মূল লেখায় যান
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
الجزء ١٧

পারা ১৭

১৯০ আয়াত

الأنبياء
সূরা আল-আম্বিয়া

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
ٱقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِى غَفْلَةٍۢ مُّعْرِضُونَ ١
ইকতারাবা লিন্না-সি হিসা-বুহুম ওয়াহুম ফী গাফলাতিম মু‘রিদূন
মানুষের হিসাব গ্রহণের কাল ক্রমশঃ ঘনিয়ে আসছে কিন্তু তারা গাফলতিতে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।
مَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍۢ مِّن رَّبِّهِم مُّحْدَثٍ إِلَّا ٱسْتَمَعُوهُ وَهُمْ يَلْعَبُونَ ٢
মা ইয়া’তীহিম মিন যিকরিম মির রাব্বিহিম মুহদাছিন ইল্লাসতামা‘ঊহু ওয়াহুম ইয়াল‘আবূন
তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যখনই কোন নতুন উপদেশ আসে, তখন তারা তা হাসি-তামাশার বস্তু মনে করেই শোনে।
لَاهِيَةًۭ قُلُوبُهُمْ ۗ وَأَسَرُّوا۟ ٱلنَّجْوَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ هَلْ هَٰذَآ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُكُمْ ۖ أَفَتَأْتُونَ ٱلسِّحْرَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ ٣
লা-হিয়াতান কুলূবুহুম ওয়াআসার্রুন নাজওয়াল লাযীনা যালামূ হাল হা-যা- ইল্লা বাশারুম মিছলুকুম আফাতা’তূনাস সিহরা ওয়াআনতুম তুবসিরূন
তাদের অন্তর থাকে খেলায় মগ্ন। যালিমরা গোপনে পরামর্শ করে- এটা তোমাদেরই মত মানুষ ছাড়া কি অন্য কিছু? তোমরা কি দেখে-শুনে যাদুর কবলে পড়বে?
قَالَ رَبِّى يَعْلَمُ ٱلْقَوْلَ فِى ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ٤
কা-লা রাব্বী ইয়া‘লামুল কাওলা ফিস সামা-ই ওয়ালআরদি ওয়াহুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম
বল, ‘আমার প্রতিপালক আসমান ও যমীনে (উচ্চারিত প্রতিটি) কথাই জানেন, আর তিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।’
بَلْ قَالُوٓا۟ أَضْغَٰثُ أَحْلَٰمٍۭ بَلِ ٱفْتَرَىٰهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌۭ فَلْيَأْتِنَا بِـَٔايَةٍۢ كَمَآ أُرْسِلَ ٱلْأَوَّلُونَ ٥
বাল কা-লূ আদগা-ছু আহলা-মিম বালিফতারা-হু বাল হুওয়া শা-‘ইরুন ফালইয়া’তিনা বিআ-য়াতিন কামা- উরসিলাল আওয়ালূন
তারা এও বলে, ‘এসব অলীক স্বপ্ন, না হয় সে মিথ্যে উদ্ভাবন করেছে, না হয় সে একজন কবি। কাজেই সে আমাদের কাছে এমন নিদর্শন নিয়ে আসুক যেমন পূর্ববর্তী (নবী)-গণের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
مَآ ءَامَنَتْ قَبْلَهُم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَٰهَآ ۖ أَفَهُمْ يُؤْمِنُونَ ٦
মা- আ-মানাত কাবলাহুম মিন কারইয়াতিন আহলাকনা-হা- আফাহুম ইউ’মিনূন
তাদের পূর্বে আমি যে সমস্ত জনপদ ধ্বংস করেছি তাদের একটিও ঈমান আনেনি, তাহলে এরা কি ঈমান আনবে?
وَمَآ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ إِلَّا رِجَالًۭا نُّوحِىٓ إِلَيْهِمْ ۖ فَسْـَٔلُوٓا۟ أَهْلَ ٱلذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ٧
ওয়ামা- আরসালনা কাবলাকা ইল্লা রিজা-লান নূহী ইলাইহিম ফাসআলূ আহলায যিকরি ইন কুনতুম লা তা‘লামূন
তোমার পূর্বে যে সব রসূল পাঠিয়েছিলাম যাদের প্রতি আমি ওয়াহী করতাম তারা মানুষই ছিল, তোমরা যদি না জান তবে (অবতীর্ণ) কিতাবের জ্ঞান যাদের আছে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর।
وَمَا جَعَلْنَٰهُمْ جَسَدًۭا لَّا يَأْكُلُونَ ٱلطَّعَامَ وَمَا كَانُوا۟ خَٰلِدِينَ ٨
ওয়ামা জা‘আলনা-হুম জাসাদাল লা ইয়া’কুলূনাত তা‘আ-মা ওয়ামা কা-নূ খা-লিদীন
তাদেরকে এমন দেহবিশিষ্ট করিনি যে তারা খাদ্য খেত না আর তারা ছিল না চিরস্থায়ী।
ثُمَّ صَدَقْنَٰهُمُ ٱلْوَعْدَ فَأَنجَيْنَٰهُمْ وَمَن نَّشَآءُ وَأَهْلَكْنَا ٱلْمُسْرِفِينَ ٩
ছুম্মা সাদাকনা-হুমুল ওয়া‘দা ফাআনজাইনা-হুম ওয়ামান নাশা-উ ওয়াআহলাকনাল মুসরিফীন
অতঃপর আমি তাদেরকে দেয়া আমার ওয়া‘দা সত্যে পরিণত করলাম। ফলতঃ আমি তাদেরকে এবং আরো যাদেরকে চাইলাম রক্ষা করলাম আর সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ধ্বংস করে দিলাম।
لَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكُمْ كِتَٰبًۭا فِيهِ ذِكْرُكُمْ ۖ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ١٠
লাকাদ আনযালনা- ইলাইকুম কিতা-বান ফীহি যিকরুকুম আফালা তা‘কিলূন
আমি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছি এক কিতাব যাতে তোমাদের জন্য আছে উপদেশ, তোমরা কি তবুও বুঝবে না?
وَكَمْ قَصَمْنَا مِن قَرْيَةٍۢ كَانَتْ ظَالِمَةًۭ وَأَنشَأْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا ءَاخَرِينَ ١١
ওয়াকাম কাসামনা মিন কারইয়াতিন কা-নাত যা-লিমাতাঁ ওয়াআনশা’না বা‘দাহা কাওমান আ-খারীন
কত জনপদ ছিল যেগুলোকে আমি পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি যার অধিবাসীরা ছিল যালিম। তাদের পরে আমি অন্য জাতি সৃষ্টি করেছি।
فَلَمَّآ أَحَسُّوا۟ بَأْسَنَآ إِذَا هُم مِّنْهَا يَرْكُضُونَ ١٢
ফালাম্মা- আহাস্সূ বা’সানা- ইযা হুম মিনহা ইয়ারকুদূন
তারা যখন আমার শাস্তি (’র আগমন) অনুভব করল, তখন তারা তাত্থেকে পালিয়ে যেতে (চেষ্টা) করল।
لَا تَرْكُضُوا۟ وَٱرْجِعُوٓا۟ إِلَىٰ مَآ أُتْرِفْتُمْ فِيهِ وَمَسَٰكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْـَٔلُونَ ١٣
লা তারকুদূ ওয়ারজি‘ঊ ইলা মা- উতরিফতুম ফীহি ওয়ামাসা-কিনিকুম লা‘আল্লাকুম তুসআলূন
(ফেরেশতারা তাদেরকে ঠাট্টা করে বলেছিল) পালিয়ে যেয়ো না, ফিরে এসো তোমরা যে ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিলে তার দিকে আর তোমাদের আবাসগুলোতে, যাতে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় (‘আযাবের রূপটা কেমন দেখলে?)।
قَالُوا۟ يَٰوَيْلَنَآ إِنَّا كُنَّا ظَٰلِمِينَ ١٤
কা-লূ ইয়া-ওয়াইলানা- ইন্না কুন্না যা-লিমীন
তারা বলল, ‘হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! আমরা সত্যিই অন্যায়কারী ছিলাম।’
فَمَا زَالَت تِّلْكَ دَعْوَىٰهُمْ حَتَّىٰ جَعَلْنَٰهُمْ حَصِيدًا خَٰمِدِينَ ١٥
ফামা যা-লাত তিলকা দা‘ওয়া-হুম হাত্তা জা‘আলনা-হুম হাসীদান খা-মিদীন
তাদের এ আর্তনাদ বন্ধ হয়নি যতক্ষণ না আমি তাদেরকে করেছিলাম কাটা শস্য ও নিভানো আগুনের মত।
وَمَا خَلَقْنَا ٱلسَّمَآءَ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَٰعِبِينَ ١٦
ওয়ামা খালাকনাস সামা-আ ওয়ালআরদা ওয়ামা বাইনাহুমা লা-‘ইবীন
আসমান, যমীন আর এ দু’য়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা আমি খেলতে খেলতে বানাইনি।
لَوْ أَرَدْنَآ أَن نَّتَّخِذَ لَهْوًۭا لَّٱتَّخَذْنَٰهُ مِن لَّدُنَّآ إِن كُنَّا فَٰعِلِينَ ١٧
লাও আরাদনা- আন নাত্তাখিযা লাহওয়াল লাত্তাখাযনা-হু মিল লাদুন্না- ইন কুন্না ফা-‘ইলীন
আমি যদি খেলাধূলার বস্তু বানাতে চাইতাম তাহলে আমার কাছে যা আছে তা নিয়েই তা করতাম, যদি আমাকে করতে হত!
بَلْ نَقْذِفُ بِٱلْحَقِّ عَلَى ٱلْبَٰطِلِ فَيَدْمَغُهُۥ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌۭ ۚ وَلَكُمُ ٱلْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ ١٨
বাল নাকযিফু বিলহাক্কি ‘আলাল বা-তিলি ফায়াদমাগুহূ ফাইযা হুওয়া যা-হিক ওয়ালাকুমুল ওয়াইলু মিম্মা তাসিফূন
বরং আমি সত্যকে মিথ্যের উপর নিক্ষেপ করি, অতঃপর তা মিথ্যের মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, তৎক্ষণাৎ মিথ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তোমরা (আল্লাহ সম্পর্কে অযথা বহু মিথ্যে কথা বানিয়ে নিয়ে) যা বলছ এ কারণে তোমাদের জন্য দুর্ভোগ।
وَلَهُۥ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَمَنْ عِندَهُۥ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِۦ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ ١٩
ওয়ালাহূ মান ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়ামান ‘ইনদাহূ লা ইয়াসতাকবিরূনা ‘আন ‘ইবা-দাতিহী ওয়ালা ইয়াসতাহসিরূন
আসমান ও যমীনে যারা আছে তারা তাঁরই মালিকানাধীন, আর যারা তাঁর সন্নিকটে আছে তারা গর্বভরে তাঁর ‘ইবাদাত থেকে বিমুখ হয় না, আর তারা (কক্ষনো তাঁর ‘ইবাদাত করার ব্যাপারে) ক্লান্তিবোধ করে না।
يُسَبِّحُونَ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ ٢٠
ইউসাব্বিহূনাল লাইলা ওয়ান্নাহা-রা লা ইয়াফতুরূন
তারা রাত-দিন তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করতে থাকে, তারা কক্ষনো শিথিলতা করে না বা আগ্রহ হারায় না।
أَمِ ٱتَّخَذُوٓا۟ ءَالِهَةًۭ مِّنَ ٱلْأَرْضِ هُمْ يُنشِرُونَ ٢١
আমিত তাখাযূ আ-লিহাতাম মিনাল আরদি হুম ইউনশিরূন
তারা (অর্থাৎ মুশরিকরা) মাটি থেকে (তৈরী) যে সব দেবতা গ্রহণ করেছে তারা কি (মৃতদেরকে) জীবিত করতে সক্ষম?
لَوْ كَانَ فِيهِمَآ ءَالِهَةٌ إِلَّا ٱللَّهُ لَفَسَدَتَا ۚ فَسُبْحَٰنَ ٱللَّهِ رَبِّ ٱلْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ ٢٢
লাও কা-না ফীহিমা- আ-লিহাতুন ইল্লাল্লা-হু লাফাসাদাতা ফাসুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল ‘আরশি ‘আম্মা ইয়াসিফূন
আসমান ও যমীনে যদি আল্লাহ ছাড়া আরো অনেক ইলাহ থাকত তবে (আসমান ও যমীন) উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। কাজেই আরশের অধিপতি আল্লাহ মহান ও পবিত্র সে সব থেকে যা তারা তাঁর প্রতি আরোপ করে।
لَا يُسْـَٔلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْـَٔلُونَ ٢٣
লা ইউসআলু ‘আম্মা ইয়াফ‘আলু ওয়াহুম ইউসআলূন
তিনি যা করেন সে ব্যাপারে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না, বরং তারা জিজ্ঞাসিত হবে (তাদের কাজের ব্যাপারে)।
أَمِ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةًۭ ۖ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَٰنَكُمْ ۖ هَٰذَا ذِكْرُ مَن مَّعِىَ وَذِكْرُ مَن قَبْلِى ۗ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ٱلْحَقَّ ۖ فَهُم مُّعْرِضُونَ ٢٤
আমিত তাখাযূ মিন দূনিহী আ-লিহাতান কুল হা-তূ বুরহা-নাকুম হা-যা যিকরু মাম মা‘ইয়া ওয়াযিকরু মান কাবলী বাল আকছারুহুম লা ইয়া‘লামূনাল হাক্কা ফাহুম মু‘রিদূন
নাকি তারা তাঁকে বাদ দিয়ে অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে? বল, ‘তোমরা তোমাদের প্রমাণ এনে হাযির কর। (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই) এটাই আমার সাথে যারা আছে তাদের কথা আর আমার পূর্বে যারা ছিল তাদেরও কথা, কিন্তু তাদের (অর্থাৎ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের) অধিকাংশই প্রকৃত সত্য জানে না, যার জন্য তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِىٓ إِلَيْهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعْبُدُونِ ٢٥
ওয়ামা- আরসালনা মিন কাবলিকা মির রাসূলিন ইল্লা নূহী ইলাইহি আন-নাহূ লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা ফা‘বুদূন
আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রসূলই পাঠাইনি যার প্রতি আমি ওয়াহী করিনি যে, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। কাজেই তোমরা আমারই ‘ইবাদাত কর।
وَقَالُوا۟ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحْمَٰنُ وَلَدًۭا ۗ سُبْحَٰنَهُۥ ۚ بَلْ عِبَادٌۭ مُّكْرَمُونَ ٢٦
ওয়াকা-লুত তাখাযার রাহমা-নু ওয়ালাদা সুবহা-নাহ বাল ‘ইবা-দুম মুকরামূন
তারা বলে, ‘দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন’, তিনি এসব থেকে মহা পবিত্র। তারা হল তাঁর বান্দাহ যাদেরকে সম্মানে উন্নীত করা হয়েছে।
لَا يَسْبِقُونَهُۥ بِٱلْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِۦ يَعْمَلُونَ ٢٧
লা ইয়াসবিকূনাহূ বিলকাওলি ওয়াহুম বিআমরিহী ইয়া‘মালূন
তিনি কথা বলার আগেই তারা (অর্থাৎ সম্মানিত বান্দারা) কথা বলে না, তারা তাঁর নির্দেশেই কাজ করে।
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ٱرْتَضَىٰ وَهُم مِّنْ خَشْيَتِهِۦ مُشْفِقُونَ ٢٨
ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম ওয়ালা ইয়াশফা‘ঊনা ইল্লা লিমানিরতাদা ওয়াহুম মিন খাশইয়াতিহী মুশফিকূন
তাদের সামনে আর পেছনে যা আছে তা তিনি জানেন। তিনি যাদের প্রতি খুবই সন্তুষ্ট তাদের ব্যাপারে ছাড়া তারা কোন সুপারিশ করে না। তারা তাঁর ভয় ও সম্মানে ভীত-সন্ত্রস্ত।
۞ وَمَن يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّىٓ إِلَٰهٌۭ مِّن دُونِهِۦ فَذَٰلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلظَّٰلِمِينَ ٢٩
ওয়ামান ইয়াকুল মিনহুম ইন্নী ইলা-হুম মিন দূনিহী ফাযা-লিকা নাজযীহি জাহান্নাম কাযা-লিকা নাজযিয যা-লিমীন
তাদের মধ্যে যে বলবে যে, ‘তিনি ব্যতীত আমিই ইলাহ’, তাহলে আমি তাকে তার প্রতিফল দেব জাহান্নাম। যালিমদেরকে আমি এভাবেই পুরস্কার দিয়ে থাকি।
أَوَلَمْ يَرَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًۭا فَفَتَقْنَٰهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ ٱلْمَآءِ كُلَّ شَىْءٍ حَىٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ ٣٠
আওয়ালাম ইয়ারাল লাযীনা কাফারূ আন-নাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা কা-নাতা রাতকান ফাফাতাকনা-হুমা ওয়াজা‘আলনা মিনাল মা-ই কুল্লা শাইইন হাইয়্যিন আফালা ইউ’মিনূন
অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশ আর যমীন এক সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে আলাদা করে দিলাম, আর প্রাণসম্পন্ন সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?
وَجَعَلْنَا فِى ٱلْأَرْضِ رَوَٰسِىَ أَن تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًۭا سُبُلًۭا لَّعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ ٣١
ওয়াজা‘আলনা ফিল আরদি রাওয়া-সিয়া আন তামীদা বিহিম ওয়াজা‘আলনা ফীহা ফিজা-জান সুবুলাল লা‘আল্লাহুম ইয়াহতাদূন
আর পৃথিবীতে আমি স্থাপন করেছি সুদৃঢ় পর্বত যাতে পৃথিবী তাদেরকে নিয়ে নড়াচড়া না করে। আর তাতে সৃষ্টি করেছি প্রশস্ত পথ যাতে তারা পথ পেতে পারে।
وَجَعَلْنَا ٱلسَّمَآءَ سَقْفًۭا مَّحْفُوظًۭا ۖ وَهُمْ عَنْ ءَايَٰتِهَا مُعْرِضُونَ ٣٢
ওয়াজা‘আলনাস সামা-আ সাকফাম মাহফূযাঁ ওয়াহুম ‘আন আ-য়া-তিহা মু‘রিদূন
আর আমি আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ, কিন্তু এ সবের নিদর্শন থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
وَهُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ وَٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ ۖ كُلٌّۭ فِى فَلَكٍۢ يَسْبَحُونَ ٣٣
ওয়াহুওয়াল লাযী খালাকাল লাইলা ওয়ান্নাহা-রা ওয়াশ্শামসা ওয়ালকামারা কুল্লুন ফী ফালাকিঁ ইয়াসবাহূন
তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন, সূর্য আর চন্দ্র, প্রত্যেকেই তার চক্রাকার পথে সাঁতার কাটছে।
وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍۢ مِّن قَبْلِكَ ٱلْخُلْدَ ۖ أَفَإِي۟ن مِّتَّ فَهُمُ ٱلْخَٰلِدُونَ ٣٤
ওয়ামা জা‘আলনা লিবাশারিম মিন কাবলিকাল খুলদা আফাইম মিত্তা ফাহুমুল খা-লিদূন
তোমার পূর্বেও আমি কোন মানুষকে চিরস্থায়ী করিনি। তুমি যদি মারা যাও, তাহলে তারা কি চিরস্থায়ী হবে?
كُلُّ نَفْسٍۢ ذَآئِقَةُ ٱلْمَوْتِ ۗ وَنَبْلُوكُم بِٱلشَّرِّ وَٱلْخَيْرِ فِتْنَةًۭ ۖ وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ ٣٥
কুল্লু নাফসিন যা-ইকাতুল মাওত ওয়ানাবলূকুম বিশ্শার্রি ওয়ালখাইরি ফিতনাতাঁ ওয়াইলাইনা তুরজা‘ঊন
প্রত্যেক আত্মাকে মৃত্যু আস্বাদন করত হবে। আমি তোমাদেরকে ভাল ও মন্দ (উভয়টি দিয়ে এবং উভয় অবস্থায় ফেলে এর) দ্বারা পরীক্ষা করি। আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।
وَإِذَا رَءَاكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِن يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَٰذَا ٱلَّذِى يَذْكُرُ ءَالِهَتَكُمْ وَهُم بِذِكْرِ ٱلرَّحْمَٰنِ هُمْ كَٰفِرُونَ ٣٦
ওয়াইযা রাআ-কাল লাযীনা কাফারূ ইন ইয়াত্তাখিযূনাকা ইল্লা হুযুওয়ান আহা-যাল লাযী ইয়াযকুরু আ-লিহাতাকুম ওয়াহুম বিযিকরির রাহমা-নি হুম কা-ফিরূন
কাফিররা যখন তোমাকে দেখে, তখন তারা তোমাকে একমাত্র উপহাসের পাত্র হিসেবেই গণ্য করে। (আর তারা বলে) ‘এই কি সেই লোক যে তোমাদের দেবতাগুলোর ব্যাপারে কথা বলে? অথচ এই লোকগুলোই ‘রহমান’ (শব্দটির) উল্লেখকে অগ্রাহ্য করে।
خُلِقَ ٱلْإِنسَٰنُ مِنْ عَجَلٍۢ ۚ سَأُو۟رِيكُمْ ءَايَٰتِى فَلَا تَسْتَعْجِلُونِ ٣٧
খুলিকাল ইনসা-নু মিন ‘আজাল সাউরীকুম আ-য়া-তী ফালা তাসতা‘জিলূন
মানুষকে তাড়াহুড়াকারী করে সৃষ্টি করা হয়েছে। শীঘ্রই আমি তোমাদেরকে আমার নিদর্শনগুলো দেখাব (যে সব অলৌকিক ব্যাপার বদর ও অন্যান্য যুদ্ধে কাফিরদেরকে দেখানো হয়েছিল), কাজেই তোমরা আমাকে জলদি করতে বল না।
وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ٣٨
ওয়ায়াকূলূনা মাতা হা-যাল ওয়া‘দু ইন কুনতুম সা-দিকীন
আর তারা বলে ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে (বল) প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবে পরিণত হবে?’
لَوْ يَعْلَمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ حِينَ لَا يَكُفُّونَ عَن وُجُوهِهِمُ ٱلنَّارَ وَلَا عَن ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ٣٩
লাও ইয়া‘লামুল লাযীনা কাফারূ হীনা লা ইয়াকুফ্ফূনা ‘আন উজূহিহিমুন না-রা ওয়ালা ‘আন যুহূরিহিম ওয়ালা হুম ইউনসারূন
অবিশ্বাসীরা যদি (সে সময়ের কথা) জানত যখন তারা তাদের মুখ হতে অগ্নি প্রতিরোধ করতে পারবে না, আর তাদের পিঠ থেকেও না, আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।
بَلْ تَأْتِيهِم بَغْتَةًۭ فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ رَدَّهَا وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ ٤٠
বাল তা’তীহিম বাগতাতান ফাতাবহাতুহুম ফালা ইয়াসতাতী‘ঊনা রাদ্দাহা ওয়ালা হুম ইউনযারূন
বরং তা তাদের উপর হঠাৎ এসে যাবে আর তা তাদেরকে হতবুদ্ধি করে দেবে। অতঃপর তারা তা রোধ করতে পারবে না, আর তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।
وَلَقَدِ ٱسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍۢ مِّن قَبْلِكَ فَحَاقَ بِٱلَّذِينَ سَخِرُوا۟ مِنْهُم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ٤١
ওয়ালাকাদিসতুহযিআ বিরুসুলিম মিন কাবলিকা ফাহা-কা বিল্লাযীনা সাখিরূ মিনহুম মা কা-নূ বিহী ইয়াসতাহযিঊন
তোমার পূর্বেও রসূলদেরকে ঠাট্টা করা হয়েছে, অতঃপর যা দিয়ে তারা ঠাট্টা করত তা উল্টো ঠাট্টা-বিদ্রুপই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছিল।
قُلْ مَن يَكْلَؤُكُم بِٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ مِنَ ٱلرَّحْمَٰنِ ۗ بَلْ هُمْ عَن ذِكْرِ رَبِّهِم مُّعْرِضُونَ ٤٢
কুল মান ইয়াকলাউকুম বিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি মিনার রাহমা-ন বাল হুম ‘আন যিকরি রাব্বিহিম মু‘রিদূন
বল, ‘কে তোমাদেরকে রাতে আর দিনে রহমান (এর গযব) থেকে নিরাপদ রাখতে পারে? তবুও তারা তাদের প্রতিপালকের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
أَمْ لَهُمْ ءَالِهَةٌۭ تَمْنَعُهُم مِّن دُونِنَا ۚ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَ أَنفُسِهِمْ وَلَا هُم مِّنَّا يُصْحَبُونَ ٤٣
আম লাহুম আ-লিহাতুন তামনা‘উহুম মিন দূনিনা লা ইয়াসতাতী‘ঊনা নাসরা আনফুসিহিম ওয়ালা হুম মিন্না ইউসহাবূন
তবে কি তাদের এমন দেবদেবী আছে যা তাদেরকে রক্ষা করবে আমার (প্রতিরক্ষা) ছাড়াই? তারা তো নিজেদেরকেই সাহায্য করতে পারে না, আর তারা আমার বিরুদ্ধে কোন প্রতিরক্ষাও পাবে না।
بَلْ مَتَّعْنَا هَٰٓؤُلَآءِ وَءَابَآءَهُمْ حَتَّىٰ طَالَ عَلَيْهِمُ ٱلْعُمُرُ ۗ أَفَلَا يَرَوْنَ أَنَّا نَأْتِى ٱلْأَرْضَ نَنقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَآ ۚ أَفَهُمُ ٱلْغَٰلِبُونَ ٤٤
বাল মাত্তা‘না হা-উলা-ই ওয়াআ-বা-আহুম হাত্তা তা-লা ‘আলাইহিমুল ‘উমুর আফালা ইয়ারাওনা আন-না না’তিল আরদা নানকুসুহা মিন আতরা-ফিহা- আফাহুমুল গা-লিবূন
বরং আমিই তাদেরকে আর তাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে পার্থিব ভোগ্যবস্তু দিয়েছিলাম আর তাদেরকে আয়ুও দেয়া হয়েছিল দীর্ঘ; তারা কি দেখছে না যে, আমি তাদের দেশকে চারপাশের (তাদের নিয়ন্ত্রিত) সীমান্ত হতে সংকুচিত করে আনছি? এরপরও কি তারা বিজয়ী হবে?’
قُلْ إِنَّمَآ أُنذِرُكُم بِٱلْوَحْىِ ۚ وَلَا يَسْمَعُ ٱلصُّمُّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا مَا يُنذَرُونَ ٤٥
কুল ইন্নামা- উনযিরুকুম বিলওয়াহই ওয়ালা ইয়াসমা‘উস সুম্মুদ দু‘আ-আ ইযা মা ইউনযারূন
বল, আমি তোমাদেরকে একমাত্র (আল্লাহর) ওয়াহী দ্বারাই সতর্ক করি, কিন্তু বধিররা ডাক শুনবে না যখন তাদেরকে সতর্ক করা হয়।
وَلَئِن مَّسَّتْهُمْ نَفْحَةٌۭ مِّنْ عَذَابِ رَبِّكَ لَيَقُولُنَّ يَٰوَيْلَنَآ إِنَّا كُنَّا ظَٰلِمِينَ ٤٦
ওয়ালাইম মাস্সাতহুম নাফহাতুম মিন ‘আযা-বি রাব্বিকা লায়াকূলুন্না ইয়া-ওয়াইলানা- ইন্না কুন্না যা-লিমীন
তোমার প্রতিপালকের গযবের একটা নিঃশ্বাস যদি তাদের উপর পতিত হয় তবে তারা অবশ্য অবশ্যই বলে উঠবে, ‘হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! আমরাই তো ছিলাম অপরাধী।’
وَنَضَعُ ٱلْمَوَٰزِينَ ٱلْقِسْطَ لِيَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌۭ شَيْـًۭٔا ۖ وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍۢ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا ۗ وَكَفَىٰ بِنَا حَٰسِبِينَ ٤٧
ওয়ানাদা‘উল মাওয়া-যীনাল কিসতা লিয়াওমিল কিয়া-মাতি ফালা তুযলামু নাফসুন শাইআঁ ওয়াইন কা-না মিছকা-লা হাব্বাতিম মিন খারদালিন আতাইনা বিহা ওয়াকাফা বিনা হা-সিবীন
আর কিয়ামাত দিবসে আমি সুবিচারের মানদন্ড স্থাপন করব, অতঃপর কারো প্রতি এতটুকুও অন্যায় করা হবে না। (কর্ম) সরিষার দানা পরিমাণ হলেও তা আমি হাযির করব, হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট।
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ ٱلْفُرْقَانَ وَضِيَآءًۭ وَذِكْرًۭا لِّلْمُتَّقِينَ ٤٨
ওয়ালাকাদ আ-তাইনা মূসা ওয়াহা-রূনাল ফুরকা-না ওয়াদিয়া-আঁ ওয়াযিকরাল লিলমুত্তাকীন
আমি মূসা ও হারূনকে (সত্য-মিথ্যার) মানদন্ড, আলো ও বাণী দিয়েছিলাম মুত্তাকীদের জন্য।
ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِٱلْغَيْبِ وَهُم مِّنَ ٱلسَّاعَةِ مُشْفِقُونَ ٤٩
আল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি ওয়াহুম মিনাস সা-‘আতি মুশফিকূন
যারা না দেখেই তাদের প্রতিপালককে ভয় করে আর তারা কিয়ামাত সম্পর্কে ভীত-শংকিত।
وَهَٰذَا ذِكْرٌۭ مُّبَارَكٌ أَنزَلْنَٰهُ ۚ أَفَأَنتُمْ لَهُۥ مُنكِرُونَ ٥٠
ওয়াহা-যা যিকরুম মুবা-রাকুন আনযালনা-হ আফাআনতুম লাহূ মুনকিরূন
এ হচ্ছে কল্যাণময় উপদেশ বাণী, আমি তা নাযিল করেছি: তবুও কি তা তোমরা প্রত্যাখ্যান করবে?
۞ وَلَقَدْ ءَاتَيْنَآ إِبْرَٰهِيمَ رُشْدَهُۥ مِن قَبْلُ وَكُنَّا بِهِۦ عَٰلِمِينَ ٥١
ওয়ালাকাদ আ-তাইনা- ইবরা-হীমা রুশদাহূ মিন কাবলু ওয়াকুন্না বিহী ‘আ-লিমীন
আমি ইতোপূর্বে ইবরাহীমকে সঠিক পথে চলার জ্ঞান দান করেছিলাম আর তার সম্পর্কে আমি খুব ভালভাবে জানতাম।
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَا هَٰذِهِ ٱلتَّمَاثِيلُ ٱلَّتِىٓ أَنتُمْ لَهَا عَٰكِفُونَ ٥٢
ইয কা-লা লিআবীহি ওয়াকাওমিহী মা হা-যিহিত তামা-ছীলুল লাতী আনতুম লাহা ‘আ-কিফূন
যখন সে তার পিতাকে ও তার জাতিকে বলল, ‘এ মূর্তিগুলো কী যাদের সঙ্গে তোমরা নিজেদেরকে (ভক্তির বাঁধনে) বেঁধে রেখেছ?’
قَالُوا۟ وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا لَهَا عَٰبِدِينَ ٥٣
কা-লূ ওয়াজাদনা- আ-বা-আনা লাহা ‘আ-বিদীন
তারা বলল, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এদের পূজো করতে দেখেছি।
قَالَ لَقَدْ كُنتُمْ أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُمْ فِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ٥٤
কা-লা লাকাদ কুনতুম আনতুম ওয়াআ-বা-উকুম ফী দালা-লিম মুবীন
সে বলল, ‘তোমরা রয়েছ স্পষ্ট গুমরাহীতে, তোমরা আর তোমাদের পিতৃপুরুষরাও।’
قَالُوٓا۟ أَجِئْتَنَا بِٱلْحَقِّ أَمْ أَنتَ مِنَ ٱللَّٰعِبِينَ ٥٥
কা-লূ আজি’তানা বিলহাক্কি আম আনতা মিনাল লা-‘ইবীন
তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের কাছে প্রকৃত সত্য এনেছ, না তুমি আমাদের সঙ্গে তামাশা করছ?’
قَالَ بَل رَّبُّكُمْ رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ٱلَّذِى فَطَرَهُنَّ وَأَنَا۠ عَلَىٰ ذَٰلِكُم مِّنَ ٱلشَّٰهِدِينَ ٥٦
কা-লা বার রাব্বুকুম রাব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদিল লাযী ফাতারাহুন্না ওয়াআনা ‘আলা যা-লিকুম মিনাশ শা-হিদীন
সে বলল, ‘বরং, তোমাদের প্রতিপালক হলেন আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালক যিনি ওগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, আর এ বিষয়ে আমি একজন সাক্ষ্যদাতা।
وَتَٱللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَٰمَكُم بَعْدَ أَن تُوَلُّوا۟ مُدْبِرِينَ ٥٧
ওয়াতাল্লা-হি লাআকীদান্না আসনা-মাকুম বা‘দা আন তুওয়াল্লূ মুদবিরীন
কসম আল্লাহর! তোমরা পেছন ফিরে চলে গেলেই আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর বিরুদ্ধে অবশ্য অবশ্যই একটা কৌশল গ্রহণ করব।
فَجَعَلَهُمْ جُذَٰذًا إِلَّا كَبِيرًۭا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ ٥٨
ফাজা‘আলাহুম জুযা-যান ইল্লা কাবীরাল লাহুম লা‘আল্লাহুম ইলাইহি ইয়ারজি‘ঊন
তারপর সে মূর্তিগুলোকে টুকরো টুকরো করে দিল, ওগুলোর বড়টি ছাড়া, যাতে পূজারীরা ওটার প্রতিই মনোযোগী হয়।
قَالُوا۟ مَن فَعَلَ هَٰذَا بِـَٔالِهَتِنَآ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ ٥٩
কা-লূ মান ফা‘আলা হা-যা বিআ-লিহাতিনা- ইন্নাহূ লামিনায যা-লিমীন
তারা বলল, ‘আমাদের মূর্তিগুলোর সাথে এমনটা কে করল? সে অবশ্যই যালিম।’
قَالُوا۟ سَمِعْنَا فَتًۭى يَذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُۥٓ إِبْرَٰهِيمُ ٦٠
কা-লূ সামি‘না ফাতাঁ ইয়াযকুরুহুম ইউকা-লু লাহূ ইবরা-হীম
কেউ কেউ বলল, ‘এক যুবককে এদের সম্পর্কে বলতে শুনেছি, তাকে ইবরাহীম বলা হয়।’
قَالُوا۟ فَأْتُوا۟ بِهِۦ عَلَىٰٓ أَعْيُنِ ٱلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ ٦١
কা-লূ ফা’তূ বিহী ‘আলা- আ‘ইউনিন না-সি লা‘আল্লাহুম ইয়াশহাদূন
তারা বলল, ‘তাকে নিয়ে এসো লোকজনের সামনে যাতে তারা সাক্ষী হতে পারে।’
قَالُوٓا۟ ءَأَنتَ فَعَلْتَ هَٰذَا بِـَٔالِهَتِنَا يَٰٓإِبْرَٰهِيمُ ٦٢
কা-লূ আআনতা ফা‘আলতা হা-যা বিআ-লিহাতিনা ইয়া-ইবরা-হীম
তারা বলল, ‘ওহে ইবরাহীম! আমাদের উপাস্যদের সাথে তুমিই কি এমনটি করেছ?’
قَالَ بَلْ فَعَلَهُۥ كَبِيرُهُمْ هَٰذَا فَسْـَٔلُوهُمْ إِن كَانُوا۟ يَنطِقُونَ ٦٣
কা-লা বাল ফা‘আলাহূ কাবীরুহুম হা-যা ফাসআলূহুম ইন কা-নূ ইয়ানতিকূন
সে বলল, ‘না, তাদের এই বড়টাই এ সব করেছে, তারা যদি কথা বলতে পারে তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর।’
فَرَجَعُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ فَقَالُوٓا۟ إِنَّكُمْ أَنتُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٦٤
ফারাজা‘ঊ ইলা- আনফুসিহিম ফাকা-লূ ইন্নাকুম আনতুমুয যা-লিমূন
তখন তারা বিষয়টি নিয়ে মনে মনে চিন্তা করল এবং পরস্পর বলাবলি করল- তোমরা নিজেরাই তো অন্যায়কারী।
ثُمَّ نُكِسُوا۟ عَلَىٰ رُءُوسِهِمْ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هَٰٓؤُلَآءِ يَنطِقُونَ ٦٥
ছুম্মা নুকিসূ ‘আলা রুঊসিহিম লাকাদ ‘আলিমতা মা হা-উলা-ই ইয়ানতিকূন
তাদের মাথা হেঁট হয়ে গেল। (তখন তারা বলল) ‘তুমি তো জানই ওরা কথা বলতে পারে না।’
قَالَ أَفَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكُمْ شَيْـًۭٔا وَلَا يَضُرُّكُمْ ٦٦
কা-লা আফাতা‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি মা লা ইয়ানফা‘উকুম শাইআঁ ওয়ালা ইয়াদুর্রুকুম
সে বলল, ‘তাহলে তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর ‘ইবাদাত কর যা না পারে তোমাদের কোন উপকার করতে, আর না পারে তোমাদের ক্ষতি করতে?
أُفٍّۢ لَّكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ ۖ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ٦٧
উফ্ফিল লাকুম ওয়ালিমা তা‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি আফালা তা‘কিলূন
ধিক তোমাদের প্রতি আর আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ‘ইবাদাত কর তাদেরও প্রতি। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না।
قَالُوا۟ حَرِّقُوهُ وَٱنصُرُوٓا۟ ءَالِهَتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَٰعِلِينَ ٦٨
কা-লূ হার্রিকূহু ওয়ানসুরূ আ-লিহাতাকুম ইন কুনতুম ফা-‘ইলীন
তারা বলল, ‘তাকে পুড়িয়ে মার আর তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর- যদি তোমরা কিছু করতেই চাও।
قُلْنَا يَٰنَارُ كُونِى بَرْدًۭا وَسَلَٰمًا عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ ٦٩
কুলনা ইয়া-না-রু কূনী বারদাঁ ওয়াসালা-মান ‘আলা- ইবরা-হীম
আমি বললাম, ‘হে অগ্নি! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিময় হয়ে যাও।’
وَأَرَادُوا۟ بِهِۦ كَيْدًۭا فَجَعَلْنَٰهُمُ ٱلْأَخْسَرِينَ ٧٠
ওয়াআরা-দূ বিহী কাইদান ফাজা‘আলনা-হুমুল আখসারীন
তারা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল কিন্তু আমি তাদেরকেই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে ছাড়লাম।
وَنَجَّيْنَٰهُ وَلُوطًا إِلَى ٱلْأَرْضِ ٱلَّتِى بَٰرَكْنَا فِيهَا لِلْعَٰلَمِينَ ٧١
ওয়ানাজ্জাইনা-হু ওয়ালূতান ইলাল আরদিল লাতী বা-রাকনা ফীহা লিল‘আ-লামীন
আর আমি তাকে ও (তার ভ্রাতুষ্পুত্র) লূতকে উদ্ধার করে তাদেরকে এমন দেশে (অর্থাৎ ফিলিস্তিনে) নিয়ে গেলাম যা আমি বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণময় করেছি।
وَوَهَبْنَا لَهُۥٓ إِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ نَافِلَةًۭ ۖ وَكُلًّۭا جَعَلْنَا صَٰلِحِينَ ٧٢
ওয়াওয়াহাবনা লাহূ ইসহা-কা ওয়ায়া‘কূবা না-ফিলাতাঁ ওয়াকুল্লান জা‘আলনা সা-লিহীন
আমি ইবরাহীমকে দান করেছিলাম ইসহাক, আর অতিরিক্ত হিসেবে (পৌত্র) ইয়া‘কুব, (তাদের) প্রত্যেককেই আমি করেছিলাম সৎকর্মশীল।
وَجَعَلْنَٰهُمْ أَئِمَّةًۭ يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَآ إِلَيْهِمْ فِعْلَ ٱلْخَيْرَٰتِ وَإِقَامَ ٱلصَّلَوٰةِ وَإِيتَآءَ ٱلزَّكَوٰةِ ۖ وَكَانُوا۟ لَنَا عَٰبِدِينَ ٧٣
ওয়াজা‘আলনা-হুম আইম্মাতাঁ ইয়াহদূনা বিআমরিনা ওয়াআওহাইনা- ইলাইহিম ফি‘লাল খাইরা-তি ওয়াইকা-মাস সালা-তি ওয়াঈতা-আয যাকা-তি ওয়াকা-নূ লানা ‘আ-বিদীন
আর তাদেরকে বানিয়েছিলাম নেতা, তারা আমার নির্দেশে মানুষকে সঠিক পথ দেখাত। তাদের প্রতি ওয়াহী করেছিলাম সৎ কাজ করার জন্য, নিয়মিত নামায প্রতিষ্ঠা করার ও যাকাত প্রদানের জন্য, তারা আমারই ‘ইবাদাত করত।
وَلُوطًا ءَاتَيْنَٰهُ حُكْمًۭا وَعِلْمًۭا وَنَجَّيْنَٰهُ مِنَ ٱلْقَرْيَةِ ٱلَّتِى كَانَت تَّعْمَلُ ٱلْخَبَٰٓئِثَ ۗ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَوْمَ سَوْءٍۢ فَٰسِقِينَ ٧٤
ওয়ালূতান আ-তাইনা-হু হুকমাঁ ওয়া‘ইলমাঁ ওয়ানাজ্জাইনা-হু মিনাল কারইয়াতিল লাতী কা-নাত তা‘মালুল খাবা-ইছ ইন্নাহুম কা-নূ কাওমা সাওইন ফা-সিকীন
আর আমি লূতকেও দিয়েছিলাম বিচারশক্তি ও জ্ঞান। আমি তাকে উদ্ধার করেছিলাম সেই জনবসতি থেকে যা অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল, তারা ছিল এক খারাপ পাপাচারী জাতি।
وَأَدْخَلْنَٰهُ فِى رَحْمَتِنَآ ۖ إِنَّهُۥ مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ٧٥
ওয়াআদখালনা-হু ফী রাহমাতিনা- ইন্নাহূ মিনাস সা-লিহীন
আমি তাকে আমার রাহমাতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম, সে ছিল সৎ কর্মশীলদের একজন।
وَنُوحًا إِذْ نَادَىٰ مِن قَبْلُ فَٱسْتَجَبْنَا لَهُۥ فَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥ مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ ٧٦
ওয়ানূহান ইয না-দা মিন কাবলু ফাসতাজাবনা লাহূ ফানাজ্জাইনা-হু ওয়াআহলাহূ মিনাল কারবিল ‘আযীম
স্মরণ কর নূহের কথা, ইতোপূর্বে যখন সে (আমাকে) ডেকেছিল, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম আর তাকে ও তার পরিবারবর্গকে মহা বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলাম।
وَنَصَرْنَٰهُ مِنَ ٱلْقَوْمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَآ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَوْمَ سَوْءٍۢ فَأَغْرَقْنَٰهُمْ أَجْمَعِينَ ٧٧
ওয়ানাসারনা-হু মিনাল কাওমিল লাযীনা কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা- ইন্নাহুম কা-নূ কাওমা সাওইন ফাআগরাকনা-হুম আজমা‘ঈন
আর আমি তাকে সেই লোকেদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম যারা আমার আয়াতকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা ছিল এক খারাপ সম্প্রদায়, কাজেই তাদের সব্বাইকে (বানে) ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
وَدَاوُۥدَ وَسُلَيْمَٰنَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِى ٱلْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ ٱلْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَٰهِدِينَ ٧٨
ওয়াদা-ঊদা ওয়াসুলাইমা-না ইয ইয়াহকুমা-নি ফিল হারছি ইয নাফাশাত ফীহি গানামুল কাওমি ওয়াকুন্না লিহুকমিহিম শা-হিদীন
স্মরণ কর দাঊদ ও সুলায়মানের কথা যখন তারা কৃষিক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল যখন তাতে রাতের বেলা কোন ব্যক্তির মেষ ঢুকে পড়েছিল, আর আমি তাদের বিচারকার্য প্রত্যক্ষ করছিলাম।
فَفَهَّمْنَٰهَا سُلَيْمَٰنَ ۚ وَكُلًّا ءَاتَيْنَا حُكْمًۭا وَعِلْمًۭا ۚ وَسَخَّرْنَا مَعَ دَاوُۥدَ ٱلْجِبَالَ يُسَبِّحْنَ وَٱلطَّيْرَ ۚ وَكُنَّا فَٰعِلِينَ ٧٩
ফাফাহ্হামনা-হা সুলাইমা-ন ওয়াকুল্লান আ-তাইনা হুকমাঁ ওয়া‘ইলমা ওয়াসাখ্খারনা মা‘আ দা-ঊদাল জিবা-লা ইউসাব্বিহনা ওয়াত্তাইর ওয়াকুন্না ফা-‘ইলীন
আমি সুলায়মানকে এ বিষয়ের (সঠিক) বুঝ দিয়েছিলাম আর (তাদের) প্রত্যেককে আমি দিয়েছিলাম বিচারশক্তি ও জ্ঞান। আমি পর্বত ও পাখীদেরকে দাঊদের অধীন ক’রে দিয়েছিলাম, তারা দাঊদের সাথে আমার মাহাত্ম্য ও পবিত্রতা ঘোষণা করত। (এসব) আমিই করতাম।
وَعَلَّمْنَٰهُ صَنْعَةَ لَبُوسٍۢ لَّكُمْ لِتُحْصِنَكُم مِّنۢ بَأْسِكُمْ ۖ فَهَلْ أَنتُمْ شَٰكِرُونَ ٨٠
ওয়া‘আল্লামনা-হু সান‘আতা লাবূসিল লাকুম লিতুহসিনাকুম মিম বা’সিকুম ফাহাল আনতুম শা-কিরূন
আমিই তাকে বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম তোমাদের উপকারে তোমাদের পারস্পরিক যুদ্ধে তোমাদেরকে রক্ষা করার জন্য, কাজেই তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে?
وَلِسُلَيْمَٰنَ ٱلرِّيحَ عَاصِفَةًۭ تَجْرِى بِأَمْرِهِۦٓ إِلَى ٱلْأَرْضِ ٱلَّتِى بَٰرَكْنَا فِيهَا ۚ وَكُنَّا بِكُلِّ شَىْءٍ عَٰلِمِينَ ٨١
ওয়ালিসুলাইমা-নার রীহা ‘আ-সিফাতান তাজরী বিআমরিহী ইলাল আরদিল লাতী বা-রাকনা ফীহা ওয়াকুন্না বিকুল্লি শাইইন ‘আ-লিমীন
(আমার ক্ষমতা বলেই) আমি উদ্দাম বায়ুকে (স্বাভাবিক গতি সম্পন্ন) করেছিলাম সুলায়মানের জন্য। তার নির্দেশ মত তা প্রবাহিত হত সেই দেশের দিকে যাতে আমি কল্যাণ রেখেছি। আমি প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কেই অবগত ছিলাম।
وَمِنَ ٱلشَّيَٰطِينِ مَن يَغُوصُونَ لَهُۥ وَيَعْمَلُونَ عَمَلًۭا دُونَ ذَٰلِكَ ۖ وَكُنَّا لَهُمْ حَٰفِظِينَ ٨٢
ওয়ামিনাশ শায়া-তীনি মান ইয়াগূসূনা লাহূ ওয়ায়া‘মালূনা ‘আমালান দূনা যা-লিকা ওয়াকুন্না লাহুম হা-ফিযীন
শয়ত্বানদের কতক তার জন্য ডুবুরির কাজ করত, এছাড়া অন্য কাজও করত, আমিই তাদেরকে রক্ষা করতাম।
۞ وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُۥٓ أَنِّى مَسَّنِىَ ٱلضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ ٨٣
ওয়াআইয়্যূবা ইয না-দা রাব্বাহূ আন-নী মাস্সানিয়াদ দুর্রু ওয়াআনতা আরহামুর রা-হিমীন
স্মরণ কর আইয়ূবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে ডেকেছিল : (এই ব’লে যে) আমি দুঃখ কষ্টে নিপতিত হয়েছি, তুমি তো দয়ালুদের সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
فَٱسْتَجَبْنَا لَهُۥ فَكَشَفْنَا مَا بِهِۦ مِن ضُرٍّۢ ۖ وَءَاتَيْنَٰهُ أَهْلَهُۥ وَمِثْلَهُم مَّعَهُمْ رَحْمَةًۭ مِّنْ عِندِنَا وَذِكْرَىٰ لِلْعَٰبِدِينَ ٨٤
ফাসতাজাবনা লাহূ ফাকাশাফনা মা বিহী মিন দুর্রিঁ ওয়াআ-তাইনা-হু আহলাহূ ওয়ামিছলাহুম মা‘আহুম রাহমাতাম মিন ‘ইনদিনা ওয়াযিকরা লিল‘আ-বিদীন
তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম আর তার দুঃখ ক্লেশ দূর করে দিয়েছিলাম। আর তার পরিবারবর্গকে তার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, আর তাদের সাথে তাদের মত আরো দিয়েছিলাম আমার পক্ষ হতে রহমত স্বরূপ আর আমার যারা ‘ইবাদাত করে তাদের জন্য স্মারক হিসেবে।
وَإِسْمَٰعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا ٱلْكِفْلِ ۖ كُلٌّۭ مِّنَ ٱلصَّٰبِرِينَ ٨٥
ওয়াইসমা-‘ঈলা ওয়াইদরীসা ওয়াযাল কিফলি কুল্লুম মিনাস সা-বিরীন
স্মরণ কর ইসমা‘ঈল, ইদরীস ও জুল-কিফল এর কথা, তাদের প্রত্যেকেই ছিল ধৈর্যশীল।
وَأَدْخَلْنَٰهُمْ فِى رَحْمَتِنَآ ۖ إِنَّهُم مِّنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ٨٦
ওয়াআদখালনা-হুম ফী রাহমাতিনা- ইন্নাহুম মিনাস সা-লিহীন
আমি তাদেরকে আমার রাহমাতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম, কারণ তারা ছিল সৎকর্মশীল।
وَذَا ٱلنُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَٰضِبًۭا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَىٰ فِى ٱلظُّلُمَٰتِ أَن لَّآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنتَ سُبْحَٰنَكَ إِنِّى كُنتُ مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ ٨٧
ওয়াযান নূনি ইয যাহাবা মুগা-দিবান ফাযান্না আল লান নাকদিরা ‘আলাইহি ফানা-দা ফিয যুলুমা-তি আল লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায যা-লিমীন
স্মরণ কর যুন্-নুন এর কথা- যখন সে গোস্বাভরে চলে গিয়েছিল, আর ভেবেছিল যে তার উপর আমার কোন ক্ষমতা খাটবে না। অতঃপর সে (সমুদ্রের) গভীর অন্ধকার থেকে ডেকেছিল যে, তুমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তোমারই পবিত্রতা, মহিমা ঘোষণা করছি; বাড়াবাড়ি আমিই করেছি।
فَٱسْتَجَبْنَا لَهُۥ وَنَجَّيْنَٰهُ مِنَ ٱلْغَمِّ ۚ وَكَذَٰلِكَ نُۨجِى ٱلْمُؤْمِنِينَ ٨٨
ফাসতাজাবনা লাহূ ওয়ানাজ্জাইনা-হু মিনাল গাম্ম ওয়াকাযা-লিকা নুনজিল মু’মিনীন
আমি তখন তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম, আর দুঃশ্চিন্তা থেকে তাকে মুক্ত করেছিলাম। মু’মিনদেরকে আমি এভাবেই উদ্ধার করি।
وَزَكَرِيَّآ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُۥ رَبِّ لَا تَذَرْنِى فَرْدًۭا وَأَنتَ خَيْرُ ٱلْوَٰرِثِينَ ٨٩
ওয়াযাকারিয়্যা- ইয না-দা রাব্বাহূ রাব্বি লা তাযারনী ফারদাঁ ওয়াআনতা খাইরুল ওয়া-রিছীন
আর স্মরণ কর যাকারিয়ার কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে ডেকেছিল : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সন্তানহীন করে রেখ না, যদিও তুমি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’
فَٱسْتَجَبْنَا لَهُۥ وَوَهَبْنَا لَهُۥ يَحْيَىٰ وَأَصْلَحْنَا لَهُۥ زَوْجَهُۥٓ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ يُسَٰرِعُونَ فِى ٱلْخَيْرَٰتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًۭا وَرَهَبًۭا ۖ وَكَانُوا۟ لَنَا خَٰشِعِينَ ٩٠
ফাসতাজাবনা লাহূ ওয়াওয়াহাবনা লাহূ ইয়াহইয়া ওয়াআসলাহনা লাহূ যাওজাহ ইন্নাহুম কা-নূ ইউসা-রি‘ঊনা ফিল খাইরা-তি ওয়ায়াদ‘ঊনানা রাগাবাঁ ওয়ারাহাবাঁ ওয়াকা-নূ লানা খা-শি‘ঈন
তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম আর তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া, আমি তার নিমিত্তে তার স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে দিয়েছিলাম। এরা সৎ কাজে ছিল ক্ষিপ্রগতি, তারা আমাকে ডাকতো আশা নিয়ে ও ভীত হয়ে, আর তারা ছিল আমার প্রতি বিনয়ী।
وَٱلَّتِىٓ أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهَا مِن رُّوحِنَا وَجَعَلْنَٰهَا وَٱبْنَهَآ ءَايَةًۭ لِّلْعَٰلَمِينَ ٩١
ওয়াল্লাতী আহসানাত ফারজাহা ফানাফাখনা ফীহা মির রূহিনা ওয়াজা‘আলনা-হা ওয়াবনাহা- আ-য়াতাল লিল‘আ-লামীন
স্মরণ কর সেই নারীর (অর্থাৎ মারইয়ামের) কথা যে তার সতীত্বকে সংরক্ষণ করেছিল। অতঃপর আমি তার ভিতর আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম আর তাকে ও তার পুত্রকে বিশ্বজগতের জন্য নিদর্শন করেছিলাম।
إِنَّ هَٰذِهِۦٓ أُمَّتُكُمْ أُمَّةًۭ وَٰحِدَةًۭ وَأَنَا۠ رَبُّكُمْ فَٱعْبُدُونِ ٩٢
ইন্না হা-যিহী উম্মাতুকুম উম্মাতাঁ ওয়া-হিদাতাঁ ওয়াআনা রাব্বুকুম ফা‘বুদূন
তোমাদের এ সব জাতিগুলো একই জাতি, আর আমি তোমাদের প্রতিপালক, কাজেই আমারই ‘ইবাদাত কর।
وَتَقَطَّعُوٓا۟ أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ ۖ كُلٌّ إِلَيْنَا رَٰجِعُونَ ٩٣
ওয়াতাকাত্তা‘ঊ আমরাহুম বাইনাহুম কুল্লুন ইলাইনা রা-জি‘ঊন
কিন্তু তারা (পরবর্তীতে) নিজেদের কাজ-কর্মে পরস্পর পার্থক্য সৃষ্টি করেছে, তা সত্ত্বেও তারা সবাই আমার কাছে ফিরে আসবে।
فَمَن يَعْمَلْ مِنَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌۭ فَلَا كُفْرَانَ لِسَعْيِهِۦ وَإِنَّا لَهُۥ كَٰتِبُونَ ٩٤
ফামান ইয়া‘মাল মিনাস সা-লিহা-তি ওয়াহুওয়া মু’মিনুন ফালা কুফরা-না লিসা‘ইয়িহী ওয়াইন্না লাহূ কা-তিবূন
কাজেই কেউ যদি মু’মিন হয়ে সৎ কাজ করে, তবে তার প্রচেষ্টা অস্বীকার করা হবে না, আমি তা তার জন্য লিখে রাখি।
وَحَرَٰمٌ عَلَىٰ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَٰهَآ أَنَّهُمْ لَا يَرْجِعُونَ ٩٥
ওয়াহারা-মুন ‘আলা কারইয়াতিন আহলাকনা-হা- আন-নাহুম লা ইয়ারজি‘ঊন
আমি যে সব জনবসতি ধ্বংস করেছি তাদের জন্য এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে তারা আর ফিরে আসবে না।
حَتَّىٰٓ إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُم مِّن كُلِّ حَدَبٍۢ يَنسِلُونَ ٩٦
হাত্তা- ইযা ফুতিহাত ইয়া’জূজু ওয়ামা’জূজু ওয়াহুম মিন কুল্লি হাদাবিঁ ইয়ানসিলূন
এমনকি (তখনও তারা ফিরে আসবে না) যখন ইয়া’জূজ ও মা’জূজের জন্য (প্রাচীর) খুলে দেয়া হবে আর তারা প্রতিটি পাহাড় কেটে ছুটে আসবে।
وَٱقْتَرَبَ ٱلْوَعْدُ ٱلْحَقُّ فَإِذَا هِىَ شَٰخِصَةٌ أَبْصَٰرُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يَٰوَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِى غَفْلَةٍۢ مِّنْ هَٰذَا بَلْ كُنَّا ظَٰلِمِينَ ٩٧
ওয়াকতারাবাল ওয়া‘দুল হাক্কু ফাইযা হিয়া শা-খিসাতুন আবসা-রুল লাযীনা কাফারূ ইয়া-ওয়াইলানা কাদ কুন্না ফী গাফলাতিম মিন হা-যা বাল কুন্না যা-লিমীন
সত্য ওয়া‘দার (পূর্ণতার) সময় ঘনিয়ে আসবে, তখন আতঙ্কে কাফিরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। (তখন তারা বলবে) হায়! আমরা তো এ ব্যাপারে উদাসীন ছিলাম, না, আমরা ছিলাম অন্যায়কারী।
إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنتُمْ لَهَا وَٰرِدُونَ ٩٨
ইন্নাকুম ওয়ামা তা‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি হাসাবু জাহান্নামা আনতুম লাহা ওয়া-রিদূন
তোমরা (কাফিররা) আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের ‘ইবাদাত কর সেগুলো জাহান্নামের জ্বালানী। তাতে তোমরা প্রবেশ করবে।
لَوْ كَانَ هَٰٓؤُلَآءِ ءَالِهَةًۭ مَّا وَرَدُوهَا ۖ وَكُلٌّۭ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٩٩
লাও কা-না হা-উলা-ই আ-লিহাতাম মা ওয়ারাদূহা ওয়াকুল্লুন ফীহা খা-লিদূন
তারা যদি ইলাহ হত, তাহলে তারা তাতে প্রবেশ করত না, তাতে তারা সবাই স্থায়ী হয়ে থাকবে।
لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌۭ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ ١٠٠
লাহুম ফীহা যাফীরুঁ ওয়াহুম ফীহা লা ইয়াসমা‘ঊন
সেখানে তারা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদবে, সেখানে কিছুই শুনবে না।
إِنَّ ٱلَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُم مِّنَّا ٱلْحُسْنَىٰٓ أُو۟لَٰٓئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ ١٠١
ইন্নাল লাযীনা সাবাকাত লাহুম মিন্নাল হুসনা- উলা-ইকা ‘আনহা মুব‘আদূন
পূর্ব থেকেই আমার পক্ষ হতে যাদের জন্য কল্যাণ নির্ধারিত আছে তাদেরকে তাত্থেকে (অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে) বহু দূরে রাখা হবে।
لَا يَسْمَعُونَ حَسِيسَهَا ۖ وَهُمْ فِى مَا ٱشْتَهَتْ أَنفُسُهُمْ خَٰلِدُونَ ١٠٢
লা ইয়াসমা‘ঊনা হাসীসাহা ওয়াহুম ফী মাশতাহাত আনফুসুহুম খা-লিদূন
তারা জাহান্নামের ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না, আর তারা তাদের মনের বাসনা অনুযায়ী চিরকাল বসবাস করবে।
لَا يَحْزُنُهُمُ ٱلْفَزَعُ ٱلْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّىٰهُمُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ هَٰذَا يَوْمُكُمُ ٱلَّذِى كُنتُمْ تُوعَدُونَ ١٠٣
লা ইয়াহযুনুহুমুল ফাযা‘উল আকবারু ওয়াতাতালাক্কা-হুমুল মালা-ইকাতু হা-যা ইয়াওমুকুমুল লাযী কুনতুম তূ‘আদূন
মহা ত্রাস তাদেরকে চিন্তাযুক্ত করবে না, আর ফেরেশতাগণ তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে (এই কথা বলে যে), ‘এটাই তোমাদের দিন যার ওয়া‘দা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল।
يَوْمَ نَطْوِى ٱلسَّمَآءَ كَطَىِّ ٱلسِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَآ أَوَّلَ خَلْقٍۢ نُّعِيدُهُۥ ۚ وَعْدًا عَلَيْنَآ ۚ إِنَّا كُنَّا فَٰعِلِينَ ١٠٤
ইয়াওমা নাতউইস সামা-আ কাতাইয়্যিস সিজিল্লি লিলকুতুব কামা বাদা’না- আওয়ালা খালকিন নু‘ঈদুহ ওয়া‘দান ‘আলাইনা- ইন্না কুন্না ফা-‘ইলীন
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব যেমনভাবে (লিখিত) কাগজ-দলীল গুটিয়ে রাখা হয়। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে আবার সৃষ্টি করব। ওয়া‘দা আমি করেছি, তা আমি পূর্ণ করবই।
وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِى ٱلزَّبُورِ مِنۢ بَعْدِ ٱلذِّكْرِ أَنَّ ٱلْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِىَ ٱلصَّٰلِحُونَ ١٠٥
ওয়ালাকাদ কাতাবনা ফিয যাবূরি মিম বা‘দিয যিকরি আন-নাল আরদা ইয়ারিছুহা ‘ইবা-দিয়াস সা-লিহূন
(এর আগে মূসাকে) বাণী দেয়ার পর আমি যুবূরে লিখে দিয়েছিলাম যে, আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাহ্গণই পৃথিবীর উত্তরাধিকার লাভ করবে।
إِنَّ فِى هَٰذَا لَبَلَٰغًۭا لِّقَوْمٍ عَٰبِدِينَ ١٠٦
ইন্না ফী হা-যা লাবালা-গাল লিকাওমিন ‘আ-বিদীন
নিশ্চয়ই এতে (অর্থাৎ এই কুরআনে) উপদেশবাণী রয়েছে ‘ইবাদাতকারী লোকেদের জন্য।
وَمَآ أَرْسَلْنَٰكَ إِلَّا رَحْمَةًۭ لِّلْعَٰلَمِينَ ١٠٧
ওয়ামা- আরসালনা-কা ইল্লা রাহমাতাল লিল‘আ-লামীন
আমি তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য পাঠিয়েছি কেবল রহমত হিসেবে।
قُلْ إِنَّمَا يُوحَىٰٓ إِلَىَّ أَنَّمَآ إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ ١٠٨
কুল ইন্নামা ইউহা- ইলাইয়্যা আন-নামা- ইলা-হুকুম ইলা-হুঁ ওয়া-হিদুন ফাহাল আনতুম মুসলিমূন
বল- আমার প্রতি এ ওয়াহীই করা হয়েছে যে, তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ, কাজেই তোমরা কি তাঁর নির্দেশের প্রতি মাথা নত করবে?
فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَقُلْ ءَاذَنتُكُمْ عَلَىٰ سَوَآءٍۢ ۖ وَإِنْ أَدْرِىٓ أَقَرِيبٌ أَم بَعِيدٌۭ مَّا تُوعَدُونَ ١٠٩
ফাইন তাওয়াল্লাও ফাকুল আ-যানতুকুম ‘আলা সাওয়া-ইঁ ওয়াইন আদরী আকারীবুন আম বা‘ঈদুম মা তূ‘আদূন
তবে তারা মুখ ফিরিয়ে নিলে বল : আমি তোমাদের কাছে যথাযথভাবে বাণী পৌঁছে দিয়েছি। আর আমি জানি না তোমাদেরকে যার ওয়া‘দা দেয়া হয়েছে তা নিকটবর্তী, নাকি দূরবর্তী।
إِنَّهُۥ يَعْلَمُ ٱلْجَهْرَ مِنَ ٱلْقَوْلِ وَيَعْلَمُ مَا تَكْتُمُونَ ١١٠
ইন্নাহূ ইয়া‘লামুল জাহরা মিনাল কাওলি ওয়ায়া‘লামু মা তাকতুমূন
তিনি জানেন যে কথা প্রকাশ করা হয় আর তিনি জানেন যা তোমরা (তোমাদের অন্তরে) লুকিয়ে রাখ।
وَإِنْ أَدْرِى لَعَلَّهُۥ فِتْنَةٌۭ لَّكُمْ وَمَتَٰعٌ إِلَىٰ حِينٍۢ ١١١
ওয়াইন আদরী লা‘আল্লাহূ ফিতনাতুল লাকুম ওয়ামাতা-‘উন ইলা হীন
আমি জানি না সম্ভবতঃ বিলম্বের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে পরীক্ষা আর কিছু কালের জন্য সুখভোগের সুযোগ।
قَٰلَ رَبِّ ٱحْكُم بِٱلْحَقِّ ۗ وَرَبُّنَا ٱلرَّحْمَٰنُ ٱلْمُسْتَعَانُ عَلَىٰ مَا تَصِفُونَ ١١٢
কা-লা রাব্বিহকুম বিলহাক্ক ওয়ারাব্বুনার রাহমা-নুল মুসতা‘আ-নু ‘আলা মা তাসিফূন
রসূল বলেছিল- হে আমার প্রতিপালক! তুমি ন্যায্য মীমাংসা করে দাও, আর আমাদের প্রতিপালক তো দয়ার আধার। তোমরা (তাঁর বিরুদ্ধে) যে সব কথা বলছ সে বিষয়ে তিনিই একমাত্র আশ্রয়স্থল।

الحج
সূরা আল-হাজ্জ

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمْ ۚ إِنَّ زَلْزَلَةَ ٱلسَّاعَةِ شَىْءٌ عَظِيمٌۭ ١
ইয়া-আইয়্যুহান না-সুত তাকূ রাব্বাকুম ইন্না যালযালাতাস সা-‘আতি শাইউন ‘আযীম
হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, কিয়ামাতের কম্পন এক ভয়ানক জিনিস।
يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّآ أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى ٱلنَّاسَ سُكَٰرَىٰ وَمَا هُم بِسُكَٰرَىٰ وَلَٰكِنَّ عَذَابَ ٱللَّهِ شَدِيدٌۭ ٢
ইয়াওমা তারাওনাহা তাযহালু কুল্লু মুরদি‘আতিন ‘আম্মা- আরদা‘আত ওয়াতাদা‘উ কুল্লু যা-তি হামলিন হামলাহা ওয়াতারান না-সা সুকা-রা ওয়ামা হুম বিসুকা-রা ওয়ালা-কিন্না ‘আযা-বাল্লা-হি শাদীদ
সেদিন তুমি দেখবে প্রতিটি দুগ্ধদায়িনী ভুলে যাবে তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে, আর প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করে ফেলবে, আর মানুষকে দেখবে মাতাল, যদিও তারা প্রকৃতপক্ষে মাতাল নয়, কিন্তু আল্লাহর শাস্তি বড়ই কঠিন (যার কারণে তাদের ঐ অবস্থা ঘটবে)।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُجَٰدِلُ فِى ٱللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍۢ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَٰنٍۢ مَّرِيدٍۢ ٣
ওয়ামিনান না-সি মান ইউজা-দিলু ফিল্লা-হি বিগাইরি ‘ইলমিঁ ওয়ায়াত্তাবি‘উ কুল্লা শাইতা-নিম মারীদ
কতক মানুষ জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্বন্ধে বাদানুবাদ করে, আর প্রত্যেক অবাধ্য শয়ত্বানের অনুসরণ করে।
كُتِبَ عَلَيْهِ أَنَّهُۥ مَن تَوَلَّاهُ فَأَنَّهُۥ يُضِلُّهُۥ وَيَهْدِيهِ إِلَىٰ عَذَابِ ٱلسَّعِيرِ ٤
কুতিবা ‘আলাইহি আন-নাহূ মান তাওয়াল্লা-হু ফাআন্নাহূ ইউদিল্লুহূ ওয়ায়াহদীহি ইলা ‘আযা-বিস সা‘ঈর
যার (অর্থাৎ শয়ত্বানের) সম্পর্কে বিধান করা হয়েছে যে, যে কেউ তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়বে, সে তাকে বিপথগামী করবে, আর তাকে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি শাস্তির দিকে পরিচালিত করবে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِن كُنتُمْ فِى رَيْبٍۢ مِّنَ ٱلْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَٰكُم مِّن تُرَابٍۢ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍۢ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍۢ ثُمَّ مِن مُّضْغَةٍۢ مُّخَلَّقَةٍۢ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍۢ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ وَنُقِرُّ فِى ٱلْأَرْحَامِ مَا نَشَآءُ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًۭا ثُمَّ لِتَبْلُغُوٓا۟ أَشُدَّكُمْ ۖ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰٓ أَرْذَلِ ٱلْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنۢ بَعْدِ عِلْمٍۢ شَيْـًۭٔا ۚ وَتَرَى ٱلْأَرْضَ هَامِدَةًۭ فَإِذَآ أَنزَلْنَا عَلَيْهَا ٱلْمَآءَ ٱهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنۢبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍۭ بَهِيجٍۢ ٥
ইয়া-আইয়্যুহান না-সু ইন কুনতুম ফী রাইবিম মিনাল বা‘ছি ফাইন্না খালাকনা-কুম মিন তুরা-বিন ছুম্মা মিন নুতফাতিন ছুম্মা মিন ‘আলাকাতিন ছুম্মা মিম মুদগাতিম মুখাল্লাকাতিঁ ওয়াগাইরি মুখাল্লাকাতিল লিনুবাইয়্যিনা লাকুম ওয়ানুকির্রু ফিল আরহা-মি মা নাশা-উ ইলা- আজালিম মুসাম্মান ছুম্মা নুখরিজুকুম তিফলান ছুম্মা লিতাবলুগূ আশুদ্দাকুম ওয়ামিনকুম মান ইউতাওয়াফ্ফা ওয়ামিনকুম মান ইউরাদ্দু ইলা- আরযালিল ‘উমুরি লিকাইলা ইয়া‘লামা মিম বা‘দি ‘ইলমিন শাইআ ওয়াতারাল আরদা হা-মিদাতান ফাইযা- আনযালনা ‘আলাইহাল মা-আহতায্যাত ওয়ারাবাত ওয়াআমবাতাত মিন কুল্লি যাওজিম বাহীজ
হে মানুষ! পুনরুত্থানের ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দিহান হও, তাহলে (চিন্তা করে দেখ) আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, অতঃপর শুক্র হতে, অতঃপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর মাংসপিন্ড হতে পূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট বা অপূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট অবস্থায় (আমার শক্তি-ক্ষমতা) তোমাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরার জন্য। আর আমি যাকে ইচ্ছে করি তাকে একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত মাতৃগর্ভে রাখি, অতঃপর তোমাদেরকে বের করে আনি শিশুরূপে, অতঃপর (লালন পালন) করি যাতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ শক্তির বয়সে পৌঁছতে পার। তোমাদের কারো কারো মৃত্যু ঘটাই, আর কতককে ফিরিয়ে দেয়া হয় নিস্ক্রিয় বার্ধক্যে যাতে (অনেক) জ্ঞান লাভের পরেও তাদের আর কোন জ্ঞান থাকে না। অতঃপর (আরো) তোমরা ভূমিকে দেখ শুষ্ক, মৃত; অতঃপর আমি যখন তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তাতে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়, আর তা উদগত করে সকল প্রকার নয়নজুড়ানো উদ্ভিদ (জোড়ায় জোড়ায়)।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْحَقُّ وَأَنَّهُۥ يُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ وَأَنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٦
যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা হুওয়াল হাক্কু ওয়াআন্নাহূ ইউহইয়িল মাওতা ওয়াআন্নাহূ ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
এ রকম হয় এজন্য যে, আল্লাহ হলেন সত্য সঠিক, আর তিনিই মৃতকে জীবিত করেন, আর তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।
وَأَنَّ ٱلسَّاعَةَ ءَاتِيَةٌۭ لَّا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ ٱللَّهَ يَبْعَثُ مَن فِى ٱلْقُبُورِ ٧
ওয়াআন্নাস সা-‘আতা আ-তিয়াতুল লা রাইবা ফীহা ওয়াআন্নাল্লা-হা ইয়াব‘আছু মান ফিল কুবূর
আর কিয়ামাত অবশ্যই আসবে, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই এবং যারা কবরে আছে আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করবেন।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُجَٰدِلُ فِى ٱللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍۢ وَلَا هُدًۭى وَلَا كِتَٰبٍۢ مُّنِيرٍۢ ٨
ওয়ামিনান না-সি মান ইউজা-দিলু ফিল্লা-হি বিগাইরি ‘ইলমিঁ ওয়ালা হুদাঁ ওয়ালা কিতা-বিম মুনীর
তবুও মানুষের মধ্যে এমন আছে যারা জ্ঞান, পথের দিশা ও কোন আলোকপ্রদানকারী কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে।
ثَانِىَ عِطْفِهِۦ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ لَهُۥ فِى ٱلدُّنْيَا خِزْىٌۭ ۖ وَنُذِيقُهُۥ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ عَذَابَ ٱلْحَرِيقِ ٩
ছা-নিয়া ‘ইতফিহী লিইউদিল্লা ‘আন সাবীলিল্লা-হি লাহূ ফিদ দুনইয়া খিযা ওয়ানুযীকুহূ ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ‘আযা-বাল হারীক
(বিতর্ক করে অবজ্ঞাভরে) ঘাড় বাঁকিয়ে (লোকেদেরকে) আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার উদ্দেশে। তার জন্য আছে লাঞ্ছনা এ দুনিয়াতে, আর কিয়ামাতের দিন তাকে আস্বাদন করাব (অগ্নির) দহন যন্ত্রণা।
ذَٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ يَدَاكَ وَأَنَّ ٱللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّٰمٍۢ لِّلْعَبِيدِ ١٠
যা-লিকা বিমা কাদ্দামাত ইয়াদা-কা ওয়াআন্নাল্লা-হা লাইসা বিযাল্লা-মিল লিল‘আবীদ
(বলা হবে) তোমার হাত দু’খানা আগেই যা পাঠিয়েছিল এটা তারই ফল, কারণ আল্লাহ তো তাঁর বান্দাহদের প্রতি যালিম নন।
وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَعْبُدُ ٱللَّهَ عَلَىٰ حَرْفٍۢ ۖ فَإِنْ أَصَابَهُۥ خَيْرٌ ٱطْمَأَنَّ بِهِۦ ۖ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ ٱنقَلَبَ عَلَىٰ وَجْهِهِۦ خَسِرَ ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةَ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْخُسْرَانُ ٱلْمُبِينُ ١١
ওয়ামিনান না-সি মান ইয়া‘বুদুল্লা-হা ‘আলা হারফিন ফাইন আসা-বাহূ খাইরুনিতমাআন্না বিহী ওয়াইন আসা-বাতহু ফিতনাতুনিনকালাবা ‘আলা ওয়াজহিহী খাসিরাদ দুনইয়া ওয়ালআ-খিরাহ যা-লিকা হুওয়াল খুসরা-নুল মুবীন
মানুষের মধ্যে এমন কতক আছে যারা শেষ সীমায় অবস্থান করে আল্লাহর ‘ইবাদাত করে। অতঃপর তার কল্যাণ হলে, তা নিয়ে সে তৃপ্ত থাকে, আর কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হলে সে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সে দুনিয়াতেও আর আখিরাতেও- এটাই হল স্পষ্ট ক্ষতি।
يَدْعُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُۥ وَمَا لَا يَنفَعُهُۥ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلضَّلَٰلُ ٱلْبَعِيدُ ١٢
ইয়াদ‘ঊ মিন দূনিল্লা-হি মা লা ইয়াদুর্রুহূ ওয়ামা লা ইয়ানফা‘উহ যা-লিকা হুওয়াদ দালা-লুল বা‘ঈদ
আল্লাহকে বাদ দিয়ে সে এমন কিছুকে ডাকে যা না পারে তার কোন ক্ষতি করতে আর না পারে কোন উপকার করতে, এটাই হল চরম আকারের গুমরাহী।
يَدْعُوا۟ لَمَن ضَرُّهُۥٓ أَقْرَبُ مِن نَّفْعِهِۦ ۚ لَبِئْسَ ٱلْمَوْلَىٰ وَلَبِئْسَ ٱلْعَشِيرُ ١٣
ইয়াদ‘ঊ লামান দার্রুহূ আকরাবু মিন নাফ‘ইহ লাবি’সাল মাওলা ওয়ালাবি’সাল ‘আশীর
সে এমন কিছুকে ডাকে যার লাভের চেয়ে ক্ষতিই নিকটবর্তী, কত মন্দই না এই অভিভাবক, আর কত মন্দই না এই সঙ্গী!
إِنَّ ٱللَّهَ يُدْخِلُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ ١٤
ইন্নাল্লা-হা ইউদখিলুল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-র ইন্নাল্লা-হা ইয়াফ‘আলু মা ইউরীদ
যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার নিম্নদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, আল্লাহ যা করতে চান, তাই করেন।
مَن كَانَ يَظُنُّ أَن لَّن يَنصُرَهُ ٱللَّهُ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ فَلْيَمْدُدْ بِسَبَبٍ إِلَى ٱلسَّمَآءِ ثُمَّ لْيَقْطَعْ فَلْيَنظُرْ هَلْ يُذْهِبَنَّ كَيْدُهُۥ مَا يَغِيظُ ١٥
মান কা-না ইয়াযুন্নু আল লান ইয়ানসুরাহুল্লা-হু ফিদ দুনইয়া ওয়ালআ-খিরাতি ফালইয়ামদুদ বিসাবাবিন ইলাস সামা-ই ছুম্মা লইয়াকতা‘ ফালইয়ানযুর হাল ইউযহিবান্না কাইদুহূ মা ইয়াগীয
যে কেউ ধারণা করে যে আল্লাহ তাকে (অর্থাৎ তাঁর রসূলকে) কক্ষনো দুনিয়া ও আখিরাতে সাহায্য করবেন না, তাহলে সে আকাশ পর্যন্ত একটা দড়ি ঝুলিয়ে নিক, অতঃপর তা কেটে দিক, অতঃপর সে দেখুক তার কলা-কৌশল তার রাগের কারণ দূর করে কিনা। (রসূলের দুশমন নিজের ঝুলানো দড়িটাই কাটুক, কেননা সে তো রসূলের প্রতি আল্লাহর সাহায্যের দড়িটা কক্ষনো কাটতে পারবে না।)
وَكَذَٰلِكَ أَنزَلْنَٰهُ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍۢ وَأَنَّ ٱللَّهَ يَهْدِى مَن يُرِيدُ ١٦
ওয়াকাযা-লিকা আনযালনা-হু আ-য়া-তিম বাইয়্যিনা-তিঁ ওয়াআন্নাল্লা-হা ইয়াহদী মান ইউরীদ
এভাবেই আমি স্পষ্ট নিদর্শনরূপে কুরআন অবতীর্ণ করেছি আর আল্লাহ যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ هَادُوا۟ وَٱلصَّٰبِـِٔينَ وَٱلنَّصَٰرَىٰ وَٱلْمَجُوسَ وَٱلَّذِينَ أَشْرَكُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ شَهِيدٌ ١٧
ইন্নাল লাযীনা আ-মানূ ওয়াল্লাযীনা হা-দূ ওয়াস্সা-বিঈনা ওয়ান্নাসা-রা ওয়ালমাজূসা ওয়াল্লাযীনা আশরাকূ ইন্নাল্লা-হা ইয়াফসিলু বাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাহ ইন্নাল্লা-হা ‘আলা কুল্লি শাইইন শাহীদ
যারা ঈমান এনেছে আর যারা ইয়াহূদী হয়েছে, আর যারা সাবিয়ী, নাসারা, অগ্নিপূজক ও মুশরিক, আল্লাহ কিয়ামাতের দিন এদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন (যে কারা সঠিক পথে আছে), কারণ আল্লাহ সব কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী।
২২:১৮ সিজদা
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يَسْجُدُ لَهُۥ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَن فِى ٱلْأَرْضِ وَٱلشَّمْسُ وَٱلْقَمَرُ وَٱلنُّجُومُ وَٱلْجِبَالُ وَٱلشَّجَرُ وَٱلدَّوَآبُّ وَكَثِيرٌۭ مِّنَ ٱلنَّاسِ ۖ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيْهِ ٱلْعَذَابُ ۗ وَمَن يُهِنِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِن مُّكْرِمٍ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَآءُ ۩ ١٨
আলাম তারা আন-নাল্লা-হা ইয়াসজুদু লাহূ মান ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামান ফিল আরদি ওয়াশ্শামসু ওয়ালকামারু ওয়ান্নুজূমু ওয়ালজিবা-লু ওয়াশ্শাজারু ওয়াদ্দাওয়া-ব্বু ওয়াকাছীরুম মিনান না-সি ওয়াকাছীরুন হাক্কা ‘আলাইহিল ‘আযা-ব ওয়ামান ইউহিনিল্লা-হু ফামা লাহূ মিম মুকরিম ইন্নাল্লা-হা ইয়াফ‘আলু মা ইয়াশা-আ
তুমি কি দেখ না যে আল্লাহকে সেজদা করে যারা আকাশে আছে, আর যারা পৃথিবীতে আছে আর সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি, পর্বতসমূহ, বৃক্ষরাজি, জীবজন্তু এবং মানুষের মধ্যে অনেকে? আর অনেকের প্রতি শাস্তি সাব্যস্ত হয়ে গেছে। আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করতে চান, তাকে সম্মানিত করার কেউ নেই। আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তাই করেন।[সাজদাহ]
۞ هَٰذَانِ خَصْمَانِ ٱخْتَصَمُوا۟ فِى رَبِّهِمْ ۖ فَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌۭ مِّن نَّارٍۢ يُصَبُّ مِن فَوْقِ رُءُوسِهِمُ ٱلْحَمِيمُ ١٩
হা-যা-নি খাসমা-নিখতাসামূ ফী রাব্বিহিম ফাল্লাযীনা কাফারূ কুত্তি‘আত লাহুম ছিয়া-বুম মিন না-রিঁ ইউসাব্বু মিন ফাওকি রুঊসিহিমুল হামীম
এরা বিবাদের দু’টি পক্ষ, (মু’মিনরা একটি পক্ষ, আর সমস্ত কাফিররা আরেকটি পক্ষ) এরা এদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বাদানুবাদ করে, অতঃপর যারা (তাদের প্রতিপালককে) অস্বীকার করে, তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে আগুনের পোশাক, তাদের মাথার উপর ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি।
يُصْهَرُ بِهِۦ مَا فِى بُطُونِهِمْ وَٱلْجُلُودُ ٢٠
ইউসহারু বিহী মা ফী বুতূনিহিম ওয়ালজুলূদ
যা দিয়ে তাদের পেটে যা আছে তা ও তাদের চামড়া গলিয়ে দেয়া হবে।
وَلَهُم مَّقَٰمِعُ مِنْ حَدِيدٍۢ ٢١
ওয়ালাহুম মাকা-মি‘উ মিন হাদীদ
উপরন্তু তাদের (শাস্তির) জন্য থাকবে লোহার মুগুর।
كُلَّمَآ أَرَادُوٓا۟ أَن يَخْرُجُوا۟ مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا۟ فِيهَا وَذُوقُوا۟ عَذَابَ ٱلْحَرِيقِ ٢٢
কুল্লামা- আরা-দূ আন ইয়াখরুজূ মিনহা মিন গাম্মিন উ‘ঈদূ ফীহা ওয়াযূকূ ‘আযা-বাল হারীক
যখনই তারা যন্ত্রণার চোটে তাত্থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে (তখনই) তাদেরকে তার ভিতরে ফিরিয়ে দেয়া হবে, (আর বলা হবে, আগুনে) পুড়ার শাস্তি আস্বাদন কর।
إِنَّ ٱللَّهَ يُدْخِلُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍۢ وَلُؤْلُؤًۭا ۖ وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌۭ ٢٣
ইন্নাল্লা-হা ইউদখিলুল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ইউহাল্লাওনা ফীহা মিন আসা-উইরা মিন যাহাবিঁ ওয়ালু’লুআঁ ওয়ালিবা-সুহুম ফীহা হারীর
যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন আর মুক্তা দিয়ে আর সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।
وَهُدُوٓا۟ إِلَى ٱلطَّيِّبِ مِنَ ٱلْقَوْلِ وَهُدُوٓا۟ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلْحَمِيدِ ٢٤
ওয়াহুদূ ইলাত তাইয়্যিবি মিনাল কাওলি ওয়াহুদূ ইলা সিরা-তিল হামীদ
তাদেরকে (দুনিয়ার জীবনে) পথ দেখানো হয়েছিল পবিত্র বাক্যের (অর্থাৎ কালিমা তাইয়্যেবা বা আল-কুরআনের) দিকে আর তারা পরিচালিত হয়েছিল তাঁর পথে যিনি সকল প্রশংসার দাবীদার।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ٱلَّذِى جَعَلْنَٰهُ لِلنَّاسِ سَوَآءً ٱلْعَٰكِفُ فِيهِ وَٱلْبَادِ ۚ وَمَن يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍۭ بِظُلْمٍۢ نُّذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍۢ ٢٥
ইন্নাল লাযীনা কাফারূ ওয়ায়াসুদ্দূনা ‘আন সাবীলিল্লা-হি ওয়ালমাসজিদিল হারা-মিল লাযী জা‘আলনা-হু লিন্না-সি সাওয়া-আনিল ‘আ-কিফু ফীহি ওয়ালবা-দ ওয়ামান ইউরিদ ফীহি বিইলহা-দিম বিযুলমিন নুযিকহু মিন ‘আযা-বিন আলীম
যারা কুফুরী করে আর আল্লাহর পথে (মানুষের চলার ক্ষেত্রে) বাধা সৃষ্টি করে আর মাসজিদে হারামে যেতেও- যাকে আমি করেছি স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যদেশবাসী সকলের জন্য সমান। যে তাতে অন্যায়ভাবে কোন ধর্মদ্রোহী কাজ করার ইচ্ছে করে তাকে আমি আস্বাদন করাব ভয়াবহ শাস্তি।
وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَٰهِيمَ مَكَانَ ٱلْبَيْتِ أَن لَّا تُشْرِكْ بِى شَيْـًۭٔا وَطَهِّرْ بَيْتِىَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلْقَآئِمِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ ٢٦
ওয়াইয বাওয়া’না লিইবরা-হীমা মাকা-নাল বাইতি আল লা তুশরিক বী শাইআঁ ওয়াতাহ্হির বাইতিয়া লিত্তা-ইফীনা ওয়ালকা-ইমীনা ওয়ার্রুক্কা‘ইস সুজূদ
স্মরণ কর যখন আমি ইবরাহীমকে (পবিত্র) গৃহের স্থান চিহ্নিত করে দিয়েছিলাম, (তখন বলেছিলাম) আমার সাথে কোন কিছুকে অংশীদার গণ্য করবে না, আর আমার গৃহকে পবিত্র রাখবে তাওয়াফকারী, নামাযে কিয়ামকারী, রূকু‘কারী ও সেজদাকারীদের জন্য।
وَأَذِّن فِى ٱلنَّاسِ بِٱلْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًۭا وَعَلَىٰ كُلِّ ضَامِرٍۢ يَأْتِينَ مِن كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍۢ ٢٧
ওয়াআয্যিন ফিন না-সি বিলহাজ্জি ইয়া’তূকা রিজা-লাঁ ওয়া‘আলা কুল্লি দা-মিরিঁ ইয়া’তীনা মিন কুল্লি ফাজ্জিন ‘আমীক
আর মানুষের মাঝে হাজ্জের ঘোষণা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে, আর সব (পথক্লান্ত) শীর্ণ উটের পিঠে, বহু দূরের গভীর পর্বত সংকুল পথ বেয়ে
لِّيَشْهَدُوا۟ مَنَٰفِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا۟ ٱسْمَ ٱللَّهِ فِىٓ أَيَّامٍۢ مَّعْلُومَٰتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلْأَنْعَٰمِ ۖ فَكُلُوا۟ مِنْهَا وَأَطْعِمُوا۟ ٱلْبَآئِسَ ٱلْفَقِيرَ ٢٨
লিয়াশহাদূ মানা-ফি‘আ লাহুম ওয়ায়াযকুরুসমাল্লা-হি ফী আইয়্যা-মিম মা‘লূমা-তিন ‘আলা মা রাযাকাহুম মিম বাহীমাতিল আন‘আ-মি ফাকুলূ মিনহা ওয়াআত‘ইমুল বা-ইসাল ফাকীর
যাতে তারা তাদের জন্য (এখানে রাখা দুনিয়া ও আখিরাতের) কল্যাণগুলো প্রত্যক্ষ করতে পারে আর তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যে রিযক দান করেছেন, নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। কাজেই তোমরা (নিজেরা) তাত্থেকে খাও আর দুঃস্থ অভাবীদের খাওয়াও।
ثُمَّ لْيَقْضُوا۟ تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا۟ نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا۟ بِٱلْبَيْتِ ٱلْعَتِيقِ ٢٩
ছুম্মা লইয়াকদূ তাফাছাহুম ওয়ালইউফূ নুযূরাহুম ওয়ালইয়াত্তাওয়াফূ বিলবাইতিল ‘আতীক
অতঃপর তারা যেন তাদের দৈহিক অপরিচ্ছন্নতা দূর করে, তাদের মানৎ পূর্ণ করে আর প্রাচীন গৃহের তাওয়াফ করে।
ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَٰتِ ٱللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌۭ لَّهُۥ عِندَ رَبِّهِۦ ۗ وَأُحِلَّتْ لَكُمُ ٱلْأَنْعَٰمُ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ ۖ فَٱجْتَنِبُوا۟ ٱلرِّجْسَ مِنَ ٱلْأَوْثَٰنِ وَٱجْتَنِبُوا۟ قَوْلَ ٱلزُّورِ ٣٠
যা-লিকা ওয়ামান ইউ‘আয্যিম হুরুমা-তিল্লা-হি ফাহুওয়া খাইরুল লাহূ ‘ইনদা রাব্বিহ ওয়াউহিল্লাত লাকুমুল আন‘আ-মু ইল্লা মা ইউতলা ‘আলাইকুম ফাজতানিবুর রিজসা মিনাল আওছা-নি ওয়াজতানিবূ কাওলায যূর
এটাই (হাজ্জ), যে কেউ আল্লাহর নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলোর সম্মান করবে, সেটা তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য উত্তম। চতুষ্পদ জন্তুগুলো তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে সেগুলো ছাড়া যেগুলোর ব্যাপারে তোমাদেরকে পড়ে শুনানো হয়েছে। কাজেই তোমরা মূর্তিদের অপবিত্রতা বর্জন কর আর মিথ্যে কথা পরিহার কর
حُنَفَآءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِۦ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِٱللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ ٱلسَّمَآءِ فَتَخْطَفُهُ ٱلطَّيْرُ أَوْ تَهْوِى بِهِ ٱلرِّيحُ فِى مَكَانٍۢ سَحِيقٍۢ ٣١
হুনাফা-আ লিল্লা-হি গাইরা মুশরিকীনা বিহ ওয়ামান ইউশরিক বিল্লা-হি ফাকাআন্নামা খার্রা মিনাস সামা-ই ফাতাখতাফুহুত তাইরু আও তাহউঈ বিহির রীহু ফী মাকা-নিন সাহীক
আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর সাথে শরীক না করে। যে কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল, আর পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিংবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে দূরবর্তী স্থানে ছুঁড়ে ফেলে দিল।
ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى ٱلْقُلُوبِ ٣٢
যা-লিকা ওয়ামান ইউ‘আয্যিম শা‘আ-ইরাল্লা-হি ফাইন্নাহা মিন তাকওয়াল কুলূব
এই (তার অবস্থা), আর যে কেউ আল্লাহর নিদর্শনগুলোকে সম্মান করবে সে তো তার অন্তরস্থিত আল্লাহ-ভীতি থেকেই তা করবে।
لَكُمْ فِيهَا مَنَٰفِعُ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ثُمَّ مَحِلُّهَآ إِلَى ٱلْبَيْتِ ٱلْعَتِيقِ ٣٣
লাকুম ফীহা মানা-ফি‘উ ইলা- আজালিম মুসাম্মান ছুম্মা মাহিল্লুহা- ইলাল বাইতিল ‘আতীক
এতে (অর্থাৎ কুরবানীর পশুতে) তোমাদের জন্য নানান উপকার রয়েছে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত (কুরবানীর জায়গায় পৌঁছা পর্যন্ত তোমরা এই জন্তুগুলোর দ্বারা উপকৃত হতে পার), সর্বশেষে এগুলোর কুরবানীর স্থান হচ্ছে প্রাচীন ঘরের নিকট।
وَلِكُلِّ أُمَّةٍۢ جَعَلْنَا مَنسَكًۭا لِّيَذْكُرُوا۟ ٱسْمَ ٱللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلْأَنْعَٰمِ ۗ فَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌۭ وَٰحِدٌۭ فَلَهُۥٓ أَسْلِمُوا۟ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُخْبِتِينَ ٣٤
ওয়ালিকুল্লি উম্মাতিন জা‘আলনা মানসাকাল লিয়াযকুরুসমাল্লা-হি ‘আলা মা রাযাকাহুম মিম বাহীমাতিল আন‘আ-ম ফাইলা-হুকুম ইলা-হুঁ ওয়া-হিদুন ফালাহূ আসলিমূ ওয়াবাশ্শিরিল মুখবিতীন
আমি প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য (কুরবানীর) নিয়ম করে দিয়েছি। তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যে রিযক্ দেয়া হয়েছে সেগুলোর উপর তারা যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে, (এই বিভিন্ন নিয়ম-পদ্ধতির মূল লক্ষ্য কিন্তু এক- আল্লাহর নির্দেশ পালন), কারণ তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য, কাজেই তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ কর আর সুসংবাদ দাও সেই বিনীতদেরকে-
ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَٱلصَّٰبِرِينَ عَلَىٰ مَآ أَصَابَهُمْ وَٱلْمُقِيمِى ٱلصَّلَوٰةِ وَمِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ يُنفِقُونَ ٣٥
আল্লাযীনা ইযা যুকিরাল্লা-হু ওয়াজিলাত কুলূবুহুম ওয়াস্সা-বিরীনা ‘আলা মা- আসা-বাহুম ওয়ালমুকীমিস সালা-তি ওয়ামিম্মা রাযাকনা-হুম ইউনফিকূন
‘আল্লাহ’ নামের উল্লেখ হলেই যাদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে, যারা তাদের বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করে, নামায কায়িম করে, আর তাদেরকে আমি যে রিযক্ দিয়েছি তাত্থেকে তারা ব্যয় করে।
وَٱلْبُدْنَ جَعَلْنَٰهَا لَكُم مِّن شَعَٰٓئِرِ ٱللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌۭ ۖ فَٱذْكُرُوا۟ ٱسْمَ ٱللَّهِ عَلَيْهَا صَوَآفَّ ۖ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا۟ مِنْهَا وَأَطْعِمُوا۟ ٱلْقَانِعَ وَٱلْمُعْتَرَّ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرْنَٰهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ٣٦
ওয়ালবুদনা জা‘আলনা-হা লাকুম মিন শা‘আ-ইরিল্লা-হি লাকুম ফীহা খাইরুন ফাযকুরুসমাল্লা-হি ‘আলাইহা সাওয়া-ফ্ফা ফাইযা ওয়াজাবাত জুনূবুহা ফাকুলূ মিনহা ওয়াআত‘ইমুল কা-নি‘আ ওয়ালমু‘তার্র কাযা-লিকা সাখ্খারনা-হা লাকুম লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন
আর (কুরবানীর) উটগুলোকে আমি করেছি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ আছে, কাজেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো অবস্থায় ওগুলোর উপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। যখন তা পার্শ্বভরে পড়ে যায়, তখন তাথেকে খাও আর যারা (ভিক্ষে না ক’রে) পরিতৃপ্ত থাকে তাদেরকে আর যারা কাকুতি মিনতি ক’রে যাচ্ঞা করে তাদেরকেও খাওয়াও। এভাবে আমি ওগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
لَن يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقْوَىٰ مِنكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا۟ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمْ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُحْسِنِينَ ٣٧
লান ইয়ানা-লাল্লা-হা লুহূমুহা ওয়ালা দিমা-উহা ওয়ালা-কিন ইয়ানা-লুহুত তাকওয়া মিনকুম কাযা-লিকা সাখ্খারাহা লাকুম লিতুকাব্বিরুল্লা-হা ‘আলা মা হাদা-কুম ওয়াবাশ্শিরিল মুহসিনীন
আল্লাহর কাছে ওগুলোর না গোশত পৌঁছে, আর না রক্ত পৌঁছে বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি ওগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে পার এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, কাজেই সৎকর্মশীলদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।
۞ إِنَّ ٱللَّهَ يُدَٰفِعُ عَنِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍۢ كَفُورٍ ٣٨
ইন্নাল্লা-হা ইউদা-ফি‘উ ‘আনিল লাযীনা আ-মানূ ইন্নাল্লা-হা লা ইউহিব্বু কুল্লা খাওয়া-নিন কাফূর
আল্লাহ মু’মিনদেরকে রক্ষা করেন (যাবতীয় মন্দ হতে)। আল্লাহ কোন খিয়ানাতকারী, অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَٰتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا۟ ۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ ٣٩
উযিনা লিল্লাযীনা ইউকা-তালূনা বিআন্নাহুম যুলিমূ ওয়াইন্নাল্লা-হা ‘আলা নাসরিহিম লাকাদীর
যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয় তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হল, কেননা তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম।
ٱلَّذِينَ أُخْرِجُوا۟ مِن دِيَٰرِهِم بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّآ أَن يَقُولُوا۟ رَبُّنَا ٱللَّهُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍۢ لَّهُدِّمَتْ صَوَٰمِعُ وَبِيَعٌۭ وَصَلَوَٰتٌۭ وَمَسَٰجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا ٱسْمُ ٱللَّهِ كَثِيرًۭا ۗ وَلَيَنصُرَنَّ ٱللَّهُ مَن يَنصُرُهُۥٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَقَوِىٌّ عَزِيزٌ ٤٠
আল্লাযীনা উখরিজূ মিন দিয়া-রিহিম বিগাইরি হাক্কিন ইল্লা- আন ইয়াকূলূ রাব্বুনাল্লা-হ ওয়ালাওলা দাফ‘উল্লা-হিন না-সা বা‘দাহুম বিবা‘দিল লাহুদ্দিমাত সাওয়া-মি‘উ ওয়াবিয়া‘উঁ ওয়াসালাওয়া-তুঁ ওয়ামাসা-জিদু ইউযকারু ফীহাসমুল্লা-হি কাছীরা ওয়ালায়ানসুরান্নাল্লা-হু মান ইয়ানসুরুহ ইন্নাল্লা-হা লাকাউইয়্যুন ‘আযীয
তাদেরকে অন্যায়ভাবে গৃহ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে শুধু তাদের এ কথা বলার কারণে যে, ‘আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক।’ আল্লাহ যদি মানুষদের এক দলের দ্বারা অন্য দলকে প্রতিহত না করতেন, তাহলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রীষ্টান সংসারত্যাগীদের উপাসনালয়, গির্জা ও ইয়াহূদীদের উপাসনার স্থান আর মাসজিদসমূহ যেখানে আল্লাহর নাম অধিকহারে স্মরণ করা হয়। আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে, আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রান্ত।
ٱلَّذِينَ إِن مَّكَّنَّٰهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ أَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَمَرُوا۟ بِٱلْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا۟ عَنِ ٱلْمُنكَرِ ۗ وَلِلَّهِ عَٰقِبَةُ ٱلْأُمُورِ ٤١
আল্লাযীনা ইম মাক্কান্না-হুম ফিল আরদি আকা-মুস সালা-তা ওয়াআ-তাউয যাকা-তা ওয়াআমারূ বিলমা‘রূফি ওয়ানাহাও ‘আনিল মুনকার ওয়ালিল্লা-হি ‘আ-কিবাতুল উমূর
(এরা হল) যাদেরকে আমি যমীনে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত প্রদান করে, সৎ কাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজে নিষেধ করে, সকল কাজের শেষ পরিণাম (ও সিদ্ধান্ত) আল্লাহর হাতে নিবদ্ধ।
وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍۢ وَعَادٌۭ وَثَمُودُ ٤٢
ওয়াইন ইউকায্যিবূকা ফাকাদ কায্যাবাত কাবলাহুম কাওমু নূহিঁ ওয়া‘আ-দুঁ ওয়াছামূদ
লোকেরা যদি তোমাকে অস্বীকার করে তাহলে (জেনে রেখ এটা কোন নতুন ব্যাপার নয়) তাদের পূর্বে নূহ, ‘আদ ও সামূদ সম্প্রদায়ও (তাদের রসূলদের) অস্বীকার করেছিল।
وَقَوْمُ إِبْرَٰهِيمَ وَقَوْمُ لُوطٍۢ ٤٣
ওয়াকাওমু ইবরা-হীমা ওয়াকাওমু লূত
আর ইবরাহীমের সম্প্রদায় ও লূতের সম্প্রদায়ও (অস্বীকার করেছিল)।
وَأَصْحَٰبُ مَدْيَنَ ۖ وَكُذِّبَ مُوسَىٰ فَأَمْلَيْتُ لِلْكَٰفِرِينَ ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ ۖ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ ٤٤
ওয়াআসহা-বু মাদইয়ানা ওয়াকুয্যিবা মূসা ফাআমলাইতু লিলকা-ফিরীনা ছুম্মা আখাযতুহুম ফাকাইফা কা-না নাকীর
আর মাদইয়ানবাসীরাও [অস্বীকার করেছিল যারা ছিল শু‘আয়ব (আঃ)-এর সম্প্রদায়], আর মূসাকেও অস্বীকার করা হয়েছিল। আমি অস্বীকারকারীদেরকে সময়- সুযোগ দিয়েছিলাম, অতঃপর তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম। কত ভীষণ ছিল আমাকে অস্বীকার করার পরিণতি!
فَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَٰهَا وَهِىَ ظَالِمَةٌۭ فَهِىَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا وَبِئْرٍۢ مُّعَطَّلَةٍۢ وَقَصْرٍۢ مَّشِيدٍ ٤٥
ফাকাআইয়্যিম মিন কারইয়াতিন আহলাকনা-হা ওয়াহিয়া যা-লিমাতুন ফাহিয়া খা-উইয়াতুন ‘আলা ‘উরূশিহা ওয়াবি’রিম মু‘আত্তালাতিঁ ওয়াকাসরিম মাশীদ
আমি কত জনবসতিকে ধ্বংস করেছি যেগুলোর অধিবাসীরা ছিল যালিম, সেগুলো ছাদের ভরে পতিত হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল, বিরাণ হয়েছিল কত কূপ আর সুউচ্চ সুদৃঢ় প্রাসাদরাজি।
أَفَلَمْ يَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌۭ يَعْقِلُونَ بِهَآ أَوْ ءَاذَانٌۭ يَسْمَعُونَ بِهَا ۖ فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى ٱلْأَبْصَٰرُ وَلَٰكِن تَعْمَى ٱلْقُلُوبُ ٱلَّتِى فِى ٱلصُّدُورِ ٤٦
আফালাম ইয়াসীরূ ফিল আরদি ফাতাকূনা লাহুম কুলূবুঁ ইয়া‘কিলূনা বিহা- আও আ-যা-নুঁ ইয়াসমা‘ঊনা বিহা ফাইন্নাহা লা তা‘মাল আবসা-রু ওয়ালা-কিন তা‘মাল কুলূবুল লাতী ফিস সুদূর
তারা কি যমীনে ভ্রমণ করে না? তাহলে তারা হৃদয় দিয়ে বুঝতে পারত, আর তাদের কান শুনতে পারত। প্রকৃতপক্ষে চোখ অন্ধ নয়, বরং বুকের ভিতর যে হৃদয় আছে তা-ই অন্ধ।
وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِٱلْعَذَابِ وَلَن يُخْلِفَ ٱللَّهُ وَعْدَهُۥ ۚ وَإِنَّ يَوْمًا عِندَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍۢ مِّمَّا تَعُدُّونَ ٤٧
ওয়ায়াসতা‘জিলূনাকা বিল‘আযা-বি ওয়ালান ইউখলিফাল্লা-হু ওয়া‘দাহ ওয়াইন্না ইয়াওমান ‘ইনদা রাব্বিকা কাআলফি সানাতিম মিম্মা তা‘উদ্দূন
তারা তোমাকে তাড়াতাড়ি শাস্তি নিয়ে আসতে বলে (কিন্তু শাস্তি তো আসবে আল্লাহর ও‘য়াদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে), কেননা আল্লাহ কক্ষনো তাঁর ওয়া‘দা খেলাফ করেন না, তোমার প্রতিপালকের একদিন হল তোমাদের গণনায় এক হাজার বছরের সমান।
وَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ أَمْلَيْتُ لَهَا وَهِىَ ظَالِمَةٌۭ ثُمَّ أَخَذْتُهَا وَإِلَىَّ ٱلْمَصِيرُ ٤٨
ওয়াকাআইয়্যিম মিন কারইয়াতিন আমলাইতু লাহা ওয়াহিয়া যা-লিমাতুন ছুম্মা আখাযতুহা ওয়াইলাইয়্যাল মাসীর
আমি কত জনপদকে সময়-সুযোগ দিয়েছি যখন তারা ছিল অন্যায় কাজে লিপ্ত। অতঃপর সেগুলোকে পাকড়াও করেছিলাম, (পালিয়ে কেউ তো কোথাও যেতে পারবে না) কেননা (সকলের) প্রত্যাবর্তন আমারই কাছে।
قُلْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّمَآ أَنَا۠ لَكُمْ نَذِيرٌۭ مُّبِينٌۭ ٤٩
কুল ইয়া-আইয়্যুহান না-সু ইন্নামা- আনা লাকুম নাযীরুম মুবীন
বল, ‘হে মানুষ! আমি (প্রেরিত হয়েছি) তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারীরূপে।’
فَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌۭ وَرِزْقٌۭ كَرِيمٌۭ ٥٠
ফাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি লাহুম মাগফিরাতুঁ ওয়ারিযকুন কারীম
কাজেই যারা ঈমান আনবে আর সৎ কাজ করবে তাদের জন্য কেবল আছে ক্ষমা আর সম্মানজনক জীবিকা।
وَٱلَّذِينَ سَعَوْا۟ فِىٓ ءَايَٰتِنَا مُعَٰجِزِينَ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْجَحِيمِ ٥١
ওয়াল্লাযীনা সা‘আও ফী আ-য়া-তিনা মু‘আ-জিযীনা উলা-ইকা আসহা-বুল জাহীম
আর যারা আমার নিদর্শনের বিরুদ্ধে চেষ্টা চালায়, সেগুলোর উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করার জন্য, তারাই হল জাহান্নামের বাসিন্দা।
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍۢ وَلَا نَبِىٍّ إِلَّآ إِذَا تَمَنَّىٰٓ أَلْقَى ٱلشَّيْطَٰنُ فِىٓ أُمْنِيَّتِهِۦ فَيَنسَخُ ٱللَّهُ مَا يُلْقِى ٱلشَّيْطَٰنُ ثُمَّ يُحْكِمُ ٱللَّهُ ءَايَٰتِهِۦ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ ٥٢
ওয়ামা- আরসালনা মিন কাবলিকা মির রাসূলিঁ ওয়ালা নাবিয়্যিন ইল্লা- ইযা তামান্না- আলকাশ শাইতা-নু ফী উমনিয়্যাতিহী ফায়ানসাখুল্লা-হু মা ইউলকিশ শাইতা-নু ছুম্মা ইউহকিমুল্লা-হু আ-য়া-তিহ ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম
আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী পাঠিয়েছি তাদের কেউ যখনই কোন আকাঙ্ক্ষা করেছে তখনই শয়ত্বান তার আকাঙ্ক্ষায় (প্রতিবন্ধকতা, সন্দেহ-সংশয়) নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু শয়ত্বান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা মুছে দেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। কারণ আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রেষ্ঠ হিকমতওয়ালা।
لِّيَجْعَلَ مَا يُلْقِى ٱلشَّيْطَٰنُ فِتْنَةًۭ لِّلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ وَٱلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ ۗ وَإِنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ لَفِى شِقَاقٍۭ بَعِيدٍۢ ٥٣
লিয়াজ‘আলা মা ইউলকিশ শাইতা-নু ফিতনাতাল লিল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুঁ ওয়ালকা-সিয়াতি কুলূবুহুম ওয়াইন্নায যা-লিমীনা লাফী শিকা-কিম বা‘ঈদ
(তিনি এটা হতে দেন এজন্য) যাতে তিনি শয়ত্বান যা মিশিয়ে দিয়েছে তা দ্বারা পরীক্ষা করতে পারেন তাদেরকে যাদের অন্তরে (মুনাফিকীর) ব্যাধি আছে, যারা শক্ত হৃদয়ের। অন্যায়কারীরা চরম মতভেদে লিপ্ত আছে।
وَلِيَعْلَمَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ أَنَّهُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَيُؤْمِنُوا۟ بِهِۦ فَتُخْبِتَ لَهُۥ قُلُوبُهُمْ ۗ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ٥٤
ওয়ালিয়া‘লামাল লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা আন-নাহুল হাক্কু মির রাব্বিকা ফাইউ’মিনূ বিহী ফাতুখবিতা লাহূ কুলূবুহুম ওয়াইন্নাল্লা-হা লাহা-দিল লাযীনা আ-মানূ ইলা সিরা-তিম মুসতাকীম
(আর অপরদিকে) যাতে, যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা জানতে পারে যে, এটা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (প্রেরিত) সত্য, অতঃপর তারা যেন তাতে বিশ্বাসী হয় আর তাদের অন্তর নম্রতাভরে তার প্রতি খুলে দেয়া হয়, কারণ আল্লাহ ঈমানদারদেরকে অবশ্যই সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
وَلَا يَزَالُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى مِرْيَةٍۢ مِّنْهُ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ ٱلسَّاعَةُ بَغْتَةً أَوْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَقِيمٍ ٥٥
ওয়ালা ইয়াযা-লুল লাযীনা কাফারূ ফী মিরইয়াতিম মিনহু হাত্তা তা’তিয়াহুমুস সা-‘আতু বাগতাতান আও ইয়া’তিয়াহুম ‘আযা-বু ইয়াওমিন ‘আকীম
অবিশ্বাসীরা তাতে (অর্থাৎ ওয়াহীতে) সন্দেহ পোষণ করা থেকে বিরত হবে না যতক্ষণ না কিয়ামাত আসবে হঠাৎ ক’রে অথবা তাদের উপর শাস্তি এসে যাবে এক বন্ধ্যা দিনে (যা কাফিরদেরকে কোন সুফল দিবে না)।
ٱلْمُلْكُ يَوْمَئِذٍۢ لِّلَّهِ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ ۚ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فِى جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ ٥٦
আলমুলকু ইয়াওমাইযিল্লিল্লা-হি ইয়াহকুমু বাইনাহুম ফাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি ফী জান্না-তিন না‘ঈম
ক্ষমতা-আধিপত্য সেদিন হবে আল্লাহরই, তিনি তাদের মাঝে বিচার-ফয়সালা করবেন। অতঃপর যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তারা থাকবে নি‘মাতরাজিতে পরিপূর্ণ জান্নাতে।
وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا فَأُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ٥٧
ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ওয়াকায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা ফাউলা-ইকা লাহুম ‘আযা-বুম মুহীন
আর যারা কুফুরী করে আর আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যে জেনে প্রত্যাখ্যান করে তাদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি।
وَٱلَّذِينَ هَاجَرُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ قُتِلُوٓا۟ أَوْ مَاتُوا۟ لَيَرْزُقَنَّهُمُ ٱللَّهُ رِزْقًا حَسَنًۭا ۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهُوَ خَيْرُ ٱلرَّٰزِقِينَ ٥٨
ওয়াল্লাযীনা হা-জারূ ফী সাবীলিল্লা-হি ছুম্মা কুতিলূ আও মা-তূ লায়ারযুকান্নাহুমুল্লা-হু রিযকান হাসানা ওয়াইন্নাল্লা-হা লাহুওয়া খাইরুর রা-যিকীন
আর যারা আল্লাহর পথে হিজরাত করেছে, অতঃপর নিহত হয়েছে, কিংবা মারা গেছে, আল্লাহ তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই উৎকৃষ্ট রিযক্ দান করবেন, আর আল্লাহ- তিনি তো সর্বোত্তম রিযকদাতা।
لَيُدْخِلَنَّهُم مُّدْخَلًۭا يَرْضَوْنَهُۥ ۗ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَعَلِيمٌ حَلِيمٌۭ ٥٩
লাইউদখিলান্নাহুম মুদখালাঁ ইয়ারদাওনাহ ওয়াইন্নাল্লা-হা লা‘আলীমুন হালীম
তিনি তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই দাখিল করবেন এমন জায়গায় যা পেয়ে তারা খুবই সন্তুষ্ট হবে, আর আল্লাহ নিশ্চিতই অবশ্যই সর্বজ্ঞ, পরম সহিষ্ণু।
۞ ذَٰلِكَ وَمَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوقِبَ بِهِۦ ثُمَّ بُغِىَ عَلَيْهِ لَيَنصُرَنَّهُ ٱللَّهُ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌۭ ٦٠
যা-লিকা ওয়ামান ‘আ-কাবা বিমিছলি মা ‘ঊকিবা বিহী ছুম্মা বুগিয়া ‘আলাইহি লায়ানসুরান্নাহুল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা লা‘আফুউন গাফূর
এতো হল তাদের অবস্থা, আর যে ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হলে সমপরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করে, অতঃপর আবার সে নিপীড়িত হয়, আল্লাহ তাকে অবশ্য অবশ্যই সাহায্য করবেন, আল্লাহ অবশ্যই মাফকারী ক্ষমাশীল।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَأَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌۭ ٦١
যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা ইউলিজুল লাইলা ফিন নাহা-রি ওয়াইউলিজুন নাহা-রা ফিল লাইলি ওয়াআন্নাল্লা-হা সামী‘উম বাসীর
এটা এজন্য যে, আল্লাহ রাতকে ঢুকিয়ে দেন দিনে, আর দিনকে ঢুকিয়ে দেন রাতে (দুঃখ বেদনার অন্ধকার দূর করে আনন্দের আলো এনে দেন আর আনন্দিত জনকে দুঃখের অাঁধারে ডুবিয়ে দেন)। আর আল্লাহ তো সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ هُوَ ٱلْبَٰطِلُ وَأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْكَبِيرُ ٦٢
যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা হুওয়াল হাক্কু ওয়াআন্না মা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূনিহী হুওয়াল বা-তিলু ওয়াআন্নাল্লা-হা হুওয়াল ‘আলিয়্যুল কাবীর
এজন্য যে, আল্লাহ- তিনিই সত্য, আর তাঁকে বাদ দিয়ে তারা অন্য যাকে ডাকে তা অলীক, অসত্য, আর আল্লাহ, তিনি তো সর্বোচ্চ, সুমহান।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَتُصْبِحُ ٱلْأَرْضُ مُخْضَرَّةً ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌۭ ٦٣
আলাম তারা আন-নাল্লা-হা আনযালা মিনাস সামা-ই মা-আন ফাতুসবিহুল আরদু মুখদার্রাহ ইন্নাল্লা-হা লাতীফুন খাবীর
তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, যার ফলে পৃথিবী সবুজে আচ্ছাদিত হয়ে যায়, নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্ণদর্শী, সর্ববিষয়ে ওয়াকিফহাল।
لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ ٦٤
লাহূ মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ ওয়াইন্নাল্লা-হা লাহুওয়াল গানিয়্যুল হামীদ
আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর, আর আল্লাহ, তিনি যাবতীয় অভাব থেকে মুক্ত, যাবতীয় প্রশংসার অধিকারী।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِى ٱلْأَرْضِ وَٱلْفُلْكَ تَجْرِى فِى ٱلْبَحْرِ بِأَمْرِهِۦ وَيُمْسِكُ ٱلسَّمَآءَ أَن تَقَعَ عَلَى ٱلْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ ٦٥
আলাম তারা আন-নাল্লা-হা সাখ্খারা লাকুম মা ফিল আরদি ওয়ালফুলকা তাজরী ফিল বাহরি বিআমরিহী ওয়াইউমসিকুস সামা-আ আন তাকা‘আ ‘আলাল আরদি ইল্লা বিইযনিহ ইন্নাল্লা-হা বিন্না-সি লারাঊফুর রাহীম
তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব তিনি তোমাদের কল্যাণ-কাজে লাগিয়ে রেখেছেন। আর নৌযানগুলো সমুদ্রে চলাচল করে তাঁর হুকুমেই? তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাতে তা পৃথিবীতে পতিত না হয় তাঁর অনুমতি ছাড়া। আল্লাহ মানুষের প্রতি নিশ্চিতই বড়ই করুণাশীল, বড়ই দয়াবান।
وَهُوَ ٱلَّذِىٓ أَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ۗ إِنَّ ٱلْإِنسَٰنَ لَكَفُورٌۭ ٦٦
ওয়াহুওয়াল লাযী আহইয়া-কুম ছুম্মা ইউমীতুকুম ছুম্মা ইউহইয়ীকুম ইন্নাল ইনসা-না লাকাফূর
তিনিই তোমাদেরকে জীবন দিয়েছেন, অতঃপর তিনিই তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর আবার তোমাদেরকে জীবন দিবেন। মানুষ সত্যিই বড়ই অকৃতজ্ঞ।
لِّكُلِّ أُمَّةٍۢ جَعَلْنَا مَنسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ ۖ فَلَا يُنَٰزِعُنَّكَ فِى ٱلْأَمْرِ ۚ وَٱدْعُ إِلَىٰ رَبِّكَ ۖ إِنَّكَ لَعَلَىٰ هُدًۭى مُّسْتَقِيمٍۢ ٦٧
লিকুল্লি উম্মাতিন জা‘আলনা মানসাকান হুম না-সিকূহু ফালা ইউনা-যি‘উন্নাকা ফিল আমর ওয়াদ‘উ ইলা রাব্বিকা ইন্নাকা লা‘আলা হুদাম মুসতাকীম
প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমি (‘ইবাদাতের) নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি যা তারা অনুসরণ করে। কাজেই তারা যেন এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে তর্ক বিতর্ক না করে। তুমি (তাদেরকে) তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাক, তুমি অবশ্যই সরল সঠিক পথে আছ।
وَإِن جَٰدَلُوكَ فَقُلِ ٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ ٦٨
ওয়াইন জা-দালূকা ফাকুলিল্লা-হু আ‘লামু বিমা তা‘মালূন
তারা যদি তোমার সঙ্গে বিতর্ক করে তাহলে বল- তোমরা যা কর আল্লাহ তা ভাল করেই জানেন।
ٱللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ٦٩
আল্লা-হু ইয়াহকুমু বাইনাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফীমা কুনতুম ফীহি তাখতালিফূন
আল্লাহ কিয়ামাতের দিন সে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবেন যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছ।
أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۗ إِنَّ ذَٰلِكَ فِى كِتَٰبٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٌۭ ٧٠
আলাম তা‘লাম আন-নাল্লা-হা ইয়া‘লামু মা ফিস সামা-ই ওয়ালআরদ ইন্না যা-লিকা ফী কিতা-ব ইন্না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াসীর
তুমি কি জান না যে, আল্লাহ জানেন যা আছে আকাশে আর পৃথিবীতে, এ সবই লিপিতে (রেকর্ডে) আছে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।
وَيَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِۦ سُلْطَٰنًۭا وَمَا لَيْسَ لَهُم بِهِۦ عِلْمٌۭ ۗ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِن نَّصِيرٍۢ ٧١
ওয়ায়া‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি মা লাম ইউনায্যিল বিহী সুলতা-নাঁ ওয়ামা লাইসা লাহুম বিহী ‘ইলম ওয়ামা লিয্যা-লিমীনা মিন নাসীর
আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুকে ডাকে যার সমর্থনে তিনি কোন দলীল পাঠাননি আর যে সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। (এসব) যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।
وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتُنَا بَيِّنَٰتٍۢ تَعْرِفُ فِى وُجُوهِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱلْمُنكَرَ ۖ يَكَادُونَ يَسْطُونَ بِٱلَّذِينَ يَتْلُونَ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِنَا ۗ قُلْ أَفَأُنَبِّئُكُم بِشَرٍّۢ مِّن ذَٰلِكُمُ ۗ ٱلنَّارُ وَعَدَهَا ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ۖ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ٧٢
ওয়াইযা তুতলা ‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা বাইয়্যিনা-তিন তা‘রিফু ফী উজূহিল লাযীনা কাফারুল মুনকারা ইয়াকা-দূনা ইয়াসতূনা বিল্লাযীনা ইয়াতলূনা ‘আলাইহিম আ-য়া-তিনা কুল আফাউনাব্বিউকুম বিশার্রিম মিন যা-লিকুম আন-না-রু ওয়া‘আদাহাল্লা-হুল লাযীনা কাফারূ ওয়াবি’সাল মাসীর
আর তাদের সম্মুখে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তুমি কাফিরদের চেহারায় একটা অনীহার ভাব দেখতে পাবে। তাদের কাছে যারা আমার আয়াত তিলাওয়াত করে তাদেরকে তারা আক্রমণ করতে উদ্যত হয়। বল, তাহলে আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও খারাপ কিছুর সংবাদ দেব? তা হল আগুন। আল্লাহ কাফিরদেরকে এর ওয়া‘দা দিয়েছেন। আর তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌۭ فَٱسْتَمِعُوا۟ لَهُۥٓ ۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ لَن يَخْلُقُوا۟ ذُبَابًۭا وَلَوِ ٱجْتَمَعُوا۟ لَهُۥ ۖ وَإِن يَسْلُبْهُمُ ٱلذُّبَابُ شَيْـًۭٔا لَّا يَسْتَنقِذُوهُ مِنْهُ ۚ ضَعُفَ ٱلطَّالِبُ وَٱلْمَطْلُوبُ ٧٣
ইয়া-আইয়্যুহান না-সু দুরিবা মাছালুন ফাসতামি‘ঊ লাহ ইন্নাল লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূনিল্লা-হি লান ইয়াখলুকূ যুবা-বাঁ ওয়ালাউইজতামা‘ঊ লাহূ ওয়াইন ইয়াসলুবহুমুয যুবা-বু শাইআল লা ইয়াসতানকিযূহু মিনহ দা‘উফাত তা-লিবু ওয়ালমাতলূব
হে মানুষ! একটা দৃষ্টান্ত পেশ করা হচ্ছে, সেটা মনোযোগ দিয়ে শোন। আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক তারা কক্ষনো একটা মাছিও সৃষ্টি করতে পারে না, এজন্য তারা সবাই একত্রিত হলেও। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তারা তার থেকে তা উদ্ধারও করতে পারে না, প্রার্থনাকারী আর যার কাছে প্রার্থনা করা হয় উভয়েই দুর্বল।
مَا قَدَرُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَقَوِىٌّ عَزِيزٌ ٧٤
মা কাদারুল্লা-হা হাক্কা কাদরিহ ইন্নাল্লা-হা লাকাউইয়্যুন ‘আযীয
তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয় না, আল্লাহ নিশ্চিতই ক্ষমতাশালী, মহা পরাক্রান্ত।
ٱللَّهُ يَصْطَفِى مِنَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ رُسُلًۭا وَمِنَ ٱلنَّاسِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌۭ ٧٥
আল্লা-হু ইয়াসতাফী মিনাল মালা-ইকাতি রুসুলাঁ ওয়ামিনান না-স ইন্নাল্লা-হা সামী‘উম বাসীর
আল্লাহ ফেরেশতাগণের মধ্য হতে বাণীবাহক মনোনীত করেন আর মানুষদের মধ্য হতেও, আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۗ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ ٧٦
ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম ওয়াইলাল্লা-হি তুরজা‘উল উমূর
তিনি জানেন তাদের সামনে যা আছে আর তাদের পেছনে যা আছে, আর সমস্ত ব্যাপার (চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য) আল্লাহর কাছে ফিরে যায়।
২২:৭৭ সিজদা
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱرْكَعُوا۟ وَٱسْجُدُوا۟ وَٱعْبُدُوا۟ رَبَّكُمْ وَٱفْعَلُوا۟ ٱلْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ۩ ٧٧
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুরকা‘ঊ ওয়াসজুদূ ওয়া‘বুদূ রাব্বাকুম ওয়াফ‘আলুল খাইরা লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন
হে মু’মিনগণ! তোমরা রুকূ‘ কর, সেজদা কর আর তোমাদের প্রতিপালকের ‘ইবাদাত কর ও সৎকাজ কর যাতে তোমরা সাফল্য লাভ করতে পার। [সাজদাহ]
وَجَٰهِدُوا۟ فِى ٱللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِۦ ۚ هُوَ ٱجْتَبَىٰكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِى ٱلدِّينِ مِنْ حَرَجٍۢ ۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَٰهِيمَ ۚ هُوَ سَمَّىٰكُمُ ٱلْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِى هَٰذَا لِيَكُونَ ٱلرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا۟ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ ۚ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱعْتَصِمُوا۟ بِٱللَّهِ هُوَ مَوْلَىٰكُمْ ۖ فَنِعْمَ ٱلْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ ٱلنَّصِيرُ ٧٨
ওয়াজা-হিদূ ফিল্লা-হি হাক্কা জিহা-দিহ হুওয়াজতাবা-কুম ওয়ামা জা‘আলা ‘আলাইকুম ফিদ দীনি মিন হারাজ মিল্লাতা আবীকুম ইবরা-হীম হুওয়া সাম্মা-কুমুল মুসলিমীনা মিন কাবলু ওয়াফী হা-যা লিয়াকূনার রাসূলু শাহীদান ‘আলাইকুম ওয়াতাকূনূ শুহাদা-আ ‘আলান না-স ফাআকীমুস সালা-তা ওয়াআ-তুয যাকা-তা ওয়া‘তাসিমূ বিল্লা-হি হুওয়া মাওলা-কুম ফানি‘মাল মাওলা ওয়ানি‘মান নাসীর
আর আল্লাহর পথে জিহাদ কর যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে বেছে নিয়েছেন। দ্বীনের ভিতর তিনি তোমাদের উপর কোন কঠোরতা চাপিয়ে দেননি। এটাই তোমাদের পিতা ইবরাহীমের দ্বীন, আল্লাহ তোমাদের নাম রেখেছেন ‘মুসলিম’ পূর্বেও, আর এ কিতাবেও (ঐ নামই দেয়া হয়েছে) যাতে রসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হয় আর তোমরা সাক্ষী হও মানব জাতির জন্য। কাজেই তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত দাও আর আল্লাহকে আঁকড়ে ধর। তিনিই তোমাদের অভিভাবক। কতই না উত্তম অভিভাবক আর কতই না উত্তম সাহায্যকারী!