মূল লেখায় যান
১ নভেম্বর ২০২৬ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
الجزء ٩

পারা ৯

১৫৯ আয়াত
۞ قَالَ ٱلْمَلَأُ ٱلَّذِينَ ٱسْتَكْبَرُوا۟ مِن قَوْمِهِۦ لَنُخْرِجَنَّكَ يَٰشُعَيْبُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَكَ مِن قَرْيَتِنَآ أَوْ لَتَعُودُنَّ فِى مِلَّتِنَا ۚ قَالَ أَوَلَوْ كُنَّا كَٰرِهِينَ ٨٨
কা-লাল মালাউল লাযীনাসতাকবারূ মিন কাওমিহী লানুখরিজান্নাকা ইয়া-শু‘আইবু ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ মা‘আকা মিন কারইয়াতিনা- আও লাতা‘ঊদুন্না ফী মিল্লাতিনা কা-লা আওয়ালাও কুন্না কা-রিহীন
তার জাতির উদ্ধত সর্দারগণ বলল, ‘ওহে শু‘আয়ব! আমরা তোমাকে আর তোমার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেবই, অথবা তুমি আমাদের ধর্মবিশ্বাসে অবশ্যই ফিরে আসবে।’ সে বলল, ‘আমরা যদি তাতে রাজী না হই তবুও?’
قَدِ ٱفْتَرَيْنَا عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا إِنْ عُدْنَا فِى مِلَّتِكُم بَعْدَ إِذْ نَجَّىٰنَا ٱللَّهُ مِنْهَا ۚ وَمَا يَكُونُ لَنَآ أَن نَّعُودَ فِيهَآ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّنَا ۚ وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَىْءٍ عِلْمًا ۚ عَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلْنَا ۚ رَبَّنَا ٱفْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِٱلْحَقِّ وَأَنتَ خَيْرُ ٱلْفَٰتِحِينَ ٨٩
কাদিফতারাইনা ‘আলাল্লা-হি কাযিবান ইন ‘উদনা ফী মিল্লাতিকুম বা‘দা ইয নাজ্জা-নাল্লা-হু মিনহা ওয়ামা ইয়াকূনু লানা- আন না‘ঊদা ফীহা- ইল্লা- আন ইয়াশা-আল্লা-হু রাব্বুনা ওয়াসি‘আ রাব্বুনা কুল্লা শাইইন ‘ইলমা ‘আলাল্লা-হি তাওয়াক্কালনা রাব্বানাফতাহ বাইনানা ওয়াবাইনা কাওমিনা বিলহাক্কি ওয়াআনতা খাইরুল ফা-তিহীন
আল্লাহ যখন আমাদেরকে তোমাদের ধর্মবিশ্বাস থেকে রক্ষা করেছেন, তখন যদি আমরা তাতে ফিরে যাই, তাহলে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে ফেলব। আমরা তাতে ফিরে যেতে পারি না আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত। প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে আমাদের প্রতিপালকের জ্ঞান পরিব্যাপ্ত, আমরা আল্লাহরই প্রতি নির্ভর করি। হে আমাদের প্রতিপালক! ‘তুমি আমাদের আর আমাদের জাতির মধ্যে সঠিকভাবে ফায়সালা করে দাও আর তুমি হলে সর্বোত্তম মীমাংসাকারী।’
وَقَالَ ٱلْمَلَأُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن قَوْمِهِۦ لَئِنِ ٱتَّبَعْتُمْ شُعَيْبًا إِنَّكُمْ إِذًۭا لَّخَٰسِرُونَ ٩٠
ওয়াকা-লাল মালাউল লাযীনা কাফারূ মিন কাওমিহী লাইনিত তাবা‘তুম শু‘আইবান ইন্নাকুম ইযাল লাখা-সিরূন
তার জাতির যারা কুফরী করেছিল সেই প্রধানগণ বলল, ‘তোমরা যদি শু‘আয়বের কথা মেনে নাও তাহলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’
فَأَخَذَتْهُمُ ٱلرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا۟ فِى دَارِهِمْ جَٰثِمِينَ ٩١
ফাআখাযাতহুমুর রাজফাতু ফাআসবাহূ ফী দা-রিহিম জা-ছিমীন
অতঃপর ভূমিকম্প তাদেরকে হঠাৎ আঘাত হানল আর তারা তাদের ঘরবাড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।
ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ شُعَيْبًۭا كَأَن لَّمْ يَغْنَوْا۟ فِيهَا ۚ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ شُعَيْبًۭا كَانُوا۟ هُمُ ٱلْخَٰسِرِينَ ٩٢
আল্লাযীনা কায্যাবূ শু‘আইবান কাআল লাম ইয়াগনাও ফীহা আল্লাযীনা কায্যাবূ শু‘আইবান কা-নূ হুমুল খা-সিরীন
যেন শু‘আয়বকে অস্বীকারকারীরা সেখানে কোনদিন বসবাস করেনি। যারা শু‘আয়বকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল।
فَتَوَلَّىٰ عَنْهُمْ وَقَالَ يَٰقَوْمِ لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسَٰلَٰتِ رَبِّى وَنَصَحْتُ لَكُمْ ۖ فَكَيْفَ ءَاسَىٰ عَلَىٰ قَوْمٍۢ كَٰفِرِينَ ٩٣
ফাতাওয়াল্লা ‘আনহুম ওয়াকা-লা ইয়া-কাওমি লাকাদ আবলাগতুকুম রিসা-লা-তি রাব্বী ওয়ানাসাহতু লাকুম ফাকাইফা আ-সা ‘আলা কাওমিন কা-ফিরীন
সে তাদেরকে ত্যাগ করল আর বলল, ‘হে আমার জাতির লোকেরা! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের প্রেরিত বাণী পৌঁছে দিয়েছি, আর তোমাদেরকে সদুপদেশ দিয়েছি, কাজেই আমি কাফির জাতির জন্য কী করে আক্ষেপ করতে পারি।’
وَمَآ أَرْسَلْنَا فِى قَرْيَةٍۢ مِّن نَّبِىٍّ إِلَّآ أَخَذْنَآ أَهْلَهَا بِٱلْبَأْسَآءِ وَٱلضَّرَّآءِ لَعَلَّهُمْ يَضَّرَّعُونَ ٩٤
ওয়ামা- আরসালনা ফী কারইয়াতিম মিন নাবিয়্যিন ইল্লা- আখাযনা- আহলাহা বিলবা’সা-ই ওয়াদ্দার্রা-ই লা‘আল্লাহুম ইয়াদ্দার্রা‘ঊন
আমি কোন জনপদে এমন কোন নাবীই পাঠাইনি যেখানকার অধিবাসীদেরকে অভাব-অনটন আর দুঃখ-কষ্ট কশাঘাত করেনি যাতে তারা নম্রতা ও কাতরতা প্রকাশ করে।
ثُمَّ بَدَّلْنَا مَكَانَ ٱلسَّيِّئَةِ ٱلْحَسَنَةَ حَتَّىٰ عَفَوا۟ وَّقَالُوا۟ قَدْ مَسَّ ءَابَآءَنَا ٱلضَّرَّآءُ وَٱلسَّرَّآءُ فَأَخَذْنَٰهُم بَغْتَةًۭ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ٩٥
ছুম্মা বাদ্দালনা মাকা-নাস সাইয়্যিআতিল হাসানাতা হাত্তা ‘আফাও ওয়াকা-লূ কাদ মাস্সা আ-বা-আনাদ দার্রা-উ ওয়াস্সার্রা-উ ফাআখাযনা-হুম বাগতাতাঁ ওয়াহুম লা ইয়াশ‘উরূন
অতঃপর আমি দূরাবস্থাকে সচ্ছলতা দিয়ে বদলে দিলাম আর শেষ পর্যন্ত তারা প্রাচুর্যে বেড়ে গেল আর বলল, ‘আমাদের পিতৃপুরুষের উপরও এ রকম সুখ-দুঃখের দিন আসত।’ অতঃপর আমি তাদেরকে হঠাৎ পাকড়াও করলাম অথচ তারা টের করতেও পারল না।
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ ٱلْقُرَىٰٓ ءَامَنُوا۟ وَٱتَّقَوْا۟ لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَٰتٍۢ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ وَلَٰكِن كَذَّبُوا۟ فَأَخَذْنَٰهُم بِمَا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ٩٦
ওয়ালাও আন-না আহলাল কুরা- আ-মানূ ওয়াত্তাকাও লাফাতাহনা ‘আলাইহিম বারাকা-তিম মিনাস সামা-ই ওয়ালআরদি ওয়ালা-কিন কায্যাবূ ফাআখাযনা-হুম বিমা কা-নূ ইয়াকসিবূন
জনপদগুলোর লোকেরা যদি ঈমান আনত আর তাক্বওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি তাদের জন্য আসমান আর যমীনের কল্যাণ উন্মুক্ত করে দিতাম কিন্তু তারা (সত্যকে) প্রত্যাখ্যান করল। কাজেই তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করলাম।
أَفَأَمِنَ أَهْلُ ٱلْقُرَىٰٓ أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا بَيَٰتًۭا وَهُمْ نَآئِمُونَ ٩٧
আফাআমিনা আহলুল কুরা- আন ইয়া’তিয়াহুম বা’সুনা বায়া-তাঁ ওয়াহুম না-ইমূন
জনপদের লোকেরা কি নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করছে যে আমার শাস্তি তাদের উপর পতিত হবে না রাতের বেলা যখন তারা ঘুমিয়ে থাকবে?
أَوَأَمِنَ أَهْلُ ٱلْقُرَىٰٓ أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا ضُحًۭى وَهُمْ يَلْعَبُونَ ٩٨
আওয়াআমিনা আহলুল কুরা- আন ইয়া’তিয়াহুম বা’সুনা দুহাঁ ওয়াহুম ইয়াল‘আবূন
অথবা জনপদের লোকেরা কি নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করছে যে আমার শাস্তি তাদের উপর প্রকাশ্য দিবালোকে আসবে না যখন তারা খেলাধূলায় মত্ত থাকবে?
أَفَأَمِنُوا۟ مَكْرَ ٱللَّهِ ۚ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلْقَوْمُ ٱلْخَٰسِرُونَ ٩٩
আফাআমিনূ মাকরাল্লা-হ ফালা ইয়া’মানু মাকরাল্লা-হি ইল্লাল কাওমুল খা-সিরূন
তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকে নির্ভয় হয়ে গেছে? নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর কৌশল হতে কেউ নির্ভয় হতে পারে না।
أَوَلَمْ يَهْدِ لِلَّذِينَ يَرِثُونَ ٱلْأَرْضَ مِنۢ بَعْدِ أَهْلِهَآ أَن لَّوْ نَشَآءُ أَصَبْنَٰهُم بِذُنُوبِهِمْ ۚ وَنَطْبَعُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ ١٠٠
আওয়ালাম ইয়াহদি লিল্লাযীনা ইয়ারিছূনাল আরদা মিম বা‘দি আহলিহা- আল লাও নাশা-উ আসাবনা-হুম বিযুনূবিহিম ওয়ানাতবা‘উ ‘আলা কুলূবিহিম ফাহুম লা ইয়াসমা‘ঊন
যারা কোন দেশের উত্তরাধিকার লাভ করেছে সেখানকার (আগের) অধিবাসীদের পর, তারা কি এ শিক্ষা লাভ করে না যে, আমি তাদেরকে তাদের পাপের কারণে পাকড়াও করতে পারি আর তদের অন্তরে সীল লাগিয়ে দিতে পারি যাতে তারা কিছুই শুনবে না?
تِلْكَ ٱلْقُرَىٰ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنۢبَآئِهَا ۚ وَلَقَدْ جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ فَمَا كَانُوا۟ لِيُؤْمِنُوا۟ بِمَا كَذَّبُوا۟ مِن قَبْلُ ۚ كَذَٰلِكَ يَطْبَعُ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِ ٱلْكَٰفِرِينَ ١٠١
তিলকাল কুরা নাকুস্সু ‘আলাইকা মিন আমবা-ইহা ওয়ালাকাদ জা-আতহুম রুসুলুহুম বিলবাইয়্যিনা-তি ফামা কা-নূ লিইউ’মিনূ বিমা কায্যাবূ মিন কাবল কাযা-লিকা ইয়াতবা‘উল্লা-হু ‘আলা কুলূবিল কা-ফিরীন
এসব জনপদের কিছু বিবরণ তোমাকে জানালাম। তাদের কাছে তো তাদের রসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিল, কিন্তু যেহেতু তারা আগেভাগেই প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছিল এজন্য আর ঈমান আনতে প্রস্তুত ছিল না। এভাবে আল্লাহ কাফিরদের অন্তরে সীল লাগিয়ে দেন।
وَمَا وَجَدْنَا لِأَكْثَرِهِم مِّنْ عَهْدٍۢ ۖ وَإِن وَجَدْنَآ أَكْثَرَهُمْ لَفَٰسِقِينَ ١٠٢
ওয়ামা ওয়াজাদনা লিআকছারিহিম মিন ‘আহদিঁ ওয়াইন ওয়াজাদনা- আকছারাহুম লাফা-সিকীন
তাদের অধিকাংশকেই আমি প্রতিশ্রুতি পালনকারী পাইনি, বরং অধিকাংশকে ফাসিকই পেয়েছি।
ثُمَّ بَعَثْنَا مِنۢ بَعْدِهِم مُّوسَىٰ بِـَٔايَٰتِنَآ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَإِي۟هِۦ فَظَلَمُوا۟ بِهَا ۖ فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُفْسِدِينَ ١٠٣
ছুম্মা বা‘আছনা মিম বা‘দিহিম মূসা বিআ-য়া-তিনা- ইলা ফির‘আওনা ওয়ামালাইহী ফাযালামূ বিহা ফানযুর কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুফসিদীন
তাদের পরে আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী সহকারে ফির‘আওন ও তার প্রধানদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে সবের প্রতি তারা অন্যায় আচরণ প্রদর্শন করে। লক্ষ্য কর, তারপর বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল!
وَقَالَ مُوسَىٰ يَٰفِرْعَوْنُ إِنِّى رَسُولٌۭ مِّن رَّبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٠٤
ওয়াকা-লা মূসা ইয়া-ফির‘আওনু ইন্নী রাসূলুম মির রাব্বিল ‘আ-লামীন
মূসা বলেছিল, হে ফির‘আওন! আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত রসূল।
حَقِيقٌ عَلَىٰٓ أَن لَّآ أَقُولَ عَلَى ٱللَّهِ إِلَّا ٱلْحَقَّ ۚ قَدْ جِئْتُكُم بِبَيِّنَةٍۢ مِّن رَّبِّكُمْ فَأَرْسِلْ مَعِىَ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ١٠٥
হাকীকুন ‘আলা- আল লা- আকূলা ‘আলাল্লা-হি ইল্লাল হাক্ক কাদ জি’তুকুম বিবাইয়্যিনাতিম মির রাব্বিকুম ফাআরসিল মা‘ইয়া বানী ইসরা-ঈল
আমার জন্য অবশ্য করণীয় এই যে, আমি প্রকৃত সত্য ছাড়া আল্লাহর সম্বন্ধে কিছু বলি না, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে স্পষ্ট প্রমাণ সহকারে তোমাদের কাছে এসেছি। কাজেই বানী ইসরাঈলকে আমার সঙ্গে পাঠিয়ে দাও।
قَالَ إِن كُنتَ جِئْتَ بِـَٔايَةٍۢ فَأْتِ بِهَآ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ١٠٦
কা-লা ইন কুনতা জি’তা বিআ-য়াতিন ফা’তি বিহা- ইন কুনতা মিনাস সা-দিকীন
ফিরআউন বলল, নিদর্শন নিয়েই তুমি যদি এসে থাক, তাহলে সত্যবাদী হলে তুমি তা পেশ কর।
فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ ثُعْبَانٌۭ مُّبِينٌۭ ١٠٧
ফাআলকা ‘আসা-হু ফাইযা হিয়া ছু‘বা-নুম মুবীন
সে তার লাঠি নিক্ষেপ করল আর তখন তা একটা প্রকাশ্য অজগর হয়ে গেল।
وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنَّٰظِرِينَ ١٠٨
ওয়ানাযা‘আ ইয়াদাহূ ফাইযা হিয়া বাইদা-উ লিন্না-যিরীন
আর সে তার হাত (বগল থেকে) টেনে বের করল, তখন তা দর্শকদের দৃষ্টিতে সাদা উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিল।
قَالَ ٱلْمَلَأُ مِن قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٌۭ ١٠٩
কা-লাল মালাউ মিন কাওমি ফির‘আওনা ইন্না হা-যা লাসা-হিরুন ‘আলীম
ফির‘আওন গোষ্ঠীর প্রধানরা বলল, নিশ্চয় সে বিজ্ঞ যাদুকর।’
يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُمْ ۖ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ ١١٠
ইউরীদু আন ইউখরিজাকুম মিন আরদিকুম ফামা-যা তা’মুরূন
‘সে চায় তোমাদেরকে বের করে দিতে তোমাদের দেশ থেকে। এখন তোমাদের পরামর্শ কী?’
قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ ١١١
কা-লূ আরজিহ ওয়াআখা-হু ওয়াআরসিল ফিল মাদা-ইনি হা-শিরীন
তারা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দাও, আর নগরে নগরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দাও’।
يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَٰحِرٍ عَلِيمٍۢ ١١٢
ইয়া’তূকা বিকুল্লি সা-হিরিন ‘আলীম
তারা তোমার কাছে সব বড় বড় যাদুকরকে নিয়ে আসবে।
وَجَآءَ ٱلسَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوٓا۟ إِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ ٱلْغَٰلِبِينَ ١١٣
ওয়াজা-আস সাহারাতু ফির‘আওনা কা-লূ ইন্না লানা লাআজরান ইন কুন্না নাহনুল গা-লিবীন
যাদুকররা ফিরআউনের নিকট এসে বলল, আমরা যদি বিজয়ী হই, তবে আমাদের জন্য পুরস্কার আছে তো?
قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ لَمِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ ١١٤
কা-লা না‘আম ওয়াইন্নাকুম লামিনাল মুকার্রাবীন
সে বলল, হাঁ, তোমরা অবশ্যই (আমার) নৈকট্যলাভকারীদের মধ্যে শামিল হবে।
قَالُوا۟ يَٰمُوسَىٰٓ إِمَّآ أَن تُلْقِىَ وَإِمَّآ أَن نَّكُونَ نَحْنُ ٱلْمُلْقِينَ ١١٥
কা-লূ ইয়া-মূসা- ইম্মা- আন তুলকিয়া ওয়াইম্মা- আন নাকূনা নাহনুল মুলকীন
তারা বলল, ‘হে মূসা! তুমিই কি (প্রথমে যাদু) ছুঁড়বে, না আমরাই ছুঁড়ব?’
قَالَ أَلْقُوا۟ ۖ فَلَمَّآ أَلْقَوْا۟ سَحَرُوٓا۟ أَعْيُنَ ٱلنَّاسِ وَٱسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَآءُو بِسِحْرٍ عَظِيمٍۢ ١١٦
কা-লা আলকূ ফালাম্মা- আলকাও সাহারূ আ‘ইউনান না-সি ওয়াসতারহাবূহুম ওয়াজা-ঊ বিসিহরিন ‘আযীম
সে বলল, ‘তোমরাই ছুঁড়’। যখন তারা বান ছুঁড়ল তখন লোকজনের চোখ যাদুগ্রস্ত হয়ে গেল, তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। তারা বড়ই সাংঘাতিক এক যাদু দেখাল।
۞ وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ ۖ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ ١١٧
ওয়াআওহাইনা- ইলা মূসা- আন আলকি ‘আসা-কা ফাইযা হিয়া তালকাফু মা ইয়া’ফিকূন
আমি মূসার কাছে ওয়াহী করলাম, ‘তোমার লাঠি ছুঁড়ে দাও’। তখন তা তাদের অলীক বস্তুগুলোকে গ্রাস করতে শুরু করল।
فَوَقَعَ ٱلْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١١٨
ফাওয়াকা‘আল হাক্কু ওয়াবাতালা মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
প্রকৃত সত্য প্রকাশ হয়ে গেল, তারা যা সাজিয়েছিল তা নিস্ফল হয়ে গেল।
فَغُلِبُوا۟ هُنَالِكَ وَٱنقَلَبُوا۟ صَٰغِرِينَ ١١٩
ফাগুলিবূ হুনা-লিকা ওয়ানকালাবূ সা-গিরীন
তারা সেখানে পরাজিত হল আর লাঞ্ছিত অবস্থায় ফিরে গেল।
وَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَ ١٢٠
ওয়াউলকিয়াস সাহারাতু সা-জিদীন
আর যাদুকররা সাজদায় লুটিয়ে পড়ল।
قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٢١
কা-লূ আ-মান্না বিরাব্বিল ‘আ-লামীন
তারা বলল, ‘আমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।
رَبِّ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ ١٢٢
রাব্বি মূসা ওয়াহা-রূন
মূসা আর হারূনের প্রতিপালকের প্রতি।’
قَالَ فِرْعَوْنُ ءَامَنتُم بِهِۦ قَبْلَ أَنْ ءَاذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَمَكْرٌۭ مَّكَرْتُمُوهُ فِى ٱلْمَدِينَةِ لِتُخْرِجُوا۟ مِنْهَآ أَهْلَهَا ۖ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ١٢٣
কা-লা ফির‘আওনু আ-মানতুম বিহী কাবলা আন আ-যানা লাকুম ইন্না হা-যা লামাকরুম মাকারতুমূহু ফিল মাদীনাতি লিতুখরিজূ মিনহা- আহলাহা ফাসাওফা তা‘লামূন
ফির‘আওন বলল, ‘আমি হুকুম দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনল? অবশ্যই এটা তোমাদের ষড়যন্ত্র যেটা নগরে বসে তোমরা পাকিয়েছ, এর বাসিন্দাদের বহিস্কৃত করার উদ্দেশে। এর পরিণাম শীঘ্রই টের পাবে।
لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَٰفٍۢ ثُمَّ لَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ ١٢٤
লাউকাত্তি‘আন্না আইদিয়াকুম ওয়াআরজুলাকুম মিন খিলা-ফিন ছুম্মা লাউসাল্লিবান্নাকুম আজমা‘ঈন
তোমাদের হাত পা গুলোকে বিপরীত দিক থেকে অবশ্যই আমি কেটে দেব, তারপর তোমাদের সব্বাইকে শূলে চড়াব।
قَالُوٓا۟ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ ١٢٥
কা-লূ ইন্না- ইলা রাব্বিনা মুনকালিবূন
তারা বলল, আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন করব।
وَمَا تَنقِمُ مِنَّآ إِلَّآ أَنْ ءَامَنَّا بِـَٔايَٰتِ رَبِّنَا لَمَّا جَآءَتْنَا ۚ رَبَّنَآ أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًۭا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ ١٢٦
ওয়ামা তানকিমু মিন্না- ইল্লা- আন আ-মান্না বিআ-য়া-তি রাব্বিনা লাম্মা জা-আতনা রাব্বানা- আফরিগ ‘আলাইনা সাবরাঁ ওয়াতাওয়াফ্ফানা মুসলিমীন
তুমি আমাদের উপর প্রতিশোধ নিচ্ছ শুধু এ কারণে যে, আমাদের কাছে যখন আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শন এসেছে তখন আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য ও দৃঢ়তা অবলম্বনের গুণে অভিষিক্ত কর আর মুসলমান হিসেবে আমাদের মৃত্যু দান কর।
وَقَالَ ٱلْمَلَأُ مِن قَوْمِ فِرْعَوْنَ أَتَذَرُ مُوسَىٰ وَقَوْمَهُۥ لِيُفْسِدُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَءَالِهَتَكَ ۚ قَالَ سَنُقَتِّلُ أَبْنَآءَهُمْ وَنَسْتَحْىِۦ نِسَآءَهُمْ وَإِنَّا فَوْقَهُمْ قَٰهِرُونَ ١٢٧
ওয়াকা-লাল মালাউ মিন কাওমি ফির‘আওনা আতাযারু মূসা ওয়াকাওমাহূ লিইউফসিদূ ফিল আরদি ওয়ায়াযারাকা ওয়াআ-লিহাতাক কা-লা সানুকাত্তিলু আবনা-আহুম ওয়ানাসতাহইয়ী নিসা-আহুম ওয়াইন্না ফাওকাহুম কা-হিরূন
ফির‘আওন গোষ্ঠীর সরদারগণ বলল, ‘আপনি কি মূসা আর তার জাতির লোকেদেরকে যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য ছেড়ে দেবেন আর দেবেন আপনাকে আর আপনার মা‘বূদদেরকে বর্জন করতে?’ সে বলল, ‘আমি তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করব আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব, আমরা তাদের উপর অপ্রতিরোধ্য।’
قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ ٱسْتَعِينُوا۟ بِٱللَّهِ وَٱصْبِرُوٓا۟ ۖ إِنَّ ٱلْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦ ۖ وَٱلْعَٰقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ ١٢٨
কা-লা মূসা লিকাওমিহিসতা‘ঈনূ বিল্লা-হি ওয়াসবিরূ ইন্নাল আরদা লিল্লা-হি ইউরিছুহা মান ইয়াশা-উ মিন ‘ইবা-দিহী ওয়াল‘আ-কিবাতু লিলমুত্তাকীন
মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, ‘তোমরা আল্লাহর সাহায্য কামনা কর আর ধৈর্য অবলম্বন কর, যমীনের মালিক হলেন আল্লাহ, তিনি তাঁর বান্দাহদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছে করবেন তার উত্তরাধিকারী বানাবেন, কল্যাণময় পরিণাম হচ্ছে মুত্তাকীদের জন্য।’
قَالُوٓا۟ أُوذِينَا مِن قَبْلِ أَن تَأْتِيَنَا وَمِنۢ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا ۚ قَالَ عَسَىٰ رَبُّكُمْ أَن يُهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَيَسْتَخْلِفَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ ١٢٩
কা-লূ ঊযীনা মিন কাবলি আন তা’তিয়ানা ওয়ামিম বা‘দি মা জি’তানা কা-লা ‘আসা রাব্বুকুম আন ইউহলিকা ‘আদুওয়াকুম ওয়ায়াসতাখলিফাকুম ফিল আরদি ফায়ানযুরা কাইফা তা‘মালূন
তারা বলল, ‘আমাদের নিকট তোমার আসার পূর্বেও আমাদেরকে জ্বালাতন করা হয়েছে আর তোমার আসার পরেও।’ সে বলল, ‘সত্বর তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের দুশমনকে ধ্বংস করবেন আর তোমাদেরকে দেশে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, অতঃপর তিনি দেখবেন তোমরা কেমন ‘আমাল কর।’
وَلَقَدْ أَخَذْنَآ ءَالَ فِرْعَوْنَ بِٱلسِّنِينَ وَنَقْصٍۢ مِّنَ ٱلثَّمَرَٰتِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ ١٣٠
ওয়ালাকাদ আখাযনা- আ-লা ফির‘আওনা বিস্সিনীনা ওয়ানাকসিম মিনাছ ছামারা-তি লা‘আল্লাহুম ইয়ায্যাক্কারূন
আমি ফির‘আওনী গোষ্ঠীকে দুর্ভিক্ষ আর ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি দিয়ে পাকড়াও করেছিলাম যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
فَإِذَا جَآءَتْهُمُ ٱلْحَسَنَةُ قَالُوا۟ لَنَا هَٰذِهِۦ ۖ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌۭ يَطَّيَّرُوا۟ بِمُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓ ۗ أَلَآ إِنَّمَا طَٰٓئِرُهُمْ عِندَ ٱللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ١٣١
ফাইযা জা-আতহুমুল হাসানাতু কা-লূ লানা হা-যিহী ওয়াইন তুসিবহুম সাইয়্যিআতুঁ ইয়াত্তাইয়্যারূ বিমূসা ওয়ামাম মা‘আহ আলা- ইন্নামা তা-ইরুহুম ‘ইনদাল্লা-হি ওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লা ইয়া‘লামূন
তারা সুদিনের মুখ দেখলে বলত, ‘এটাই তো আমাদের প্রাপ্য।’ আর যখন তারা দুর্দিনে পতিত হত তখন মূসা আর তার সঙ্গী-সাথীদেরকে অলক্ষুণে বলে দোষারোপ করত। প্রকৃতপক্ষে তাদের মন্দভাগ্য তো আল্লাহর হাতে নিবদ্ধ, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
وَقَالُوا۟ مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِۦ مِنْ ءَايَةٍۢ لِّتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ ١٣٢
ওয়াকা-লূ মাহমা তা’তিনা বিহী মিন আ-য়াতিল লিতাসহারানা বিহা ফামা নাহনু লাকা বিমু’মিনীন
তারা বলল, ‘আমাদেরকে যাদুগ্রস্ত করার জন্য তুমি যে কোন নিদর্শনই নিয়ে আস না কেন, আমরা কিছুতেই তোমাতে বিশ্বাস করব না।’
فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ ٱلطُّوفَانَ وَٱلْجَرَادَ وَٱلْقُمَّلَ وَٱلضَّفَادِعَ وَٱلدَّمَ ءَايَٰتٍۢ مُّفَصَّلَٰتٍۢ فَٱسْتَكْبَرُوا۟ وَكَانُوا۟ قَوْمًۭا مُّجْرِمِينَ ١٣٣
ফাআরসালনা ‘আলাইহিমুত তূফা-না ওয়ালজারা-দা ওয়ালকুম্মালা ওয়াদ্দাফা-দি‘আ ওয়াদ্দামা আ-য়া-তিম মুফাস্সালা-তিন ফাসতাকবারূ ওয়াকা-নূ কাওমাম মুজরিমীন
অতঃপর আমি তাদের উপর প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্তের বিপদ পাঠিয়েছিলাম সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে, কিন্তু তারা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করল। তারা ছিল এক অপরাধী জাতি।
وَلَمَّا وَقَعَ عَلَيْهِمُ ٱلرِّجْزُ قَالُوا۟ يَٰمُوسَى ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِندَكَ ۖ لَئِن كَشَفْتَ عَنَّا ٱلرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ١٣٤
ওয়ালাম্মা ওয়াকা‘আ ‘আলাইহিমুর রিজযু কা-লূ ইয়া-মূসাদ‘উ লানা রাব্বাকা বিমা ‘আহিদা ‘ইনদাকা লাইন কাশাফতা ‘আন্নার রিজযা লানু’মিনান্না লাকা ওয়ালানুরসিলান্না মা‘আকা বানী ইসরা-ঈল
যখন তাদের উপর কোন বালা-মুসিবত আসত তখন তারা বলত, ‘হে মূসা! তোমার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য প্রার্থনা জানাও যে মতে তিনি তোমার সাথে অঙ্গীকার করেছেন, যদি আমাদের থেকে বিপদ দূর করে দাও তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাতে ঈমান আনব আর বানী ইসরাঈলকে অবশ্যই তোমার সাথে পাঠিয়ে দেব।’
فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ ٱلرِّجْزَ إِلَىٰٓ أَجَلٍ هُم بَٰلِغُوهُ إِذَا هُمْ يَنكُثُونَ ١٣٥
ফালাম্মা কাশাফনা ‘আনহুমুর রিজযা ইলা- আজালিন হুম বা-লিগূহু ইযা হুম ইয়ানকুছূন
অতঃপর যখন তাদের উপর থেকে বিপদ সরিয়ে দিতাম একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যা তাদেরকে পূর্ণ করতে হত, তখন তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করত।
فَٱنتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَٰهُمْ فِى ٱلْيَمِّ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا وَكَانُوا۟ عَنْهَا غَٰفِلِينَ ١٣٦
ফানতাকামনা মিনহুম ফাআগরাকনা-হুম ফিল ইয়াম্মি বিআন্নাহুম কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা ওয়াকা-নূ ‘আনহা গা-ফিলীন
তখন আমি তাদের উপর প্রতিশোধ নিলাম আর তাদেরকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মারলাম কেননা তারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছিল আর এ ব্যাপারে তারা ছিল চিন্তা-ভাবনাহীন।
وَأَوْرَثْنَا ٱلْقَوْمَ ٱلَّذِينَ كَانُوا۟ يُسْتَضْعَفُونَ مَشَٰرِقَ ٱلْأَرْضِ وَمَغَٰرِبَهَا ٱلَّتِى بَٰرَكْنَا فِيهَا ۖ وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ ٱلْحُسْنَىٰ عَلَىٰ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ بِمَا صَبَرُوا۟ ۖ وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ يَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُۥ وَمَا كَانُوا۟ يَعْرِشُونَ ١٣٧
ওয়াআওরাছনাল কাওমাল লাযীনা কা-নূ ইউসতাদ‘আফূনা মাশা-রিকাল আরদি ওয়ামাগা-রিবাহাল লাতী বা-রাকনা ফীহা ওয়াতাম্মাত কালিমাতু রাব্বিকাল হুসনা ‘আলা বানী ইসরা-ঈলা বিমা সাবারূ ওয়াদাম্মারনা মা কা-না ইয়াসনা‘উ ফির‘আওনু ওয়াকাওমুহূ ওয়ামা কা-নূ ইয়া‘রিশূন
আর আমি দুর্বল করে রাখা লোকেদেরকে সেই যমীনের পূর্বের আর পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিলাম যাতে আমি কল্যাণ নিহিত রেখেছি। এভাবে বানী ইসরাঈলের ব্যাপারে তাদের ধৈর্য ধারণের কারণে তোমার প্রতিপালকের কল্যাণময় অঙ্গীকার পূর্ণ হল আর ফির‘আওন ও তার লোকজনের গৌরবময় কাজ ও সুন্দর প্রাসাদগুলোকে ধ্বংস করে দিলাম।
وَجَٰوَزْنَا بِبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱلْبَحْرَ فَأَتَوْا۟ عَلَىٰ قَوْمٍۢ يَعْكُفُونَ عَلَىٰٓ أَصْنَامٍۢ لَّهُمْ ۚ قَالُوا۟ يَٰمُوسَى ٱجْعَل لَّنَآ إِلَٰهًۭا كَمَا لَهُمْ ءَالِهَةٌۭ ۚ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌۭ تَجْهَلُونَ ١٣٨
ওয়াজা-ওয়াযনা বিবানী ইসরা-ঈলাল বাহরা ফাআতাও ‘আলা কাওমিঁ ইয়া‘কুফূনা ‘আলা- আসনা-মিল লাহুম কা-লূ ইয়া-মূসাজ‘আল লানা- ইলা-হান কামা লাহুম আ-লিহাহ কা-লা ইন্নাকুম কাওমুন তাজহালূন
বানী ইসরাঈলকে আমি সমুদ্র পার করিয়ে দিলাম, অতঃপর তারা এমন এক জাতির নিকট এলো যারা ছিল প্রতিমা পূজারী। মূসার লোকজন বলল, হে মূসা! আমাদের জন্যও ‘কোন দেবতা বানিয়ে দাও যেমন তাদের দেবতা আছে। মূসা বলল, তোমরা হলে এমন এক সম্প্রদায় যারা মূর্খদের মতো আচরণ করে।’
إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ مُتَبَّرٌۭ مَّا هُمْ فِيهِ وَبَٰطِلٌۭ مَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١٣٩
ইন্না হা-উলা-ই মুতাব্বারুম মা হুম ফীহি ওয়াবা-তিলুম মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
এসব লোক যাতে মত্ত আছে তা ধ্বংস হয়ে যাবে আর তারা যে সব কাজ করছে তা সব বাতিল।
قَالَ أَغَيْرَ ٱللَّهِ أَبْغِيكُمْ إِلَٰهًۭا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى ٱلْعَٰلَمِينَ ١٤٠
কা-লা আগাইরাল্লা-হি আবগীকুম ইলা-হাঁ ওয়াহুওয়া ফাদ্দালাকুম ‘আলাল ‘আ-লামীন
সে বলল, ‘আমি কি আল্লাহ ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য ইলাহ খুঁজব অথচ তিনি তোমাদেরকে বিশ্বজগতের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন?’
وَإِذْ أَنجَيْنَٰكُم مِّنْ ءَالِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوٓءَ ٱلْعَذَابِ ۖ يُقَتِّلُونَ أَبْنَآءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَآءَكُمْ ۚ وَفِى ذَٰلِكُم بَلَآءٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌۭ ١٤١
ওয়াইয আনজাইনা-কুম মিন আ-লি ফির‘আওনা ইয়াসূমূনাকুম সূআল ‘আযা-বি ইউকাত্তিলূনা আবনা-আকুম ওয়ায়াসতাহইউনা নিসা-আকুম ওয়াফী যা-লিকুম বালা-উম মির রাব্বিকুম ‘আযীম
স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে ফির‘আওনী গোষ্ঠী থেকে রক্ষা করেছি যারা তোমাদেরকে কঠিন আযাবে ডুবিয়ে রেখেছিল, যারা তোমাদের ছেলে সন্তানগুলোকে হত্যা করছিল আর তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখছিল, এতে তোমাদের জন্য ছিল তোমাদের রবেবর পক্ষ হতে এক কঠিন পরীক্ষা।
۞ وَوَٰعَدْنَا مُوسَىٰ ثَلَٰثِينَ لَيْلَةًۭ وَأَتْمَمْنَٰهَا بِعَشْرٍۢ فَتَمَّ مِيقَٰتُ رَبِّهِۦٓ أَرْبَعِينَ لَيْلَةًۭ ۚ وَقَالَ مُوسَىٰ لِأَخِيهِ هَٰرُونَ ٱخْلُفْنِى فِى قَوْمِى وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ ٱلْمُفْسِدِينَ ١٤٢
ওয়াওয়া-‘আদনা মূসা ছালা-ছীনা লাইলাতাঁ ওয়াআতমামনা-হা বি‘আশরিন ফাতাম্মা মীকা-তু রাব্বিহী আরবা‘ঈনা লাইলাহ ওয়াকা-লা মূসা লিআখীহি হা-রূনাখলুফনী ফী কাওমী ওয়াআসলিহ ওয়ালা তাত্তাবি‘ সাবীলাল মুফসিদীন
আমি মূসার জন্য (সিনাই পর্বতের উপর) ত্রিশ রাত্রি নির্ধারণ করলাম। অতঃপর আরো দশ (বাড়িয়ে) দিয়ে (সেই সময়) পূর্ণ করলাম। এভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত চল্লিশ রাত্রি পূর্ণ হল। মূসা তার ভাই হারূনকে বলল, ‘আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের জন্য তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব কর, সংশোধন কর, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অনুসরণ করো না।’
وَلَمَّا جَآءَ مُوسَىٰ لِمِيقَٰتِنَا وَكَلَّمَهُۥ رَبُّهُۥ قَالَ رَبِّ أَرِنِىٓ أَنظُرْ إِلَيْكَ ۚ قَالَ لَن تَرَىٰنِى وَلَٰكِنِ ٱنظُرْ إِلَى ٱلْجَبَلِ فَإِنِ ٱسْتَقَرَّ مَكَانَهُۥ فَسَوْفَ تَرَىٰنِى ۚ فَلَمَّا تَجَلَّىٰ رَبُّهُۥ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُۥ دَكًّۭا وَخَرَّ مُوسَىٰ صَعِقًۭا ۚ فَلَمَّآ أَفَاقَ قَالَ سُبْحَٰنَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا۠ أَوَّلُ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٤٣
ওয়ালাম্মা জা-আ মূসা লিমীকা-তিনা ওয়াকাল্লামাহূ রাব্বুহূ কা-লা রাব্বি আরিনী আনযুর ইলাইক কা-লা লান তারা-নী ওয়ালা-কিনিনযুর ইলাল জাবালি ফাইনিসতাকার্রা মাকা-নাহূ ফাসাওফা তারা-নী ফালাম্মা তাজাল্লা রাব্বুহূ লিলজাবালি জা‘আলাহূ দাক্কাঁ ওয়াখার্রা মূসা সা‘ইকা ফালাম্মা- আফা-কা কা-লা সুবহা-নাকা তুবতু ইলাইকা ওয়াআনা আওয়ালুল মু’মিনীন
মূসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে আসল, আর তার রব্ব তার সঙ্গে কথা বললেন, তখন সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখা দাও, আমি তোমাকে দেখব’। তিনি বললেন, ‘তুমি আমাকে কক্ষনো দেখতে পাবে না, বরং তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও, যদি তা নিজ স্থানে স্থির থাকতে পারে তাহলে তুমি আমাকে দেখতে পাবে।’ অতঃপর তার প্রতিপালক যখন পাহাড়ে নিজ জ্যোতি বিচ্ছুরিত করলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল আর মূসা চৈতন্য হারিয়ে পড়ে গেল। যখন চেতনা ফিরে পেল, তখন সে বলল, ‘পবিত্র তোমার সত্ত্বা, আমি অনুশোচনা ভরে তোমার পানেই ফিরে এলাম, আর আমি প্রথম ঈমান আনছি।’
قَالَ يَٰمُوسَىٰٓ إِنِّى ٱصْطَفَيْتُكَ عَلَى ٱلنَّاسِ بِرِسَٰلَٰتِى وَبِكَلَٰمِى فَخُذْ مَآ ءَاتَيْتُكَ وَكُن مِّنَ ٱلشَّٰكِرِينَ ١٤٤
কা-লা ইয়া-মূসা- ইন্নিসতাফাইতুকা ‘আলান না-সি বিরিসা-লা-তী ওয়াবিকালা-মী ফাখুয মা- আ-তাইতুকা ওয়াকুম মিনাশ শা-কিরীন
তিনি বললেন, ‘হে মূসা! আমি আমার রিসালাত (যা তোমাকে দিয়েছি) ও আমার বাক্য (যা তোমার সঙ্গে বলেছিলাম তার) দ্বারা সকল লোকের মধ্য থেকে তোমাকে নির্বাচিত করেছি। কাজেই যা তোমাকে দিয়েছি তা গ্রহণ কর আর শোকর আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
وَكَتَبْنَا لَهُۥ فِى ٱلْأَلْوَاحِ مِن كُلِّ شَىْءٍۢ مَّوْعِظَةًۭ وَتَفْصِيلًۭا لِّكُلِّ شَىْءٍۢ فَخُذْهَا بِقُوَّةٍۢ وَأْمُرْ قَوْمَكَ يَأْخُذُوا۟ بِأَحْسَنِهَا ۚ سَأُو۟رِيكُمْ دَارَ ٱلْفَٰسِقِينَ ١٤٥
ওয়াকাতাবনা লাহূ ফিল আলওয়া-হি মিন কুল্লি শাইইম মাও‘ইযাতাঁ ওয়াতাফসীলাল লিকুল্লি শাইইন ফাখুযহা বিকুওয়াতিঁ ওয়া’মুর কাওমাকা ইয়া’খুযূ বিআহসানিহা সাউরীকুম দা-রাল ফা-সিকীন
আমি তার জন্য ফলকে লিখে দিলাম সকল বিষয় সংক্রান্ত নাসীহাত আর সকল বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা (আর তাকে বললাম) এগুলো শক্ত হাতে ধর, তোমার লোকজনকে আদেশ দাও এগুলো উত্তম পন্থায় মান্য করে চলতে। শীঘ্রই আমি তোমাদেরকে (আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে ধ্বংসস্তুপে পরিণত) ফাসিকদের বাসস্থান দেখাব।
سَأَصْرِفُ عَنْ ءَايَٰتِىَ ٱلَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِى ٱلْأَرْضِ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ وَإِن يَرَوْا۟ كُلَّ ءَايَةٍۢ لَّا يُؤْمِنُوا۟ بِهَا وَإِن يَرَوْا۟ سَبِيلَ ٱلرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًۭا وَإِن يَرَوْا۟ سَبِيلَ ٱلْغَىِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًۭا ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا وَكَانُوا۟ عَنْهَا غَٰفِلِينَ ١٤٦
সাআসরিফু ‘আন আ-য়া-তিয়াল লাযীনা ইয়াতাকাব্বারূনা ফিল আরদি বিগাইরিল হাক্কি ওয়াইন ইয়ারাও কুল্লা আ-য়াতিল লা ইউ’মিনূ বিহা ওয়াইন ইয়ারাও সাবীলার রুশদি লা ইয়াত্তাখিযূহু সাবীলাঁ ওয়াইন ইয়ারাও সাবীলাল গাইয়্যি ইয়াত্তাখিযূহু সাবীলা যা-লিকা বিআন্নাহুম কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা ওয়াকা-নূ ‘আনহা গা-ফিলীন
যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহঙ্কার করে বেড়ায় আমি শীঘ্রই তাদের দৃষ্টিকে আমার নিদর্শন হতে ফিরিয়ে দেব। তারা আমার নিদর্শন দেখলেও তাতে বিশ্বাস করবে না। তারা সত্যপথ দেখলেও তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করবে না। তারা বক্র পথ দেখলে তাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করবে। তার কারণ হল তারা আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়েছে আর এগুলোর ব্যাপারে তারা ছিল একেবারে চিন্তা ভাবনাহীন।
وَٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا وَلِقَآءِ ٱلْءَاخِرَةِ حَبِطَتْ أَعْمَٰلُهُمْ ۚ هَلْ يُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١٤٧
ওয়াল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা ওয়ালিকা-ইল আ-খিরাতি হাবিতাত আ‘মা-লুহুম হাল ইউজযাওনা ইল্লা মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
যারা আমার নিদর্শনগুলোকে আর আখেরাতের সাক্ষাৎকে মিথ্যে জেনে অস্বীকার করে তাদের ‘আমালগুলো নিস্ফল। তারা যা করত সে অনুযায়ী প্রতিফল ছাড়া তারা কী আর আশা করতে পারে?
وَٱتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَىٰ مِنۢ بَعْدِهِۦ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلًۭا جَسَدًۭا لَّهُۥ خُوَارٌ ۚ أَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّهُۥ لَا يُكَلِّمُهُمْ وَلَا يَهْدِيهِمْ سَبِيلًا ۘ ٱتَّخَذُوهُ وَكَانُوا۟ ظَٰلِمِينَ ١٤٨
ওয়াত্তাখাযা কাওমু মূসা মিম বা‘দিহী মিন হুলিয়্যিহিম ‘ইজলান জাসাদাল লাহূ খুওয়া-র আলাম ইয়ারাও আন-নাহূ লা ইউকাল্লিমুহুম ওয়ালা ইয়াহদীহিম সাবীলা ইত্তাখাযূহু ওয়াকা-নূ যা-লিমীন
মূসার অনুপস্থিতিতে তার জাতির লোকেরা তাদের অলঙ্কারের সাহায্যে গো-বৎসের একটা অবয়ব তৈরি করল যা গরুর ন্যায় ‘হাম্বা’ আওয়াজ করত। তারা কি দেখল না যে তা তাদের সঙ্গে কথা বলে না, আর তাদেরকে পথও দেখায় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাকে মা‘বূদ হিসেবে গ্রহণ করল। তারা ছিল যালিম।
وَلَمَّا سُقِطَ فِىٓ أَيْدِيهِمْ وَرَأَوْا۟ أَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوا۟ قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلْخَٰسِرِينَ ١٤٩
ওয়ালাম্মা সুকিতা ফী আইদীহিম ওয়ারাআও আন-নাহুম কাদ দাল্লূ কা-লূ লাইল লাম ইয়ারহামনা রাব্বুনা ওয়ায়াগফির লানা লানাকূনান্না মিনাল খা-সিরীন
অতঃপর যখন তারা অনুতপ্ত হল আর বুঝতে পারল যে তারা পথহারা হয়ে গেছে, তারা বলল, ‘আমাদের প্রতিপালক যদি আমাদের উপর দয়া না করেন আর আমাদেরকে ক্ষমা না করেন তাহলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’
وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَىٰٓ إِلَىٰ قَوْمِهِۦ غَضْبَٰنَ أَسِفًۭا قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُونِى مِنۢ بَعْدِىٓ ۖ أَعَجِلْتُمْ أَمْرَ رَبِّكُمْ ۖ وَأَلْقَى ٱلْأَلْوَاحَ وَأَخَذَ بِرَأْسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُۥٓ إِلَيْهِ ۚ قَالَ ٱبْنَ أُمَّ إِنَّ ٱلْقَوْمَ ٱسْتَضْعَفُونِى وَكَادُوا۟ يَقْتُلُونَنِى فَلَا تُشْمِتْ بِىَ ٱلْأَعْدَآءَ وَلَا تَجْعَلْنِى مَعَ ٱلْقَوْمِ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٥٠
ওয়ালাম্মা রাজা‘আ মূসা- ইলা কাওমিহী গাদবা-না আসিফান কা-লা বি’সামা খালাফতুমূনী মিম বা‘দী আ‘আজিলতুম আমরা রাব্বিকুম ওয়াআলকাল আলওয়া-হা ওয়াআখাযা বিরা’সি আখীহি ইয়াজুর্রুহূ ইলাইহ কা-লাবনা উম্মা ইন্নাল কাওমাসতাদ‘আফূনী ওয়াকা-দূ ইয়াকতুলূনানী ফালা তুশমিত বিয়াল আ‘দা-আ ওয়ালা তাজ‘আলনী মা‘আল কাওমিয যা-লিমীন
তারপর মূসা যখন ক্ষোভ আর ক্রোধ নিয়ে তার লোকজনের কাছে ফিরে এল তখন বলল, ‘আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা কত নিকৃষ্টভাবেই না আমার প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছ! তোমাদের প্রতিপালকের নির্দেশ লাভের আগেই তোমরা তাড়াহুড়ো করে বসলে?’ অতঃপর সে ফলকগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিল, আর নিজ ভাইয়ের মাথার চুল ধরে নিজের কাছে টেনে নিয়ে আসল। হারূন বলল, ‘হে আমার মায়ের পেটের ভাই! লোকেরা আমাকে দুর্বল করে দিয়েছিল আর আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল, কাজেই আমার ব্যাপারে দুশমনদেরকে আনন্দিত হওয়ার সুযোগ দিও না আর আমাকে যালিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গণ্য করো না।’
قَالَ رَبِّ ٱغْفِرْ لِى وَلِأَخِى وَأَدْخِلْنَا فِى رَحْمَتِكَ ۖ وَأَنتَ أَرْحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ ١٥١
কা-লা রাব্বিগফির লী ওয়ালিআখী ওয়াআদখিলনা ফী রাহমাতিকা ওয়াআনতা আরহামুর রা-হিমীন
মূসা বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আর আমার ভাইকে ক্ষমা কর, আর আমাদেরকে তোমার রহমতের মধ্যে দাখিল কর, তুমিই সর্বাধিক বড় দয়াবান।’
إِنَّ ٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُوا۟ ٱلْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌۭ مِّن رَّبِّهِمْ وَذِلَّةٌۭ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُفْتَرِينَ ١٥٢
ইন্নাল লাযীনাত তাখাযুল ‘ইজলা সায়ানা-লুহুম গাদাবুম মির রাব্বিহিম ওয়াযিল্লাতুন ফিল হায়া-তিদ দুনইয়া ওয়াকাযা-লিকা নাজযিল মুফতারীন
যারা গো-বৎসকে (মা‘বূদ হিসেবে) গ্রহণ করেছে, পার্থিব জীবনে তাদের উপর তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রাগ ও লাঞ্ছনা পতিত হবে। মিথ্যা রচনাকারীদেরকে আমরা এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।
وَٱلَّذِينَ عَمِلُوا۟ ٱلسَّيِّـَٔاتِ ثُمَّ تَابُوا۟ مِنۢ بَعْدِهَا وَءَامَنُوٓا۟ إِنَّ رَبَّكَ مِنۢ بَعْدِهَا لَغَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١٥٣
ওয়াল্লাযীনা ‘আমিলুস সাইয়্যিআ-তি ছুম্মা তা-বূ মিম বা‘দিহা ওয়াআ-মানূ ইন্না রাব্বাকা মিম বা‘দিহা লাগাফূরুর রাহীম
আর যারা অসৎ কাজ করে, অতঃপর তাওবাহ করে আর ঈমান আনে তাহলে এ সবের পর তোমার প্রতিপালক অবশ্যই বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَلَمَّا سَكَتَ عَن مُّوسَى ٱلْغَضَبُ أَخَذَ ٱلْأَلْوَاحَ ۖ وَفِى نُسْخَتِهَا هُدًۭى وَرَحْمَةٌۭ لِّلَّذِينَ هُمْ لِرَبِّهِمْ يَرْهَبُونَ ١٥٤
ওয়ালাম্মা সাকাতা ‘আম মূসাল গাদাবু আখাযাল আলওয়া-হা ওয়াফী নুসখাতিহা হুদাঁ ওয়ারাহমাতুল লিল্লাযীনা হুম লিরাব্বিহিম ইয়ারহাবূন
মূসার ক্রোধ যখন ঠান্ডা হল তখন সে ফলকগুলো উঠিয়ে নিল, সেগুলোর লেখায় ছিল ঐসব লোকেদের জন্য পথ নির্দেশ আর রহমত যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে।
وَٱخْتَارَ مُوسَىٰ قَوْمَهُۥ سَبْعِينَ رَجُلًۭا لِّمِيقَٰتِنَا ۖ فَلَمَّآ أَخَذَتْهُمُ ٱلرَّجْفَةُ قَالَ رَبِّ لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُم مِّن قَبْلُ وَإِيَّٰىَ ۖ أَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ ٱلسُّفَهَآءُ مِنَّآ ۖ إِنْ هِىَ إِلَّا فِتْنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَن تَشَآءُ وَتَهْدِى مَن تَشَآءُ ۖ أَنتَ وَلِيُّنَا فَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَا ۖ وَأَنتَ خَيْرُ ٱلْغَٰفِرِينَ ١٥٥
ওয়াখতা-রা মূসা কাওমাহূ সাব‘ঈনা রাজুলাল লিমীকা-তিনা ফালাম্মা- আখাযাতহুমুর রাজফাতু কা-লা রাব্বি লাও শি’তা আহলাকতাহুম মিন কাবলু ওয়াইয়্যা-য়া আতুহলিকুনা বিমা ফা‘আলাস সুফাহা-উ মিন্না- ইন হিয়া ইল্লা ফিতনাতুকা তুদিল্লু বিহা মান তাশা-উ ওয়াতাহদী মান তাশা-উ আনতা ওয়ালিয়্যুনা ফাগফির লানা ওয়ারহামনা ওয়াআনতা খাইরুল গা-ফিরীন
মূসা তার জাতির সত্তর জন লোককে বাছাই করল আমার নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য। যখন ভূমিকম্প তাদের উপর আঘাত হানল তখন সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি ইচ্ছে করলে তো এদেরকে আর আমাকেও আগেই ধ্বংস করে দিতে পারতে! আমাদের মধ্যেকার নির্বোধেরা যা করেছে তার জন্য কি তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে? ওটা তো কেবল তোমার পরীক্ষা, যাকে চাও তদ্দ্বারা পথভ্রষ্ট কর, আর যাকে চাও সত্য পথে পরিচালিত কর, তুমি আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই তো সবচেয়ে বেশী ক্ষমাশীল।’
۞ وَٱكْتُبْ لَنَا فِى هَٰذِهِ ٱلدُّنْيَا حَسَنَةًۭ وَفِى ٱلْءَاخِرَةِ إِنَّا هُدْنَآ إِلَيْكَ ۚ قَالَ عَذَابِىٓ أُصِيبُ بِهِۦ مَنْ أَشَآءُ ۖ وَرَحْمَتِى وَسِعَتْ كُلَّ شَىْءٍۢ ۚ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱلَّذِينَ هُم بِـَٔايَٰتِنَا يُؤْمِنُونَ ١٥٦
ওয়াকতুব লানা ফী হা-যিহিদ দুনইয়া হাসানাতাঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি ইন্না হুদনা- ইলাইক কা-লা ‘আযা-বী উসীবু বিহী মান আশা-উ ওয়ারাহমাতী ওয়াসি‘আত কুল্লা শাই’ ফাসাআকতুবুহা লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকূনা ওয়াইউ’তূনায যাকা-তা ওয়াল্লাযীনা হুম বিআ-য়া-তিনা ইউ’মিনূন
‘আমাদের জন্য এ দুনিয়ার কল্যাণ লিখে দাও আর পরকালেও। আমরা তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি।’ আল্লাহ বললেন, ‘শাস্তি তো আমি যাকে ইচ্ছে দেই, আর আমার রহমত সব বিষয়ে পরিব্যাপ্ত আর তা আমি তাদের জন্য লিখে দিব যারা তাক্বওয়া অবলম্বন করবে, যাকাত দিবে আর যারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাসী হবে।’
ٱلَّذِينَ يَتَّبِعُونَ ٱلرَّسُولَ ٱلنَّبِىَّ ٱلْأُمِّىَّ ٱلَّذِى يَجِدُونَهُۥ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِى ٱلتَّوْرَىٰةِ وَٱلْإِنجِيلِ يَأْمُرُهُم بِٱلْمَعْرُوفِ وَيَنْهَىٰهُمْ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ ٱلْخَبَٰٓئِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَٱلْأَغْلَٰلَ ٱلَّتِى كَانَتْ عَلَيْهِمْ ۚ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِهِۦ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَٱتَّبَعُوا۟ ٱلنُّورَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ مَعَهُۥٓ ۙ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ١٥٧
আল্লাযীনা ইয়াত্তাবি‘ঊনার রাসূলান নাবিয়্যাল উম্মিয়্যাল লাযী ইয়াজিদূনাহূ মাকতূবান ‘ইনদাহুম ফিত তাওরা-তি ওয়ালইনজীলি ইয়া’মুরুহুম বিলমা‘রূফি ওয়ায়ানহা-হুম ‘আনিল মুনকারি ওয়াইউহিল্লু লাহুমুত তাইয়্যিবা-তি ওয়াইউহার্রিমু ‘আলাইহিমুল খাবা-ইছা ওয়ায়াদা‘উ ‘আনহুম ইসরাহুম ওয়ালআগলা-লাল লাতী কা-নাত ‘আলাইহিম ফাল্লাযীনা আ-মানূ বিহী ওয়া‘আয্যারূহু ওয়ানাসারূহু ওয়াত্তাবা‘উন নূরাল লাযী উনযিলা মা‘আহূ উলা-ইকা হুমুল মুফলিহূন
যারা প্রেরিত উম্মী নাবীকে অনুসরণ করবে যা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইনজীলে তারা লিখিত পাবে। সে তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেয়, অসৎ কাজ করতে নিষেধ করে, পবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হালাল করে, অপবিত্র বস্তুগুলো তাদের জন্য নিষিদ্ধ করে, তাদের থেকে গুরুভার সরিয়ে দেয় আর সেই শৃঙ্খল (হালাল-হারামের বানোয়াট বিধি-নিষেধ) যাতে ছিল তারা বন্দী। কাজেই যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান প্রদর্শন করে, তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করে আর তার উপর অবতীর্ণ আলোর অনুসরণ করে, তারাই হচ্ছে সফলকাম।
قُلْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّى رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا ٱلَّذِى لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ ۖ فَـَٔامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِىِّ ٱلْأُمِّىِّ ٱلَّذِى يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ١٥٨
কুল ইয়া-আইয়্যুহান না-সু ইন্নী রাসূলুল্লা-হি ইলাইকুম জামী‘আল লাযী লাহূ মুলকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া ইউহইয়ী ওয়াইউমীতু ফাআ-মিনূ বিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যিল লাযী ইউ’মিনু বিল্লা-হি ওয়াকালিমা-তিহী ওয়াত্তাবি‘ঊহু লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন
বল, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রসূল, (সেই আল্লাহর) যিনি আকাশসমূহ আর পৃথিবীর রাজত্বের মালিক, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তিনিই জীবিত করেন আর মৃত্যু আনেন। কাজেই তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি ও তাঁর প্রেরিত সেই উম্মী বার্তাবাহকের প্রতি যে নিজে আল্লাহর প্রতি ও তাঁর যাবতীয় বাণীর প্রতি বিশ্বাস করে, তোমরা তাঁর অনুসরণ কর যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার।
وَمِن قَوْمِ مُوسَىٰٓ أُمَّةٌۭ يَهْدُونَ بِٱلْحَقِّ وَبِهِۦ يَعْدِلُونَ ١٥٩
ওয়ামিন কাওমি মূসা- উম্মাতুঁ ইয়াহদূনা বিলহাক্কি ওয়াবিহী ইয়া‘দিলূন
মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এক দল লোক আছে যারা সত্য বিধান অনুযায়ী (অন্যকে) পথ দেখায় আর সত্য বিধান অনুযায়ী ইনসাফ করে।
وَقَطَّعْنَٰهُمُ ٱثْنَتَىْ عَشْرَةَ أَسْبَاطًا أُمَمًۭا ۚ وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ إِذِ ٱسْتَسْقَىٰهُ قَوْمُهُۥٓ أَنِ ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْحَجَرَ ۖ فَٱنۢبَجَسَتْ مِنْهُ ٱثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًۭا ۖ قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍۢ مَّشْرَبَهُمْ ۚ وَظَلَّلْنَا عَلَيْهِمُ ٱلْغَمَٰمَ وَأَنزَلْنَا عَلَيْهِمُ ٱلْمَنَّ وَٱلسَّلْوَىٰ ۖ كُلُوا۟ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقْنَٰكُمْ ۚ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَٰكِن كَانُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ١٦٠
ওয়াকাত্তা‘না-হুমুছনাতাই ‘আশরাতা আসবা-তান উমামা ওয়াআওহাইনা- ইলা মূসা- ইযিসতাসকা-হু কাওমুহূ আনিদরিব বি‘আসা-কাল হাজারা ফামবাজাসাত মিনহুছনাতা ‘আশরাতা ‘আইনান কাদ ‘আলিমা কুল্লু উনা-সিম মাশরাবাহুম ওয়াযাল্লালনা ‘আলাইহিমুল গামা-মা ওয়াআনযালনা ‘আলাইহিমুল মান্না ওয়াস্সালওয়া কুলূ মিন তাইয়্যিবা-তি মা রাযাকনা-কুম ওয়ামা যালামূনা ওয়ালা-কিন কা-নূ আনফুসাহুম ইয়াযলিমূন
আমি তাদেরকে বারটি গোত্রে বা জাতিতে বিভক্ত করেছিলাম। মূসার জাতির লোকেরা যখন তার কাছে পানি চাইল তখন আমি মূসার প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ করলাম যে, তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত কর। এর ফলে তাত্থেকে বারটি ঝর্ণা উৎসারিত হল। প্রত্যেক গোত্র তাদের পানি পানের স্থান চিনে নিল, তাদেরকে মেঘের ছায়ায় আশ্রয় দিলাম, তাদের উপর আমি মান্না ও সালওয়া অবতীর্ণ করলাম আর বললাম, ‘তোমাদেরকে আমি যে জীবিকা দিয়েছি তাত্থেকে পবিত্র বস্তুগুলো আহার কর।’ (কিন্তু তারা আমার নির্দেশ অমান্য করে) আমার প্রতি কোন যুলম করেনি, প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেদের উপরই যুলম করছিল।
وَإِذْ قِيلَ لَهُمُ ٱسْكُنُوا۟ هَٰذِهِ ٱلْقَرْيَةَ وَكُلُوا۟ مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ وَقُولُوا۟ حِطَّةٌۭ وَٱدْخُلُوا۟ ٱلْبَابَ سُجَّدًۭا نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطِيٓـَٰٔتِكُمْ ۚ سَنَزِيدُ ٱلْمُحْسِنِينَ ١٦١
ওয়াইয কীলা লাহুমুসকুনূ হা-যিহিল কারইয়াতা ওয়াকুলূ মিনহা হাইছু শি’তুম ওয়াকূলূ হিত্তাতুঁ ওয়াদখুলুল বা-বা সুজ্জাদান নাগফির লাকুম খাতীআ-তিকুম সানাযীদুল মুহসিনীন
স্মরণ কর, তাদেরকে যখন বলা হয়েছিল- ‘‘এই জনপদে বাস কর, যেখানে ইচ্ছে আহার কর আর বল ‘(আমাদেরকে) ক্ষমা কর’, অবনত মস্তকে দ্বারে প্রবেশ কর, (তাহলে) তোমাদের ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেব, আর নেককার লোকদেরকে অতিরিক্ত আরো দেব।’’
فَبَدَّلَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مِنْهُمْ قَوْلًا غَيْرَ ٱلَّذِى قِيلَ لَهُمْ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِجْزًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ بِمَا كَانُوا۟ يَظْلِمُونَ ١٦٢
ফাবাদ্দালাল লাযীনা যালামূ মিনহুম কাওলান গাইরাল লাযী কীলা লাহুম ফাআরসালনা ‘আলাইহিম রিজযাম মিনাস সামা-ই বিমা কা-নূ ইয়াযলিমূন
কিন্তু তাদের মধ্যেকার যালিম লোকেরা তাদেরকে বলা কথাকে বদলে ফেললো। কাজেই তাদের উপর আকাশ থেকে আযাব পাঠালাম, সীমালঙ্ঘনে তাদের লিপ্ত থাকার কারণে।
وَسْـَٔلْهُمْ عَنِ ٱلْقَرْيَةِ ٱلَّتِى كَانَتْ حَاضِرَةَ ٱلْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِى ٱلسَّبْتِ إِذْ تَأْتِيهِمْ حِيتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًۭا وَيَوْمَ لَا يَسْبِتُونَ ۙ لَا تَأْتِيهِمْ ۚ كَذَٰلِكَ نَبْلُوهُم بِمَا كَانُوا۟ يَفْسُقُونَ ١٦٣
ওয়াসআলহুম ‘আনিল কারইয়াতিল লাতী কা-নাত হা-দিরাতাল বাহরি ইয ইয়া‘দূনা ফিস সাবতি ইয তা’তীহিম হীতা-নুহুম ইয়াওমা সাবতিহিম শুর্রা‘আঁ ওয়ায়াওমা লা ইয়াসবিতূনা লা তা’তীহিম কাযা-লিকা নাবলূহুম বিমা কা-নূ ইয়াফসুকূন
তাদেরকে জিজ্ঞেস কর ঐ জনবসতি সম্পর্কে যা সমুদ্রের উপকূলে বিদ্যমান ছিল। তারা শনিবারের সীমালঙ্ঘন করেছিল। শনিবার পালনের দিন মাছগুলো প্রকাশ্যতঃ তাদের নিকটে আসত। আর যেদিন শনিবারের অনুষ্ঠান থাকত না সেদিন সেগুলো আসত না। এটা হত এজন্য যে, তারা অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকার কারণে তাদেরকে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছিলাম।
وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌۭ مِّنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا ۙ ٱللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًۭا شَدِيدًۭا ۖ قَالُوا۟ مَعْذِرَةً إِلَىٰ رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ١٦٤
ওয়াইয কা-লাত উম্মাতুম মিনহুম লিমা তা‘ইযূনা কাওমাল্লা-হু মুহলিকুহুম আও মু‘আয্যিবুহুম ‘আযা-বান শাদীদান কা-লূ মা‘যিরাতান ইলা রাব্বিকুম ওয়ালা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূন
স্মরণ কর, যখন তাদের একদল বলেছিল- ‘তোমরা এমন লোকদেরকে কেন নাসীহাত করছ যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন শাস্তি দিবেন’। নাসীহাতকারীগণ বলেছিল, ‘তোমাদের প্রতিপালকের নিকট (দায়িত্ব পালন না করার) অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আর তারা যাতে তাক্বওয়া অবলম্বন করে।’
فَلَمَّا نَسُوا۟ مَا ذُكِّرُوا۟ بِهِۦٓ أَنجَيْنَا ٱلَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ ٱلسُّوٓءِ وَأَخَذْنَا ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ بِعَذَابٍۭ بَـِٔيسٍۭ بِمَا كَانُوا۟ يَفْسُقُونَ ١٦٥
ফালাম্মা নাসূ মা যুক্কিরূ বিহী আনজাইনাল লাযীনা ইয়ানহাওনা ‘আনিস সূই ওয়াআখাযনাল লাযীনা যালামূ বি‘আযা-বিম বাঈসিম বিমা কা-নূ ইয়াফসুকূন
যে উপদেশ তাদেরকে দেয়া হচ্ছিল তারা যখন তা ভুলে গেল তখন যারা মন্দ কাজ থেকে (অন্যদেরকে) নিষেধ করত তাদেরকে রক্ষা করলাম। আর যালিমদেরকে কঠিন আযাবে পাকড়াও করলাম যেহেতু তারা অবাধ্যতায় লিপ্ত ছিল।
فَلَمَّا عَتَوْا۟ عَن مَّا نُهُوا۟ عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا۟ قِرَدَةً خَٰسِـِٔينَ ١٦٦
ফালাম্মা ‘আতাও ‘আম মা নুহূ ‘আনহু কুলনা লাহুম কূনূ কিরাদাতান খা-সিঈন
যখন তারা চরম ধৃষ্টতা দেখিয়ে ঐ কাজগুলো করতে থাকল যা করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল, তখন তাদের উদ্দেশ্যে বললাম, ‘ঘৃণিত অপমানিত, বানরে রূপান্তরিত হয়ে যাও’।
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ مَن يَسُومُهُمْ سُوٓءَ ٱلْعَذَابِ ۗ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ ٱلْعِقَابِ ۖ وَإِنَّهُۥ لَغَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١٦٧
ওয়াইয তাআয্যানা রাব্বুকা লায়াব‘আছান্না ‘আলাইহিম ইলা ইয়াওমিল কিয়া-মাতি মান ইয়াসূমুহুম সূআল ‘আযা-ব ইন্না রাব্বাকা লাসারী‘উল ‘ইকা-বি ওয়াইন্নাহূ লাগাফূরুর রাহীম
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ঘোষণা করলেন যে, আমি অবশ্যই ক্বিয়ামাত পর্যন্ত বানী ইসরাঈলের উপর এমন লোকদেরকে পাঠাব যারা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে, তোমার প্রতিপালক তো শাস্তিদানে খুবই তৎপর, আর তিনি (মন্দ পরিত্যাগকারীদের জন্য) অবশ্যই বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَقَطَّعْنَٰهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ أُمَمًۭا ۖ مِّنْهُمُ ٱلصَّٰلِحُونَ وَمِنْهُمْ دُونَ ذَٰلِكَ ۖ وَبَلَوْنَٰهُم بِٱلْحَسَنَٰتِ وَٱلسَّيِّـَٔاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ١٦٨
ওয়াকাত্তা‘না-হুম ফিল আরদি উমামাম মিনহুমুস সা-লিহূনা ওয়ামিনহুম দূনা যা-লিকা ওয়াবালাওনা-হুম বিলহাসানা-তি ওয়াস্সাইয়্যিআ-তি লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন
পৃথিবীতে আমি তাদেরকে নানা দলে বিভক্ত করে দিয়েছিলাম, তাদের মধ্যে কিছু দল ছিল সৎ, কতক দল অন্য রকম এবং সুখ আর দুখ দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম যাতে তারা (আল্লাহর নির্দেশের পথে) ফিরে আসে।
فَخَلَفَ مِنۢ بَعْدِهِمْ خَلْفٌۭ وَرِثُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَٰذَا ٱلْأَدْنَىٰ وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِن يَأْتِهِمْ عَرَضٌۭ مِّثْلُهُۥ يَأْخُذُوهُ ۚ أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِم مِّيثَٰقُ ٱلْكِتَٰبِ أَن لَّا يَقُولُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ إِلَّا ٱلْحَقَّ وَدَرَسُوا۟ مَا فِيهِ ۗ وَٱلدَّارُ ٱلْءَاخِرَةُ خَيْرٌۭ لِّلَّذِينَ يَتَّقُونَ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ١٦٩
ফাখালাফা মিম বা‘দিহিম খালফুঁ ওয়ারিছুল কিতা-বা ইয়া’খুযূনা ‘আরাদা হা-যাল আদনা ওয়ায়াকূলূনা সাইউগফারু লানা ওয়াইন ইয়া’তিহিম ‘আরাদুম মিছলুহূ ইয়া’খুযূহ আলাম ইউ’খায ‘আলাইহিম মীছা-কুল কিতা-বি আল লা ইয়াকূলূ ‘আলাল্লা-হি ইল্লাল হাক্কা ওয়াদারাসূ মা ফীহ ওয়াদ্দা-রুল আ-খিরাতু খাইরুল লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকূন আফালা তা‘কিলূন
তাদের পরে (পাপিষ্ঠ) বংশধরগণ তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কিতাবের উত্তরাধিকারী হয় যারা দুনিয়ার নিকৃষ্ট স্বার্থ গ্রহণ করে আর বলে, ‘(আমরা যা কিছুই করি না কেন) আমাদেরকে ক্ষমা করা হবে’। আর দুনিয়ার স্বার্থ তাদের সামনে আসলে আবার তা গ্রহণ করে নেয়। (তাওরাত) কিতাবে কি তাদের নিকট থেকে এ অঙ্গীকার নেয়া হয়নি যে তারা আল্লাহ সম্বন্ধে প্রকৃত সত্য ছাড়া বলবে না? তারা তো ঐ কিতাবে যা আছে তা পাঠ করেও থাকে। যারা তাক্বওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম, তোমরা কি বুঝবে না?
وَٱلَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِٱلْكِتَٰبِ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ ٱلْمُصْلِحِينَ ١٧٠
ওয়াল্লাযীনা ইউমাস্সিকূনা বিলকিতা-বি ওয়াআকা-মুস সালা-তা ইন্না লা নুদী‘উ আজরাল মুসলিহীন
যারা কিতাবকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, আমি (এসব) সৎকর্মশীলদের কর্মফল কখনো বিনষ্ট করি না।
۞ وَإِذْ نَتَقْنَا ٱلْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُۥ ظُلَّةٌۭ وَظَنُّوٓا۟ أَنَّهُۥ وَاقِعٌۢ بِهِمْ خُذُوا۟ مَآ ءَاتَيْنَٰكُم بِقُوَّةٍۢ وَٱذْكُرُوا۟ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ١٧١
ওয়াইয নাতাকনাল জাবালা ফাওকাহুম কাআন্নাহূ যুল্লাতুঁ ওয়াযান্নূ আন-নাহূ ওয়া-কি‘উম বিহিম খুযূ মা- আ-তাইনা-কুম বিকুওয়াতিঁ ওয়াযকুরূ মা ফীহি লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূন
স্মরণ কর, আমি যখন পাহাড়কে বানী ইসরাঈলদের উপর তুলে ধরলাম তা যেন একটা সামিয়ানা। তারা ভাবল, ওটা তাদের উপর বুঝি পতিত হবে। (এমত অবস্থায় তাদেরকে বললাম) ‘তোমাদেরকে যা দিলাম তা শক্তভাবে ধারণ কর আর তাতে যা আছে তা মনে রেখ, যাতে তোমরা তাক্বওয়া লাভ করতে পার’।
وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنۢ بَنِىٓ ءَادَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ ۖ قَالُوا۟ بَلَىٰ ۛ شَهِدْنَآ ۛ أَن تَقُولُوا۟ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَٰذَا غَٰفِلِينَ ١٧٢
ওয়াইয আখাযা রাব্বুকা মিম বানী আ-দামা মিন যুহূরিহিম যুর্রিয়্যাতাহুম ওয়াআশহাদাহুম ‘আলা- আনফুসিহিম আলাসতু বিরাব্বিকুম কা-লূ বালা শাহিদনা- আন তাকূলূ ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইন্না কুন্না ‘আন হা-যা গা-ফিলীন
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানদের পৃষ্ঠ হতে তাদের বংশধরদের বের করলেন আর তাদেরকেই সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ; এ ব্যাপারে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি।’ (এটা এজন্য করা হয়েছিল) যাতে তোমরা ক্বিয়ামাতের দিন না বল যে, ‘এ সম্পর্কে আমরা একেবারেই বে-খবর ছিলাম’।
أَوْ تَقُولُوٓا۟ إِنَّمَآ أَشْرَكَ ءَابَآؤُنَا مِن قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةًۭ مِّنۢ بَعْدِهِمْ ۖ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ ٱلْمُبْطِلُونَ ١٧٣
আও তাকূলূ ইন্নামা- আশরাকা আ-বা-উনা মিন কাবলু ওয়াকুন্না যুর্রিয়্যাতাম মিম বা‘দিহিম আফাতুহলিকুনা বিমা ফা‘আলাল মুবতিলূন
অথবা তোমরা এ কথা না বল যে, ‘পূর্বে আমাদের পিতৃ-পুরুষরাই শিরক করেছে আর তাদের পরে আমরা তাদেরই সন্তানাদি (যা করতে দেখেছি তাই করছি) তাহলে ভ্রান্ত পথের অনুসারীরা যা করেছে তার জন্য কি আপনি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন?’
وَكَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلْءَايَٰتِ وَلَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ١٧٤
ওয়াকাযা-লিকা নুফাস্সিলুল আ-য়া-তি ওয়ালা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন
এভাবে আমি নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করছি, আর হয়ত তারা (আমার পথে) ফিরে আসবে।
وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ٱلَّذِىٓ ءَاتَيْنَٰهُ ءَايَٰتِنَا فَٱنسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ ٱلشَّيْطَٰنُ فَكَانَ مِنَ ٱلْغَاوِينَ ١٧٥
ওয়াতলু ‘আলাইহিম নাবাআল লাযী আ-তাইনা-হু আ-য়া-তিনা ফানসালাখা মিনহা ফাআতবা‘আহুশ শাইতা-নু ফাকা-না মিনাল গা-উঈন
তাদেরকে ঐ লোকের সংবাদ পড়ে শোনাও যাকে আমি আমার নিদর্শনসমূহ প্রদান করেছিলাম। কিন্তু সে সেগুলোকে এড়িয়ে যায়। অতঃপর শয়ত্বান তাকে অনুসরণ করে, ফলে সে পথভ্রষ্টদের দলে শামিল হয়ে যায়।
وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَٰهُ بِهَا وَلَٰكِنَّهُۥٓ أَخْلَدَ إِلَى ٱلْأَرْضِ وَٱتَّبَعَ هَوَىٰهُ ۚ فَمَثَلُهُۥ كَمَثَلِ ٱلْكَلْبِ إِن تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَث ۚ ذَّٰلِكَ مَثَلُ ٱلْقَوْمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا ۚ فَٱقْصُصِ ٱلْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ ١٧٦
ওয়ালাও শি’না লারাফা‘না-হু বিহা ওয়ালা-কিন্নাহূ আখলাদা ইলাল আরদি ওয়াত্তাবা‘আ হাওয়া-হ ফামাছালুহূ কামাছালিল কালবি ইন তাহমিল ‘আলাইহি ইয়ালহাছ আও তাতরুকহু ইয়ালহাছ যা-লিকা মাছালুল কাওমিল লাযীনা কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা ফাকসুসিল কাসাসা লা‘আল্লাহুম ইয়াতাফাক্কারূন
আমি ইচ্ছে করলে আমার নিদর্শনের মাধ্যমে তাকে অবশ্যই উচ্চতর মর্যাদা দিতাম। কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতিই ঝুঁকে পড়ল আর তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। তাই তার দৃষ্টান্ত হল কুকুরের দৃষ্টান্তের মত। যদি তুমি তার উপর বোঝা চাপাও তাহলে জিভ বের করে হাঁপাতে থাকে এবং তাকে ছেড়ে দিলেও জিভ বের করে হাঁপাতে থাকে। এটাই হল ঐ সম্প্রদায়ের উদাহরণ যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যে মনে করে অমান্য করে। তুমি এ কাহিনী শুনিয়ে দাও যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।
سَآءَ مَثَلًا ٱلْقَوْمُ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا وَأَنفُسَهُمْ كَانُوا۟ يَظْلِمُونَ ١٧٧
সা-আ মাছালানিল কাওমুল লাযীনা কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা ওয়াআনফুসাহুম কা-নূ ইয়াযলিমূন
যে সম্প্রদায় আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যে মনে করে প্রত্যাখ্যান করে আর নিজেদের উপর যুলম করতে থাকে তাদের উদাহরণ কতই না মন্দ!
مَن يَهْدِ ٱللَّهُ فَهُوَ ٱلْمُهْتَدِى ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ ١٧٨
মান ইয়াহদিল্লা-হু ফাহুওয়াল মুহতাদী ওয়ামান ইউদলিল ফাউলা-ইকা হুমুল খা-সিরূন
আল্লাহ যাকে হিদায়াত করেন সেই হিদায়াত লাভ করে, আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তারাই হয় ক্ষতিগ্রস্ত।
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِ ۖ لَهُمْ قُلُوبٌۭ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌۭ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ ءَاذَانٌۭ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَآ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ كَٱلْأَنْعَٰمِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْغَٰفِلُونَ ١٧٩
ওয়ালাকাদ যারা’না লিজাহান্নামা কাছীরাম মিনাল জিন্নি ওয়ালইনসি লাহুম কুলূবুল লা ইয়াফকাহূনা বিহা ওয়ালাহুম আ‘ইউনুল লা ইউবসিরূনা বিহা ওয়ালাহুম আ-যা-নুল লা ইয়াসমা‘ঊনা বিহা- উলা-ইকা কালআন‘আ-মি বাল হুম আদাল্ল উলা-ইকা হুমুল গা-ফিলূন
আমি বহু সংখ্যক জ্বীন আর মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে দেখে না, তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে শোনে না, তারা জন্তু-জানোয়ারের মত, বরং তার চেয়েও পথভ্রষ্ট, তারা একেবারে বে-খবর।
وَلِلَّهِ ٱلْأَسْمَآءُ ٱلْحُسْنَىٰ فَٱدْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا۟ ٱلَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِىٓ أَسْمَٰٓئِهِۦ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١٨٠
ওয়ালিল্লা-হিল আসমা-উল হুসনা ফাদ‘ঊহু বিহা ওয়াযারুল লাযীনা ইউলহিদূনা ফী আসমা-ইহ সাইউজযাওনা মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
সুন্দর যত নাম সবই আল্লাহর জন্য। কাজেই তাঁকে ডাক ঐ সব নামের মাধ্যমে। যারা তার নামের মধ্যে বিকৃতি ঘটায় তাদেরকে পরিত্যাগ কর। তারা যা করছে তার ফল তারা শীঘ্র পাবে।
وَمِمَّنْ خَلَقْنَآ أُمَّةٌۭ يَهْدُونَ بِٱلْحَقِّ وَبِهِۦ يَعْدِلُونَ ١٨١
ওয়ামিম্মান খালাকনা- উম্মাতুঁ ইয়াহদূনা বিলহাক্কি ওয়াবিহী ইয়া‘দিলূন
আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে একদল আছে যারা সঠিকভাবে পথ নির্দেশ দেয়, আর তার মাধ্যমেই সুবিচার করে।
وَٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُم مِّنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُونَ ١٨٢
ওয়াল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা সানাসতাদরিজুহুম মিন হাইছু লা ইয়া‘লামূন
যারা আমার আয়াতগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে আমি তাদেরকে ধাপে ধাপে এমনভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাই যে, তারা টেরও করতে পারে না।
وَأُمْلِى لَهُمْ ۚ إِنَّ كَيْدِى مَتِينٌ ١٨٣
ওয়াউমলী লাহুম ইন্না কাইদী মাতীন
আমি তাদেরকে অবকাশ ও সুযোগ দেই, আমার কুশলী ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত মযবুত।
أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا۟ ۗ مَا بِصَاحِبِهِم مِّن جِنَّةٍ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌۭ مُّبِينٌ ١٨٤
আওয়ালাম ইয়াতাফাক্কারূ মা বিসা-হিবিহিম মিন জিন্নাহ ইন হুওয়া ইল্লা নাযীরুম মুবীন
তারা কি চিন্তা-ভাবনা করে না সে তাদের সঙ্গী (আমার রসূল) তো উম্মাদ নয়, সে তো প্রকাশ্য এক সতর্ককারী।
أَوَلَمْ يَنظُرُوا۟ فِى مَلَكُوتِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ ٱللَّهُ مِن شَىْءٍۢ وَأَنْ عَسَىٰٓ أَن يَكُونَ قَدِ ٱقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ ۖ فَبِأَىِّ حَدِيثٍۭ بَعْدَهُۥ يُؤْمِنُونَ ١٨٥
আওয়ালাম ইয়ানযুরূ ফী মালাকূতিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ামা খালাকাল্লা-হু মিন শাইইঁ ওয়াআন ‘আসা- আন ইয়াকূনা কাদিকতারাবা আজালুহুম ফাবিআইয়্যি হাদীছিম বা‘দাহূ ইউ’মিনূন
তারা কি আসমান-যমীনের রাজত্বে আর আল্লাহ যে সব বস্তু সৃষ্টি করেছেন তাতে কিছুই দেখে না? তারা কি চিন্তা করে না যে হয়ত তাদের জীবনের মেয়াদ নিকটেই এসে গেছে? এরপর তারা কোন বাণীর উপর ঈমান আনবে?
مَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَلَا هَادِىَ لَهُۥ ۚ وَيَذَرُهُمْ فِى طُغْيَٰنِهِمْ يَعْمَهُونَ ١٨٦
মান ইউদলিলিল্লা-হু ফালা হা-দিয়া লাহ ওয়ায়াযারুহুম ফী তুগইয়া-নিহিম ইয়া‘মাহূন
আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোন হিদায়াত নেই। তিনি তাদেরকে তাদের বিদ্রোহী ভূমিকায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরপাক খেতে ছেড়ে দেন।
يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَىٰهَا ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ رَبِّى ۖ لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَآ إِلَّا هُوَ ۚ ثَقُلَتْ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةًۭ ۗ يَسْـَٔلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِىٌّ عَنْهَا ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ ٱللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ١٨٧
ইয়াসআলূনাকা ‘আনিস সা-‘আতি আইয়্যা-না মুরসা-হা কুল ইন্নামা ‘ইলমুহা ‘ইনদা রাব্বী লা ইউজাল্লীহা লিওয়াকতিহা- ইল্লা হুও ছাকুলাত ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ লা তা’তীকুম ইল্লা বাগতাহ ইয়াসআলূনাকা কাআন্নাকা হাফিয়্যুন ‘আনহা কুল ইন্নামা ‘ইলমুহা ‘ইনদাল্লা-হি ওয়ালা-কিন্না আকছারান না-সি লা ইয়া‘লামূন
তারা তোমাকে ক্বিয়ামাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে কখন তা সংঘটিত হবে। বল, ‘এ বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে আমার প্রতিপালকের নিকট। তিনি ছাড়া কেউ প্রকাশ করতে পারে না কখন তা ঘটবে। আসমান ও যমীনে তা হবে বড় এক কঠিন দিন। আকস্মিকভাবে তা তোমাদের উপর এসে পড়বে।’ লোকেরা তোমাকে এ সম্পর্কে এমনভাবে জিজ্ঞেস করছে যেন তুমি আগ্রহ সহকারে এটার খোঁজে ব্যস্ত আছ। বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান তো শুধু আল্লাহরই নিকট আছে। কিন্তু (এ সত্যটা) অধিকাংশ লোকই জানে না।’
قُل لَّآ أَمْلِكُ لِنَفْسِى نَفْعًۭا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُ ۚ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ ٱلْغَيْبَ لَٱسْتَكْثَرْتُ مِنَ ٱلْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِىَ ٱلسُّوٓءُ ۚ إِنْ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٌۭ وَبَشِيرٌۭ لِّقَوْمٍۢ يُؤْمِنُونَ ١٨٨
কুল লা- আমলিকু লিনাফসী নাফ‘আঁ ওয়ালা দার্রান ইল্লা মা শা-আল্লা-হ ওয়ালাও কুনতু আ‘লামুল গাইবা লাসতাকছারতু মিনাল খাইরি ওয়ামা মাস্সানিয়াস সূ’ ইন আনা ইল্লা নাযীরুঁ ওয়াবাশীরুল লিকাওমিঁ ইউ’মিনূন
বল, আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভাল বা মন্দ করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম তাহলে নিজের জন্য অনেক বেশি ফায়দা হাসিল করে নিতাম, আর কোন প্রকার অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। যারা ঈমান আনবে আমি সেই সম্প্রদায়ের প্রতি সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া অন্য কিছু নই।
۞ هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍۢ وَٰحِدَةٍۢ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا ۖ فَلَمَّا تَغَشَّىٰهَا حَمَلَتْ حَمْلًا خَفِيفًۭا فَمَرَّتْ بِهِۦ ۖ فَلَمَّآ أَثْقَلَت دَّعَوَا ٱللَّهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ ءَاتَيْتَنَا صَٰلِحًۭا لَّنَكُونَنَّ مِنَ ٱلشَّٰكِرِينَ ١٨٩
হুওয়াল লাযী খালাকাকুম মিন নাফসিঁ ওয়া-হিদাতিঁ ওয়াজা‘আলা মিনহা যাওজাহা লিয়াসকুনা ইলাইহা ফালাম্মা তাগাশ্শা-হা হামালাত হামলান খাফীফান ফামার্রাত বিহী ফালাম্মা- আছকালাদ দা‘আওয়াল্লা-হা রাব্বাহুমা লাইন আ-তাইতানা সা-লিহাল লানাকূনান্না মিনাশ শা-কিরীন
তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন আর তাত্থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়। যখন সে স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হয় তখন সে লঘু গর্ভধারণ করে আর তা নিয়ে চলাফেরা করে। গর্ভ যখন ভারী হয়ে যায় তখন উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ডেকে বলে, ‘যদি তুমি আমাদেরকে (গঠন ও স্বভাবে) ভাল সন্তান দান কর তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।’
فَلَمَّآ ءَاتَىٰهُمَا صَٰلِحًۭا جَعَلَا لَهُۥ شُرَكَآءَ فِيمَآ ءَاتَىٰهُمَا ۚ فَتَعَٰلَى ٱللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ ١٩٠
ফালাম্মা- আ-তা-হুমা সা-লিহান জা‘আলা লাহূ শুরাকা-আ ফীমা- আ-তা-হুমা ফাতা‘আ-লাল্লা-হু ‘আম্মা ইউশরিকূন
যখন তিনি তাদেরকে সর্বাঙ্গ-সুন্দর সন্তান দান করেন, তখন তারা তাদেরকে যা দেয়া হয় তাতে অন্যকে আল্লাহর শরীক গণ্য করে। তারা যাদেরকে শরীক গণ্য করে আল্লাহ তাদের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْـًۭٔا وَهُمْ يُخْلَقُونَ ١٩١
আইউশরিকূনা মা লা ইয়াখলুকু শাইআঁ ওয়াহুম ইউখলাকূন
তারা কি এমন কিছুকে শরীক করে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না? বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়েছে।
وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًۭا وَلَآ أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ ١٩٢
ওয়ালা ইয়াসতাতী‘ঊনা লাহুম নাসরাঁ ওয়ালা- আনফুসাহুম ইয়ানসুরূন
তারা না পারে তাদেরকে (অর্থাৎ তাদের ‘ইবাদাতকারীদেরকে) সাহায্য করতে, না পারে নিজেদেরকে সাহায্য করতে।
وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى ٱلْهُدَىٰ لَا يَتَّبِعُوكُمْ ۚ سَوَآءٌ عَلَيْكُمْ أَدَعَوْتُمُوهُمْ أَمْ أَنتُمْ صَٰمِتُونَ ١٩٣
ওয়াইন তাদ‘ঊহুম ইলাল হুদা লা ইয়াত্তাবি‘ঊকুম সাওয়া-উন ‘আলাইকুম আদা‘আওতুমূহুম আম আনতুম সা-মিতূন
তোমরা তাদেরকে যদি সত্যপথে চলার জন্য ডাক, তারা তোমাদের অনুসরণ করবে না। তাদেরকে ডাক কিংবা চুপচাপ থাক, তোমাদের জন্য উভয়ই সমান।
إِنَّ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ ۖ فَٱدْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا۟ لَكُمْ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ١٩٤
ইন্নাল লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূনিল্লা-হি ‘ইবা-দুন আমছা-লুকুম ফাদ‘ঊহুম ফালইয়াসতাজীবূ লাকুম ইন কুনতুম সা-দিকীন
আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাক তারা তোমাদের মতই বান্দাহ্। (ঠিক আছে) তাদেরকে ডাকতে থাক, তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক।
أَلَهُمْ أَرْجُلٌۭ يَمْشُونَ بِهَآ ۖ أَمْ لَهُمْ أَيْدٍۢ يَبْطِشُونَ بِهَآ ۖ أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌۭ يُبْصِرُونَ بِهَآ ۖ أَمْ لَهُمْ ءَاذَانٌۭ يَسْمَعُونَ بِهَا ۗ قُلِ ٱدْعُوا۟ شُرَكَآءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ ١٩٥
আলাহুম আরজুলুঁ ইয়ামশূনা বিহা- আম লাহুম আইদিঁ ইয়াবতিশূনা বিহা- আম লাহুম আ‘ইউনুঁ ইউবসিরূনা বিহা- আম লাহুম আ-যা-নুঁ ইয়াসমা‘ঊনা বিহা কুলিদ‘ঊ শুরাকা-আকুম ছুম্মা কীদূনি ফালা তুনযিরূন
তাদের কি পা আছে যা দিয়ে তারা চলাফেরা করে? তাদের কি হাত আছে যা দিয়ে তারা ধরে? তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে তারা দেখে? তাদের কি কান আছে যা দিয়ে তারা শোনে? বল, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক করছ তাদেরকে আহবান কর, আর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না।
إِنَّ وَلِۦِّىَ ٱللَّهُ ٱلَّذِى نَزَّلَ ٱلْكِتَٰبَ ۖ وَهُوَ يَتَوَلَّى ٱلصَّٰلِحِينَ ١٩٦
ইন্না ওয়ালীয়াল্লা-হুল লাযী নায্যালাল কিতা-বা ওয়াহুওয়া ইয়াতাওয়াল্লাস সা-লিহীন
আল্লাহই হলেন আমার অভিভাবক যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আর তিনিই সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন।
وَٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلَآ أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ ١٩٧
ওয়াল্লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূনিহী লা ইয়াসতাতী‘ঊনা নাসরাকুম ওয়ালা- আনফুসাহুম ইয়ানসুরূন
কে (অর্থাৎ আল্লাহকে) ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাক, তারা তোমাদেরকে সাহায্য করার কোন ক্ষমতা রাখে না, পারে না নিজেদেরকেও সাহায্য করতে।
وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى ٱلْهُدَىٰ لَا يَسْمَعُوا۟ ۖ وَتَرَىٰهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ ١٩٨
ওয়াইন তাদ‘ঊহুম ইলাল হুদা লা ইয়াসমা‘ঊ ওয়াতারা-হুম ইয়ানযুরূনা ইলাইকা ওয়াহুম লা ইউবসিরূন
তাদেরকে যদি সঠিক পথের দিকে ডাক, তারা শোনে না, তুমি দেখ যে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু আসলে তারা কিছুই দেখতে পায় না।
خُذِ ٱلْعَفْوَ وَأْمُرْ بِٱلْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ ٱلْجَٰهِلِينَ ١٩٩
খুযিল ‘আফওয়া ওয়া’মুর বিল‘উরফি ওয়াআ‘রিদ ‘আনিল জা-হিলীন
ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর, সত্য-সঠিক কাজের আদেশ দাও আর জাহিলদেরকে এড়িয়ে চল।
وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ ٱلشَّيْطَٰنِ نَزْغٌۭ فَٱسْتَعِذْ بِٱللَّهِ ۚ إِنَّهُۥ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ٢٠٠
ওয়াইম্মা ইয়ানযাগান্নাকা মিনাশ শাইতা-নি নাযগুন ফাসতা‘ইয বিল্লা-হ ইন্নাহূ সামী‘উন ‘আলীম
শয়ত্বান যদি উস্কানি দিয়ে তোমাকে প্ররোচিত করতে চায় তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর, তিনি হলেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ إِذَا مَسَّهُمْ طَٰٓئِفٌۭ مِّنَ ٱلشَّيْطَٰنِ تَذَكَّرُوا۟ فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ ٢٠١
ইন্নাল লাযীনাত তাকাও ইযা মাস্সাহুম তা-ইফুম মিনাশ শাইতা-নি তাযাক্কারূ ফাইযা হুম মুবসিরূন
যারা তাক্বওয়া অবলম্বন করে শায়ত্বনের স্পর্শে তাদের মনে কুমন্ত্রণা জাগলে তারা আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন তাদের ঈমান-চক্ষু খুলে যায়।
وَإِخْوَٰنُهُمْ يَمُدُّونَهُمْ فِى ٱلْغَىِّ ثُمَّ لَا يُقْصِرُونَ ٢٠٢
ওয়াইখওয়া-নুহুম ইয়ামুদ্দূনাহুম ফিল গাইয়্যি ছুম্মা লা ইউকসিরূন
কিন্তু তাদের (অর্থাৎ শায়ত্বনের) সঙ্গী-সাথীরা (কাফির ও মুনাফিক্বরা) তাদেরকে ভ্রান্ত পথে নিয়ে যায় আর এ ব্যাপারে চেষ্টার কোন ত্রুটি করে না।
وَإِذَا لَمْ تَأْتِهِم بِـَٔايَةٍۢ قَالُوا۟ لَوْلَا ٱجْتَبَيْتَهَا ۚ قُلْ إِنَّمَآ أَتَّبِعُ مَا يُوحَىٰٓ إِلَىَّ مِن رَّبِّى ۚ هَٰذَا بَصَآئِرُ مِن رَّبِّكُمْ وَهُدًۭى وَرَحْمَةٌۭ لِّقَوْمٍۢ يُؤْمِنُونَ ٢٠٣
ওয়াইযা লাম তা’তিহিম বিআ-য়াতিন কা-লূ লাওলাজতাবাইতাহা কুল ইন্নামা- আত-তাবি‘উ মা ইউহা- ইলাইয়্যা মির রাব্বী হা-যা বাসা-ইরু মির রাব্বিকুম ওয়াহুদাঁ ওয়ারাহমাতুল লিকাওমিঁ ইউ’মিনূন
যখন তুমি তাদের কাছে কোন নিদর্শন হাজির কর না, তখন তারা বলে, তুমি নিজেই একটা নিদর্শন বেছে নাও না কেন? বল, ‘আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে আমার প্রতি যা ওয়াহী করা হয় আমি তো তারই অনুসরণ করি। এটা তোমাদের রবেবর পক্ষ হতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য উজ্জ্বল আলো, হিদায়াত ও রহমত।’
وَإِذَا قُرِئَ ٱلْقُرْءَانُ فَٱسْتَمِعُوا۟ لَهُۥ وَأَنصِتُوا۟ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ٢٠٤
ওয়াইযা কুরিআল কুরআ-নু ফাসতামি‘ঊ লাহূ ওয়াআনসিতূ লা‘আল্লাকুম তুরহামূন
যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা তা মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ কর আর নীরবতা বজায় রাখ যাতে তোমাদের প্রতি রহম করা হয়।
وَٱذْكُر رَّبَّكَ فِى نَفْسِكَ تَضَرُّعًۭا وَخِيفَةًۭ وَدُونَ ٱلْجَهْرِ مِنَ ٱلْقَوْلِ بِٱلْغُدُوِّ وَٱلْءَاصَالِ وَلَا تَكُن مِّنَ ٱلْغَٰفِلِينَ ٢٠٥
ওয়াযকুর রাব্বাকা ফী নাফসিকা তাদার্রু‘আঁ ওয়াখীফাতাঁ ওয়াদূনাল জাহরি মিনাল কাওলি বিলগুদুউই ওয়ালআ-সা-লি ওয়ালা তাকুম মিনাল গা-ফিলীন
তোমার প্রতিপালককে মনে মনে বিনয়ের সঙ্গে ভয়-ভীতি সহকারে অনুচ্চস্বরে সকাল-সন্ধ্যায় স্মরণ কর আর উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।
৭:২০৬ সিজদা
إِنَّ ٱلَّذِينَ عِندَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِۦ وَيُسَبِّحُونَهُۥ وَلَهُۥ يَسْجُدُونَ ۩ ٢٠٦
ইন্নাল লাযীনা ‘ইনদা রাব্বিকা লা ইয়াসতাকবিরূনা ‘আন ‘ইবা-দাতিহী ওয়াইউসাব্বিহূনাহূ ওয়ালাহূ ইয়াসজুদূন
যারা তোমার প্রতিপালকের নিকট আছে তারা তাঁর ‘ইবাদাত করার ব্যাপারে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে না, তারা তাঁর মহিমা ঘোষণা করে আর তাঁর জন্য সাজদাহয় অবনত হয়। [সাজদাহ]

الأنفال
সূরা আল-আনফাল

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْأَنفَالِ ۖ قُلِ ٱلْأَنفَالُ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِ ۖ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَصْلِحُوا۟ ذَاتَ بَيْنِكُمْ ۖ وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ١
ইয়াসআলূনাকা ‘আনিল আনফা-লি কুলিল আনফা-লু লিল্লা-হি ওয়ার্রাসূলি ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআসলিহূ যা-তা বাইনিকুম ওয়াআতী‘উল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ইন কুনতুম মু’মিনীন
তারা তোমাকে যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের; কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর নিজেদের সম্পর্ককে সুষ্ঠু সুন্দর ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত কর। তোমরা যদি মু’মিন হয়ে থাক তবে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর।’
إِنَّمَا ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتُهُۥ زَادَتْهُمْ إِيمَٰنًۭا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ٢
ইন্নামাল মু’মিনূনাল লাযীনা ইযা যুকিরাল্লা-হু ওয়াজিলাত কুলূবুহুম ওয়াইযা তুলিয়াত ‘আলাইহিম আ-য়া-তুহূ যা-দাতহুম ঈমা-নাঁ ওয়া‘আলা রাব্বিহিম ইয়াতাওয়াক্কালূন
মু’মিন তো তারাই আল্লাহর কথা আলোচিত হলেই যাদের অন্তর কেঁপে উঠে, আর তাদের কাছে যখন তাঁর আয়াত পঠিত হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে আর তারা তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।
ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ يُنفِقُونَ ٣
আল্লাযীনা ইউকীমূনাস সালা-তা ওয়ামিম্মা রাযাকনা-হুম ইউনফিকূন
তারা নামায ক্বায়িম করে, আর আমি তাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি তাত্থেকে ব্যয় করে।
أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُؤْمِنُونَ حَقًّۭا ۚ لَّهُمْ دَرَجَٰتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌۭ وَرِزْقٌۭ كَرِيمٌۭ ٤
উলা-ইকা হুমুল মু’মিনূনা হাক্কা লাহুম দারাজা-তুন ‘ইনদা রাব্বিহিম ওয়ামাগফিরাতুঁ ওয়ারিযকুন কারীম
এসব লোকেরাই হল প্রকৃত মু’মিন। এদের জন্য এদের প্রতিপালকের নিকট আছে নানান মর্যাদা, ক্ষমা আর সম্মানজনক জীবিকা।
كَمَآ أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنۢ بَيْتِكَ بِٱلْحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقًۭا مِّنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ لَكَٰرِهُونَ ٥
কামা- আখরাজাকা রাব্বুকা মিম বাইতিকা বিলহাক্কি ওয়াইন্না ফারীকাম মিনাল মু’মিনীনা লাকা-রিহূন
(তারা যেমন প্রকৃত মু’মিন) ঠিক তেমনি প্রকৃতভাবেই তোমার প্রতিপালক তোমাকে তোমার ঘর হতে বের করে এনেছিলেন যদিও মু’মিনদের একদল তা পছন্দ করেনি।
يُجَٰدِلُونَكَ فِى ٱلْحَقِّ بَعْدَمَا تَبَيَّنَ كَأَنَّمَا يُسَاقُونَ إِلَى ٱلْمَوْتِ وَهُمْ يَنظُرُونَ ٦
ইউজা-দিলূনাকা ফিল হাক্কি বা‘দামা তাবাইয়্যানা কাআন্নামা ইউসা-কূনা ইলাল মাওতি ওয়াহুম ইয়ানযুরূন
সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও তারা তোমার সঙ্গে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়েছিল, (তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল যে,) তারা যেন চেয়ে চেয়ে দেখছিল যে, তাদেরকে মৃত্যুর দিকে তাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে।
وَإِذْ يَعِدُكُمُ ٱللَّهُ إِحْدَى ٱلطَّآئِفَتَيْنِ أَنَّهَا لَكُمْ وَتَوَدُّونَ أَنَّ غَيْرَ ذَاتِ ٱلشَّوْكَةِ تَكُونُ لَكُمْ وَيُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُحِقَّ ٱلْحَقَّ بِكَلِمَٰتِهِۦ وَيَقْطَعَ دَابِرَ ٱلْكَٰفِرِينَ ٧
ওয়াইয ইয়া‘ইদুকুমুল্লা-হু ইহদাত তা-ইফাতাইনি আন-নাহা লাকুম ওয়াতাওয়াদ্দূনা আন-না গাইরা যা-তিশ শাওকাতি তাকূনু লাকুম ওয়াইউরীদুল্লা-হু আন ইউহিক্কাল হাক্কা বিকালিমা-তিহী ওয়ায়াকতা‘আ দা-বিরাল কা-ফিরীন
স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, দু’টি দলের মধ্যে একটি তোমরা পাবে, আর তোমরা চেয়েছিলে যেন নিরস্ত্র দলটি তোমরা লাভ কর আর আল্লাহ চেয়েছিলেন তাঁর বাণী দ্বারা সত্যকে সত্যরূপে প্রতিষ্ঠিত করতে আর কাফিরদের জড় কেটে দিতে।
لِيُحِقَّ ٱلْحَقَّ وَيُبْطِلَ ٱلْبَٰطِلَ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُجْرِمُونَ ٨
লিইউহিক্কাল হাক্কা ওয়াইউবতিলাল বা-তিলা ওয়ালাও কারিহাল মুজরিমূন
যাতে তিনি সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন আর মিথ্যেকে মিথ্যে প্রমাণিত করেন, যদিও তা পাপীদের কাছে পছন্দনীয় নয়।
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَٱسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّى مُمِدُّكُم بِأَلْفٍۢ مِّنَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ مُرْدِفِينَ ٩
ইয তাসতাগীছূনা রাব্বাকুম ফাসতাজা-বা লাকুম আন-নী মুমিদ্দুকুম বিআলফিম মিনাল মালা-ইকাতি মুরদিফীন
স্মরণ কর, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে তখন তিনি তোমাদেরকে জবাব দিলেন, ‘আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করব যারা পর পর আসবে।’
وَمَا جَعَلَهُ ٱللَّهُ إِلَّا بُشْرَىٰ وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِۦ قُلُوبُكُمْ ۚ وَمَا ٱلنَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ١٠
ওয়ামা জা‘আলাহুল্লা-হু ইল্লা বুশরা ওয়ালিতাতমাইন্না বিহী কুলূবুকুম ওয়ামান নাসরু ইল্লা মিন ‘ইনদিল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা ‘আযীযুন হাকীম
আর আল্লাহ যে এটা করেছিলেন তার উদ্দেশ্য তোমাদেরকে সুসংবাদ দান ছাড়া অন্য কিছু নয় আর যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। কেননা, সাহায্য তো একমাত্র আল্লাহর নিকট থেকেই আসে। আল্লাহ তো মহাপরাক্রমশালী, মহাবিজ্ঞানী।
إِذْ يُغَشِّيكُمُ ٱلنُّعَاسَ أَمَنَةًۭ مِّنْهُ وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ لِّيُطَهِّرَكُم بِهِۦ وَيُذْهِبَ عَنكُمْ رِجْزَ ٱلشَّيْطَٰنِ وَلِيَرْبِطَ عَلَىٰ قُلُوبِكُمْ وَيُثَبِّتَ بِهِ ٱلْأَقْدَامَ ١١
ইয ইউগাশ্শীকুমুন নু‘আ-সা আমানাতাম মিনহু ওয়াইউনায্যিলু ‘আলাইকুম মিনাস সামা-ই মা-আল লিইউতাহ্হিরাকুম বিহী ওয়াইউযহিবা ‘আনকুম রিজযাশ শাইতা-নি ওয়ালিয়ারবিতা ‘আলা কুলূবিকুম ওয়াইউছাব্বিতা বিহিল আকদা-ম
স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তাঁর নিকট হতে প্রশান্তি ধারা হিসেবে তোমাদেরকে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেছিলেন, আকাশ হতে তোমাদের উপর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করেছিলেন তোমাদেরকে তা দিয়ে পবিত্র করার জন্য। তোমাদের থেকে শয়ত্বানী পংকিলতা দূর করার জন্য, তোমাদের দিলকে মজবুত করার জন্য আর তা দিয়ে তোমাদের পায়ের ভিত শক্ত করার জন্য।
إِذْ يُوحِى رَبُّكَ إِلَى ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ أَنِّى مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا۟ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ۚ سَأُلْقِى فِى قُلُوبِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱلرُّعْبَ فَٱضْرِبُوا۟ فَوْقَ ٱلْأَعْنَاقِ وَٱضْرِبُوا۟ مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍۢ ١٢
ইয ইউহী রাব্বুকা ইলাল মালা-ইকাতি আন-নী মা‘আকুম ফাছাব্বিতুল লাযীনা আ-মানূ সাউলকী ফী কুলূবিল লাযীনা কাফারুর রু‘বা ফাদরিবূ ফাওকাল আ‘না-কি ওয়াদরিবূ মিনহুম কুল্লা বানা-ন
স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের প্রতি ওয়াহী পাঠিয়েছিলেন, ‘আমি তোমাদের সঙ্গেই আছি; অতএব মু’মিনদেরকে তোমরা দৃঢ়পদ রেখ’। অচিরেই আমি কাফিরদের দিলে ভীতি সঞ্চার করব, কাজেই তাদের স্কন্ধে আঘাত হান, আঘাত হান প্রত্যেকটি আঙ্গুলের গিঁটে গিঁটে।
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ شَآقُّوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ ۚ وَمَن يُشَاقِقِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ١٣
যা-লিকা বিআন্নাহুম শা-ক্কুল্লা-হা ওয়ারাসূলাহ ওয়ামান ইউশা-কিকিল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ফাইন্নাল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব
এর কারণ হল, তারা আল্লাহ ও রসূলের বিরোধিতা করে আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করবে (তাদের জেনে রাখা দরকার) আল্লাহ শাস্তিদানে বড়ই কঠোর।
ذَٰلِكُمْ فَذُوقُوهُ وَأَنَّ لِلْكَٰفِرِينَ عَذَابَ ٱلنَّارِ ١٤
যা-লিকুম ফাযূকূহু ওয়াআন্না লিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বান না-র
এটাই তোমাদের শাস্তি, অতএব তার স্বাদ গ্রহণ কর, কাফিরদের জন্য আছে আগুনের (জাহান্নামের) শাস্তি।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا لَقِيتُمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ زَحْفًۭا فَلَا تُوَلُّوهُمُ ٱلْأَدْبَارَ ١٥
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা লাকীতুমুল লাযীনা কাফারূ যাহফান ফালা তুওয়াল্লূহুমুল আদবা-র
হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন যোদ্ধা-বাহিনীরূপে কাফিরদের সম্মুখীন হও, তখন তাদেরকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে না।
وَمَن يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍۢ دُبُرَهُۥٓ إِلَّا مُتَحَرِّفًۭا لِّقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَىٰ فِئَةٍۢ فَقَدْ بَآءَ بِغَضَبٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ وَمَأْوَىٰهُ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ١٦
ওয়ামান ইউওয়াল্লিহিম ইয়াওমাইযিন দুবুরাহূ ইল্লা মুতাহার্রিফাল লিকিতা-লিন আও মুতাহাইয়্যিযান ইলা ফিআতিন ফাকাদ বা-আ বিগাদাবিম মিনাল্লা-হি ওয়ামা’ওয়া-হু জাহান্নামু ওয়াবি’সাল মাসীর
এমন দিনে যুদ্ধে কৌশল অবলম্বন বা নিজ দলের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কেউ তাদেরকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করলে সে তো আল্লাহর গজবে পরিবেষ্টিত হয়ে পড়ল, জাহান্নামই তার ঠিকানা আর তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।
فَلَمْ تَقْتُلُوهُمْ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ قَتَلَهُمْ ۚ وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ رَمَىٰ ۚ وَلِيُبْلِىَ ٱلْمُؤْمِنِينَ مِنْهُ بَلَآءً حَسَنًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ ١٧
ফালাম তাকতুলূহুম ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা কাতালাহুম ওয়ামা রামাইতা ইয রামাইতা ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা রামা ওয়ালিইউবলিয়াল মু’মিনীনা মিনহু বালা-আন হাসানা ইন্নাল্লা-হা সামী‘উন ‘আলীম
(আসল ব্যাপার হল) তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন, তুমি যখন নিক্ষেপ করছিলে তাতো তুমি নিক্ষেপ করনি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন যাতে তিনি মু’মিনদেরকে এক সুন্দরতম পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ করতে পারেন। আল্লাহ হলেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
ذَٰلِكُمْ وَأَنَّ ٱللَّهَ مُوهِنُ كَيْدِ ٱلْكَٰفِرِينَ ١٨
যা-লিকুম ওয়াআন্নাল্লা-হা মূহিনু কাইদিল কা-ফিরীন
আমার এ ব্যবস্থা তোমাদের জন্য, (আর কাফিরদের সম্পর্কে কথা এই যে) আল্লাহ কাফিরদের ষড়যন্ত্রকে অকেজো করে দেন।
إِن تَسْتَفْتِحُوا۟ فَقَدْ جَآءَكُمُ ٱلْفَتْحُ ۖ وَإِن تَنتَهُوا۟ فَهُوَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۖ وَإِن تَعُودُوا۟ نَعُدْ وَلَن تُغْنِىَ عَنكُمْ فِئَتُكُمْ شَيْـًۭٔا وَلَوْ كَثُرَتْ وَأَنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٩
ইন তাসতাফতিহূ ফাকাদ জা-আকুমুল ফাতহু ওয়াইন তানতাহূ ফাহুওয়া খাইরুল লাকুম ওয়াইন তা‘ঊদূ না‘উদ ওয়ালান তুগনিয়া ‘আনকুম ফিআতুকুম শাইআঁ ওয়ালাও কাছুরাত ওয়াআন্নাল্লা-হা মা‘আল মু’মিনীন
(ওহে কাফিরগণ!) তোমরা মীমাংসা চাচ্ছিলে, মীমাংসা তো তোমাদের কাছে এসে গেছে; আর যদি তোমরা (অন্যায় থেকে) বিরত হও, তবে তা তোমাদের জন্যই কল্যাণকর, তোমরা যদি আবার (অন্যায়) কর, আমিও আবার শাস্তি দিব, তোমাদের দল-বাহিনী সংখ্যায় অধিক হলেও তোমাদের কোন উপকারে আসবে না এবং আল্লাহ তো মু’মিনদের সঙ্গে আছেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَا تَوَلَّوْا۟ عَنْهُ وَأَنتُمْ تَسْمَعُونَ ٢٠
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ আতী‘উল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ওয়ালা তাওয়াল্লাও ‘আনহু ওয়াআনতুম তাসমা‘ঊন
ওহে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর এবং আদেশ শোনার পর তা অমান্য কর না।
وَلَا تَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ قَالُوا۟ سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ ٢١
ওয়ালা তাকূনূ কাল্লাযীনা কা-লূ সামি‘না ওয়াহুম লা ইয়াসমা‘ঊন
তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা বলেছিল, ‘আমরা শুনলাম’; প্রকৃতপক্ষে তারা শোনেনি।
۞ إِنَّ شَرَّ ٱلدَّوَآبِّ عِندَ ٱللَّهِ ٱلصُّمُّ ٱلْبُكْمُ ٱلَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ ٢٢
ইন্না শার্রাদ দাওয়া-ব্বি ‘ইনদাল্লা-হিস সুম্মুল বুকমুল লাযীনা লা ইয়া‘কিলূন
আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব হচ্ছে যারা (হক্ব কথা শুনার ব্যাপারে) বধির এবং (হক্ব কথা বলার ব্যাপারে) বোবা, যারা কিছুই বোঝে না।
وَلَوْ عَلِمَ ٱللَّهُ فِيهِمْ خَيْرًۭا لَّأَسْمَعَهُمْ ۖ وَلَوْ أَسْمَعَهُمْ لَتَوَلَّوا۟ وَّهُم مُّعْرِضُونَ ٢٣
ওয়ালাও ‘আলিমাল্লা-হু ফীহিম খাইরাল লাআসমা‘আহুম ওয়ালাও আসমা‘আহুম লাতাওয়াল্লাও ওয়াহুম মু‘রিদূন
আল্লাহ যদি দেখতেন যে, তাদের মধ্যে কোন ভাল গুণ নিহিত আছে তবে তিনি তাদেরকে শুনবার তাওফীক দিতেন। আর (গুণ না থাকা অবস্থায়) তিনি যদি তাদেরকে শুনতে দিতেন তাহলে তারা উপেক্ষা করে মুখ ফিরিয়ে নিত।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱسْتَجِيبُوا۟ لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ۖ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ ٱلْمَرْءِ وَقَلْبِهِۦ وَأَنَّهُۥٓ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ٢٤
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুসতাজীবূ লিল্লা-হি ওয়ালির্রাসূলি ইযা দা‘আ-কুম লিমা ইউহইয়ীকুম ওয়া‘লামূ আন-নাল্লা-হা ইয়াহূলু বাইনাল মারই ওয়াকালবিহী ওয়াআন্নাহূ ইলাইহি তুহশারূন
ওহে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তোমাদেরকে ডাকা হয় (এমন বিষয়ের দিকে) যা তোমাদের মাঝে জীবন সঞ্চার করে, আর জেনে রেখ যে আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে যান আর তোমাদেরকে তাঁর কাছেই একত্রিত করা হবে।
وَٱتَّقُوا۟ فِتْنَةًۭ لَّا تُصِيبَنَّ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مِنكُمْ خَآصَّةًۭ ۖ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ٢٥
ওয়াত্তাকূ ফিতনাতাল লা তুসীবান্নাল লাযীনা যালামূ মিনকুম খা-স্সাতাঁ ওয়া‘লামূ আন-নাল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব
সতর্ক থাক সেই শাস্তি হতে যা বিশেষভাবে তোমাদের যালিম লোকেদেরকেই আক্রমন করবে না। আর জেনে রেখ যে আল্লাহ শাস্তিদানে খুবই কঠোর।
وَٱذْكُرُوٓا۟ إِذْ أَنتُمْ قَلِيلٌۭ مُّسْتَضْعَفُونَ فِى ٱلْأَرْضِ تَخَافُونَ أَن يَتَخَطَّفَكُمُ ٱلنَّاسُ فَـَٔاوَىٰكُمْ وَأَيَّدَكُم بِنَصْرِهِۦ وَرَزَقَكُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ٢٦
ওয়াযকুরূ ইয আনতুম কালীলুম মুসতাদ‘আফূনা ফিল আরদি তাখা-ফূনা আন ইয়াতাখাত্তাফাকুমুন না-সু ফাআ-ওয়া-কুম ওয়াআইয়্যাদাকুম বিনাসরিহী ওয়ারাযাকাকুম মিনাত তাইয়্যিবা-তি লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন
স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন তোমরা ছিলে সংখ্যায় অল্প, দুনিয়াতে তোমাদেরকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হত। তোমরা আশঙ্কা করতে যে, মানুষেরা তোমাদের কখন না হঠাৎ ধরে নিয়ে যায়। এমন অবস্থায় তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দিলেন, তাঁর সাহায্য দিয়ে তোমাদেরকে শক্তিশালী করলেন, উত্তম জীবিকা দান করলেন যাতে তোমরা (তাঁর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَخُونُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ وَتَخُونُوٓا۟ أَمَٰنَٰتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ٢٧
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তাখূনুল্লা-হা ওয়ার্রাসূলা ওয়াতাখূনূ আমা-না-তিকুম ওয়াআনতুম তা‘লামূন
হে মু’মিনগণ! তোমরা জেনে বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না, আর যে বিষয়ে তোমরা আমানাত প্রাপ্ত হয়েছ তাতেও বিশ্বাস ভঙ্গ করো না।
وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّمَآ أَمْوَٰلُكُمْ وَأَوْلَٰدُكُمْ فِتْنَةٌۭ وَأَنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥٓ أَجْرٌ عَظِيمٌۭ ٢٨
ওয়া‘লামূ আন-নামা- আমওয়া-লুকুম ওয়াআওলা-দুকুম ফিতনাতুঁ ওয়াআন্নাল্লা-হা ‘ইনদাহূ আজরুন ‘আযীম
জেনে রেখ, তোমাদের ধন-সম্পদ আর সন্তান- সন্ততি হচ্ছে পরীক্ষার সামগ্রী মাত্র। (এ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে তাদের জন্য) আল্লাহর নিকট রয়েছে মহাপুরস্কার।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِن تَتَّقُوا۟ ٱللَّهَ يَجْعَل لَّكُمْ فُرْقَانًۭا وَيُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّـَٔاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ۗ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظِيمِ ٢٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইন তাত্তাকুল্লা-হা ইয়াজ‘আল লাকুম ফুরকা-নাঁ ওয়াইউকাফ্ফির ‘আনকুম সাইয়্যিআ-তিকুম ওয়ায়াগফির লাকুম ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আযীম
ওহে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর তাহলে তিনি তোমাদেরকে ভাল ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করার শক্তি প্রদান করবেন, তোমাদের দোষ-ত্রুটি দূর করে দিবেন, তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন, আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।
وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ ۚ وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ ٱللَّهُ ۖ وَٱللَّهُ خَيْرُ ٱلْمَٰكِرِينَ ٣٠
ওয়াইয ইয়ামকুরু বিকাল লাযীনা কাফারূ লিইউছবিতূকা আও ইয়াকতুলূকা আও ইউখরিজূক ওয়ায়ামকুরূনা ওয়ায়ামকুরুল্লা-হু ওয়াল্লা-হু খাইরুল মা-কিরীন
স্মরণ কর, সেই সময়ের কথা যখন কাফিরগণ তোমাকে বন্দী করার কিংবা হত্যা করার কিংবা দেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করে। তারা চক্রান্ত করে আর আল্লাহও কৌশল করেন। আল্লাহই হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী।
وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتُنَا قَالُوا۟ قَدْ سَمِعْنَا لَوْ نَشَآءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هَٰذَآ ۙ إِنْ هَٰذَآ إِلَّآ أَسَٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ ٣١
ওয়াইযা তুতলা ‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা কা-লূ কাদ সামি‘না লাও নাশা-উ লাকুলনা মিছলা হা-যা- ইন হা-যা- ইল্লা- আসা-তীরুল আওয়ালীন
তাদের কাছে যখন আমার আয়াত পাঠ করা হয় তখন তারা বলে, ‘শুনলাম তো, ইচ্ছে করলে এ রকম কথা আমরাও বলতে পারি, এগুলো তো আগে কালের কেচ্ছা কাহিনী ছাড়া আর কিছুই না।’
وَإِذْ قَالُوا۟ ٱللَّهُمَّ إِن كَانَ هَٰذَا هُوَ ٱلْحَقَّ مِنْ عِندِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةًۭ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ أَوِ ٱئْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍۢ ٣٢
ওয়াইয কা-লুল্লা-হুম্মা ইন কা-না হা-যা হুওয়াল হাক্কা মিন ‘ইনদিকা ফাআমতির ‘আলাইনা হিজা-রাতাম মিনাস সামা-ই আউই তিনা বি‘আযা-বিন আলীম
স্মরণ কর, যখন তারা বলেছিল, ‘হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার নিকট থেকে (প্রেরিত) সত্য (দ্বীন) হয় তাহলে আমাদের উপর আসমান থেকে পাথর বর্ষণ কর, কিংবা আমাদের উপর কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিয়ে এসো।’
وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنتَ فِيهِمْ ۚ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ ٣٣
ওয়ামা কা-নাল্লা-হু লিইউ‘আয্যিবাহুম ওয়াআনতা ফীহিম ওয়ামা কা-নাল্লা-হু মু‘আয্যিবাহুম ওয়াহুম ইয়াসতাগফিরূন
তুমি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এবং যখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে এরূপ অবস্থায়ও আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন না।
وَمَا لَهُمْ أَلَّا يُعَذِّبَهُمُ ٱللَّهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ وَمَا كَانُوٓا۟ أَوْلِيَآءَهُۥٓ ۚ إِنْ أَوْلِيَآؤُهُۥٓ إِلَّا ٱلْمُتَّقُونَ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ٣٤
ওয়ামা লাহুম আল্লা ইউ‘আয্যিবাহুমুল্লা-হু ওয়াহুম ইয়াসুদ্দূনা ‘আনিল মাসজিদিল হারা-মি ওয়ামা কা-নূ আওলিয়া-আহ ইন আওলিয়া-উহূ ইল্লাল মুত্তাকূনা ওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লা ইয়া‘লামূন
আল্লাহ যে তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এ ব্যাপারে ওজর পেশ করার জন্য তাদের কাছে কী আছে যখন তারা (মানুষদেরকে) মাসজিদুল হারাম-এর পথে বাধা দিচ্ছে? তারা তো ওর (প্রকৃত) মুতাওয়াল্লী নয়, মুত্তাকীরা ছাড়া কেউ তার মুতাওয়াল্লী হতে পারে না, কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক এ সম্পর্কে অবগত নয়।
وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِندَ ٱلْبَيْتِ إِلَّا مُكَآءًۭ وَتَصْدِيَةًۭ ۚ فَذُوقُوا۟ ٱلْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ ٣٥
ওয়ামা কা-না সালা-তুহুম ‘ইনদাল বাইতি ইল্লা মুকা-আঁ ওয়াতাসদিয়াহ ফাযূকুল ‘আযা-বা বিমা কুনতুম তাকফুরূন
আল্লাহর ঘরের নিকট তাদের নামায হাত তালি মারা আর শিশ দেয়া ছাড়া আর কিছুই না, (এসব অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিদেরকে বলা হবে) ‘‘আযাব ভোগ কর যেহেতু তোমরা কুফরীতে লিপ্ত ছিলে’’।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمْ لِيَصُدُّوا۟ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ ۚ فَسَيُنفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةًۭ ثُمَّ يُغْلَبُونَ ۗ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِلَىٰ جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ ٣٦
ইন্নাল লাযীনা কাফারূ ইউনফিকূনা আমওয়া-লাহুম লিয়াসুদ্দূ ‘আন সাবীলিল্লা-হ ফাসাইউনফিকূনাহা ছুম্মা তাকূনু ‘আলাইহিম হাসরাতান ছুম্মা ইউগলাবূন ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ইলা জাহান্নামা ইউহশারূন
যে সব লোক সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা আল্লাহর পথ হতে (লোকেদেরকে) বাধা দেয়ার জন্য তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে থাকে, তারা তা ব্যয় করতেই থাকবে, অতঃপর এটাই তাদের দুঃখ ও অনুশোচনার কারণ হবে। পরে তারা পরাজিতও হবে। যারা কুফরী করে তাদেরকে (অবশেষে) জাহান্নামের পানে একত্রিত করা হবে।
لِيَمِيزَ ٱللَّهُ ٱلْخَبِيثَ مِنَ ٱلطَّيِّبِ وَيَجْعَلَ ٱلْخَبِيثَ بَعْضَهُۥ عَلَىٰ بَعْضٍۢ فَيَرْكُمَهُۥ جَمِيعًۭا فَيَجْعَلَهُۥ فِى جَهَنَّمَ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ ٣٧
লিয়ামীযাল্লা-হুল খাবীছা মিনাত তাইয়্যিবি ওয়ায়াজ‘আলাল খাবীছা বা‘দাহূ ‘আলা বা‘দিন ফায়ারকুমাহূ জামী‘আন ফায়াজ‘আলাহূ ফী জাহান্নাম উলা-ইকা হুমুল খা-সিরূন
যাতে আল্লাহ পবিত্র থেকে অপবিত্রকে আলাদা করে দেন, অতঃপর অপবিত্রদের এককে অন্যের উপর রাখবেন, সকলকে স্তুপীকৃত করবেন; অতঃপর এই সমষ্টিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। এরাই হল সর্বস্বান্ত।
قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِن يَنتَهُوا۟ يُغْفَرْ لَهُم مَّا قَدْ سَلَفَ وَإِن يَعُودُوا۟ فَقَدْ مَضَتْ سُنَّتُ ٱلْأَوَّلِينَ ٣٨
কুল লিল্লাযীনা কাফারূ ইন ইয়ানতাহূ ইউগফার লাহুম মা কাদ সালাফা ওয়াইন ইয়া‘ঊদূ ফাকাদ মাদাত সুন্নাতুল আওয়ালীন
যারা কুফরী করে তাদেরকে বল, ‘তারা যদি নিবৃত্ত হয় তাহলে তারা পূর্বে যা করেছে তা ক্ষমা করা হবে, আর যদি (কুফরীর) পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে আগের লোকেদের (প্রতি অনুসৃত) নীতির দৃষ্টান্ত তো অতীতের পাতাতেই আছে।’
وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌۭ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِ ۚ فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌۭ ٣٩
ওয়াকা-তিলূহুম হাত্তা লা তাকূনা ফিতনাতুঁ ওয়ায়াকূনাদ দীনু কুল্লুহূ লিল্লা-হ ফাইনিনতাহাও ফাইন্নাল্লা-হা বিমা ইয়া‘মালূনা বাসীর
তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না ফিতনা (কুফর ও শিরক) খতম হয়ে যায় আর দ্বীন পুরোপুরিভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। অতঃপর তারা যদি বিরত হয় তাহলে তারা (ন্যায় বা অন্যায়) যা করে আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
وَإِن تَوَلَّوْا۟ فَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ مَوْلَىٰكُمْ ۚ نِعْمَ ٱلْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ ٱلنَّصِيرُ ٤٠
ওয়াইন তাওয়াল্লাও ফা‘লামূ আন-নাল্লা-হা মাওলা-কুম নি‘মাল মাওলা ওয়ানি‘মান নাসীর
আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে জেনে রেখ যে, আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক, কতই না উত্তম অভিভাবক! কতই না উত্তম সাহায্যকারী!