মূল লেখায় যান
২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজ ও উমরাহ গাইড

প্রতিটি ধাপ ক্রম অনুযায়ী, সাথে কী পড়বেন তা-ও। পাতাটি প্রিন্ট করে নিলে সফরে পকেটেই রাখা যাবে।

উমরাহ — ধাপে ধাপে

উমরাহ বছরের যেকোনো সময় করা যায়, সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা: ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ ও চুল কাটা।

  1. ১

    মিকাতে ইহরাম

    গোসল বা অজু করুন, দুই টুকরা সাদা কাপড় পরুন (নারীরা স্বাভাবিক শালীন পোশাকেই থাকবেন), নিষিদ্ধ সময় না হলে দুই রাকাত নামাজ পড়ুন এবং উমরাহর নিয়ত করুন।

    لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ عُمْرَةً

    লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা উমরাতান — হে আল্লাহ, আমি উমরাহর জন্য হাজির।

  2. ২

    পথজুড়ে তালবিয়া

    তাওয়াফ শুরু করা পর্যন্ত বারবার তালবিয়া পড়ুন — পুরুষেরা উচ্চস্বরে, নারীরা নিচু স্বরে।

    لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ

    লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক… সকল প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই, আপনার কোনো শরিক নেই।

  3. ৩

    তাওয়াফ — কাবার চারপাশে সাতবার

    হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে কাবা বাম দিকে রেখে সাতবার ঘুরুন। পুরুষেরা প্রথম তিন চক্করে ডান কাঁধ খোলা রেখে দ্রুত হাঁটবেন। যে দোয়া ও যিকির মনে আসে পড়তে থাকুন।

    رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

    রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আজাবান্নার। (রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে)

  4. ৪

    মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দুই রাকাত

    জায়গা পেলে মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়ুন, তারপর যমযমের পানি পান করুন।

    وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى

    “তোমরা মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান বানাও।” (সূরা বাকারা ২:১২৫)

  5. ৫

    সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ

    সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় শেষ — এভাবে সাতবার চলাচল করুন। সবুজ বাতির মাঝখানে পুরুষেরা দ্রুত চলবেন।

    إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ

    “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা বাকারা ২:১৫৮)

  6. ৬

    চুল কাটা — উমরাহ পূর্ণ

    পুরুষেরা মাথা মুণ্ডন করবেন বা চুল ছোট করবেন (মুণ্ডন উত্তম); নারীরা চুলের আগা থেকে এক আঙুলের গিরা পরিমাণ কাটবেন। এতে ইহরাম শেষ, নিষিদ্ধ কাজগুলো আবার বৈধ।

হজ — দিনে দিনে

জিলহজের ৮ থেকে ১৩ তারিখ — হজের পাঁচটি দিন।

  1. ১

    ৮ জিলহজ — মিনা (ইয়াওমুত তারবিয়াহ)

    ইহরাম বেঁধে হজের নিয়ত করুন, মিনায় যান এবং সেখানে যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজর পড়ুন — প্রতিটি নিজ ওয়াক্তে, চার রাকাতগুলো কসর করে দুই রাকাত।

    لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ حَجًّا

    লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা হাজ্জান — হে আল্লাহ, আমি হজের জন্য হাজির।

  2. ২

    ৯ জিলহজ — আরাফাহ, হজের দিন

    দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করুন — দোয়া, যিকির ও ইস্তিগফারে। যোহর ও আসর একসাথে কসর করে পড়ুন। এই অবস্থানই হজ। সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশা একসাথে পড়ে রাত কাটান এবং কঙ্কর সংগ্রহ করুন।

    لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

    শ্রেষ্ঠ দোয়া আরাফাহ দিবসের দোয়া; আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছি তার শ্রেষ্ঠ হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ…

  3. ৩

    ১০ জিলহজ — ঈদ: কঙ্কর, কুরবানি, তাওয়াফ

    বড় জামারায় (জামরাতুল আকাবা) সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করুন, তারপর কুরবানি, এরপর মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা, তারপর মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে ইফাদা ও সাঈ। এতে ইহরাম শেষ।

    اللَّهُ أَكْبَرُ

    আল্লাহু আকবার — প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে বলুন।

  4. ৪

    ১১–১২ জিলহজ — মিনার দিনগুলো

    মিনায় অবস্থান করুন এবং প্রতিদিন দুপুরের পর ছোট জামারা থেকে শুরু করে তিনটি জামারার প্রতিটিতে সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করুন।

    প্রথম দুই জামারার পর কিবলামুখী হয়ে দীর্ঘ দোয়া করুন।

  5. ৫

    ১৩ জিলহজ ও বিদায়ী তাওয়াফ

    যারা থেকে যান তারা ১৩ তারিখেও কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। মক্কা ছাড়ার আগে বিদায়ী তাওয়াফ করুন — সাত চক্কর, এবং এটিই সেখানকার শেষ কাজ।

রওনা হওয়ার আগে

যা গুছিয়ে নেবেন ও সাথে রাখবেন।

এই গাইডে অধিকাংশ আলিমের ঐকমত্যের বিষয়গুলো এসেছে। নিজের বিশেষ কোনো প্রশ্ন থাকলে কাফেলার গাইড বা বিজ্ঞ আলিমের পরামর্শ নিন।