بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
أَتَىٰٓ أَمْرُ ٱللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ ۚ سُبْحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ ١
আতা- আমরুল্লা-হি ফালা তাসতা‘জিলূহ সুবহা-নাহূ ওয়াতা‘আ-লা ‘আম্মা ইউশরিকূন
আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, অতএব এর জন্য তাড়াহুড়ো করো না। তিনি মহান পবিত্র, তারা যাকে শরীক সাব্যস্ত করে তাত্থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।
يُنَزِّلُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ بِٱلرُّوحِ مِنْ أَمْرِهِۦ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦٓ أَنْ أَنذِرُوٓا۟ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱتَّقُونِ ٢
ইউনায্যিলুল মালা-ইকাতা বির্রূহি মিন আমরিহী ‘আলা মান ইয়াশা-উ মিন ‘ইবা-দিহী আন আনযিরূ আন-নাহূ লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা ফাত্তাকূন
তিনি তাঁর এ রূহকে (ওহীক) যে বান্দাহর উপর চান স্বীয় নির্দেশক্রমে ফেরেশতাদের মাধ্যমে অবতীর্ণ করেন (এই মর্মে যে) তোমরা সতর্ক কর যে, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, কাজেই আমাকে ভয় কর।
خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِٱلْحَقِّ ۚ تَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ ٣
খালাকাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা বিলহাক্ক তা‘আ-লা ‘আম্মা ইউশরিকূন
তিনি (বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে) প্রকৃতভাবেই আসমানসমূহ যমীন সৃষ্টি করেছেন, তারা যাকে আল্লাহর অংশীদার গণ্য করে তাত্থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।
خَلَقَ ٱلْإِنسَٰنَ مِن نُّطْفَةٍۢ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌۭ مُّبِينٌۭ ٤
খালাকাল ইনসা-না মিন নুতফাতিন ফাইযা হুওয়া খাসীমুম মুবীন
তিনি শুক্র-কীট থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন অথচ সে প্রকাশ্য ঝগড়াটে সেজে বসল।
وَٱلْأَنْعَٰمَ خَلَقَهَا ۗ لَكُمْ فِيهَا دِفْءٌۭ وَمَنَٰفِعُ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ ٥
ওয়ালআন‘আ-মা খালাকাহা লাকুম ফীহা দিফউঁ ওয়ামানা-ফি‘উ ওয়ামিনহা তা’কুলূন
তিনি চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য আছে (শীত) নিবারক আর বহু উপকারিতাও, আর সেগুলো থেকে তোমরা আহার কর।
وَلَكُمْ فِيهَا جَمَالٌ حِينَ تُرِيحُونَ وَحِينَ تَسْرَحُونَ ٦
ওয়ালাকুম ফীহা জামা-লুন হীনা তুরীহূনা ওয়াহীনা তাসরাহূন
তোমরা গর্বভরে সৌন্দর্য অনুভব কর যখন তোমরা সন্ধ্যাবেলা সেগুলোকে বাড়ীর পানে হাঁকিয়ে আন আর সকাল বেলা বিচরণের জন্য পাঠাও।
وَتَحْمِلُ أَثْقَالَكُمْ إِلَىٰ بَلَدٍۢ لَّمْ تَكُونُوا۟ بَٰلِغِيهِ إِلَّا بِشِقِّ ٱلْأَنفُسِ ۚ إِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ ٧
ওয়াতাহমিলু আছকা-লাকুম ইলা বালাদিল লাম তাকূনূ বা-লিগীহি ইল্লা বিশিক্কিল আনফুস ইন্না রাব্বাকুম লারাঊফুর রাহীম
আর এগুলো তোমাদের ভার বোঝা বহন ক’রে এমন স্থান পর্যন্ত নিয়ে যায়, প্রাণান্তকর ক্লেশ ছাড়া যেখানে তোমরা পৌঁছতে পারতে না, তোমাদের প্রতিপালক অবশ্যই বড়ই দয়ার্দ্র, বড়ই দয়ালু।
وَٱلْخَيْلَ وَٱلْبِغَالَ وَٱلْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةًۭ ۚ وَيَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ٨
ওয়ালখাইলা ওয়ালবিগা-লা ওয়ালহামীরা লিতারকাবূহা ওয়াযীনাহ ওয়ায়াখলুকু মা লা তা‘লামূন
তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গর্দভ সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা ওগুলোতে আরোহণ করতে পার আর শোভা-সৌন্দর্যের জন্যও; তিনি পয়দা করেন অনেক কিছু যা তোমাদের জানা নেই।
وَعَلَى ٱللَّهِ قَصْدُ ٱلسَّبِيلِ وَمِنْهَا جَآئِرٌۭ ۚ وَلَوْ شَآءَ لَهَدَىٰكُمْ أَجْمَعِينَ ٩
ওয়া‘আলাল্লা-হি কাসদুস সাবীলি ওয়ামিনহা জা-ইর ওয়ালাও শা-আ লাহাদা-কুম আজমা‘ঈন
আল্লাহরই দায়িত্বে রয়েছে সরল পথপ্রদর্শন। পথগুলোর মধ্যে বাঁকা পথও আছে। তিনি যদি ইচ্ছে করতেন তাহলে অবশ্যই তোমাদের সকলকেই সঠিক পথ প্রদর্শন করতেন।
هُوَ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ ۖ لَّكُم مِّنْهُ شَرَابٌۭ وَمِنْهُ شَجَرٌۭ فِيهِ تُسِيمُونَ ١٠
হুওয়াল লাযী আনযালা মিনাস সামা-ই মা-আল লাকুম মিনহু শারা-বুঁ ওয়ামিনহু শাজারুন ফীহি তুসীমূন
তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন যাতে আছে তোমাদের জন্য পানীয় আর তাতে জন্মে বৃক্ষ লতা যা তোমাদের পশুগুলোকে খাওয়াও।
يُنۢبِتُ لَكُم بِهِ ٱلزَّرْعَ وَٱلزَّيْتُونَ وَٱلنَّخِيلَ وَٱلْأَعْنَٰبَ وَمِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ ١١
ইউমবিতু লাকুম বিহিয যার‘আ ওয়ায্যাইতূনা ওয়ান্নাখীলা ওয়ালআ‘না-বা ওয়ামিন কুল্লিছ ছামারা-ত ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিঁ ইয়াতাফাক্কারূন
তিনি তা দিয়ে তোমাদের জন্য জন্মান শস্য, যায়তূন, খেজুর, আঙ্গুর এবং সর্বপ্রকার ফল। এতে চিন্তাশীল মানুষদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
وَسَخَّرَ لَكُمُ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ وَٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ ۖ وَٱلنُّجُومُ مُسَخَّرَٰتٌۢ بِأَمْرِهِۦٓ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ١٢
ওয়াসাখ্খারা লাকুমুল লাইলা ওয়ান্নাহা-রা ওয়াশ্শামসা ওয়ালকামারা ওয়ান্নুজূমু মুসাখ্খারা-তুম বিআমরিহ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিঁ ইয়া‘কিলূন
তিনিই রাত ও দিনকে তোমাদের উপকারে নিয়োজিত করেছেন। আর সুরুজ ও চাঁদকেও; এবং তারকারাজিও তাঁরই নির্দেশে নিয়ন্ত্রিত; বিবেকসম্পন্ন লোকেদের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।
وَمَا ذَرَأَ لَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ مُخْتَلِفًا أَلْوَٰنُهُۥٓ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يَذَّكَّرُونَ ١٣
ওয়ামা যারাআ লাকুম ফিল আরদি মুখতালিফান আলওয়া-নুহ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিঁ ইয়ায্যাক্কারূন
আর তিনি তোমাদের জন্য যমীনে বিভিন্ন রং-এর বস্তুরাজি সৃষ্টি করেছেন। এতে ঐ সমস্ত লোকেদের জন্য নিশ্চিতভাবে নিদর্শন আছে যারা উপদেশ গ্রহণ করতে চায়।
وَهُوَ ٱلَّذِى سَخَّرَ ٱلْبَحْرَ لِتَأْكُلُوا۟ مِنْهُ لَحْمًۭا طَرِيًّۭا وَتَسْتَخْرِجُوا۟ مِنْهُ حِلْيَةًۭ تَلْبَسُونَهَا وَتَرَى ٱلْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِهِۦ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ١٤
ওয়াহুওয়াল লাযী সাখ্খারাল বাহরা লিতা’কুলূ মিনহু লাহমান তারিয়্যাঁ ওয়াতাসতাখরিজূ মিনহু হিলইয়াতান তালবাসূনাহা ওয়াতারাল ফুলকা মাওয়া-খিরা ফীহি ওয়ালিতাবতাগূ মিন ফাদলিহী ওয়ালা‘আল্লাকুম তাশকুরূন
তিনিই সমুদ্রকে কল্যাণে নিয়োজিত রেখেছেন যাতে তোমরা তাত্থেকে তাজা গোশত খেতে পার, আর তাত্থেকে তোমরা রত্নরাজি সংগ্রহ করতে পার যা তোমরা অলংকার হিসেবে পরিধান কর। আর নৌযানগুলোকে তোমরা দেখতে পাও ঢেউয়ের বুক চিরে তাতে চলাচল করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ করতে পার আর শোকর আদায় করতে পার।
وَأَلْقَىٰ فِى ٱلْأَرْضِ رَوَٰسِىَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَٰرًۭا وَسُبُلًۭا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ١٥
ওয়াআলকা ফিল আরদি রাওয়া-সিয়া আন তামীদা বিকুম ওয়াআনহা-রাঁ ওয়াসুবুলাল লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন
তিনি যমীনে সুদৃঢ় পর্বত সংস্থাপিত করেছেন যাতে যমীন তোমাদেরকে নিয়ে আন্দোলিত না হয়, আর সংস্থাপিত করেছেন নদী নির্ঝরিণী আর পথ যাতে তোমরা পথের সন্ধান পেতে পার।
وَعَلَٰمَٰتٍۢ ۚ وَبِٱلنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ ١٦
ওয়া‘আলা-মা-ত ওয়াবিন্নাজমি হুম ইয়াহতাদূন
আর দিক-দিশা প্রদানকারী চিহ্নসমূহ; আর তারকারাজির সাহায্যেও তারা পথনির্দেশ লাভ করে।
أَفَمَن يَخْلُقُ كَمَن لَّا يَخْلُقُ ۗ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ١٧
আফামান ইয়াখলুকু কামাল লা ইয়াখলুক আফালা তাযাক্কারূন
যিনি সৃষ্টি করেন তিনি কি তার মত যে সৃষ্টি করে না? তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?
وَإِن تَعُدُّوا۟ نِعْمَةَ ٱللَّهِ لَا تُحْصُوهَآ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَغَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١٨
ওয়াইন তা‘উদ্দূ নি‘মাতাল্লা-হি লা তুহসূহা- ইন্নাল্লা-হা লাগাফূরুর রাহীম
তোমরা আল্লাহর নি‘মাতসমূহকে গণনা করলে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না; আল্লাহ অবশ্যই বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
وَٱللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ ١٩
ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামু মা তুসির্রূনা ওয়ামা তু‘লিনূন
আল্লাহ জানেন তোমরা যা গোপন কর আর যা তোমরা প্রকাশ কর।
وَٱلَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ لَا يَخْلُقُونَ شَيْـًۭٔا وَهُمْ يُخْلَقُونَ ٢٠
ওয়াল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূনিল্লা-হি লা ইয়াখলুকূনা শাইআঁ ওয়াহুম ইউখলাকূন
তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য যাদেরকে ডাকে তারা কিছুই সৃষ্টি করে না, তারা (নিজেরাই) সৃষ্ট।
أَمْوَٰتٌ غَيْرُ أَحْيَآءٍۢ ۖ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ ٢١
আমওয়া-তুন গাইরু আহইয়া-ইঁ ওয়ামা ইয়াশ‘উরূনা আইয়্যা-না ইউব‘আছূন
তারা প্রাণহীন, জীবিত নয়, তাদের কোনই চেতনা নেই কবে তাদেরকে (পুনর্জীবিত করে) উঠানো হবে।
إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ ۚ فَٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِ قُلُوبُهُم مُّنكِرَةٌۭ وَهُم مُّسْتَكْبِرُونَ ٢٢
ইলা-হুকুম ইলা-হুঁ ওয়া-হিদ ফাল্লাযীনা লা ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি কুলূবুহুম মুনকিরাতুঁ ওয়াহুম মুসতাকবিরূন
তোমাদের ইলাহ হলেন এক ইলাহ। কাজেই যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্য-অস্বীকারকারী আর তারা অহংকারী।
لَا جَرَمَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ ۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلْمُسْتَكْبِرِينَ ٢٣
লা জারামা আন-নাল্লা-হা ইয়া‘লামু মা ইউসির্রূনা ওয়ামা ইউ‘লিনূন ইন্নাহূ লা ইউহিব্বুল মুসতাকবিরীন
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ জানেন যা তারা গোপন করে আর যা প্রকাশ করে, তিনি অহঙ্কারীদেরকে ভালবাসেন না।
وَإِذَا قِيلَ لَهُم مَّاذَآ أَنزَلَ رَبُّكُمْ ۙ قَالُوٓا۟ أَسَٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ ٢٤
ওয়াইযা কীলা লাহুম মা-যা- আনযালা রাব্বুকুম কা-লূ আসা-তীরুল আওয়ালীন
তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘তোমাদের প্রতিপালক কী নাযিল করেছেন’ তখন তারা বলে- ‘পূর্ববর্তীদের কল্প-কাহিনী’।
لِيَحْمِلُوٓا۟ أَوْزَارَهُمْ كَامِلَةًۭ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۙ وَمِنْ أَوْزَارِ ٱلَّذِينَ يُضِلُّونَهُم بِغَيْرِ عِلْمٍ ۗ أَلَا سَآءَ مَا يَزِرُونَ ٢٥
লিয়াহমিলূ আওযা-রাহুম কা-মিলাতাঁ ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়ামিন আওযা-রিল লাযীনা ইউদিল্লূনাহুম বিগাইরি ‘ইলম আলা সা-আ মা ইয়াযিরূন
যার ফলে ক্বিয়ামাত দিবসে তারা বহন করবে নিজেদের পাপের বোঝা পূর্ণ মাত্রায়, আর (আংশিক) তাদেরও পাপের বোঝা যাদেরকে তারা গুমরাহ করেছে নিজেদের অজ্ঞতার কারণে। হায়, তারা যা বহন করবে তা কতই না নিকৃষ্ট!
قَدْ مَكَرَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَأَتَى ٱللَّهُ بُنْيَٰنَهُم مِّنَ ٱلْقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَيْهِمُ ٱلسَّقْفُ مِن فَوْقِهِمْ وَأَتَىٰهُمُ ٱلْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ ٢٦
কাদ মাকারাল লাযীনা মিন কাবলিহিম ফাআতাল্লা-হু বুনইয়া-নাহুম মিনাল কাওয়া-‘ইদি ফাখার্রা ‘আলাইহিমুস সাকফু মিন ফাওকিহিম ওয়াআতা-হুমুল ‘আযা-বু মিন হাইছু লা ইয়াশ‘উরূন
তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও চক্রান্ত করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের ইমারাতকে মূল থেকে উৎপাটিত করেছিলেন আর উপর থেকে ছাদ তাদের উপর ভেঙ্গে পড়ল, আর তাদের প্রতি শাস্তি পতিত হল এমন দিক হতে যা তারা এতটুকু টের পায়নি।
ثُمَّ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ يُخْزِيهِمْ وَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَآءِىَ ٱلَّذِينَ كُنتُمْ تُشَٰٓقُّونَ فِيهِمْ ۚ قَالَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ إِنَّ ٱلْخِزْىَ ٱلْيَوْمَ وَٱلسُّوٓءَ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ ٢٧
ছুম্মা ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইউখযীহিম ওয়ায়াকূলু আইনা শুরাকা-ইয়াল লাযীনা কুনতুম তুশা-ক্কূনা ফীহিম কা-লাল লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা ইন্নাল খিযইয়াল ইয়াওমা ওয়াস্সূআ ‘আলাল কা-ফিরীন
অতঃপর ক্বিয়ামাত দিনে তিনি তাদেরকে অপমানিত করবেন আর বলবেন, ‘আমার অংশীদাররা কোথায় যাদের সম্পর্কে তোমরা (ঈমানদারদের সঙ্গে) বাক-বিতন্ডা করতে?’ যাদেরকে (দুনিয়ায়) জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলবে, ‘আজ অপমান আর দুর্ভাগ্য তো কাফিরদের জন্য
ٱلَّذِينَ تَتَوَفَّىٰهُمُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ ظَالِمِىٓ أَنفُسِهِمْ ۖ فَأَلْقَوُا۟ ٱلسَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِن سُوٓءٍۭ ۚ بَلَىٰٓ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٢٨
আল্লাযীনা তাতাওয়াফ্ফা-হুমুল মালা-ইকাতু যা-লিমী আনফুসিহিম ফাআলকাউস সালামা মা কুন্না না‘মালু মিন সূ’ বালা- ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিমা কুনতুম তা‘মালূন
ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় নিজেদের প্রতি যুলম করা অবস্থায়।’ অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ ক’রে বলবে, ‘আমরা তো কোন খারাপ কাজ করতাম না।’ (ফেরেশতারা জবাব দিবে) ‘বরং, তোমরা যা করছিলে আল্লাহ সে বিষয়ে খুব ভালভাবেই অবগত।
فَٱدْخُلُوٓا۟ أَبْوَٰبَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَا ۖ فَلَبِئْسَ مَثْوَى ٱلْمُتَكَبِّرِينَ ٢٩
ফাদখুলূ আবওয়া-বা জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা ফালাবি’সা মাছওয়াল মুতাকাব্বিরীন
কাজেই জাহান্নামের দরজায় প্রবেশ কর, সেখানে তোমাদেরকে চিরকাল থাকতে হবে, দাম্ভিকদের অবাসস্থল কতই না মন্দ!’
۞ وَقِيلَ لِلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ مَاذَآ أَنزَلَ رَبُّكُمْ ۚ قَالُوا۟ خَيْرًۭا ۗ لِّلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ فِى هَٰذِهِ ٱلدُّنْيَا حَسَنَةٌۭ ۚ وَلَدَارُ ٱلْءَاخِرَةِ خَيْرٌۭ ۚ وَلَنِعْمَ دَارُ ٱلْمُتَّقِينَ ٣٠
ওয়াকীলা লিল্লাযীনাত তাকাও মা-যা- আনযালা রাব্বুকুম কা-লূ খাইরা লিল্লাযীনা আহসানূ ফী হা-যিহিদ দুনইয়া হাসানাহ ওয়ালাদা-রুল আ-খিরাতি খাইর ওয়ালানি‘মা দা-রুল মুত্তাকীন
মুত্তাকীদের যখন বলা হয়, ‘তোমাদের প্রতিপালক কী অবতীর্ণ করেছেন?’ তারা বলে, ‘যা কিছু উৎকৃষ্ট (তা-ই অবতীর্ণ করেছেন)।’ যারা সৎকর্ম করে তাদের জন্য এ দুনিয়াতে আছে কল্যাণ, আর তাদের পরকালের ঘর তো নিশ্চিতই কল্যাণকর। মুত্তাকীদের আবাসস্থল কতই না উত্তম!
جَنَّٰتُ عَدْنٍۢ يَدْخُلُونَهَا تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ ۖ لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَآءُونَ ۚ كَذَٰلِكَ يَجْزِى ٱللَّهُ ٱلْمُتَّقِينَ ٣١
জান্না-তু ‘আদনিঁ ইয়াদখুলূনাহা তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু লাহুম ফীহা মা ইয়াশা-ঊন কাযা-লিকা ইয়াজযিল্লা-হুল মুত্তাকীন
(তা হল) স্থায়ী জান্নাত যাতে তারা প্রবেশ করবে, তার নিম্নদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা যা ইচ্ছে করবে সেখানে তাদের জন্য তা-ই আছে- আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করেন।
ٱلَّذِينَ تَتَوَفَّىٰهُمُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ طَيِّبِينَ ۙ يَقُولُونَ سَلَٰمٌ عَلَيْكُمُ ٱدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٣٢
আল্লাযীনা তাতাওয়াফ্ফা-হুমুল মালা-ইকাতু তাইয়্যিবীনা ইয়াকূলূনা সালা-মুন ‘আলাইকুমুদখুলুল জান্নাতা বিমা কুনতুম তা‘মালূন
ফেরেশতা যাদের মৃত্যু ঘটায় পবিত্র অবস্থায় এই ব’লে যে, ‘তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা যে ‘আমাল করতে তার ফল হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ কর।’
هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّآ أَن تَأْتِيَهُمُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ أَوْ يَأْتِىَ أَمْرُ رَبِّكَ ۚ كَذَٰلِكَ فَعَلَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ وَمَا ظَلَمَهُمُ ٱللَّهُ وَلَٰكِن كَانُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ٣٣
হাল ইয়ানযুরূনা ইল্লা- আন তা’তিয়াহুমুল মালা-ইকাতু আও ইয়া’তিয়া আমরু রাব্বিক কাযা-লিকা ফা‘আলাল লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়ামা যালামাহুমুল্লা-হু ওয়ালা-কিন কা-নূ আনফুসাহুম ইয়াযলিমূন
তারা কি এই অপেক্ষায় আছে যে, ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে কিংবা তোমার প্রতিপালকের ফায়সালা এসে পড়বে? তাদের পূর্ববর্তীরাও এ রকমই করত। আল্লাহ তাদের প্রতি কোন যুলম করেননি বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করত।
فَأَصَابَهُمْ سَيِّـَٔاتُ مَا عَمِلُوا۟ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ٣٤
ফাআসা-বাহুম সাইয়্যিআ-তু মা ‘আমিলূ ওয়াহা-কা বিহিম মা কা-নূ বিহী ইয়াসতাহযিঊন
কাজেই তাদের ‘আমালের মন্দ পরিণতি তাদের উপর আপতিত হল আর যে বিষয়কে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তা-ই তাদেরকে ঘিরে ফেলল।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ أَشْرَكُوا۟ لَوْ شَآءَ ٱللَّهُ مَا عَبَدْنَا مِن دُونِهِۦ مِن شَىْءٍۢ نَّحْنُ وَلَآ ءَابَآؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِن دُونِهِۦ مِن شَىْءٍۢ ۚ كَذَٰلِكَ فَعَلَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ فَهَلْ عَلَى ٱلرُّسُلِ إِلَّا ٱلْبَلَٰغُ ٱلْمُبِينُ ٣٥
ওয়াকা-লাল লাযীনা আশরাকূ লাও শা-আল্লা-হু মা ‘আবাদনা মিন দূনিহী মিন শাইইন নাহনু ওয়ালা- আ-বা-উনা ওয়ালা হার্রামনা মিন দূনিহী মিন শাই’ কাযা-লিকা ফা‘আলাল লাযীনা মিন কাবলিহিম ফাহাল ‘আলার রুসুলি ইল্লাল বালা-গুল মুবীন
মুশরিকরা বলে, ‘আল্লাহ ইচ্ছে করলে তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোন কিছুর ‘ইবাদাত আমরাও করতাম না, আর আমাদের পিতৃপুরুষরাও না, আর তাঁর হুকুম ছাড়া কোন কিছুকে হারাম গণ্যও করতাম না। তাদের পূর্ববর্তীরাও এ রকমই করত। (তারা রসূলদের কথা অমান্য করলে রসূলদের তো আর কিছুই করার নেই, কারণ) স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া ছাড়া রসূলদের উপর কি কোন দায়িত্ব আছে?
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِى كُلِّ أُمَّةٍۢ رَّسُولًا أَنِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ وَٱجْتَنِبُوا۟ ٱلطَّٰغُوتَ ۖ فَمِنْهُم مَّنْ هَدَى ٱللَّهُ وَمِنْهُم مَّنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ ٱلضَّلَٰلَةُ ۚ فَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُكَذِّبِينَ ٣٦
ওয়ালাকাদ বা‘আছনা ফী কুল্লি উম্মাতির রাসূলান আনি‘বুদুল্লা-হা ওয়াজতানিবুত তা-গূতা ফামিনহুম মান হাদাল্লা-হু ওয়ামিনহুম মান হাক্কাত ‘আলাইহিদ দালা-লাহ ফাসীরূ ফিল আরদি ফানযুরূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুকায্যিবীন
প্রত্যেক জাতির কাছে আমি রসূল পাঠিয়েছি (এ সংবাদ দিয়ে) যে, আল্লাহর ‘ইবাদাত কর আর তাগুতকে বর্জন কর। অতঃপর আল্লাহ তাদের মধ্যে কতককে সৎপথ দেখিয়েছেন, আর কতকের উপর অবধারিত হয়েছে গুমরাহী, অতএব যমীনে ভ্রমণ করে দেখ, সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণতি কী ঘটেছিল!
إِن تَحْرِصْ عَلَىٰ هُدَىٰهُمْ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى مَن يُضِلُّ ۖ وَمَا لَهُم مِّن نَّٰصِرِينَ ٣٧
ইন তাহরিস ‘আলা হুদা-হুম ফাইন্নাল্লা-হা লা ইয়াহদী মান ইউদিল্লু ওয়ামা লাহুম মিন না-সিরীন
তুমি যদি তাদের হিদায়াতের জন্য লালায়িত হও তবে (জেনে রেখে যে) আল্লাহ তাকে সৎপথ দেখান না যাকে তিনি বিপথগামী হতে ছেড়ে দেন আর তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
وَأَقْسَمُوا۟ بِٱللَّهِ جَهْدَ أَيْمَٰنِهِمْ ۙ لَا يَبْعَثُ ٱللَّهُ مَن يَمُوتُ ۚ بَلَىٰ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّۭا وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ٣٨
ওয়াআকসামূ বিল্লা-হি জাহদা আইমা-নিহিম লা ইয়াব‘আছুল্লা-হু মান ইয়ামূত বালা ওয়া‘দান ‘আলাইহি হাক্কাঁ ওয়ালা-কিন্না আকছারান না-সি লা ইয়া‘লামূন
তারা আল্লাহর নামে শক্ত কসম খেয়ে বলে, ‘যার মুত্যৃ ঘটে আল্লাহ তাকে পুনরায় জীবিত করবেন না।’ অবশ্যই করবেন, এটা তো একটা প্রতিশ্রুতি যা পূরণ করা তাঁর দায়িত্ব, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না।
لِيُبَيِّنَ لَهُمُ ٱلَّذِى يَخْتَلِفُونَ فِيهِ وَلِيَعْلَمَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّهُمْ كَانُوا۟ كَٰذِبِينَ ٣٩
লিইউবাইয়্যিনা লাহুমুল লাযী ইয়াখতালিফূনা ফীহি ওয়ালিয়া‘লামাল লাযীনা কাফারূ আন-নাহুম কা-নূ কা-যিবীন
(তাদেরকে পুনর্জীবিত করা হবে) যারা এ ব্যাপারে মতভেদ করেছিল তাদের কাছে স্পষ্ট করে দেয়ার জন্য, আর কাফিরগণ যাতে জানতে পারে যে, তারা ছিল মিথ্যেবাদী।
إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَىْءٍ إِذَآ أَرَدْنَٰهُ أَن نَّقُولَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ ٤٠
ইন্নামা কাওলুনা লিশাইইন ইযা- আরাদনা-হু আন নাকূলা লাহূ কুন ফায়াকূন
কোন বিষয়ে আমি ইচ্ছে করলে বলি, ‘হয়ে যাও’, ফলে তা হয়ে যায়।
وَٱلَّذِينَ هَاجَرُوا۟ فِى ٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا۟ لَنُبَوِّئَنَّهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا حَسَنَةًۭ ۖ وَلَأَجْرُ ٱلْءَاخِرَةِ أَكْبَرُ ۚ لَوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ ٤١
ওয়াল্লাযীনা হা-জারূ ফিল্লা-হি মিম বা‘দি মা যুলিমূ লানুবাউইআন্নাহুম ফিদ দুনইয়া হাসানাতাঁ ওয়ালাআজরুল আ-খিরাতি আকবার লাও কা-নূ ইয়া‘লামূন
যারা অত্যাচারিত হওয়ার পরও আল্লাহর পথে হিজরাত করেছে, আমি তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই এ দুনিয়াতে উত্তম আবাস দান করব, আর আখেরাতের পুরস্কার তো অবশ্যই সবচেয়ে বড়। হায়, তারা যদি জানত!
ٱلَّذِينَ صَبَرُوا۟ وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ٤٢
আল্লাযীনা সাবারূ ওয়া‘আলা রাব্বিহিম ইয়াতাওয়াক্কালূন
(আখেরাতের ঐ পুরস্কার তাদের জন্য) যারা ধৈর্যধারণ করে আর তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًۭا نُّوحِىٓ إِلَيْهِمْ ۚ فَسْـَٔلُوٓا۟ أَهْلَ ٱلذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ٤٣
ওয়ামা- আরসালনা মিন কাবলিকা ইল্লা রিজা-লান নূহী ইলাইহিম ফাসআলূ আহলায যিকরি ইন কুনতুম লা তা‘লামূন
আমি তোমার পূর্বে পুরুষ মানুষ ব্যতীত পাঠাইনি যাদের কাছে আমি ওয়াহী করতাম। তোমরা যদি না জান তাহলে তোমরা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে যারা অবগত তাদেরকে জিজ্ঞেস কর
بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَٱلزُّبُرِ ۗ وَأَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ٱلذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ ٤٤
বিলবাইয়্যিনা-তি ওয়ায্যুবুর ওয়াআনযালনা- ইলাইকায যিকরা লিতুবাইয়্যিনা লিন্না-সি মা নুয্যিলা ইলাইহিম ওয়ালা‘আল্লাহুম ইয়াতাফাক্কারূন
(অতীতের রসূলদেরকে পাঠিয়েছিলাম) স্পষ্ট প্রমাণাদি আর কিতাব দিয়ে; আর এখন তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করছি মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে আর যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।
أَفَأَمِنَ ٱلَّذِينَ مَكَرُوا۟ ٱلسَّيِّـَٔاتِ أَن يَخْسِفَ ٱللَّهُ بِهِمُ ٱلْأَرْضَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ ٱلْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ ٤٥
আফাআমিনাল লাযীনা মাকারুস সাইয়্যিআ-তি আন ইয়াখসিফাল্লা-হু বিহিমুল আরদা আও ইয়া’তিয়াহুমুল ‘আযা-বু মিন হাইছু লা ইয়াশ‘উরূন
যারা (ইসলামের বিরুদ্ধে) কূট-কৌশল করছে তারা কি নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন না, অথবা তাদের কাছে শাস্তি এসে পড়বে না এমন দিক থেকে যা তারা এতটুকুও টের পাবে না
أَوْ يَأْخُذَهُمْ فِى تَقَلُّبِهِمْ فَمَا هُم بِمُعْجِزِينَ ٤٦
আও ইয়া’খুযাহুম ফী তাকাল্লুবিহিম ফামা হুম বিমু‘জিযীন
কিংবা তাদের চলাফেরার ভিতরেই তিনি তাদেরকে পাকড়াও করবেন না, অতঃপর তারা তো তা ব্যর্থ করে দিতে পারবে না।
أَوْ يَأْخُذَهُمْ عَلَىٰ تَخَوُّفٍۢ فَإِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوفٌۭ رَّحِيمٌ ٤٧
আও ইয়া’খুযাহুম ‘আলা তাখাউফিন ফাইন্না রাব্বাকুম লারাঊফুর রাহীম
অথবা তিনি তাদেরকে পাকড়াও করবেন না যখন তারা আসন্ন মুসীবাতের চিন্তায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকবে, (আসল কথা হল আল্লাহ মানুষকে খুবই অবকাশ দিয়ে থাকেন) কেননা তোমাদের প্রতিপালক অবশ্যই অতি দয়ার্দ্র, বড়ই দয়ালু।
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَىٰ مَا خَلَقَ ٱللَّهُ مِن شَىْءٍۢ يَتَفَيَّؤُا۟ ظِلَٰلُهُۥ عَنِ ٱلْيَمِينِ وَٱلشَّمَآئِلِ سُجَّدًۭا لِّلَّهِ وَهُمْ دَٰخِرُونَ ٤٨
আওয়ালাম ইয়ারাও ইলা মা খালাকাল্লা-হু মিন শাইইঁ ইয়াতাফাইয়্যাউ যিলা-লুহূ ‘আনিল ইয়ামীনি ওয়াশ্শামা-ইলি সুজ্জাদাল্লিল্লা-হি ওয়াহুম দা-খিরূন
তারা কি আল্লাহর সৃষ্টি করা জিনিসের দিকে লক্ষ্য করে না, যার ছায়া আল্লাহর প্রতি সাজদার অবস্থায় ডানে-বামে পতিত হয়, আর তারা বিনয় প্রকাশ করে?
وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ مِن دَآبَّةٍۢ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ ٤٩
ওয়ালিল্লা-হি ইয়াসজুদু মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদি মিন দা-ব্বাতিঁ ওয়ালমালা-ইকাতু ওয়াহুম লা ইয়াসতাকবিরূন
আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যত জীব-জন্তু ফেরেশতারা, সমস্তই আল্লাহকে সাজদাহ করে; তারা অহঙ্কার করে না।
يَخَافُونَ رَبَّهُم مِّن فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ۩ ٥٠
ইয়াখা-ফূনা রাব্বাহুম মিন ফাওকিহিম ওয়ায়াফ‘আলূনা মা ইউ’মারূন
তারা তাদের উপরে আল্লাহকে ভয় করে আর তারা তা-ই করে যা তাদেরকে আদেশ দেয়া হয়। [সাজদাহ]
۞ وَقَالَ ٱللَّهُ لَا تَتَّخِذُوٓا۟ إِلَٰهَيْنِ ٱثْنَيْنِ ۖ إِنَّمَا هُوَ إِلَٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ ۖ فَإِيَّٰىَ فَٱرْهَبُونِ ٥١
ওয়াকা-লাল্লা-হু লা তাত্তাখিযূ ইলা-হাইনিছনাইনি ইন্নামা হুওয়া ইলা-হুঁ ওয়া-হিদুন ফাইয়্যা-য়া ফারহাবূন
আল্লাহ বললেন, ‘তোমরা দু’ ইলাহ গ্রহণ করো না, তিনি তো এক ইলাহ; কাজেই আমাকে- কেবল আমাকেই ভয় কর।’
وَلَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَلَهُ ٱلدِّينُ وَاصِبًا ۚ أَفَغَيْرَ ٱللَّهِ تَتَّقُونَ ٥٢
ওয়ালাহূ মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ালাহুদ দীনু ওয়া-সিবা আফাগাইরাল্লা-হি তাত্তাকূন
আকাশসমূহ আর যমীনে যা কিছু আছে তা তাঁরই, আর দ্বীন সদা-সর্বদা একান্তভাবে তাঁরই জন্য। তাহলে তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে?
وَمَا بِكُم مِّن نِّعْمَةٍۢ فَمِنَ ٱللَّهِ ۖ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ ٱلضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْـَٔرُونَ ٥٣
ওয়ামা বিকুম মিন নি‘মাতিন ফামিনাল্লা-হি ছুম্মা ইযা মাস্সাকুমুদ দুর্রু ফাইলাইহি তাজআরূন
যে নি‘মাতই তোমরা পেয়েছ তাতো আল্লাহর নিকট হতেই। আর যখন দুঃখ-কষ্ট তোমাদেরকে স্পর্শ করে, তখন তাঁর কাছেই তোমরা আকুল আবেদন জানাতে থাক।
ثُمَّ إِذَا كَشَفَ ٱلضُّرَّ عَنكُمْ إِذَا فَرِيقٌۭ مِّنكُم بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ ٥٤
ছুম্মা ইযা কাশাফাদ দুর্রা ‘আনকুম ইযা ফারীকুম মিনকুম বিরাব্বিহিম ইউশরিকূন
অতঃপর যখন তিনি তোমাদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেন, তখন তোমাদের একদল তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে অন্যকে শরীক করে বসে
لِيَكْفُرُوا۟ بِمَآ ءَاتَيْنَٰهُمْ ۚ فَتَمَتَّعُوا۟ ۖ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ٥٥
লিয়াকফুরূ বিমা- আ-তাইনা-হুম ফাতামাত্তা‘ঊ ফাসাওফা তা‘লামূন
আমি তাদেরকে যা দিয়েছি তাদের না-শোকরি করা জন্য। অতএব তোমরা ভোগ করে নাও, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।
وَيَجْعَلُونَ لِمَا لَا يَعْلَمُونَ نَصِيبًۭا مِّمَّا رَزَقْنَٰهُمْ ۗ تَٱللَّهِ لَتُسْـَٔلُنَّ عَمَّا كُنتُمْ تَفْتَرُونَ ٥٦
ওয়ায়াজ‘আলূনা লিমা লা ইয়া‘লামূনা নাসীবাম মিম্মা রাযাকনা-হুম তাল্লা-হি লাতুসআলুন্না ‘আম্মা কুনতুম তাফতারূন
আর আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তার একাংশ তারা ঐ সবের জন্য নির্ধারিত করে যাদের সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। আল্লাহর শপথ! তোমাদের এই মিথ্যে উদ্ভাবন সম্পর্কে তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে
وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ ٱلْبَنَٰتِ سُبْحَٰنَهُۥ ۙ وَلَهُم مَّا يَشْتَهُونَ ٥٧
ওয়ায়াজ‘আলূনা লিল্লা-হিল বানা-তি সুবহা-নাহূ ওয়ালাহুম মা ইয়াশতাহূন
আর তারা কন্যা সন্তানগুলোকে আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করে, তিনি (তাত্থেকে) পবিত্র মহান, আর তারা নিজেদের জন্য (নির্ধারিত করে) যা তাদের আকাঙ্ক্ষা হয়।
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِٱلْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُۥ مُسْوَدًّۭا وَهُوَ كَظِيمٌۭ ٥٨
ওয়াইযা বুশ্শিরা আহাদুহুম বিলউনছা যাল্লা ওয়াজহুহূ মুসওয়াদ্দাঁ ওয়াহুওয়া কাযীম
তাদের কাউকে যখন কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় আর সে অন্তর্জ্বালায় পুড়তে থাকে।
يَتَوَٰرَىٰ مِنَ ٱلْقَوْمِ مِن سُوٓءِ مَا بُشِّرَ بِهِۦٓ ۚ أَيُمْسِكُهُۥ عَلَىٰ هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُۥ فِى ٱلتُّرَابِ ۗ أَلَا سَآءَ مَا يَحْكُمُونَ ٥٩
ইয়াতাওয়া-রা মিনাল কাওমি মিন সূই মা বুশ্শিরা বিহ আইউমসিকুহূ ‘আলা হূনিন আম ইয়াদুস্সুহূ ফিত তুরা-ব আলা সা-আ মা ইয়াহকুমূন
লজ্জায় সে মানুষ থেকে মুখ লুকায় খারাপ সংবাদ পাওয়ার কারণে। সে চিন্তা করে যে অপমান মাথায় করে তাকে রেখে দেবে, না তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে। হায়, তারা যা সিদ্ধান্ত করে তা কতই না জঘন্য!
لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِ مَثَلُ ٱلسَّوْءِ ۖ وَلِلَّهِ ٱلْمَثَلُ ٱلْأَعْلَىٰ ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٦٠
লিল্লাযীনা লা ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি মাছালুস সাওই ওয়ালিল্লা-হিল মাছালুল আ‘লা ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম
যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, খারাপ উপমা তাদের জন্য। মহোত্তম উপমা সব আল্লাহর জন্য, তিনি হলেন প্রতাপান্বিত, প্রজ্ঞাময়।
وَلَوْ يُؤَاخِذُ ٱللَّهُ ٱلنَّاسَ بِظُلْمِهِم مَّا تَرَكَ عَلَيْهَا مِن دَآبَّةٍۢ وَلَٰكِن يُؤَخِّرُهُمْ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ۖ فَإِذَا جَآءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَـْٔخِرُونَ سَاعَةًۭ ۖ وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ ٦١
ওয়ালাও ইউআ-খিযুল্লা-হুন না-সা বিযুলমিহিম মা তারাকা ‘আলাইহা মিন দা-ব্বাতিঁ ওয়ালা-কিন ইউআখ্খিরুহুম ইলা- আজালিম মুসাম্মান ফাইযা জা-আ আজালুহুম লা ইয়াসতা’খিরূনা সা-‘আতাঁ ওয়ালা ইয়াসতাকদিমূন
আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের সীমালঙ্ঘনের জন্য পাকড়াও করতেন, তাহলে যমীনের উপর কোন প্রাণীকেই তিনি রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তাদেরকে সময় দেন। তাদের সময় এসে গেলে এক মুহূর্তও অগ্র-পশ্চাৎ করা হয় না।
وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ مَا يَكْرَهُونَ وَتَصِفُ أَلْسِنَتُهُمُ ٱلْكَذِبَ أَنَّ لَهُمُ ٱلْحُسْنَىٰ ۖ لَا جَرَمَ أَنَّ لَهُمُ ٱلنَّارَ وَأَنَّهُم مُّفْرَطُونَ ٦٢
ওয়ায়াজ‘আলূনা লিল্লা-হি মা ইয়াকরাহূনা ওয়াতাসিফু আলসিনাতুহুমুল কাযিবা আন-না লাহুমুল হুসনা লা জারামা আন-না লাহুমুন না-রা ওয়াআন্নাহুম মুফরাতূন
তারা আল্লাহর জন্য তা-ই নির্ধারণ করে যা (নিজেদের জন্য) অপছন্দ করে, আর তাদের জিহবা মিথ্যা বলে যে, কল্যাণ তাদেরই জন্য। কোন সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্য আছে আগুন আর সর্বপ্রথম তাদেরকেই সেখানে জলদি পৌঁছে দেয়া হবে।
تَٱللَّهِ لَقَدْ أَرْسَلْنَآ إِلَىٰٓ أُمَمٍۢ مِّن قَبْلِكَ فَزَيَّنَ لَهُمُ ٱلشَّيْطَٰنُ أَعْمَٰلَهُمْ فَهُوَ وَلِيُّهُمُ ٱلْيَوْمَ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ٦٣
তাল্লা-হি লাকাদ আরসালনা- ইলা- উমামিম মিন কাবলিকা ফাযাইয়্যানা লাহুমুশ শাইতা-নু আ‘মা-লাহুম ফাহুওয়া ওয়ালিয়্যুহুমুল ইয়াওমা ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম
আল্লাহর কসম! তোমার পূর্বে আমি বহু জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু শয়ত্বান তাদের কাছে তাদের কার্যকলাপকে শোভনীয় করে দিয়েছিল, আর আজ সে-ই তাদের অভিভাবক, তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি।
وَمَآ أَنزَلْنَا عَلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ ٱلَّذِى ٱخْتَلَفُوا۟ فِيهِ ۙ وَهُدًۭى وَرَحْمَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يُؤْمِنُونَ ٦٤
ওয়ামা- আনযালনা ‘আলাইকাল কিতা-বা ইল্লা লিতুবাইয়্যিনা লাহুমুল লাযিখতালাফূ ফীহি ওয়াহুদাঁ ওয়ারাহমাতাল লিকাওমিঁ ইউ’মিনূন
আমি তোমার প্রতি কিতাব এজন্য নাযিল করেছি যাতে তুমি সে সকল বিষয় স্পষ্ট করে দিতে পার যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল, আর (এ কিতাব) বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য পথপ্রদর্শক ও রহমাত স্বরূপ।
وَٱللَّهُ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَحْيَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَآ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يَسْمَعُونَ ٦٥
ওয়াল্লা-হু আনযালা মিনাস সামা-ই মা-আন ফাআহইয়া বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা- ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিঁ ইয়াসমা‘ঊন
আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তার দ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেন। এতে ঐ সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন আছে যারা লক্ষ্য করে শুনে।
وَإِنَّ لَكُمْ فِى ٱلْأَنْعَٰمِ لَعِبْرَةًۭ ۖ نُّسْقِيكُم مِّمَّا فِى بُطُونِهِۦ مِنۢ بَيْنِ فَرْثٍۢ وَدَمٍۢ لَّبَنًا خَالِصًۭا سَآئِغًۭا لِّلشَّٰرِبِينَ ٦٦
ওয়াইন্না লাকুম ফিল আন‘আ-মি লা‘ইবরাতান নুসকীকুম মিম্মা ফী বুতূনিহী মিম বাইনি ফারছিঁ ওয়াদামিল লাবানান খা-লিসান সা-ইগাল লিশ্শা-রিবীন
তোমাদের জন্য গবাদি পশুতেও অবশ্যই শিক্ষা নিহিত আছে। তোমাদেরকে পান করাই ওদের পেটের গোবর আর রক্তের মাঝ থেকে বিশুদ্ধ দুগ্ধ যা পানকারীদের জন্য খুবই উপাদেয়।
وَمِن ثَمَرَٰتِ ٱلنَّخِيلِ وَٱلْأَعْنَٰبِ تَتَّخِذُونَ مِنْهُ سَكَرًۭا وَرِزْقًا حَسَنًا ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ٦٧
ওয়ামিন ছামারা-তিন নাখীলি ওয়ালআ‘না-বি তাত্তাখিযূনা মিনহু সাকারাঁ ওয়ারিযকান হাসানা ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিঁ ইয়া‘কিলূন
আর খেজুর ও আঙ্গুর ফল থেকে তোমরা মদ ও উত্তম খাদ্য প্রস্তুত কর, জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।
وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى ٱلنَّحْلِ أَنِ ٱتَّخِذِى مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًۭا وَمِنَ ٱلشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ ٦٨
ওয়াআওহা রাব্বুকা ইলান নাহলি আনিত তাখিযী মিনাল জিবা-লি বুইউতাঁ ওয়ামিনাশ শাজারি ওয়ামিম্মা ইয়া‘রিশূন
তোমার প্রতিপালক মৌমাছির প্রতি এলহাম করেছেন যে, পাহাড়ে, বৃক্ষে আর উঁচু চালে বাসা তৈরি কর।
ثُمَّ كُلِى مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ فَٱسْلُكِى سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًۭا ۚ يَخْرُجُ مِنۢ بُطُونِهَا شَرَابٌۭ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَٰنُهُۥ فِيهِ شِفَآءٌۭ لِّلنَّاسِ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ ٦٩
ছুম্মা কুলী মিন কুল্লিছ ছামারা-তি ফাসলুকী সুবুলা রাব্বিকি যুলুলা ইয়াখরুজু মিম বুতূনিহা শারা-বুম মুখতালিফুন আলওয়া-নুহূ ফীহি শিফা-উল লিন্না-স ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিঁ ইয়াতাফাক্কারূন
অতঃপর প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের (শিখানো) সহজ পদ্ধতি অনুসরণ কর। এর পেট থেকে রং-বেরং এর পানীয় বের হয়। এতে মানুষের জন্য আছে আরোগ্য। চিন্তাশীল মানুষের জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে।
وَٱللَّهُ خَلَقَكُمْ ثُمَّ يَتَوَفَّىٰكُمْ ۚ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰٓ أَرْذَلِ ٱلْعُمُرِ لِكَىْ لَا يَعْلَمَ بَعْدَ عِلْمٍۢ شَيْـًٔا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۭ قَدِيرٌۭ ٧٠
ওয়াল্লা-হু খালাকাকুম ছুম্মা ইয়াতাওয়াফ্ফা-কুম ওয়ামিনকুম মান ইউরাদ্দু ইলা- আরযালিল ‘উমুরি লিকাই লা ইয়া‘লামা বা‘দা ‘ইলমিন শাইআ ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুন কাদীর
আল্লাহ্ই তোমাদেরকে পয়দা করেছেন, অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন। তোমাদের কাউকে অকর্মণ্য বয়সে ফিরিয়ে দেয়া হয়, যাতে জ্ঞান লাভ করার পরেও আর কোন কিছুর জ্ঞান থাকে না। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, সর্বাপেক্ষা শক্তিমান।
وَٱللَّهُ فَضَّلَ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ فِى ٱلرِّزْقِ ۚ فَمَا ٱلَّذِينَ فُضِّلُوا۟ بِرَآدِّى رِزْقِهِمْ عَلَىٰ مَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُهُمْ فَهُمْ فِيهِ سَوَآءٌ ۚ أَفَبِنِعْمَةِ ٱللَّهِ يَجْحَدُونَ ٧١
ওয়াল্লা-হু ফাদ্দালা বা‘দাকুম ‘আলা বা‘দিন ফির রিযক ফামাল লাযীনা ফুদ্দিলূ বিরা-দ্দী রিযকিহিম ‘আলা মা মালাকাত আইমা-নুহুম ফাহুম ফীহি সাওয়া-আ আফাবিনি‘মাতিল্লা-হি ইয়াজহাদূন
রিযকের ব্যাপারে আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কাউকে কারো উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। যাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তারা তাদের রিযক থেকে তাদের অধীনস্থ চাকর- গোলামদেরকে এমনভাবে ফিরিয়ে দেয় না, যাতে এক্ষেত্রে তারা সমান হয়ে যায়। (অথচ তারা নানান কিছুকে আল্লাহর অংশীদার বানিয়ে ওগুলোকে আল্লাহর সমান করে ফেলছে) তাহলে কি তারা আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করে?
وَٱللَّهُ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَٰجًۭا وَجَعَلَ لَكُم مِّنْ أَزْوَٰجِكُم بَنِينَ وَحَفَدَةًۭ وَرَزَقَكُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ ۚ أَفَبِٱلْبَٰطِلِ يُؤْمِنُونَ وَبِنِعْمَتِ ٱللَّهِ هُمْ يَكْفُرُونَ ٧٢
ওয়াল্লা-হু জা‘আলা লাকুম মিন আনফুসিকুম আযওয়া-জাঁ ওয়াজা‘আলা লাকুম মিন আযওয়া-জিকুম বানীনা ওয়াহাফাদাতাঁ ওয়ারাযাকাকুম মিনাত তাইয়্যিবা-ত আফাবিলবা-তিলি ইউ’মিনূনা ওয়াবিনি‘মাতিল্লা-হি হুম ইয়াকফুরূন
আল্লাহ তোমাদের স্বজাতির মধ্য হতেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তোমাদের জন্য তোমাদের জোড়া থেকে পুত্র-পৌত্রাদি বানিয়েছেন আর তোমাদেরকে উৎকৃষ্ট রিযক দিয়েছেন। তবুও কি তারা ভিত্তিহীন বাতিল জিনিসের উপর ঈমান পোষণ করবে আর আল্লাহর অনুগ্রহকে তারা অস্বীকার করবে?
وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَهُمْ رِزْقًۭا مِّنَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ شَيْـًۭٔا وَلَا يَسْتَطِيعُونَ ٧٣
ওয়ায়া‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি মা লা ইয়ামলিকু লাহুম রিযকাম মিনাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি শাইআঁ ওয়ালা ইয়াসতাতী‘ঊন
আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে ‘ইবাদাত করবে অন্যের যারা আকাশ ও যমীন থেকে তাদের জন্য রিযক দেয়ার মালিক নয়, আর তারা এ কাজে সক্ষমও নয়।
فَلَا تَضْرِبُوا۟ لِلَّهِ ٱلْأَمْثَالَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ٧٤
ফালা তাদরিবূ লিল্লা-হিল আমছা-ল ইন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামু ওয়াআনতুম লা তা‘লামূন
কাজেই কারো সাথে আল্লাহর তুলনা দিও না। আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জান না।
۞ ضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلًا عَبْدًۭا مَّمْلُوكًۭا لَّا يَقْدِرُ عَلَىٰ شَىْءٍۢ وَمَن رَّزَقْنَٰهُ مِنَّا رِزْقًا حَسَنًۭا فَهُوَ يُنفِقُ مِنْهُ سِرًّۭا وَجَهْرًا ۖ هَلْ يَسْتَوُۥنَ ۚ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ٧٥
দারাবাল্লা-হু মাছালান ‘আবদাম মামলূকাল লা ইয়াকদিরু ‘আলা শাইইঁ ওয়ামার রাযাকনা-হু মিন্না রিযকান হাসানান ফাহুওয়া ইউনফিকু মিনহু সির্রাঁ ওয়াজাহরান হাল ইয়াসতাঊন আলহামদু লিল্লা-হ বাল আকছারুহুম লা ইয়া‘লামূন
আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেনঃ অন্যের মালিকানাভুক্ত এক দাস যে কোন কিছু করারই ক্ষমতা রাখে না। আর এক লোক যাকে আমি আমার পক্ষ হতে উত্তম জীবিকা দান করেছি আর তাত্থেকে সে গোপনে প্রকাশ্যে দান করে, (এ) দু’জন কি সমান? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
وَضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلًۭا رَّجُلَيْنِ أَحَدُهُمَآ أَبْكَمُ لَا يَقْدِرُ عَلَىٰ شَىْءٍۢ وَهُوَ كَلٌّ عَلَىٰ مَوْلَىٰهُ أَيْنَمَا يُوَجِّههُّ لَا يَأْتِ بِخَيْرٍ ۖ هَلْ يَسْتَوِى هُوَ وَمَن يَأْمُرُ بِٱلْعَدْلِ ۙ وَهُوَ عَلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ٧٦
ওয়াদারাবাল্লা-হু মাছালার রাজুলাইনি আহাদুহুমা- আবকামু লা ইয়াকদিরু ‘আলা শাইইঁ ওয়াহুওয়া কাল্লুন ‘আলা মাওলা-হু আইনামা ইউওয়াজ্জিহ্হু লা ইয়া’তি বিখাইরিন হাল ইয়াসতাউঈ হুওয়া ওয়ামান ইয়া’মুরু বিল‘আদলি ওয়াহুওয়া ‘আলা সিরা-তিম মুসতাকীম
আল্লাহ আরো দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন দু’ব্যক্তির তাদের একজন হল বোবা, কোন কিছুই করতে সক্ষম নয়। তার মনিবের উপর সে একটা বোঝা, তাকে যেখানেই পাঠানো হোক না কেন, কোন কল্যাণই সে নিয়ে আসবে না। সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যে ইনসাফের নির্দেশ দেয় আর সরল সুদৃঢ় পথে প্রতিষ্ঠিত?
وَلِلَّهِ غَيْبُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَمَآ أَمْرُ ٱلسَّاعَةِ إِلَّا كَلَمْحِ ٱلْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٧٧
ওয়ালিল্লা-হি গাইবুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়ামা- আমরুস সা-‘আতি ইল্লা কালামহিল বাসারি আও হুওয়া আকরাব ইন্নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
আকাশসমূহ ও যমীনের অদৃশ্যের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে। ক্বিয়ামাতের ব্যাপার তো চোখের পলকের মত বরং তাত্থেকেও দ্রুত। আল্লাহ সব কিছু করতেই সক্ষম।
وَٱللَّهُ أَخْرَجَكُم مِّنۢ بُطُونِ أُمَّهَٰتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْـًۭٔا وَجَعَلَ لَكُمُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَٰرَ وَٱلْأَفْـِٔدَةَ ۙ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ٧٨
ওয়াল্লা-হু আখরাজাকুম মিম বুতূনি উম্মাহা-তিকুম লা তা‘লামূনা শাইআঁ ওয়াজা‘আলা লাকুমুস সাম‘আ ওয়ালআবসা-রা ওয়ালআফইদাতা লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন
আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের পেট থেকে বের করেন, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে শোনার শক্তি, দেখার শক্তি আর অন্তর দান করেছেন যাতে তোমরা শোকর আদায় করতে পার।
أَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلطَّيْرِ مُسَخَّرَٰتٍۢ فِى جَوِّ ٱلسَّمَآءِ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا ٱللَّهُ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يُؤْمِنُونَ ٧٩
আলাম ইয়ারাও ইলাত তাইরি মুসাখ্খারা-তিন ফী জাউইস সামা-ই মা ইউমসিকুহুন্না ইল্লাল্লা-হ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিঁ ইউ’মিনূন
আকাশের শূন্যলোকে নিয়ন্ত্রিত পাখীগুলোর প্রতি কি তারা লক্ষ্য করে না? আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদেরকে স্থির রাখে না, এতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।
وَٱللَّهُ جَعَلَ لَكُم مِّنۢ بُيُوتِكُمْ سَكَنًۭا وَجَعَلَ لَكُم مِّن جُلُودِ ٱلْأَنْعَٰمِ بُيُوتًۭا تَسْتَخِفُّونَهَا يَوْمَ ظَعْنِكُمْ وَيَوْمَ إِقَامَتِكُمْ ۙ وَمِنْ أَصْوَافِهَا وَأَوْبَارِهَا وَأَشْعَارِهَآ أَثَٰثًۭا وَمَتَٰعًا إِلَىٰ حِينٍۢ ٨٠
ওয়াল্লা-হু জা‘আলা লাকুম মিম বুইউতিকুম সাকানাঁ ওয়াজা‘আলা লাকুম মিন জুলূদিল আন‘আ-মি বুইউতান তাসতাখিফ্ফূনাহা ইয়াওমা যা‘নিকুম ওয়ায়াওমা ইকা-মাতিকুম ওয়ামিন আসওয়া-ফিহা ওয়াআওবা-রিহা ওয়াআশ‘আ-রিহা- আছা-ছাঁ ওয়ামাতা-‘আন ইলা হীন
আল্লাহ তোমাদের গৃহগুলোকে তোমাদের আরাম শান্তির জায়গা বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি পশুর চামড়া থেকে তোমাদের জন্য এমন গৃহের ব্যবস্থা করেছেন যা তোমরা হালকাবোধ কর তোমাদের ভ্রমণকালে কিংবা অবস্থানকালে। তিনি ওগুলোর পশম, লোম আর চুল থেকে তোমাদের পরিধেয় ও ব্যবহার্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন যা তোমরা কিছুকাল পর্যন্ত কাজে লাগাও।
وَٱللَّهُ جَعَلَ لَكُم مِّمَّا خَلَقَ ظِلَٰلًۭا وَجَعَلَ لَكُم مِّنَ ٱلْجِبَالِ أَكْنَٰنًۭا وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَٰبِيلَ تَقِيكُمُ ٱلْحَرَّ وَسَرَٰبِيلَ تَقِيكُم بَأْسَكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُتِمُّ نِعْمَتَهُۥ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْلِمُونَ ٨١
ওয়াল্লা-হু জা‘আলা লাকুম মিম্মা খালাকা যিলা-লাঁ ওয়াজা‘আলা লাকুম মিনাল জিবা-লি আকনা-নাঁ ওয়াজা‘আলা লাকুম সারা-বীলা তাকীকুমুল হার্রা ওয়াসারা-বীলা তাকীকুম বা’সাকুম কাযা-লিকা ইউতিম্মু নি‘মাতাহূ ‘আলাইকুম লা‘আল্লাকুম তুসলিমূন
আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তাত্থেকে তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন, পাহাড়-পর্বতে তোমাদের আত্মগোপনের জায়গা বানিয়েছেন। তিনি তোমাদের জন্য পোশাক দিয়েছেন যা তোমাদেরকে তাপ থেকে রক্ষা করে। আর দিয়েছেন এমন পোশাক যা তোমাদেরকে সংঘাতের সময় রক্ষা করে। এভাবে তিনি তোমাদের জন্য তাঁর নি‘মাতসমূহ পূর্ণ করেন যাতে তোমরা তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ কর।
فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ ٱلْبَلَٰغُ ٱلْمُبِينُ ٨٢
ফাইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নামা ‘আলাইকাল বালা-গুল মুবীন
এরপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে (জোরপূর্বক তাদেরকে সঠিক পথে আনা তোমার দায়িত্ব নয়) তোমার দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে বাণী পৌঁছে দেয়া।
يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ ٱللَّهِ ثُمَّ يُنكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ ٱلْكَٰفِرُونَ ٨٣
ইয়া‘রিফূনা নি‘মাতাল্লা-হি ছুম্মা ইউনকিরূনাহা ওয়াআকছারুহুমুল কা-ফিরূন
তারা আল্লাহর নি‘মাতকে চিনতে পারে, কিন্তু তা সত্ত্বেও সেগুলো অগ্রাহ্য করে, তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।
وَيَوْمَ نَبْعَثُ مِن كُلِّ أُمَّةٍۢ شَهِيدًۭا ثُمَّ لَا يُؤْذَنُ لِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُونَ ٨٤
ওয়ায়াওমা নাব‘আছু মিন কুল্লি উম্মাতিন শাহীদান ছুম্মা লা ইউ’যানু লিল্লাযীনা কাফারূ ওয়ালা হুম ইউসতা‘তাবূন
(সেদিন কী অবস্থা হবে) যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী দাঁড় করাব আর কাফিরদেরকে (কোন অযুহাত পেশ করার) অনুমতি দেয়া হবে না, আর ক্ষমা প্রার্থনা করারও সুযোগ দেয়া হবে না।
وَإِذَا رَءَا ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ ٱلْعَذَابَ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمْ وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ ٨٥
ওয়াইযা রাআল লাযীনা যালামুল ‘আযা-বা ফালা ইউখাফ্ফাফু ‘আনহুম ওয়ালা হুম ইউনযারূন
সীমালঙ্ঘনকারীরা যখন ‘আযাব প্রত্যক্ষ করবে তাদের থেকে তখন তা কমানো হবে না, আর তাদেরকে সময়-সুযোগও দেয়া হবে না।
وَإِذَا رَءَا ٱلَّذِينَ أَشْرَكُوا۟ شُرَكَآءَهُمْ قَالُوا۟ رَبَّنَا هَٰٓؤُلَآءِ شُرَكَآؤُنَا ٱلَّذِينَ كُنَّا نَدْعُوا۟ مِن دُونِكَ ۖ فَأَلْقَوْا۟ إِلَيْهِمُ ٱلْقَوْلَ إِنَّكُمْ لَكَٰذِبُونَ ٨٦
ওয়াইযা রাআল লাযীনা আশরাকূ শুরাকা-আহুম কা-লূ রাব্বানা হা-উলা-ই শুরাকা-উনাল লাযীনা কুন্না নাদ‘ঊ মিন দূনিকা ফাআলকাও ইলাইহিমুল কাওলা ইন্নাকুম লাকা-যিবূন
মুশরিকরা যাদেরকে আল্লাহর শারীক বানিয়েছিল তাদেরকে যখন দেখবে তখন তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব্ব! এরাই হল আমাদের শারীক মা‘বূদ তোমাকে বাদ দিয়ে যাদেরকে আমরা ডাকতাম।’ তখন এ কথাকে তাদের দিকেই ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তাদের সেই মা‘বূদরা বলবে, ‘তোমরা অবশ্যই মিথ্যেবাদী।’
وَأَلْقَوْا۟ إِلَى ٱللَّهِ يَوْمَئِذٍ ٱلسَّلَمَ ۖ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَفْتَرُونَ ٨٧
ওয়াআলকাও ইলাল্লা-হি ইয়াওমাইযিস সালামা ওয়াদাল্লা ‘আনহুম মা কা-নূ ইয়াফতারূন
সেদিন তারা আল্লাহর নিকট খোলাখুলি আত্মসমর্পণ করবে, আর তারা যে সব মিথ্যে উদ্ভাবন করেছিল তা তাদের নিকট হতে হারিয়ে যাবে।
ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَصَدُّوا۟ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ زِدْنَٰهُمْ عَذَابًۭا فَوْقَ ٱلْعَذَابِ بِمَا كَانُوا۟ يُفْسِدُونَ ٨٨
আল্লাযীনা কাফারূ ওয়াসাদ্দূ ‘আন সাবীলিল্লা-হি যিদনা-হুম ‘আযা-বান ফাওকাল ‘আযা-বি বিমা কা-নূ ইউফসিদূন
যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে আর আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আমি তাদের শাস্তির উপর শাস্তি বৃদ্ধি করব, কারণ তারা ফাসাদ সৃষ্টি করত।
وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِى كُلِّ أُمَّةٍۢ شَهِيدًا عَلَيْهِم مِّنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيدًا عَلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ ۚ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ تِبْيَٰنًۭا لِّكُلِّ شَىْءٍۢ وَهُدًۭى وَرَحْمَةًۭ وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ ٨٩
ওয়ায়াওমা নাব‘আছু ফী কুল্লি উম্মাতিন শাহীদান ‘আলাইহিম মিন আনফুসিহিম ওয়াজি’না বিকা শাহীদান ‘আলা হা-উলা-আ ওয়ানায্যালনা ‘আলাইকাল কিতা-বা তিবইয়া-নাল লিকুল্লি শাইইঁ ওয়াহুদাঁ ওয়ারাহমাতাঁ ওয়াবুশরা লিলমুসলিমীন
সেদিন আমি প্রত্যেক উম্মাত থেকে তাদের নিজেদেরই মধ্য হতে একজন সাক্ষী দাঁড় করাব, আর (তোমার) এই লোকদের ব্যাপারে সাক্ষ্যদাতা হিসেবে (হে মুহাম্মাদ!) আমি তোমাকে আনব। আমি তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, সত্য পথের নির্দেশ, রহমাত আর আত্মসমর্পণকারীদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ।
۞ إِنَّ ٱللَّهَ يَأْمُرُ بِٱلْعَدْلِ وَٱلْإِحْسَٰنِ وَإِيتَآئِ ذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ ٱلْفَحْشَآءِ وَٱلْمُنكَرِ وَٱلْبَغْىِ ۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ٩٠
ইন্নাল্লা-হা ইয়া’মুরু বিল‘আদলি ওয়ালইহসা-নি ওয়াঈতা-ই যিল কুরবা ওয়ায়ানহা ‘আনিল ফাহশা-ই ওয়ালমুনকারি ওয়ালবাগই ইয়া‘ইযুকুম লা‘আল্লাকুম তাযাক্কারূন
আল্লাহ ন্যায়-বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়দেরকে দেয়ার হুকুম দিচ্ছেন, আর তিনি নিষেধ করছেন অশ্লীলতা, অপকর্ম আর বিদ্রোহ থেকে। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।
وَأَوْفُوا۟ بِعَهْدِ ٱللَّهِ إِذَا عَٰهَدتُّمْ وَلَا تَنقُضُوا۟ ٱلْأَيْمَٰنَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ ٱللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ ٩١
ওয়াআওফূ বি‘আহদিল্লা-হি ইযা ‘আ-হাত্তুম ওয়ালা তানকুদুল আইমা-না বা‘দা তাওকীদিহা ওয়াকাদ জা‘আলতুমুল্লা-হা ‘আলাইকুম কাফীলা ইন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামু মা তাফ‘আলূন
তোমরা পরস্পর অঙ্গীকারে আবদ্ধ হলে আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, নিজেদের অঙ্গীকার পাকা-পোখত করার পর তা ভঙ্গ করো না, যেহেতু তোমরা আল্লাহকে নিজেদের উপর সাক্ষী বানিয়ে নিয়েছ, তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে ওয়াকেফহাল।
وَلَا تَكُونُوا۟ كَٱلَّتِى نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِنۢ بَعْدِ قُوَّةٍ أَنكَٰثًۭا تَتَّخِذُونَ أَيْمَٰنَكُمْ دَخَلًۢا بَيْنَكُمْ أَن تَكُونَ أُمَّةٌ هِىَ أَرْبَىٰ مِنْ أُمَّةٍ ۚ إِنَّمَا يَبْلُوكُمُ ٱللَّهُ بِهِۦ ۚ وَلَيُبَيِّنَنَّ لَكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ مَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ٩٢
ওয়ালা তাকূনূ কাল্লাতী নাকাদাত গাযলাহা মিম বা‘দি কুওয়াতিন আনকা-ছান তাত্তাখিযূনা আইমা-নাকুম দাখালাম বাইনাকুম আন তাকূনা উম্মাতুন হিয়া আরবা মিন উম্মাহ ইন্নামা ইয়াবলূকুমুল্লা-হু বিহ ওয়ালাইউবাইয়্যিনান্না লাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি মা কুনতুম ফীহি তাখতালিফূন
তোমরা এমন নারীর মত হয়ো না যে তার সূতাগুলোকে শক্ত করে পাকানোর পর নিজেই তার পাক খুলে টুকরো টুকরো করে দেয়। তোমরা তোমাদের শপথগুলোকে পারস্পরিক ব্যাপারে ধোঁকা-প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার কর যেন একদল আরেক দল অপেক্ষা বেশি ফায়দা লাভ করতে পারে। আল্লাহ কেবল এর দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। আল্লাহ ক্বিয়ামাতের দিন অবশ্য অবশ্যই স্পষ্ট করে দিবেন যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে।
وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةًۭ وَٰحِدَةًۭ وَلَٰكِن يُضِلُّ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ ۚ وَلَتُسْـَٔلُنَّ عَمَّا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٩٣
ওয়ালাও শা-আল্লা-হু লাজা‘আলাকুম উম্মাতাঁ ওয়া-হিদাতাঁ ওয়ালা-কিন ইউদিল্লু মান ইয়াশা-উ ওয়ায়াহদী মান ইয়াশা-আ ওয়ালাতুসআলুন্না ‘আম্মা কুনতুম তা‘মালূন
আল্লাহ ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অবশ্যই এক উম্মাত করে দিতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছে গুমরাহ্ করেন, আর যাকে ইচ্ছে সঠিক পথপ্রদর্শন করেন। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
وَلَا تَتَّخِذُوٓا۟ أَيْمَٰنَكُمْ دَخَلًۢا بَيْنَكُمْ فَتَزِلَّ قَدَمٌۢ بَعْدَ ثُبُوتِهَا وَتَذُوقُوا۟ ٱلسُّوٓءَ بِمَا صَدَدتُّمْ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ وَلَكُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ ٩٤
ওয়ালা তাত্তাখিযূ আইমা-নাকুম দাখালাম বাইনাকুম ফাতাযিল্লা কাদামুম বা‘দা ছুবূতিহা ওয়াতাযূকুস সূআ বিমা সাদাত্তুম ‘আন সাবীলিল্লা-হি ওয়ালাকুম ‘আযা-বুন ‘আযীম
তোমরা তোমাদের নিজেদের শপথগুলোকে পরস্পর ধোঁকা-প্রবঞ্চনার উপায় হিসেবে গ্রহণ করো না, তা করলে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পা আবার পিছলে যাবে, আর আল্লাহর পথে বাধা দেয়ার কারণে তোমরা মন্দ পরিণতি ভোগ করবে, আর তোমাদের জন্য থাকবে কঠিন শাস্তি।
وَلَا تَشْتَرُوا۟ بِعَهْدِ ٱللَّهِ ثَمَنًۭا قَلِيلًا ۚ إِنَّمَا عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٩٥
ওয়ালা তাশতারূ বি‘আহদিল্লা-হি ছামানান কালীলা ইন্নামা ‘ইনদাল্লা-হি হুওয়া খাইরুল লাকুম ইন কুনতুম তা‘লামূন
তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়া‘দা নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করো না। আল্লাহর নিকট যা আছে তোমাদের জন্য তা-ই উত্তম- তোমরা যদি জানতে!
مَا عِندَكُمْ يَنفَدُ ۖ وَمَا عِندَ ٱللَّهِ بَاقٍۢ ۗ وَلَنَجْزِيَنَّ ٱلَّذِينَ صَبَرُوٓا۟ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ٩٦
মা ‘ইনদাকুম ইয়ানফাদু ওয়ামা ‘ইনদাল্লা-হি বা-ক ওয়ালানাজযিয়ান্নাল লাযীনা সাবারূ আজরাহুম বিআহসানি মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
তোমাদের কাছে যা আছে তা শেষ হয়ে যাবে, আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা টিকে থাকবে। আমরা অবশ্য অবশ্যই ধৈর্যশীলদেরকে তারা যা করে তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান দেব।
مَنْ عَمِلَ صَٰلِحًۭا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌۭ فَلَنُحْيِيَنَّهُۥ حَيَوٰةًۭ طَيِّبَةًۭ ۖ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ٩٧
মান ‘আমিলা সা-লিহাম মিন যাকারিন আও উনছা ওয়াহুওয়া মু’মিনুন ফালানুহইয়িয়ান্নাহূ হায়া-তান তাইয়্যিবাতাঁ ওয়ালানাজযিয়ান্নাহুম আজরাহুম বিআহসানি মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
পুরুষ আর নারীদের মধ্যে যে কেউ সৎকাজ করবে আর সে মু’মিনও, তাকে আমি অবশ্য অবশ্যই উত্তম জীবন দান করব আর তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই তারা যা করে তার চেয়ে উত্তম প্রতিফল দান করব।
فَإِذَا قَرَأْتَ ٱلْقُرْءَانَ فَٱسْتَعِذْ بِٱللَّهِ مِنَ ٱلشَّيْطَٰنِ ٱلرَّجِيمِ ٩٨
ফাইযা কারা’তাল কুরআ-না ফাসতা‘ইয বিল্লা-হি মিনাশ শাইতা-নির রাজীম
তুমি যখনি কুরআন পাঠ করবে তখন অভিশপ্ত শয়ত্বান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইবে।
إِنَّهُۥ لَيْسَ لَهُۥ سُلْطَٰنٌ عَلَى ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ٩٩
ইন্নাহূ লাইসা লাহূ সুলতা-নুন ‘আলাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আলা রাব্বিহিম ইয়াতাওয়াক্কালূন
যারা ঈমান এনেছে তাদের উপর তার কোন প্রভাব খাটে না, আর তারা তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।
إِنَّمَا سُلْطَٰنُهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ يَتَوَلَّوْنَهُۥ وَٱلَّذِينَ هُم بِهِۦ مُشْرِكُونَ ١٠٠
ইন্নামা সুলতা-নুহূ ‘আলাল লাযীনা ইয়াতাওয়াল্লাওনাহূ ওয়াল্লাযীনা হুম বিহী মুশরিকূন
তার প্রভাব কেবল তাদের উপরই খাটে যারা তাকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে আর যারা তাকে আল্লাহর শরীক করে।
وَإِذَا بَدَّلْنَآ ءَايَةًۭ مَّكَانَ ءَايَةٍۢ ۙ وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مُفْتَرٍۭ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ١٠١
ওয়াইযা বাদ্দালনা- আ-য়াতাম মাকা-না আ-য়াতিঁ ওয়াল্লা-হু আ‘লামু বিমা ইউনায্যিলু কা-লূ ইন্নামা- আনতা মুফতার বাল আকছারুহুম লা ইয়া‘লামূন
আমি যখন এক আয়াতের বদলে অন্য আয়াত নাযিল করি- আর আল্লাহ ভালভাবেই জানেন, যা তিনি নাযিল করেন- তখন এই লোকেরা বলে, ‘তুমি তো মিথ্যা রচনাকারী।’ প্রকৃত ব্যাপার এই যে, এ সম্পর্কে তাদের অধিকাংশেরই কোন জ্ঞান নেই।
قُلْ نَزَّلَهُۥ رُوحُ ٱلْقُدُسِ مِن رَّبِّكَ بِٱلْحَقِّ لِيُثَبِّتَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَهُدًۭى وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ ١٠٢
কুল নায্যালাহূ রূহুল কুদুসি মির রাব্বিকা বিলহাক্কি লিইউছাব্বিতাল লাযীনা আ-মানূ ওয়াহুদাঁ ওয়াবুশরা লিলমুসলিমীন
বল, ‘এ কুরআন তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রুহুল কুদূস (জিবরীল) ঠিক ঠিকভাবে নাযিল করেছেন ঈমানদারদেরকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য এবং মুসলিমদের হিদায়াত ও সুসংবাদ দানের জন্য।’
وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُۥ بَشَرٌۭ ۗ لِّسَانُ ٱلَّذِى يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِىٌّۭ وَهَٰذَا لِسَانٌ عَرَبِىٌّۭ مُّبِينٌ ١٠٣
ওয়ালাকাদ না‘লামু আন-নাহুম ইয়াকূলূনা ইন্নামা ইউ‘আল্লিমুহূ বাশার লিসা-নুল লাযী ইউলহিদূনা ইলাইহি আ‘জামিয়্যুঁ ওয়াহা-যা লিসা-নুন ‘আরাবিয়্যুম মুবীন
আমি জানি, তারা বলে, ‘এক মানুষ তাকে [অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা.)-কে] শিখিয়ে দেয়।’ অথচ দুষ্টবুদ্ধি প্রণোদিত হয়ে তারা যে লোকটির কথা বলছে তার ভাষা তো অনারব, অপরপক্ষে কুরআনের ভাষা হল স্পষ্ট আরবী।
إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ لَا يَهْدِيهِمُ ٱللَّهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ١٠٤
ইন্নাল লাযীনা লা ইউ’মিনূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি লা ইয়াহদীহিমুল্লা-হু ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম
যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন না, আর তাদের জন্য আছে ভয়ানক শাস্তি।
إِنَّمَا يَفْتَرِى ٱلْكَذِبَ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْكَٰذِبُونَ ١٠٥
ইন্নামা ইয়াফতারিল কাযিবাল লাযীনা লা ইউ’মিনূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়াউলা-ইকা হুমুল কা-যিবূন
যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে না, তারাই মিথ্যে রচনা করে আর তারাই মিথ্যাবাদী।
مَن كَفَرَ بِٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ إِيمَٰنِهِۦٓ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُۥ مُطْمَئِنٌّۢ بِٱلْإِيمَٰنِ وَلَٰكِن مَّن شَرَحَ بِٱلْكُفْرِ صَدْرًۭا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌۭ مِّنَ ٱللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ ١٠٦
মান কাফারা বিল্লা-হি মিম বা‘দি ঈমা-নিহী ইল্লা মান উকরিহা ওয়াকালবুহূ মুতমাইন্নুম বিলঈমা-নি ওয়ালা-কিম মান শারাহা বিলকুফরি সাদরান ফা‘আলাইহিম গাদাবুম মিনাল্লা-হি ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন ‘আযীম
কোন ব্যক্তি তার ঈমান গ্রহণের পর আল্লাহকে অবিশ্বাস করলে এবং কুফরীর জন্য তার হৃদয় খুলে দিলে তার উপর আল্লাহর গযব পতিত হবে আর তার জন্য আছে মহা শাস্তি, তবে তার জন্য নয় যাকে (কুফরীর জন্য) বাধ্য করা হয় অথচ তার দিল ঈমানের উপর অবিচল থাকে।
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمُ ٱسْتَحَبُّوا۟ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا عَلَى ٱلْءَاخِرَةِ وَأَنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْكَٰفِرِينَ ١٠٧
যা-লিকা বিআন্নাহুমুসতাহাব্বুল হায়া-তাদ দুনইয়া ‘আলাল আ-খিরাতি ওয়াআন্নাল্লা-হা লা ইয়াহদিল কাওমাল কা-ফিরীন
এর কারণ এই যে, তারা আখিরাত অপেক্ষা দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালবাসে, আর আল্লাহ ঈমান প্রত্যাখ্যানকারীদেরকে সঠিক পথ দেখান না।
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ طَبَعَ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَسَمْعِهِمْ وَأَبْصَٰرِهِمْ ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْغَٰفِلُونَ ١٠٨
উলা-ইকাল লাযীনা তাবা‘আল্লা-হু ‘আলা কুলূবিহিম ওয়াসাম‘ইহিম ওয়াআবসা-রিহিম ওয়াউলা-ইকা হুমুল গা-ফিলূন
এরা ঐ সব লোক আল্লাহ যাদের অন্তর, কান আর চোখে মোহর মেরে দিয়েছেন আর তারা বে-খেয়াল, উদাসীন।
لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِى ٱلْءَاخِرَةِ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ ١٠٩
লা জারামা আন-নাহুম ফিল আ-খিরাতি হুমুল খা-সিরূন
এতে কোন সন্দেহই নেই যে, আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত এরাই হবে।
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ هَاجَرُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا فُتِنُوا۟ ثُمَّ جَٰهَدُوا۟ وَصَبَرُوٓا۟ إِنَّ رَبَّكَ مِنۢ بَعْدِهَا لَغَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١١٠
ছুম্মা ইন্না রাব্বাকা লিল্লাযীনা হা-জারূ মিম বা‘দি মা ফুতিনূ ছুম্মা জা-হাদূ ওয়াসাবারূ ইন্না রাব্বাকা মিম বা‘দিহা লাগাফূরুর রাহীম
অবশ্যই তোমার প্রতিপালক তাদের জন্য যারা নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরাত করে, অতঃপর জিহাদ করে, অতঃপর ধৈর্যধারণ করে, এ সবের পর তোমার প্রতিপালক অবশ্যই বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
۞ يَوْمَ تَأْتِى كُلُّ نَفْسٍۢ تُجَٰدِلُ عَن نَّفْسِهَا وَتُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍۢ مَّا عَمِلَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ١١١
ইয়াওমা তা’তী কুল্লু নাফসিন তুজা-দিলু ‘আন নাফসিহা ওয়াতুওয়াফ্ফা কুল্লু নাফসিম মা ‘আমিলাত ওয়াহুম লা ইউযলামূন
সেদিন প্রত্যেক লোক নিজের পক্ষে যুক্তি পেশ করবে আর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের প্রতিফল পূর্ণমাত্রায় দেয়া হবে, তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না।
وَضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلًۭا قَرْيَةًۭ كَانَتْ ءَامِنَةًۭ مُّطْمَئِنَّةًۭ يَأْتِيهَا رِزْقُهَا رَغَدًۭا مِّن كُلِّ مَكَانٍۢ فَكَفَرَتْ بِأَنْعُمِ ٱللَّهِ فَأَذَٰقَهَا ٱللَّهُ لِبَاسَ ٱلْجُوعِ وَٱلْخَوْفِ بِمَا كَانُوا۟ يَصْنَعُونَ ١١٢
ওয়াদারাবাল্লা-হু মাছালান কারইয়াতান কা-নাত আ-মিনাতাম মুতমাইন্নাতাঁ ইয়া’তীহা রিযকুহা রাগাদাম মিন কুল্লি মাকা-নিন ফাকাফারাত বিআন‘উমিল্লা-হি ফাআযা-কাহাল্লা-হু লিবা-সাল জূ‘ই ওয়ালখাওফি বিমা কা-নূ ইয়াসনা‘ঊন
আল্লাহ এক জনবসতির দৃষ্টান্ত পেশ করছেন যা ছিল নিরাপদ, চিন্তা-ভাবনাহীন। সবখান থেকে সেখানে আসত জীবন ধারণের পর্যাপ্ত উপকরণ। অতঃপর সে জনপদ আল্লাহর নি‘মাতরাজির কুফুরী করল, অতঃপর আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কারণে ক্ষুধা ও ভয়-ভীতির মুসীবাত তাদেরকে আস্বাদন করালেন।
وَلَقَدْ جَآءَهُمْ رَسُولٌۭ مِّنْهُمْ فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمُ ٱلْعَذَابُ وَهُمْ ظَٰلِمُونَ ١١٣
ওয়ালাকাদ জা-আহুম রাসূলুম মিনহুম ফাকায্যাবূহু ফাআখাযাহুমুল ‘আযা-বু ওয়াহুম যা-লিমূন
তাদের কাছে তাদের মধ্য হতেই রসূল এসেছিল কিন্তু তারা তাকে মিথ্যা মনে ক’রে প্রত্যাখ্যান করল, তখন শাস্তি তাদেরকে পাকড়াও করল যখন তারা ছিল সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত।
فَكُلُوا۟ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُ حَلَٰلًۭا طَيِّبًۭا وَٱشْكُرُوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ ١١٤
ফাকুলূ মিম্মা রাযাকাকুমুল্লা-হু হালা-লান তাইয়্যিবাঁ ওয়াশকুরূ নি‘মাতাল্লা-হি ইন কুনতুম ইয়্যা-হু তা‘বুদূন
কাজেই আল্লাহ তোমাদেরকে যে সকল বৈধ পবিত্র রিযক দিয়েছেন তা তোমরা খাও আর আল্লাহর অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায় কর যদি তোমরা প্রকৃতই তাঁর বন্দেগী করতে ইচ্ছুক হও।
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ ٱلْمَيْتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحْمَ ٱلْخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيْرِ ٱللَّهِ بِهِۦ ۖ فَمَنِ ٱضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍۢ وَلَا عَادٍۢ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١١٥
ইন্নামা হার্রামা ‘আলাইকুমুল মাইতাতা ওয়াদ্দামা ওয়ালাহমাল খিনযীরি ওয়ামা- উহিল্লা লিগাইরিল্লা-হি বিহী ফামানিদতুর্রা গাইরা বা-গিঁ ওয়ালা ‘আ-দিন ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
আল্লাহ তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস আর যা যবেহ করার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম নেয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্য না হয়ে ও সীমালঙ্ঘন না ক’রে নিতান্ত নিরুপায় (হয়ে এসব খেতে বাধ্য) হলে আল্লাহ তো বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
وَلَا تَقُولُوا۟ لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ ٱلْكَذِبَ هَٰذَا حَلَٰلٌۭ وَهَٰذَا حَرَامٌۭ لِّتَفْتَرُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ ۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ ١١٦
ওয়ালা তাকূলূ লিমা তাসিফু আলসিনাতুকুমুল কাযিবা হা-যা হালা-লুঁ ওয়াহা-যা হারা-মুল লিতাফতারূ ‘আলাল্লা-হিল কাযিব ইন্নাল লাযীনা ইয়াফতারূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা লা ইউফলিহূন
তোমাদের জিহবা থেকে মিথ্যে কথা বেরোয় বলেই তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করার জন্য এমন কথা বলো না যে, এটা হালাল, আর এটা হারাম। যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যে উদ্ভাবন করে, তারা কক্ষনো কল্যাণ লাভ করতে পারে না।
مَتَٰعٌۭ قَلِيلٌۭ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ١١٧
মাতা-‘উন কালীলুঁ ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম
(এসব মিথ্যাচারে লাভ হয়) সামান্য ভোগের বস্তু, অতঃপর তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি।
وَعَلَى ٱلَّذِينَ هَادُوا۟ حَرَّمْنَا مَا قَصَصْنَا عَلَيْكَ مِن قَبْلُ ۖ وَمَا ظَلَمْنَٰهُمْ وَلَٰكِن كَانُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ١١٨
ওয়া‘আলাল লাযীনা হা-দূ হার্রামনা মা কাসাসনা ‘আলাইকা মিন কাবলু ওয়ামা যালামনা-হুম ওয়ালা-কিন কা-নূ আনফুসাহুম ইয়াযলিমূন
আর যারা ইয়াহূদী হয়েছিল আমি তাদের প্রতি হারাম করেছিলাম যা আমি তোমার কাছে পূর্বেই উল্লেখ করেছি। আমি তাদের উপর কোন যুলম করিনি, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করত।
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ عَمِلُوا۟ ٱلسُّوٓءَ بِجَهَٰلَةٍۢ ثُمَّ تَابُوا۟ مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ وَأَصْلَحُوٓا۟ إِنَّ رَبَّكَ مِنۢ بَعْدِهَا لَغَفُورٌۭ رَّحِيمٌ ١١٩
ছুম্মা ইন্না রাব্বাকা লিল্লাযীনা ‘আমিলুস সূআ বিজাহা-লাতিন ছুম্মা তা-বূ মিম বা‘দি যা-লিকা ওয়াআসলাহূ ইন্না রাব্বাকা মিম বা‘দিহা লাগাফূরুর রাহীম
তোমার প্রতিপালক তাদের জন্য যারা অজ্ঞতার কারণে খারাপ কাজ করে, অতঃপর তাওবাহ করে ও নিজেদের ‘আমাল সংশোধন করে, তোমার প্রতিপালক তাদের জন্য অবশ্যই বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
إِنَّ إِبْرَٰهِيمَ كَانَ أُمَّةًۭ قَانِتًۭا لِّلَّهِ حَنِيفًۭا وَلَمْ يَكُ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ١٢٠
ইন্না ইবরা-হীমা কা-না উম্মাতান কা-নিতাল্লিল্লা-হি হানীফাঁ ওয়ালাম ইয়াকু মিনাল মুশরিকীন
ইবরাহীম ছিল আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত একনিষ্ঠ এক উম্মাত, আর সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
شَاكِرًۭا لِّأَنْعُمِهِ ۚ ٱجْتَبَىٰهُ وَهَدَىٰهُ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ١٢١
শা-কিরাল লিআন‘উমিহ ইজতাবা-হু ওয়াহাদা-হু ইলা সিরা-তিম মুসতাকীম
সে ছিল আল্লাহর নি‘মাতরাজির জন্য শোকরগুযার। আল্লাহ তাকে বেছে নিয়েছিলেন আর তাকে সরল সঠিক পথ দেখিয়েছিলেন।
وَءَاتَيْنَٰهُ فِى ٱلدُّنْيَا حَسَنَةًۭ ۖ وَإِنَّهُۥ فِى ٱلْءَاخِرَةِ لَمِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١٢٢
ওয়াআ-তাইনা-হু ফিদ দুনইয়া হাসানাতাঁ ওয়াইন্নাহূ ফিল আ-খিরাতি লামিনাস সা-লিহীন
আমি তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেছিলাম, আর আখেরাতেও সে অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
ثُمَّ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ أَنِ ٱتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَٰهِيمَ حَنِيفًۭا ۖ وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ١٢٣
ছুম্মা আওহাইনা- ইলাইকা আনিত তাবি‘ মিল্লাতা ইবরা-হীমা হানীফাঁ ওয়ামা কা-না মিনাল মুশরিকীন
অতঃপর তোমার প্রতি ওয়াহী করছি যে, তুমি একনিষ্ঠ ইবরাহীমের মতাদর্শ অনুসরণ কর; আর সে তো মুশরিকদের দলভুক্ত ছিল না।
إِنَّمَا جُعِلَ ٱلسَّبْتُ عَلَى ٱلَّذِينَ ٱخْتَلَفُوا۟ فِيهِ ۚ وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ فِيمَا كَانُوا۟ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ١٢٤
ইন্নামা জু‘ইলাস সাবতু ‘আলাল লাযীনাখতালাফূ ফীহ ওয়াইন্না রাব্বাকা লায়াহকুমু বাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফীমা কা-নূ ফীহি ইয়াখতালিফূন
‘শনিবার পালন’ তো তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল যারা এর নিয়ম পালনে মতভেদ করেছিল। যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত তোমার প্রতিপালক ক্বিয়ামাতের দিন সে বিষয়ে অবশ্যই তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেবেন।
ٱدْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلْحِكْمَةِ وَٱلْمَوْعِظَةِ ٱلْحَسَنَةِ ۖ وَجَٰدِلْهُم بِٱلَّتِى هِىَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ ۖ وَهُوَ أَعْلَمُ بِٱلْمُهْتَدِينَ ١٢٥
উদ‘উ ইলা সাবীলি রাব্বিকা বিলহিকমাতি ওয়ালমাও‘ইযাতিল হাসানাতি ওয়াজা-দিলহুম বিল্লাতী হিয়া আহসান ইন্না রাব্বাকা হুওয়া আ‘লামু বিমান দাল্লা ‘আন সাবীলিহী ওয়াহুওয়া আ‘লামু বিলমুহতাদীন
জ্ঞান-বুদ্ধি আর উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তুমি (মানুষকে) তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান জানাও আর লোকেদের সাথে বিতর্ক কর এমন পন্থায় যা অতি উত্তম। তোমার প্রতিপালক ভালভাবেই জানেন কে তাঁর পথ ছেড়ে গুমরাহ হয়ে গেছে। আর কে সঠিক পথে আছে তাও তিনি বেশি জানেন।
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا۟ بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُم بِهِۦ ۖ وَلَئِن صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌۭ لِّلصَّٰبِرِينَ ١٢٦
ওয়াইন ‘আ-কাবতুম ফা‘আ-কিবূ বিমিছলি মা ‘ঊকিবতুম বিহী ওয়ালাইন সাবারতুম লাহুওয়া খাইরুল লিস্সা-বিরীন
যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করতে চাও তবে ততটুকু প্রতিশোধ গ্রহণ কর যতটুকু অন্যায় তোমাদের উপর করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর তবে ধৈর্যধারণকারীদের জন্য অবশ্যই তা উত্তম।
وَٱصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِٱللَّهِ ۚ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِى ضَيْقٍۢ مِّمَّا يَمْكُرُونَ ١٢٧
ওয়াসবির ওয়ামা সাবরুকা ইল্লা বিল্লা-হ ওয়ালা তাহযান ‘আলাইহিম ওয়ালা তাকু ফী দাইকিম মিম্মা ইয়ামকুরূন
তুমি ধৈর্য ধারণ কর, তোমার ধৈর্য তো কেবল আল্লাহ ব্যতীত নয়, ওদের কার্যকলাপে তুমি দুঃখিত হয়ো না, আর ওদের ষড়যন্ত্র করার কারণে অন্তরে কুণ্ঠাবোধ করো না।
إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوا۟ وَّٱلَّذِينَ هُم مُّحْسِنُونَ ١٢٨
ইন্নাল্লা-হা মা‘আল লাযীনাত তাকাও ওয়াল্লাযীনা হুম মুহসিনূন
যারা তাক্বওয়া অবলম্বন করে আর সৎকর্মশীল, আল্লাহ তো তাদেরই সঙ্গে আছেন।