মূল লেখায় যান
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
الفجر

সূরা আল-ফাজর

ভোর · সূরা নং ৮৯ · ৩০ আয়াত · ১ রুকু · মাক্কী · পারা ৩০
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلْفَجْرِ ١
ওয়ালফাজর
ঊষার শপথ,
وَلَيَالٍ عَشْرٍۢ ٢
ওয়ালায়া-লিন ‘আশর
(জিলহাজ্জ মাসের প্রথম) দশ রাতের শপথ,
وَٱلشَّفْعِ وَٱلْوَتْرِ ٣
ওয়াশ্শাফ‘ই ওয়ালওয়াতর
জোড় ও বেজোড়ের শপথ,
وَٱلَّيْلِ إِذَا يَسْرِ ٤
ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াসর
আর রাতের শপথ যখন তা গত হতে থাকে,
هَلْ فِى ذَٰلِكَ قَسَمٌۭ لِّذِى حِجْرٍ ٥
হাল ফী যা-লিকা কাসামুল লিযী হিজর
অবশ্যই এতে জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য শপথ আছে।
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ ٦
আলাম তারা কাইফা ফা‘আলা রাব্বুকা বি‘আ-দ
তুমি কি দেখনি তোমার প্রতিপালক ‘আদ জাতির সঙ্গে কী ব্যবহার করেছিলেন?
إِرَمَ ذَاتِ ٱلْعِمَادِ ٧
ইরামা যা-তিল ‘ইমা-দ
উচ্চ স্তম্ভ নির্মাণকারী ইরাম গোত্রের প্রতি?
ٱلَّتِى لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِى ٱلْبِلَٰدِ ٨
আল্লাতী লাম ইউখলাক মিছলুহা ফিল বিলা-দ
যার সমতুল্য অন্য কোন দেশে নির্মিত হয়নি।
وَثَمُودَ ٱلَّذِينَ جَابُوا۟ ٱلصَّخْرَ بِٱلْوَادِ ٩
ওয়াছামূদাল লাযীনা জা-বুস সাখরা বিলওয়া-দ
এবং সামূদের প্রতি যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল?
وَفِرْعَوْنَ ذِى ٱلْأَوْتَادِ ١٠
ওয়াফির‘আওনা যিল আওতা-দ
এবং (সেনা ছাউনী স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত) কীলক-এর অধিপতি ফেরাউনের প্রতি?
ٱلَّذِينَ طَغَوْا۟ فِى ٱلْبِلَٰدِ ١١
আল্লাযীনা তাগাও ফিল বিলা-দ
যারা দেশে সীমালঙ্ঘনমূলক আচরণ করেছিল,
فَأَكْثَرُوا۟ فِيهَا ٱلْفَسَادَ ١٢
ফাআকছারূ ফীহাল ফাসা-দ
আর সেখানে বহু বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ ١٣
ফাসাব্বা ‘আলাইহিম রাব্বুকা সাওতা ‘আযা-ব
অতঃপর তোমার প্রতিপালক তাদের উপর শাস্তির চাবুক হানলেন
إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلْمِرْصَادِ ١٤
ইন্না রাব্বাকা লাবিলমিরসা-দ
তোমার প্রতিপালক অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন (যেমন ঘাঁটিতে শত্রুর প্রতি দৃষ্টি রাখা হয়)।
فَأَمَّا ٱلْإِنسَٰنُ إِذَا مَا ٱبْتَلَىٰهُ رَبُّهُۥ فَأَكْرَمَهُۥ وَنَعَّمَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَكْرَمَنِ ١٥
ফাআম্মাল ইনসা-নু ইযা মাবতালা-হু রাব্বুহূ ফাআকরামাহূ ওয়ানা‘‘আমাহূ ফায়াকূলু রাব্বী আকরামান
মানুষ এমন যে, তার প্রতিপালক যখন তাকে পরীক্ষা করেন সম্মান ও অনুগ্রহ দান ক’রে, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে সম্মানিত করেছেন।’
وَأَمَّآ إِذَا مَا ٱبْتَلَىٰهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَهَٰنَنِ ١٦
ওয়াআম্মা- ইযা মাবতালা-হু ফাকাদারা ‘আলাইহি রিযকাহূ ফায়াকূলু রাব্বী আহা-নান
আর যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করেন তার রিযক সঙ্কুচিত ক’রে, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন।’
كَلَّا ۖ بَل لَّا تُكْرِمُونَ ٱلْيَتِيمَ ١٧
কাল্লা বাল লা তুকরিমূনাল ইয়াতীম
না (রিযক) কক্ষনো (মান-সম্মানের মানদন্ড) নয়, বরং তোমরা ইয়াতীমের প্রতি সম্মানজনক আচরণ কর না,
وَلَا تَحَٰٓضُّونَ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ ١٨
ওয়ালা তাহা-দ্দূনা ‘আলা তা‘আ-মিল মিসকীন
আর তোমরা ইয়াতীম মিসকিনকে খাদ্য দেয়ার জন্য পরস্পরকে উৎসাহিত কর না,
وَتَأْكُلُونَ ٱلتُّرَاثَ أَكْلًۭا لَّمًّۭا ١٩
ওয়াতা’কুলূনাত তুরা-ছা আকলাল লাম্মা
আর তোমরা উত্তরাধিকারীদের সব সম্পদ খেয়ে ফেল।
وَتُحِبُّونَ ٱلْمَالَ حُبًّۭا جَمًّۭا ٢٠
ওয়াতুহিব্বূনাল মা-লা হুব্বান জাম্মা
আর তোমরা ধনসম্পদকে অতিরিক্ত ভালবাস।
كَلَّآ إِذَا دُكَّتِ ٱلْأَرْضُ دَكًّۭا دَكًّۭا ٢١
কাল্লা- ইযা দুক্কাতিল আরদু দাক্কান দাক্কা
এটা মোটেই ঠিক নয়, যখন পৃথিবীকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে বালি বানিয়ে দেয়া হবে,
وَجَآءَ رَبُّكَ وَٱلْمَلَكُ صَفًّۭا صَفًّۭا ٢٢
ওয়াজা-আ রাব্বুকা ওয়ালমালাকু সাফ্ফান সাফ্ফা
আর যখন তোমার প্রতিপালক আসবেন আর ফেরেশতারা আসবে সারিবদ্ধ হয়ে,
وَجِا۟ىٓءَ يَوْمَئِذٍۭ بِجَهَنَّمَ ۚ يَوْمَئِذٍۢ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَٰنُ وَأَنَّىٰ لَهُ ٱلذِّكْرَىٰ ٢٣
ওয়াজীআ ইয়াওমাইযিম বিজাহান্নাম ইয়াওমাইযিঁ ইয়াতাযাক্কারুল ইনসা-নু ওয়াআন্না লাহুয যিকরা
আর জাহান্নামকে সেদিন (সামনাসামনি) আনা হবে। সেদিন মানুষ উপলব্ধি করবে, কিন্তু তখন এ উপলব্ধি তার কী কাজে আসবে?
يَقُولُ يَٰلَيْتَنِى قَدَّمْتُ لِحَيَاتِى ٢٤
ইয়াকূলু ইয়া-লাইতানী কাদ্দামতু লিহায়া-তী
সে বলবে, ‘হায়! আমার (এখনকার) জীবনের জন্য যদি আমি (সৎকর্ম) আগে পাঠাতাম!
فَيَوْمَئِذٍۢ لَّا يُعَذِّبُ عَذَابَهُۥٓ أَحَدٌۭ ٢٥
ফায়াওমাইযিল লা ইউ‘আয্যিবু ‘আযা-বাহূ আহাদ
অতঃপর সেদিন তাঁর শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিতে পারবে না
وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُۥٓ أَحَدٌۭ ٢٦
ওয়ালা ইউছিকু ওয়াছা-কাহূ আহাদ
এবং তাঁর বাঁধনের মত কেউ বাঁধতে পারবে না।
يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفْسُ ٱلْمُطْمَئِنَّةُ ٢٧
ইয়া-আইয়্যাতুহান নাফসুল মুতমাইন্নাহ
(অপর দিকে নেককার লোককে বলা হবে) হে প্রশান্ত আত্মা!
ٱرْجِعِىٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةًۭ مَّرْضِيَّةًۭ ٢٨
ইরজি‘ঈ ইলা রাব্বিকি রা-দিয়াতাম মারদিয়্যাহ
তোমার রব-এর দিকে ফিরে এসো সন্তুষ্ট হয়ে এবং (তোমার রব-এর) সন্তুষ্টির পাত্র হয়ে।
فَٱدْخُلِى فِى عِبَٰدِى ٢٩
ফাদখুলী ফী ‘ইবা-দী
অতঃপর আমার (নেক) বান্দাহদের মধ্যে শামিল হও
وَٱدْخُلِى جَنَّتِى ٣٠
ওয়াদখুলী জান্নাতী
আর আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।