মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
النمل

সূরা আন-নামল

পিঁপড়া · সূরা নং ২৭ · ৯৩ আয়াত · ৭ রুকু · মাক্কী · পারা ১৯
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
طسٓ ۚ تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْقُرْءَانِ وَكِتَابٍۢ مُّبِينٍ ١
ত্বা সী-ন তিলকা আ-য়া-তুল কুরআ-নি ওয়াকিতা-বিম মুবীন
তা-সীন, এগুলো কুরআনের আয়াত ও সুস্পষ্ট কিতাবের;
هُدًۭى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ ٢
হুদাঁ ওয়াবুশরা লিলমু’মিনীন
মু’মিনদের জন্য পথের দিশা ও সুসংবাদ
ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُم بِٱلْءَاخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ٣
আল্লাযীনা ইউকীমূনাস সালা-তা ওয়াইউ’তূনায যাকা-তা ওয়াহুম বিলআ-খিরাতি হুম ইউকিনূন
যারা নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে আর তারা আখিরাতে বিশ্বাসী।
إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِ زَيَّنَّا لَهُمْ أَعْمَٰلَهُمْ فَهُمْ يَعْمَهُونَ ٤
ইন্নাল লাযীনা লা ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি যাইয়্যান্না লাহুম আ‘মা-লাহুম ফাহুম ইয়া‘মাহূন
যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের (চোখে) তাদের কর্মকান্ডকে আমি সুশোভিত করেছি, কাজেই তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়,
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَهُمْ سُوٓءُ ٱلْعَذَابِ وَهُمْ فِى ٱلْءَاخِرَةِ هُمُ ٱلْأَخْسَرُونَ ٥
উলা-ইকাল লাযীনা লাহুম সূউল ‘আযা-বি ওয়াহুম ফিল আ-খিরাতি হুমুল আখসারূন
এরাই হল যাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি আর এরাই আখিরাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।
وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى ٱلْقُرْءَانَ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ ٦
ওয়াইন্নাকা লাতুলাক্কাল কুরআ-না মিল লাদুন হাকীমিন ‘আলীম
নিশ্চয় তোমাকে কুরআন দেয়া হয়েছে মহাবিজ্ঞ সর্বজ্ঞের নিকট হতে।
إِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِأَهْلِهِۦٓ إِنِّىٓ ءَانَسْتُ نَارًۭا سَـَٔاتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ ءَاتِيكُم بِشِهَابٍۢ قَبَسٍۢ لَّعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ ٧
ইয কা-লা মূসা লিআহলিহী ইন্নী আ-নাসতু না-রান সাআ-তীকুম মিনহা বিখাবারিন আও আ-তীকুম বিশিহা-বিন কাবাসিল লা‘আল্লাকুম তাসতালূন
স্মরণ কর যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল- ‘আমি আগুন দেখেছি, কাজেই আমি শীঘ্রই সেখান থেকে তোমাদের জন্য খবর নিয়ে আসব কিংবা তোমাদের কাছে জ্বলন্ত আগুন নিয়ে আসব যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।’
فَلَمَّا جَآءَهَا نُودِىَ أَنۢ بُورِكَ مَن فِى ٱلنَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَٰنَ ٱللَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٨
ফালাম্মা জা-আহা নূদিয়া আম বূরিকা মান ফিন না-রি ওয়ামান হাওলাহা ওয়াসুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন
অতঃপর সে যখন আগুনের কাছে আসল তখন আওয়াজ হল- ‘ধন্য, যারা আছে এই আলোর মধ্যে আর তার আশেপাশে, বিশ্বজাহানের প্রতিপালক পবিত্র, মহিমান্বিত।
يَٰمُوسَىٰٓ إِنَّهُۥٓ أَنَا ٱللَّهُ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٩
ইয়া-মূসা- ইন্নাহূ আনাল্লা-হুল ‘আযীযুল হাকীম
হে মূসা! আমি মহা পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময় আল্লাহ।
وَأَلْقِ عَصَاكَ ۚ فَلَمَّا رَءَاهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَآنٌّۭ وَلَّىٰ مُدْبِرًۭا وَلَمْ يُعَقِّبْ ۚ يَٰمُوسَىٰ لَا تَخَفْ إِنِّى لَا يَخَافُ لَدَىَّ ٱلْمُرْسَلُونَ ١٠
ওয়াআলকি ‘আসা-ক ফালাম্মা রাআ-হা তাহতায্যু কাআন্নাহা জা-ন্নুঁ ওয়াল্লা মুদবিরাঁ ওয়ালাম ইউ‘আক্কিব ইয়া-মূসা লা তাখাফ ইন্নী লা ইয়াখা-ফু লাদাইয়্যাল মুরসালূন
তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর; অতঃপর যখন সে ওটাকে ছুটাছুটি করতে দেখল যেন ওটা একটা সাপ, তখন সে পেছনের দিকে ছুটতে লাগল এবং ফিরেও দেখল না। (তখন বলা হল) হে মূসা! তুমি ভয় করো না, নিশ্চয়ই আমার কাছে রসূলগণ ভয় পায় না।
إِلَّا مَن ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًۢا بَعْدَ سُوٓءٍۢ فَإِنِّى غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ١١
ইল্লা মান যালামা ছুম্মা বাদ্দালা হুসনাম বা‘দা সূইন ফাইন্নী গাফূরুর রাহীম
তবে যে অত্যাচার করে অতঃপর মন্দ কাজের পরিবর্তে সৎ কাজ করে, তাহলে নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِى جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَآءَ مِنْ غَيْرِ سُوٓءٍۢ ۖ فِى تِسْعِ ءَايَٰتٍ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِۦٓ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَوْمًۭا فَٰسِقِينَ ١٢
ওয়াআদখিল ইয়াদাকা ফী জাইবিকা তাখরুজ বাইদা-আ মিন গাইরি সূইন ফী তিস‘ই আ-য়া-তিন ইলা ফির‘আওনা ওয়াকাওমিহ ইন্নাহুম কা-নূ কাওমান ফা-সিকীন
আর তুমি তোমার হাত বগলে ঢুকাও, তা শুভ্র হয়ে বের হয়ে আসবে দোষমুক্ত অবস্থায়, তা হল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের নিকট নিয়ে আসা নয়টি নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।
فَلَمَّا جَآءَتْهُمْ ءَايَٰتُنَا مُبْصِرَةًۭ قَالُوا۟ هَٰذَا سِحْرٌۭ مُّبِينٌۭ ١٣
ফালাম্মা জা-আতহুম আ-য়া-তুনা মুবসিরাতান কা-লূ হা-যা সিহরুম মুবীন
অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার দৃশ্যমান নিদর্শন আসল, তারা বলল- ‘এটা স্পষ্ট যাদু।
وَجَحَدُوا۟ بِهَا وَٱسْتَيْقَنَتْهَآ أَنفُسُهُمْ ظُلْمًۭا وَعُلُوًّۭا ۚ فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُفْسِدِينَ ١٤
ওয়াজাহাদূ বিহা ওয়াসতাইকানাতহা- আনফুসুহুম যুলমাঁ ওয়া‘উলুওয়া ফানযুর কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুফসিদীন
তারা অন্যায় ঔদ্ধত্যভরে নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করল যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখ, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল!
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا دَاوُۥدَ وَسُلَيْمَٰنَ عِلْمًۭا ۖ وَقَالَا ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٍۢ مِّنْ عِبَادِهِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ١٥
ওয়ালাকাদ আ-তাইনা দা-ঊদা ওয়াসুলাইমা-না ‘ইলমাঁ ওয়াকা-লাল হামদু লিল্লা-হিল লাযী ফাদ্দালানা ‘আলা কাছীরিম মিন ‘ইবা-দিহিল মু’মিনীন
আমি দাঊদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তারা উভয়ে বলেছিল, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর বহু মু’মিন বান্দাদের উপর আমাদেরকে মর্যাদা দান করেছেন।’
وَوَرِثَ سُلَيْمَٰنُ دَاوُۥدَ ۖ وَقَالَ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ ٱلطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَىْءٍ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْفَضْلُ ٱلْمُبِينُ ١٦
ওয়াওয়ারিছা সুলাইমা-নু দা-ঊদা ওয়াকা-লা ইয়া-আইয়্যুহান না-সু ‘উল্লিমনা মানতিকাত তাইরি ওয়াঊতীনা মিন কুল্লি শাইইন ইন্না হা-যা লাহুওয়াল ফাদলুল মুবীন
সুলাইমান দাঊদের উত্তরাধিকারী হয়েছিল। সে বলেছিল- ‘হে মানুষেরা! আমাকে পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে আর আমাদেরকে সব কিছু দেয়া হয়েছে, এটা (আল্লাহর পক্ষ হতে) অবশ্যই সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’
وَحُشِرَ لِسُلَيْمَٰنَ جُنُودُهُۥ مِنَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِ وَٱلطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ ١٧
ওয়াহুশিরা লিসুলাইমা-না জুনূদুহূ মিনাল জিন্নি ওয়ালইনসি ওয়াত্তাইরি ফাহুম ইউযা‘ঊন
সুলাইমানের সামনে তার সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল, জ্বিন, মানুষ ও পক্ষীকুলকে; অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন বুহ্যে বিন্যস্ত করা হল।
حَتَّىٰٓ إِذَآ أَتَوْا۟ عَلَىٰ وَادِ ٱلنَّمْلِ قَالَتْ نَمْلَةٌۭ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّمْلُ ٱدْخُلُوا۟ مَسَٰكِنَكُمْ لَا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَٰنُ وَجُنُودُهُۥ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ١٨
হাত্তা- ইযা- আতাও ‘আলা ওয়া-দিন নামলি কা-লাত নামলাতুঁ ইয়া-আইয়্যুহান নামলুদখুলূ মাসা-কিনাকুম লা ইয়াহতিমান্নাকুম সুলাইমা-নু ওয়াজুনূদুহূ ওয়াহুম লা ইয়াশ‘উরূন
যখন তারা পিপীলিকার উপত্যকায় আসল তখন একটি পিপীলিকা বলল- ‘ওহে পিঁপড়ার দল! তোমাদের বাসস্থানে ঢুকে পড়, যাতে সুলাইমান ও তার সৈন্যবাহিনী তাদের অগোচরে তোমাদেরকে পদপিষ্ট ক’রে না ফেলে।
فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًۭا مِّن قَوْلِهَا وَقَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ ٱلَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلَىٰ وَٰلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَٰلِحًۭا تَرْضَىٰهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١٩
ফাতাবাস্সামা দা-হিকাম মিন কাওলিহা ওয়াকা-লা রাব্বি আওযি‘নী আন আশকুরা নি‘মাতাকাল লাতী আন‘আমতা ‘আলাইয়্যা ওয়া‘আলা ওয়া-লিদাইয়্যা ওয়াআন আ‘মালা সা-লিহান তারদা-হু ওয়াআদখিলনী বিরাহমাতিকা ফী ‘ইবা-দিকাস সা-লিহীন
সুলাইমান তার কথায় খুশিতে মুচকি হাসল আর বলল- ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি ও আমার পিতামাতার প্রতি যে অনুগ্রহ দান করেছ তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আমাকে শক্তি দান কর আর যাতে এমন সৎকাজ করতে পারি যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও আর তোমার দয়ায় আমাকে তোমার সৎকর্মশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।’
وَتَفَقَّدَ ٱلطَّيْرَ فَقَالَ مَا لِىَ لَآ أَرَى ٱلْهُدْهُدَ أَمْ كَانَ مِنَ ٱلْغَآئِبِينَ ٢٠
ওয়াতাফাক্কাদাত তাইরা ফাকা-লা মা লিয়া লা- আরাল হুদহুদা আম কা-না মিনাল গা-ইবীন
অতঃপর সুলাইমান পাখীদের খোঁজ খবর নিল। সে বলল, কী ব্যাপার, হুদহুদকে তো দেখছি না, নাকি সে অনুপস্থিত?
لَأُعَذِّبَنَّهُۥ عَذَابًۭا شَدِيدًا أَوْ لَأَا۟ذْبَحَنَّهُۥٓ أَوْ لَيَأْتِيَنِّى بِسُلْطَٰنٍۢ مُّبِينٍۢ ٢١
লাউ‘আয্যিবান্নাহূ ‘আযা-বান শাদীদান আও লাআযবাহান্নাহূ আও লায়া’তিয়ান্নী বিসুলতা-নিম মুবীন
আমি তাকে অবশ্য অবশ্যই শাস্তি দেব কঠিন শাস্তি কিংবা তাকে অবশ্য অবশ্যই হত্যা করব অথবা সে অবশ্য অবশ্যই আমাকে তার (অনুপস্থিতির) উপযুক্ত কারণ দর্শাবে।’
فَمَكَثَ غَيْرَ بَعِيدٍۢ فَقَالَ أَحَطتُ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهِۦ وَجِئْتُكَ مِن سَبَإٍۭ بِنَبَإٍۢ يَقِينٍ ٢٢
ফামাকাছা গাইরা বা‘ঈদিন ফাকা-লা আহাততু বিমা লাম তুহিত বিহী ওয়াজি’তুকা মিন সাবাইম বিনাবাইঁ ইয়াকীন
অতঃপর হুদহুদ অবিলম্বে এসে বলল- ‘আমি যা অবগত হয়েছি আপনি তা অবগত নন, আমি সাবা থেকে নিশ্চিত খবর নিয়ে আপনার কাছে এসেছি।
إِنِّى وَجَدتُّ ٱمْرَأَةًۭ تَمْلِكُهُمْ وَأُوتِيَتْ مِن كُلِّ شَىْءٍۢ وَلَهَا عَرْشٌ عَظِيمٌۭ ٢٣
ইন্নী ওয়াজাত্তুমরাআতান তামলিকুহুম ওয়াঊতিয়াত মিন কুল্লি শাইইঁ ওয়ালাহা ‘আরশুন ‘আযীম
আমি দেখলাম এক নারী তাদের উপর রাজত্ব করছে আর তাকে সব কিছুই দেয়া হয়েছে আর তার আছে এক বিরাট সিংহাসন।
وَجَدتُّهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ ٱلشَّيْطَٰنُ أَعْمَٰلَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ ٱلسَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ ٢٤
ওয়াজাত্তুহা ওয়াকাওমাহা ইয়াসজুদূনা লিশ্শামসি মিন দূনিল্লা-হি ওয়াযাইয়্যানা লাহুমুশ শাইতা-নু আ‘মা-লাহুম ফাসাদ্দাহুম ‘আনিস সাবীলি ফাহুম লা ইয়াহতাদূন
এবং আমি তাকে আর তার সম্প্রদায়কে দেখলাম আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করতে। শয়ত্বান তাদের কাজকে তাদের জন্য শোভন করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে বাধা দিয়ে রেখেছে কাজেই তারা সৎপথ পায় না।
أَلَّا يَسْجُدُوا۟ لِلَّهِ ٱلَّذِى يُخْرِجُ ٱلْخَبْءَ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ ٢٥
আল্লা ইয়াসজুদূ লিল্লা-হিল লাযী ইউখরিজুল খাবআ ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ায়া‘লামু মা তুখফূনা ওয়ামা তু‘লিনূন
(শয়ত্বান বাধা দিয়ে রেখেছে) যাতে তারা আল্লাহকে সেজদা না করে যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর লুক্কায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন তোমরা যা গোপন কর আর তোমরা যা প্রকাশ কর।
২৭:২৬ সিজদা
ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْعَظِيمِ ۩ ٢٦
আল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া রাব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম
আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ্ নেই, (তিনি) মহান ‘আরশের অধিপতি।’[সাজদাহ]
۞ قَالَ سَنَنظُرُ أَصَدَقْتَ أَمْ كُنتَ مِنَ ٱلْكَٰذِبِينَ ٢٧
কা-লা সানানযুরু আসাদাকতা আম কুনতা মিনাল কা-যিবীন
সুলাইমান বলল- ‘এখন আমি দেখব, তুমি সত্য বলেছ, না তুমি মিথ্যেবাদী।
ٱذْهَب بِّكِتَٰبِى هَٰذَا فَأَلْقِهْ إِلَيْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَٱنظُرْ مَاذَا يَرْجِعُونَ ٢٨
ইযহাব বিকিতা-বী হা-যা ফাআলকিহ ইলাইহিম ছুম্মা তাওয়াল্লা ‘আনহুম ফানযুর মা-যা ইয়ারজি‘ঊন
আমার এই পত্র নিয়ে যাও আর এটা তাদের কাছে অর্পণ কর। অতঃপর তাদের কাছ থেকে সরে পড় তারপর দেখ, তারা কী জবাব দেয়।’
قَالَتْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَؤُا۟ إِنِّىٓ أُلْقِىَ إِلَىَّ كِتَٰبٌۭ كَرِيمٌ ٢٩
কা-লাত ইয়া-আইয়্যুহাল মালাউ ইন্নী উলকিয়া ইলাইয়্যা কিতা-বুন কারীম
সেই নারী বলল- ‘ওহে সভাসদগণ! এই যে আমাকে এক সম্মানযোগ্য পত্র দেয়া হয়েছে।
إِنَّهُۥ مِن سُلَيْمَٰنَ وَإِنَّهُۥ بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣٠
ইন্নাহূ মিন সুলাইমা-না ওয়াইন্নাহূ বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহীম
এটা সুলাইমানের পক্ষ হতে আর তা এই : অসীম দাতা, অতীব দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু,
أَلَّا تَعْلُوا۟ عَلَىَّ وَأْتُونِى مُسْلِمِينَ ٣١
আল্লা তা‘লূ ‘আলাইয়্যা ওয়া’তূনী মুসলিমীন
আমার প্রতি উদ্ধত হয়ো না, অনুগত হয়ে আমার কাছে হাজির হও।
قَالَتْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَؤُا۟ أَفْتُونِى فِىٓ أَمْرِى مَا كُنتُ قَاطِعَةً أَمْرًا حَتَّىٰ تَشْهَدُونِ ٣٢
কা-লাত ইয়া-আইয়্যুহাল মালাউ আফতূনী ফী আমরী মা কুনতু কা-তি‘আতান আমরান হাত্তা তাশহাদূন
সে বলল, ওহে সভাসদরা! তোমরা আমার কর্তব্য সম্পর্কে আমাকে সিদ্ধান্ত দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতীত আমি কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি।’
قَالُوا۟ نَحْنُ أُو۟لُوا۟ قُوَّةٍۢ وَأُو۟لُوا۟ بَأْسٍۢ شَدِيدٍۢ وَٱلْأَمْرُ إِلَيْكِ فَٱنظُرِى مَاذَا تَأْمُرِينَ ٣٣
কা-লূ নাহনু উলূ কুওয়াতিঁ ওয়াউলূ বা’সিন শাদীদিঁ ওয়ালআমরু ইলাইকি ফানযুরী মা-যা তা’মুরীন
তারা বলল- ‘আমরা শক্তির অধিকারী ও কঠোর যোদ্ধা, কিন্তু সিন্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী আপনিই, কাজেই চিন্তা করে দেখুন, আপনি কী আদেশ করবেন।’
قَالَتْ إِنَّ ٱلْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا۟ قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا وَجَعَلُوٓا۟ أَعِزَّةَ أَهْلِهَآ أَذِلَّةًۭ ۖ وَكَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ ٣٤
কা-লাত ইন্নাল মুলূকা ইযা দাখালূ কারইয়াতান আফসাদূহা ওয়াজা‘আলূ আ‘ইয্যাতা আহলিহা- আযিল্লাতাঁ ওয়াকাযা-লিকা ইয়াফ‘আলূন
সে বলল- ‘রাজারা যখন কোন জনপদে ঢুকে তখন বিপর্যয় ডেকে আনে এবং তথাকার সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে অপমানিত করে ছাড়ে আর এরাও তাই করবে।
وَإِنِّى مُرْسِلَةٌ إِلَيْهِم بِهَدِيَّةٍۢ فَنَاظِرَةٌۢ بِمَ يَرْجِعُ ٱلْمُرْسَلُونَ ٣٥
ওয়াইন্নী মুরসিলাতুন ইলাইহিম বিহাদিয়্যাতিন ফানা-যিরাতুম বিমা ইয়ারজি‘উল মুরসালূন
আমি তাঁর কাছে উপঢৌকন পাঠাচ্ছি, তারপর দেখি, দূতেরা কী (জবাব) নিয়ে আসে।’
فَلَمَّا جَآءَ سُلَيْمَٰنَ قَالَ أَتُمِدُّونَنِ بِمَالٍۢ فَمَآ ءَاتَىٰنِۦَ ٱللَّهُ خَيْرٌۭ مِّمَّآ ءَاتَىٰكُم بَلْ أَنتُم بِهَدِيَّتِكُمْ تَفْرَحُونَ ٣٦
ফালাম্মা জা-আ সুলাইমা-না কা-লা আতুমিদ্দূনানি বিমা-লিন ফামা- আ-তা-নিল্লা-হু খাইরুম মিম্মা- আ-তা-কুম বাল আনতুম বিহাদিয়্যাতিকুম তাফরাহূন
অতঃপর দূতরা যখন সুলাইমানের কাছে আসল, সুলাইমান বলল- ‘তোমরা কি আমাকে সম্পদ দিয়ে সাহায্য করছ, কিন্তু আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে উত্তম, বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে আনন্দ কর।
ٱرْجِعْ إِلَيْهِمْ فَلَنَأْتِيَنَّهُم بِجُنُودٍۢ لَّا قِبَلَ لَهُم بِهَا وَلَنُخْرِجَنَّهُم مِّنْهَآ أَذِلَّةًۭ وَهُمْ صَٰغِرُونَ ٣٧
ইরজি‘ ইলাইহিম ফালানা’তিয়ান্নাহুম বিজুনূদিল লা কিবালা লাহুম বিহা ওয়ালানুখরিজান্নাহুম মিনহা- আযিল্লাতাঁ ওয়াহুম সা-গিরূন
তাদের কাছে ফিরে যাও, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে এক সেনাবাহিনী নিয়ে আসব যার মুকাবালা করার শক্তি তাদের নেই, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে অপমানিত করে সেখানে থেকে বের করে দেব আর তারা হবে অপদস্থ।’
قَالَ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَؤُا۟ أَيُّكُمْ يَأْتِينِى بِعَرْشِهَا قَبْلَ أَن يَأْتُونِى مُسْلِمِينَ ٣٨
কা-লা ইয়া-আইয়্যুহাল মালাউ আইয়্যুকুম ইয়া’তীনী বি‘আরশিহা কাবলা আন ইয়া’তূনী মুসলিমীন
সুলাইমান বলল- ‘হে সভাসদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পণ করে আসার আগে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার নিকট নিয়ে আসবে?’
قَالَ عِفْرِيتٌۭ مِّنَ ٱلْجِنِّ أَنَا۠ ءَاتِيكَ بِهِۦ قَبْلَ أَن تَقُومَ مِن مَّقَامِكَ ۖ وَإِنِّى عَلَيْهِ لَقَوِىٌّ أَمِينٌۭ ٣٩
কা-লা ‘ইফরীতুম মিনাল জিন্নি আনা আ-তীকা বিহী কাবলা আন তাকূমা মিম মাকা-মিকা ওয়াইন্নী ‘আলাইহি লাকাউইয়্যুন আমীন
এক শক্তিধর জ্বিন বলল- ‘আপনি আপনার জায়গা থেকে উঠবার আগে আমি তা আপনার কাছে এনে দেব, এ কাজে আমি অবশ্যই ক্ষমতার অধিকারী ও আস্থাভাজন।
قَالَ ٱلَّذِى عِندَهُۥ عِلْمٌۭ مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ أَنَا۠ ءَاتِيكَ بِهِۦ قَبْلَ أَن يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ ۚ فَلَمَّا رَءَاهُ مُسْتَقِرًّا عِندَهُۥ قَالَ هَٰذَا مِن فَضْلِ رَبِّى لِيَبْلُوَنِىٓ ءَأَشْكُرُ أَمْ أَكْفُرُ ۖ وَمَن شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّى غَنِىٌّۭ كَرِيمٌۭ ٤٠
কা-লাল লাযী ‘ইনদাহূ ‘ইলমুম মিনাল কিতা-বি আনা আ-তীকা বিহী কাবলা আন ইয়ারতাদ্দা ইলাইকা তারফুক ফালাম্মা রাআ-হু মুসতাকির্রান ‘ইনদাহূ কা-লা হা-যা মিন ফাদলি রাব্বী লিয়াবলুওয়ানী আআশকুরু আম আকফুরু ওয়ামান শাকারা ফাইন্নামা ইয়াশকুরু লিনাফসিহী ওয়ামান কাফারা ফাইন্না রাব্বী গানিয়্যুন কারীম
যার কাছে কিতাবের (তাওরাতের) জ্ঞান ছিল সে বলল- ‘আপনার দৃষ্টি আপনার দিকে ফিরে আসার পূর্বেই আমি তা আপনার কাছে এনে দেব।’ সুলাইমান যখন তা তার সামনে রক্ষিত দেখতে পেল তখন সে বলল- ‘এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ, আমাকে পরীক্ষা করার জন্য- আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞ হই। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে নিজের কল্যাণেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর যে অকৃতজ্ঞ হয় (সে জেনে রাখুক), নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অভাবমুক্ত, মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ।’
قَالَ نَكِّرُوا۟ لَهَا عَرْشَهَا نَنظُرْ أَتَهْتَدِىٓ أَمْ تَكُونُ مِنَ ٱلَّذِينَ لَا يَهْتَدُونَ ٤١
কা-লা নাক্কিরূ লাহা ‘আরশাহা নানযুর আতাহতাদী আম তাকূনু মিনাল লাযীনা লা ইয়াহতাদূন
সুলাইমান বলল- ‘তার সিংহাসনের আকৃতি বদলে দাও, অতঃপর আমরা দেখি, সে (তার নিজের পৌঁছার পূর্বেই আলৌকিকভাবে তার সিংহাসন সুলায়মানের দরবারে রক্ষিত দেখে সত্য) পথের দিশা পায়, না যারা পথের দিশা পায় না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।
فَلَمَّا جَآءَتْ قِيلَ أَهَٰكَذَا عَرْشُكِ ۖ قَالَتْ كَأَنَّهُۥ هُوَ ۚ وَأُوتِينَا ٱلْعِلْمَ مِن قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ ٤٢
ফালাম্মা জা-আত কীলা আহা-কাযা ‘আরশুকি কা-লাত কাআন্নাহূ হুও ওয়াঊতীনাল ‘ইলমা মিন কাবলিহা ওয়াকুন্না মুসলিমীন
যখন সে নারী আসল তখন তাকে বলা হল- ‘এটা কি তোমার সিংহাসন?’ সে বলল, ‘এটা যেন সেটাই, আমাদেরকে এর আগেই (আপনার সম্পর্কে) জ্ঞান দান করা হয়েছে আর আমরা আত্মসমর্পণ করেছি।
وَصَدَّهَا مَا كَانَت تَّعْبُدُ مِن دُونِ ٱللَّهِ ۖ إِنَّهَا كَانَتْ مِن قَوْمٍۢ كَٰفِرِينَ ٤٣
ওয়াসাদ্দাহা মা কা-নাত তা‘বুদু মিন দূনিল্লা-হি ইন্নাহা কা-নাত মিন কাওমিন কা-ফিরীন
আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত তাই তাকে সত্য পথে চলা থেকে বাধা দিয়ে রেখেছিল, সে নারী ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
قِيلَ لَهَا ٱدْخُلِى ٱلصَّرْحَ ۖ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةًۭ وَكَشَفَتْ عَن سَاقَيْهَا ۚ قَالَ إِنَّهُۥ صَرْحٌۭ مُّمَرَّدٌۭ مِّن قَوَارِيرَ ۗ قَالَتْ رَبِّ إِنِّى ظَلَمْتُ نَفْسِى وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَٰنَ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ٤٤
কীলা লাহাদখুলিস সারহা ফালাম্মা রাআতহু হাসিবাতহু লুজ্জাতাঁ ওয়াকাশাফাত ‘আন সা-কাইহা কা-লা ইন্নাহূ সারহুম মুমার্রাদুম মিন কাওয়া-রীর কা-লাত রাব্বি ইন্নী যালামতু নাফসী ওয়াআসলামতু মা‘আ সুলাইমা-না লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন
তাকে বলা হল- ‘প্রাসাদে প্রবেশ কর।’ যখন সে তা দেখল, সে ওটাকে পানির হ্রদ মনে করল এবং সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। সুলাইমান বলল- ‘এটা তো স্বচ্ছ কাঁচমন্ডিত প্রাসাদ। সে নারী বলল- হে আমার প্রতিপালক! আমি অবশ্যই নিজের প্রতি যুলম করেছি আর আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করছি।’
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَآ إِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَٰلِحًا أَنِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ ٤٥
ওয়ালাকাদ আরসালনা- ইলা ছামূদা আখা-হুম সা-লিহান আনি‘বুদুল্লা-হা ফাইযা হুম ফারীকা-নি ইয়াখতাসিমূন
আমি সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম (এই আদেশ দিয়ে যে) তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর। অতঃপর তারা দু’ভাগ হয়ে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল।
قَالَ يَٰقَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِٱلسَّيِّئَةِ قَبْلَ ٱلْحَسَنَةِ ۖ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ٤٦
কা-লা ইয়া-কাওমি লিমা তাসতা‘জিলূনা বিস্সাইয়্যিআতি কাবলাল হাসানাতি লাওলা তাসতাগফিরূনাল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন
সালিহ্ বলল- ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কল্যাণের পূর্বে দ্রুত অকল্যাণ কামনা করছ কেন? তোমরা কেন আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর না যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও?’
قَالُوا۟ ٱطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ ۚ قَالَ طَٰٓئِرُكُمْ عِندَ ٱللَّهِ ۖ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌۭ تُفْتَنُونَ ٤٧
কা-লুত তাইয়্যারনা বিকা ওয়াবিমাম মা‘আক কা-লা তা-ইরুকুম ‘ইনদাল্লা-হি বাল আনতুম কাওমুন তুফতানূন
তারা বলল- আমরা তোমাকে আর তোমার সঙ্গে যারা আছে তাদেরকে অকল্যাণের কারণ ব’লে মনে করি।’ সে বলল- ‘তোমাদের অকল্যাণ আল্লাহর নিকট, বরং তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
وَكَانَ فِى ٱلْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍۢ يُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ ٤٨
ওয়াকা-না ফিল মাদীনাতি তিস‘আতু রাহতিঁ ইউফসিদূনা ফিল আরদি ওয়ালা ইউসলিহূন
আর সেই শহরে ছিল নয় ব্যক্তি যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করত আর তারা সংশোধন করত না।
قَالُوا۟ تَقَاسَمُوا۟ بِٱللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُۥ وَأَهْلَهُۥ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيِّهِۦ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ أَهْلِهِۦ وَإِنَّا لَصَٰدِقُونَ ٤٩
কা-লূ তাকা-সামূ বিল্লা-হি লানুবাইয়্যিতান্নাহূ ওয়াআহলাহূ ছুম্মা লানাকূলান্না লিওয়ালিয়্যিহী মা শাহিদনা মাহলিকা আহলিহী ওয়াইন্না লাসা-দিকূন
তারা বলল- ‘তোমরা আল্লাহর নামে শপথ কর যে, তোমরা রাত্রিযোগে তাকে আর তার পরিবারবর্গকে অবশ্য অবশ্যই আক্রমণ করবে, অতঃপর আমরা তার অভিভাবককে অবশ্য অবশ্যই বলব, আমরা তার পরিবারবর্গের হত্যাকান্ড প্রত্যক্ষ করিনি। আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’
وَمَكَرُوا۟ مَكْرًۭا وَمَكَرْنَا مَكْرًۭا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ٥٠
ওয়ামাকারূ মাকরাঁ ওয়ামাকারনা মাকরাঁ ওয়াহুম লা ইয়াশ‘উরূন
তারা এক চক্রান্ত করেছিল আর আমিও এক কৌশল অবলম্বন করেছিলাম, কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।
فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ مَكْرِهِمْ أَنَّا دَمَّرْنَٰهُمْ وَقَوْمَهُمْ أَجْمَعِينَ ٥١
ফানযুর কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতু মাকরিহিম আন-না দাম্মারনা-হুম ওয়াকাওমাহুম আজমা‘ঈন
অতঃপর দেখ তাদের চক্রান্তের পরিণতি কেমন হয়েছিল? আমিই তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে, সকলকে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
فَتِلْكَ بُيُوتُهُمْ خَاوِيَةًۢ بِمَا ظَلَمُوٓا۟ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يَعْلَمُونَ ٥٢
ফাতিলকা বুইউতুহুম খা-উইয়াতাম বিমা যালামূ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিঁ ইয়া‘লামূন
এই তো তাদের ঘরদোর সম্পূর্ণ উজাড়, কারণ তারা বাড়াবাড়ি করেছিল। এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে।
وَأَنجَيْنَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَكَانُوا۟ يَتَّقُونَ ٥٣
ওয়াআনজাইনাল লাযীনা আ-মানূ ওয়াকা-নূ ইয়াত্তাকূন
আর যারা ঈমান এনেছিল ও (আল্লাহকে) ভয় করত তাদেরকে রক্ষা করেছিলাম।
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦٓ أَتَأْتُونَ ٱلْفَٰحِشَةَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ ٥٤
ওয়ালূতান ইয কা-লা লিকাওমিহী আতা’তূনাল ফা-হিশাতা ওয়াআনতুম তুবসিরূন
স্মরণ কর লূতের কথা, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল- তোমরা দেখে-শুনে কেন অশ্লীল কাজ করছ,
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ ٱلرِّجَالَ شَهْوَةًۭ مِّن دُونِ ٱلنِّسَآءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌۭ تَجْهَلُونَ ٥٥
আইন্নাকুম লাতা’তূনার রিজা-লা শাহওয়াতাম মিন দূনিন নিসা-আ বাল আনতুম কাওমুন তাজহালূন
তোমরা কি কাম আসক্তি মিটানোর জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের নিকট গমন কর? তোমরা এমন এক জাতি যারা মূর্খের আচরণ করছ।
۞ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِۦٓ إِلَّآ أَن قَالُوٓا۟ أَخْرِجُوٓا۟ ءَالَ لُوطٍۢ مِّن قَرْيَتِكُمْ ۖ إِنَّهُمْ أُنَاسٌۭ يَتَطَهَّرُونَ ٥٦
ফামা কা-না জাওয়া-বা কাওমিহী ইল্লা- আন কা-লূ আখরিজূ আ-লা লূতিম মিন কারইয়াতিকুম ইন্নাহুম উনা-সুঁ ইয়াতাতাহ্হারূন
তখন তার সম্প্রদায়ের এ কথা বলা ছাড়া আর কোন জওয়াব ছিল না যে, তোমাদের জনপদ থেকে লূতের পরিবারবর্গকে বের করে দাও, এরা এমন লোক যারা পবিত্র সাজতে চায়।
فَأَنجَيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ إِلَّا ٱمْرَأَتَهُۥ قَدَّرْنَٰهَا مِنَ ٱلْغَٰبِرِينَ ٥٧
ফাআনজাইনা-হু ওয়াআহলাহূ ইল্লামরাআতাহূ কাদ্দারনা-হা মিনাল গা-বিরীন
অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম, তার স্ত্রী ব্যতীত। আমি তার ভাগ্য ধ্বংসপ্রাপ্তদের মধ্যে নির্ধারণ করেছিলাম।
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًۭا ۖ فَسَآءَ مَطَرُ ٱلْمُنذَرِينَ ٥٨
ওয়াআমতারনা ‘আলাইহিম মাতারান ফাসা-আ মাতারুল মুনযারীন
আর আমি তাদের উপর বর্ষিয়ে ছিলাম এক ভয়ংকর বৃষ্টি। ভীতি প্রদর্শিতদের উপর এ বৃষ্টি ছিল কতই না মন্দ!
قُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَٰمٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ ٱلَّذِينَ ٱصْطَفَىٰٓ ۗ ءَآللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ ٥٩
কুলিল হামদু লিল্লা-হি ওয়াসালা-মুন ‘আলা ‘ইবা-দিহিল লাযীনাসতাফা- আ-ল্লা-হু খাইরুন আম-মা ইউশরিকূন
বল, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই জন্য এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের প্রতি। আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, না তা যার শরীক করে তারা?
أَمَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَنۢبَتْنَا بِهِۦ حَدَآئِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍۢ مَّا كَانَ لَكُمْ أَن تُنۢبِتُوا۟ شَجَرَهَآ ۗ أَءِلَٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ بَلْ هُمْ قَوْمٌۭ يَعْدِلُونَ ٦٠
আম-মান খালাকাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ওয়াআনযালা লাকুম মিনাস সামা-ই মা-আন ফাআমবাতনা বিহী হাদা-ইকা যা-তা বাহজাতিম মা কা-না লাকুম আন তুমবিতূ শাজারাহা- আইলা-হুম মা‘আল্লা-হ বাল হুম কাওমুঁ ইয়া‘দিলূন
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমানসমূহ ও পৃথিবী এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম উদ্যানরাজি উদগত করি, তার বৃক্ষাদি উদগত করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ আছে কি? বরং তারা হচ্ছে এক ন্যায়-বিচ্যুত সম্প্রদায়।
أَمَّن جَعَلَ ٱلْأَرْضَ قَرَارًۭا وَجَعَلَ خِلَٰلَهَآ أَنْهَٰرًۭا وَجَعَلَ لَهَا رَوَٰسِىَ وَجَعَلَ بَيْنَ ٱلْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا ۗ أَءِلَٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ٦١
আম-মান জা‘আলাল আরদা কারা-রাঁ ওয়াজা‘আলা খিলা-লাহা- আনহা-রাঁ ওয়াজা‘আলা লাহা রাওয়া-সিয়া ওয়াজা‘আলা বাইনাল বাহরাইনি হা-জিযা আইলা-হুম মা‘আল্লা-হ বাল আকছারুহুম লা ইয়া‘লামূন
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করেছেন আর তার ফাঁকে ফাঁকে নদীনালা প্রবাহিত করেছেন, তাতে সুদৃঢ় পর্বত সংস্থাপিত করেছেন এবং দু’ দরিয়ার মাঝে পার্থক্যকারী আড়াল সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
أَمَّن يُجِيبُ ٱلْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ ٱلسُّوٓءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَآءَ ٱلْأَرْضِ ۗ أَءِلَٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ قَلِيلًۭا مَّا تَذَكَّرُونَ ٦٢
আম-মান ইউজীবুল মুদতার্রা ইযা দা‘আ-হু ওয়ায়াকশিফুস সূআ ওয়ায়াজ‘আলুকুম খুলাফা-আল আরদ আইলা-হুম মা‘আল্লা-হ কালীলাম মা তাযাক্কারূন
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং দুঃখ-কষ্ট দূর করেন আর তোমাদেরকে পৃথিবীর উত্তরাধিকারী করেন? আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? অতি সামান্য উপদেশই তোমরা গ্রহণ কর।
أَمَّن يَهْدِيكُمْ فِى ظُلُمَٰتِ ٱلْبَرِّ وَٱلْبَحْرِ وَمَن يُرْسِلُ ٱلرِّيَٰحَ بُشْرًۢا بَيْنَ يَدَىْ رَحْمَتِهِۦٓ ۗ أَءِلَٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ تَعَٰلَى ٱللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ ٦٣
আম-মান ইয়াহদীকুম ফী যুলুমা-তিল বার্রি ওয়ালবাহরি ওয়ামান ইউরসিলুর রিয়া-হা বুশরাম বাইনা ইয়াদাই রাহমাতিহ আইলা-হুম মা‘আল্লা-হ তা‘আ-লাল্লা-হু ‘আম্মা ইউশরিকূন
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি জল স্থলের গভীর অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর (বৃষ্টিরূপী) অনুগ্রহের পূর্বক্ষণে শুভবার্তাবাহী বাতাস প্রেরণ করেন? আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? তারা যাকে (আল্লাহর) শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
أَمَّن يَبْدَؤُا۟ ٱلْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَمَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۗ أَءِلَٰهٌۭ مَّعَ ٱللَّهِ ۚ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَٰنَكُمْ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ٦٤
আম-মান ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূ ওয়ামান ইয়ারযুকুকুম মিনাস সামা-ই ওয়ালআরদ আইলা-হুম মা‘আল্লা-হ কুল হা-তূ বুরহা-নাকুম ইন কুনতুম সা-দিকীন
নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযক দান করেন? আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ্ আছে কি? বল, তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের প্রমাণপঞ্জি পেশ কর।
قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ٱلْغَيْبَ إِلَّا ٱللَّهُ ۚ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ ٦٥
কুল লা ইয়া‘লামু মান ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদিল গাইবা ইল্লাল্লা-হ ওয়ামা ইয়াশ‘উরূনা আইয়্যা-না ইউব‘আছূন
বল, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না আল্লাহ ছাড়া, আর তারা জানে না কখন তাদেরকে জীবিত ক’রে উঠানো হবে।
بَلِ ٱدَّٰرَكَ عِلْمُهُمْ فِى ٱلْءَاخِرَةِ ۚ بَلْ هُمْ فِى شَكٍّۢ مِّنْهَا ۖ بَلْ هُم مِّنْهَا عَمُونَ ٦٦
বালিদ দা-রাকা ‘ইলমুহুম ফিল আ-খিরাহ বাল হুম ফী শাক্কিম মিনহা বাল হুম মিনহা ‘আমূন
বরং আখিরাত সম্পর্কিত তাদের জ্ঞানের সীমা শেষ, বরং এ ব্যাপারে তারা সন্দেহে আচ্ছন্ন বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَءِذَا كُنَّا تُرَٰبًۭا وَءَابَآؤُنَآ أَئِنَّا لَمُخْرَجُونَ ٦٧
ওয়াকা-লাল লাযীনা কাফারূ আইযা কুন্না তুরা-বাঁ ওয়াআ-বা-উনা- আইন্না লামুখরাজূন
অবিশ্বাসীরা বলে- আমরা আর আমাদের পিতৃপুরুষরা যখন মাটি হয়ে যাব তারপরও কি আমাদেরকে নিশ্চিতই বের করে উঠানো হবে?
لَقَدْ وُعِدْنَا هَٰذَا نَحْنُ وَءَابَآؤُنَا مِن قَبْلُ إِنْ هَٰذَآ إِلَّآ أَسَٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ ٦٨
লাকাদ উ‘ইদনা হা-যা নাহনু ওয়াআ-বা-উনা মিন কাবলু ইন হা-যা- ইল্লা- আসা-তীরুল আওয়ালীন
এ ওয়া‘দা আমাদেরকে দেয়া হয়েছে, আমাদেরকে এবং পূর্বে আমাদের পিতৃপুরুষদেরকেও; এ সব পূর্বকালের কাহিনী ছাড়া কিছুই নয়।
قُلْ سِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُجْرِمِينَ ٦٩
কুল সীরূ ফিল আরদি ফানযুরূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুজরিমীন
বল, পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।
وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُن فِى ضَيْقٍۢ مِّمَّا يَمْكُرُونَ ٧٠
ওয়ালা তাহযান ‘আলাইহিম ওয়ালা তাকুন ফী দাইকিম মিম্মা ইয়ামকুরূন
তাদের জন্য দুঃখ কর না, আর তাদের চক্রান্তের কারণে মনে কষ্ট নিও না।
وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ ٧١
ওয়ায়াকূলূনা মাতা হা-যাল ওয়া‘দু ইন কুনতুম সা-দিকীন
তারা বলে- ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে, এ ‘ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে?
قُلْ عَسَىٰٓ أَن يَكُونَ رَدِفَ لَكُم بَعْضُ ٱلَّذِى تَسْتَعْجِلُونَ ٧٢
কুল ‘আসা- আন ইয়াকূনা রাদিফা লাকুম বা‘দুল লাযী তাসতা‘জিলূন
বল, তোমরা যা পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করছ সম্ভবতঃ তার কিছু তোমাদের পিঠের পেছনে এসে গেছে।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ ٧٣
ওয়াইন্না রাব্বাকা লাযূ ফাদলিন ‘আলান না-সি ওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লা ইয়াশকুরূন
তোমার প্রতিপালক নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ ٧٤
ওয়াইন্না রাব্বাকা লায়া‘লামু মা তুকিন্নু সুদূরুহুম ওয়ামা ইউ‘লিনূন
তোমার প্রতিপালক অবশ্যই জানেন তাদের অন্তর যা গোপন করে আর যা প্রকাশ করে।
وَمَا مِنْ غَآئِبَةٍۢ فِى ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ إِلَّا فِى كِتَٰبٍۢ مُّبِينٍ ٧٥
ওয়ামা মিন গা-ইবাতিন ফিস সামা-ই ওয়ালআরদি ইল্লা ফী কিতা-বিম মুবীন
আকাশে আর যমীনে এমন কোন অদৃশ্য বিষয় নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।
إِنَّ هَٰذَا ٱلْقُرْءَانَ يَقُصُّ عَلَىٰ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ أَكْثَرَ ٱلَّذِى هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ٧٦
ইন্না হা-যাল কুরআ-না ইয়াকুস্সু ‘আলা বানী ইসরা-ঈলা আকছারাল লাযী হুম ফীহি ইয়াখতালিফূন
নিশ্চয় এ কুরআন সেগুলোর অধিকাংশ বিবৃত করে যে বিষয়ে বানী ইসরাঈল মতভেদ করেছিল।
وَإِنَّهُۥ لَهُدًۭى وَرَحْمَةٌۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ ٧٧
ওয়াইন্নাহূ লাহুদাঁ ওয়ারাহমাতুল লিলমু’মিনীন
আর তা নিশ্চিতই মু’মিনদের জন্য সঠিক পথের দিশারী ও রহমত।
إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِى بَيْنَهُم بِحُكْمِهِۦ ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْعَلِيمُ ٧٨
ইন্না রাব্বাকা ইয়াকদী বাইনাহুম বিহুকমিহ ওয়াহুওয়াল ‘আযীযুল ‘আলীম
তোমার প্রতিপালক তাঁর বিধান অনুযায়ী তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন আর তিনি প্রবল পরাক্রান্ত, সর্বজ্ঞানের অধিকারী।
فَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ ۖ إِنَّكَ عَلَى ٱلْحَقِّ ٱلْمُبِينِ ٧٩
ফাতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হি ইন্নাকা ‘আলাল হাক্কিল মুবীন
কাজেই তুমি আল্লাহর উপর নির্ভর কর, তুমি তো সুস্পষ্ট সত্যের উপর আছ।
إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ ٱلْمَوْتَىٰ وَلَا تُسْمِعُ ٱلصُّمَّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا وَلَّوْا۟ مُدْبِرِينَ ٨٠
ইন্নাকা লা তুসমি‘উল মাওতা ওয়ালা তুসমি‘উস সুম্মাদ দু‘আ-আ ইযা ওয়াল্লাও মুদবিরীন
তুমি মৃতদেরকে শুনাতে পারবে না, আর বধিরকেও আহবান শুনাতে পারবে না (বিশেষতঃ) যখন তারা পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়।
وَمَآ أَنتَ بِهَٰدِى ٱلْعُمْىِ عَن ضَلَٰلَتِهِمْ ۖ إِن تُسْمِعُ إِلَّا مَن يُؤْمِنُ بِـَٔايَٰتِنَا فَهُم مُّسْلِمُونَ ٨١
ওয়ামা- আনতা বিহা-দিল ‘উমইয়ি ‘আন দালা-লাতিহিম ইন তুসমি‘উ ইল্লা মান ইউ’মিনু বিআ-য়া-তিনা ফাহুম মুসলিমূন
আর তুমি অন্ধকেও তাদের গুমরাহী থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য সৎপথ দেখাতে পারবে না। তুমি কেবল তাদেরকেই শুনাতে পারবে যারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে, কাজেই তারা আত্মসমর্পণ করে।
۞ وَإِذَا وَقَعَ ٱلْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَآبَّةًۭ مِّنَ ٱلْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ ٱلنَّاسَ كَانُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا لَا يُوقِنُونَ ٨٢
ওয়াইযা ওয়াকা‘আল কাওলু ‘আলাইহিম আখরাজনা লাহুম দা-ব্বাতাম মিনাল আরদি তুকাল্লিমুহুম আন-নান না-সা কা-নূ বিআ-য়া-তিনা লা ইউকিনূন
তাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি যখন বাস্তবে পরিণত হবে, আমি তখন (কিয়ামাত আগমণের নির্দশন হিসেবে) ভূমি থেকে তাদের জন্য একটি জন্তু বের করব যা তাদের সঙ্গে এ কথা বলবে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।
وَيَوْمَ نَحْشُرُ مِن كُلِّ أُمَّةٍۢ فَوْجًۭا مِّمَّن يُكَذِّبُ بِـَٔايَٰتِنَا فَهُمْ يُوزَعُونَ ٨٣
ওয়ায়াওমা নাহশুরু মিন কুল্লি উম্মাতিন ফাওজাম মিম্মান ইউকায্যিবু বিআ-য়া-তিনা ফাহুম ইউযা‘ঊন
যেদিন আমি প্রত্যেকটি সম্প্রদায় হতে একটি দলকে সমবেত করব যারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছিল, অতঃপর তাদেরকে সারিবদ্ধ করা হবে।
حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُو قَالَ أَكَذَّبْتُم بِـَٔايَٰتِى وَلَمْ تُحِيطُوا۟ بِهَا عِلْمًا أَمَّاذَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٨٤
হাত্তা- ইযা জা-ঊ কা-লা আকায্যাবতুম বিআ-য়া-তী ওয়ালাম তুহীতূ বিহা ‘ইলমান আম-মা-যা কুনতুম তা‘মালূন
যখন তারা এসে যাবে তখন আল্লাহ বলবেন- তোমরা কি আমার নিদর্শনকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলে যদিও তা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি; নাকি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?
وَوَقَعَ ٱلْقَوْلُ عَلَيْهِم بِمَا ظَلَمُوا۟ فَهُمْ لَا يَنطِقُونَ ٨٥
ওয়াওয়াকা‘আল কাওলু ‘আলাইহিম বিমা যালামূ ফাহুম লা ইয়ানতিকূন
তাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে ঘটে যাবে তাদের অন্যায় কার্যকলাপের কারণে আর তারা (তাদের পক্ষে) কোন কথা বলতে পারবে না।
أَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّا جَعَلْنَا ٱلَّيْلَ لِيَسْكُنُوا۟ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبْصِرًا ۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّقَوْمٍۢ يُؤْمِنُونَ ٨٦
আলাম ইয়ারাও আন-না জা‘আলনাল লাইলা লিয়াসকুনূ ফীহি ওয়ান্নাহা-রা মুবসিরা ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিঁ ইউ’মিনূন
তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি রাত বানিয়েছি যাতে তারা তাতে আরাম করতে পারে আর দিনকে করেছি আলো দানকারী? বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে।
وَيَوْمَ يُنفَخُ فِى ٱلصُّورِ فَفَزِعَ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَن فِى ٱلْأَرْضِ إِلَّا مَن شَآءَ ٱللَّهُ ۚ وَكُلٌّ أَتَوْهُ دَٰخِرِينَ ٨٧
ওয়ায়াওমা ইউনফাখু ফিস সূরি ফাফাযি‘আ মান ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামান ফিল আরদি ইল্লা মান শা-আল্লা-হ ওয়াকুল্লুন আতাওহু দা-খিরীন
আর যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সেদিন যারা আকাশে আছে আর যারা যমীনে আছে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের জন্য ইচ্ছে করবেন তারা বাদে। সবাই তাঁর কাছে আসবে বিনয়ে অবনত হয়ে।
وَتَرَى ٱلْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةًۭ وَهِىَ تَمُرُّ مَرَّ ٱلسَّحَابِ ۚ صُنْعَ ٱللَّهِ ٱلَّذِىٓ أَتْقَنَ كُلَّ شَىْءٍ ۚ إِنَّهُۥ خَبِيرٌۢ بِمَا تَفْعَلُونَ ٨٨
ওয়াতারাল জিবা-লা তাহসাবুহা জা-মিদাতাঁ ওয়াহিয়া তামুর্রু মার্রাস সাহা-ব সুন‘আল্লা-হিল লাযী আতকানা কুল্লা শাই’ ইন্নাহূ খাবীরুম বিমা তাফ‘আলূন
তুমি পর্বতগুলোকে দেখ আর মনে কর তা অচল, কিন্তু সেগুলো চলমান হবে যেমন মেঘমালা চলে। এটা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সব কিছুকে করেছেন যথাযথ। তোমরা যা কিছু কর সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণরূপে অবগত।
مَن جَآءَ بِٱلْحَسَنَةِ فَلَهُۥ خَيْرٌۭ مِّنْهَا وَهُم مِّن فَزَعٍۢ يَوْمَئِذٍ ءَامِنُونَ ٨٩
মান জা-আ বিলহাসানাতি ফালাহূ খাইরুম মিনহা ওয়াহুম মিন ফাযা‘ইঁ ইয়াওমাইযিন আ-মিনূন
যারা সৎকাজ নিয়ে উপস্থিত হবে, তাদের জন্য আছে উৎকৃষ্টতর প্রতিদান, সেদিন তারা ভীতি শঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকবে।
وَمَن جَآءَ بِٱلسَّيِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوهُهُمْ فِى ٱلنَّارِ هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٩٠
ওয়ামান জা-আ বিস্সাইয়্যিআতি ফাকুব্বাত উজূহুহুম ফিন না-রি হাল তুজযাওনা ইল্লা মা কুনতুম তা‘মালূন
যারা অসৎকর্ম নিয়ে হাজির হবে, তাদেরকে মুখের ভরে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, (আর তাদেরকে বলা হবে) তোমরা যা করতে কেবল তারই প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।
إِنَّمَآ أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَٰذِهِ ٱلْبَلْدَةِ ٱلَّذِى حَرَّمَهَا وَلَهُۥ كُلُّ شَىْءٍۢ ۖ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ ٩١
ইন্নামা- উমিরতু আন আ‘বুদা রাব্বা হা-যিহিল বালদাতিল লাযী হার্রামাহা ওয়ালাহূ কুল্লু শাইইঁ ওয়াউমিরতু আন আকূনা মিনাল মুসলিমীন
আমি নির্দেশিত হয়েছি এই (মক্কা) নগরীর প্রতিপালকের ‘ইবাদাত করার জন্য যিনি তাকে (অর্থাৎ এই নগরীকে) সম্মানিত করেছেন। সকল বস্তু তাঁরই, আর আমি আদিষ্ট হয়েছি আমি যেন (আল্লাহর নিকট) আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হই।
وَأَنْ أَتْلُوَا۟ ٱلْقُرْءَانَ ۖ فَمَنِ ٱهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِى لِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَ ٩٢
ওয়াআন আতলুওয়াল কুরআ-না ফামানিহতাদা ফাইন্নামা ইয়াহতাদী লিনাফসিহী ওয়ামান দাল্লা ফাকুল ইন্নামা- আনা মিনাল মুনযিরীন
আর আমি যেন কুরআন তিলাওয়াত করি। অতঃপর যে সঠিক পথে চলবে, সে নিজের কল্যাণেই সঠিক পথে চলবে। আর কেউ গুমরাহ্ হলে তুমি বল, আমি তো সতর্ককারীদের একজন।
وَقُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ ءَايَٰتِهِۦ فَتَعْرِفُونَهَا ۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ٩٣
ওয়াকুলিল হামদু লিল্লা-হি সাইউরীকুম আ-য়া-তিহী ফাতা‘রিফূনাহা ওয়ামা রাব্বুকা বিগা-ফিলিন ‘আম্মা তা‘মালূন
আর বল, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই। তিনি শীঘ্রই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনগুলো দেখাবেন আর তা তোমরা চিনতে পারবে। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে তোমার পালনকর্তা অমনোযোগী নন।