۞ كُلُّ ٱلطَّعَامِ كَانَ حِلًّۭا لِّبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ إِلَّا مَا حَرَّمَ إِسْرَٰٓءِيلُ عَلَىٰ نَفْسِهِۦ مِن قَبْلِ أَن تُنَزَّلَ ٱلتَّوْرَىٰةُ ۗ قُلْ فَأْتُوا۟ بِٱلتَّوْرَىٰةِ فَٱتْلُوهَآ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ٩٣
কুল্লুত তা‘আ-মি কা-না হিল্লাল লিবানী ইসরা-ঈলা ইল্লা মা হার্রামা ইসরা-ঈলু ‘আলা নাফসিহী মিন কাবলি আন তুনায্যালাত তাওরা-হ কুল ফা’তূ বিত্তাওরা-তি ফাতলূহা- ইন কুনতুম সা-দিকীন
তাওরাত নাযিলের পূর্বে ইয়াকুব নিজের উপর যা হারাম করেছিল, তাছাড়া সকল খাদ্য বানী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিল। বল, ‘তোমরা তাওরাত নিয়ে এসো, এবং তা পাঠ কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।
فَمَنِ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٩٤
ফামানিফতারা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা মিম বা‘দি যা-লিকা ফাউলা-ইকা হুমুয যা-লিমূন
এরপরও যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যারোপ করবে, তারা যালিম।
قُلْ صَدَقَ ٱللَّهُ ۗ فَٱتَّبِعُوا۟ مِلَّةَ إِبْرَٰهِيمَ حَنِيفًۭا وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ٩٥
কুল সাদাকাল্লা-হ ফাত্তাবি‘ঊ মিল্লাতা ইবরা-হীমা হানীফাঁ ওয়ামা কা-না মিনাল মুশরিকীন
বল, ‘আল্লাহ সত্য বলেছেন, সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের অনুসরণ কর, সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নয়’।
إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍۢ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِى بِبَكَّةَ مُبَارَكًۭا وَهُدًۭى لِّلْعَٰلَمِينَ ٩٦
ইন্না আওয়ালা বাইতিঁ উদি‘আ লিন্না-সি লাল্লাযী বিবাক্কাতা মুবা-রাকাঁ ওয়াহুদাল লিল‘আ-লামীন
নিঃসন্দেহে প্রথম ঘর যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল, তাতো মক্কা্য়, যা বরকতমন্ডিত এবং সারা জাহানের জন্য পথপ্রদর্শক।
فِيهِ ءَايَٰتٌۢ بَيِّنَٰتٌۭ مَّقَامُ إِبْرَٰهِيمَ ۖ وَمَن دَخَلَهُۥ كَانَ ءَامِنًۭا ۗ وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلْبَيْتِ مَنِ ٱسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًۭا ۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِىٌّ عَنِ ٱلْعَٰلَمِينَ ٩٧
ফীহি আ-য়া-তুম বাইয়্যিনা-তুম মাকা-মু ইবরা-হীমা ওয়ামান দাখালাহূ কা-না আ-মিনা ওয়ালিল্লা-হি ‘আলান না-সি হিজ্জুল বাইতি মানিসতাতা-‘আ ইলাইহি সাবীলা ওয়ামান কাফারা ফাইন্নাল্লা-হা গানিয়্যুন ‘আনিল ‘আ-লামীন
তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়েছে (যেমন) মাক্বামে ইবরাহীম(ইবরাহীমের দাঁড়ানোর জায়গা)। যে কেউ তাতে প্রবেশ করবে নিরাপদ হবে। আল্লাহর জন্য উক্ত ঘরের হাজ্জ করা লোকেদের উপর আবশ্যক যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে এবং যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, (সে জেনে রাখুক) নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্ব জাহানের মুখাপেক্ষী নন।
قُلْ يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ لِمَ تَكْفُرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَٱللَّهُ شَهِيدٌ عَلَىٰ مَا تَعْمَلُونَ ٩٨
কুল ইয়া-আহলাল কিতা-বি লিমা তাকফুরূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়াল্লা-হু শাহীদুন ‘আলা মা তা‘মালূন
বল, ‘হে কিতাবধারীগণ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে কেন অমান্য করছ? বস্তুতঃ তোমরা যা করছ, আল্লাহ তার সাক্ষী’।
قُلْ يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ لِمَ تَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ مَنْ ءَامَنَ تَبْغُونَهَا عِوَجًۭا وَأَنتُمْ شُهَدَآءُ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ٩٩
কুল ইয়া-আহলাল কিতা-বি লিমা তাসুদ্দূনা ‘আন সাবীলিল্লা-হি মান আ-মানা তাবগূনাহা ‘ইওয়াজাঁ ওয়াআনতুম শুহাদা-আ ওয়ামাল্লা-হু বিগা-ফিলিন ‘আম্মা তা‘মালূন
বল, হে কিতাবধারীগণ! যে ব্যক্তি ঈমান এনেছে তাকে কেন আল্লাহর পথে বাধা দিচ্ছ, ওকে বক্র করার পথ খুঁজছ, অথচ তোমরাই (এ পথের সত্যতার) সাক্ষী? এমতাবস্থায় আল্লাহ তোমাদের কার্যাবলী সম্বন্ধে বে-খবর নন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِن تُطِيعُوا۟ فَرِيقًۭا مِّنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ يَرُدُّوكُم بَعْدَ إِيمَٰنِكُمْ كَٰفِرِينَ ١٠٠
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইন তুতী‘ঊ ফারীকাম মিনাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা ইয়ারুদ্দূকুম বা‘দা ঈমা-নিকুম কা-ফিরীন
হে মু’মিনগণ! তোমরা যদি কিতাবীদের মধ্য হতে কোন দলের কথা মেনে নাও, তবে তারা তোমাদের ঈমান আনার পর আবার তোমাদেরকে কাফির বানিয়ে ছাড়বে।
وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَأَنتُمْ تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ ءَايَٰتُ ٱللَّهِ وَفِيكُمْ رَسُولُهُۥ ۗ وَمَن يَعْتَصِم بِٱللَّهِ فَقَدْ هُدِىَ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ١٠١
ওয়াকাইফা তাকফুরূনা ওয়াআনতুম তুতলা ‘আলাইকুম আ-য়া-তুল্লা-হি ওয়াফীকুম রাসূলুহ ওয়ামান ইয়া‘তাসিম বিল্লা-হি ফাকাদ হুদিয়া ইলা সিরা-তিম মুসতাকীম
আর তোমরা কেমন করে কুফরী করতে পার যখন তোমাদেরকে আল্লাহর আয়াতসমূহ পড়ে শুনানো হচ্ছে এবং তোমাদের মাঝে তাঁর রসূলও মওজুদ আছেন? যে ব্যক্তি আল্লাহকে সুদৃঢ়ভাবে গ্রহণ করে, নিশ্চয়ই সে সরল পথের দিকে পরিচালিত হবে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ ١٠٢
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুত তাকুল্লা-হা হাক্কা তুকা-তিহী ওয়ালা তামূতুন্না ইল্লা ওয়াআনতুম মুসলিমূন
হে মু’মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর যেমনভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত। তোমরা মুসলিম না হয়ে কক্ষনো মরো না।
وَٱعْتَصِمُوا۟ بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعًۭا وَلَا تَفَرَّقُوا۟ ۚ وَٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَآءًۭ فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِۦٓ إِخْوَٰنًۭا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍۢ مِّنَ ٱلنَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمْ ءَايَٰتِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ١٠٣
ওয়া‘তাসিমূ বিহাবলিল্লা-হি জামী‘আঁ ওয়ালা তাফার্রাকূ ওয়াযকুরূ নি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম ইয কুনতুম আ‘দা-আন ফাআল্লাফা বাইনা কুলূবিকুম ফাআসবাহতুম বিনি‘মাতিহী ইখওয়া-নাঁ ওয়াকুনতুম ‘আলা শাফা হুফরাতিম মিনান না-রি ফাআনকাযাকুম মিনহা কাযা-লিকা ইউবাইয়্যিনুল্লা-হু লাকুম আ-য়া-তিহী লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন
আল্লাহর রজ্জুকে সমবেতভাবে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর নি‘মাত স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু, তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতির সঞ্চার করলেন, ফলে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নি-গহ্বরের প্রান্তে ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে তাত্থেকে রক্ষা করলেন। এভাবে আল্লাহ নিজের নিদর্শনাবলী তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা সঠিক পথ প্রাপ্ত হও।
وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌۭ يَدْعُونَ إِلَى ٱلْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ ۚ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ١٠٤
ওয়ালতাকুম মিনকুম উম্মাতুঁ ইয়াদ‘ঊনা ইলাল খাইরি ওয়ায়া’মুরূনা বিলমা‘রূফি ওয়ায়ানহাওনা ‘আনিল মুনকার ওয়াউলা-ইকা হুমুল মুফলিহূন
তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল হোক, যারা কল্যাণের দিকে আহবান করে, সৎ কাজের আদেশ করে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করে আর এরাই সফলকাম।
وَلَا تَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ تَفَرَّقُوا۟ وَٱخْتَلَفُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلْبَيِّنَٰتُ ۚ وَأُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ ١٠٥
ওয়ালা তাকূনূ কাল্লাযীনা তাফার্রাকূ ওয়াখতালাফূ মিম বা‘দি মা জা-আহুমুল বাইয়্যিনা-ত ওয়াউলা-ইকা লাহুম ‘আযা-বুন ‘আযীম
তোমরা সেই লোকদের মত হয়ে যেয়ো না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন পৌঁছার পরে বিভক্ত হয়েছে ও মতভেদ করেছে এবং এ শ্রেণীর লোকেদের জন্য আছে মহা শাস্তি।
يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌۭ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌۭ ۚ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ٱسْوَدَّتْ وُجُوهُهُمْ أَكَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَٰنِكُمْ فَذُوقُوا۟ ٱلْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ ١٠٦
ইয়াওমা তাবইয়াদ্দু উজূহুঁ ওয়াতাসওয়াদ্দু উজূহ ফাআম্মাল লাযীনাসওয়াদ্দাত উজূহুহুম আকাফারতুম বা‘দা ঈমা-নিকুম ফাযূকুল ‘আযা-বা বিমা কুনতুম তাকফুরূন
সে দিন কতক মুখ উজ্জ্বল হবে আর কতক মুখ কালো হবে, যাদের মুখ কালো হবে, (তাদেরকে বলা হবে), তোমরা কি ঈমান আনার পরও কুফরী করেছিলে? কাজেই নিজেদের কুফরীর জন্য শাস্তি ভোগ করতে থাক।
وَأَمَّا ٱلَّذِينَ ٱبْيَضَّتْ وُجُوهُهُمْ فَفِى رَحْمَةِ ٱللَّهِ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ١٠٧
ওয়াআম্মাল লাযীনাবইয়াদ্দাত উজূহুহুম ফাফী রাহমাতিল্লা-হি হুম ফীহা খা-লিদূন
যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে, তারা তাতে চিরকাল থাকবে।
تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِٱلْحَقِّ ۗ وَمَا ٱللَّهُ يُرِيدُ ظُلْمًۭا لِّلْعَٰلَمِينَ ١٠٨
তিলকা আ-য়া-তুল্লা-হি নাতলূহা ‘আলাইকা বিলহাক্ক ওয়ামাল্লা-হু ইউরীদু যুলমাল লিল‘আ-লামীন
এসব আল্লাহর আয়াত, যা ঠিকভাবে আমি তোমাকে পড়ে শুনাচ্ছি এবং আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতি যুলম করতে চান না।
وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ ١٠٩
ওয়ালিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ ওয়াইলাল্লা-হি তুরজা‘উল উমূর
যা কিছু আসমানে আছে আর যমীনে আছে সব আল্লাহরই এবং যাবতীয় বিষয়াদি আল্লাহর দিকেই ফিরে যাবে।
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ ۗ وَلَوْ ءَامَنَ أَهْلُ ٱلْكِتَٰبِ لَكَانَ خَيْرًۭا لَّهُم ۚ مِّنْهُمُ ٱلْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ ٱلْفَٰسِقُونَ ١١٠
কুনতুম খাইরা উম্মাতিন উখরিজাত লিন্না-সি তা’মুরূনা বিলমা‘রূফি ওয়াতানহাওনা ‘আনিল মুনকারি ওয়াতু’মিনূনা বিল্লা-হ ওয়ালাও আ-মানা আহলুল কিতা-বি লাকা-না খাইরাল লাহুম মিনহুমুল মু’মিনূনা ওয়াআকছারুহুমুল ফা-সিকূন
তোমরাই সর্বোত্তম উম্মাত, মানবজাতির (সর্বাত্মক কল্যাণের) জন্য তোমাদের আবির্ভুত করা হয়েছে, তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ কর ও আল্লাহর প্রতি ঈমান রক্ষা করে চল। যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তাহলে নিশ্চয়ই তাদের জন্য ভাল হত, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মু’মিন এবং তাদের অধিকাংশই ফাসেক।
لَن يَضُرُّوكُمْ إِلَّآ أَذًۭى ۖ وَإِن يُقَٰتِلُوكُمْ يُوَلُّوكُمُ ٱلْأَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنصَرُونَ ١١١
লান ইয়াদুর্রূকুম ইল্লা- আযাঁ ওয়াইন ইউকা-তিলূকুম ইউওয়াল্লূকুমুল আদবা-রা ছুম্মা লা ইউনসারূন
সামান্য কষ্ট দেয়া ব্যতীত তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর যদি তোমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, অতঃপর তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ ٱلذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوٓا۟ إِلَّا بِحَبْلٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ وَحَبْلٍۢ مِّنَ ٱلنَّاسِ وَبَآءُو بِغَضَبٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ ٱلْمَسْكَنَةُ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا۟ يَكْفُرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَيَقْتُلُونَ ٱلْأَنۢبِيَآءَ بِغَيْرِ حَقٍّۢ ۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا۟ وَّكَانُوا۟ يَعْتَدُونَ ١١٢
দুরিবাত ‘আলাইহিমুয যিল্লাতু আইনা মা ছুকিফূ ইল্লা বিহাবলিম মিনাল্লা-হি ওয়াহাবলিম মিনান না-সি ওয়াবা-ঊ বিগাদাবিম মিনাল্লা-হি ওয়াদুরিবাত ‘আলাইহিমুল মাসকানাহ যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-নূ ইয়াকফুরূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়ায়াকতুলূনাল আমবিয়া-আ বিগাইরি হাক্ক যা-লিকা বিমা ‘আসাও ওয়াকা-নূ ইয়া‘তাদূন
আল্লাহর অনুকম্পা ও মানুষের আশ্রয় ছাড়া যেখানেই তারা অবস্থান করুক, সেখানেই তারা হয়েছে লাঞ্ছিত, তারা আল্লাহর গযবে পরিবেষ্টিত এবং তাদের উপর পতিত হয়েছে দারিদ্রের কশাঘাত। এটা এজন্য যে, তারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করত এবং নাবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত, এটা এজন্য যে, তারা অবাধ্যতা এবং সীমালঙ্ঘন করত।
۞ لَيْسُوا۟ سَوَآءًۭ ۗ مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ أُمَّةٌۭ قَآئِمَةٌۭ يَتْلُونَ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ ءَانَآءَ ٱلَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ ١١٣
লাইসূ সাওয়া-আ মিন আহলিল কিতা-বি উম্মাতুন কা-ইমাতুঁ ইয়াতলূনা আ-য়া-তিল্লা-হি আ-না-আল লাইলি ওয়াহুম ইয়াসজুদূন
তারা সবাই সমান নয়। আহলে কিতাবদের কত লোক এমনও আছে যারা দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে, তারা রাত্রিকালে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে থাকে এবং তারা সাজদাহ করে থাকে।
يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَيَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَيُسَٰرِعُونَ فِى ٱلْخَيْرَٰتِ وَأُو۟لَٰٓئِكَ مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١١٤
ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি ওয়ায়া’মুরূনা বিলমা‘রূফি ওয়ায়ানহাওনা ‘আনিল মুনকারি ওয়াইউসা-রি‘ঊনা ফিল খাইরা-তি ওয়াউলা-ইকা মিনাস সা-লিহীন
তারা আল্লাহর ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে, সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করে এবং কল্যাণকর কাজে তৎপর থাকে। বস্তুতঃ তারা পুণ্যবানদের মধ্যে গণ্য।
وَمَا يَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍۢ فَلَن يُكْفَرُوهُ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِٱلْمُتَّقِينَ ١١٥
ওয়ামা ইয়াফ‘আলূ মিন খাইরিন ফালান ইউকফারূহ ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিলমুত্তাকীন
তারা যা কিছু সৎকাজ করুক কোন কিছুই প্রত্যাখ্যান করা হবে না এবং আল্লাহ মুত্তাকীদের বিষয়ে বিশেষরূপে পরিজ্ঞাত।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَن تُغْنِىَ عَنْهُمْ أَمْوَٰلُهُمْ وَلَآ أَوْلَٰدُهُم مِّنَ ٱللَّهِ شَيْـًۭٔا ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ ۚ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ١١٦
ইন্নাল লাযীনা কাফারূ লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালা- আওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআঁ ওয়াউলা-ইকা আসহা-বুন না-র হুম ফীহা খা-লিদূন
যারা কুফরী করে, আল্লাহর নিকটে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কক্ষনো কোন কাজে আসবে না এবং তারা হচ্ছে অগ্নির অধিবাসী, তারা তাতে চিরকাল থাকবে।
مَثَلُ مَا يُنفِقُونَ فِى هَٰذِهِ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا كَمَثَلِ رِيحٍۢ فِيهَا صِرٌّ أَصَابَتْ حَرْثَ قَوْمٍۢ ظَلَمُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ فَأَهْلَكَتْهُ ۚ وَمَا ظَلَمَهُمُ ٱللَّهُ وَلَٰكِنْ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ١١٧
মাছালু মা ইউনফিকূনা ফী হা-যিহিল হায়া-তিদ দুনইয়া কামাছালি রীহিন ফীহা সির্রুন আসা-বাত হারছা কাওমিন যালামূ আনফুসাহুম ফাআহলাকাতহ ওয়ামা যালামাহুমুল্লা-হু ওয়ালা-কিন আনফুসাহুম ইয়াযলিমূন
এ পার্থিব জীবনে তারা যা ব্যয় করে তার দৃষ্টান্ত হিমশীতল বাতাসের মত যা নিজেদের প্রতি যুলমকারী সম্প্রদায়ের শস্যক্ষেত্রকে আঘাত করে এবং তাকে নষ্ট করে। মূলতঃ তাদের প্রতি আল্লাহ কোন প্রকার যুলম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করে থাকে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّخِذُوا۟ بِطَانَةًۭ مِّن دُونِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالًۭا وَدُّوا۟ مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ ٱلْبَغْضَآءُ مِنْ أَفْوَٰهِهِمْ وَمَا تُخْفِى صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ ۚ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ ٱلْءَايَٰتِ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ ١١٨
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তাত্তাখিযূ বিতা-নাতাম মিন দূনিকুম লা ইয়া’লূনাকুম খাবা-লাঁ ওয়াদ্দূ মা ‘আনিত্তুম কাদ বাদাতিল বাগদা-উ মিন আফওয়া-হিহিম ওয়ামা তুখফী সুদূরুহুম আকবার কাদ বাইয়্যান্না লাকুমুল আ-য়া-তি ইন কুনতুম তা‘কিলূন
হে মু’মিনগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদের লোক ছেড়ে অন্য কাউকেও বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, কারণ তারা তোমাদেরকে নষ্ট করতে ত্রুটি করবে না, তারা কেবল তোমাদের দুর্ভোগ কামনা করে, বস্তুতঃ তাদের মুখেও শত্রুতা প্রকাশিত হয়ে পড়ে এবং তাদের অন্তর যা লুকিয়ে রাখে তা আরও ভয়ঙ্কর, আমি তোমাদের কাছে তাদের লক্ষণগুলো স্পষ্ট করে দিলাম, যদি তোমরা অনুধাবন কর।
هَٰٓأَنتُمْ أُو۟لَآءِ تُحِبُّونَهُمْ وَلَا يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُونَ بِٱلْكِتَٰبِ كُلِّهِۦ وَإِذَا لَقُوكُمْ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَوْا۟ عَضُّوا۟ عَلَيْكُمُ ٱلْأَنَامِلَ مِنَ ٱلْغَيْظِ ۚ قُلْ مُوتُوا۟ بِغَيْظِكُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ١١٩
হা-আনতুম উলা-ই তুহিব্বূনাহুম ওয়ালা ইউহিব্বূনাকুম ওয়াতু’মিনূনা বিলকিতা-বি কুল্লিহী ওয়াইযা লাকূকুম কা-লূ আ-মান্না ওয়াইযা খালাও ‘আদ্দূ ‘আলাইকুমুল আনা-মিলা মিনাল গাইয কুল মূতূ বিগাইযিকুম ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিযা-তিস সুদূর
অবশ্য তোমরাই সেই লোক যে, তোমরা তাদেরকে মহববত কর, কিন্তু তারা তোমাদের সাথে মহববত রাখে না, উপরন্তু তোমরা সকল কিতাবের প্রতিও বিশ্বাস রাখ এবং যখন তারা তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তখন বলে যে, ‘আমরাও ঈমান এনেছি’ এবং যখন তারা একান্তে মিলিত হয় তখন তোমাদের প্রতি গোস্বায় নিজেদের আঙ্গুলের মাথা কামড়াতে থাকে। তাদেরকে বল, ‘তোমরা নিজেদের গোস্বায় মরতে থাক’। বস্তুতঃ অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা খুব ভালভাবেই জানেন।
إِن تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌۭ تَسُؤْهُمْ وَإِن تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌۭ يَفْرَحُوا۟ بِهَا ۖ وَإِن تَصْبِرُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْـًٔا ۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌۭ ١٢٠
ইন তামসাসকুম হাসানাতুন তাসু’হুম ওয়াইন তুসিবকুম সাইয়্যিআতুঁ ইয়াফরাহূ বিহা ওয়াইন তাসবিরূ ওয়াতাত্তাকূ লা ইয়াদুর্রুকুম কাইদুহুম শাইআ ইন্নাল্লা-হা বিমা ইয়া‘মালূনা মুহীত
যদি তোমাদের কল্যাণ হয়, তা তাদেরকে দুঃখ দেয়, আর যদি তোমাদের অকল্যাণ হয়, তাতে তারা আনন্দিত হয়, যদি তোমরা ধৈর্যশীল হও এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে তাদের চক্রান্ত তোমাদের কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না, নিশ্চয় তারা যা কিছু করছে, আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন।
وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ ٱلْمُؤْمِنِينَ مَقَٰعِدَ لِلْقِتَالِ ۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ١٢١
ওয়াইয গাদাওতা মিন আহলিকা তুবাউইউল মু’মিনীনা মাকা-‘ইদা লিলকিতা-ল ওয়াল্লা-হু সামী‘উন ‘আলীম
(স্মরণ কর) যখন তুমি সকাল বেলায় তোমার পরিজন হতে বের হয়ে মু’মিনদেরকে যুদ্ধের জন্য জায়গায় জায়গায় মোতায়েন করছিলে, আল্লাহ সবকিছুই শুনেন, সবকিছুই জানেন।।
إِذْ هَمَّت طَّآئِفَتَانِ مِنكُمْ أَن تَفْشَلَا وَٱللَّهُ وَلِيُّهُمَا ۗ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ ١٢٢
ইয হাম্মাত তা-ইফাতা-নি মিনকুম আন তাফশালা ওয়াল্লা-হু ওয়ালিয়্যুহুমা ওয়া‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন
যখন তোমাদের মধ্যকার দু’দল ভীরুতা প্রকাশ করতে মনস্থ করেছিল, কিন্তু আল্লাহ উভয়ের বন্ধু ছিলেন, মু’মিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।
وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ ٱللَّهُ بِبَدْرٍۢ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌۭ ۖ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ١٢٣
ওয়ালাকাদ নাসারাকুমুল্লা-হু বিবাদরিঁ ওয়াআনতুম আযিল্লাতুন ফাত্তাকুল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন
এবং আল্লাহ তোমাদের হীন অবস্থায় বাদর যুদ্ধক্ষেত্রে তোমাদের সাহায্য করেছেন, সুতরাং আল্লাহকে ভয় করে চল, যেন তোমরা শোকরগুজার হতে পার।
إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَن يَكْفِيَكُمْ أَن يُمِدَّكُمْ رَبُّكُم بِثَلَٰثَةِ ءَالَٰفٍۢ مِّنَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ مُنزَلِينَ ١٢٤
ইয তাকূলু লিলমু’মিনীনা আলান ইয়াকফিয়াকুম আন ইউমিদ্দাকুম রাব্বুকুম বিছালা-ছাতি আ-লা-ফিম মিনাল মালা-ইকাতি মুনযালীন
(স্মরণ কর) যখন তুমি মু’মিনদেরকে বলছিলে, ‘তোমাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক তিন সহস্র ফেরেশতা অবতরণপূর্বক তোমাদের সাহায্য করবেন?’
بَلَىٰٓ ۚ إِن تَصْبِرُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَٰذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ ءَالَٰفٍۢ مِّنَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ مُسَوِّمِينَ ١٢٥
বালা- ইন তাসবিরূ ওয়াতাত্তাকূ ওয়ায়া’তূকুম মিন ফাওরিহিম হা-যা ইউমদিদকুম রাব্বুকুম বিখামসাতি আ-লা-ফিম মিনাল মালা-ইকাতি মুসাউইমীন
হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তারা (অর্থাৎ শত্রুরা) মুহূর্তের মধ্যে এখানে তোমাদের উপর এসে পড়ে, তাহলে তোমাদের প্রতিপালক বিশেষভাবে চিহ্নিত পাঁচ সহস্র ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন।
وَمَا جَعَلَهُ ٱللَّهُ إِلَّا بُشْرَىٰ لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُم بِهِۦ ۗ وَمَا ٱلنَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ ٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَكِيمِ ١٢٦
ওয়ামা জা‘আলাহুল্লা-হু ইল্লা বুশরা লাকুম ওয়ালিতাতমাইন্না কুলূবুকুম বিহ ওয়ামান নাসরু ইল্লা মিন ‘ইনদিল্লা-হিল ‘আযীযিল হাকীম
এটা আল্লাহ কেবলমাত্র তোমাদের সুসংবাদের জন্য এবং তা দ্বারা তোমাদের চিত্ত-প্রশান্তির জন্য করেছেন, মূলতঃ সাহায্য তো শুধু আল্লাহরই নিকট হতে, যিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
لِيَقْطَعَ طَرَفًۭا مِّنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَوْ يَكْبِتَهُمْ فَيَنقَلِبُوا۟ خَآئِبِينَ ١٢٧
লিয়াকতা‘আ তারাফাম মিনাল লাযীনা কাফারূ আও ইয়াকবিতাহুম ফায়ানকালিবূ খা-ইবীন
যাতে তিনি কাফিরদের দলবিশেষকে ধ্বংস করে দেন কিংবা লাঞ্ছিত করেন, ফলে তারা নিরাশ হয়ে প্রত্যাবর্তন করে।
لَيْسَ لَكَ مِنَ ٱلْأَمْرِ شَىْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَٰلِمُونَ ١٢٨
লাইসা লাকা মিনাল আমরি শাইউন আও ইয়াতূবা ‘আলাইহিম আও ইউ‘আয্যিবাহুম ফাইন্নাহুম যা-লিমূন
আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন- এ ব্যাপারে তোমার কিছু করার নেই। কেননা তারা হচ্ছে যালিম।
وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١٢٩
ওয়ালিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ ইয়াগফিরু লিমান ইয়াশা-উ ওয়াইউ‘আয্যিবু মান ইয়াশা-আ ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম
আকাশসমূহে ও যমীনে যা কিছুই আছে সেসব আল্লাহরই, তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছে শাস্তি প্রদান করেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَأْكُلُوا۟ ٱلرِّبَوٰٓا۟ أَضْعَٰفًۭا مُّضَٰعَفَةًۭ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ١٣٠
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তা’কুলুর রিবা- আদ‘আ-ফাম মুদা-‘আফাতাঁ ওয়াত্তাকুল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন
হে মু’মিনগণ! তোমরা সুদ খেও না ক্রমবর্ধিতভাবে, আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
وَٱتَّقُوا۟ ٱلنَّارَ ٱلَّتِىٓ أُعِدَّتْ لِلْكَٰفِرِينَ ١٣١
ওয়াত্তাকুন না-রাল লাতী উ‘ইদ্দাত লিলকা-ফিরীন
ভয় কর সেই আগুনকে, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ١٣٢
ওয়াআতী‘উল্লা-হা ওয়ার্রাসূলা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন
আল্লাহর ও রসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা কৃপাপ্রাপ্ত হতে পার।
۞ وَسَارِعُوٓا۟ إِلَىٰ مَغْفِرَةٍۢ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا ٱلسَّمَٰوَٰتُ وَٱلْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ ١٣٣
ওয়াসা-রি‘ঊ ইলা মাগফিরাতিম মির রাব্বিকুম ওয়াজান্নাতিন ‘আরদুহাস সামা-ওয়া-তু ওয়ালআরদু উ‘ইদ্দাত লিলমুত্তাকীন
তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে ও সেই জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি হচ্ছে আসমানসমূহ ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য তৈরী করা হয়েছে।
ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ فِى ٱلسَّرَّآءِ وَٱلضَّرَّآءِ وَٱلْكَٰظِمِينَ ٱلْغَيْظَ وَٱلْعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِ ۗ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلْمُحْسِنِينَ ١٣٤
আল্লাযীনা ইউনফিকূনা ফিস সার্রা-ই ওয়াদ্দার্রা-ই ওয়ালকা-যিমীনাল গাইযা ওয়াল‘আ-ফীনা ‘আনিন না-স ওয়াল্লা-হু ইউহিব্বুল মুহসিনীন
যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।
وَٱلَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا۟ فَٰحِشَةً أَوْ ظَلَمُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا۟ ٱللَّهَ فَٱسْتَغْفَرُوا۟ لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ إِلَّا ٱللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا۟ عَلَىٰ مَا فَعَلُوا۟ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ١٣٥
ওয়াল্লাযীনা ইযা ফা‘আলূ ফা-হিশাতান আও যালামূ আনফুসাহুম যাকারুল্লা-হা ফাসতাগফারূ লিযুনূবিহিম ওয়ামান ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লাল্লা-হু ওয়ালাম ইউসির্রূ ‘আলা মা ফা‘আলূ ওয়াহুম ইয়া‘লামূন
যারা কোন পাপ কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের প্রতি যুলম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং আল্লাহ ব্যতীত গুনাহসমূহের ক্ষমাকারী কেই বা আছে এবং তারা জেনে শুনে নিজেদের (পাপ) কাজের পুনরাবৃত্তি করে না।
أُو۟لَٰٓئِكَ جَزَآؤُهُم مَّغْفِرَةٌۭ مِّن رَّبِّهِمْ وَجَنَّٰتٌۭ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا ۚ وَنِعْمَ أَجْرُ ٱلْعَٰمِلِينَ ١٣٦
উলা-ইকা জাযা-উহুম মাগফিরাতুম মির রাব্বিহিম ওয়াজান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা ওয়ানি‘মা আজরুল ‘আ-মিলীন
এরাই তারা যাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে ক্ষমা এবং এমন এক জান্নাত যার নিম্নে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা তার স্থায়ী অধিবাসী এবং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম!
قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِكُمْ سُنَنٌۭ فَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُكَذِّبِينَ ١٣٧
কাদ খালাত মিন কাবলিকুম সুনানুন ফাসীরূ ফিল আরদি ফানযুরূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুকায্যিবীন
তোমাদের পূর্বেও অনেক সম্প্রদায় গত হয়েছে, তোমরা দুনিয়া পর্যটন কর, তারপর দেখ, যারা মিথ্যা ব’লে অমান্য করেছিল তাদের পরিণাম কী দাঁড়িয়েছে।
هَٰذَا بَيَانٌۭ لِّلنَّاسِ وَهُدًۭى وَمَوْعِظَةٌۭ لِّلْمُتَّقِينَ ١٣٨
হা-যা বায়া-নুল লিন্না-সি ওয়াহুদাঁ ওয়ামাও‘ইযাতুল লিলমুত্তাকীন
এটা হচ্ছে মানুষের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও নাসীহাত।
وَلَا تَهِنُوا۟ وَلَا تَحْزَنُوا۟ وَأَنتُمُ ٱلْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ١٣٩
ওয়ালা তাহিনূ ওয়ালা তাহযানূ ওয়াআনতুমুল আ‘লাওনা ইন কুনতুম মু’মিনীন
তোমরা হীনবল ও দুঃখিত হয়ো না, বস্তুতঃ তোমরাই জয়ী থাকবে যদি তোমরা মু’মিন হও।
إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌۭ فَقَدْ مَسَّ ٱلْقَوْمَ قَرْحٌۭ مِّثْلُهُۥ ۚ وَتِلْكَ ٱلْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ ٱلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَيَتَّخِذَ مِنكُمْ شُهَدَآءَ ۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٤٠
ইন ইয়ামসাসকুম কারহুন ফাকাদ মাস্সাল কাওমা কারহুম মিছলুহ ওয়াতিলকাল আইয়্যা-মু নুদা-উইলুহা বাইনান না-সি ওয়ালিয়া‘লামাল্লা-হুল লাযীনা আ-মানূ ওয়ায়াত্তাখিযা মিনকুম শুহাদা-আ ওয়াল্লা-হু লা ইউহিব্বুয যা-লিমীন
যদি তোমাদেরকে আঘাত স্পর্শ করে, অনুরূপ আঘাত তো অপর পক্ষকেও স্পর্শ করেছিল। (জয়-পরাজয়ের) এ দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে আবর্তিত করে থাকি যাতে আল্লাহ মু’মিনদেরকে চিনে নিতে পারেন এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে কাউকে শহীদ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, বস্তুতঃ আল্লাহ যালিমদেরকে ভালবাসেন না।
وَلِيُمَحِّصَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَيَمْحَقَ ٱلْكَٰفِرِينَ ١٤١
ওয়ালিইউমাহ্হিসাল্লা-হুল লাযীনা আ-মানূ ওয়ায়ামহাকাল কা-ফিরীন
এবং (এ জন্যেও) যেন আল্লাহ মু’মিনদেরকে সংশোধন করেন ও কাফিরদের নিশ্চিহ্ন করেন।
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ جَٰهَدُوا۟ مِنكُمْ وَيَعْلَمَ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٤٢
আম হাসিবতুম আন তাদখুলুল জান্নাতা ওয়ালাম্মা ইয়া‘লামিল্লা-হুল লাযীনা জা-হাদূ মিনকুম ওয়ায়া‘লামাস সা-বিরীন
তোমরা কি ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ এখন পর্যন্তও পরখ করেননি তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করেছে আর কারা ধৈর্যশীল।
وَلَقَدْ كُنتُمْ تَمَنَّوْنَ ٱلْمَوْتَ مِن قَبْلِ أَن تَلْقَوْهُ فَقَدْ رَأَيْتُمُوهُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ ١٤٣
ওয়ালাকাদ কুনতুম তামান্নাওনাল মাওতা মিন কাবলি আন তালকাওহু ফাকাদ রাআইতুমূহু ওয়াআনতুম তানযুরূন
(শাহাদাতের) মৃত্যুর সাক্ষাৎ লাভের পূর্বে তোমরা তা কামনা করতে, এখন তো তোমরা তা দিব্যদৃষ্টিতে দেখলে।
وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌۭ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ ٱلرُّسُلُ ۚ أَفَإِي۟ن مَّاتَ أَوْ قُتِلَ ٱنقَلَبْتُمْ عَلَىٰٓ أَعْقَٰبِكُمْ ۚ وَمَن يَنقَلِبْ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ فَلَن يَضُرَّ ٱللَّهَ شَيْـًۭٔا ۗ وَسَيَجْزِى ٱللَّهُ ٱلشَّٰكِرِينَ ١٤٤
ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূলুন কাদ খালাত মিন কাবলিহির রুসুল আফাইম মা-তা আও কুতিলানকালাবতুম ‘আলা- আ‘কা-বিকুম ওয়ামান ইয়ানকালিব ‘আলা ‘আকিবাইহি ফালান ইয়াদুর্রাল্লা-হা শাইআ ওয়াসায়াজযিল্লা-হুশ শা-কিরীন
মুহাম্মাদ হচ্ছে একজন রসূল মাত্র, তাঁর পূর্বে আরও অনেক রসূল গত হয়েছে; কাজেই যদি সে মারা যায় কিংবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা উল্টাদিকে ঘুরে দাঁড়াবে? এবং যে ব্যক্তি উল্টাদিকে ফিরে দাঁড়ায় সে আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না এবং আল্লাহ কৃতজ্ঞদেরকে অতিশীঘ্র বিনিময় প্রদান করবেন।
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ كِتَٰبًۭا مُّؤَجَّلًۭا ۗ وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ ٱلدُّنْيَا نُؤْتِهِۦ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ ٱلْءَاخِرَةِ نُؤْتِهِۦ مِنْهَا ۚ وَسَنَجْزِى ٱلشَّٰكِرِينَ ١٤٥
ওয়ামা কা-না লিনাফসিন আন তামূতা ইল্লা বিইযনিল্লা-হি কিতা-বাম মুআজ্জালা ওয়ামান ইউরিদ ছাওয়া-বাদ দুনইয়া নু’তিহী মিনহা ওয়ামান ইউরিদ ছাওয়া-বাল আ-খিরাতি নু’তিহী মিনহা ওয়াসানাজযিশ শা-কিরীন
কোন জীবই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মরতে পারে না, তার মেয়াদ নির্ধারিত। যে ব্যক্তি পার্থিব ফল চায়, আমি তাত্থেকে তাকে দেই, আর যে ব্যক্তি আখেরাতের ফল চায়, আমি তাকে তাত্থেকে দেই এবং কৃতজ্ঞদেরকে আমি শীঘ্রই বিনিময় প্রদান করব।
وَكَأَيِّن مِّن نَّبِىٍّۢ قَٰتَلَ مَعَهُۥ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌۭ فَمَا وَهَنُوا۟ لِمَآ أَصَابَهُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا۟ وَمَا ٱسْتَكَانُوا۟ ۗ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٤٦
ওয়াকাআইয়্যিম মিন নাবিয়্যিন কা-তালা মা‘আহূ রিব্বিয়্যূনা কাছীরুন ফামা ওয়াহানূ লিমা- আসা-বাহুম ফী সাবীলিল্লা-হি ওয়ামা দা‘উফূ ওয়ামাসতাকা-নূ ওয়াল্লা-হু ইউহিব্বুস সা-বিরীন
কত নাবী যুদ্ধ করেছে, তাদের সাথে ছিল বহু লোক, তখন তারা আল্লাহর পথে তাদের উপর সংঘটিত বিপদের জন্য হীনবল হয়নি, দুর্বল হয়নি, দুর্বল, অপারগ হয়নি, বস্তুতঃ আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে ভালবাসেন।
وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَّآ أَن قَالُوا۟ رَبَّنَا ٱغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِىٓ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ ١٤٧
ওয়ামা কা-না কাওলাহুম ইল্লা- আন কা-লূ রাব্বানাগফির লানা যুনূবানা ওয়াইসরা-ফানা ফী আমরিনা ওয়াছাব্বিত আকদা-মানা ওয়ানসুরনা ‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন
তাদের মুখ হতে কেবল এ কথাই বেরিয়েছিল- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের অপরাধগুলো এবং আমাদের কাজ-কর্মে বাড়াবাড়িগুলোকে তুমি ক্ষমা করে দাও, আমাদেরকে দৃঢ়পদ রেখ এবং কাফিরদলের উপর আমাদেরকে সাহায্য কর।’
فَـَٔاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ ثَوَابَ ٱلدُّنْيَا وَحُسْنَ ثَوَابِ ٱلْءَاخِرَةِ ۗ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلْمُحْسِنِينَ ١٤٨
ফাআ-তা-হুমুল্লা-হু ছাওয়া-বাদ দুনইয়া ওয়াহুসনা ছাওয়া-বিল আ-খিরাহ ওয়াল্লা-হু ইউহিব্বুল মুহসিনীন
সুতরাং আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব সুফল প্রদান করলেন আর পরকালীন উৎকৃষ্ট সুফল। আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِن تُطِيعُوا۟ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يَرُدُّوكُمْ عَلَىٰٓ أَعْقَٰبِكُمْ فَتَنقَلِبُوا۟ خَٰسِرِينَ ١٤٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইন তুতী‘উল লাযীনা কাফারূ ইয়ারুদ্দূকুম ‘আলা- আ‘কা-বিকুম ফাতানকালিবূ খা-সিরীন
হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর তাহলে তারা তোমাদেরকে পশ্চাদ্দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, তখন তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
بَلِ ٱللَّهُ مَوْلَىٰكُمْ ۖ وَهُوَ خَيْرُ ٱلنَّٰصِرِينَ ١٥٠
বালিল্লা-হু মাওলা-কুম ওয়াহুওয়া খাইরুন না-সিরীন
বরং আল্লাহ্ই তোমাদের অভিভাবক এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।
سَنُلْقِى فِى قُلُوبِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱلرُّعْبَ بِمَآ أَشْرَكُوا۟ بِٱللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِۦ سُلْطَٰنًۭا ۖ وَمَأْوَىٰهُمُ ٱلنَّارُ ۚ وَبِئْسَ مَثْوَى ٱلظَّٰلِمِينَ ١٥١
সানুলকী ফী কুলূবিল লাযীনা কাফারুর রু‘বা বিমা- আশরাকূ বিল্লা-হি মা লাম ইউনায্যিল বিহী সুলতা-নাঁ ওয়ামা’ওয়া-হুমুন না-র ওয়াবি’সা মাছওয়ায যা-লিমীন
অতিসত্বরই আমি কাফিরদের অন্তরে ভয় সঞ্চার করব, কারণ তারা আল্লাহর শরীক গ্রহণ করেছে যার স্বপক্ষে তিনি কোনও সনদ অবতীর্ণ করেননি, তাদের নিবাস হবে জাহান্নাম এবং যালিমদের নিবাস কতই না জঘন্য!
وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ ٱللَّهُ وَعْدَهُۥٓ إِذْ تَحُسُّونَهُم بِإِذْنِهِۦ ۖ حَتَّىٰٓ إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَٰزَعْتُمْ فِى ٱلْأَمْرِ وَعَصَيْتُم مِّنۢ بَعْدِ مَآ أَرَىٰكُم مَّا تُحِبُّونَ ۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلْءَاخِرَةَ ۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ ۖ وَلَقَدْ عَفَا عَنكُمْ ۗ وَٱللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٥٢
ওয়ালাকাদ সাদাকাকুমুল্লা-হু ওয়া‘দাহূ ইয তাহুস্সূনাহুম বিইযনিহী হাত্তা- ইযা ফাশিলতুম ওয়াতানা-যা‘তুম ফিল আমরি ওয়া‘আসাইতুম মিম বা‘দি মা- আরা-কুম মা তুহিব্বূন মিনকুম মান ইউরীদুদ দুনইয়া ওয়ামিনকুম মান ইউরীদুল আ-খিরাহ ছুম্মা সারাফাকুম ‘আনহুম লিয়াবতালিয়াকুম ওয়ালাকাদ ‘আফা ‘আনকুম ওয়াল্লা-হু যূ ফাদলিন ‘আলাল মু’মিনীন
(উহূদের রণক্ষেত্রে) আল্লাহ তোমাদেরকে স্বীয় ওয়া‘দা সঠিকরূপে দেখালেন, যখন তোমরা আল্লাহর নির্দেশে কাফিরদেরকে নিপাত করছিলে, অতঃপর যখন তোমরা নিজেরাই (পার্থিব লাভের বশে) দুর্বল হয়ে গেলে এবং (নেতার) হুকুম সম্বন্ধে মতভেদ করলে এবং তোমাদেরকে তোমাদের আকাঙ্ক্ষিত বস্তু দেখানোর পর তোমরা অবাধ্য হলে, তোমাদের কেউ কেউ দুনিয়ার প্রত্যাশী হলে এবং কেউ কেউ পরকাল চাইলে, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে শত্রুদের হতে ফিরিয়ে দিলেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য, আল্লাহ অবশ্য তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন, বস্তুতঃ আল্লাহ মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।
۞ إِذْ تُصْعِدُونَ وَلَا تَلْوُۥنَ عَلَىٰٓ أَحَدٍۢ وَٱلرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ فِىٓ أُخْرَىٰكُمْ فَأَثَٰبَكُمْ غَمًّۢا بِغَمٍّۢ لِّكَيْلَا تَحْزَنُوا۟ عَلَىٰ مَا فَاتَكُمْ وَلَا مَآ أَصَٰبَكُمْ ۗ وَٱللَّهُ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ ١٥٣
ইয তুস‘ইদূনা ওয়ালা তালঊনা ‘আলা- আহাদিঁ ওয়ার্রাসূলু ইয়াদ‘ঊকুম ফী উখরা-কুম ফাআছা-বাকুম গাম্মাম বিগাম্মিল লিকাইলা তাহযানূ ‘আলা মা ফা-তাকুম ওয়ালা মা- আসা-বাকুম ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা তা‘মালূন
(স্মরণ কর) যখন তোমরা উঁচু জমির দিকে উঠছিলে এবং কারও দিকে ফিরে তাকানোর মত হুঁশটুকু তোমাদের ছিল না এবং রসূল তোমাদের পশ্চাতে থেকে তোমাদেরকে ডাকছিল। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে কষ্টের উপর কষ্ট প্রদান করলেন, যাতে তোমরা যা হারিয়েছ অথবা তোমাদের উপর যে বিপদ এসেছে (তার কারণ উপলব্ধি করার পর ভবিষ্যতে) তার জন্য দুঃখিত না হও, বস্তুতঃ তোমরা যা-ই কর আল্লাহ সে ব্যাপারে বিশেষভাবে অবহিত।
ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنۢ بَعْدِ ٱلْغَمِّ أَمَنَةًۭ نُّعَاسًۭا يَغْشَىٰ طَآئِفَةًۭ مِّنكُمْ ۖ وَطَآئِفَةٌۭ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِٱللَّهِ غَيْرَ ٱلْحَقِّ ظَنَّ ٱلْجَٰهِلِيَّةِ ۖ يَقُولُونَ هَل لَّنَا مِنَ ٱلْأَمْرِ مِن شَىْءٍۢ ۗ قُلْ إِنَّ ٱلْأَمْرَ كُلَّهُۥ لِلَّهِ ۗ يُخْفُونَ فِىٓ أَنفُسِهِم مَّا لَا يُبْدُونَ لَكَ ۖ يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ ٱلْأَمْرِ شَىْءٌۭ مَّا قُتِلْنَا هَٰهُنَا ۗ قُل لَّوْ كُنتُمْ فِى بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ ٱلَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ ٱلْقَتْلُ إِلَىٰ مَضَاجِعِهِمْ ۖ وَلِيَبْتَلِىَ ٱللَّهُ مَا فِى صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِى قُلُوبِكُمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ١٥٤
ছুম্মা আনযালা ‘আলাইকুম মিম বা‘দিল গাম্মি আমানাতান নু‘আ-সাঁ ইয়াগশা তা-ইফাতাম মিনকুম ওয়াতা-ইফাতুন কাদ আহাম্মাতহুম আনফুসুহুম ইয়াযুন্নূনা বিল্লা-হি গাইরাল হাক্কি যান্নাল জা-হিলিয়্যাতি ইয়াকূলূনা হাল লানা মিনাল আমরি মিন শাই’ কুল ইন্নাল আমরা কুল্লাহূ লিল্লা-হ ইউখফূনা ফী আনফুসিহিম মা লা ইউবদূনা লাকা ইয়াকূলূনা লাও কা-না লানা মিনাল আমরি শাইউম মা কুতিলনা হা-হুনা কুল লাও কুনতুম ফী বুইউতিকুম লাবারাযাল লাযীনা কুতিবা ‘আলাইহিমুল কাতলু ইলা মাদা-জি‘ইহিম ওয়ালিয়াবতালিয়াল্লা-হু মা ফী সুদূরিকুম ওয়ালিইউমাহ্হিসা মা ফী কুলূবিকুম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিযা-তিস সুদূর
অতঃপর কষ্টের পর আল্লাহ তোমাদের প্রতি শান্তি-তন্দ্রা প্রেরণ করলেন, যা তোমাদের একদলকে আচ্ছন্ন করল এবং অন্যদল মূর্খের মতো আল্লাহর প্রতি কুধারণা পোষণ করতঃ নিজেরাই নিজেদের জীবনকে উদ্বেগাকুল করে বলল, কাজ-কর্মের ব্যাপারে (সিদ্ধান্ত গ্রহণের) আমাদের কিছুমাত্র অধিকার আছে কি? বল, ‘সমস্তই আল্লাহর নিরঙ্কুশ অধিকারভুক্ত’। তারা এমন সব কথা অন্তরে পোষণ করে- যা তোমার কাছে প্রকাশ করে না। তারা বলে, ‘যদি মতামত প্রদানের অধিকার আমাদের কিছুমাত্রও থাকত, তাহলে আমরা এ স্থলে নিহত হতাম না’। বলে দাও, ‘যদি তোমরা তোমাদের ঘরেও থাকতে, তথাপি যাদের ভাগ্যে মৃত্যু লেখা ছিল, তারা তাদের এ মৃত্যুশয্যার পানে বের হয়ে পড়ত’। এবং এজন্যও যে আল্লাহ তোমাদের অন্তরের ভেতরের বিষয়গুলো পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের অন্তরস্থ বিষয়গুলোকে পরিষ্কার করেন, বস্তুতঃ আল্লাহ সকলের অন্তরের কথা সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত।
إِنَّ ٱلَّذِينَ تَوَلَّوْا۟ مِنكُمْ يَوْمَ ٱلْتَقَى ٱلْجَمْعَانِ إِنَّمَا ٱسْتَزَلَّهُمُ ٱلشَّيْطَٰنُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا۟ ۖ وَلَقَدْ عَفَا ٱللَّهُ عَنْهُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌۭ ١٥٥
ইন্নাল লাযীনা তাওয়াল্লাও মিনকুম ইয়াওমাল তাকাল জাম‘আ-নি ইন্নামাসতাযাল্লাহুমুশ শাইতা-নু বিবা‘দি মা কাসাবূ ওয়ালাকাদ ‘আফাল্লা-হু ‘আনহুম ইন্নাল্লা-হা গাফূরুন হালীম
দু’দল পরস্পর সম্মুখীন হওয়ার দিন তোমাদের মধ্যে যারা পলায়নপর হয়েছিল, তোমাদের কোন কোন অতীত কার্যকলাপের জন্য শয়ত্বান তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল এবং নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করেছেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাপরায়ণ, অতি সহনশীল।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَقَالُوا۟ لِإِخْوَٰنِهِمْ إِذَا ضَرَبُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ أَوْ كَانُوا۟ غُزًّۭى لَّوْ كَانُوا۟ عِندَنَا مَا مَاتُوا۟ وَمَا قُتِلُوا۟ لِيَجْعَلَ ٱللَّهُ ذَٰلِكَ حَسْرَةًۭ فِى قُلُوبِهِمْ ۗ وَٱللَّهُ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌۭ ١٥٦
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তাকূনূ কাল্লাযীনা কাফারূ ওয়াকা-লূ লিইখওয়া-নিহিম ইযা দারাবূ ফিল আরদি আও কা-নূ গুয্যাল লাও কা-নূ ‘ইনদানা মা মা-তূ ওয়ামা কুতিলূ লিয়াজ‘আলাল্লা-হু যা-লিকা হাসরাতান ফী কুলূবিহিম ওয়াল্লা-হু ইউহইয়ী ওয়াইউমীত ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা বাসীর
হে মু’মিনগণ! তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা কুফরী করে এবং তাদের ভাই-বন্ধুগণ যখন বিদেশে সফর করে কিংবা কোথাও যুদ্ধে লিপ্ত হয় তাদের সম্বন্ধে বলে, ‘তারা আমাদের কাছে থাকলে মরত না, নিহতও হত না’। ফলে আল্লাহ এটিকে তাদের মনের অনুতাপে পরিণত করে দেন, বস্তুতঃ আল্লাহ্ই জীবিত করেন ও মৃত্যুদান করেন আর তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
وَلَئِن قُتِلْتُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَوْ مُتُّمْ لَمَغْفِرَةٌۭ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَحْمَةٌ خَيْرٌۭ مِّمَّا يَجْمَعُونَ ١٥٧
ওয়ালাইন কুতিলতুম ফী সাবীলিল্লা-হি আও মুত্তুম লামাগফিরাতুম মিনাল্লা-হি ওয়ারাহমাতুন খাইরুম মিম্মা ইয়াজমা‘ঊন
যদি তোমরা আল্লাহর পথে নিহত হও কিংবা মৃত্যুবরণ কর, তবে আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা অতি উত্তম তারা যা সঞ্চয় করে তার চেয়ে।
وَلَئِن مُّتُّمْ أَوْ قُتِلْتُمْ لَإِلَى ٱللَّهِ تُحْشَرُونَ ١٥٨
ওয়ালাইম মুত্তুম আও কুতিলতুম লাইলাল্লা-হি তুহশারূন
তোমরা মারা গেলে বা নিহত হলে অবশ্যই আল্লাহর নিকট তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে।
فَبِمَا رَحْمَةٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ ٱلْقَلْبِ لَٱنفَضُّوا۟ مِنْ حَوْلِكَ ۖ فَٱعْفُ عَنْهُمْ وَٱسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِى ٱلْأَمْرِ ۖ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُتَوَكِّلِينَ ١٥٩
ফাবিমা রাহমাতিম মিনাল্লা-হি লিনতা লাহুম ওয়ালাও কুনতা ফায্যান গালীযাল কালবি লানফাদ্দূ মিন হাওলিকা ফা‘ফু ‘আনহুম ওয়াসতাগফির লাহুম ওয়াশা-উইরহুম ফিল আমরি ফাইযা ‘আযামতা ফাতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুতাওয়াক্কিলীন
সুতরাং আল্লাহর পরম অনুগ্রহ যে তুমি তাদের উপর দয়ার্দ্র রয়েছ, এবং যদি তুমি রূঢ় মেজাজ ও কঠিন হৃদয় হতে তবে অবশ্যই তারা তোমার নিকট হতে সরে যেত। সুতরাং তাদের দোষ ক্ষমা কর এবং আল্লাহর কাছে তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাও এবং কাজ-কর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ কর, অতঃপর যখন (কোন ব্যাপারে) সংকল্পবদ্ধ হও, তখন আল্লাহরই প্রতি ভরসা কর; নিশ্চয় আল্লাহ ভরসাকারীদেরকে পছন্দ করেন।
إِن يَنصُرْكُمُ ٱللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۖ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا ٱلَّذِى يَنصُرُكُم مِّنۢ بَعْدِهِۦ ۗ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ ١٦٠
ইন ইয়ানসুরকুমুল্লা-হু ফালা গা-লিবা লাকুম ওয়াইন ইয়াখযুলকুম ফামান যাল লাযী ইয়ানসুরুকুম মিম বা‘দিহ ওয়া‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন
যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে তোমাদের উপর কেউই বিজয়ী হতে পারবে না এবং যদি তিনি তোমাদের সাহায্য না করেন, সে অবস্থায় এমন কে আছে যে, তোমাদেরকে সাহায্য করবে? মু’মিনদের আল্লাহর প্রতি নির্ভর করাই উচিত।
وَمَا كَانَ لِنَبِىٍّ أَن يَغُلَّ ۚ وَمَن يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۚ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍۢ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ١٦١
ওয়ামা কা-না লিনাবিয়্যিন আন ইয়াগুল্ল ওয়ামান ইয়াগলুল ইয়া’তি বিমা গাল্লা ইয়াওমাল কিয়া-মাহ ছুম্মা তুওয়াফ্ফা কুল্লু নাফসিম মা কাসাবাত ওয়াহুম লা ইউযলামূন
কোন নাবী খিয়ানাত করতে পারে না, যে ব্যক্তি খিয়ানাত করবে, সে খিয়ানাতকৃত বস্তুসহ ক্বিয়ামাতের দিন উপস্থিত হবে, অতঃপর প্রত্যেককে যা সে অর্জন করেছে তা পুরোপুরি দেয়া হবে, কারও প্রতি কোন প্রকার যুলম করা হবে না।
أَفَمَنِ ٱتَّبَعَ رِضْوَٰنَ ٱللَّهِ كَمَنۢ بَآءَ بِسَخَطٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ وَمَأْوَىٰهُ جَهَنَّمُ ۚ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ١٦٢
আফামানিত তাবা‘আ রিদওয়া-নাল্লা-হি কামাম বা-আ বিসাখাতিম মিনাল্লা-হি ওয়ামা’ওয়া-হু জাহান্নাম ওয়াবি’সাল মাসীর
যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুসরণ করে, সে কি আল্লাহর আক্রোশে পতিত লোকের ন্যায় হতে পারে? তার নিবাস হল জাহান্নাম, আর তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!
هُمْ دَرَجَٰتٌ عِندَ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ بَصِيرٌۢ بِمَا يَعْمَلُونَ ١٦٣
হুম দারাজা-তুন ‘ইনদাল্লা-হ ওয়াল্লা-হু বাসীরুম বিমা ইয়া‘মালূন
আল্লাহর নিকট তাদের বিভিন্ন মর্যাদা রয়েছে, বস্তুতঃ তারা যা কিছুই করছে, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
لَقَدْ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًۭا مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا۟ مِن قَبْلُ لَفِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍ ١٦٤
লাকাদ মান্নাল্লা-হু ‘আলাল মু’মিনীনা ইয বা‘আছা ফীহিম রাসূলাম মিন আনফুসিহিম ইয়াতলূ ‘আলাইহিম আ-য়া-তিহী ওয়াইউযাক্কীহিম ওয়াইউ‘আল্লিমুহুমুল কিতা-বা ওয়ালহিকমাতা ওয়াইন কা-নূ মিন কাবলু লাফী দালা-লিম মুবীন
নিশ্চয় আল্লাহ মু’মিনদের প্রতি অত্যন্ত অনুকম্পা প্রদর্শন করেছেন, যখন তাদের নিকট তাদের নিজস্ব একজনকে রসূল করে পাঠিয়েছেন, সে তাদেরকে আল্লাহর আয়াত পড়ে শুনাচ্ছে, তাদেরকে পরিশোধন করছে, তাদেরকে কিতাব ও হিকমাত (সুন্নাহ) শিক্ষা দিচ্ছে, যদিও তারা পূর্বে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে ছিল।
أَوَلَمَّآ أَصَٰبَتْكُم مُّصِيبَةٌۭ قَدْ أَصَبْتُم مِّثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّىٰ هَٰذَا ۖ قُلْ هُوَ مِنْ عِندِ أَنفُسِكُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ١٦٥
আওয়ালাম্মা- আসা-বাতকুম মুসীবাতুন কাদ আসাবতুম মিছলাইহা কুলতুম আন-না হা-যা কুল হুওয়া মিন ‘ইনদি আনফুসিকুম ইন্নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
কী ব্যাপার! তোমাদের উপর যখন বিপদ এসেছে অথচ তোমরা তো (বদর যুদ্ধে তোমাদের শত্রুদের) এটা অপেক্ষা দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে, এখন তোমরা বলছ, ‘এটা কোথেকে আসল’? (তাদেরকে) বল, ‘ওটা তোমাদের নিজেদের নিকট থেকেই এসেছে’, নিশ্চয় আল্লাহ সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।
وَمَآ أَصَٰبَكُمْ يَوْمَ ٱلْتَقَى ٱلْجَمْعَانِ فَبِإِذْنِ ٱللَّهِ وَلِيَعْلَمَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٦٦
ওয়ামা- আসা-বাকুম ইয়াওমাল তাকাল জাম‘আ-নি ফাবিইযনিল্লা-হি ওয়ালিয়া‘লামাল মু’মিনীন
দু’দল পরস্পরের সম্মুখীন হওয়ার দিন যে বিপদ পৌঁছেছিল, তা আল্লাহর হুকুমে ঘটেছিল, এর উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত মু’মিনদেরকে জেনে নেয়া।
وَلِيَعْلَمَ ٱلَّذِينَ نَافَقُوا۟ ۚ وَقِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا۟ قَٰتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَوِ ٱدْفَعُوا۟ ۖ قَالُوا۟ لَوْ نَعْلَمُ قِتَالًۭا لَّٱتَّبَعْنَٰكُمْ ۗ هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْإِيمَٰنِ ۚ يَقُولُونَ بِأَفْوَٰهِهِم مَّا لَيْسَ فِى قُلُوبِهِمْ ۗ وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يَكْتُمُونَ ١٦٧
ওয়ালিয়া‘লামাল লাযীনা না-ফাকূ ওয়াকীলা লাহুম তা‘আ-লাও কা-তিলূ ফী সাবীলিল্লা-হি আউইদফা‘ঊ কা-লূ লাও না‘লামু কিতা-লাল লাত্তাবা‘না-কুম হুম লিলকুফরি ইয়াওমাইযিন আকরাবু মিনহুম লিলঈমা-ন ইয়াকূলূনা বিআফওয়া-হিহিম মা লাইসা ফী কুলূবিহিম ওয়াল্লা-হু আ‘লামু বিমা ইয়াকতুমূন
আর মুনাফিকদেরকেও জেনে নেয়া। তাদেরকে বলা হয়েছিল; এসো, ‘আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর, কিংবা (কমপক্ষে) নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা কর’। তখন তারা বলল, ‘যদি আমরা জানতাম যুদ্ধ হবে, তাহলে অবশ্যই তোমাদের অনুসরণ করতাম’। তারা ঐ দিন ঈমানের চেয়ে কুফরীরই নিকটতম ছিল, তারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই, যা কিছু তারা গোপন করে আল্লাহ তা বিশেষরূপে জ্ঞাত আছেন।
ٱلَّذِينَ قَالُوا۟ لِإِخْوَٰنِهِمْ وَقَعَدُوا۟ لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا۟ ۗ قُلْ فَٱدْرَءُوا۟ عَنْ أَنفُسِكُمُ ٱلْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ١٦٨
আল্লাযীনা কা-লূ লিইখওয়া-নিহিম ওয়াকা‘আদূ লাও আতা-‘ঊনা মা কুতিলূ কুল ফাদরাঊ ‘আন আনফুসিকুমুল মাওতা ইন কুনতুম সা-দিকীন
যারা বসে থেকে নিজেদের ভাইদের সম্বন্ধে বলতে লাগল, আমাদের কথামত চললে তারা নিহত হত না। বল, তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের নিজেদের উপর থেকে মরণকে হটিয়ে দাও।
وَلَا تَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ قُتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمْوَٰتًۢا ۚ بَلْ أَحْيَآءٌ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ ١٦٩
ওয়ালা তাহসাবান্নাল লাযীনা কুতিলূ ফী সাবীলিল্লা-হি আমওয়া-তা বাল আহইয়া-উন ‘ইনদা রাব্বিহিম ইউরযাকূন
যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদেরকে মৃত ভেব না, বরং তারা জীবিত, তাদের প্রতিপালকের সান্নিধ্যে থেকে তারা রিযকপ্রাপ্ত হচ্ছে।
فَرِحِينَ بِمَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِٱلَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا۟ بِهِم مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ١٧٠
ফারিহীনা বিমা- আ-তা-হুমুল্লা-হু মিন ফাদলিহী ওয়ায়াসতাবশিরূনা বিল্লাযীনা লাম ইয়ালহাকূ বিহিম মিন খালফিহিম আল্লা খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা হুম ইয়াহযানূন
আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তা লাভ করে তারা আনন্দিত আর যে সব ঈমানদার লোক তাদের পেছনে (পৃথিবীতে) রয়ে গেছে, এখনও তাদের সাথে এসে মিলিত হয়নি, তাদের কোন ভয় ও চিন্তে নেই জেনে তারা আনন্দিত।
۞ يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ وَفَضْلٍۢ وَأَنَّ ٱللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٧١
ইয়াসতাবশিরূনা বিনি‘মাতিম মিনাল্লা-হি ওয়াফাদলিঁ ওয়াআন্নাল্লা-হা লা ইউদী‘উ আজরাল মু’মিনীন
আল্লাহর নি‘মাত এবং অনুগ্রহের কারণে তারা আনন্দ প্রকাশ করে আর এটা জেনে যে, আল্লাহ মু’মিনদের সাওয়াব বিনষ্ট করেন না।
ٱلَّذِينَ ٱسْتَجَابُوا۟ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِ مِنۢ بَعْدِ مَآ أَصَابَهُمُ ٱلْقَرْحُ ۚ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ مِنْهُمْ وَٱتَّقَوْا۟ أَجْرٌ عَظِيمٌ ١٧٢
আল্লাযীনাসতাজা-বূ লিল্লা-হি ওয়ার্রাসূলি মিম বা‘দি মা- আসা-বাহুমুল কারহ লিল্লাযীনা আহসানূ মিনহুম ওয়াত্তাকাও আজরুন ‘আযীম
আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পরও যারা আল্লাহ এবং রসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে তাদের মধ্যে যারা সৎকাজ করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য রয়েছে মহা প্রতিদান।
ٱلَّذِينَ قَالَ لَهُمُ ٱلنَّاسُ إِنَّ ٱلنَّاسَ قَدْ جَمَعُوا۟ لَكُمْ فَٱخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَٰنًۭا وَقَالُوا۟ حَسْبُنَا ٱللَّهُ وَنِعْمَ ٱلْوَكِيلُ ١٧٣
আল্লাযীনা কা-লা লাহুমুন না-সু ইন্নান না-সা কাদ জামা‘ঊ লাকুম ফাখশাওহুম ফাযা-দাহুম ঈমা-নাঁ ওয়াকা-লূ হাসবুনাল্লা-হু ওয়ানি‘মাল ওয়াকীল
যাদেরকে লোকে খবর দিয়েছিল যে, একটা বড় বাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে জড় হচ্ছে, কাজেই তাদেরকে ভয় কর। তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দিল এবং তারা বলল, ‘আমাদের জন্যে আল্লাহ্ই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!’
فَٱنقَلَبُوا۟ بِنِعْمَةٍۢ مِّنَ ٱللَّهِ وَفَضْلٍۢ لَّمْ يَمْسَسْهُمْ سُوٓءٌۭ وَٱتَّبَعُوا۟ رِضْوَٰنَ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَظِيمٍ ١٧٤
ফানকালাবূ বিনি‘মাতিম মিনাল্লা-হি ওয়াফাদলিল লাম ইয়ামসাসহুম সূউঁ ওয়াত্তাবা‘ঊ রিদওয়া-নাল্লা-হ ওয়াল্লা-হু যূ ফাদলিন ‘আযীম
অতঃপর তারা আল্লাহর নি‘মাত ও অনুগ্রহসহ ফিরে আসল, কোনও প্রকার অনিষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করেনি, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল এবং আল্লাহ মহাকল্যাণময়।
إِنَّمَا ذَٰلِكُمُ ٱلشَّيْطَٰنُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَآءَهُۥ فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ١٧٥
ইন্নামা যা-লিকুমুশ শাইতা-নু ইউখাউইফু আওলিয়া-আহূ ফালা তাখা-ফূহুম ওয়াখা-ফূনি ইন কুনতুম মু’মিনীন
এ লোকেরা হচ্ছে শয়ত্বান; তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়, তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর, যদি তোমরা মু’মিন হও।
وَلَا يَحْزُنكَ ٱلَّذِينَ يُسَٰرِعُونَ فِى ٱلْكُفْرِ ۚ إِنَّهُمْ لَن يَضُرُّوا۟ ٱللَّهَ شَيْـًۭٔا ۗ يُرِيدُ ٱللَّهُ أَلَّا يَجْعَلَ لَهُمْ حَظًّۭا فِى ٱلْءَاخِرَةِ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ١٧٦
ওয়ালা ইয়াহযুনকাল লাযীনা ইউসা-রি‘ঊনা ফিল কুফর ইন্নাহুম লান ইয়াদুর্রুল্লা-হা শাইআ ইউরীদুল্লা-হু আল্লা ইয়াজ‘আলা লাহুম হায্যান ফিল আ-খিরাতি ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন ‘আযীম
যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবমান তারা যেন তোমাকে মর্মপীড়া না দেয়। তারা কক্ষনো আল্লাহর কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। পরকালে কোন অংশই আল্লাহ তাদেরকে দিতে ইচ্ছে করেন না, তাদের জন্য আছে মহাশাস্তি।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلْكُفْرَ بِٱلْإِيمَٰنِ لَن يَضُرُّوا۟ ٱللَّهَ شَيْـًۭٔا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ١٧٧
ইন্নাল লাযীনাশতারাউল কুফরা বিলঈমা-নি লান ইয়াদুর্রুল্লা-হা শাইআঁ ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম
যারা ঈমানের বিনিময়ে কুফরী ক্রয় করেছে, তারা কক্ষনো আল্লাহর কিছুমাত্র অনিষ্ট করতে পারবে না, তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
وَلَا يَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّمَا نُمْلِى لَهُمْ خَيْرٌۭ لِّأَنفُسِهِمْ ۚ إِنَّمَا نُمْلِى لَهُمْ لِيَزْدَادُوٓا۟ إِثْمًۭا ۚ وَلَهُمْ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ١٧٨
ওয়ালা ইয়াহসাবান্নাল লাযীনা কাফারূ আন-নামা নুমলী লাহুম খাইরুল লিআনফুসিহিম ইন্নামা নুমলী লাহুম লিয়াযদা-দূ ইছমা ওয়ালাহুম ‘আযা-বুম মুহীন
কাফিরগণ যেন কিছুতেই এ ধারণা পোষণ না করে যে, তাদেরকে আমি যে অবকাশ দিয়েছি তা তাদের জন্য মঙ্গলজনক; আমি তাদেরকে শুধু এজন্য অবকাশ দেই যে, যেন তাদের পাপের পরিমাণ বেড়ে যায়, তাদের জন্য আছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
مَّا كَانَ ٱللَّهُ لِيَذَرَ ٱلْمُؤْمِنِينَ عَلَىٰ مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ حَتَّىٰ يَمِيزَ ٱلْخَبِيثَ مِنَ ٱلطَّيِّبِ ۗ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى ٱلْغَيْبِ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَجْتَبِى مِن رُّسُلِهِۦ مَن يَشَآءُ ۖ فَـَٔامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ ۚ وَإِن تُؤْمِنُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ فَلَكُمْ أَجْرٌ عَظِيمٌۭ ١٧٩
মা কা-নাল্লা-হু লিয়াযারাল মু’মিনীনা ‘আলা মা- আনতুম ‘আলাইহি হাত্তা ইয়ামীযাল খাবীছা মিনাত তাইয়্যিব ওয়ামা কা-নাল্লা-হু লিইউতলি‘আকুম ‘আলাল গাইবি ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ইয়াজতাবী মির রুসুলিহী মান ইয়াশা-উ ফাআ-মিনূ বিল্লা-হি ওয়ারুসুলিহ ওয়াইন তু’মিনূ ওয়াতাত্তাকূ ফালাকুম আজরুন ‘আযীম
অসৎকে সৎ থেকে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় আছ, আল্লাহ মু’মিনদেরকে সে অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে গায়িবের বিধান জ্ঞাত করেন না, তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছে বেছে নেন, কাজেই তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রসূলগণের প্রতি ঈমান আন। যদি তোমরা ঈমান আন আর তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তোমাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার।
وَلَا يَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ هُوَ خَيْرًۭا لَّهُم ۖ بَلْ هُوَ شَرٌّۭ لَّهُمْ ۖ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا۟ بِهِۦ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۗ وَلِلَّهِ مِيرَٰثُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ١٨٠
ওয়ালা ইয়াহসাবান্নাল লাযীনা ইয়াবখালূনা বিমা- আ-তা-হুমুল্লা-হু মিন ফাদলিহী হুওয়া খাইরাল লাহুম বাল হুওয়া শার্রুল লাহুম সাইউতাওয়াকূনা মা বাখিলূ বিহী ইয়াওমাল কিয়া-মাহ ওয়ালিল্লা-হি মীরা-ছুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা খাবীর
আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে, তারা যেন মনে না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর, বরং তা তাদের জন্য (খুবই) অকল্যাণকর, তারা যাতে কৃপণতা করেছে, সত্বর ক্বিয়ামাতের দিন তারই বেড়ি তাদের গলায় পরিয়ে দেয়া হবে। আসমান ও যমীনের স্বত্বাধিকার কেবল আল্লাহরই। তোমরা যা কিছুই করছ আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণরূপে অবহিত।
لَّقَدْ سَمِعَ ٱللَّهُ قَوْلَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ فَقِيرٌۭ وَنَحْنُ أَغْنِيَآءُ ۘ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوا۟ وَقَتْلَهُمُ ٱلْأَنۢبِيَآءَ بِغَيْرِ حَقٍّۢ وَنَقُولُ ذُوقُوا۟ عَذَابَ ٱلْحَرِيقِ ١٨١
লাকাদ সামি‘আল্লা-হু কাওলাল লাযীনা কা-লূ ইন্নাল্লা-হা ফাকীরুঁ ওয়ানাহনু আগনিয়া-আ সানাকতুবু মা কা-লূ ওয়াকাতলাহুমুল আমবিয়া-আ বিগাইরি হাক্কিঁ ওয়ানাকূলু যূকূ ‘আযা-বাল হারীক
আল্লাহ অবশ্যই তাদের উক্তি শ্রবণ করেছেন যারা বলে, ‘আল্লাহ দরিদ্র এবং আমরা ধনী’, তারা যা বলে তা আমি অবশ্যই লিপিবদ্ধ করে রাখব এবং (তাদের) অন্যায়ভাবে নাবীগণকে হত্যা করার বিষয়টিও (লিপিবদ্ধ করে রাখব) এবং আমি বলব- ‘জাহান্নামের দহন যন্ত্রণা ভোগ কর’।
ذَٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ ٱللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍۢ لِّلْعَبِيدِ ١٨٢
যা-লিকা বিমা কাদ্দামাত আইদীকুম ওয়াআন্নাল্লা-হা লাইসা বিযাল্লা-মিল লিল‘আবীদ
এটা তোমাদের আগেই পাঠানো কাজের বিনিময়, কারণ আল্লাহ স্বীয় বান্দাগণের প্রতি কোন প্রকার যুলম করেন না।
ٱلَّذِينَ قَالُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ عَهِدَ إِلَيْنَآ أَلَّا نُؤْمِنَ لِرَسُولٍ حَتَّىٰ يَأْتِيَنَا بِقُرْبَانٍۢ تَأْكُلُهُ ٱلنَّارُ ۗ قُلْ قَدْ جَآءَكُمْ رُسُلٌۭ مِّن قَبْلِى بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَبِٱلَّذِى قُلْتُمْ فَلِمَ قَتَلْتُمُوهُمْ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ١٨٣
আল্লাযীনা কা-লূ ইন্নাল্লা-হা ‘আহিদা ইলাইনা- আল্লা নু’মিনা লিরাসূলিন হাত্তা ইয়া’তিয়ানা বিকুরবা-নিন তা’কুলুহুন না-র কুল কাদ জা-আকুম রুসুলুম মিন কাবলী বিলবাইয়্যিনা-তি ওয়াবিল্লাযী কুলতুম ফালিমা কাতালতুমূহুম ইন কুনতুম সা-দিকীন
যারা ব’লে থাকে যে, ‘আল্লাহ আমাদের কাছে অঙ্গীকার নিয়েছেন, যেন আমরা আগুনে গ্রাস করে এমন কোন কুরবানী আমাদের সামনে না দেখানো পর্যন্ত কোন রসূলের প্রতি ঈমান না আনি’। বল, ‘আমার পূর্বে বহু রসূল বহু প্রমাণসহ তোমাদের নিকট এসেছিল এবং তোমাদের কথিত সেই মু’জিযা নিয়েও (এসেছিল)। যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে কেন তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছিলে?’
فَإِن كَذَّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَ رُسُلٌۭ مِّن قَبْلِكَ جَآءُو بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَٱلزُّبُرِ وَٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُنِيرِ ١٨٤
ফাইন কায্যাবূকা ফাকাদ কুয্যিবা রুসুলুম মিন কাবলিকা জা-ঊ বিলবাইয়্যিনা-তি ওয়ায্যুবুরি ওয়ালকিতা-বিল মুনীর
তারপরও যদি কাফিরগণ তোমাকে অস্বীকার করে, তবে তোমার পূর্বেও রসূলগণকে অস্বীকার করা হয়েছিল যারা স্পষ্ট নিদর্শন, অনেক সহীফা এবং দীপ্তিমান কিতাব নিয়ে এসেছিল।
كُلُّ نَفْسٍۢ ذَآئِقَةُ ٱلْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۖ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ ٱلنَّارِ وَأُدْخِلَ ٱلْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَآ إِلَّا مَتَٰعُ ٱلْغُرُورِ ١٨٥
কুল্লু নাফসিন যা-ইকাতুল মাওত ওয়াইন্নামা তুওয়াফ্ফাওনা উজূরাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফামান যুহযিহা ‘আনিন না-রি ওয়াউদখিলাল জান্নাতা ফাকাদ ফা-য ওয়ামাল হায়া-তুদ দুনইয়া- ইল্লা মাতা-‘উল গুরূর
প্রতিটি জীবন মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করবে এবং ক্বিয়ামাতের দিন তোমাদেরকে পূর্ণমাত্রায় বিনিময় দেয়া হবে। যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করা হল এবং জান্নাতে দাখিল করা হল, অবশ্যই সে ব্যক্তি সফলকাম হল, কেননা পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।
۞ لَتُبْلَوُنَّ فِىٓ أَمْوَٰلِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ مِن قَبْلِكُمْ وَمِنَ ٱلَّذِينَ أَشْرَكُوٓا۟ أَذًۭى كَثِيرًۭا ۚ وَإِن تَصْبِرُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ فَإِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ عَزْمِ ٱلْأُمُورِ ١٨٦
লাতুবলাউন্না ফী আমওয়া-লিকুম ওয়াআনফুসিকুম ওয়ালাতাসমা‘উন্না মিনাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা মিন কাবলিকুম ওয়ামিনাল লাযীনা আশরাকূ আযান কাছীরা ওয়াইন তাসবিরূ ওয়াতাত্তাকূ ফাইন্না যা-লিকা মিন ‘আযমিল উমূর
অবশ্যই তোমরা তোমাদের ধনের ও জানের ব্যাপারে পরীক্ষিত হবে এবং তোমরা নিশ্চয়ই তোমাদের আগের কিতাবধারীদের ও মুশরিকদের নিকট হতে দুঃখজনক অনেক কথা শুনবে এবং তোমরা যদি ধৈর্যধারণ কর আর তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে অবশ্যই তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ।
وَإِذْ أَخَذَ ٱللَّهُ مِيثَٰقَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ لَتُبَيِّنُنَّهُۥ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُۥ فَنَبَذُوهُ وَرَآءَ ظُهُورِهِمْ وَٱشْتَرَوْا۟ بِهِۦ ثَمَنًۭا قَلِيلًۭا ۖ فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ ١٨٧
ওয়াইয আখাযাল্লা-হু মীছা-কাল লাযীনা ঊতুল কিতা-বা লাতুবাইয়্যিনুন্নাহূ লিন্না-সি ওয়ালা তাকতুমূনাহূ ফানাবাযূহু ওয়ারা-আ যুহূরিহিম ওয়াশতারাও বিহী ছামানান কালীলান ফাবি’সা মা ইয়াশতারূন
(স্মরণ কর) আল্লাহ আহলে কিতাবদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন- তোমরা অবশ্যই তা (অর্থাৎ কিতাব) মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে আর তা গোপন করবে না, কিন্তু তারা তা অগ্রাহ্য করল এবং সামান্য মূল্যে বিক্রি করল, তারা যা ক্রয় করল সে বস্তু কতই না মন্দ!
لَا تَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَآ أَتَوا۟ وَّيُحِبُّونَ أَن يُحْمَدُوا۟ بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا۟ فَلَا تَحْسَبَنَّهُم بِمَفَازَةٍۢ مِّنَ ٱلْعَذَابِ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ١٨٨
লা তাহসাবান্নাল লাযীনা ইয়াফরাহূনা বিমা- আতাও ওয়াইউহিব্বূনা আন ইউহমাদূ বিমা লাম ইয়াফ‘আলূ ফালা তাহসাবান্নাহুম বিমাফা-যাতিম মিনাল ‘আযা-বি ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম
তোমরা এ সব লোককে আযাব থেকে সুরক্ষিত মনে করো না যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত এবং এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে চায় মূলতঃ যা তারা করেনি, তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
وَلِلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌ ١٨٩
ওয়ালিল্লা-হি মুলকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়াল্লা-হু ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
বস্তুতঃ আসমান ও যমীনে আছে আল্লাহরই রাজত্ব এবং আল্লাহ সকল জিনিসের উপর ক্ষমতাবান।
إِنَّ فِى خَلْقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَٰفِ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ لَءَايَٰتٍۢ لِّأُو۟لِى ٱلْأَلْبَٰبِ ١٩٠
ইন্না ফী খালকিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়ান্নাহা-রি লাআ-য়া-তিল লিউলিল আলবা-ব
নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে এবং রাত্র ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য বহু নিদর্শন আছে।
ٱلَّذِينَ يَذْكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمًۭا وَقُعُودًۭا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِى خَلْقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَٰذَا بَٰطِلًۭا سُبْحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ١٩١
আল্লাযীনা ইয়াযকুরূনাল্লা-হা কিয়া-মাঁ ওয়াকু‘ঊদাঁ ওয়া‘আলা জুনূবিহিম ওয়ায়াতাফাক্কারূনা ফী খালকিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি রাব্বানা মা খালাকতা হা-যা বা-তিলান সুবহা-নাকা ফাকিনা ‘আযা-বান না-র
যারা আল্লাহকে দন্ডায়মান, উপবিষ্ট এবং শায়িত অবস্থায় স্মরণ করে থাকে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টির ব্যাপারে চিন্তা করে (ও বলে) : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি, তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, সুতরাং আমাদেরকে অগ্নির শাস্তি হতে রক্ষা কর।
رَبَّنَآ إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ ٱلنَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُۥ ۖ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنْ أَنصَارٍۢ ١٩٢
রাব্বানা- ইন্নাকা মান তুদখিলিন না-রা ফাকাদ আখযাইতাহূ ওয়ামা লিয্যা-লিমীনা মিন আনসা-র
হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি যাকে আগুনে নিক্ষেপ করবে, তাকে অবশ্যই তুমি অপমান করবে আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।
رَّبَّنَآ إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًۭا يُنَادِى لِلْإِيمَٰنِ أَنْ ءَامِنُوا۟ بِرَبِّكُمْ فَـَٔامَنَّا ۚ رَبَّنَا فَٱغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّـَٔاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ ٱلْأَبْرَارِ ١٩٣
রাব্বানা- ইন্নানা সামি‘না মুনা-দিয়াঁ ইউনা-দী লিলঈমা-নি আন আ-মিনূ বিরাব্বিকুম ফাআ-মান্না রাব্বানা ফাগফির লানা যুনূবানা ওয়াকাফ্ফির ‘আন্না সাইয়্যিআ-তিনা ওয়াতাওয়াফ্ফানা মা‘আল আবরা-র
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা একজন ঘোষণাকারীকে ঈমানের ঘোষণা করতে শুনেছি যে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনো’। সে অনুযায়ী আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহ্গুলো ক্ষমা কর এবং আমাদের থেকে আমাদের মন্দ কাজগুলো বিদূরিত কর আর নেক বান্দাদের সঙ্গে শামিল করে আমাদের মৃত্যু ঘটাও।
رَبَّنَا وَءَاتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ ٱلْمِيعَادَ ١٩٤
রাব্বানা ওয়াআ-তিনা মা ওয়া‘আত্তানা ‘আলা রুসুলিকা ওয়ালা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়া-মাহ ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আ-দ
‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি স্বীয় রসূলদের মারফত আমাদেরকে যেসব বস্তুর ওয়াদা শুনিয়েছ, তা আমাদেরকে দান কর এবং ক্বিয়ামাতের দিন আমাদেরকে লাঞ্ছিত করো না, নিশ্চয়ই তুমি ওয়া‘দা খেলাফ কর না।’
فَٱسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّى لَآ أُضِيعُ عَمَلَ عَٰمِلٍۢ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ ۖ بَعْضُكُم مِّنۢ بَعْضٍۢ ۖ فَٱلَّذِينَ هَاجَرُوا۟ وَأُخْرِجُوا۟ مِن دِيَٰرِهِمْ وَأُوذُوا۟ فِى سَبِيلِى وَقَٰتَلُوا۟ وَقُتِلُوا۟ لَأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّـَٔاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ ثَوَابًۭا مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ عِندَهُۥ حُسْنُ ٱلثَّوَابِ ١٩٥
ফাসতাজা-বা লাহুম রাব্বুহুম আন-নী লা- উদী‘উ ‘আমালা ‘আ-মিলিম মিনকুম মিন যাকারিন আও উনছা বা‘দুকুম মিম বা‘দিন ফাল্লাযীনা হা-জারূ ওয়াউখরিজূ মিন দিয়া-রিহিম ওয়াঊযূ ফী সাবীলী ওয়াকা-তালূ ওয়াকুতিলূ লাউকাফ্ফিরান্না ‘আনহুম সাইয়্যিআ-তিহিম ওয়ালাউদখিলান্নাহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ছাওয়া-বাম মিন ‘ইনদিল্লা-হ ওয়াল্লা-হু ‘ইনদাহূ হুসনুছ ছাওয়া-ব
তখন তাদের প্রতিপালক তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে পুরুষ হোক কিংবা নারীই হোক কোন কর্মীরই কর্মফল আমি নষ্ট করি না, তোমরা একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরাত করবে এবং স্বীয় গৃহ হতে বিতাড়িত হবে ও আমার পথে নির্যাতিত হবে, যুদ্ধ করবে ও নিহত হবে, নিশ্চয় আমি তাদের গুনাহসমূহ দূর করে দেব এবং নিশ্চয়ই তাদেরকে এমন জান্নাতে দাখিল করবো, যার নীচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে নদ-নদী, আল্লাহর নিকট হতে পুরস্কার হিসেবে, বস্তুতঃ আল্লাহর নিকটেই উত্তম বিনিময়।
لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى ٱلْبِلَٰدِ ١٩٦
লা ইয়াগুর্রান্নাকা তাকাল্লুবুল লাযীনা কাফারূ ফিল বিলা-দ
দেশে দেশে কাফিরদের সদম্ভ পদচারণা তোমাকে যেন বিভ্রান্ত না করে।
مَتَٰعٌۭ قَلِيلٌۭ ثُمَّ مَأْوَىٰهُمْ جَهَنَّمُ ۚ وَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ ١٩٧
মাতা-‘উন কালীলুন ছুম্মা মা’ওয়া-হুম জাহান্নাম ওয়াবি’সাল মিহা-দ
সামান্য ভোগ, তারপর জাহান্নাম তাদের আবাস, আর তা কতই না নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!
لَٰكِنِ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنَّٰتٌۭ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا نُزُلًۭا مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ ۗ وَمَا عِندَ ٱللَّهِ خَيْرٌۭ لِّلْأَبْرَارِ ١٩٨
লা-কিনিল লাযীনাত তাকাও রাব্বাহুম লাহুম জান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা নুযুলাম মিন ‘ইনদিল্লা-হ ওয়ামা ‘ইনদাল্লা-হি খাইরুল লিলআবরা-র
কিন্তু যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের জন্য আছে জান্নাত যার পাদদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা তাতে চিরকাল থাকবে, এ হল আল্লাহর নিকট হতে আতিথ্য আর আল্লাহর নিকট যা আছে, তা সৎকর্মপরায়ণদের জন্য অতি উত্তম।
وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ لَمَن يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِمْ خَٰشِعِينَ لِلَّهِ لَا يَشْتَرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ ثَمَنًۭا قَلِيلًا ۗ أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ سَرِيعُ ٱلْحِسَابِ ١٩٩
ওয়াইন্না মিন আহলিল কিতা-বি লামান ইউ’মিনু বিল্লা-হি ওয়ামা- উনযিলা ইলাইকুম ওয়ামা- উনযিলা ইলাইহিম খা-শি‘ঈনা লিল্লা-হি লা ইয়াশতারূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ছামানান কালীলা উলা-ইকা লাহুম আজরুহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম ইন্নাল্লা-হা সারী‘উল হিসা-ব
আহলে কিতাবদের মধ্যেকার কিছু লোক নিঃসন্দেহে এমনও আছে, যারা আল্লাহর উপর এবং তোমাদের উপর অবতীর্ণ কিতাবের এবং তাদের প্রতি অবতীর্ণ কিতাবের উপর ঈমান রাখে, তারা আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত, তারা আল্লাহর আয়াতকে তুচ্ছমূল্যে বিক্রয় করে না, এরাই তারা যাদের জন্য তাদের কর্মফল নির্ধারিত রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকট, আল্লাহ হিসেব গ্রহণে ত্বরিতগতি।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱصْبِرُوا۟ وَصَابِرُوا۟ وَرَابِطُوا۟ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ٢٠٠
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুসবিরূ ওয়াসা-বিরূ ওয়ারা-বিতূ ওয়াত্তাকুল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন
হে মু’মিনগণ! ধৈর্য অবলম্বন কর, দৃঢ়তা প্রদর্শন কর, নিজেদের প্রতিরক্ষাকল্পে পারস্পরিক বন্ধন মজবুত কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
النساء
সূরা আন-নিসা
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمُ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍۢ وَٰحِدَةٍۢ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًۭا كَثِيرًۭا وَنِسَآءًۭ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ٱلَّذِى تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًۭا ١
ইয়া-আইয়্যুহান না-সুত তাকূ রাব্বাকুমুল লাযী খালাকাকুম মিন নাফসিঁ ওয়া-হিদাতিঁ ওয়াখালাকা মিনহা যাওজাহা ওয়াবাছ্ছা মিনহুমা রিজা-লান কাছীরাঁ ওয়ানিসা-আ ওয়াত্তাকুল্লা-হাল লাযী তাসা-আলূনা বিহী ওয়ালআরহা-ম ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলাইকুম রাকীবা
হে মনুষ্য সমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র ব্যক্তি হতে পয়দা করেছেন এবং তা হতে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর সেই দু’জন হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা পরস্পর পরস্পরের নিকট (হাক্ব) চেয়ে থাক এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি-বন্ধন সম্পর্কে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।
وَءَاتُوا۟ ٱلْيَتَٰمَىٰٓ أَمْوَٰلَهُمْ ۖ وَلَا تَتَبَدَّلُوا۟ ٱلْخَبِيثَ بِٱلطَّيِّبِ ۖ وَلَا تَأْكُلُوٓا۟ أَمْوَٰلَهُمْ إِلَىٰٓ أَمْوَٰلِكُمْ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ حُوبًۭا كَبِيرًۭا ٢
ওয়াআ-তুল ইয়াতা-মা- আমওয়া-লাহুম ওয়ালা তাতাবাদ্দালুল খাবীছা বিত্তাইয়্যিবি ওয়ালা তা’কুলূ আমওয়া-লাহুম ইলা- আমওয়া-লিকুম ইন্নাহূ কা-না হূবান কাবীরা
এবং ইয়াতীমদেরকে তাদের ধন-সম্পদ প্রদান কর এবং ভালোর সাথে মন্দের বদল করো না এবং তাদের মাল নিজেদের মালের সঙ্গে মিশিয়ে গ্রাস করো না, নিশ্চয় এটা মহাপাপ।
وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا۟ فِى ٱلْيَتَٰمَىٰ فَٱنكِحُوا۟ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ مَثْنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا۟ فَوَٰحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰٓ أَلَّا تَعُولُوا۟ ٣
ওয়াইন খিফতুম আল্লা তুকসিতূ ফিল ইয়াতা-মা ফানকিহূ মা তা-বা লাকুম মিনান নিসা-ই মাছনা ওয়াছুলা-ছা ওয়ারুবা-‘আ ফাইন খিফতুম আল্লা তা‘দিলূ ফাওয়া-হিদাতান আও মা মালাকাত আইমা-নুকুম যা-লিকা আদনা- আল্লা তা‘ঊলূ
যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, (নারী) ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিবাহ কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে; এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি।
وَءَاتُوا۟ ٱلنِّسَآءَ صَدُقَٰتِهِنَّ نِحْلَةًۭ ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَىْءٍۢ مِّنْهُ نَفْسًۭا فَكُلُوهُ هَنِيٓـًۭٔا مَّرِيٓـًۭٔا ٤
ওয়াআ-তুন নিসা-আ সাদুকা-তিহিন্না নিহলাহ ফাইন তিবনা লাকুম ‘আন শাইইম মিনহু নাফসান ফাকুলূহু হানীআম মারীআ
নারীদেরকে তাদের মোহর স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে দেবে, অতঃপর তারা যদি সন্তোষের সঙ্গে তাথেকে তোমাদের জন্য কিছু ছেড়ে দেয়, তবে তা তৃপ্তির সঙ্গে ভোগ কর।
وَلَا تُؤْتُوا۟ ٱلسُّفَهَآءَ أَمْوَٰلَكُمُ ٱلَّتِى جَعَلَ ٱللَّهُ لَكُمْ قِيَٰمًۭا وَٱرْزُقُوهُمْ فِيهَا وَٱكْسُوهُمْ وَقُولُوا۟ لَهُمْ قَوْلًۭا مَّعْرُوفًۭا ٥
ওয়ালা তু’তুস সুফাহা-আ আমওয়া-লাকুমুল লাতী জা‘আলাল্লা-হু লাকুম কিয়া-মাঁ ওয়ারযুকূহুম ফীহা ওয়াকসূহুম ওয়াকূলূ লাহুম কাওলাম মা‘রূফা
এবং তোমরা অল্প-বুদ্ধিসম্পন্নদেরকে নিজেদের মাল প্রদান করো না, যা আল্লাহ তোমাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত থাকার উপকরণ করেছেন এবং সে মাল হতে তাদের অন্ন-বস্ত্রের ব্যবস্থা করবে এবং তাদের সঙ্গে দয়ার্দ্র ন্যায়ানুগ কথা বলবে।
وَٱبْتَلُوا۟ ٱلْيَتَٰمَىٰ حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغُوا۟ ٱلنِّكَاحَ فَإِنْ ءَانَسْتُم مِّنْهُمْ رُشْدًۭا فَٱدْفَعُوٓا۟ إِلَيْهِمْ أَمْوَٰلَهُمْ ۖ وَلَا تَأْكُلُوهَآ إِسْرَافًۭا وَبِدَارًا أَن يَكْبَرُوا۟ ۚ وَمَن كَانَ غَنِيًّۭا فَلْيَسْتَعْفِفْ ۖ وَمَن كَانَ فَقِيرًۭا فَلْيَأْكُلْ بِٱلْمَعْرُوفِ ۚ فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَٰلَهُمْ فَأَشْهِدُوا۟ عَلَيْهِمْ ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ حَسِيبًۭا ٦
ওয়াবতালুল ইয়াতা-মা হাত্তা- ইযা বালাগুন নিকা-হা ফাইন আ-নাসতুম মিনহুম রুশদান ফাদফা‘ঊ ইলাইহিম আমওয়া-লাহুম ওয়ালা তা’কুলূহা- ইসরা-ফাঁ ওয়াবিদা-রান আন ইয়াকবারূ ওয়ামান কা-না গানিয়্যান ফালইয়াসতা‘ফিফ ওয়ামান কা-না ফাকীরান ফালইয়া’কুল বিলমা‘রূফ ফাইযা দাফা‘তুম ইলাইহিম আমওয়া-লাহুম ফাআশহিদূ ‘আলাইহিম ওয়াকাফা বিল্লা-হি হাসীবা
ইয়াতীমদেরকে পরখ কর যে পর্যন্ত না তারা বিবাহযোগ্য হয়, যদি তাদের মধ্যে বিচারবোধ লক্ষ্য কর, তবে তাদেরকে তাদের মাল ফিরিয়ে দেবে। তাদের বয়ঃপ্রাপ্তির ভয়ে অপব্যয় করে এবং তাড়াতাড়ি করে তাদের মাল খেয়ে ফেলো না। আর যে অভাবমুক্ত, সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবগ্রস্ত সে ন্যায়সঙ্গতভাবে ভোগ করবে এবং যখন তাদের মাল তাদেরকে সমর্পণ করবে, তাদের সামনে সাক্ষী রাখবে; হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট।
لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌۭ مِّمَّا تَرَكَ ٱلْوَٰلِدَانِ وَٱلْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٌۭ مِّمَّا تَرَكَ ٱلْوَٰلِدَانِ وَٱلْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ ۚ نَصِيبًۭا مَّفْرُوضًۭا ٧
লির্রিজা-লি নাসীবুম মিম্মা তারাকাল ওয়া-লিদা-নি ওয়ালআকরাবূনা ওয়ালিন্নিসা-ই নাসীবুম মিম্মা তারাকাল ওয়া-লিদা-নি ওয়ালআকরাবূনা মিম্মা কাল্লা মিনহু আও কাছুর নাসীবাম মাফরূদা
মাতা-পিতা এবং আত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে; আর মাতা-পিতা এবং আত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে, তা অল্পই হোক আর বেশিই হোক, এক নির্ধারিত অংশ।
وَإِذَا حَضَرَ ٱلْقِسْمَةَ أُو۟لُوا۟ ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينُ فَٱرْزُقُوهُم مِّنْهُ وَقُولُوا۟ لَهُمْ قَوْلًۭا مَّعْرُوفًۭا ٨
ওয়াইযা হাদারাল কিসমাতা উলুল কুরবা ওয়ালইয়াতা-মা ওয়ালমাসা-কীনু ফারযুকূহুম মিনহু ওয়াকূলূ লাহুম কাওলাম মা‘রূফা
(সম্পত্তি) বণ্টনকালে স্বজন, ইয়াতীম এবং মিসকীন উপস্থিত থাকলে তাদেরকেও তাত্থেকে কিছু দিয়ে দেবে, তাদের সঙ্গে দয়ার্দ্র ন্যায়ানুগ কথা বলবে।
وَلْيَخْشَ ٱلَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا۟ مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةًۭ ضِعَٰفًا خَافُوا۟ عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَلْيَقُولُوا۟ قَوْلًۭا سَدِيدًا ٩
ওয়ালইয়াখশাল লাযীনা লাও তারাকূ মিন খালফিহিম যুর্রিয়্যাতান দি‘আ-ফান খা-ফূ ‘আলাইহিম ফালইয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়ালইয়াকূলূ কাওলান সাদীদা
তারা যেন ভয় করে যে, অসহায় সন্তান পেছনে ছেড়ে গেলে তারাও তাদের জন্য চিন্তিত হত, সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সঙ্গত কথা বলে।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَٰلَ ٱلْيَتَٰمَىٰ ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ نَارًۭا ۖ وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًۭا ١٠
ইন্নাল লাযীনা ইয়া’কুলূনা আমওয়া-লাল ইয়াতা-মা যুলমান ইন্নামা ইয়া’কুলূনা ফী বুতূনিহিম না-রাঁ ওয়াসায়াসলাওনা সা‘ঈরা
যারা ইয়াতীমদের মাল অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা তো নিজেদের পেটে কেবল অগ্নিই ভক্ষণ করে, তারা শীঘ্রই জ্বলন্ত আগুনে জ্বলবে।
يُوصِيكُمُ ٱللَّهُ فِىٓ أَوْلَٰدِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ ٱلْأُنثَيَيْنِ ۚ فَإِن كُنَّ نِسَآءًۭ فَوْقَ ٱثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۖ وَإِن كَانَتْ وَٰحِدَةًۭ فَلَهَا ٱلنِّصْفُ ۚ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَٰحِدٍۢ مِّنْهُمَا ٱلسُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُۥ وَلَدٌۭ ۚ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُۥ وَلَدٌۭ وَوَرِثَهُۥٓ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ ٱلثُّلُثُ ۚ فَإِن كَانَ لَهُۥٓ إِخْوَةٌۭ فَلِأُمِّهِ ٱلسُّدُسُ ۚ مِنۢ بَعْدِ وَصِيَّةٍۢ يُوصِى بِهَآ أَوْ دَيْنٍ ۗ ءَابَآؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًۭا ۚ فَرِيضَةًۭ مِّنَ ٱللَّهِ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًۭا ١١
ইউসীকুমুল্লা-হু ফী আওলা-দিকুম লিয্যাকারি মিছলু হায্যিল উনছায়াইন ফাইন কুন্না নিসা-আন ফাওকাছনাতাইনি ফালাহুন্না ছুলুছা মা তারাকা ওয়াইন কা-নাত ওয়া-হিদাতান ফালাহান নিসফ ওয়ালিআবাওয়াইহি লিকুল্লি ওয়া-হিদিম মিনহুমাস সুদুসু মিম্মা তারাকা ইন কা-না লাহূ ওয়ালাদ ফাইল লাম ইয়াকুল লাহূ ওয়ালাদুঁ ওয়াওয়ারিছাহূ আবাওয়া-হু ফালিউম্মিহিছ ছুলুছ ফাইন কা-না লাহূ ইখওয়াতুন ফালিউম্মিহিস সুদুস মিম বা‘দি ওয়াসিয়্যাতিঁ ইউসী বিহা- আও দাইন আ-বা-উকুম ওয়াআবনা-উকুম লা তাদরূনা আইয়্যুহুম আকরাবু লাকুম নাফ‘আ ফারীদাতাম মিনাল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলীমান হাকীমা
আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তান-সন্ততির (অংশ) সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, পুরুষ দুই নারীর অংশের সমান পাবে, তবে সন্তান-সন্ততি যদি শুধু দু’জন নারীর অধিক হয় তাহলে তাঁরা রেখে যাওয়া সম্পত্তির তিন ভাগের দু’ ভাগ পাবে, আর কেবল একটি কন্যা থাকলে সে অর্ধেক পাবে এবং তার পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যেকে রেখে যাওয়া সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ পাবে যদি তার সন্তান থাকে, আর যদি তার সন্তান না থাকে এবং তার ওয়ারিশ মাতা-পিতাই হয়, সে অবস্থায় তার মাতার জন্য এক তৃতীয়াংশ, কিন্তু তার ভাই-বোন থাকলে, তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ, (ঐসব বণ্টন হবে) তার কৃত ওয়াসীয়াত অথবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমরা জান না তোমাদের পিতা এবং সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের পক্ষে উপকারের দিক দিয়ে অধিকতর নিকটবর্তী। (এ বণ্টন) আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাশীল।
۞ وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَٰجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌۭ ۚ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌۭ فَلَكُمُ ٱلرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ ۚ مِنۢ بَعْدِ وَصِيَّةٍۢ يُوصِينَ بِهَآ أَوْ دَيْنٍۢ ۚ وَلَهُنَّ ٱلرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌۭ ۚ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌۭ فَلَهُنَّ ٱلثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم ۚ مِّنۢ بَعْدِ وَصِيَّةٍۢ تُوصُونَ بِهَآ أَوْ دَيْنٍۢ ۗ وَإِن كَانَ رَجُلٌۭ يُورَثُ كَلَٰلَةً أَوِ ٱمْرَأَةٌۭ وَلَهُۥٓ أَخٌ أَوْ أُخْتٌۭ فَلِكُلِّ وَٰحِدٍۢ مِّنْهُمَا ٱلسُّدُسُ ۚ فَإِن كَانُوٓا۟ أَكْثَرَ مِن ذَٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَآءُ فِى ٱلثُّلُثِ ۚ مِنۢ بَعْدِ وَصِيَّةٍۢ يُوصَىٰ بِهَآ أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَآرٍّۢ ۚ وَصِيَّةًۭ مِّنَ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌۭ ١٢
ওয়ালাকুম নিসফু মা তারাকা আযওয়া-জুকুম ইল লাম ইয়াকুল লাহুন্না ওয়ালাদ ফাইন কা-না লাহুন্না ওয়ালাদুন ফালাকুমুর রুবু‘উ মিম্মা তারাকন মিম বা‘দি ওয়াসিয়্যাতিঁ ইউসীনা বিহা- আও দাইন ওয়ালাহুন্নার রুবু‘উ মিম্মা তারাকতুম ইল লাম ইয়াকুল লাকুম ওয়ালাদ ফাইন কা-না লাকুম ওয়ালাদুন ফালাহুন্নাছ ছুমুনু মিম্মা তারাকতুম মিম বা‘দি ওয়াসিয়্যাতিন তূসূনা বিহা- আও দাইন ওয়াইন কা-না রাজুলুঁ ইউরাছু কালা-লাতান আউইমরাআতুঁ ওয়ালাহূ আখুন আও উখতুন ফালিকুল্লি ওয়া-হিদিম মিনহুমাস সুদুস ফাইন কা-নূ আকছারা মিন যা-লিকা ফাহুম শুরাকা-উ ফিছ ছুলুছ মিম বা‘দি ওয়াসিয়্যাতিঁ ইউসা বিহা- আও দাইনিন গাইরা মুদা-র্র ওয়াসিয়্যাতাম মিনাল্লা-হ ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হালীম
তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক তোমাদের জন্য- যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে আর যদি সন্তান থাকে, তবে তোমাদের জন্য তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ, তাদের কৃত ওয়াসীয়াত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর এবং তারা তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির সিকি অংশ পাবে যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের জন্য তোমাদের সম্পত্তির আট ভাগের একভাগ- তোমাদের কৃত ওয়াসীয়ত কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। যদি পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন কোন পুরুষ বা নারীর শুধু বৈপিত্রেয় একটি ভাই বা একটি ভগ্নি থাকে, তবে প্রত্যেকের জন্য ছ’ ভাগের এক ভাগ। যদি তারা তার চেয়ে অধিক হয়, তবে সকলেই তৃতীয়াংশে শরীক হবে কৃত ওয়াসীয়াত কিংবা ঋণ পরিশোধের পরে, যদি কারো জন্য ক্ষতিকর না হয়, এ হল আল্লাহর বিধান, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
تِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ ۚ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ يُدْخِلْهُ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ ١٣
তিলকা হুদূদুল্লা-হ ওয়ামান ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ইউদখিলহু জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা ওয়াযা-লিকাল ফাওযুল ‘আযীম
এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার পাদদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা তাতে চিরবাসী হবে এবং এটা বিরাট সাফল্য।
وَمَن يَعْصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُۥ يُدْخِلْهُ نَارًا خَٰلِدًۭا فِيهَا وَلَهُۥ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ١٤
ওয়ামান ইয়া‘সিল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ওয়ায়াতা‘আদ্দা হুদূদাহূ ইউদখিলহু না-রান খা-লিদান ফীহা ওয়ালাহূ ‘আযা-বুম মুহীন
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের নাফরমানী করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন, সে তাতে চিরবাসী হবে এবং সে অবমাননাকর শাস্তি ভোগ করবে।
وَٱلَّٰتِى يَأْتِينَ ٱلْفَٰحِشَةَ مِن نِّسَآئِكُمْ فَٱسْتَشْهِدُوا۟ عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةًۭ مِّنكُمْ ۖ فَإِن شَهِدُوا۟ فَأَمْسِكُوهُنَّ فِى ٱلْبُيُوتِ حَتَّىٰ يَتَوَفَّىٰهُنَّ ٱلْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ ٱللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًۭا ١٥
ওয়াল্লা-তী ইয়া’তীনাল ফা-হিশাতা মিন নিসা-ইকুম ফাসতাশহিদূ ‘আলাইহিন্না আরবা‘আতাম মিনকুম ফাইন শাহিদূ ফাআমসিকূহুন্না ফিল বুইউতি হাত্তা ইয়াতাওয়াফ্ফা-হুন্নাল মাওতু আও ইয়াজ‘আলাল্লা-হু লাহুন্না সাবীলা
তোমাদের যে সব নারী ব্যভিচার করবে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ কর। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে তোমরা তাদেরকে সে সময় পর্যন্ত গৃহে আবদ্ধ করে রাখবে যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় কিংবা আল্লাহ তাদের জন্য কোন পৃথক পথ বের করেন।
وَٱلَّذَانِ يَأْتِيَٰنِهَا مِنكُمْ فَـَٔاذُوهُمَا ۖ فَإِن تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا۟ عَنْهُمَآ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ تَوَّابًۭا رَّحِيمًا ١٦
ওয়াল্লাযা-নি ইয়া’তিয়া-নিহা মিনকুম ফাআ-যূহুমা ফাইন তা-বা ওয়াআসলাহা ফাআ‘রিদূ ‘আনহুমা- ইন্নাল্লা-হা কা-না তাওয়া-বার রাহীমা
তোমাদের মধ্যেকার যে দু’জন তাতে লিপ্ত হবে, তোমরা সে দু’জনকে শাস্তি দেবে, অতঃপর যদি তারা তাওবাহ করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে তবে তাদের ব্যাপারে নিবৃত্ত হও, নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় তাওবাহ কবূলকারী, পরম দয়ালু।
إِنَّمَا ٱلتَّوْبَةُ عَلَى ٱللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ ٱلسُّوٓءَ بِجَهَٰلَةٍۢ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍۢ فَأُو۟لَٰٓئِكَ يَتُوبُ ٱللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًۭا ١٧
ইন্নামাত তাওবাতু ‘আলাল্লা-হি লিল্লাযীনা ইয়া‘মালূনাস সূআ বিজাহা-লাতিন ছুম্মা ইয়াতূবূনা মিন কারীবিন ফাউলা-ইকা ইয়াতূবুল্লা-হু ‘আলাইহিম ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা
নিশ্চয়ই যারা অজ্ঞতাবশতঃ মন্দ কাজ ক’রে বসে, তৎপর সত্বর তাওবাহ করে, এরাই তারা যাদের তাওবাহ আল্লাহ কবূল করেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, মহাবিজ্ঞানী।
وَلَيْسَتِ ٱلتَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ حَتَّىٰٓ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ ٱلْمَوْتُ قَالَ إِنِّى تُبْتُ ٱلْـَٰٔنَ وَلَا ٱلَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًۭا ١٨
ওয়ালাইসাতিত তাওবাতু লিল্লাযীনা ইয়া‘মালূনাস সাইয়্যিআ-তি হাত্তা- ইযা হাদারা আহাদাহুমুল মাওতু কা-লা ইন্নী তুবতুল আ-না ওয়ালাল লাযীনা ইয়ামূতূনা ওয়াহুম কুফ্ফা-র উলা-ইকা আ‘তাদনা লাহুম ‘আযা-বান আলীমা
এমন লোকেদের তাওবাহ নিস্ফল যারা গুনাহ করতেই থাকে, অতঃপর মৃত্যুর মুখোমুখী হলে বলে, আমি এখন তাওবাহ করছি এবং (তাওবাহ) তাদের জন্যও নয় যাদের মৃত্যু হয় কাফির অবস্থায়। এরাই তারা যাদের জন্য ভয়াবহ শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَرِثُوا۟ ٱلنِّسَآءَ كَرْهًۭا ۖ وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا۟ بِبَعْضِ مَآ ءَاتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّآ أَن يَأْتِينَ بِفَٰحِشَةٍۢ مُّبَيِّنَةٍۢ ۚ وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلْمَعْرُوفِ ۚ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰٓ أَن تَكْرَهُوا۟ شَيْـًۭٔا وَيَجْعَلَ ٱللَّهُ فِيهِ خَيْرًۭا كَثِيرًۭا ١٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা ইয়াহিল্লু লাকুম আন তারিছুন নিসা-আ কারহাঁ ওয়ালা তা‘দুলূহুন্না লিতাযহাবূ বিবা‘দি মা- আ-তাইতুমূহুন্না ইল্লা- আন ইয়া’তীনা বিফা-হিশাতিম মুবাইয়্যিনাহ ওয়া‘আ-শিরূহুন্না বিলমা‘রূফ ফাইন কারিহতুমূহুন্না ফা‘আসা- আন তাকরাহূ শাইআঁ ওয়ায়াজ‘আলাল্লা-হু ফীহি খাইরান কাছীরা
হে ঈমানদারগণ! জোরপূর্বক নারীদের ওয়ারিশ হওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয় আর তাদেরকে দেয়া মাল হতে কিছু উসূল করে নেয়ার উদ্দেশ্যে তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করবে না, যদি না তারা সুস্পষ্ট ব্যভিচার করে। তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর, যদি তাদেরকে না-পছন্দ কর, তবে হতে পারে যে তোমরা যাকে না-পছন্দ করছ, বস্তুতঃ তারই মধ্যে আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন।
وَإِنْ أَرَدتُّمُ ٱسْتِبْدَالَ زَوْجٍۢ مَّكَانَ زَوْجٍۢ وَءَاتَيْتُمْ إِحْدَىٰهُنَّ قِنطَارًۭا فَلَا تَأْخُذُوا۟ مِنْهُ شَيْـًٔا ۚ أَتَأْخُذُونَهُۥ بُهْتَٰنًۭا وَإِثْمًۭا مُّبِينًۭا ٢٠
ওয়াইন আরাত্তুমুসতিবদা-লা যাওজিম মাকা-না যাওজিঁ ওয়াআ-তাইতুম ইহদা-হুন্না কিনতা-রান ফালা তা’খুযূ মিনহু শাইআ আতা’খুযূনাহূ বুহতা-নাঁ ওয়াইছমাম মুবীনা
যদি তোমরা এক স্ত্রী বদলিয়ে তদস্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণের ইচ্ছে কর এবং তাদের একজনকে অগাধ সম্পদও দিয়ে থাক, তবুও তাত্থেকে কিছুই ফিরিয়ে নিও না। তোমরা কি (স্ত্রীর নামে) মিথ্যে দুর্নাম রটিয়ে সুস্পষ্ট গুনাহ করে তা ফেরত নেবে?
وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُۥ وَقَدْ أَفْضَىٰ بَعْضُكُمْ إِلَىٰ بَعْضٍۢ وَأَخَذْنَ مِنكُم مِّيثَٰقًا غَلِيظًۭا ٢١
ওয়াকাইফা তা’খুযূনাহূ ওয়াকাদ আফদা বা‘দুকুম ইলা বা‘দিঁ ওয়াআখাযনা মিনকুম মীছা-কান গালীযা
কেমন করেই বা তোমরা তা গ্রহণ করবে যখন তোমরা একে অন্যের সাথে সঙ্গত হয়েছ এবং তারা তোমাদের নিকট হতে (বিবাহ বন্ধনের) সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নিয়েছে।
وَلَا تَنكِحُوا۟ مَا نَكَحَ ءَابَآؤُكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ فَٰحِشَةًۭ وَمَقْتًۭا وَسَآءَ سَبِيلًا ٢٢
ওয়ালা তানকিহূ মা নাকাহা আ-বা-উকুম মিনান নিসা-ই ইল্লা মা কাদ সালাফ ইন্নাহূ কা-না ফা-হিশাতাঁ ওয়ামাকতাঁ ওয়াসা-আ সাবীলা
যাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষ বিয়ে করেছে, সেসব নারীকে বিয়ে করো না, পূর্বে যা হয়ে গেছে হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই তা অশ্লীল, অতি ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট পন্থা।
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَٰتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَٰتُكُمْ وَعَمَّٰتُكُمْ وَخَٰلَٰتُكُمْ وَبَنَاتُ ٱلْأَخِ وَبَنَاتُ ٱلْأُخْتِ وَأُمَّهَٰتُكُمُ ٱلَّٰتِىٓ أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَٰتُكُم مِّنَ ٱلرَّضَٰعَةِ وَأُمَّهَٰتُ نِسَآئِكُمْ وَرَبَٰٓئِبُكُمُ ٱلَّٰتِى فِى حُجُورِكُم مِّن نِّسَآئِكُمُ ٱلَّٰتِى دَخَلْتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمْ تَكُونُوا۟ دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَٰٓئِلُ أَبْنَآئِكُمُ ٱلَّذِينَ مِنْ أَصْلَٰبِكُمْ وَأَن تَجْمَعُوا۟ بَيْنَ ٱلْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ٢٣
হুর্রিমাত ‘আলাইকুম উম্মাহা-তুকুম ওয়াবানা-তুকুম ওয়াআখাওয়া-তুকুম ওয়া‘আম্মা-তুকুম ওয়াখা-লা-তুকুম ওয়াবানা-তুল আখি ওয়াবানা-তুল উখতি ওয়াউম্মাহা-তুকুমুল লা-তী আরদা‘নাকুম ওয়াআখাওয়া-তুকুম মিনার রাদা-‘আতি ওয়াউম্মাহা-তু নিসা-ইকুম ওয়ারাবা-ইবুকুমুল লা-তী ফী হুজূরিকুম মিন নিসা-ইকুমুল লা-তী দাখালতুম বিহিন্না ফাইল লাম তাকূনূ দাখালতুম বিহিন্না ফালা জুনা-হা ‘আলাইকুম ওয়াহালা-ইলু আবনা-ইকুমুল লাযীনা মিন আসলা-বিকুম ওয়াআন তাজমা‘ঊ বাইনাল উখতাইনি ইল্লা মা কাদ সালাফ ইন্নাল্লা-হা কা-না গাফূরার রাহীমা
তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ী, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সঙ্গত হয়েছ তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের বদলে তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দু’ বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা, পূর্বে যা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু।