। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কুলক্ষণ বলতে কিছু থাকলে) এ তিনটিতে থাকতোঃ (১) নারী, (২) ঘর ও (৩) জন্তু। “কোন বস্তুতে কুলক্ষণ থাকলে" অংশসহ হাদীসটি সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। ঐ অংশ ব্যতীত হাদীসটি শাযঃ সহীহাহ (৪৪৩, ৭৯৯, ১৮৯৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম যুহরীর কিছু শিষ্য অত্র হাদীসের সনদে বর্ণনাকারী হামযার উল্লেখ করেননি। তারা এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ সালিম-তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। একইভাবে ইবনু আবী উমারও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেনঃ সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ হতে, তারা যুহরী হতে, তিনি ইবনু উমর (রাযিঃ)-এর পুত্রদ্বয় সালিম ও হামযা-তাদের বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। সাঈদ ইবনু আবদুর রাহমান-সুফইয়ান হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে উপরে বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রে সাঈদ ইবনু আবদুর রাহমান-হামযা হতে এভাবে উল্লেখ করেননি। সাঈদের রিওয়ায়াত অধিকতর সহীহ। কেননা ‘আলী ইবনুল মাদীনী ও হুমাইদী (রহঃ) সুফইয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। যুহরী আমাদের নিকট এ হাদীস শুধুমাত্র সালিম-ইবনু উমর (রাযিঃ)-এর সূত্রেই বর্ণনা করেছেন। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) এ হাদীসটি যুহরীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর পুত্রদ্বয় সালিম ও হামযা হতে-তাদের বাবার সূত্রে। এ অনুচ্ছেদে সাহল ইবনু সাদ, আয়িশাহ ও আনাস (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে। অধিকন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “কোন কিছুতে কুলক্ষণ বলতে কিছু থাকলে, নারী, জন্তু ও ঘরের মধ্যেই থাকত।” তাছাড়া হাকীম ইবনু মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ “কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে কখনো কখনো ঘর, নারী ও ঘোড়ার মধ্যে শুভ লক্ষণ (বারকাত) দেখা যায়।” সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১৯৩০)। ‘আলী ইবনু হুজর-ইসমাঈল ইবনু আইয়্যাশ হতে, তিনি সুলাইমান মু'আবিয়াহ ইবনু হাকীম হতে, তিনি তার চাচা হাকীম ইবনু মু'আবিয়াহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এই সূত্রে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
Narrated Salim and Hamzah, the sons of 'Abdullah bin 'Umar:
from their father that the Messenger of Allah (ﷺ) said: "An omen is in three: A woman, a dwelling, and a (riding) beast
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা তিনজন একত্রে থাকবে, তখন দু'জনে তাদের সাথীকে বাদ দিয়ে কানাকানি (গোপন আলাপ) করবে না। সুফইয়ানের বর্ণনায় আছেঃ দু'জনে তৃতীয়জনকে বাদ দিযে গোপন আলাপ না করে, কেননা ইহা তাকে চিন্তিত করে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭৭৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আরেক বর্ণনায় আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “একজনকে বাদ দিয়ে দু'জনে কানাকানি করবে না। কেননা ইহা মুমিনের কষ্ট দেয়। আর আল্লাহ তা'আলা তো মুমিনকে কষ্ট দেয়া অপছন্দ করেন"। ইবনু উমার, আবূ হুরাইরাহ ও ইবনু আব্বাস (রহঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
Narrated 'Abdullah:
that the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Whenever there are three of you, then let two not converse in exclusion of their companion
। আবূ জুহাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রক্তিমাভ সাদা দেখলাম এবং তার কিছু চুল সাদা হয়ে গিয়েছিল। আর হাসান ইবনু আলী ছিলেন ঠিক তারই আকৃতির। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তেরটি উঠতি বয়সের উটনী আমাদেরকে দেয়ার জন্য আদেশ করলেন। কাজেই সেগুলো সংগ্রহের উদ্দেশে তার নিকট রাওয়ানা হলাম। এমন সময় আমাদের নিকট তার মৃত্যুর সংবাদ এলো। সেহেতু লোকেরা একটি উটনীও আমাদেরকে দিল না। তারপর আবূ বাকর (রাযিঃ) খিলাফাতে অধিষ্ঠিত হয়ে বললেন, যে ব্যক্তির নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াদাহ আছে, সে যেন উপস্থিত হয়। কাজেই আমি তার নিকট উপস্থিত হয়ে সব কথা খুলে বললাম। তিনি আমাদেরকে উটনীগুলো দেয়ার আদেশ কার্যকর করলেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। মারওয়ান ইবনু মু'আবিয়াহও নিজস্ব সনদে আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ) হতে উক্ত হাদীসের মতো বর্ণনা করেছেন। একাধিক বর্ণনাকারী ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ জুহাইফাহ্ (রাযিঃ) বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, হাসান ইবনু আলী ছিলেন ঠিক তারই সদৃশ। এই বর্ণনায় এর বেশি নেই।
Narrated Isma'il bin Abi Khalid:
that Abu Juhaifah said: "I saw the Messenger of Allah (ﷺ) (he was) white and turning grey. Al-Hasan bin 'Ali resembles him most. He had promised thirteen young she-camels for us, so we went to get them. When we arrived he had died without giving us anything. So when Abu Bakr (became the Khalifah) he said: 'If there is anyone to whom the Messenger of Allah (ﷺ) made a promise, then let him come forth.' I stood to inform him about it, and he ordered that they be given to us
। আবূ জুহাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি এবং হাসান ইবনু আলী (রাযিঃ) ছিলেন তার মতোই (অবয়ব সম্পন্ন)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকার ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদের সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। জাবির (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ জুহাইফাহ (রাযিঃ)-এর নাম ওয়াহব আস-সুওয়াঈ।
Narrated Isma'il bin Abi Khalid:
that Abu Juhaifah said: "I saw the Prophet (ﷺ), and Al-Hasan bin 'Ali resembles him the most
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ مَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ أَبَوَيْهِ لأَحَدٍ غَيْرَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ .
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) ব্যতীত আর কারো জন্য তার বাবা-মাকে একত্র করতে শুনিনি (অর্থাৎ- এমন বলতে শুনিনি যে, আমার বাবা-মা তোমার জন্য কুরবান হোক)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৩০), বুখারী ও মুসলিম।
Narrated 'Ali:
"I did not hear the Prophet (ﷺ) mentioning both of his parents (that is including both in the saying "May my father and mother be ransomed for you") for anyone other than Sa'd bin Abi Waqqas
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) ছাড়া অন্য কারো জন্য তার বাবা-মাকে একত্র করে বলেননি যে, আমার বাবা-মা তোমার জন্য কুরবান হোক। উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি তাকে (সা'দকে) বলেছেনঃ চালাও তীর, আমার বাবা-মা তোমার জন্য কুরবান হোক। হে নওজোয়ান যুবক তীর ছুড়ো। “হে তরুণ যুবক” এর উল্লেখ মুনকার, বুখারী ও মুসলিম এই অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে যুবাইর ও জাবির (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উক্ত হাদীস আলী (রাযিঃ) হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত আছে। একাধিক বর্ণনাকারী এ হাদীস ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব হতে তিনি সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, উহুদের মাইদানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য তার বাবা-মাকে একত্র করেছেন (অর্থাৎ- তিনি বলেছেনঃ আমার বাবা-মা তোমার জন্য কুরবান হোক তুমি নিক্ষেপ কর)।
Narrated 'Ali:
"The Messenger of Allah (ﷺ) did not mention both of his parents for anyone except Sa'd bin Abi Waqqas. On the Day of Uhud he said: 'Shoot, may my father and mother be ransomed for you.' And he said to him: 'Shoot! O young man
। সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের দিন আমার জন্য রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাবা-মাকে একত্র করে বলেছেনঃ তোমার জন্য আমার বাবা-মা কুরবান হোক। সহীহঃ বুখারী (৩৭২৫), মুসলিম অনুরূপ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উভয় হাদীসই সহীহ।
Narrated Sa'd bin Abi Waqqas:
"The Messenger of Allah (ﷺ) mentioned both of his parents to me on the Day of Uhud
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে “হে আমার পুত্র" বলে সম্বোধন করেছেন। সহীহঃ সহীহাহ (২৯৫৭), মুসলিম। মুগীরাহ ও উমার ইবনু আবী সালামাহ্ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উক্ত সূত্রে গারীব। এছাড়া অন্য সূত্রেও আনাস (রাযিঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী আবূ উসমান হলেন হাদীসের নির্ভরযোগ্য শাইখ। তার নাম আল-জাদ ইবনু উসমান। তাকে ইবনু দীনারও বলা হয়। তিনি বাসরার অধিবাসী। ইউনুস ইবনু উবাইদ, শুবাহ এবং আরো একাধিক ইমাম তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
Narrated Anas:
that the Prophet (ﷺ) said to him: "O my little son
। আমর ইবনু শু'আইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে, মাথা মুণ্ডন করতে এবং আকীকা করতে আদেশ করেছেন। হাসানঃ ইরওয়াহ (৪/৩৯৯-৪০০), তাহকীক সানী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
Narrated 'Amr bin Shu'aib:
from his father, from his grandfather that the Prophet (ﷺ) ordered naming the child on the seventh day, removing the harm from him, and Al-'Aqq (removing the hair and slaughtering the animal for 'Aqiqah)
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ও আবদুর রাহমান নাম আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচাইতে বেশি পছন্দনীয়। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭২৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
Narrated Ibn 'Umar:
that the Prophet (ﷺ) said: "The most loved names to Allah are 'Abdullah and 'Abdur-Rahman
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই আল্লাহ তা’আলার নিকট অধিক পছন্দনীয় নাম হলো ‘আবদুল্লাহ ও আবদুর রাহমান। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। এ হাদীসটি এই সূত্রে গারীব।
Narrated Ibn 'Umar:
that the Prophet (ﷺ) said: "The most loved names to Allah are 'Abdullah and 'Abdur-Rahman
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأَنْهَيَنَّ أَنْ يُسَمَّى رَافِعٌ وَبَرَكَةُ وَيَسَارٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . هَكَذَا رَوَاهُ أَبُو أَحْمَدَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عُمَرَ وَرَوَاهُ غَيْرُهُ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَأَبُو أَحْمَدَ ثِقَةٌ حَافِظٌ وَالْمَشْهُورُ عِنْدَ النَّاسِ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَيْسَ فِيهِ عَنْ عُمَرَ .
। উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই আমি নিষেধ করছি রাফি, বারাকাত ও ইয়াসার নাম রাখতে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৮২৯), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি আবূ উমার (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ সুফইয়ান হতে, তিনি আবূয যুবাইর হতে, তিনি জাবির (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবূ আহমাদ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং হাদীসের হাফিয। কিন্তু জাবির (রাযিঃ)-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এই সূত্রেই লোকদের নিকট হাদীসটি প্রসিদ্ধ, তাতে উমর (রাযিঃ)-এর উল্লেখ নেই।
Narrated 'Umar [bin Al-Khattab]:
that the Messenger of Allah (ﷺ) said: "I forbid naming with Rafi, Barakah and Yasar
। সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সন্তানদের নাম রাবাহ, আফলাহ, ইয়াসার ও নাজীহ রেখো না। কেউ প্রশ্ন করবে, ঐখানে অমুক আছে কি? বলা হবেঃ না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৬৩০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Narrated Samurah bin Jundab:
that the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Do not name your boy Rabah, nor Aflah, nor Yasar, nor Najih, so that it may be said: 'Is he there?' and it may be said: 'No
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে সেই ব্যক্তির নাম আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচাইতে নিকৃষ্ট নাম হবে, যে (দুনিয়ায়) রাজাধিরাজ (মালিকুল আমলাক) নাম ধারণ করে। সহীহঃ সহীহাহ (৯১৪), বুখারী ও মুসলিম। সুফইয়ান বলেন, এর অর্থ হল শাহানশাহ। আখনাউ অর্থ আকবাহু (সর্বাধিক অবাঞ্ছিত)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Narrated Al-A'raj:
that Abu Hurairah conveyed to him that the Prophet (ﷺ) said: "The most despicable (Akhna) name to Allah on the Day of Judgement is that of a man named King of Kings. (Malikil-Amlak)
। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসিয়া (রাযিঃ)-এর নাম পরিবর্তন করে বলেনঃ তুমি জামীলাহ। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭৩৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি উবাইদুল্লাহ নাফি হতে, তিনি ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে, এই সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন। এটিকে কোন কোন বর্ণনাকারী উবাইদুল্লাহ-নাফি হতে, তিনি উমর (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে মুরসাল হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, 'আবদুল্লাহ ইবনু সালাম, আবদুল্লাহ ইবনু মুতী’, ‘আয়িশাহ, হাকাম ইবনু সাঈদ, মুসলিম, উসামাহ ইবনু আখদারী, শুরাইহ ইবনু হানী-তার পিতা হতে এবং খাইসামাহ্ ইবনু আবদুর রাহমান-তার বাবা হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
Narrated Ibn 'Umar:
that the Prophet (ﷺ) changed the name of 'Asiyah, he said: "You are Jamilah
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُغَيِّرُ الاِسْمَ الْقَبِيحَ . قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ وَرُبَّمَا قَالَ عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلٌ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ عَائِشَةَ .
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকৃষ্ট নামসমূহ পরিবর্তন করে (ভালো নাম রেখে) দিতেন। সহীহঃ সহীহাহ (২০৭, ২০৮)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ বাকর ইবনু নাফি' বলেছেন, এই হাদীসের সনদের ক্ষেত্রে 'উমার ইবনু ‘আলী কখনো বলেন, হিশাম ইবনু উরওয়াহ-তার বাবা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসাল হিসেবে। তাতে তিনি আয়িশাহ্ (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি।
। জুবাইর ইবনু মুতাইম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার কতগুলো নাম আছে। আমি মুহাম্মাদ (প্রশংসিত), আমি আহমাদ (সর্বাধিক প্রশংসাকারী), আমি মাহী (বিলীনকারী)। আল্লাহ তা'আলা আমার দ্বারা কুফরী বিলীন করেন। আর আমি হাশির (সমবেতকারী), আমার পদাংক অনুসরণে মানুষকে হাশর করা হবে। আমি আকিব (চূড়ান্ত পরিণতি বা সবার পশ্চাতে আগমনকারী)। আমার পরে কোন নবী নেই। সহীহঃ মুখতাসার শামা-য়িল (৩১৫), রাওযুন নায়ীর (১/৩৪০)। হুযাইফাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Narrated Muhammad bin Jubair bin Mut'im:
from his father that the Messenger of Allah (ﷺ) said: "I have some names: I am Muhammad, I am Ahmad, I am Al-Mahi, the one by whom Allah wipes out disbelief, I am Al-Hasir, the one whom the people are gathered at his feet, and I am Al-'Aqib, the one after whom there is no Prophet
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَجْمَعَ أَحَدٌ بَيْنَ اسْمِهِ وَكُنْيَتِهِ وَيُسَمَّى مُحَمَّدًا أَبَا الْقَاسِمِ . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يَجْمَعَ الرَّجُلُ بَيْنَ اسْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكُنْيَتِهِ وَقَدْ فَعَلَ ذَلِكَ بَعْضُهُمْ . رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلاً، فِي السُّوقِ يُنَادِي يَا أَبَا الْقَاسِمِ فَالْتَفَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَمْ أَعْنِكَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَكْتَنُوا بِكُنْيَتِي " . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا . وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ مَا يَدُلُّ عَلَى كَرَاهِيَةِ أَنْ يُكْنَى أَبَا الْقَاسِمِ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম ও ডাকনাম মিলিয়ে মুহাম্মাদ আবূল কাসিম এভাবে নাম রাখতে নিষেধ করেছেন। হাসান সহীহঃ মিশকাত, তাহকীক সানী (৪৭৬৯), সহীহাহ (২৯৪৬)। জাবির (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কিছু আলিম এটা মাকরূহ মনে করেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক আলিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম ও ডাকনাম একত্রে মিলিয়ে নাম রেখেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, কোন একদিন তিনি বাজারে জনৈক ব্যক্তিকে “হে আবূল কাসিম" বলে ডাক দিতে শুনলেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকালে লোকটি বলল, আমি আপনাকে ডাকিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমার ডাকনামে ডাকনাম রেখো না। আল হাসান ইবনু আলী আল খাল্লাল ইয়াযীদ ইবনু হারুন হতে, তিনি হুমাইদ হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর এ হাদীসে প্রমাণিত হয় যে, আবূল কাসিম ডাকনাম রাখা মাকরূহ।
Narrated Abu Hurairah:
that the Prophet (ﷺ) prohibited that one use his name and his Kunyah; naming themselves Muhammad Abul-Qasim
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখলে একসঙ্গে আমার ডাকনামও রেখো না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৭৩৬), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং এই সূত্রে গারীব।
Narrated Jabir:
that the Messenger of Allah (ﷺ): "When you name yourself after me, then do not use my Kunyah
। আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে রাসূলাল্লাহ। আপনার পরে যদি আমার কোন ছেলে হয়, তাহলে তার নাম মুহাম্মাদ এবং আপনার ডাকনামে তার ডাকনাম রাখতে পারি কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি (আলী) বলেন, এর দ্বারা আমাকে অনুমতি দেয়া হল। সহীহঃ মুখতাসার তুফাতুল ওয়াদুদ, মিশকাত তাহকীক সানী (৪৭৭২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
Narrated 'Ali bin Abi Talib:
that he said: "O Messenger of Allah (ﷺ)! If I have a son after you do you think I could name him your Kunyah?" He said: "Yes." So he said: "So that was permitted for me