মূল লেখায় যান
১ নভেম্বর ২০২৬ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
الجزء ٢٨

পারা ২৮

১৩৭ আয়াত

المجادلة
সূরা আল-মুজাদালা

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
قَدْ سَمِعَ ٱللَّهُ قَوْلَ ٱلَّتِى تُجَٰدِلُكَ فِى زَوْجِهَا وَتَشْتَكِىٓ إِلَى ٱللَّهِ وَٱللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَآ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌ ١
কাদ সামি‘আল্লা-হু কাওলাল লাতী তুজা-দিলুকা ফী যাওজিহা ওয়াতাশতাকী ইলাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু ইয়াসমা‘উ তাহা-উরাকুমা- ইন্নাল্লা-হা সামী‘উম বাসীর
আল্লাহ তার কথা শুনেছেন যে নারী (খাওলাহ বিনত সা‘লাবাহ) তার স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছে আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছে, আল্লাহ তোমাদের দু’জনের কথা শুনছেন, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
ٱلَّذِينَ يُظَٰهِرُونَ مِنكُم مِّن نِّسَآئِهِم مَّا هُنَّ أُمَّهَٰتِهِمْ ۖ إِنْ أُمَّهَٰتُهُمْ إِلَّا ٱلَّٰٓـِٔى وَلَدْنَهُمْ ۚ وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنكَرًۭا مِّنَ ٱلْقَوْلِ وَزُورًۭا ۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌۭ ٢
আল্লাযীনা ইউযা-হিরূনা মিনকুম মিন নিসা-ইহিম মা হুন্না উম্মাহা-তিহিম ইন উম্মাহা-তুহুম ইল্লাল লা-ঈ ওয়ালাদনাহুম ওয়াইন্নাহুম লায়াকূলূনা মুনকারাম মিনাল কাওলি ওয়াযূরা ওয়াইন্নাল্লা-হা লা‘আফুউন গাফূর
তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে (অর্থাৎ স্ত্রীকে বলে যে, তুমি আমার জন্য আমার মায়ের পিঠের মত) তাদের স্ত্রীরা তাদের মা নয়। তাদের মা তো কেবল তারাই যারা তাদের জন্ম দিয়েছে। তারা অবশ্যই ঘৃণ্য ও মিথ্যে কথা বলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপ মোচনকারী, বড়ই ক্ষমাশীল।
وَٱلَّذِينَ يُظَٰهِرُونَ مِن نِّسَآئِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا۟ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍۢ مِّن قَبْلِ أَن يَتَمَآسَّا ۚ ذَٰلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِۦ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ٣
ওয়াল্লাযীনা ইউযা-হিরূনা মিন নিসা-ইহিম ছুম্মা ইয়া‘ঊদূনা লিমা কা-লূ ফাতাহরীরু রাকাবাতিম মিন কাবলি আন ইয়াতামা-স্সা যা-লিকুম তূ‘আযূনা বিহ ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা খাবীর
যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে, অতঃপর তারা যে কথা বলেছে তা প্রত্যাহার করে নেয় তবে পরস্পরকে স্পর্শ করার পূর্বে তাদেরকে একটি দাস মুক্ত করতে হবে, এর দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন।
فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِن قَبْلِ أَن يَتَمَآسَّا ۖ فَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًۭا ۚ ذَٰلِكَ لِتُؤْمِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ ۗ وَلِلْكَٰفِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ ٤
ফামাল লাম ইয়াজিদ ফাসিয়া-মু শাহরাইনি মুতাতা-বি‘আইনি মিন কাবলি আন ইয়াতামা-স্সা ফামাল লাম ইয়াসতাতি‘ ফাইত‘আ-মু সিত্তীনা মিসকীনা যা-লিকা লিতু’মিনূ বিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহ ওয়াতিলকা হুদূদুল্লা-হ ওয়ালিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বুন আলীম
কিন্তু যার (দাস সংগ্রহ করার) সামর্থ্য নেই, সে এক নাগাড়ে দু’মাস রোযা রাখবে পরস্পরকে স্পর্শ করার পূর্বে। আর যে তা করতে পারবে না, সে ষাট জন মিসকীনকে খাবার খাওয়াবে। এ নির্দেশ দেয়া হচ্ছে এ জন্য যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনো। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। (যারা এটা অস্বীকার করবে সেই) কাফিরদের জন্য আছে মর্মান্তিক শাস্তি।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحَآدُّونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ كُبِتُوا۟ كَمَا كُبِتَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ وَقَدْ أَنزَلْنَآ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍۢ ۚ وَلِلْكَٰفِرِينَ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ٥
ইন্নাল লাযীনা ইউহা-দ্দূনাল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ কুবিতূ কামা কুবিতাল লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়াকাদ আনযালনা- আ-য়া-তিম বাইয়্যিনা-ত ওয়ালিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বুম মুহীন
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করে তাদেরকে লাঞ্ছিত করা হবে যেমন লাঞ্ছিত করা হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তীদেরকে। আমি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেছি আর (অস্বীকারকারী) কাফিরদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি,
يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًۭا فَيُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوٓا۟ ۚ أَحْصَىٰهُ ٱللَّهُ وَنَسُوهُ ۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ شَهِيدٌ ٦
ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফাইউনাব্বিউহুম বিমা ‘আমিলূ আহসা-হুল্লা-হু ওয়ানাসূহ ওয়াল্লা-হু ‘আলা কুল্লি শাইইন শাহীদ
সেদিন, যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে আবার জীবিত করে উঠাবেন এবং তাদের কৃতকর্মের সংবাদ তাদেরকে জানিয়ে দিবেন, আল্লাহ তা হিসেব করে রেখেছেন যদিও তারা (নিজেরা) ভুলে গেছে। আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শী।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۖ مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَىٰ ثَلَٰثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَآ أَدْنَىٰ مِن ذَٰلِكَ وَلَآ أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا۟ ۖ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا۟ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ ٧
আলাম তারা আন-নাল্লা-হা ইয়া‘লামু মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদি মা ইয়াকূনু মিন নাজওয়া ছালা-ছাতিন ইল্লা হুওয়া রা-বি‘উহুম ওয়ালা খামসাতিন ইল্লা হুওয়া সা-দিসুহুম ওয়ালা- আদনা মিন যা-লিকা ওয়ালা- আকছারা ইল্লা হুওয়া মা‘আহুম আইনা মা কা-নূ ছুম্মা ইউনাব্বিউহুম বিমা ‘আমিলূ ইয়াওমাল কিয়া-মাহ ইন্নাল্লা-হা বিকুল্লি শাইইন ‘আলীম
তুমি কি জান না যে, যা আকাশে আছে আর যা যমীনে আছে আল্লাহ সব জানেন। তিনজনের মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন আল্লাহ হন না, আর পাঁচজনেও হয় না, ষষ্ঠজন তিনি ছাড়া, এর কম সংখ্যকেও হয় না, আর বেশি সংখ্যকেও হয় না, তিনি তাদের সঙ্গে থাকা ব্যতীত, তারা যেখানেই থাকুক না কেন। অতঃপর ক্বিয়ামত দিবসে তিনি জানিয়ে দেবেন যা তারা ‘আমাল করেছিল। আল্লাহ সকল বিষয়ে পূর্ণভাবে অবগত।
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ نُهُوا۟ عَنِ ٱلنَّجْوَىٰ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا نُهُوا۟ عَنْهُ وَيَتَنَٰجَوْنَ بِٱلْإِثْمِ وَٱلْعُدْوَٰنِ وَمَعْصِيَتِ ٱلرَّسُولِ وَإِذَا جَآءُوكَ حَيَّوْكَ بِمَا لَمْ يُحَيِّكَ بِهِ ٱللَّهُ وَيَقُولُونَ فِىٓ أَنفُسِهِمْ لَوْلَا يُعَذِّبُنَا ٱللَّهُ بِمَا نَقُولُ ۚ حَسْبُهُمْ جَهَنَّمُ يَصْلَوْنَهَا ۖ فَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ٨
আলাম তারা ইলাল লাযীনা নুহূ ‘আনিন নাজওয়া ছুম্মা ইয়া‘ঊদূনা লিমা নুহূ ‘আনহু ওয়ায়াতানা-জাওনা বিলইছমি ওয়াল‘উদওয়া-নি ওয়ামা‘সিয়াতির রাসূলি ওয়াইযা জা-ঊকা হাইয়্যাওকা বিমা লাম ইউহাইয়্যিকা বিহিল্লা-হু ওয়ায়াকূলূনা ফী আনফুসিহিম লাওলা ইউ‘আয্যিবুনাল্লা-হু বিমা নাকূল হাসবুহুম জাহান্নামু ইয়াসলাওনাহা ফাবি’সাল মাসীর
তুমি কি তাদেরকে দেখনি যাদেরকে গোপন পরামর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা আবার তাই করল যা করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল, তারা গোপনে পরামর্শ করল পাপাচার, সীমালঙ্ঘন আর রসূলকে অমান্য করা নিয়ে। তারা যখন তোমার কাছে আসে তখন তারা তোমাকে এমনভাবে সম্ভাষণ করে যেমনভাবে আল্লাহ তোমাকে সম্ভাষণ করেননি। তারা মনে মনে বলে- ‘আমরা যা বলি তার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে ‘আযাব দেন না কেন? জাহান্নামই তাদের জন্য যথেষ্ট, তাতে তারা জ্বলবে, কতই না নিকৃষ্ট সেই গন্তব্যস্থল!
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا تَنَٰجَيْتُمْ فَلَا تَتَنَٰجَوْا۟ بِٱلْإِثْمِ وَٱلْعُدْوَٰنِ وَمَعْصِيَتِ ٱلرَّسُولِ وَتَنَٰجَوْا۟ بِٱلْبِرِّ وَٱلتَّقْوَىٰ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ٱلَّذِىٓ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা তানা-জাইতুম ফালা তাতানা-জাও বিলইছমি ওয়াল‘উদওয়া-নি ওয়ামা‘সিয়াতির রাসূলি ওয়াতানা-জাও বিলবির্রি ওয়াত্তাকওয়া ওয়াত্তাকুল্লা-হাল লাযী ইলাইহি তুহশারূন
হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন গোপন পরামর্শ কর, তখন পাপাচার, সীমালঙ্ঘন আর রসূলকে অমান্য করার পরামর্শ কর না। তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়া অবলম্বনের ব্যাপারে পরামর্শ করো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যাঁর কাছে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।
إِنَّمَا ٱلنَّجْوَىٰ مِنَ ٱلشَّيْطَٰنِ لِيَحْزُنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَلَيْسَ بِضَآرِّهِمْ شَيْـًٔا إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ ١٠
ইন্নামান নাজওয়া মিনাশ শাইতা-নি লিয়াহযুনাল লাযীনা আ-মানূ ওয়ালাইসা বিদা-র্রিহিম শাইআন ইল্লা বিইযনিল্লা-হ ওয়া‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন
গোপন পরামর্শ হল মু’মিনদেরকে দুঃখ দেয়ার জন্য শয়ত্বান প্ররোচিত কাজ। তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না। মু’মিনদের কর্তব্য হল একমাত্র আল্লাহরই উপর ভরসা করা।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا قِيلَ لَكُمْ تَفَسَّحُوا۟ فِى ٱلْمَجَٰلِسِ فَٱفْسَحُوا۟ يَفْسَحِ ٱللَّهُ لَكُمْ ۖ وَإِذَا قِيلَ ٱنشُزُوا۟ فَٱنشُزُوا۟ يَرْفَعِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنكُمْ وَٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ دَرَجَٰتٍۢ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ١١
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা কীলা লাকুম তাফাস্সাহূ ফিল মাজা-লিসি ফাফসাহূ ইয়াফসাহিল্লা-হু লাকুম ওয়াইযা কীলানশুযূ ফানশুযূ ইয়ারফা‘ইল্লা-হুল লাযীনা আ-মানূ মিনকুম ওয়াল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা দারাজা-ত ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা খাবীর
হে মু’মিনগণ! তোমাদেরকে যখন বলা হয়- ‘বৈঠক প্রশস্ত করে দাও’, তখন তোমরা তা প্রশস্ত করে দিবে, আল্লাহ তোমাদেরকে প্রশস্ততা দান করবেন। আর যখন বলা হয়- ‘তোমরা উঠে যাও’, তখন তোমরা উঠে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে আর যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উচ্চ করবেন। তোমরা যা কর আল্লাহ তার খবর রাখেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا نَٰجَيْتُمُ ٱلرَّسُولَ فَقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَىٰكُمْ صَدَقَةًۭ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ وَأَطْهَرُ ۚ فَإِن لَّمْ تَجِدُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌ ١٢
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা না-জাইতুমুর রাসূলা ফাকাদ্দিমূ বাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাকাহ যা-লিকা খাইরুল লাকুম ওয়াআতহার ফাইল লাম তাজিদূ ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন রসূলের সঙ্গে গোপনে কথা বল, তখন গোপনে কথা বলার আগে সদাক্বাহ দাও, এটাই তোমাদের জন্য উত্তম ও অতি পবিত্র পন্থা। আর যদি সদাক্বাহ জোগাড় করতে না পার, তাহলে আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
ءَأَشْفَقْتُمْ أَن تُقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَىٰكُمْ صَدَقَٰتٍۢ ۚ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا۟ وَتَابَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ ۚ وَٱللَّهُ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ ١٣
আআশফাকতুম আন তুকাদ্দিমূ বাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাকা-ত ফাইয লাম তাফ‘আলূ ওয়াতা-বাল্লা-হু ‘আলাইকুম ফাআকীমুস সালা-তা ওয়াআ-তুয যাকা-তা ওয়াআতী‘উল্লা-হা ওয়ারাসূলাহ ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা তা‘মালূন
তোমরা কি ভয় পেয়ে গেলে যে, তোমাদেরকে (নবীর সঙ্গে) গোপনে কথাবার্তা বলার আগে সদাক্বাহ দিতে হবে? তোমরা যদি তা না কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন, কাজেই তোমরা নামায কায়িম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর। তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহ পুরোপুরি অবগত।
۞ أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ تَوَلَّوْا۟ قَوْمًا غَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مَّا هُم مِّنكُمْ وَلَا مِنْهُمْ وَيَحْلِفُونَ عَلَى ٱلْكَذِبِ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ١٤
আলাম তারা ইলাল লাযীনা তাওয়াল্লাও কাওমান গাদিবাল্লা-হু ‘আলাইহিম মা হুম মিনকুম ওয়ালা মিনহুম ওয়ায়াহলিফূনা ‘আলাল কাযিবি ওয়াহুম ইয়া‘লামূন
তুমি কি তাদেরকে দেখনি যারা সেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যেই সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহ রাগান্বিত? তারা না তোমাদের লোক, আর না তাদের লোক আর তারা জেনে শুনে মিথ্যে শপথ করে।
أَعَدَّ ٱللَّهُ لَهُمْ عَذَابًۭا شَدِيدًا ۖ إِنَّهُمْ سَآءَ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١٥
আ‘আদ্দাল্লা-হু লাহুম ‘আযা-বান শাদীদান ইন্নাহুম সা-আ মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন কঠিন শাস্তি, তারা যা করে তা কতই না মন্দ!
ٱتَّخَذُوٓا۟ أَيْمَٰنَهُمْ جُنَّةًۭ فَصَدُّوا۟ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ فَلَهُمْ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ١٦
ইত্তাখাযূ আইমা-নাহুম জুন্নাতান ফাসাদ্দূ ‘আন সাবীলিল্লা-হি ফালাহুম ‘আযা-বুম মুহীন
তারা তাদের শপথগুলোকে ঢাল বানিয়ে নিয়েছে, এর সাহায্যে তারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, এ কারণে তাদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি।
لَّن تُغْنِىَ عَنْهُمْ أَمْوَٰلُهُمْ وَلَآ أَوْلَٰدُهُم مِّنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ١٧
লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালা- আওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআ উলা-ইকা আসহা-বুন না-রি হুম ফীহা খা-লিদূন
তাদের ধন-সম্পদ আর সন্তানাদি আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে বাঁচানোর ব্যাপারে কোন কাজে আসবে না, তারা জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًۭا فَيَحْلِفُونَ لَهُۥ كَمَا يَحْلِفُونَ لَكُمْ ۖ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ عَلَىٰ شَىْءٍ ۚ أَلَآ إِنَّهُمْ هُمُ ٱلْكَٰذِبُونَ ١٨
ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফায়াহলিফূনা লাহূ কামা ইয়াহলিফূনা লাকুম ওয়ায়াহসাবূনা আন-নাহুম ‘আলা শাই’ আলা- ইন্নাহুম হুমুল কা-যিবূন
আল্লাহ যেদিন তাদের সবাইকে আবার জীবিত করে উঠাবেন, তখন তারা আল্লাহর কাছে ঠিক সে রকম শপথই করবে, যেমন শপথ তারা তোমাদের নিকট করে, আর তারা মনে করে যে, তাদের কিছু (কোন ভিত্তি) আছে। জেনে রেখ, তারা খুবই মিথ্যেবাদী।
ٱسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ ٱلشَّيْطَٰنُ فَأَنسَىٰهُمْ ذِكْرَ ٱللَّهِ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ حِزْبُ ٱلشَّيْطَٰنِ ۚ أَلَآ إِنَّ حِزْبَ ٱلشَّيْطَٰنِ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ ١٩
ইসতাহওয়াযা ‘আলাইহিমুশ শাইতা-নু ফাআনসা-হুম যিকরাল্লা-হ উলা-ইকা হিযবুশ শাইতা-ন আলা- ইন্না হিযবাশ শাইতা-নি হুমুল খা-সিরূন
শয়ত্বান তাদের উপর প্রভাব খাটিয়ে বসেছে, আর তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়ত্বানের দল। জেনে রেখ, শয়ত্বানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحَآدُّونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ أُو۟لَٰٓئِكَ فِى ٱلْأَذَلِّينَ ٢٠
ইন্নাল লাযীনা ইউহা-দ্দূনাল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ উলা-ইকা ফিল আযাল্লীন
যারা আল্লাহর ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করে, তারাই সবচেয়ে বেশী লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।
كَتَبَ ٱللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا۠ وَرُسُلِىٓ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ قَوِىٌّ عَزِيزٌۭ ٢١
কাতাবাল্লা-হু লাআগলিবান্না আনা ওয়ারুসুলী ইন্নাল্লা-হা কাউইয়্যুন ‘আযীয
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন যে, অবশ্য অবশ্যই আমি ও আমার রসূলগণ বিজয়ী থাকব। আল্লাহ মহা শক্তিমান ও পরাক্রমশালী।
لَّا تَجِدُ قَوْمًۭا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ يُوَآدُّونَ مَنْ حَآدَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَوْ كَانُوٓا۟ ءَابَآءَهُمْ أَوْ أَبْنَآءَهُمْ أَوْ إِخْوَٰنَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ كَتَبَ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْإِيمَٰنَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٍۢ مِّنْهُ ۖ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا ۚ رَضِىَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا۟ عَنْهُ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ حِزْبُ ٱللَّهِ ۚ أَلَآ إِنَّ حِزْبَ ٱللَّهِ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ٢٢
লা তাজিদু কাওমাঁ ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি ইউওয়া-দ্দূনা মান হা-দ্দাল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ওয়ালাও কা-নূ আ-বা-আহুম আও আবনা-আহুম আও ইখওয়া-নাহুম আও ‘আশীরাতাহুম উলা-ইকা কাতাবা ফী কুলূবিহিমুল ঈমা-না ওয়াআইয়্যাদাহুম বিরূহিম মিনহু ওয়াইউদখিলুহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা রাদিয়াল্লা-হু ‘আনহুম ওয়ারাদূ ‘আনহ উলা-ইকা হিযবুল্লা-হ আলা- ইন্না হিযবাল্লা-হি হুমুল মুফলিহূন
আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায় তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতাকারীদেরকে ভালবাসে- হোক না এই বিরোধীরা তাদের পিতা অথবা পুত্র অথবা তাদের ভাই অথবা তাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠী। আল্লাহ এদের অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল করে দিয়েছেন, আর নিজের পক্ষ থেকে রূহ দিয়ে তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন। তাদেরকে তিনি দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে নদী-নালা, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এরাই আল্লাহর দল; জেনে রেখ, আল্লাহর দলই সাফল্যমন্ডিত।

الحشر
সূরা আল-হাশর

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۖ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ١
সাব্বাহা লিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদি ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম
আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর গৌরব ও মহিমা ঘোষণা করে। আর তিনি (আল্লাহ) পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
هُوَ ٱلَّذِىٓ أَخْرَجَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ مِن دِيَٰرِهِمْ لِأَوَّلِ ٱلْحَشْرِ ۚ مَا ظَنَنتُمْ أَن يَخْرُجُوا۟ ۖ وَظَنُّوٓا۟ أَنَّهُم مَّانِعَتُهُمْ حُصُونُهُم مِّنَ ٱللَّهِ فَأَتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوا۟ ۖ وَقَذَفَ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلرُّعْبَ ۚ يُخْرِبُونَ بُيُوتَهُم بِأَيْدِيهِمْ وَأَيْدِى ٱلْمُؤْمِنِينَ فَٱعْتَبِرُوا۟ يَٰٓأُو۟لِى ٱلْأَبْصَٰرِ ٢
হুওয়াল লাযী আখরাজাল লাযীনা কাফারূ মিন আহলিল কিতা-বি মিন দিয়া-রিহিম লিআওয়ালিল হাশর মা যানানতুম আন ইয়াখরুজূ ওয়াযান্নূ আন-নাহুম মা-নি‘আতুহুম হুসূনুহুম মিনাল্লা-হি ফাআতা-হুমুল্লা-হু মিন হাইছু লাম ইয়াহতাসিবূ ওয়াকাযাফা ফী কুলূবিহিমুর রু‘ব ইউখরিবূনা বুইউতাহুম বিআইদীহিম ওয়াআইদিল মু’মিনীনা ফা‘তাবিরূ ইয়া-উলিল আবসা-র
কিতাবধারীদের অন্তর্ভুক্ত কাফিরদেরকে আক্রমণের প্রথম ধাপেই তিনিই তাদের বাড়ী থেকে বের ক’রে দিলেন। তোমরা ধারণাও করনি যে, তারা বের হবে। আর তারা মনে করেছিল যে, তাদের দূর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহ (’র কবল) থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে এমন দিক থেকে পাকড়াও করলেন যা তারা ভাবতেও পারেনি। তিনি তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করলেন। তারা তাদের নিজেদের হাত দিয়েই নিজেদের ঘরবাড়ী ধ্বংস করল, আর মু’মিনদের হাতেও (ধ্বংস করাল)। অতএব হে দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষেরা! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।
وَلَوْلَآ أَن كَتَبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِمُ ٱلْجَلَآءَ لَعَذَّبَهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا ۖ وَلَهُمْ فِى ٱلْءَاخِرَةِ عَذَابُ ٱلنَّارِ ٣
ওয়ালাওলা- আন কাতাবাল্লা-হু ‘আলাইহিমুল জালা-আ লা‘আয্যাবাহুম ফিদ দুনইয়া ওয়ালাহুম ফিল আ-খিরাতি ‘আযা-বুন না-র
আল্লাহ যদি তাদের জন্য নির্বাসন না লিখে দিতেন, তাহলে তিনি তাদেরকে দুনিয়াতেই অবশ্য অবশ্যই (অন্য) শাস্তি দিতেন, পরকালে তো তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি আছেই।
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ شَآقُّوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ ۖ وَمَن يُشَآقِّ ٱللَّهَ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ٤
যা-লিকা বিআন্নাহুম শা-ক্কুল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ওয়ামান ইউশা-ক্কিল্লা-হা ফাইন্নাল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব
এর কারণ এই যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রবল বিরোধিতা করেছে; আর যে-ই আল্লাহর বিরোধিতা করবে, আল্লাহ তাকে শাস্তিদানে বড়ই কঠোর।
مَا قَطَعْتُم مِّن لِّينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَآئِمَةً عَلَىٰٓ أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ ٱللَّهِ وَلِيُخْزِىَ ٱلْفَٰسِقِينَ ٥
মা কাতা‘তুম মিল লীনাতিন আও তারাকতুমূহা কা-ইমাতান ‘আলা- উসূলিহা ফাবিইযনিল্লা-হি ওয়ালিইউখযিয়াল ফা-সিকীন
তোমরা খেজুরের যে গাছগুলো কেটেছ আর যেগুলোকে তাদের মূলকান্ডের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছ, তা আল্লাহর অনুমতিক্রমেই (করেছ)। আর (এ অনুমতি আল্লাহ এজন্য দিয়েছেন) যেন তিনি পাপাচারীদেরকে অপমানিত করেন।
وَمَآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنْهُمْ فَمَآ أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍۢ وَلَا رِكَابٍۢ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُۥ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٦
ওয়ামা- আফা-আল্লা-হু ‘আলা রাসূলিহী মিনহুম ফামা- আওজাফতুম ‘আলাইহি মিন খাইলিঁ ওয়ালা রিকা-বিঁ ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ইউসাল্লিতু রুসুলাহূ ‘আলা মান ইয়াশা-আ ওয়াল্লা-হু ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
আল্লাহ তাঁর রসূলকে তাদের কাছ থেকে যে ফায় (বিনা যুদ্ধে পাওয়া সম্পদ) দিয়েছেন তার জন্য তোমরা ঘোড়াও দৌড়াওনি, আর উটেও চড়নি, বরং আল্লাহ তাঁর রসূলগণকে যার উপর ইচ্ছে আধিপত্য দান করেন; আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
مَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنْ أَهْلِ ٱلْقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ كَىْ لَا يَكُونَ دُولَةًۢ بَيْنَ ٱلْأَغْنِيَآءِ مِنكُمْ ۚ وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمْ عَنْهُ فَٱنتَهُوا۟ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ ٧
মা- আফা-আল্লা-হু ‘আলা রাসূলিহী মিন আহলিল কুরা ফালিল্লা-হি ওয়ালির্রাসূলি ওয়ালিযিল কুরবা ওয়ালইয়াতা-মা ওয়ালমাসা-কীনি ওয়াবনিস সাবীলি কাই লা ইয়াকূনা দূলাতাম বাইনাল আগনিয়া-ই মিনকুম ওয়ামা- আ-তা-কুমুর রাসূলু ফাখুযূহু ওয়ামা নাহা-কুম ‘আনহু ফানতাহূ ওয়াত্তাকুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব
যে ধন-সম্পদ আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে নিয়ে তাঁর রসূলকে দিলেন তা আল্লাহর জন্য তাঁর রসূলের জন্য আর রসূলের আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন ও পথিকদের জন্য যাতে তা তোমাদের মধ্যকার সম্পদশালীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর তোমাদেরকে যাত্থেকে নিষেধ করে তাত্থেকে বিরত থাক, আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।
لِلْفُقَرَآءِ ٱلْمُهَٰجِرِينَ ٱلَّذِينَ أُخْرِجُوا۟ مِن دِيَٰرِهِمْ وَأَمْوَٰلِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًۭا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضْوَٰنًۭا وَيَنصُرُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلصَّٰدِقُونَ ٨
লিলফুকারা-ইল মুহা-জিরীনাল লাযীনা উখরিজূ মিন দিয়া-রিহিম ওয়াআমওয়া-লিহিম ইয়াবতাগূনা ফাদলাম মিনাল্লা-হি ওয়ারিদওয়া-নাঁ ওয়ায়ানসুরূনাল্লা-হা ওয়ারাসূলাহ উলা-ইকা হুমুস সা-দিকূন
(আর এ সম্পদ) সে সব দরিদ্র মুহাজিরদের জন্য যাদেরকে তাদের বাড়ীঘর ও সম্পত্তি-সম্পদ থেকে উৎখাত করা হয়েছে। যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে, আর তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে সাহায্য করে। এরাই সত্যবাদী।
وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلْإِيمَٰنَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِى صُدُورِهِمْ حَاجَةًۭ مِّمَّآ أُوتُوا۟ وَيُؤْثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌۭ ۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِۦ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ٩
ওয়াল্লাযীনা তাবাওয়াউদ দা-রা ওয়ালঈমা-না মিন কাবলিহিম ইউহিব্বূনা মান হা-জারা ইলাইহিম ওয়ালা ইয়াজিদূনা ফী সুদূরিহিম হা-জাতাম মিম্মা- ঊতূ ওয়াইউ’ছিরূনা ‘আলা- আনফুসিহিম ওয়ালাও কা-না বিহিম খাসা-সাহ ওয়ামান ইউকা শুহ্হা নাফসিহী ফাউলা-ইকা হুমুল মুফলিহূন
(আর এ সম্পদ তাদের জন্যও) যারা মুহাজিরদের আসার আগে থেকেই (মাদীনাহ) নগরীর বাসিন্দা ছিল আর ঈমান গ্রহণ করেছে। তারা তাদেরকে ভালবাসে যারা তাদের কাছে হিজরাত করে এসেছে। মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা পাওয়ার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোন কামনা রাখে না, আর তাদেরকে (অর্থাৎ মুহাজিরদেরকে) নিজেদের উপর অগ্রাধিকার দেয়- নিজেরা যতই অভাবগ্রস্ত হোক না কেন। বস্তুত: যাদেরকে হৃদয়ের সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তারাই সফলকাম।
وَٱلَّذِينَ جَآءُو مِنۢ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا ٱغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَٰنِنَا ٱلَّذِينَ سَبَقُونَا بِٱلْإِيمَٰنِ وَلَا تَجْعَلْ فِى قُلُوبِنَا غِلًّۭا لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ رَبَّنَآ إِنَّكَ رَءُوفٌۭ رَّحِيمٌ ١٠
ওয়াল্লাযীনা জা-ঊ মিম বা‘দিহিম ইয়াকূলূনা রাব্বানাগফির লানা ওয়ালিইখওয়া-নিনাল লাযীনা সাবাকূনা বিলঈমা-নি ওয়ালা তাজ‘আল ফী কুলূবিনা গিল্লাল লিল্লাযীনা আ-মানূ রাব্বানা- ইন্নাকা রাঊফুর রাহীম
(এ সম্পদ তাদের জন্যও) যারা অগ্রবর্তীদের পরে (ইসলামের ছায়াতলে) এসেছে। তারা বলে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে আর আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা কর যারা ঈমানের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের ব্যাপারে আমাদের অন্তরে কোন হিংসা বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বড়ই করুণাময়, অতি দয়ালু।’
۞ أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ نَافَقُوا۟ يَقُولُونَ لِإِخْوَٰنِهِمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ لَئِنْ أُخْرِجْتُمْ لَنَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ وَلَا نُطِيعُ فِيكُمْ أَحَدًا أَبَدًۭا وَإِن قُوتِلْتُمْ لَنَنصُرَنَّكُمْ وَٱللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَٰذِبُونَ ١١
আলাম তারা ইলাল লাযীনা না-ফাকূ ইয়াকূলূনা লিইখওয়া-নিহিমুল লাযীনা কাফারূ মিন আহলিল কিতা-বি লাইন উখরিজতুম লানাখরুজান্না মা‘আকুম ওয়ালা নুতী‘উ ফীকুম আহাদান আবাদাঁ ওয়াইন কূতিলতুম লানানসুরান্নাকুম ওয়াল্লা-হু ইয়াশহাদু ইন্নাহুম লাকা-যিবূন
তুমি কি তাদেরকে দেখনি যারা মুনাফিকী করেছিল? আহলে কিতাবের মধ্যে যারা কুফুরী করেছিল তাদের সেই ভাইদেরকে তারা (অর্থাৎ মুনাফিকরা) বলেছিল- ‘তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তাহলে অবশ্য অবশ্যই আমরাও তোমাদের সাথে বেরিয়ে যাব, আর তোমাদের ব্যাপারে আমরা কক্ষনো কারো কথা মেনে নেব না। আর যদি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়, তাহলে আমরা অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তারা অবশ্যই মিথ্যেবাদী।
لَئِنْ أُخْرِجُوا۟ لَا يَخْرُجُونَ مَعَهُمْ وَلَئِن قُوتِلُوا۟ لَا يَنصُرُونَهُمْ وَلَئِن نَّصَرُوهُمْ لَيُوَلُّنَّ ٱلْأَدْبَٰرَ ثُمَّ لَا يُنصَرُونَ ١٢
লাইন উখরিজূ লা ইয়াখরুজূনা মা‘আহুম ওয়ালাইন কূতিলূ লা ইয়ানসুরূনাহুম ওয়ালাইন নাসারূহুম লাইউওয়াল্লুন্নাল আদবা-রা ছুম্মা লা ইউনসারূন
তারা বহিস্কৃত হলেও এরা তাদের সাথে বেরিয়ে যাবে না। তাদের উপর আক্রমণ করা হলেও এরা তাদেরকে কক্ষনো সাহায্য করবে না। আর এরা সাহায্য করলেও তারা (অর্থাৎ মুনাফিকরা) অবশ্য অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, অতঃপর তারা (অর্থাৎ কাফিররা) আর কোন সাহায্যই পাবে না।
لَأَنتُمْ أَشَدُّ رَهْبَةًۭ فِى صُدُورِهِم مِّنَ ٱللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌۭ لَّا يَفْقَهُونَ ١٣
লাআনতুম আশাদ্দু রাহবাতান ফী সুদূরিহিম মিনাল্লা-হ যা-লিকা বিআন্নাহুম কাওমুল লা ইয়াফকাহূন
তাদের অন্তরে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই বেশি প্রবল। এর কারণ এই যে, তারা এক বিবেক-বুদ্ধিহীন সম্প্রদায়।
لَا يُقَٰتِلُونَكُمْ جَمِيعًا إِلَّا فِى قُرًۭى مُّحَصَّنَةٍ أَوْ مِن وَرَآءِ جُدُرٍۭ ۚ بَأْسُهُم بَيْنَهُمْ شَدِيدٌۭ ۚ تَحْسَبُهُمْ جَمِيعًۭا وَقُلُوبُهُمْ شَتَّىٰ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌۭ لَّا يَعْقِلُونَ ١٤
লা ইউকা-তিলূনাকুম জামী‘আন ইল্লা ফী কুরাম মুহাস্সানাতিন আও মিন ওয়ারা-ই জুদুর বা’সুহুম বাইনাহুম শাদীদ তাহসাবুহুম জামী‘আঁ ওয়াকুলূবুহুম শাত্তা যা-লিকা বিআন্নাহুম কাওমুল লা ইয়া‘কিলূন
তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সমর্থ নয়, সুরক্ষিত জনপদে বা দেয়ালের আড়ালে অবস্থান ছাড়া। তাদের নিজেদের মধ্যেই আছে ভীষণ শত্রুতা। তুমি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে কর কিন্তু তাদের অন্তরগুলো ভিন্ন ভিন্ন। এর কারণ এই যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়।
كَمَثَلِ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ قَرِيبًۭا ۖ ذَاقُوا۟ وَبَالَ أَمْرِهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ١٥
কামাছালিল লাযীনা মিন কাবলিহিম কারীবান যা-কূ ওয়াবা-লা আমরিহিম ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম
এরা তাদের (অর্থাৎ ইয়াহূদী বানু কাইনুকার) মত যারা এদের পূর্বে নিকটবর্তী সময়েই তাদের কৃতকর্মের কুফল আস্বাদন করেছে। তাদের জন্য আছে মর্মান্তিক শাস্তি।
كَمَثَلِ ٱلشَّيْطَٰنِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَٰنِ ٱكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّى بَرِىٓءٌۭ مِّنكَ إِنِّىٓ أَخَافُ ٱللَّهَ رَبَّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٦
কামাছালিশ শাইতা-নি ইয কা-লা লিলইনসা-নিকফুর ফালাম্মা কাফারা কা-লা ইন্নী বারীউম মিনকা ইন্নী আখা-ফুল্লা-হা রাব্বাল ‘আ-লামীন
(তাদের মিত্ররা তাদেরকে প্রতারিত করেছে) শয়ত্বানের মত। যখন মানুষকে সে বলে- ‘কুফুরী কর’। অতঃপর মানুষ যখন কুফুরী করে তখন শয়ত্বান বলে- ‘তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’
فَكَانَ عَٰقِبَتَهُمَآ أَنَّهُمَا فِى ٱلنَّارِ خَٰلِدَيْنِ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ جَزَٰٓؤُا۟ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٧
ফাকা-না ‘আ-কিবাতাহুমা- আন-নাহুমা ফিন না-রি খা-লিদাইনি ফীহা ওয়াযা-লিকা জাযা-উয যা-লিমীন
কাজেই তাদের উভয়ের পরিণাম হবে এই যে, তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে, আর যালিমদের এটাই প্রতিফল।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌۭ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍۢ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ ١٨
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুত তাকুল্লা-হা ওয়ালতানযুর নাফসুম মা কাদ্দামাত লিগাদিঁ ওয়াত্তাকুল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা খাবীরুম বিমা তা‘মালূন
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেকেই চিন্তা করে দেখুক, আগামীকালের জন্য সে কী (পুণ্য কাজ) অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন।
وَلَا تَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ نَسُوا۟ ٱللَّهَ فَأَنسَىٰهُمْ أَنفُسَهُمْ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَٰسِقُونَ ١٩
ওয়ালা তাকূনূ কাল্লাযীনা নাসুল্লা-হা ফাআনসা-হুম আনফুসাহুম উলা-ইকা হুমুল ফা-সিকূন
তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহও তাদেরকে করেছেন আত্মভোলা। এরা পাপাচারী লোক।
لَا يَسْتَوِىٓ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ وَأَصْحَٰبُ ٱلْجَنَّةِ ۚ أَصْحَٰبُ ٱلْجَنَّةِ هُمُ ٱلْفَآئِزُونَ ٢٠
লা ইয়াসতাউঈ আসহা-বুন না-রি ওয়াআসহা-বুল জান্নাহ আসহা-বুল জান্নাতি হুমুল ফা-ইযূন
জাহান্নামের অধিবাসী আর জান্নাতের অধিবাসী সমান হতে পারে না, জান্নাতের অধিবাসীরাই সফল।
لَوْ أَنزَلْنَا هَٰذَا ٱلْقُرْءَانَ عَلَىٰ جَبَلٍۢ لَّرَأَيْتَهُۥ خَٰشِعًۭا مُّتَصَدِّعًۭا مِّنْ خَشْيَةِ ٱللَّهِ ۚ وَتِلْكَ ٱلْأَمْثَٰلُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ ٢١
লাও আনযালনা হা-যাল কুরআ-না ‘আলা জাবালিল লারাআইতাহূ খা-শি‘আম মুতাসাদ্দি‘আম মিন খাশইয়াতিল্লা-হ ওয়াতিলকাল আমছা-লু নাদরিবুহা লিন্না-সি লা‘আল্লাহুম ইয়াতাফাক্কারূন
আমি যদি এ কুরআনকে পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তাহলে তুমি আল্লাহর ভয়ে তাকে বিনীত ও বিদীর্ণ দেখতে। এ সব উদাহরণ আমি মানুষের জন্য বর্ণনা করি যাতে তারা (নিজেদের ব্যাপারে) চিন্তা-ভাবনা করে।
هُوَ ٱللَّهُ ٱلَّذِى لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَٰلِمُ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ ۖ هُوَ ٱلرَّحْمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ ٢٢
হুওয়াল্লা-হুল লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশ্শাহা-দাতি হুওয়ার রাহমা-নুর রাহীম
তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, অদৃশ্য ও দৃশের জ্ঞানের অধিকারী, পরম দয়াময়, পরম দয়ালু।
هُوَ ٱللَّهُ ٱلَّذِى لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْمَلِكُ ٱلْقُدُّوسُ ٱلسَّلَٰمُ ٱلْمُؤْمِنُ ٱلْمُهَيْمِنُ ٱلْعَزِيزُ ٱلْجَبَّارُ ٱلْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ ٢٣
হুওয়াল্লা-হুল লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল মালিকুল কুদ্দূসুস সালা-মুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আযীযুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বির সুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা ইউশরিকূন
তিনিই আল্লাহ যিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তিনিই বাদশাহ, অতি পবিত্র, পূর্ণ শান্তিময়, নিরাপত্তা দানকারী, প্রতাপশালী, পর্যবেক্ষক, মহা পরাক্রমশালী, অপ্রতিরোধ্য, প্রকৃত গর্বের অধিকারী। তারা যাকে (তাঁর) শরীক করে তাত্থেকে তিনি পবিত্র, মহান।
هُوَ ٱللَّهُ ٱلْخَٰلِقُ ٱلْبَارِئُ ٱلْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ ٱلْأَسْمَآءُ ٱلْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٢٤
হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুসাউইরু লাহুল আসমা-উল হুসনা ইউসাব্বিহু লাহূ মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম
তিনিই আল্লাহ সৃষ্টিকারী, উদ্ভাবনকারী, আকার আকৃতি প্রদানকারী। সমস্ত উত্তম নামের অধিকারী। আসমান ও যমীনে যা আছে সবই তাঁর গৌরব ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি প্রবল পরাক্রান্ত মহা প্রজ্ঞাবান।

الممتحنة
সূরা আল-মুমতাহিনা

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّخِذُوا۟ عَدُوِّى وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَآءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِم بِٱلْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُوا۟ بِمَا جَآءَكُم مِّنَ ٱلْحَقِّ يُخْرِجُونَ ٱلرَّسُولَ وَإِيَّاكُمْ ۙ أَن تُؤْمِنُوا۟ بِٱللَّهِ رَبِّكُمْ إِن كُنتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَٰدًۭا فِى سَبِيلِى وَٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِى ۚ تُسِرُّونَ إِلَيْهِم بِٱلْمَوَدَّةِ وَأَنَا۠ أَعْلَمُ بِمَآ أَخْفَيْتُمْ وَمَآ أَعْلَنتُمْ ۚ وَمَن يَفْعَلْهُ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ ١
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তাত্তাখিযূ ‘আদুউঈ ওয়া‘আদুওয়াকুম আওলিয়া-আ তুলকূনা ইলাইহিম বিলমাওয়াদ্দাতি ওয়াকাদ কাফারূ বিমা জা-আকুম মিনাল হাক্কি ইউখরিজূনার রাসূলা ওয়াইয়্যা-কুম আন তু’মিনূ বিল্লা-হি রাব্বিকুম ইন কুনতুম খারাজতুম জিহা-দান ফী সাবীলী ওয়াবতিগা-আ মারদা-তী তুসির্রূনা ইলাইহিম বিলমাওয়াদ্দাতি ওয়াআনা আ‘লামু বিমা- আখফাইতুম ওয়ামা- আ‘লানতুম ওয়ামান ইয়াফ‘আলহু মিনকুম ফাকাদ দাল্লা সাওয়া-আস সাবীল
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা তাদের কাছে বন্ধুত্বের খবর পাঠাও, অথচ যে সত্য তোমাদের কাছে এসেছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা রসূলকে আর তোমাদেরকে শুধু এ কারণে বের করে দিয়েছে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহয় বিশ্বাস কর। তোমরা যদি আমার সন্তুষ্টি কামনায় আমার পথে জিহাদে বের হয়ে থাক, তাহলে তোমরা কেন গোপনে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করছ? তোমরা যা গোপন কর আর তোমরা যা প্রকাশ কর, তা আমি খুব ভাল করেই জানি। তোমাদের মধ্যে যে তা করে সে সরল পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে গেছে।
إِن يَثْقَفُوكُمْ يَكُونُوا۟ لَكُمْ أَعْدَآءًۭ وَيَبْسُطُوٓا۟ إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ وَأَلْسِنَتَهُم بِٱلسُّوٓءِ وَوَدُّوا۟ لَوْ تَكْفُرُونَ ٢
ইন ইয়াছকাফূকুম ইয়াকূনূ লাকুম আ‘দা-আঁ ওয়ায়াবসুতূ ইলাইকুম আইদিয়াহুম ওয়াআলসিনাতাহুম বিস্সূই ওয়াওয়াদ্দূ লাও তাকফুরূন
তারা তোমাদেরকে জব্দ করতে পারলেই শত্রুর আচরণ করবে, আর তোমাদের অনিষ্ট করার জন্য তারা তাদের হাত ও মুখের ভাষা সম্প্রসারিত করবে আর তারা চাইবে যে, তোমরাও যেন কুফুরী কর।
لَن تَنفَعَكُمْ أَرْحَامُكُمْ وَلَآ أَوْلَٰدُكُمْ ۚ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ يَفْصِلُ بَيْنَكُمْ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌۭ ٣
লান তানফা‘আকুম আরহা-মুকুম ওয়ালা- আওলা-দুকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইয়াফসিলু বাইনাকুম ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা বাসীর
ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের আত্মীয়-স্বজন ও সন্তানাদি তোমাদের কোনই উপকারে আসবে না। (নিজ নিজ ‘আমালের ভিত্তিতে) আল্লাহ তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবেন; তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন।
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌۭ فِىٓ إِبْرَٰهِيمَ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ إِذْ قَالُوا۟ لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَءَٰٓؤُا۟ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ ٱلْعَدَٰوَةُ وَٱلْبَغْضَآءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَحْدَهُۥٓ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَٰهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَآ أَمْلِكُ لَكَ مِنَ ٱللَّهِ مِن شَىْءٍۢ ۖ رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ ٱلْمَصِيرُ ٤
কাদ কা-নাত লাকুম উসওয়াতুন হাসানাতুন ফী ইবরা-হীমা ওয়াল্লাযীনা মা‘আহূ ইয কা-লূ লিকাওমিহিম ইন্না বুরাআ-উ মিনকুম ওয়ামিম্মা তা‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি কাফারনা বিকুম ওয়াবাদা বাইনানা ওয়াবাইনাকুমুল ‘আদা-ওয়াতু ওয়ালবাগদা-উ আবাদান হাত্তা তু’মিনূ বিল্লা-হি ওয়াহদাহূ ইল্লা কাওলা ইবরা-হীমা লিআবীহি লাআসতাগফিরান্না লাকা ওয়ামা- আমলিকু লাকা মিনাল্লা-হি মিন শাইইর রাব্বানা ‘আলাইকা তাওয়াক্কালনা ওয়াইলাইকা আনাবনা ওয়াইলাইকাল মাসীর
ইবরাহীম ও তার সঙ্গী-সাথীদের মধ্যে তোমাদের জন্য আছে উত্তম আদর্শ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল- ‘তোমাদের সঙ্গে আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের ‘ইবাদাত কর তাদের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের আর তোমাদের মাঝে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ শুরু হয়ে গেছে যতক্ষণ তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান না আনবে। তবে ইবরাহীম যে তার পিতাকে বলেছিল- ‘আমি অবশ্য অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব আর আমি তোমার জন্য আল্লাহর কাছ থেকে কোন কিছু করারই অধিকার রাখি না’’- এটা একটা ব্যতিক্রম। (আর ইবরাহীম ও তার সঙ্গী সাথীরা প্রার্থনা করেছিল) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমারই উপর নির্ভর করছি, তোমারই অভিমুখী হচ্ছি, আর (সব কিছুর) প্রত্যাবর্তন তো তোমারই পানে।
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةًۭ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَٱغْفِرْ لَنَا رَبَّنَآ ۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٥
রাব্বানা লা তাজ‘আলনা ফিতনাতাল লিল্লাযীনা কাফারূ ওয়াগফির লানা রাব্বানা- ইন্নাকা আনতাল ‘আযীযুল হাকীম
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের পাত্র করো না, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর, তুমি মহা পরাক্রান্ত, মহা বিজ্ঞানী।
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيهِمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌۭ لِّمَن كَانَ يَرْجُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلْيَوْمَ ٱلْءَاخِرَ ۚ وَمَن يَتَوَلَّ فَإِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ ٦
লাকাদ কা-না লাকুম ফীহিম উসওয়াতুন হাসানাতুল লিমান কা-না ইয়ারজুল্লা-হা ওয়ালইয়াওমাল আ-খির ওয়ামান ইয়াতাওয়াল্লা ফাইন্নাল্লা-হা হুওয়াল গানিয়্যুল হামীদ
তোমরা যারা আল্লাহ (’র রহমত) ও শেষ দিবসের (সাফল্যের) প্রত্যাশী তাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে তাদের [অর্থাৎ ইবরাহীম (আঃ) তাঁর অনুসারীদের] মধ্যে। আর কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে (সে জেনে রাখুক) আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত।
۞ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَجْعَلَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ ٱلَّذِينَ عَادَيْتُم مِّنْهُم مَّوَدَّةًۭ ۚ وَٱللَّهُ قَدِيرٌۭ ۚ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ٧
‘আসাল্লা-হু আন ইয়াজ‘আলা বাইনাকুম ওয়াবাইনাল লাযীনা ‘আ-দাইতুম মিনহুম মাওয়াদ্দাহ ওয়াল্লা-হু কাদীর ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম
সম্ভবত আল্লাহ তোমাদের মধ্যে আর তাদের মধ্যেকার যাদেরকে তোমরা শত্রু বানিয়ে নিয়েছ তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দিবেন (তাদের মুসলিম হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে)। আল্লাহ বড়ই শক্তিমান, আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু।
لَّا يَنْهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمْ يُقَٰتِلُوكُمْ فِى ٱلدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوٓا۟ إِلَيْهِمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُقْسِطِينَ ٨
লা ইয়ানহা-কুমুল্লা-হু ‘আনিল লাযীনা লাম ইউকা-তিলূকুম ফিদ দীনি ওয়ালাম ইউখরিজূকুম মিন দিয়া-রিকুম আন তাবার্রূহুম ওয়াতুকসিতূ ইলাইহিম ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুকসিতীন
দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি, আর তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের ক’রে দেয়নি তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করতে আর ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেন নি। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।
إِنَّمَا يَنْهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ قَٰتَلُوكُمْ فِى ٱلدِّينِ وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمْ وَظَٰهَرُوا۟ عَلَىٰٓ إِخْرَاجِكُمْ أَن تَوَلَّوْهُمْ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُمْ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٩
ইন্নামা ইয়ানহা-কুমুল্লা-হু ‘আনিল লাযীনা কা-তালূকুম ফিদ দীনি ওয়াআখরাজূকুম মিন দিয়া-রিকুম ওয়াযা-হারূ ‘আলা- ইখরা-জিকুম আন তাওয়াল্লাওহুম ওয়ামান ইয়াতাওয়াল্লাহুম ফাউলা-ইকা হুমুয যা-লিমূন
আল্লাহ তোমাদেরকে কেবল তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন যারা তোমাদের সঙ্গে দীনের ব্যাপারে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে আর তোমাদেরকে বের করে দেয়ার ব্যাপারে সাহায্য করেছে। যারা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তারাই যালিম।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا جَآءَكُمُ ٱلْمُؤْمِنَٰتُ مُهَٰجِرَٰتٍۢ فَٱمْتَحِنُوهُنَّ ۖ ٱللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَٰنِهِنَّ ۖ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَٰتٍۢ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى ٱلْكُفَّارِ ۖ لَا هُنَّ حِلٌّۭ لَّهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ ۖ وَءَاتُوهُم مَّآ أَنفَقُوا۟ ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ أَن تَنكِحُوهُنَّ إِذَآ ءَاتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ ۚ وَلَا تُمْسِكُوا۟ بِعِصَمِ ٱلْكَوَافِرِ وَسْـَٔلُوا۟ مَآ أَنفَقْتُمْ وَلْيَسْـَٔلُوا۟ مَآ أَنفَقُوا۟ ۚ ذَٰلِكُمْ حُكْمُ ٱللَّهِ ۖ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ ۚ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ ١٠
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা জা-আকুমুল মু’মিনা-তু মুহা-জিরা-তিন ফামতাহিনূহুন্নাল্লা-হু আ‘লামু বিঈমা-নিহিন্না ফাইন ‘আলিমতুমূহুন্না মু’মিনা-তিন ফালা তারজি‘ঊহুন্না ইলাল কুফ্ফা-রি লা হুন্না হিল্লুল লাহুম ওয়ালা হুম ইয়াহিল্লূনা লাহুন্না ওয়াআ-তূহুম মা- আনফাকূ ওয়ালা জুনা-হা ‘আলাইকুম আন তানকিহূহুন্না ইযা- আ-তাইতুমূহুন্না উজূরাহুন্ন ওয়ালা তুমসিকূ বি‘ইসামিল কাওয়া-ফিরি ওয়াসআলূ মা- আনফাকতুম ওয়ালইয়াসআলূ মা- আনফাকূ যা-লিকুম হুকমুল্লা-হি ইয়াহকুমু বাইনাকুম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম
হে মু’মিনগণ! ঈমানদার নারীরা যখন তোমাদের কাছে হিজরাত করে আসে তখন তাদেরকে পরখ করে দেখ (তারা সত্যিই ঈমান এনেছে কি না)। তাদের ঈমান সম্বন্ধে আল্লাহ খুব ভালভাবেই জানেন। অতঃপর তোমরা যদি জানতে পার যে, তারা মু’মিনা, তাহলে তাদেরকে কাফিরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। মু’মিনা নারীরা কাফিরদের জন্য হালাল নয়, আর কাফিররাও মু’মিনা নারীদের জন্য হালাল নয়। কাফির স্বামীরা (মোহর স্বরূপ) যা তাদের জন্য খরচ করেছিল তা কাফিরদেরকে ফেরত দিয়ে দাও। অতঃপর তোমরা তাদেরকে মোহর প্রদান করতঃ বিয়ে করলে তাতে তোমাদের কোন অপরাধ হবে না। তোমরা কাফির নারীদেরকে (বিবাহের) বন্ধনে আটকে রেখ না। তোমরা (তাদের মোহর স্বরূপ) যা ব্যয় করেছ তা ফেরত চেয়ে নাও, আর কাফিররাও ফেরত চেয়ে নিবে যা তারা ব্যয় করেছে (তাদের মু’মিনা স্ত্রীদের মোহর স্বরূপ)। এটা আল্লাহর নির্দেশ। তিনি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেন। আল্লাহ সর্ব জ্ঞানের অধিকারী, মহা বিজ্ঞানী।
وَإِن فَاتَكُمْ شَىْءٌۭ مِّنْ أَزْوَٰجِكُمْ إِلَى ٱلْكُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ فَـَٔاتُوا۟ ٱلَّذِينَ ذَهَبَتْ أَزْوَٰجُهُم مِّثْلَ مَآ أَنفَقُوا۟ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ٱلَّذِىٓ أَنتُم بِهِۦ مُؤْمِنُونَ ١١
ওয়াইন ফা-তাকুম শাইউম মিন আযওয়া-জিকুম ইলাল কুফ্ফা-রি ফা‘আ-কাবতুম ফাআ-তুল লাযীনা যাহাবাত আযওয়া-জুহুম মিছলা মা- আনফাকূ ওয়াত্তাকুল্লা-হাল লাযী আনতুম বিহী মু’মিনূন
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে কেউ যদি (কাফির হওয়ার কারণে তোমাদের) হাতছাড়া হয়ে কাফিরদের নিকট থেকে যায় এবং (তাদের কোন স্ত্রীলোক তোমাদের কাছে চলে আসার ফলে) তোমাদের যদি সুযোগ আসে, তখন (তোমাদের মধ্যে) যাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদেরকে তারা (তাদের স্ত্রীদের মোহর স্বরূপ) যা ব্যয় করেছে তার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যার প্রতি তোমরা ঈমান এনেছ।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ إِذَا جَآءَكَ ٱلْمُؤْمِنَٰتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَىٰٓ أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِٱللَّهِ شَيْـًۭٔا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَٰدَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَٰنٍۢ يَفْتَرِينَهُۥ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِى مَعْرُوفٍۢ ۙ فَبَايِعْهُنَّ وَٱسْتَغْفِرْ لَهُنَّ ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١٢
ইয়া-আইয়্যুহান নাবিয়্যু ইযা জা-আকাল মু’মিনা-তু ইউবা-য়ি‘নাকা ‘আলা- আল লা ইউশরিকনা বিল্লা-হি শাইআঁ ওয়ালা ইয়াসরিকনা ওয়ালা ইয়াযনীনা ওয়ালা ইয়াকতুলনা আওলা-দাহুন্না ওয়ালা ইয়া’তীনা বিবুহতা-নিঁ ইয়াফতারীনাহূ বাইনা আইদীহিন্না ওয়াআরজুলিহিন্না ওয়ালা ইয়া‘সীনাকা ফী মা‘রূফিন ফাবা-য়ি‘হুন্না ওয়াসতাগফির লাহুন্নাল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
হে নবী! যখন মু’মিনা নারীরা তোমার কাছে এসে বাই‘আত করে যে, তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, নিজেদের সন্তান হত্যা করবে না, জেনে শুনে কোন অপবাদ রচনা ক’রে রটাবে না এবং কোন ভাল কাজে তোমার অবাধ্যতা করবে না- তাহলে তুমি তাদের বাই‘আত (অর্থাৎ তোমার প্রতি আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ কর এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর; আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَوَلَّوْا۟ قَوْمًا غَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِمْ قَدْ يَئِسُوا۟ مِنَ ٱلْءَاخِرَةِ كَمَا يَئِسَ ٱلْكُفَّارُ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلْقُبُورِ ١٣
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তাতাওয়াল্লাও কাওমান গাদিবাল্লা-হু ‘আলাইহিম কাদ ইয়াইসূ মিনাল আ-খিরাতি কামা ইয়াইসাল কুফ্ফা-রু মিন আসহা-বিল কুবূর
হে মু’মিনগণ! তোমরা এমন সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না আল্লাহ যাদের প্রতি রাগান্বিত। তারা পরকাল সম্পর্কে তেমনি নিরাশ যেমন কবরবাসী কাফিররা নিরাশ (কারণ তারা পরকালকে অবিশ্বাস করার কারণে তার জন্য কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি।)

الصف
সূরা আস-সাফ

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۖ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ١
সাব্বাহা লিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদি ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম
আসমানে যা কিছু আছে আর যমীনে যা কিছু আছে (সবই) আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করে; তিনি মহাপরাক্রান্ত মহাবিজ্ঞানী।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ ٢
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লিমা তাকূলূনা মা লা তাফ‘আলূন
হে মু’মিনগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল যা তোমরা কর না।
كَبُرَ مَقْتًا عِندَ ٱللَّهِ أَن تَقُولُوا۟ مَا لَا تَفْعَلُونَ ٣
কাবুরা মাকতান ‘ইনদাল্লা-হি আন তাকূলূ মা লা তাফ‘আলূন
আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ব্যাপার যে, তোমরা বলবে এমন কথা যা তোমরা কর না।
إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلَّذِينَ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِهِۦ صَفًّۭا كَأَنَّهُم بُنْيَٰنٌۭ مَّرْصُوصٌۭ ٤
ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল লাযীনা ইউকা-তিলূনা ফী সাবীলিহী সাফ্ফান কাআন্নাহুম বুনইয়া-নুম মারসূস
আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে- যেন তারা সীসা-গলানো প্রাচীর।
وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦ يَٰقَوْمِ لِمَ تُؤْذُونَنِى وَقَد تَّعْلَمُونَ أَنِّى رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيْكُمْ ۖ فَلَمَّا زَاغُوٓا۟ أَزَاغَ ٱللَّهُ قُلُوبَهُمْ ۚ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْفَٰسِقِينَ ٥
ওয়াইয কা-লা মূসা লিকাওমিহী ইয়া-কাওমি লিমা তু’যূনানী ওয়াকাত তা‘লামূনা আন-নী রাসূলুল্লা-হি ইলাইকুম ফালাম্মা যা-গূ আযা-গাল্লা-হু কুলূবাহুম ওয়াল্লা-হু লা ইয়াহদিল কাওমাল ফা-সিকীন
স্মরণ কর, যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে কেন কষ্ট দিচ্ছ, তোমরা তো জানই যে, আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রসূল!’ অতঃপর তারা যখন বাঁকা পথ ধরল, আল্লাহ তাদের হৃদয়কে বাঁকা করে দিলেন। আল্লাহ পাপাচারীদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
وَإِذْ قَالَ عِيسَى ٱبْنُ مَرْيَمَ يَٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ إِنِّى رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيْكُم مُّصَدِّقًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَىَّ مِنَ ٱلتَّوْرَىٰةِ وَمُبَشِّرًۢا بِرَسُولٍۢ يَأْتِى مِنۢ بَعْدِى ٱسْمُهُۥٓ أَحْمَدُ ۖ فَلَمَّا جَآءَهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ قَالُوا۟ هَٰذَا سِحْرٌۭ مُّبِينٌۭ ٦
ওয়াইয কা-লা ‘ঈসাবনু মারইয়ামা ইয়া-বানী ইসরা-ঈলা ইন্নী রাসূলুল্লা-হি ইলাইকুম মুসাদ্দিকাল লিমা বাইনা ইয়াদাইয়্যা মিনাত তাওরা-তি ওয়ামুবাশ্শিরাম বিরাসূলিঁ ইয়া’তী মিম বা‘দিসমুহূ আহমাদু ফালাম্মা জা-আহুম বিলবাইয়্যিনা-তি কা-লূ হা-যা সিহরুম মুবীন
স্মরণ কর, যখন মারইয়ামের পুত্র ‘ঈসা বলেছিল, ‘হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর রসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি একজন রসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমাদ।’ অতঃপর সে [অর্থাৎ ‘ঈসা (আঃ) যাঁর সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়ে ছিলেন সেই নবী] যখন তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে আসল, তখন তারা বলল, ‘এটা তো স্পষ্ট যাদু।’
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ وَهُوَ يُدْعَىٰٓ إِلَى ٱلْإِسْلَٰمِ ۚ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ ٧
ওয়ামান আযলামু মিম্মানিফতারা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ওয়াহুওয়া ইউদ‘আ- ইলাল ইসলা-ম ওয়াল্লা-হু লা ইয়াহদিল কাওমায যা-লিমীন
তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যে রচনা করে- অথচ তাকে ইসলামের পথ অবলম্বন করার জন্য আহবান জানানো হয়। (এ রকম) যালিম সম্প্রদায়কে আল্লাহ সঠিক পথে চালিত করেন না।
يُرِيدُونَ لِيُطْفِـُٔوا۟ نُورَ ٱللَّهِ بِأَفْوَٰهِهِمْ وَٱللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْكَٰفِرُونَ ٨
ইউরীদূনা লিইউতফিঊ নূরাল্লা-হি বিআফওয়া-হিহিম ওয়াল্লা-হু মুতিম্মু নূরিহী ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন
তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পরিপূর্ণ করবেনই যদিও কাফিররা (তা) অপছন্দ করে।
هُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلْهُدَىٰ وَدِينِ ٱلْحَقِّ لِيُظْهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُشْرِكُونَ ٩
হুওয়াল লাযী আরসালা রাসূলাহূ বিলহুদা ওয়াদীনিল হাক্কি লিইউযহিরাহূ ‘আলাদ দীনি কুল্লিহী ওয়ালাও কারিহাল মুশরিকূন
তিনিই তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন তাকে সকল দীনের উপর বিজয়ী করার জন্য- যদিও মুশরিকরা (তা) অপছন্দ করে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ تِجَٰرَةٍۢ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍۢ ١٠
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ হাল আদুল্লুকুম ‘আলা তিজা-রাতিন তুনজীকুম মিন ‘আযা-বিন আলীম
হে মু’মিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসায়ের সন্ধান দেব যা তোমাদেরকে মর্মান্তিক ‘আযাব থেকে রক্ষা করবে?
تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَتُجَٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ بِأَمْوَٰلِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌۭ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ١١
তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ওয়াতুজা-হিদূনা ফী সাবীলিল্লা-হি বিআমওয়া-লিকুম ওয়াআনফুসিকুম যা-লিকুম খাইরুল লাকুম ইন কুনতুম তা‘লামূন
(তা এই যে) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনো আর তোমরা তোমাদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ কর; এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!
يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ وَمَسَٰكِنَ طَيِّبَةًۭ فِى جَنَّٰتِ عَدْنٍۢ ۚ ذَٰلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ ١٢
ইয়াগফির লাকুম যুনূবাকুম ওয়াইউদখিলকুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ওয়ামাসা-কিনা তাইয়্যিবাতান ফী জান্না-তি ‘আদন যা-লিকাল ফাওযুল ‘আযীম
(তোমরা যদি আল্লাহর সন্ধান দেয়া ব্যবসা কর তাহলে) তিনি তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেবেন আর তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। আর চিরস্থায়ী আবাসস্থল জান্নাতে অতি উত্তম ঘর তোমাদেরকে দান করবেন। এটাই বিরাট সাফল্য।
وَأُخْرَىٰ تُحِبُّونَهَا ۖ نَصْرٌۭ مِّنَ ٱللَّهِ وَفَتْحٌۭ قَرِيبٌۭ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٣
ওয়াউখরা তুহিব্বূনাহা নাসরুম মিনাল্লা-হি ওয়াফাতহুন কারীব ওয়াবাশ্শিরিল মু’মিনীন
আর অন্য আরেকটিও (তিনি তোমাদেরকে দিবেন) যা তোমরা পছন্দ কর (আর তা হল) আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়। (হে নবী!) ঈমানদার লোকেদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُونُوٓا۟ أَنصَارَ ٱللَّهِ كَمَا قَالَ عِيسَى ٱبْنُ مَرْيَمَ لِلْحَوَارِيِّۦنَ مَنْ أَنصَارِىٓ إِلَى ٱللَّهِ ۖ قَالَ ٱلْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنصَارُ ٱللَّهِ ۖ فَـَٔامَنَت طَّآئِفَةٌۭ مِّنۢ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ وَكَفَرَت طَّآئِفَةٌۭ ۖ فَأَيَّدْنَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ عَلَىٰ عَدُوِّهِمْ فَأَصْبَحُوا۟ ظَٰهِرِينَ ١٤
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ কূনূ আনসা-রাল্লা-হি কামা কা-লা ‘ঈসাবনু মারইয়ামা লিলহাওয়া-রিয়্যীনা মান আনসা-রী ইলাল্লা-হি কা-লাল হাওয়া-রিয়্যূনা নাহনু আনসা-রুল্লা-হি ফাআ-মানাত তা-ইফাতুম মিম বানী ইসরা-ঈলা ওয়াকাফারাত তা-ইফাতুন ফাআইয়্যাদনাল লাযীনা আ-মানূ ‘আলা ‘আদুউইহিম ফাআসবাহূ যা-হিরীন
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও, যেমন মারইয়ামের পুত্র ‘ঈসা হাওয়ারীদেরকে বলেছিল- ‘আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে?’ হাওয়ারীরা উত্তরে বলেছিল- ‘আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী (হব)।’ অতঃপর বানী ইসরাঈলের একদল ঈমান আনল, আরেক দল প্রত্যাখ্যান করল। তখন যারা ঈমান আনল তাদেরকে আমি তাদের শত্রুদের উপর শক্তিশালী করলাম। ফলে তারা বিজয়ী হল।

الجمعة
সূরা আল-জুমুআ

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ٱلْمَلِكِ ٱلْقُدُّوسِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَكِيمِ ١
ইউসাব্বিহু লিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদিল মালিকিল কুদ্দূসিল ‘আযীযিল হাকীম
যা কিছু আসমানে আছে আর যা কিছু যমীনে আছে সব কিছুই প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করে আল্লাহর যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, অতি পবিত্র, মহাপরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞানী।
هُوَ ٱلَّذِى بَعَثَ فِى ٱلْأُمِّيِّۦنَ رَسُولًۭا مِّنْهُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا۟ مِن قَبْلُ لَفِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ٢
হুওয়াল লাযী বা‘আছা ফিল উম্মিয়্যীনা রাসূলাম মিনহুম ইয়াতলূ ‘আলাইহিম আ-য়া-তিহী ওয়াইউযাক্কীহিম ওয়াইউ‘আল্লিমুহুমুল কিতা-বা ওয়ালহিকমাতা ওয়াইন কা-নূ মিন কাবলু লাফী দালা-লিম মুবীন
তিনিই নিরক্ষরদের মাঝে পাঠিয়েছেন তাঁর রসূলকে তাদেরই মধ্য হতে, যে তাদের কাছে আল্লাহর আয়াত পাঠ করে, তাদেরকে পবিত্র করে, আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয় অথচ ইতোপূর্বে তারা ছিল স্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত।
وَءَاخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا۟ بِهِمْ ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٣
ওয়াআ-খারীনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকূ বিহিম ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম
আর (এই রসূলকে পাঠানো হয়েছে) তাদের অন্যান্যদের জন্যও যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি (কিন্তু তারা ভবিষ্যতে আসবে)। আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞানী।
ذَٰلِكَ فَضْلُ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظِيمِ ٤
যা-লিকা ফাদলুল্লা-হি ইউ’তীহি মান ইয়াশা-আ ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আযীম
ওটা আল্লাহর অনুগ্রহ যা তিনি যাকে ইচ্ছে দান করেন; আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।
مَثَلُ ٱلَّذِينَ حُمِّلُوا۟ ٱلتَّوْرَىٰةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ ٱلْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًۢا ۚ بِئْسَ مَثَلُ ٱلْقَوْمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ ۚ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ ٥
মাছালুল লাযীনা হুম্মিলুত তাওরা-তা ছুম্মা লাম ইয়াহমিলূহা কামাছালিল হিমা-রি ইয়াহমিলু আসফা-রা বি’সা মাছালুল কাওমিল লাযীনা কায্যাবূ বিআ-য়া-তিল্লা-হ ওয়াল্লা-হু লা ইয়াহদিল কাওমায যা-লিমীন
যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তা তারা বহন করেনি (অর্থাৎ তারা তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেনি) তাদের দৃষ্টান্ত হল গাধার মত, যে বহু কিতাবের বোঝা বহন করে (কিন্তু তা বুঝে না)। যে সম্প্রদায় আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে, তাদের দৃষ্টান্ত কতইনা নিকৃষ্ট! যালিম সম্প্রদায়কে আল্লাহ সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
قُلْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ هَادُوٓا۟ إِن زَعَمْتُمْ أَنَّكُمْ أَوْلِيَآءُ لِلَّهِ مِن دُونِ ٱلنَّاسِ فَتَمَنَّوُا۟ ٱلْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ٦
কুল ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা হা-দূ ইন যা‘আমতুম আন-নাকুম আওলিয়া-উ লিল্লা-হি মিন দূনিন না-সি ফাতামান্নাউল মাওতা ইন কুনতুম সা-দিকীন
বল- ‘হে ইয়াহূদী হয়ে যাওয়া লোকেরা! তোমরা যদি মনে কর যে, অন্য সব লোককে বাদ দিয়ে কেবল তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।
وَلَا يَتَمَنَّوْنَهُۥٓ أَبَدًۢا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ۚ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِٱلظَّٰلِمِينَ ٧
ওয়ালা ইয়াতামান্নাওনাহূ আবাদাম বিমা কাদ্দামাত আইদীহিম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিয্যা-লিমীন
কিন্তু তাদের হাত যে সব (কৃতকর্ম) আগে পাঠিয়েছে, সে কারণে তারা কক্ষনো মৃত্যুর কামনা করবে না। আর আল্লাহ যালিমদেরকে খুব ভাল করেই জানেন।
قُلْ إِنَّ ٱلْمَوْتَ ٱلَّذِى تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُۥ مُلَٰقِيكُمْ ۖ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَٰلِمِ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٨
কুল ইন্নাল মাওতাল লাযী তাফির্রূনা মিনহু ফাইন্নাহূ মুলা-কীকুম ছুম্মা তুরাদ্দূনা ইলা ‘আ-লিমিল গাইবি ওয়াশ্শাহা-দাতি ফাইউনাব্বিউকুম বিমা কুনতুম তা‘মালূন
বল- ‘তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালাচ্ছ তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। অতঃপর তোমাদেরকে দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী (আল্লাহ)’র নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে; অতঃপর তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে যা তোমরা করতে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا نُودِىَ لِلصَّلَوٰةِ مِن يَوْمِ ٱلْجُمُعَةِ فَٱسْعَوْا۟ إِلَىٰ ذِكْرِ ٱللَّهِ وَذَرُوا۟ ٱلْبَيْعَ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌۭ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা নূদিয়া লিস্সালা-তি মিন ইয়াওমিল জুমু‘আতি ফাস‘আও ইলা যিকরিল্লা-হি ওয়াযারুল বাই‘ যা-লিকুম খাইরুল লাকুম ইন কুনতুম তা‘লামূন
হে মু’মিনগণ! জুমু‘আহর দিনে যখন নামাযের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে শীঘ্র ধাবিত হও, ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!
فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَٱبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِ ٱللَّهِ وَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًۭا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ١٠
ফাইযা কুদিয়াতিস সালা-তু ফানতাশিরূ ফিল আরদি ওয়াবতাগূ মিন ফাদলিল্লা-হি ওয়াযকুরুল্লা-হা কাছীরাল লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন
অতঃপর যখন নামায সমাপ্ত হয়, তখন যমীনে ছড়িয়ে পড়, আর আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করতে থাক- যাতে তোমরা সাফল্য লাভ করতে পার।
وَإِذَا رَأَوْا۟ تِجَٰرَةً أَوْ لَهْوًا ٱنفَضُّوٓا۟ إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَآئِمًۭا ۚ قُلْ مَا عِندَ ٱللَّهِ خَيْرٌۭ مِّنَ ٱللَّهْوِ وَمِنَ ٱلتِّجَٰرَةِ ۚ وَٱللَّهُ خَيْرُ ٱلرَّٰزِقِينَ ١١
ওয়াইযা রাআও তিজা-রাতান আও লাহওয়ানিনফাদ্দূ ইলাইহা ওয়াতারাকূকা কা-ইমা কুল মা ‘ইনদাল্লা-হি খাইরুম মিনাল্লা-হউই ওয়ামিনাত তিজা-রাহ ওয়াল্লা-হু খাইরুর রা-যিকীন
তারা যখন ব্যবসায় অথবা ক্রীড়া কৌতুক দেখে তখন তারা সেদিকে ছুটে যায় আর তোমাকে রেখে যায় দাঁড়ানো অবস্থায়। বল- ‘আল্লাহর কাছে যা আছে তা ক্রীড়া-কৌতুক ও ব্যবসার চেয়ে উত্তম।’ আর আল্লাহ সর্বাপেক্ষা উত্তম রিযকদাতা।

المنافقون
সূরা আল-মুনাফিকূন

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
إِذَا جَآءَكَ ٱلْمُنَٰفِقُونَ قَالُوا۟ نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ ٱللَّهِ ۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُۥ وَٱللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ لَكَٰذِبُونَ ١
ইযা জা-আকাল মুনা-ফিকূনা কা-লূ নাশহাদু ইন্নাকা লারাসূলুল্লা-হ ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামু ইন্নাকা লারাসূলুহূ ওয়াল্লা-হু ইয়াশহাদু ইন্নাল মুনা-ফিকীনা লাকা-যিবূন
মুনাফিকরা যখন তোমার কাছে আসে তখন তারা বলে- ‘আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রসূল।’ আল্লাহ জানেন, অবশ্যই তুমি তাঁর রসূল আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যেবাদী।
ٱتَّخَذُوٓا۟ أَيْمَٰنَهُمْ جُنَّةًۭ فَصَدُّوا۟ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ ۚ إِنَّهُمْ سَآءَ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ٢
ইত্তাখাযূ আইমা-নাহুম জুন্নাতান ফাসাদ্দূ ‘আন সাবীলিল্লা-হ ইন্নাহুম সা-আ মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
তারা তাদের শপথগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আর এ উপায়ে তারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করে। তারা যা করে তা কতই না মন্দ!
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ ءَامَنُوا۟ ثُمَّ كَفَرُوا۟ فَطُبِعَ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ ٣
যা-লিকা বিআন্নাহুম আ-মানূ ছুম্মা কাফারূ ফাতুবি‘আ ‘আলা কুলূবিহিম ফাহুম লা ইয়াফকাহূন
তার কারণ এই যে, তারা ঈমান আনে, অতঃপর কুফুরী করে। এজন্য তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। যার ফলে তারা কিছুই বুঝে না
۞ وَإِذَا رَأَيْتَهُمْ تُعْجِبُكَ أَجْسَامُهُمْ ۖ وَإِن يَقُولُوا۟ تَسْمَعْ لِقَوْلِهِمْ ۖ كَأَنَّهُمْ خُشُبٌۭ مُّسَنَّدَةٌۭ ۖ يَحْسَبُونَ كُلَّ صَيْحَةٍ عَلَيْهِمْ ۚ هُمُ ٱلْعَدُوُّ فَٱحْذَرْهُمْ ۚ قَٰتَلَهُمُ ٱللَّهُ ۖ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ ٤
ওয়াইযা রাআইতাহুম তু‘জিবুকা আজসা-মুহুম ওয়াইন ইয়াকূলূ তাসমা‘ লিকাওলিহিম কাআন্নাহুম খুশুবুম মুসান্নাদাতুঁ ইয়াহসাবূনা কুল্লা সাইহাতিন ‘আলাইহিম হুমুল ‘আদুউ ফাহযারহুম কা-তালাহুমুল্লা-হু আন-না ইউ’ফাকূন
তুমি যখন তাদের দিকে তাকাও তখন তাদের শারীরিক গঠন তোমাকে চমৎকৃত করে। আর যখন তারা কথা বলে তখন তুমি তাদের কথা আগ্রহ ভরে শুন, অথচ তারা দেয়ালে ঠেস দেয়া কাঠের মত (দেখন- সুরত, কিন্ত কার্যক্ষেত্রে কিছুই না)। কোন শোরগোল হলেই তারা সেটাকে নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে (কারণ তাদের অপরাধী মন সব সময়ে শঙ্কিত থাকে- এই বুঝি তাদের কুকীর্তি ফাঁস হয়ে গেল)। এরাই শত্রু, কাজেই তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাক। এদের উপর আছে আল্লাহর গযব, তাদেরকে কীভাবে (সত্য পথ থেকে) ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে!
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا۟ يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُولُ ٱللَّهِ لَوَّوْا۟ رُءُوسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّونَ وَهُم مُّسْتَكْبِرُونَ ٥
ওয়াইযা কীলা লাহুম তা‘আ-লাও ইয়াসতাগফির লাকুম রাসূলুল্লা-হি লাওয়াও রুঊসাহুম ওয়ারাআইতাহুম ইয়াসুদ্দূনা ওয়াহুম মুসতাকবিরূন
তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘এসো, আল্লাহর রসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন তারা মাথা নেড়ে অস্বীকৃতি জানায়, তখন তুমি দেখতে পাও তারা সদম্ভে তাদের মুখ ফিরিয়ে নেয়।
سَوَآءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَن يَغْفِرَ ٱللَّهُ لَهُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْفَٰسِقِينَ ٦
সাওয়া-উন ‘আলাইহিম আসতাগফারতা লাহুম আম লাম তাসতাগফির লাহুম লান ইয়াগফিরাল্লা-হু লাহুম ইন্নাল্লা-হা লা ইয়াহদিল কাওমাল ফা-সিকীন
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর, উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ তাদেরকে কক্ষনো ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ পাপাচারী জাতিকে কক্ষনো সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
هُمُ ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ لَا تُنفِقُوا۟ عَلَىٰ مَنْ عِندَ رَسُولِ ٱللَّهِ حَتَّىٰ يَنفَضُّوا۟ ۗ وَلِلَّهِ خَزَآئِنُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَلَٰكِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ لَا يَفْقَهُونَ ٧
হুমুল লাযীনা ইয়াকূলূনা লা তুনফিকূ ‘আলা মান ‘ইনদা রাসূলিল্লা-হি হাত্তা ইয়ানফাদ্দূ ওয়ালিল্লা-হি খাযা-ইনুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ালা-কিন্নাল মুনা-ফিকীনা লা ইয়াফকাহূন
তারা বলে- ‘রসূলের সঙ্গী সাথীদের জন্য অর্থ ব্যয় করো না, শেষে তারা এমনিতেই সরে পড়বে।’ আসমান ও যমীনের ধন ভান্ডার তো আল্লাহরই, কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।
يَقُولُونَ لَئِن رَّجَعْنَآ إِلَى ٱلْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ ٱلْأَعَزُّ مِنْهَا ٱلْأَذَلَّ ۚ وَلِلَّهِ ٱلْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِۦ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَلَٰكِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ لَا يَعْلَمُونَ ٨
ইয়াকূলূনা লাইর রাজা‘না- ইলাল মাদীনাতি লাইউখরিজান্নাল আ‘আয্যু মিনহাল আযাল্ল ওয়ালিল্লা-হিল ‘ইয্যাতু ওয়ালিরাসূলিহী ওয়ালিলমু’মিনীনা ওয়ালা-কিন্নাল মুনা-ফিকীনা লা ইয়া‘লামূন
তারা বলে- ‘আমরা যদি মাদীনায় প্রত্যাবর্তন করি, তাহলে সম্মানীরা অবশ্য অবশ্যই হীনদেরকে সেখানে থেকে বহিষ্কার করবে।’ কিন্তু সমস্ত মান মর্যাদা তো আল্লাহর, তাঁর রসূলের এবং মু’মিনদের; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَٰلُكُمْ وَلَآ أَوْلَٰدُكُمْ عَن ذِكْرِ ٱللَّهِ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ ٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তুলহিকুম আমওয়া-লুকুম ওয়ালা- আওলা-দুকুম ‘আন যিকরিল্লা-হ ওয়ামান ইয়াফ‘আল যা-লিকা ফাউলা-ইকা হুমুল খা-সিরূন
হে মু’মিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ আর তোমাদের সন্তানাদি তোমাদেরকে যেন আল্লাহর স্মরণ হতে গাফিল করে না দেয়। যারা এমন করবে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
وَأَنفِقُوا۟ مِن مَّا رَزَقْنَٰكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ أَحَدَكُمُ ٱلْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَآ أَخَّرْتَنِىٓ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ قَرِيبٍۢ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُن مِّنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١٠
ওয়াআনফিকূ মিম মা রাযাকনা-কুম মিন কাবলি আন ইয়া’তিয়া আহাদাকুমুল মাওতু ফায়াকূলা রাব্বি লাওলা- আখ-খারতানী ইলা- আজালিন কারীবিন ফাআস্সাদ্দাকা ওয়াআকুম মিনাস সা-লিহীন
যে রিযক আমি তোমাদেরকে দিয়েছি তাত্থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। নচেৎ (মৃত্যু এসে গেলে) সে বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে আরো কিছুকালের অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদাক্বাহ করতাম আর সৎকর্মশীলদের মধ্যে শামিল হয়ে যেতাম।’
وَلَن يُؤَخِّرَ ٱللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَآءَ أَجَلُهَا ۚ وَٱللَّهُ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ ١١
ওয়ালান ইউআখ্খিরাল্লা-হু নাফসান ইযা জা-আ আজালুহা ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা তা‘মালূন
আল্লাহ কাউকে কক্ষনো অবকাশ দেন না যখন তার নির্ধারিত সময় এসে যায়। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ পুরোপুরি খবর রাখেন।

التغابن
সূরা আত-তাগাবুন

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۖ لَهُ ٱلْمُلْكُ وَلَهُ ٱلْحَمْدُ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌ ١
ইউসাব্বিহু লিল্লা-হি মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদি লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
যা কিছু আসমানে আছে আর যা কিছু যমীনে আছে সবই আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করছে। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ فَمِنكُمْ كَافِرٌۭ وَمِنكُم مُّؤْمِنٌۭ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ٢
হুওয়াল লাযী খালাকাকুম ফামিনকুম কা-ফিরুঁ ওয়ামিনকুম মু’মিন ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা বাসীর
তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ কাফির, কেউ মু’মিন; তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন।
خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِٱلْحَقِّ وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ ۖ وَإِلَيْهِ ٱلْمَصِيرُ ٣
খালাকাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা বিলহাক্কি ওয়াসাওয়ারাকুম ফাআহসানা সুওয়ারাকুম ওয়াইলাইহিল মাসীর
তিনি (বিশেষ উদ্দেশ্যে) সত্যিকারভাবে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দিয়েছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন আর (সব্বাইকে) ফিরে যেতে হবে তাঁরই দিকে।
يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ ۚ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ ٤
ইয়া‘লামু মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ায়া‘লামু মা তুসির্রূনা ওয়ামা তু‘লিনূন ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিযা-তিস সুদূর
তিনি জানেন যা কিছু আসমান ও যমীনে আছে, আর তিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর আর প্রকাশ কর। অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে তিনি পূর্ণরূপে অবগত।
أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَبَؤُا۟ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن قَبْلُ فَذَاقُوا۟ وَبَالَ أَمْرِهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ٥
আলাম ইয়া’তিকুম নাবাউল লাযীনা কাফারূ মিন কাবলু ফাযা-কূ ওয়াবা-লা আমরিহিম ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম
ইতোপূর্বে যারা কুফরী করেছিল তাদের খবর কি তোমার কাছে পৌঁছেছে? তারা তাদের মন্দ কর্মের ফল আস্বাদন করেছে, আর তাদের জন্য আছে মর্মান্তিক ‘আযাব।
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُۥ كَانَت تَّأْتِيهِمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ فَقَالُوٓا۟ أَبَشَرٌۭ يَهْدُونَنَا فَكَفَرُوا۟ وَتَوَلَّوا۟ ۚ وَّٱسْتَغْنَى ٱللَّهُ ۚ وَٱللَّهُ غَنِىٌّ حَمِيدٌۭ ٦
যা-লিকা বিআন্নাহূ কা-নাত তা’তীহিম রুসুলুহুম বিলবাইয়্যিনা-তি ফাকা-লূ আবাশারুঁ ইয়াহদূনানা ফাকাফারূ ওয়াতাওয়াল্লাও ওয়াসতাগনাল্লা-হ ওয়াল্লা-হু গানিয়্যুন হামীদ
এর কারণ এই যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল, তখন তারা বলেছিল, ‘(আমাদের মতই) মানুষ কি আমাদেরকে সঠিক পথ দেখাবে?’ কাজেই তারা অস্বীকার করল আর মুখ ফিরিয়ে নিল। তখন আল্লাহও তাদের ব্যাপারে বেপরোয়া হয়ে গেলেন, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত।
زَعَمَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَن لَّن يُبْعَثُوا۟ ۚ قُلْ بَلَىٰ وَرَبِّى لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ ۚ وَذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٌۭ ٧
যা‘আমাল লাযীনা কাফারূ আল লান ইউব‘আছূ কুল বালা ওয়ারাব্বী লাতুব‘আছুন্না ছুম্মা লাতুনাব্বাউন্না বিমা ‘আমিলতুম ওয়াযা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াসীর
কাফিররা ধারণা করে যে, তাদেরকে কক্ষনো আবার জীবিত করে উঠানো হবে না। বল, নিশ্চয়ই (উঠানো) হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই আবার জীবিত করে উঠানো হবে, অতঃপর তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই জানিয়ে দেয়া হবে তোমরা (দুনিয়ায়) কী কাজ করেছ। এ কাজ (করা) আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।
فَـَٔامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلنُّورِ ٱلَّذِىٓ أَنزَلْنَا ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ٨
ফাআ-মিনূ বিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ওয়ান্নূরিল লাযী আনযালনা ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা খাবীর
কাজেই (এ অবস্থার কথা চিন্তা ক’রে) তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূলের প্রতি আর সেই নূর (কুরআন)-এর প্রতি যা আমি অবতীর্ণ করেছি। তোমরা যা কর সে ব্যাপারে আল্লাহ পুরোপুরি অবগত।
يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ ٱلْجَمْعِ ۖ ذَٰلِكَ يَوْمُ ٱلتَّغَابُنِ ۗ وَمَن يُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ وَيَعْمَلْ صَٰلِحًۭا يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّـَٔاتِهِۦ وَيُدْخِلْهُ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًۭا ۚ ذَٰلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ ٩
ইয়াওমা ইয়াজমা‘উকুম লিয়াওমিল জাম‘ই যা-লিকা ইয়াওমুত তাগা-বুন ওয়ামান ইউ’মিম বিল্লা-হি ওয়ায়া‘মাল সা-লিহাঁ ইউকাফ্ফির ‘আনহু সাইয়্যিআ-তিহী ওয়াইউদখিলহু জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা- আবাদা যা-লিকাল ফাওযুল ‘আযীম
যখন একত্র করার দিন তিনি তোমাদেরকে একত্রিত করবেন, সে দিনটি হবে তোমাদের হার জিতের দিন। যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে আর সৎ কাজ করবে, আল্লাহ তার পাপ মোচন করে দিবেন, আর তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন যার নীচ দিয়ে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল সর্বকাল। এটাই মহা সাফল্য।
وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَآ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ خَٰلِدِينَ فِيهَا ۖ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ١٠
ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ওয়াকায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা- উলা-ইকা আসহা-বুন না-রি খা-লিদীনা ফীহা ওয়াবি’সাল মাসীর
আর যারা কুফুরী করে আর আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!
مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۗ وَمَن يُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُۥ ۚ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ ١١
মা- আসা-বা মিম মুসীবাতিন ইল্লা বিইযনিল্লা-হ ওয়ামান ইউ’মিম বিল্লা-হি ইয়াহদি কালবাহ ওয়াল্লা-হু বিকুল্লি শাইইন ‘আলীম
আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদ আসে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ সকল বিষয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী।
وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ ۚ فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَإِنَّمَا عَلَىٰ رَسُولِنَا ٱلْبَلَٰغُ ٱلْمُبِينُ ١٢
ওয়াআতী‘উল্লা-হা ওয়াআতী‘উর রাসূল ফাইন তাওয়াল্লাইতুম ফাইন্নামা ‘আলা রাসূলিনাল বালা-গুল মুবীন
তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর ও রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে লও (তাহলে তোমাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য জোর জবরদস্তি করা হবে না) কেননা, আমার রসূলের দায়িত্ব কেবল (আমার বাণী) স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।
ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ ١٣
আল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা হুও ওয়া‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন
আল্লাহ তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। কাজেই মু’মিনরা আল্লাহরই উপর নির্ভর করুক।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِنَّ مِنْ أَزْوَٰجِكُمْ وَأَوْلَٰدِكُمْ عَدُوًّۭا لَّكُمْ فَٱحْذَرُوهُمْ ۚ وَإِن تَعْفُوا۟ وَتَصْفَحُوا۟ وَتَغْفِرُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌ ١٤
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইন্না মিন আযওয়া-জিকুম ওয়াআওলা-দিকুম ‘আদুওয়াল লাকুম ফাহযারূহুম ওয়াইন তা‘ফূ ওয়াতাসফাহূ ওয়াতাগফিরূ ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
হে মু’মিনগণ! তোমাদের স্ত্রী আর সন্তানদের মধ্যে কতক তোমাদের শত্রু। কাজেই তোমরা তাদের হতে সতর্ক হও। তোমরা যদি তাদের প্রতি ক্ষমাসুলভ আচরণ কর, তাদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা কর, আর তাদেরকে ক্ষমা কর, তাহলে (তোমাদের সে কাজ হবে আল্লাহর নিকট পছন্দীয় কারণ) আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
إِنَّمَآ أَمْوَٰلُكُمْ وَأَوْلَٰدُكُمْ فِتْنَةٌۭ ۚ وَٱللَّهُ عِندَهُۥٓ أَجْرٌ عَظِيمٌۭ ١٥
ইন্নামা- আমওয়া-লুকুম ওয়াআওলা-দুকুম ফিতনাহ ওয়াল্লা-হু ‘ইনদাহূ আজরুন ‘আযীম
তোমাদের ধন-সম্পদ আর সন্তানাদি পরীক্ষা (’র বস্তু) মাত্র (যারা এ দু’টিকে সঠিকভাবে ব্যবহার ক’রে আল্লাহর পথে অটল থাকবে তারা কৃতকার্য হবে, আর যারা এ দু’টিকে আল্লাহর চেয়ে অধিক ভালবাসবে তারা ব্যর্থ হয়ে যাবে)। আর আল্লাহ এমন যাঁর কাছে আছে মহা পুরস্কার।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ مَا ٱسْتَطَعْتُمْ وَٱسْمَعُوا۟ وَأَطِيعُوا۟ وَأَنفِقُوا۟ خَيْرًۭا لِّأَنفُسِكُمْ ۗ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِۦ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ١٦
ফাত্তাকুল্লা-হা মাসতাতা‘তুম ওয়াসমা‘ঊ ওয়াআতী‘ঊ ওয়াআনফিকূ খাইরাল লিআনফুসিকুম ওয়ামান ইউকা শুহ্হা নাফসিহী ফাউলা-ইকা হুমুল মুফলিহূন
কাজেই তোমরা আল্লাহকে তোমাদের সাধ্যমত ভয় কর, তোমরা (তাঁর বাণী) শুন, তোমরা (তাঁর) আনুগত্য কর এবং (তাঁর পথে) ব্যয় কর, এটা তোমাদের নিজেদেরই জন্য কল্যাণকর। যারা অন্তরের সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা পেল, তারাই সফলকাম।
إِن تُقْرِضُوا۟ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًۭا يُضَٰعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ۚ وَٱللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ ١٧
ইন তুকরিদুল্লা-হা কারদান হাসানাঁ ইউদা-‘ইফহু লাকুম ওয়ায়াগফির লাকুম ওয়াল্লা-হু শাকূরুন হালীম
তোমরা যদি আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তবে তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুণ করে দেবেন, আর তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন, আল্লাহ (কারো কাজের) অতি মর্যাদাদানকারী, সহনশীল।
عَٰلِمُ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ١٨
‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশ্শাহা-দাতিল ‘আযীযুল হাকীম
তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী, মহাপরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞানী।

الطلاق
সূরা আত-তালাক

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا۟ ٱلْعِدَّةَ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنۢ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّآ أَن يَأْتِينَ بِفَٰحِشَةٍۢ مُّبَيِّنَةٍۢ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ ٱللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُۥ ۚ لَا تَدْرِى لَعَلَّ ٱللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًۭا ١
ইয়া-আইয়্যুহান নাবিয়্যু ইযা তাল্লাকতুমুন নিসা-আ ফাতাল্লিকূহুন্না লি‘ইদ্দাতিহিন্না ওয়াআহসুল ‘ইদ্দাতা ওয়াত্তাকুল্লা-হা রাব্বাকুম লা তুখরিজূহুন্না মিম বুইউতিহিন্না ওয়ালা ইয়াখরুজনা ইল্লা- আন ইয়া’তীনা বিফা-হিশাতিম মুবাইয়্যিনাহ ওয়াতিলকা হুদূদুল্লা-হ ওয়ামান ইয়াতা‘আদ্দা হুদূদাল্লা-হি ফাকাদ যালামা নাফসাহ লা তাদরী লা‘আল্লাল্লা-হা ইউহদিছু বা‘দা যা-লিকা আমরা
হে নবী! তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও তখন তাদেরকে তালাক দাও তাদের ‘ইদ্দাতের প্রতি লক্ষ্য রেখে, আর ‘ইদ্দাতের হিসাব সঠিকভাবে গণনা করবে, (তালাক দেয়া ও ‘ইদ্দাত পালন সংক্রান্ত শারী‘আতের বিধি-বিধান পালনে) তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় কর। তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বের করে দিও না, আর তারা নিজেরাও যেন বের হয়ে না যায়, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। যে কেউ আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে নিজের উপরই যুলম করে। তোমরা জান না, আল্লাহ হয়তো এরপরও (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার) কোন উপায় বের করে দিবেন।
فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍۢ وَأَشْهِدُوا۟ ذَوَىْ عَدْلٍۢ مِّنكُمْ وَأَقِيمُوا۟ ٱلشَّهَٰدَةَ لِلَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ يُوعَظُ بِهِۦ مَن كَانَ يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ ۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مَخْرَجًۭا ٢
ফাইযা বালাগনা আজালাহুন্না ফাআমসিকূহুন্না বিমা‘রূফিন আও ফা-রিকূহুন্না বিমা‘রূফিঁ ওয়াআশহিদূ যাওয়াই ‘আদলিম মিনকুম ওয়াআকীমুশ শাহা-দাতা লিল্লা-হ যা-লিকুম ইউ‘আযু বিহী মান কা-না ইউ’মিনু বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খির ওয়ামান ইয়াত্তাকিল্লা-হা ইয়াজ‘আল লাহূ মাখরাজা
অতঃপর যখন তাদের (‘ইদ্দাতের) সময়কাল এসে যায়, তখন তাদেরকে ভালভাবে (স্ত্রী হিসেবে) রেখে দাও, অথবা ভালভাবে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দাও। আর তোমাদের মধ্যেকার দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখ। তোমরা আল্লাহর জন্য সঠিকভাবে সাক্ষ্য দাও। এর দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে যারা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে। যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার) কোন না কোন পথ বের করে দিবেন।
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُۥٓ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمْرِهِۦ ۚ قَدْ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَىْءٍۢ قَدْرًۭا ٣
ওয়ায়ারযুকহু মিন হাইছু লা ইয়াহতাসিব ওয়ামান ইয়াতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হি ফাহুওয়া হাসবুহ ইন্নাল্লা-হা বা-লিগু আমরিহ কাদ জা‘আলাল্লা-হু লিকুল্লি শাইইন কাদরা
আর তাকে রিযক দিবেন (এমন উৎস) থেকে যা সে ধারণাও করতে পারে না। যে কেউ আল্লাহর উপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ নিজের কাজ সম্পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য করেছেন একটা সুনির্দিষ্ট মাত্রা।
وَٱلَّٰٓـِٔى يَئِسْنَ مِنَ ٱلْمَحِيضِ مِن نِّسَآئِكُمْ إِنِ ٱرْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَٰثَةُ أَشْهُرٍۢ وَٱلَّٰٓـِٔى لَمْ يَحِضْنَ ۚ وَأُو۟لَٰتُ ٱلْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَن يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ ۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مِنْ أَمْرِهِۦ يُسْرًۭا ٤
ওয়াল্লা-ঈ ইয়াইসনা মিনাল মাহীদি মিন নিসা-ইকুম ইনিরতাবতুম ফা‘ইদ্দাতুহুন্না ছালা-ছাতু আশহুরিঁ ওয়াল্লা-ঈ লাম ইয়াহিদন ওয়াউলা-তুল আহমা-লি আজালুহুন্না আন ইয়াদা‘না হামলাহুন্ন ওয়ামান ইয়াত্তাকিল্লা-হা ইয়াজ‘আল লাহূ মিন আমরিহী ইউসরা
তোমাদের যে সব স্ত্রীগণ মাসিক ঋতু আসার বয়স অতিক্রম করেছে তাদের (‘ইদ্দাতের) ব্যাপারে যদি তোমাদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে তাদের ‘ইদ্দাতকাল তিন মাস, আর যারা (অল্প বয়স্কা হওয়ার কারণে) এখনও ঋতুবতী হয়নি (এ নিয়ম) তাদের জন্যও। আর গর্ভবতী স্ত্রীদের ‘ইদ্দাতকাল তাদের সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।
ذَٰلِكَ أَمْرُ ٱللَّهِ أَنزَلَهُۥٓ إِلَيْكُمْ ۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّـَٔاتِهِۦ وَيُعْظِمْ لَهُۥٓ أَجْرًا ٥
যা-লিকা আমরুল্লা-হি আনযালাহূ ইলাইকুম ওয়ামান ইয়াত্তাকিল্লা-হা ইউকাফ্ফির ‘আনহু সাইয়্যিআ-তিহী ওয়াইউ‘যিম লাহূ আজরা
এটা আল্লাহর হুকুম যা তিনি তোমাদের উপর অবতীর্ণ করেছেন। যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পাপ মোচন করে দিবেন, আর তার প্রতিফলকে বিশাল বিস্তৃত করে দিবেন।
أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَآرُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا۟ عَلَيْهِنَّ ۚ وَإِن كُنَّ أُو۟لَٰتِ حَمْلٍۢ فَأَنفِقُوا۟ عَلَيْهِنَّ حَتَّىٰ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ ۚ فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَـَٔاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ ۖ وَأْتَمِرُوا۟ بَيْنَكُم بِمَعْرُوفٍۢ ۖ وَإِن تَعَاسَرْتُمْ فَسَتُرْضِعُ لَهُۥٓ أُخْرَىٰ ٦
আসকিনূহুন্না মিন হাইছু সাকানতুম মিন উজদিকুম ওয়ালা তুদা-র্রূহুন্না লিতুদাইয়্যিকূ ‘আলাইহিন্ন ওয়াইন কুন্না উলা-তি হামলিন ফাআনফিকূ ‘আলাইহিন্না হাত্তা ইয়াদা‘না হামলাহুন্ন ফাইন আরদা‘না লাকুম ফাআ-তূহুন্না উজূরাহুন্না ওয়া’তামিরূ বাইনাকুম বিমা‘রূফিঁ ওয়াইন তা‘আ-সারতুম ফাসাতুরদি‘উ লাহূ উখরা
(‘ইদ্দাতকালে) নারীদেরকে সেভাবেই বসবাস করতে দাও যেভাবে তোমরা বসবাস কর তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী, তাদেরকে সংকটে ফেলার জন্য তাদেরকে জ্বালাতন করো না। তারা যদি গর্ভবতী হয়ে থাকে, তবে তারা সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত তাদের ব্যয়ভার বহন কর। অতঃপর তারা যদি তোমাদের সন্তানকে দুধ পান করায়, তবে তাদেরকে তাদের পারিশ্রমিক দাও। (দুধ পান করানোর ব্যাপারে) ন্যায়সঙ্গতভাবে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে লও। আর (দুধ পান করানোর ব্যাপার নিয়ে) তোমরা যদি একে অপরের প্রতি কড়াকড়ি করতেই থাক, তাহলে (এ অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য) অপর কোন স্ত্রীলোক সন্তানকে দুধ পান করাবে।
لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍۢ مِّن سَعَتِهِۦ ۖ وَمَن قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُۥ فَلْيُنفِقْ مِمَّآ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ۚ لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَآ ءَاتَىٰهَا ۚ سَيَجْعَلُ ٱللَّهُ بَعْدَ عُسْرٍۢ يُسْرًۭا ٧
লিইউনফিক যূ সা‘আতিম মিন সা‘আতিহী ওয়ামান কুদিরা ‘আলাইহি রিযকুহূ ফালইউনফিক মিম্মা- আ-তা-হুল্লা-হ লা ইউকাল্লিফুল্লা-হু নাফসান ইল্লা মা- আ-তা-হা সায়াজ‘আলুল্লা-হু বা‘দা ‘উসরিঁ ইউসরা
সচ্ছল ব্যক্তি তার সচ্ছলতা অনুসারে ব্যয় করবে। আর যার রিযক সীমিত করা হয়েছে, সে ব্যয় করবে আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাত্থেকে। আল্লাহ যাকে যতটা দিয়েছেন তার অতিরিক্ত বোঝা তার উপর চাপান না। আল্লাহ কষ্টের পর আরাম দিবেন।
وَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ عَتَتْ عَنْ أَمْرِ رَبِّهَا وَرُسُلِهِۦ فَحَاسَبْنَٰهَا حِسَابًۭا شَدِيدًۭا وَعَذَّبْنَٰهَا عَذَابًۭا نُّكْرًۭا ٨
ওয়াকাআইয়্যিম মিন কারইয়াতিন ‘আতাত ‘আন আমরি রাব্বিহা ওয়ারুসুলিহী ফাহা-সাবনা-হা হিসা-বান শাদীদাঁ ওয়া‘আয্যাবনা-হা ‘আযা-বান নুকরা
কত জনপদ তাদের প্রতিপালকের আর তাঁর রসূলদের হুকুম অমান্য করেছে। ফলে আমরা তাদের থেকে কঠিনভাবে প্রতিশোধ নিয়েছি আর তাদেরকে ‘আযাব দিয়েছি কঠিন ‘আযাব।
فَذَاقَتْ وَبَالَ أَمْرِهَا وَكَانَ عَٰقِبَةُ أَمْرِهَا خُسْرًا ٩
ফাযা-কাত ওয়াবা-লা আমরিহা ওয়াকা-না ‘আ-কিবাতু আমরিহা খুসরা
তারা তাদের কৃতকর্মের খারাপ প্রতিফল আস্বাদন করল, ধ্বংসই হল তাদের কাজের পরিণতি।
أَعَدَّ ٱللَّهُ لَهُمْ عَذَابًۭا شَدِيدًۭا ۖ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ يَٰٓأُو۟لِى ٱلْأَلْبَٰبِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ۚ قَدْ أَنزَلَ ٱللَّهُ إِلَيْكُمْ ذِكْرًۭا ١٠
আ‘আদ্দাল্লা-হু লাহুম ‘আযা-বান শাদীদান ফাত্তাকুল্লা-হা ইয়া-উলিল আলবা-বিল লাযীনা আ-মানূ কাদ আনযালাল্লা-হু ইলাইকুম যিকরা
আল্লাহ তাদের জন্য কঠিন শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। অতএব হে জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা! যারা ঈমান এনেছ তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন উপদেশ।
رَّسُولًۭا يَتْلُوا۟ عَلَيْكُمْ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ مُبَيِّنَٰتٍۢ لِّيُخْرِجَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ ۚ وَمَن يُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ وَيَعْمَلْ صَٰلِحًۭا يُدْخِلْهُ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًۭا ۖ قَدْ أَحْسَنَ ٱللَّهُ لَهُۥ رِزْقًا ١١
রাসূলাঁ ইয়াতলূ ‘আলাইকুম আ-য়া-তিল্লা-হি মুবাইয়্যিনা-তিল লিইউখরিজাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি মিনায যুলুমা-তি ইলান নূর ওয়ামান ইউ’মিম বিল্লা-হি ওয়ায়া‘মাল সা-লিহাঁ ইউদখিলহু জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা- আবাদান কাদ আহসানাল্লা-হু লাহূ রিযকা
(তদুপরি তিনি পাঠিয়েছেন) একজন রসূল যে তোমাদের কাছে আল্লাহর স্পষ্ট আয়াত পাঠ করে, যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে তাদেরকে গাঢ় অন্ধকার থেকে আলোতে আনার জন্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে আর সৎ কাজ করবে, তিনি তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে নির্ঝরিণী। তাতে তারা চিরকাল সর্বকাল থাকবে। আল্লাহ তার জন্য অতি উত্তম রিযকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَ سَبْعَ سَمَٰوَٰتٍۢ وَمِنَ ٱلْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ ٱلْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ وَأَنَّ ٱللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَىْءٍ عِلْمًۢا ١٢
আল্লা-হুল লাযী খালাকা সাব‘আ সামা-ওয়া-তিঁ ওয়ামিনাল আরদি মিছলাহুন্না ইয়াতানায্যালুল আমরু বাইনাহুন্না লিতা‘লামূ আন-নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীরুঁ ওয়াআন্নাল্লা-হা কাদ আহা-তা বিকুল্লি শাইইন ‘ইলমা
আল্লাহই সাত আসমান বানিয়েছেন আর ওগুলোর মত পৃথিবীও, সবগুলোর মাঝে (অর্থাৎ সকল আসমানে আর সকল যমীনে) নেমে আসে আল্লাহর নির্দেশ যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান আর আল্লাহ (স্বীয়) জ্ঞানে সব কিছুকে ঘিরে রেখেছেন।

التحريم
সূরা আত-তাহরীম

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَآ أَحَلَّ ٱللَّهُ لَكَ ۖ تَبْتَغِى مَرْضَاتَ أَزْوَٰجِكَ ۚ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١
ইয়া-আইয়্যুহান নাবিয়্যু লিমা তুহার্রিমু মা- আহাল্লাল্লা-হু লাকা তাবতাগী মারদা-তা আযওয়া-জিক ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম
হে নবী! আল্লাহ যা তোমার জন্য হালাল করেছেন তা তুমি কেন হারাম করছ? (এর দ্বারা) তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি পেতে চাও, (আল্লাহ তোমার এ ত্রুটি ক্ষমা করে দিলেন কেননা) আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
قَدْ فَرَضَ ٱللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَٰنِكُمْ ۚ وَٱللَّهُ مَوْلَىٰكُمْ ۖ وَهُوَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْحَكِيمُ ٢
কাদ ফারাদাল্লা-হু লাকুম তাহিল্লাতা আইমা-নিকুম ওয়াল্লা-হু মাওলা-কুম ওয়াহুওয়াল ‘আলীমুল হাকীম
আল্লাহ তোমাদের জন্য নিজেদের কসমের বাধ্যবাধকতা থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, আল্লাহ তোমাদের মালিক-মনিব-রক্ষক, আর তিনি সর্বজ্ঞাতা, মহা প্রজ্ঞার অধিকারী।
وَإِذْ أَسَرَّ ٱلنَّبِىُّ إِلَىٰ بَعْضِ أَزْوَٰجِهِۦ حَدِيثًۭا فَلَمَّا نَبَّأَتْ بِهِۦ وَأَظْهَرَهُ ٱللَّهُ عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَهُۥ وَأَعْرَضَ عَنۢ بَعْضٍۢ ۖ فَلَمَّا نَبَّأَهَا بِهِۦ قَالَتْ مَنْ أَنۢبَأَكَ هَٰذَا ۖ قَالَ نَبَّأَنِىَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْخَبِيرُ ٣
ওয়াইয আসার্রান নাবিয়্যু ইলা বা‘দি আযওয়া-জিহী হাদীছান ফালাম্মা নাব্বাআত বিহী ওয়াআযহারাহুল্লা-হু ‘আলাইহি ‘আর্রাফা বা‘দাহূ ওয়াআ‘রাদা ‘আম বা‘দিন ফালাম্মা নাব্বাআহা বিহী কা-লাত মান আমবাআকা হা-যা কা-লা নাব্বাআনিয়াল ‘আলীমুল খাবীর
স্মরণ কর- যখন নবী তার স্ত্রীদের কোন একজনকে গোপনে একটি কথা বলেছিল। অতঃপর সে স্ত্রী যখন তা (অন্য একজনকে) জানিয়ে দিল, তখন আল্লাহ এ ব্যাপারটি নবীকে জানিয়ে দিলেন। তখন নবী (তার স্ত্রীর কাছে) কিছু কথার উল্লেখ করল আর কিছু কথা ছেড়ে দিল। নবী যখন তা তার স্ত্রীকে জানাল তখন সে বলল, ‘আপনাকে এটা কে জানিয়ে দিল?’’ নবী বলল, ‘‘আমাকে জানিয়ে দিলেন যিনি সর্বজ্ঞাতা, ওয়াকিফহাল।’’
إِن تَتُوبَآ إِلَى ٱللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا ۖ وَإِن تَظَٰهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ ٱللَّهَ هُوَ مَوْلَىٰهُ وَجِبْرِيلُ وَصَٰلِحُ ٱلْمُؤْمِنِينَ ۖ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ بَعْدَ ذَٰلِكَ ظَهِيرٌ ٤
ইন তাতূবা- ইলাল্লা-হি ফাকাদ সাগাত কুলূবুকুমা ওয়াইন তাযা-হারা ‘আলাইহি ফাইন্নাল্লা-হা হুওয়া মাওলা-হু ওয়াজিবরীলু ওয়াসা-লিহুল মু’মিনীনা ওয়ালমালা-ইকাতু বা‘দা যা-লিকা যাহীর
তোমরা দু’জন যদি অনুশোচনাভরে আল্লাহর দিকে ফিরে আস (তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম), তোমাদের অন্তর (অন্যায়ের দিকে) ঝুঁকে পড়েছে, তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সহযোগিতা কর, তবে (জেনে রেখ) আল্লাহ তার মালিক-মনিব-রক্ষক। আর এ ছাড়াও জিবরীল, নেককার মু’মিনগণ আর ফেরেশতাগণও তার সাহায্যকারী।
عَسَىٰ رَبُّهُۥٓ إِن طَلَّقَكُنَّ أَن يُبْدِلَهُۥٓ أَزْوَٰجًا خَيْرًۭا مِّنكُنَّ مُسْلِمَٰتٍۢ مُّؤْمِنَٰتٍۢ قَٰنِتَٰتٍۢ تَٰٓئِبَٰتٍ عَٰبِدَٰتٍۢ سَٰٓئِحَٰتٍۢ ثَيِّبَٰتٍۢ وَأَبْكَارًۭا ٥
‘আসা রাব্বুহূ ইন তাল্লাকাকুন্না আন ইউবদিলাহূ আযওয়া-জান খাইরাম মিনকুন্না মুসলিমা-তিম মু’মিনা-তিন কা-নিতা-তিন তা-ইবা-তিন ‘আ-বিদা-তিন সা-ইহা-তিন ছাইয়্যিবা-তিঁ ওয়াআবকা-রা
নবী যদি তোমাদের সবাইকে তালাক দিয়ে দেয় তবে সম্ভবতঃ তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে তাকে দিবেন তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী- যারা হবে আত্মসমপর্ণকারিণী মু’মিনা অনুগতা, তাওবাহকারিণী, ‘ইবাদাতকারিণী, রোযা পালনকারিণী, অকুমারী ও কুমারী।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ قُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًۭا وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَٰٓئِكَةٌ غِلَاظٌۭ شِدَادٌۭ لَّا يَعْصُونَ ٱللَّهَ مَآ أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ٦
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ কূ আনফুসাকুম ওয়াআহলীকুম না-রাঁ ওয়াকূদুহান না-সু ওয়ালহিজা-রাতু ‘আলাইহা মালা-ইকাতুন গিলা-যুন শিদা-দুল লা ইয়া‘সূনাল্লা-হা মা- আমারাহুম ওয়ায়াফ‘আলূনা মা ইউ’মারূন
হে মু’মিনগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে আর তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে মোতায়েন আছে পাষাণ হৃদয় কঠোর স্বভাব ফেরেশতা। আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা তারা অমান্য করে না, আর তারা তাই করে, তাদেরকে যা করার জন্য আদেশ দেয়া হয়।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَا تَعْتَذِرُوا۟ ٱلْيَوْمَ ۖ إِنَّمَا تُجْزَوْنَ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٧
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা কাফারূ লা তা‘তাযিরুল ইয়াওমা ইন্নামা তুজযাওনা মা কুনতুম তা‘মালূন
(সেখানে বলা হবে) ওহে যারা কুফুরী করেছ! আজ ওযর পেশ করো না, তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হবে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ تُوبُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ تَوْبَةًۭ نَّصُوحًا عَسَىٰ رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّـَٔاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ يَوْمَ لَا يُخْزِى ٱللَّهُ ٱلنَّبِىَّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ ۖ نُورُهُمْ يَسْعَىٰ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَٰنِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَٱغْفِرْ لَنَآ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٨
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ তূবূ ইলাল্লা-হি তাওবাতান নাসূহান ‘আসা রাব্বুকুম আন ইউকাফ্ফিরা ‘আনকুম সাইয়্যিআ-তিকুম ওয়াইউদখিলাকুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ইয়াওমা লা ইউখযিল্লা-হুন নাবিয়্যা ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ মা‘আহূ নূরুহুম ইয়াস‘আ বাইনা আইদীহিম ওয়াবিআইমা-নিহিম ইয়াকূলূনা রাব্বানা- আতমিম লানা নূরানা ওয়াগফির লানা- ইন্নাকা ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবাহ কর- আন্তরিক তাওবাহ। সম্ভবতঃ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কাজগুলোকে তোমাদের থেকে মুছে দিবেন, আর তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে ঝর্ণাধারা। সে দিন আল্লাহ নবীকে আর তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে লজ্জিত করবেন না। (সেদিনের ভয়াবহ অন্ধকার থেকে মু’মিনদের রক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে) তাদের নূর দৌড়াতে থাকবে তাদের সামনে আর তাদের ডান পাশে। তারা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নূরকে আমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দাও আর আমাদেরকে ক্ষমা কর; তুমি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।’
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ جَٰهِدِ ٱلْكُفَّارَ وَٱلْمُنَٰفِقِينَ وَٱغْلُظْ عَلَيْهِمْ ۚ وَمَأْوَىٰهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ٩
ইয়া-আইয়্যুহান নাবিয়্যু জা-হিদিল কুফ্ফা-রা ওয়ালমুনা-ফিকীনা ওয়াগলুয ‘আলাইহিম ওয়ামা’ওয়া-হুম জাহান্নামু ওয়াবি’সাল মাসীর
হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর, তাদের প্রতি কঠোর হও। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম, কতই না নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল!
ضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلًۭا لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱمْرَأَتَ نُوحٍۢ وَٱمْرَأَتَ لُوطٍۢ ۖ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَٰلِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ ٱللَّهِ شَيْـًۭٔا وَقِيلَ ٱدْخُلَا ٱلنَّارَ مَعَ ٱلدَّٰخِلِينَ ١٠
দারাবাল্লা-হু মাছালাল লিল্লাযীনা কাফারুমরাআতা নূহিঁ ওয়ামরাআতা লূতিন কা-নাতা তাহতা ‘আবদাইনি মিন ‘ইবা-দিনা সা-লিহাইনি ফাখা-নাতা-হুমা ফালাম ইউগনিয়া ‘আনহুমা মিনাল্লা-হি শাইআঁ ওয়াকীলাদখুলান না-রা মা‘আদ দা-খিলীন
যারা কুফুরীর নীতি অবলম্বন করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ নূহের স্ত্রী আর লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করছেন। এরা ছিল আমার দু’নেককার বান্দার অধীনে। কিন্তু তারা দু’জনেই তাদের স্বামীদ্বয়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারল না। তাদেরকে বলা হল, ‘‘তোমরা দু’জন জাহান্নামে প্রবেশ কর (অন্যান্য) প্রবেশকারীদের সঙ্গে।’’
وَضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلًۭا لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱمْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ٱبْنِ لِى عِندَكَ بَيْتًۭا فِى ٱلْجَنَّةِ وَنَجِّنِى مِن فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِۦ وَنَجِّنِى مِنَ ٱلْقَوْمِ ٱلظَّٰلِمِينَ ١١
ওয়াদারাবাল্লা-হু মাছালাল লিল্লাযীনা আ-মানুমরাআতা ফির‘আওনা ইয কা-লাত রাব্বিবনি লী ‘ইনদাকা বাইতান ফিল জান্নাতি ওয়ানাজ্জিনী মিন ফির‘আওনা ওয়া‘আমালিহী ওয়ানাজ্জিনী মিনাল কাওমিয যা-লিমীন
আর যারা ঈমান আনে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ ফেরাউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন। সে প্রার্থনা করেছিল, ‘‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার জন্য তোমার নিকট জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও আর আমাকে তুমি ফেরাউন ও তার (অন্যায়) কার্যকলাপ থেকে রক্ষা কর, উদ্ধার কর আমাকে যালিম সম্প্রদায় থেকে।’’
وَمَرْيَمَ ٱبْنَتَ عِمْرَٰنَ ٱلَّتِىٓ أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا وَصَدَّقَتْ بِكَلِمَٰتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِۦ وَكَانَتْ مِنَ ٱلْقَٰنِتِينَ ١٢
ওয়ামারইয়ামাবনাতা ‘ইমরা-নাল লাতী আহসানাত ফারজাহা ফানাফাখনা ফীহি মির রূহিনা ওয়াসাদ্দাকাত বিকালিমা-তি রাব্বিহা ওয়াকুতুবিহী ওয়াকা-নাত মিনাল কা-নিতীন
আর (দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন) ‘ইমরান-কন্যা মারইয়ামের যে তার লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করেছিল, ফলে আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম। সে তার প্রতিপালকের বাণী ও তাঁর কিতাবসমূহে (তাওরাত, যবূর ও ইঞ্জীলে) বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। সে ছিল অনুগত ও বিনতদের অন্তর্ভুক্ত।