بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلصَّٰٓفَّٰتِ صَفًّۭا ١
ওয়াস্সা-ফ্ফা-তি সাফ্ফা
শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো,
فَٱلزَّٰجِرَٰتِ زَجْرًۭا ٢
ফায্যা-জিরা-তি যাজরা
অতঃপর যারা ধমক দিয়ে তিরস্কার করে তাদের শপথ,
فَٱلتَّٰلِيَٰتِ ذِكْرًا ٣
ফাত্তা-লিয়া-তি যিকরা
আর যারা (আল্লাহর) যিকর আবৃত্তিতে লিপ্ত,
إِنَّ إِلَٰهَكُمْ لَوَٰحِدٌۭ ٤
ইন্না ইলা-হাকুম লাওয়া-হিদ
তোমাদের প্রকৃত ইলাহ অবশ্য একজন।
رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ ٱلْمَشَٰرِقِ ٥
রাব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ামা বাইনাহুমা ওয়ারাব্বুল মাশা-রিক
যিনি আসমান, যমীন আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে এবং সকল উদয় স্থলের মালিক।
إِنَّا زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِزِينَةٍ ٱلْكَوَاكِبِ ٦
ইন্না যাইয়্যান্নাস সামা-আদ দুনইয়া বিযীনাতিনিল কাওয়া-কিব
আমি নিকটবর্তী আসমানকে তারকারাজির সৌন্দর্য দ্বারা সুশোভিত করেছি,
وَحِفْظًۭا مِّن كُلِّ شَيْطَٰنٍۢ مَّارِدٍۢ ٧
ওয়াহিফযাম মিন কুল্লি শাইতা-নিম মা-রিদ
আর (এটা করেছি) প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়ত্বান থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে।
لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى ٱلْمَلَإِ ٱلْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٍۢ ٨
লা ইয়াস্সাম্মা‘ঊনা ইলাল মালাইল আ‘লা ওয়াইউকযাফূনা মিন কুল্লি জা-নিব
যার ফলে তারা উচ্চতর জগতের কিছু শুনতে পারে না, চতুর্দিক থেকে তাদের প্রতি নিক্ষেপ করা হয় (উল্কাপিন্ড)
دُحُورًۭا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌۭ وَاصِبٌ ٩
দুহূরাঁ ওয়ালাহুম ‘আযা-বুঁ ওয়া-সিব
(তাদেরকে) তাড়ানোর জন্য। তাদের জন্য আছে বিরামহীন শাস্তি।
إِلَّا مَنْ خَطِفَ ٱلْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌۭ ثَاقِبٌۭ ١٠
ইল্লা মান খাতিফাল খাতফাতা ফাআতবা‘আহূ শিহা-বুন ছা-কিব
তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পিছু নেয়।
فَٱسْتَفْتِهِمْ أَهُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَم مَّنْ خَلَقْنَآ ۚ إِنَّا خَلَقْنَٰهُم مِّن طِينٍۢ لَّازِبٍۭ ١١
ফাসতাফতিহিম আহুম আশাদ্দু খালকান আম মান খালাকনা- ইন্না খালাকনা-হুম মিন তীনিল লা-যিব
তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- সৃষ্টির ক্ষেত্রে কি তারাই বেশি প্রবল, না আমি অন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছি তা (বেশি প্রবল)? আমি তো তাদেরকে সৃষ্টি করেছি (অতি নগণ্য) মাটি থেকে।
بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ ١٢
বাল ‘আজিবতা ওয়ায়াসখারূন
(আল্লাহর শক্তি-ক্ষমতা-মহিমা দেখে) তুমি কর বিস্ময়বোধ, আর তারা করে বিদ্রূপ।
وَإِذَا ذُكِّرُوا۟ لَا يَذْكُرُونَ ١٣
ওয়াইযা যুক্কিরূ লা ইয়াযকুরূন
তাদেরকে উপদেশ দেয়া হলে তারা উপদেশ নেয় না।
وَإِذَا رَأَوْا۟ ءَايَةًۭ يَسْتَسْخِرُونَ ١٤
ওয়াইযা রাআও আ-য়াতাঁ ইয়াসতাসখিরূন
তারা আল্লাহর কোন নিদর্শন দেখলে ঠাট্টা করে।
وَقَالُوٓا۟ إِنْ هَٰذَآ إِلَّا سِحْرٌۭ مُّبِينٌ ١٥
ওয়াকা-লূ ইন হা-যা- ইল্লা সিহরুম মুবীন
আর তারা বলে- ‘এটা স্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই না।’
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًۭا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ ١٦
আইযা মিতনা ওয়াকুন্না তুরা-বাঁ ওয়া‘ইযা-মান আইন্না লামাব‘ঊছূন
আমরা যখন মরব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনো কি আমাদেরকে আবার জীবিত করে উঠানো হবে?
أَوَءَابَآؤُنَا ٱلْأَوَّلُونَ ١٧
আওয়াআ-বা-উনাল আওয়ালূন
এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও (উঠানো হবে)?’
قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَٰخِرُونَ ١٨
কুল না‘আম ওয়াআনতুম দা-খিরূন
তাদেরকে বল, ‘হাঁ, এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত।’
فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌۭ وَٰحِدَةٌۭ فَإِذَا هُمْ يَنظُرُونَ ١٩
ফাইন্নামা হিয়া যাজরাতুঁ ওয়া-হিদাতুন ফাইযা হুম ইয়ানযুরূন
ওটা (হবে) মাত্র একটা প্রচন্ড শব্দ, আর তখনই তারা স্বচক্ষে (সব কিছু) দেখতে পাবে।
وَقَالُوا۟ يَٰوَيْلَنَا هَٰذَا يَوْمُ ٱلدِّينِ ٢٠
ওয়াকা-লূ ইয়া-ওয়াইলানা হা-যা ইয়াওমুদ দীন
তারা আরো বলবে- ‘‘হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! এটাই তো কর্মফলের দিন।’
هَٰذَا يَوْمُ ٱلْفَصْلِ ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ ٢١
হা-যা ইয়াওমুল ফাসলিল লাযী কুনতুম বিহী তুকায্যিবূন
এটাই ফয়সালার দিন যাকে তোমরা মিথ্যে বলে অস্বীকার করতে।
۞ ٱحْشُرُوا۟ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ وَأَزْوَٰجَهُمْ وَمَا كَانُوا۟ يَعْبُدُونَ ٢٢
উহশুরুল লাযীনা যালামূ ওয়াআযওয়া-জাহুম ওয়ামা কা-নূ ইয়া‘বুদূন
(হুকুম দেয়া হবে) ‘একত্র কর যালিমদেরকে আর তাদের সঙ্গীদেরকে এবং তাদেরকেও, যাদের তারা ‘ইবাদাত করত
مِن دُونِ ٱللَّهِ فَٱهْدُوهُمْ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلْجَحِيمِ ٢٣
মিন দূনিল্লা-হি ফাহদূহুম ইলা সিরা-তিল জাহীম
আল্লাহর (‘ইবাদাতের) পরিবর্তে, আর তাদেরকে জাহান্নামের পথ দেখাও।
وَقِفُوهُمْ ۖ إِنَّهُم مَّسْـُٔولُونَ ٢٤
ওয়াকিফূহুম ইন্নাহুম মাসঊলূন
অতঃপর ওদেরকে থামাও ওদেরকে তো প্রশ্ন করা হবে-
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ ٢٥
মা লাকুম লা তানা-সারূন
‘তোমাদের হয়েছে কী, তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করছ না কেন?’
بَلْ هُمُ ٱلْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ ٢٦
বাল হুমুল ইয়াওমা মুসতাসলিমূন
বরং আজ তারা (বিচারের সামনে) আত্মসমপর্ণ করবে।
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ يَتَسَآءَلُونَ ٢٧
ওয়াআকবালা বা‘দুহুম ‘আলা বা‘দিঁ ইয়াতাসা-আলূন
তারা একে অপরের দিকে মুখ করে পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
قَالُوٓا۟ إِنَّكُمْ كُنتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ ٱلْيَمِينِ ٢٨
কা-লূ ইন্নাকুম কুনতুম তা’তূনানা ‘আনিল ইয়ামীন
তারা (তাদের ক্ষমতাশালীদেরকে) বলবে, ‘‘তোমরা তো তোমাদের ক্ষমতা নিয়ে আমাদের কাছে আসতে।’
قَالُوا۟ بَل لَّمْ تَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ ٢٩
কা-লূ বাল লাম তাকূনূ মু’মিনীন
তারা (অর্থাৎ ক্ষমতার অধিকারীরা) উত্তর দিবে- ‘‘তোমরা তো (বিচার দিবসের প্রতি) বিশ্বাসীই ছিলে না।
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَٰنٍۭ ۖ بَلْ كُنتُمْ قَوْمًۭا طَٰغِينَ ٣٠
ওয়ামা কা-না লানা ‘আলাইকুম মিন সুলতা-নিম বাল কুনতুম কাওমান তা-গীন
আর তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্বও ছিল না, বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।
فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَآ ۖ إِنَّا لَذَآئِقُونَ ٣١
ফাহাক্কা ‘আলাইনা কাওলু রাব্বিনা- ইন্না লাযা-ইকূন
আমাদের বিপক্ষে আমাদের পালনকর্তার উক্তিই সত্য হয়েছে, আমাদেরকে অবশ্যই শাস্তির স্বাদ নিতে হবে।
فَأَغْوَيْنَٰكُمْ إِنَّا كُنَّا غَٰوِينَ ٣٢
ফাআগওয়াইনা-কুম ইন্না কুন্না গা-উঈন
আসলে আমরাই তোমাদেরকে গোমরাহ করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাও গোমরাহ ছিলাম।’
فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍۢ فِى ٱلْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ ٣٣
ফাইন্নাহুম ইয়াওমাইযিন ফিল ‘আযা-বি মুশতারিকূন
সেদিন (দুর্বল আর সবল) সবাই ‘আযাবে শরীক হবে।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَفْعَلُ بِٱلْمُجْرِمِينَ ٣٤
ইন্না কাযা-লিকা নাফ‘আলু বিলমুজরিমীন
অপরাধীদের প্রতি আমি এ রকমই (আচরণ) করে থাকি।
إِنَّهُمْ كَانُوٓا۟ إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ ٣٥
ইন্নাহুম কা-নূ ইযা কীলা লাহুম লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ইয়াসতাকবিরূন
তাদেরকে যখন ‘আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই’ বলা হত, তখন তারা অহংকার করত।
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوٓا۟ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٍۢ مَّجْنُونٍۭ ٣٦
ওয়ায়াকূলূনা আইন্না লাতা-রিকূ আ-লিহাতিনা লিশা-‘ইরিম মাজনূন
আর তারা বলত, ‘‘আমরা কি এক পাগলা কবির কথা মেনে আমাদের ইলাহগুলোকে ত্যাগ করব?
بَلْ جَآءَ بِٱلْحَقِّ وَصَدَّقَ ٱلْمُرْسَلِينَ ٣٧
বাল জা-আ বিলহাক্কি ওয়াসাদ্দাকাল মুরসালীন
বরং সে [অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা.)] সত্য নিয়ে এসেছে এবং (পূর্বে আগমনকারী) রসূলদেরকে সত্যায়িত করেছে।
إِنَّكُمْ لَذَآئِقُوا۟ ٱلْعَذَابِ ٱلْأَلِيمِ ٣٨
ইন্নাকুম লাযা-ইকুল ‘আযা-বিল আলীম
(এখন তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমরা অবশ্যই মর্মান্তিক শাস্তির স্বাদ ভোগ করবে,
وَمَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٣٩
ওয়ামা তুজযাওনা ইল্লা মা কুনতুম তা‘মালূন
তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে যা তোমরা করতে।’
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ ٤٠
ইল্লা ‘ইবা-দাল্লা-হিল মুখলাসীন
কিন্তু আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দারা নয় (তারা এ সব ‘আযাব থেকে রক্ষা পাবে)।
أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ رِزْقٌۭ مَّعْلُومٌۭ ٤١
উলা-ইকা লাহুম রিযকুম মা‘লূম
তাদের জন্য আছে নির্ধারিত রিযক-
فَوَٰكِهُ ۖ وَهُم مُّكْرَمُونَ ٤٢
ফাওয়া-কিহু ওয়াহুম মুকরামূন
ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত।
فِى جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ ٤٣
ফী জান্না-তিন না‘ঈম
(তারা থাকবে) নি‘য়ামাতের ভরা জান্নাতে
عَلَىٰ سُرُرٍۢ مُّتَقَٰبِلِينَ ٤٤
‘আলা সুরুরিম মুতাকা-বিলীন
উচ্চাসনে মুখোমুখী হয়ে
يُطَافُ عَلَيْهِم بِكَأْسٍۢ مِّن مَّعِينٍۭ ٤٥
ইউতা-ফু ‘আলাইহিম বিকা’সিম মিম মা‘ঈন
তাদের কাছে চক্রাকারে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ প্রবাহিত ঝর্ণার সুরাপূর্ণ পাত্র।
بَيْضَآءَ لَذَّةٍۢ لِّلشَّٰرِبِينَ ٤٦
বাইদা-আ লায্যাতিল লিশ্শা-রিবীন
নির্মল পানীয়, পানকারীদের জন্য সুপেয়, সুস্বাদু।
لَا فِيهَا غَوْلٌۭ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ ٤٧
লা ফীহা গাওলুঁ ওয়ালা হুম ‘আনহা ইউনযাফূন
নেই তাতে দেহের জন্য ক্ষতিকর কোন কিছু, আর তারা তাতে মাতালও হবে না।
وَعِندَهُمْ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ عِينٌۭ ٤٨
ওয়া‘ইনদাহুম কা-সিরা-তুত তারফি ‘ঈন
তাদের কাছে থাকবে সংযত নয়না, সতী সাধ্বী, ডাগর ডাগর সুন্দর চক্ষু বিশিষ্টা সুন্দরীরা (হুরগণ)।
كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌۭ مَّكْنُونٌۭ ٤٩
কাআন্নাহুন্না বাইদুম মাকনূন
তারা যেন সযত্নে ঢেকে রাখা ডিম।
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ يَتَسَآءَلُونَ ٥٠
ফাআকবালা বা‘দুহুম ‘আলা বা‘দিঁ ইয়াতাসা-আলূন
অতঃপর তারা পরস্পরের মুখোমুখী হয়ে একে ‘অপরের খবর জিজ্ঞেস করবে।
قَالَ قَآئِلٌۭ مِّنْهُمْ إِنِّى كَانَ لِى قَرِينٌۭ ٥١
কা-লা কা-ইলুম মিনহুম ইন্নী কা-না লী কারীন
তাদের একজন বলবে- ‘‘(দুনিয়ায়) আমার ছিল একজন সাথী।
يَقُولُ أَءِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُصَدِّقِينَ ٥٢
ইয়াকূলু আইন্নাকা লামিনাল মুসাদ্দিকীন
সে বলত- ‘‘তুমি কি বিশ্বাস কর যে,
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًۭا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَدِينُونَ ٥٣
আইযা মিতনা ওয়াকুন্না তুরা-বাঁ ওয়া‘ইযা-মান আইন্না লামাদীনূন
আমরা যখন মরে যাব আর মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হব তখনো সত্যিই কি আমাদেরকে পুরস্কার ও শাস্তি দেয়া হবে?
قَالَ هَلْ أَنتُم مُّطَّلِعُونَ ٥٤
কা-লা হাল আনতুম মুত্তালি‘ঊন
আল্লাহ বলবেন- ‘ তোমরা কি তাকে উঁকি দিয়ে দেখতে চাও?’
فَٱطَّلَعَ فَرَءَاهُ فِى سَوَآءِ ٱلْجَحِيمِ ٥٥
ফাত্তালা‘আ ফারাআ-হু ফী সাওয়া-ইল জাহীম
তারপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে।
قَالَ تَٱللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ ٥٦
কা-লা তাল্লা-হি ইন কিত্তা লাতুরদীন
সে বলবে, ‘আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে,
وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّى لَكُنتُ مِنَ ٱلْمُحْضَرِينَ ٥٧
ওয়ালাওলা নি‘মাতু রাব্বী লাকুনতু মিনাল মুহদারীন
আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ না হলে আমিও তো (জাহান্নামের ভিতর) হাজির করা লোকেদের মধ্যে শামিল থাকতাম।
أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ ٥٨
আফামা নাহনু বিমাইয়্যিতীন
এখন আমাদের আর মৃত্যু হবে না
إِلَّا مَوْتَتَنَا ٱلْأُولَىٰ وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ ٥٩
ইল্লা মাওতাতানাল ঊলা ওয়ামা নাহনু বিমু‘আয্যাবীন
আমাদের প্রথম মৃত্যুর পর, আর আমাদেরকে শাস্তিও দেয়া হবে না।
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ ٦٠
ইন্না হা-যা লাহুওয়াল ফাওযুল ‘আযীম
এটাই তো মহাসাফল্য।
لِمِثْلِ هَٰذَا فَلْيَعْمَلِ ٱلْعَٰمِلُونَ ٦١
লিমিছলি হা-যা ফালইয়া‘মালিল ‘আ-মিলূন
এ রকম সাফল্যের জন্যই ‘আমলকারীদের ‘আমল করা উচিত।
أَذَٰلِكَ خَيْرٌۭ نُّزُلًا أَمْ شَجَرَةُ ٱلزَّقُّومِ ٦٢
আযা-লিকা খাইরুন নুযুলান আম শাজারাতুয যাক্কূম
আপ্যায়ন হিসেবে এটা উত্তম, না, (জাহান্নামের) জাক্কুম গাছ?
إِنَّا جَعَلْنَٰهَا فِتْنَةًۭ لِّلظَّٰلِمِينَ ٦٣
ইন্না জা‘আলনা-হা ফিতনাতাল লিয্যা-লিমীন
এ গাছটাকে আমি যালিমদের পরীক্ষা করার জন্য (একটা উপকরণ) বানিয়েছি (কেননা, যালিমরা বলে যে, জাহান্নামের ভিতর আবার গাছ হয় কী করে?)
إِنَّهَا شَجَرَةٌۭ تَخْرُجُ فِىٓ أَصْلِ ٱلْجَحِيمِ ٦٤
ইন্নাহা শাজারাতুন তাখরুজু ফী আসলিল জাহীম
এটা এমন একটা গাছ যা জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়।
طَلْعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّيَٰطِينِ ٦٥
তাল‘উহা কাআন্নাহূ রুঊসুশ শায়া-তীন
এর চূড়াগুলো যেন শয়ত্বানের মাথা (অর্থাৎ দেখতে খুবই খারাপ।)
فَإِنَّهُمْ لَءَاكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ ٦٦
ফাইন্নাহুম লাআ-কিলূনা মিনহা ফামা-লিঊনা মিনহাল বুতূন
জাহান্নামের অধিবাসীরা তাত্থেকে খাবে আর তা দিয়ে পেট পূর্ণ করবে।
ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًۭا مِّنْ حَمِيمٍۢ ٦٧
ছুম্মা ইন্না লাহুম ‘আলাইহা লাশাওবাম মিন হামীম
এর উপর তাদেরকে দেয়া হবে ফুটন্ত পানির (পূঁজ সম্বলিত) মিশ্রণ।
ثُمَّ إِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَإِلَى ٱلْجَحِيمِ ٦٨
ছুম্মা ইন্না মারজি‘আহুম লাইলাল জাহীম
অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জ্বলন্ত আগুনের দিকে।
إِنَّهُمْ أَلْفَوْا۟ ءَابَآءَهُمْ ضَآلِّينَ ٦٩
ইন্নাহুম আলফাও আ-বা-আহুম দা-ল্লীন
তারা তাদের পিতৃপুরুষদেরকে বিপথগামী পেয়েছিল।
فَهُمْ عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِمْ يُهْرَعُونَ ٧٠
ফাহুম ‘আলা- আ-ছা-রিহিম ইউহরা‘ঊন
অতঃপর তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে ছুটে চলেছিল।
وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ ٱلْأَوَّلِينَ ٧١
ওয়ালাকাদ দাল্লা কাবলাহুম আকছারুল আওয়ালীন
এদের আগের লোকেদের অধিকাংশই পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا فِيهِم مُّنذِرِينَ ٧٢
ওয়ালাকাদ আরসালনা ফীহিম মুনযিরীন
আমি তাদের মাঝে সতর্ককারী (রসূল) পাঠিয়েছিলাম।
فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُنذَرِينَ ٧٣
ফানযুর কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুনযারীন
এখন দেখ, এই সতর্ক করে দেয়া লোকেদের পরিণাম কী হয়েছিল!
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ ٧٤
ইল্লা ‘ইবা-দাল্লা-হিল মুখলাসীন
কিন্তু আল্লাহর একনিষ্ট বান্দাদের কথা ভিন্ন (এ সব খারাপ পরিণতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল।)
وَلَقَدْ نَادَىٰنَا نُوحٌۭ فَلَنِعْمَ ٱلْمُجِيبُونَ ٧٥
ওয়ালাকাদ না-দা-না নূহুন ফালানি‘মাল মুজীবূন
(ইতোপূর্বে) নূহ আমাকে ডেকেছিল, অতঃপর (দেখ) আমি কতই না উত্তম সাড়াদাতা ছিলাম!
وَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥ مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ ٧٦
ওয়ানাজ্জাইনা-হু ওয়াআহলাহূ মিনাল কারবিল ‘আযীম
তাকে আর তার পরিবারবর্গকে আমি মহা বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُۥ هُمُ ٱلْبَاقِينَ ٧٧
ওয়াজা‘আলনা যুর্রিয়্যাতাহূ হুমুল বা-কীন
আর তার বংশধরদেরকেই আমি বংশানুক্রমে বিদ্যমান রাখলাম।
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ ٧٨
ওয়াতারাকনা ‘আলাইহি ফিল আ-খিরীন
আর আমি তাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখলাম।
سَلَٰمٌ عَلَىٰ نُوحٍۢ فِى ٱلْعَٰلَمِينَ ٧٩
সালা-মুন ‘আলা নূহিন ফিল ‘আ-লামীন
বিশ্বজগতে নূহের প্রতি সালাম/শান্তি বর্ষিত হোক।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ ٨٠
ইন্না কাযা-লিকা নাজযিল মুহসিনীন
সৎকর্মশীলদেরকে আমি এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ ٨١
ইন্নাহূ মিন ‘ইবা-দিনাল মু’মিনীন
সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাহদের একজন।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْءَاخَرِينَ ٨٢
ছুম্মা আগরাকনাল আ-খারীন
অতঃপর অন্যদের আমি ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
۞ وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِۦ لَإِبْرَٰهِيمَ ٨٣
ওয়াইন্না মিন শী‘আতিহী লাইবরা-হীম
অবশ্যই ইবরাহীম ছিল তারই দলের লোক।
إِذْ جَآءَ رَبَّهُۥ بِقَلْبٍۢ سَلِيمٍ ٨٤
ইয জা-আ রাব্বাহূ বিকালবিন সালীম
সে যখন তার প্রতিপালকের কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে হাজির হল,
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَاذَا تَعْبُدُونَ ٨٥
ইয কা-লা লিআবীহি ওয়াকাওমিহী মা-যা তা‘বুদূন
সে তখন তার পিতাকে ও তার জাতিকে বলল, ‘তোমরা কিসের ‘ইবাদাত কর?
أَئِفْكًا ءَالِهَةًۭ دُونَ ٱللَّهِ تُرِيدُونَ ٨٦
আইফকান আ-লিহাতান দূনাল্লা-হি তুরীদূন
তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে মিথ্যে মা’বুদ পেতে চাও?
فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٨٧
ফামা যান্নুকুম বিরাব্বিল ‘আ-লামীন
বিশ্ব জগতের প্রতিপালক সম্পর্কে তোমরা কী ধারণা পোষণ কর?
فَنَظَرَ نَظْرَةًۭ فِى ٱلنُّجُومِ ٨٨
ফানাযারা নাযরাতান ফিন নুজূম
অতঃপর তারকারাজির দিকে সে একবার তাকাল (অর্থাৎ চিন্তে ভাবনা করল)
فَقَالَ إِنِّى سَقِيمٌۭ ٨٩
ফাকা-লা ইন্নী সাকীম
তারপর বলল, ‘‘আমি অসুস্থ।’’
فَتَوَلَّوْا۟ عَنْهُ مُدْبِرِينَ ٩٠
ফাতাওয়াল্লাও ‘আনহু মুদবিরীন
অতঃপর তারা তাকে পেছনে রেখে চলে গেল।
فَرَاغَ إِلَىٰٓ ءَالِهَتِهِمْ فَقَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ ٩١
ফারা-গা ইলা- আ-লিহাতিহিম ফাকা-লা আলা তা’কুলূন
তারপর সে চুপে চুপে তাদের উপাস্যদের কাছে ঢুকে পড়ল আর বলল, (আপনাদের সম্মুখে রাখা এত উপাদেয় খাবার) আপনারা খাচ্ছেন না কেন?
مَا لَكُمْ لَا تَنطِقُونَ ٩٢
মা লাকুম লা তানতিকূন
কী হয়েছে আপনাদের, কথা বলছেন না কেন?
فَرَاغَ عَلَيْهِمْ ضَرْبًۢا بِٱلْيَمِينِ ٩٣
ফারা-গা ‘আলাইহিম দারবাম বিলইয়ামীন
অতঃপর সে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সজোরে আঘাত করল।
فَأَقْبَلُوٓا۟ إِلَيْهِ يَزِفُّونَ ٩٤
ফাআকবালূ ইলাইহি ইয়াযিফ্ফূন
তখন লোকেরা (ফিরে এসে) তার দিকে ছুটে আসল।
قَالَ أَتَعْبُدُونَ مَا تَنْحِتُونَ ٩٥
কা-লা আতা‘বুদূনা মা তানহিতূন
সে বলল, ‘‘তোমরা (পাথর) খোদাই করে সেগুলো নিজেরা বানাও, সেগুলোরই আবার ‘ইবাদাত কর?
وَٱللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ ٩٦
ওয়াল্লা-হু খালাকাকুম ওয়ামা তা‘মালূন
আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে আর তোমরা যা তৈরি কর সেগুলোকেও।
قَالُوا۟ ٱبْنُوا۟ لَهُۥ بُنْيَٰنًۭا فَأَلْقُوهُ فِى ٱلْجَحِيمِ ٩٧
কা-লুবনূ লাহূ বুনইয়া-নান ফাআলকূহু ফিল জাহীম
তারা বলল, ‘তার জন্য একটা অগ্নিকুন্ড তৈরি কর, অতঃপর তাকে আগুনে নিক্ষেপ কর।’
فَأَرَادُوا۟ بِهِۦ كَيْدًۭا فَجَعَلْنَٰهُمُ ٱلْأَسْفَلِينَ ٩٨
ফাআরা-দূ বিহী কাইদান ফাজা‘আলনা-হুমুল আসফালীন
তারা তার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাদেরকে এক্কেবারে হীন করে ছাড়লাম।
وَقَالَ إِنِّى ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّى سَيَهْدِينِ ٩٩
ওয়াকা-লা ইন্নী যা-হিবুন ইলা রাব্বী সায়াহদীন
সে বলল, ‘আমি আমার প্রতিপালকের দিকে চললাম, তিনি আমাকে অবশ্যই সঠিক পথ দেখাবেন।
رَبِّ هَبْ لِى مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١٠٠
রাব্বি হাব লী মিনাস সা-লিহীন
হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে এক সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দান কর।
فَبَشَّرْنَٰهُ بِغُلَٰمٍ حَلِيمٍۢ ١٠١
ফাবাশ্শারনা-হু বিগুলা-মিন হালীম
অতঃপর আমি তাকে এক অতি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعْىَ قَالَ يَٰبُنَىَّ إِنِّىٓ أَرَىٰ فِى ٱلْمَنَامِ أَنِّىٓ أَذْبَحُكَ فَٱنظُرْ مَاذَا تَرَىٰ ۚ قَالَ يَٰٓأَبَتِ ٱفْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٠٢
ফালাম্মা বালাগা মা‘আহুস সা‘ইয়া কা-লা ইয়া-বুনাইয়্যা ইন্নী আরা ফিল মানা-মি আন-নী আযবাহুকা ফানযুর মা-যা তারা কা-লা ইয়া-আবাতিফ‘আল মা তু’মারু সাতাজিদুনী ইন শা-আল্লা-হু মিনাস সা-বিরীন
অতঃপর সে যখন তার পিতার সাথে চলাফিরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন ইবরাহীম (আঃ) বলল, ‘বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, এখন বল, তোমার অভিমত কী? সে বলল, ‘হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন, আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন।
فَلَمَّآ أَسْلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلْجَبِينِ ١٠٣
ফালাম্মা- আসলামা ওয়াতাল্লাহূ লিলজাবীন
দু’জনেই যখন আনুগত্যে মাথা নুইয়ে দিল। আর ইবরাহীম তাকে উপুড় ক’রে শুইয়ে দিল।
وَنَٰدَيْنَٰهُ أَن يَٰٓإِبْرَٰهِيمُ ١٠٤
ওয়ানা-দাইনা-হু আন ইয়া-ইবরা-হীম
তখন আমি তাকে ডাক দিলাম, ‘হে ইবরাহীম!
قَدْ صَدَّقْتَ ٱلرُّءْيَآ ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ ١٠٥
কাদ সাদ্দাকতার রু’ইয়া- ইন্না কাযা-লিকা নাজযিল মুহসিনীন
স্বপ্নে দেয়া আদেশ তুমি সত্যে পরিণত করেই ছাড়লে। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْبَلَٰٓؤُا۟ ٱلْمُبِينُ ١٠٦
ইন্না হা-যা লাহুওয়াল বালা-উল মুবীন
অবশ্যই এটা ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
وَفَدَيْنَٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍۢ ١٠٧
ওয়াফাদাইনা-হু বিযিবহিন ‘আযীম
আমি এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে পুত্রটিকে ছাড়িয়ে নিলাম।
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ ١٠٨
ওয়াতারাকনা ‘আলাইহি ফিল আ-খিরীন
আর আমি তাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখলাম।
سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ ١٠٩
সালা-মুন ‘আলা- ইবরা-হীম
ইবরাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক!
كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ ١١٠
কাযা-লিকা নাজযিল মুহসিনীন
সৎকর্মশীলদেরকে আমি এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ ١١١
ইন্নাহূ মিন ‘ইবা-দিনাল মু’মিনীন
সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাহদের অন্তর্ভুক্ত।
وَبَشَّرْنَٰهُ بِإِسْحَٰقَ نَبِيًّۭا مِّنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١١٢
ওয়াবাশ্শারনা-হু বিইসহা-কা নাবিয়্যাম মিনাস সা-লিহীন
আর তাকে সুসংবাদ দিয়েছিলাম ইসহাকের- যে ছিল সৎকর্মশীল বান্দাহদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী।
وَبَٰرَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَىٰٓ إِسْحَٰقَ ۚ وَمِن ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌۭ وَظَالِمٌۭ لِّنَفْسِهِۦ مُبِينٌۭ ١١٣
ওয়াবা-রাকনা ‘আলাইহি ওয়া‘আলা- ইসহা-ক ওয়ামিন যুর্রিয়্যাতিহিমা মুহসিনুঁ ওয়াযা-লিমুল লিনাফসিহী মুবীন
আর আমি বরকত দিলাম তাকে আর ইসহাককে; (তাদের দু’জনের) বংশধরদের কতক সৎকর্মশীল, আর কতক নিজেদের প্রতি সুস্পষ্ট যুলুমকারী।
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ ١١٤
ওয়ালাকাদ মানান্না ‘আলা মূসা ওয়াহা-রূন
আমি মূসা ও হারূনের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম।
وَنَجَّيْنَٰهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ ١١٥
ওয়ানাজ্জাইনা-হুমা ওয়াকাওমাহুমা মিনাল কারবিল ‘আযীম
আর তাদের দু’জনকে এবং তাদের জাতিকে মহা বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলাম।
وَنَصَرْنَٰهُمْ فَكَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَٰلِبِينَ ١١٦
ওয়ানাসারনা-হুম ফাকা-নূ হুমুল গা-লিবীন
আর আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, যার ফলে তারাই বিজয়ী হয়েছিল।
وَءَاتَيْنَٰهُمَا ٱلْكِتَٰبَ ٱلْمُسْتَبِينَ ١١٧
ওয়াআ-তাইনা-হুমাল কিতা-বাল মুসতাবীন
আমি উভয়কে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট কিতাব।
وَهَدَيْنَٰهُمَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ١١٨
ওয়াহাদাইনা-হুমাস সিরা-তাল মুসতাকীম
আর তাদের উভয়কে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেছিলাম।
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِى ٱلْءَاخِرِينَ ١١٩
ওয়াতারাকনা ‘আলাইহিমা ফিল আ-খিরীন
আমি তাদের উভয়কে পরবর্তীদের জন্য স্মরণীয় করে রাখলাম।
سَلَٰمٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ ١٢٠
সালা-মুন ‘আলা মূসা ওয়াহা-রূন
মূসা ও হারূনের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ ١٢١
ইন্না কাযা-লিকা নাজযিল মুহসিনীন
এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٢٢
ইন্নাহুমা মিন ‘ইবা-দিনাল মু’মিনীন
তারা দু’জন ছিল আমার মু’মিন বান্দাহদের অন্তর্ভুক্ত।
وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٢٣
ওয়াইন্না ইলইয়া-সা লামিনাল মুরসালীন
ইলিয়াসও ছিল অবশ্যই রসূলদের একজন।
إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦٓ أَلَا تَتَّقُونَ ١٢٤
ইয কা-লা লিকাওমিহী আলা তাত্তাকূন
স্মরণ কর, যখন সে তার জাতিকে বলেছিল, ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
أَتَدْعُونَ بَعْلًۭا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ ٱلْخَٰلِقِينَ ١٢٥
আতাদ‘ঊনা বা‘লাঁ ওয়াতাযারূনা আহসানাল খা-লিকীন
‘তোমরা কি বা‘য়ালকে ডাক, আর পরিত্যাগ কর সর্বোত্তম সৃষ্টিকারী
ٱللَّهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ ١٢٦
আল্লা-হা রাব্বাকুম ওয়ারাব্বা আ-বা-ইকুমুল আওয়ালীন
আল্লাহকে, যিনি তোমাদের প্রতিপালক আর তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদেরও প্রতিপালক।
فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ ١٢٧
ফাকায্যাবূহু ফাইন্নাহুম লামুহদারূন
কিন্তু তারা তাকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করল, কাজেই তাদেরকে অবশ্যই (শাস্তির জন্য) হাজির করা হবে।
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ ١٢٨
ইল্লা ‘ইবা-দাল্লা-হিল মুখলাসীন
কিন্তু আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাহদেরকে নয়।
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ ١٢٩
ওয়াতারাকনা ‘আলাইহি ফিল আ-খিরীন
আমি তাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখলাম।
سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِلْ يَاسِينَ ١٣٠
সালা-মুন ‘আলা- ইল ইয়া-সীন
ইলিয়াসের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ ١٣١
ইন্না কাযা-লিকা নাজযিল মুহসিনীন
এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٣٢
ইন্নাহূ মিন ‘ইবা-দিনাল মু’মিনীন
সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাহদের অন্তুর্ভুক্ত।
وَإِنَّ لُوطًۭا لَّمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٣٣
ওয়াইন্না লূতাল লামিনাল মুরসালীন
লূতও ছিল অবশ্যই রসূলদের একজন।
إِذْ نَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ ١٣٤
ইয নাজ্জাইনা-হু ওয়াআহলাহূ আজমা‘ঈন
স্মরণ কর যখন আমি তাকে আর তার পরিবারের সকলকে উদ্ধার করেছিলাম
إِلَّا عَجُوزًۭا فِى ٱلْغَٰبِرِينَ ١٣٥
ইল্লা ‘আজূযান ফিল গা-বিরীন
এক বৃদ্ধা ছাড়া- সে ছিল পিছ-পড়াদের একজন।
ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْءَاخَرِينَ ١٣٦
ছুম্মা দাম্মারনাল আ-খারীন
অতঃপর অন্য সব্বাইকে আমি পুরোপুরি ধ্বংস করে ছিয়েছিলাম।
وَإِنَّكُمْ لَتَمُرُّونَ عَلَيْهِم مُّصْبِحِينَ ١٣٧
ওয়াইন্নাকুম লাতামুর্রূনা ‘আলাইহিম মুসবিহীন
তোমরা তো তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত বসতিগুলোর উপর দিয়ে অবশ্যই চলাচল কর সকালে
وَبِٱلَّيْلِ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ١٣٨
ওয়াবিল্লাইল আফালা তা‘কিলূন
ও সন্ধ্যায়, তোমরা কি বুঝবে না?
وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ ١٣٩
ওয়াইন্না ইউনুসা লামিনাল মুরসালীন
ইউনুসও ছিল রসূলদের একজন।
إِذْ أَبَقَ إِلَى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ ١٤٠
ইয আবাকা ইলাল ফুলকিল মাশহূন
স্মরণ কর, যখন সে পালিয়ে বোঝাই নৌকায় পৌঁছেছিল।
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ ٱلْمُدْحَضِينَ ١٤١
ফাসা-হামা ফাকা-না মিনাল মুদহাদীন
অতঃপর (দোষী খুঁজার জন্য যে লটারী করা হল সেই) লটারীতে সে অংশ নিল আর তাতে হেরে গেল।
فَٱلْتَقَمَهُ ٱلْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌۭ ١٤٢
ফালতাকামাহুল হূতু ওয়াহুওয়া মুলীম
পরে একটা বড় মাছে তাকে গিলে ফেলল, সে কাজ করেছিল ধিক্কারযোগ্য।
فَلَوْلَآ أَنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلْمُسَبِّحِينَ ١٤٣
ফালাওলা- আন-নাহূ কা-না মিনাল মুসাব্বিহীন
সে যদি (অনুতপ্ত হয়ে) আল্লাহর তাসবীহকারী না হত,
لَلَبِثَ فِى بَطْنِهِۦٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ ١٤٤
লালাবিছা ফী বাতনিহী ইলা ইয়াওমি ইউব‘আছূন
তাহলে নিশ্চিতই তাকে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত মাছের পেটে থাকতে হত।
۞ فَنَبَذْنَٰهُ بِٱلْعَرَآءِ وَهُوَ سَقِيمٌۭ ١٤٥
ফানাবাযনা-হু বিল‘আরা-ই ওয়াহুওয়া সাকীম
অতঃপর আমি তাকে তৃণলতাহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম, আর সে ছিল রুগ্ন।
وَأَنۢبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةًۭ مِّن يَقْطِينٍۢ ١٤٦
ওয়াআমবাতনা ‘আলাইহি শাজারাতাম মিন ইয়াকতীন
অতঃপর আমি তার উপর লাউ-কুমড়া জাতীয় লতা-পাতাযুক্ত একটা গাছ বের করে দিলাম।
وَأَرْسَلْنَٰهُ إِلَىٰ مِا۟ئَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ ١٤٧
ওয়াআরসালনা-হু ইলা মিআতি আলফিন আও ইয়াযীদূন
অতঃপর তাকে এক লাখ বা তার চেয়ে বেশি লোকের কাছে পাঠালাম।
فَـَٔامَنُوا۟ فَمَتَّعْنَٰهُمْ إِلَىٰ حِينٍۢ ١٤٨
ফাআ-মানূ ফামাত্তা‘না-হুম ইলা হীন
তারা ঈমান আনল, কাজেই আমি তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত জীবন উপভোগ করতে দিলাম।
فَٱسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ ٱلْبَنَاتُ وَلَهُمُ ٱلْبَنُونَ ١٤٩
ফাসতাফতিহিম আলিরাব্বিকাল বানা-তু ওয়ালাহুমুল বানূন
এখন তুমি তাদেরকে (অর্থাৎ মক্কার কাফিরদেরকে) জিজ্ঞেস কর ‘কন্যাগুলোই কি তোমাদের প্রতিপালকের জন্য, আর তাদের নিজেদের জন্য পুত্রগণ?
أَمْ خَلَقْنَا ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ إِنَٰثًۭا وَهُمْ شَٰهِدُونَ ١٥٠
আম খালাকনাল মালা-ইকাতা ইনা-ছাঁ ওয়াহুম শা-হিদূন
নাকি আমি ফেরেশতাদেরকে মেয়ে হিসেবে সৃষ্টি করেছিলাম আর তারা (অর্থাৎ মক্কার কাফিররা সেখানে) হাজির ছিল?
أَلَآ إِنَّهُم مِّنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُونَ ١٥١
আলা- ইন্নাহুম মিন ইফকিহিম লায়াকূলূন
দেখ, তারা অবশ্যই তাদের মন-গড়া কথা বলে যে,
وَلَدَ ٱللَّهُ وَإِنَّهُمْ لَكَٰذِبُونَ ١٥٢
ওয়ালাদাল্লা-হু ওয়াইন্নাহুম লাকা-যিবূন
আল্লাহ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তারা অবশ্যই মিথ্যেবাদী।
أَصْطَفَى ٱلْبَنَاتِ عَلَى ٱلْبَنِينَ ١٥٣
আসতাফাল বানা-তি ‘আলাল বানীন
তিনি কি পুত্রদের চেয়ে কন্যাদেরকেই বেশি পছন্দ করেছেন?
مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ ١٥٤
মা লাকুম কাইফা তাহকুমূন
তোমাদের কী হয়েছে, তোমরা কেমন ফয়সালা করছ?
أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ١٥٥
আফালা তাযাক্কারূন
তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
أَمْ لَكُمْ سُلْطَٰنٌۭ مُّبِينٌۭ ١٥٦
আম লাকুম সুলতা-নুম মুবীন
(তোমরা যা বলছ তার স্বপক্ষে) তোমাদের কি সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ আছে?
فَأْتُوا۟ بِكِتَٰبِكُمْ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ١٥٧
ফা’তূ বিকিতা-বিকুম ইন কুনতুম সা-দিকীন
তোমরা সত্যবাদী হলে নিয়ে এসো তোমাদের কিতাব।
وَجَعَلُوا۟ بَيْنَهُۥ وَبَيْنَ ٱلْجِنَّةِ نَسَبًۭا ۚ وَلَقَدْ عَلِمَتِ ٱلْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ ١٥٨
ওয়াজা‘আলূ বাইনাহূ ওয়াবাইনাল জিন্নাতি নাসাবা ওয়ালাকাদ ‘আলিমাতিল জিন্নাতু ইন্নাহুম লামুহদারূন
তারা আল্লাহ ও জ্বিন জাতির মাঝে একটা বংশ সম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জ্বিনেরা ভালভাবে জানে যে, তাদেরকেও শাস্তির জন্য অবশ্যই হাজির করা হবে।
سُبْحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ ١٥٩
সুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা ইয়াসিফূন
তারা যা বলে আল্লাহ সে সব (দোষ-ত্রুটি) থেকে পবিত্র।
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ ١٦٠
ইল্লা ‘ইবা-দাল্লা-হিল মুখলাসীন
কিন্তু আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দারা এসব কথা বলে না।
فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ ١٦١
ফাইন্নাকুম ওয়ামা তা‘বুদূন
তোমরা আর তোমরা যাদের ‘ইবাদাত কর তারা
مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ بِفَٰتِنِينَ ١٦٢
মা- আনতুম ‘আলাইহি বিফা-তিনীন
আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে তোমরা কাউকেও ফিতনায় ফেলতে পারবে না।
إِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ ٱلْجَحِيمِ ١٦٣
ইল্লা মান হুওয়া সা-লিল জাহীম
পারবে কেবল তাকে, যে জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশকারী।
وَمَا مِنَّآ إِلَّا لَهُۥ مَقَامٌۭ مَّعْلُومٌۭ ١٦٤
ওয়ামা মিন্না- ইল্লা লাহূ মাকা-মুম মা‘লূম
আমাদের (ফেরেশতাদের) প্রত্যেকের জন্য একটা নির্দিষ্ট স্থান আছে।
وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلصَّآفُّونَ ١٦٥
ওয়াইন্না লানাহনুস সা-ফ্ফূন
আমরা সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান (খেদমত দেয়ার জন্য)।
وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلْمُسَبِّحُونَ ١٦٦
ওয়াইন্না লানাহনুল মুসাব্বিহূন
আমরা অবশ্যই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণাকারী।
وَإِن كَانُوا۟ لَيَقُولُونَ ١٦٧
ওয়াইন কা-নূ লায়াকূলূন
এ লোকেরা তো বলত
لَوْ أَنَّ عِندَنَا ذِكْرًۭا مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ ١٦٨
লাও আন-না ‘ইনদানা যিকরাম মিনাল আওয়ালীন
আগের লোকেদের মত আমাদের কাছে যদি কোন কিতাব থাকত
لَكُنَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ ١٦٩
লাকুন্না ‘ইবা-দাল্লা-হিল মুখলাসীন
তাহলে আমরা অবশ্যই আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাহ হতাম।
فَكَفَرُوا۟ بِهِۦ ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ١٧٠
ফাকাফারূ বিহী ফাসাওফা ইয়া‘লামূন
কিন্তু (এখন কুরআন আসার পর) তারা সেটা অমান্য ও অস্বীকার করল। তারা শীঘ্রই জানতে পারবে (এর পরিণাম)।
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا ٱلْمُرْسَلِينَ ١٧١
ওয়ালাকাদ সাবাকাত কালিমাতুনা লি‘ইবা-দিনাল মুরসালীন
আমার প্রেরিত বান্দাহদের সম্পর্কে আমার এ কথা আগেই বলা আছে যে,
إِنَّهُمْ لَهُمُ ٱلْمَنصُورُونَ ١٧٢
ইন্নাহুম লাহুমুল মানসূরূন
তাদেরকে অবশ্যই সাহায্য করা হবে।
وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ ٱلْغَٰلِبُونَ ١٧٣
ওয়াইন্না জুনদানা লাহুমুল গা-লিবূন
আর আমার সৈন্যরাই বিজয়ী হবে
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍۢ ١٧٤
ফাতাওয়াল্লা ‘আনহুম হাত্তা হীন
কাজেই কিছু সময়ের জন্য তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর।
وَأَبْصِرْهُمْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ ١٧٥
ওয়াআবসিরহুম ফাসাওফা ইউবসিরূন
আর তাদেরকে দেখতে থাক, তারা শীঘ্রই দেখতে পাবে (ঈমান ও কুফুরীর পরিণাম)।
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ ١٧٦
আফাবি‘আযা-বিনা ইয়াসতা‘জিলূন
তারা কি আমার শাস্তি তরান্বিত করতে চায়?
فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَآءَ صَبَاحُ ٱلْمُنذَرِينَ ١٧٧
ফাইযা নাযালা বিসা-হাতিহিম ফাসা-আ সাবা-হুল মুনযারীন
শাস্তি যখন তাদের উঠানে নেমে আসবে, তখন কতই না মন্দ হবে ঐ লোকেদের সকালটি যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল!
وَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍۢ ١٧٨
ওয়াতাওয়াল্লা ‘আনহুম হাত্তা হীন
কাজেই কিছু সময়ের জন্য তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর।
وَأَبْصِرْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ ١٧٩
ওয়াআবসির ফাসাওফা ইউবসিরূন
আর দেখতে থাক, শীঘ্রই তারা দেখতে পাবে (ঈমান ও কুফুরীর পরিণাম)।
سُبْحَٰنَ رَبِّكَ رَبِّ ٱلْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ ١٨٠
সুবহা-না রাব্বিকা রাব্বিল ‘ইয্যাতি ‘আম্মা ইয়াসিফূন
সকল সম্মান ও ক্ষমতার রব্ব, তোমার প্রতিপালক পবিত্র ও মহান সে সকল কথাবার্তা হতে যা তারা আরোপ করে।
وَسَلَٰمٌ عَلَى ٱلْمُرْسَلِينَ ١٨١
ওয়াসালা-মুন ‘আলাল মুরসালীন
শান্তি বর্ষিত হোক রসূলদের প্রতি।
وَٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ١٨٢
ওয়ালহামদু লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন
আর যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই।