بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
قَدْ سَمِعَ ٱللَّهُ قَوْلَ ٱلَّتِى تُجَٰدِلُكَ فِى زَوْجِهَا وَتَشْتَكِىٓ إِلَى ٱللَّهِ وَٱللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَآ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌ ١
কাদ সামি‘আল্লা-হু কাওলাল লাতী তুজা-দিলুকা ফী যাওজিহা ওয়াতাশতাকী ইলাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু ইয়াসমা‘উ তাহা-উরাকুমা- ইন্নাল্লা-হা সামী‘উম বাসীর
আল্লাহ তার কথা শুনেছেন যে নারী (খাওলাহ বিনত সা‘লাবাহ) তার স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছে আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছে, আল্লাহ তোমাদের দু’জনের কথা শুনছেন, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
ٱلَّذِينَ يُظَٰهِرُونَ مِنكُم مِّن نِّسَآئِهِم مَّا هُنَّ أُمَّهَٰتِهِمْ ۖ إِنْ أُمَّهَٰتُهُمْ إِلَّا ٱلَّٰٓـِٔى وَلَدْنَهُمْ ۚ وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنكَرًۭا مِّنَ ٱلْقَوْلِ وَزُورًۭا ۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌۭ ٢
আল্লাযীনা ইউযা-হিরূনা মিনকুম মিন নিসা-ইহিম মা হুন্না উম্মাহা-তিহিম ইন উম্মাহা-তুহুম ইল্লাল লা-ঈ ওয়ালাদনাহুম ওয়াইন্নাহুম লায়াকূলূনা মুনকারাম মিনাল কাওলি ওয়াযূরা ওয়াইন্নাল্লা-হা লা‘আফুউন গাফূর
তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে (অর্থাৎ স্ত্রীকে বলে যে, তুমি আমার জন্য আমার মায়ের পিঠের মত) তাদের স্ত্রীরা তাদের মা নয়। তাদের মা তো কেবল তারাই যারা তাদের জন্ম দিয়েছে। তারা অবশ্যই ঘৃণ্য ও মিথ্যে কথা বলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপ মোচনকারী, বড়ই ক্ষমাশীল।
وَٱلَّذِينَ يُظَٰهِرُونَ مِن نِّسَآئِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا۟ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍۢ مِّن قَبْلِ أَن يَتَمَآسَّا ۚ ذَٰلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِۦ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ٣
ওয়াল্লাযীনা ইউযা-হিরূনা মিন নিসা-ইহিম ছুম্মা ইয়া‘ঊদূনা লিমা কা-লূ ফাতাহরীরু রাকাবাতিম মিন কাবলি আন ইয়াতামা-স্সা যা-লিকুম তূ‘আযূনা বিহ ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা খাবীর
যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে, অতঃপর তারা যে কথা বলেছে তা প্রত্যাহার করে নেয় তবে পরস্পরকে স্পর্শ করার পূর্বে তাদেরকে একটি দাস মুক্ত করতে হবে, এর দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন।
فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِن قَبْلِ أَن يَتَمَآسَّا ۖ فَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًۭا ۚ ذَٰلِكَ لِتُؤْمِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ ٱللَّهِ ۗ وَلِلْكَٰفِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ ٤
ফামাল লাম ইয়াজিদ ফাসিয়া-মু শাহরাইনি মুতাতা-বি‘আইনি মিন কাবলি আন ইয়াতামা-স্সা ফামাল লাম ইয়াসতাতি‘ ফাইত‘আ-মু সিত্তীনা মিসকীনা যা-লিকা লিতু’মিনূ বিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহ ওয়াতিলকা হুদূদুল্লা-হ ওয়ালিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বুন আলীম
কিন্তু যার (দাস সংগ্রহ করার) সামর্থ্য নেই, সে এক নাগাড়ে দু’মাস রোযা রাখবে পরস্পরকে স্পর্শ করার পূর্বে। আর যে তা করতে পারবে না, সে ষাট জন মিসকীনকে খাবার খাওয়াবে। এ নির্দেশ দেয়া হচ্ছে এ জন্য যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনো। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। (যারা এটা অস্বীকার করবে সেই) কাফিরদের জন্য আছে মর্মান্তিক শাস্তি।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحَآدُّونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ كُبِتُوا۟ كَمَا كُبِتَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ وَقَدْ أَنزَلْنَآ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍۢ ۚ وَلِلْكَٰفِرِينَ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ٥
ইন্নাল লাযীনা ইউহা-দ্দূনাল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ কুবিতূ কামা কুবিতাল লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়াকাদ আনযালনা- আ-য়া-তিম বাইয়্যিনা-ত ওয়ালিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বুম মুহীন
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করে তাদেরকে লাঞ্ছিত করা হবে যেমন লাঞ্ছিত করা হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তীদেরকে। আমি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেছি আর (অস্বীকারকারী) কাফিরদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি,
يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًۭا فَيُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوٓا۟ ۚ أَحْصَىٰهُ ٱللَّهُ وَنَسُوهُ ۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ شَهِيدٌ ٦
ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফাইউনাব্বিউহুম বিমা ‘আমিলূ আহসা-হুল্লা-হু ওয়ানাসূহ ওয়াল্লা-হু ‘আলা কুল্লি শাইইন শাহীদ
সেদিন, যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে আবার জীবিত করে উঠাবেন এবং তাদের কৃতকর্মের সংবাদ তাদেরকে জানিয়ে দিবেন, আল্লাহ তা হিসেব করে রেখেছেন যদিও তারা (নিজেরা) ভুলে গেছে। আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শী।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۖ مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَىٰ ثَلَٰثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَآ أَدْنَىٰ مِن ذَٰلِكَ وَلَآ أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا۟ ۖ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا۟ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ ٧
আলাম তারা আন-নাল্লা-হা ইয়া‘লামু মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদি মা ইয়াকূনু মিন নাজওয়া ছালা-ছাতিন ইল্লা হুওয়া রা-বি‘উহুম ওয়ালা খামসাতিন ইল্লা হুওয়া সা-দিসুহুম ওয়ালা- আদনা মিন যা-লিকা ওয়ালা- আকছারা ইল্লা হুওয়া মা‘আহুম আইনা মা কা-নূ ছুম্মা ইউনাব্বিউহুম বিমা ‘আমিলূ ইয়াওমাল কিয়া-মাহ ইন্নাল্লা-হা বিকুল্লি শাইইন ‘আলীম
তুমি কি জান না যে, যা আকাশে আছে আর যা যমীনে আছে আল্লাহ সব জানেন। তিনজনের মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন আল্লাহ হন না, আর পাঁচজনেও হয় না, ষষ্ঠজন তিনি ছাড়া, এর কম সংখ্যকেও হয় না, আর বেশি সংখ্যকেও হয় না, তিনি তাদের সঙ্গে থাকা ব্যতীত, তারা যেখানেই থাকুক না কেন। অতঃপর ক্বিয়ামত দিবসে তিনি জানিয়ে দেবেন যা তারা ‘আমাল করেছিল। আল্লাহ সকল বিষয়ে পূর্ণভাবে অবগত।
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ نُهُوا۟ عَنِ ٱلنَّجْوَىٰ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا نُهُوا۟ عَنْهُ وَيَتَنَٰجَوْنَ بِٱلْإِثْمِ وَٱلْعُدْوَٰنِ وَمَعْصِيَتِ ٱلرَّسُولِ وَإِذَا جَآءُوكَ حَيَّوْكَ بِمَا لَمْ يُحَيِّكَ بِهِ ٱللَّهُ وَيَقُولُونَ فِىٓ أَنفُسِهِمْ لَوْلَا يُعَذِّبُنَا ٱللَّهُ بِمَا نَقُولُ ۚ حَسْبُهُمْ جَهَنَّمُ يَصْلَوْنَهَا ۖ فَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ ٨
আলাম তারা ইলাল লাযীনা নুহূ ‘আনিন নাজওয়া ছুম্মা ইয়া‘ঊদূনা লিমা নুহূ ‘আনহু ওয়ায়াতানা-জাওনা বিলইছমি ওয়াল‘উদওয়া-নি ওয়ামা‘সিয়াতির রাসূলি ওয়াইযা জা-ঊকা হাইয়্যাওকা বিমা লাম ইউহাইয়্যিকা বিহিল্লা-হু ওয়ায়াকূলূনা ফী আনফুসিহিম লাওলা ইউ‘আয্যিবুনাল্লা-হু বিমা নাকূল হাসবুহুম জাহান্নামু ইয়াসলাওনাহা ফাবি’সাল মাসীর
তুমি কি তাদেরকে দেখনি যাদেরকে গোপন পরামর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা আবার তাই করল যা করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল, তারা গোপনে পরামর্শ করল পাপাচার, সীমালঙ্ঘন আর রসূলকে অমান্য করা নিয়ে। তারা যখন তোমার কাছে আসে তখন তারা তোমাকে এমনভাবে সম্ভাষণ করে যেমনভাবে আল্লাহ তোমাকে সম্ভাষণ করেননি। তারা মনে মনে বলে- ‘আমরা যা বলি তার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে ‘আযাব দেন না কেন? জাহান্নামই তাদের জন্য যথেষ্ট, তাতে তারা জ্বলবে, কতই না নিকৃষ্ট সেই গন্তব্যস্থল!
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا تَنَٰجَيْتُمْ فَلَا تَتَنَٰجَوْا۟ بِٱلْإِثْمِ وَٱلْعُدْوَٰنِ وَمَعْصِيَتِ ٱلرَّسُولِ وَتَنَٰجَوْا۟ بِٱلْبِرِّ وَٱلتَّقْوَىٰ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ٱلَّذِىٓ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা তানা-জাইতুম ফালা তাতানা-জাও বিলইছমি ওয়াল‘উদওয়া-নি ওয়ামা‘সিয়াতির রাসূলি ওয়াতানা-জাও বিলবির্রি ওয়াত্তাকওয়া ওয়াত্তাকুল্লা-হাল লাযী ইলাইহি তুহশারূন
হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন গোপন পরামর্শ কর, তখন পাপাচার, সীমালঙ্ঘন আর রসূলকে অমান্য করার পরামর্শ কর না। তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়া অবলম্বনের ব্যাপারে পরামর্শ করো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যাঁর কাছে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।
إِنَّمَا ٱلنَّجْوَىٰ مِنَ ٱلشَّيْطَٰنِ لِيَحْزُنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَلَيْسَ بِضَآرِّهِمْ شَيْـًٔا إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ ١٠
ইন্নামান নাজওয়া মিনাশ শাইতা-নি লিয়াহযুনাল লাযীনা আ-মানূ ওয়ালাইসা বিদা-র্রিহিম শাইআন ইল্লা বিইযনিল্লা-হ ওয়া‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন
গোপন পরামর্শ হল মু’মিনদেরকে দুঃখ দেয়ার জন্য শয়ত্বান প্ররোচিত কাজ। তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না। মু’মিনদের কর্তব্য হল একমাত্র আল্লাহরই উপর ভরসা করা।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا قِيلَ لَكُمْ تَفَسَّحُوا۟ فِى ٱلْمَجَٰلِسِ فَٱفْسَحُوا۟ يَفْسَحِ ٱللَّهُ لَكُمْ ۖ وَإِذَا قِيلَ ٱنشُزُوا۟ فَٱنشُزُوا۟ يَرْفَعِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنكُمْ وَٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ دَرَجَٰتٍۢ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ١١
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা কীলা লাকুম তাফাস্সাহূ ফিল মাজা-লিসি ফাফসাহূ ইয়াফসাহিল্লা-হু লাকুম ওয়াইযা কীলানশুযূ ফানশুযূ ইয়ারফা‘ইল্লা-হুল লাযীনা আ-মানূ মিনকুম ওয়াল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা দারাজা-ত ওয়াল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা খাবীর
হে মু’মিনগণ! তোমাদেরকে যখন বলা হয়- ‘বৈঠক প্রশস্ত করে দাও’, তখন তোমরা তা প্রশস্ত করে দিবে, আল্লাহ তোমাদেরকে প্রশস্ততা দান করবেন। আর যখন বলা হয়- ‘তোমরা উঠে যাও’, তখন তোমরা উঠে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে আর যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উচ্চ করবেন। তোমরা যা কর আল্লাহ তার খবর রাখেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا نَٰجَيْتُمُ ٱلرَّسُولَ فَقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَىٰكُمْ صَدَقَةًۭ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌۭ لَّكُمْ وَأَطْهَرُ ۚ فَإِن لَّمْ تَجِدُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌ ١٢
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা না-জাইতুমুর রাসূলা ফাকাদ্দিমূ বাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাকাহ যা-লিকা খাইরুল লাকুম ওয়াআতহার ফাইল লাম তাজিদূ ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম
হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন রসূলের সঙ্গে গোপনে কথা বল, তখন গোপনে কথা বলার আগে সদাক্বাহ দাও, এটাই তোমাদের জন্য উত্তম ও অতি পবিত্র পন্থা। আর যদি সদাক্বাহ জোগাড় করতে না পার, তাহলে আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
ءَأَشْفَقْتُمْ أَن تُقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَىٰكُمْ صَدَقَٰتٍۢ ۚ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا۟ وَتَابَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ ۚ وَٱللَّهُ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ ١٣
আআশফাকতুম আন তুকাদ্দিমূ বাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাকা-ত ফাইয লাম তাফ‘আলূ ওয়াতা-বাল্লা-হু ‘আলাইকুম ফাআকীমুস সালা-তা ওয়াআ-তুয যাকা-তা ওয়াআতী‘উল্লা-হা ওয়ারাসূলাহ ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা তা‘মালূন
তোমরা কি ভয় পেয়ে গেলে যে, তোমাদেরকে (নবীর সঙ্গে) গোপনে কথাবার্তা বলার আগে সদাক্বাহ দিতে হবে? তোমরা যদি তা না কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন, কাজেই তোমরা নামায কায়িম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর। তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহ পুরোপুরি অবগত।
۞ أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ تَوَلَّوْا۟ قَوْمًا غَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مَّا هُم مِّنكُمْ وَلَا مِنْهُمْ وَيَحْلِفُونَ عَلَى ٱلْكَذِبِ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ١٤
আলাম তারা ইলাল লাযীনা তাওয়াল্লাও কাওমান গাদিবাল্লা-হু ‘আলাইহিম মা হুম মিনকুম ওয়ালা মিনহুম ওয়ায়াহলিফূনা ‘আলাল কাযিবি ওয়াহুম ইয়া‘লামূন
তুমি কি তাদেরকে দেখনি যারা সেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যেই সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহ রাগান্বিত? তারা না তোমাদের লোক, আর না তাদের লোক আর তারা জেনে শুনে মিথ্যে শপথ করে।
أَعَدَّ ٱللَّهُ لَهُمْ عَذَابًۭا شَدِيدًا ۖ إِنَّهُمْ سَآءَ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ١٥
আ‘আদ্দাল্লা-হু লাহুম ‘আযা-বান শাদীদান ইন্নাহুম সা-আ মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন কঠিন শাস্তি, তারা যা করে তা কতই না মন্দ!
ٱتَّخَذُوٓا۟ أَيْمَٰنَهُمْ جُنَّةًۭ فَصَدُّوا۟ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ فَلَهُمْ عَذَابٌۭ مُّهِينٌۭ ١٦
ইত্তাখাযূ আইমা-নাহুম জুন্নাতান ফাসাদ্দূ ‘আন সাবীলিল্লা-হি ফালাহুম ‘আযা-বুম মুহীন
তারা তাদের শপথগুলোকে ঢাল বানিয়ে নিয়েছে, এর সাহায্যে তারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, এ কারণে তাদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি।
لَّن تُغْنِىَ عَنْهُمْ أَمْوَٰلُهُمْ وَلَآ أَوْلَٰدُهُم مِّنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ١٧
লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালা- আওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআ উলা-ইকা আসহা-বুন না-রি হুম ফীহা খা-লিদূন
তাদের ধন-সম্পদ আর সন্তানাদি আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে বাঁচানোর ব্যাপারে কোন কাজে আসবে না, তারা জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًۭا فَيَحْلِفُونَ لَهُۥ كَمَا يَحْلِفُونَ لَكُمْ ۖ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ عَلَىٰ شَىْءٍ ۚ أَلَآ إِنَّهُمْ هُمُ ٱلْكَٰذِبُونَ ١٨
ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফায়াহলিফূনা লাহূ কামা ইয়াহলিফূনা লাকুম ওয়ায়াহসাবূনা আন-নাহুম ‘আলা শাই’ আলা- ইন্নাহুম হুমুল কা-যিবূন
আল্লাহ যেদিন তাদের সবাইকে আবার জীবিত করে উঠাবেন, তখন তারা আল্লাহর কাছে ঠিক সে রকম শপথই করবে, যেমন শপথ তারা তোমাদের নিকট করে, আর তারা মনে করে যে, তাদের কিছু (কোন ভিত্তি) আছে। জেনে রেখ, তারা খুবই মিথ্যেবাদী।
ٱسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ ٱلشَّيْطَٰنُ فَأَنسَىٰهُمْ ذِكْرَ ٱللَّهِ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ حِزْبُ ٱلشَّيْطَٰنِ ۚ أَلَآ إِنَّ حِزْبَ ٱلشَّيْطَٰنِ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ ١٩
ইসতাহওয়াযা ‘আলাইহিমুশ শাইতা-নু ফাআনসা-হুম যিকরাল্লা-হ উলা-ইকা হিযবুশ শাইতা-ন আলা- ইন্না হিযবাশ শাইতা-নি হুমুল খা-সিরূন
শয়ত্বান তাদের উপর প্রভাব খাটিয়ে বসেছে, আর তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়ত্বানের দল। জেনে রেখ, শয়ত্বানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحَآدُّونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ أُو۟لَٰٓئِكَ فِى ٱلْأَذَلِّينَ ٢٠
ইন্নাল লাযীনা ইউহা-দ্দূনাল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ উলা-ইকা ফিল আযাল্লীন
যারা আল্লাহর ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করে, তারাই সবচেয়ে বেশী লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।
كَتَبَ ٱللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا۠ وَرُسُلِىٓ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ قَوِىٌّ عَزِيزٌۭ ٢١
কাতাবাল্লা-হু লাআগলিবান্না আনা ওয়ারুসুলী ইন্নাল্লা-হা কাউইয়্যুন ‘আযীয
আল্লাহ লিখে দিয়েছেন যে, অবশ্য অবশ্যই আমি ও আমার রসূলগণ বিজয়ী থাকব। আল্লাহ মহা শক্তিমান ও পরাক্রমশালী।
لَّا تَجِدُ قَوْمًۭا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ يُوَآدُّونَ مَنْ حَآدَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَوْ كَانُوٓا۟ ءَابَآءَهُمْ أَوْ أَبْنَآءَهُمْ أَوْ إِخْوَٰنَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ كَتَبَ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْإِيمَٰنَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٍۢ مِّنْهُ ۖ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا ۚ رَضِىَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا۟ عَنْهُ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ حِزْبُ ٱللَّهِ ۚ أَلَآ إِنَّ حِزْبَ ٱللَّهِ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ٢٢
লা তাজিদু কাওমাঁ ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি ইউওয়া-দ্দূনা মান হা-দ্দাল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ওয়ালাও কা-নূ আ-বা-আহুম আও আবনা-আহুম আও ইখওয়া-নাহুম আও ‘আশীরাতাহুম উলা-ইকা কাতাবা ফী কুলূবিহিমুল ঈমা-না ওয়াআইয়্যাদাহুম বিরূহিম মিনহু ওয়াইউদখিলুহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা রাদিয়াল্লা-হু ‘আনহুম ওয়ারাদূ ‘আনহ উলা-ইকা হিযবুল্লা-হ আলা- ইন্না হিযবাল্লা-হি হুমুল মুফলিহূন
আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায় তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতাকারীদেরকে ভালবাসে- হোক না এই বিরোধীরা তাদের পিতা অথবা পুত্র অথবা তাদের ভাই অথবা তাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠী। আল্লাহ এদের অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল করে দিয়েছেন, আর নিজের পক্ষ থেকে রূহ দিয়ে তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন। তাদেরকে তিনি দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে নদী-নালা, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এরাই আল্লাহর দল; জেনে রেখ, আল্লাহর দলই সাফল্যমন্ডিত।