মূল লেখায় যান
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুকইয়াহ শারইয়্যাহ الرُّقْيَةُ الشَّرْعِيَّةُ

কুরআন ও রাসূল ﷺ-এর দোয়ার মাধ্যমে আরোগ্য ও সুরক্ষা — বদনজর, জাদু, জিন, অসুস্থতা ও দুশ্চিন্তার জন্য। শুনুন, সাথে পড়ুন এবং নিজেই রুকইয়াহ করুন।

রুকইয়াহ অডিও

সব রুকইয়াহ আয়াত একটানা — আপনার পছন্দের ক্বারীর কণ্ঠে।

শুরু করতে প্লে চাপুন
যা চালানো হবে

    নিয়ম ও জ্ঞাতব্য

    রুকইয়াহ কী?

    রুকইয়াহ হলো আল্লাহর বাণী—কুরআন—এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো দোয়া পড়ে নিজের বা অন্যের জন্য আল্লাহর কাছে আরোগ্য ও সুরক্ষা চাওয়া। এটি সুন্নাহ: রাসূল ﷺ নিজে রুকইয়াহ করেছেন, তাঁকে রুকইয়াহ করা হয়েছে এবং তিনি এর অনুমতি দিয়েছেন।

    “তোমাদের রুকইয়াহগুলো আমাকে শোনাও। রুকইয়াহতে কোনো সমস্যা নেই, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে।” — মুসলিম ২২০০

    এক সাহাবি দংশিত এক ব্যক্তির ওপর সূরা ফাতিহা পড়লে তিনি সুস্থ হয়ে যান। রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কীভাবে জানলে যে এটি রুকইয়াহ?” (বুখারী ৫৭৩৬, মুসলিম ২২০১)।

    وَنُنَزِّلُ مِنَ ٱلْقُرْءَانِ مَا هُوَ شِفَآءٌۭ وَرَحْمَةٌۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ ٱلظَّٰلِمِينَ إِلَّا خَسَارًۭا ٨٢ওয়ানুনায্যিলু মিনাল কুরআ-নি মা হুওয়া শিফা-উঁ ওয়ারাহমাতুল লিলমু’মিনীনা ওয়ালা ইয়াযীদুয যা-লিমীনা ইল্লা খাসা-রাআমি কুরআন হতে (ক্রমশঃ) অবতীর্ণ করি যা মু’মিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমাত, কিন্তু তা যালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৮২
    শরীয়তসম্মত রুকইয়াহর শর্ত
    • রুকইয়াহ হবে আল্লাহর কালাম, তাঁর নাম ও গুণাবলি অথবা এমন দোয়া দিয়ে যাতে হারাম কিছু নেই।
    • আরবি বা বোধগম্য ভাষায় হবে—অজানা শব্দ, নকশা, সংখ্যা বা নাম দিয়ে নয়।
    • বিশ্বাস রাখতে হবে যে রুকইয়াহ নিজে আরোগ্য দেয় না; আরোগ্যদাতা একমাত্র আল্লাহ।
    • জিন, “পীর-বুজুর্গ” বা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ডাকা যাবে না; কোনো শিরক বা বিদআতের শর্ত থাকবে না।

    রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়। রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমরা চিকিৎসা করাও, কারণ আল্লাহ এমন কোনো রোগ দেননি যার প্রতিষেধক দেননি” (আবু দাউদ ৩৮৫৫)। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দুটোই করুন।

    নিজে নিজে রুকইয়াহ করার নিয়ম
    1. অজু করে পবিত্র জায়গায় বসুন (সম্ভব হলে কিবলামুখী) এবং মনকে আল্লাহর দিকে ফেরান।
    2. আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম ও বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করুন।
    3. সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত ও নিচের অন্যান্য আয়াত ধীরে ধীরে, মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
    4. সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস তিনবার করে পড়ে দুই হাতের তালুতে হালকা ফুঁ দিন এবং মাথা, মুখ ও শরীরের সামনের দিক থেকে শুরু করে সারা শরীরে হাত বুলিয়ে দিন—যেমন রাসূল ﷺ প্রতি রাতে করতেন (বুখারী ৫০১৭)।
    5. ব্যথার জায়গায় ডান হাত রেখে মুসলিম ২২০২-এর দোয়াটি পড়ুন (৩ বার বিসমিল্লাহ, তারপর ৭ বার আশ্রয় প্রার্থনা)।
    6. শেষে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দোয়া করুন এবং আরোগ্য না আসা পর্যন্ত প্রতিদিন চালিয়ে যান।

    অন্য কাউকে রুকইয়াহ করলে তার কাছে বসে পড়ুন এবং তার ওপর বা সে যে পানি পান করবে তাতে হালকা ফুঁ দিন। মাহরাম নন এমন নারী-পুরুষ ইসলামের সীমা মেনে চলবেন।

    বদনজর (নজর লাগা)
    “বদনজর সত্য।” — বুখারী ৫৭৪০, মুসলিম ২১৮৭

    রাসূল ﷺ বদনজরের জন্য রুকইয়াহ করাতে বলেছেন (বুখারী ৫৭৩৮)। হঠাৎ অসুস্থ হওয়া, খাওয়া বা ঘুম কমে যাওয়া, প্রশংসার পর শিশুর অকারণে কান্না—এমন লক্ষণ মানুষ লক্ষ করে; তবে নিশ্চিত জ্ঞান আল্লাহর কাছে, তাই চিকিৎসকও দেখান।

    • সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক, নাস, সূরা কলম ৫১–৫২ এবং “বদনজর” চিহ্নিত দোয়াগুলো পড়ুন।
    • কার নজর লেগেছে জানা থাকলে রাসূল ﷺ তাকে অজু/গোসল করিয়ে সেই পানি আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর ঢেলে দিতে বলেছেন (ইবনে মাজাহ ৩৫০৯, মুয়াত্তা মালিক)।
    • কিছু ভালো লাগলে বলুন মা-শা-আল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ এবং তাতে বরকতের দোয়া করুন (ইবনে মাজাহ ৩৫০৯)।
    জাদু-টোনা (সিহর)

    জাদু সত্য, তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা কারো ক্ষতি করতে পারে না।

    وَٱتَّبَعُوا۟ مَا تَتْلُوا۟ ٱلشَّيَٰطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَٰنَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَٰنُ وَلَٰكِنَّ ٱلشَّيَٰطِينَ كَفَرُوا۟ يُعَلِّمُونَ ٱلنَّاسَ ٱلسِّحْرَ وَمَآ أُنزِلَ عَلَى ٱلْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَٰرُوتَ وَمَٰرُوتَ ۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَآ إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌۭ فَلَا تَكْفُرْ ۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِۦ بَيْنَ ٱلْمَرْءِ وَزَوْجِهِۦ ۚ وَمَا هُم بِضَآرِّينَ بِهِۦ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ ۚ وَلَقَدْ عَلِمُوا۟ لَمَنِ ٱشْتَرَىٰهُ مَا لَهُۥ فِى ٱلْءَاخِرَةِ مِنْ خَلَٰقٍۢ ۚ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا۟ بِهِۦٓ أَنفُسَهُمْ ۚ لَوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ ١٠٢এবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়ত্বানরা যা পাঠ করত, তারা তা অনুসরণ করত, মূলতঃ সুলায়মান কুফরী করেনি বরং শয়ত্বানরাই কুফুরী করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবিলের দু’জন ফেরেশতা হারূত ও মারূতের উপর পৌঁছানো হয়েছিল এবং ফেরেশতাদ্বয় কাউকেও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, আমরা পরীক্ষা স্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরী কর না,এতদসত্ত্বেও তারা উভয়ের নিকট হতে এমন জিনিস শিক্ষা করতো, যদ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতো, মূলতঃ তারা তাদের এ কাজ দ্বারা আল্লাহর বিনা হুকুমে কারও ক্ষতি করতে পারত না, বস্তুতঃ এরা এমন বিদ্যা শিখত, যদ্দ্বারা তাদের ক্ষতি সাধিত হত আর এদের কোন উপকার হত না এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি ঐ কাজ অবলম্বন করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না, আর যার পরিবর্তে তারা স্বীয় আত্মাগুলোকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না জঘন্য, যদি তারা জানত!সূরা আল-বাকারা ২:১০২
    • “জাদু” চিহ্নিত আয়াতগুলো—বাকারা ১০২, আ‘রাফ ১১৭–১২২, ইউনুস ৭৯–৮২, ত্বা-হা ৬৫–৬৯—সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি ও তিন কুলসহ প্রতিদিন পড়ুন।
    • সকাল-সন্ধ্যার জিকির নিয়মিত করুন; সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খেলে সেদিন বিষ ও জাদু ক্ষতি করবে না বলে হাদিসে এসেছে (বুখারী ৫৪৪৫)।
    • জাদু কাটাতে কখনো জাদুকর বা কবিরাজের কাছে যাবেন না—এটি হারাম এবং ঈমান নষ্ট করে।
    জিনের আসর ও ওয়াসওয়াসা

    যে মুমিন আল্লাহর কাছাকাছি থাকে, শয়তান তার ক্ষতি করতে পারে না। ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক থাকে (বুখারী ২৩১১), আর রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়াই যথেষ্ট (বুখারী ৫০০৯)।

    • “জিন” চিহ্নিত আয়াতগুলো—সাফফাত ১–১০, আহকাফ ২৯–৩২, আর-রহমান ৩৩–৩৬, জিন ১–৯—সূরা বাকারার সাথে পড়ুন।
    • ঘরে সূরা বাকারা পড়ুন: যে ঘরে তা পড়া হয় সেখান থেকে শয়তান পালিয়ে যায় (মুসলিম ৭৮০)।
    • ওয়াসওয়াসা এলে আল্লাহর আশ্রয় চান এবং সেই চিন্তা অনুসরণ করা বন্ধ করুন (বুখারী ৩২৭৬)।
    অসুস্থতা ও ব্যথায় রুকইয়াহ

    পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে রাসূল ﷺ ডান হাত দিয়ে তার শরীরে হাত বুলিয়ে পড়তেন আযহিবিল বা’স, রাব্বান নাস … (বুখারী ৫৭৪৩)। সূরা ফাতিহা ও “আরোগ্যের আয়াত” পড়ুন, ব্যথার জায়গায় হাত রাখুন এবং “অসুস্থতা” চিহ্নিত দোয়াগুলো পড়ুন।

    রোগী দেখতে গিয়ে সাতবার আসআলুল্লাহাল ‘আযীম … পড়া সুন্নাহ (আবু দাউদ ৩১০৬)।

    প্রতিদিনের সুরক্ষা
    • সকাল-সন্ধ্যা: সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস তিনবার করে—“এগুলো তোমাকে সবকিছু থেকে যথেষ্ট হবে” (আবু দাউদ ৫০৮২)।
    • সকাল-সন্ধ্যা তিনবার বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু … (আবু দাউদ ৫০৮৮)।
    • প্রত্যেক নামাজের পর ও ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি; রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত।
    • কোথাও যাত্রাবিরতি করলে: আ‘ঊযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব (মুসলিম ২৭০৮)।
    • সময়মতো নামাজ, হালাল খাবার, আল্লাহর জিকির ও গুনাহ থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে বড় ঢাল।
    রুকইয়াহর পানি, তেল ও গোসল

    অনেক আলেম আয়াত ও দোয়া পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা পান করা ও তা দিয়ে গোসল করা, এবং জলপাই তেলে পড়ে শরীরে মালিশ করা জায়েজ বলেছেন। রাসূল ﷺ জলপাই তেল সম্পর্কে বলেছেন, “এটি খাও এবং শরীরে মাখো, কারণ এটি বরকতময় গাছ থেকে” (তিরমিযী ১৮৫১)। মুখ পানির কাছে রেখে পড়ে হালকা ফুঁ দিন; এমন পানি অপবিত্র জায়গায় ফেলবেন না।

    মধু ও কালোজিরাতেও আরোগ্য আছে বলে শেখানো হয়েছে (সূরা নাহল ৬৯; বুখারী ৫৬৮৮)।

    সতর্কতা: শিরক ও প্রতারণা
    “(শিরকযুক্ত) মন্ত্র, তাবিজ ও তিওয়ালা (প্রেমের জাদু) শিরক।” — আবু দাউদ ৩৮৮৩
    • অজানা লেখা, সংখ্যা, ঘর বা নাম লেখা তাবিজ-কবজ শরীরে ঝোলাবেন না—“যে তাবিজ ঝোলাল সে শিরক করল” (আহমাদ ১৭৪২২)।
    • যে গায়েব জানার দাবি করে, আপনার বা আপনার মায়ের নাম দিয়ে “গণনা” করে, নির্দিষ্ট রঙের প্রাণী চায় বা জিনের সাথে কথা বলার দাবি করে—তার কাছে যাবেন না; তাকে বিশ্বাস করা নাজিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকার করা (আবু দাউদ ৩৯০৪)।
    • যারা বড় অঙ্কের টাকা চায়, নারীকে একা রাখতে চায় বা অবৈধ স্পর্শ করে—তাদের থেকে সাবধান। আপনি নিজেই রুকইয়াহ করতে পারেন—সেটিই সর্বোত্তম।

    রুকইয়াহর আয়াতসমূহ

    সূরা আল-ফাতিহা

    সাধারণঅসুস্থতা ও ব্যথাবদনজর

    সাহাবিরা রুকইয়াহ হিসেবে পড়েছেন, রাসূল ﷺ অনুমোদন দিয়েছেন (বুখারী ৫৭৩৬)।

    بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম আলহামদু লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন আর-রাহমা-নির রাহীম মা-লিকি ইয়াওমিদ দীন ইয়্যা-কা না‘বুদু ওয়াইয়্যা-কা নাসতা‘ঈন ইহদিনাস সিরা-তাল মুসতাকীম সিরা-তাল লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম গাইরিল মাগদূবি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ দা-ল্লীন(১) (আরম্ভ করছি) পরম করুণাময় অসীম দয়াময় আল্লাহর নামে। (২) যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। (৩) যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। (৪) যিনি প্রতিফল দিবসের মালিক। (৫) আমরা কেবল তোমারই ‘ইবাদাত করি এবং কেবলমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। (৬) আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন কর ও তার প্রতি অটুট থাকার তাওফীক দান কর। (৭) তাদের পথ, যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ। তাদের পথ, যারা গযবপ্রাপ্ত (ইয়াহূদী) ও পথভ্রষ্ট (খ্রিস্টান) নয়।সূরা আল-ফাতিহা ১:১-৭

    সূরা বাকারা ১–৫

    সাধারণজিন ও ওয়াসওয়াসা
    الٓمٓ ١ ذَٰلِكَ ٱلْكِتَٰبُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًۭى لِّلْمُتَّقِينَ ٢ ٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِٱلْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ يُنفِقُونَ ٣ وَٱلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِٱلْءَاخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ٤ أُو۟لَٰٓئِكَ عَلَىٰ هُدًۭى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ٥আলিফ লা-ম মী-ম যা-লিকাল কিতা-বু লা রাইবা ফীহি হুদাল লিলমুত্তাকীন আল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিলগাইবি ওয়াইউকীমূনাস সালা-তা ওয়ামিম্মা রাযাকনা-হুম ইউনফিকূন ওয়াল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিমা- উনযিলা ইলাইকা ওয়ামা- উনযিলা মিন কাবলিকা ওয়াবিলআ-খিরাতি হুম ইউকিনূন উলা-ইকা ‘আলা হুদাম মির রাব্বিহিম ওয়াউলা-ইকা হুমুল মুফলিহূন(১) আলিফ, লাম, মীম। (২) এটা ঐ (মহান) কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথ নির্দেশ। (৩) যারা গায়বের প্রতি ঈমান আনে, নামায কায়িম করে এবং আমি যে জীবনোপকরণ তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। (৪) আর তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তাতে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং পরকালের প্রতিও তারা নিশ্চিত বিশ্বাসী। (৫) তারাই তাদের প্রতিপালকের হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে, আর তারাই সফলকাম।সূরা আল-বাকারা ২:১-৫

    সূরা বাকারা ১০২ — জাদু প্রসঙ্গে

    জাদু
    وَٱتَّبَعُوا۟ مَا تَتْلُوا۟ ٱلشَّيَٰطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَٰنَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَٰنُ وَلَٰكِنَّ ٱلشَّيَٰطِينَ كَفَرُوا۟ يُعَلِّمُونَ ٱلنَّاسَ ٱلسِّحْرَ وَمَآ أُنزِلَ عَلَى ٱلْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَٰرُوتَ وَمَٰرُوتَ ۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَآ إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌۭ فَلَا تَكْفُرْ ۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِۦ بَيْنَ ٱلْمَرْءِ وَزَوْجِهِۦ ۚ وَمَا هُم بِضَآرِّينَ بِهِۦ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ ۚ وَلَقَدْ عَلِمُوا۟ لَمَنِ ٱشْتَرَىٰهُ مَا لَهُۥ فِى ٱلْءَاخِرَةِ مِنْ خَلَٰقٍۢ ۚ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا۟ بِهِۦٓ أَنفُسَهُمْ ۚ لَوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ ١٠٢ওয়াত্তাবা‘ঊ মা তাতলুশ শায়া-তীনু ‘আলা মুলকি সুলাইমা-না ওয়ামা কাফারা সুলাইমা-নু ওয়ালা-কিন্নাশ শায়া-তীনা কাফারূ ইউ‘আল্লিমূনান না-সাস সিহরা ওয়ামা- উনযিলা ‘আলাল মালাকাইনি বিবা-বিলা হা-রূতা ওয়ামা-রূত ওয়ামা ইউ‘আল্লিমা-নি মিন আহাদিন হাত্তা ইয়াকূলা- ইন্নামা নাহনু ফিতনাতুন ফালা তাকফুর ফায়াতা‘আল্লামূনা মিনহুমা মা ইউফার্রিকূনা বিহী বাইনাল মারই ওয়াযাওজিহ ওয়ামা হুম বিদা-র্রীনা বিহী মিন আহাদিন ইল্লা বিইযনিল্লা-হ ওয়ায়াতা‘আল্লামূনা মা ইয়াদুর্রুহুম ওয়ালা ইয়ানফা‘উহুম ওয়ালাকাদ ‘আলিমূ লামানিশতারা-হু মা লাহূ ফিল আ-খিরাতি মিন খালা-ক ওয়ালাবি’সা মা শারাও বিহী আনফুসাহুম লাও কা-নূ ইয়া‘লামূনএবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়ত্বানরা যা পাঠ করত, তারা তা অনুসরণ করত, মূলতঃ সুলায়মান কুফরী করেনি বরং শয়ত্বানরাই কুফুরী করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবিলের দু’জন ফেরেশতা হারূত ও মারূতের উপর পৌঁছানো হয়েছিল এবং ফেরেশতাদ্বয় কাউকেও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, আমরা পরীক্ষা স্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরী কর না,এতদসত্ত্বেও তারা উভয়ের নিকট হতে এমন জিনিস শিক্ষা করতো, যদ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতো, মূলতঃ তারা তাদের এ কাজ দ্বারা আল্লাহর বিনা হুকুমে কারও ক্ষতি করতে পারত না, বস্তুতঃ এরা এমন বিদ্যা শিখত, যদ্দ্বারা তাদের ক্ষতি সাধিত হত আর এদের কোন উপকার হত না এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি ঐ কাজ অবলম্বন করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না, আর যার পরিবর্তে তারা স্বীয় আত্মাগুলোকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না জঘন্য, যদি তারা জানত!সূরা আল-বাকারা ২:১০২

    সূরা বাকারা ১৬৩–১৬৪

    সাধারণ
    وَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ ۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلرَّحْمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ ١٦٣ إِنَّ فِى خَلْقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَٰفِ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَٱلْفُلْكِ ٱلَّتِى تَجْرِى فِى ٱلْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ ٱلنَّاسَ وَمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن مَّآءٍۢ فَأَحْيَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٍۢ وَتَصْرِيفِ ٱلرِّيَٰحِ وَٱلسَّحَابِ ٱلْمُسَخَّرِ بَيْنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ لَءَايَٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ١٦٤ওয়াইলা-হুকুম ইলা-হুঁ ওয়া-হিদুল লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়ার রাহমা-নুর রাহীম ইন্না ফী খালকিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ওয়ালফুলকিল লাতী তাজরী ফিল বাহরি বিমা ইয়ানফা‘উন না-সা ওয়ামা- আনযালাল্লা-হু মিনাস সামা-ই মিম মা-ইন ফাআহইয়া বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা ওয়াবাছ্ছা ফীহা মিন কুল্লি দা-ব্বাতিঁ ওয়াতাসরীফির রিয়া-হি ওয়াস্সাহা-বিল মুসাখ্খারি বাইনাস সামা-ই ওয়ালআরদি লাআ-য়া-তিল লিকাওমিঁ ইয়া‘কিলূন(১৬৩) তোমাদের উপাস্য হচ্ছেন এক আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই। তিনি পরম করুনাময়, অতি দয়ালু। (১৬৪) নিশ্চয়ই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে, রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে, লোকের উপকারী দ্রব্যাদিসহ সমুদ্রে চলাচলকারী জলযানের মধ্যে এবং আকাশ হতে আল্লাহর বর্ষিত সেই পানির মধ্যে যদ্বারা তিনি পৃথিবীকে- মরে যাওয়ার পর আবার জীবিত করেন এবং তাতে সকল প্রকার জীব-জন্তুর বিস্তারণে এবং বাতাসের গতি পরিবর্তনের মধ্যে এবং আকাশ ও ভূমন্ডলের মধ্যস্থলে নিয়ন্ত্রিত মেঘপুঞ্জের মধ্যে বিবেকসম্পন্ন লোকেদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।সূরা আল-বাকারা ২:১৬৩-১৬৪

    আয়াতুল কুরসি

    সুরক্ষাজিন ও ওয়াসওয়াসাসাধারণ

    ঘুমের আগে পড়লে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে রক্ষক থাকে (বুখারী ২৩১১)।

    ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌۭ وَلَا نَوْمٌۭ ۚ لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍۢ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ ۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ ٢٥٥আল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূম লা তা’খুযুহূ সিনাতুঁ ওয়ালা নাওম লাহূ মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ মান যাল লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহ ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ওয়ালা ইয়াঊদুহূ হিফযুহুমা ওয়াহুওয়াল ‘আলিয়্যুল ‘আযীমআল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করে? তিনি লোকদের সমুদয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অবস্থা জানেন। পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর জ্ঞানের কোনকিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়, তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে করেন সেটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দু’য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না, তিনি উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান।সূরা আল-বাকারা ২:২৫৫

    সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত

    সুরক্ষাসাধারণ

    রাতে পড়লে তা যথেষ্ট হয়ে যায় (বুখারী ৫০০৯)।

    ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍۢ مِّن رُّسُلِهِۦ ۚ وَقَالُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ ٱلْمَصِيرُ ٢٨٥ لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًۭا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦ ۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَآ ۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ ٢٨٦আ-মানার রাসূলু বিমা- উনযিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়ালমু’মিনূন কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি ওয়ামালা-ইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়ারুসুলিহী লা নুফার্রিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ ওয়াকা-লূ সামি‘না ওয়াআতা‘না গুফরা-নাকা রাব্বানা ওয়াইলাইকাল মাসীর লা ইউকাল্লিফুল্লা-হু নাফসান ইল্লা উস‘আহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া‘আলাইহা মাকতাসাবাত রাব্বানা লা তুআ-খিযনা- ইন নাসীনা- আও আখতা’না রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল ‘আলাইনা- ইসরান কামা হামালতাহূ ‘আলাল লাযীনা মিন কাবলিনা রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা তা-কাতা লানা বিহী ওয়া‘ফু ‘আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা- আনতা মাওলা-না ফানসুরনা ‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন(২৮৫) রসূল (সাঃ) তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা তার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছে এবং মু’মিনগণও। তারা সবাই আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাবসমূহের উপর এবং রসূলগণের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে, (তারা বলে), ‘আমরা রসূলগণের মধ্যে কারও ব্যাপারে তারতম্য করি না’ এবং তারা এ কথাও বলে যে, ‘আমরা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা কর আর প্রত্যাবর্তন তোমারই দিকে’। (২৮৬) আল্লাহ কোন ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু আরোপ করেন না, সে ভাল যা করেছে সে তার সওয়াব পাবে এবং স্বীয় মন্দ কৃতকর্মের জন্য সে নিজেই নিগ্রহ ভোগ করবে। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তাহলে আমাদেরকে পাকড়াও করো না, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের আগের লোকেদের উপর যেমন গুরু-দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না; হে আমাদের প্রতিপালক! যে ভার বহনের ক্ষমতা আমাদের নেই, এমন ভার আমাদের উপর চাপিয়ে দিও না, (ভুল-ত্রুটি উপেক্ষা করে) আমাদেরকে রেহাই দাও, আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর; তুমিই আমাদের প্রতিপালক, কাজেই আমাদেরকে কাফিরদের উপর জয়যুক্ত কর।সূরা আল-বাকারা ২:২৮৫-২৮৬

    সূরা আলে ইমরান ১৮–১৯

    সাধারণ
    شَهِدَ ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَأُو۟لُوا۟ ٱلْعِلْمِ قَآئِمًۢا بِٱلْقِسْطِ ۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ١٨ إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلْإِسْلَٰمُ ۗ وَمَا ٱخْتَلَفَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلْعِلْمُ بَغْيًۢا بَيْنَهُمْ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَإِنَّ ٱللَّهَ سَرِيعُ ٱلْحِسَابِ ١٩শাহিদাল্লা-হু আন-নাহূ লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া ওয়ালমালা-ইকাতু ওয়াউলুল ‘ইলমি কা-ইমাম বিলকিসত লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম ইন্নাদ দীনা ‘ইনদাল্লা-হিল ইসলা-ম ওয়ামাখতালাফাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা ইল্লা মিম বা‘দি মা জা-আহুমুল ‘ইলমু বাগইয়াম বাইনাহুম ওয়ামান ইয়াকফুর বিআ-য়া-তিল্লা-হি ফাইন্নাল্লা-হা সারী‘উল হিসা-ব(১৮) আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই এবং ফেরেশতাগণ ও ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানীগণও (সাক্ষ্য দিচ্ছে যে,) তিনি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই, তিনি মহাপরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী। (১৯) নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হল ইসলাম। বস্তুতঃ যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তারা জ্ঞান লাভের পর একে অন্যের উপর প্রাধান্য লাভের জন্য মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহ্কে অস্বীকার করবে, (সে জেনে নিক) নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অতিশয় তৎপর।সূরা আলে ইমরান ৩:১৮-১৯

    সূরা আ‘রাফ ৫৪–৫৬

    সাধারণজিন ও ওয়াসওয়াসা
    إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ فِى سِتَّةِ أَيَّامٍۢ ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ عَلَى ٱلْعَرْشِ يُغْشِى ٱلَّيْلَ ٱلنَّهَارَ يَطْلُبُهُۥ حَثِيثًۭا وَٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ وَٱلنُّجُومَ مُسَخَّرَٰتٍۭ بِأَمْرِهِۦٓ ۗ أَلَا لَهُ ٱلْخَلْقُ وَٱلْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٥٤ ٱدْعُوا۟ رَبَّكُمْ تَضَرُّعًۭا وَخُفْيَةً ۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلْمُعْتَدِينَ ٥٥ وَلَا تُفْسِدُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَٰحِهَا وَٱدْعُوهُ خَوْفًۭا وَطَمَعًا ۚ إِنَّ رَحْمَتَ ٱللَّهِ قَرِيبٌۭ مِّنَ ٱلْمُحْسِنِينَ ٥٦ইন্না রাব্বাকুমুল্লা-হুল লাযী খালাকাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন ছুম্মাসতাওয়া ‘আলাল ‘আরশি ইউগশিল লাইলান নাহা-রা ইয়াতলুবুহূ হাছীছাঁ ওয়াশ্শামসা ওয়ালকামারা ওয়ান্নুজূমা মুসাখ্খারা-তিম বিআমরিহ আলা লাহুল খালকু ওয়ালআমর তাবা-রাকাল্লা-হু রাব্বুল ‘আ-লামীন উদ‘ঊ রাব্বাকুম তাদার্রু‘আঁ ওয়াখুফইয়াহ ইন্নাহূ লা ইউহিব্বুল মু‘তাদীন ওয়ালা তুফসিদূ ফিল আরদি বা‘দা ইসলা-হিহা ওয়াদ‘ঊহু খাওফাঁ ওয়াতামা‘আ ইন্না রাহমাতাল্লা-হি কারীবুম মিনাল মুহসিনীন(৫৪) তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি ছয় দিনে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমুন্নত হয়েছেন। দিনকে তিনি রাতের পর্দা দিয়ে ঢেকে দেন, তারা একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে এবং সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি তাঁরই আজ্ঞাবহ। জেনে রেখ, সৃষ্টি তাঁর, হুকুমও (চলবে) তাঁর, বরকতময় আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক। (৫৫) তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে বিনয়ের সঙ্গে এবং গোপনে আহবান কর, তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (৫৬) শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপিত হওয়ার পর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না, আর তাঁকে ভয়-ভীতি ও আশা-ভরসা নিয়ে ডাকতে থাক, আল্লাহর দয়া তো (সব সময়) তাদের নিকটে আছে যারা সৎ কাজ করে।সূরা আল-আরাফ ৭:৫৪-৫৬

    সূরা আ‘রাফ ১১৭–১২২ — মূসা (আ.) ও জাদুকররা

    জাদু
    ۞ وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ ۖ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ ١١٧ فَوَقَعَ ٱلْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١١٨ فَغُلِبُوا۟ هُنَالِكَ وَٱنقَلَبُوا۟ صَٰغِرِينَ ١١٩ وَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَ ١٢٠ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٢١ رَبِّ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ ١٢٢ওয়াআওহাইনা- ইলা মূসা- আন আলকি ‘আসা-কা ফাইযা হিয়া তালকাফু মা ইয়া’ফিকূন ফাওয়াকা‘আল হাক্কু ওয়াবাতালা মা কা-নূ ইয়া‘মালূন ফাগুলিবূ হুনা-লিকা ওয়ানকালাবূ সা-গিরীন ওয়াউলকিয়াস সাহারাতু সা-জিদীন কা-লূ আ-মান্না বিরাব্বিল ‘আ-লামীন রাব্বি মূসা ওয়াহা-রূন(১১৭) আমি মূসার কাছে ওয়াহী করলাম, ‘তোমার লাঠি ছুঁড়ে দাও’। তখন তা তাদের অলীক বস্তুগুলোকে গ্রাস করতে শুরু করল। (১১৮) প্রকৃত সত্য প্রকাশ হয়ে গেল, তারা যা সাজিয়েছিল তা নিস্ফল হয়ে গেল। (১১৯) তারা সেখানে পরাজিত হল আর লাঞ্ছিত অবস্থায় ফিরে গেল। (১২০) আর যাদুকররা সাজদায় লুটিয়ে পড়ল। (১২১) তারা বলল, ‘আমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম। (১২২) মূসা আর হারূনের প্রতিপালকের প্রতি।’সূরা আল-আরাফ ৭:১১৭-১২২

    সূরা ইউনুস ৭৯–৮২

    জাদু
    وَقَالَ فِرْعَوْنُ ٱئْتُونِى بِكُلِّ سَٰحِرٍ عَلِيمٍۢ ٧٩ فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلْقُوا۟ مَآ أَنتُم مُّلْقُونَ ٨٠ فَلَمَّآ أَلْقَوْا۟ قَالَ مُوسَىٰ مَا جِئْتُم بِهِ ٱلسِّحْرُ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ سَيُبْطِلُهُۥٓ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ ٱلْمُفْسِدِينَ ٨١ وَيُحِقُّ ٱللَّهُ ٱلْحَقَّ بِكَلِمَٰتِهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُجْرِمُونَ ٨٢ওয়াকা-লা ফির‘আওনু তূনী বিকুল্লি সা-হিরিন ‘আলীম ফালাম্মা জা-আস সাহারাতু কা-লা লাহুম মূসা- আলকূ মা- আনতুম মুলকূন ফালাম্মা- আলকাও কা-লা মূসা মা জি’তুম বিহিস সিহরু ইন্নাল্লা-হা সাইউবতিলুহূ ইন্নাল্লা-হা লা ইউসলিহু ‘আমালাল মুফসিদীন ওয়াইউহিক্কুল্লা-হুল হাক্কা বিকালিমা-তিহী ওয়ালাও কারিহাল মুজরিমূন(৭৯) ফির‘আওন বলল, ‘‘সকল পারদর্শী যাদুকরদের আমার কাছে নিয়ে এসো’’। (৮০) যাদুকররা যখন এসে গেল, তখন মূসা তাদেরকে বলল, ‘‘নিক্ষেপ কর তোমরা যা নিক্ষেপ করবে’’। (৮১) তারা যখন নিক্ষেপ করল, তখন মূসা বলল, ‘‘তোমরা যা নিয়ে এসেছ তাতো যাদু, আল্লাহ এখনই তা ব্যর্থ করে দেবেন, আল্লাহ বিশৃঙ্খলাকারীদের কাজকে সংশোধন করেন না’’। (৮২) আল্লাহ তাঁর বাণীর সাহায্যে প্রকৃত সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেনই, অপরাধীদের কাছে তা যতই অপ্রীতিকর হোক না কেন।সূরা ইউনুস ১০:৭৯-৮২

    সূরা ত্বা-হা ৬৫–৬৯

    জাদু
    قَالُوا۟ يَٰمُوسَىٰٓ إِمَّآ أَن تُلْقِىَ وَإِمَّآ أَن نَّكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَىٰ ٦٥ قَالَ بَلْ أَلْقُوا۟ ۖ فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِن سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَىٰ ٦٦ فَأَوْجَسَ فِى نَفْسِهِۦ خِيفَةًۭ مُّوسَىٰ ٦٧ قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْأَعْلَىٰ ٦٨ وَأَلْقِ مَا فِى يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوٓا۟ ۖ إِنَّمَا صَنَعُوا۟ كَيْدُ سَٰحِرٍۢ ۖ وَلَا يُفْلِحُ ٱلسَّاحِرُ حَيْثُ أَتَىٰ ٦٩কা-লূ ইয়া-মূসা- ইম্মা- আন তুলকিয়া ওয়াইম্মা- আন নাকূনা আওয়ালা মান আলকা কা-লা বাল আলকূ ফাইযা হিবা-লুহুম ওয়া‘ইসিয়্যুহুম ইউখাইয়্যালু ইলাইহি মিন সিহরিহিম আন-নাহা তাস‘আ ফাআওজাসা ফী নাফসিহী খীফাতাম মূসা কুলনা লা তাখাফ ইন্নাকা আনতাল আ‘লা ওয়াআলকি মা ফী ইয়ামীনিকা তালকাফ মা সানা‘ঊ ইন্নামা সানা‘ঊ কাইদু সা-হিরিঁ ওয়ালা ইউফলিহুস সা-হিরু হাইছু আতা(৬৫) তারা বলল, ‘হে মূসা! তুমিই (প্রথমে) নিক্ষেপ করবে, না আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করব?’ (৬৬) মূসা বলল, ‘বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর।’ তখন তাদের যাদুর কারণে মূসার মনে হল যে, তাদের রশি আর লাঠিগুলো ছুটোছুটি করছে। (৬৭) তখন মূসা তার মনে ভীতি অনুভব করল। (৬৮) আমি বললাম, ‘ভয় করো না, তুমিই বিজয়ী হবে।’ (৬৯) তোমার ডান হাতে যা আছে তা নিক্ষেপ কর, তারা যা করেছে এটা তা সব গিলে ফেলবে, তারা যা করেছে তাতো কেবল যাদুকরের কলা-কৌশল। যাদুকর যে রূপ ধরেই আসুক না কেন, সফল হবে না।’সূরা ত্ব-হা ২০:৬৫-৬৯

    সূরা মু’মিনূন ১১৫–১১৮

    সাধারণ
    أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَٰكُمْ عَبَثًۭا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ ١١٥ فَتَعَٰلَى ٱللَّهُ ٱلْمَلِكُ ٱلْحَقُّ ۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْكَرِيمِ ١١٦ وَمَن يَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ لَا بُرْهَٰنَ لَهُۥ بِهِۦ فَإِنَّمَا حِسَابُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦٓ ۚ إِنَّهُۥ لَا يُفْلِحُ ٱلْكَٰفِرُونَ ١١٧ وَقُل رَّبِّ ٱغْفِرْ وَٱرْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ ٱلرَّٰحِمِينَ ١١٨আফাহাসিবতুম আন-নামা খালাকনা-কুম ‘আবাছাঁ ওয়াআন্নাকুম ইলাইনা লা তুরজা‘ঊন ফাতা‘আ-লাল্লা-হুল মালিকুল হাক্কু লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া রাব্বুল ‘আরশিল কারীম ওয়ামান ইয়াদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা লা বুরহা-না লাহূ বিহী ফাইন্নামা হিসা-বুহূ ‘ইনদা রাব্বিহ ইন্নাহূ লা ইউফলিহুল কা-ফিরূন ওয়াকুর রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়াআনতা খাইরুর রা-হিমীন(১১৫) তোমরা কি ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে তামাশার বস্তু হিসেবে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? (১১৬) সুউচ্চ মহান আল্লাহ যিনি প্রকৃত মালিক, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, সম্মানিত আরশের অধিপতি। (১১৭) যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অন্য ইলাহকেও ডাকে, এ ব্যাপারে তার কাছে কোন দলীল প্রমাণ নেই, একমাত্র তার প্রতিপালকের কাছেই তার হিসাব হবে, কাফিরগণ অবশ্যই সফলকাম হবে না। (১১৮) কাজেই বল : ‘হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও রহম কর, তুমি রহমকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’সূরা আল-মুমিনূন ২৩:১১৫-১১৮

    সূরা সাফফাত ১–১০

    জিন ও ওয়াসওয়াসা
    وَٱلصَّٰٓفَّٰتِ صَفًّۭا ١ فَٱلزَّٰجِرَٰتِ زَجْرًۭا ٢ فَٱلتَّٰلِيَٰتِ ذِكْرًا ٣ إِنَّ إِلَٰهَكُمْ لَوَٰحِدٌۭ ٤ رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ ٱلْمَشَٰرِقِ ٥ إِنَّا زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِزِينَةٍ ٱلْكَوَاكِبِ ٦ وَحِفْظًۭا مِّن كُلِّ شَيْطَٰنٍۢ مَّارِدٍۢ ٧ لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى ٱلْمَلَإِ ٱلْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٍۢ ٨ دُحُورًۭا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌۭ وَاصِبٌ ٩ إِلَّا مَنْ خَطِفَ ٱلْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌۭ ثَاقِبٌۭ ١٠ওয়াস্সা-ফ্ফা-তি সাফ্ফা ফায্যা-জিরা-তি যাজরা ফাত্তা-লিয়া-তি যিকরা ইন্না ইলা-হাকুম লাওয়া-হিদ রাব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ামা বাইনাহুমা ওয়ারাব্বুল মাশা-রিক ইন্না যাইয়্যান্নাস সামা-আদ দুনইয়া বিযীনাতিনিল কাওয়া-কিব ওয়াহিফযাম মিন কুল্লি শাইতা-নিম মা-রিদ লা ইয়াস্সাম্মা‘ঊনা ইলাল মালাইল আ‘লা ওয়াইউকযাফূনা মিন কুল্লি জা-নিব দুহূরাঁ ওয়ালাহুম ‘আযা-বুঁ ওয়া-সিব ইল্লা মান খাতিফাল খাতফাতা ফাআতবা‘আহূ শিহা-বুন ছা-কিব(১) শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো, (২) অতঃপর যারা ধমক দিয়ে তিরস্কার করে তাদের শপথ, (৩) আর যারা (আল্লাহর) যিকর আবৃত্তিতে লিপ্ত, (৪) তোমাদের প্রকৃত ইলাহ অবশ্য একজন। (৫) যিনি আসমান, যমীন আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে এবং সকল উদয় স্থলের মালিক। (৬) আমি নিকটবর্তী আসমানকে তারকারাজির সৌন্দর্য দ্বারা সুশোভিত করেছি, (৭) আর (এটা করেছি) প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়ত্বান থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে। (৮) যার ফলে তারা উচ্চতর জগতের কিছু শুনতে পারে না, চতুর্দিক থেকে তাদের প্রতি নিক্ষেপ করা হয় (উল্কাপিন্ড) (৯) (তাদেরকে) তাড়ানোর জন্য। তাদের জন্য আছে বিরামহীন শাস্তি। (১০) তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পিছু নেয়।সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১-১০

    সূরা আহকাফ ২৯–৩২

    জিন ও ওয়াসওয়াসা
    وَإِذْ صَرَفْنَآ إِلَيْكَ نَفَرًۭا مِّنَ ٱلْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ ٱلْقُرْءَانَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوٓا۟ أَنصِتُوا۟ ۖ فَلَمَّا قُضِىَ وَلَّوْا۟ إِلَىٰ قَوْمِهِم مُّنذِرِينَ ٢٩ قَالُوا۟ يَٰقَوْمَنَآ إِنَّا سَمِعْنَا كِتَٰبًا أُنزِلَ مِنۢ بَعْدِ مُوسَىٰ مُصَدِّقًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِىٓ إِلَى ٱلْحَقِّ وَإِلَىٰ طَرِيقٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ٣٠ يَٰقَوْمَنَآ أَجِيبُوا۟ دَاعِىَ ٱللَّهِ وَءَامِنُوا۟ بِهِۦ يَغْفِرْ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍۢ ٣١ وَمَن لَّا يُجِبْ دَاعِىَ ٱللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزٍۢ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُۥ مِن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءُ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ فِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍ ٣٢ওয়াইয সারাফনা- ইলাইকা নাফারাম মিনাল জিন্নি ইয়াসতামি‘ঊনাল কুরআ-না ফালাম্মা হাদারূহু কা-লূ আনসিতূ ফালাম্মা কুদিয়া ওয়াল্লাও ইলা কাওমিহিম মুনযিরীন কা-লূ ইয়া-কাওমানা- ইন্না সামি‘না কিতা-বান উনযিলা মিম বা‘দি মূসা মুসাদ্দিকাল লিমা বাইনা ইয়াদাইহি ইয়াহদী ইলাল হাক্কি ওয়াইলা তারীকিম মুসতাকীম ইয়া-কাওমানা- আজীবূ দা-‘ইয়াল্লা-হি ওয়াআ-মিনূ বিহী ইয়াগফির লাকুম মিন যুনূবিকুম ওয়াইউজিরকুম মিন ‘আযা-বিন আলীম ওয়ামাল লা ইউজিব দা-‘ইয়াল্লা-হি ফালাইসা বিমু‘জিযিন ফিল আরদি ওয়ালাইসা লাহূ মিন দূনিহী আওলিয়া-আ উলা-ইকা ফী দালা-লিম মুবীন(২৯) স্মরণ কর, যখন জ্বিনদের একটি দলকে তোমার প্রতি ফিরিয়ে দিয়েছিলাম যারা কুরআন শুনছিল। তারা যখন সে স্থানে উপস্থিত হল, তখন তারা পরস্পরে বলল- চুপ করে শুন। পড়া যখন শেষ হল তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেল সতর্ককারীরূপে। (৩০) (ফিরে গিয়ে) তারা বলল- হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা একটি কিতাব (এর পাঠ) শুনেছি যা মূসার পরে অবতীর্ণ হয়েছে, তা পূর্বেকার কিতাবগুলোর সত্যতা প্রতিপন্ন করে, সত্যের দিকে আর সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে। (৩১) হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহবানকারীর প্রতি সাড়া দাও এবং তার প্রতি ঈমান আন, আল্লাহ তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন আর তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক ‘আযাব থেকে রক্ষা করবেন। (৩২) আর যে আল্লাহর দিকে আহবানকারীর প্রতি সাড়া দিবে না, দুনিয়াতে সে আল্লাহকে ব্যর্থ করতে পারবে না, আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে নেই তার কোন সাহায্যকারী, পৃষ্ঠপোষক। তারা আছে সুস্পষ্ট গুমরাহীতে।সূরা আল-আহকাফ ৪৬:২৯-৩২

    সূরা আর-রহমান ৩৩–৩৬

    জিন ও ওয়াসওয়াসা
    يَٰمَعْشَرَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِ إِنِ ٱسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا۟ مِنْ أَقْطَارِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ فَٱنفُذُوا۟ ۚ لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَٰنٍۢ ٣٣ فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٣٤ يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌۭ مِّن نَّارٍۢ وَنُحَاسٌۭ فَلَا تَنتَصِرَانِ ٣٥ فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ٣٦ইয়া-মা‘শারাল জিন্নি ওয়ালইনসি ইনিসতাতা‘তুম আন তানফুযূ মিন আকতা-রিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ফানফুযূ লা তানফুযূনা ইল্লা বিসুলতা-ন ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন ইউরসালু ‘আলাইকুমা শুওয়া-যুম মিন না-রিঁ ওয়ানুহা-সুন ফালা তানতাসিরা-ন ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবা-ন(৩৩) হে জ্বিন ও মানুষ জাতি! তোমরা যদি আকাশ ও পৃথিবীর সীমানা অতিক্রম করতে পার তাহলে অতিক্রম কর, কিন্তু (আল্লাহর) প্রমাণপত্র ছাড়া তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না। (৩৪) অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে? (৩৫) (অতিক্রম করতে চাইলে) তোমাদের দিকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া ছেড়ে দেয়া হবে, তখন তোমরা তা প্রতিরোধ করতে পারবে না। (৩৬) অতএব (হে জ্বিন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘মাতকে অস্বীকার করবে?সূরা আর-রাহমান ৫৫:৩৩-৩৬

    সূরা হাশর ২১–২৪

    সাধারণ
    لَوْ أَنزَلْنَا هَٰذَا ٱلْقُرْءَانَ عَلَىٰ جَبَلٍۢ لَّرَأَيْتَهُۥ خَٰشِعًۭا مُّتَصَدِّعًۭا مِّنْ خَشْيَةِ ٱللَّهِ ۚ وَتِلْكَ ٱلْأَمْثَٰلُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ ٢١ هُوَ ٱللَّهُ ٱلَّذِى لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَٰلِمُ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ ۖ هُوَ ٱلرَّحْمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ ٢٢ هُوَ ٱللَّهُ ٱلَّذِى لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْمَلِكُ ٱلْقُدُّوسُ ٱلسَّلَٰمُ ٱلْمُؤْمِنُ ٱلْمُهَيْمِنُ ٱلْعَزِيزُ ٱلْجَبَّارُ ٱلْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ ٢٣ هُوَ ٱللَّهُ ٱلْخَٰلِقُ ٱلْبَارِئُ ٱلْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ ٱلْأَسْمَآءُ ٱلْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٢٤লাও আনযালনা হা-যাল কুরআ-না ‘আলা জাবালিল লারাআইতাহূ খা-শি‘আম মুতাসাদ্দি‘আম মিন খাশইয়াতিল্লা-হ ওয়াতিলকাল আমছা-লু নাদরিবুহা লিন্না-সি লা‘আল্লাহুম ইয়াতাফাক্কারূন হুওয়াল্লা-হুল লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশ্শাহা-দাতি হুওয়ার রাহমা-নুর রাহীম হুওয়াল্লা-হুল লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল মালিকুল কুদ্দূসুস সালা-মুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আযীযুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বির সুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা ইউশরিকূন হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুসাউইরু লাহুল আসমা-উল হুসনা ইউসাব্বিহু লাহূ মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম(২১) আমি যদি এ কুরআনকে পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তাহলে তুমি আল্লাহর ভয়ে তাকে বিনীত ও বিদীর্ণ দেখতে। এ সব উদাহরণ আমি মানুষের জন্য বর্ণনা করি যাতে তারা (নিজেদের ব্যাপারে) চিন্তা-ভাবনা করে। (২২) তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, অদৃশ্য ও দৃশের জ্ঞানের অধিকারী, পরম দয়াময়, পরম দয়ালু। (২৩) তিনিই আল্লাহ যিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তিনিই বাদশাহ, অতি পবিত্র, পূর্ণ শান্তিময়, নিরাপত্তা দানকারী, প্রতাপশালী, পর্যবেক্ষক, মহা পরাক্রমশালী, অপ্রতিরোধ্য, প্রকৃত গর্বের অধিকারী। তারা যাকে (তাঁর) শরীক করে তাত্থেকে তিনি পবিত্র, মহান। (২৪) তিনিই আল্লাহ সৃষ্টিকারী, উদ্ভাবনকারী, আকার আকৃতি প্রদানকারী। সমস্ত উত্তম নামের অধিকারী। আসমান ও যমীনে যা আছে সবই তাঁর গৌরব ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি প্রবল পরাক্রান্ত মহা প্রজ্ঞাবান।সূরা আল-হাশর ৫৯:২১-২৪

    সূরা কলম ৫১–৫২ — বদনজর

    বদনজর
    وَإِن يَكَادُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَٰرِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا۟ ٱلذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُۥ لَمَجْنُونٌۭ ٥١ وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌۭ لِّلْعَٰلَمِينَ ٥٢ওয়াইন ইয়াকা-দুল লাযীনা কাফারূ লাইউযলিকূনাকা বিআবসা-রিহিম লাম্মা সামি‘উয যিকরা ওয়ায়াকূলূনা ইন্নাহূ লামাজনূন ওয়ামা হুওয়া ইল্লা যিকরুল লিল‘আ-লামীন(৫১) কাফিররা যখন কুরআন শুনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়ে ফেলবে। আর তারা বলে, ‘‘সে তো অবশ্যই পাগল।’’ (৫২) অথচ এ কুরআন বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া অন্য কিছুই নয়।সূরা আল-কালাম ৬৮:৫১-৫২

    সূরা জিন ১–৯

    জিন ও ওয়াসওয়াসা
    قُلْ أُوحِىَ إِلَىَّ أَنَّهُ ٱسْتَمَعَ نَفَرٌۭ مِّنَ ٱلْجِنِّ فَقَالُوٓا۟ إِنَّا سَمِعْنَا قُرْءَانًا عَجَبًۭا ١ يَهْدِىٓ إِلَى ٱلرُّشْدِ فَـَٔامَنَّا بِهِۦ ۖ وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَآ أَحَدًۭا ٢ وَأَنَّهُۥ تَعَٰلَىٰ جَدُّ رَبِّنَا مَا ٱتَّخَذَ صَٰحِبَةًۭ وَلَا وَلَدًۭا ٣ وَأَنَّهُۥ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى ٱللَّهِ شَطَطًۭا ٤ وَأَنَّا ظَنَنَّآ أَن لَّن تَقُولَ ٱلْإِنسُ وَٱلْجِنُّ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًۭا ٥ وَأَنَّهُۥ كَانَ رِجَالٌۭ مِّنَ ٱلْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍۢ مِّنَ ٱلْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًۭا ٦ وَأَنَّهُمْ ظَنُّوا۟ كَمَا ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَبْعَثَ ٱللَّهُ أَحَدًۭا ٧ وَأَنَّا لَمَسْنَا ٱلسَّمَآءَ فَوَجَدْنَٰهَا مُلِئَتْ حَرَسًۭا شَدِيدًۭا وَشُهُبًۭا ٨ وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَٰعِدَ لِلسَّمْعِ ۖ فَمَن يَسْتَمِعِ ٱلْءَانَ يَجِدْ لَهُۥ شِهَابًۭا رَّصَدًۭا ٩কুল ঊহিয়া ইলাইয়্যা আন-নাহুসতামা‘আ নাফারুম মিনাল জিন্নি ফাকা-লূ ইন্না সামি‘না কুরআ-নান ‘আজাবা ইয়াহদী ইলার রুশদি ফাআ-মান্না বিহী ওয়ালান নুশরিকা বিরাব্বিনা- আহাদা ওয়াআন্নাহূ তা‘আ-লা জাদ্দু রাব্বিনা মাত তাখাযা সা-হিবাতাঁ ওয়ালা ওয়ালাদা ওয়াআন্নাহূ কা-না ইয়াকূলু সাফীহুনা ‘আলাল্লা-হি শাতাতা ওয়াআন্না যানান্না- আল লান তাকূলাল ইনসু ওয়ালজিন্নু ‘আলাল্লা-হি কাযিবা ওয়াআন্নাহূ কা-না রিজা-লুম মিনাল ইনসি ইয়া‘ঊযূনা বিরিজা-লিম মিনাল জিন্নি ফাযা-দূহুম রাহাকা ওয়াআন্নাহুম যান্নূ কামা যানানতুম আল লান ইয়াব‘আছাল্লা-হু আহাদা ওয়াআন্না লামাসনাস সামা-আ ফাওয়াজাদনা-হা মুলিআত হারাসান শাদীদাঁ ওয়াশুহুবা ওয়াআন্না কুন্না নাক‘উদু মিনহা মাকা-‘ইদা লিস্সাম‘ই ফামান ইয়াসতামি‘ইল আ-না ইয়াজিদ লাহূ শিহা-বার রাসাদা(১) বল, ‘‘আমার কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে, জিন্নদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে (কুরআন) শুনেছে অতঃপর তারা বলেছে ‘আমরা এক অতি আশ্চর্যজনক কুরআন শুনেছি (২) যা সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করে, যার কারণে আমরা তাতে ঈমান এনেছি, আমরা কক্ষনো কাউকে আমাদের প্রতিপালকের অংশীদার গণ্য করব না। (৩) আর আমাদের প্রতিপালকের মর্যাদা অতি উচ্চ, তিনি গ্রহণ করেননি কোন স্ত্রী আর কোন সন্তান। (৪) আর আমাদের মধ্যেকার নির্বোধেরা তাঁর সম্পর্কে সীমাতিরিক্ত কথাবার্তা বলত। (৫) আর আমরা ধারণা করতাম যে, মানুষ ও জ্বিন আল্লাহ সম্পর্কে কক্ষনো মিথ্যে কথা বলবে না। (৬) আরো এই যে, কতক মানুষ কতক জ্বিনের আশ্রয় নিত, এর দ্বারা তারা জ্বিনদের গর্ব অহঙ্কার বাড়িয়ে দিয়েছে। (৭) আরো এই যে (জ্বিনেরা বলেছিল) তোমরা (জ্বিনেরা) যেমন ধারণা করতে তেমনি মানুষেরা ধারণা করত যে, (মৃত্যুর পর) আল্লাহ কাউকে পুনরুত্থিত করবে না। (৮) আর আমরা আকাশের খবর নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমরা সেটাকে পেলাম কঠোর প্রহরী বেষ্টিত ও জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডে পরিপূর্ণ। (৯) আমরা (আগে) সংবাদ শুনার জন্য আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বসতাম, কিন্তু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে তার উপর নিক্ষেপের জন্য সে জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডকে লুকিয়ে থাকতে দেখে।সূরা আল-জিন ৭২:১-৯

    আরোগ্যের আয়াতসমূহ (আয়াতুশ শিফা)

    অসুস্থতা ও ব্যথা

    যে ছয়টি আয়াতে আরোগ্যের (শিফা) কথা এসেছে।

    قَٰتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ ٱللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍۢ مُّؤْمِنِينَ ١٤কা-তিলূহুম ইউ‘আয্যিবহুমুল্লা-হু বিআইদীকুম ওয়াইউখযিহিম ওয়ায়ানসুরকুম ‘আলাইহিম ওয়ায়াশফি সুদূরা কাওমিম মু’মিনীনতাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর, তোমাদের হাত দিয়েই আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন, তাদেরকে অপমানিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে সাহায্য করবেন আর মু’মিনদের প্রাণ ঠান্ডা করবেন।সূরা আত-তাওবা ৯:১৪
    يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدْ جَآءَتْكُم مَّوْعِظَةٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَآءٌۭ لِّمَا فِى ٱلصُّدُورِ وَهُدًۭى وَرَحْمَةٌۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ ٥٧ইয়া-আইয়্যুহান না-সু কাদ জা-আতকুম মাও‘ইযাতুম মির রাব্বিকুম ওয়াশিফা-উল লিমা ফিস সুদূরি ওয়াহুদাঁ ওয়ারাহমাতুল লিলমু’মিনীনহে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমাদের কাছে এসেছে নাসীহাত আর তোমাদের অন্তরে যা আছে তার নিরাময়, আর মু’মিনদের জন্য সঠিক পথের দিশা ও রহমাত।সূরা ইউনুস ১০:৫৭
    ثُمَّ كُلِى مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ فَٱسْلُكِى سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًۭا ۚ يَخْرُجُ مِنۢ بُطُونِهَا شَرَابٌۭ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَٰنُهُۥ فِيهِ شِفَآءٌۭ لِّلنَّاسِ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ ٦٩ছুম্মা কুলী মিন কুল্লিছ ছামারা-তি ফাসলুকী সুবুলা রাব্বিকি যুলুলা ইয়াখরুজু মিম বুতূনিহা শারা-বুম মুখতালিফুন আলওয়া-নুহূ ফীহি শিফা-উল লিন্না-স ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিঁ ইয়াতাফাক্কারূনঅতঃপর প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের (শিখানো) সহজ পদ্ধতি অনুসরণ কর। এর পেট থেকে রং-বেরং এর পানীয় বের হয়। এতে মানুষের জন্য আছে আরোগ্য। চিন্তাশীল মানুষের জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে।সূরা আন-নাহল ১৬:৬৯
    وَنُنَزِّلُ مِنَ ٱلْقُرْءَانِ مَا هُوَ شِفَآءٌۭ وَرَحْمَةٌۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ ٱلظَّٰلِمِينَ إِلَّا خَسَارًۭا ٨٢ওয়ানুনায্যিলু মিনাল কুরআ-নি মা হুওয়া শিফা-উঁ ওয়ারাহমাতুল লিলমু’মিনীনা ওয়ালা ইয়াযীদুয যা-লিমীনা ইল্লা খাসা-রাআমি কুরআন হতে (ক্রমশঃ) অবতীর্ণ করি যা মু’মিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমাত, কিন্তু তা যালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৮২
    وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ ٨٠ওয়াইযা মারিদতু ফাহুওয়া ইয়াশফীনআর আমি যখন পীড়িত হই তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন।সূরা আশ-শুআরা ২৬:৮০
    وَلَوْ جَعَلْنَٰهُ قُرْءَانًا أَعْجَمِيًّۭا لَّقَالُوا۟ لَوْلَا فُصِّلَتْ ءَايَٰتُهُۥٓ ۖ ءَا۬عْجَمِىٌّۭ وَعَرَبِىٌّۭ ۗ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ هُدًۭى وَشِفَآءٌۭ ۖ وَٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِىٓ ءَاذَانِهِمْ وَقْرٌۭ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍۭ بَعِيدٍۢ ٤٤ওয়ালাও জা‘আলনা-হু কুরআ-নান আ‘জামিয়্যাল লাকা-লূ লাওলা ফুস্সিলাত আ-য়া-তুহূ আ-‘জামিয়্যুঁ ওয়া‘আরাবিই কুল হুওয়া লিল্লাযীনা আ-মানূ হুদাঁ ওয়াশিফা-উঁ ওয়াল্লাযীনা লা ইউ’মিনূনা ফী আ-যা-নিহিম ওয়াকরুঁ ওয়াহুওয়া ‘আলাইহিম ‘আমা উলা-ইকা ইউনা-দাওনা মিম মাকা-নিম বা‘ঈদআমি যদি একে অনারব ভাষায় (অবতীর্ণ) কুরআন করতাম তাহলে তারা অবশ্যই বলত- এর আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হল না কেন? আশ্চর্য ব্যাপার! কিতাব হল অনারব দেশীয় আর শ্রোতারা হল আরবীভাষী। বল- যারা ঈমান আনে তাদের জন্য এ কুরআন সঠিক পথের দিশারী ও আরোগ্য (লাভের উপায়)। যারা ঈমান আনে না তাদের কানে আছে বধিরতা, আর এ কুরআন তাদের জন্য অন্ধত্ব। (যেন) বহু দূর থেকে তাদেরকে ডাকা হচ্ছে।সূরা হা-মীম আস-সাজদা ৪১:৪৪

    সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস

    সুরক্ষাবদনজরজাদুজিন ও ওয়াসওয়াসাসাধারণ ৩ বার

    প্রতিটি তিনবার; হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে বুলিয়ে দিন (বুখারী ৫০১৭, আবু দাউদ ৫০৮২)।

    قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ আল্লা-হুস সামাদ লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়াকুল লাহূ কুফুওয়ান আহাদ(১) বল, তিনি আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়, (২) আল্লাহ কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন, সবই তাঁর মুখাপেক্ষী, (৩) তিনি কাউকে জন্ম দেন না, আর তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। (৪) তাঁর সমকক্ষ কেউ নয়।সূরা আল-ইখলাস ১১২:১-৪
    قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ ١ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ٢ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ٣ وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ ٤ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ٥কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক মিন শার্রি মা খালাক ওয়ামিন শার্রি গা-সিকিন ইযা ওয়াকাব ওয়ামিন শার্রিন নাফ্ফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ ওয়ামিন শার্রি হা-সিদিন ইযা হাসাদ(১) বল, ‘আমি আশ্রয় চাচ্ছি সকাল বেলার রব-এর, (২) তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে, (৩) আর অন্ধকার রাতের অনিষ্ট হতে যখন তা আচ্ছন্ন হয়ে যায়। (৪) এবং (জাদু করার উদ্দেশ্যে) গিরায় ফুৎকারকারিণীদের অনিষ্ট হতে, (৫) এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে।সূরা আল-ফালাক ১১৩:১-৫
    قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ١ مَلِكِ ٱلنَّاسِ ٢ إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ ٣ مِن شَرِّ ٱلْوَسْوَاسِ ٱلْخَنَّاسِ ٤ ٱلَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ ٱلنَّاسِ ٥ مِنَ ٱلْجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ ٦কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন না-স মালিকিন না-স ইলা-হিন না-স মিন শার্রিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-স মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স(১) বল, ‘আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের, (২) মানুষের অধিপতির, (৩) মানুষের প্রকৃত ইলাহর, (৪) যে নিজেকে লুকিয়ে রেখে বার বার এসে কুমন্ত্রণা দেয় তার অনিষ্ট হতে, (৫) যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে (৬) (এই কুমন্ত্রণাদাতা হচ্ছে) জিন্নের মধ্য হতে এবং মানুষের মধ্য হতে।সূরা আন-নাস ১১৪:১-৬

    সুন্নাহর দোয়াসমূহ

    আরোগ্যের দোয়া — রাসূল ﷺ-এর রুকইয়াহ

    ৩ বার
    أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ، اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا

    আযহিবিল বা’সা রাব্বান নাস, ইশফি ওয়া আনতাশ শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।

    হে মানুষের রব! কষ্ট দূর করে দিন এবং আরোগ্য দিন—আপনিই আরোগ্যদাতা; আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।

    বুখারী ৫৬৭৫, মুসলিম ২১৯১

    জিবরীল (আ.)-এর রুকইয়াহ

    ৩ বার
    بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ

    বিসমিল্লাহি আরক্বীক, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ’যীক, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও ‘আইনি হাসিদ, আল্লাহু ইয়াশফীক, বিসমিল্লাহি আরক্বীক।

    আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি—সব কষ্টদায়ক জিনিস থেকে, প্রত্যেক (অনিষ্টকারী) প্রাণ বা হিংসুকের চোখের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দিন। আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি।

    মুসলিম ২১৮৬

    ব্যথার জায়গায় হাত রেখে

    ৭ বার
    بِسْمِ اللهِ (×٣)
    أَعُوذُ بِاللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ (×٧)

    বিসমিল্লাহ (৩ বার)। আ‘ঊযু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযির (৭ বার)।

    তিনবার “বিসমিল্লাহ” বলুন, তারপর সাতবার: “আমি যে কষ্ট পাচ্ছি ও যার আশঙ্কা করছি, তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ ও তাঁর কুদরতের আশ্রয় চাই।”

    মুসলিম ২২০২

    আরোগ্যের আরেকটি দোয়া

    اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ، مُذْهِبَ الْبَاسِ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شَافِيَ إِلَّا أَنْتَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا

    আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস, মুযহিবাল বা’স, ইশফি আনতাশ শাফী, লা শাফিয়া ইল্লা আনতা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।

    হে আল্লাহ, মানুষের রব, কষ্ট দূরকারী! আরোগ্য দিন—আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনি ছাড়া কোনো আরোগ্যদাতা নেই—এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ রাখে না।

    বুখারী ৫৭৪২

    রোগী দেখতে গিয়ে

    ৭ বার
    أَسْأَلُ اللهَ الْعَظِيمَ، رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، أَنْ يَشْفِيَكَ

    আসআলুল্লাহাল ‘আযীম, রাব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম, আঁই ইয়াশফিয়াক।

    আমি মহান আল্লাহর কাছে চাই, যিনি মহান আরশের রব—তিনি যেন আপনাকে আরোগ্য দেন।

    আবু দাউদ ৩১০৬, তিরমিযী ২০৮৩ (হাসান)

    ক্ষতের জন্য মাটি ও থুথুর রুকইয়াহ

    بِسْمِ اللهِ، تُرْبَةُ أَرْضِنَا، بِرِيقَةِ بَعْضِنَا، يُشْفَى سَقِيمُنَا، بِإِذْنِ رَبِّنَا

    বিসমিল্লাহ, তুরবাতু আরদিনা, বিরীক্বাতি বা‘দিনা, ইউশফা সাক্বীমুনা, বিইযনি রাব্বিনা।

    আল্লাহর নামে—আমাদের মাটি, আমাদের কারো থুথুর সাথে; আমাদের রবের অনুমতিতে আমাদের রোগী আরোগ্য লাভ করবে।

    বুখারী ৫৭৪৫, মুসলিম ২১৯৪

    শিশুদের সুরক্ষার দোয়া

    أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ

    উ‘ঈযুকা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাহ, মিন কুল্লি শাইত্বানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি ‘আইনিন লাম্মাহ।

    তোমাকে আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি—প্রত্যেক শয়তান ও বিষাক্ত প্রাণী থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর দৃষ্টি (বদনজর) থেকে।

    বুখারী ৩৩৭১

    যেকোনো জায়গায় আশ্রয় প্রার্থনা

    ৩ বার
    أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

    আ‘ঊযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব।

    আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয় চাই, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে।

    মুসলিম ২৭০৮, ২৭০৯

    সকাল-সন্ধ্যার সুরক্ষা

    ৩ বার
    بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

    বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামাই, ওয়া হুয়াস সামী‘উল ‘আলীম।

    আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

    আবু দাউদ ৫০৮৮, তিরমিযী ৩৩৮৮ (হাসান সহীহ)

    ভয়, দুঃস্বপ্ন ও ওয়াসওয়াসায়

    أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ، وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

    আ‘ঊযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহী ওয়া ‘ইক্বাবিহী, ওয়া শাররি ‘ইবাদিহী, ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বীনি ওয়া আঁই ইয়াহদুরূন।

    আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয় চাই—তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে এবং তারা আমার কাছে আসা থেকে।

    আবু দাউদ ৩৮৯৩, তিরমিযী ৩৫২৮ (হাসান)

    দুশ্চিন্তা ও বিপদে

    لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

    লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল ‘আযীমুল হালীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল ‘আরশিল কারীম।

    মহান ও সহনশীল আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; মহান আরশের রব আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আসমানসমূহের রব, জমিনের রব ও সম্মানিত আরশের রব আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

    বুখারী ৬৩৪৬, মুসলিম ২৭৩০

    কিছু ভালো লাগলে (বদনজর থেকে বাঁচতে)

    مَا شَاءَ اللهُ، لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ — اللَّهُمَّ بَارِكْ فِيهِ

    মা-শা-আল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ — আল্লাহুম্মা বারিক ফীহি।

    আল্লাহ যা চান তা-ই হয়; আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই — হে আল্লাহ, এতে বরকত দিন।

    সূরা কাহফ ১৮:৩৯; ইবনে মাজাহ ৩৫০৯

    রুকইয়াহ একটি মাধ্যম; আরোগ্যদাতা একমাত্র আল্লাহ। যেকোনো অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।