মূল লেখায় যান
১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামাজ পড়ার পূর্ণ নিয়ম — ধাপে ধাপে

ছবিতে নামাজ — পুরুষ ও মহিলা

নিচের গাইডে নামাজের প্রতিটি অবস্থান ছবিসহ দেখানো হয়েছে। উপরের ট্যাব থেকে পুরুষ বা মহিলা বেছে নিন; প্রতিটি ধাপে কী বলতে হয় তা আরবি, উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া আছে।

১

মনে মনে নিয়ত করুন

পবিত্র জায়গায় কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ান, দুই পায়ের মাঝে চার আঙুল পরিমাণ ফাঁক রাখুন। নিয়ত মানে মনের সংকল্প — কোন নামাজ পড়ছেন তা মনে স্থির করা; মুখে বলা জরুরি নয়।

নারীদের জন্য: নারীরা দুই পা মিলিয়ে দাঁড়াবেন; মুখমণ্ডল, দুই হাত ও (হানাফি মতে) পা ছাড়া পুরো শরীর ঢাকা থাকবে।

اللّٰهُ أَكْبَرُ

আল্লা-হু আকবার

আল্লাহ সবচেয়ে মহান।

২

হাত তুলে তাকবীরে তাহরীমা বলুন

পুরুষেরা দুই হাত এমনভাবে তুলবেন যেন বুড়ো আঙুল কানের লতি বরাবর হয়, হাতের তালু কিবলামুখী ও আঙুলগুলো স্বাভাবিকভাবে ফাঁক থাকবে — এরপর “আল্লাহু আকবার” বলবেন। এখান থেকেই নামাজ শুরু।

নারীদের জন্য: নারীরা হাত শুধু কাঁধ পর্যন্ত তুলবেন এবং কব্জি ও হাতের বাকি অংশ ঢাকা রাখবেন।

اللّٰهُ أَكْبَرُ

আল্লা-হু আকবার

আল্লাহ সবচেয়ে মহান।

৩

হাত বেঁধে কিরাত পড়ুন

পুরুষেরা ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নিচে বাঁধবেন; ডান হাতের বুড়ো আঙুল ও কনিষ্ঠা দিয়ে বাম কব্জি ধরবেন। দৃষ্টি থাকবে সিজদার জায়গায়। প্রথমে সানা, এরপর সূরা ফাতিহা, এরপর অন্য একটি সূরা (ফরজের প্রথম দুই রাকাতে) পড়ুন।

নারীদের জন্য: নারীরা বুকের উপর হাত বাঁধবেন — ডান হাত বাম হাতের উপর, কব্জি না ধরে।

সানা

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ

সুবহা-নাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবা-রাকাসমুকা, ওয়া তা‘আ-লা জাদ্দুকা, ওয়া লা- ইলা-হা গাইরুক

হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

৪

“আল্লাহু আকবার” বলে রুকুতে যান

পুরুষেরা এমনভাবে ঝুঁকবেন যেন পিঠ ও মাথা সমান হয়; আঙুল ফাঁক করে হাঁটু আঁকড়ে ধরবেন, দুই হাত পাঁজর থেকে আলাদা রাখবেন, পা সোজা রাখবেন এবং দৃষ্টি থাকবে পায়ের উপর। কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ পড়ুন।

নারীদের জন্য: নারীরা শুধু হাঁটু পর্যন্ত হাত পৌঁছানোর মতো করে ঝুঁকবেন, আঙুল মিলিয়ে রাখবেন, হাঁটু না চেপে ধরে হাত রাখবেন এবং দুই হাত শরীরের সাথে মিলিয়ে রাখবেন।

তিন, পাঁচ বা সাতবার

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ

সুবহা-না রাব্বিয়াল ‘আযীম

আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

৫

রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ান (কাওমা)

দুই হাত শরীরের পাশে রেখে পুরোপুরি সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং সিজদায় যাওয়ার আগে এক মুহূর্ত স্থির থাকুন। এই স্থিরতা নামাজেরই অংশ, তাড়াহুড়ো করার বিষয় নয়।

নারীদের জন্য: একইভাবে, তবে দুই হাত শরীরের কাছাকাছি রাখবেন।

প্রথমটি উঠতে উঠতে, দ্বিতীয়টি দাঁড়িয়ে

سَمِعَ اللّٰهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ۝ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ ۝ রাব্বানা- লাকাল হামদ

যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন ۝ হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা আপনারই।

৬

“আল্লাহু আকবার” বলে সিজদা করুন

প্রথমে হাঁটু, এরপর দুই হাত, এরপর নাক ও কপাল মাটিতে রাখুন। সাতটি অঙ্গ মাটিতে লাগবে: নাকসহ কপাল, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু ও দুই পায়ের আঙুল — আঙুলগুলো কিবলামুখী থাকবে। পুরুষেরা দুই বাহু মাটি থেকে ও পাঁজর থেকে আলাদা রাখবেন এবং পেট উরু থেকে দূরে রাখবেন।

নারীদের জন্য: নারীরা শরীর গুটিয়ে রাখবেন — দুই বাহু মাটিতে বিছিয়ে দেবেন, কনুই পাঁজরের সাথে মিলিয়ে রাখবেন এবং পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখবেন।

দুই সিজদাতেই তিন, পাঁচ বা সাতবার

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى

সুবহা-না রাব্বিয়াল আ‘লা-

আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

৭

দুই সিজদার মাঝে বসুন (জালসা)

“আল্লাহু আকবার” বলে ধীরে সোজা হয়ে বসুন — বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসবেন, ডান পা খাড়া রেখে আঙুল কিবলামুখী রাখবেন — এবং দুই হাত উরুর উপর রাখবেন। এরপর “আল্লাহু আকবার” বলে একইভাবে দ্বিতীয় সিজদা করুন।

নারীদের জন্য: নারীরা দুই পা ডান দিকে বের করে বাম নিতম্বের উপর বসবেন; আঙুল মিলিয়ে দুই হাত উরুর উপর রাখবেন।

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي

আল্লা-হুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী

হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন।

৮

বৈঠকে বসে তাশাহহুদ পড়ুন

প্রতি দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদার পর জালসার মতো করে বসে তাশাহহুদ পড়ুন। “লা- ইলা-হা” বলার সময় ডান হাতের বুড়ো ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে গোল করে শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করুন এবং “ইল্লাল্লা-হু” বলার সময় নামিয়ে ফেলুন।

নারীদের জন্য: নারীরা দুই পা ডান দিকে বের করে, উরু মিলিয়ে বসবেন এবং দুই হাত উরুর উপর এমনভাবে রাখবেন যেন আঙুলের ডগা হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছায়।

শেষ বৈঠকে এরপর দরূদ ও দোয়া পড়ুন

التَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللّٰهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস সালাওয়া-তু ওয়াত্ তাইয়্যিবা-তু, আসসালা-মু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ, আসসালা-মু ‘আলাইনা- ওয়া ‘আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস সা-লিহীন, আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহ

সকল সম্মান, সকল ইবাদত ও সকল পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের প্রতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

৯

সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন

ডান দিকে এমনভাবে মাথা ফেরান যেন পেছন থেকে গাল দেখা যায় এবং সালাম বলুন; এরপর বাম দিকে ফিরিয়ে আবার সালাম বলুন। এতেই নামাজ শেষ হলো।

নারীদের জন্য: একইভাবে, শুধু মাথা ফেরাবেন — কাঁধ স্থির থাকবে।

প্রথমে ডানে, এরপর বামে

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ

আসসালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা-হ

আপনাদের উপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

এখানে বাংলাদেশে প্রচলিত হানাফি মাযহাব অনুসারে নিয়ম দেখানো হয়েছে। অন্য মাযহাবে কিছু ছোট পার্থক্য আছে, প্রতিটিই গ্রহণযোগ্য; আপনি যাঁদের কাছে শিখছেন তাঁদের অনুসরণ করুন।

নিচে দুই রাকাত নামাজের পূর্ণ নিয়ম দেওয়া হলো। তিন বা চার রাকাতের নামাজে দ্বিতীয় রাকাতের পর প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে যেতে হয়, আর শেষ রাকাতের পর শেষ বৈঠক করতে হয়।

প্রথম রাকাত

  1. নিয়ত ও তাকবীরে তাহরীমা: অজু করে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ান, মনে মনে নামাজের নিয়ত করুন। দুই হাত কান পর্যন্ত (নারীরা কাঁধ পর্যন্ত) তুলে বলুন:
    اللّٰهُ أَكْبَرُআল্লা-হু আকবারআল্লাহ সবচেয়ে মহান
  2. হাত বাঁধা ও সানা: ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নিচে (নারীরা বুকের উপর) হাত বাঁধুন। দৃষ্টি সিজদার জায়গায় রাখুন এবং সানা পড়ুন:
    سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَসুবহা-নাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবা-রাকাসমুকা, ওয়া তা‘আ-লা জাদ্দুকা, ওয়া লা- ইলা-হা গাইরুকহে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ এবং আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
  3. তাআউয ও তাসমিয়া:
    أَعُوذُ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِআ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীমবিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
    بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِবিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীমপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
  4. সূরা ফাতিহা পড়ুন এবং শেষে নিচু স্বরে “আমীন” বলুন:
    بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম আলহামদু লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন আর-রাহমা-নির রাহীম মা-লিকি ইয়াওমিদ দীন ইয়্যা-কা না‘বুদু ওয়াইয়্যা-কা নাসতা‘ঈন ইহদিনাস সিরা-তাল মুসতাকীম সিরা-তাল লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম গাইরিল মাগদূবি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ দা-ল্লীন(১) (আরম্ভ করছি) পরম করুণাময় অসীম দয়াময় আল্লাহর নামে। (২) যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। (৩) যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। (৪) যিনি প্রতিফল দিবসের মালিক। (৫) আমরা কেবল তোমারই ‘ইবাদাত করি এবং কেবলমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। (৬) আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন কর ও তার প্রতি অটুট থাকার তাওফীক দান কর। (৭) তাদের পথ, যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ। তাদের পথ, যারা গযবপ্রাপ্ত (ইয়াহূদী) ও পথভ্রষ্ট (খ্রিস্টান) নয়।সূরা আল-ফাতিহা ১:১-৭
  5. সূরা মেলানো: ফাতিহার পর কুরআনের যেকোনো একটি সূরা বা কমপক্ষে তিনটি ছোট আয়াত পড়ুন। যেমন সূরা ইখলাস:
    بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِقُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ আল্লা-হুস সামাদ লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়াকুল লাহূ কুফুওয়ান আহাদ(১) বল, তিনি আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়, (২) আল্লাহ কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন, সবই তাঁর মুখাপেক্ষী, (৩) তিনি কাউকে জন্ম দেন না, আর তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। (৪) তাঁর সমকক্ষ কেউ নয়।সূরা আল-ইখলাস ১১২:১-৪
  6. রুকু: “আল্লাহু আকবার” বলে রুকুতে যান — পিঠ ও মাথা সমান রেখে দুই হাতে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন — এবং কমপক্ষে তিনবার বলুন:
    سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِসুবহা-না রাব্বিয়াল ‘আযীমআমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
  7. কাওমা: রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলুন:
    سَمِعَ اللّٰهُ لِمَنْ حَمِدَهُসামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহযে আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ তা শোনেন।
    সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলুন:
    رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُরাব্বানা- লাকাল হামদহে আমাদের রব! সকল প্রশংসা আপনারই।
  8. প্রথম সিজদা: “আল্লাহু আকবার” বলে সিজদায় যান — প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর নাক ও কপাল মাটিতে রাখুন; আঙুলগুলো কিবলামুখী থাকবে। কমপক্ষে তিনবার বলুন:
    سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَىসুবহা-না রাব্বিয়াল আ‘লা-আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
  9. জালসা: “আল্লাহু আকবার” বলে সোজা হয়ে বসুন এবং বলতে পারেন:
    اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيআল্লা-হুম্মাগফিরলীহে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।
  10. দ্বিতীয় সিজদা: “আল্লাহু আকবার” বলে আবার সিজদা করুন এবং আগের মতো তিনবার তাসবীহ পড়ুন। এরপর “আল্লাহু আকবার” বলে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান।

দ্বিতীয় রাকাত

দ্বিতীয় রাকাতে সানা ও তাআউয পড়তে হয় না। “বিসমিল্লাহ” বলে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়ুন, তারপর আগের মতো রুকু, কাওমা ও দুই সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদার পর বসে পড়ুন।

বৈঠক (কা‘দা)

  1. তাশাহহুদ: বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসুন, ডান পা খাড়া রাখুন (নারীরা দুই পা ডান দিকে বের করে বসবেন), হাত দুটি উরুর উপর রাখুন এবং পড়ুন:
    التَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللّٰهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُআত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস সালাওয়া-তু ওয়াত্ তাইয়্যিবা-তু, আসসালা-মু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ, আসসালা-মু ‘আলাইনা- ওয়া ‘আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস সা-লিহীন, আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহসকল সম্মান, সকল ইবাদত ও সকল পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের প্রতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
    “আশহাদু আল লা- ইলা-হা” বলার সময় ডান হাতের শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করুন।
  2. দরূদে ইবরাহীম:
    اللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌআল্লা-হুম্মা সাল্লি ‘আলা- মুহাম্মাদিঁও ওয়া ‘আলা- আ-লি মুহাম্মাদ, কামা- সাল্লাইতা ‘আলা- ইবরা-হীমা ওয়া ‘আলা- আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক ‘আলা- মুহাম্মাদিঁও ওয়া ‘আলা- আ-লি মুহাম্মাদ, কামা- বা-রাকতা ‘আলা- ইবরা-হীমা ওয়া ‘আলা- আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদহে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (আ.) ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (আ.) ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
  3. দোয়া মাসূরা:
    اللّٰهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُআল্লা-হুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাসীরাঁও ওয়া লা- ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা- আনতা, ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ‘ইনদিকা ওয়ারহামনী, ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীমহে আল্লাহ! আমি নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। অতএব আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন; নিশ্চয়ই আপনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
    (বুখারী ৮৩৪, মুসলিম ২৭০৫)
  4. সালাম: প্রথমে ডান দিকে, তারপর বাম দিকে মুখ ফিরিয়ে বলুন:
    السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللّٰهِআসসালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা-হআপনাদের উপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

তিন ও চার রাকাতের নামাজ

  • দ্বিতীয় রাকাতের পর প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়ে “আল্লাহু আকবার” বলে দাঁড়িয়ে যান।
  • ফরজ নামাজের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ুন; সুন্নাত, নফল ও বিতরে ফাতিহার সাথে সূরাও মেলাতে হবে।
  • শেষ রাকাতের পর শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া পড়ে সালাম ফেরান।
জামাতে ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে মুক্তাদি (হানাফি মাযহাবে) সানা পড়ে চুপ থাকবেন — ফাতিহা ও সূরা পড়বেন না; ইমামের সাথে সাথে রুকু-সিজদা করবেন এবং তাসবীহ, তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া নিজে পড়বেন।