۞ وَٱلْمُحْصَنَٰتُ مِنَ ٱلنِّسَآءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُمْ ۖ كِتَٰبَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَآءَ ذَٰلِكُمْ أَن تَبْتَغُوا۟ بِأَمْوَٰلِكُم مُّحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَٰفِحِينَ ۚ فَمَا ٱسْتَمْتَعْتُم بِهِۦ مِنْهُنَّ فَـَٔاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةًۭ ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَٰضَيْتُم بِهِۦ مِنۢ بَعْدِ ٱلْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًۭا ٢٤
ওয়ালমুহসানা-তু মিনান নিসা-ই ইল্লা মা মালাকাত আইমা-নুকুম কিতা-বাল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়াউহিল্লা লাকুম মা ওয়ারা-আ যা-লিকুম আন তাবতাগূ বিআমওয়া-লিকুম মুহসিনীনা গাইরা মুসা-ফিহীন ফামাসতামতা‘তুম বিহী মিনহুন্না ফাআ-তূহুন্না উজূরাহুন্না ফারীদাহ ওয়ালা জুনা-হা ‘আলাইকুম ফীমা তারা-দাইতুম বিহী মিম বা‘দিল ফারীদাহ ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলীমান হাকীমা
নারীদের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নারীগণও তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, কিন্তু তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বাদে, আল্লাহ এসব ব্যবস্থা তোমাদের উপর ফরয করে দিয়েছেন। তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ নারীদের ছাড়া অন্যান্য সকল নারীদেরকে মোহরের অর্থের বদলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। অতঃপর তাদের মধ্যে যাদের তোমরা সম্ভোগ করেছ, তাদেরকে তাদের ধার্যকৃত মোহর প্রদান কর। তোমাদের প্রতি কোনও গুনাহ নেই মোহর ধার্যের পরও তোমরা উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে মোহরের পরিমাণে হেরফের করলে, নিশ্চয় আল্লাহ সবিশেষ পরিজ্ঞাত ও পরম কুশলী।
وَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ مِنكُمْ طَوْلًا أَن يَنكِحَ ٱلْمُحْصَنَٰتِ ٱلْمُؤْمِنَٰتِ فَمِن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُم مِّن فَتَيَٰتِكُمُ ٱلْمُؤْمِنَٰتِ ۚ وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَٰنِكُم ۚ بَعْضُكُم مِّنۢ بَعْضٍۢ ۚ فَٱنكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَءَاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِٱلْمَعْرُوفِ مُحْصَنَٰتٍ غَيْرَ مُسَٰفِحَٰتٍۢ وَلَا مُتَّخِذَٰتِ أَخْدَانٍۢ ۚ فَإِذَآ أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَٰحِشَةٍۢ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى ٱلْمُحْصَنَٰتِ مِنَ ٱلْعَذَابِ ۚ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِىَ ٱلْعَنَتَ مِنكُمْ ۚ وَأَن تَصْبِرُوا۟ خَيْرٌۭ لَّكُمْ ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ٢٥
ওয়ামাল লাম ইয়াসতাতি‘ মিনকুম তাওলান আন ইয়ানকিহাল মুহসানা-তিল মু’মিনা-তি ফামিম মা মালাকাত আইমা-নুকুম মিন ফাতায়া-তিকুমুল মু’মিনা-ত ওয়াল্লা-হু আ‘লামু বিঈমা-নিকুম বা‘দুকুম মিম বা‘দ ফানকিহূহুন্না বিইযনি আহলিহিন্না ওয়াআ-তূহুন্না উজূরাহুন্না বিলমা‘রূফি মুহসানা-তিন গাইরা মুসা-ফিহা-তিঁ ওয়ালা মুত্তাখিযা-তি আখদা-ন ফাইযা- উহসিন্না ফাইন আতাইনা বিফা-হিশাতিন ফা‘আলাইহিন্না নিসফু মা ‘আলাল মুহসানা-তি মিনাল ‘আযা-ব যা-লিকা লিমান খাশিয়াল ‘আনাতা মিনকুম ওয়াআন তাসবিরূ খাইরুল লাকুম ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম
তোমাদের যে ব্যক্তির স্বাধীনা মু’মিন নারী বিবাহের ক্ষমতা না থাকে, সে যেন তোমাদের অধীনস্থ মু’মিনা দাসী বিবাহ করে এবং আল্লাহ বিশেষরূপে তোমাদের ঈমানকে জানেন। তোমাদের একজন অন্যজন থেকে উদ্ভূত, কাজেই তাদেরকে বিয়ে কর তাদের মালিকের অনুমতি নিয়ে, ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের মহর তাদেরকে দিয়ে দাও, তারা হবে সচ্চরিত্রা, ব্যভিচারিণী নয়, উপপতি গ্রহণকারিণীও নয়। বিবাহের দূর্গে সুরক্ষিত হওয়ার পর তারা যদি ব্যভিচার করে, তবে তাদের শাস্তি আজাদ নারীদের অর্ধেক; এ ব্যবস্থা তার জন্য তোমাদের যে ব্যক্তি (অবিবাহিত থাকার কারণে) ব্যভিচারের ভয় করে। ধৈর্য ধারণ করা তোমাদের পক্ষে উত্তম এবং আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ ٢٦
ইউরীদুল্লা-হু লিইউবাইয়্যিনা লাকুম ওয়ায়াহদিয়াকুম সুনানাল লাযীনা মিন কাবলিকুম ওয়ায়াতূবা ‘আলাইকুম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম
আল্লাহ ইচ্ছে করেন তোমাদের নিকট সবিস্তারে বর্ণনা করতে তোমাদের আগেকার লোকেদের নিয়মনীতি তোমাদের দেখানোর গ্রহণের জন্য, আর তোমাদেরকে ক্ষমা করার জন্য; বস্তুতঃ আল্লাহ সুপরিজ্ঞাত, পরম কুশলী।
وَٱللَّهُ يُرِيدُ أَن يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ ٱلَّذِينَ يَتَّبِعُونَ ٱلشَّهَوَٰتِ أَن تَمِيلُوا۟ مَيْلًا عَظِيمًۭا ٢٧
ওয়াল্লা-হু ইউরীদু আন ইয়াতূবা ‘আলাইকুম ওয়াইউরীদুল লাযীনা ইয়াত্তাবি‘ঊনাশ শাহাওয়া-তি আন তামীলূ মাইলান ‘আযীমা
আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান, পক্ষান্তরে কুপ্রবৃত্তির অনুসারীরা চায় যে, তোমরা (আল্লাহর নিকট হতে) দূরে বহু দূরে সরে যাও।
يُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُخَفِّفَ عَنكُمْ ۚ وَخُلِقَ ٱلْإِنسَٰنُ ضَعِيفًۭا ٢٨
ইউরীদুল্লা-হু আন ইউখাফ্ফিফা ‘আনকুম ওয়াখুলিকাল ইনসা-নু দা‘ঈফা
আল্লাহ তোমাদের ভার লঘু করতে চান, কারণ মানুষকে দুর্বলরূপে সৃষ্টি করা হয়েছে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَأْكُلُوٓا۟ أَمْوَٰلَكُم بَيْنَكُم بِٱلْبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٍۢ مِّنكُمْ ۚ وَلَا تَقْتُلُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًۭا ٢٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তা’কুলূ আমওয়া-লাকুম বাইনাকুম বিলবা-তিলি ইল্লা- আন তাকূনা তিজা-রাতান ‘আন তারা-দিম মিনকুম ওয়ালা তাকতুলূ আনফুসাকুম ইন্নাল্লা-হা কা-না বিকুম রাহীমা
হে ঈমানদারগণ! তোমরা অন্যায়ভাবে একে অন্যের সম্পদ গ্রাস করো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসায় বৈধ এবং নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনো না কিংবা তোমরা পরস্পরকে হত্যা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি কৃপাময়।
وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ عُدْوَٰنًۭا وَظُلْمًۭا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًۭا ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرًا ٣٠
ওয়ামান ইয়াফ‘আল যা-লিকা ‘উদওয়া-নাঁ ওয়াযুলমান ফাসাওফা নুসলীহি না-রা ওয়াকা-না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াসীরা
যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন ক’রে অন্যায়ভাবে এটা করবে, তাকে আমি অতিসত্বর অগ্নিতে দগ্ধ করব, এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।
إِن تَجْتَنِبُوا۟ كَبَآئِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّـَٔاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًۭا كَرِيمًۭا ٣١
ইন তাজতানিবূ কাবা-ইরা মা তুনহাওনা ‘আনহু নুকাফ্ফির ‘আনকুম সাইয়্যিআ-তিকুম ওয়ানুদখিলকুম মুদখালান কারীমা
যদি তোমরা নিষিদ্ধ কাজের বড় বড় গুলো হতে বিরত থাক, তাহলে আমি তোমাদের ছোট ছোট পাপগুলো ক্ষমা ক’রে দেব এবং তোমাদেরকে এক মহামর্যাদার স্থানে প্রবেশ করাব।
وَلَا تَتَمَنَّوْا۟ مَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بِهِۦ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ ۚ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌۭ مِّمَّا ٱكْتَسَبُوا۟ ۖ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٌۭ مِّمَّا ٱكْتَسَبْنَ ۚ وَسْـَٔلُوا۟ ٱللَّهَ مِن فَضْلِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمًۭا ٣٢
ওয়ালা তাতামান্নাও মা ফাদ্দালাল্লা-হু বিহী বা‘দাকুম ‘আলা বা‘দ লির্রিজা-লি নাসীবুম মিম্মাকতাসাবূ ওয়ালিন্নিসা-ই নাসীবুম মিম্মাকতাসাবন ওয়াসআলুল্লা-হা মিন ফাদলিহ ইন্নাল্লা-হা কা-না বিকুল্লি শাইইন ‘আলীমা
তোমরা তা কামনা করো না যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা প্রদান করেছেন। পুরুষেরা তাদের কৃতকার্যের অংশ পাবে, নারীরাও তাদের কৃতকর্মের অংশ পাবে এবং তোমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ কামনা কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।
وَلِكُلٍّۢ جَعَلْنَا مَوَٰلِىَ مِمَّا تَرَكَ ٱلْوَٰلِدَانِ وَٱلْأَقْرَبُونَ ۚ وَٱلَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَٰنُكُمْ فَـَٔاتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ شَهِيدًا ٣٣
ওয়ালিকুল্লিন জা‘আলনা মাওয়া-লিয়া মিম্মা তারাকাল ওয়া-লিদা-নি ওয়ালআকরাবূন ওয়াল্লাযীনা ‘আকাদাত আইমা-নুকুম ফাআ-তূহুম নাসীবাহুম ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলা কুল্লি শাইইন শাহীদা
মাতা-পিতা ও স্বজনদের রেখে যাওয়া সম্পদে আমি প্রত্যেক উত্তরাধিকারের অংশ স্থির করেছি এবং যাদের সঙ্গে তোমাদের অঙ্গীকার রয়েছে, কাজেই তাদেরকে তাদের অংশ প্রদান কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী।
ٱلرِّجَالُ قَوَّٰمُونَ عَلَى ٱلنِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ وَبِمَآ أَنفَقُوا۟ مِنْ أَمْوَٰلِهِمْ ۚ فَٱلصَّٰلِحَٰتُ قَٰنِتَٰتٌ حَٰفِظَٰتٌۭ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُ ۚ وَٱلَّٰتِى تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَٱهْجُرُوهُنَّ فِى ٱلْمَضَاجِعِ وَٱضْرِبُوهُنَّ ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا۟ عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيًّۭا كَبِيرًۭا ٣٤
আর-রিজা-লু কাওয়া-মূনা ‘আলান নিসা-ই বিমা ফাদ্দালাল্লা-হু বা‘দাহুম ‘আলা বা‘দিঁ ওয়াবিমা- আনফাকূ মিন আমওয়া-লিহিম ফাস্সা-লিহা-তু কা-নিতা-তুন হা-ফিযা-তুল লিলগাইবি বিমা হাফিযাল্লা-হ ওয়াল্লা-তী তাখা-ফূনা নুশূযাহুন্না ফা‘ইযূহুন্না ওয়াহজুরূহুন্না ফিল মাদা-জি‘ই ওয়াদরিবূহুন্না ফাইন আতা‘নাকুম ফালা তাবগূ ‘আলাইহিন্না সাবীলা ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলিয়্যান কাবীরা
পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের এককে অন্যের উপর মর্যাদা প্রদান করেছেন, আর এজন্য যে, পুরুষেরা স্বীয় ধন-সম্পদ হতে ব্যয় করে। ফলে পুণ্যবান স্ত্রীরা (আল্লাহ ও স্বামীর প্রতি) অনুগতা থাকে এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে তারা তা (অর্থাৎ তাদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) সংরক্ষণ করে যা আল্লাহ সংরক্ষণ করতে আদেশ দিয়েছেন। যদি তাদের মধ্যে অবাধ্যতার সম্ভাবনা দেখতে পাও, তাদেরকে সদুপদেশ দাও এবং তাদের সাথে শয্যা বন্ধ কর এবং তাদেরকে (সঙ্গতভাবে) প্রহার কর, অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তাহলে তাদের উপর নির্যাতনের বাহানা খোঁজ করো না, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বোচ্চ, সর্বশ্রেষ্ঠ।
وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَٱبْعَثُوا۟ حَكَمًۭا مِّنْ أَهْلِهِۦ وَحَكَمًۭا مِّنْ أَهْلِهَآ إِن يُرِيدَآ إِصْلَٰحًۭا يُوَفِّقِ ٱللَّهُ بَيْنَهُمَآ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًۭا ٣٥
ওয়াইন খিফতুম শিকা-কা বাইনিহিমা ফাব‘আছূ হাকামাম মিন আহলিহী ওয়াহাকামাম মিন আহলিহা- ইন ইউরীদা- ইসলা-হাঁ ইউওয়াফ্ফিকিল্লা-হু বাইনাহুমা- ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলীমান খাবীরা
যদি তোমরা তাদের মধ্যে অনৈক্যের আশংকা কর, তবে স্বামীর আত্মীয়-স্বজন হতে একজন এবং স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন হতে একজন সালিস নিযুক্ত কর। যদি উভয়ে মীমাংসা করিয়ে দেয়ার ইচ্ছে করে, তবে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন, নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন, সকল কিছুর খবর রাখেন।
۞ وَٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا۟ بِهِۦ شَيْـًۭٔا ۖ وَبِٱلْوَٰلِدَيْنِ إِحْسَٰنًۭا وَبِذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَٱلْجَارِ ذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْجَارِ ٱلْجُنُبِ وَٱلصَّاحِبِ بِٱلْجَنۢبِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالًۭا فَخُورًا ٣٦
ওয়া‘বুদুল্লা-হা ওয়ালা তুশরিকূ বিহী শাইআঁ ওয়াবিলওয়া-লিদাইনি ইহসা-নাঁ ওয়াবিযিল কুরবা ওয়ালইয়াতা-মা ওয়ালমাসা-কীনি ওয়ালজা-রি যিল কুরবা ওয়ালজা-রিল জুনুবি ওয়াস্সা-হিবি বিলজামবি ওয়াবনিস সাবীলি ওয়ামা মালাকাত আইমা-নুকুম ইন্নাল্লা-হা লা ইউহিব্বু মান কা-না মুখতা-লান ফাখূরা
তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, কিছুকেই তাঁর শরীক করো না এবং মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের আয়ত্তাধীন দাস-দাসীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ লোককে ভালবাসেন না, যে অহংকারী, দাম্ভিক।
ٱلَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلْبُخْلِ وَيَكْتُمُونَ مَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ ۗ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَٰفِرِينَ عَذَابًۭا مُّهِينًۭا ٣٧
আল্লাযীনা ইয়াবখালূনা ওয়ায়া’মুরূনান না-সা বিলবুখলি ওয়ায়াকতুমূনা মা- আ-তা-হুমুল্লা-হু মিন ফাদলিহ ওয়াআ‘তাদনা লিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বাম মুহীনা
যারা কৃপণতা করে অধিকন্তু লোকেদেরকেও কার্পণ্য করার আদেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তা গোপন করে, (ঐসব) কাফিরদের জন্য আমি লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
وَٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمْ رِئَآءَ ٱلنَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَلَا بِٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ ۗ وَمَن يَكُنِ ٱلشَّيْطَٰنُ لَهُۥ قَرِينًۭا فَسَآءَ قَرِينًۭا ٣٨
ওয়াল্লাযীনা ইউনফিকূনা আমওয়া-লাহুম রিআ-আন না-সি ওয়ালা ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ালা বিলইয়াওমিল আ-খির ওয়ামান ইয়াকুনিশ শাইতা-নু লাহূ কারীনান ফাসা-আ কারীনা
(আর সেসব লোককেও আল্লাহ পছন্দ করেন না) যারা মানুষকে দেখানোর জন্য নিজেদের ধন-সম্পদ খরচ করে এবং আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর বিশ্বাস রাখে না। শয়ত্বান কারো সঙ্গী হলে সে সঙ্গী কতই না জঘন্য!
وَمَاذَا عَلَيْهِمْ لَوْ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَأَنفَقُوا۟ مِمَّا رَزَقَهُمُ ٱللَّهُ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِهِمْ عَلِيمًا ٣٩
ওয়ামা-যা ‘আলাইহিম লাও আ-মানূ বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি ওয়াআনফাকূ মিম্মা রাযাকাহুমুল্লা-হ ওয়াকা-নাল্লা-হু বিহিম ‘আলীমা
তাদের কী ক্ষতি হত যদি তারা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর ঈমান আনত, আর আল্লাহ তাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তাত্থেকে ব্যয় করত, বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের বিষয় খুব জ্ঞাত আছেন।
إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍۢ ۖ وَإِن تَكُ حَسَنَةًۭ يُضَٰعِفْهَا وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًۭا ٤٠
ইন্নাল্লা-হা লা ইয়াযলিমু মিছকা-লা যার্রাতিঁ ওয়াইন তাকু হাসানাতাঁ ইউদা-‘ইফহা ওয়াইউ’তি মিল লাদুনহু আজরান ‘আযীমা
আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলম করেন না, আর কোন পুণ্য কাজ হলে তাকে তিনি দ্বিগুণ করেন এবং নিজের নিকট হতেও বিরাট পুরস্কার দান করেন।
فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍۭ بِشَهِيدٍۢ وَجِئْنَا بِكَ عَلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ شَهِيدًۭا ٤١
ফাকাইফা ইযা জি’না মিন কুল্লি উম্মাতিম বিশাহীদিঁ ওয়াজি’না বিকা ‘আলা হা-উলা-ই শাহীদা
সুতরাং তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য হতে এক একজনকে সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকেও হাজির করব তাদের উপর সাক্ষ্য দানের জন্য।
يَوْمَئِذٍۢ يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَعَصَوُا۟ ٱلرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّىٰ بِهِمُ ٱلْأَرْضُ وَلَا يَكْتُمُونَ ٱللَّهَ حَدِيثًۭا ٤٢
ইয়াওমাইযিঁ ইয়াওয়াদ্দুল লাযীনা কাফারূ ওয়া‘আসাউর রাসূলা লাও তুসাওয়া বিহিমুল আরদু ওয়ালা ইয়াকতুমূনাল্লা-হা হাদীছা
যারা অস্বীকার করেছে এবং রসূল-এর নাফরমানী করেছে, তারা সে দিন কামনা করবে, হায়! তারা যদি মাটির সাথে মিশে যেত এবং তারা আল্লাহ হতে কোন কথাই লুকিয়ে রাখতে পারবে না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَقْرَبُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنتُمْ سُكَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا۟ مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِى سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا۟ ۚ وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰٓ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَآءَ أَحَدٌۭ مِّنكُم مِّنَ ٱلْغَآئِطِ أَوْ لَٰمَسْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَلَمْ تَجِدُوا۟ مَآءًۭ فَتَيَمَّمُوا۟ صَعِيدًۭا طَيِّبًۭا فَٱمْسَحُوا۟ بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا ٤٣
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তাকরাবুস সালা-তা ওয়াআনতুম সুকা-রা হাত্তা তা‘লামূ মা তাকূলূনা ওয়ালা জুনুবান ইল্লা ‘আ-বিরী সাবীলিন হাত্তা তাগতাসিলূ ওয়াইন কুনতুম মারদা- আও ‘আলা সাফারিন আও জা-আ আহাদুম মিনকুম মিনাল গা-ইতি আও লা-মাসতুমুন নিসা-আ ফালাম তাজিদূ মা-আন ফাতায়াম্মামূ সা‘ঈদান তাইয়্যিবান ফামসাহূ বিউজূহিকুম ওয়াআইদীকুম ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আফুওয়ান গাফূরা
হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সলাতের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা যা বল, তা বুঝতে পার এবং অপবিত্র অবস্থায়ও (সলাতের কাছে যেও না) গোসল না করা পর্যন্ত (মসজিদে) পথ অতিক্রম করা ব্যতীত; এবং যদি তোমরা পীড়িত হও কিংবা সফরে থাক; অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান হতে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সঙ্গম করে থাক, অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর, আর তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় মাসহ কর; আল্লাহ নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ نَصِيبًۭا مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ يَشْتَرُونَ ٱلضَّلَٰلَةَ وَيُرِيدُونَ أَن تَضِلُّوا۟ ٱلسَّبِيلَ ٤٤
আলাম তারা ইলাল লাযীনা ঊতূ নাসীবাম মিনাল কিতা-বি ইয়াশতারূনাদ দালা-লাতা ওয়াইউরীদূনা আন তাদিল্লুস সাবীল
তুমি কি সেই লোকেদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যাদেরকে কিতাবের অংশ দেয়া হয়েছিল? তারা নিজেরা পথভ্রষ্টতার সওদা করে আর তারা চায় তোমরাও পথভ্রষ্ট হয়ে যাও।
وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَآئِكُمْ ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَلِيًّۭا وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ نَصِيرًۭا ٤٥
ওয়াল্লা-হু আ‘লামু বিআ‘দা-ইকুম ওয়াকাফা বিল্লা-হি ওয়ালিয়্যাঁ ওয়াকাফা বিল্লা-হি নাসীরা
আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে ভালভাবে জানেন, অভিভাবক হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
مِّنَ ٱلَّذِينَ هَادُوا۟ يُحَرِّفُونَ ٱلْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِۦ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَٱسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍۢ وَرَٰعِنَا لَيًّۢا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًۭا فِى ٱلدِّينِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَٱسْمَعْ وَٱنظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًۭا لَّهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَٰكِن لَّعَنَهُمُ ٱللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًۭا ٤٦
মিনাল লাযীনা হা-দূ ইউহার্রিফূনাল কালিমা ‘আম মাওয়া-দি‘ইহী ওয়ায়াকূলূনা সামি‘না ওয়া‘আসাইনা ওয়াসমা‘ গাইরা মুসমা‘ইঁ ওয়ারা-‘ইনা লাইয়্যাম বিআলসিনাতিহিম ওয়াতা‘নান ফিদ দীন ওয়ালাও আন-নাহুম কা-লূ সামি‘না ওয়াআতা‘না ওয়াসমা‘ ওয়ানযুরনা লাকা-না খাইরাল লাহুম ওয়াআকওয়ামা ওয়ালা-কিল লা‘আনাহুমুল্লা-হু বিকুফরিহিম ফালা ইউ’মিনূনা ইল্লা কালীলা
ইয়াহূদীদের কতক লোক কথাকে প্রকৃত স্থান থেকে সরিয়ে বিকৃত করে এবং বলে, ‘আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম’ এবং শুনেও না শোনার মত আর নিজেদের জিহবা কুঞ্চিত ক’রে এবং দ্বীনের প্রতি দোষারোপ ক’রে বলে, ‘রাইনা’ (আমাদের রাখাল)। কিন্তু তারা যদি বলত ‘আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম, শোন এবং আমাদের প্রতি লক্ষ্য কর, তবে তা তাদের জন্য উত্তম এবং সঙ্গত হত, কিন্তু তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদেরকে লা‘নত করেছেন, তারা স্বল্পসংখ্যক ব্যতীত ঈমান আনবে না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ ءَامِنُوا۟ بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًۭا لِّمَا مَعَكُم مِّن قَبْلِ أَن نَّطْمِسَ وُجُوهًۭا فَنَرُدَّهَا عَلَىٰٓ أَدْبَارِهَآ أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّآ أَصْحَٰبَ ٱلسَّبْتِ ۚ وَكَانَ أَمْرُ ٱللَّهِ مَفْعُولًا ٤٧
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা আ-মিনূ বিমা নায্যালনা মুসাদ্দিকাল লিমা মা‘আকুম মিন কাবলি আন নাতমিসা উজূহান ফানারুদ্দাহা ‘আলা- আদবা-রিহা- আও নাল‘আনাহুম কামা লা‘আন্না- আসহা-বাস সাবত ওয়াকা-না আমরুল্লা-হি মাফ‘ঊলা
ওহে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, আমি যা নাযিল করেছি, তার উপর তোমরা ঈমান আন, যা তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক আমি তোমাদের মুখগুলোকে বিকৃত করে সেগুলোকে পিছনের দিকে ফিরিয়ে দেয়ার পূর্বে (ঈমান আন), কিংবা শনিবারওয়ালাদেরকে যেমন অভিসম্পাত করেছিলাম, এদেরকেও তেমনি অভিসম্পাত করার পূর্বে। বস্তুতঃ আল্লাহর হুকুম কার্যকরী হয়েই থাকে।
إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِۦ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱفْتَرَىٰٓ إِثْمًا عَظِيمًا ٤٨
ইন্নাল্লা-হা লা ইয়াগফিরু আন ইউশরাকা বিহী ওয়ায়াগফিরু মা দূনা যা-লিকা লিমান ইয়াশা-আ ওয়ামান ইউশরিক বিল্লা-হি ফাকাদিফতারা- ইছমান ‘আযীমা
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করবেন না। এটা ছাড়া অন্য সব যাকে ইচ্ছে মাফ করবেন এবং যে আল্লাহর সাথে শরীক করল, সে এক মহা অপবাদ আরোপ করল।
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يُزَكُّونَ أَنفُسَهُم ۚ بَلِ ٱللَّهُ يُزَكِّى مَن يَشَآءُ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلًا ٤٩
আলাম তারা ইলাল লাযীনা ইউযাক্কূনা আনফুসাহুম বালিল্লা-হু ইউযাক্কী মান ইয়াশা-উ ওয়ালা ইউযলামূনা ফাতীলা
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা নিজেদেরকে পবিত্র ব’লে দাবী করে? বরং আল্লাহ্ই যাকে ইচ্ছে পবিত্র করেন। (কেউ প্রকৃতই পবিত্রতা অর্জন করলে তা অগ্রাহ্য করতঃ) তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও অন্যায় করা হবে না।
ٱنظُرْ كَيْفَ يَفْتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ ۖ وَكَفَىٰ بِهِۦٓ إِثْمًۭا مُّبِينًا ٥٠
উনযুর কাইফা ইয়াফতারূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ওয়াকাফা বিহী ইছমাম মুবীনা
দেখ, এরা আল্লাহর সম্বন্ধে কেমন মিথ্যে রচনা করে, সুস্পষ্ট গুনাহের জন্য এটাই যথেষ্ট।
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ نَصِيبًۭا مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ يُؤْمِنُونَ بِٱلْجِبْتِ وَٱلطَّٰغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ هَٰٓؤُلَآءِ أَهْدَىٰ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ سَبِيلًا ٥١
আলাম তারা ইলাল লাযীনা ঊতূ নাসীবাম মিনাল কিতা-বি ইউ’মিনূনা বিলজিবতি ওয়াত্তা-গূতি ওয়ায়াকূলূনা লিল্লাযীনা কাফারূ হা-উলা-ই আহদা মিনাল লাযীনা আ-মানূ সাবীলা
যারা কিতাবের জ্ঞানের একাংশ প্রদত্ত হয়েছে, সেই লোকদের প্রতি তুমি কি লক্ষ্য করনি, তারা অমূলক যাদু, প্রতিমা ও তাগূতের প্রতি বিশ্বাস করে এবং কাফিরদের সম্বন্ধে বলে যে তারা মু’মিনগণের তুলনায় অধিক সঠিক পথে রয়েছে।
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَعَنَهُمُ ٱللَّهُ ۖ وَمَن يَلْعَنِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ نَصِيرًا ٥٢
উলা-ইকাল লাযীনা লা‘আনাহুমুল্লা-হু ওয়ামান ইয়াল‘আনিল্লা-হু ফালান তাজিদা লাহূ নাসীরা
এরা সেই লোক, যাদেরকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন এবং যাকে আল্লাহ অভিশাপ দেন, তুমি কক্ষনো তার সাহায্যকারী পাবে না।
أَمْ لَهُمْ نَصِيبٌۭ مِّنَ ٱلْمُلْكِ فَإِذًۭا لَّا يُؤْتُونَ ٱلنَّاسَ نَقِيرًا ٥٣
আম লাহুম নাসীবুম মিনাল মুলকি ফাইযাল লা ইউ’তূনান না-সা নাকীরা
তাদের কি শাসন ক্ষমতায় কোন অংশ আছে? তা থাকলে তারা লোকেদেরকে তিল পরিমাণও দিত না।
أَمْ يَحْسُدُونَ ٱلنَّاسَ عَلَىٰ مَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ ۖ فَقَدْ ءَاتَيْنَآ ءَالَ إِبْرَٰهِيمَ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَءَاتَيْنَٰهُم مُّلْكًا عَظِيمًۭا ٥٤
আম ইয়াহসুদূনান না-সা ‘আলা মা- আ-তা-হুমুল্লা-হু মিন ফাদলিহী ফাকাদ আ-তাইনা- আ-লা ইবরা-হীমাল কিতা-বা ওয়ালহিকমাতা ওয়াআ-তাইনা-হুম মুলকান ‘আযীমা
কিংবা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে লোকেদেরকে যেসব নি‘মাত দান করেছেন, সেজন্য কি এরা তাদের হিংসা করে, আমি ইবরাহীমের বংশধরদেরকেও তো কিতাব ও হিকমাত দিয়েছিলাম, তাদেরকে সুবিশাল রাজ্যও প্রদান করেছিলাম।
فَمِنْهُم مَّنْ ءَامَنَ بِهِۦ وَمِنْهُم مَّن صَدَّ عَنْهُ ۚ وَكَفَىٰ بِجَهَنَّمَ سَعِيرًا ٥٥
ফামিনহুম মান আ-মানা বিহী ওয়ামিনহুম মান সাদ্দা ‘আনহ ওয়াকাফা বিজাহান্নামা সা‘ঈরা
অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার উপর ঈমান আনল এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখল, (দগ্ধ করার জন্য) প্রজ্জ্বলিত জাহান্নামই যথেষ্ট।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا سَوْفَ نُصْلِيهِمْ نَارًۭا كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُم بَدَّلْنَٰهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا۟ ٱلْعَذَابَ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَزِيزًا حَكِيمًۭا ٥٦
ইন্নাল লাযীনা কাফারূ বিআ-য়া-তিনা সাওফা নুসলীহিম না-রান কুল্লামা নাদিজাত জুলূদুহুম বাদ্দালনা-হুম জুলূদান গাইরাহা লিয়াযূকুল ‘আযা-ব ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আযীযান হাকীমা
যারা আমার আয়াতসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে আগুনে দগ্ধ করব, যখন তাদের গায়ের চামড়া দগ্ধ হবে, আমি সেই চামড়াকে নতুন চামড়া দ্বারা বদলে দেব যেন তারা (শাস্তির পর) শাস্তি ভোগ করে। আল্লাহ নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী ও বিজ্ঞানময়।
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًۭا ۖ لَّهُمْ فِيهَآ أَزْوَٰجٌۭ مُّطَهَّرَةٌۭ ۖ وَنُدْخِلُهُمْ ظِلًّۭا ظَلِيلًا ٥٧
ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি সানুদখিলুহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা- আবাদাল লাহুম ফীহা- আযওয়া-জুম মুতাহ্হারাতুঁ ওয়ানুদখিলুহুম যিল্লান যালীলা
যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করব যার নিম্নে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরবাসী হবে, তাতে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র স্ত্রী এবং আমি তাদেরকে চির স্নিগ্ধ ঘন ছায়ায় দাখিল করব।
۞ إِنَّ ٱللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا۟ ٱلْأَمَٰنَٰتِ إِلَىٰٓ أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ ٱلنَّاسِ أَن تَحْكُمُوا۟ بِٱلْعَدْلِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ سَمِيعًۢا بَصِيرًۭا ٥٨
ইন্নাল্লা-হা ইয়া’মুরুকুম আন তুআদ্দুল আমা-না-তি ইলা- আহলিহা ওয়াইযা হাকামতুম বাইনান না-সি আন তাহকুমূ বিল‘আদল ইন্নাল্লা-হা নি‘ইম্মা ইয়া‘ইযুকুম বিহ ইন্নাল্লা-হা কা-না সামী‘আম বাসীরা
নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন, হকদারদের হক তাদের কাছে পৌঁছে দিতে। তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচার করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে কত উত্তম উপদেশই না দিচ্ছেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَأُو۟لِى ٱلْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ فَإِن تَنَٰزَعْتُمْ فِى شَىْءٍۢ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌۭ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا ٥٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ আতী‘উল্লা-হা ওয়াআতী‘উর রাসূলা ওয়াউলিল আমরি মিনকুম ফাইন তানা-যা‘তুম ফী শাইইন ফারুদ্দূহু ইলাল্লা-হি ওয়ার্রাসূলি ইন কুনতুম তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খির যা-লিকা খাইরুঁ ওয়াআহসানু তা’উঈলা
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত হও এবং রসূলের অনুগত হও এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তিগণের; যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সেই বিষয়কে আল্লাহ এবং রসূলের (নির্দেশের) দিকে ফিরিয়ে দাও যদি তোমরা আল্লাহ এবং আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাক; এটাই উত্তম এবং সুন্দরতম মর্মকথা।
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ ءَامَنُوا۟ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوٓا۟ إِلَى ٱلطَّٰغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوٓا۟ أَن يَكْفُرُوا۟ بِهِۦ وَيُرِيدُ ٱلشَّيْطَٰنُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَٰلًۢا بَعِيدًۭا ٦٠
আলাম তারা ইলাল লাযীনা ইয়ায‘উমূনা আন-নাহুম আ-মানূ বিমা- উনযিলা ইলাইকা ওয়ামা- উনযিলা মিন কাবলিকা ইউরীদূনা আন ইয়াতাহা-কামূ ইলাত তা-গূতি ওয়াকাদ উমিরূ আন ইয়াকফুরূ বিহী ওয়াইউরীদুশ শাইতা-নু আন ইউদিল্লাহুম দালা-লাম বা‘ঈদা
তুমি কি সেই লোকেদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ কিতাবের এবং তোমার আগে অবতীর্ণ কিতাবের উপর ঈমান এনেছে বলে দাবী করে, কিন্তু তাগূতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, অথচ তাকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, শয়ত্বান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে বহুদূরে নিয়ে যেতে চায়।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا۟ إِلَىٰ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ وَإِلَى ٱلرَّسُولِ رَأَيْتَ ٱلْمُنَٰفِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُودًۭا ٦١
ওয়াইযা কীলা লাহুম তা‘আ-লাও ইলা মা- আনযালাল্লা-হু ওয়াইলার রাসূলি রাআইতাল মুনা-ফিকীনা ইয়াসুদ্দূনা ‘আনকা সুদূদা
যখন তাদেরকে বলা হয়- তোমরা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবের এবং রসূলের দিকে এসো, তখন তুমি ঐ মুনাফিকদেরকে দেখবে, তারা তোমা হতে ঘৃণা ভরে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
فَكَيْفَ إِذَآ أَصَٰبَتْهُم مُّصِيبَةٌۢ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَآءُوكَ يَحْلِفُونَ بِٱللَّهِ إِنْ أَرَدْنَآ إِلَّآ إِحْسَٰنًۭا وَتَوْفِيقًا ٦٢
ফাকাইফা ইযা- আসা-বাতহুম মুসীবাতুম বিমা কাদ্দামাত আইদীহিম ছুম্মা জা-ঊকা ইয়াহলিফূনা বিল্লা-হি ইন আরাদনা- ইল্লা- ইহসা-নাঁ ওয়াতাওফীকা
যখন তাদের কৃতকার্যের জন্য তাদের উপর বিপদ আপতিত হবে, তখন কী অবস্থা হবে? তখন তারা আল্লাহর নামে শপথ করতে করতে তোমার কাছে এসে বলবে, ‘আমরা সদ্ভাব ও সম্প্রীতি ছাড়া অন্য কিছু চাইনি।’
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يَعْلَمُ ٱللَّهُ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِىٓ أَنفُسِهِمْ قَوْلًۢا بَلِيغًۭا ٦٣
উলা-ইকাল লাযীনা ইয়া‘লামুল্লা-হু মা ফী কুলূবিহিম ফাআ‘রিদ ‘আনহুম ওয়া‘ইযহুম ওয়াকুল লাহুম ফী আনফুসিহিম কাওলাম বালীগা
তারা সেই লোক, যাদের অন্তরস্থিত বিষয়ে আল্লাহ পরিজ্ঞাত, কাজেই তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর, তাদেরকে সদুপদেশ দান কর, আর তাদেরকে এমন কথা বল যা তাদের অন্তর স্পর্শ করে।
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ جَآءُوكَ فَٱسْتَغْفَرُوا۟ ٱللَّهَ وَٱسْتَغْفَرَ لَهُمُ ٱلرَّسُولُ لَوَجَدُوا۟ ٱللَّهَ تَوَّابًۭا رَّحِيمًۭا ٦٤
ওয়ামা- আরসালনা মির রাসূলিন ইল্লা লিইউতা-‘আ বিইযনিল্লা-হ ওয়ালাও আন-নাহুম ইয যালামূ আনফুসাহুম জা-ঊকা ফাসতাগফারুল্লা-হা ওয়াসতাগফারা লাহুমুর রাসূলু লাওয়াজাদুল্লা-হা তাওয়া-বার রাহীমা
আমি রসূল এ উদ্দেশেই প্রেরণ করেছি, যেন আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হয়। যখন তারা নিজেদের উপর যুলম করেছিল, তখন যদি তোমার নিকট চলে আসত আর আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হত এবং রসূলও তাদের পক্ষে ক্ষমা চাইত, তাহলে তারা আল্লাহকে নিরতিশয় তাওবাহ কবূলকারী ও পরম দয়ালুরূপে পেত।
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا۟ فِىٓ أَنفُسِهِمْ حَرَجًۭا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا۟ تَسْلِيمًۭا ٦٥
ফালা ওয়ারাব্বিকা লা ইউ’মিনূনা হাত্তা ইউহাক্কিমূকা ফীমা শাজারা বাইনাহুম ছুম্মা লা ইয়াজিদূ ফী আনফুসিহিম হারাজাম মিম্মা কাদাইতা ওয়াইউসাল্লিমূ তাসলীমা
কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু’মিন হবে না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের বিবাদ-বিসম্বাদের মীমাংসার ভার তোমার উপর ন্যস্ত না করে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কিছু মাত্র কুণ্ঠাবোধ না থাকে, আর তারা তার সামনে নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সমর্পণ করে।
وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ ٱقْتُلُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ أَوِ ٱخْرُجُوا۟ مِن دِيَٰرِكُم مَّا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌۭ مِّنْهُمْ ۖ وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا۟ مَا يُوعَظُونَ بِهِۦ لَكَانَ خَيْرًۭا لَّهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًۭا ٦٦
ওয়ালাও আন-না কাতাবনা ‘আলাইহিম আনিকতুলূ আনফুসাকুম আউইখরুজূ মিন দিয়া-রিকুম মা ফা‘আলূহু ইল্লা কালীলুম মিনহুম ওয়ালাও আন-নাহুম ফা‘আলূ মা ইউ‘আযূনা বিহী লাকা-না খাইরাল লাহুম ওয়াআশাদ্দা তাছবীতা
যদি আমি তাদের প্রতি ফরয করে দিতাম যে তোমরা নিজেদেরকে হত্যা কর, কিংবা নিজেদের দেশ থেকে বেরিয়ে যাও, তবে স্বল্পসংখ্যক লোক ছাড়া কেউ তা পালন করত না, যা করতে তাদেরকে উপদেশ দেয়া হয় তা যদি তারা পালন করত, তবে তা তাদের পক্ষে কল্যাণকর হত এবং দৃঢ় চিত্ততার কারণ হত।
وَإِذًۭا لَّءَاتَيْنَٰهُم مِّن لَّدُنَّآ أَجْرًا عَظِيمًۭا ٦٧
ওয়াইযাল লাআ-তাইনা-হুম মিল লাদুন্না- আজরান ‘আযীমা
সে অবস্থায় অবশ্যই আমি তাদেরকে আমার নিকট হতে মহাপুরস্কার দান করতাম।
وَلَهَدَيْنَٰهُمْ صِرَٰطًۭا مُّسْتَقِيمًۭا ٦٨
ওয়ালাহাদাইনা-হুম সিরা-তাম মুসতাকীমা
এবং তাদেরকে অবশ্যই সঠিক পথ প্রদর্শন করতাম।
وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ مَعَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّۦنَ وَٱلصِّدِّيقِينَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَٱلصَّٰلِحِينَ ۚ وَحَسُنَ أُو۟لَٰٓئِكَ رَفِيقًۭا ٦٩
ওয়ামান ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়ার্রাসূলা ফাউলা-ইকা মা‘আল লাযীনা আন‘আমাল্লা-হু ‘আলাইহিম মিনান নাবিয়্যীনা ওয়াস্সিদ্দীকীনা ওয়াশ্শুহাদা-ই ওয়াস্সা-লিহীন ওয়াহাসুনা উলা-ইকা রাফীকা
যারা আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করে, তারা নাবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং নেককার লোকদের সঙ্গী হবে, যাদের প্রতি আল্লাহ নি‘মাত দান করেছেন, তারা কতই না উত্তম সঙ্গী!
ذَٰلِكَ ٱلْفَضْلُ مِنَ ٱللَّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ عَلِيمًۭا ٧٠
যা-লিকাল ফাদলু মিনাল্লা-হ ওয়াকাফা বিল্লা-হি ‘আলীমা
এটা আল্লাহর পক্ষ হতে অনুগ্রহ, সর্বজ্ঞ হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ خُذُوا۟ حِذْرَكُمْ فَٱنفِرُوا۟ ثُبَاتٍ أَوِ ٱنفِرُوا۟ جَمِيعًۭا ٧١
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ খুযূ হিযরাকুম ফানফিরূ ছুবা-তিন আউইনফিরূ জামী‘আ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা সতর্কতা অবলম্বন কর এবং দলে দলে ভাগ হয়ে কিংবা মিলিতভাবে অগ্রসর হও।
وَإِنَّ مِنكُمْ لَمَن لَّيُبَطِّئَنَّ فَإِنْ أَصَٰبَتْكُم مُّصِيبَةٌۭ قَالَ قَدْ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَىَّ إِذْ لَمْ أَكُن مَّعَهُمْ شَهِيدًۭا ٧٢
ওয়াইন্না মিনকুম লামাল লাইউবাত্তিআন্না ফাইন আসা-বাতকুম মুসীবাতুন কা-লা কাদ আন‘আমাল্লা-হু ‘আলাইয়্যা ইয লাম আকুম মা‘আহুম শাহীদা
এবং তোমাদের কেউ কেউ নিশ্চয়ই পশ্চাতে সরে থাকবে, অতঃপর তোমাদের উপর কোন বিপদ আসলে সে বলবে, ‘আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম না।’
وَلَئِنْ أَصَٰبَكُمْ فَضْلٌۭ مِّنَ ٱللَّهِ لَيَقُولَنَّ كَأَن لَّمْ تَكُنۢ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُۥ مَوَدَّةٌۭ يَٰلَيْتَنِى كُنتُ مَعَهُمْ فَأَفُوزَ فَوْزًا عَظِيمًۭا ٧٣
ওয়ালাইন আসা-বাকুম ফাদলুম মিনাল্লা-হি লায়াকূলান্না কাআল লাম তাকুম বাইনাকুম ওয়াবাইনাহূ মাওয়াদ্দাতুঁ ইয়া-লাইতানী কুনতু মা‘আহুম ফাআফূযা ফাওযান ‘আযীমা
আর যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ হয়, তবে যেন তোমাদের ও তাদের মধ্যে কোন প্রকারের সম্পর্ক ছিল না, এমনিভাবে অবশ্যই বলে উঠবে, ‘হায় পরিতাপ! আমিও যদি তাদের সঙ্গে থাকতাম তাহলে মহা সাফল্য লাভ করতাম।’
۞ فَلْيُقَٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يَشْرُونَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا بِٱلْءَاخِرَةِ ۚ وَمَن يُقَٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًۭا ٧٤
ফালইউকা-তিল ফী সাবীলিল্লা-হিল লাযীনা ইয়াশরূনাল হায়া-তাদ দুনইয়া বিলআ-খিরাহ ওয়ামান ইউকা-তিল ফী সাবীলিল্লা-হি ফাইউকতাল আও ইয়াগলিব ফাসাওফা নু’তীহি আজরান ‘আযীমা
সুতরাং যারা আখেরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবন বিক্রয় করে তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করুক এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, অতঃপর সে নিহত হোক অথবা বিজয়ী হোক, অচিরেই আমি তাকে মহা প্রতিফল দান করব।
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلْوِلْدَٰنِ ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ ٱلْقَرْيَةِ ٱلظَّالِمِ أَهْلُهَا وَٱجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّۭا وَٱجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا ٧٥
ওয়ামা লাকুম লা তুকা-তিলূনা ফী সাবীলিল্লা-হি ওয়ালমুসতাদ‘আফীনা মিনার রিজা-লি ওয়ান্নিসা-ই ওয়ালউইলদা-নিল লাযীনা ইয়াকূলূনা রাব্বানা- আখরিজনা মিন হা-যিহিল কারইয়াতিয যা-লিমি আহলুহা ওয়াজ‘আল লানা মিল লাদুনকা ওয়ালিয়্যাঁ ওয়াজ‘আল লানা মিল লাদুনকা নাসীরা
তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নারী-পুরুষ আর শিশুদের (রক্ষার) জন্য লড়াই করবে না, যারা দু‘আ করছে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ যালিম অধ্যূষিত জনপথ হতে মুক্তি দাও, তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের বন্ধু বানিয়ে দাও এবং তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের সাহায্যকারী করে দাও।’
ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱلطَّٰغُوتِ فَقَٰتِلُوٓا۟ أَوْلِيَآءَ ٱلشَّيْطَٰنِ ۖ إِنَّ كَيْدَ ٱلشَّيْطَٰنِ كَانَ ضَعِيفًا ٧٦
আল্লাযীনা আ-মানূ ইউকা-তিলূনা ফী সাবীলিল্লা-হি ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ইউকা-তিলূনা ফী সাবীলিত তা-গূতি ফাকা-তিলূ আওলিয়া-আশ শাইতা-নি ইন্না কাইদাশ শাইতা-নি কা-না দা‘ঈফা
ঈমানদারগণ আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে আর যারা কাফির তারা তাগুতের পথে যুদ্ধ করে। কাজেই তোমরা শায়ত্বনের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, শায়ত্বনের ফন্দি অবশ্যই দুর্বল।
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوٓا۟ أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ ٱلْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌۭ مِّنْهُمْ يَخْشَوْنَ ٱلنَّاسَ كَخَشْيَةِ ٱللَّهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةًۭ ۚ وَقَالُوا۟ رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَيْنَا ٱلْقِتَالَ لَوْلَآ أَخَّرْتَنَآ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ قَرِيبٍۢ ۗ قُلْ مَتَٰعُ ٱلدُّنْيَا قَلِيلٌۭ وَٱلْءَاخِرَةُ خَيْرٌۭ لِّمَنِ ٱتَّقَىٰ وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيلًا ٧٧
আলাম তারা ইলাল লাযীনা কীলা লাহুম কুফ্ফূ আইদিয়াকুম ওয়াআকীমুস সালা-তা ওয়াআ-তুয যাকা-তা ফালাম্মা কুতিবা ‘আলাইহিমুল কিতা-লু ইযা ফারীকুম মিনহুম ইয়াখশাওনান না-সা কাখাশইয়াতিল্লা-হি আও আশাদ্দা খাশইয়াহ ওয়াকা-লূ রাব্বানা লিমা কাতাবতা ‘আলাইনাল কিতা-লা লাওলা- আখ-খারতানা- ইলা- আজালিন কারীব কুল মাতা-‘উদ দুনইয়া কালীলুঁ ওয়ালআ-খিরাতু খাইরুল লিমানিত তাকা ওয়ালা তুযলামূনা ফাতীলা
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখ, নামায কায়িম কর এবং যাকাত দাও? অতঃপর যখন তাদের প্রতি জিহাদ ফরয করা হল, তখন তাদের একদল মানুষকে এমন ভয় করতে লাগল যেমন আল্লাহকে ভয় করা উচিত, বরং তার চেয়েও বেশী এবং বলতে লাগল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! কেন আমাদের প্রতি জিহাদ ফরয করলে, আমাদেরকে আরও কিছু অবসর দিলে না কেন?’ বল, ‘পার্থিব ভোগ সামান্য, যে তাকওয়া অবলম্বন করে তার জন্য আখিরাতই উত্তম, তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অন্যায় করা হবে না।’
أَيْنَمَا تَكُونُوا۟ يُدْرِككُّمُ ٱلْمَوْتُ وَلَوْ كُنتُمْ فِى بُرُوجٍۢ مُّشَيَّدَةٍۢ ۗ وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌۭ يَقُولُوا۟ هَٰذِهِۦ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ ۖ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌۭ يَقُولُوا۟ هَٰذِهِۦ مِنْ عِندِكَ ۚ قُلْ كُلٌّۭ مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ ۖ فَمَالِ هَٰٓؤُلَآءِ ٱلْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًۭا ٧٨
আইনামা তাকূনূ ইউদরিক্কুমুল মাওতু ওয়ালাও কুনতুম ফী বুরূজিম মুশাইয়্যাদাহ ওয়াইন তুসিবহুম হাসানাতুঁ ইয়াকূলূ হা-যিহী মিন ‘ইনদিল্লা-হি ওয়াইন তুসিবহুম সাইয়্যিআতুঁ ইয়াকূলূ হা-যিহী মিন ‘ইনদিক কুল কুল্লুম মিন ‘ইনদিল্লা-হি ফামা-লি হা-উলা-ইল কাওমি লা ইয়াকা-দূনা ইয়াফকাহূনা হাদীছা
তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদেরকে পেয়ে বসবেই, যদিও তোমরা সুউচ্চ সুদৃঢ় দূর্গ মধ্যে অবস্থান কর। যদি তাদের কোন কল্যাণ ঘটে, তখন তারা বলে, এটা আল্লাহর তরফ হতে। পক্ষান্তরে যদি তাদের কোন অকল্যাণ ঘটে তখন বলে, ‘এটা তো তোমার তরফ হতে।’ বল, ‘সবকিছুই আল্লাহর তরফ হতে।’ এ সম্প্রদায়ের হল কী যে, তারা কোন কথাই বুঝে না।
مَّآ أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍۢ فَمِنَ ٱللَّهِ ۖ وَمَآ أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍۢ فَمِن نَّفْسِكَ ۚ وَأَرْسَلْنَٰكَ لِلنَّاسِ رَسُولًۭا ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدًۭا ٧٩
মা- আসা-বাকা মিন হাসানাতিন ফামিনাল্লা-হি ওয়ামা- আসা-বাকা মিন সাইয়্যিআতিন ফামিন নাফসিক ওয়াআরসালনা-কা লিন্না-সি রাসূলা ওয়াকাফা বিল্লা-হি শাহীদা
তোমার কোন কল্যাণ হলে তা হয় আল্লাহর তরফ হতে এবং তোমার যে কোন অকল্যাণ হলে তা হয় তোমার নিজের কারণে এবং আমি তোমাকে মানুষের জন্য রসূলরূপে প্রেরণ করেছি, (এ কথার) সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ ٱللَّهَ ۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرْسَلْنَٰكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًۭا ٨٠
মান ইউতি‘ইর রাসূলা ফাকাদ আতা-‘আল্লা-হা ওয়ামান তাওয়াল্লা ফামা- আরসালনা-কা ‘আলাইহিম হাফীযা
যে রসূলের আনুগত্য করল, সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল, কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে (জোরপূর্বক তাকে সৎপথে আনার জন্য) আমি তোমাকে তাদের প্রতি পাহারাদার করে পাঠাইনি।
وَيَقُولُونَ طَاعَةٌۭ فَإِذَا بَرَزُوا۟ مِنْ عِندِكَ بَيَّتَ طَآئِفَةٌۭ مِّنْهُمْ غَيْرَ ٱلَّذِى تَقُولُ ۖ وَٱللَّهُ يَكْتُبُ مَا يُبَيِّتُونَ ۖ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِيلًا ٨١
ওয়ায়াকূলূনা তা-‘আতুন ফাইযা বারাযূ মিন ‘ইনদিকা বাইয়্যাতা তা-ইফাতুম মিনহুম গাইরাল লাযী তাকূলু ওয়াল্লা-হু ইয়াকতুবু মা ইউবাইয়্যিতূনা ফাআ‘রিদ ‘আনহুম ওয়াতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হ ওয়াকাফা বিল্লা-হি ওয়াকীলা
তারা মুখেই আনুগত্য করে, কিন্তু যখন তোমার নিকট থেকে চলে যায়, তখন তাদের মধ্যে একটা দল রাত্রিবেলা একত্রিত হয়ে তোমার কথার বিরুদ্ধে সলা পরামর্শ করে, আল্লাহ তাদের রাত্রিকালীন মন্ত্রণাগুলো লিখে রাখছেন, কাজেই তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করো না, আল্লাহর উপর ভরসা কর এবং আল্লাহ্ই কর্মবিধায়ক হিসেবে যথেষ্ট।
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلْقُرْءَانَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ ٱللَّهِ لَوَجَدُوا۟ فِيهِ ٱخْتِلَٰفًۭا كَثِيرًۭا ٨٢
আফালা ইয়াতাদাব্বারূনাল কুরআ-ন ওয়ালাও কা-না মিন ‘ইনদি গাইরিল্লা-হি লাওয়াজাদূ ফীহিখতিলা-ফান কাছীরা
তারা কি কুরআনের মর্ম বিষয়ে চিন্তে-ভাবনা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট হতে আসত, তবে তাতে তারা অবশ্যই বহু অসঙ্গতি পেত।
وَإِذَا جَآءَهُمْ أَمْرٌۭ مِّنَ ٱلْأَمْنِ أَوِ ٱلْخَوْفِ أَذَاعُوا۟ بِهِۦ ۖ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى ٱلرَّسُولِ وَإِلَىٰٓ أُو۟لِى ٱلْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ ٱلَّذِينَ يَسْتَنۢبِطُونَهُۥ مِنْهُمْ ۗ وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُۥ لَٱتَّبَعْتُمُ ٱلشَّيْطَٰنَ إِلَّا قَلِيلًۭا ٨٣
ওয়াইযা জা-আহুম আমরুম মিনাল আমনি আউইল খাওফি আযা-‘ঊ বিহী ওয়ালাও রাদ্দূহু ইলার রাসূলি ওয়াইলা- উলিল আমরি মিনহুম লা‘আলিমাহুল লাযীনা ইয়াসতামবিতূনাহূ মিনহুম ওয়ালাওলা ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়ারাহমাতুহূ লাত্তাবা‘তুমুশ শাইতা-না ইল্লা কালীলা
যখন তাদের নিকট নিরাপত্তার কিংবা ভয়ের কোন সংবাদ আসে তখন তারা তা রটিয়ে দেয়। যদি তারা তা রসূলের কিংবা তাদের মধ্যে যারা ক্ষমতার অধিকারী তাদের গোচরে আনত, তবে তাদের মধ্য হতে তথ্যানুসন্ধানীগণ প্রকৃত তথ্য জেনে নিত। যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর দয়া ও করুণা না থাকত তবে তোমাদের অল্প সংখ্যক ছাড়া সকলেই শায়ত্বনের অনুসরণ করত।
فَقَٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ ۚ وَحَرِّضِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ۖ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَكُفَّ بَأْسَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ۚ وَٱللَّهُ أَشَدُّ بَأْسًۭا وَأَشَدُّ تَنكِيلًۭا ٨٤
ফাকা-তিল ফী সাবীলিল্লা-হি লা তুকাল্লাফু ইল্লা নাফসাক ওয়াহার্রিদিল মু’মিনীনা ‘আসাল্লা-হু আন ইয়াকুফ্ফা বা’সাল লাযীনা কাফারূ ওয়াল্লা-হু আশাদ্দু বা’সাঁ ওয়াআশাদ্দু তানকীলা
কাজেই আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর, তোমাকে শুধু তোমার নিজের জন্য দায়ী করা হবে, মু’মিনদের উদ্বুদ্ধ কর, হতে পারে যে আল্লাহ কাফিরদের শক্তি সংযত করবেন এবং আল্লাহ শক্তিতে অতি প্রবল, শাস্তিদানে অতি কঠোর।
مَّن يَشْفَعْ شَفَٰعَةً حَسَنَةًۭ يَكُن لَّهُۥ نَصِيبٌۭ مِّنْهَا ۖ وَمَن يَشْفَعْ شَفَٰعَةًۭ سَيِّئَةًۭ يَكُن لَّهُۥ كِفْلٌۭ مِّنْهَا ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ مُّقِيتًۭا ٨٥
মান ইয়াশফা‘ শাফা-‘আতান হাসানাতাঁ ইয়াকুল লাহূ নাসীবুম মিনহা ওয়ামান ইয়াশফা‘ শাফা-‘আতান সাইয়্যিআতাঁ ইয়াকুল লাহূ কিফলুম মিনহা ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলা কুল্লি শাইইম মুকীতা
যে ব্যক্তি ভাল কাজের জন্য সুপারিশ করবে, তার জন্য তাতে (সাওয়াবের) অংশ আছে এবং যে মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে, তার জন্য তাতে অংশ আছে, আল্লাহ সকল বিষয়ে খোঁজ রাখেন।
وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍۢ فَحَيُّوا۟ بِأَحْسَنَ مِنْهَآ أَوْ رُدُّوهَآ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ حَسِيبًا ٨٦
ওয়াইযা হুইয়্যীতুম বিতাহিয়্যাতিন ফাহাইয়্যূ বিআহসানা মিনহা- আও রুদ্দূহা- ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলা কুল্লি শাইইন হাসীবা
যখন তোমাদেরকে সসম্মানে সালাম প্রদান করা হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তমরূপে জওয়াবী সালাম দাও কিংবা (কমপক্ষে) অনুরূপভাবে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ (ক্ষুদ্র-বৃহৎ) সকল বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।
ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۗ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ ٱللَّهِ حَدِيثًۭا ٨٧
আল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা হুও লায়াজমা‘আন্নাকুম ইলা ইয়াওমিল কিয়া-মাতি লা রাইবা ফীহ ওয়ামান আসদাকু মিনাল্লা-হি হাদীছা
আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তিনি ক্বিয়ামাত দিবসে সকলকে একত্র করবেনই, এতে কোনই সন্দেহ নেই, আল্লাহ অপেক্ষা আর কার কথা অধিক সত্য হতে পারে?
۞ فَمَا لَكُمْ فِى ٱلْمُنَٰفِقِينَ فِئَتَيْنِ وَٱللَّهُ أَرْكَسَهُم بِمَا كَسَبُوٓا۟ ۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَهْدُوا۟ مَنْ أَضَلَّ ٱللَّهُ ۖ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ سَبِيلًۭا ٨٨
ফামা লাকুম ফিল মুনা-ফিকীনা ফিআতাইনি ওয়াল্লা-হু আরকাসাহুম বিমা কাসাবূ আতুরীদূনা আন তাহদূ মান আদাল্লাল্লা-হু ওয়ামান ইউদলিলিল্লা-হু ফালান তাজিদা লাহূ সাবীলা
তোমাদের কী হল যে, মুনাফিকদের ব্যাপারে (কী নীতি অবলম্বন করা হবে সে বিষয়ে) তোমরা দু’ দলে বিভক্ত হয়ে গেলে? বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের এ কার্যকলাপের কারণে তাদেরকে উল্টা মুখে ফিরিয়ে দিয়েছেন (ইসলাম থেকে আবার কুফরের দিকে)। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তোমরা কি তাকে সুপথ দেখাতে চাও? বস্তুতঃ আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কক্ষনো পথ খুঁজে পাবে না।
وَدُّوا۟ لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا۟ فَتَكُونُونَ سَوَآءًۭ ۖ فَلَا تَتَّخِذُوا۟ مِنْهُمْ أَوْلِيَآءَ حَتَّىٰ يُهَاجِرُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَخُذُوهُمْ وَٱقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ ۖ وَلَا تَتَّخِذُوا۟ مِنْهُمْ وَلِيًّۭا وَلَا نَصِيرًا ٨٩
ওয়াদ্দূ লাও তাকফুরূনা কামা কাফারূ ফাতাকূনূনা সাওয়া-আন ফালা তাত্তাখিযূ মিনহুম আওলিয়া-আ হাত্তা ইউহা-জিরূ ফী সাবীলিল্লা-হ ফাইন তাওয়াল্লাও ফাখুযূহুম ওয়াকতুলূহুম হাইছু ওয়াজাত্তুমূহুম ওয়ালা তাত্তাখিযূ মিনহুম ওয়ালিয়্যাঁ ওয়ালা নাসীরা
তারা আকাঙ্ক্ষা করে যে, তারা নিজেরা যেমন কুফরী করেছে, তোমরাও তেমনি কুফরী কর, যাতে তোমরা তাদের সমান হয়ে যাও। কাজেই তাদের মধ্য হতে কাউকেও বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত তারা আল্লাহর পথে হিজরত না করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তাদেরকে গ্রেফতার কর এবং যেখানেই তাদেরকে পাও, হত্যা কর। তাদের মধ্য হতে কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী গ্রহণ করো না।
إِلَّا ٱلَّذِينَ يَصِلُونَ إِلَىٰ قَوْمٍۭ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُم مِّيثَٰقٌ أَوْ جَآءُوكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ أَن يُقَٰتِلُوكُمْ أَوْ يُقَٰتِلُوا۟ قَوْمَهُمْ ۚ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَسَلَّطَهُمْ عَلَيْكُمْ فَلَقَٰتَلُوكُمْ ۚ فَإِنِ ٱعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقَٰتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْا۟ إِلَيْكُمُ ٱلسَّلَمَ فَمَا جَعَلَ ٱللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلًۭا ٩٠
ইল্লাল লাযীনা ইয়াসিলূনা ইলা কাওমিম বাইনাকুম ওয়াবাইনাহুম মীছা-কুন আও জা-ঊকুম হাসিরাত সুদূরুহুম আন ইউকা-তিলূকুম আও ইউকা-তিলূ কাওমাহুম ওয়ালাও শা-আল্লা-হু লাসাল্লাতাহুম ‘আলাইকুম ফালাকা-তালূকুম ফাইনি‘তাযালূকুম ফালাম ইউকা-তিলূকুম ওয়াআলকাও ইলাইকুমুস সালামা ফামা জা‘আলাল্লা-হু লাকুম ‘আলাইহিম সাবীলা
কিন্তু (সে সব মুনাফিক এ কথার মধ্যে শামিল নয়) যারা তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন জাতির সঙ্গে গিয়ে মিলিত হয়। তেমনি (তারাও এর মধ্যে শামিল নয়) যারা তোমার কাছে আসে আর তারা ঝগড়া-বিবাদে উৎসাহী নয়, তারা না তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায়, না নিজের জাতির বিরুদ্ধে। আল্লাহ যদি ইচ্ছে করতেন, তবে তাদেরকে তোমাদের উপর প্রবল করে দিতেন, সে অবস্থায় তারা নিশ্চয় তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত। কাজেই তারা যদি তোমাদের হতে সরে থাকে, তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে ও তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব করে, তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা অবলম্বনের পথ রাখেননি।
سَتَجِدُونَ ءَاخَرِينَ يُرِيدُونَ أَن يَأْمَنُوكُمْ وَيَأْمَنُوا۟ قَوْمَهُمْ كُلَّ مَا رُدُّوٓا۟ إِلَى ٱلْفِتْنَةِ أُرْكِسُوا۟ فِيهَا ۚ فَإِن لَّمْ يَعْتَزِلُوكُمْ وَيُلْقُوٓا۟ إِلَيْكُمُ ٱلسَّلَمَ وَيَكُفُّوٓا۟ أَيْدِيَهُمْ فَخُذُوهُمْ وَٱقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ ۚ وَأُو۟لَٰٓئِكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَيْهِمْ سُلْطَٰنًۭا مُّبِينًۭا ٩١
সাতাজিদূনা আ-খারীনা ইউরীদূনা আন ইয়া’মানূকুম ওয়ায়া’মানূ কাওমাহুম কুল্লা মা রুদ্দূ ইলাল ফিতনাতি উরকিসূ ফীহা ফাইল লাম ইয়া‘তাযিলূকুম ওয়াইউলকূ ইলাইকুমুস সালামা ওয়ায়াকুফ্ফূ আইদিয়াহুম ফাখুযূহুম ওয়াকতুলূহুম হাইছু ছাকিফতুমূহুম ওয়াউলা-ইকুম জা‘আলনা লাকুম ‘আলাইহিম সুলতা-নাম মুবীনা
অচিরেই তোমরা কতক লোককে এমনও পাবে, যারা তোমাদের কাছ থেকেও নিরাপদ থাকতে চায়, তাদের নিজ সম্প্রদায় থেকেও নিরাপদ থাকতে চায়, যখন তাদেরকে ফিতনার দিকে মনোনিবেশ করানো হয় তখন তাতেই জড়িয়ে পড়ে। কাজেই যদি তারা তোমাদের শত্রুতা হতে সরে না যায় এবং তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব না করে এবং তাদের হস্ত সংবরণ না করে, তবে তাদেরকে গ্রেফতার কর আর যেখানেই পাও হত্যা কর, এরাই হচ্ছে সেই সব লোক তোমাদেরকে যাদের বিরুদ্ধাচরণের স্পষ্ট অধিকার দিয়েছি।
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَن يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلَّا خَطَـًۭٔا ۚ وَمَن قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَـًۭٔا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍۢ مُّؤْمِنَةٍۢ وَدِيَةٌۭ مُّسَلَّمَةٌ إِلَىٰٓ أَهْلِهِۦٓ إِلَّآ أَن يَصَّدَّقُوا۟ ۚ فَإِن كَانَ مِن قَوْمٍ عَدُوٍّۢ لَّكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌۭ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍۢ مُّؤْمِنَةٍۢ ۖ وَإِن كَانَ مِن قَوْمٍۭ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُم مِّيثَٰقٌۭ فَدِيَةٌۭ مُّسَلَّمَةٌ إِلَىٰٓ أَهْلِهِۦ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍۢ مُّؤْمِنَةٍۢ ۖ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ تَوْبَةًۭ مِّنَ ٱللَّهِ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًۭا ٩٢
ওয়ামা কা-না লিমু’মিনিন আন ইয়াকতুলা মু’মিনান ইল্লা খাতাআ ওয়ামান কাতালা মু’মিনান খাতাআন ফাতাহরীরু রাকাবাতিম মু’মিনাতিঁ ওয়াদিয়াতুম মুসাল্লামাতুন ইলা- আহলিহী ইল্লা- আন ইয়াস্সাদ্দাকূ ফাইন কা-না মিন কাওমিন ‘আদুউইল লাকুম ওয়াহুওয়া মু’মিনুন ফাতাহরীরু রাকাবাতিম মু’মিনাতিঁ ওয়াইন কা-না মিন কাওমিম বাইনাকুম ওয়াবাইনাহুম মীছা-কুন ফাদিয়াতুম মুসাল্লামাতুন ইলা- আহলিহী ওয়াতাহরীরু রাকাবাতিম মু’মিনাতিন ফামাল লাম ইয়াজিদ ফাসিয়া-মু শাহরাইনি মুতাতা-বি‘আইনি তাওবাতাম মিনাল্লা-হ ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা
কোন মু’মিনকে হত্যা করা কোন মু’মিনের কাজ নয় তবে ভুলবশত হতে পারে, কেউ কোন মু’মিনকে ভুলক্রমে হত্যা করলে, একজন মু’মিন দাস মুক্ত করা বা তার পরিবারবর্গকে রক্তপণ দেয়া কর্তব্য, যদি না তারা ক্ষমা করে দেয়। যদি সে তোমাদের শত্রুপক্ষের লোক হয় এবং মু’মিন হয় তবে একজন মু’মিন গোলাম আযাদ করা কর্তব্য, আর যদি সে এমন গোত্রের লোক হয় যাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে চুক্তি রয়েছে তবে তার পরিবারকে রক্তপণ দেয়া এবং একজন মু’মিন গোলাম আযাদ করা কর্তব্য এবং যে ব্যক্তি সঙ্গতিহীন সে একাদিক্রমে দু’ মাস রোযা পালন করবে। এটাই হল আল্লাহর নিকট তাওবাহ করার ব্যবস্থা, আল্লাহ মহাজ্ঞানী, সুবিজ্ঞ।
وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًۭا مُّتَعَمِّدًۭا فَجَزَآؤُهُۥ جَهَنَّمُ خَٰلِدًۭا فِيهَا وَغَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُۥ وَأَعَدَّ لَهُۥ عَذَابًا عَظِيمًۭا ٩٣
ওয়ামান ইয়াকতুল মু’মিনাম মুতা‘আম্মিদান ফাজাযা-উহূ জাহান্নামু খা-লিদান ফীহা ওয়াগাদিবাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়ালা‘আনাহূ ওয়াআ‘আদ্দা লাহূ ‘আযা-বান ‘আযীমা
যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাপূর্বক হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম। যাতে স্থায়ীভাবে থাকবে, তার উপর আল্লাহর ক্রোধ ও অভিসম্পাত। আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا ضَرَبْتُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَتَبَيَّنُوا۟ وَلَا تَقُولُوا۟ لِمَنْ أَلْقَىٰٓ إِلَيْكُمُ ٱلسَّلَٰمَ لَسْتَ مُؤْمِنًۭا تَبْتَغُونَ عَرَضَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا فَعِندَ ٱللَّهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌۭ ۚ كَذَٰلِكَ كُنتُم مِّن قَبْلُ فَمَنَّ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًۭا ٩٤
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা দারাবতুম ফী সাবীলিল্লা-হি ফাতাবাইয়্যানূ ওয়ালা তাকূলূ লিমান আলকা- ইলাইকুমুস সালা-মা লাসতা মু’মিনান তাবতাগূনা ‘আরাদাল হায়া-তিদ দুনইয়া ফা‘ইনদাল্লা-হি মাগা-নিমু কাছীরাহ কাযা-লিকা কুনতুম মিন কাবলু ফামান্নাল্লা-হু ‘আলাইকুম ফাতাবাইয়্যানূ ইন্নাল্লা-হা কা-না বিমা তা‘মালূনা খাবীরা
হে মু’মিনগণ! যখন তোমরা আল্লাহর পথে যাত্রা করবে তখন কে বন্ধু আর কে শত্রু তা পরীক্ষা করে নেবে, কেউ তোমাদেরকে সালাম করলে তাকে বলো না, ‘তুমি মু’মিন নও’, তোমরা ইহজগতের সম্পদের আকাঙ্ক্ষা কর, বস্তুতঃ আল্লাহর নিকট তোমাদের জন্য প্রচুর গনীমত আছে। তোমরাও এর পূর্বে এ রকমই ছিলে (অর্থাৎ তোমারাও তাদের মতই তোমাদের ঈমানকে তোমাদের কওম থেকে গোপন করতে), তৎপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি কৃপা করেছেন, কাজেই অগ্রে বিশেষভাবে পরীক্ষা করে নিবে; তোমরা যা কিছু কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।
لَّا يَسْتَوِى ٱلْقَٰعِدُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُو۟لِى ٱلضَّرَرِ وَٱلْمُجَٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ ۚ فَضَّلَ ٱللَّهُ ٱلْمُجَٰهِدِينَ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ عَلَى ٱلْقَٰعِدِينَ دَرَجَةًۭ ۚ وَكُلًّۭا وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلْحُسْنَىٰ ۚ وَفَضَّلَ ٱللَّهُ ٱلْمُجَٰهِدِينَ عَلَى ٱلْقَٰعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًۭا ٩٥
লা ইয়াসতাউইল কা-‘ইদূনা মিনাল মু’মিনীনা গাইরু উলিদ দারারি ওয়ালমুজা-হিদূনা ফী সাবীলিল্লা-হি বিআমওয়া-লিহিম ওয়াআনফুসিহিম ফাদ্দালাল্লা-হুল মুজা-হিদীনা বিআমওয়া-লিহিম ওয়াআনফুসিহিম ‘আলাল কা-‘ইদীনা দারাজাহ ওয়াকুল্লাঁ ওয়া‘আদাল্লা-হুল হুসনা ওয়াফাদ্দালাল্লা-হুল মুজা-হিদীনা ‘আলাল কা-‘ইদীনা আজরান ‘আযীমা
অক্ষম নয় এমন বসে-থাকা মু’মিনরা আর জান-মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদকারীগণ সমান নয়; নিজেদের ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদকারীদেরকে বসে-থাকা লোকেদের উপর আল্লাহ মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ সকলের জন্যই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন এবং মুজাহিদদেরকে বসে-থাকা লোকেদের তুলনায় আল্লাহ মহাপুরস্কার দিয়ে মর্যাদা দান করেছেন।
دَرَجَٰتٍۢ مِّنْهُ وَمَغْفِرَةًۭ وَرَحْمَةًۭ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًا ٩٦
দারাজা-তিম মিনহু ওয়ামাগফিরাতাঁ ওয়ারাহমাহ ওয়াকা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা
ওটা আল্লাহর নিকট হতে পদমর্যাদা, ক্ষমা ও দয়া; আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।
إِنَّ ٱلَّذِينَ تَوَفَّىٰهُمُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ ظَالِمِىٓ أَنفُسِهِمْ قَالُوا۟ فِيمَ كُنتُمْ ۖ قَالُوا۟ كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِى ٱلْأَرْضِ ۚ قَالُوٓا۟ أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ ٱللَّهِ وَٰسِعَةًۭ فَتُهَاجِرُوا۟ فِيهَا ۚ فَأُو۟لَٰٓئِكَ مَأْوَىٰهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَسَآءَتْ مَصِيرًا ٩٧
ইন্নাল লাযীনা তাওয়াফ্ফা-হুমুল মালা-ইকাতু যা-লিমী আনফুসিহিম কা-লূ ফীমা কুনতুম কা-লূ কুন্না মুসতাদ‘আফীনা ফিল আরদ কা-লূ আলাম তাকুন আরদুল্লা-হি ওয়া-সি‘আতান ফাতুহা-জিরূ ফীহা ফাউলা-ইকা মা’ওয়া-হুম জাহান্নামু ওয়াসা-আত মাসীরা
যারা নিজেদের আত্মার উপর যুলম করেছিল এমন লোকেদের প্রাণ হরণের সময় ফেরেশতারা তাদেরকে জিজ্ঞেস করে- ‘তোমরা কোন্ কাজে নিমজ্জিত ছিলে’? তারা বলে, ‘দুনিয়ায় আমরা দুর্বল ক্ষমতাহীন ছিলাম’, ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যাতে তোমরা হিজরাত করতে’? সুতরাং তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম এবং তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন স্থান!
إِلَّا ٱلْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلْوِلْدَٰنِ لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةًۭ وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلًۭا ٩٨
ইল্লাল মুসতাদ‘আফীনা মিনার রিজা-লি ওয়ান্নিসা-ই ওয়ালউইলদা-নি লা ইয়াসতাতী‘ঊনা হীলাতাঁ ওয়ালা ইয়াহতাদূনা সাবীলা
কিন্তু যে সকল সহায়হীন পুরুষ, নারী ও বালক যারা উপায় বের করতে পারে না আর তারা পথও পায় না,
فَأُو۟لَٰٓئِكَ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَعْفُوَ عَنْهُمْ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَفُوًّا غَفُورًۭا ٩٩
ফাউলা-ইকা ‘আসাল্লা-হু আন ইয়া‘ফুওয়া ‘আনহুম ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আফুওয়ান গাফূরা
আশা আছে যে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং আল্লাহ গুনাহ মোচনকারী, বড়ই ক্ষমাশীল।
۞ وَمَن يُهَاجِرْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ يَجِدْ فِى ٱلْأَرْضِ مُرَٰغَمًۭا كَثِيرًۭا وَسَعَةًۭ ۚ وَمَن يَخْرُجْ مِنۢ بَيْتِهِۦ مُهَاجِرًا إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ يُدْرِكْهُ ٱلْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُۥ عَلَى ٱللَّهِ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ١٠٠
ওয়ামান ইউহা-জির ফী সাবীলিল্লা-হি ইয়াজিদ ফিল আরদি মুরা-গামান কাছীরাঁ ওয়াসা‘আহ ওয়ামান ইয়াখরুজ মিম বাইতিহী মুহা-জিরান ইলাল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ছুম্মা ইউদরিকহুল মাওতু ফাকাদ ওয়াকা‘আ আজরুহূ ‘আলাল্লা-হ ওয়াকা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা
যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরাত করবে, সে পৃথিবীতে বহু আশ্রয়স্থল এবং প্রাচুর্য প্রাপ্ত হবে; এবং যে ব্যক্তি নিজের গৃহ হতে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দিকে হিজরাত করে বের হয়, অতঃপর মৃত্যু তাকে পেয়ে বসে তার সাওয়াব আল্লাহর জিম্মায় সাব্যস্ত হয়ে গেছে এবং আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِى ٱلْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا۟ مِنَ ٱلصَّلَوٰةِ إِنْ خِفْتُمْ أَن يَفْتِنَكُمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱلْكَٰفِرِينَ كَانُوا۟ لَكُمْ عَدُوًّۭا مُّبِينًۭا ١٠١
ওয়াইযা দারাবতুম ফিল আরদি ফালাইসা ‘আলাইকুম জুনা-হুন আন তাকসুরূ মিনাস সালা-তি ইন খিফতুম আন ইয়াফতিনাকুমুল লাযীনা কাফারূ ইন্নাল কা-ফিরীনা কা-নূ লাকুম ‘আদুওয়াম মুবীনা
যখন তোমরা দেশে-বিদেশে সফর কর, তখন নামায কসর করাতে তোমাদের কিছুমাত্র দোষ নেই, যদি তোমরা ভয় কর যে, কাফিরগণ তোমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করবে। নিঃসন্দেহে কাফিরগণ তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ ٱلصَّلَوٰةَ فَلْتَقُمْ طَآئِفَةٌۭ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوٓا۟ أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا۟ فَلْيَكُونُوا۟ مِن وَرَآئِكُمْ وَلْتَأْتِ طَآئِفَةٌ أُخْرَىٰ لَمْ يُصَلُّوا۟ فَلْيُصَلُّوا۟ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا۟ حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ ۗ وَدَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةًۭ وَٰحِدَةًۭ ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن كَانَ بِكُمْ أَذًۭى مِّن مَّطَرٍ أَوْ كُنتُم مَّرْضَىٰٓ أَن تَضَعُوٓا۟ أَسْلِحَتَكُمْ ۖ وَخُذُوا۟ حِذْرَكُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَٰفِرِينَ عَذَابًۭا مُّهِينًۭا ١٠٢
ওয়াইযা কুনতা ফীহিম ফাআকামতা লাহুমুস সালা-তা ফালতাকুম তা-ইফাতুম মিনহুম মা‘আকা ওয়ালইয়া’খুযূ আসলিহাতাহুম ফাইযা সাজাদূ ফালইয়াকূনূ মিন ওয়ারা-ইকুম ওয়ালতা’তি তা-ইফাতুন উখরা লাম ইউসাল্লূ ফালইউসাল্লূ মা‘আকা ওয়ালইয়া’খুযূ হিযরাহুম ওয়াআসলিহাতাহুম ওয়াদ্দাল লাযীনা কাফারূ লাও তাগফুলূনা ‘আন আসলিহাতিকুম ওয়াআমতি‘আতিকুম ফায়ামীলূনা ‘আলাইকুম মাইলাতাঁ ওয়া-হিদাহ ওয়ালা জুনা-হা ‘আলাইকুম ইন কা-না বিকুম আযাম মিম মাতারিন আও কুনতুম মারদা- আন তাদা‘ঊ আসলিহাতাকুম ওয়াখুযূ হিযরাকুম ইন্নাল্লা-হা আ‘আদ্দা লিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বাম মুহীনা
এবং যখন তুমি মু’মিনদের মাঝে অবস্থান করবে আর তাদের সঙ্গে নামায কায়িম করবে তখন তাদের একটি দল যেন তোমার সঙ্গে দাঁড়ায় এবং সশস্ত্র থাকে, তাদের সাজদাহ করা হলে তারা যেন তোমাদের পশ্চাতে অবস্থান করে এবং অপর যে দলটি নামায আদায় করেনি তারা যেন তোমার সঙ্গে নামায আদায় করে এবং সতর্ক ও সশস্ত্র থাকে; কাফিরগণ কামনা করে যে, তোমরা যেন তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জামের ব্যাপারে অসতর্ক হও, যাতে তারা একজোটে তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। যদি তোমাদের বৃষ্টির কারণে কষ্ট হয়, কিংবা তোমরা পীড়িত হও, তবে অস্ত্র রেখে দিলে তোমাদের কোন গুনাহ নেই, কিন্তু সতর্কতা অবলম্বন করবে, আল্লাহ কাফিরদের জন্য অবমাননাকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
فَإِذَا قَضَيْتُمُ ٱلصَّلَوٰةَ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ قِيَٰمًۭا وَقُعُودًۭا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ ۚ فَإِذَا ٱطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ ۚ إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتْ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ كِتَٰبًۭا مَّوْقُوتًۭا ١٠٣
ফাইযা কাদাইতুমুস সালা-তা ফাযকুরুল্লা-হা কিয়া-মাঁ ওয়াকু‘ঊদাঁ ওয়া‘আলা জুনূবিকুম ফাইযাতমা’নানতুম ফাআকীমুস সালা-হ ইন্নাস সালা-তা কা-নাত ‘আলাল মু’মিনীনা কিতা-বাম মাওকূতা
যখন তোমরা নামায আদায় করে নেবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করবে, অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন (যথানিয়মে) নামায কায়িম করবে। নির্দিষ্ট সময়ে নামায কায়িম করা মু’মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।
وَلَا تَهِنُوا۟ فِى ٱبْتِغَآءِ ٱلْقَوْمِ ۖ إِن تَكُونُوا۟ تَأْلَمُونَ فَإِنَّهُمْ يَأْلَمُونَ كَمَا تَأْلَمُونَ ۖ وَتَرْجُونَ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا يَرْجُونَ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا ١٠٤
ওয়ালা তাহিনূ ফিবতিগা-ইল কাওমি ইন তাকূনূ তা’লামূনা ফাইন্নাহুম ইয়া’লামূনা কামা তা’লামূনা ওয়াতারজূনা মিনাল্লা-হি মা লা ইয়ারজূন ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা
এ (শত্রু) কওমের পশ্চাদ্ধাবণে দুর্বলতা দেখাবে না, কেননা যদি তোমরা কষ্ট পাও, তবে তোমাদের মত তারাও তো কষ্ট পায়, আর তোমরা আল্লাহ হতে এমন কিছু আশা কর, যা তারা আশা করে না। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
إِنَّآ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ ٱلنَّاسِ بِمَآ أَرَىٰكَ ٱللَّهُ ۚ وَلَا تَكُن لِّلْخَآئِنِينَ خَصِيمًۭا ١٠٥
ইন্না- আনযালনা- ইলাইকাল কিতা-বা বিলহাক্কি লিতাহকুমা বাইনান না-সি বিমা- আরা-কাল্লা-হ ওয়ালা তাকুল লিলখা-ইনীনা খাসীমা
অবশ্যই আমি সত্য সহকারে তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যেন তুমি যা আল্লাহ তোমাকে জানিয়েছেন, সে অনুসারে মানুষের মধ্যে বিচার ফায়সালা কর এবং খিয়ানতকারীদের পক্ষে তর্ক করো না।
وَٱسْتَغْفِرِ ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ١٠٦
ওয়াসতাগফিরিল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা কা-না গাফূরার রাহীমা
আর আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও, নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَلَا تُجَٰدِلْ عَنِ ٱلَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنفُسَهُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًۭا ١٠٧
ওয়ালা তুজা-দিল ‘আনিল লাযীনা ইয়াখতা-নূনা আনফুসাহুম ইন্নাল্লা-হা লা ইউহিব্বু মান কা-না খাওয়া-নান আছীমা
নিজেদের (বিবেক ও জ্ঞানের) প্রতি খিয়ানতকারীদের পক্ষে তুমি বাদানুবাদ করো না, কারণ আল্লাহ অতি খিয়ানতকারী চরম পাপীকে পছন্দ করেন না।
يَسْتَخْفُونَ مِنَ ٱلنَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ ٱللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَىٰ مِنَ ٱلْقَوْلِ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا ١٠٨
ইয়াসতাখফূনা মিনান না-সি ওয়ালা ইয়াসতাখফূনা মিনাল্লা-হি ওয়াহুওয়া মা‘আহুম ইয ইউবাইয়্যিতূনা মা লা ইয়ারদা মিনাল কাওল ওয়াকা-নাল্লা-হু বিমা ইয়া‘মালূনা মুহীতা
তারা মানুষ হতে গোপন করে থাকে, কিন্তু তারা আল্লাহ হতে গোপন করতে পারে না; কেননা যে সময়ে তারা রাত্রে এমন বিষয়ে পরামর্শ করে যা আল্লাহ পছন্দ করেন না, তখনও তিনি তাদের সঙ্গেই থাকেন; আল্লাহ তাদের সমুদয় কার্যকলাপকে বেষ্টন করে আছেন।
هَٰٓأَنتُمْ هَٰٓؤُلَآءِ جَٰدَلْتُمْ عَنْهُمْ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا فَمَن يُجَٰدِلُ ٱللَّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ أَم مَّن يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًۭا ١٠٩
হা-আনতুম হা-উলা-ই জা-দালতুম ‘আনহুম ফিল হায়া-তিদ দুনইয়া ফামান ইউজা-দিলুল্লা-হা ‘আনহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি আম মান ইয়াকূনু ‘আলাইহিম ওয়াকীলা
দেখ, ওরা সেই লোক যাদের পক্ষে পার্থিব জীবনে তোমরা বিতর্ক করছ কিন্তু ক্বিয়ামাত দিবসে তাদের পক্ষ হতে আল্লাহর সম্মুখে কে ঝগড়া করবে? কিংবা কে তাদের উকীল হবে?
وَمَن يَعْمَلْ سُوٓءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُۥ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ ٱللَّهَ يَجِدِ ٱللَّهَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ١١٠
ওয়ামান ইয়া‘মাল সূআন আও ইয়াযলিম নাফসাহূ ছুম্মা ইয়াসতাগফিরিল্লা-হা ইয়াজিদিল্লা-হা গাফূরার রাহীমা
যে ব্যক্তি অসৎকাজ করে কিংবা নিজের আত্মার প্রতি যুলম করে, অতঃপর আল্লাহ হতে ক্ষমা ভিক্ষে করে, সে আল্লাহকে অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে।
وَمَن يَكْسِبْ إِثْمًۭا فَإِنَّمَا يَكْسِبُهُۥ عَلَىٰ نَفْسِهِۦ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًۭا ١١١
ওয়ামান ইয়াকসিব ইছমান ফাইন্নামা ইয়াকসিবুহূ ‘আলা নাফসিহ ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা
এবং যে ব্যক্তি কোন পাপকাজ করে, সে নিজের বিরুদ্ধেই তা করে, বস্তুতঃ আল্লাহ মহাবিজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
وَمَن يَكْسِبْ خَطِيٓـَٔةً أَوْ إِثْمًۭا ثُمَّ يَرْمِ بِهِۦ بَرِيٓـًۭٔا فَقَدِ ٱحْتَمَلَ بُهْتَٰنًۭا وَإِثْمًۭا مُّبِينًۭا ١١٢
ওয়ামান ইয়াকসিব খাতীআতান আও ইছমান ছুম্মা ইয়ারমি বিহী বারীআন ফাকাদিহতামালা বুহতা-নাঁ ওয়াইছমাম মুবীনা
যে ব্যক্তি কোন ত্রুটি কিংবা পাপ ক’রে তা কোন নির্দোষ ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দেয়, সে তো জ্বলন্ত অপবাদ এবং সুস্পষ্ট গুনাহ নিজের উপর চাপিয়ে নেয়।
وَلَوْلَا فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهُۥ لَهَمَّت طَّآئِفَةٌۭ مِّنْهُمْ أَن يُضِلُّوكَ وَمَا يُضِلُّونَ إِلَّآ أَنفُسَهُمْ ۖ وَمَا يَضُرُّونَكَ مِن شَىْءٍۢ ۚ وَأَنزَلَ ٱللَّهُ عَلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُن تَعْلَمُ ۚ وَكَانَ فَضْلُ ٱللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًۭا ١١٣
ওয়ালাওলা ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকা ওয়ারাহমাতুহূ লাহাম্মাত তা-ইফাতুম মিনহুম আন ইউদিল্লূকা ওয়ামা ইউদিল্লূনা ইল্লা- আনফুসাহুম ওয়ামা ইয়াদুর্রূনাকা মিন শাই’ ওয়াআনযালাল্লা-হু ‘আলাইকাল কিতা-বা ওয়ালহিকমাতা ওয়া‘আল্লামাকা মা লাম তাকুন তা‘লাম ওয়াকা-না ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকা ‘আযীমা
যদি তোমার প্রতি আল্লাহর করুণা এবং দয়া না হত, তবে তাদের একদল তো তোমাকে পথভ্রষ্ট করতেই চেয়েছিল; বস্তুতঃ তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে পথভ্রষ্ট করে না আর তারা তোমার কিছুই অনিষ্ট করতে পারবে না, কারণ আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমাত নাযিল করেছেন এবং তুমি যা জানতে না তা তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং তোমার উপর রয়েছে আল্লাহর অপরিসীম অনুগ্রহ।
۞ لَّا خَيْرَ فِى كَثِيرٍۢ مِّن نَّجْوَىٰهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَٰحٍۭ بَيْنَ ٱلنَّاسِ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ ٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِ ٱللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًۭا ١١٤
লা খাইরা ফী কাছীরিম মিন নাজওয়া-হুম ইল্লা মান আমারা বিসাদাকাতিন আও মা‘রূফিন আও ইসলা-হিম বাইনান না-স ওয়ামান ইয়াফ‘আল যা-লিকাবতিগা-আ মারদা-তিল্লা-হি ফাসাওফা নু’তীহি আজরান ‘আযীমা
তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, কিন্তু কল্যাণ আছে যে ব্যক্তি দান-খয়রাত অথবা কোন সৎকাজের কিংবা লোকেদের মধ্যে মিলমিশের নির্দেশ দেয়। যে কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি সাধন উদ্দেশে এমন কাজ করবে, আমি তাকে মহা পুরস্কার দান করব।
وَمَن يُشَاقِقِ ٱلرَّسُولَ مِنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ ٱلْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ ٱلْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِۦ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصْلِهِۦ جَهَنَّمَ ۖ وَسَآءَتْ مَصِيرًا ١١٥
ওয়ামান ইউশা-কিকির রাসূলা মিম বা‘দি মা তাবাইয়্যানা লাহুল হুদা ওয়ায়াত্তাবি‘ গাইরা সাবীলিল মু’মিনীনা নুওয়াল্লিহী মা তাওয়াল্লা ওয়ানুসলিহী জাহান্নামা ওয়াসা-আত মাসীরা
যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রসূলের বিরোধিতা করে এবং মু’মিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরে যায়, আর তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, কত মন্দই না সে আবাস!
إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِۦ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِٱللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَٰلًۢا بَعِيدًا ١١٦
ইন্নাল্লা-হা লা ইয়াগফিরু আন ইউশরাকা বিহী ওয়ায়াগফিরু মা দূনা যা-লিকা লিমান ইয়াশা-আ ওয়ামান ইউশরিক বিল্লা-হি ফাকাদ দাল্লা দালা-লাম বা‘ঈদা
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, এছাড়া অন্য সব যাকে ইচ্ছে মাফ করেন এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে, সে চরমভাবে গোমরাহীতে পতিত হল।
إِن يَدْعُونَ مِن دُونِهِۦٓ إِلَّآ إِنَٰثًۭا وَإِن يَدْعُونَ إِلَّا شَيْطَٰنًۭا مَّرِيدًۭا ١١٧
ইন ইয়াদ‘ঊনা মিন দূনিহী ইল্লা- ইনা-ছাঁ ওয়াইন ইয়াদ‘ঊনা ইল্লা শাইতা-নাম মারীদা
তারা আল্লাহকে ছেড়ে শুধু কতকগুলো দেবীরই পূজা করে, তারা কেবল আল্লাহদ্রোহী শায়ত্বনের পূজা করে।
لَّعَنَهُ ٱللَّهُ ۘ وَقَالَ لَأَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيبًۭا مَّفْرُوضًۭا ١١٨
লা‘আনাহুল্লা-হ ওয়াকা-লা লাআত্তাখিযান্না মিন ‘ইবা-দিকা নাসীবাম মাফরূদা
আল্লাহ তাকে লা‘নাত করেছেন কারণ সে বলেছিল, ‘আমি তোমার বান্দাদের থেকে নির্দিষ্ট অংশকে আমার অনুসারী হিসেবে গ্রহণ করব।’
وَلَأُضِلَّنَّهُمْ وَلَأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلَءَامُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ ءَاذَانَ ٱلْأَنْعَٰمِ وَلَءَامُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ ٱللَّهِ ۚ وَمَن يَتَّخِذِ ٱلشَّيْطَٰنَ وَلِيًّۭا مِّن دُونِ ٱللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًۭا مُّبِينًۭا ١١٩
ওয়ালাউদিল্লান্নাহুম ওয়ালাউমান্নিয়ান্নাহুম ওয়ালাআ-মুরান্নাহুম ফালাইউবাত্তিকুন্না আ-যা-নাল আন‘আ-মি ওয়ালাআ-মুরান্নাহুম ফালাইউগাইয়্যিরুন্না খালকাল্লা-হ ওয়ামান ইয়াত্তাখিযিশ শাইতা-না ওয়ালিয়্যাম মিন দূনিল্লা-হি ফাকাদ খাসিরা খুসরা-নাম মুবীনা
তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই বহু প্রলোভন দেব এবং তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই নির্দেশ দেব, ফলে তারা জন্তু-জানোয়ারের কান ছেদন করবে, আমি তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই নির্দেশ দেব, ফলে তারা অবশ্য অবশ্যই আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে। আল্লাহকে বাদ দিয়ে যে কেউ শয়ত্বানকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, সে সুস্পষ্টত ক্ষতিগ্রস্ত।
يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيهِمْ ۖ وَمَا يَعِدُهُمُ ٱلشَّيْطَٰنُ إِلَّا غُرُورًا ١٢٠
ইয়া‘ইদুহুম ওয়াইউমান্নীহিম ওয়ামা ইয়া‘ইদুহুমুশ শাইতা-নু ইল্লা গুরূরা
সে তাদেরকে আশ্বাস দেয়, মিথ্যা প্রলোভন দেয়, বস্তুতঃ শয়ত্বান তাদেরকে যে আশ্বাস দেয় তা ছলনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
أُو۟لَٰٓئِكَ مَأْوَىٰهُمْ جَهَنَّمُ وَلَا يَجِدُونَ عَنْهَا مَحِيصًۭا ١٢١
উলা-ইকা মা’ওয়া-হুম জাহান্নামু ওয়ালা ইয়াজিদূনা ‘আনহা মাহীসা
এরাই তারা যাদের আবাসস্থল জাহান্নাম এবং তারা তাত্থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার কোন পথ পাবে না।
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًۭا ۖ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقًّۭا ۚ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ ٱللَّهِ قِيلًۭا ١٢٢
ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি সানুদখিলুহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা- আবাদাঁ ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কা ওয়ামান আসদাকু মিনাল্লা-হি কীলা
আর যারা ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে অবিলম্বে আমি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করব; যার পাদদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা তাতে চিরকাল চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে, আল্লাহর ওয়া‘দা সত্য, কথায় আল্লাহ অপেক্ষা কে বেশি সত্যবাদী?
لَّيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلَآ أَمَانِىِّ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ ۗ مَن يَعْمَلْ سُوٓءًۭا يُجْزَ بِهِۦ وَلَا يَجِدْ لَهُۥ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلِيًّۭا وَلَا نَصِيرًۭا ١٢٣
লাইসা বিআমা-নিয়্যিকুম ওয়ালা- আমা-নিয়্যি আহলিল কিতা-ব মান ইয়া‘মাল সূআঁ ইউজযা বিহী ওয়ালা ইয়াজিদ লাহূ মিন দূনিল্লা-হি ওয়ালিয়্যাঁ ওয়ালা নাসীরা
তোমাদের বাসনা আর আহলে কিতাবদের বাসনা কোন কাজে আসবে না। যে ব্যক্তি কোন কুকর্ম করবে, সে তার বিনিময় প্রাপ্ত হবে, সে আল্লাহ ছাড়া তার জন্য কোন অভিভাবক পাবে না, কোন সাহায্যকারীও না।
وَمَن يَعْمَلْ مِنَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌۭ فَأُو۟لَٰٓئِكَ يَدْخُلُونَ ٱلْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ نَقِيرًۭا ١٢٤
ওয়ামান ইয়া‘মাল মিনাস সা-লিহা-তি মিন যাকারিন আও উনছা ওয়াহুওয়া মু’মিনুন ফাউলা-ইকা ইয়াদখুলূনাল জান্নাতা ওয়ালা ইউযলামূনা নাকীরা
পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে সৎকাজ করবে আর সে ঈমানদারও বটে, তাহলে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের প্রতি তিল পরিমাণও অন্যায় করা হবে না।
وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًۭا مِّمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُۥ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌۭ وَٱتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَٰهِيمَ حَنِيفًۭا ۗ وَٱتَّخَذَ ٱللَّهُ إِبْرَٰهِيمَ خَلِيلًۭا ١٢٥
ওয়ামান আহসানু দীনাম মিম্মান আসলামা ওয়াজহাহূ লিল্লা-হি ওয়াহুওয়া মুহসিনুঁ ওয়াত্তাবা‘আ মিল্লাতা ইবরা-হীমা হানীফা ওয়াত্তাখাযাল্লা-হু ইবরা-হীমা খালীলা
সে ব্যক্তি অপেক্ষা দ্বীনে কে বেশি উত্তম যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে, অধিকন্তু সে সৎকর্মশীল এবং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের দ্বীন অনুসরণ করে। আল্লাহ ইবরাহীমকে একান্ত বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছিলেন।
وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍۢ مُّحِيطًۭا ١٢٦
ওয়ালিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ ওয়াকা-নাল্লা-হু বিকুল্লি শাইইম মুহীতা
আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই এবং আল্লাহ সবকিছুকেই পরিবেষ্টন করে আছেন।
وَيَسْتَفْتُونَكَ فِى ٱلنِّسَآءِ ۖ قُلِ ٱللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فِى ٱلْكِتَٰبِ فِى يَتَٰمَى ٱلنِّسَآءِ ٱلَّٰتِى لَا تُؤْتُونَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُونَ أَن تَنكِحُوهُنَّ وَٱلْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ ٱلْوِلْدَٰنِ وَأَن تَقُومُوا۟ لِلْيَتَٰمَىٰ بِٱلْقِسْطِ ۚ وَمَا تَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِهِۦ عَلِيمًۭا ١٢٧
ওয়ায়াসতাফতূনাকা ফিন নিসা-ই কুলিল্লা-হু ইউফতীকুম ফীহিন্না ওয়ামা ইউতলা ‘আলাইকুম ফিল কিতা-বি ফী ইয়াতা-মান নিসা-ইল লা-তী লা তু’তূনাহুন্না মা কুতিবা লাহুন্না ওয়াতারগাবূনা আন তানকিহূহুন্না ওয়ালমুসতাদ‘আফীনা মিনাল উইলদা-নি ওয়াআন তাকূমূ লিলইয়াতা-মা বিলকিসত ওয়ামা তাফ‘আলূ মিন খাইরিন ফাইন্নাল্লা-হা কা-না বিহী ‘আলীমা
লোকেরা তোমার কাছে নারীদের সম্বন্ধে বিধান জানতে চাচ্ছে। বলে দাও, ‘আল্লাহ তাদের সম্বন্ধে তোমাদেরকে বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন সেসব নারী সম্পর্কে যাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান কর না অথচ তাদেরকে বিয়ে করতে চাও এবং অসহায় শিশুদের সম্পর্কে এবং ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায়বিচার করা সম্পর্কে যা কিতাবে তোমাদেরকে শুনানো হয় তাও জানিয়ে দেন।’ যা কিছু সৎ কাজ তোমরা কর, তদ্বিষয়ে আল্লাহ ভালভাবেই জ্ঞাত।
وَإِنِ ٱمْرَأَةٌ خَافَتْ مِنۢ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًۭا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَآ أَن يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًۭا ۚ وَٱلصُّلْحُ خَيْرٌۭ ۗ وَأُحْضِرَتِ ٱلْأَنفُسُ ٱلشُّحَّ ۚ وَإِن تُحْسِنُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًۭا ١٢٨
ওয়াইনিমরাআতুন খা-ফাত মিম বা‘লিহা নুশূযান আও ই‘রা-দান ফালা জুনা-হা ‘আলাইহিমা- আন ইউসলিহা বাইনাহুমা সুলহা ওয়াস্সুলহু খাইর ওয়াউহদিরাতিল আনফুসুশ শুহ্হ ওয়াইন তুহসিনূ ওয়াতাত্তাকূ ফাইন্নাল্লা-হা কা-না বিমা তা‘মালূনা খাবীরা
এবং যদি কোন নারী স্বীয় স্বামী হতে রূঢ়তা কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তারা পরস্পর আপোষ করলে তাদের কোন গুনাহ নেই, বস্তুতঃ আপোষ করাই উত্তম। আর নফস্ কৃপণতার দিকে সহজেই ঝুঁকে পড়ে, আর যদি তোমরা সৎকর্ম কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে তোমরা যা কর আল্লাহ তার খবর রাখেন।
وَلَن تَسْتَطِيعُوٓا۟ أَن تَعْدِلُوا۟ بَيْنَ ٱلنِّسَآءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ ۖ فَلَا تَمِيلُوا۟ كُلَّ ٱلْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَٱلْمُعَلَّقَةِ ۚ وَإِن تُصْلِحُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ١٢٩
ওয়ালান তাসতাতী‘ঊ আন তা‘দিলূ বাইনান নিসা-ই ওয়ালাও হারাসতুম ফালা তামীলূ কুল্লাল মাইলি ফাতাযারূহা কালমু‘আল্লাকাহ ওয়াইন তুসলিহূ ওয়াতাত্তাকূ ফাইন্নাল্লা-হা কা-না গাফূরার রাহীমা
তোমরা কক্ষনো স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারবে না যদিও প্রবল ইচ্ছে কর, তোমরা একজনের দিকে সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না এবং অন্যকে ঝুলিয়ে রেখ না। যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَإِن يَتَفَرَّقَا يُغْنِ ٱللَّهُ كُلًّۭا مِّن سَعَتِهِۦ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ وَٰسِعًا حَكِيمًۭا ١٣٠
ওয়াইন ইয়াতাফার্রাকা ইউগনিল্লা-হু কুল্লাম মিন সা‘আতিহ ওয়াকা-নাল্লা-হু ওয়া-সি‘আন হাকীমা
তারা যদি উভয়ে পৃথক হয়ে যায় তবে আল্লাহ আপন প্রাচুর্য দিয়ে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন, আল্লাহ প্রাচুর্যময়, মহাকুশলী।
وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ وَلَقَدْ وَصَّيْنَا ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ مِن قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۚ وَإِن تَكْفُرُوا۟ فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ غَنِيًّا حَمِيدًۭا ١٣١
ওয়ালিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ ওয়ালাকাদ ওয়াস্সাইনাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা মিন কাবলিকুম ওয়াইয়্যা-কুম আনিত তাকুল্লা-হ ওয়াইন তাকফুরূ ফাইন্না লিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ ওয়াকা-নাল্লা-হু গানিয়্যান হামীদা
যা কিছু আকাশসমূহে ও ভূমন্ডলে আছে সমস্ত আল্লাহরই এবং অবশ্যই আমি তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদেরকে আর তোমাদেরকেও আদেশ দিয়েছি যে, আল্লাহকে ভয় কর আর যদি অমান্য কর তবে আকাশসমূহে যা আছে ও ভূমন্ডলে যা আছে তা আল্লাহরই। আল্লাহ অভাবমুক্ত, অতিশয় প্রশংসিত।
وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِيلًا ١٣٢
ওয়ালিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ ওয়াকাফা বিল্লা-হি ওয়াকীলা
আসমানে যা আছে আর যমীনে যা আছে সব আল্লাহরই, কার্যনির্বাহক হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ أَيُّهَا ٱلنَّاسُ وَيَأْتِ بِـَٔاخَرِينَ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ ذَٰلِكَ قَدِيرًۭا ١٣٣
ইন ইয়াশাআ ইউযহিবকুম আইয়্যুহান না-সু ওয়ায়া’তি বিআ-খারীন ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলা যা-লিকা কাদীরা
তিনি ইচ্ছে করলে হে মানুষ! তোমাদেরকে বিলুপ্ত ক’রে তিনি অন্য সম্প্রদায়কে আনতে পারেন, আল্লাহ তা করতে পুরোপুরি সক্ষম।
مَّن كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ ٱلدُّنْيَا فَعِندَ ٱللَّهِ ثَوَابُ ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ سَمِيعًۢا بَصِيرًۭا ١٣٤
মান কা-না ইউরীদু ছাওয়া-বাদ দুনইয়া ফা‘ইনদাল্লা-হি ছাওয়া-বুদ দুনইয়া ওয়ালআ-খিরাহ ওয়াকা-নাল্লা-হু সামী‘আম বাসীরা
যে ব্যক্তি পার্থিব পুরস্কার কামনা করে সে জেনে রাখুক যে আল্লাহর নিকট ইহলৌকিক ও পারলৌকিক পুরস্কার আছে। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
۞ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُونُوا۟ قَوَّٰمِينَ بِٱلْقِسْطِ شُهَدَآءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمْ أَوِ ٱلْوَٰلِدَيْنِ وَٱلْأَقْرَبِينَ ۚ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًۭا فَٱللَّهُ أَوْلَىٰ بِهِمَا ۖ فَلَا تَتَّبِعُوا۟ ٱلْهَوَىٰٓ أَن تَعْدِلُوا۟ ۚ وَإِن تَلْوُۥٓا۟ أَوْ تُعْرِضُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًۭا ١٣٥
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ কূনূ কাওয়া-মীনা বিলকিসতি শুহাদা-আ লিল্লা-হি ওয়ালাও ‘আলা- আনফুসিকুম আউইল ওয়া-লিদাইনি ওয়ালআকরাবীন ইন ইয়াকুন গানিয়্যান আও ফাকীরান ফাল্লা-হু আওলা বিহিমা ফালা তাত্তাবি‘উল হাওয়া- আন তা‘দিলূ ওয়াইন তালঊ আও তু‘রিদূ ফাইন্নাল্লা-হা কা-না বিমা তা‘মালূনা খাবীরা
হে ঈমানদারগণ! ন্যায়ের প্রতি সুপ্রতিষ্ঠ ও আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হও যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা মাতা-পিতা এবং আত্মীয়গণের বিরুদ্ধে হয়, কেউ ধনী হোক বা দরিদ্র হোক, আল্লাহ উভয়েরই ঘনিষ্ঠতর। অতএব প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না যাতে তোমরা ন্যায়বিচার করতে পার এবং যদি তোমরা বক্রভাবে কথা বল কিংবা সত্যকে এড়িয়ে যাও তবে নিশ্চয় তোমরা যা করছ, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ ءَامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلْكِتَٰبِ ٱلَّذِى نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَٱلْكِتَٰبِ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ مِن قَبْلُ ۚ وَمَن يَكْفُرْ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَٰلًۢا بَعِيدًا ١٣٦
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ আ-মিনূ বিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ওয়ালকিতা-বিল লাযী নায্যালা ‘আলা রাসূলিহী ওয়ালকিতা-বিল লাযী আনযালা মিন কাবল ওয়ামান ইয়াকফুর বিল্লা-হি ওয়ামালা-ইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়ারুসুলিহী ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি ফাকাদ দাল্লা দালা-লাম বা‘ঈদা
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূলের, তাঁর রসূলের নিকট তিনি অবতীর্ণ করেছেন সেই কিতাবের এবং পূর্বে নাযিলকৃত কিতাবের উপর ঈমান আন। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও তাঁর ফেরেশতাদেরকে, তাঁর কিতাবসমূহকে, তাঁর রসূলগণকে এবং শেষ দিবসকে অস্বীকার করে সে সীমাহীন পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ثُمَّ كَفَرُوا۟ ثُمَّ ءَامَنُوا۟ ثُمَّ كَفَرُوا۟ ثُمَّ ٱزْدَادُوا۟ كُفْرًۭا لَّمْ يَكُنِ ٱللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًۢا ١٣٧
ইন্নাল লাযীনা আ-মানূ ছুম্মা কাফারূ ছুম্মা আ-মানূ ছুম্মা কাফারূ ছুম্মাযদা-দূ কুফরাল লাম ইয়াকুনিল্লা-হু লিয়াগফিরা লাহুম ওয়ালা লিয়াহদিয়াহুম সাবীলা
যারা ঈমান আনল, অতঃপর কুফরী করল আবার ঈমান আনল আবার কুফরী করল, অতঃপর কুফরীতে অগ্রসর হতে থাকল, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং পথপ্রদর্শন করবেন না।
بَشِّرِ ٱلْمُنَٰفِقِينَ بِأَنَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ١٣٨
বাশ্শিরিল মুনা-ফিকীনা বিআন্না লাহুম ‘আযা-বান আলীমা
মুনাফিকদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দাও যে, তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
ٱلَّذِينَ يَتَّخِذُونَ ٱلْكَٰفِرِينَ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ۚ أَيَبْتَغُونَ عِندَهُمُ ٱلْعِزَّةَ فَإِنَّ ٱلْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًۭا ١٣٩
আল্লাযীনা ইয়াত্তাখিযূনাল কা-ফিরীনা আওলিয়া-আ মিন দূনিল মু’মিনীন আয়াবতাগূনা ‘ইনদাহুমুল ‘ইয্যাতা ফাইন্নাল ‘ইয্যাতা লিল্লা-হি জামী‘আ
যারা মু’মিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তারা কি তাদের নিকট ইযযত চায়? ইযযতের সবকিছুই আল্লাহর অধিকারে।
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِى ٱلْكِتَٰبِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا۟ مَعَهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا۟ فِى حَدِيثٍ غَيْرِهِۦٓ ۚ إِنَّكُمْ إِذًۭا مِّثْلُهُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ جَامِعُ ٱلْمُنَٰفِقِينَ وَٱلْكَٰفِرِينَ فِى جَهَنَّمَ جَمِيعًا ١٤٠
ওয়াকাদ নায্যালা ‘আলাইকুম ফিল কিতা-বি আন ইযা সামি‘তুম আ-য়া-তিল্লা-হি ইউকফারু বিহা ওয়াইউসতাহযাউ বিহা ফালা তাক‘উদূ মা‘আহুম হাত্তা ইয়াখূদূ ফী হাদীছিন গাইরিহ ইন্নাকুম ইযাম মিছলুহুম ইন্নাল্লা-হা জা-মি‘উল মুনা-ফিকীনা ওয়ালকা-ফিরীনা ফী জাহান্নামা জামী‘আ
কিতাবে তোমাদের নিকট তিনি নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতের প্রতি কুফরী হচ্ছে এবং তার প্রতি ঠাট্টা করা হচ্ছে, তখন তাদের নিকট বসো না যে পর্যন্ত তারা অন্য আলোচনায় লিপ্ত না হয়, নচেৎ তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে, নিশ্চয় আল্লাহ মুনাফিক ও কাফিরদের সকলকেই জাহান্নামে একত্রিত করবেন।
ٱلَّذِينَ يَتَرَبَّصُونَ بِكُمْ فَإِن كَانَ لَكُمْ فَتْحٌۭ مِّنَ ٱللَّهِ قَالُوٓا۟ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ وَإِن كَانَ لِلْكَٰفِرِينَ نَصِيبٌۭ قَالُوٓا۟ أَلَمْ نَسْتَحْوِذْ عَلَيْكُمْ وَنَمْنَعْكُم مِّنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ۚ فَٱللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۗ وَلَن يَجْعَلَ ٱللَّهُ لِلْكَٰفِرِينَ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا ١٤١
আল্লাযীনা ইয়াতারাব্বাসূনা বিকুম ফাইন কা-না লাকুম ফাতহুম মিনাল্লা-হি কা-লূ আলাম নাকুম মা‘আকুম ওয়াইন কা-না লিলকা-ফিরীনা নাসীবুন কা-লূ আলাম নাসতাহউইয ‘আলাইকুম ওয়ানামনা‘কুম মিনাল মু’মিনীন ফাল্লা-হু ইয়াহকুমু বাইনাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাহ ওয়ালান ইয়াজ‘আলাল্লা-হু লিলকা-ফিরীনা ‘আলাল মু’মিনীনা সাবীলা
তারা (অর্থাৎ মুনাফিকরা) তোমাদের ব্যাপারে ওঁৎ পেতে থাকে, তারা আল্লাহর তরফ হতে তোমাদের জয়লাভ হলে বলে আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? আর যদি কাফিরদের কিছু বিজয় ঘটে তখন তারা বলে, আমরা কি তোমাদের উপর বিজয়ী ছিলাম না এবং আমরা কি তোমাদেরকে মু’মিনদের হতে রক্ষা করিনি? এমতাবস্থায় আল্লাহ ক্বিয়ামাত দিবসে তোমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন এবং আল্লাহ কক্ষনো মু’মিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে (জয়লাভের) পথ করে দেবেন না।
إِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَهُوَ خَٰدِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوٓا۟ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ قَامُوا۟ كُسَالَىٰ يُرَآءُونَ ٱلنَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ ٱللَّهَ إِلَّا قَلِيلًۭا ١٤٢
ইন্নাল মুনা-ফিকীনা ইউখা-দি‘ঊনাল্লা-হা ওয়াহুওয়া খা-দি‘উহুম ওয়াইযা কা-মূ ইলাস সালা-তি কা-মূ কুসা-লা ইউরা-ঊনান না-সা ওয়ালা ইয়াযকুরূনাল্লা-হা ইল্লা কালীলা
নিশ্চয় মুনাফিকগণ আল্লাহর সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে, তিনি তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে শাস্তি দেন এবং তারা যখন সলাতের জন্য দাঁড়ায়, তখন শৈথিল্যভরে দাঁড়ায়, লোক দেখানোর জন্য, তারা আল্লাহকে সামান্যই স্মরণ করে।
مُّذَبْذَبِينَ بَيْنَ ذَٰلِكَ لَآ إِلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ وَلَآ إِلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ ۚ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ سَبِيلًۭا ١٤٣
মুযাবযাবীনা বাইনা যা-লিকা লা- ইলা হা-উলা-ই ওয়ালা- ইলা হা-উলা-আ ওয়ামান ইউদলিলিল্লা-হু ফালান তাজিদা লাহূ সাবীলা
তারা মাঝখানে দোদুল্যমান, না এদের দিকে, না ওদের দিকে; বস্তুতঃ আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তুমি তার জন্য কক্ষনো কোন পথ পাবে না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّخِذُوا۟ ٱلْكَٰفِرِينَ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَجْعَلُوا۟ لِلَّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَٰنًۭا مُّبِينًا ١٤٤
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তাত্তাখিযুল কা-ফিরীনা আওলিয়া-আ মিন দূনিল মু’মিনীন আতুরীদূনা আন তাজ‘আলূ লিল্লা-হি ‘আলাইকুম সুলতা-নাম মুবীনা
হে ঈমানদারগণ! তোমরা মু’মিনদের পরিবর্তে কাফিরদেরকে তোমাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা কি তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করতে চাও?
إِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ فِى ٱلدَّرْكِ ٱلْأَسْفَلِ مِنَ ٱلنَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا ١٤٥
ইন্নাল মুনা-ফিকীনা ফিদ দারকিল আসফালি মিনান না-রি ওয়ালান তাজিদা লাহুম নাসীরা
মুনাফিকরা থাকবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে, তুমি তাদের জন্য কক্ষনো কোন সাহায্যকারী পাবে না।
إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُوا۟ وَأَصْلَحُوا۟ وَٱعْتَصَمُوا۟ بِٱللَّهِ وَأَخْلَصُوا۟ دِينَهُمْ لِلَّهِ فَأُو۟لَٰٓئِكَ مَعَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ۖ وَسَوْفَ يُؤْتِ ٱللَّهُ ٱلْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًۭا ١٤٦
ইল্লাল লাযীনা তা-বূ ওয়াআসলাহূ ওয়া‘তাসামূ বিল্লা-হি ওয়াআখলাসূ দীনাহুম লিল্লা-হি ফাউলা-ইকা মা‘আল মু’মিনীনা ওয়াসাওফা ইউ’তিল্লা-হুল মু’মিনীনা আজরান ‘আযীমা
অবশ্য তারা এদের মধ্যে শামিল নয় যারা তাওবাহ করবে, নিজেদেরকে সংশোধন করবে, আল্লাহকে মজবুতভাবে ধারণ করবে, আর নিজেদের দ্বীনকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করবে। তখন তারা মু’মিনদের সঙ্গী হিসেবে গণ্য হবে আর আল্লাহ অচিরেই মু’মিনদেরকে মহা প্রতিফল দান করবেন।
مَّا يَفْعَلُ ٱللَّهُ بِعَذَابِكُمْ إِن شَكَرْتُمْ وَءَامَنتُمْ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ شَاكِرًا عَلِيمًۭا ١٤٧
মা ইয়াফ‘আলুল্লা-হু বি‘আযা-বিকুম ইন শাকারতুম ওয়াআ-মানতুম ওয়াকা-নাল্লা-হু শা-কিরান ‘আলীমা
তোমরা যদি শোকরগুজারি কর আর ঈমান আন তাহলে তোমাদেরকে শাস্তি দিয়ে আল্লাহ কী করবেন? আল্লাহ (সৎকাজের বড়ই) পুরস্কারদাতা, সর্ববিষয়ে জ্ঞাত।