بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
صٓ ۚ وَٱلْقُرْءَانِ ذِى ٱلذِّكْرِ ١
সোয়া-দ ওয়ালকুরআ-নি যিয যিকর
স্ব-দ, উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ- (এটা সত্য)।
بَلِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى عِزَّةٍۢ وَشِقَاقٍۢ ٢
বালিল লাযীনা কাফারূ ফী ‘ইয্যাতিঁ ওয়াশিকা-ক
কিন্তু কাফিররা আত্মম্ভরিতা আর বিরোধিতায় নিমজ্জিত।
كَمْ أَهْلَكْنَا مِن قَبْلِهِم مِّن قَرْنٍۢ فَنَادَوا۟ وَّلَاتَ حِينَ مَنَاصٍۢ ٣
কাম আহলাকনা মিন কাবলিহিম মিন কারনিন ফানা-দাও ওয়ালা-তা হীনা মানা-স
তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, অবশেষে তারা (ক্ষমা লাভের জন্য) আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু তখন পরিত্রাণ লাভের আর কোন অবকাশই ছিল না।
وَعَجِبُوٓا۟ أَن جَآءَهُم مُّنذِرٌۭ مِّنْهُمْ ۖ وَقَالَ ٱلْكَٰفِرُونَ هَٰذَا سَٰحِرٌۭ كَذَّابٌ ٤
ওয়া‘আজিবূ আন জা-আহুম মুনযিরুম মিনহুম ওয়াকা-লাল কা-ফিরূনা হা-যা সা-হিরুন কায্যা-ব
আর তারা (এ ব্যাপারে) বিস্ময়বোধ করল যে, তাদের কাছে তাদেরই মধ্য হতে একজন সতর্ককারী এসেছে। কাফিরগণ বলল- ’এটা একটা যাদুকর, মিথ্যুক।
أَجَعَلَ ٱلْءَالِهَةَ إِلَٰهًۭا وَٰحِدًا ۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَىْءٌ عُجَابٌۭ ٥
আজা‘আলাল আ-লিহাতা ইলা-হাঁ ওয়া-হিদান ইন্না হা-যা লাশাইউন ‘উজা-ব
সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ বানিয়ে ফেলেছে? এটা বড়ই আশ্চর্য ব্যাপার তো!’
وَٱنطَلَقَ ٱلْمَلَأُ مِنْهُمْ أَنِ ٱمْشُوا۟ وَٱصْبِرُوا۟ عَلَىٰٓ ءَالِهَتِكُمْ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَىْءٌۭ يُرَادُ ٦
ওয়ানতালাকাল মালাউ মিনহুম আনিমশূ ওয়াসবিরূ ‘আলা- আ-লিহাতিকুম ইন্না হা-যা লাশাইউঁ ইউরা-দ
তাদের প্রধানরা প্রস্থান করে এই বলে যে, ‘তোমরা চলে যাও আর অবিচলিত চিত্তে তোমাদের ইলাহদের পূজায় লেগে থাক। অবশ্যই এ ব্যাপারটির পিছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে।
مَا سَمِعْنَا بِهَٰذَا فِى ٱلْمِلَّةِ ٱلْءَاخِرَةِ إِنْ هَٰذَآ إِلَّا ٱخْتِلَٰقٌ ٧
মা সামি‘না বিহা-যা ফিল মিল্লাতিল আ-খিরাতি ইন হা-যা- ইল্লাখতিলা-ক
এমন কথা তো আমাদের নিকট অতীতের মিল্লাতগুলো থেকে শুনিনি। এটা শুধু একটা মন-গড়া কথা।
أَءُنزِلَ عَلَيْهِ ٱلذِّكْرُ مِنۢ بَيْنِنَا ۚ بَلْ هُمْ فِى شَكٍّۢ مِّن ذِكْرِى ۖ بَل لَّمَّا يَذُوقُوا۟ عَذَابِ ٨
আউনযিলা ‘আলাইহিয যিকরু মিম বাইনিনা বাল হুম ফী শাক্কিম মিন যিকরী বাল লাম্মা ইয়াযূকূ ‘আযা-ব
আমাদের মধ্যে তার কাছেই কি বাণী পাঠানো হয়েছে?’ আসলে তারা আমার বাণীতে সন্দিহান, (তার কারণ) তারা এখনও আমার শাস্তির স্বাদ পায়নি।
أَمْ عِندَهُمْ خَزَآئِنُ رَحْمَةِ رَبِّكَ ٱلْعَزِيزِ ٱلْوَهَّابِ ٩
আম ‘ইনদাহুম খাযা-ইনু রাহমাতি রাব্বিকাল ‘আযীযিল ওয়াহ্হা-ব
(রহমতের ভান্ডার আছে আমার কাছে, তাত্থেকে যাকে যতখানি ইচ্ছে আমি দেই) তাদের কাছে কি তোমার প্রতিপালকের রহমতের ভান্ডার আছে যিনি মহা প্রতাপশালী, অসীম দাতা?
أَمْ لَهُم مُّلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ فَلْيَرْتَقُوا۟ فِى ٱلْأَسْبَٰبِ ١٠
আম লাহুম মুলকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ামা বাইনাহুমা ফালইয়ারতাকূ ফিল আসবা-ব
কিংবা আকাশ ও পৃথিবী- এ দু’ এর মাঝে যা আছে তার সর্বময় ক্ষমতা কি তাদের আছে? তাহলে তারা বিশ্ব পরিচালনার উচ্চস্থানে উঠে পড়ুক।
جُندٌۭ مَّا هُنَالِكَ مَهْزُومٌۭ مِّنَ ٱلْأَحْزَابِ ١١
জুনদুম মা হুনা-লিকা মাহযূমুম মিনাল আহযা-ব
(আরবের কাফিরদের) সম্মিলিত বাহিনীর এই দলটি এখানেই (অর্থাৎ এই মক্কা নগরীতেই একদিন) পরাজিত হবে।
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍۢ وَعَادٌۭ وَفِرْعَوْنُ ذُو ٱلْأَوْتَادِ ١٢
কায্যাবাত কাবলাহুম কাওমু নূহিঁ ওয়া‘আ-দুঁ ওয়াফির‘আওনু যুল আওতা-দ
তাদের পূর্বে নূহের জাতি, ‘আদ ও বহু সেনা শিবিরের অধিপতি ফেরাউনও রসূলদেরকে মিথ্যে বলে অস্বীকার করেছিল।
وَثَمُودُ وَقَوْمُ لُوطٍۢ وَأَصْحَٰبُ لْـَٔيْكَةِ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلْأَحْزَابُ ١٣
ওয়াছামূদু ওয়াকাওমু লূতিঁ ওয়াআসহা-বু লআইকাহ উলা-ইকাল আহযা-ব
আর সামূদ, লূতের জাতি ও আইকাবাসী- এরা ছিল বিরাট বিরাট দল।
إِن كُلٌّ إِلَّا كَذَّبَ ٱلرُّسُلَ فَحَقَّ عِقَابِ ١٤
ইন কুল্লুন ইল্লা কায্যাবার রুসুলা ফাহাক্কা ‘ইকা-ব
এদের কেউই এমন নয় যারা রসূলদেরকে অস্বীকার করেনি। ফলে (তাদের উপর) আমার শাস্তি হয়েছিল অবধারিত।
وَمَا يَنظُرُ هَٰٓؤُلَآءِ إِلَّا صَيْحَةًۭ وَٰحِدَةًۭ مَّا لَهَا مِن فَوَاقٍۢ ١٥
ওয়ামা ইয়ানযুরু হা-উলা-ই ইল্লা সাইহাতাঁ ওয়া-হিদাতাম মা লাহা মিন ফাওয়া-ক
(আজ) এই লোকেরা তো প্রচন্ড একটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে, (তা যখন ঘটবে) তাতে কোন বিরাম থাকবে না।
وَقَالُوا۟ رَبَّنَا عَجِّل لَّنَا قِطَّنَا قَبْلَ يَوْمِ ٱلْحِسَابِ ١٦
ওয়াকা-লূ রাব্বানা ‘আজ্জিল লানা কিত্তানা কাবলা ইয়াওমিল হিসা-ব
এরা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! হিসাবের দিনের আগেই আমাদের প্রাপ্য (শাস্তি) আমাদেরকে তাড়াতাড়ি দিয়ে দিন।
ٱصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَٱذْكُرْ عَبْدَنَا دَاوُۥدَ ذَا ٱلْأَيْدِ ۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌ ١٧
ইসবির ‘আলা মা ইয়াকূলূনা ওয়াযকুর ‘আবদানা দা-ঊদা যাল আইদি ইন্নাহূ আওয়া-ব
এরা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর, আর আমার বান্দাহ দাঊদের কথা স্মরণ কর, সে ছিল শক্তি-সামর্থ্যের অধিকারী আর বড়ই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
إِنَّا سَخَّرْنَا ٱلْجِبَالَ مَعَهُۥ يُسَبِّحْنَ بِٱلْعَشِىِّ وَٱلْإِشْرَاقِ ١٨
ইন্না সাখ্খারনাল জিবা-লা মা‘আহূ ইউসাব্বিহনা বিল‘আশিয়্যি ওয়ালইশরা-ক
আমি পর্বতমালাকে কাজে নিয়োজিত করেছিলাম, তারা তার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত।
وَٱلطَّيْرَ مَحْشُورَةًۭ ۖ كُلٌّۭ لَّهُۥٓ أَوَّابٌۭ ١٩
ওয়াত্তাইরা মাহশূরাতান কুল্লুল লাহূ আওয়া-ব
আর পাখীরা সমবেত হত, সকলেই তার সঙ্গে আল্লাহ অভিমুখী হত (তাসবীহ করার মাধ্যমে)।
وَشَدَدْنَا مُلْكَهُۥ وَءَاتَيْنَٰهُ ٱلْحِكْمَةَ وَفَصْلَ ٱلْخِطَابِ ٢٠
ওয়াশাদাদনা মুলকাহূ ওয়াআ-তাইনা-হুল হিকমাতা ওয়াফাসলাল খিতা-ব
আমি তার রাজত্বকে সুদৃঢ় করেছিলাম, আর তাকে দিয়েছিলাম জ্ঞান-বুদ্ধি-বিচক্ষণতা আর বিচারকার্য ও কথাবার্তায় উত্তম সিদ্ধান্ত দানের যোগ্যতা।
۞ وَهَلْ أَتَىٰكَ نَبَؤُا۟ ٱلْخَصْمِ إِذْ تَسَوَّرُوا۟ ٱلْمِحْرَابَ ٢١
ওয়াহাল আতা-কা নাবাউল খাসমি ইয তাসাওয়ারুল মিহরা-ব
বিবদমান লোকেদের কথা তোমার কাছে পৌঁছেছে কি? যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ‘ইবাদাতখানায় আসলো,
إِذْ دَخَلُوا۟ عَلَىٰ دَاوُۥدَ فَفَزِعَ مِنْهُمْ ۖ قَالُوا۟ لَا تَخَفْ ۖ خَصْمَانِ بَغَىٰ بَعْضُنَا عَلَىٰ بَعْضٍۢ فَٱحْكُم بَيْنَنَا بِٱلْحَقِّ وَلَا تُشْطِطْ وَٱهْدِنَآ إِلَىٰ سَوَآءِ ٱلصِّرَٰطِ ٢٢
ইয দাখালূ ‘আলা দা-ঊদা ফাফাযি‘আ মিনহুম কা-লূ লা তাখাফ খাসমা-নি বাগা বা‘দুনা ‘আলা বা‘দিন ফাহকুম বাইনানা বিলহাক্কি ওয়ালা তুশতিত ওয়াহদিনা- ইলা সাওয়া-ইস সিরা-ত
যখন তারা দাঊদের কাছে প্রবেশ করল, তাদেরকে দেখে সে ভয় পেয়ে গেল। তারা বলল- ভয় করবেন না, আমরা বিবাদের দু’পক্ষ, আমাদের একে অপরের উপর যুলম করেছে, কাজেই আমাদের মাঝে ন্যায্য বিচার করে দিন, অবিচার করবেন না, আর আমাদেরকে সোজা পথের নির্দেশ দিন।
إِنَّ هَٰذَآ أَخِى لَهُۥ تِسْعٌۭ وَتِسْعُونَ نَعْجَةًۭ وَلِىَ نَعْجَةٌۭ وَٰحِدَةٌۭ فَقَالَ أَكْفِلْنِيهَا وَعَزَّنِى فِى ٱلْخِطَابِ ٢٣
ইন্না হা-যা- আখী লাহূ তিস‘উঁ ওয়াতিস‘ঊনা না‘জাতাঁ ওয়ালিয়া না‘জাতুঁ ওয়া-হিদাতুন ফাকা-লা আকফিলনীহা ওয়া‘আয্যানী ফিল খিতা-ব
এ হচ্ছে আমার ভাই, এর আছে নিরানব্বইটা দুম্বী, আর আমার আছে মাত্র একটা দুম্বী; তবুও সে বলে- এটি আমার তত্ত্বাবধানে দিয়ে দাও, আর সে যুক্তি-তর্কে আমাকে পরাস্ত করেছে।
قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إِلَىٰ نِعَاجِهِۦ ۖ وَإِنَّ كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلْخُلَطَآءِ لَيَبْغِى بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَقَلِيلٌۭ مَّا هُمْ ۗ وَظَنَّ دَاوُۥدُ أَنَّمَا فَتَنَّٰهُ فَٱسْتَغْفَرَ رَبَّهُۥ وَخَرَّ رَاكِعًۭا وَأَنَابَ ۩ ٢٤
কা-লা লাকাদ যালামাকা বিসুআ-লি না‘জাতিকা ইলা নি‘আ-জিহী ওয়াইন্না কাছীরাম মিনাল খুলাতা-ই লায়াবগী বা‘দুহুম ‘আলা বা‘দিন ইল্লাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি ওয়াকালীলুম মা হুম ওয়াযান্না দা-ঊদু আন-নামা ফাতান্না-হু ফাসতাগফারা রাব্বাহূ ওয়াখার্রা রা-কি‘আঁ ওয়াআনা-ব
দাঊদ বলল- তোমার (মাত্র) একটি দুম্বীকে তার দুম্বীর পালে যুক্ত করার দাবী করে (সে) তোমার প্রতি যুলম করেছে। শরীকদের অধিকাংশই সত্যিই পরস্পরের প্রতি বাড়াবাড়ি করে, কিন্তু যারা ঈমান আনে আর সৎ ‘আমাল করে তারা ব্যতীত, এদের সংখ্যা খুবই কম। দাঊদ বুঝতে পারল আমি তাকে পরীক্ষা করেছি। তখন সে তার প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল, সাজদায় লুটিয়ে পড়ল ও তাঁর পানে ফিরে আসল।(সাজদাহ)
فَغَفَرْنَا لَهُۥ ذَٰلِكَ ۖ وَإِنَّ لَهُۥ عِندَنَا لَزُلْفَىٰ وَحُسْنَ مَـَٔابٍۢ ٢٥
ফাগাফারনা লাহূ যা-লিকা ওয়াইন্না লাহূ ‘ইনদানা লাযুলফা ওয়াহুসনা মাআ-ব
তখন আমি তার সে অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম। তার জন্য আমার কাছে অবশ্যই আছে নৈকট্য আর উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।
يَٰدَاوُۥدُ إِنَّا جَعَلْنَٰكَ خَلِيفَةًۭ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱحْكُم بَيْنَ ٱلنَّاسِ بِٱلْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ ٱلْهَوَىٰ فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَضِلُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌۭ شَدِيدٌۢ بِمَا نَسُوا۟ يَوْمَ ٱلْحِسَابِ ٢٦
ইয়া-দা-ঊদু ইন্না জা‘আলনা-কা খালীফাতান ফিল আরদি ফাহকুম বাইনান না-সি বিলহাক্কি ওয়ালা তাত্তাবি‘ইল হাওয়া ফাইউদিল্লাকা ‘আন সাবীলিল্লা-হ ইন্নাল লাযীনা ইয়াদিল্লূনা ‘আন সাবীলিল্লা-হি লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুম বিমা নাসূ ইয়াওমাল হিসা-ব
হে দাঊদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে (আমার) প্রতিনিধি করেছি, কাজেই তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শাসন-বিচার পরিচালনা কর, এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। কেননা, তা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে ফেলবে। যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য আছে কঠিন ‘আযাব, কারণ তারা হিসাব-নিকাশের দিনকে ভুলে গেছে।
وَمَا خَلَقْنَا ٱلسَّمَآءَ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بَٰطِلًۭا ۚ ذَٰلِكَ ظَنُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ۚ فَوَيْلٌۭ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنَ ٱلنَّارِ ٢٧
ওয়ামা খালাকনাস সামা-আ ওয়ালআরদা ওয়ামা বাইনাহুমা বা-তিলা যা-লিকা যান্নুল লাযীনা কাফারূ ফাওয়াইলুল লিল্লাযীনা কাফারূ মিনান না-র
আমি আকাশ, পৃথিবী ও এ দু’ এর মাঝে যা আছে তা অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এ রকম ধারণা তো কাফিররা করে, কাজেই কাফিরদের জন্য আছে আগুনের দুর্ভোগ।
أَمْ نَجْعَلُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ كَٱلْمُفْسِدِينَ فِى ٱلْأَرْضِ أَمْ نَجْعَلُ ٱلْمُتَّقِينَ كَٱلْفُجَّارِ ٢٨
আম নাজ‘আলুল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি কালমুফসিদীনা ফিল আরদি আম নাজ‘আলুল মুত্তাকীনা কালফুজ্জা-র
যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে তাদেরকে কি আমি ওদের মত করব যারা দুনিয়াতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে? আমি মুত্তাক্বীদের কি অপরাধীদের মত গণ্য করব?
كِتَٰبٌ أَنزَلْنَٰهُ إِلَيْكَ مُبَٰرَكٌۭ لِّيَدَّبَّرُوٓا۟ ءَايَٰتِهِۦ وَلِيَتَذَكَّرَ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَٰبِ ٢٩
কিতা-বুন আনযালনা-হু ইলাইকা মুবা-রাকুল লিয়াদ্দাব্বারূ আ-য়া-তিহী ওয়ালিয়াতাযাক্কারা উলুল আলবা-ব
এটি একটি কল্যাণময় কিতাব তোমার কাছে অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা এর আয়াতগুলোর প্রতি চিন্তা-ভাবনা করে, আর জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।
وَوَهَبْنَا لِدَاوُۥدَ سُلَيْمَٰنَ ۚ نِعْمَ ٱلْعَبْدُ ۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌ ٣٠
ওয়াওয়াহাবনা লিদা-ঊদা সুলাইমা-ন নি‘মাল ‘আবদু ইন্নাহূ আওয়া-ব
আমি দাঊদের জন্য দান করেছিলাম সুলাইমান। কতই না উত্তম বান্দাহ! বার বার (অনুশোচনাভরে) আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
إِذْ عُرِضَ عَلَيْهِ بِٱلْعَشِىِّ ٱلصَّٰفِنَٰتُ ٱلْجِيَادُ ٣١
ইয ‘উরিদা ‘আলাইহি বিল‘আশিয়্যিস সা-ফিনা-তুল জিয়া-দ
যখন তার সামনে সন্ধ্যাকালে উৎকৃষ্ট জাতের দ্রুতগামী অশ্ব উপস্থিত করা হল,
فَقَالَ إِنِّىٓ أَحْبَبْتُ حُبَّ ٱلْخَيْرِ عَن ذِكْرِ رَبِّى حَتَّىٰ تَوَارَتْ بِٱلْحِجَابِ ٣٢
ফাকা-লা ইন্নী আহবাবতু হুব্বাল খাইরি ‘আন যিকরি রাব্বী হাত্তা তাওয়া-রাত বিলহিজা-ব
তখন সে বলল- আমি আমার প্রতিপালকের স্মরণ হতে ধন-সম্পদকে বেশি ভালবেসে ফেলেছি, এমনকি সূর্য (রাতের) পর্দায় লুকিয়ে গেছে।
رُدُّوهَا عَلَىَّ ۖ فَطَفِقَ مَسْحًۢا بِٱلسُّوقِ وَٱلْأَعْنَاقِ ٣٣
রুদ্দূহা ‘আলাইয়্যা ফাতাফিকা মাসহাম বিস্সূকি ওয়ালআ‘না-ক
(সে তার সন্ধ্যাকালীন ‘ইবাদাত সম্পন্ন করে (বলল) ওগুলোকে আমার কাছে আবার এনে হাজির কর। তখন সে তাদের পায়ে ও গলায় হাত বুলাতে লাগল।
وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَٰنَ وَأَلْقَيْنَا عَلَىٰ كُرْسِيِّهِۦ جَسَدًۭا ثُمَّ أَنَابَ ٣٤
ওয়ালাকাদ ফাতান্না সুলাইমা-না ওয়াআলকাইনা ‘আলা কুরসিয়্যিহী জাসাদান ছুম্মা আনা-ব
আমি সুলাইমানকে পরীক্ষা করলাম (তার রাজত্ব কেড়ে নিয়ে) আর তার সিংহাসনের উপর রাখলাম একটি দেহ (শয়তানকে, কাজেই সুলাইমান কিছু সময়ের জন্য তার রাজত্ব হারাল) অতঃপর সে (আনুগত্য নিয়ে অনুশোচনা করে আল্লাহর পানে) প্রত্যাবর্তন করল (আর আল্লাহর অনুগ্রহে ফিরে পেল তার রাজত্ব ও সিংহাসন)।
قَالَ رَبِّ ٱغْفِرْ لِى وَهَبْ لِى مُلْكًۭا لَّا يَنۢبَغِى لِأَحَدٍۢ مِّنۢ بَعْدِىٓ ۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْوَهَّابُ ٣٥
কা-লা রাব্বিগফির লী ওয়াহাব লী মুলকাল লা ইয়ামবাগী লিআহাদিম মিম বা‘দী ইন্নাকা আনতাল ওয়াহ্হা-ব
সে বলল- হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর, আর আমাকে এমন রাজ্য দান কর যা আমার পরে আর কারো জন্য শোভনীয় হবে না। তুমি হলে পরম দাতা।
فَسَخَّرْنَا لَهُ ٱلرِّيحَ تَجْرِى بِأَمْرِهِۦ رُخَآءً حَيْثُ أَصَابَ ٣٦
ফাসাখ্খারনা লাহুর রীহা তাজরী বিআমরিহী রুখা-আন হাইছু আসা-ব
অতঃপর বাতাসকে তার অধীন করে দিলাম, তার আদেশে তা মৃদুমন্দ গতিতে প্রবাহিত হত, যেখানে সে ইচ্ছে করত।
وَٱلشَّيَٰطِينَ كُلَّ بَنَّآءٍۢ وَغَوَّاصٍۢ ٣٧
ওয়াশ্শায়া-তীনা কুল্লা বান্না-ইঁ ওয়াগাওয়া-স
আর শয়ত্বানদেরকেও (তার বশীভূত করে দিলাম), সব ছিল নির্মাতা ও ডুবুরী।
وَءَاخَرِينَ مُقَرَّنِينَ فِى ٱلْأَصْفَادِ ٣٨
ওয়াআ-খারীনা মুকার্রানীনা ফিল আসফা-দ
আর অন্যদেরকেও যারা ছিল শৃঙ্খলে আবদ্ধ।
هَٰذَا عَطَآؤُنَا فَٱمْنُنْ أَوْ أَمْسِكْ بِغَيْرِ حِسَابٍۢ ٣٩
হা-যা ‘আতা-উনা ফামনুন আও আমসিক বিগাইরি হিসা-ব
(আমি তাকে বললাম) এ সব আমারই দান। এত্থেকে তুমি যাকে ইচ্ছে দাও, কিংবা (না দিয়ে) নিজের কাছে রেখে দাও, তোমাকে কোন হিসেব দিতে হবে না।
وَإِنَّ لَهُۥ عِندَنَا لَزُلْفَىٰ وَحُسْنَ مَـَٔابٍۢ ٤٠
ওয়াইন্না লাহূ ‘ইনদানা লাযুলফা ওয়াহুসনা মাআ-ব
তার জন্য আমার কাছে অবশ্যই আছে নৈকট্য আর উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।
وَٱذْكُرْ عَبْدَنَآ أَيُّوبَ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُۥٓ أَنِّى مَسَّنِىَ ٱلشَّيْطَٰنُ بِنُصْبٍۢ وَعَذَابٍ ٤١
ওয়াযকুর ‘আবদানা- আইয়্যূবা ইয না-দা রাব্বাহূ আন-নী মাস্সানিয়াশ শাইতা-নু বিনুসবিঁ ওয়া‘আযা-ব
স্মরণ কর আমার বান্দা আইয়ূবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল- শয়ত্বান আমাকে কষ্ট আর ‘আযাবে ফেলেছে (অর্থাৎ আমার ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়ে আমাকে আল্লাহর অকৃতজ্ঞ বান্দাহ বানানোর জন্য কুমন্ত্রণা দিয়ে চলেছে)।
ٱرْكُضْ بِرِجْلِكَ ۖ هَٰذَا مُغْتَسَلٌۢ بَارِدٌۭ وَشَرَابٌۭ ٤٢
উরকুদ বিরিজলিকা হা-যা মুগতাসালুম বা-রিদুঁ ওয়াশারা-ব
(আমি তাকে নির্দেশ দিলাম) তুমি তোমার পা দিয়ে যমীনে আঘাত কর, এই তো ঠান্ডা পানি, গোসলের জন্য আর পানের জন্য।
وَوَهَبْنَا لَهُۥٓ أَهْلَهُۥ وَمِثْلَهُم مَّعَهُمْ رَحْمَةًۭ مِّنَّا وَذِكْرَىٰ لِأُو۟لِى ٱلْأَلْبَٰبِ ٤٣
ওয়াওয়াহাবনা লাহূ আহলাহূ ওয়ামিছলাহুম মা‘আহুম রাহমাতাম মিন্না ওয়াযিকরা লিউলিল আলবা-ব
আমি তাকে দান করলাম তার পরিবার-পরিজন আর তাদের সাথে তাদের মত আরো, আমার রহমত স্বরূপ আর জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেদের জন্য উপদেশ স্বরূপ।
وَخُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًۭا فَٱضْرِب بِّهِۦ وَلَا تَحْنَثْ ۗ إِنَّا وَجَدْنَٰهُ صَابِرًۭا ۚ نِّعْمَ ٱلْعَبْدُ ۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌۭ ٤٤
ওয়াখুয বিয়াদিকা দিগছান ফাদরিব বিহী ওয়ালা তাহনাছ ইন্না ওয়াজাদনা-হু সা-বিরা নি‘মাল ‘আবদু ইন্নাহূ আওয়া-ব
(আমি তাকে বললাম) কিছু ঘাস লও আর তা দিয়ে আঘাত কর, (আর তোমার স্ত্রীকে একশত বেত্রাঘাত করার শপথ) ভঙ্গ করো না। আমি তাকে পেয়েছিলাম পূর্ণ ধৈর্যশীল, কতই না উত্তম বান্দাহ, প্রকৃতই (আল্লাহ) অভিমুখী।
وَٱذْكُرْ عِبَٰدَنَآ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ أُو۟لِى ٱلْأَيْدِى وَٱلْأَبْصَٰرِ ٤٥
ওয়াযকুর ‘ইবা-দানা- ইবরা-হীমা ওয়াইসহা-কা ওয়ায়া‘কূবা উলিল আইদী ওয়ালআবসা-র
স্মরণ কর আমার বান্দাহ ইবরাহীম, ইসহাক্ব ও ইয়া‘কূব-এর কথা- তারা ছিল শক্তি ও সূক্ষ্ণদর্শিতার অধিকারী।
إِنَّآ أَخْلَصْنَٰهُم بِخَالِصَةٍۢ ذِكْرَى ٱلدَّارِ ٤٦
ইন্না- আখলাসনা-হুম বিখা-লিসাতিন যিকরাদ দা-র
বস্তুত আমি তাদেরকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছিলাম এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যে- তা হল পরলোকের স্মরণ।
وَإِنَّهُمْ عِندَنَا لَمِنَ ٱلْمُصْطَفَيْنَ ٱلْأَخْيَارِ ٤٧
ওয়াইন্নাহুম ‘ইনদানা লামিনাল মুসতাফাইনাল আখইয়া-র
আমার দৃষ্টিতে তারা ছিল আমার বাছাইকৃত উত্তম বান্দাহদের অন্তর্ভুক্ত।
وَٱذْكُرْ إِسْمَٰعِيلَ وَٱلْيَسَعَ وَذَا ٱلْكِفْلِ ۖ وَكُلٌّۭ مِّنَ ٱلْأَخْيَارِ ٤٨
ওয়াযকুর ইসমা-‘ঈলা ওয়ালইয়াসা‘আ ওয়াযাল কিফলি ওয়াকুল্লুম মিনাল আখইয়া-র
স্মরণ কর ইসমাঈল, ইয়াসা‘আ ও যুলকিফলের কথা- এরা সবাই ছিল উত্তমদের মধ্যে গণ্য।
هَٰذَا ذِكْرٌۭ ۚ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَـَٔابٍۢ ٤٩
হা-যা যিকর ওয়াইন্না লিলমুত্তাকীনা লাহুসনা মাআ-ব
এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাক্বীদের জন্য অবশ্যই আছে উত্তম প্রত্যাবর্তন স্থল।
جَنَّٰتِ عَدْنٍۢ مُّفَتَّحَةًۭ لَّهُمُ ٱلْأَبْوَٰبُ ٥٠
জান্না-তি ‘আদনিম মুফাত্তাহাতাল লাহুমুল আবওয়া-ব
চিরস্থায়ী জান্নাত, তাদের জন্য উন্মুক্ত দ্বার।
مُتَّكِـِٔينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَٰكِهَةٍۢ كَثِيرَةٍۢ وَشَرَابٍۢ ٥١
মুত্তাকিঈনা ফীহা ইয়াদ‘ঊনা ফীহা বিফা-কিহাতিন কাছীরাতিঁ ওয়াশারা-ব
সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে, চাইবে প্রচুর ফলমূল আর পানীয়।
۞ وَعِندَهُمْ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ أَتْرَابٌ ٥٢
ওয়া‘ইনদাহুম কা-সিরা-তুত তারফি আতরা-ব
আর তাদের পাশে থাকবে সতীসাধ্বী সংযতনয়না সমবয়স্কা রমণীগণ।
هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ ٱلْحِسَابِ ٥٣
হা-যা মা তূ‘আদূনা লিয়াওমিল হিসা-ব
এসব হল যা তোমাদেরকে হিসাবের দিনে দেয়ার ওয়া‘দা দেয়া হচ্ছে।
إِنَّ هَٰذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُۥ مِن نَّفَادٍ ٥٤
ইন্না হা-যা লারিযকুনা মা লাহূ মিন নাফা-দ
এ হল আমার দেয়া রিযক- যা কক্ষনো ফুরাবে না।
هَٰذَا ۚ وَإِنَّ لِلطَّٰغِينَ لَشَرَّ مَـَٔابٍۢ ٥٥
হা-যা ওয়াইন্না লিত্তা-গীনা লাশার্রা মাআ-ব
সত্য বটে, এ সব (মুত্তাক্বীদের জন্য); আর আল্লাহদ্রোহীদের জন্য অবশ্যই আছে নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।
جَهَنَّمَ يَصْلَوْنَهَا فَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ ٥٦
জাহান্নামা ইয়াসলাওনাহা ফাবি’সাল মিহা-দ
জাহান্নাম, সেখানে তারা জ্বলবে, কতই না নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!
هَٰذَا فَلْيَذُوقُوهُ حَمِيمٌۭ وَغَسَّاقٌۭ ٥٧
হা-যা ফালইয়াযূকূহু হামীমুঁ ওয়াগাস্সা-ক
সত্য বটে, এসব (আল্লাহদ্রোহীদের জন্য), কাজেই সেখানে তারা পান করুক ফুটন্ত পানি ও রক্ত পুঁজ।
وَءَاخَرُ مِن شَكْلِهِۦٓ أَزْوَٰجٌ ٥٨
ওয়াআ-খারু মিন শাকলিহী আযওয়া-জ
এ ধরনের আরো অন্যান্য (শাস্তি) যা তাদের জন্য যথোপযুক্ত।
هَٰذَا فَوْجٌۭ مُّقْتَحِمٌۭ مَّعَكُمْ ۖ لَا مَرْحَبًۢا بِهِمْ ۚ إِنَّهُمْ صَالُوا۟ ٱلنَّارِ ٥٩
হা-যা ফাওজুম মুকতাহিমুম মা‘আকুম লা মারহাবাম বিহিম ইন্নাহুম সা-লুন না-র
(নিজেদের একদল অনুসারীকে জাহান্নামের দিকে আসতে দেখে জাহান্নামীরা বলাবলি করবে) এই তো এক বাহিনী তোমাদের সঙ্গে এসে প্রবেশ করছে। তাদের জন্য নেই কোন সংবর্ধনা, তারা আগুনে জ্বলবে।
قَالُوا۟ بَلْ أَنتُمْ لَا مَرْحَبًۢا بِكُمْ ۖ أَنتُمْ قَدَّمْتُمُوهُ لَنَا ۖ فَبِئْسَ ٱلْقَرَارُ ٦٠
কা-লূ বাল আনতুম লা মারহাবাম বিকুম আনতুম কাদ্দামতুমূহু লানা ফাবি’সাল কারা-র
অনুসারীরা বলবে- না, বরং তোমরাই (জ্বলে মর), তোমাদের জন্যও নেই কোন অভিনন্দন। আমাদের জন্য এ ব্যবস্থা আগে তোমরাই করে দিয়েছ। কতই না নিকৃষ্ট এই আবাসস্থল!
قَالُوا۟ رَبَّنَا مَن قَدَّمَ لَنَا هَٰذَا فَزِدْهُ عَذَابًۭا ضِعْفًۭا فِى ٱلنَّارِ ٦١
কা-লূ রাব্বানা মান কাদ্দামা লানা হা-যা ফাযিদহু ‘আযা-বান দি‘ফান ফিন না-র
তারা বলবে- হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য যে এ ব্যবস্থা এনে দিয়েছে তাকে জাহান্নামে দ্বিগুণ শাস্তি দাও।
وَقَالُوا۟ مَا لَنَا لَا نَرَىٰ رِجَالًۭا كُنَّا نَعُدُّهُم مِّنَ ٱلْأَشْرَارِ ٦٢
ওয়াকা-লূ মা লানা লা নারা রিজা-লান কুন্না না‘উদ্দুহুম মিনাল আশরা-র
তারা বলবে- ব্যাপার কী! আমরা যে লোকগুলোকে (দুনিয়ায়) খুব খারাপ বলে গণ্য করতাম তাদেরকে তো দেখছি না।
أَتَّخَذْنَٰهُمْ سِخْرِيًّا أَمْ زَاغَتْ عَنْهُمُ ٱلْأَبْصَٰرُ ٦٣
আত-তাখাযনা-হুম সিখরিয়্যান আম যা-গাত ‘আনহুমুল আবসা-র
আমরা কি তাদের সঙ্গে অযথাই ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতাম, না তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভ্রম ঘটেছে? (অর্থাৎ তারা হয়ত জাহান্নামেই আছে কিন্তু আমাদের চোখ তাদেরকে দেখতে পাচ্ছে না)
إِنَّ ذَٰلِكَ لَحَقٌّۭ تَخَاصُمُ أَهْلِ ٱلنَّارِ ٦٤
ইন্না যা-লিকা লাহাক্কুন তাখা-সুমু আহলিন না-র
এটা নিশ্চিত সত্য, জাহান্নামের বাসিন্দাদের এই বাগবিতন্ডা।
قُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ مُنذِرٌۭ ۖ وَمَا مِنْ إِلَٰهٍ إِلَّا ٱللَّهُ ٱلْوَٰحِدُ ٱلْقَهَّارُ ٦٥
কুল ইন্নামা- আনা মুনযিরুঁ ওয়ামা মিন ইলা-হিন ইল্লাল্লা-হুল ওয়া-হিদুল কাহ্হা-র
বল- আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী, সার্বভৌম অপ্রতিরোধ্য এক ও একক আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই।
رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ٱلْعَزِيزُ ٱلْغَفَّٰرُ ٦٦
রাব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ামা বাইনাহুমাল ‘আযীযুল গাফ্ফা-র
যিনি আকাশ ও পৃথিবী এবং এ দু’এর মাঝে যা আছে সব কিছুর প্রতিপালক- যিনি মহা পরাক্রমশালী, বড়ই ক্ষমাশীল।
قُلْ هُوَ نَبَؤٌا۟ عَظِيمٌ ٦٧
কুল হুওয়া নাবাউন ‘আযীম
বল, এটা এক ভয়ানক সংবাদ।
أَنتُمْ عَنْهُ مُعْرِضُونَ ٦٨
আনতুম ‘আনহু মু‘রিদূন
যাত্থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ।
مَا كَانَ لِىَ مِنْ عِلْمٍۭ بِٱلْمَلَإِ ٱلْأَعْلَىٰٓ إِذْ يَخْتَصِمُونَ ٦٩
মা কা-না লিয়া মিন ‘ইলমিম বিলমালাইল আ‘লা- ইয ইয়াখতাসিমূন
(বল) আমি ঊর্ধ্ব জগতের কোন জ্ঞান রাখি না যখন তারা (অর্থাৎ ফেরেশতারা) বাদানুবাদ করছিল।
إِن يُوحَىٰٓ إِلَىَّ إِلَّآ أَنَّمَآ أَنَا۠ نَذِيرٌۭ مُّبِينٌ ٧٠
ইন ইউহা- ইলাইয়্যা ইল্লা- আন-নামা- আনা নাযীরুম মুবীন
আমার কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে, আমি কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।
إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَٰٓئِكَةِ إِنِّى خَٰلِقٌۢ بَشَرًۭا مِّن طِينٍۢ ٧١
ইয কা-লা রাব্বুকা লিলমালা-ইকাতি ইন্নী খা-লিকুম বাশারাম মিন তীন
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন- আমি কাদা থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।
فَإِذَا سَوَّيْتُهُۥ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِى فَقَعُوا۟ لَهُۥ سَٰجِدِينَ ٧٢
ফাইযা সাওয়াইতুহূ ওয়ানাফাখতু ফীহি মির রূহী ফাকা‘ঊ লাহূ সা-জিদীন
আমি যখন তাকে সঠিকভাবে বানিয়ে ফেলব আর তার ভিতরে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সামনে সাজদাহয় পড়ে যাবে।
فَسَجَدَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ ٧٣
ফাসাজাদাল মালা-ইকাতু কুল্লুহুম আজমা‘ঊন
তখন ফেরেশতারা সবাই সেজদা করল।
إِلَّآ إِبْلِيسَ ٱسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ ٧٤
ইল্লা- ইবলীসাসতাকবারা ওয়াকা-না মিনাল কা-ফিরীন
ইবলীস ছাড়া। সে অহঙ্কার করল আর কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
قَالَ يَٰٓإِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَن تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَىَّ ۖ أَسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ ٱلْعَالِينَ ٧٥
কা-লা ইয়া-ইবলীসু মা মানা‘আকা আন তাসজুদা লিমা খালাকতু বিয়াদাইয়্যা আসতাকবারতা আম কুনতা মিনাল ‘আ-লীন
আল্লাহ বললেন- হে ইবলীস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করলাম তাকে সেজদা করতে কিসে তোমাকে নিষেধ করল? তুমি কি দম্ভ দেখালে, না তুমি খুব উচ্চ মানের অধিকারী হয়েছ?
قَالَ أَنَا۠ خَيْرٌۭ مِّنْهُ ۖ خَلَقْتَنِى مِن نَّارٍۢ وَخَلَقْتَهُۥ مِن طِينٍۢ ٧٦
কা-লা আনা খাইরুম মিনহু খালাকতানী মিন না-রিঁ ওয়াখালাকতাহূ মিন তীন
সে বলল- আমি তার চেয়ে উত্তম, আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।
قَالَ فَٱخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌۭ ٧٧
কা-লা ফাখরুজ মিনহা ফাইন্নাকা রাজীম
তিনি বললেন- তাহলে তুমি এখান থেকে বেরিয়ে যাও, তুমি হলে লাঞ্ছিত, বিতাড়িত।
وَإِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِىٓ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٧٨
ওয়াইন্না ‘আলাইকা লা‘নাতী ইলা ইয়াওমিদ দীন
বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার উপর থাকল আমার অভিশাপ।
قَالَ رَبِّ فَأَنظِرْنِىٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ ٧٩
কা-লা রাব্বি ফাআনযিরনী ইলা ইয়াওমি ইউব‘আছূন
সে বলল- হে আমার প্রতিপালক! তাহলে আমাকে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত সময় দিন।
قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ ٱلْمُنظَرِينَ ٨٠
কা-লা ফাইন্নাকা মিনাল মুনযারীন
তিনি বললেন- তোমাকে সময় দেয়া হল,
إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْوَقْتِ ٱلْمَعْلُومِ ٨١
ইলা ইয়াওমিল ওয়াকতিল মা‘লূম
সেদিন পর্যন্ত যার (আগমন) কাল সুনির্ধারিত।
قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ٨٢
কা-লা ফাবি‘ইয্যাতিকা লাউগউইয়ান্নাহুম আজমা‘ঈন
সে বলল- আপনার ক্ষমতার কসম! আমি ওদের সব্বাইকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করব।
إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ ٱلْمُخْلَصِينَ ٨٣
ইল্লা ‘ইবা-দাকা মিনহুমুল মুখলাসীন
তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের বাদে।
قَالَ فَٱلْحَقُّ وَٱلْحَقَّ أَقُولُ ٨٤
কা-লা ফালহাক্কু ওয়ালহাক্কা আকূল
তিনি বললেন- এটাই সত্য, আমি সত্যই বলি যে,
لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنكَ وَمِمَّن تَبِعَكَ مِنْهُمْ أَجْمَعِينَ ٨٥
লাআমলাআন্না জাহান্নামা মিনকা ওয়ামিম্মান তাবি‘আকা মিনহুম আজমা‘ঈন
আমি তোমাকে আর তাদের (অর্থাৎ মানুষদের) মধ্যে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে তাদের সব্বাইকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।
قُلْ مَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍۢ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُتَكَلِّفِينَ ٨٦
কুল মা- আসআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিঁ ওয়ামা- আনা মিনাল মুতাকাল্লিফীন
বল- আমি এর (অর্থাৎ সত্য-সঠিক পথের দিকে ডাকার) জন্য তোমাদের কাছে পারিশ্রমিক চাই না, আর আমি কোন ধোঁকাবাজ নই।
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌۭ لِّلْعَٰلَمِينَ ٨٧
ইন হুওয়া ইল্লা যিকরুল লিল‘আ-লামীন
এটা তো বিশ্বজগতের জন্য কেবল উপদেশ বাণী।
وَلَتَعْلَمُنَّ نَبَأَهُۥ بَعْدَ حِينٍۭ ٨٨
ওয়ালাতা‘লামুন্না নাবাআহূ বা‘দা হীন
কিছুকাল পরেই এর সংবাদ তোমরা অবশ্য অবশ্যই জানতে পারবে।