সূরা আল-ফাতিহা
সাহাবিরা রুকইয়াহ হিসেবে পড়েছেন, রাসূল ﷺ অনুমোদন দিয়েছেন (বুখারী ৫৭৩৬)।
কুরআন ও রাসূল ﷺ-এর দোয়ার মাধ্যমে আরোগ্য ও সুরক্ষা — বদনজর, জাদু, জিন, অসুস্থতা ও দুশ্চিন্তার জন্য। শুনুন, সাথে পড়ুন এবং নিজেই রুকইয়াহ করুন।
সব রুকইয়াহ আয়াত একটানা — আপনার পছন্দের ক্বারীর কণ্ঠে।
রুকইয়াহ হলো আল্লাহর বাণী—কুরআন—এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো দোয়া পড়ে নিজের বা অন্যের জন্য আল্লাহর কাছে আরোগ্য ও সুরক্ষা চাওয়া। এটি সুন্নাহ: রাসূল ﷺ নিজে রুকইয়াহ করেছেন, তাঁকে রুকইয়াহ করা হয়েছে এবং তিনি এর অনুমতি দিয়েছেন।
“তোমাদের রুকইয়াহগুলো আমাকে শোনাও। রুকইয়াহতে কোনো সমস্যা নেই, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে।” — মুসলিম ২২০০
এক সাহাবি দংশিত এক ব্যক্তির ওপর সূরা ফাতিহা পড়লে তিনি সুস্থ হয়ে যান। রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কীভাবে জানলে যে এটি রুকইয়াহ?” (বুখারী ৫৭৩৬, মুসলিম ২২০১)।
রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়। রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমরা চিকিৎসা করাও, কারণ আল্লাহ এমন কোনো রোগ দেননি যার প্রতিষেধক দেননি” (আবু দাউদ ৩৮৫৫)। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দুটোই করুন।
অন্য কাউকে রুকইয়াহ করলে তার কাছে বসে পড়ুন এবং তার ওপর বা সে যে পানি পান করবে তাতে হালকা ফুঁ দিন। মাহরাম নন এমন নারী-পুরুষ ইসলামের সীমা মেনে চলবেন।
“বদনজর সত্য।” — বুখারী ৫৭৪০, মুসলিম ২১৮৭
রাসূল ﷺ বদনজরের জন্য রুকইয়াহ করাতে বলেছেন (বুখারী ৫৭৩৮)। হঠাৎ অসুস্থ হওয়া, খাওয়া বা ঘুম কমে যাওয়া, প্রশংসার পর শিশুর অকারণে কান্না—এমন লক্ষণ মানুষ লক্ষ করে; তবে নিশ্চিত জ্ঞান আল্লাহর কাছে, তাই চিকিৎসকও দেখান।
জাদু সত্য, তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা কারো ক্ষতি করতে পারে না।
যে মুমিন আল্লাহর কাছাকাছি থাকে, শয়তান তার ক্ষতি করতে পারে না। ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক থাকে (বুখারী ২৩১১), আর রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়াই যথেষ্ট (বুখারী ৫০০৯)।
পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে রাসূল ﷺ ডান হাত দিয়ে তার শরীরে হাত বুলিয়ে পড়তেন আযহিবিল বা’স, রাব্বান নাস … (বুখারী ৫৭৪৩)। সূরা ফাতিহা ও “আরোগ্যের আয়াত” পড়ুন, ব্যথার জায়গায় হাত রাখুন এবং “অসুস্থতা” চিহ্নিত দোয়াগুলো পড়ুন।
রোগী দেখতে গিয়ে সাতবার আসআলুল্লাহাল ‘আযীম … পড়া সুন্নাহ (আবু দাউদ ৩১০৬)।
অনেক আলেম আয়াত ও দোয়া পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা পান করা ও তা দিয়ে গোসল করা, এবং জলপাই তেলে পড়ে শরীরে মালিশ করা জায়েজ বলেছেন। রাসূল ﷺ জলপাই তেল সম্পর্কে বলেছেন, “এটি খাও এবং শরীরে মাখো, কারণ এটি বরকতময় গাছ থেকে” (তিরমিযী ১৮৫১)। মুখ পানির কাছে রেখে পড়ে হালকা ফুঁ দিন; এমন পানি অপবিত্র জায়গায় ফেলবেন না।
মধু ও কালোজিরাতেও আরোগ্য আছে বলে শেখানো হয়েছে (সূরা নাহল ৬৯; বুখারী ৫৬৮৮)।
“(শিরকযুক্ত) মন্ত্র, তাবিজ ও তিওয়ালা (প্রেমের জাদু) শিরক।” — আবু দাউদ ৩৮৮৩
সাহাবিরা রুকইয়াহ হিসেবে পড়েছেন, রাসূল ﷺ অনুমোদন দিয়েছেন (বুখারী ৫৭৩৬)।
ঘুমের আগে পড়লে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে রক্ষক থাকে (বুখারী ২৩১১)।
রাতে পড়লে তা যথেষ্ট হয়ে যায় (বুখারী ৫০০৯)।
যে ছয়টি আয়াতে আরোগ্যের (শিফা) কথা এসেছে।
প্রতিটি তিনবার; হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে বুলিয়ে দিন (বুখারী ৫০১৭, আবু দাউদ ৫০৮২)।
আযহিবিল বা’সা রাব্বান নাস, ইশফি ওয়া আনতাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।
হে মানুষের রব! কষ্ট দূর করে দিন এবং আরোগ্য দিন—আপনিই আরোগ্যদাতা; আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।
বিসমিল্লাহি আরক্বীক, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ’যীক, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও ‘আইনি হাসিদ, আল্লাহু ইয়াশফীক, বিসমিল্লাহি আরক্বীক।
আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি—সব কষ্টদায়ক জিনিস থেকে, প্রত্যেক (অনিষ্টকারী) প্রাণ বা হিংসুকের চোখের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দিন। আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি।
বিসমিল্লাহ (৩ বার)। আ‘ঊযু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযির (৭ বার)।
তিনবার “বিসমিল্লাহ” বলুন, তারপর সাতবার: “আমি যে কষ্ট পাচ্ছি ও যার আশঙ্কা করছি, তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ ও তাঁর কুদরতের আশ্রয় চাই।”
আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস, মুযহিবাল বা’স, ইশফি আনতাশ শাফী, লা শাফিয়া ইল্লা আনতা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।
হে আল্লাহ, মানুষের রব, কষ্ট দূরকারী! আরোগ্য দিন—আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনি ছাড়া কোনো আরোগ্যদাতা নেই—এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ রাখে না।
আসআলুল্লাহাল ‘আযীম, রাব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম, আঁই ইয়াশফিয়াক।
আমি মহান আল্লাহর কাছে চাই, যিনি মহান আরশের রব—তিনি যেন আপনাকে আরোগ্য দেন।
বিসমিল্লাহ, তুরবাতু আরদিনা, বিরীক্বাতি বা‘দিনা, ইউশফা সাক্বীমুনা, বিইযনি রাব্বিনা।
আল্লাহর নামে—আমাদের মাটি, আমাদের কারো থুথুর সাথে; আমাদের রবের অনুমতিতে আমাদের রোগী আরোগ্য লাভ করবে।
উ‘ঈযুকা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাহ, মিন কুল্লি শাইত্বানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি ‘আইনিন লাম্মাহ।
তোমাকে আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি—প্রত্যেক শয়তান ও বিষাক্ত প্রাণী থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর দৃষ্টি (বদনজর) থেকে।
আ‘ঊযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব।
আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয় চাই, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে।
বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামাই, ওয়া হুয়াস সামী‘উল ‘আলীম।
আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আ‘ঊযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহী ওয়া ‘ইক্বাবিহী, ওয়া শাররি ‘ইবাদিহী, ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বীনি ওয়া আঁই ইয়াহদুরূন।
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয় চাই—তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে এবং তারা আমার কাছে আসা থেকে।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল ‘আযীমুল হালীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল ‘আরশিল কারীম।
মহান ও সহনশীল আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; মহান আরশের রব আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আসমানসমূহের রব, জমিনের রব ও সম্মানিত আরশের রব আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
মা-শা-আল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ — আল্লাহুম্মা বারিক ফীহি।
আল্লাহ যা চান তা-ই হয়; আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই — হে আল্লাহ, এতে বরকত দিন।
রুকইয়াহ একটি মাধ্যম; আরোগ্যদাতা একমাত্র আল্লাহ। যেকোনো অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।