মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
المرسلات

সূরা আল-মুরসালাত

প্রেরিত বায়ুসমূহ · সূরা নং ৭৭ · ৫০ আয়াত · ২ রুকু · মাক্কী · পারা ২৯
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلْمُرْسَلَٰتِ عُرْفًۭا ١
ওয়ালমুরসালা-তি ‘উরফা
পর পর পাঠানো বাতাসের শপথ যা উপকার সাধন করে,
فَٱلْعَٰصِفَٰتِ عَصْفًۭا ٢
ফাল‘আ-সিফা-তি ‘আসফা
অতঃপর তা প্রচন্ড ঝড়ের বেগে বইতে থাকে,
وَٱلنَّٰشِرَٰتِ نَشْرًۭا ٣
ওয়ান্না-শিরা-তি নাশরা
শপথ সেই বায়ুর যা (মেঘমালাকে) ছড়িয়ে দেয় দূর দূরান্তে,
فَٱلْفَٰرِقَٰتِ فَرْقًۭا ٤
ফালফা-রিকা-তি ফারকা
আর বিচ্ছিন্নকারী বাতাসের শপথ যা (মেঘমালাকে) বিচ্ছিন্ন করে,
فَٱلْمُلْقِيَٰتِ ذِكْرًا ٥
ফালমুলকিয়া-তি যিকরা
অতঃপর (মানুষের অন্তরে) পৌঁছে দেয় (আল্লাহর) স্মরণ,
عُذْرًا أَوْ نُذْرًا ٦
‘উযরান আও নুযরা
(বিশ্বাসী লোকদেরকে) ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য আর (কাফিরদেরকে) সতর্ক করার জন্য।
إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَوَٰقِعٌۭ ٧
ইন্নামা তূ‘আদূনা লাওয়া-কি‘
তোমাদেরকে যার ও‘য়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই সংঘটিত হবে।
فَإِذَا ٱلنُّجُومُ طُمِسَتْ ٨
ফাইযান নুজূমু তুমিসাত
যখন নক্ষত্ররাজির আলো বিলুপ্ত হবে,
وَإِذَا ٱلسَّمَآءُ فُرِجَتْ ٩
ওয়াইযাস সামা-উ ফুরিজাত
যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,
وَإِذَا ٱلْجِبَالُ نُسِفَتْ ١٠
ওয়াইযাল জিবা-লু নুসিফাত
যখন পবর্তমালা ধুনিত হবে।
وَإِذَا ٱلرُّسُلُ أُقِّتَتْ ١١
ওয়াইযার রুসুলু উক্কিতাত
যখন (হাশরের মাঠে) রসূলগণের একত্রিত হওয়ার সময় এসে পড়বে।
لِأَىِّ يَوْمٍ أُجِّلَتْ ١٢
লিআইয়্যি ইয়াওমিন উজ্জিলাত
(এ সব বিষয়) কোন দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে?
لِيَوْمِ ٱلْفَصْلِ ١٣
লিয়াওমিল ফাসল
চূড়ান্ত ফয়সালার দিনের জন্য।
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا يَوْمُ ٱلْفَصْلِ ١٤
ওয়ামা- আদরা-কা মা ইয়াওমুল ফাসল
সেই চূড়ান্ত ফয়সালার দিনটি কী তা তোমাকে কিসে জানাবে?
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ١٥
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সে দিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
أَلَمْ نُهْلِكِ ٱلْأَوَّلِينَ ١٦
আলাম নুহলিকিল আওয়ালীন
আমি কি আগেকার লোকেদেরকে ধ্বংস করে দেইনি?
ثُمَّ نُتْبِعُهُمُ ٱلْءَاخِرِينَ ١٧
ছুম্মা নুতবি‘উহুমুল আ-খিরীন
অতঃপর পরবর্তী লোকেদেরকেও আমি তাদের অনুগামী করব।
كَذَٰلِكَ نَفْعَلُ بِٱلْمُجْرِمِينَ ١٨
কাযা-লিকা নাফ‘আলু বিলমুজরিমীন
অপরাধীদের প্রতি আমি এরকমই করে থাকি।
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ١٩
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সে দিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
أَلَمْ نَخْلُقكُّم مِّن مَّآءٍۢ مَّهِينٍۢ ٢٠
আলাম নাখলুক্কুম মিম মা-ইম মাহীন
আমি কি নগণ্য পানি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করিনি?
فَجَعَلْنَٰهُ فِى قَرَارٍۢ مَّكِينٍ ٢١
ফাজা‘আলনা-হু ফী কারা-রিম মাকীন
অতঃপর আমি তা রেখেছি এক সুসংরক্ষিত স্থানে।
إِلَىٰ قَدَرٍۢ مَّعْلُومٍۢ ٢٢
ইলা কাদারিম মা‘লূম
একটা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত,
فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ ٱلْقَٰدِرُونَ ٢٣
ফাকাদারনা ফানি‘মাল কা-দিরূন
অতঃপর আমি তাকে গঠন করেছি সুসামঞ্জস্যপূর্ণরূপে, আমি কতই না উত্তম ক্ষমতার অধিকারী!
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ٢٤
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সে দিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
أَلَمْ نَجْعَلِ ٱلْأَرْضَ كِفَاتًا ٢٥
আলাম নাজ‘আলিল আরদা কিফা-তা
আমি কি পৃথিবীকে (সব কিছুকে টেনে গুটিয়ে) ধারণকারীরূপে সৃষ্টি করিনি?
أَحْيَآءًۭ وَأَمْوَٰتًۭا ٢٦
আহইয়া-আঁ ওয়াআমওয়া-তা
জীবিত ও মৃতদেরকে (ভাল আর মন্দকে নেককার আর পাপাচারীকে)।
وَجَعَلْنَا فِيهَا رَوَٰسِىَ شَٰمِخَٰتٍۢ وَأَسْقَيْنَٰكُم مَّآءًۭ فُرَاتًۭا ٢٧
ওয়াজা‘আলনা ফীহা রাওয়া-সিয়া শা-মিখা-তিঁ ওয়াআসকাইনা-কুম মা-আন ফুরা-তা
আর আমি তাতে স্থাপন করেছি অনড় সুউচ্চ পবর্তমালা আর তোমাদেরকে পান করিয়েছি সুমিষ্ট সুপেয় পানি।
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ٢٨
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
ٱنطَلِقُوٓا۟ إِلَىٰ مَا كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ ٢٩
ইনতালিকূ ইলা মা কুনতুম বিহী তুকায্যিবূন
(তাদেরকে বলা হবে) ‘চলো তার দিকে তোমরা যাকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখ্যান করতে।
ٱنطَلِقُوٓا۟ إِلَىٰ ظِلٍّۢ ذِى ثَلَٰثِ شُعَبٍۢ ٣٠
ইনতালিকূ ইলা যিল্লিন যী ছালা-ছি শু‘আব
‘চলো সেই (ধোঁয়ার) ছায়ার দিকে যার আছে তিনটি শাখা (অর্থাৎ ডানে, বামে, উপরে সব দিক থেকেই ঘিরে ধরবে),
لَّا ظَلِيلٍۢ وَلَا يُغْنِى مِنَ ٱللَّهَبِ ٣١
লা যালীলিঁ ওয়ালা ইউগনী মিনাল্লা-হাব
যা শীতল নয়, আর তা লেলিহান অগ্নিশিখা থেকে বাঁচাতেও পারবে না।
إِنَّهَا تَرْمِى بِشَرَرٍۢ كَٱلْقَصْرِ ٣٢
ইন্নাহা তারমী বিশারারিন কালকাসর
সে আগুন প্রাসাদের ন্যায় (বিশাল) স্ফুলিঙ্গ উৎক্ষেপ করবে,
كَأَنَّهُۥ جِمَٰلَتٌۭ صُفْرٌۭ ٣٣
কাআন্নাহূ জিমা-লাতুন সুফর
যেন হলুদ রঙ্গের উটের সারি,
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ٣٤
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
هَٰذَا يَوْمُ لَا يَنطِقُونَ ٣٥
হা-যা ইয়াওমু লা ইয়ানতিকূন
এদিন এমন যে, কেউ কথা বলতে পারবে না,
وَلَا يُؤْذَنُ لَهُمْ فَيَعْتَذِرُونَ ٣٦
ওয়ালা ইউ’যানু লাহুম ফায়া‘তাযিরূন
তাদেরকে কোন ওজর পেশ করারও সুযোগ দেয়া হবে না।
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ٣٧
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
هَٰذَا يَوْمُ ٱلْفَصْلِ ۖ جَمَعْنَٰكُمْ وَٱلْأَوَّلِينَ ٣٨
হা-যা ইয়াওমুল ফাসলি জামা‘না-কুম ওয়ালআওয়ালীন
এটা চূড়ান্ত ফয়সালার দিন, আমি একত্রিত করেছি তোমাদেরকে আর আগের লোকেদেরকে।
فَإِن كَانَ لَكُمْ كَيْدٌۭ فَكِيدُونِ ٣٩
ফাইন কা-না লাকুম কাইদুন ফাকীদূন
এক্ষণে তোমাদের কাছে যদি কোন কৌশল থাকে তাহলে তা আমার বিরুদ্ধে প্রয়োগ কর।
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ٤٠
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
إِنَّ ٱلْمُتَّقِينَ فِى ظِلَٰلٍۢ وَعُيُونٍۢ ٤١
ইন্নাল মুত্তাকীনা ফী যিলা-লিঁ ওয়া‘উইউন
মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া আর ঝর্ণাধারার মাঝে,
وَفَوَٰكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ ٤٢
ওয়াফাওয়া-কিহা মিম্মা ইয়াশতাহূন
আর তাদের জন্য থাকবে ফলমূল- যেটি তাদের মন চাইবে।
كُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ هَنِيٓـًٔۢا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٤٣
কুলূ ওয়াশরাবূ হানীআম বিমা কুনতুম তা‘মালূন
(তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমরা তৃপ্তির সঙ্গে খাও আর পান কর, তোমরা যে ‘আমাল করেছিলে তার পুরস্কারস্বরূপ।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ ٤٤
ইন্না কাযা-লিকা নাজযিল মুহসিনীন
সৎকর্মশীলদেরকে আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ٤٥
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
كُلُوا۟ وَتَمَتَّعُوا۟ قَلِيلًا إِنَّكُم مُّجْرِمُونَ ٤٦
কুলূ ওয়াতামাত্তা‘ঊ কালীলান ইন্নাকুম মুজরিমূন
(ওহে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা!) তোমরা অল্প কিছুকাল খেয়ে নাও আর ভোগ করে নাও, তোমরা তো অপরাধী।
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ٤٧
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱرْكَعُوا۟ لَا يَرْكَعُونَ ٤٨
ওয়াইযা কীলা লাহুমুরকা‘ঊ লা ইয়ারকা‘ঊন
তাদেরকে যখন বলা হয় (আল্লাহর সম্মুখে) নত হও, (তাঁর আদেশসমূহ পালনের মাধ্যমে) তখন তারা নত হয় না।
وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ٤٩
ওয়াইলুঁ ইয়াওমাইযিল লিলমুকায্যিবীন
সেদিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য।
فَبِأَىِّ حَدِيثٍۭ بَعْدَهُۥ يُؤْمِنُونَ ٥٠
ফাবিআইয়্যি হাদীছিম বা‘দাহূ ইউ’মিনূন
তাহলে কুরআনের পর (তার চেয়ে উত্তম) আর কোন্ কিতাব আছে যার উপর তারা ঈমান আনবে?