মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
الأحزاب

সূরা আল-আহযাব

সম্মিলিত বাহিনী · সূরা নং ৩৩ · ৭৩ আয়াত · ৯ রুকু · মাদানী · পারা ২১
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ ٱتَّقِ ٱللَّهَ وَلَا تُطِعِ ٱلْكَٰفِرِينَ وَٱلْمُنَٰفِقِينَ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًۭا ١
ইয়া-আইয়্যুহান নাবিয়্যুত তাকিল্লা-হা ওয়ালা তুতি‘ইল কা-ফিরীনা ওয়ালমুনা-ফিকীন ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলীমান হাকীমা
হে নবী (সা)! আল্লাহকে ভয় কর, আর কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য কর না, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞাতা, মহাপ্রজ্ঞাময়।
وَٱتَّبِعْ مَا يُوحَىٰٓ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًۭا ٢
ওয়াত্তাবি‘ মা ইউহা- ইলাইকা মির রাব্বিক ইন্নাল্লা-হা কা-না বিমা তা‘মালূনা খাবীরা
তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে যা ওয়াহী করা হয় তুমি তার অনুসরণ কর। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ণরূপে অবহিত।
وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِيلًۭا ٣
ওয়াতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হ ওয়াকাফা বিল্লা-হি ওয়াকীলা
আর তুমি নির্ভর কর আল্লাহর উপর, কর্ম সম্পাদনে আল্লাহই যথেষ্ট।
مَّا جَعَلَ ٱللَّهُ لِرَجُلٍۢ مِّن قَلْبَيْنِ فِى جَوْفِهِۦ ۚ وَمَا جَعَلَ أَزْوَٰجَكُمُ ٱلَّٰٓـِٔى تُظَٰهِرُونَ مِنْهُنَّ أُمَّهَٰتِكُمْ ۚ وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَآءَكُمْ أَبْنَآءَكُمْ ۚ ذَٰلِكُمْ قَوْلُكُم بِأَفْوَٰهِكُمْ ۖ وَٱللَّهُ يَقُولُ ٱلْحَقَّ وَهُوَ يَهْدِى ٱلسَّبِيلَ ٤
মা জা‘আলাল্লা-হু লিরাজুলিম মিন কালবাইনি ফী জাওফিহ ওয়ামা জা‘আলা আযওয়া-জাকুমুল লা-ঈ তুযা-হিরূনা মিনহুন্না উম্মাহা-তিকুম ওয়ামা জা‘আলা আদ‘ইয়া-আকুম আবনা-আকুম যা-লিকুম কাওলুকুম বিআফওয়া-হিকুম ওয়াল্লা-হু ইয়াকূলুল হাক্কা ওয়াহুওয়া ইয়াহদিস সাবীল
আল্লাহ কোন মানুষের বুকে দু’টি অন্তর সৃষ্টি করেননি। তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের সঙ্গে তোমরা জিহার কর, তিনি তাদেরকে তোমাদের জননী করেননি, আর তিনি তোমাদের পোষ্য পুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি, এগুলো তোমাদের মুখের বুলি, আল্লাহই বলেন সত্য কথা, আর তিনিই দেখান (সঠিক) পথ।
ٱدْعُوهُمْ لِءَابَآئِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ ٱللَّهِ ۚ فَإِن لَّمْ تَعْلَمُوٓا۟ ءَابَآءَهُمْ فَإِخْوَٰنُكُمْ فِى ٱلدِّينِ وَمَوَٰلِيكُمْ ۚ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌۭ فِيمَآ أَخْطَأْتُم بِهِۦ وَلَٰكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًا ٥
উদ‘ঊহুম লিআ-বা-ইহিম হুওয়া আকসাতু ‘ইনদাল্লা-হ ফাইল লাম তা‘লামূ আ-বা-আহুম ফাইখওয়া-নুকুম ফিদ দীনি ওয়ামাওয়া-লীকুম ওয়ালাইসা ‘আলাইকুম জুনা-হুন ফীমা- আখতা’তুম বিহী ওয়ালা-কিম মা তা‘আম্মাদাত কুলূবুকুম ওয়াকা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা
তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাক, আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ইনসাফপূর্ণ। আর যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তাহলে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই এবং তোমাদের বন্ধু। এ ব্যাপারে তোমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তোমাদের কোন গুনাহ্ নেই, কিন্তু (ধর্তব্য হল) তোমাদের অন্তরের সংকল্প। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
ٱلنَّبِىُّ أَوْلَىٰ بِٱلْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَٰجُهُۥٓ أُمَّهَٰتُهُمْ ۗ وَأُو۟لُوا۟ ٱلْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَىٰ بِبَعْضٍۢ فِى كِتَٰبِ ٱللَّهِ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُهَٰجِرِينَ إِلَّآ أَن تَفْعَلُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَوْلِيَآئِكُم مَّعْرُوفًۭا ۚ كَانَ ذَٰلِكَ فِى ٱلْكِتَٰبِ مَسْطُورًۭا ٦
আন-নাবিয়্যু আওলা বিলমু’মিনীনা মিন আনফুসিহিম ওয়াআযওয়া-জুহূ উম্মাহা-তুহুম ওয়াউলুল আরহা-মি বা‘দুহুম আওলা বিবা‘দিন ফী কিতা-বিল্লা-হি মিনাল মু’মিনীনা ওয়ালমুহা-জিরীনা ইল্লা- আন তাফ‘আলূ ইলা- আওলিয়া-ইকুম মা‘রূফা কা-না যা-লিকা ফিল কিতা-বি মাসতূরা
নবী (সাঃ) মু’মিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়ে ঘনিষ্ঠ, আর তার স্ত্রীগণ তাদের মাতা। আল্লাহর বিধানে মু’মিন ও মুহাজিরদের (দ্বীনী সম্পর্ক) অপেক্ষা আত্মীয়-স্বজনগণ পরস্পর পরস্পরের নিকট ঘনিষ্ঠতর। তবে তোমরা তোমাদের বন্ধু বান্ধবদের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্য প্রদর্শন করতে চাইলে, করতে পার। (আল্লাহর) কিতাবে এটাই লিখিত।
وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ ٱلنَّبِيِّۦنَ مِيثَٰقَهُمْ وَمِنكَ وَمِن نُّوحٍۢ وَإِبْرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَى ٱبْنِ مَرْيَمَ ۖ وَأَخَذْنَا مِنْهُم مِّيثَٰقًا غَلِيظًۭا ٧
ওয়াইয আখাযনা মিনান নাবিয়্যীনা মীছা-কাহুম ওয়ামিনকা ওয়ামিন নূহিঁ ওয়াইবরা-হীমা ওয়ামূসা ওয়া‘ঈসাবনি মারইয়ামা ওয়াআখাযনা মিনহুম মীছা-কান গালীযা
স্মরণ কর, আমি যখন নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম আর তোমার কাছ থেকেও; আর নূহ্, ইব্রাহীম, মূসা আর মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা থেকেও। আমি তাদের কাছ থেকে নিয়েছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার
لِّيَسْـَٔلَ ٱلصَّٰدِقِينَ عَن صِدْقِهِمْ ۚ وَأَعَدَّ لِلْكَٰفِرِينَ عَذَابًا أَلِيمًۭا ٨
লিয়াসআলাস সা-দিকীনা ‘আন সিদকিহিম ওয়াআ‘আদ্দা লিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বান আলীমা
সত্যবাদীদেরকে (অর্থাৎ নবীদেরকে) তাদের সত্যবাদিতা (অর্থাৎ আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেয়ার কাজ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য। তিনি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন ভয়াবহ শাস্তি।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَةَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَآءَتْكُمْ جُنُودٌۭ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًۭا وَجُنُودًۭا لَّمْ تَرَوْهَا ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا ٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুযকুরূ নি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম ইয জা-আতকুম জুনূদুন ফাআরসালনা ‘আলাইহিম রীহাঁ ওয়াজুনূদাল লাম তারাওহা ওয়াকা-নাল্লা-হু বিমা তা‘মালূনা বাসীরা
হে মু’মিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর যখন সৈন্যবাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে নিকটবর্তী হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম ঝড়ো হাওয়া এবং এক (ফেরেশতারূপী) সৈন্যবাহিনী যা তোমরা দেখনি। তোমরা যা কর আল্লাহ তা প্রত্যক্ষকারী।
إِذْ جَآءُوكُم مِّن فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ ٱلْأَبْصَٰرُ وَبَلَغَتِ ٱلْقُلُوبُ ٱلْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِٱللَّهِ ٱلظُّنُونَا۠ ١٠
ইয জা-ঊকুম মিন ফাওকিকুম ওয়ামিন আসফালা মিনকুম ওয়াইয যা-গাতিল আবসা-রু ওয়াবালাগাতিল কুলূবুল হানা-জিরা ওয়াতাযুন্নূনা বিল্লা-হিয যুনূন
তারা যখন তোমাদের কাছে এসেছিল তোমাদের উপর থেকে আর তোমাদের নীচের দিক থেকে, তখন তোমাদের চক্ষু হয়েছিল বিস্ফোরিত আর প্রাণ হয়েছিল কণ্ঠাগত; আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম (খারাপ) ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছিলে।
هُنَالِكَ ٱبْتُلِىَ ٱلْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا۟ زِلْزَالًۭا شَدِيدًۭا ١١
হুনা-লিকাবতুলিয়াল মু’মিনূনা ওয়াযুলযিলূ যিলযা-লান শাদীদা
সে সময় মু’মিনগণকে পরীক্ষা করা হয়েছিল আর তাদেরকে ভীষণ কম্পনে প্রকম্পিত করা হয়েছিল।
وَإِذْ يَقُولُ ٱلْمُنَٰفِقُونَ وَٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ مَّا وَعَدَنَا ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ إِلَّا غُرُورًۭا ١٢
ওয়াইয ইয়াকূলুল মুনা-ফিকূনা ওয়াল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুম মা ওয়া‘আদানাল্লা-হু ওয়ারাসূলুহূ ইল্লা গুরূরা
আর স্মরণ কর, যখন মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা বলছিল- আল্লাহ ও তাঁর রসূল আমাদেরকে যে ওয়া‘দা দিয়েছেন তা ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়।
وَإِذْ قَالَت طَّآئِفَةٌۭ مِّنْهُمْ يَٰٓأَهْلَ يَثْرِبَ لَا مُقَامَ لَكُمْ فَٱرْجِعُوا۟ ۚ وَيَسْتَـْٔذِنُ فَرِيقٌۭ مِّنْهُمُ ٱلنَّبِىَّ يَقُولُونَ إِنَّ بُيُوتَنَا عَوْرَةٌۭ وَمَا هِىَ بِعَوْرَةٍ ۖ إِن يُرِيدُونَ إِلَّا فِرَارًۭا ١٣
ওয়াইয কা-লাত তা-ইফাতুম মিনহুম ইয়া-আহলা ইয়াছরিবা লা মুকা-মা লাকুম ফারজি‘ঊ ওয়ায়াসতা’যিনু ফারীকুম মিনহুমুন নাবিয়্যা ইয়াকূলূনা ইন্না বুইউতানা ‘আওরাতুঁ ওয়ামা হিয়া বি‘আওরাতিন ইন ইউরীদূনা ইল্লা ফিরা-রা
স্মরণ কর, যখন তাদের একদল বলেছিল- হে ইয়াসরিববাসী! তোমরা (শত্রুর আক্রমণের বিরুদ্ধে) দাঁড়াতে পারবে না, কাজেই তোমরা ফিরে যাও। আর তাদের একদল এই বলে নবী (সা)র কাছে অব্যাহতি চাচ্ছিল যে, আমাদের বাড়ীঘর অরক্ষিত অথচ ওগুলো অরক্ষিত ছিল না, আসলে পালিয়ে যাওয়াই তাদের ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য।
وَلَوْ دُخِلَتْ عَلَيْهِم مِّنْ أَقْطَارِهَا ثُمَّ سُئِلُوا۟ ٱلْفِتْنَةَ لَءَاتَوْهَا وَمَا تَلَبَّثُوا۟ بِهَآ إِلَّا يَسِيرًۭا ١٤
ওয়ালাও দুখিলাত ‘আলাইহিম মিন আকতা-রিহা ছুম্মা সুইলুল ফিতনাতা লাআ-তাওহা ওয়ামা তালাব্বাছূ বিহা- ইল্লা ইয়াসীরা
যদি শত্রুপক্ষ (মদীনা নগরীর) চারদিক থেকে তাদের উপর আক্রমণ করতো, অতঃপর তাদেরকে কুফুরীর আহবান করা হত, তবে তারা তাই করে বসত। তাতে তারা মোটেও বিলম্ব করত না।
وَلَقَدْ كَانُوا۟ عَٰهَدُوا۟ ٱللَّهَ مِن قَبْلُ لَا يُوَلُّونَ ٱلْأَدْبَٰرَ ۚ وَكَانَ عَهْدُ ٱللَّهِ مَسْـُٔولًۭا ١٥
ওয়ালাকাদ কা-নূ ‘আ-হাদুল্লা-হা মিন কাবলু লা ইউওয়াল্লূনাল আদবা-র ওয়াকা-না ‘আহদুল্লা-হি মাসঊলা
অথচ তারা ইতোপূর্বে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে না। আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়া‘দা সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে।
قُل لَّن يَنفَعَكُمُ ٱلْفِرَارُ إِن فَرَرْتُم مِّنَ ٱلْمَوْتِ أَوِ ٱلْقَتْلِ وَإِذًۭا لَّا تُمَتَّعُونَ إِلَّا قَلِيلًۭا ١٦
কুল লান ইয়ানফা‘আকুমুল ফিরা-রু ইন ফারারতুম মিনাল মাওতি আউইল কাতলি ওয়াইযাল লা তুমাত্তা‘ঊনা ইল্লা কালীলা
বল, পলায়নে তোমাদের কোনই লাভ হবে না, যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যা থেকে পলায়ন কর তাহলে তোমাদেরকে সামান্যই ভোগ করতে দেয়া হবে।
قُلْ مَن ذَا ٱلَّذِى يَعْصِمُكُم مِّنَ ٱللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوٓءًا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةًۭ ۚ وَلَا يَجِدُونَ لَهُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ وَلِيًّۭا وَلَا نَصِيرًۭا ١٧
কুল মান যাল লাযী ইয়া‘সিমুকুম মিনাল্লা-হি ইন আরা-দা বিকুম সূআন আও আরা-দা বিকুম রাহমাহ ওয়ালা ইয়াজিদূনা লাহুম মিন দূনিল্লা-হি ওয়ালিয়্যাঁ ওয়ালা নাসীরা
বল, তোমাদেরকে আল্লাহ (’র শাস্তি) হতে কে রক্ষা করবে তিনি যদি তোমাদের অকল্যাণ করতে চান অথবা তোমাদেরকে অনুগ্রহ করতে চান? তারা আল্লাহকে ছাড়া তাদের জন্য না পাবে কোন অভিভাবক, আর না কোন সাহায্যকারী।
۞ قَدْ يَعْلَمُ ٱللَّهُ ٱلْمُعَوِّقِينَ مِنكُمْ وَٱلْقَآئِلِينَ لِإِخْوَٰنِهِمْ هَلُمَّ إِلَيْنَا ۖ وَلَا يَأْتُونَ ٱلْبَأْسَ إِلَّا قَلِيلًا ١٨
কাদ ইয়া‘লামুল্লা-হুল মু‘আউইকীনা মিনকুম ওয়ালকা-ইলীনা লিইখওয়া-নিহিম হালুম্মা ইলাইনা ওয়ালা ইয়া’তূনাল বা’সা ইল্লা কালীলা
আল্লাহ তোমাদের মধ্যে তাদেরকে নিশ্চিতই জানেন কারা (যুদ্ধে অংশগ্রহণে) বাধা সৃষ্টিকারী আর কারা নিজেদের ভাইদেরকে বলে- আমাদের কাছে এসো। যুদ্ধ তারা সামান্যই করে
أَشِحَّةً عَلَيْكُمْ ۖ فَإِذَا جَآءَ ٱلْخَوْفُ رَأَيْتَهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ تَدُورُ أَعْيُنُهُمْ كَٱلَّذِى يُغْشَىٰ عَلَيْهِ مِنَ ٱلْمَوْتِ ۖ فَإِذَا ذَهَبَ ٱلْخَوْفُ سَلَقُوكُم بِأَلْسِنَةٍ حِدَادٍ أَشِحَّةً عَلَى ٱلْخَيْرِ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ لَمْ يُؤْمِنُوا۟ فَأَحْبَطَ ٱللَّهُ أَعْمَٰلَهُمْ ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرًۭا ١٩
আশিহ্হাতান ‘আলাইকুম ফাইযা জা-আল খাওফু রাআইতাহুম ইয়ানযুরূনা ইলাইকা তাদূরু আ‘ইউনুহুম কাল্লাযী ইউগশা ‘আলাইহি মিনাল মাওতি ফাইযা যাহাবাল খাওফু সালাকূকুম বিআলসিনাতিন হিদা-দিন আশিহ্হাতান ‘আলাল খাইর উলা-ইকা লাম ইউ’মিনূ ফাআহবাতাল্লা-হু আ‘মা-লাহুম ওয়াকা-না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াসীরা
তোমাদের প্রতি কৃপণতার বশবর্তী হয়ে। যখন বিপদ আসে তখন তুমি তাদেরকে দেখবে মৃত্যু ভয়ে অচেতন ব্যক্তির ন্যায় চোখ উল্টিয়ে তারা তোমার দিকে তাকাচ্ছে। অতঃপর বিপদ যখন কেটে যায় তখন ধনের লালসায় তারা তোমাদেরকে তীক্ষ্ম বাক্য-বাণে বিদ্ধ করে। এরা ঈমান আনেনি। এজন্য আল্লাহ তাদের কার্যাবলী নিস্ফল করে দিয়েছেন, আর তা আল্লাহর জন্য সহজ।
يَحْسَبُونَ ٱلْأَحْزَابَ لَمْ يَذْهَبُوا۟ ۖ وَإِن يَأْتِ ٱلْأَحْزَابُ يَوَدُّوا۟ لَوْ أَنَّهُم بَادُونَ فِى ٱلْأَعْرَابِ يَسْـَٔلُونَ عَنْ أَنۢبَآئِكُمْ ۖ وَلَوْ كَانُوا۟ فِيكُم مَّا قَٰتَلُوٓا۟ إِلَّا قَلِيلًۭا ٢٠
ইয়াহসাবূনাল আহযা-বা লাম ইয়াযহাবূ ওয়াইন ইয়া’তিল আহযা-বু ইয়াওয়াদ্দূ লাও আন-নাহুম বা-দূনা ফিল আ‘রা-বি ইয়াসআলূনা ‘আন আমবা-ইকুম ওয়ালাও কা-নূ ফীকুম মা কা-তালূ ইল্লা কালীলা
তারা মনে করে সম্মিলিত বাহিনী চলে যায়নি। সম্মিলিত বাহিনী যদি আবার এসে যায়, তাহলে তারা কামনা করবে যে, যদি মরুচারীদের মধ্যে থেকে তারা তোমাদের সংবাদ নিতে পারত! তারা তোমাদের মধ্যে অবস্থান করলেও তারা যুদ্ধ সামান্যই করত।
لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِى رَسُولِ ٱللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌۭ لِّمَن كَانَ يَرْجُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلْيَوْمَ ٱلْءَاخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرًۭا ٢١
লাকাদ কা-না লাকুম ফী রাসূলিল্লা-হি উসওয়াতুন হাসানাতুল লিমান কা-না ইয়ারজুল্লা-হা ওয়ালইয়াওমাল আ-খিরা ওয়াযাকারাল্লা-হা কাছীরা
তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।
وَلَمَّا رَءَا ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلْأَحْزَابَ قَالُوا۟ هَٰذَا مَا وَعَدَنَا ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَصَدَقَ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ ۚ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّآ إِيمَٰنًۭا وَتَسْلِيمًۭا ٢٢
ওয়ালাম্মা রাআল মু’মিনূনাল আহযা-বা কা-লূ হা-যা মা ওয়া‘আদানাল্লা-হু ওয়ারাসূলুহূ ওয়াসাদাকাল্লা-হু ওয়ারাসূলুহ ওয়ামা যা-দাহুম ইল্লা- ঈমা-নাঁ ওয়াতাসলীমা
মু’মিনরা যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল তখন তারা বলে উঠল- আল্লাহ ও তাঁর রসূল এরই ওয়া‘দা আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন। এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্যের আগ্রহই বৃদ্ধি পেল।
مِّنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌۭ صَدَقُوا۟ مَا عَٰهَدُوا۟ ٱللَّهَ عَلَيْهِ ۖ فَمِنْهُم مَّن قَضَىٰ نَحْبَهُۥ وَمِنْهُم مَّن يَنتَظِرُ ۖ وَمَا بَدَّلُوا۟ تَبْدِيلًۭا ٢٣
মিনাল মু’মিনীনা রিজা-লুন সাদাকূ মা ‘আ-হাদুল্লা-হা ‘আলাইহি ফামিনহুম মান কাদা নাহবাহূ ওয়ামিনহুম মান ইয়ানতাযিরু ওয়ামা বাদ্দালূ তাবদীলা
মু’মিনদের মধ্যে কতক লোক আল্লাহর সঙ্গে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কতক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে (শাহাদাত বরণ) করেছে আর তাদের কতক অপেক্ষায় আছে। তারা (তাদের সংকল্প) কখনো তিল পরিমাণ পরিবর্তন করেনি।
لِّيَجْزِىَ ٱللَّهُ ٱلصَّٰدِقِينَ بِصِدْقِهِمْ وَيُعَذِّبَ ٱلْمُنَٰفِقِينَ إِن شَآءَ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ٢٤
লিয়াজযিয়াল্লা-হুস সা-দিকীনা বিসিদকিহিম ওয়াইউ‘আয্যিবাল মুনা-ফিকীনা ইন শা-আ আও ইয়াতূবা ‘আলাইহিম ইন্নাল্লা-হা কা-না গাফূরার রাহীমা
যাতে আল্লাহ (ওয়া‘দার প্রতি) সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতার পুরস্কার দেন আর মুনাফিকদেরকে ইচ্ছে করলে শাস্তি দেন অথবা তাদেরকে ক্ষমা করেন। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
وَرَدَّ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِغَيْظِهِمْ لَمْ يَنَالُوا۟ خَيْرًۭا ۚ وَكَفَى ٱللَّهُ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٱلْقِتَالَ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًۭا ٢٥
ওয়ারাদ্দাল্লা-হুল লাযীনা কাফারূ বিগাইযিহিম লাম ইয়ানা-লূ খাইরা ওয়াকাফাল্লা-হুল মু’মিনীনাল কিতা-ল ওয়াকা-নাল্লা-হু কাউইয়্যান ‘আযীযা
আর আল্লাহ কাফিরদেরকে তাদের রাগের অবস্থাতেই ফিরিয়ে দিলেন, তারা কোন কল্যাণ লাভ করতে পারেনি। যুদ্ধে মু’মিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।
وَأَنزَلَ ٱلَّذِينَ ظَٰهَرُوهُم مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ مِن صَيَاصِيهِمْ وَقَذَفَ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلرُّعْبَ فَرِيقًۭا تَقْتُلُونَ وَتَأْسِرُونَ فَرِيقًۭا ٢٦
ওয়াআনযালাল লাযীনা যা-হারূহুম মিন আহলিল কিতা-বি মিন সায়া-সীহিম ওয়াকাযাফা ফী কুলূবিহিমুর রু‘বা ফারীকান তাকতুলূনা ওয়াতা’সিরূনা ফারীকা
আর গ্রন্থধারীদের মধ্য হতে যারা তাদেরকে (অর্থাৎ সম্মিলিত কাফির বাহিনীকে) সাহায্য করেছিল তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ হতে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। তাদের কতককে তোমরা হত্যা করলে, আর কতককে করলে বন্দী।
وَأَوْرَثَكُمْ أَرْضَهُمْ وَدِيَٰرَهُمْ وَأَمْوَٰلَهُمْ وَأَرْضًۭا لَّمْ تَطَـُٔوهَا ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرًۭا ٢٧
ওয়াআওরাছাকুম আরদাহুম ওয়াদিয়া-রাহুম ওয়াআমওয়া-লাহুম ওয়াআরদাল লাম তাতাঊহা ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীরা
আর তিনি তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করে দিলেন তাদের ভূমির, তাদের ঘরবাড়ির আর তাদের ধন-সম্পদের; আর এমন এক ভূখন্ডের যেখানে তোমরা (এখনও) অভিযানই পরিচালনা করনি। আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ قُل لِّأَزْوَٰجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًۭا جَمِيلًۭا ٢٨
ইয়া-আইয়্যুহান নাবিয়্যু কুল লিআযওয়া-জিকা ইন কুনতুন্না তুরিদনাল হায়া-তাদ দুনইয়া ওয়াযীনাতাহা ফাতা‘আ-লাইনা উমাত্তি‘কুন্না ওয়াউসার্রিহকুন্না সারা-হান জামীলা
হে নবী (সা.)! তুমি তোমার স্ত্রীদের বলে দাও- তোমরা যদি পার্থিব জীবন আর তার শোভাসৌন্দর্য কামনা কর, তাহলে এসো, তোমাদেরকে ভোগসামগ্রী দিয়ে দেই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদেরকে বিদায় দেই।
وَإِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَٱلدَّارَ ٱلْءَاخِرَةَ فَإِنَّ ٱللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَٰتِ مِنكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًۭا ٢٩
ওয়াইন কুনতুন্না তুরিদনাল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ওয়াদ্দা-রাল আ-খিরাতা ফাইন্নাল্লা-হা আ‘আদ্দা লিলমুহসিনা-তি মিনকুন্না আজরান ‘আযীমা
আর তোমরা যদি আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকালের গৃহ কামনা কর, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তাদের জন্য আল্লাহ মহা পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।
يَٰنِسَآءَ ٱلنَّبِىِّ مَن يَأْتِ مِنكُنَّ بِفَٰحِشَةٍۢ مُّبَيِّنَةٍۢ يُضَٰعَفْ لَهَا ٱلْعَذَابُ ضِعْفَيْنِ ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرًۭا ٣٠
ইয়া-নিসা-আন নাবিয়্যি মান ইয়া’তি মিনকুন্না বিফা-হিশাতিম মুবাইয়্যিনাতিঁ ইউদা-‘আফ লাহাল ‘আযা-বু দি‘ফাইন ওয়াকা-না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াসীরা
হে নবী পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়া হবে। আল্লাহর জন্য এটা সহজ।
۞ وَمَن يَقْنُتْ مِنكُنَّ لِلَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَتَعْمَلْ صَٰلِحًۭا نُّؤْتِهَآ أَجْرَهَا مَرَّتَيْنِ وَأَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًۭا كَرِيمًۭا ٣١
ওয়ামান ইয়াকনুত মিনকুন্না লিল্লা-হি ওয়ারাসূলিহী ওয়াতা‘মাল সা-লিহান নু’তিহা- আজরাহা মার্রাতাইনি ওয়াআ‘তাদনা লাহা রিযকান কারীমা
তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত হবে আর সৎ কাজ করবে, আমি তাকে দু’বার পুরস্কার দেব আর তার জন্য আমি সম্মানজনক রিযক প্রস্তুত রেখেছি।
يَٰنِسَآءَ ٱلنَّبِىِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍۢ مِّنَ ٱلنِّسَآءِ ۚ إِنِ ٱتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِٱلْقَوْلِ فَيَطْمَعَ ٱلَّذِى فِى قَلْبِهِۦ مَرَضٌۭ وَقُلْنَ قَوْلًۭا مَّعْرُوفًۭا ٣٢
ইয়া-নিসা-আন নাবিয়্যি লাসতুন্না কাআহাদিম মিনান নিসা-আ ইনিত তাকাইতুন্না ফালা তাখদা‘না বিলকাওলি ফায়াতমা‘আল লাযী ফী কালবিহী মারাদুঁ ওয়াকুলনা কাওলাম মা‘রূফা
হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর, তাহলে পর পুরুষের সঙ্গে আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, যাতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে প্রলুদ্ধ হয়। তোমরা সঙ্গত কথা বলবে।
وَقَرْنَ فِى بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ ٱلْجَٰهِلِيَّةِ ٱلْأُولَىٰ ۖ وَأَقِمْنَ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتِينَ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِعْنَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجْسَ أَهْلَ ٱلْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًۭا ٣٣
ওয়াকারনা ফী বুইউতিকুন্না ওয়ালা তাবার্রাজনা তাবার্রুজাল জা-হিলিয়্যাতিল ঊলা ওয়াআকিমনাস সালা-তা ওয়াআ-তীনায যাকা-তা ওয়াআতি‘নাল্লা-হা ওয়ারাসূলাহ ইন্নামা ইউরীদুল্লা-হু লিইউযহিবা ‘আনকুমুর রিজসা আহলাল বাইতি ওয়াইউতাহ্হিরাকুম তাতহীরা
আর তোমরা নিজেদের গৃহে অবস্থান কর, প্রাচীন অজ্ঞতার যুগের মত চোখ ঝলসানো প্রদর্শনী করে বেড়িও না। আর তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর। হে নবীর পরিবার! আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পবিত্র ও নিষ্কলংক করতে।
وَٱذْكُرْنَ مَا يُتْلَىٰ فِى بُيُوتِكُنَّ مِنْ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ وَٱلْحِكْمَةِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا ٣٤
ওয়াযকুরনা মা ইউতলা ফী বুইউতিকুন্না মিন আ-য়া-তিল্লা-হি ওয়ালহিকমাহ ইন্নাল্লা-হা কা-না লাতীফান খাবীরা
তোমাদের গৃহে আল্লাহর আয়াত ও হিকমত থেকে যা পাঠ করা হয় তার চর্চা কর। আল্লাহ অতি সূক্ষ্ণদর্শী, সর্ববিষয়ে খবর রাখেন।
إِنَّ ٱلْمُسْلِمِينَ وَٱلْمُسْلِمَٰتِ وَٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ وَٱلْقَٰنِتِينَ وَٱلْقَٰنِتَٰتِ وَٱلصَّٰدِقِينَ وَٱلصَّٰدِقَٰتِ وَٱلصَّٰبِرِينَ وَٱلصَّٰبِرَٰتِ وَٱلْخَٰشِعِينَ وَٱلْخَٰشِعَٰتِ وَٱلْمُتَصَدِّقِينَ وَٱلْمُتَصَدِّقَٰتِ وَٱلصَّٰٓئِمِينَ وَٱلصَّٰٓئِمَٰتِ وَٱلْحَٰفِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَٱلْحَٰفِظَٰتِ وَٱلذَّٰكِرِينَ ٱللَّهَ كَثِيرًۭا وَٱلذَّٰكِرَٰتِ أَعَدَّ ٱللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةًۭ وَأَجْرًا عَظِيمًۭا ٣٥
ইন্নাল মুসলিমীনা ওয়ালমুসলিমা-তি ওয়ালমু’মিনীনা ওয়ালমু’মিনা-তি ওয়ালকা-নিতীনা ওয়ালকা-নিতা-তি ওয়াস্সা-দিকীনা ওয়াস্সা-দিকা-তি ওয়াস্সা-বিরীনা ওয়াস্সা-বিরা-তি ওয়ালখা-শি‘ঈনা ওয়ালখা-শি‘আ-তি ওয়ালমুতাসাদ্দিকীনা ওয়ালমুতাসাদ্দিকা-তি ওয়াস্সা-ইমীনা ওয়াস্সা-ইমা-তি ওয়ালহা-ফিযীনা ফুরূজাহুম ওয়ালহা-ফিযা-তি ওয়ায্যা-কিরীনাল্লা-হা কাছীরাঁ ওয়ায্যা-কিরা-তি আ‘আদ্দাল্লা-হু লাহুম মাগফিরাতাঁ ওয়াআজরান ‘আযীমা
মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যনিষ্ঠ পুরুষ ও সত্যনিষ্ঠ নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়ী পুরুষ ও বিনয়ী নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোযাপালনকারী পুরুষ ও রোযাপালনারী নারী, যৌনাঙ্গের সুরক্ষাকারী পুরুষ ও যৌনাঙ্গের সুরক্ষাকারী নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী- আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍۢ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ ۗ وَمَن يَعْصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَٰلًۭا مُّبِينًۭا ٣٦
ওয়ামা কা-না লিমু’মিনিঁ ওয়ালা মু’মিনাতিন ইযা কাদাল্লা-হু ওয়ারাসূলুহূ আমরান আন ইয়াকূনা লাহুমুল খিয়ারাতু মিন আমরিহিম ওয়ামান ইয়া‘সিল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ফাকাদ দাল্লা দালা-লাম মুবীনা
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন নির্দেশ দিলে কোন মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারী উক্ত নির্দেশের ভিন্নতা করার কোন অধিকার রাখে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে সে স্পষ্টতই সত্য পথ হতে দুরে সরে পড়ল।
وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِىٓ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَٱتَّقِ ٱللَّهَ وَتُخْفِى فِى نَفْسِكَ مَا ٱللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى ٱلنَّاسَ وَٱللَّهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَىٰهُ ۖ فَلَمَّا قَضَىٰ زَيْدٌۭ مِّنْهَا وَطَرًۭا زَوَّجْنَٰكَهَا لِكَىْ لَا يَكُونَ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌۭ فِىٓ أَزْوَٰجِ أَدْعِيَآئِهِمْ إِذَا قَضَوْا۟ مِنْهُنَّ وَطَرًۭا ۚ وَكَانَ أَمْرُ ٱللَّهِ مَفْعُولًۭا ٣٧
ওয়াইয তাকূলু লিল্লাযী আন‘আমাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াআন‘আমতা ‘আলাইহি আমসিক ‘আলাইকা যাওজাকা ওয়াত্তাকিল্লা-হা ওয়াতুখফী ফী নাফসিকা মাল্লা-হু মুবদীহি ওয়াতাখশান না-সা ওয়াল্লা-হু আহাক্কু আন তাখশা-হু ফালাম্মা কাদা যাইদুম মিনহা ওয়াতারান যাওয়াজনা-কাহা লিকাই লা ইয়াকূনা ‘আলাল মু’মিনীনা হারাজুন ফী আযওয়া-জি আদ‘ইয়া-ইহিম ইযা কাদাও মিনহুন্না ওয়াতারা ওয়াকা-না আমরুল্লা-হি মাফ‘ঊলা
স্মরণ কর, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন আর তুমিও যাকে অনুগ্রহ করেছ তাকে তুমি যখন বলছিলে- তুমি তোমার স্ত্রীকে (বিবাহবন্ধনে) রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। তুমি তোমার অন্তরে লুকিয়ে রাখছিলে যা আল্লাহ প্রকাশ করতে চান, তুমি লোকদেরকে ভয় করছিলে, অথচ আল্লাহই সবচেয়ে বেশি এ অধিকার রাখেন যে, তুমি তাঁকে ভয় করবে। অতঃপর যায়্দ যখন তার (যায়নাবের) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল তখন আমি তাকে তোমার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে দিলাম যাতে মু’মিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব নারীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মু’মিনদের কোন বিঘ্ন না হয়। আল্লাহর আদেশ কার্যকরী হবেই।
مَّا كَانَ عَلَى ٱلنَّبِىِّ مِنْ حَرَجٍۢ فِيمَا فَرَضَ ٱللَّهُ لَهُۥ ۖ سُنَّةَ ٱللَّهِ فِى ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلُ ۚ وَكَانَ أَمْرُ ٱللَّهِ قَدَرًۭا مَّقْدُورًا ٣٨
মা কা-না ‘আলান নাবিয়্যি মিন হারাজিন ফীমা ফারাদাল্লা-হু লাহূ সুন্নাতাল্লা-হি ফিল লাযীনা খালাও মিন কাবল ওয়াকা-না আমরুল্লা-হি কাদারাম মাকদূরা
আল্লাহ নবীর জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তার জন্য তা করতে কোন বাধা নেই। পূর্বে যারা অতীত হয়ে গেছে তাদের ক্ষেত্রেও এটাই ছিল আল্লাহর বিধান। আল্লাহর বিধান সুনির্ধারণে নির্ধারিত।
ٱلَّذِينَ يُبَلِّغُونَ رِسَٰلَٰتِ ٱللَّهِ وَيَخْشَوْنَهُۥ وَلَا يَخْشَوْنَ أَحَدًا إِلَّا ٱللَّهَ ۗ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ حَسِيبًۭا ٣٩
আল্লাযীনা ইউবাল্লিগূনা রিসা-লা-তিল্লা-হি ওয়ায়াখশাওনাহূ ওয়ালা ইয়াখশাওনা আহাদান ইল্লাল্লা-হ ওয়াকাফা বিল্লা-হি হাসীবা
তারা (নবীগণ) আল্লাহর বাণী প্রচার করত আর তাঁকে ভয় করত। আল্লাহ ছাড়া কাউকে তারা ভয় করত না। (মানুষদের) হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট।
مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَآ أَحَدٍۢ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَٰكِن رَّسُولَ ٱللَّهِ وَخَاتَمَ ٱلنَّبِيِّۦنَ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمًۭا ٤٠
মা কা-না মুহাম্মাদুন আবা- আহাদিম মির রিজা-লিকুম ওয়ালা-কির রাসূলাল্লা-হি ওয়াখা-তামান নাবিয়্যীন ওয়াকা-নাল্লা-হু বিকুল্লি শাইইন ‘আলীমা
মুহাম্মাদ (সাঃ) তোমাদের মধ্যেকার কোন পুরুষের পিতা নয়, কিন্তু (সে) আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞাতা।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ ذِكْرًۭا كَثِيرًۭا ٤١
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুযকুরুল্লা-হা যিকরান কাছীরা
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর।
وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةًۭ وَأَصِيلًا ٤٢
ওয়াসাব্বিহূহু বুকরাতাঁ ওয়াআসীলা
আর সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
هُوَ ٱلَّذِى يُصَلِّى عَلَيْكُمْ وَمَلَٰٓئِكَتُهُۥ لِيُخْرِجَكُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ ۚ وَكَانَ بِٱلْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًۭا ٤٣
হুওয়াল লাযী ইউসাল্লী ‘আলাইকুম ওয়ামালা-ইকাতুহূ লিইউখরিজাকুম মিনায যুলুমা-তি ইলান নূর ওয়াকা-না বিলমু’মিনীনা রাহীমা
তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বর্ষণ করেন, আর তাঁর ফেরেশতারাও (তোমাদের জন্য) তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে আনার জন্যে। মু’মিনদের প্রতি তিনি পরম দয়ালু।
تَحِيَّتُهُمْ يَوْمَ يَلْقَوْنَهُۥ سَلَٰمٌۭ ۚ وَأَعَدَّ لَهُمْ أَجْرًۭا كَرِيمًۭا ٤٤
তাহিয়্যাতুহুম ইয়াওমা ইয়ালকাওনাহূ সালা-ম ওয়াআ‘আদ্দা লাহুম আজরান কারীমা
যেদিন তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে সেদিন তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন সম্মানজনক প্রতিদান।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ إِنَّآ أَرْسَلْنَٰكَ شَٰهِدًۭا وَمُبَشِّرًۭا وَنَذِيرًۭا ٤٥
ইয়া-আইয়্যুহান নাবিয়্যু ইন্না- আরসালনা-কা শা-হিদাঁ ওয়ামুবাশ্শিরাঁ ওয়ানাযীরা
হে নবী (সা.)! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি (যুগে যুগে প্রেরিত নবী রসূলগণ যে তাঁদের উম্মাতের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন- এ কথার) সাক্ষীস্বরূপ এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে,
وَدَاعِيًا إِلَى ٱللَّهِ بِإِذْنِهِۦ وَسِرَاجًۭا مُّنِيرًۭا ٤٦
ওয়াদা-‘ইয়ান ইলাল্লা-হি বিইযনিহী ওয়াসিরা-জাম মুনীরা
আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর পথে আহবানকারী ও আলোকপ্রদ প্রদীপরূপে।
وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ فَضْلًۭا كَبِيرًۭا ٤٧
ওয়াবাশ্শিরিল মু’মিনীনা বিআন্না লাহুম মিনাল্লা-হি ফাদলান কাবীরা
তুমি মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আল্লাহর নিকট আছে বিশাল অনুগ্রহ।
وَلَا تُطِعِ ٱلْكَٰفِرِينَ وَٱلْمُنَٰفِقِينَ وَدَعْ أَذَىٰهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِيلًۭا ٤٨
ওয়ালা তুতি‘ইল কা-ফিরীনা ওয়ালমুনা-ফিকীনা ওয়াদা‘ আযা-হুম ওয়াতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হ ওয়াকাফা বিল্লা-হি ওয়াকীলা
তুমি কাফির ও মুনাফিকদের কথা মান্য করো না। তাদের যন্ত্রণাকে মনে স্থান দিও না, আর নির্ভর কর আল্লাহর উপর, কার্যনির্বাহীরূপে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا نَكَحْتُمُ ٱلْمُؤْمِنَٰتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍۢ تَعْتَدُّونَهَا ۖ فَمَتِّعُوهُنَّ وَسَرِّحُوهُنَّ سَرَاحًۭا جَمِيلًۭا ٤٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ ইযা নাকাহতুমুল মু’মিনা-তি ছুম্মা তাল্লাকতুমূহুন্না মিন কাবলি আন তামাস্সূহুন্না ফামা লাকুম ‘আলাইহিন্না মিন ‘ইদ্দাতিন তা‘তাদ্দূনাহা ফামাত্তি‘ঊহুন্না ওয়াসার্রিহূহুন্না সারা-হান জামীলা
হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন কোন মু’মিন নারীকে বিবাহ কর, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তাদেরকে তালাক দাও, তখন তাদের জন্য তোমাদেরকে কোন ইদ্দত পালন করতে হবে না যা তোমরা (অন্যক্ষেত্রের তালাকে) গণনা করে থাক। কাজেই কিছু সামগ্রী তাদেরকে দাও আর তাদেরকে বিদায় দাও উত্তম বিদায়ে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ إِنَّآ أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَٰجَكَ ٱلَّٰتِىٓ ءَاتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَيْكَ وَبَنَاتِ عَمِّكَ وَبَنَاتِ عَمَّٰتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَٰلَٰتِكَ ٱلَّٰتِى هَاجَرْنَ مَعَكَ وَٱمْرَأَةًۭ مُّؤْمِنَةً إِن وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِىِّ إِنْ أَرَادَ ٱلنَّبِىُّ أَن يَسْتَنكِحَهَا خَالِصَةًۭ لَّكَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ۗ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِىٓ أَزْوَٰجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُهُمْ لِكَيْلَا يَكُونَ عَلَيْكَ حَرَجٌۭ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ٥٠
ইয়া-আইয়্যুহান নাবিয়্যু ইন্না- আহলালনা লাকা আযওয়া-জাকাল লা-তী আ-তাইতা উজূরাহুন্না ওয়ামা মালাকাত ইয়ামীনুকা মিম্মা- আফা-আল্লা-হু ‘আলাইকা ওয়াবানা-তি ‘আম্মিকা ওয়াবানা-তি ‘আম্মা-তিকা ওয়াবানা-তি খা-লিকা ওয়াবানা-তি খা-লা-তিকাল লা-তী হা-জারনা মা‘আকা ওয়ামরাআতাম মু’মিনাতান ইন ওয়াহাবাত নাফসাহা লিন্নাবিয়্যি ইন আরা-দান নাবিয়্যু আন ইয়াসতানকিহাহা খা-লিসাতাল লাকা মিন দূনিল মু’মিনীন কাদ ‘আলিমনা মা ফারাদনা ‘আলাইহিম ফী আযওয়া-জিহিম ওয়ামা মালাকাত আইমা-নুহুম লিকাইলা ইয়াকূনা ‘আলাইকা হারাজ ওয়াকা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা
হে নবী (সা.)! আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীগণকে যাদের মোহরানা তুমি প্রদান করেছ; আর বৈধ করেছি আল্লাহ ফায় (বিনা যুদ্ধে লব্ধ) হিসেবে তোমাকে যা দান করেছেন তার মধ্য হতে যারা তোমার মালিকানাধীন হয়েছে তাদেরকে, আর তোমার চাচার কন্যা ও ফুফুর কন্যাকে, তোমার মামার কন্যা ও তোমার খালার কন্যাকে যারা তোমার সঙ্গে হিজরাত করেছে। আর কোন মু’মিন নারী যদি নবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করে আর নবী যদি তাকে বিয়ে করতে চায় সেও বৈধ, এটা মু’মিনদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে তোমার জন্য যাতে তোমার কোন অসুবিধে না হয়। মু’মিনগণের জন্য তাদের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার তা জানা আছে। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
۞ تُرْجِى مَن تَشَآءُ مِنْهُنَّ وَتُـْٔوِىٓ إِلَيْكَ مَن تَشَآءُ ۖ وَمَنِ ٱبْتَغَيْتَ مِمَّنْ عَزَلْتَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكَ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰٓ أَن تَقَرَّ أَعْيُنُهُنَّ وَلَا يَحْزَنَّ وَيَرْضَيْنَ بِمَآ ءَاتَيْتَهُنَّ كُلُّهُنَّ ۚ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ مَا فِى قُلُوبِكُمْ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَلِيمًۭا ٥١
তুরজী মান তাশা-উ মিনহুন্না ওয়াতু’উঈ ইলাইকা মান তাশা-উ ওয়ামানিবতাগাইতা মিম্মান ‘আযালতা ফালা জুনা-হা ‘আলাইক যা-লিকা আদনা- আন তাকার্রা আ‘ইউনুহুন্না ওয়ালা ইয়াহযান্না ওয়ায়ারদাইনা বিমা- আ-তাইতাহুন্না কুল্লুহুন্ন ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামু মা ফী কুলূবিকুম ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হালীমা
তুমি তাদের যাকে ইচ্ছে সরিয়ে রাখতে পার, আর যাকে ইচ্ছে তোমার কাছে আশ্রয় দিতে পার। আর তুমি যাকে আলাদা ক’রে রেখেছ তাকে কামনা করলে তোমার কোন অপরাধ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে, তারা দুঃখ পাবে না, আর তুমি তাদের সকলকে যা দাও তাতে তারা সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা জানেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
لَّا يَحِلُّ لَكَ ٱلنِّسَآءُ مِنۢ بَعْدُ وَلَآ أَن تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ أَزْوَٰجٍۢ وَلَوْ أَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ إِلَّا مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ رَّقِيبًۭا ٥٢
লা ইয়াহিল্লু লাকান নিসা-উ মিম বা‘দু ওয়ালা- আন তাবাদ্দালা বিহিন্না মিন আযওয়া-জিঁ ওয়ালাও আ‘জাবাকা হুসনুহুন্না ইল্লা মা মালাকাত ইয়ামীনুক ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলা কুল্লি শাইইর রাকীবা
অতঃপর আর কোন নারী তোমার জন্য বৈধ নয়। আর তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও হালাল নয় যদিও তাদের সৌন্দর্য তোমাকে চমৎকৃত করে। তবে তোমার অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যাপারে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। আল্লাহ সব বিষয়ের উপর দৃষ্টি রাখেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَدْخُلُوا۟ بُيُوتَ ٱلنَّبِىِّ إِلَّآ أَن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيْرَ نَٰظِرِينَ إِنَىٰهُ وَلَٰكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَٱدْخُلُوا۟ فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَٱنتَشِرُوا۟ وَلَا مُسْتَـْٔنِسِينَ لِحَدِيثٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِى ٱلنَّبِىَّ فَيَسْتَحْىِۦ مِنكُمْ ۖ وَٱللَّهُ لَا يَسْتَحْىِۦ مِنَ ٱلْحَقِّ ۚ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَٰعًۭا فَسْـَٔلُوهُنَّ مِن وَرَآءِ حِجَابٍۢ ۚ ذَٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ ۚ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَن تُؤْذُوا۟ رَسُولَ ٱللَّهِ وَلَآ أَن تَنكِحُوٓا۟ أَزْوَٰجَهُۥ مِنۢ بَعْدِهِۦٓ أَبَدًا ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ عِندَ ٱللَّهِ عَظِيمًا ٥٣
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তাদখুলূ বুইউতান নাবিয়্যি ইল্লা- আন ইউ’যানা লাকুম ইলা তা‘আ-মিন গাইরা না-যিরীনা ইনা-হু ওয়ালা-কিন ইযা দু‘ঈতুম ফাদখুলূ ফাইযা তা‘ইমতুম ফানতাশিরূ ওয়ালা মুসতা’নিসীনা লিহাদীছ ইন্না যা-লিকুম কা-না ইউ’যিন নাবিয়্যা ফায়াসতাহইয়ী মিনকুম ওয়াল্লা-হু লা ইয়াসতাহইয়ী মিনাল হাক্ক ওয়াইযা সাআলতুমূহুন্না মাতা-‘আন ফাসআলূহুন্না মিন ওয়ারা-ই হিজা-ব যা-লিকুম আতহারু লিকুলূবিকুম ওয়াকুলূবিহিন্ন ওয়ামা কা-না লাকুম আন তু’যূ রাসূলাল্লা-হি ওয়ালা- আন তানকিহূ আযওয়া-জাহূ মিম বা‘দিহী আবাদা ইন্না যা-লিকুম কা-না ‘ইনদাল্লা-হি ‘আযীমা
তোমরা যারা ঈমান এনেছ শোন! নবীগৃহে প্রবেশ কর না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয় খাদ্য গ্রহণের জন্য, (আগেভাগেই এসে পড় না) খাদ্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করে যেন বসে থাকতে না হয়। তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা প্রবেশ কর। অতঃপর তোমাদের খাওয়া হলে তোমরা চলে যাও। কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। তোমাদের এ কাজ নবীকে কষ্ট দেয়। সে তোমাদেরকে (উঠে যাওয়ার জন্য বলতে) লজ্জাবোধ করে, আল্লাহ সত্য কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না। তোমরা যখন তার স্ত্রীগণের নিকট কোন কিছু চাও, তখন পর্দার আড়াল হতে তাদের কাছে চাও। এটাই তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য পবিত্রতর। তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয়া সঙ্গত নয়। আর তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীগণকে বিয়ে করাও তোমাদের জন্য কক্ষনো বৈধ নয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা মহা অপরাধ।
إِن تُبْدُوا۟ شَيْـًٔا أَوْ تُخْفُوهُ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمًۭا ٥٤
ইন তুবদূ শাইআন আও তুখফূহু ফাইন্নাল্লা-হা কা-না বিকুল্লি শাইইন ‘আলীমা
তোমরা কোন বিষয় প্রকাশ কর অথবা তা গোপন কর- আল্লাহ তো সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।
لَّا جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِىٓ ءَابَآئِهِنَّ وَلَآ أَبْنَآئِهِنَّ وَلَآ إِخْوَٰنِهِنَّ وَلَآ أَبْنَآءِ إِخْوَٰنِهِنَّ وَلَآ أَبْنَآءِ أَخَوَٰتِهِنَّ وَلَا نِسَآئِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُهُنَّ ۗ وَٱتَّقِينَ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ شَهِيدًا ٥٥
লা জুনা-হা ‘আলাইহিন্না ফী আ-বা-ইহিন্না ওয়ালা- আবনা-ইহিন্না ওয়ালা- ইখওয়া-নিহিন্না ওয়ালা- আবনা-ই ইখওয়া-নিহিন্না ওয়ালা- আবনা-ই আখাওয়া-তিহিন্না ওয়ালা নিসা-ইহিন্না ওয়ালা মা মালাকাত আইমা-নুহুন্ন ওয়াত্তাকীনাল্লা-হ ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলা কুল্লি শাইইন শাহীদা
কোন অপরাধ নেই (যদি নবীর স্ত্রীগণ সামনে যায়) তাদের পিতৃদের, তাদের পুত্রদের, তাদের ভ্রাতৃদের, তাদের ভ্রাতুষ্পুত্রদের, তাদের ভগ্নীপুত্রদের, তাদের নারীদের ও তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের। আর (হে নবীর স্ত্রীগণ!) তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সকল জিনিসেরই প্রত্যক্ষদর্শী।
إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِىِّ ۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ صَلُّوا۟ عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا۟ تَسْلِيمًا ٥٦
ইন্নাল্লা-হা ওয়ামালা-ইকাতাহূ ইউসাল্লূনা ‘আলান নাবিই ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ সাল্লূ ‘আলাইহি ওয়াসাল্লিমূ তাসলীমা
আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন, তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। হে মু’মিনগণ! তোমরাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর এবং যথাযথ শ্রদ্ধাভরে সালাম জানাও।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُؤْذُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ لَعَنَهُمُ ٱللَّهُ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًۭا مُّهِينًۭا ٥٧
ইন্নাল লাযীনা ইউ’যূনাল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ লা‘আনাহুমুল্লা-হু ফিদ দুনইয়া ওয়ালআ-খিরাতি ওয়াআ‘আদ্দা লাহুম ‘আযা-বাম মুহীনা
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেছেন আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক শাস্তি।
وَٱلَّذِينَ يُؤْذُونَ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ بِغَيْرِ مَا ٱكْتَسَبُوا۟ فَقَدِ ٱحْتَمَلُوا۟ بُهْتَٰنًۭا وَإِثْمًۭا مُّبِينًۭا ٥٨
ওয়াল্লাযীনা ইউ’যূনাল মু’মিনীনা ওয়ালমু’মিনা-তি বিগাইরি মাকতাসাবূ ফাকাদিহতামালূ বুহতা-নাঁ ওয়াইছমাম মুবীনা
আর যারা মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদেরকে কষ্ট দেয় তাদের কোন অপরাধ ছাড়াই, তারা অপবাদের ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ قُل لِّأَزْوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰٓ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ٥٩
ইয়া-আইয়্যুহান নাবিয়্যু কুল লিআযওয়া-জিকা ওয়াবানা-তিকা ওয়ানিসা-ইল মু’মিনীনা ইউদনীনা ‘আলাইহিন্না মিন জালা-বীবিহিন্ন যা-লিকা আদনা- আন ইউ‘রাফনা ফালা ইউ’যাইন ওয়াকা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা
হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, তোমার কন্যাদেরকে আর মু’মিনদের নারীদেরকে বলে দাও- তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয় (যখন তারা বাড়ীর বাইরে যায়), এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে এবং তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
۞ لَّئِن لَّمْ يَنتَهِ ٱلْمُنَٰفِقُونَ وَٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ وَٱلْمُرْجِفُونَ فِى ٱلْمَدِينَةِ لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لَا يُجَاوِرُونَكَ فِيهَآ إِلَّا قَلِيلًۭا ٦٠
লাইল লাম ইয়ানতাহিল মুনা-ফিকূনা ওয়াল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুঁ ওয়ালমুরজিফূনা ফিল মাদীনাতি লানুগরিয়ান্নাকা বিহিম ছুম্মা লা ইউজা-উইরূনাকা ফীহা- ইল্লা কালীলা
মুনাফিকরা আর যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা আর শহরে গুজব রটনাকারীরা যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তোমাকে তেজোদীপ্ত করব, অতঃপর তারা তোমার প্রতিবেশী হিসেবে এ শহরে থাকতে পারবে না। তবে অল্পদিনের জন্য থাকবে
مَّلْعُونِينَ ۖ أَيْنَمَا ثُقِفُوٓا۟ أُخِذُوا۟ وَقُتِّلُوا۟ تَقْتِيلًۭا ٦١
মাল‘ঊনীনা আইনামা ছুকিফূ উখিযূ ওয়াকুত্তিলূ তাকতীলা
অভিশপ্ত অবস্থায়; তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে ধরা হবে এবং হত্যা করার মতই হত্যা করা হবে।
سُنَّةَ ٱللَّهِ فِى ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلُ ۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ ٱللَّهِ تَبْدِيلًۭا ٦٢
সুন্নাতাল্লা-হি ফিল লাযীনা খালাও মিন কাবলু ওয়ালান তাজিদা লিসুন্নাতিল্লা-হি তাবদীলা
যারা অতীত হয়ে গেছে তাদের ক্ষেত্রে এটাই ছিল আল্লাহর বিধান, তুমি আল্লাহর বিধানে কক্ষনো হেরফের পাবে না।
يَسْـَٔلُكَ ٱلنَّاسُ عَنِ ٱلسَّاعَةِ ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ ٱللَّهِ ۚ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ ٱلسَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا ٦٣
ইয়াসআলুকান না-সু ‘আনিস সা-‘আতি কুল ইন্নামা ‘ইলমুহা ‘ইনদাল্লা-হ ওয়ামা ইউদরীকা লা‘আল্লাস সা-‘আতা তাকূনু কারীবা
লোকে তোমাকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তার জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে। কিসে তোমাকে জানাবে- সম্ভবতঃ ক্বিয়ামত নিকটেই।
إِنَّ ٱللَّهَ لَعَنَ ٱلْكَٰفِرِينَ وَأَعَدَّ لَهُمْ سَعِيرًا ٦٤
ইন্নাল্লা-হা লা‘আনাল কা-ফিরীনা ওয়াআ‘আদ্দা লাহুম সা‘ঈরা
আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন আর তাদের জন্য জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছেন।
خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًۭا ۖ لَّا يَجِدُونَ وَلِيًّۭا وَلَا نَصِيرًۭا ٦٥
খা-লিদীনা ফীহা- আবাদাল লা ইয়াজিদূনা ওয়ালিয়্যাঁ ওয়ালা নাসীরা
তাতে তারা চিরকাল থাকবে, তারা না পাবে কোন অভিভাবক, আর না পাবে কোন সাহায্যকারী।
يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِى ٱلنَّارِ يَقُولُونَ يَٰلَيْتَنَآ أَطَعْنَا ٱللَّهَ وَأَطَعْنَا ٱلرَّسُولَا۠ ٦٦
ইয়াওমা তুকাল্লাবু উজূহুহুম ফিন না-রি ইয়াকূলূনা ইয়া-লাইতানা- আতা‘নাল্লা-হা ওয়াআতা‘নার রাসূল
আগুনে যেদিন তাদের মুখ উপুড় করে দেয়া হবে সেদিন তারা বলবে- হায়! আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম ও রসূলকে মানতাম।
وَقَالُوا۟ رَبَّنَآ إِنَّآ أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَآءَنَا فَأَضَلُّونَا ٱلسَّبِيلَا۠ ٦٧
ওয়াকা-লূ রাব্বানা- ইন্না- আতা‘না সা-দাতানা ওয়াকুবারা-আনা ফাআদাল্লূনাস সাবীল
আর তারা বলবে- হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আমাদের নেতাদেরকে ও আমাদের প্রধানদেরকে মান্য করতাম। তারাই আমাদেরকে গুমরাহ করেছিল।
رَبَّنَآ ءَاتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ ٱلْعَذَابِ وَٱلْعَنْهُمْ لَعْنًۭا كَبِيرًۭا ٦٨
রাব্বানা- আ-তিহিম দি‘ফাইনি মিনাল ‘আযা-বি ওয়াল‘আনহুম লা‘নান কাবীরা
হে আমাদের পালনকর্তা! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দাও আর তাদেরকে মহা অভিশাপে অভিশাপ দাও।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ ءَاذَوْا۟ مُوسَىٰ فَبَرَّأَهُ ٱللَّهُ مِمَّا قَالُوا۟ ۚ وَكَانَ عِندَ ٱللَّهِ وَجِيهًۭا ٦٩
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানূ লা তাকূনূ কাল্লাযীনা আ-যাও মূসা ফাবার্রাআহুল্লা-হু মিম্মা কা-লূ ওয়াকা-না ‘ইনদাল্লা-হি ওয়াজীহা
হে মু’মিনগণ! তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা মূসাকে কষ্ট দিয়েছিল। অতঃপর তারা যা বলেছিল আল্লাহ তাত্থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন। সে ছিল আল্লাহর নিকট সম্মানিত।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَقُولُوا۟ قَوْلًۭا سَدِيدًۭا ٧٠
ইয়া-আইয়্যুহাল লাযীনা আ-মানুত তাকুল্লা-হা ওয়াকূলূ কাওলান সাদীদা
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সরল সঠিক কথা বল।
يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَٰلَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا ٧١
ইউসলিহ লাকুম আ‘মা-লাকুম ওয়ায়াগফির লাকুম যুনূবাকুম ওয়ামান ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়ারাসূলাহূ ফাকাদ ফা-যা ফাওযান ‘আযীমা
আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের আমলগুলোকে ত্রুটিমুক্ত করবেন আর তোমাদের পাপগুলোকে ক্ষমা করে দিবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে সে সাফল্য লাভ করে- মহাসাফল্য।
إِنَّا عَرَضْنَا ٱلْأَمَانَةَ عَلَى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱلْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا ٱلْإِنسَٰنُ ۖ إِنَّهُۥ كَانَ ظَلُومًۭا جَهُولًۭا ٧٢
ইন্না ‘আরাদনাল আমা-নাতা ‘আলাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ালজিবা-লি ফাআবাইনা আন ইয়াহমিলনাহা ওয়াআশফাকনা মিনহা ওয়াহামালাহাল ইনসা-নু ইন্নাহূ কা-না যালূমান জাহূলা
আমি আসমান, যমীন ও পর্বতের প্রতি (ইসলামের বোঝা বহন করার) আমানাত পেশ করেছিলাম। কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকৃতি জানাল, তারা তাতে আশংকিত হল, কিন্তু মানুষ সে দায়িত্ব নিল। সে বড়ই অন্যায়কারী, বড়ই অজ্ঞ।
لِّيُعَذِّبَ ٱللَّهُ ٱلْمُنَٰفِقِينَ وَٱلْمُنَٰفِقَٰتِ وَٱلْمُشْرِكِينَ وَٱلْمُشْرِكَٰتِ وَيَتُوبَ ٱللَّهُ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًۢا ٧٣
লিইউ‘আয্যিবাল্লা-হুল মুনা-ফিকীনা ওয়ালমুনা-ফিকা-তি ওয়ালমুশরিকীনা ওয়ালমুশরিকা-তি ওয়ায়াতূবাল্লা-হু ‘আলাল মু’মিনীনা ওয়ালমু’মিনা-ত ওয়াকা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা
পরিণামে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীকে শাস্তি দিবেন এবং মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীকে ক্ষমা প্রদর্শন করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।