মূল লেখায় যান
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
الانسان

সূরা আদ-দাহর

মানুষ (আল-ইনসান) · সূরা নং ৭৬ · ৩১ আয়াত · ২ রুকু · মাদানী · পারা ২৯
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
هَلْ أَتَىٰ عَلَى ٱلْإِنسَٰنِ حِينٌۭ مِّنَ ٱلدَّهْرِ لَمْ يَكُن شَيْـًۭٔا مَّذْكُورًا ١
হাল আতা ‘আলাল ইনসা-নি হীনুম মিনাদ দাহরি লাম ইয়াকুন শাইআম মাযকূরা
মহাকালের মধ্য হতে মানুষের উপর কি এমন একটা সময় অতিবাহিত হয়নি যখন সে উল্লেখ করার যোগ্য কোন বস্তুই ছিল না?
إِنَّا خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍۢ نَّبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَٰهُ سَمِيعًۢا بَصِيرًا ٢
ইন্না খালাকনাল ইনসা-না মিন নুতফাতিন আমশা-জিন নাবতালীহি ফাজা‘আলনা-হু সামী‘আম বাসীরা
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত শুক্রবিন্দু থেকে তাকে পরীক্ষা করার জন্য, এজন্য তাকে করেছি শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির অধিকারী।
إِنَّا هَدَيْنَٰهُ ٱلسَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًۭا وَإِمَّا كَفُورًا ٣
ইন্না হাদাইনা-হুস সাবীলা ইম্মা শা-কিরাঁ ওয়াইম্মা কাফূরা
আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।
إِنَّآ أَعْتَدْنَا لِلْكَٰفِرِينَ سَلَٰسِلَا۟ وَأَغْلَٰلًۭا وَسَعِيرًا ٤
ইন্না- আ‘তাদনা লিলকা-ফিরীনা সালা-সিলা ওয়াআগলা-লাঁ ওয়াসা‘ঈরা
আমি (অকৃতজ্ঞ) কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শেকল, বেড়ি আর জ্বলন্ত আগুন।
إِنَّ ٱلْأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِن كَأْسٍۢ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُورًا ٥
ইন্নাল আবরা-রা ইয়াশরাবূনা মিন কা’সিন কা-না মিযা-জুহা কা-ফূরা
(অপরদিকে) নেককার লোকেরা এমন পানপাত্র থেকে পান করবে যাতে কর্পুরের সংমিশ্রণ থাকবে।
عَيْنًۭا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ ٱللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًۭا ٦
‘আইনাঁ ইয়াশরাবু বিহা ‘ইবা-দুল্লা-হি ইউফাজ্জিরূনাহা তাফজীরা
আল্লাহর বান্দারা একটি ঝর্ণা থেকে পান করবে। তারা এই ঝর্ণাকে (তাদের) ইচ্ছেমত প্রবাহিত করবে।
يُوفُونَ بِٱلنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًۭا كَانَ شَرُّهُۥ مُسْتَطِيرًۭا ٧
ইউফূনা বিন্নাযরি ওয়ায়াখা-ফূনা ইয়াওমান কা-না শার্রুহূ মুসতাতীরা
যারা মানত পূরণ করে আর সেই দিনকে ভয় করে যার অনিষ্ট হবে সুদূরপ্রসারী।
وَيُطْعِمُونَ ٱلطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِۦ مِسْكِينًۭا وَيَتِيمًۭا وَأَسِيرًا ٨
ওয়াইউত‘ইমূনাত তা‘আ-মা ‘আলা হুব্বিহী মিসকীনাঁ ওয়ায়াতীমাঁ ওয়াআসীরা
আর তারা আল্লাহর প্রতি তাদের ভালবাসার কারণে মিসকীন, ইয়াতীম ও কয়েদীকে খাবার খাওয়ায়।
إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ ٱللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَآءًۭ وَلَا شُكُورًا ٩
ইন্নামা নুত‘ইমুকুম লিওয়াজহিল্লা-হি লা নুরীদু মিনকুম জাযা-আঁ ওয়ালা শুকূরা
তারা বলে- ‘আমরা তোমাদেরকে খাবার খাওয়াচ্ছি কেবল আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের জন্য, আমরা তোমাদের থেকে কোন প্রতিদান চাই না, চাই না কোন কৃতজ্ঞতা (জ্ঞাপন ও ধন্যবাদ)।
إِنَّا نَخَافُ مِن رَّبِّنَا يَوْمًا عَبُوسًۭا قَمْطَرِيرًۭا ١٠
ইন্না নাখা-ফু মির রাব্বিনা ইয়াওমান ‘আবূসান কামতারীরা
আমরা কেবল ভয় করি আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক ভীতিপ্রদ ভয়ানক দিনের।
فَوَقَىٰهُمُ ٱللَّهُ شَرَّ ذَٰلِكَ ٱلْيَوْمِ وَلَقَّىٰهُمْ نَضْرَةًۭ وَسُرُورًۭا ١١
ফাওয়াকা-হুমুল্লা-হু শার্রা যা-লিকাল ইয়াওমি ওয়ালাক্কা-হুম নাদরাতাঁ ওয়াসুরূরা
যার ফলে আল্লাহ তাদেরকে সে দিনের অনিষ্ট হতে রক্ষা করবেন আর তাদেরকে দিবেন সজীবতা ও আনন্দ।
وَجَزَىٰهُم بِمَا صَبَرُوا۟ جَنَّةًۭ وَحَرِيرًۭا ١٢
ওয়াজাযা-হুম বিমা সাবারূ জান্নাতাঁ ওয়াহারীরা
আর তাদের ধৈর্য সহিষ্ণুতার বিনিময়ে তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক।
مُّتَّكِـِٔينَ فِيهَا عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ ۖ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًۭا وَلَا زَمْهَرِيرًۭا ١٣
মুত্তাকিঈনা ফীহা ‘আলাল আরা-ইকি লা ইয়ারাওনা ফীহা শামসাঁ ওয়ালা যামহারীরা
সেখানে তারা উচ্চ আসনগুলোতে হেলান দিয়ে বসবে, সেখানে তারা দেখবে না অতি গরম, আর অতি শীত।
وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَٰلُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًۭا ١٤
ওয়াদা-নিয়াতান ‘আলাইহিম যিলা-লুহা ওয়াযুল্লিলাত কুতূফুহা তাযলীলা
জান্নাতের বৃক্ষরাজির ছায়া তাদের উপর থাকবে, আর ফলের গুচ্ছ একেবারে তাদের নাগালের মধ্যে রাখা হবে।
وَيُطَافُ عَلَيْهِم بِـَٔانِيَةٍۢ مِّن فِضَّةٍۢ وَأَكْوَابٍۢ كَانَتْ قَوَارِيرَا۠ ١٥
ওয়াইউতা-ফু ‘আলাইহিম বিআ-নিয়াতিম মিন ফিদ্দাতিঁ ওয়াআকওয়া-বিন কা-নাত কাওয়া-রীর
তাদের সামনে ঘুরে ঘুরে রুপার পাত্র পরিবেশন করা হবে আর সাদা পাথরের পানপাত্র।
قَوَارِيرَا۟ مِن فِضَّةٍۢ قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًۭا ١٦
কাওয়া-রীরা মিন ফিদ্দাতিন কাদ্দারূহা তাকদীরা
সেই সাদা পাথরও হবে রুপার তৈরী। তারা এগুলোকে যথাযথ পরিমাণে ভর্তি করবে।
وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًۭا كَانَ مِزَاجُهَا زَنجَبِيلًا ١٧
ওয়াইউসকাওনা ফীহা কা’সান কা-না মিযা-জুহা যানজাবীলা
তাদেরকে পান করানোর জন্য এমন পাত্র পরিবেশন করা হবে যাতে আদার মিশ্রণ থাকবে।
عَيْنًۭا فِيهَا تُسَمَّىٰ سَلْسَبِيلًۭا ١٨
‘আইনান ফীহা তুসাম্মা সালসাবীলা
সেখানে আছে একটা ঝর্ণা, যার নাম সালসাবীল।
۞ وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَٰنٌۭ مُّخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًۭا مَّنثُورًۭا ١٩
ওয়ায়াতূফু ‘আলাইহিম উইলদা-নুম মুখাল্লাদূনা ইযা রাআইতাহুম হাসিবতাহুম লু’লুআম মানছূরা
ঘুরে ঘুরে তাদের সেবাদান কার্যে নিয়োজিত থাকবে চিরকিশোরগণ। তুমি যখন তাদেরকে দেখবে, তুমি মনে করবে, তারা যেন ছড়ানো মুক্তা।
وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًۭا وَمُلْكًۭا كَبِيرًا ٢٠
ওয়াইযা রাআইতা ছাম্মা রাআইতা না‘ঈমাঁ ওয়ামুলকান কাবীরা
তুমি যখন দেখবে তখন দেখতে পাবে ভোগ বিলাসের নানান সামগ্রী আর এক বিশাল রাজ্য।
عَٰلِيَهُمْ ثِيَابُ سُندُسٍ خُضْرٌۭ وَإِسْتَبْرَقٌۭ ۖ وَحُلُّوٓا۟ أَسَاوِرَ مِن فِضَّةٍۢ وَسَقَىٰهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًۭا طَهُورًا ٢١
‘আ-লিয়াহুম ছিয়া-বু সুনদুসিন খুদরুঁ ওয়াইসতাবরাকুঁ ওয়াহুল্লূ আসা-উইরা মিন ফিদ্দাতিঁ ওয়াসাকা-হুম রাব্বুহুম শারা-বান তাহূরা
তাদের আবরণ হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা রেশম, আর তাদেরকে অলংকারে সজ্জিত করা হবে রুপার কঙ্কণ দ্বারা, আর তাদের রব্ব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পরিচ্ছন্ন পানীয়।
إِنَّ هَٰذَا كَانَ لَكُمْ جَزَآءًۭ وَكَانَ سَعْيُكُم مَّشْكُورًا ٢٢
ইন্না হা-যা কা-না লাকুম জাযা-আঁ ওয়াকা-না সা‘ইউকুম মাশকূরা
‘এটাই তোমাদের প্রতিদান, তোমাদের চেষ্টা-সাধনা সাদরে গৃহীত হয়েছে।’
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ ٱلْقُرْءَانَ تَنزِيلًۭا ٢٣
ইন্না নাহনু নায্যালনা ‘আলাইকাল কুরআ-না তানযীলা
(হে নবী!) আমি তোমার কাছে কুরআন অবতীর্ণ করেছি ক্রমে ক্রমে (অল্প অল্প করে)।
فَٱصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعْ مِنْهُمْ ءَاثِمًا أَوْ كَفُورًۭا ٢٤
ফাসবির লিহুকমি রাব্বিকা ওয়ালা তুতি‘ মিনহুম আ-ছিমান আও কাফূরা
কাজেই তুমি ধৈর্য ধ’রে, তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষা কর আর তাদের মধ্যেকার পাপাচারী অথবা কাফিরের আনুগত্য কর না।
وَٱذْكُرِ ٱسْمَ رَبِّكَ بُكْرَةًۭ وَأَصِيلًۭا ٢٥
ওয়াযকুরিসমা রাব্বিকা বুকরাতাঁ ওয়াআসীলা
আর সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রব্ব এর নাম স্মরণ কর।
وَمِنَ ٱلَّيْلِ فَٱسْجُدْ لَهُۥ وَسَبِّحْهُ لَيْلًۭا طَوِيلًا ٢٦
ওয়ামিনাল লাইলি ফাসজুদ লাহূ ওয়াসাব্বিহহু লাইলান তাউঈলা
আর রাতের কিছু অংশে তাঁর জন্য সেজদায় অবনত হও আর রাতের দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর মহিমা বর্ণনা কর।
إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ يُحِبُّونَ ٱلْعَاجِلَةَ وَيَذَرُونَ وَرَآءَهُمْ يَوْمًۭا ثَقِيلًۭا ٢٧
ইন্না হা-উলা-ই ইউহিব্বূনাল ‘আ-জিলাতা ওয়ায়াযারূনা ওয়ারা-আহুম ইয়াওমান ছাকীলা
এ লোকেরা তো পার্থিব জীবনকে ভালবাসে আর তাদের আড়ালে যে (কিয়ামাতের) কঠিন দিন (আসছে) তাকে উপেক্ষা করে।
نَّحْنُ خَلَقْنَٰهُمْ وَشَدَدْنَآ أَسْرَهُمْ ۖ وَإِذَا شِئْنَا بَدَّلْنَآ أَمْثَٰلَهُمْ تَبْدِيلًا ٢٨
নাহনু খালাকনা-হুম ওয়াশাদাদনা- আসরাহুম ওয়াইযা শি’না বাদ্দালনা- আমছা-লাহুম তাবদীলা
আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আর তাদের গঠন মজবুত করেছি। আমি যখন চাইব তখন তাদের স্থলে তাদের মত অন্য লোক আনব।
إِنَّ هَٰذِهِۦ تَذْكِرَةٌۭ ۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلًۭا ٢٩
ইন্না হা-যিহী তাযকিরাতুন ফামান শা-আত তাখাযা ইলা রাব্বিহী সাবীলা
এটা এক উপদেশ, কাজেই যার ইচ্ছে সে (এ উপদেশ মান্য ক’রে) তার প্রতিপালকের পথ ধরুক।
وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًۭا ٣٠
ওয়ামা তাশা-ঊনা ইল্লা- আন ইয়াশা-আল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলীমান হাকীমা
তোমরা ইচ্ছে কর না আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত। (অর্থাৎ আল্লাহ কোন কিছু কার্যকর করতে চাইলে তোমাদের মাঝে ইচ্ছে ও শক্তি সঞ্চার করতঃ তোমাদের মাধ্যমে তা কার্যকর করেন)। আল্লাহ সর্বজ্ঞাতা মহাবিজ্ঞানী।
يُدْخِلُ مَن يَشَآءُ فِى رَحْمَتِهِۦ ۚ وَٱلظَّٰلِمِينَ أَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًۢا ٣١
ইউদখিলু মান ইয়াশা-উ ফী রাহমাতিহ ওয়ায্যা-লিমীনা আ‘আদ্দা লাহুম ‘আযা-বান আলীমা
তিনি যাকে ইচ্ছে তাঁর রাহমাতে দাখিল করেন। আর যালিমরা- তাদের জন্য তিনি প্রস্তুত করে রেখেছেন বড়ই পীড়াদায়ক শাস্তি।