মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
الشعراء

সূরা আশ-শুআরা

কবিগণ · সূরা নং ২৬ · ২২৭ আয়াত · ১১ রুকু · মাক্কী · পারা ১৯
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
طسٓمٓ ١
ত্বা সী-ন মী-ম
ত্ব-সীন-মীম।
تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِ ٢
তিলকা আ-য়া-তুল কিতা-বিল মুবীন
এগুলো সুস্পষ্ট (বা সুস্পষ্টকারী) কিতাবের আয়াত।
لَعَلَّكَ بَٰخِعٌۭ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ ٣
লা‘আল্লাকা বা-খি‘উন নাফসাকা আল্লা ইয়াকূনূ মু’মিনীন
তুমি হয়ত এ দুঃখে তোমার প্রাণনাশ করবে যে, তারা মু’মিন হচ্ছে না।
إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ءَايَةًۭ فَظَلَّتْ أَعْنَٰقُهُمْ لَهَا خَٰضِعِينَ ٤
ইন নাশাআ নুনায্যিল ‘আলাইহিম মিনাস সামা-ই আ-য়াতান ফাযাল্লাত আ‘না-কুহুম লাহা খা-দি‘ঈন
আমি ইচ্ছে করলে তাদের কাছে আসমান থেকে এমন নিদর্শন পাঠাতাম যে তার সামনে তাদের মাথা নত হয়ে যেত (অর্থাৎ তারা ঈমান আনতে বাধ্য হত)।
وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍۢ مِّنَ ٱلرَّحْمَٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا۟ عَنْهُ مُعْرِضِينَ ٥
ওয়ামা ইয়া’তীহিম মিন যিকরিম মিনার রাহমা-নি মুহদাছিন ইল্লা কা-নূ ‘আনহু মু‘রিদীন
তাদের কাছে যখনই দয়াময় আল্লাহর পক্ষ হতে নতুন কোন নসীহত আসে তখনই তারা তাত্থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
فَقَدْ كَذَّبُوا۟ فَسَيَأْتِيهِمْ أَنۢبَٰٓؤُا۟ مَا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ٦
ফাকাদ কায্যাবূ ফাসায়া’তীহিম আমবা-উ মা কা-নূ বিহী ইয়াসতাহযিঊন
তারা (আল্লাহর বাণীকে) অস্বীকারই করেছে, শীঘ্রই তাদের কাছে তার সত্য উদঘাটিত হবে যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلْأَرْضِ كَمْ أَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍۢ كَرِيمٍ ٧
আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাল আরদি কাম আমবাতনা ফীহা মিন কুল্লি যাওজিন কারীম
তারা কি যমীনের দিকে চেয়ে দেখে না, আমি তাতে সব ধরনের উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ পয়দা করেছি।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ٨
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে (আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা ক’রে ঈমান আনার জন্য), কিন্তু তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ٩
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক মহা পরাক্রমশালী, অতি দয়ালু।
وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱئْتِ ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٠
ওয়াইয না-দা রাব্বুকা মূসা- আনি তিল কাওমায যা-লিমীন
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডাক দিয়ে বললেন, ‘তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও,
قَوْمَ فِرْعَوْنَ ۚ أَلَا يَتَّقُونَ ١١
কাওমা ফির‘আওন আলা ইয়াত্তাকূন
ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি ভয় করে না?
قَالَ رَبِّ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ ١٢
কা-লা রাব্বি ইন্নী আখা-ফু আন ইউকায্যিবূন
সে বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার ভয় হচ্ছে তারা আমাকে মিথ্যে মনে ক’রে প্রত্যাখ্যান করবে।
وَيَضِيقُ صَدْرِى وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِى فَأَرْسِلْ إِلَىٰ هَٰرُونَ ١٣
ওয়ায়াদীকু সাদরী ওয়ালা ইয়ানতালিকু লিসা-নী ফাআরসিল ইলা হা-রূন
আর আমার অন্তর সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, আমার জিহ্বা সাবলীলভাবে কথা বলতে পারে না। কাজেই আপনি হারূনের প্রতি রিসালাত দিন।
وَلَهُمْ عَلَىَّ ذَنۢبٌۭ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ ١٤
ওয়ালাহুম ‘আলাইয়্যা যামবুন ফাআখা-ফু আন ইয়াকতুলূন
তদুপরি আমার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগও তাদের আছে, কাজেই আমার ভয় হচ্ছে তারা আমাকে হত্যা করবে।’
قَالَ كَلَّا ۖ فَٱذْهَبَا بِـَٔايَٰتِنَآ ۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَ ١٥
কা-লা কাল্লা ফাযহাবা বিআ-য়া-তিনা- ইন্না মা‘আকুম মুসতামি‘ঊন
আল্লাহ বললেন, ‘কক্ষনো না, তোমরা দু’জনে আমার (দেয়া) নিদর্শন নিয়ে যাও, আমি তোমাদের সঙ্গে থেকে সব কিছু শুনতে থাকব।
فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٦
ফা’তিয়া ফির‘আওনা ফাকূলা- ইন্না রাসূলু রাব্বিল ‘আ-লামীন
কাজেই তোমরা দু’জনে ফেরাউনের কাছে যাও আর গিয়ে বল যে, আমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রেরিত রসূল।
أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ١٧
আন আরসিল মা‘আনা বানী ইসরা-ঈল
বানী ইসরাঈলকে আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দাও।’
قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًۭا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ ١٨
কা-লা আলাম নুরাব্বিকা ফীনা ওয়ালীদাঁ ওয়ালাবিছতা ফীনা মিন ‘উমুরিকা সিনীন
ফেরাউন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শিশুকালে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? আর তুমি কি তোমার জীবনের কতকগুলো বছর আমাদের মাঝে কাটাওনি?
وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ ٱلَّتِى فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ ١٩
ওয়াফা‘আলতা ফা‘লাতাকাল লাতী ফা‘আলতা ওয়াআনতা মিনাল কা-ফিরীন
তুমি তোমার কর্ম যা করার করেছ (আমাদের একজন লোককে হত্যা ক’রে), তুমি বড় অকৃতজ্ঞ।’
قَالَ فَعَلْتُهَآ إِذًۭا وَأَنَا۠ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ ٢٠
কা-লা ফা‘আলতুহা- ইযাঁ ওয়াআনা মিনাদ দা-ল্লীন
মূসা বলল : ‘আমি তো তা করেছিলাম সে সময় যখন আমি ছিলাম (সঠিক পথ সম্পর্কে) অজ্ঞ।
فَفَرَرْتُ مِنكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِى رَبِّى حُكْمًۭا وَجَعَلَنِى مِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ ٢١
ফাফারারতু মিনকুম লাম্মা খিফতুকুম ফাওয়াহাবা লী রাব্বী হুকমাঁ ওয়াজা‘আলানী মিনাল মুরসালীন
অতঃপর তোমাদের ভয়ে ভীত হয়ে আমি তোমাদের থেকে পালিয়ে গেলাম। অতঃপর আমার রবব আমাকে প্রজ্ঞা দান করলেন, আর আমাকে করলেন রসূলদের একজন।
وَتِلْكَ نِعْمَةٌۭ تَمُنُّهَا عَلَىَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٢٢
ওয়াতিলকা নি‘মাতুন তামুন্নুহা ‘আলাইয়্যা আন ‘আব্বাত্তা বানী ইসরা-ঈল
তুমি আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের খোঁটা দিচ্ছ তাতো এই যে, তুমি বানী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছ।’
قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٢٣
কা-লা ফির‘আওনু ওয়ামা রাব্বুল ‘আ-লামীন
ফেরাউন বলল : ‘বিশ্বজগতের প্রতিপালক আবার কী?’
قَالَ رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَآ ۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ ٢٤
কা-লা রাব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ামা বাইনাহুমা- ইন কুনতুম মূকিনীন
মূসা বলল : ‘(যিনি) আসমান ও যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর প্রতিপালক- যদি তোমরা নিঃসন্দেহে বিশ্বাসী হও।
قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُۥٓ أَلَا تَسْتَمِعُونَ ٢٥
কা-লা লিমান হাওলাহূ আলা তাসতামি‘ঊন
ফেরাউন তার চারপাশের লোকেদেরকে বলল- ‘তোমরা শুনছ তো?’
قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ ٢٦
কা-লা রাব্বুকুম ওয়ারাব্বু আ-বা-ইকুমুল আওয়ালীন
মূসা বলল : ‘(তিনি) তোমাদের প্রতিপালক ও শুরু থেকে পূর্ববর্তী তোমাদের বাপ-দাদাদেরও প্রতিপালক।’
قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ ٱلَّذِىٓ أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌۭ ٢٧
কা-লা ইন্না রাসূলাকুমুল লাযী উরসিলা ইলাইকুম লামাজনূন
(ফিরআউন) বলল: ‘তোমাদের রসূল যে তোমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছে সে নিশ্চিতই পাগল।’
قَالَ رَبُّ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَآ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ ٢٨
কা-লা রাব্বুল মাশরিকি ওয়ালমাগরিবি ওয়ামা বাইনাহুমা- ইন কুনতুম তা‘কিলূন
(মূসা) বললঃ ‘(তিনিই) পূর্ব ও পশ্চিমের প্রতিপালক, আর এ উভয় দিকের মাঝে যা আছে তারও- যদি তোমাদের বুদ্ধিসুদ্ধি থাকে।’
قَالَ لَئِنِ ٱتَّخَذْتَ إِلَٰهًا غَيْرِى لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ ٱلْمَسْجُونِينَ ٢٩
কা-লা লাইনিত তাখাযতা ইলা-হান গাইরী লাআজ‘আলান্নাকা মিনাল মাসজূনীন
(ফেরাউন) বলল : ‘যদি তুমি আমাকে বাদ দিয়ে (অন্য কিছুকে) ইলাহ হিসেবে গ্রহণ কর, তাহলে আমি তোমাকে অবশ্য অবশ্যই কারারুদ্ধ করব।’
قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَىْءٍۢ مُّبِينٍۢ ٣٠
কা-লা আওয়ালাও জি’তুকা বিশাইইম মুবীন
(মূসা) বলল : ‘আমি যদি তোমার কাছে কোন স্পষ্ট জিনিস নিয়ে আসি তবুও?
قَالَ فَأْتِ بِهِۦٓ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ٣١
কা-লা ফা’তি বিহী ইন কুনতা মিনাস সা-দিকীন
(ফেরাউন) বলল : ‘তাহলে তা আনো, যদি তুমি সত্যবাদী হও।’
فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ ثُعْبَانٌۭ مُّبِينٌۭ ٣٢
ফাআলকা ‘আসা-হু ফাইযা হিয়া ছু‘বা-নুম মুবীন
তখন মূসা তার লাঠি ছুঁড়ে দিল আর সহসাই তা স্পষ্ট এক অজগর হয়ে গেল।
وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنَّٰظِرِينَ ٣٣
ওয়ানাযা‘আ ইয়াদাহূ ফাইযা হিয়া বাইদা-উ লিন্না-যিরীন
আর মূসা (বগলের নীচ দিয়ে) নিজের হাত টেনে বের করল, আর তা দর্শকদের সামনে ঝকমক করতে লাগল।
قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُۥٓ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٌۭ ٣٤
কা-লা লিলমালাই হাওলাহূ ইন্না হা-যা লাসা-হিরুন ‘আলীম
ফেরাউন তার চারপাশের প্রধানদের বলল : ‘সে অবশ্যই এক দক্ষ যাদুকর।
يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِۦ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ ٣٥
ইউরীদু আন ইউখরিজাকুম মিন আরদিকুম বিসিহরিহী ফামা-যা তা’মুরূন
যাদুর বলে সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন বল তোমাদের নির্দেশ কী?’
قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَٱبْعَثْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ ٣٦
কা-লূ আরজিহ ওয়াআখা-হু ওয়াব‘আছ ফিল মাদা-ইনি হা-শিরীন
তারা বলল : ‘তাকে ও তার ভাইকে (কিছু সময়) অপেক্ষায় ফেলে রাখুন আর জড়ো করার জন্য ঘোষকদেরকে নগরে নগরে পাঠিয়ে দিন।
يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍۢ ٣٧
ইয়া’তূকা বিকুল্লি সাহ্হা-রিন ‘আলীম
তারা আপনার কাছে প্রত্যেকটি অভিজ্ঞ যাদুকরকে নিয়ে আসবে।’
فَجُمِعَ ٱلسَّحَرَةُ لِمِيقَٰتِ يَوْمٍۢ مَّعْلُومٍۢ ٣٨
ফাজুমি‘আস সাহারাতু লিমীকা-তি ইয়াওমিম মা‘লূম
কাজেই যাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল একটি নির্দিষ্ট দিন ক্ষণের জন্য যা ছিল সুবিদিত।
وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَ ٣٩
ওয়াকীলা লিন্না-সি হাল আনতুম মুজতামি‘ঊন
আর জনগণকে বলা হল- ‘তোমরা কি সম্মিলিত হবে?
لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ ٱلسَّحَرَةَ إِن كَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَٰلِبِينَ ٤٠
লা‘আল্লানা নাত্তাবি‘উস সাহারাতা ইন কা-নূ হুমুল গা-লিবীন
যাতে আমরা যাদুকরদের (এবং তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ফেরাউনের) দীন অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।
فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالُوا۟ لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ ٱلْغَٰلِبِينَ ٤١
ফালাম্মা জা-আস সাহারাতু কা-লূ লিফির‘আওনা আইন্না লানা লাআজরান ইন কুন্না নাহনুল গা-লিবীন
যাদুকররা যখন আসলো, তারা ফেরাউনকে বলল : ‘আমরা জয়ী হলে আমাদেরকে পুরস্কার দেয়া হবে তো?’
قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًۭا لَّمِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ ٤٢
কা-লা না‘আম ওয়াইন্নাকুম ইযাল লামিনাল মুকার্রাবীন
ফেরাউন বলল- ‘হাঁ, তখন তোমরা অবশ্যই আমার নৈকট্যলাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلْقُوا۟ مَآ أَنتُم مُّلْقُونَ ٤٣
কা-লা লাহুম মূসা- আলকূ মা- আনতুম মুলকূন
মূসা তাদেরকে বলল- ‘নিক্ষেপ কর যা তোমরা নিক্ষেপ করবে।’
فَأَلْقَوْا۟ حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا۟ بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ ٱلْغَٰلِبُونَ ٤٤
ফাআলকাও হিবা-লাহুম ওয়া‘ইসিয়্যাহুম ওয়াকা-লূ বি‘ইয্যাতি ফির‘আওনা ইন্না লানাহনুল গা-লিবূন
তখন তারা তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো নিক্ষেপ করল আর তারা বলল- ‘ফেরাউনের ইযযতের শপথ! আমরা অবশ্যই জয়ী হব।’
فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ ٤٥
ফাআলকা মূসা ‘আসা-হু ফাইযা হিয়া তালকাফু মা ইয়া’ফিকূন
অতঃপর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল। হঠাৎ তা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গিলতে লাগল।
فَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَ ٤٦
ফাউলকিয়াস সাহারাতু সা-জিদীন
তখন যাদুকররা সিজদায় লুটিয়ে পড়ল।
قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٤٧
কা-লূ আ-মান্না বিরাব্বিল ‘আ-লামীন
তারা বলল- ‘আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম রাব্বুল ‘আলামীনের প্রতি,
رَبِّ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ ٤٨
রাব্বি মূসা ওয়াহা-রূন
যিনি মূসা ও হারুনের প্রতিপালক।’
قَالَ ءَامَنتُمْ لَهُۥ قَبْلَ أَنْ ءَاذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُۥ لَكَبِيرُكُمُ ٱلَّذِى عَلَّمَكُمُ ٱلسِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ۚ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَٰفٍۢ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ ٤٩
কা-লা আ-মানতুম লাহূ কাবলা আন আ-যানা লাকুম ইন্নাহূ লাকাবীরুকুমুল লাযী ‘আল্লামাকুমুস সিহরা ফালাসাওফা তা‘লামূন লাউকাত্তি‘আন্না আইদিয়াকুম ওয়াআরজুলাকুম মিন খিলা-ফিঁ ওয়ালাউসাল্লিবান্নাকুম আজমা‘ঈন
ফেরাউন বলল- ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তাতে বিশ্বাস আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের ওস্তাদ যে তোমাদেরকে যাদু শিখিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা (এর পরিণাম) জানতে পারবে। আমি অবশ্য অবশ্যই তোমাদের হাত-পাগুলোকে বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব আর তোমাদের সব্বাইকে অবশ্য অবশ্যই ‘শূলে চড়াব।
قَالُوا۟ لَا ضَيْرَ ۖ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ ٥٠
কা-লূ লা দাইরা ইন্না- ইলা রাব্বিনা মুনকালিবূন
তারা বলল- কোনই ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রতিপালকের পানে প্রত্যাবর্তন করব।
إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَٰيَٰنَآ أَن كُنَّآ أَوَّلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٥١
ইন্না নাতমা‘উ আন ইয়াগফিরা লানা রাব্বুনা খাতা-য়া-না- আন কুন্না- আওয়ালাল মু’মিনীন
আমাদের একমাত্র আশা এই যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করবেন, কারণ আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে প্রথম।’
۞ وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِىٓ إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ ٥٢
ওয়াআওহাইনা- ইলা মূসা- আন আসরি বি‘ইবা-দী ইন্নাকুম মুত্তাবা‘ঊন
আমি মূসাকে ওহীযোগে নির্দেশ দিলাম আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিকালে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ ٥٣
ফাআরসালা ফির‘আওনু ফিল মাদা-ইনি হা-শিরীন
অতঃপর ফেরাউন শহরে নগরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দিল।
إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَشِرْذِمَةٌۭ قَلِيلُونَ ٥٤
ইন্না হা-উলা-ই লাশিরযিমাতুন কালীলূন
(এই ব’লে যে) এরা (বানী ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল।
وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَآئِظُونَ ٥٥
ওয়াইন্নাহুম লানা লাগা-ইযূন
তারা আমাদেরকে অবশ্যই ক্রোধান্বিত করেছে।
وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَٰذِرُونَ ٥٦
ওয়াইন্না লাজামী‘উন হা-যিরূন
আর আমরা অবশ্যই সদা সতর্ক একটি দল।
فَأَخْرَجْنَٰهُم مِّن جَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍۢ ٥٧
ফাআখরাজনা-হুম মিন জান্না-তিঁ ওয়া‘উইউন
এভাবে আমি ফেরাউন গোষ্ঠীকে (তাদের নিজেদেরই) উদ্যানরাজি আর ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিস্কার করলাম।
وَكُنُوزٍۢ وَمَقَامٍۢ كَرِيمٍۢ ٥٨
ওয়াকুনূযিঁ ওয়ামাকা-মিন কারীম
আর ধনভন্ডারসমূহ ও সম্মানজনক অবস্থান থেকে।
كَذَٰلِكَ وَأَوْرَثْنَٰهَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٥٩
কাযা-লিকা ওয়াআওরাছনা-হা বানী ইসরা-ঈল
এভাবেই ঘটেছিল, আমি বানী ইসরাঈলকে এসব কিছুর উত্তরাধিকারী করে দিয়েছিলাম।
فَأَتْبَعُوهُم مُّشْرِقِينَ ٦٠
ফাআতবা‘ঊহুম মুশরিকীন
কাজেই তারা (অর্থাৎ ফেরাউন গোষ্ঠী) সূর্যোদয়কালে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।
فَلَمَّا تَرَٰٓءَا ٱلْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَٰبُ مُوسَىٰٓ إِنَّا لَمُدْرَكُونَ ٦١
ফালাম্মা তারা-আল জাম‘আ-নি কা-লা আসহা-বু মূসা- ইন্না লামুদরাকূন
যখন দু‘দল পরস্পরকে দেখল তখন মূসার সঙ্গীরা বলল- ‘আমরা তো ধরা পড়েই গেলাম।’
قَالَ كَلَّآ ۖ إِنَّ مَعِىَ رَبِّى سَيَهْدِينِ ٦٢
কা-লা কাল্লা- ইন্না মা‘ইয়া রাব্বী সায়াহদীন
মূসা বলল- ‘কক্ষনো না, আমার রব আমার সঙ্গে আছেন, শীঘ্রই তিনি আমাকে পথ নির্দেশ করবেন।
فَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْبَحْرَ ۖ فَٱنفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍۢ كَٱلطَّوْدِ ٱلْعَظِيمِ ٦٣
ফাআওহাইনা- ইলা মূসা- আনিদরিব বি‘আসা-কাল বাহরা ফানফালাকা ফাকা-না কুল্লু ফিরকিন কাত্তাওদিল ‘আযীম
তখন আমি মূসার প্রতি ওয়াহী করলাম- ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে তা বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক ভাগ সুবিশাল পর্বতের ন্যায় হয়ে গেল।
وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ ٱلْءَاخَرِينَ ٦٤
ওয়াআযলাফনা ছাম্মাল আ-খারীন
আমি সেখানে অপর দলটিকে পৌছে দিলাম।
وَأَنجَيْنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓ أَجْمَعِينَ ٦٥
ওয়াআনজাইনা মূসা ওয়ামাম মা‘আহূ আজমা‘ঈন
আর মূসা ও তার সঙ্গী সবাইকে উদ্ধার করলাম।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْءَاخَرِينَ ٦٦
ছুম্মা আগরাকনাল আ-খারীন
অতঃপর অপর দলটিকে ডুবিয়ে মারলাম।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ٦٧
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ٦٨
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
তোমার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, বড়ই দয়ালু।
وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَٰهِيمَ ٦٩
ওয়াতলু ‘আলাইহিম নাবাআ ইবরা-হীম
ওদেরকে ইবরাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দাও।
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَا تَعْبُدُونَ ٧٠
ইয কা-লা লিআবীহি ওয়াকাওমিহী মা তা‘বুদূন
যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল- ‘তোমরা কিসের ইবাদত কর?’
قَالُوا۟ نَعْبُدُ أَصْنَامًۭا فَنَظَلُّ لَهَا عَٰكِفِينَ ٧١
কা-লূ না‘বুদু আসনা-মান ফানাযাল্লু লাহা ‘আ-কিফীন
তারা বলেছিল- ‘আমরা মূর্তির পূজা করি, আর আমরা সদা সর্বদা তাদেরকে আঁকড়ে থাকি।’
قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ ٧٢
কা-লা হাল ইয়াসমা‘ঊনাকুম ইয তাদ‘ঊন
ইবরাহীম বলল- ‘তোমরা যখন (তাদেরকে) ডাক তখন কি তারা তোমাদের কথা শোনে?
أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ ٧٣
আও ইয়ানফা‘ঊনাকুম আও ইয়াদুর্রূন
কিংবা তোমাদের উপকার করে অথবা অপকার?’
قَالُوا۟ بَلْ وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ ٧٤
কা-লূ বাল ওয়াজাদনা- আ-বা-আনা কাযা-লিকা ইয়াফ‘আলূন
তারা বলল- ‘না তবে আমরা আমাদের পিতৃদেরকে এরকম করতে দেখেছি।’
قَالَ أَفَرَءَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ ٧٥
কা-লা আফারাআইতুম মা কুনতুম তা‘বুদূন
সে বলল-তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমরা কিসের পূজা করে যাচ্ছ?
أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُمُ ٱلْأَقْدَمُونَ ٧٦
আনতুম ওয়াআ-বা-উকুমুল আকদামূন
তোমরা আর তোমাদের আগের পিতৃপুরুষরা?
فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّۭ لِّىٓ إِلَّا رَبَّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٧٧
ফাইন্নাহুম ‘আদুউল লী ইল্লা রাব্বাল ‘আ-লামীন
তারা সবাই আমার শত্রু, বিশ্বজগতের পালনকর্তা ছাড়া।
ٱلَّذِى خَلَقَنِى فَهُوَ يَهْدِينِ ٧٨
আল্লাযী খালাকানী ফাহুওয়া ইয়াহদীন
তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তিনিই আমাকে পথ দেখান।
وَٱلَّذِى هُوَ يُطْعِمُنِى وَيَسْقِينِ ٧٩
ওয়াল্লাযী হুওয়া ইউত‘ইমুনী ওয়ায়াসকীন
আর তিনিই আমাকে খাওয়ান ও পান করান।
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ ٨٠
ওয়াইযা মারিদতু ফাহুওয়া ইয়াশফীন
আর আমি যখন পীড়িত হই তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন।
وَٱلَّذِى يُمِيتُنِى ثُمَّ يُحْيِينِ ٨١
ওয়াল্লাযী ইউমীতুনী ছুম্মা ইউহইয়ীন
যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, পুনরায় আমাকে জীবিত করবেন।
وَٱلَّذِىٓ أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِى خَطِيٓـَٔتِى يَوْمَ ٱلدِّينِ ٨٢
ওয়াল্লাযী আতমা‘উ আন ইয়াগফিরা লী খাতীআতী ইয়াওমাদ দীন
আর যিনি, আমি আশা করি- কিয়ামাতের দিন আমার দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন।
رَبِّ هَبْ لِى حُكْمًۭا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّٰلِحِينَ ٨٣
রাব্বি হাব লী হুকমাঁ ওয়াআলহিকনী বিস্সা-লিহীন
হে আমার পালনকর্তা! আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অর্ন্তভুক্ত কর।
وَٱجْعَل لِّى لِسَانَ صِدْقٍۢ فِى ٱلْءَاخِرِينَ ٨٤
ওয়াজ‘আল লী লিসা-না সিদকিন ফিল আ-খিরীন
এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।
وَٱجْعَلْنِى مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ ٱلنَّعِيمِ ٨٥
ওয়াজ‘আলনী মিন ওয়ারাছাতি জান্নাতিন না‘ঈম
এবং আমাকে নি‘য়ামাতপূর্ণ জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর।
وَٱغْفِرْ لِأَبِىٓ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ ٨٦
ওয়াগফির লিআবী ইন্নাহূ কা-না মিনাদ দা-ল্লীন
আর তুমি আমার পিতাকে ক্ষমা কর, তিনি তো গুমরাহদের অর্ন্তভুক্ত।
وَلَا تُخْزِنِى يَوْمَ يُبْعَثُونَ ٨٧
ওয়ালা তুখযিনী ইয়াওমা ইউব‘আছূন
এবং পুনরুত্থান দিবসে আমাকে অপমানিত করো না।
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌۭ وَلَا بَنُونَ ٨٨
ইয়াওমা লা ইয়ানফা‘উ মা-লুঁ ওয়ালা বানূন
যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি কোন কাজে আসবে না।
إِلَّا مَنْ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلْبٍۢ سَلِيمٍۢ ٨٩
ইল্লা মান আতাল্লা-হা বিকালবিন সালীম
কেবল (সাফল্য লাভ করবে) সে ব্যক্তি যে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহর নিকট আসবে।
وَأُزْلِفَتِ ٱلْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ ٩٠
ওয়াউযলিফাতিল জান্নাতু লিলমুত্তাকীন
আর জান্নাতকে মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে।
وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ ٩١
ওয়াবুর্রিযাতিল জাহীমু লিলগা-উঈন
এবং পথভ্রষ্টদের সম্মুখে জাহান্নামকে উন্মোচিত করা হবে।
وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ ٩٢
ওয়াকীলা লাহুম আইনা মা কুনতুম তা‘বুদূন
আর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যার ‘ইবাদাত করতে তারা কোথায়
مِن دُونِ ٱللَّهِ هَلْ يَنصُرُونَكُمْ أَوْ يَنتَصِرُونَ ٩٣
মিন দূনিল্লা-হি হাল ইয়ানসুরূনাকুম আও ইয়ানতাসিরূন
আল্লাহকে বাদ দিয়ে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে কিংবা তাদের নিজেদেরকে সাহায্য করতে পারে?
فَكُبْكِبُوا۟ فِيهَا هُمْ وَٱلْغَاوُۥنَ ٩٤
ফাকুবকিবূ ফীহা হুম ওয়ালগা-ঊন
অতঃপর তাদেরকে ও পথভ্রষ্টদেরকে জাহান্নামে মুখের ভরে নিক্ষেপ করা হবে।
وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ ٩٥
ওয়াজুনূদু ইবলীসা আজমা‘ঊন
আর ইবলীসের দলবল সবাইকে।
قَالُوا۟ وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ ٩٦
কা-লূ ওয়াহুম ফীহা ইয়াখতাসিমূন
সেখানে তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে বলবে,
تَٱللَّهِ إِن كُنَّا لَفِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍ ٩٧
তাল্লা-হি ইন কুন্না লাফী দালা-লিম মুবীন
‘আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্য স্পষ্ট গুমরাহীতে ছিলাম।
إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٩٨
ইয নুসাউঈকুম বিরাব্বিল ‘আ-লামীন
যখন আমরা তোমাদেরকে সর্বজগতের পালনকর্তার সমকক্ষ স্থির করতাম।
وَمَآ أَضَلَّنَآ إِلَّا ٱلْمُجْرِمُونَ ٩٩
ওয়ামা- আদাল্লানা- ইল্লাল মুজরিমূন
অপরাধীরাই আমাদেরকে গোমরাহ্ করেছিল।
فَمَا لَنَا مِن شَٰفِعِينَ ١٠٠
ফামা লানা মিন শা-ফি‘ঈন
কাজেই আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।
وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍۢ ١٠١
ওয়ালা সাদীকিন হামীম
একজন অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই।
فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةًۭ فَنَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٠٢
ফালাও আন-না লানা কার্রাতান ফানাকূনা মিনাল মু’মিনীন
আমাদের যদি একটিবার পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তাহলে আমরা মু’মিনদের অর্ন্তভুক্ত হয়ে যেতাম।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٠٣
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٠٤
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
তোমার প্রতিপালক, তিনি অবশ্যই মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٠٥
কায্যাবাত কাওমু নূহিনিল মুরসালীন
নূহের কওম রসুলগণকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখান করেছিল।
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٠٦
ইয কা-লা লাহুম আখূহুম নূহুন আলা তাত্তাকূন
যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি ভয় করবে না (আল্লাহকে)?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ١٠٧
ইন্নী লাকুম রাসূলুন আমীন
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রাসুল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٠٨
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমার অনুসরণ কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٠٩
ওয়ামা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা ‘আলা রাব্বিল ‘আ-লামীন
আমি তার জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছেই আছে।’
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١١٠
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।
۞ قَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ لَكَ وَٱتَّبَعَكَ ٱلْأَرْذَلُونَ ١١١
কা-লূ আনু’মিনু লাকা ওয়াত্তাবা‘আকাল আরযালূন
তারা বলল- ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস করব যখন তোমার অনুসরণ করছে একেবারে নিম্নশ্রেণীর লোকেরা।’
قَالَ وَمَا عِلْمِى بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١١٢
কা-লা ওয়ামা ‘ইলমী বিমা কা-নূ ইয়া‘মালূন
নূহ বলল- ‘তারা কী করত সেটা আমার জানা নেই।
إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّى ۖ لَوْ تَشْعُرُونَ ١١٣
ইন হিসা-বুহুম ইল্লা ‘আলা রাব্বী লাও তাশ‘উরূন
তাদের হিসাব নেয়া তো আমার প্রতিপালকের কাজ, যদি তোমরা বুঝতে!
وَمَآ أَنَا۠ بِطَارِدِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١١٤
ওয়ামা- আনা বিতা-রিদিল মু’মিনীন
মু’মিনদেরকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।
إِنْ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ١١٥
ইন আনা ইল্লা নাযীরুম মুবীন
আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’
قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰنُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمَرْجُومِينَ ١١٦
কা-লূ লাইল লাম তানতাহি ইয়া-নূহু লাতাকূনান্না মিনাল মারজূমীন
তারা বলল- ‘হে নূহ! তুমি যদি বিরত না হও, তাহলে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।’
قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِى كَذَّبُونِ ١١٧
কা-লা রাব্বি ইন্না কাওমী কায্যাবূন
নূহ বলল- ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় আমাকে প্রত্যাখান করছে।
فَٱفْتَحْ بَيْنِى وَبَيْنَهُمْ فَتْحًۭا وَنَجِّنِى وَمَن مَّعِىَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١١٨
ফাফতাহ বাইনী ওয়াবাইনাহুম ফাতহাঁ ওয়ানাজ্জিনী ওয়ামাম মা‘ইয়া মিনাল মু’মিনীন
কাজেই তুমি আমার ও তাদের মধ্যে ফয়সালা ক’রে দাও, আর আমাকে ও আমার সঙ্গী মু’মিনদেরকে ক্ষমা কর।’
فَأَنجَيْنَٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ ١١٩
ফাআনজাইনা-হু ওয়ামাম মা‘আহূ ফিল ফুলকিল মাশহূন
অতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গে যারা ছিল তাদেরকে বোঝাই নৌযানে রক্ষা করলাম।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ ٱلْبَاقِينَ ١٢٠
ছুম্মা আগরাকনা বা‘দুল বা-কীন
তারপর অবশিষ্ট সবাইকে ডুবিয়ে দিলাম।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٢١
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٢٢
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
তোমার প্রতিপালক, অবশ্যই তিনি প্রবল পরাক্রান্ত, পরম দয়ালু।
كَذَّبَتْ عَادٌ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٢٣
কায্যাবাত ‘আ-দুনিল মুরসালীন
‘আদ সম্প্রদায় রসূলগণকে মিথ্যে সাব্যস্ত করেছিল।
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٢٤
ইয কা-লা লাহুম আখূহুম হূদুন আলা তাত্তাকূন
যখন তাদের ভাই হূদ তাদেরকে বলল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ١٢٥
ইন্নী লাকুম রাসূলুন আমীন
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) এক বিশ্বস্ত রসুল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٢٦
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٢٧
ওয়ামা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা ‘আলা রাব্বিল ‘আ-লামীন
আর এ জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান আছে কেবল বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট।
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ ءَايَةًۭ تَعْبَثُونَ ١٢٨
আতাবনূনা বিকুল্লি রী‘ইন আ-য়াতান তা‘বাছূন
তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অনর্থক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছ?
وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ ١٢٩
ওয়াতাত্তাখিযূনা মাসা-নি‘আ লা‘আল্লাকুম তাখলুদূন
আর বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ. যেন তোমরা চিরদিন থাকবে?
وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ ١٣٠
ওয়াইযা বাতাশতুম বাতাশতুম জাব্বা-রীন
আর যখন তোমরা (দুর্বল শ্রেণীর লোকদের উপর) আঘাত হান, তখন আঘাত হান নিষ্ঠুর মালিকের মত।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٣١
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর।
وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِىٓ أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَ ١٣٢
ওয়াত্তাকুল লাযী আমাদ্দাকুম বিমা তা‘লামূন
ভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে যাবতীয় বস্তু দান করেছেন যা তোমাদের জানা আছে।
أَمَدَّكُم بِأَنْعَٰمٍۢ وَبَنِينَ ١٣٣
আমাদ্দাকুম বিআন‘আ-মিঁ ওয়াবানীন
যিনি তোমাদেরকে দান করেছেন গবাদি পশু ও সন্তান-সন্তুতি।
وَجَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍ ١٣٤
ওয়াজান্না-তিঁ ওয়া‘উইউন
আর উদ্যানরাজি ও ঝর্ণাসমূহ।
إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ١٣٥
ইন্নী আখা-ফু ‘আলাইকুম ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আযীম
আমি তোমাদের জন্য মহা দিবসের শাস্তির ভয় করছি।’
قَالُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْنَآ أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ ٱلْوَٰعِظِينَ ١٣٦
কা-লূ সাওয়া-উন ‘আলাইনা- আওয়া‘আযতা আম লাম তাকুম মিনাল ওয়া-‘ইযীন
তারা বলল- ‘তুমি নসীহত কর আর না কর, আমাদের জন্য দু’ই সমান।
إِنْ هَٰذَآ إِلَّا خُلُقُ ٱلْأَوَّلِينَ ١٣٧
ইন হা-যা- ইল্লা খুলুকুল আওয়ালীন
এসব (কথাবার্তা বলা) পূর্ববর্তী লোকেদের অভ্যাস ছাড়া আর অন্য কিছুই না।
وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ ١٣٨
ওয়ামা নাহনু বিমু‘আয্যাবীন
আমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না।’
فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَٰهُمْ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٣٩
ফাকায্যাবূহু ফাআহলাকনা-হুম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
অতঃপর তারা তাকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখ্যান করল। তখন আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম। অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٤٠
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু।
كَذَّبَتْ ثَمُودُ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٤١
কায্যাবাত ছামূদুল মুরসালীন
সামূদ জাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَٰلِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٤٢
ইয কা-লা লাহুম আখূহুম সা-লিহুন আলা তাত্তাকূন
যখন তাদের ভাই সালিহ তাদেরকে বলেছিল- তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ١٤٣
ইন্নী লাকুম রাসূলুন আমীন
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রসূল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٤٤
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মান্য কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٤٥
ওয়ামা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা ‘আলা রাব্বিল ‘আ-লামীন
আর এজন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো আছে একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট।
أَتُتْرَكُونَ فِى مَا هَٰهُنَآ ءَامِنِينَ ١٤٦
আতুতরাকূনা ফী মা হা-হুনা- আ-মিনীন
তোমাদেরকে কি এখানে যে সব (ভোগ বিলাস) আছে তাতেই নিরাপদে রেখে দেয়া হবে?
فِى جَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍۢ ١٤٧
ফী জান্না-তিঁ ওয়া‘উইউন
উদ্যানরাজি আর ঝার্ণাসমূহে।
وَزُرُوعٍۢ وَنَخْلٍۢ طَلْعُهَا هَضِيمٌۭ ١٤٨
ওয়াযুরূ‘ইঁ ওয়ানাখলিন তাল‘উহা হাদীম
আর শষ্যক্ষেতে ও ফুলে আচ্ছাদিত (ফলে ভারাক্রান্ত) খেজুর বাগানে?
وَتَنْحِتُونَ مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًۭا فَٰرِهِينَ ١٤٩
ওয়াতানহিতূনা মিনাল জিবা-লি বুইউতান ফা-রিহীন
এবং তোমরা দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করছ।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٥٠
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মান্য কর।
وَلَا تُطِيعُوٓا۟ أَمْرَ ٱلْمُسْرِفِينَ ١٥١
ওয়ালা তুতী‘ঊ আমরাল মুসরিফীন
এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের নির্দেশ মান্য কর না।
ٱلَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ ١٥٢
আল্লাযীনা ইউফসিদূনা ফিল আরদি ওয়ালা ইউসলিহূন
যারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, সংস্কার করে না।’
قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ ١٥٣
কা-লূ ইন্নামা- আনতা মিনাল মুসাহ্হারীন
তারা বলল- ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন।
مَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُنَا فَأْتِ بِـَٔايَةٍ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ١٥٤
মা- আনতা ইল্লা বাশারুম মিছলুনা ফা’তি বিআ-য়াতিন ইন কুনতা মিনাস সা-দিকীন
তুমি আমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কিছুই না। কাজেই তুমি সত্যবাদী হলে একটা নিদর্শন হাজির কর।
قَالَ هَٰذِهِۦ نَاقَةٌۭ لَّهَا شِرْبٌۭ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍۢ مَّعْلُومٍۢ ١٥٥
কা-লা হা-যিহী না-কাতুল লাহা শিরবুঁ ওয়ালাকুম শিরবু ইয়াওমিম মা‘লূম
সালিহ বলল- ‘এই একটি উটনি, এর জন্য আছে পানি পানের পালা আর তোমাদের জন্য আছে পানি পানের পালা নির্ধারিত দিনে।
وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوٓءٍۢ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍۢ ١٥٦
ওয়ালা তামাস্সূহা বিসূইন ফায়া’খুযাকুম ‘আযা-বু ইয়াওমিন ‘আযীম
অনিষ্ট সাধনের নিমিত্তে তাকে স্পর্শ কর না, তাহলে তোমাদেরকে মহা দিবসের আযাব পাকড়াও করবে।
فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا۟ نَٰدِمِينَ ١٥٧
ফা‘আকারূহা ফাআসবাহূ না-দিমীন
কিন্তু তারা তাকে বধ করল, ফলে তারা অনুতপ্ত হল।
فَأَخَذَهُمُ ٱلْعَذَابُ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٥٨
ফাআখাযাহুমুল ‘আযা-ব ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
অতঃপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٥٩
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
আর তোমার প্রতিপালক তিনি তো মহা পরাক্রমশালী, বড়ই দয়ালু।
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٦٠
কায্যাবাত কাওমু লূতিনিল মুরসালীন
লূতের সম্প্রদায় রসুলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٦١
ইয কা-লা লাহুম আখূহুম লূতুন আলা তাত্তাকূন
যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ١٦٢
ইন্নী লাকুম রাসূলুন আমীন
আমি তো তোমাদের জন্য (প্রেরিত) একজন বিশ্বস্ত রসূল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٦٣
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মান্য কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٦٤
ওয়ামা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা ‘আলা রাব্বিল ‘আ-লামীন
আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান একমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে।
أَتَأْتُونَ ٱلذُّكْرَانَ مِنَ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٦٥
আতা’তূনায যুকরা-না মিনাল ‘আ-লামীন
জগতের সকল প্রাণীর মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সঙ্গে উপগত হও,
وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَٰجِكُم ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ ١٦٦
ওয়াতাযারূনা মা খালাকা লাকুম রাব্বুকুম মিন আযওয়া-জিকুম বাল আনতুম কাওমুন ‘আ-দূন
এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে ত্যাগ কর? রবং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’
قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰلُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُخْرَجِينَ ١٦٧
কা-লূ লাইল লাম তানতাহি ইয়া-লূতু লাতাকূনান্না মিনাল মুখরাজীন
তারা বলল- ‘হে লূত! তুমি যদি বিরত না হও তবে তুমি অবশ্য অবশ্যই বহিস্কৃত হবে।’
قَالَ إِنِّى لِعَمَلِكُم مِّنَ ٱلْقَالِينَ ١٦٨
কা-লা ইন্নী লি‘আমালিকুম মিনাল কা-লীন
লূত বলল- ‘আমি তোমাদের এ কাজকে ঘৃণা করি।
رَبِّ نَجِّنِى وَأَهْلِى مِمَّا يَعْمَلُونَ ١٦٩
রাব্বি নাজ্জিনী ওয়াআহলী মিম্মা ইয়া‘মালূন
হে আমার প্রতিপালক! তারা যা করে তা থেকে তুমি আমাকে ও আমার পরিবারবর্গকে রক্ষা কর।’
فَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ ١٧٠
ফানাজ্জাইনা-হু ওয়াআহলাহূ আজমা‘ঈন
অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গের সকলকে রক্ষা করলাম
إِلَّا عَجُوزًۭا فِى ٱلْغَٰبِرِينَ ١٧١
ইল্লা ‘আজূযান ফিল গা-বিরীন
এক বৃদ্ধা ছাড়া। সে ছিল পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْءَاخَرِينَ ١٧٢
ছুম্মা দাম্মারনাল আ-খারীন
অতঃপর অন্যদের সকলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিলাম।
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًۭا ۖ فَسَآءَ مَطَرُ ٱلْمُنذَرِينَ ١٧٣
ওয়াআমতারনা ‘আলাইহিম মাতারান ফাসা-আ মাতারুল মুনযারীন
তাদের উপর বর্ষণ করলাম (শাস্তির) বৃষ্টি, ভয় প্রদর্শিতদের জন্য এ বৃষ্টি ছিল কতই না মন্দ!
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٧٤
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٧٥
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
তোমার প্রতিপালক, তিনি মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু।
كَذَّبَ أَصْحَٰبُ لْـَٔيْكَةِ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٧٦
কায্যাবা আসহা-বু লআইকাতিল মুরসালীন
বনের অধিবাসীরা রসূলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ ١٧٧
ইয কা-লা লাহুম শু‘আইবুন আলা তাত্তাকূন
যখন শু‘আয়ব তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌۭ ١٧٨
ইন্নী লাকুম রাসূলুন আমীন
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রাসুল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ ١٧٩
ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٨٠
ওয়ামা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা ‘আলা রাব্বিল ‘আ-লামীন
এ জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো রয়েছে একমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট।
۞ أَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا۟ مِنَ ٱلْمُخْسِرِينَ ١٨١
আওফুল কাইলা ওয়ালা তাকূনূ মিনাল মুখসিরীন
মাপে পূর্ণ মাত্রায় দাও আর যারা মাপে কম দেয় তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
وَزِنُوا۟ بِٱلْقِسْطَاسِ ٱلْمُسْتَقِيمِ ١٨٢
ওয়াযিনূ বিলকিসতা-সিল মুসতাকীম
সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে।
وَلَا تَبْخَسُوا۟ ٱلنَّاسَ أَشْيَآءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ١٨٣
ওয়ালা তাবখাসুন না-সা আশইয়া-আহুম ওয়ালা তা‘ছাও ফিল আরদি মুফসিদীন
মানুষকে তাদের প্রাপ্যবস্তু কম দিবে না। আর পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না।
وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ وَٱلْجِبِلَّةَ ٱلْأَوَّلِينَ ١٨٤
ওয়াত্তাকুল লাযী খালাকাকুম ওয়ালজিবিল্লাতাল আওয়ালীন
এবং ভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী বংশাবলীকে সৃষ্টি করেছেন।’
قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَ ١٨٥
কা-লূ ইন্নামা- আনতা মিনাল মুসাহ্হারীন
তারা বলল- ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন।
وَمَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ ٱلْكَٰذِبِينَ ١٨٦
ওয়ামা- আনতা ইল্লা বাশারুম মিছলুনা ওয়াইন নাযুন্নুকা লামিনাল কা-যিবীন
তুমি আমাদের মতই মানুষ বৈ নও, আমরা মনে করি তুমি অবশ্য মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ١٨٧
ফাআসকিত ‘আলাইনা কিসাফাম মিনাস সামা-ই ইন কুনতা মিনাস সা-দিকীন
তুমি সত্যবাদী হলে আকাশের এক টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।’
قَالَ رَبِّىٓ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ ١٨٨
কা-লা রাব্বী আ‘লামু বিমা তা‘মালূন
শু‘আয়ব বলল- ‘তোমরা যা কর, আমার প্রতিপালক সে সম্পর্কে বেশি অবগত।’
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ ٱلظُّلَّةِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ١٨٩
ফাকায্যাবূহু ফাআখাযাহুম ‘আযা-বু ইয়াওমিয যুল্লাহ ইন্নাহূ কা-না ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আযীম
কিন্তু তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল। ফলে তাদেরকে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের শাস্তি পাকড়াও করল। তা ছিল এক মহা দিবসের ‘আযাব।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ ١٩٠
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাঁ ওয়ামা কা-না আকছারুহুম মু’মিনীন
এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ١٩١
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
আর তোমার প্রতিপালক, তিনি অবশ্যই মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু।
وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٩٢
ওয়াইন্নাহূ লাতানযীলু রাব্বিল ‘আ-লামীন
অবশ্যই এ কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ।
نَزَلَ بِهِ ٱلرُّوحُ ٱلْأَمِينُ ١٩٣
নাযালা বিহির রূহুল আমীন
বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল) একে নিয়ে অবতরণ করেছে
عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَ ١٩٤
‘আলা কালবিকা লিতাকূনা মিনাল মুনযিরীন
তোমার অন্তরে যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّۢ مُّبِينٍۢ ١٩٥
বিলিসা-নিন ‘আরাবিয়্যিম মুবীন
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
وَإِنَّهُۥ لَفِى زُبُرِ ٱلْأَوَّلِينَ ١٩٦
ওয়াইন্নাহূ লাফী যুবুরিল আওয়ালীন
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে।
أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ ءَايَةً أَن يَعْلَمَهُۥ عُلَمَٰٓؤُا۟ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ١٩٧
আওয়ালাম ইয়াকুল লাহুম আ-য়াতান আন ইয়া‘লামাহূ ‘উলামা-উ বানী ইসরা-ঈল
এটা কি তাদের জন্য নিদর্শন নয় যে, বানী ইসরাঈলের পন্ডিতগণ তা জানত (যে তা সত্য)।
وَلَوْ نَزَّلْنَٰهُ عَلَىٰ بَعْضِ ٱلْأَعْجَمِينَ ١٩٨
ওয়ালাও নায্যালনা-হু ‘আলা বা‘দিল আ‘জামীন
আমি যদি তা কোন অনারবের প্রতি অবতীর্ণ করতাম,
فَقَرَأَهُۥ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ مُؤْمِنِينَ ١٩٩
ফাকারাআহূ ‘আলাইহিম মা কা-নূ বিহী মু’মিনীন
অতঃপর সে তা তাদের নিকট পাঠ করত, তাহলে তারা তাতে বিশ্বাস আনত না।
كَذَٰلِكَ سَلَكْنَٰهُ فِى قُلُوبِ ٱلْمُجْرِمِينَ ٢٠٠
কাযা-লিকা সালাকনা-হু ফী কুলূবিল মুজরিমীন
এভাবে আমি অপরাধীদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।
لَا يُؤْمِنُونَ بِهِۦ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ ٢٠١
লা ইউ’মিনূনা বিহী হাত্তা ইয়ারাউল ‘আযা-বাল আলীম
তারা এর প্রতি ঈমান আনবে না যতক্ষণ না তারা ভয়াবহ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
فَيَأْتِيَهُم بَغْتَةًۭ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ٢٠٢
ফায়া’তিয়াহুম বাগতাতাঁ ওয়াহুম লা ইয়াশ‘উরূন
কাজেই তা তাদের কাছে হঠাৎ এসে পড়বে, তারা কিছুই বুঝতে পারবে না।
فَيَقُولُوا۟ هَلْ نَحْنُ مُنظَرُونَ ٢٠٣
ফায়াকূলূ হাল নাহনু মুনযারূন
তারা তখন বলবে- ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেয়া হবে?’
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ ٢٠٤
আফাবি‘আযা-বিনা ইয়াসতা‘জিলূন
তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?
أَفَرَءَيْتَ إِن مَّتَّعْنَٰهُمْ سِنِينَ ٢٠٥
আফারাআইতা ইম মাত্তা‘না-হুম সিনীন
তুমি কি ভেবে দেখেছ আমি যদি তাদেরকে কতক বছর ভোগ বিলাস করতে দেই,
ثُمَّ جَآءَهُم مَّا كَانُوا۟ يُوعَدُونَ ٢٠٦
ছুম্মা জা-আহুম মা কা-নূ ইউ‘আদূন
অতঃপর তাদেরকে যে বিষয়ের ও‘য়াদা দেয়া হত তা তাদের কাছে এসে পড়ে।
مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يُمَتَّعُونَ ٢٠٧
মা- আগনা ‘আনহুম মা কা-নূ ইউমাত্তা‘ঊন
তখন তাদের বিলাসের সামগ্রী তাদের কোন উপকারে আসবে না।
وَمَآ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ ٢٠٨
ওয়ামা- আহলাকনা মিন কারইয়াতিন ইল্লা লাহা মুনযিরূন
আমি এমন কোন জনপদ ধ্বংস করিনি যার জন্য কোন ভয় প্রদর্শনকারী ছিল না
ذِكْرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَٰلِمِينَ ٢٠٩
যিকরা ওয়ামা কুন্না যা-লিমীন
স্মরণ করানোর জন্য। আমি কখনো অন্যায়কারী নই।
وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ ٱلشَّيَٰطِينُ ٢١٠
ওয়ামা তানায্যালাত বিহিশ শায়া-তীন
শয়ত্বানরা তা (অর্থাৎ কুরআন) নিয়ে অবতরণ করেনি।
وَمَا يَنۢبَغِى لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ ٢١١
ওয়ামা ইয়ামবাগী লাহুম ওয়ামা ইয়াসতাতী‘ঊন
তারা এ কাজের যোগ্য নয় আর তারা এর সামর্থ্যও রাখে না।
إِنَّهُمْ عَنِ ٱلسَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ ٢١٢
ইন্নাহুম ‘আনিস সাম‘ই লামা‘যূলূন
তাদেরকে এটা শোনা থেকে অবশ্যই দূরে রাখা হয়েছে।
فَلَا تَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ فَتَكُونَ مِنَ ٱلْمُعَذَّبِينَ ٢١٣
ফালা তাদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ফাতাকূনা মিনাল মু‘আয্যাবীন
কাজেই তুমি অন্য কোন ইলাহ্কে আল্লাহর সঙ্গে ডেক না। ডাকলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَ ٢١٤
ওয়াআনযির ‘আশীরাতাকাল আকরাবীন
আর তুমি সতর্ক কর তোমার নিকটাত্মীয় স্বজনদের
وَٱخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٢١٥
ওয়াখফিদ জানা-হাকা লিমানিত তাবা‘আকা মিনাল মু’মিনীন
যে সকল বিশ্বাসীরা তোমার আনুগত্য করে তাদের জন্য তুমি তোমার অনুকম্পার বাহু প্রসারিত কর।
فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّى بَرِىٓءٌۭ مِّمَّا تَعْمَلُونَ ٢١٦
ফাইন ‘আসাওকা ফাকুল ইন্নী বারীউম মিম্মা তা‘মালূন
তারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তাহলে তুমি বলে দাও- তোমরা যা কর তার সঙ্গে আমি সম্পর্কহীন।
وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ ٢١٧
ওয়াতাওয়াক্কাল ‘আলাল ‘আযীযির রাহীম
আর তুমি প্রবল পরাক্রান্ত পরম দয়ালুর উপর নির্ভর কর;
ٱلَّذِى يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ ٢١٨
আল্লাযী ইয়ারা-কা হীনা তাকূম
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (নামাযের জন্য) দন্ডায়মান হও।
وَتَقَلُّبَكَ فِى ٱلسَّٰجِدِينَ ٢١٩
ওয়াতাকাল্লুবাকা ফিস সা-জিদীন
আর (তিনি দেখেন) সাজদাকারীদের সঙ্গে তোমার চলাফিরা।
إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ٢٢٠
ইন্নাহূ হুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম
তিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।
هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ ٱلشَّيَٰطِينُ ٢٢١
হাল উনাব্বিউকুম ‘আলা মান তানায্যালুশ শায়া-তীন
আমি কি তোমাদেরকে জানাব কাদের নিকট শয়ত্বানরা অবতীর্ণ হয়।
تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍۢ ٢٢٢
তানায্যালু ‘আলা কুল্লি আফ-ফা-কিন আছীম
তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি চরম মিথ্যুক ও পাপীর নিকট।
يُلْقُونَ ٱلسَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَٰذِبُونَ ٢٢٣
ইউলকূনাস সাম‘আ ওয়াআকছারুহুম কা-যিবূন
ওরা কান পেতে থাকে আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
وَٱلشُّعَرَآءُ يَتَّبِعُهُمُ ٱلْغَاوُۥنَ ٢٢٤
ওয়াশ্শু‘আরা-উ ইয়াত্তাবি‘উহুমুল গা-ঊন
বিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে,
أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِى كُلِّ وَادٍۢ يَهِيمُونَ ٢٢٥
আলাম তারা আন-নাহুম ফী কুল্লি ওয়া-দিঁ ইয়াহীমূন
তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?
وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ ٢٢٦
ওয়াআন্নাহুম ইয়াকূলূনা মা লা ইয়াফ‘আলূন
আর তারা যা বলে তা তারা নিজেরা করে না।
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَذَكَرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًۭا وَٱنتَصَرُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا۟ ۗ وَسَيَعْلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ أَىَّ مُنقَلَبٍۢ يَنقَلِبُونَ ٢٢٧
ইল্লাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি ওয়াযাকারুল্লা-হা কাছীরাঁ ওয়ানতাসারূ মিম বা‘দি মা যুলিমূ ওয়াসায়া‘লামুল লাযীনা যালামূ আইয়্যা মুনকালাবিঁ ইয়ানকালিবূন
কিন্তু ওরা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আর আল্লাহকে খুব বেশি স্মরণ করে আর নির্যাতিত হওয়ার পর নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে। যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ (মহা সংকটময়) জায়গায় তারা ফিরে যাচ্ছে।