أَوْسَاطِ الْمُفَصَّلِ نَحْوِ سُورَةِ الْمُنَافِقِينَ وَأَشْبَاهِهَا . وَرُوِيَ عَنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ أَنَّهُمْ قَرَءُوا بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا وَأَقَلَّ فَكَأَنَّ الأَمْرَ عِنْدَهُمْ وَاسِعٌ فِي هَذَا . وَأَحْسَنُ شَيْءٍ فِي ذَلِكَ مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَرَأَ بِالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ .
। আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (বুরাইদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামাযে ‘ওয়াশ-শামসি ওয়া যুহাহা’ ও এ ধরনের সূরাগুলো পাঠ করতেন। —সহীহ। সিফাতুস সালাত- (৯৭)। আবু ঈসা বলেনঃ বুরাইদার হাদীসটি হাসান। এ অনুচ্ছেদে বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামাযে ‘ওয়াত-তীনি ওয়ায-যাইতুন সূরা পাঠ করেছেন। উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) ইশার নামাযে সূরা আল-মুনাফিকূন ও অনুরূপ ধরনের আওসাতি মুফাফসাল সূরা পাঠ করতেন। অন্যান্য সাহাবা ও তাবিঈদের প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, তারা কখনও উল্লেখিত পরিমাণের বেশিও পাঠ করেছেন আবার কখনও কম পাঠ করেছেন। তাদের মতে, সূরা পাঠের আকার-আয়তন ও পরিধি ব্যাপক। সূরা-কিরা'আত বড় বা ছোট করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ)-এর বর্ণনাটি সবচাইতে ভাল। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামাযে ‘ওয়াশ-শামসি ওয়া যুহাহা’ ও ‘ওয়াত-তীনি ওয়ায-যাইতুন সূরা পাঠ করেছেন।
Abdullah bin Buraidah narrated that his father (Buraidah) said:"Allah's Messenger would recite: By the sun and its brightness, or similar Surah for the latter Isha (prayer)
। কুতবা ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফযরের প্রথম রাকআতে ওয়ান-নাখলা বাসিকাতিন’ (সূরা কাফ) পাঠ করতে শুনেছি। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৮১৬)। এ অনুচ্ছেদে আমর ইবনু হুরাইস, জাবির ইবনু সামুরা, ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সায়িব, আবু বারযা ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ কুতবা ইবনু মালিকের হাদীসটি হাসান সহীহ। অপর এক বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালের নামাযে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করেছেন। অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি ফযরের নামাযে ষাট হতে একশো আয়াত পাঠ করতেন। আর এক বর্ণনায় আছে, তিনি “ইযাশ শামসু কুব্বিরাত" সূরা পাঠ করেছেন। বর্ণিত আছে যে, উমার (রাঃ) আবু মূসা (রাঃ)-কে লিখে পাঠালেন, তুমি ফযর নামাযে লম্বা সূরা (তিওয়ালে মুফাসসাল) পাঠ কর। আবু ঈসা বলেনঃ আলিমগণ এর উপরই আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওর, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ একই রকম অভিমত দিয়েছেন।
Qutbah bin Malik narrated:"I heard Allah's Messenger reciting for Fajr: And tall date palms in the first Rak'ah