। আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নামাযের কথা ভুলে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকা সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি বললেনঃ ঘুমন্ত ব্যক্তির কোন অপরাধ নেই, জেগে থাকা অবস্থায় দোষ হবে। যখন তোমাদের কেউ নামাযের কথা ভুলে যায় অথবা তা না আদায় করে ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে মনে পরার সাথে সাথে নামায আদায় করে নেবে। -সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৬৯৮), মুসলিম, অনুরূপ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসউদ, আবু মারইয়াম, ইমরান ইবনু হুসাইন, জুবাইর ইবনু মুতইম, আবু জুহাইফা, আমর ইবনু উমায়্যা ও যি-মিখবার (রাঃ) (তাকে যিমিখমারও বলা হয়ে থাকে। আর তিনি হলেন, নাজ্জাশীর ভাতিজা) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু কাতাদার হাদীসটি হাসান সহীহ। যদি কোন ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় অথবা ঘুমে অচেতন থাকে, অতঃপর এমন সময় তার নামাযের কথা মনে হয় অথবা ঘুম ভাংগে যখন নামাযের ওয়াক্ত চলে গেছে, অথবা সূর্য উঠছে কিংবা ডুবছে- এরূপ অবস্থায় সে নামায আদায় করবে কি-না সে সম্পর্কে বিদ্বানগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আহমাদ, ইসহাক, শাফিঈ এবং মালিক (রহঃ) বলেছেন, এরূপ ক্ষেত্রে সে নামায আদায় করে নেবে, চাই সেটা সূর্যোদয় অথবা ডুবে যাওয়ার সময়ই হোক না কেন। অপর দলের মতে, সূর্যোদয় ও অস্ত যাওয়ার সময় নামায আদায় করবে না, উদয় বা অস্ত শেষ হলেই নামায আদায় করবে।
Abu Qatadah narrated:"They asked the Prophet about when they sIept past the Salat. He said: 'There is no negligence in sleep, negligence is only while one is awake. So when one of you forgets a Salat, or sleeps through it, then let him pray it when he remembers it
। আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবু যার! আমার পর এমনসব আমীর (রাষ্ট্রপ্রধান) ক্ষমতায় আসবে যারা নামাযকে হত্যা করে ফেলবে। অতএব তুমি সময়মত (আওয়াল ওয়াক্তে) নামায আদায় করে নিও। যদি তুমি নির্ধারিত সময়ে নামায (একাকি) আদায় করে নাও তাহলে পরে ইমামের সাথে আদায় করা নামায তোমার জন্য নফল হিসাবে ধরা হবে। পরে তুমি যদি ইমামের সাথে আবার নামায না আদায় কর তাহলে তুমি নিজের নামাযের হিফাজাত করলে। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (১২৫৬), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ ও উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে, আবু ঈসা বলেনঃ আবু যার (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান। ইমাম যদি নামায আদায়ে দেরি করে, তাহলে যে কোন ব্যক্তি একা নামায আদায় করে নেবে। অতঃপর ইমামের সাথে আবার তা আদায় করবে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের মতে প্রথমের নামায ফরয হিসাবে বিবেচ্য হবে। আবু ইমরান আলজাওনী'র নাম আব্দুল মালিক ইবনু হাবীব।
Abu Dharr narrated that :the Prophet said: "O Abu Dharr! There will be leaders after me who cause the Salat to die; so perform the Salat during its time. If you pray (with them) during its time, then that will be voluntary Salat for you, if not, then you will have attained your Salat
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামায আদায়ের কথা ভুলে গেছে সে যেন (নামাযের কথা) মনে হওয়ার সাথে সাথেই তা আদায় করে নেয়। —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬৯৬), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে সামুরা (রাঃ) ও আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে, আবু ঈসা বলেনঃ আনাস (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে গেছে, মনে হওয়ার সাথে সাথে সে তা আদায় করে নেবে, চাই নামাযের ওয়াক্ত থাক বা না থাক”। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত গ্রহণ করেছেন। আবু বাকরাহ (রাঃ) প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, একবার তিনি ঘুমের ঘোরে আসরের নামাযের ওয়াক্ত কাটিয়ে দিলেন, এমনকি সূর্য ডুবার সময় তিনি জেগে উঠলেন। অতঃপর সূর্যাস্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নামায আদায় করলেন না।” কুফার আলিমগণ (আবু হানীফা ও তার মতানুসারীগণ) এই মত গ্রহণ করেছেন। (তিরমিয়ী বলেন) কিন্তু আমাদের সঙ্গীরা আলী (রাঃ)-এর মত গ্রহণ করেছেন।
Anas (bin Malik) narrated that :Allah's Messenger said: "Whoever forgets a Salat then he is to pray it when he remembers it
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ وَنَوْفَلِ بْنِ مُعَاوِيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ أَيْضًا عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তির আসরের নামায ছুটে গেল, (তার অবস্থা এরূপ) যেন তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সবকিছু লুষ্ঠিত হল। -সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৬৮৫), বুখারী ও মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে বুরাইদা ও নাওফাল ইবনু মুআবিয়া (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনু উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম যুহরীও এ হাদীসটি তার সনদ পরম্পরায় ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে বর্ণনা করেছেন।
Ibn Umar narrated that :the Prophet said: "Whoever misses the Asr prayer, then it is as if he was robbed of his family and his property