بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
الٓمٓ ١
আলিফ লা-ম মী-ম
আলিম-লাম-মীম।
غُلِبَتِ ٱلرُّومُ ٢
গুলিবাতির রূম
রোমানরা পরাজিত হয়েছে।
فِىٓ أَدْنَى ٱلْأَرْضِ وَهُم مِّنۢ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ ٣
ফী আদনাল আরদি ওয়াহুম মিম বা‘দি গালাবিহিম সায়াগলিবূন
নিকটস্থ ভূমিতে, কিন্তু তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই জয়লাভ করবে।
فِى بِضْعِ سِنِينَ ۗ لِلَّهِ ٱلْأَمْرُ مِن قَبْلُ وَمِنۢ بَعْدُ ۚ وَيَوْمَئِذٍۢ يَفْرَحُ ٱلْمُؤْمِنُونَ ٤
ফী বিদ‘ই সিনীন লিল্লা-হিল আমরু মিন কাবলু ওয়ামিম বা‘দ ওয়ায়াওমাইযিঁ ইয়াফরাহুল মু’মিনূন
কয়েক (তিন থেকে নয়) বছরের মধ্যেই; (কোন্ কাজ হবে) আগে ও (কোন্ কাজ হবে) পরে সে ফয়সালা আল্লাহরই। সেদিন মু’মিনরা আনন্দ করবে।
بِنَصْرِ ٱللَّهِ ۚ يَنصُرُ مَن يَشَآءُ ۖ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ ٥
বিনাসরিল্লা-হ ইয়ানসুরু মান ইয়াশা-উ ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুর রাহীম
(সে বিজয় অর্জিত হবে) আল্লাহর সাহায্যে। যাকে ইচ্ছে তিনি সাহায্য করেন, তিনি মহাপরাক্রমশালী, বড়ই দয়ালু।
وَعْدَ ٱللَّهِ ۖ لَا يُخْلِفُ ٱللَّهُ وَعْدَهُۥ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ٦
ওয়া‘দাল্লা-হি লা ইউখলিফুল্লা-হু ওয়া‘দাহূ ওয়ালা-কিন্না আকছারান না-সি লা ইয়া‘লামূন
এটা আল্লাহর ও‘য়াদা, আল্লাহ তাঁর ও‘য়াদার ব্যতিক্রম করেন না, কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না।
يَعْلَمُونَ ظَٰهِرًۭا مِّنَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ ٱلْءَاخِرَةِ هُمْ غَٰفِلُونَ ٧
ইয়া‘লামূনা যা-হিরাম মিনাল হায়া-তিদ দুনইয়া ওয়াহুম ‘আনিল আ-খিরাতি হুম গা-ফিলূন
তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক জানে, আর তারা পরকালের খবর রাখে না।
أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا۟ فِىٓ أَنفُسِهِم ۗ مَّا خَلَقَ ٱللَّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَآ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَأَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى ۗ وَإِنَّ كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلنَّاسِ بِلِقَآئِ رَبِّهِمْ لَكَٰفِرُونَ ٨
আওয়ালাম ইয়াতাফাক্কারূ ফী আনফুসিহিম মা খালাকাল্লা-হুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ওয়ামা বাইনাহুমা- ইল্লা বিলহাক্কি ওয়াআজালিম মুসাম্মা ওয়াইন্না কাছীরাম মিনান না-সি বিলিকা-ই রাব্বিহিম লাকা-ফিরূন
তারা কি তাদের মনে ভেবে দেখে না যে, আল্লাহ আকাশমন্ডলী, পৃথিবী ও এ দু’এর মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে ও নির্দিষ্ট কালের জন্য, কিন্তু অনেক মানুষ তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাতে নিশ্চিতই অবিশ্বাসী।
أَوَلَمْ يَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ كَانُوٓا۟ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةًۭ وَأَثَارُوا۟ ٱلْأَرْضَ وَعَمَرُوهَآ أَكْثَرَ مِمَّا عَمَرُوهَا وَجَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ ۖ فَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَٰكِن كَانُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ٩
আওয়ালাম ইয়াসীরূ ফিল আরদি ফায়ানযুরূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল লাযীনা মিন কাবলিহিম কা-নূ আশাদ্দা মিনহুম কুওয়াতাঁ ওয়াআছা-রুল আরদা ওয়া‘আমারূহা- আকছারা মিম্মা ‘আমারূহা ওয়াজা-আতহুম রুসুলুহুম বিলবাইয়্যিনা-তি ফামা কা-নাল্লা-হু লিয়াযলিমাহুম ওয়ালা-কিন কা-নূ আনফুসাহুম ইয়াযলিমূন
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? তাহলে তারা দেখত যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল। তারা শক্তিতে ছিল এদের চেয়ে অধিক প্রবল। তারা যমীন চাষ করত আর তা আবাদ করত এদের আবাদ করার চেয়ে বেশি। তাদের কাছে তাদের রসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের উপর যুলম করেননি, তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলম করেছিল।
ثُمَّ كَانَ عَٰقِبَةَ ٱلَّذِينَ أَسَٰٓـُٔوا۟ ٱلسُّوٓأَىٰٓ أَن كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَكَانُوا۟ بِهَا يَسْتَهْزِءُونَ ١٠
ছুম্মা কা-না ‘আ-কিবাতাল লাযীনা আসা-উস সূআ- আন কায্যাবূ বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়াকা-নূ বিহা ইয়াসতাহযিঊন
অতঃপর যারা মন্দ কাজ করত, তাদের পরিণাম হয়েছিল মন্দ; কারণ তারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছিল আর সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
ٱللَّهُ يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ١١
আল্লা-হু ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূ ছুম্মা ইলাইহি তুরজা‘ঊন
আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তিনি তার পুনরাবৃত্তি করবেন, অতঃপর তাঁর দিকেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।
وَيَوْمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يُبْلِسُ ٱلْمُجْرِمُونَ ١٢
ওয়ায়াওমা তাকূমুস সা-‘আতু ইউবলিসুল মুজরিমূন
যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে।
وَلَمْ يَكُن لَّهُم مِّن شُرَكَآئِهِمْ شُفَعَٰٓؤُا۟ وَكَانُوا۟ بِشُرَكَآئِهِمْ كَٰفِرِينَ ١٣
ওয়ালাম ইয়াকুল লাহুম মিন শুরাকা-ইহিম শুফা‘আ-উ ওয়াকা-নূ বিশুরাকা-ইহিম কা-ফিরীন
তারা যাদেরকে শরীক গণ্য করত তাদের মধ্যে কেউ তাদের জন্য সুপারিশকারী সাজবে না এবং তারা তাদের শরীকদেরকে অস্বীকার করবে।
وَيَوْمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يَوْمَئِذٍۢ يَتَفَرَّقُونَ ١٤
ওয়ায়াওমা তাকূমুস সা-‘আতু ইয়াওমাইযিঁ ইয়াতাফার্রাকূন
যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন মানুষরা পৃথক হয়ে যাবে।
فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَهُمْ فِى رَوْضَةٍۢ يُحْبَرُونَ ١٥
ফাআম্মাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি ফাহুম ফী রাওদাতিঁ ইউহবারূন
অতঃপর যারা ঈমান এনেছে ও সৎ কাজ করেছে তাদেরকে জান্নাত দিয়ে পরিতুষ্ট করা হবে।
وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا وَلِقَآئِ ٱلْءَاخِرَةِ فَأُو۟لَٰٓئِكَ فِى ٱلْعَذَابِ مُحْضَرُونَ ١٦
ওয়াআম্মাল লাযীনা কাফারূ ওয়াকায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা ওয়ালিকা-ইল আ-খিরাতি ফাউলা-ইকা ফিল ‘আযা-বি মুহদারূন
আর যারা কুফুরী করেছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও আখিরাতের সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছে, তাদেরকে ‘আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে।
فَسُبْحَٰنَ ٱللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ ١٧
ফাসুবহা-নাল্লা-হি হীনা তুমসূনা ওয়াহীনা তুসবিহূন
অতএব তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও আর সকালে,
وَلَهُ ٱلْحَمْدُ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَعَشِيًّۭا وَحِينَ تُظْهِرُونَ ١٨
ওয়ালাহুল হামদু ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়া‘আশিয়্যাঁ ওয়াহীনা তুযহিরূন
এবং অপরাহ্নে ও যুহরের সময়ে; আর আসমানসমূহে ও যমীনে প্রশংসা তো একমাত্র তাঁরই।
يُخْرِجُ ٱلْحَىَّ مِنَ ٱلْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ ٱلْمَيِّتَ مِنَ ٱلْحَىِّ وَيُحْىِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ وَكَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ ١٩
ইউখরিজুল হাইয়্যা মিনাল মাইয়্যিতি ওয়াইউখরিজুল মাইয়্যিতা মিনাল হাইয়্যি ওয়াইউহইয়িল আরদা বা‘দা মাওতিহা ওয়াকাযা-লিকা তুখরাজূন
তিনিই জীবন্তকে বের করেন মৃত থেকে আর মৃতকে বের করেন জীবন্ত থেকে। যমীনকে তিনিই পুনরায় জীবিত করেন তার মৃত্যুর পর, এভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে।
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنْ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍۢ ثُمَّ إِذَآ أَنتُم بَشَرٌۭ تَنتَشِرُونَ ٢٠
ওয়ামিন আ-য়া-তিহী আন খালাকাকুম মিন তুরা-বিন ছুম্মা ইযা- আনতুম বাশারুন তানতাশিরূন
তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমরা এখন মানুষ, সবখানে ছড়িয়ে রয়েছ।
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَٰجًۭا لِّتَسْكُنُوٓا۟ إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةًۭ وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَتَفَكَّرُونَ ٢١
ওয়ামিন আ-য়া-তিহী আন খালাকা লাকুম মিন আনফুসিকুম আযওয়া-জাল লিতাসকুনূ ইলাইহা ওয়াজা‘আলা বাইনাকুম মাওয়াদ্দাতাঁ ওয়ারাহমাহ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিঁ ইয়াতাফাক্কারূন
তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিণী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি লাভ করতে পার আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এর মাঝে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে।
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦ خَلْقُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَٰفُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَٰنِكُمْ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّلْعَٰلِمِينَ ٢٢
ওয়ামিন আ-য়া-তিহী খালকুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়াখতিলা-ফু আলসিনাতিকুম ওয়াআলওয়া-নিকুম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিল‘আ-লিমীন
তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল, আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা। জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই এতে আছে বহু নিদর্শন।
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦ مَنَامُكُم بِٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ وَٱبْتِغَآؤُكُم مِّن فَضْلِهِۦٓ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَسْمَعُونَ ٢٣
ওয়ামিন আ-য়া-তিহী মানা-মুকুম বিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ওয়াবতিগা-উকুম মিন ফাদলিহ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিঁ ইয়াসমা‘ঊন
তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল রাতে ও দিনে তোমাদের ঘুম এবং তোমাদের (দ্বারা) তাঁর অনুগ্রহ তালাশ করা। মনোযোগী লোকেদের জন্য অবশ্যই এতে আছে অনেক নিদর্শন।
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦ يُرِيكُمُ ٱلْبَرْقَ خَوْفًۭا وَطَمَعًۭا وَيُنَزِّلُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَيُحْىِۦ بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَآ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ٢٤
ওয়ামিন আ-য়া-তিহী ইউরীকুমুল বারকা খাওফাঁ ওয়াতামা‘আঁ ওয়াইউনায্যিলু মিনাস সামা-ই মা-আন ফাইউহইয়ী বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা- ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিঁ ইয়া‘কিলূন
তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি তোমাদেরকে দেখান বিদ্যুৎ ভীতি ও ভরসা সঞ্চারীরূপে, আর তিনি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন যা দিয়ে যমীনকে তার মৃত্যুর পর আবার জীবিত করেন, জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের জন্য অবশ্যই এতে বহু নিদর্শন আছে।
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦٓ أَن تَقُومَ ٱلسَّمَآءُ وَٱلْأَرْضُ بِأَمْرِهِۦ ۚ ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةًۭ مِّنَ ٱلْأَرْضِ إِذَآ أَنتُمْ تَخْرُجُونَ ٢٥
ওয়ামিন আ-য়া-তিহী আন তাকূমাস সামা-উ ওয়ালআরদু বিআমরিহ ছুম্মা ইযা দা‘আ-কুম দা‘ওয়াতাম মিনাল আরদি ইযা- আনতুম তাখরুজূন
তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, আকাশ ও পৃথিবী তাঁর হুকুমেই দাঁড়িয়ে আছে। অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে মাটি থেকে উঠার জন্য ডাক দেবেন একটি ডাক, তখন তোমরা উঠে আসবে।
وَلَهُۥ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ كُلٌّۭ لَّهُۥ قَٰنِتُونَ ٢٦
ওয়ালাহূ মান ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি কুল্লুল লাহূ কা-নিতূন
আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে সব তাঁরই, সকলই তাঁর প্রতি অনুগত।
وَهُوَ ٱلَّذِى يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ ۚ وَلَهُ ٱلْمَثَلُ ٱلْأَعْلَىٰ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٢٧
ওয়াহুওয়াল লাযী ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূ ওয়াহুওয়া আহওয়ানু ‘আলাইহ ওয়ালাহুল মাছালুল আ‘লা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদ ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুল হাকীম
তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করবেন আর তা তার জন্য খুবই সহজ। আকাশ ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত তাঁর জন্যই, তিনিই মহাপরাক্রমশালী, বড়ই হিকমতওয়ালা।
ضَرَبَ لَكُم مَّثَلًۭا مِّنْ أَنفُسِكُمْ ۖ هَل لَّكُم مِّن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُكُم مِّن شُرَكَآءَ فِى مَا رَزَقْنَٰكُمْ فَأَنتُمْ فِيهِ سَوَآءٌۭ تَخَافُونَهُمْ كَخِيفَتِكُمْ أَنفُسَكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلْءَايَٰتِ لِقَوْمٍۢ يَعْقِلُونَ ٢٨
দারাবা লাকুম মাছালাম মিন আনফুসিকুম হাল লাকুম মিম মা মালাকাত আইমা-নুকুম মিন শুরাকা-আ ফী মা রাযাকনা-কুম ফাআনতুম ফীহি সাওয়া-উন তাখা-ফূনাহুম কাখীফাতিকুম আনফুসাকুম কাযা-লিকা নুফাস্সিলুল আ-য়া-তি লিকাওমিঁ ইয়া‘কিলূন
আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই একটা দৃষ্টান্ত পেশ করছেনঃ আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তাতে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসদাসীরা কি অংশীদার যার ফলে তাতে তোমরা সমান? তোমরা কি তাদেরকে তেমনভাবে ভয় কর যেমন ভয় কর তোমাদের নিজেদের পরস্পরকে? এভাবে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষদের জন্য আমি নিদর্শনাবলী বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করি।
بَلِ ٱتَّبَعَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ أَهْوَآءَهُم بِغَيْرِ عِلْمٍۢ ۖ فَمَن يَهْدِى مَنْ أَضَلَّ ٱللَّهُ ۖ وَمَا لَهُم مِّن نَّٰصِرِينَ ٢٩
বালিত তাবা‘আল লাযীনা যালামূ আহওয়া-আহুম বিগাইরি ‘ইলমিন ফামান ইয়াহদী মান আদাল্লাল্লা-হু ওয়ামা লাহুম মিন না-সিরীন
বরং সীমালঙ্ঘনকারীরা কোন জ্ঞান ছাড়াই তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে; কাজেই আল্লাহই যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে সৎপথ দেখাবে কে? তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًۭا ۚ فِطْرَتَ ٱللَّهِ ٱلَّتِى فَطَرَ ٱلنَّاسَ عَلَيْهَا ۚ لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ ٱللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ ٱلدِّينُ ٱلْقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ٣٠
ফাআকিম ওয়াজহাকা লিদ্দীনি হানীফা ফিতরাতাল্লা-হিল লাতী ফাতারান না-সা ‘আলাইহা লা তাবদীলা লিখালকিল্লা-হ যা-লিকাদ দীনুল কাইয়্যিমু ওয়ালা-কিন্না আকছারান না-সি লা ইয়া‘লামূন
কাজেই দ্বীনের প্রতি তোমার মুখমন্ডল নিবদ্ধ কর একনিষ্ঠভাবে। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যে প্রকৃতি তিনি মানুষকে দিয়েছেন, আল্লাহর সৃষ্টি কার্যে কোন পরিবর্তন নেই, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
۞ مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَٱتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَلَا تَكُونُوا۟ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ٣١
মুনীবীনা ইলাইহি ওয়াত্তাকূহু ওয়াআকীমুস সালা-তা ওয়ালা তাকূনূ মিনাল মুশরিকীন
তাঁর অভিমুখী হও, আর তাঁকে ভয় কর, নামায প্রতিষ্ঠা কর, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
مِنَ ٱلَّذِينَ فَرَّقُوا۟ دِينَهُمْ وَكَانُوا۟ شِيَعًۭا ۖ كُلُّ حِزْبٍۭ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ ٣٢
মিনাল লাযীনা ফার্রাকূ দীনাহুম ওয়াকা-নূ শিয়া‘আন কুল্লু হিযবিম বিমা লাদাইহিম ফারিহূন
যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করে ফেলেছে এবং বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গেছে। প্রত্যেক দল নিজেদের কাছে যা আছে তাই নিয়ে উল্লসিত।
وَإِذَا مَسَّ ٱلنَّاسَ ضُرٌّۭ دَعَوْا۟ رَبَّهُم مُّنِيبِينَ إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَآ أَذَاقَهُم مِّنْهُ رَحْمَةً إِذَا فَرِيقٌۭ مِّنْهُم بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ ٣٣
ওয়াইযা মাস্সান না-সা দুর্রুন দা‘আও রাব্বাহুম মুনীবীনা ইলাইহি ছুম্মা ইযা- আযা-কাহুম মিনহু রাহমাতান ইযা ফারীকুম মিনহুম বিরাব্বিহিম ইউশরিকূন
মানুষকে যখন দুঃখ-বিপদ স্পর্শ করে তখন তারা তাদের প্রতিপালককে ডাকে তাঁর অভিমুখী হয়ে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ আস্বাদন করান তখন তাদের একদল তাদের প্রতিপালকের অংশীদার সাব্যস্ত করে বসে
لِيَكْفُرُوا۟ بِمَآ ءَاتَيْنَٰهُمْ ۚ فَتَمَتَّعُوا۟ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ٣٤
লিয়াকফুরূ বিমা- আ-তাইনা-হুম ফাতামাত্তা‘ঊ ফাসাওফা তা‘লামূন
আমি তাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছি তা অস্বীকার করার জন্য। তাহলে ভোগ করে নাও, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে!
أَمْ أَنزَلْنَا عَلَيْهِمْ سُلْطَٰنًۭا فَهُوَ يَتَكَلَّمُ بِمَا كَانُوا۟ بِهِۦ يُشْرِكُونَ ٣٥
আম আনযালনা ‘আলাইহিম সুলতা-নান ফাহুওয়া ইয়াতাকাল্লামু বিমা কা-নূ বিহী ইউশরিকূন
আমি কি তাদের কাছে এমন কোন দলীল অবতীর্ণ করেছি যা তাদেরকে সেগুলোর কথা বলে তারা যেগুলোর শরীক করে?
وَإِذَآ أَذَقْنَا ٱلنَّاسَ رَحْمَةًۭ فَرِحُوا۟ بِهَا ۖ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌۢ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُونَ ٣٦
ওয়াইযা- আযাকনান না-সা রাহমাতান ফারিহূ বিহা ওয়াইন তুসিবহুম সাইয়্যিআতুম বিমা কাদ্দামাত আইদীহিম ইযা হুম ইয়াকনাতূন
আমি যখন মানুষকে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই তখন তারা তাতে উল্লসিত হয়, তারপর তাদের হাত যা আগে পাঠিয়েছে তার ফলে দুর্দশা যখন তাদেরকে পেয়ে বসে, তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّ ٱللَّهَ يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُ ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يُؤْمِنُونَ ٣٧
আওয়ালাম ইয়ারাও আন-নাল্লা-হা ইয়াবসুতুর রিযকা লিমান ইয়াশা-উ ওয়ায়াকদির ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিঁ ইউ’মিনূন
তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছে করেন রিযক প্রশস্ত করেন আর (যার জন্য ইচ্ছে) সীমাবদ্ধ করেন? বিশ্বাসী লোকেদের জন্য অবশ্যই এতে বহু নিদর্শন আছে।
فَـَٔاتِ ذَا ٱلْقُرْبَىٰ حَقَّهُۥ وَٱلْمِسْكِينَ وَٱبْنَ ٱلسَّبِيلِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌۭ لِّلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجْهَ ٱللَّهِ ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ٣٨
ফাআ-তি যাল কুরবা হাক্কাহূ ওয়ালমিসকীনা ওয়াবনাস সাবীল যা-লিকা খাইরুল লিল্লাযীনা ইউরীদূনা ওয়াজহাল্লা-হি ওয়াউলা-ইকা হুমুল মুফলিহূন
কাজেই আত্মীয়দেরকে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য দিয়ে দাও আর অভাবগ্রস্ত এবং মুসাফিরদেরকেও। যারা আল্লাহর চেহারা (দর্শন) কামনা করে, এটা তাদের জন্য উত্তম, আর তারাই সফলকাম।
وَمَآ ءَاتَيْتُم مِّن رِّبًۭا لِّيَرْبُوَا۟ فِىٓ أَمْوَٰلِ ٱلنَّاسِ فَلَا يَرْبُوا۟ عِندَ ٱللَّهِ ۖ وَمَآ ءَاتَيْتُم مِّن زَكَوٰةٍۢ تُرِيدُونَ وَجْهَ ٱللَّهِ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُضْعِفُونَ ٣٩
ওয়ামা- আ-তাইতুম মির রিবাল লিয়ারবুওয়া ফী আমওয়া-লিন না-সি ফালা ইয়ারবূ ‘ইনদাল্লা-হি ওয়ামা- আ-তাইতুম মিন যাকা-তিন তুরীদূনা ওয়াজহাল্লা-হি ফাউলা-ইকা হুমুল মুদ‘ইফূন
মানুষের ধন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তোমরা যে সুদ দিয়ে থাক, আল্লাহর দৃষ্টিতে তা ধন বৃদ্ধি করে না। কিন্তু তোমরা আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে যে যাকাত দাও (তা বৃদ্ধি পায়), তারাই দ্বিগুণ প্রতিদান লাভ করে।
ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ ثُمَّ رَزَقَكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ۖ هَلْ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَفْعَلُ مِن ذَٰلِكُم مِّن شَىْءٍۢ ۚ سُبْحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ ٤٠
আল্লা-হুল লাযী খালাকাকুম ছুম্মা রাযাকাকুম ছুম্মা ইউমীতুকুম ছুম্মা ইউহইয়ীকুম হাল মিন শুরাকা-ইকুম মান ইয়াফ‘আলু মিন যা-লিকুম মিন শাই’ সুবহা-নাহূ ওয়াতা‘আ-লা ‘আম্মা ইউশরিকূন
আল্লাহ্ই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদেরকে রিযক দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর তোমাদেরকে জীবিত করবেন। তোমরা যাদেরকে (আল্লাহর) অংশীদার মান্য কর তাদের মধ্যে কেউ আছে কি এ সবের কোন কিছু করতে পারে? তারা যাদেরকে অংশীদার গণ্য করে আল্লাহ তাদের থেকে পবিত্র, বহু ঊর্ধ্বে।
ظَهَرَ ٱلْفَسَادُ فِى ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِى ٱلنَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ ٱلَّذِى عَمِلُوا۟ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ٤١
যাহারাল ফাসা-দু ফিল বার্রি ওয়ালবাহরি বিমা কাসাবাত আইদিন না-সি লিইউযীকাহুম বা‘দাল লাযী ‘আমিলূ লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন
মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে স্থলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কোন কোন কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা (অসৎ পথ হতে) ফিরে আসে।
قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلُ ۚ كَانَ أَكْثَرُهُم مُّشْرِكِينَ ٤٢
কুল সীরূ ফিল আরদি ফানযুরূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল লাযীনা মিন কাবল কা-না আকছারুহুম মুশরিকীন
বল, পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ আগে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।
فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ ٱلْقَيِّمِ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ يَوْمٌۭ لَّا مَرَدَّ لَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ ۖ يَوْمَئِذٍۢ يَصَّدَّعُونَ ٤٣
ফাআকিম ওয়াজহাকা লিদ্দীনিল কাইয়্যিমি মিন কাবলি আন ইয়া’তিয়া ইয়াওমুল লা মারাদ্দা লাহূ মিনাল্লা-হি ইয়াওমাইযিঁ ইয়াস্সাদ্দা‘ঊন
কাজেই তুমি নিজেকে সত্য দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখ, আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন দিন (ক্বিয়ামত দিবস) আসার পূর্বে যা কক্ষনো প্রত্যাহার করা হবে না। সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে যাবে (দু’ভাগে)।
مَن كَفَرَ فَعَلَيْهِ كُفْرُهُۥ ۖ وَمَنْ عَمِلَ صَٰلِحًۭا فَلِأَنفُسِهِمْ يَمْهَدُونَ ٤٤
মান কাফারা ফা‘আলাইহি কুফরুহূ ওয়ামান ‘আমিলা সা-লিহান ফালিআনফুসিহিম ইয়ামহাদূন
যে কুফুরী করে সেই তার কুফুরীর শাস্তি ভোগ করবে, আর যারা সৎকর্ম করে তারা নিজেদেরই সুখ সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে।
لِيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِن فَضْلِهِۦٓ ۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلْكَٰفِرِينَ ٤٥
লিয়াজযিয়াল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি মিন ফাদলিহ ইন্নাহূ লা ইউহিব্বুল কা-ফিরীন
যাতে তিনি স্বীয় অনুগ্রহভান্ডার থেকে তাদেরকে পুরস্কৃত করতে পারেন যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে। তিনি কাফিরদেরকে ভালবাসেন না।
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦٓ أَن يُرْسِلَ ٱلرِّيَاحَ مُبَشِّرَٰتٍۢ وَلِيُذِيقَكُم مِّن رَّحْمَتِهِۦ وَلِتَجْرِىَ ٱلْفُلْكُ بِأَمْرِهِۦ وَلِتَبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِهِۦ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ٤٦
ওয়ামিন আ-য়া-তিহী আন ইউরসিলার রিয়া-হা মুবাশ্শিরা-তিঁ ওয়ালিইউযীকাকুম মির রাহমাতিহী ওয়ালিতাজরিয়াল ফুলকু বিআমরিহী ওয়ালিতাবতাগূ মিন ফাদলিহী ওয়ালা‘আল্লাকুম তাশকুরূন
তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ দানের জন্য ও তোমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ আস্বাদন করানোর জন্য। তাঁর নির্দেশে নৌযান চলে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার আর তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ رُسُلًا إِلَىٰ قَوْمِهِمْ فَجَآءُوهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ فَٱنتَقَمْنَا مِنَ ٱلَّذِينَ أَجْرَمُوا۟ ۖ وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٤٧
ওয়ালাকাদ আরসালনা মিন কাবলিকা রুসুলান ইলা কাওমিহিম ফাজা-ঊহুম বিলবাইয়্যিনা-তি ফানতাকামনা মিনাল লাযীনা আজরামূ ওয়াকা-না হাক্কান ‘আলাইনা নাসরুল মু’মিনীন
তোমার পূর্বে আমি রসূলগণকে পাঠিয়েছিলাম তাদের নিজ নিজ জাতির নিকট। তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল। অতঃপর যারা অন্যায় করেছিল আমি তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিলাম। মু’মিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।
ٱللَّهُ ٱلَّذِى يُرْسِلُ ٱلرِّيَٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابًۭا فَيَبْسُطُهُۥ فِى ٱلسَّمَآءِ كَيْفَ يَشَآءُ وَيَجْعَلُهُۥ كِسَفًۭا فَتَرَى ٱلْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَٰلِهِۦ ۖ فَإِذَآ أَصَابَ بِهِۦ مَن يَشَآءُ مِنْ عِبَادِهِۦٓ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ ٤٨
আল্লা-হুল লাযী ইউরসিলুর রিয়া-হা ফাতুছীরু সাহা-বান ফায়াবসুতুহূ ফিস সামা-ই কাইফা ইয়াশা-উ ওয়ায়াজ‘আলুহূ কিসাফান ফাতারাল ওয়াদকা ইয়াখরুজু মিন খিলা-লিহী ফাইযা- আসা-বা বিহী মান ইয়াশা-উ মিন ‘ইবা-দিহী ইযা হুম ইয়াসতাবশিরূন
আল্লাহ যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালার সঞ্চার করে, অতঃপর তিনি তা আকাশে ছড়িয়ে দেন যেভাবে ইচ্ছে করেন, অতঃপর তাকে খন্ড বিখন্ড করে দেন, তারপর তুমি দেখতে পাও তার মাঝ থেকে বৃষ্টি-ফোঁটা নির্গত হচ্ছে, অতঃপর তিনি তাঁর বান্দাহদের মধ্যে যাদের নিকট তিনি ইচ্ছে করেন তাদের কাছে যখন তা পৌঁছে দেন তখন তারা হয় আনন্দিত।
وَإِن كَانُوا۟ مِن قَبْلِ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْهِم مِّن قَبْلِهِۦ لَمُبْلِسِينَ ٤٩
ওয়াইন কা-নূ মিন কাবলি আন ইউনায্যালা ‘আলাইহিম মিন কাবলিহী লামুবলিসীন
যদিও ইতোপূর্বে তাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণের পূর্বে তারা ছিল চরমভাবে হতাশ।
فَٱنظُرْ إِلَىٰٓ ءَاثَٰرِ رَحْمَتِ ٱللَّهِ كَيْفَ يُحْىِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَآ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ٥٠
ফানযুর ইলা- আ-ছা-রি রাহমাতিল্লা-হি কাইফা ইউহইয়িল আরদা বা‘দা মাওতিহা- ইন্না যা-লিকা লামুহইয়িল মাওতা ওয়াহুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর
অতএব আল্লাহর রহমাতের ফল দেখে নাও, কীভাবে তিনি ভূমিকে তার মৃত্যুর পর জীবিত করেন। এভাবেই নিশ্চয় তিনি মৃতকে জীবিত করবেন, কেননা সব কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান।
وَلَئِنْ أَرْسَلْنَا رِيحًۭا فَرَأَوْهُ مُصْفَرًّۭا لَّظَلُّوا۟ مِنۢ بَعْدِهِۦ يَكْفُرُونَ ٥١
ওয়ালাইন আরসালনা রীহান ফারাআওহু মুসফার্রাল লাযাল্লূ মিম বা‘দিহী ইয়াকফুরূন
আমি যদি এমন বায়ু প্রেরণ করি যার ফলে তারা দেখে শস্য হলদে হয়ে গেছে, তখন তারা অবশ্যই অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।
فَإِنَّكَ لَا تُسْمِعُ ٱلْمَوْتَىٰ وَلَا تُسْمِعُ ٱلصُّمَّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا وَلَّوْا۟ مُدْبِرِينَ ٥٢
ফাইন্নাকা লা তুসমি‘উল মাওতা ওয়ালা তুসমি‘উস সুম্মাদ দু‘আ-আ ইযা ওয়াল্লাও মুদবিরীন
তুমি তো মৃতকে শুনাতে পারবে না, বধিরকেও শুনাতে পারবে না আহবান, যখন তারা পেছন ফিরে চলে যায়।
وَمَآ أَنتَ بِهَٰدِ ٱلْعُمْىِ عَن ضَلَٰلَتِهِمْ ۖ إِن تُسْمِعُ إِلَّا مَن يُؤْمِنُ بِـَٔايَٰتِنَا فَهُم مُّسْلِمُونَ ٥٣
ওয়ামা- আনতা বিহা-দিল ‘উমইয়ি ‘আন দালা-লাতিহিম ইন তুসমি‘উ ইল্লা মান ইউ’মিনু বিআ-য়া-তিনা ফাহুম মুসলিমূন
তুমি অন্ধদেরকেও তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে পথে আনতে পারবে না। যারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে তুমি কেবল তাদেরকেই শুনাতে পারবে, কারণ তারা (আল্লাহর প্রতি) আত্মসমর্পণকারী।
۞ ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن ضَعْفٍۢ ثُمَّ جَعَلَ مِنۢ بَعْدِ ضَعْفٍۢ قُوَّةًۭ ثُمَّ جَعَلَ مِنۢ بَعْدِ قُوَّةٍۢ ضَعْفًۭا وَشَيْبَةًۭ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَآءُ ۖ وَهُوَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْقَدِيرُ ٥٤
আল্লা-হুল লাযী খালাকাকুম মিন দা‘ফিন ছুম্মা জা‘আলা মিম বা‘দি দা‘ফিন কুওয়াতান ছুম্মা জা‘আলা মিম বা‘দি কুওয়াতিন দা‘ফাঁ ওয়াশাইবাহ ইয়াখলুকু মা ইয়াশা-উ ওয়াহুওয়াল ‘আলীমুল কাদীর
তিনি আল্লাহ যিনি তোমাদেরকে (অসহায়) দুর্বল অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন, দুর্বলতার পর দিয়েছেন শক্তি, শক্তির পর আবার দিয়েছেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছে করেন সৃষ্টি করেন। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, সবচেয়ে শক্তিধর।
وَيَوْمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يُقْسِمُ ٱلْمُجْرِمُونَ مَا لَبِثُوا۟ غَيْرَ سَاعَةٍۢ ۚ كَذَٰلِكَ كَانُوا۟ يُؤْفَكُونَ ٥٥
ওয়ায়াওমা তাকূমুস সা-‘আতু ইউকসিমুল মুজরিমূনা মা লাবিছূ গাইরা সা-‘আহ কাযা-লিকা কা-নূ ইউ’ফাকূন
যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অন্যায়কারীরা কসম করে বলবে যে, তারা মূহূর্তকালের বেশি অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হত।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ وَٱلْإِيمَٰنَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِى كِتَٰبِ ٱللَّهِ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْبَعْثِ ۖ فَهَٰذَا يَوْمُ ٱلْبَعْثِ وَلَٰكِنَّكُمْ كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ٥٦
ওয়াকা-লাল লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা ওয়ালঈমা-না লাকাদ লাবিছতুম ফী কিতা-বিল্লা-হি ইলা ইয়াওমিল বা‘ছি ফাহা-যা ইয়াওমুল বা‘ছি ওয়ালা-কিন্নাকুম কুনতুম লা তা‘লামূন
আর যাদেরকে ঈমান ও জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলবে- তোমরা আল্লাহর কিতাব মতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ। এটাই হল পুনরুত্থান দিবস কিন্তু তোমরা জানতে না।
فَيَوْمَئِذٍۢ لَّا يَنفَعُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مَعْذِرَتُهُمْ وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُونَ ٥٧
ফায়াওমাইযিল লা ইয়ানফা‘উল লাযীনা যালামূ মা‘যিরাতুহুম ওয়ালা হুম ইউসতা‘তাবূন
অন্যায়কারীদের ওযর আপত্তি সেদিন কোন কাজে আসবে না এবং তাদেরকে সংশোধনেরও সুযোগ দেয়া হবে না।
وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِى هَٰذَا ٱلْقُرْءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٍۢ ۚ وَلَئِن جِئْتَهُم بِـَٔايَةٍۢ لَّيَقُولَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُبْطِلُونَ ٥٨
ওয়ালাকাদ দারাবনা লিন্না-সি ফী হা-যাল কুরআ-নি মিন কুল্লি মাছাল ওয়ালাইন জি’তাহুম বিআ-য়াতিল লায়াকূলান্নাল লাযীনা কাফারূ ইন আনতুম ইল্লা মুবতিলূন
আমি মানুষদের জন্য এ কুরআনে যাবতীয় দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি। তুমি যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন নিয়ে আস তাহলে কাফিররা অবশ্য অবশ্যই বলবে- তোমরা মিথ্যে বলা ছাড়া আর কিছুই করছ না।
كَذَٰلِكَ يَطْبَعُ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ٥٩
কাযা-লিকা ইয়াতবা‘উল্লা-হু ‘আলা কুলূবিল লাযীনা লা ইয়া‘লামূন
যাদের জ্ঞান নেই এভাবেই আল্লাহ তাদের হৃদয় মোহরাঙ্কিত করে দেন।
فَٱصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ ۖ وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ ٱلَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ ٦٠
ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুঁ ওয়ালা ইয়াসতাখিফ্ফান্নাকাল লাযীনা লা ইউকিনূন
কাজেই তুমি ধৈর্য ধর, আল্লাহর ও‘য়াদা সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে না, তারা যেন তোমাকে উত্তেজিত না করতে পারে।