মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
طه

সূরা ত্ব-হা

ত্ব-হা · সূরা নং ২০ · ১৩৫ আয়াত · ৮ রুকু · মাক্কী · পারা ১৬
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
طه ١
ত্বা হা
ত্ব-হা-।
مَآ أَنزَلْنَا عَلَيْكَ ٱلْقُرْءَانَ لِتَشْقَىٰٓ ٢
মা- আনযালনা ‘আলাইকাল কুরআ-না লিতাশকা-
তোমাকে ক্লেশ দেয়ার জন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন নাযিল করিনি।
إِلَّا تَذْكِرَةًۭ لِّمَن يَخْشَىٰ ٣
ইল্লা তাযকিরাতাল লিমান ইয়াখশা
বরং তা (নাযিল করেছি) কেবল সতর্কবাণী হিসেবে যে (আল্লাহকে) ভয় করে তার জন্য।
تَنزِيلًۭا مِّمَّنْ خَلَقَ ٱلْأَرْضَ وَٱلسَّمَٰوَٰتِ ٱلْعُلَى ٤
তানযীলাম মিম্মান খালাকাল আরদা ওয়াস্সামা-ওয়া-তিল ‘উলা
যিনি পৃথিবী ও সুউচ্চ আকাশ সৃষ্টি করেছেন তাঁর নিকট হতে তা নাযিল হয়েছে।
ٱلرَّحْمَٰنُ عَلَى ٱلْعَرْشِ ٱسْتَوَىٰ ٥
আর-রাহমা-নু ‘আলাল ‘আরশিসতাওয়া
‘আরশে দয়াময় সমুন্নত আছেন।
لَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ ٱلثَّرَىٰ ٦
লাহূ মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদি ওয়ামা বাইনাহুমা ওয়ামা তাহতাছ ছারা
যা আকাশসমূহে আছে, যা যমীনে আছে, যা এ দু’য়ের মাঝে আছে আর যা ভূগর্ভে আছে সব তাঁরই।
وَإِن تَجْهَرْ بِٱلْقَوْلِ فَإِنَّهُۥ يَعْلَمُ ٱلسِّرَّ وَأَخْفَى ٧
ওয়াইন তাজহার বিলকাওলি ফাইন্নাহূ ইয়া‘লামুস সির্রা ওয়াআখফা
যদি তুমি উচ্চকণ্ঠে কথা বল (তাহলে জেনে রেখ) তিনি গুপ্ত ও তদপেক্ষাও গুপ্ত বিষয় জানেন।
ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ لَهُ ٱلْأَسْمَآءُ ٱلْحُسْنَىٰ ٨
আল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া লাহুল আসমা-উল হুসনা
আল্লাহ, তিনি ব্যতীত সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, সুন্দর নামসমূহ তাঁরই।
وَهَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ مُوسَىٰٓ ٩
ওয়াহাল আতা-কা হাদীছু মূসা-
মূসার কাহিনী তোমার কাছে পৌঁছেছে কি?
إِذْ رَءَا نَارًۭا فَقَالَ لِأَهْلِهِ ٱمْكُثُوٓا۟ إِنِّىٓ ءَانَسْتُ نَارًۭا لَّعَلِّىٓ ءَاتِيكُم مِّنْهَا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى ٱلنَّارِ هُدًۭى ١٠
ইয রাআ না-রান ফাকা-লা লিআহলিহিমকুছূ ইন্নী আ-নাসতু না-রাল লা‘আল্লী আ-তীকুম মিনহা বিকাবাসিন আও আজিদু ‘আলান না-রি হুদা
যখন সে আগুন দেখল (মাদ্ইয়ান থেকে মিসর যাবার পথে), তখন সে তার পরিবারবর্গকে বলল, ‘তোমরা এখানে অবস্থান কর, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবতঃ আমি তাত্থেকে তোমাদের জন্য কিছু জ্বলন্ত আগুন আনতে পারব কিংবা আগুনের নিকট পথের সন্ধান পাব।
فَلَمَّآ أَتَىٰهَا نُودِىَ يَٰمُوسَىٰٓ ١١
ফালাম্মা- আতা-হা নূদিয়া ইয়া-মূসা-
তারপর যখন যে আগুনের কাছে আসল, তাকে ডাক দেয়া হল, ‘হে মূসা!
إِنِّىٓ أَنَا۠ رَبُّكَ فَٱخْلَعْ نَعْلَيْكَ ۖ إِنَّكَ بِٱلْوَادِ ٱلْمُقَدَّسِ طُوًۭى ١٢
ইন্নী আনা রাব্বুকা ফাখলা‘ না‘লাইকা ইন্নাকা বিলওয়া-দিল মুকাদ্দাসি তুওয়া
বাস্তবিকই আমি তোমার প্রতিপালক, কাজেই তোমার জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় আছ।
وَأَنَا ٱخْتَرْتُكَ فَٱسْتَمِعْ لِمَا يُوحَىٰٓ ١٣
ওয়াআনাখতারতুকা ফাসতামি‘ লিমা ইউহা-
আমি তোমাকে বেছে নিয়েছি, কাজেই তুমি মনোযোগ দিয়ে শুনো যা তোমার প্রতি ওয়াহী করা হচ্ছে।
إِنَّنِىٓ أَنَا ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعْبُدْنِى وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِذِكْرِىٓ ١٤
ইন্নানী আনাল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা- আনা ফা‘বুদনী ওয়াআকিমিস সালা-তা লিযিকরী
প্রকৃতই আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, কাজেই আমার ‘ইবাদাত কর, আর আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে নামায কায়িম কর।’
إِنَّ ٱلسَّاعَةَ ءَاتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا تَسْعَىٰ ١٥
ইন্নাস সা-‘আতা আ-তিয়াতুন আকা-দু উখফীহা লিতুজযা কুল্লু নাফসিম বিমা তাস‘আ
কিয়ামাত আসবেই, আমি তা গোপন রাখতে চাই, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় চেষ্টা-সাধনা অনুপাতে ফল লাভ করতে পারে।
فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَن لَّا يُؤْمِنُ بِهَا وَٱتَّبَعَ هَوَىٰهُ فَتَرْدَىٰ ١٦
ফালা ইয়াসুদ্দান্নাকা ‘আনহা মাল লা ইউ’মিনু বিহা ওয়াত্তাবা‘আ হাওয়া-হু ফাতারদা
কাজেই ক্বিয়ামতে যে বিশ্বাস করে না এবং স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তাত্থেকে কোনক্রমেই বিচ্যুত করতে না পারে, তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَٰمُوسَىٰ ١٧
ওয়ামা তিলকা বিয়ামীনিকা ইয়া-মূসা
‘হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কী?’
قَالَ هِىَ عَصَاىَ أَتَوَكَّؤُا۟ عَلَيْهَا وَأَهُشُّ بِهَا عَلَىٰ غَنَمِى وَلِىَ فِيهَا مَـَٔارِبُ أُخْرَىٰ ١٨
কা-লা হিয়া ‘আসা-য়া আতাওয়াক্কাউ ‘আলাইহা ওয়াআহুশ্শু বিহা ‘আলা গানামী ওয়ালিয়া ফীহা মাআ-রিবু উখরা
সে বলল, ‘এটা আমার লাঠি, আমি ওতে ভর দেই, এর সাহায্যে আমি আমার মেষপালের জন্য গাছের পাতা ঝেড়ে দেই আর এতে আমার আরো অনেক কাজ হয়।’
قَالَ أَلْقِهَا يَٰمُوسَىٰ ١٩
কা-লা আলকিহা ইয়া-মূসা
আল্লাহ বললেন, ‘হে মূসা! ওটা নিক্ষেপ কর।’
فَأَلْقَىٰهَا فَإِذَا هِىَ حَيَّةٌۭ تَسْعَىٰ ٢٠
ফাআলকা-হা ফাইযা হিয়া হাইয়্যাতুন তাস‘আ
তখন সে তা নিক্ষেপ করল, অমনি তা সাপ হয়ে ছুটোছুটি করতে লাগল।
قَالَ خُذْهَا وَلَا تَخَفْ ۖ سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا ٱلْأُولَىٰ ٢١
কা-লা খুযহা ওয়ালা তাখাফ সানু‘ঈদুহা সীরাতাহাল ঊলা
আল্লাহ বললেন, ‘ওটাকে ধর, ভয় পেও না, আমি সেটাকে এক্ষুনি তার আগের রূপে ফিরিয়ে দেব।
وَٱضْمُمْ يَدَكَ إِلَىٰ جَنَاحِكَ تَخْرُجْ بَيْضَآءَ مِنْ غَيْرِ سُوٓءٍ ءَايَةً أُخْرَىٰ ٢٢
ওয়াদমুম ইয়াদাকা ইলা জানা-হিকা তাখরুজ বাইদা-আ মিন গাইরি সূইন আ-য়াতান উখরা
আর তোমার হাত বগলে দিয়ে টান, তা ক্ষতিকর নয় এমন শুভ্রোজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসবে- অন্য আরেকটি নিদর্শন হিসেবে।
لِنُرِيَكَ مِنْ ءَايَٰتِنَا ٱلْكُبْرَى ٢٣
লিনুরিয়াকা মিন আ-য়া-তিনাল কুবরা
যাতে আমি তোমাকে আমার বড় বড় নিদর্শনগুলোর কিছু দেখাতে পারি।
ٱذْهَبْ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُۥ طَغَىٰ ٢٤
ইযহাব ইলা ফির‘আওনা ইন্নাহূ তাগা
ফেরাউনের কাছে যাও, বাস্তবিকই সে সীমালঙ্ঘন করেছে।’
قَالَ رَبِّ ٱشْرَحْ لِى صَدْرِى ٢٥
কা-লা রাব্বিশরাহ লী সাদরী
মূসা বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দাও
وَيَسِّرْ لِىٓ أَمْرِى ٢٦
ওয়ায়াস্সির লী আমরী
আর আমার জন্য আমার কাজকে সহজ করে দাও।
وَٱحْلُلْ عُقْدَةًۭ مِّن لِّسَانِى ٢٧
ওয়াহলুল ‘উকদাতাম মিল লিসা-নী
আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও।
يَفْقَهُوا۟ قَوْلِى ٢٨
ইয়াফকাহূ কাওলী
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
وَٱجْعَل لِّى وَزِيرًۭا مِّنْ أَهْلِى ٢٩
ওয়াজ‘আল লী ওয়াযীরাম মিন আহলী
আর আমার পরিবার হতে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী বানিয়ে দাও।
هَٰرُونَ أَخِى ٣٠
হা-রূনা আখী
আমার ভাই হারূনকে।
ٱشْدُدْ بِهِۦٓ أَزْرِى ٣١
উশদুদ বিহী আযরী
তার দ্বারা আমার শক্তি বৃদ্ধি কর।
وَأَشْرِكْهُ فِىٓ أَمْرِى ٣٢
ওয়াআশরিকহু ফী আমরী
আমার কাজে তাকে অংশীদার কর।
كَىْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًۭا ٣٣
কাই নুসাব্বিহাকা কাছীরা
যাতে আমরা বেশি বেশি করে তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি।
وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا ٣٤
ওয়ানাযকুরাকা কাছীরা
আর তোমাকে অধিক স্মরণ করতে পারি।
إِنَّكَ كُنتَ بِنَا بَصِيرًۭا ٣٥
ইন্নাকা কুনতা বিনা বাসীরা
তুমি তো আমাদের অবস্থা সবই দেখছ।’
قَالَ قَدْ أُوتِيتَ سُؤْلَكَ يَٰمُوسَىٰ ٣٦
কা-লা কাদ ঊতীতা সু’লাকা ইয়া-মূসা
তিনি (আল্লাহ) বললেন, ‘হে মূসা! তোমার প্রার্থনা গৃহীত হল।
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَيْكَ مَرَّةً أُخْرَىٰٓ ٣٧
ওয়ালাকাদ মানান্না ‘আলাইকা মার্রাতান উখরা-
আমি তো তোমার উপর আরো একবার অনুগ্রহ করেছিলাম।
إِذْ أَوْحَيْنَآ إِلَىٰٓ أُمِّكَ مَا يُوحَىٰٓ ٣٨
ইয আওহাইনা- ইলা- উম্মিকা মা ইউহা-
যখন আমি তোমার মায়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলাম যা ওয়াহীযোগে জানানো হয়েছিল-
أَنِ ٱقْذِفِيهِ فِى ٱلتَّابُوتِ فَٱقْذِفِيهِ فِى ٱلْيَمِّ فَلْيُلْقِهِ ٱلْيَمُّ بِٱلسَّاحِلِ يَأْخُذْهُ عَدُوٌّۭ لِّى وَعَدُوٌّۭ لَّهُۥ ۚ وَأَلْقَيْتُ عَلَيْكَ مَحَبَّةًۭ مِّنِّى وَلِتُصْنَعَ عَلَىٰ عَيْنِىٓ ٣٩
আনিকযিফীহি ফিত তা-বূতি ফাকযিফীহি ফিল ইয়াম্মি ফালইউলকিহিল ইয়াম্মু বিস্সা-হিলি ইয়া’খুযহু ‘আদুউল লী ওয়া‘আদুউল লাহ ওয়াআলকাইতু ‘আলাইকা মাহাব্বাতাম মিন্নী ওয়ালিতুসনা‘আ ‘আলা ‘আইনী
যে তুমি মূসাকে সিন্দুকের মধ্যে রাখ। তারপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও। অতঃপর দরিয়া তাকে পাড়ে ঠেলে দেবে। তাকে আমার শত্রু ও তার শত্রু উঠিয়ে নেবে। আমি আমার নিকট হতে তোমার প্রতি ভালবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম, যাতে তুমি আমার দৃষ্টির সম্মুখে প্রতিপালিত হও।’
إِذْ تَمْشِىٓ أُخْتُكَ فَتَقُولُ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ مَن يَكْفُلُهُۥ ۖ فَرَجَعْنَٰكَ إِلَىٰٓ أُمِّكَ كَىْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ ۚ وَقَتَلْتَ نَفْسًۭا فَنَجَّيْنَٰكَ مِنَ ٱلْغَمِّ وَفَتَنَّٰكَ فُتُونًۭا ۚ فَلَبِثْتَ سِنِينَ فِىٓ أَهْلِ مَدْيَنَ ثُمَّ جِئْتَ عَلَىٰ قَدَرٍۢ يَٰمُوسَىٰ ٤٠
ইয তামশী উখতুকা ফাতাকূলু হাল আদুল্লুকুম ‘আলা মান ইয়াকফুলুহূ ফারাজা‘না-কা ইলা- উম্মিকা কাই তাকার্রা ‘আইনুহা ওয়ালা তাহযান ওয়াকাতালতা নাফসান ফানাজ্জাইনা-কা মিনাল গাম্মি ওয়াফাতান্না-কা ফুতূনা ফালাবিছতা সিনীনা ফী আহলি মাদইয়ানা ছুম্মা জি’তা ‘আলা কাদারিঁ ইয়া-মূসা
যখন তোমার বোন গিয়ে বলল, ‘তোমাদেরকে কি বলে দেব কে এই শিশুর তত্ত্বাবধান ও প্রতিপালনের ভার নেবে?’ এভাবে আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনলাম যাতে তার চোখ জুড়ায় আর সে দুঃখ না পায়। আর তুমি এক লোককে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে মনোবেদনা থেকে মুক্তি দিয়েছি। আমি তোমাকে অনেক পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদ্ইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করলে, এরপর হে মূসা! তুমি নির্ধারিত সময়ে এসে হাযির হয়েছ।
وَٱصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِى ٤١
ওয়াসতানা‘তুকা লিনাফসী
আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরি করেছি।
ٱذْهَبْ أَنتَ وَأَخُوكَ بِـَٔايَٰتِى وَلَا تَنِيَا فِى ذِكْرِى ٤٢
ইযহাব আনতা ওয়াআখূকা বিআ-য়া-তী ওয়ালা তানিয়া ফী যিকরী
তুমি আর তোমার ভাই আমার নিদর্শন নিয়ে যাও আর তোমরা আমাকে স্মরণ করার বিষয়ে শৈথিল্য করো না।
ٱذْهَبَآ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُۥ طَغَىٰ ٤٣
ইযহাবা- ইলা ফির‘আওনা ইন্নাহূ তাগা
তোমরা দু’জন ফেরাউনের নিকট যাও, বস্তুতঃ সে সীমালঙ্ঘন করেছে।
فَقُولَا لَهُۥ قَوْلًۭا لَّيِّنًۭا لَّعَلَّهُۥ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ ٤٤
ফাকূলা লাহূ কাওলাল লাইয়্যিনাল লা‘আল্লাহূ ইয়াতাযাক্কারু আও ইয়াখশা
তার সঙ্গে তোমরা নম্রভাবে কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে কিংবা (আল্লাহর) ভয় করবে।’
قَالَا رَبَّنَآ إِنَّنَا نَخَافُ أَن يَفْرُطَ عَلَيْنَآ أَوْ أَن يَطْغَىٰ ٤٥
কা-লা রাব্বানা- ইন্নানা নাখা-ফু আন ইয়াফরুতা ‘আলাইনা- আও আন ইয়াতগা
তারা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ভয় হচ্ছে সে আমাদের প্রতি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে উঠবে কিংবা আমাদের প্রতি আচরণে বাড়াবাড়ি করবে।’
قَالَ لَا تَخَافَآ ۖ إِنَّنِى مَعَكُمَآ أَسْمَعُ وَأَرَىٰ ٤٦
কা-লা লা তাখা-ফা- ইন্নানী মা‘আকুমা- আসমা‘উ ওয়াআরা
তিনি বললেন, ‘তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সাথেই আছি, আমি (সব কিছু) শুনি আর দেখি।
فَأْتِيَاهُ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولَا رَبِّكَ فَأَرْسِلْ مَعَنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ وَلَا تُعَذِّبْهُمْ ۖ قَدْ جِئْنَٰكَ بِـَٔايَةٍۢ مِّن رَّبِّكَ ۖ وَٱلسَّلَٰمُ عَلَىٰ مَنِ ٱتَّبَعَ ٱلْهُدَىٰٓ ٤٧
ফা’তিয়া-হু ফাকূলা- ইন্না রাসূলা রাব্বিকা ফাআরসিল মা‘আনা বানী ইসরা-ঈলা ওয়ালা তু‘আয্যিবহুম কাদ জি’না-কা বিআ-য়াতিম মির রাব্বিকা ওয়াস্সালা-মু ‘আলা মানিত তাবা‘আল হুদা-
কাজেই তোমরা দু’জন তার কাছে এসো আর বল- আমরা তোমার প্রতিপালকের রসূল, কাজেই বানী ইসরাঈলকে আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দাও, তাদের প্রতি উৎপীড়ন করো না। তোমার প্রতিপালকের নিদর্শনসহই আমরা তোমার কাছে এসেছি, আর শান্তি বর্ষিত হোক তাদের প্রতি যারা সৎ পথ অনুসরণ করে।
إِنَّا قَدْ أُوحِىَ إِلَيْنَآ أَنَّ ٱلْعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ٤٨
ইন্না কাদ ঊহিয়া ইলাইনা- আন-নাল ‘আযা-বা ‘আলা মান কায্যাবা ওয়াতাওয়াল্লা
আমাদের কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে শাস্তি (অপেক্ষা করছে) তার জন্য যে (সত্য) প্রত্যাখ্যান করে আর মুখ ফিরিয়ে নেয়।’
قَالَ فَمَن رَّبُّكُمَا يَٰمُوسَىٰ ٤٩
কা-লা ফামার রাব্বুকুমা ইয়া-মূসা
ফেরাউন বলল, ‘হে মূসা! কে তোমাদের প্রতিপালক?’
قَالَ رَبُّنَا ٱلَّذِىٓ أَعْطَىٰ كُلَّ شَىْءٍ خَلْقَهُۥ ثُمَّ هَدَىٰ ٥٠
কা-লা রাব্বুনাল লাযী আ‘তা কুল্লা শাইইন খালকাহূ ছুম্মা হাদা
মূসা বলল, ‘আমাদের প্রতিপালক তিনি যিনি সকল (সৃষ্ট) বস্তুকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথ প্রদর্শন করেছেন।’
قَالَ فَمَا بَالُ ٱلْقُرُونِ ٱلْأُولَىٰ ٥١
কা-লা ফামা বা-লুল কুরূনিল ঊলা
ফেরাউন বলল, ‘তাহলে আগের যুগের লোকেদের অবস্থা কী?’
قَالَ عِلْمُهَا عِندَ رَبِّى فِى كِتَٰبٍۢ ۖ لَّا يَضِلُّ رَبِّى وَلَا يَنسَى ٥٢
কা-লা ‘ইলমুহা ‘ইনদা রাব্বী ফী কিতা-বিল লা ইয়াদিল্লু রাব্বী ওয়ালা ইয়ানসা
মূসা বলল, ‘তার জ্ঞান আমার প্রতিপালকের কাছে (রক্ষিত) কিতাবে আছে, আমার প্রতিপালক ভুল করেন না, ভুলেও যান না।’
ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ مَهْدًۭا وَسَلَكَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًۭا وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَخْرَجْنَا بِهِۦٓ أَزْوَٰجًۭا مِّن نَّبَاتٍۢ شَتَّىٰ ٥٣
আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা মাহদাঁ ওয়াসালাকা লাকুম ফীহা সুবুলাঁ ওয়াআনযালা মিনাস সামা-ই মা-আন ফাআখরাজনা বিহী আযওয়া-জাম মিন নাবা-তিন শাত্তা
যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে করেছেন বিছানা, আর তাতে তোমাদের জন্য ক’রে দিয়েছেন চলার পথ। আর আকাশ থেকে তিনি পানি বর্ষণ করেন আর তা দিয়ে আমি বিভিন্ন লতা-যুগল উদগত করি যার প্রত্যেকটি অন্যটি থেকে আলাদা।
كُلُوا۟ وَٱرْعَوْا۟ أَنْعَٰمَكُمْ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّأُو۟لِى ٱلنُّهَىٰ ٥٤
কুলূ ওয়ার‘আও আন‘আ-মাকুম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিউলিন নুহা
তোমরা খাও আর তোমাদের গবাদি পশু চরাও, এতে বিবেকবানদের জন্য বহু নিদর্শন আছে।
۞ مِنْهَا خَلَقْنَٰكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَىٰ ٥٥
মিনহা খালাকনা-কুম ওয়াফীহা নু‘ঈদুকুম ওয়ামিনহা নুখরিজুকুম তা-রাতান উখরা
মাটি থেকে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেব, আর তাত্থেকে তোমাদেরকে আবার বের করব।
وَلَقَدْ أَرَيْنَٰهُ ءَايَٰتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَأَبَىٰ ٥٦
ওয়ালাকাদ আরাইনা-হু আ-য়া-তিনা কুল্লাহা ফাকায্যাবা ওয়াআবা
আমি তাকে (অর্থাৎ ফেরাউনকে) আমার যাবতীয় নিদর্শন দেখিয়েছিলাম কিন্তু সে মিথ্যে মনে ক’রে প্রত্যাখ্যান করেছে ও অমান্য করেছে।
قَالَ أَجِئْتَنَا لِتُخْرِجَنَا مِنْ أَرْضِنَا بِسِحْرِكَ يَٰمُوسَىٰ ٥٧
কা-লা আজি’তানা লিতুখরিজানা মিন আরদিনা বিসিহরিকা ইয়া-মূসা
সে বলল, ‘হে মূসা! তুমি কি তোমার যাদুর বলে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্য এসেছ?
فَلَنَأْتِيَنَّكَ بِسِحْرٍۢ مِّثْلِهِۦ فَٱجْعَلْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ مَوْعِدًۭا لَّا نُخْلِفُهُۥ نَحْنُ وَلَآ أَنتَ مَكَانًۭا سُوًۭى ٥٨
ফালানা’তিয়ান্নাকা বিসিহরিম মিছলিহী ফাজ‘আল বাইনানা ওয়াবাইনাকা মাও‘ইদাল লা নুখলিফুহূ নাহনু ওয়ালা- আনতা মাকা-নান সুওয়া
তাহলে আমরাও অবশ্য অবশ্যই তোমার কাছে অনুরূপ যাদু হাযির করব, কাজেই একটা মধ্যবর্তী স্থানে আমাদের ও তোমাদের মিলিত হওয়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ কর যার খেলাফ আমরাও করব না, আর তুমিও করবে না।’
قَالَ مَوْعِدُكُمْ يَوْمُ ٱلزِّينَةِ وَأَن يُحْشَرَ ٱلنَّاسُ ضُحًۭى ٥٩
কা-লা মাও‘ইদুকুম ইয়াওমুয যীনাতি ওয়াআন ইউহশারান না-সু দুহা
মূসা বলল, ‘তোমাদের (সঙ্গে) ওয়া‘দার নির্ধারিত সময় হল উৎসবের দিন আর দুপুরের আগেই মানুষ যেন পৌঁছে যায়।’
فَتَوَلَّىٰ فِرْعَوْنُ فَجَمَعَ كَيْدَهُۥ ثُمَّ أَتَىٰ ٦٠
ফাতাওয়াল্লা ফির‘আওনু ফাজামা‘আ কাইদাহূ ছুম্মা আতা
তখন ফেরাউন উঠে গেল, অতঃপর তার কলা-কৌশল একত্র করল, তারপর ফিরে এল।
قَالَ لَهُم مُّوسَىٰ وَيْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًۭا فَيُسْحِتَكُم بِعَذَابٍۢ ۖ وَقَدْ خَابَ مَنِ ٱفْتَرَىٰ ٦١
কা-লা লাহুম মূসা ওয়াইলাকুম লা তাফতারূ ‘আলাল্লা-হি কাযিবান ফাইউসহিতাকুম বি‘আযা-বিঁ ওয়াকাদ খা-বা মানিফতারা
মূসা তাদেরকে বলল, ‘হায় তোমাদের দুর্ভাগ্য! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যে আরোপ করো না, করলে তিনি তোমাদেরকে ভয়ানক শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করে দেবেন। যে মিথ্যে আরোপ করে সে-ই ব্যর্থ হয়।’
فَتَنَٰزَعُوٓا۟ أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ وَأَسَرُّوا۟ ٱلنَّجْوَىٰ ٦٢
ফাতানা-যা‘ঊ আমরাহুম বাইনাহুম ওয়াআসার্রুন নাজওয়া
তখন তারা তাদের কাজ-কর্ম নিয়ে নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ করল আর তারা গোপনে পরামর্শ করল।
قَالُوٓا۟ إِنْ هَٰذَٰنِ لَسَٰحِرَٰنِ يُرِيدَانِ أَن يُخْرِجَاكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِمَا وَيَذْهَبَا بِطَرِيقَتِكُمُ ٱلْمُثْلَىٰ ٦٣
কা-লূ ইন হা-যা-নি লাসা-হিরা-নি ইউরীদা-নি আন ইউখরিজা-কুম মিন আরদিকুম বিসিহরিহিমা ওয়ায়াযহাবা বিতারীকাতিকুমুল মুছলা
তারা বলল, ‘এ দু’জন নিশ্চিতই যাদুকর, তারা তাদের যাদুর বলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায় আর তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন পদ্ধতি মুছে ফেলতে চায়।
فَأَجْمِعُوا۟ كَيْدَكُمْ ثُمَّ ٱئْتُوا۟ صَفًّۭا ۚ وَقَدْ أَفْلَحَ ٱلْيَوْمَ مَنِ ٱسْتَعْلَىٰ ٦٤
ফাআজমি‘ঊ কাইদাকুম ছুম্মা তূ সাফ্ফা ওয়াকাদ আফলাহাল ইয়াওমা মানিসতা‘লা
কাজেই তোমরা তোমাদের কলা-কৌশল একত্রিত কর, অতঃপর সারিবদ্ধ হয়ে হাজির হয়ে যাও। আজ যে বিজয় লাভ করবে, সে-ই (বরাবর) সফল হবে।’
قَالُوا۟ يَٰمُوسَىٰٓ إِمَّآ أَن تُلْقِىَ وَإِمَّآ أَن نَّكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَىٰ ٦٥
কা-লূ ইয়া-মূসা- ইম্মা- আন তুলকিয়া ওয়াইম্মা- আন নাকূনা আওয়ালা মান আলকা
তারা বলল, ‘হে মূসা! তুমিই (প্রথমে) নিক্ষেপ করবে, না আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করব?’
قَالَ بَلْ أَلْقُوا۟ ۖ فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِن سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَىٰ ٦٦
কা-লা বাল আলকূ ফাইযা হিবা-লুহুম ওয়া‘ইসিয়্যুহুম ইউখাইয়্যালু ইলাইহি মিন সিহরিহিম আন-নাহা তাস‘আ
মূসা বলল, ‘বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর।’ তখন তাদের যাদুর কারণে মূসার মনে হল যে, তাদের রশি আর লাঠিগুলো ছুটোছুটি করছে।
فَأَوْجَسَ فِى نَفْسِهِۦ خِيفَةًۭ مُّوسَىٰ ٦٧
ফাআওজাসা ফী নাফসিহী খীফাতাম মূসা
তখন মূসা তার মনে ভীতি অনুভব করল।
قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْأَعْلَىٰ ٦٨
কুলনা লা তাখাফ ইন্নাকা আনতাল আ‘লা
আমি বললাম, ‘ভয় করো না, তুমিই বিজয়ী হবে।’
وَأَلْقِ مَا فِى يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوٓا۟ ۖ إِنَّمَا صَنَعُوا۟ كَيْدُ سَٰحِرٍۢ ۖ وَلَا يُفْلِحُ ٱلسَّاحِرُ حَيْثُ أَتَىٰ ٦٩
ওয়াআলকি মা ফী ইয়ামীনিকা তালকাফ মা সানা‘ঊ ইন্নামা সানা‘ঊ কাইদু সা-হিরিঁ ওয়ালা ইউফলিহুস সা-হিরু হাইছু আতা
তোমার ডান হাতে যা আছে তা নিক্ষেপ কর, তারা যা করেছে এটা তা সব গিলে ফেলবে, তারা যা করেছে তাতো কেবল যাদুকরের কলা-কৌশল। যাদুকর যে রূপ ধরেই আসুক না কেন, সফল হবে না।’
فَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سُجَّدًۭا قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِرَبِّ هَٰرُونَ وَمُوسَىٰ ٧٠
ফাউলকিয়াস সাহারাতু সুজ্জাদান কা-লূ আ-মান্না বিরাব্বি হা-রূনা ওয়ামূসা
(মূসার স্পষ্ট নিদর্শন যখন দেখল) তখন যাদুকরেরা (আল্লাহর প্রতি) সাজদায় লুটিয়ে পড়ল। তারা বলল, ‘আমরা হারূন ও মূসার প্রতিপালকের উপর ঈমান আনলাম।’
قَالَ ءَامَنتُمْ لَهُۥ قَبْلَ أَنْ ءَاذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُۥ لَكَبِيرُكُمُ ٱلَّذِى عَلَّمَكُمُ ٱلسِّحْرَ ۖ فَلَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَٰفٍۢ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِى جُذُوعِ ٱلنَّخْلِ وَلَتَعْلَمُنَّ أَيُّنَآ أَشَدُّ عَذَابًۭا وَأَبْقَىٰ ٧١
কা-লা আ-মানতুম লাহূ কাবলা আন আ-যানা লাকুম ইন্নাহূ লাকাবীরুকুমুল লাযী ‘আল্লামাকুমুস সিহরা ফালাউকাত্তি‘আন্না আইদিয়াকুম ওয়াআরজুলাকুম মিন খিলা-ফিঁ ওয়ালাউসাল্লিবান্নাকুম ফী জুযূ‘ইন নাখলি ওয়ালাতা‘লামুন্না আইয়্যুনা- আশাদ্দু ‘আযা-বাঁ ওয়াআবকা
ফেরাউন বলল, ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান যে তোমাদেরকে যাদু শিখিয়েছে। কাজেই আমি অবশ্য অবশ্যই তোমাদের হাত আর পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব আর খেজুর গাছের শাখায় তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই শূলে চড়াব আর তখন তোমরা অবশ্য অবশ্যই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার ‘আযাব বেশি শক্ত আর বেশি স্থায়ী।
قَالُوا۟ لَن نُّؤْثِرَكَ عَلَىٰ مَا جَآءَنَا مِنَ ٱلْبَيِّنَٰتِ وَٱلَّذِى فَطَرَنَا ۖ فَٱقْضِ مَآ أَنتَ قَاضٍ ۖ إِنَّمَا تَقْضِى هَٰذِهِ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَآ ٧٢
কা-লূ লান নু’ছিরাকা ‘আলা মা জা-আনা মিনাল বাইয়্যিনা-তি ওয়াল্লাযী ফাতারানা ফাকদি মা- আনতা কা-দিন ইন্নামা তাকদী হা-যিহিল হায়া-তাদ দুনইয়া-
তারা বলল, ‘আমাদের নিকট যে স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তার উপর আমরা তোমাকে কক্ষনো প্রাধান্য দেব না। কাজেই তুমি যা করতে চাও তাই কর। কেননা তুমি কেবল এ পার্থিব জীবনেই কর্তৃত্ব খাটাতে পার।
إِنَّآ ءَامَنَّا بِرَبِّنَا لِيَغْفِرَ لَنَا خَطَٰيَٰنَا وَمَآ أَكْرَهْتَنَا عَلَيْهِ مِنَ ٱلسِّحْرِ ۗ وَٱللَّهُ خَيْرٌۭ وَأَبْقَىٰٓ ٧٣
ইন্না- আ-মান্না বিরাব্বিনা লিয়াগফিরা লানা খাতা-য়া-না ওয়ামা- আকরাহতানা ‘আলাইহি মিনাস সিহর ওয়াল্লা-হু খাইরুঁ ওয়াআবকা-
আমরা আমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান এনেছি যাতে তিনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করেন আর যে যাদু করতে তুমি আমাদেরকে বাধ্য করেছ তাও (ক্ষমা করেন), আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ ও স্থায়ী।’
إِنَّهُۥ مَن يَأْتِ رَبَّهُۥ مُجْرِمًۭا فَإِنَّ لَهُۥ جَهَنَّمَ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَىٰ ٧٤
ইন্নাহূ মান ইয়া’তি রাব্বাহূ মুজরিমান ফাইন্না লাহূ জাহান্নামা লা ইয়ামূতু ফীহা ওয়ালা ইয়াহইয়া
যে কেউ তার প্রতিপালকের নিকট অপরাধী অবস্থায় হাযির হবে তার জন্যে আছে জাহান্নাম, সেখানে সে না মরবে, আর না বাঁচবে।
وَمَن يَأْتِهِۦ مُؤْمِنًۭا قَدْ عَمِلَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَأُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلدَّرَجَٰتُ ٱلْعُلَىٰ ٧٥
ওয়ামান ইয়া’তিহী মু’মিনান কাদ ‘আমিলাস সা-লিহা-তি ফাউলা-ইকা লাহুমুদ দারাজা-তুল ‘উলা
যে কেউ সৎ ‘আমাল ক’রে মু’মিন অবস্থায় তাঁর নিকট হাযির হবে, তাদের জন্য আছে সুউচ্চ মর্যাদা।
جَنَّٰتُ عَدْنٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ جَزَآءُ مَن تَزَكَّىٰ ٧٦
জান্না-তু ‘আদনিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা ওয়াযা-লিকা জাযা-উ মান তাযাক্কা
স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে বয়ে চলছে নির্ঝরিণী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। যারা নিজেদেরকে পবিত্র করে তাদের এটাই পুরস্কার।
وَلَقَدْ أَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِى فَٱضْرِبْ لَهُمْ طَرِيقًۭا فِى ٱلْبَحْرِ يَبَسًۭا لَّا تَخَٰفُ دَرَكًۭا وَلَا تَخْشَىٰ ٧٧
ওয়ালাকাদ আওহাইনা- ইলা মূসা- আন আসরি বি‘ইবা-দী ফাদরিব লাহুম তারীকান ফিল বাহরি ইয়াবাসাল লা তাখা-ফু দারাকাঁ ওয়ালা তাখশা
আমি মূসাকে ওয়াহী করলাম যে, আমার বান্দাহদেরকে নিয়ে রাতের বেলা যাত্রা কর আর তাদের জন্য সমুদ্রের ভিতর একটা শুকনো পথ বানিয়ে নাও। আর পেছন থেকে (ফেরাউন) ধরে ফেলবে এ ভয় করো না, আর (অন্য কোন) আশঙ্কাও করো না।
فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ بِجُنُودِهِۦ فَغَشِيَهُم مِّنَ ٱلْيَمِّ مَا غَشِيَهُمْ ٧٨
ফাআতবা‘আহুম ফির‘আওনু বিজুনূদিহী ফাগাশিয়াহুম মিনাল ইয়াম্মি মা গাশিয়াহুম
অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্যসামন্ত নিয়ে তাদের পিছু নিল, অতঃপর সমুদ্র তাদের উপর চড়াও হল আর তাদেরকে ডুবিয়ে দিল।
وَأَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَهُۥ وَمَا هَدَىٰ ٧٩
ওয়াআদাল্লা ফির‘আওনু কাওমাহূ ওয়ামা হাদা
ফেরাউন তার জাতিকে বিপথগামী করেছিল এবং তাদেরকে সঠিক পথ দেখায়নি।
يَٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ قَدْ أَنجَيْنَٰكُم مِّنْ عَدُوِّكُمْ وَوَٰعَدْنَٰكُمْ جَانِبَ ٱلطُّورِ ٱلْأَيْمَنَ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكُمُ ٱلْمَنَّ وَٱلسَّلْوَىٰ ٨٠
ইয়া-বানী ইসরা-ঈলা কাদ আনজাইনা-কুম মিন ‘আদুউইকুম ওয়াওয়া-‘আদনা-কুম জা-নিবাত তূরিল আইমানা ওয়ানায্যালনা ‘আলাইকুমুল মান্না ওয়াস্সালওয়া
হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শত্রুর কবল থেকে উদ্ধার করেছিলাম আর আমি তোমাদেরকে তূর পাহাড়ের ডানপাশে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম (তাওরাত দানের জন্য) আর তোমাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম মান্না ও সালওয়া।
كُلُوا۟ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقْنَٰكُمْ وَلَا تَطْغَوْا۟ فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِى ۖ وَمَن يَحْلِلْ عَلَيْهِ غَضَبِى فَقَدْ هَوَىٰ ٨١
কুলূ মিন তাইয়্যিবা-তি মা রাযাকনা-কুম ওয়ালা তাতগাও ফীহি ফায়াহিল্লা ‘আলাইকুম গাদাবী ওয়ামান ইয়াহলিল ‘আলাইহি গাদাবী ফাকাদ হাওয়া
তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তাত্থেকে উত্তমগুলো আহার কর, আর এতে বাড়াবাড়ি করো না, করলে তোমাদের উপর আমার ‘আযাব সাব্যস্ত হয়ে যাবে। আর আমার ‘আযাব যার উপর সাব্যস্ত হয় সে তো ধ্বংসই হয়ে যায়।
وَإِنِّى لَغَفَّارٌۭ لِّمَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحًۭا ثُمَّ ٱهْتَدَىٰ ٨٢
ওয়াইন্নী লাগাফ্ফা-রুল লিমান তা-বা ওয়াআ-মানা ওয়া‘আমিলা সা-লিহান ছুম্মাহতাদা
আর যে তাওবাহ করে, ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার জন্য অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল।
۞ وَمَآ أَعْجَلَكَ عَن قَوْمِكَ يَٰمُوسَىٰ ٨٣
ওয়ামা- আ‘জালাকা ‘আন কাওমিকা ইয়া-মূসা
‘হে মূসা! তোমার সম্প্রদায়কে পেছনে ফেলে (তূর পাহাড়ে আসতে) তুমি জলদি করলে কেন?’
قَالَ هُمْ أُو۟لَآءِ عَلَىٰٓ أَثَرِى وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ رَبِّ لِتَرْضَىٰ ٨٤
কা-লা হুম উলা-ই ‘আলা- আছারী ওয়া‘আজিলতু ইলাইকা রাব্বি লিতারদা
মূসা বলল, ‘এই তো তারা আমার পদচিহ্ন ধরে আসছে, আমি আপনার কাছে জলদি এলাম, হে আমার প্রতিপালক! যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন।’
قَالَ فَإِنَّا قَدْ فَتَنَّا قَوْمَكَ مِنۢ بَعْدِكَ وَأَضَلَّهُمُ ٱلسَّامِرِىُّ ٨٥
কা-লা ফাইন্না কাদ ফাতান্না কাওমাকা মিম বা‘দিকা ওয়াআদাল্লাহুমুস সা-মিরিই
তিনি বললেন, ‘তোমার অনুপস্থিতিতে আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছি আর সামিরী তাদেরকে গুমরাহ্ করেছে।
فَرَجَعَ مُوسَىٰٓ إِلَىٰ قَوْمِهِۦ غَضْبَٰنَ أَسِفًۭا ۚ قَالَ يَٰقَوْمِ أَلَمْ يَعِدْكُمْ رَبُّكُمْ وَعْدًا حَسَنًا ۚ أَفَطَالَ عَلَيْكُمُ ٱلْعَهْدُ أَمْ أَرَدتُّمْ أَن يَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ فَأَخْلَفْتُم مَّوْعِدِى ٨٦
ফারাজা‘আ মূসা- ইলা কাওমিহী গাদবা-না আসিফা কা-লা ইয়া-কাওমি আলাম ইয়া‘ইদকুম রাব্বুকুম ওয়া‘দান হাসানা আফাতা-লা ‘আলাইকুমুল ‘আহদু আম আরাত্তুম আন ইয়াহিল্লা ‘আলাইকুম গাদাবুম মির রাব্বিকুম ফাআখলাফতুম মাও‘ইদী
তখন মূসা রাগে-দুঃখে তার জাতির কাছে ফিরে গেল। সে বলল, ‘হে আমার জাতি! তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদের সঙ্গে ও‘য়াদা করেননি, এক উত্তম ওয়া‘দা। ওয়া‘দা (পূরণের সময় আসতে) কি তোমাদের নিকট সুদীর্ঘ মনে হয়েছে, নাকি তোমরা চেয়েছ যে, তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের শাস্তি নেমে আসুক, যে কারণে তোমরা আমার কাছে দেয়া তোমাদের ওয়া‘দা ভঙ্গ করলে?’
قَالُوا۟ مَآ أَخْلَفْنَا مَوْعِدَكَ بِمَلْكِنَا وَلَٰكِنَّا حُمِّلْنَآ أَوْزَارًۭا مِّن زِينَةِ ٱلْقَوْمِ فَقَذَفْنَٰهَا فَكَذَٰلِكَ أَلْقَى ٱلسَّامِرِىُّ ٨٧
কা-লূ মা- আখলাফনা মাও‘ইদাকা বিমালকিনা ওয়ালা-কিন্না হুম্মিলনা- আওযা-রাম মিন যীনাতিল কাওমি ফাকাযাফনা-হা ফাকাযা-লিকা আলকাস সা-মিরিই
তারা বলল, ‘আমাদের সাধ্য থাকা পর্যন্ত আমরা তোমার প্রতি দেয়া আমাদের ওয়া‘দা ভঙ্গ করিনি, কিন্তু আমাদের উপর লোকেদের অলঙ্কারের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, আর আমরা তা নিক্ষেপ করেছিলাম (আগুনে), এমনিভাবে সামিরীও নিক্ষেপ করেছিল।
فَأَخْرَجَ لَهُمْ عِجْلًۭا جَسَدًۭا لَّهُۥ خُوَارٌۭ فَقَالُوا۟ هَٰذَآ إِلَٰهُكُمْ وَإِلَٰهُ مُوسَىٰ فَنَسِىَ ٨٨
ফাআখরাজা লাহুম ‘ইজলান জাসাদাল লাহূ খুওয়া-রুন ফাকা-লূ হা-যা- ইলা-হুকুম ওয়াইলা-হু মূসা ফানাসিই
তখন সে (আগুন থেকে) গো-বৎসের প্রতিকৃতি বের করল, মনে হত সেটা যেন হাম্বা রব করছে। অতঃপর তারা বলল, ‘এটাই তোমাদের ইলাহ আর মূসারও ইলাহ, কিন্তু মূসা ভুলে গেছে।’
أَفَلَا يَرَوْنَ أَلَّا يَرْجِعُ إِلَيْهِمْ قَوْلًۭا وَلَا يَمْلِكُ لَهُمْ ضَرًّۭا وَلَا نَفْعًۭا ٨٩
আফালা ইয়ারাওনা আল্লা ইয়ারজি‘উ ইলাইহিম কাওলাঁ ওয়ালা ইয়ামলিকু লাহুম দার্রাঁ ওয়ালা নাফ‘আ
তারা কি ভেবে দেখে না যে, তা তাদের কথার জবাব দেয় না, আর তা তাদের কোন ক্ষতি বা উপকার করার সামর্থ্যও রাখে না?
وَلَقَدْ قَالَ لَهُمْ هَٰرُونُ مِن قَبْلُ يَٰقَوْمِ إِنَّمَا فُتِنتُم بِهِۦ ۖ وَإِنَّ رَبَّكُمُ ٱلرَّحْمَٰنُ فَٱتَّبِعُونِى وَأَطِيعُوٓا۟ أَمْرِى ٩٠
ওয়ালাকাদ কা-লা লাহুম হা-রূনু মিন কাবলু ইয়া-কাওমি ইন্নামা ফুতিনতুম বিহী ওয়াইন্না রাব্বাকুমুর রাহমা-নু ফাত্তাবি‘ঊনী ওয়াআতী‘ঊ আমরী
হারূন তাদেরকে আগেই বলেছিল, ‘হে আমার জাতির লোকেরা! এর (অর্থাৎ গো-বৎসের) দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে, তোমাদের প্রতিপালক হলেন দয়াময় (আল্লাহ), কাজেই তোমরা আমার অনুসরণ কর আর আমার কথা মান্য কর।
قَالُوا۟ لَن نَّبْرَحَ عَلَيْهِ عَٰكِفِينَ حَتَّىٰ يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَىٰ ٩١
কা-লূ লান নাবরাহা ‘আলাইহি ‘আ-কিফীনা হাত্তা ইয়ারজি‘আ ইলাইনা মূসা
তারা বলল, ‘আমাদের কাছে মূসা ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা সদাসর্বদা এর সাথেই সংযুক্ত হয়ে থাকব।
قَالَ يَٰهَٰرُونُ مَا مَنَعَكَ إِذْ رَأَيْتَهُمْ ضَلُّوٓا۟ ٩٢
কা-লা ইয়া-হা-রূনু মা মানা‘আকা ইয রাআইতাহুম দাল্লূ
সে (মূসা) বলল, ‘হে হারূন! তুমি যখন দেখলে যে, তারা গুমরাহ্ হয়ে গেছে তখন তোমাকে কে নিষেধ করল
أَلَّا تَتَّبِعَنِ ۖ أَفَعَصَيْتَ أَمْرِى ٩٣
আল্লা তাত্তাবি‘আনি আফা‘আসাইতা আমরী
আমাকে অনুসরণ করতে? তাহলে তুমি কি আমার আদেশ অমান্য করলে?
قَالَ يَبْنَؤُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِى وَلَا بِرَأْسِىٓ ۖ إِنِّى خَشِيتُ أَن تَقُولَ فَرَّقْتَ بَيْنَ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ وَلَمْ تَرْقُبْ قَوْلِى ٩٤
কা-লা ইয়াবনাউম্মা লা তা’খুয বিলিহইয়াতী ওয়ালা বিরা’সী ইন্নী খাশীতু আন তাকূলা ফার্রাকতা বাইনা বানী ইসরা-ঈলা ওয়ালাম তারকুব কাওলী
হারূন বলল, ‘হে আমার মায়ের পুত্র! আমার দাড়ি ধরে টেন না, আর আমার (মাথার) চুল ধরেও টেন না, আমি ভয় করেছিলাম তুমি বলবে যে, বানী ইসরাঈলের মাঝে তুমি বিভেদ সৃষ্টি করেছ আর তুমি আমার কথা পালন করনি।’
قَالَ فَمَا خَطْبُكَ يَٰسَٰمِرِىُّ ٩٥
কা-লা ফামা খাতবুকা ইয়া-সা-মিরিই
মূসা বলল, ‘এখন তোমার ব্যাপারটা কী, হে সামিরী?’
قَالَ بَصُرْتُ بِمَا لَمْ يَبْصُرُوا۟ بِهِۦ فَقَبَضْتُ قَبْضَةًۭ مِّنْ أَثَرِ ٱلرَّسُولِ فَنَبَذْتُهَا وَكَذَٰلِكَ سَوَّلَتْ لِى نَفْسِى ٩٦
কা-লা বাসুরতু বিমা লাম ইয়াবসুরূ বিহী ফাকাবাদতু কাবদাতাম মিন আছারির রাসূলি ফানাবাযতুহা ওয়াকাযা-লিকা সাওয়ালাত লী নাফসী
সে বলল, ‘আমি দেখেছি যা ওরা দেখেনি, অতঃপর আমি প্রেরিত ব্যক্তির (অর্থাৎ জিবরীলের) পদচিহ্ন থেকে এক মুঠ মাটি নিলাম, অতঃপর আমি তা নিক্ষেপ করলাম (বাছুরের প্রতিকৃতিতে)। আমার মন আমাকে এ মন্ত্রণাই দিল।’
قَالَ فَٱذْهَبْ فَإِنَّ لَكَ فِى ٱلْحَيَوٰةِ أَن تَقُولَ لَا مِسَاسَ ۖ وَإِنَّ لَكَ مَوْعِدًۭا لَّن تُخْلَفَهُۥ ۖ وَٱنظُرْ إِلَىٰٓ إِلَٰهِكَ ٱلَّذِى ظَلْتَ عَلَيْهِ عَاكِفًۭا ۖ لَّنُحَرِّقَنَّهُۥ ثُمَّ لَنَنسِفَنَّهُۥ فِى ٱلْيَمِّ نَسْفًا ٩٧
কা-লা ফাযহাব ফাইন্না লাকা ফিল হায়া-তি আন তাকূলা লা মিসা-সা ওয়াইন্না লাকা মাও‘ইদাল লান তুখলাফাহূ ওয়ানযুর ইলা- ইলা-হিকাল লাযী যালতা ‘আলাইহি ‘আ-কিফাল লানুহার্রিকান্নাহূ ছুম্মা লানানসিফান্নাহূ ফিল ইয়াম্মি নাসফা
মূসা বলল, ‘তুই দূর হ! এ জীবনে তোর জন্য এ শাস্তিই থাকল যে, তুই বলবি- আমাকে স্পর্শ করো না, আর তোর জন্য একটা নির্দিষ্ট ওয়া‘দা আছে যার খেলাফ হবে না। আর তোর ইলাহর পানে চেয়ে দেখ যাকে তুই ঘিরে থাকতি, আমি তাকে অবশ্য অবশ্যই জ্বলন্ত আগুনে জ্বালিয়ে দেব, আর তাকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবশ্য অবশ্যই সাগরে নিক্ষেপ করব।’
إِنَّمَآ إِلَٰهُكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِى لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ وَسِعَ كُلَّ شَىْءٍ عِلْمًۭا ٩٨
ইন্নামা- ইলা-হুকুমুল্লা-হুল লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা হুও ওয়াসি‘আ কুল্লা শাইইন ‘ইলমা
তোমাদের ইলাহ একমাত্র আল্লাহ, যিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। যাবতীয় বিষয়ে তাঁর জ্ঞান পরিব্যাপ্ত।
كَذَٰلِكَ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنۢبَآءِ مَا قَدْ سَبَقَ ۚ وَقَدْ ءَاتَيْنَٰكَ مِن لَّدُنَّا ذِكْرًۭا ٩٩
কাযা-লিকা নাকুস্সু ‘আলাইকা মিন আমবা-ই মা কাদ সাবাক ওয়াকাদ আ-তাইনা-কা মিল লাদুন্না যিকরা
এভাবে পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি, আর আমি আমার নিকট থেকে তোমাকে দান করেছি উপদেশ (বা কুরআন)।
مَّنْ أَعْرَضَ عَنْهُ فَإِنَّهُۥ يَحْمِلُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وِزْرًا ١٠٠
মান আ‘রাদা ‘আনহু ফাইন্নাহূ ইয়াহমিলু ইয়াওমাল কিয়া-মাতি উইযরা
যে তাত্থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, কিয়ামাতের দিন সে (পাপের) বোঝা বহন করবে।
خَٰلِدِينَ فِيهِ ۖ وَسَآءَ لَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ حِمْلًۭا ١٠١
খা-লিদীনা ফীহি ওয়াসা-আ লাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি হিমলা
তারা এ অবস্থাতেই স্থায়ীভাবে থাকবে, কিয়ামাতের দিন এ বোঝা তাদের জন্য কতই না মন্দ হবে!
يَوْمَ يُنفَخُ فِى ٱلصُّورِ ۚ وَنَحْشُرُ ٱلْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍۢ زُرْقًۭا ١٠٢
ইয়াওমা ইউনফাখু ফিস সূর ওয়ানাহশুরুল মুজরিমীনা ইয়াওমাইযিন যুরকা
যেদিন সিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে আর আমি অপরাধীদেরকে একত্রিত করব (ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত) দৃষ্টিহীন অবস্থায়।
يَتَخَٰفَتُونَ بَيْنَهُمْ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا عَشْرًۭا ١٠٣
ইয়াতাখা-ফাতূনা বাইনাহুম ইল লাবিছতুম ইল্লা ‘আশরা
তারা চুপিসারে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করবে যে, (দুনিয়াতে) দশ দিনের বেশি তোমরা অবস্থান করনি।
نَّحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُونَ إِذْ يَقُولُ أَمْثَلُهُمْ طَرِيقَةً إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا يَوْمًۭا ١٠٤
নাহনু আ‘লামু বিমা ইয়াকূলূনা ইয ইয়াকূলু আমছালুহুম তারীকাতান ইল লাবিছতুম ইল্লা ইয়াওমা
আমি ভালভাবেই জানি তারা যা বলে। তাদের মধ্যে যে উত্তম পথের অনুসারী সে বলবে, ‘তোমরা একদিনের বেশি অবস্থান করনি।’
وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْجِبَالِ فَقُلْ يَنسِفُهَا رَبِّى نَسْفًۭا ١٠٥
ওয়ায়াসআলূনাকা ‘আনিল জিবা-লি ফাকুল ইয়ানসিফুহা রাব্বী নাসফা
তারা তোমাকে পর্বতগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, আমার প্রতিপালক সেগুলো সমূলে উৎপাটিত করবেন এবং ধূলির ন্যায় বিক্ষিপ্ত করবেন।
فَيَذَرُهَا قَاعًۭا صَفْصَفًۭا ١٠٦
ফায়াযারুহা কা-‘আন সাফসাফা
অতঃপর তিনি তাকে (অর্থাৎ ভূমিকে) মসৃণ সমতলভূমি করে ছাড়বেন।
لَّا تَرَىٰ فِيهَا عِوَجًۭا وَلَآ أَمْتًۭا ١٠٧
লা তারা ফীহা ‘ইওয়াজাঁ ওয়ালা- আমতা
তাতে তুমি দেখবে না কোন বক্রতা ও উচ্চতা।
يَوْمَئِذٍۢ يَتَّبِعُونَ ٱلدَّاعِىَ لَا عِوَجَ لَهُۥ ۖ وَخَشَعَتِ ٱلْأَصْوَاتُ لِلرَّحْمَٰنِ فَلَا تَسْمَعُ إِلَّا هَمْسًۭا ١٠٨
ইয়াওমাইযিঁ ইয়াত্তাবি‘ঊনাদ দা-‘ইয়া লা ‘ইওয়াজা লাহূ ওয়াখাশা‘আতিল আসওয়া-তু লির্রাহমা-নি ফালা তাসমা‘উ ইল্লা হামসা
সেদিন তারা (সোজাসুজি) আহবানকারীর অনুসরণ করবে যার কথা এদিক ওদিক হবে না। দয়াময়ের সম্মুখে সেদিন যাবতীয় আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে যাবে (এমনভাবে) যে মৃদু গুঞ্জন ছাড়া তুমি কিছুই শুনবে না।
يَوْمَئِذٍۢ لَّا تَنفَعُ ٱلشَّفَٰعَةُ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحْمَٰنُ وَرَضِىَ لَهُۥ قَوْلًۭا ١٠٩
ইয়াওমাইযিল লা তানফা‘উশ শাফা-‘আতু ইল্লা মান আযিনা লাহুর রাহমা-নু ওয়ারাদিয়া লাহূ কাওলা
সেদিন কারো সুপারিশ কোন কাজে আসবে না, দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন আর যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন তার (সুপারিশ) ব্যতীত।
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِۦ عِلْمًۭا ١١٠
ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম ওয়ালা ইউহীতূনা বিহী ‘ইলমা
তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে তা তিনি জানেন, তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না।
۞ وَعَنَتِ ٱلْوُجُوهُ لِلْحَىِّ ٱلْقَيُّومِ ۖ وَقَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْمًۭا ١١١
ওয়া‘আনাতিল উজূহু লিলহাইয়্যিল কাইয়্যূমি ওয়াকাদ খা-বা মান হামালা যুলমা
চিরঞ্জীব চিরস্থায়ীর সম্মুখে সকলেই হবে অধোমুখী, আর সে ব্যর্থ হবে যে যুলমের (পাপের) ভার বহন করবে।
وَمَن يَعْمَلْ مِنَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌۭ فَلَا يَخَافُ ظُلْمًۭا وَلَا هَضْمًۭا ١١٢
ওয়ামান ইয়া‘মাল মিনাস সা-লিহা-তি ওয়াহুওয়া মু’মিনুন ফালা ইয়াখা-ফু যুলমাঁ ওয়ালা হাদমা
যে সৎ কাজ করবে মু’মিন হয়ে, তার অবিচার বা ক্ষতির কোন আশংকা নেই।
وَكَذَٰلِكَ أَنزَلْنَٰهُ قُرْءَانًا عَرَبِيًّۭا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ ٱلْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًۭا ١١٣
ওয়াকাযা-লিকা আনযালনা-হু কুরআ-নান ‘আরাবিয়্যাঁ ওয়াসার্রাফনা ফীহি মিনাল ওয়া‘ঈদি লা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূনা আও ইউহদিছু লাহুম যিকরা
এভাবেই আমি কুরআনকে আরবী ভাষায় নাযিল করেছি আর তাতে সতর্কবাণী বিস্তারিতভাবে বিবৃত করেছি যাতে তারা আল্লাহকে ভয় করে অথবা তা হয় তাদের জন্য উপদেশ।
فَتَعَٰلَى ٱللَّهُ ٱلْمَلِكُ ٱلْحَقُّ ۗ وَلَا تَعْجَلْ بِٱلْقُرْءَانِ مِن قَبْلِ أَن يُقْضَىٰٓ إِلَيْكَ وَحْيُهُۥ ۖ وَقُل رَّبِّ زِدْنِى عِلْمًۭا ١١٤
ফাতা‘আ-লাল্লা-হুল মালিকুল হাক্ক ওয়ালা তা‘জাল বিলকুরআ-নি মিন কাবলি আন ইউকদা- ইলাইকা ওয়াহইউহূ ওয়াকুর রাব্বি যিদনী ‘ইলমা
আল্লাহ সর্বোচ্চ, প্রকৃত অধিপতি, তোমার প্রতি (আল্লাহর) ওয়াহী সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তুমি কুরআন বক্ষে ধারণের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করো না। আর বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! জ্ঞানে আমায় সমৃদ্ধি দান করুন।’
وَلَقَدْ عَهِدْنَآ إِلَىٰٓ ءَادَمَ مِن قَبْلُ فَنَسِىَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُۥ عَزْمًۭا ١١٥
ওয়ালাকাদ ‘আহিদনা- ইলা- আ-দামা মিন কাবলু ফানাসিয়া ওয়ালাম নাজিদ লাহূ ‘আযমা
ইতোপূর্বে আমি আদামের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল, আমি তাকে দৃঢ়-সংকল্প পাইনি।
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ٱسْجُدُوا۟ لِءَادَمَ فَسَجَدُوٓا۟ إِلَّآ إِبْلِيسَ أَبَىٰ ١١٦
ওয়াইয কুলনা লিলমালা-ইকাতিসজুদূ লিআ-দামা ফাসাজাদূ ইল্লা- ইবলীসা আবা
স্মরণ কর, যখন ফেরেশতাগণকে বলেছিলাম, ‘তোমরা আদামকে সেজদা কর,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সেজদা করল, সে অমান্য করল।
فَقُلْنَا يَٰٓـَٔادَمُ إِنَّ هَٰذَا عَدُوٌّۭ لَّكَ وَلِزَوْجِكَ فَلَا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ ٱلْجَنَّةِ فَتَشْقَىٰٓ ١١٧
ফাকুলনা ইয়া-আ-দামু ইন্না হা-যা ‘আদুউল লাকা ওয়ালিযাওজিকা ফালা ইউখরিজান্নাকুমা মিনাল জান্নাতি ফাতাশকা-
তখন আমি বললাম, ‘হে আদাম! এ হচ্ছে তোমার আর তোমার স্ত্রীর দুশমন। কাজেই সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, তাহলে তোমরা দুর্দশায় পতিত হবে।
إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَىٰ ١١٨
ইন্না লাকা আল্লা তাজূ‘আ ফীহা ওয়ালা তা‘রা
তোমার জন্য (এত অধিক পরিমাণ) দেয়া হল যে, তুমি সেখানে (অর্থাৎ জান্নাতে) ক্ষুধার্তও হবে না, নগ্নও হবে না।
وَأَنَّكَ لَا تَظْمَؤُا۟ فِيهَا وَلَا تَضْحَىٰ ١١٩
ওয়াআন্নাকা লা তাযমাউ ফীহা ওয়ালা তাদহা
সেখানে তুমি তৃষ্ণার্তও হবে না, রোদেও পুড়বে না।
فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ ٱلشَّيْطَٰنُ قَالَ يَٰٓـَٔادَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَىٰ شَجَرَةِ ٱلْخُلْدِ وَمُلْكٍۢ لَّا يَبْلَىٰ ١٢٠
ফাওয়াসওয়াসা ইলাইহিশ শাইতা-নু কা-লা ইয়া-আ-দামু হাল আদুল্লুকা ‘আলা শাজারাতিল খুলদি ওয়ামুলকিল লা ইয়াবলা
কিন্তু শয়ত্বান তাকে কুমন্ত্রণা দিল। সে বলল, ‘হে আদাম! আমি কি তোমাকে জানিয়ে দেব চিরস্থায়ী জীবনদায়ী গাছের কথা আর এমন রাজ্যের কথা যা কোনদিন ক্ষয় হবে না?’
فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْءَٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ ٱلْجَنَّةِ ۚ وَعَصَىٰٓ ءَادَمُ رَبَّهُۥ فَغَوَىٰ ١٢١
ফাআকালা মিনহা ফাবাদাত লাহুমা সাওআ-তুহুমা ওয়াতাফিকা ইয়াখসিফা-নি ‘আলাইহিমা মিন ওয়ারাকিল জান্নাহ ওয়া‘আসা- আ-দামু রাব্বাহূ ফাগাওয়া
অতঃপর তারা (স্বামী-স্ত্রী) দু’জনে তা (অর্থাৎ সেই গাছ) থেকে খেল তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান খুলে গেল আর তারা জান্নাতের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে ঢাকতে লাগল। আদাম তার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করল, ফলে সে পথভ্রান্ত হয়ে গেল।
ثُمَّ ٱجْتَبَٰهُ رَبُّهُۥ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَىٰ ١٢٢
ছুম্মাজতাবা-হু রাব্বুহূ ফাতা-বা ‘আলাইহি ওয়াহাদা
এরপর তার পালনকর্তা তাকে বাছাই করলেন, তার তাওবাহ কবূল করলেন এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করলেন।
قَالَ ٱهْبِطَا مِنْهَا جَمِيعًۢا ۖ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّۭ ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّى هُدًۭى فَمَنِ ٱتَّبَعَ هُدَاىَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَىٰ ١٢٣
কা-লাহবিতা মিনহা জামী‘আম বা‘দুকুম লিবা‘দিন ‘আদুউন ফাইম্মা ইয়া’তিয়ান্নাকুম মিন্নী হুদান ফামানিত তাবা‘আ হুদা-য়া ফালা ইয়াদিল্লু ওয়ালা ইয়াশকা
তিনি বললেন, ‘তোমরা দু’জনে (আদাম ও ইবলীস) একই সঙ্গে নীচে নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু। অতঃপর আমার নিকট থেকে তোমাদের কাছে সঠিক পথের নির্দেশ আসবে, তখন যে আমার পথ নির্দেশ অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না।
وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِى فَإِنَّ لَهُۥ مَعِيشَةًۭ ضَنكًۭا وَنَحْشُرُهُۥ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ أَعْمَىٰ ١٢٤
ওয়ামান আ‘রাদা ‘আন যিকরী ফাইন্না লাহূ মা‘ঈশাতান দানকাঁ ওয়ানাহশুরুহূ ইয়াওমাল কিয়া-মাতি আ‘মা
আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা হবে সংকীর্ণ আর তাকে কিয়ামাতের দিন উত্থিত করব অন্ধ অবস্থায়।’
قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِىٓ أَعْمَىٰ وَقَدْ كُنتُ بَصِيرًۭا ١٢٥
কা-লা রাব্বি লিমা হাশারতানী আ‘মা ওয়াকাদ কুনতু বাসীরা
সে বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ ক’রে উঠালে? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম।’
قَالَ كَذَٰلِكَ أَتَتْكَ ءَايَٰتُنَا فَنَسِيتَهَا ۖ وَكَذَٰلِكَ ٱلْيَوْمَ تُنسَىٰ ١٢٦
কা-লা কাযা-লিকা আতাতকা আ-য়া-তুনা ফানাসীতাহা ওয়াকাযা-লিকাল ইয়াওমা তুনসা
আল্লাহ বলবেন, ‘এভাবেই তো আমার নিদর্শনসমূহ যখন তোমার কাছে এসেছিল তখন তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। আজকের দিনে সেভাবেই তোমাকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে।
وَكَذَٰلِكَ نَجْزِى مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنۢ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِۦ ۚ وَلَعَذَابُ ٱلْءَاخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَىٰٓ ١٢٧
ওয়াকাযা-লিকা নাজযী মান আসরাফা ওয়ালাম ইউ’মিম বিআ-য়া-তি রাব্বিহ ওয়ালা‘আযা-বুল আ-খিরাতি আশাদ্দু ওয়াআবকা-
আমি এভাবেই প্রতিফল দেই তাদেরকে যারা সীমালঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের নিদর্শনে বিশ্বাস করে না। আর আখিরাতের ‘আযাব অবশ্যই সবচেয়ে বেশী কঠিন ও সবচেয়ে বেশী স্থায়ী।
أَفَلَمْ يَهْدِ لَهُمْ كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّنَ ٱلْقُرُونِ يَمْشُونَ فِى مَسَٰكِنِهِمْ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّأُو۟لِى ٱلنُّهَىٰ ١٢٨
আফালাম ইয়াহদি লাহুম কাম আহলাকনা কাবলাহুম মিনাল কুরূনি ইয়ামশূনা ফী মাসা-কিনিহিম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিউলিন নুহা
এটাও কি তাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করল না যে, আমি তাদের আগে কত মানব বংশকে ধ্বংস করে দিয়েছি যাদের বাসস্থানের ভিতর দিয়ে এরা চলাচল করে। বুদ্ধিমানদের জন্য অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে।
وَلَوْلَا كَلِمَةٌۭ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَكَانَ لِزَامًۭا وَأَجَلٌۭ مُّسَمًّۭى ١٢٩
ওয়ালাওলা কালিমাতুন সাবাকাত মির রাব্বিকা লাকা-না লিযা-মাঁ ওয়াআজালুম মুসাম্মা
তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে (তাদের শাস্তি) অবশ্যই এসে পড়ত, কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট আছে একটি সময়।
فَٱصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ ٱلشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا ۖ وَمِنْ ءَانَآئِ ٱلَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ ٱلنَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضَىٰ ١٣٠
ফাসবির ‘আলা মা ইয়াকূলূনা ওয়াসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা কাবলা তুলূ‘ইশ শামসি ওয়াকাবলা গুরূবিহা ওয়ামিন আ-না-ইল লাইলি ফাসাব্বিহ ওয়াআতরা-ফান নাহা-রি লা‘আল্লাকা তারদা
কাজেই তারা যা বলছে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাগীতি (নিয়মিত) উচ্চারণ কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও তা অস্তমিত হওয়ার পূর্বে এবং তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর রাত্রিকালে ও দিনের প্রান্তগুলোয় যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পার।
وَلَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَىٰ مَا مَتَّعْنَا بِهِۦٓ أَزْوَٰجًۭا مِّنْهُمْ زَهْرَةَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ ۚ وَرِزْقُ رَبِّكَ خَيْرٌۭ وَأَبْقَىٰ ١٣١
ওয়ালা তামুদ্দান্না ‘আইনাইকা ইলা মা মাত্তা‘না বিহী আযওয়া-জাম মিনহুম যাহরাতাল হায়া-তিদ দুনইয়া লিনাফতিনাহুম ফীহ ওয়ারিযকু রাব্বিকা খাইরুঁ ওয়াআবকা
তুমি কক্ষনো চোখ খুলে তাকিও না ঐ সব বস্তুর প্রতি যা আমি তাদের বিভিন্ন দলকে পার্থিব জীবনে উপভোগের জন্য সৌন্দর্য স্বরূপ দিয়েছি, এসব দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। তোমার প্রতিপালকের দেয়া রিযকই হল সবচেয়ে উত্তম ও সবচেয়ে বেশী স্থায়ী।
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱصْطَبِرْ عَلَيْهَا ۖ لَا نَسْـَٔلُكَ رِزْقًۭا ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكَ ۗ وَٱلْعَٰقِبَةُ لِلتَّقْوَىٰ ١٣٢
ওয়া’মুর আহলাকা বিস্সালা-তি ওয়াসতাবির ‘আলাইহা লা নাসআলুকা রিযকান নাহনু নারযুকুক ওয়াল‘আ-কিবাতু লিত্তাকওয়া
আর তোমার পবিরার-পরিজনকে নামাযের নির্দেশ দাও আর তাতে অবিচল থাক। তোমার কাছে আমি রিযক চাই না, আমিই তোমাকে রিযক দিয়ে থাকি, উত্তম পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য নির্দিষ্ট।
وَقَالُوا۟ لَوْلَا يَأْتِينَا بِـَٔايَةٍۢ مِّن رَّبِّهِۦٓ ۚ أَوَلَمْ تَأْتِهِم بَيِّنَةُ مَا فِى ٱلصُّحُفِ ٱلْأُولَىٰ ١٣٣
ওয়াকা-লূ লাওলা ইয়া’তীনা বিআ-য়াতিম মির রাব্বিহ আওয়ালাম তা’তিহিম বাইয়্যিনাতু মা ফিস সুহুফিল ঊলা
তারা বলে, ‘সে তার প্রতিপালকের নিকট থেকে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন? তাদের কাছে কি আসেনি স্পষ্ট প্রমাণ যা ছিল পূর্ববর্তী (ওয়াহীকৃত) কিতাবগুলোতে।’
وَلَوْ أَنَّآ أَهْلَكْنَٰهُم بِعَذَابٍۢ مِّن قَبْلِهِۦ لَقَالُوا۟ رَبَّنَا لَوْلَآ أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًۭا فَنَتَّبِعَ ءَايَٰتِكَ مِن قَبْلِ أَن نَّذِلَّ وَنَخْزَىٰ ١٣٤
ওয়ালাও আন-না- আহলাকনা-হুম বি‘আযা-বিম মিন কাবলিহী লাকা-লূ রাব্বানা লাওলা- আরসালতা ইলাইনা রাসূলান ফানাত্তাবি‘আ আ-য়া-তিকা মিন কাবলি আন নাযিল্লা ওয়ানাখযা
এর (অর্থাৎ কোন নিদর্শন আসার) আগেই আমি যদি তাদেরকে ‘আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিতাম তাহলে তারা বলত, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের কাছে কেন একজন রসূল পাঠালে না? তাহলে আমরা অবশ্যই তোমার নিদর্শন মেনে চলতাম আমরা অপমানিত ও হেয় হবার আগেই।
قُلْ كُلٌّۭ مُّتَرَبِّصٌۭ فَتَرَبَّصُوا۟ ۖ فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ أَصْحَٰبُ ٱلصِّرَٰطِ ٱلسَّوِىِّ وَمَنِ ٱهْتَدَىٰ ١٣٥
কুল কুল্লুম মুতারাব্বিসুন ফাতারাব্বাসূ ফাসাতা‘লামূনা মান আসহা-বুস সিরা-তিস সাউইয়্যি ওয়ামানিহতাদা
বল, (ইসলামের অনুসারীদের পরিণতি দেখার জন্য চারপাশের) সবাই অপেক্ষা করছে, কাজেই তোমরাও অপেক্ষা কর, তাহলেই তোমরা জানতে পারবে যে, কারা সরল পথের পথিক আর কারা সঠিক পথপ্রাপ্ত।