মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
المزمل

সূরা আল-মুযযাম্মিল

বস্ত্রাবৃত · সূরা নং ৭৩ · ২০ আয়াত · ২ রুকু · মাক্কী · পারা ২৯
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمُزَّمِّلُ ١
ইয়া-আইয়্যুহাল মুয্যাম্মিল
ওহে চাদরে আবৃত (ব্যক্তি)!
قُمِ ٱلَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًۭا ٢
কুমিল লাইলা ইল্লা কালীলা
রাতে নামাযে দাঁড়াও তবে (রাতের) কিছু অংশ বাদে,
نِّصْفَهُۥٓ أَوِ ٱنقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا ٣
নিসফাহূ আউইনকুস মিনহু কালীলা
রাতের অর্ধেক (সময় দাঁড়াও) কিংবা তার থেকে কিছুটা কম কর,
أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ ٱلْقُرْءَانَ تَرْتِيلًا ٤
আও যিদ ‘আলাইহি ওয়ারাত্তিলিল কুরআ-না তারতীলা
অথবা তার চেয়ে বাড়াও, আর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে কুরআন পাঠ কর।
إِنَّا سَنُلْقِى عَلَيْكَ قَوْلًۭا ثَقِيلًا ٥
ইন্না সানুলকী ‘আলাইকা কাওলান ছাকীলা
আমি তোমার উপর গুরুভার কালাম নাযিল করব (বিশ্বের বুকে যার প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্বভার অতি বড় কঠিন কাজ)।
إِنَّ نَاشِئَةَ ٱلَّيْلِ هِىَ أَشَدُّ وَطْـًۭٔا وَأَقْوَمُ قِيلًا ٦
ইন্না না-শিআতাল লাইলি হিয়া আশাদ্দু ওয়াতআঁ ওয়াআকওয়ামু কীলা
বাস্তবিকই রাতে বিছানা ছেড়ে উঠা আত্মসংযমের জন্য বেশি কার্যকর এবং (কুরআন) স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল।
إِنَّ لَكَ فِى ٱلنَّهَارِ سَبْحًۭا طَوِيلًۭا ٧
ইন্না লাকা ফিন নাহা-রি সাবহান তাউঈলা
দিনের বেলায় তোমার জন্য আছে দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা।
وَٱذْكُرِ ٱسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًۭا ٨
ওয়াযকুরিসমা রাব্বিকা ওয়াতাবাত্তাল ইলাইহি তাবতীলা
কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর এবং একাগ্রচিত্তে তাঁর প্রতি মগ্ন হও।
رَّبُّ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ فَٱتَّخِذْهُ وَكِيلًۭا ٩
রাব্বুল মাশরিকি ওয়ালমাগরিবি লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া ফাত্তাখিযহু ওয়াকীলা
(তিনি) পূর্ব ও পশ্চিমের সর্বময় কর্তা, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, অতএব তাঁকেই তুমি তোমার কার্য সম্পদানকারী বানিয়ে লও।
وَٱصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَٱهْجُرْهُمْ هَجْرًۭا جَمِيلًۭا ١٠
ওয়াসবির ‘আলা মা ইয়াকূলূনা ওয়াহজুরহুম হাজরান জামীলা
তারা যা বলে সে ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ কর আর ভদ্রতার সঙ্গে তাদেরকে পরিহার ক’রে চল।
وَذَرْنِى وَٱلْمُكَذِّبِينَ أُو۟لِى ٱلنَّعْمَةِ وَمَهِّلْهُمْ قَلِيلًا ١١
ওয়াযারনী ওয়ালমুকায্যিবীনা উলিন না‘মাতি ওয়ামাহ্হিলহুম কালীলা
আর ছেড়ে দাও আমাকে আর নানান বিলাস সামগ্রীর মালিক ঐ মিথ্যুকদেরকে এবং তাদেরকে কিছুটা সময় অবকাশ দাও।
إِنَّ لَدَيْنَآ أَنكَالًۭا وَجَحِيمًۭا ١٢
ইন্না লাদাইনা- আনকা-লাঁ ওয়াজাহীমা
আমার কাছে আছে শেকল আর দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন,
وَطَعَامًۭا ذَا غُصَّةٍۢ وَعَذَابًا أَلِيمًۭا ١٣
ওয়াতা‘আ-মান যা গুস্সাতিঁ ওয়া‘আযা-বান আলীমা
আর গলায় আটকে যায় এমন খাবার আর মর্মান্তিক শাস্তি।
يَوْمَ تَرْجُفُ ٱلْأَرْضُ وَٱلْجِبَالُ وَكَانَتِ ٱلْجِبَالُ كَثِيبًۭا مَّهِيلًا ١٤
ইয়াওমা তারজুফুল আরদু ওয়ালজিবা-লু ওয়াকা-নাতিল জিবা-লু কাছীবাম মাহীলা
(এসব শাস্তি দেয়া হবে) যেদিন যমীন আর পাহাড়গুলো কেঁপে উঠবে, আর পাহাড়গুলো হবে চলমান বালুকারাশি।
إِنَّآ أَرْسَلْنَآ إِلَيْكُمْ رَسُولًۭا شَٰهِدًا عَلَيْكُمْ كَمَآ أَرْسَلْنَآ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ رَسُولًۭا ١٥
ইন্না- আরসালনা- ইলাইকুম রাসূলান শা-হিদান ‘আলাইকুম কামা- আরসালনা- ইলা ফির‘আওনা রাসূলা
আমি তোমাদের কাছে তেমনিভাবে একজন রসূলকে তোমাদের প্রতি সাক্ষ্যদাতা হিসেবে পাঠিয়েছি (যিনি ক্বিয়ামতে সাক্ষ্য দিবেন যে, দ্বীনের দাওয়াত তিনি যথাযথভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন) যেমনভাবে আমি ফেরাউনের কাছে পাঠিয়েছিলাম একজন রসূলকে।
فَعَصَىٰ فِرْعَوْنُ ٱلرَّسُولَ فَأَخَذْنَٰهُ أَخْذًۭا وَبِيلًۭا ١٦
ফা‘আসা ফির‘আওনুর রাসূলা ফাআখাযনা-হু আখযাঁ ওয়াবীলা
তখন ফেরাউন সেই রসূলকে অমান্য করল। ফলে আমি তাকে শক্ত ধরায় ধরলাম।
فَكَيْفَ تَتَّقُونَ إِن كَفَرْتُمْ يَوْمًۭا يَجْعَلُ ٱلْوِلْدَٰنَ شِيبًا ١٧
ফাকাইফা তাত্তাকূনা ইন কাফারতুম ইয়াওমাঁ ইয়াজ‘আলুল উইলদা-না শীবা
অতএব তোমরা যদি (এই রসূলকে) অস্বীকার কর, তাহলে তোমরা কীভাবে সেদিন আত্মরক্ষা করবে যেদিনটি (তার ভীষণতা ও ভয়াবহতায়) বালককে ক’রে দেবে বুড়ো।
ٱلسَّمَآءُ مُنفَطِرٌۢ بِهِۦ ۚ كَانَ وَعْدُهُۥ مَفْعُولًا ١٨
আস-সামা-উ মুনফাতিরুম বিহ কা-না ওয়া‘দুহূ মাফ‘ঊলা
যার কারণে আকাশ ফেটে যাবে, আল্লাহর ওয়া‘দা পূর্ণ হয়ে যাবে।
إِنَّ هَٰذِهِۦ تَذْكِرَةٌۭ ۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلًا ١٩
ইন্না হা-যিহী তাযকিরাতুন ফামান শা-আত তাখাযা ইলা রাব্বিহী সাবীলা
এটা উপদেশ। কাজেই যার মন চায় সে তার প্রতিপালকের দিকে পথ ধরুক।
۞ إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَىٰ مِن ثُلُثَىِ ٱلَّيْلِ وَنِصْفَهُۥ وَثُلُثَهُۥ وَطَآئِفَةٌۭ مِّنَ ٱلَّذِينَ مَعَكَ ۚ وَٱللَّهُ يُقَدِّرُ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ ۚ عَلِمَ أَن لَّن تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ ۖ فَٱقْرَءُوا۟ مَا تَيَسَّرَ مِنَ ٱلْقُرْءَانِ ۚ عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُم مَّرْضَىٰ ۙ وَءَاخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِى ٱلْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ ٱللَّهِ ۙ وَءَاخَرُونَ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ فَٱقْرَءُوا۟ مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ ۚ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَقْرِضُوا۟ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًۭا ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍۢ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيْرًۭا وَأَعْظَمَ أَجْرًۭا ۚ وَٱسْتَغْفِرُوا۟ ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۢ ٢٠
ইন্না রাব্বাকা ইয়া‘লামু আন-নাকা তাকূমু আদনা মিন ছুলুছায়িল লাইলি ওয়ানিসফাহূ ওয়াছুলুছাহূ ওয়াতা-ইফাতুম মিনাল লাযীনা মা‘আক ওয়াল্লা-হু ইউকাদ্দিরুল লাইলা ওয়ান্নাহা-র ‘আলিমা আল লান তুহসূহু ফাতা-বা ‘আলাইকুম ফাকরাঊ মা তায়াস্সারা মিনাল কুরআ-ন ‘আলিমা আন সায়াকূনু মিনকুম মারদা ওয়াআ-খারূনা ইয়াদরিবূনা ফিল আরদি ইয়াবতাগূনা মিন ফাদলিল্লা-হি ওয়াআ-খারূনা ইউকা-তিলূনা ফী সাবীলিল্লা-হি ফাকরাঊ মা তায়াস্সারা মিনহ ওয়াআকীমুস সালা-তা ওয়াআ-তুয যাকা-তা ওয়াআকরিদুল্লা-হা কারদান হাসানা ওয়ামা তুকাদ্দিমূ লিআনফুসিকুম মিন খাইরিন তাজিদূহু ‘ইনদাল্লা-হি হুওয়া খাইরাঁ ওয়াআ‘যামা আজরা ওয়াসতাগফিরুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
তোমার প্রতিপালক জানেন যে, তুমি কখনও রাতের দু’তৃতীয়াংশ ‘ইবাদাতের জন্য দাঁড়াও, কখনও অর্ধেক, কখনও রাতের এক তৃতীয়াংশ, তোমার সঙ্গী-সাথীদের একটি দলও (তাই করে)। আল্লাহ্ই রাত আর দিনের পরিমাণ নির্ধারণ করেন। তিনি জানেন, তোমরা তা যথাযথ হিসাব রেখে পালন করতে পারবে না। কাজেই তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হয়েছেন। কাজেই কুরআনের যতটুকু পড়া তোমার জন্য সহজ হয়, তুমি ততটুকু পড়। তিনি জানেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, আর কতক আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে যমীনে ভ্রমণ করবে, আর কতক আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে। কাজেই তোমাদের জন্য যতটুকু সহজসাধ্য হয় তাই তাত্থেকে পাঠ কর, আর নামায প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত দাও আর আল্লাহকে ঋণ দাও উত্তম ঋণ। তোমরা যা কিছু কল্যাণ নিজেদের জন্য আগে পাঠাবে, তা আল্লাহর নিকট (সঞ্চিত) পাবে, তাই উত্তম এবং পুরস্কার হিসেবে খুব বড়। তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।