মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
النبإ

সূরা আন-নাবা

মহাসংবাদ · সূরা নং ৭৮ · ৪০ আয়াত · ২ রুকু · মাক্কী · পারা ৩০
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
عَمَّ يَتَسَآءَلُونَ ١
‘আম্মা ইয়াতাসা-আলূন
লোকেরা কোন বিষয়ে একে অন্যের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?
عَنِ ٱلنَّبَإِ ٱلْعَظِيمِ ٢
‘আনিন নাবাইল ‘আযীম
(ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার) সেই মহা সংবাদের বিষয়ে,
ٱلَّذِى هُمْ فِيهِ مُخْتَلِفُونَ ٣
আল্লাযী হুম ফীহি মুখতালিফূন
যে বিষয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্য আছে।
كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ٤
কাল্লা সায়া‘লামূন
কক্ষনো না, (তারা যা ধারণা করে তা একেবারে, অলীক ও অবাস্তব), তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।
ثُمَّ كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ٥
ছুম্মা কাল্লা সায়া‘লামূন
আবার বলছি, কক্ষনো না (তাদের ধারণা একেবারে অলীক ও অবাস্তব), তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।
أَلَمْ نَجْعَلِ ٱلْأَرْضَ مِهَٰدًۭا ٦
আলাম নাজ‘আলিল আরদা মিহা-দা
(আমি যে সব কিছুকে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে সক্ষম তা তোমরা অস্বীকার করছ কীভাবে) আমি কি যমীনকে (তোমাদের জন্য) শয্যা বানাইনি?
وَٱلْجِبَالَ أَوْتَادًۭا ٧
ওয়ালজিবা-লা আওতা-দা
আর পর্বতগুলোকে কীলক (বানাইনি)?
وَخَلَقْنَٰكُمْ أَزْوَٰجًۭا ٨
ওয়াখালাকনা-কুম আযওয়া-জা
আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়।
وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًۭا ٩
ওয়াজা‘আলনা নাওমাকুম সুবা-তা
আর তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রামদায়ী।
وَجَعَلْنَا ٱلَّيْلَ لِبَاسًۭا ١٠
ওয়াজা‘আলনাল লাইলা লিবা-সা
রাতকে করেছি আবরণ,
وَجَعَلْنَا ٱلنَّهَارَ مَعَاشًۭا ١١
ওয়াজা‘আলনান নাহা-রা মা‘আ-শা
আর দিনকে করেছি জীবিকা সংগ্রহের মাধ্যম।
وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًۭا شِدَادًۭا ١٢
ওয়াবানাইনা ফাওকাকুম সাব‘আন শিদা-দা
আর তোমাদের উর্ধ্বদেশে বানিয়েছি সাতটি সুদৃঢ় আকাশ।
وَجَعَلْنَا سِرَاجًۭا وَهَّاجًۭا ١٣
ওয়াজা‘আলনা সিরা-জাঁ ওয়াহ্হা-জা
এবং সৃষ্টি করেছি উজ্জ্বল প্রদীপ।
وَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلْمُعْصِرَٰتِ مَآءًۭ ثَجَّاجًۭا ١٤
ওয়াআনযালনা মিনাল মু‘সিরা-তি মা-আন ছাজ্জা-জা
আর আমি বর্ষণ করি বৃষ্টিবাহী মেঘমালা থেকে প্রচুর পানি,
لِّنُخْرِجَ بِهِۦ حَبًّۭا وَنَبَاتًۭا ١٥
লিনুখরিজা বিহী হাব্বাঁ ওয়ানাবা-তা
যাতে আমি তা দিয়ে উৎপন্ন করি শস্য ও উদ্ভিদ,
وَجَنَّٰتٍ أَلْفَافًا ١٦
ওয়াজান্না-তিন আলফা-ফা
আর ঘন উদ্যান।
إِنَّ يَوْمَ ٱلْفَصْلِ كَانَ مِيقَٰتًۭا ١٧
ইন্না ইয়াওমাল ফাসলি কা-না মীকা-তা
নিশ্চয়ই নির্ধারিত আছে মীমাংসার দিন,
يَوْمَ يُنفَخُ فِى ٱلصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًۭا ١٨
ইয়াওমা ইউনফাখু ফিস সূরি ফাতা’তূনা আফওয়া-জা
সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, আর তোমরা দলে দলে আসবে,
وَفُتِحَتِ ٱلسَّمَآءُ فَكَانَتْ أَبْوَٰبًۭا ١٩
ওয়াফুতিহাতিস সামা-উ ফাকা-নাত আবওয়া-বা
আকাশ খুলে দেয়া হবে আর তাতে হবে অনেক দরজা।
وَسُيِّرَتِ ٱلْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا ٢٠
ওয়াসুইয়্যিরাতিল জিবা-লু ফাকা-নাত সারা-বা
আর পর্বতগুলোকে করা হবে চলমান, ফলে তা নিছক মরীচিকায় পরিণত হবে।
إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًۭا ٢١
ইন্না জাহান্নামা কা-নাত মিরসা-দা
জাহান্নাম তো ওঁৎ পেতে আছে,
لِّلطَّٰغِينَ مَـَٔابًۭا ٢٢
লিত্তা-গীনা মাআ-বা
(আর তা হল) সীমালঙ্ঘনকারীদের আশ্রয়স্থল।
لَّٰبِثِينَ فِيهَآ أَحْقَابًۭا ٢٣
লা-বিছীনা ফীহা- আহকা-বা
সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে থাকবে,
لَّا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًۭا وَلَا شَرَابًا ٢٤
লা ইয়াযূকূনা ফীহা বারদাঁ ওয়ালা শারা-বা
সেখানে তারা কোন শীতল ও পানীয় আস্বাদন করবে না
إِلَّا حَمِيمًۭا وَغَسَّاقًۭا ٢٥
ইল্লা হামীমাঁ ওয়াগাস্সা-কা
ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়া;
جَزَآءًۭ وِفَاقًا ٢٦
জাযা-আঁ উইফা-কা
উপযুক্ত প্রতিফল।
إِنَّهُمْ كَانُوا۟ لَا يَرْجُونَ حِسَابًۭا ٢٧
ইন্নাহুম কা-নূ লা ইয়ারজূনা হিসা-বা
তারা (তাদের কৃতকর্মের) কোন হিসাব-নিকাশ আশা করত না,
وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا كِذَّابًۭا ٢٨
ওয়াকায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা কিয্যা-বা
তারা আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করেছিল- পুরোপুরি অস্বীকার।
وَكُلَّ شَىْءٍ أَحْصَيْنَٰهُ كِتَٰبًۭا ٢٩
ওয়াকুল্লা শাইইন আহসাইনা-হু কিতা-বা
সবকিছুই আমি সংরক্ষণ করে রেখেছি লিখিতভাবে।
فَذُوقُوا۟ فَلَن نَّزِيدَكُمْ إِلَّا عَذَابًا ٣٠
ফাযূকূ ফালান নাযীদাকুম ইল্লা ‘আযা-বা
অতএব এখন স্বাদ গ্রহণ কর, আমি তোমাদের জন্য কেবল শাস্তিই বৃদ্ধি করব (অন্য আর কিছু নয়)।
إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا ٣١
ইন্না লিলমুত্তাকীনা মাফা-যা
(অন্য দিকে) মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্য।
حَدَآئِقَ وَأَعْنَٰبًۭا ٣٢
হাদা-ইকা ওয়াআ‘না-বা
বাগান, আঙ্গুর,
وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًۭا ٣٣
ওয়াকাওয়া-‘ইবা আতরা-বা
আর সমবয়স্কা নব্য যুবতী
وَكَأْسًۭا دِهَاقًۭا ٣٤
ওয়াকা’সান দিহা-কা
এবং পরিপূর্ণ পানপাত্র।
لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًۭا وَلَا كِذَّٰبًۭا ٣٥
লা ইয়াসমা‘ঊনা ফীহা লাগওয়াঁ ওয়ালা কিয্যা-বা
সেখানে তারা শুনবে না অসার অর্থহীন আর মিথ্যে কথা,
جَزَآءًۭ مِّن رَّبِّكَ عَطَآءً حِسَابًۭا ٣٦
জাযা-আম মির রাব্বিকা ‘আতা-আন হিসা-বা
এটা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রতিফল, যথোচিত দান।
رَّبِّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ٱلرَّحْمَٰنِ ۖ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًۭا ٣٧
রাব্বিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ামা বাইনাহুমার রাহমা-নি লা ইয়ামলিকূনা মিনহু খিতা-বা
যিনি আকাশ, পৃথিবী আর এগুলোর মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর প্রতিপালক, তিনি অতি দয়াময়, তাঁর সম্মুখে কথা বলার সাহস কারো হবে না।
يَوْمَ يَقُومُ ٱلرُّوحُ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ صَفًّۭا ۖ لَّا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحْمَٰنُ وَقَالَ صَوَابًۭا ٣٨
ইয়াওমা ইয়াকূমুর রূহু ওয়ালমালা-ইকাতু সাফ্ফাল লা ইয়াতাকাল্লামূনা ইল্লা মান আযিনা লাহুর রাহমা-নু ওয়াকা-লা সাওয়া-বা
সেদিন রূহ (জিবরাঈল) আর ফেরেশতারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে, কেউ কোন কথা বলতে পারবে না, সে ব্যতীত যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দিবেন, আর সে যথার্থ কথাই বলবে।
ذَٰلِكَ ٱلْيَوْمُ ٱلْحَقُّ ۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ مَـَٔابًا ٣٩
যা-লিকাল ইয়াওমুল হাক্কু ফামান শা-আত তাখাযা ইলা রাব্বিহী মাআ-বা
এ দিনটি সত্য, সুনিশ্চিত, অতএব যার ইচ্ছে সে তার প্রতিপালকের দিকে আশ্রয় গ্রহণ করুক।
إِنَّآ أَنذَرْنَٰكُمْ عَذَابًۭا قَرِيبًۭا يَوْمَ يَنظُرُ ٱلْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ ٱلْكَافِرُ يَٰلَيْتَنِى كُنتُ تُرَٰبًۢا ٤٠
ইন্না- আনযারনা-কুম ‘আযা-বান কারীবাঁ ইয়াওমা ইয়ানযুরুল মারউ মা কাদ্দামাত ইয়াদা-হু ওয়ায়াকূলুল কা-ফিরু ইয়া-লাইতানী কুনতু তুরা-বা
আমি তোমাদেরকে নিকটবর্তী শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করছি, যেদিন মানুষ দেখতে পাবে তার হাতগুলো আগেই কী (‘আমাল) পাঠিয়েছে আর কাফির বলবে- ‘হায়! আমি যদি মাটি হতাম (তাহলে আমাকে আজকের এ ‘আযাবের সম্মুখীন হতে হত না)।