মূল লেখায় যান
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
المدثر

সূরা আল-মুদ্দাসসির

চাদরাবৃত · সূরা নং ৭৪ · ৫৬ আয়াত · ২ রুকু · মাক্কী · পারা ২৯
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمُدَّثِّرُ ١
ইয়া-আইয়্যুহাল মুদ্দাছ্ছির
ওহে বস্ত্র আবৃত (ব্যক্তি)!
قُمْ فَأَنذِرْ ٢
কুম ফাআনযির
ওঠ, সতর্ক কর।
وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ ٣
ওয়ারাব্বাকা ফাকাব্বির
আর তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।
وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ٤
ওয়াছিয়া-বাকা ফাতাহ্হির
তোমার পোশাক পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ।
وَٱلرُّجْزَ فَٱهْجُرْ ٥
ওয়ার্রুজযা ফাহজুর
(যাবতীয়) অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক।
وَلَا تَمْنُن تَسْتَكْثِرُ ٦
ওয়ালা তামনুন তাসতাকছির
(কারো প্রতি) অনুগ্রহ করো না অধিক পাওয়ার উদ্দেশ্যে।
وَلِرَبِّكَ فَٱصْبِرْ ٧
ওয়ালিরাব্বিকা ফাসবির
তোমার প্রতিপালকের (সন্তুষ্টির) জন্য ধৈর্য ধর।
فَإِذَا نُقِرَ فِى ٱلنَّاقُورِ ٨
ফাইযা নুকিরা ফিন না-কূর
যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে,
فَذَٰلِكَ يَوْمَئِذٍۢ يَوْمٌ عَسِيرٌ ٩
ফাযা-লিকা ইয়াওমাইযিঁ ইয়াওমুন ‘আসীর
সেদিনটি হবে বড়ই কঠিন দিন,
عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ غَيْرُ يَسِيرٍۢ ١٠
‘আলাল কা-ফিরীনা গাইরু ইয়াসীর
(যা) কাফিরদের জন্য মোটেই সহজ নয়।
ذَرْنِى وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًۭا ١١
যারনী ওয়ামান খালাকতু ওয়াহীদা
ছেড়ে দাও আমাকে (তার সঙ্গে বুঝাপড়া করার জন্য) যাকে আমি এককভাবে সৃষ্টি করেছি।
وَجَعَلْتُ لَهُۥ مَالًۭا مَّمْدُودًۭا ١٢
ওয়াজা‘আলতু লাহূ মা-লাম মামদূদা
আর তাকে (ওয়ালীদ বিন মুগীরাহকে) দিয়েছি অঢেল ধন-সম্পদ,
وَبَنِينَ شُهُودًۭا ١٣
ওয়াবানীনা শুহূদা
আর অনেক ছেলে যারা সব সময় তার কাছেই থাকে।
وَمَهَّدتُّ لَهُۥ تَمْهِيدًۭا ١٤
ওয়ামাহ্হাত্তু লাহূ তামহীদা
এবং তার জীবনকে করেছি সচ্ছল ও সুগম।
ثُمَّ يَطْمَعُ أَنْ أَزِيدَ ١٥
ছুম্মা ইয়াতমা‘উ আন আযীদ
এর পরও সে লোভ করে যে, আমি তাকে আরো দেই।
كَلَّآ ۖ إِنَّهُۥ كَانَ لِءَايَٰتِنَا عَنِيدًۭا ١٦
কাল্লা- ইন্নাহূ কা-না লিআ-য়া-তিনা ‘আনীদা
কক্ষনো না, সে ছিল আমার নিদর্শনের বিরুদ্ধাচারী।
سَأُرْهِقُهُۥ صَعُودًا ١٧
সাউরহিকুহূ সা‘ঊদা
শীঘ্রই আমি তাকে উঠাব শাস্তির পাহাড়ে (অর্থাৎ তাকে দিব বিপদের উপর বিপদ)।
إِنَّهُۥ فَكَّرَ وَقَدَّرَ ١٨
ইন্নাহূ ফাক্কারা ওয়াকাদ্দার
সে চিন্তা ভাবনা করল এবং সিদ্ধান্ত নিল,
فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ ١٩
ফাকুতিলা কাইফা কাদ্দার
ধ্বংস হোক সে, কীভাবে সে (কুরআনের অলৌকিকতা স্বীকার করার পরও কেবল অহমিকার বশবর্তী হয়ে নবুওয়াতকে অস্বীকার করার) সিদ্ধান্ত নিল!
ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ ٢٠
ছুম্মা কুতিলা কাইফা কাদ্দার
আবারো ধ্বংস হোক সে, সে সিদ্ধান্ত নিল কীভাবে!
ثُمَّ نَظَرَ ٢١
ছুম্মা নাযার
তারপর সে তাকালো।
ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ٢٢
ছুম্মা ‘আবাসা ওয়াবাসার
তারপর ভ্রু কুঁচকালো আর মুখ বাঁকালো।
ثُمَّ أَدْبَرَ وَٱسْتَكْبَرَ ٢٣
ছুম্মা আদবারা ওয়াসতাকবার
তারপর সে পিছনে ফিরল আর অহংকার করল।
فَقَالَ إِنْ هَٰذَآ إِلَّا سِحْرٌۭ يُؤْثَرُ ٢٤
ফাকা-লা ইন হা-যা- ইল্লা সিহরুঁ ইউ’ছার
তারপর বলল- ‘এ তো যাদু ছাড়া আর কিছু নয়, এতো পূর্বে থেকেই চলে আসছে।
إِنْ هَٰذَآ إِلَّا قَوْلُ ٱلْبَشَرِ ٢٥
ইন হা-যা- ইল্লা কাওলুল বাশার
এটা তো মানুষের কথা মাত্র।’
سَأُصْلِيهِ سَقَرَ ٢٦
সাউসলীহি সাকার
শীঘ্রই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করব।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا سَقَرُ ٢٧
ওয়ামা- আদরা-কা মা সাকার
তুমি কি জান জাহান্নামের আগুন কী?
لَا تُبْقِى وَلَا تَذَرُ ٢٨
লা তুবকী ওয়ালা তাযার
তা কাউকে জীবিতও রাখবে না, আর মৃত অবস্থায়ও ছেড়ে দেবে না।
لَوَّاحَةٌۭ لِّلْبَشَرِ ٢٩
লাওয়া-হাতুল লিলবাশার
চামড়া ঝলসে দেবে।
عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ ٣٠
‘আলাইহা তিস‘আতা ‘আশার
সেখানে নিয়োজিত আছে ঊনিশ জন ফেরেশতা।
وَمَا جَعَلْنَآ أَصْحَٰبَ ٱلنَّارِ إِلَّا مَلَٰٓئِكَةًۭ ۙ وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةًۭ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِيَسْتَيْقِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ وَيَزْدَادَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِيمَٰنًۭا ۙ وَلَا يَرْتَابَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۙ وَلِيَقُولَ ٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ وَٱلْكَٰفِرُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلًۭا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ ۚ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ ۚ وَمَا هِىَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْبَشَرِ ٣١
ওয়ামা জা‘আলনা- আসহা-বান না-রি ইল্লা মালা-ইকাতাঁ ওয়ামা জা‘আলনা ‘ইদ্দাতাহুম ইল্লা ফিতনাতাল লিল্লাযীনা কাফারূ লিয়াসতাইকিনাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা ওয়ায়াযদা-দাল লাযীনা আ-মানূ ঈমা-নাঁ ওয়ালা ইয়ারতা-বাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা ওয়ালমু’মিনূনা ওয়ালিয়াকূলাল লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুঁ ওয়ালকা-ফিরূনা মা-যা- আরা-দাল্লা-হু বিহা-যা মাছালা কাযা-লিকা ইউদিল্লুল্লা-হু মান ইয়াশা-উ ওয়ায়াহদী মান ইয়াশা-আ ওয়ামা ইয়া‘লামু জুনূদা রাব্বিকা ইল্লা হুও ওয়ামা হিয়া ইল্লা যিকরা লিলবাশার
আমিই কেবল ফেরেশতাদেরকে জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক করেছি। আর তাদের (এই) সংখ্যাকে কাফিরদের জন্য একটা পরীক্ষা বানিয়ে দিয়েছি (কেননা তারা এ কথা বিশ্বাসই করতে পারবে না যে মাত্র ঊনিশ জন ফেরেশতা বিশাল জাহান্নামের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে) আর যেন কিতাবধারীগণ তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে আর ঈমানদারদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবধারীগণ ও ঈমানদারগণ যেন কোন রকম সন্দেহের মধ্যে না থাকে। যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা আর কাফিররা যাতে বলে উঠে, ‘‘ এ ধরণের কথা দিয়ে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন?’’ এভাবে আল্লাহ যাকে চান গুমরাহ করেন আর যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী (কারা এবং এর স্যখ্যা কত সে) সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। (জাহান্নামের) এ (বর্ণনা দেয়া হল) কেবল মানুষের নসীহত লাভের জন্য।
كَلَّا وَٱلْقَمَرِ ٣٢
কাল্লা ওয়ালকামার
(এটা) কক্ষনো (ভিত্তিহীন) না, চাঁদের কসম,
وَٱلَّيْلِ إِذْ أَدْبَرَ ٣٣
ওয়াল্লাইলি ইয আদবার
রাতের কসম যখন তার অবসান হয়,
وَٱلصُّبْحِ إِذَآ أَسْفَرَ ٣٤
ওয়াস্সুবহি ইযা- আসফার
প্রভাতের কসম- যখন তা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে,
إِنَّهَا لَإِحْدَى ٱلْكُبَرِ ٣٥
ইন্নাহা লাইহদাল কুবার
এই জাহান্নাম বড় বড় বিপদগুলোর একটি,
نَذِيرًۭا لِّلْبَشَرِ ٣٦
নাযীরাল লিলবাশার
মানুষের জন্য সতর্ককারী,
لِمَن شَآءَ مِنكُمْ أَن يَتَقَدَّمَ أَوْ يَتَأَخَّرَ ٣٧
লিমান শা-আ মিনকুম আন ইয়াতাকাদ্দামা আও ইয়াতাআখ্খার
তোমাদের মধ্যে যে (কল্যাণের পথে) এগিয়ে যেতে চায় অথবা পেছনে পড়ে থাকতে চায় তার জন্য
كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ ٣٨
কুল্লু নাফসিম বিমা কাসাবাত রাহীনাহ
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ।
إِلَّآ أَصْحَٰبَ ٱلْيَمِينِ ٣٩
ইল্লা- আসহা-বাল ইয়ামীন
কিন্তু ডান পাশের লোকেরা নয়।
فِى جَنَّٰتٍۢ يَتَسَآءَلُونَ ٤٠
ফী জান্না-তিঁ ইয়াতাসা-আলূন
তারা থাকবে জান্নাতে। তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করবে
عَنِ ٱلْمُجْرِمِينَ ٤١
‘আনিল মুজরিমীন
অপরাধীদের সম্পর্কে
مَا سَلَكَكُمْ فِى سَقَرَ ٤٢
মা সালাকাকুম ফী সাকার
‘কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে গেছে?
قَالُوا۟ لَمْ نَكُ مِنَ ٱلْمُصَلِّينَ ٤٣
কা-লূ লাম নাকু মিনাল মুসাল্লীন
তারা বলবে, ‘আমরা নামায আদায়কারী লোকেদের মধ্যে শামিল ছিলাম না,
وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ ٱلْمِسْكِينَ ٤٤
ওয়ালাম নাকু নুত‘ইমুল মিসকীন
আর মিসকীনদেরকে খাবার খাওয়াতাম না,
وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ ٱلْخَآئِضِينَ ٤٥
ওয়াকুন্না নাখূদু মা‘আল খা-ইদীন
আর আমরা (সত্য পথের পথিকদের) সমালোচনা করতাম সমালোচনাকারীদের সঙ্গে (থেকে)।
وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ ٱلدِّينِ ٤٦
ওয়াকুন্না নুকায্যিবু বিয়াওমিদ দীন
আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।
حَتَّىٰٓ أَتَىٰنَا ٱلْيَقِينُ ٤٧
হাত্তা- আতা-নাল ইয়াকীন
আমাদের নিকট নিশ্চিত বিশ্বাস (অর্থাৎ মৃত্যু) না আসা পর্যন্ত।’
فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَٰعَةُ ٱلشَّٰفِعِينَ ٤٨
ফামা তানফা‘উহুম শাফা-‘আতুশ শা-ফি‘ঈন
তখন সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন কাজে আসবে না।
فَمَا لَهُمْ عَنِ ٱلتَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ ٤٩
ফামা লাহুম ‘আনিত তাযকিরাতি মু‘রিদীন
তাদের হয়েছে কী যে তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে?
كَأَنَّهُمْ حُمُرٌۭ مُّسْتَنفِرَةٌۭ ٥٠
কাআন্নাহুম হুমুরুম মুসতানফিরাহ
তারা যেন ভয়ে সন্ত্রস্ত গাধা,
فَرَّتْ مِن قَسْوَرَةٍۭ ٥١
ফার্রাত মিন কাসওয়ারাহ
সিংহের সামনে থেকে পালাচ্ছে।
بَلْ يُرِيدُ كُلُّ ٱمْرِئٍۢ مِّنْهُمْ أَن يُؤْتَىٰ صُحُفًۭا مُّنَشَّرَةًۭ ٥٢
বাল ইউরীদু কুল্লুমরিইম মিনহুম আন ইউ’তা সুহুফাম মুনাশ্শারাহ
বস্তুতঃ তাদের প্রত্যেকেই চায়, তাকে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) খোলা চিঠি দেয়া হোক (এই মর্মে যে, তোমরা এই নবীকে মেনে নাও)।
كَلَّا ۖ بَل لَّا يَخَافُونَ ٱلْءَاخِرَةَ ٥٣
কাল্লা বাল লা ইয়াখা-ফূনাল আ-খিরাহ
না, তা কক্ষনো হতে পারে না, বরং (কথা এই যে) তারা আখিরাতকে ভয় করে না।
كَلَّآ إِنَّهُۥ تَذْكِرَةٌۭ ٥٤
কাল্লা- ইন্নাহূ তাযকিরাহ
না, তা হতে পারে না, এটা (অর্থাৎ কুরআন সকলের জন্য) উপদেশবাণী।
فَمَن شَآءَ ذَكَرَهُۥ ٥٥
ফামান শা-আ যাকারাহ
এক্ষনে যার ইচ্ছে তাত্থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুক।
وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ ۚ هُوَ أَهْلُ ٱلتَّقْوَىٰ وَأَهْلُ ٱلْمَغْفِرَةِ ٥٦
ওয়ামা ইয়াযকুরূনা ইল্লা- আন ইয়াশা-আল্লা-হ হুওয়া আহলুত তাকওয়া ওয়াআহলুল মাগফিরাহ
আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত কেউ উপদেশ গ্রহণ করবে না, তিনিই ভয়ের যোগ্য, তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।