মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
المؤمنون

সূরা আল-মুমিনূন

মুমিনগণ · সূরা নং ২৩ · ১১৮ আয়াত · ৬ রুকু · মাক্কী · পারা ১৮
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
قَدْ أَفْلَحَ ٱلْمُؤْمِنُونَ ١
কাদ আফলাহাল মু’মিনূন
মু’মিনরা সফলকাম হয়ে গেছে।
ٱلَّذِينَ هُمْ فِى صَلَاتِهِمْ خَٰشِعُونَ ٢
আল্লাযীনা হুম ফী সালা-তিহিম খা-শি‘ঊন
যারা নিজেদের নামাযে বিনয় নম্রতা অবলম্বন করে।
وَٱلَّذِينَ هُمْ عَنِ ٱللَّغْوِ مُعْرِضُونَ ٣
ওয়াল্লাযীনা হুম ‘আনিল লাগউই মু‘রিদূন
যারা অসার কথাবার্তা এড়িয়ে চলে।
وَٱلَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَوٰةِ فَٰعِلُونَ ٤
ওয়াল্লাযীনা হুম লিয্যাকা-তি ফা-‘ইলূন
যারা যাকাত দানে সক্রিয়।
وَٱلَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَٰفِظُونَ ٥
ওয়াল্লাযীনা হুম লিফুরূজিহিম হা-ফিযূন
যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংরক্ষণ করে।
إِلَّا عَلَىٰٓ أَزْوَٰجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ ٦
ইল্লা ‘আলা- আযওয়া-জিহিম আও মা মালাকাত আইমা-নুহুম ফাইন্নাহুম গাইরু মালূমীন
নিজেদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত, কারণ এ ক্ষেত্রে তারা নিন্দা থেকে মুক্ত।
فَمَنِ ٱبْتَغَىٰ وَرَآءَ ذَٰلِكَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْعَادُونَ ٧
ফামানিবতাগা ওয়ারা-আ যা-লিকা ফাউলা-ইকা হুমুল ‘আ-দূন
এদের অতিরিক্ত যারা কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।
وَٱلَّذِينَ هُمْ لِأَمَٰنَٰتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَٰعُونَ ٨
ওয়াল্লাযীনা হুম লিআমা-না-তিহিম ওয়া‘আহদিহিম রা-‘ঊন
আর যারা নিজেদের আমানাত ও ওয়াদা পূর্ণ করে।
وَٱلَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَوَٰتِهِمْ يُحَافِظُونَ ٩
ওয়াল্লাযীনা হুম ‘আলা সালাওয়া-তিহিম ইউহা-ফিযূন
আর যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে যত্নবান।
أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْوَٰرِثُونَ ١٠
উলা-ইকা হুমুল ওয়া-রিছূন
তারাই হল উত্তরাধিকারী।
ٱلَّذِينَ يَرِثُونَ ٱلْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ ١١
আল্লাযীনা ইয়ারিছূনাল ফিরদাওসা হুম ফীহা খা-লিদূন
তারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকার লাভ করবে, যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে।
وَلَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ مِن سُلَٰلَةٍۢ مِّن طِينٍۢ ١٢
ওয়ালাকাদ খালাকনাল ইনসা-না মিন সুলা-লাতিম মিন তীন
আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।
ثُمَّ جَعَلْنَٰهُ نُطْفَةًۭ فِى قَرَارٍۢ مَّكِينٍۢ ١٣
ছুম্মা জা‘আলনা-হু নুতফাতান ফী কারা-রিম মাকীন
অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।
ثُمَّ خَلَقْنَا ٱلنُّطْفَةَ عَلَقَةًۭ فَخَلَقْنَا ٱلْعَلَقَةَ مُضْغَةًۭ فَخَلَقْنَا ٱلْمُضْغَةَ عِظَٰمًۭا فَكَسَوْنَا ٱلْعِظَٰمَ لَحْمًۭا ثُمَّ أَنشَأْنَٰهُ خَلْقًا ءَاخَرَ ۚ فَتَبَارَكَ ٱللَّهُ أَحْسَنُ ٱلْخَٰلِقِينَ ١٤
ছুম্মা খালাকনান নুতফাতা ‘আলাকাতান ফাখালাকনাল ‘আলাকাতা মুদগাতান ফাখালাকনাল মুদগাতা ‘ইযা-মান ফাকাসাওনাল ‘ইযা-মা লাহমান ছুম্মা আনশা’না-হু খালকান আ-খার ফাতাবা-রাকাল্লা-হু আহসানুল খা-লিকীন
পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি জমাট বাঁধা রক্তে, অতঃপর মাংসপিন্ডকে পরিণত করি হাড্ডিতে, অতঃপর হাড্ডিকে আবৃত করি মাংস দিয়ে, অতঃপর তাকে এক নতুন সৃষ্টিতে উন্নীত করি। কাজেই সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না মহান!
ثُمَّ إِنَّكُم بَعْدَ ذَٰلِكَ لَمَيِّتُونَ ١٥
ছুম্মা ইন্নাকুম বা‘দা যা-লিকা লামাইয়্যিতূন
এরপর তোমরা অবশ্যই মরবে।
ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ تُبْعَثُونَ ١٦
ছুম্মা ইন্নাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি তুব‘আছূন
তারপর কিয়ামাতের দিন তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।
وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَآئِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ ٱلْخَلْقِ غَٰفِلِينَ ١٧
ওয়ালাকাদ খালাকনা ফাওকাকুম সাব‘আ তারা-ইকা ওয়ামা কুন্না ‘আনিল খালকি গা-ফিলীন
আমি তোমাদের উপরে সপ্ত স্তর সৃষ্টি করেছি, আমি (আমার) সৃষ্টির ব্যাপারে অমনোযোগী নই।
وَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍۢ فَأَسْكَنَّٰهُ فِى ٱلْأَرْضِ ۖ وَإِنَّا عَلَىٰ ذَهَابٍۭ بِهِۦ لَقَٰدِرُونَ ١٨
ওয়াআনযালনা মিনাস সামা-ই মা-আম বিকাদারিন ফাআসকান্না-হু ফিল আরদি ওয়াইন্না ‘আলা যাহা-বিম বিহী লাকা-দিরূন
আমি আকাশ থেকে পরিমিত বৃষ্টি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি তা যমীনে সংরক্ষণ করি আর আমি পানিকে সরিয়ে দিতে অবশ্যই সক্ষম।
فَأَنشَأْنَا لَكُم بِهِۦ جَنَّٰتٍۢ مِّن نَّخِيلٍۢ وَأَعْنَٰبٍۢ لَّكُمْ فِيهَا فَوَٰكِهُ كَثِيرَةٌۭ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ ١٩
ফাআনশা’না লাকুম বিহী জান্না-তিম মিন নাখীলিঁ ওয়াআ‘না-বিল লাকুম ফীহা ফাওয়া-কিহু কাছীরাতুঁ ওয়ামিনহা তা’কুলূন
অতঃপর আমি তা দিয়ে তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করি, ওতে তোমাদের জন্য আছে পর্যাপ্ত ফল, যাথেকে তোমরা খাও (আর সুখভোগ কর)।
وَشَجَرَةًۭ تَخْرُجُ مِن طُورِ سَيْنَآءَ تَنۢبُتُ بِٱلدُّهْنِ وَصِبْغٍۢ لِّلْءَاكِلِينَ ٢٠
ওয়াশাজারাতান তাখরুজু মিন তূরি সাইনা-আ তামবুতু বিদ্দুহনি ওয়াসিবগিল লিলআ-কিলীন
আর (আমি সৃষ্টি করি) এক বৃক্ষ যা সিনাই পর্বতে জন্মে, যাথেকে তেল উৎপন্ন হয়, আর ভক্ষণকারীদের জন্য রসনা তৃপ্তিকর।
وَإِنَّ لَكُمْ فِى ٱلْأَنْعَٰمِ لَعِبْرَةًۭ ۖ نُّسْقِيكُم مِّمَّا فِى بُطُونِهَا وَلَكُمْ فِيهَا مَنَٰفِعُ كَثِيرَةٌۭ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ ٢١
ওয়াইন্না লাকুম ফিল আন‘আ-মি লা‘ইবরাতান নুসকীকুম মিম্মা ফী বুতূনিহা ওয়ালাকুম ফীহা মানা-ফি‘উ কাছীরাতুঁ ওয়ামিনহা তা’কুলূন
আর গবাদি পশুর ভিতরে তোমাদের জন্য আছে অবশ্যই শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত। তাদের পেটে যা আছে তাত্থেকে আমি তোমাদেরকে পান করাই (দুধ) আর ওতে তোমাদের জন্য আছে বহুবিধ উপকার। তোমরা তাথেকে খাও (গোশত)।
وَعَلَيْهَا وَعَلَى ٱلْفُلْكِ تُحْمَلُونَ ٢٢
ওয়া‘আলাইহা ওয়া‘আলাল ফুলকি তুহমালূন
আর ওতে আর নৌযানে তোমরা আরোহণ কর।
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِۦ فَقَالَ يَٰقَوْمِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُۥٓ ۖ أَفَلَا تَتَّقُونَ ٢٣
ওয়ালাকাদ আরসালনা নূহান ইলা কাওমিহী ফাকা-লা ইয়া-কাওমি‘বুদুল্লা-হা মা লাকুম মিন ইলা-হিন গাইরুহূ আফালা তাত্তাকূন
আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল : ‘হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি (তাঁকে) ভয় করবে না?’
فَقَالَ ٱلْمَلَؤُا۟ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن قَوْمِهِۦ مَا هَٰذَآ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُكُمْ يُرِيدُ أَن يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَأَنزَلَ مَلَٰٓئِكَةًۭ مَّا سَمِعْنَا بِهَٰذَا فِىٓ ءَابَآئِنَا ٱلْأَوَّلِينَ ٢٤
ফাকা-লাল মালাউল লাযীনা কাফারূ মিন কাওমিহী মা হা-যা- ইল্লা বাশারুম মিছলুকুম ইউরীদু আন ইয়াতাফাদ্দালা ‘আলাইকুম ওয়ালাও শা-আল্লা-হু লাআনযালা মালা-ইকাতাম মা সামি‘না বিহা-যা ফী আ-বা-ইনাল আওয়ালীন
তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ যারা কুফুরী করেছিল- বলেছিল : ‘এতো তোমাদের মত মানুষ ছাড়া কিছুই না, সে তোমাদের উপর প্রাধান্য লাভ করতে চায়, আল্লাহ (কাউকে নবীরূপে পাঠানোর) ইচ্ছে করলে তো তিনি ফেরেশতা পাঠাতেন, আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের সময়ে এ সব কথা তো শুনিনি।’
إِنْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌۢ بِهِۦ جِنَّةٌۭ فَتَرَبَّصُوا۟ بِهِۦ حَتَّىٰ حِينٍۢ ٢٥
ইন হুওয়া ইল্লা রাজুলুম বিহী জিন্নাতুন ফাতারাব্বাসূ বিহী হাত্তা হীন
এতো এমন লোক যাকে পাগলামিতে পেয়েছে, কাজেই তার ব্যাপারে তোমরা কিছু কাল অপেক্ষা কর।
قَالَ رَبِّ ٱنصُرْنِى بِمَا كَذَّبُونِ ٢٦
কা-লা রাব্বিনসুরনী বিমা কায্যাবূন
নূহ বলল : ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সাহায্য কর, কারণ তারা আমাকে মিথ্যেবাদী বলছে।’
فَأَوْحَيْنَآ إِلَيْهِ أَنِ ٱصْنَعِ ٱلْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا فَإِذَا جَآءَ أَمْرُنَا وَفَارَ ٱلتَّنُّورُ ۙ فَٱسْلُكْ فِيهَا مِن كُلٍّۢ زَوْجَيْنِ ٱثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَن سَبَقَ عَلَيْهِ ٱلْقَوْلُ مِنْهُمْ ۖ وَلَا تُخَٰطِبْنِى فِى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ ۖ إِنَّهُم مُّغْرَقُونَ ٢٧
ফাআওহাইনা- ইলাইহি আনিসনা‘ইল ফুলকা বিআ‘ইউনিনা ওয়াওয়াহইয়িনা ফাইযা জা-আ আমরুনা ওয়াফা-রাত তান্নূরু ফাসলুক ফীহা মিন কুল্লিন যাওজাইনিছনাইনি ওয়াআহলাকা ইল্লা মান সাবাকা ‘আলাইহিল কাওলু মিনহুম ওয়ালা তুখা-তিবনী ফিল লাযীনা যালামূ ইন্নাহুম মুগরাকূন
তখন আমি তার কাছে ওয়াহী পাঠালাম- আমার দৃষ্টির সম্মুখে আমার নির্দেশ অনুযায়ী নৌযান তৈরি কর, অতঃপর যখন আমার নির্দেশ আসবে আর উনুন (পানিতে) উথলে উঠবে, তখন নৌকায় তুলে নাও প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া আর তোমার পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তাদেরকে বাদ দিয়ে। আর অন্যায়কারীদের পক্ষে আমার নিকট আবেদন করো না, তারা (বানে) ডুববেই।
فَإِذَا ٱسْتَوَيْتَ أَنتَ وَمَن مَّعَكَ عَلَى ٱلْفُلْكِ فَقُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى نَجَّىٰنَا مِنَ ٱلْقَوْمِ ٱلظَّٰلِمِينَ ٢٨
ফাইযাসতাওয়াইতা আনতা ওয়ামাম মা‘আকা ‘আলাল ফুলকি ফাকুলিল হামদু লিল্লা-হিল লাযী নাজ্জা-না মিনাল কাওমিয যা-লিমীন
যখন তুমি নৌযানে উঠে যাবে, তুমি আর তোমার সঙ্গীরা- তখন বলবে : ‘সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায় থেকে উদ্ধার করেছেন।’
وَقُل رَّبِّ أَنزِلْنِى مُنزَلًۭا مُّبَارَكًۭا وَأَنتَ خَيْرُ ٱلْمُنزِلِينَ ٢٩
ওয়াকুর রাব্বি আনযিলনী মুনযালাম মুবা-রাকাঁ ওয়াআনতা খাইরুল মুনযিলীন
আর বলো : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে কল্যাণকরভাবে নামিয়ে দাও, নামানোতে তুমিই সর্বোত্তম।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ وَإِن كُنَّا لَمُبْتَلِينَ ٣٠
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিঁ ওয়াইন কুন্না লামুবতালীন
এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে (মানুষের বুঝার জন্য), আমি (মানুষকে) পরীক্ষা করি।
ثُمَّ أَنشَأْنَا مِنۢ بَعْدِهِمْ قَرْنًا ءَاخَرِينَ ٣١
ছুম্মা আনশা’না মিম বা‘দিহিম কারনান আ-খারীন
অতঃপর তাদের পর আরেক মানব বংশ (‘আদ সম্প্রদায়কে) সৃষ্টি করেছিলাম।
فَأَرْسَلْنَا فِيهِمْ رَسُولًۭا مِّنْهُمْ أَنِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُۥٓ ۖ أَفَلَا تَتَّقُونَ ٣٢
ফাআরসালনা ফীহিম রাসূলাম মিনহুম আনি‘বুদুল্লা-হা মা লাকুম মিন ইলা-হিন গাইরুহূ আফালা তাত্তাকূন
আর তাদের মাঝে তাদেরই একজনকে রসূল করে পাঠিয়েছিলাম এই বলে যে, তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই, তবুও কি তোমরা (তাঁকে) ভয় করবে না?
وَقَالَ ٱلْمَلَأُ مِن قَوْمِهِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِلِقَآءِ ٱلْءَاخِرَةِ وَأَتْرَفْنَٰهُمْ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا مَا هَٰذَآ إِلَّا بَشَرٌۭ مِّثْلُكُمْ يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ ٣٣
ওয়াকা-লাল মালাউ মিন কাওমিহিল লাযীনা কাফারূ ওয়াকায্যাবূ বিলিকা-ইল আ-খিরাতি ওয়াআতরাফনা-হুম ফিল হায়া-তিদ দুনইয়া মা হা-যা- ইল্লা বাশারুম মিছলুকুম ইয়া’কুলু মিম্মা তা’কুলূনা মিনহু ওয়ায়াশরাবু মিম্মা তাশরাবূন
কিন্তু তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ- যারা কুফুরী করেছিল, আর আখিরাতের সাক্ষাৎকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছিলাম- বলেছিল : ‘সে তো তোমাদের মত মানুষ ছাড়া কিছু নয়। তোমরা যা খাও, সেও তাই খায়, তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে।
وَلَئِنْ أَطَعْتُم بَشَرًۭا مِّثْلَكُمْ إِنَّكُمْ إِذًۭا لَّخَٰسِرُونَ ٣٤
ওয়ালাইন আতা‘তুম বাশারাম মিছলাকুম ইন্নাকুম ইযাল লাখা-সিরূন
তোমরা যদি তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য কর, তাহলে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
أَيَعِدُكُمْ أَنَّكُمْ إِذَا مِتُّمْ وَكُنتُمْ تُرَابًۭا وَعِظَٰمًا أَنَّكُم مُّخْرَجُونَ ٣٥
আয়া‘ইদুকুম আন-নাকুম ইযা মিত্তুম ওয়াকুনতুম তুরা-বাঁ ওয়া‘ইযা-মান আন-নাকুম মুখরাজূন
সে কি তোমাদের সঙ্গে এই ওয়া‘দা করে যে, যখন তোমরা মরে যাবে আর মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হবে তখন তোমাদেরকে আবার জীবিত করা হবে।
۞ هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ لِمَا تُوعَدُونَ ٣٦
হাইহা-তা হাইহা-তা লিমা তূ‘আদূন
দূরে ওটা, বহু দূরে যার ওয়া‘দা তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।
إِنْ هِىَ إِلَّا حَيَاتُنَا ٱلدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ ٣٧
ইন হিয়া ইল্লা হায়া-তুনাদ দুনইয়া নামূতু ওয়ানাহইয়া ওয়ামা নাহনু বিমাব‘ঊছীন
আমাদের এ দুনিয়ার জীবন ছাড়া কিছুই নেই, এখানেই আমরা মরি বাঁচি, আমাদেরকে কক্ষনো আবার উঠানো হবে না।
إِنْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًۭا وَمَا نَحْنُ لَهُۥ بِمُؤْمِنِينَ ٣٨
ইন হুওয়া ইল্লা রাজুলুনিফতারা ‘আলাল্লা-হি কাযিবাঁ ওয়ামা নাহনু লাহূ বিমু’মিনীন
সে তো এমন এক ব্যক্তি যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যে বানিয়ে নিয়েছে। আমরা তাকে বিশ্বাস করি না।’
قَالَ رَبِّ ٱنصُرْنِى بِمَا كَذَّبُونِ ٣٩
কা-লা রাব্বিনসুরনী বিমা কায্যাবূন
(নবী) বলল : ‘হে আমার প্রতিপালক! তারা আমাকে মিথ্যেবাদী বলে দোষারোপ করছে- এ ব্যাপারে তুমি আমাকে সাহায্য কর।’
قَالَ عَمَّا قَلِيلٍۢ لَّيُصْبِحُنَّ نَٰدِمِينَ ٤٠
কা-লা ‘আম্মা কালীলিল লাইউসবিহুন্না না-দিমীন
আল্লাহ বললেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অনুতপ্ত হবে।’
فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّيْحَةُ بِٱلْحَقِّ فَجَعَلْنَٰهُمْ غُثَآءًۭ ۚ فَبُعْدًۭا لِّلْقَوْمِ ٱلظَّٰلِمِينَ ٤١
ফাআখাযাতহুমুস সাইহাতু বিলহাক্কি ফাজা‘আলনা-হুম গুছা-আ ফাবু‘দাল লিলকাওমিয যা-লিমীন
অতঃপর সত্যি সত্যিই এক ভয়ঙ্কর শব্দ তাদেরকে আঘাত করল আর তাদেরকে ভাগাড়ে পরিণত করলাম, কাজেই ধ্বংস হোক পাপী সম্প্রদায়।
ثُمَّ أَنشَأْنَا مِنۢ بَعْدِهِمْ قُرُونًا ءَاخَرِينَ ٤٢
ছুম্মা আনশা’না মিম বা‘দিহিম কুরূনান আ-খারীন
অতঃপর তাদের পরে আমি বহু জাতি সৃষ্টি করেছিলাম।
مَا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَـْٔخِرُونَ ٤٣
মা তাসবিকু মিন উম্মাতিন আজালাহা ওয়ামা ইয়াসতা’খিরূন
কোন জাতিই তাদের নির্দিষ্ট কালকে অগ্র পশ্চাৎ করতে পারে না।
ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَا ۖ كُلَّ مَا جَآءَ أُمَّةًۭ رَّسُولُهَا كَذَّبُوهُ ۚ فَأَتْبَعْنَا بَعْضَهُم بَعْضًۭا وَجَعَلْنَٰهُمْ أَحَادِيثَ ۚ فَبُعْدًۭا لِّقَوْمٍۢ لَّا يُؤْمِنُونَ ٤٤
ছুম্মা আরসালনা রুসুলানা তাতরা কুল্লা মা জা-আ উম্মাতার রাসূলুহা কায্যাবূহ ফাআতবা‘না বা‘দাহুম বা‘দাঁ ওয়াজা‘আলনা-হুম আহা-দীছ ফাবু‘দাল লিকাওমিল লা ইউ’মিনূন
এরপর একাদিক্রমে আমি আমার রসূলদেরকে পাঠিয়েছি। যখনই কোন জাতির কাছে তাদের রসূল এসেছে, তারা তাকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, অতঃপর শাস্তি প্রাপ্তির ব্যাপারে তারা একে অন্যের অনুসরণ করেছে, অতঃপর তাদেরকে কাহিনী বানিয়ে দিলাম। কাজেই যে জাতি ঈমান আনে না তারা ধ্বংস হোক!
ثُمَّ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ وَأَخَاهُ هَٰرُونَ بِـَٔايَٰتِنَا وَسُلْطَٰنٍۢ مُّبِينٍ ٤٥
ছুম্মা আরসালনা মূসা ওয়াআখা-হু হা-রূনা বিআ-য়া-তিনা ওয়াসুলতা-নিম মুবীন
অতঃপর আমি মূসা ও তার ভাই হারূনকে পাঠিয়েছিলাম নিদর্শন আর সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে।
إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَإِي۟هِۦ فَٱسْتَكْبَرُوا۟ وَكَانُوا۟ قَوْمًا عَالِينَ ٤٦
ইলা ফির‘আওনা ওয়ামালাইহী ফাসতাকবারূ ওয়াকা-নূ কাওমান ‘আ-লীন
ফেরাউন ও তার প্রধানগণের কাছে। কিন্তু তারা অহংকার করল, তারা ছিল এক উদ্ধত জাতি।
فَقَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلِنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عَٰبِدُونَ ٤٧
ফাকা-লূ আনু’মিনু লিবাশারাইনি মিছলিনা ওয়াকাওমুহুমা লানা ‘আ-বিদূন
তারা বলল, ‘আমরা কি আমাদেরই মত দু’জন লোকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ তাদের সম্প্রদায় আমাদের দাস?’
فَكَذَّبُوهُمَا فَكَانُوا۟ مِنَ ٱلْمُهْلَكِينَ ٤٨
ফাকায্যাবূহুমা ফাকা-নূ মিনাল মুহলাকীন
তারা তাদের দু’জনকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করল, ফলে তারা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَا مُوسَى ٱلْكِتَٰبَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ ٤٩
ওয়ালাকাদ আ-তাইনা মূসাল কিতা-বা লা‘আল্লাহুম ইয়াহতাদূন
আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম যাতে তারা সঠিক পথ পেতে পারে।
وَجَعَلْنَا ٱبْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُۥٓ ءَايَةًۭ وَءَاوَيْنَٰهُمَآ إِلَىٰ رَبْوَةٍۢ ذَاتِ قَرَارٍۢ وَمَعِينٍۢ ٥٠
ওয়াজা‘আলনাবনা মারইয়ামা ওয়াউম্মাহূ আ-য়াতাঁ ওয়াআ-ওয়াইনা-হুমা- ইলা রাবওয়াতিন যা-তি কারা-রিঁ ওয়ামা‘ঈন
আমি মারইয়াম-পুত্র আর তার মাকে নিদর্শন করেছিলাম আর তাদেরকে স্বস্তি নিরাপত্তা ও ঝর্ণা বিশিষ্ট উচ্চ স্থানে আশ্রয় দিয়েছিলাম।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلرُّسُلُ كُلُوا۟ مِنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَٱعْمَلُوا۟ صَٰلِحًا ۖ إِنِّى بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌۭ ٥١
ইয়া-আইয়্যুহার রুসুলু কুলূ মিনাত তাইয়্যিবা-তি ওয়া‘মালূ সা-লিহান ইন্নী বিমা তা‘মালূনা ‘আলীম
হে রসূলগণ! পবিত্র বস্তু আহার কর, আর সৎ কাজ কর, তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আমি পূর্ণরূপে অবগত।
وَإِنَّ هَٰذِهِۦٓ أُمَّتُكُمْ أُمَّةًۭ وَٰحِدَةًۭ وَأَنَا۠ رَبُّكُمْ فَٱتَّقُونِ ٥٢
ওয়াইন্না হা-যিহী উম্মাতুকুম উম্মাতাঁ ওয়া-হিদাতাঁ ওয়াআনা রাব্বুকুম ফাত্তাকূন
তোমাদের এসব উম্মাত তো একই উম্মাত, আর আমিই তোমাদের প্রতিপালক, কাজেই আমাকেই ভয় কর।
فَتَقَطَّعُوٓا۟ أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ زُبُرًۭا ۖ كُلُّ حِزْبٍۭ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ ٥٣
ফাতাকাত্তা‘ঊ আমরাহুম বাইনাহুম যুবুরান কুল্লু হিযবিম বিমা লাদাইহিম ফারিহূন
কিন্তু মানুষ তাদের কর্তব্য কর্মকে বহুধা বিভক্ত করে ফেলেছে, আর প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তাই নিয়ে আনন্দিত।
فَذَرْهُمْ فِى غَمْرَتِهِمْ حَتَّىٰ حِينٍ ٥٤
ফাযারহুম ফী গামরাতিহিম হাত্তা হীন
কাজেই তাদেরকে কিছুকাল তাদের অজ্ঞানতাপ্রসূত বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও।
أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُم بِهِۦ مِن مَّالٍۢ وَبَنِينَ ٥٥
আয়াহসাবূনা আন-নামা নুমিদ্দুহুম বিহী মিম মা-লিঁ ওয়াবানীন
তারা কি ভেবে নিয়েছে, আমি যে তাদেরকে ধনৈশ্বর্য ও সন্তানাদির প্রাচুর্য দিয়ে সাহায্য করেছি
نُسَارِعُ لَهُمْ فِى ٱلْخَيْرَٰتِ ۚ بَل لَّا يَشْعُرُونَ ٥٦
নুসা-রি‘উ লাহুম ফিল খাইরা-ত বাল লা ইয়াশ‘উরূন
এর দ্বারা কি তাদের কল্যাণ ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝে না।
إِنَّ ٱلَّذِينَ هُم مِّنْ خَشْيَةِ رَبِّهِم مُّشْفِقُونَ ٥٧
ইন্নাল লাযীনা হুম মিন খাশইয়াতি রাব্বিহিম মুশফিকূন
নিশ্চয় যারা তাদের প্রতিপালকের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকে,
وَٱلَّذِينَ هُم بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ ٥٨
ওয়াল্লাযীনা হুম বিআ-য়া-তি রাব্বিহিম ইউ’মিনূন
যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস স্থাপন করে,
وَٱلَّذِينَ هُم بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ ٥٩
ওয়াল্লাযীনা হুম বিরাব্বিহিম লা ইউশরিকূন
যারা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে শরীক করে না,
وَٱلَّذِينَ يُؤْتُونَ مَآ ءَاتَوا۟ وَّقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَىٰ رَبِّهِمْ رَٰجِعُونَ ٦٠
ওয়াল্লাযীনা ইউ’তূনা মা- আ-তাও ওয়াকুলূবুহুম ওয়াজিলাতুন আন-নাহুম ইলা রাব্বিহিম রা-জি‘ঊন
যারা তাদের দানের বস্তু দান করে আর তাদের অন্তর ভীত শংকিত থাকে এ জন্যে যে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে।
أُو۟لَٰٓئِكَ يُسَٰرِعُونَ فِى ٱلْخَيْرَٰتِ وَهُمْ لَهَا سَٰبِقُونَ ٦١
উলা-ইকা ইউসা-রি‘ঊনা ফিল খাইরা-তি ওয়াহুম লাহা সা-বিকূন
এরাই কল্যাণকাজে দ্রুতগতি, আর তাতে তারা অগ্রগামী।
وَلَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۖ وَلَدَيْنَا كِتَٰبٌۭ يَنطِقُ بِٱلْحَقِّ ۚ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ٦٢
ওয়ালা নুকাল্লিফু নাফসান ইল্লা উস‘আহা ওয়ালাদাইনা কিতা-বুঁ ইয়ানতিকু বিলহাক্ক ওয়াহুম লা ইউযলামূন
আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত কষ্ট দেই না, আর আমার কাছে এমন এক কিতাব আছে যা সত্য বলে, আর তাদের প্রতি মোটেই যুলম করা হবে না।
بَلْ قُلُوبُهُمْ فِى غَمْرَةٍۢ مِّنْ هَٰذَا وَلَهُمْ أَعْمَٰلٌۭ مِّن دُونِ ذَٰلِكَ هُمْ لَهَا عَٰمِلُونَ ٦٣
বাল কুলূবুহুম ফী গামরাতিম মিন হা-যা ওয়ালাহুম আ‘মা-লুম মিন দূনি যা-লিকা হুম লাহা ‘আ-মিলূন
বরং তাদের অন্তর এ বিষয়ে অজ্ঞানতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে, এছাড়া তাদের আরো (মন্দ) কাজ আছে যা তারা করতে থাকবে।
حَتَّىٰٓ إِذَآ أَخَذْنَا مُتْرَفِيهِم بِٱلْعَذَابِ إِذَا هُمْ يَجْـَٔرُونَ ٦٤
হাত্তা- ইযা- আখাযনা মুতরাফীহিম বিল‘আযা-বি ইযা হুম ইয়াজআরূন
অবশেষে আমি যখন তাদের (অর্থাৎ কাফিরদের) মধ্যে বিত্ত সম্পদশালীদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করব, তখন তারা চিৎকার জুড়ে দেবে।
لَا تَجْـَٔرُوا۟ ٱلْيَوْمَ ۖ إِنَّكُم مِّنَّا لَا تُنصَرُونَ ٦٥
লা তাজআরুল ইয়াওমা ইন্নাকুম মিন্না লা তুনসারূন
(বলা হবে) ‘আজ চিৎকার করো না, আমার কাছ থেকে তোমরা সাহায্য পাবে না।’
قَدْ كَانَتْ ءَايَٰتِى تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فَكُنتُمْ عَلَىٰٓ أَعْقَٰبِكُمْ تَنكِصُونَ ٦٦
কাদ কা-নাত আ-য়া-তী তুতলা ‘আলাইকুম ফাকুনতুম ‘আলা- আ‘কা-বিকুম তানকিসূন
আমার আয়াত তোমাদের কাছে পড়ে শোনানো হত, কিন্তু তোমরা গোড়ালির ভরে পিছনে ঘুরে দাঁড়াতে।
مُسْتَكْبِرِينَ بِهِۦ سَٰمِرًۭا تَهْجُرُونَ ٦٧
মুসতাকবিরীনা বিহী সা-মিরান তাহজুরূন
অহংকারবশতঃ (কুরআন) সম্পর্কে অর্থহীন কথা বলতে যেমন কেউ রাতে গল্প বলে।
أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا۟ ٱلْقَوْلَ أَمْ جَآءَهُم مَّا لَمْ يَأْتِ ءَابَآءَهُمُ ٱلْأَوَّلِينَ ٦٨
আফালাম ইয়াদ্দাব্বারুল কাওলা আম জা-আহুম মা লাম ইয়া’তি আ-বা-আহুমুল আওয়ালীন
তাহলে তারা কি (আল্লাহর) এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? কিংবা তাদের কাছে এমন কিছু (নতুন বস্তু) এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?
أَمْ لَمْ يَعْرِفُوا۟ رَسُولَهُمْ فَهُمْ لَهُۥ مُنكِرُونَ ٦٩
আম লাম ইয়া‘রিফূ রাসূলাহুম ফাহুম লাহূ মুনকিরূন
কিংবা তারা কি তাদের রসূলকে চিনতে পারে না এজন্য তারা তাকে অস্বীকার করছে
أَمْ يَقُولُونَ بِهِۦ جِنَّةٌۢ ۚ بَلْ جَآءَهُم بِٱلْحَقِّ وَأَكْثَرُهُمْ لِلْحَقِّ كَٰرِهُونَ ٧٠
আম ইয়াকূলূনা বিহী জিন্নাহ বাল জা-আহুম বিলহাক্কি ওয়াআকছারুহুম লিলহাক্কি কা-রিহূন
অথবা তারা কি বলে যে, সে উন্মাদ? না, প্রকৃতপক্ষে সে তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই সত্যকে অপছন্দ করে।
وَلَوِ ٱتَّبَعَ ٱلْحَقُّ أَهْوَآءَهُمْ لَفَسَدَتِ ٱلسَّمَٰوَٰتُ وَٱلْأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ ۚ بَلْ أَتَيْنَٰهُم بِذِكْرِهِمْ فَهُمْ عَن ذِكْرِهِم مُّعْرِضُونَ ٧١
ওয়ালাউইত তাবা‘আল হাক্কু আহওয়া-আহুম লাফাসাদাতিস সামা-ওয়া-তু ওয়ালআরদু ওয়ামান ফীহিন্ন বাল আতাইনা-হুম বিযিকরিহিম ফাহুম ‘আন যিকরিহিম মু‘রিদূন
সত্য যদি তাদের ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষার অনুসারী হত তাহলে আকাশ পৃথিবী আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে সব লন্ডভন্ড হয়ে যেত। (তাদের কামনা-বাসনার) বিপরীতে আমি তাদেরকে দিয়েছি তাদের জন্য উপদেশবাণী কিন্তু তারা উপদেশবাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।
أَمْ تَسْـَٔلُهُمْ خَرْجًۭا فَخَرَاجُ رَبِّكَ خَيْرٌۭ ۖ وَهُوَ خَيْرُ ٱلرَّٰزِقِينَ ٧٢
আম তাসআলুহুম খারজান ফাখারা-জু রাব্বিকা খাইরুঁ ওয়াহুওয়া খাইরুর রা-যিকীন
অথবা তুমি কি তাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাও? তোমার প্রতিপালকের প্রতিদানই সর্বোত্তম, আর তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রিযকদাতা।
وَإِنَّكَ لَتَدْعُوهُمْ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ ٧٣
ওয়াইন্নাকা লাতাদ‘ঊহুম ইলা সিরা-তিম মুসতাকীম
তুমি তো নিশ্চিতই তাদেরকে সরল সুদৃঢ় পথের দিকে ডাকছ।
وَإِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِ عَنِ ٱلصِّرَٰطِ لَنَٰكِبُونَ ٧٤
ওয়াইন্নাল লাযীনা লা ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি ‘আনিস সিরা-তি লানা-কিবূন
যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।
۞ وَلَوْ رَحِمْنَٰهُمْ وَكَشَفْنَا مَا بِهِم مِّن ضُرٍّۢ لَّلَجُّوا۟ فِى طُغْيَٰنِهِمْ يَعْمَهُونَ ٧٥
ওয়ালাও রাহিমনা-হুম ওয়াকাশাফনা মা বিহিম মিন দুর্রিল লালাজ্জূ ফী তুগইয়া-নিহিম ইয়া‘মাহূন
আমি তাদের প্রতি দয়া করলেও আর তাদের দুঃখ দুর্দশা দূর করলেও তারা তাদের অবাধ্যতায় ঘুরপাক খেতে থাকবে।
وَلَقَدْ أَخَذْنَٰهُم بِٱلْعَذَابِ فَمَا ٱسْتَكَانُوا۟ لِرَبِّهِمْ وَمَا يَتَضَرَّعُونَ ٧٦
ওয়ালাকাদ আখাযনা-হুম বিল‘আযা-বি ফামাসতাকা-নূ লিরাব্বিহিম ওয়ামা ইয়াতাদার্রা‘ঊন
আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, কিন্তু তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট নত হল না, আর তারা কাকুতি মিনতিও করল না।
حَتَّىٰٓ إِذَا فَتَحْنَا عَلَيْهِم بَابًۭا ذَا عَذَابٍۢ شَدِيدٍ إِذَا هُمْ فِيهِ مُبْلِسُونَ ٧٧
হাত্তা- ইযা ফাতাহনা ‘আলাইহিম বা-বান যা ‘আযা-বিন শাদীদিন ইযা হুম ফীহি মুবলিসূন
অবশেষে আমি তাদের জন্য কঠিন শাস্তির দরজা খুলে দেব, তখন তারা তাতে হতাশ হয়ে পড়বে।
وَهُوَ ٱلَّذِىٓ أَنشَأَ لَكُمُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَٰرَ وَٱلْأَفْـِٔدَةَ ۚ قَلِيلًۭا مَّا تَشْكُرُونَ ٧٨
ওয়াহুওয়াল লাযী আনশাআ লাকুমুস সাম‘আ ওয়ালআবসা-রা ওয়ালআফইদাহ কালীলাম মা তাশকুরূন
তিনিই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন কান, চোখ ও অন্তর; তোমরা কৃতজ্ঞতা অল্পই করে থাক।
وَهُوَ ٱلَّذِى ذَرَأَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ٧٩
ওয়াহুওয়াল লাযী যারাআকুম ফিল আরদি ওয়াইলাইহি তুহশারূন
তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে।
وَهُوَ ٱلَّذِى يُحْىِۦ وَيُمِيتُ وَلَهُ ٱخْتِلَٰفُ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ٨٠
ওয়াহুওয়াল লাযী ইউহইয়ী ওয়াইউমীতু ওয়ালাহুখতিলা-ফুল লাইলি ওয়ান্নাহা-র আফালা তা‘কিলূন
তিনিই জীবন দেন ও মৃত্যু ঘটান আর দিন-রাতের পরিবর্তন তাঁর দ্বারাই হয়, তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
بَلْ قَالُوا۟ مِثْلَ مَا قَالَ ٱلْأَوَّلُونَ ٨١
বাল কা-লূ মিছলা মা কা-লাল আওয়ালূন
বরং তারা তাই বলেছিল যা বলেছিল আগের লোকেরা।
قَالُوٓا۟ أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًۭا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ ٨٢
কা-লূ আইযা মিতনা ওয়াকুন্না তুরা-বাঁ ওয়া‘ইযা-মান আইন্না লামাব‘ঊছূন
তারা বলে- ‘আমরা যখন মরে মাটি ও হাড়-হাড্ডি হয়ে যাব (তারপরেও কি) আমাদেরকে আসলেই আবার উঠানো হবে?
لَقَدْ وُعِدْنَا نَحْنُ وَءَابَآؤُنَا هَٰذَا مِن قَبْلُ إِنْ هَٰذَآ إِلَّآ أَسَٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ ٨٣
লাকাদ উ‘ইদনা নাহনু ওয়াআ-বা-উনা হা-যা মিন কাবলু ইন হা-যা- ইল্লা- আসা-তীরুল আওয়ালীন
এ বিষয়ে আমাদেরকে ওয়া‘দা দেয়া হয়েছে আর অতীতে আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও। এসব তো পুরনো কালের কিসসা কাহিনী ছাড়া কিছুই না।
قُل لِّمَنِ ٱلْأَرْضُ وَمَن فِيهَآ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٨٤
কুল লিমানিল আরদু ওয়ামান ফীহা- ইন কুনতুম তা‘লামূন
বল : এ পৃথিবী আর তার ভিতরে যা আছে তা কার? (বল) যদি তোমরা জান!
سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ٨٥
সায়াকূলূনা লিল্লা-হ কুল আফালা তাযাক্কারূন
তারা বলবে- আল্লাহর। বল : তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?
قُلْ مَن رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ ٱلسَّبْعِ وَرَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْعَظِيمِ ٨٦
কুল মার রাব্বুস সামা-ওয়া-তিস সাব‘ই ওয়ারাব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম
বলঃ সাত আসমান আর মহান আরশের মালিক কে?
سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ ٨٧
সায়াকূলূনা লিল্লা-হ কুল আফালা তাত্তাকূন
তারা বলবেঃ (এগুলোর মালিকানা) আল্লাহর। বলঃ তবুও কি তোমরা (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
قُلْ مَنۢ بِيَدِهِۦ مَلَكُوتُ كُلِّ شَىْءٍۢ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٨٨
কুল মাম বিয়াদিহী মালাকূতু কুল্লি শাইইঁ ওয়াহুওয়া ইউজীরু ওয়ালা ইউজা-রু ‘আলাইহি ইন কুনতুম তা‘লামূন
বলঃ সব কিছুর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কার হাতে? তিনি (সকলকে) আশ্রয় দেন, তাঁর উপর কোন আশ্রয় দাতা নেই, (বল) তোমরা যদি জান।
سَيَقُولُونَ لِلَّهِ ۚ قُلْ فَأَنَّىٰ تُسْحَرُونَ ٨٩
সায়াকূলূনা লিল্লা-হ কুল ফাআন্না তুসহারূন
তারা বলবে (সকল কিছুর কর্তৃত্ব) আল্লাহর। তাহলে কেমন করে তোমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়ছ?
بَلْ أَتَيْنَٰهُم بِٱلْحَقِّ وَإِنَّهُمْ لَكَٰذِبُونَ ٩٠
বাল আতাইনা-হুম বিলহাক্কি ওয়াইন্নাহুম লাকা-যিবূন
কিছুই না, আমি তাদের নিকট সত্য পাঠিয়েছি কিন্তু তারা বাস্তবিকই মিথ্যেবাদী।
مَا ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ مِن وَلَدٍۢ وَمَا كَانَ مَعَهُۥ مِنْ إِلَٰهٍ ۚ إِذًۭا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَٰهٍۭ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ ۚ سُبْحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ ٩١
মাত তাখাযাল্লা-হু মিন ওয়ালাদিঁ ওয়ামা কা-না মা‘আহূ মিন ইলা-হ ইযাল লাযাহাবা কুল্লু ইলা-হিম বিমা খালাকা ওয়ালা‘আলা বা‘দুহুম ‘আলা বা‘দ সুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা ইয়াসিফূন
আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি, আর তাঁর সাথে অন্য কোন ইলাহ নেই, (থাকলে) প্রত্যেক ইলাহ আপন সৃষ্টি নিয়ে অবশ্যই চলে যেত, আর অবশ্যই একে অপরের উপর চড়াও হত, তারা তাঁর প্রতি যা আরোপ করে তাত্থেকে তিনি কত মহান ও পবিত্র!
عَٰلِمِ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ فَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ ٩٢
‘আ-লিমিল গাইবি ওয়াশ্শাহা-দাতি ফাতা‘আ-লা ‘আম্মা ইউশরিকূন
তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী, তারা যা তাঁর শরীক বানায়, তাত্থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।
قُل رَّبِّ إِمَّا تُرِيَنِّى مَا يُوعَدُونَ ٩٣
কুর রাব্বি ইম্মা তুরিয়ান্নী মা ইউ‘আদূন
বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি যদি আমাকে দেখাও (আমার জীবদ্দশায়) যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেয়া হয়েছে,
رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِى فِى ٱلْقَوْمِ ٱلظَّٰلِمِينَ ٩٤
রাব্বি ফালা তাজ‘আলনী ফিল কাওমিয যা-লিমীন
তাহলে হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে যালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না’।
وَإِنَّا عَلَىٰٓ أَن نُّرِيَكَ مَا نَعِدُهُمْ لَقَٰدِرُونَ ٩٥
ওয়াইন্না ‘আলা- আন নুরিয়াকা মা না‘ইদুহুম লাকা-দিরূন
আমি তাদেরকে (শাস্তি প্রদানের) যে ওয়াদা করেছি তা আমি তোমাকে দেখাতে অবশ্যই সক্ষম।
ٱدْفَعْ بِٱلَّتِى هِىَ أَحْسَنُ ٱلسَّيِّئَةَ ۚ نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَصِفُونَ ٩٦
ইদফা‘ বিল্লাতী হিয়া আহসানুস সাইয়্যিআহ নাহনু আ‘লামু বিমা ইয়াসিফূন
মন্দের মুকাবিলা কর যা উত্তম তাই দিয়ে, তারা যা বলে সে সম্পর্কে আমি সবিশেষ অবগত।
وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَٰتِ ٱلشَّيَٰطِينِ ٩٧
ওয়াকুর রাব্বি আ‘ঊযু বিকা মিন হামাযা-তিশ শায়া-তীন
আর বল : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়ত্বানের কুমন্ত্রণা হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ ٩٨
ওয়াআ‘ঊযু বিকা রাব্বি আন ইয়াহদুরূন
আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, হে আমার প্রতিপালক! যাতে তারা আমার কাছে আসতে না পারে।’
حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءَ أَحَدَهُمُ ٱلْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ٱرْجِعُونِ ٩٩
হাত্তা- ইযা জা-আ আহাদাহুমুল মাওতু কা-লা রাব্বিরজি‘ঊন
এমনকি যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু এসে হাজির হয় তখন সে বলে : ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আবার (দুনিয়াতে) পাঠিয়ে দাও।
لَعَلِّىٓ أَعْمَلُ صَٰلِحًۭا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّآ ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآئِلُهَا ۖ وَمِن وَرَآئِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ ١٠٠
লা‘আল্লী আ‘মালু সা-লিহান ফীমা তারাকত কাল্লা- ইন্নাহা কালিমাতুন হুওয়া কা-ইলুহা ওয়ামিন ওয়ারা-ইহিম বারযাখুন ইলা ইয়াওমি ইউব‘আছূন
যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আমি করিনি। কক্ষনো না, এটা তো তার একটা কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত।
فَإِذَا نُفِخَ فِى ٱلصُّورِ فَلَآ أَنسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍۢ وَلَا يَتَسَآءَلُونَ ١٠١
ফাইযা নুফিখা ফিস সূরি ফালা- আনসা-বা বাইনাহুম ইয়াওমাইযিঁ ওয়ালা ইয়াতাসা-আলূন
অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সেদিন তাদের পরস্পরের মাঝে আত্মীয় বন্ধন থাকবে না। একে অপরের কাছে জিজ্ঞেসও করবে না।
فَمَن ثَقُلَتْ مَوَٰزِينُهُۥ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ ١٠٢
ফামান ছাকুলাত মাওয়া-যীনুহূ ফাউলা-ইকা হুমুল মুফলিহূন
যাদের (সৎ কাজের) পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম।
وَمَنْ خَفَّتْ مَوَٰزِينُهُۥ فَأُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ فِى جَهَنَّمَ خَٰلِدُونَ ١٠٣
ওয়ামান খাফ্ফাত মাওয়া-যীনুহূ ফাউলা-ইকাল লাযীনা খাসিরূ আনফুসাহুম ফী জাহান্নামা খা-লিদূন
যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই ওরা যারা নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, জাহান্নামে তারা চিরস্থায়ী হবে।
تَلْفَحُ وُجُوهَهُمُ ٱلنَّارُ وَهُمْ فِيهَا كَٰلِحُونَ ١٠٤
তালফাহু উজূহাহুমুন না-রু ওয়াহুম ফীহা কা-লিহূন
আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে আর তারা বীভৎস চেহারা নিয়ে তার ভিতরে দাঁত কটমট করতে থাকবে।
أَلَمْ تَكُنْ ءَايَٰتِى تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ فَكُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ ١٠٥
আলাম তাকুন আ-য়া-তী তুতলা ‘আলাইকুম ফাকুনতুম বিহা তুকায্যিবূন
(তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতগুলো আবৃত্তি করা হত না? তোমরা সেগুলোকে মিথ্যে জেনে প্রত্যাখ্যান করেছিলে।
قَالُوا۟ رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًۭا ضَآلِّينَ ١٠٦
কা-লূ রাব্বানা গালাবাত ‘আলাইনা শিকওয়াতুনা ওয়াকুন্না কাওমান দা-ল্লীন
তারা বলবে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পরাস্ত করেছিল, আর আমরা ছিলাম এক পথভ্রষ্ট জাতি।
رَبَّنَآ أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَٰلِمُونَ ١٠٧
রাব্বানা- আখরিজনা মিনহা ফাইন ‘উদনা ফাইন্না যা-লিমূন
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এত্থেকে বের করে নাও, আমরা যদি আবার কুফুরী করি তাহলে আমরা তো যালিম হিসেবে পরিগণিত হব।
قَالَ ٱخْسَـُٔوا۟ فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ ١٠٨
কা-লাখসাঊ ফীহা ওয়ালা তুকাল্লিমূন
আল্লাহ বলবেন- ‘তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক, আমার সঙ্গে কোন কথা বল না।’
إِنَّهُۥ كَانَ فَرِيقٌۭ مِّنْ عِبَادِى يَقُولُونَ رَبَّنَآ ءَامَنَّا فَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ ٱلرَّٰحِمِينَ ١٠٩
ইন্নাহূ কা-না ফারীকুম মিন ‘ইবা-দী ইয়াকূলূনা রাব্বানা- আ-মান্না ফাগফির লানা ওয়ারহামনা ওয়াআনতা খাইরুর রা-হিমীন
আমার বান্দাহদের একদল বলত- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
فَٱتَّخَذْتُمُوهُمْ سِخْرِيًّا حَتَّىٰٓ أَنسَوْكُمْ ذِكْرِى وَكُنتُم مِّنْهُمْ تَضْحَكُونَ ١١٠
ফাত্তাখাযতুমূহুম সিখরিয়্যান হাত্তা- আনসাওকুম যিকরী ওয়াকুনতুম মিনহুম তাদহাকূন
কিন্তু তাদেরকে নিয়ে তোমরা হাসি তামাশা করতে এমনকি তা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল, তোমরা তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টাই করতে।
إِنِّى جَزَيْتُهُمُ ٱلْيَوْمَ بِمَا صَبَرُوٓا۟ أَنَّهُمْ هُمُ ٱلْفَآئِزُونَ ١١١
ইন্নী জাযাইতুহুমুল ইয়াওমা বিমা সাবারূ আন-নাহুম হুমুল ফা-ইযূন
আজ আমি তাদেরকে পুরস্কৃত করলাম তাদের ধৈর্য ধারণের কারণে, আজ তারাই তো সফলকাম।
قَٰلَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِى ٱلْأَرْضِ عَدَدَ سِنِينَ ١١٢
কা-লা কাম লাবিছতুম ফিল আরদি ‘আদাদা সিনীন
আল্লাহ বলবেন : ‘পৃথিবীতে কয় বছর তোমরা অবস্থান করেছিলে?’
قَالُوا۟ لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍۢ فَسْـَٔلِ ٱلْعَآدِّينَ ١١٣
কা-লূ লাবিছনা ইয়াওমান আও বা‘দা ইয়াওমিন ফাসআলিল ‘আ-দ্দীন
তারা বলবে : ‘আমরা একদিন বা এক দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। অতএব তুমি গণনাকারীদের জিজ্ঞেস কর।’
قَٰلَ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًۭا ۖ لَّوْ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ١١٤
কা-লা ইল লাবিছতুম ইল্লা কালীলাল লাও আন-নাকুম কুনতুম তা‘লামূন
তিনি বলবেন : ‘তোমরা অল্প সময়ই অবস্থান করেছিলে, তোমরা যদি জানতে!
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَٰكُمْ عَبَثًۭا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ ١١٥
আফাহাসিবতুম আন-নামা খালাকনা-কুম ‘আবাছাঁ ওয়াআন্নাকুম ইলাইনা লা তুরজা‘ঊন
তোমরা কি ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে তামাশার বস্তু হিসেবে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?
فَتَعَٰلَى ٱللَّهُ ٱلْمَلِكُ ٱلْحَقُّ ۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْكَرِيمِ ١١٦
ফাতা‘আ-লাল্লা-হুল মালিকুল হাক্কু লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া রাব্বুল ‘আরশিল কারীম
সুউচ্চ মহান আল্লাহ যিনি প্রকৃত মালিক, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, সম্মানিত আরশের অধিপতি।
وَمَن يَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ لَا بُرْهَٰنَ لَهُۥ بِهِۦ فَإِنَّمَا حِسَابُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦٓ ۚ إِنَّهُۥ لَا يُفْلِحُ ٱلْكَٰفِرُونَ ١١٧
ওয়ামান ইয়াদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা লা বুরহা-না লাহূ বিহী ফাইন্নামা হিসা-বুহূ ‘ইনদা রাব্বিহ ইন্নাহূ লা ইউফলিহুল কা-ফিরূন
যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অন্য ইলাহকেও ডাকে, এ ব্যাপারে তার কাছে কোন দলীল প্রমাণ নেই, একমাত্র তার প্রতিপালকের কাছেই তার হিসাব হবে, কাফিরগণ অবশ্যই সফলকাম হবে না।
وَقُل رَّبِّ ٱغْفِرْ وَٱرْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ ٱلرَّٰحِمِينَ ١١٨
ওয়াকুর রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়াআনতা খাইরুর রা-হিমীন
কাজেই বল : ‘হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও রহম কর, তুমি রহমকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’