মূল লেখায় যান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
مريم

সূরা মারইয়াম

মারইয়াম (আ.) · সূরা নং ১৯ · ৯৮ আয়াত · ৬ রুকু · মাক্কী · পারা ১৬
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
كٓهيعٓصٓ ١
কা-ফ হা ইয়া আই-ন সোয়া-দ
কাফ্-হা-ইয়্যা-‘আইন-সাদ।
ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ عَبْدَهُۥ زَكَرِيَّآ ٢
যিকরু রাহমাতি রাব্বিকা ‘আবদাহূ যাকারিয়্যা-
এটা তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের বিবরণ তাঁর বান্দাহ যাকারিয়্যার প্রতি।
إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُۥ نِدَآءً خَفِيًّۭا ٣
ইয না-দা রাব্বাহূ নিদা-আন খাফিয়্যা
যখন সে তার প্রতিপালককে আহবান করেছিল- এক গোপন আহবানে।
قَالَ رَبِّ إِنِّى وَهَنَ ٱلْعَظْمُ مِنِّى وَٱشْتَعَلَ ٱلرَّأْسُ شَيْبًۭا وَلَمْ أَكُنۢ بِدُعَآئِكَ رَبِّ شَقِيًّۭا ٤
কা-লা রাব্বি ইন্নী ওয়াহানাল ‘আযমু মিন্নী ওয়াশতা‘আলার রা’সু শাইবাঁ ওয়ালাম আকুম বিদু‘আ-ইকা রাব্বি শাকিয়্যা
সে বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে, আর বার্ধক্যে আমার মস্তক সাদা হয়ে গেছে, হে আমার প্রতিপালক! তোমাকে ডেকে আমি কখনো বিফল হইনি।
وَإِنِّى خِفْتُ ٱلْمَوَٰلِىَ مِن وَرَآءِى وَكَانَتِ ٱمْرَأَتِى عَاقِرًۭا فَهَبْ لِى مِن لَّدُنكَ وَلِيًّۭا ٥
ওয়াইন্নী খিফতুল মাওয়া-লিয়া মিন ওয়ারা-ঈ ওয়াকা-নাতিমরাআতী ‘আ-কিরান ফাহাব লী মিল লাদুনকা ওয়ালিয়্যা
আমার পরে আমার স্বগোত্রীয়রা (কী করবে) সে সম্পর্কে আমি আশঙ্কাবোধ করছি, আর আমার স্ত্রী হল বন্ধ্যা, কাজেই তুমি তোমার তরফ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান কর
يَرِثُنِى وَيَرِثُ مِنْ ءَالِ يَعْقُوبَ ۖ وَٱجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّۭا ٦
ইয়ারিছুনী ওয়ায়ারিছু মিন আ-লি ইয়া‘কূবা ওয়াজ‘আলহু রাব্বি রাদিয়্যা
যে আমার উত্তরাধিকারী হবে আর উত্তরাধিকারী হবে ইয়া‘কুব পরিবারের; আর হে আমার প্রতিপালক! তাকে করুন আপনার সন্তুষ্টির পাত্র।
يَٰزَكَرِيَّآ إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَٰمٍ ٱسْمُهُۥ يَحْيَىٰ لَمْ نَجْعَل لَّهُۥ مِن قَبْلُ سَمِيًّۭا ٧
ইয়া-যাকারিয়্যা- ইন্না নুবাশ্শিরুকা বিগুলা-মিনিসমুহূ ইয়াহইয়া লাম নাজ‘আল লাহূ মিন কাবলু সামিয়্যা
তিনি বললেন, ‘হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে একটি পুত্রের শুভ সংবাদ দিচ্ছি যার নাম হবে ইয়াহইয়া, পূর্বে এ নামে আমি কাউকে আখ্যায়িত করিনি।’
قَالَ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِى غُلَٰمٌۭ وَكَانَتِ ٱمْرَأَتِى عَاقِرًۭا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ ٱلْكِبَرِ عِتِيًّۭا ٨
কা-লা রাব্বি আন-না ইয়াকূনু লী গুলা-মুঁ ওয়াকা-নাতিমরাআতী ‘আ-কিরাঁ ওয়াকাদ বালাগতু মিনাল কিবারি ‘ইতিয়্যা
সে বলল, ‘হে আমার পালনকর্তা! আমার পুত্র হবে কেমন করে, আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, আর আমি বার্ধক্যের শেষ স্তরে পৌঁছে গেছি।’
قَالَ كَذَٰلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَىَّ هَيِّنٌۭ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِن قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْـًۭٔا ٩
কা-লা কাযা-লিকা কা-লা রাব্বুকা হুওয়া ‘আলাইয়্যা হাইয়্যিনুঁ ওয়াকাদ খালাকতুকা মিন কাবলু ওয়ালাম তাকু শাইআ
তিনি বললেন, ‘এভাবেই হবে, তোমার প্রতিপালক বলেছেন, ‘এটা আমার পক্ষে সহজ। ইতোপূর্বে আমিই তোমাকে সৃষ্টি করেছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না।’
قَالَ رَبِّ ٱجْعَل لِّىٓ ءَايَةًۭ ۚ قَالَ ءَايَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ ٱلنَّاسَ ثَلَٰثَ لَيَالٍۢ سَوِيًّۭا ١٠
কা-লা রাব্বিজ‘আল লী আ-য়াহ কা-লা আ-য়াতুকা আল্লা তুকাল্লিমান না-সা ছালা-ছা লায়া-লিন সাউইয়্যা
সে বলল, ‘হে আমার পালনকর্তা! আমার জন্য একটা চিহ্ন স্থির করে দিন।’ তিনি বললেন, ‘তোমার চিহ্ন এই যে, তুমি তিন রাত মানুষের সঙ্গে কথা বলবে না যদিও তুমি কথা বলতে সক্ষম।’
فَخَرَجَ عَلَىٰ قَوْمِهِۦ مِنَ ٱلْمِحْرَابِ فَأَوْحَىٰٓ إِلَيْهِمْ أَن سَبِّحُوا۟ بُكْرَةًۭ وَعَشِيًّۭا ١١
ফাখারাজা ‘আলা কাওমিহী মিনাল মিহরা-বি ফাআওহা- ইলাইহিম আন সাব্বিহূ বুকরাতাঁ ওয়া‘আশিয়্যা
অতঃপর সে তার কুঠরি থেকে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে গেল এবং ইশারায় তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর প্রশংসা-পবিত্রতা বর্ণনা করতে বলল।
يَٰيَحْيَىٰ خُذِ ٱلْكِتَٰبَ بِقُوَّةٍۢ ۖ وَءَاتَيْنَٰهُ ٱلْحُكْمَ صَبِيًّۭا ١٢
ইয়া-য়াহইয়া খুযিল কিতা-বা বিকুওয়াতিঁ ওয়াআ-তাইনা-হুল হুকমা সাবিয়্যা
(তার পুত্রের কাছে নির্দেশ আসল) ‘হে ইয়াহ্ইয়া! এ কিতাব (তাওরাত) সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর।’ আমি তাকে বাল্য কালেই জ্ঞান দান করেছিলাম।
وَحَنَانًۭا مِّن لَّدُنَّا وَزَكَوٰةًۭ ۖ وَكَانَ تَقِيًّۭا ١٣
ওয়াহানা-নাম মিল লাদুন্না ওয়াযাকা-তাঁ ওয়াকা-না তাকিয়্যা
আর (দিয়েছিলাম) আমার পক্ষ থেকে দয়া-মায়া ও পবিত্রতা। সে ছিল আল্লাহভীরু ।
وَبَرًّۢا بِوَٰلِدَيْهِ وَلَمْ يَكُن جَبَّارًا عَصِيًّۭا ١٤
ওয়াবার্রাম বিওয়া-লিদাইহি ওয়ালাম ইয়াকুন জাব্বা-রান ‘আসিয়্যা
আর পিতা-মাতার প্রতি সদয়, সে দাম্ভিক, অবাধ্য ছিল না।
وَسَلَٰمٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّۭا ١٥
ওয়াসালা-মুন ‘আলাইহি ইয়াওমা উলিদা ওয়ায়াওমা ইয়ামূতু ওয়ায়াওমা ইউব‘আছু হাইয়্যা
তার উপর শান্তি যেদিন সে জন্মেছে, যেদিন তার মৃত্যু হবে আর যেদিন সে জীবন্ত হয়ে উত্থিত হবে।
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَٰبِ مَرْيَمَ إِذِ ٱنتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًۭا شَرْقِيًّۭا ١٦
ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি মারইয়ামা ইযিনতাবাযাত মিন আহলিহা মাকা-নান শারকিয়্যা
এ কিতাবে (উল্লেখিত) মারইয়ামের কাহিনী বর্ণনা কর- যখন সে তার পরিবারবর্গ হতে আলাদা হয়ে পূর্ব দিকে এক জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল।
فَٱتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَابًۭا فَأَرْسَلْنَآ إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًۭا سَوِيًّۭا ١٧
ফাত্তাখাযাত মিন দূনিহিম হিজা-বান ফাআরসালনা- ইলাইহা রূহানা ফাতামাছ্ছালা লাহা বাশারান সাউইয়্যা
সে তাদের থেকে (আড়াল করার জন্য) পর্দা টানিয়ে দিল। তখন আমি তার কাছে আমার রূহ্কে (অর্থাৎ জিবরীলকে) পাঠিয়ে দিলাম। তখন সে (অর্থাৎ জিবরীল) তার সামনে পূর্ণ মানুষের আকৃতি ধারণ করল।
قَالَتْ إِنِّىٓ أَعُوذُ بِٱلرَّحْمَٰنِ مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّۭا ١٨
কা-লাত ইন্নী আ‘ঊযু বির্রাহমা-নি মিনকা ইন কুনতা তাকিয়্যা
মারইয়াম বলল, ‘আমি তোমা হতে দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি যদি তুমি আল্লাহকে ভয় কর’ (তবে আমার নিকট এসো না)।’
قَالَ إِنَّمَآ أَنَا۠ رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَٰمًۭا زَكِيًّۭا ١٩
কা-লা ইন্নামা- আনা রাসূলু রাব্বিকি লিআহাবা লাকি গুলা-মান যাকিয়্যা
সে বলল, ‘আমি তোমার প্রতিপালক কর্তৃক প্রেরিত হয়েছি তোমাকে একটি পুত-পবিত্র পুত্র দানের উদ্দেশ্যে।’
قَالَتْ أَنَّىٰ يَكُونُ لِى غُلَٰمٌۭ وَلَمْ يَمْسَسْنِى بَشَرٌۭ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّۭا ٢٠
কা-লাত আন-না ইয়াকূনু লী গুলা-মুঁ ওয়ালাম ইয়ামসাসনী বাশারুঁ ওয়ালাম আকু বাগিয়্যা
সে বলল, ‘কেমন করে আমার পুত্র হতে পারে, যখন কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি, আর আমি অসতীও নই।’
قَالَ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَىَّ هَيِّنٌۭ ۖ وَلِنَجْعَلَهُۥٓ ءَايَةًۭ لِّلنَّاسِ وَرَحْمَةًۭ مِّنَّا ۚ وَكَانَ أَمْرًۭا مَّقْضِيًّۭا ٢١
কা-লা কাযা-লিকি কা-লা রাব্বুকি হুওয়া ‘আলাইয়্যা হাইয়্যিনুঁ ওয়ালিনাজ‘আলাহূ আ-য়াতাল লিন্না-সি ওয়ারাহমাতাম মিন্না ওয়াকা-না আমরাম মাকদিয়্যা
সে বলল, ‘এভাবেই হবে, তোমার প্রতিপালক বলেছেন- ‘ওটা আমার জন্য সহজ, আমি তাকে মানুষের জন্য নিদর্শন বানাতে চাই আর আমার পক্ষ থেকে এক রহমত, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।’
۞ فَحَمَلَتْهُ فَٱنتَبَذَتْ بِهِۦ مَكَانًۭا قَصِيًّۭا ٢٢
ফাহামালাতহু ফানতাবাযাত বিহী মাকা-নান কাসিয়্যা
অতঃপর ছেলে তার গর্ভে আসল। তখন সে তা নিয়ে দূরবর্তী জায়গায় চলে গেল।
فَأَجَآءَهَا ٱلْمَخَاضُ إِلَىٰ جِذْعِ ٱلنَّخْلَةِ قَالَتْ يَٰلَيْتَنِى مِتُّ قَبْلَ هَٰذَا وَكُنتُ نَسْيًۭا مَّنسِيًّۭا ٢٣
ফাআজা-আহাল মাখা-দু ইলা জিয‘ইন নাখলাতি কা-লাত ইয়া-লাইতানী মিত্তু কাবলা হা-যা ওয়াকুনতু নাসইয়াম মানসিয়্যা
সন্তান প্রসবের বেদনা তাকে এক খেজুর বৃক্ষতলের দিকে তাড়িত করল। সে বলে উঠল, ‘হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম আর (মানুষের) স্মৃতি থেকে পুরোপুরি মুছে যেতাম!’
فَنَادَىٰهَا مِن تَحْتِهَآ أَلَّا تَحْزَنِى قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّۭا ٢٤
ফানা-দা-হা মিন তাহতিহা- আল্লা তাহযানী কাদ জা‘আলা রাব্বুকি তাহতাকি সারিয়্যা
নিম্নদিক থেকে তাকে ডাক দেয়া হল, ‘তুমি দুঃখ করো না, তোমার প্রতিপালক তোমার পাদদেশ দিয়ে এক নির্ঝরিণী প্রবাহিত করে দিয়েছেন।
وَهُزِّىٓ إِلَيْكِ بِجِذْعِ ٱلنَّخْلَةِ تُسَٰقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًۭا جَنِيًّۭا ٢٥
ওয়াহুয্যী ইলাইকি বিজিয‘ইন নাখলাতি তুসা-কিত ‘আলাইকি রুতাবান জানিয়্যা
খেজুর গাছের কান্ড ধরে তুমি তোমার দিকে নাড়া দাও, তা তোমার উপর তাজা পরিপক্ক খেজুর পতিত করবে।
فَكُلِى وَٱشْرَبِى وَقَرِّى عَيْنًۭا ۖ فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ ٱلْبَشَرِ أَحَدًۭا فَقُولِىٓ إِنِّى نَذَرْتُ لِلرَّحْمَٰنِ صَوْمًۭا فَلَنْ أُكَلِّمَ ٱلْيَوْمَ إِنسِيًّۭا ٢٦
ফাকুলী ওয়াশরাবী ওয়াকার্রী ‘আইনান ফাইম্মা তারায়িন্না মিনাল বাশারি আহাদান ফাকূলী ইন্নী নাযারতু লির্রাহমা-নি সাওমান ফালান উকাল্লিমাল ইয়াওমা ইনসিয়্যা
অতঃপর খাও, পান কর আর (তোমার) চোখ জুড়াও। যদি তুমি কোন লোককে দেখতে পাও তাহলে বলবে- আমি রহমান আল্লাহর জন্য সাওম পালনের মানৎ করেছি, কাজেই আমি কোন মানুষের সঙ্গে আজ কিছুতেই কথা বলব না।’
فَأَتَتْ بِهِۦ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُۥ ۖ قَالُوا۟ يَٰمَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْـًۭٔا فَرِيًّۭا ٢٧
ফাআতাত বিহী কাওমাহা তাহমিলুহূ কা-লূ ইয়া-মারইয়ামু লাকাদ জি’তি শাইআন ফারিয়্যা
অতঃপর সে তার সন্তানকে বয়ে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে আসল। তারা বলল, ‘হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভুত জিনিস নিয়ে এসেছ!
يَٰٓأُخْتَ هَٰرُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ ٱمْرَأَ سَوْءٍۢ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّۭا ٢٨
ইয়া-উখতা হা-রূনা মা কা-না আবূকিমরাআ সাওইঁ ওয়ামা কা-নাত উম্মুকি বাগিয়্যা
ওহে হারূনের বোন! তোমার পিতা তো খারাপ লোক ছিল না, আর তোমার মাও ছিল না কোন অসতী নারী।’
فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ ۖ قَالُوا۟ كَيْفَ نُكَلِّمُ مَن كَانَ فِى ٱلْمَهْدِ صَبِيًّۭا ٢٩
ফাআশা-রাত ইলাইহি কা-লূ কাইফা নুকাল্লিমু মান কা-না ফিল মাহদি সাবিয়্যা
তখন মারইয়াম তার ছেলের দিকে ইশারা করল। তারা বলল, ‘আমরা কোলের বাচ্চার সঙ্গে কীভাবে কথা বলব?’
قَالَ إِنِّى عَبْدُ ٱللَّهِ ءَاتَىٰنِىَ ٱلْكِتَٰبَ وَجَعَلَنِى نَبِيًّۭا ٣٠
কা-লা ইন্নী ‘আবদুল্লা-হি আ-তা-নিয়াল কিতা-বা ওয়াজা‘আলানী নাবিয়্যা
শিশুটি বলে উঠল, ‘আমি আল্লাহর বান্দাহ, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন, আর আমাকে নবী করেছেন।
وَجَعَلَنِى مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَٰنِى بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱلزَّكَوٰةِ مَا دُمْتُ حَيًّۭا ٣١
ওয়াজা‘আলানী মুবা-রাকান আইনা মা কুনতু ওয়াআওসা-নী বিস্সালা-তি ওয়ায্যাকা-তি মা দুমতু হাইয়্যা
আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন আর আমাকে নামায ও যাকাতের হুকুম দিয়েছেন- যতদিন আমি জীবিত থাকি।
وَبَرًّۢا بِوَٰلِدَتِى وَلَمْ يَجْعَلْنِى جَبَّارًۭا شَقِيًّۭا ٣٢
ওয়াবার্রাম বিওয়া-লিদাতী ওয়ালাম ইয়াজ‘আলনী জাব্বা-রান শাকিয়্যা
আর (তিনি আমাকে করেছেন) আমার মাতার প্রতি সদয়, তিনি আমাকে দাম্ভিক হতভাগ্য করেননি।
وَٱلسَّلَٰمُ عَلَىَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّۭا ٣٣
ওয়াস্সালা-মু ‘আলাইয়্যা ইয়াওমা উলিত্তু ওয়ায়াওমা আমূতু ওয়ায়াওমা উব‘আছু হাইয়্যা
আমার উপর আছে শান্তি যেদিন আমি জন্মেছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে আর আমি যেদিন জীবিত হয়ে উত্থিত হব।’
ذَٰلِكَ عِيسَى ٱبْنُ مَرْيَمَ ۚ قَوْلَ ٱلْحَقِّ ٱلَّذِى فِيهِ يَمْتَرُونَ ٣٤
যা-লিকা ‘ঈসাবনু মারইয়াম কাওলাল হাক্কিল লাযী ফীহি ইয়ামতারূন
এই হচ্ছে মারইয়াম-পুত্র ঈসা, (এটাই) সত্য কথা যে বিষয়ে লোকেরা সন্দেহ পোষণ করে।
مَا كَانَ لِلَّهِ أَن يَتَّخِذَ مِن وَلَدٍۢ ۖ سُبْحَٰنَهُۥٓ ۚ إِذَا قَضَىٰٓ أَمْرًۭا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ ٣٥
মা কা-না লিল্লা-হি আন ইয়াত্তাখিযা মিন ওয়ালাদিন সুবহা-নাহ ইযা কাদা- আমরান ফাইন্নামা ইয়াকূলু লাহূ কুন ফায়াকূন
সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়, তিনি পবিত্র, মহান; যখন তিনি কিছু করার সিদ্ধান্ত করেন তখন তার জন্য শুধু বলেন, ‘হয়ে যাও’, আর তা হয়ে যায়।
وَإِنَّ ٱللَّهَ رَبِّى وَرَبُّكُمْ فَٱعْبُدُوهُ ۚ هَٰذَا صِرَٰطٌۭ مُّسْتَقِيمٌۭ ٣٦
ওয়াইন্নাল্লা-হা রাব্বী ওয়ারাব্বুকুম ফা‘বুদূহ হা-যা সিরা-তুম মুসতাকীম
আল্লাহ্ই আমার ও তোমাদের প্রতিপালক, কাজেই তোমরা তাঁরই ‘ইবাদাত কর, এটাই সরল সুদৃঢ় পথ।
فَٱخْتَلَفَ ٱلْأَحْزَابُ مِنۢ بَيْنِهِمْ ۖ فَوَيْلٌۭ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن مَّشْهَدِ يَوْمٍ عَظِيمٍ ٣٧
ফাখতালাফাল আহযা-বু মিম বাইনিহিম ফাওয়াইলুল লিল্লাযীনা কাফারূ মিম মাশহাদি ইয়াওমিন ‘আযীম
অতঃপর দলগুলো তাদের মধ্যে মতভেদ করল। কাজেই সেই ভয়াবহ দিনের উপস্থিতকালে কাফিরদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য।
أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ يَوْمَ يَأْتُونَنَا ۖ لَٰكِنِ ٱلظَّٰلِمُونَ ٱلْيَوْمَ فِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ٣٨
আসমি‘ বিহিম ওয়াআবসির ইয়াওমা ইয়া’তূনানা লা-কিনিয যা-লিমূনাল ইয়াওমা ফী দালা-লিম মুবীন
যেদিন তারা আমার কাছে আসবে সেদিন কতই না স্পষ্টভাবে তারা শুনতে পাবে আর দেখতে পাবে। কিন্তু যালিমরা আজ স্পষ্ট গুমরাহীর মধ্যে পড়ে আছে।
وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ ٱلْحَسْرَةِ إِذْ قُضِىَ ٱلْأَمْرُ وَهُمْ فِى غَفْلَةٍۢ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ٣٩
ওয়াআনযিরহুম ইয়াওমাল হাসরাতি ইয কুদিয়াল আমরু ওয়াহুম ফী গাফলাতিঁ ওয়াহুম লা ইউ’মিনূন
বিপদের দিন সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করে দাও যখন ব্যাপার চূড়ান্ত করা হবে আর (দেখ) এ সম্পর্কে তারা উদাসীন আর তারা ঈমান আনে না।
إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ ٱلْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ ٤٠
ইন্না নাহনু নারিছুল আরদা ওয়ামান ‘আলাইহা ওয়াইলাইনা ইউরজা‘ঊন
যমীন আর যমীনের উপর যারা আছে তাদের মালিকানা আমারই থাকবে, আর তারা আমার কাছেই ফিরে আসবে।
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَٰبِ إِبْرَٰهِيمَ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ صِدِّيقًۭا نَّبِيًّا ٤١
ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি ইবরা-হীম ইন্নাহূ কা-না সিদ্দীকান নাবিয়্যা
এ কিতাবে উল্লেখিত ইবরাহীমের কথা স্মরণ কর, সে ছিল একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষ, একজন নবী।
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ يَٰٓأَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِى عَنكَ شَيْـًۭٔا ٤٢
ইয কা-লা লিআবীহি ইয়া-আবাতি লিমা তা‘বুদু মা লা ইয়াসমা‘উ ওয়ালা ইউবসিরু ওয়ালা ইউগনী ‘আনকা শাইআ
যখন সে তার পিতাকে বলেছিল, ‘হে আমার পিতা! আপনি কেন এমন জিনিসের ‘ইবাদাত করেন যা শুনে না, দেখে না, আর আপনার কোন কাজেই আসে না?
يَٰٓأَبَتِ إِنِّى قَدْ جَآءَنِى مِنَ ٱلْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَٱتَّبِعْنِىٓ أَهْدِكَ صِرَٰطًۭا سَوِيًّۭا ٤٣
ইয়া-আবাতি ইন্নী কাদ জা-আনী মিনাল ‘ইলমি মা লাম ইয়া’তিকা ফাত্তাবি‘নী আহদিকা সিরা-তান সাউইয়্যা
হে আমার পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে যা আপনার কাছে আসেনি, কাজেই আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সরল সঠিক পথ দেখাব।
يَٰٓأَبَتِ لَا تَعْبُدِ ٱلشَّيْطَٰنَ ۖ إِنَّ ٱلشَّيْطَٰنَ كَانَ لِلرَّحْمَٰنِ عَصِيًّۭا ٤٤
ইয়া-আবাতি লা তা‘বুদিশ শাইতা-না ইন্নাশ শাইতা-না কা-না লির্রাহমা-নি ‘আসিয়্যা
হে আমার পিতা! আপনি শয়তানের ‘ইবাদাত করবেন না, শয়তান হচ্ছে দয়াময়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী।
يَٰٓأَبَتِ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يَمَسَّكَ عَذَابٌۭ مِّنَ ٱلرَّحْمَٰنِ فَتَكُونَ لِلشَّيْطَٰنِ وَلِيًّۭا ٤٥
ইয়া-আবাতি ইন্নী আখা-ফু আন ইয়ামাস্সাকা ‘আযা-বুম মিনার রাহমা-নি ফাতাকূনা লিশ্শাইতা-নি ওয়ালিয়্যা
হে আমার পিতা! আমার ভয় হয় যে, দয়াময়ের ‘আযাব আপনাকে ধরে বসবে, তখন আপনি শয়তানের বন্ধু হয়ে যাবেন।’
قَالَ أَرَاغِبٌ أَنتَ عَنْ ءَالِهَتِى يَٰٓإِبْرَٰهِيمُ ۖ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ لَأَرْجُمَنَّكَ ۖ وَٱهْجُرْنِى مَلِيًّۭا ٤٦
কা-লা আরা-গিবুন আনতা ‘আন আ-লিহাতী ইয়া-ইবরা-হীমু লাইল লাম তানতাহি লাআরজুমান্নাকা ওয়াহজুরনী মালিয়্যা
পিতা বলল, ‘হে ইবরাহীম! তুমি কি আমার দেবদেবীগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ? যদি তুমি বিরত না হও তবে আমি অবশ্যই তোমাকে পাথরের আঘাতে মেরে ফেলব। তুমি চিরতরে আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও।’
قَالَ سَلَٰمٌ عَلَيْكَ ۖ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّىٓ ۖ إِنَّهُۥ كَانَ بِى حَفِيًّۭا ٤٧
কা-লা সালা-মুন ‘আলাইকা সাআসতাগফিরু লাকা রাব্বী ইন্নাহূ কা-না বী হাফিয়্যা
ইবরাহীম বলল, ‘আপনার প্রতি সালাম, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, তিনি আমার প্রতি বড়ই মেহেরবান।
وَأَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَأَدْعُوا۟ رَبِّى عَسَىٰٓ أَلَّآ أَكُونَ بِدُعَآءِ رَبِّى شَقِيًّۭا ٤٨
ওয়াআ‘তাযিলুকুম ওয়ামা তাদ‘ঊনা মিন দূনিল্লা-হি ওয়াআদ‘ঊ রাব্বী ‘আসা- আল্লা- আকূনা বিদু‘আ-ই রাব্বী শাকিয়্যা
আমি পরিত্যাগ করছি আপনাদেরকে আর আপনারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকেন তাদেরকে। আমি আমার প্রতিপালককে ডাকি, আশা করি আমি আমার প্রতিপালককে ডেকে বঞ্চিত হব না।’
فَلَمَّا ٱعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَهَبْنَا لَهُۥٓ إِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ ۖ وَكُلًّۭا جَعَلْنَا نَبِيًّۭا ٤٩
ফালাম্মা‘তাযালাহুম ওয়ামা ইয়া‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি ওয়াহাবনা লাহূ ইসহা-কা ওয়ায়া‘কূবা ওয়াকুল্লান জা‘আলনা নাবিয়্যা
অতঃপর সে যখন তাদেরকে আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ‘ইবাদাত করত তাদেরকে পরিত্যাগ করল, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক্ব আর ইয়া‘কূব আর তাদের প্রত্যেককে নবী করলাম।
وَوَهَبْنَا لَهُم مِّن رَّحْمَتِنَا وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِيًّۭا ٥٠
ওয়াওয়াহাবনা লাহুম মির রাহমাতিনা ওয়াজা‘আলনা লাহুম লিসা-না সিদকিন ‘আলিয়্যা
আমি তাদেরকে দান করলাম আমার অনুগ্রহ আর সত্যিকার নাম-যশের সুউচ্চ সুখ্যাতি।
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَٰبِ مُوسَىٰٓ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ مُخْلَصًۭا وَكَانَ رَسُولًۭا نَّبِيًّۭا ٥١
ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি মূসা- ইন্নাহূ কা-না মুখলাসাঁ ওয়াকা-না রাসূলান নাবিয়্যা
এ কিতাবে উল্লেখিত মূসার কথা স্মরণ কর, সে ছিল বিশেষভাবে মনোনীত, আর একজন রসূল ও নবী।
وَنَٰدَيْنَٰهُ مِن جَانِبِ ٱلطُّورِ ٱلْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَٰهُ نَجِيًّۭا ٥٢
ওয়ানা-দাইনা-হু মিন জা-নিবিত তূরিল আইমানি ওয়াকার্রাবনা-হু নাজিয়্যা
আমি তাকে ডাক দিয়েছিলাম তূর পাহাড়ের ডান পার্শ্ব থেকে আর গোপনে কথাবার্তা বলার জন্য তাকে নিকটবর্তী করেছিলাম।
وَوَهَبْنَا لَهُۥ مِن رَّحْمَتِنَآ أَخَاهُ هَٰرُونَ نَبِيًّۭا ٥٣
ওয়াওয়াহাবনা লাহূ মির রাহমাতিনা- আখা-হু হা-রূনা নাবিয়্যা
আর আমি স্বীয় অনুগ্রহে তাকে দান করেছিলাম তার ভাই হারূনকে, সেও ছিল একজন নবী।
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَٰبِ إِسْمَٰعِيلَ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ صَادِقَ ٱلْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًۭا نَّبِيًّۭا ٥٤
ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি ইসমা-‘ঈল ইন্নাহূ কা-না সা-দিকাল ওয়া‘দি ওয়াকা-না রাসূলান নাবিয়্যা
এ কিতাবে উল্লেখিত ইসমাঈলের কথা স্মরণ কর, সে ছিল ওয়া‘দা রক্ষায় (দৃঢ়) সত্যবাদী, আর ছিল একজন রসূল ও নবী।
وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُۥ بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱلزَّكَوٰةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِۦ مَرْضِيًّۭا ٥٥
ওয়াকা-না ইয়া’মুরু আহলাহূ বিস্সালা-তি ওয়ায্যাকা-তি ওয়াকা-না ‘ইনদা রাব্বিহী মারদিয়্যা
সে তার পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাতের হুকুম দিত আর সে ছিল তার প্রতিপালকের নিকট সন্তুষ্টির পাত্র।
وَٱذْكُرْ فِى ٱلْكِتَٰبِ إِدْرِيسَ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ صِدِّيقًۭا نَّبِيًّۭا ٥٦
ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি ইদরীস ইন্নাহূ কা-না সিদ্দীকান নাবিয়্যা
এ কিতাবে উল্লেখিত ইদরীসের কথা স্মরণ কর, সে ছিল সত্যনিষ্ঠ, একজন নবী।
وَرَفَعْنَٰهُ مَكَانًا عَلِيًّا ٥٧
ওয়ারাফা‘না-হু মাকা-নান ‘আলিয়্যা
আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম।
১৯:৫৮ সিজদা
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّۦنَ مِن ذُرِّيَّةِ ءَادَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍۢ وَمِن ذُرِّيَّةِ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْرَٰٓءِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَٱجْتَبَيْنَآ ۚ إِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتُ ٱلرَّحْمَٰنِ خَرُّوا۟ سُجَّدًۭا وَبُكِيًّۭا ۩ ٥٨
উলা-ইকাল লাযীনা আন‘আমাল্লা-হু ‘আলাইহিম মিনান নাবিয়্যীনা মিন যুর্রিয়্যাতি আ-দামা ওয়ামিম্মান হামালনা মা‘আ নূহিঁ ওয়ামিন যুর্রিয়্যাতি ইবরা-হীমা ওয়াইসরা-ঈলা ওয়ামিম্মান হাদাইনা ওয়াজতাবাইনা- ইযা তুতলা ‘আলাইহিম আ-য়া-তুর রাহমা-নি খার্রূ সুজ্জাদাঁ ওয়াবুকিয়্যা
এরাই হল তারা আদাম বংশের নবীগণের মধ্য হতে, আর নূহের সঙ্গে যাদেরকে (নৌকায়) আরোহণ করিয়েছিলাম তাদের মধ্য হতে, আর ইবরাহীম ও ইসরাঈলের বংশধরদের মধ্য হতে যাদেরকে আমি অনুগ্রহ করেছিলাম, এরা তাদেরই মধ্য হতে, যাদেরকে আমি পথনির্দেশ দিয়েছিলাম আর বেছে নিয়েছিলাম, এদের নিকট দয়াময়ের আয়াত আবৃত্তি করা হলে তারা সাজদায় অবনত হয়ে কান্নাভরে লুটিয়ে পড়ত। [সাজদাহ]
۞ فَخَلَفَ مِنۢ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَٱتَّبَعُوا۟ ٱلشَّهَوَٰتِ ۖ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ٥٩
ফাখালাফা মিম বা‘দিহিম খালফুন আদা-‘উস সালা-তা ওয়াত্তাবা‘উশ শাহাওয়া-তি ফাসাওফা ইয়ালকাওনা গাইয়্যা
অতঃপর তাদের পর এল অপদার্থ পরবর্তীরা, তারা নামায হারালো, আর লালসার বশবর্তী হল। তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।
إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحًۭا فَأُو۟لَٰٓئِكَ يَدْخُلُونَ ٱلْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْـًۭٔا ٦٠
ইল্লা মান তা-বা ওয়াআ-মানা ওয়া‘আমিলা সা-লিহান ফাউলা-ইকা ইয়াদখুলূনাল জান্নাতা ওয়ালা ইউযলামূনা শাইআ
তারা বাদে যারা তাওবাহ করবে, ঈমান আনবে আর সৎ কাজ করবে। ফলে এরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, এদের প্রতি এতটুকু যুলম করা হবে না।
جَنَّٰتِ عَدْنٍ ٱلَّتِى وَعَدَ ٱلرَّحْمَٰنُ عِبَادَهُۥ بِٱلْغَيْبِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ وَعْدُهُۥ مَأْتِيًّۭا ٦١
জান্না-তি ‘আদনিল লাতী ওয়া‘আদার রাহমা-নু ‘ইবা-দাহূ বিলগাইব ইন্নাহূ কা-না ওয়া‘দুহূ মা’তিয়্যা
স্থায়ী জান্নাত, দয়াময় তাঁর বান্দাহ্কে যে অদৃশ্য বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হবে।
لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا إِلَّا سَلَٰمًۭا ۖ وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيهَا بُكْرَةًۭ وَعَشِيًّۭا ٦٢
লা ইয়াসমা‘ঊনা ফীহা লাগওয়ান ইল্লা সালা-মাঁ ওয়ালাহুম রিযকুহুম ফীহা বুকরাতাঁ ওয়া‘আশিয়্যা
সেখানে তারা শান্তির সম্ভাষণ ছাড়া কোন অপবাক্য শুনবে না। আর সকাল-সন্ধ্যা সেখানে তাদের জন্য থাকবে জীবন ধারণের উপকরণ।
تِلْكَ ٱلْجَنَّةُ ٱلَّتِى نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَن كَانَ تَقِيًّۭا ٦٣
তিলকাল জান্নাতুল লাতী নূরিছু মিন ‘ইবা-দিনা মান কা-না তাকিয়্যা
এই হল সেই জান্নাত আমি যার উত্তরাধিকারী করব আমার বান্দাহদের মধ্যে মুত্তাকীদেরকে।
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ ۖ لَهُۥ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذَٰلِكَ ۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّۭا ٦٤
ওয়ামা নাতানায্যালু ইল্লা বিআমরি রাব্বিকা লাহূ মা বাইনা আইদীনা ওয়ামা খালফানা ওয়ামা বাইনা যা-লিক ওয়ামা কা-না রাব্বুকা নাসিয়্যা
(ফেরেশতাগণ বলে) ‘আমরা আপনার প্রতিপালকের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, আর যা আমাদের পেছনে আছে আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে তা তাঁরই, আপনার প্রতিপালক কক্ষনো ভুলে যান না।
رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَٱعْبُدْهُ وَٱصْطَبِرْ لِعِبَٰدَتِهِۦ ۚ هَلْ تَعْلَمُ لَهُۥ سَمِيًّۭا ٦٥
রাব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়ামা বাইনাহুমা ফা‘বুদহু ওয়াসতাবির লি‘ইবা-দাতিহ হাল তা‘লামু লাহূ সামিয়্যা
তিনি আকাশ, যমীন আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে তার প্রতিপালক, কাজেই তুমি তাঁর ‘ইবাদাত কর, আর তাঁর ‘ইবাদাতে নিয়মিত ও দৃঢ় থাক। তুমি কি তাঁর নামের গুণসম্পন্ন অন্য আর কেউ আছে বলে জান?
وَيَقُولُ ٱلْإِنسَٰنُ أَءِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا ٦٦
ওয়ায়াকূলুল ইনসা-নু আইযা মা মিত্তু লাসাওফা উখরাজু হাইয়্যা
মানুষ বলে, ‘কী! আমি যখন মরে যাব, আমাকে তখন কি জীবিত করে উঠানো হবে?’
أَوَلَا يَذْكُرُ ٱلْإِنسَٰنُ أَنَّا خَلَقْنَٰهُ مِن قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْـًۭٔا ٦٧
আওয়ালা ইয়াযকুরুল ইনসা-নু আন-না খালাকনা-হু মিন কাবলু ওয়ালাম ইয়াকু শাইআ
মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি পূর্বে তাকে সৃষ্টি করেছি আর সে তখন কিছুই ছিল না।
فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَٱلشَّيَٰطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّۭا ٦٨
ফাওয়ারাব্বিকা লানাহশুরান্নাহুম ওয়াশ্শায়া-তীনা ছুম্মা লানুহদিরান্নাহুম হাওলা জাহান্নামা জিছিয়্যা
কাজেই তোমার রব্বের কসম! আমি তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই একত্রিত করব আর শয়তানদেরকেও। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নামের চতুষ্পার্শ্বে নতজানু অবস্থায় অবশ্য অবশ্যই হাজির করব।
ثُمَّ لَنَنزِعَنَّ مِن كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى ٱلرَّحْمَٰنِ عِتِيًّۭا ٦٩
ছুম্মা লানানযি‘আন্না মিন কুল্লি শী‘আতিন আইয়্যুহুম আশাদ্দু ‘আলার রাহমা-নি ‘ইতিয়্যা
অতঃপর প্রত্যেক দল হতে দয়াময়ের প্রতি সবচেয়ে অবাধ্যকে অবশ্য অবশ্যই টেনে বের করব।
ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِٱلَّذِينَ هُمْ أَوْلَىٰ بِهَا صِلِيًّۭا ٧٠
ছুম্মা লানাহনু আ‘লামু বিল্লাযীনা হুম আওলা বিহা সিলিয়্যা
আর আমি অবশ্য অবশ্যই খুব ভাল করে জানি তাদের মধ্যে কারা জাহান্নামে দগ্ধ হওয়ার সর্বাধিক উপযুক্ত।
وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا ۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ حَتْمًۭا مَّقْضِيًّۭا ٧١
ওয়াইম মিনকুম ইল্লা ওয়া-রিদুহা কা-না ‘আলা রাব্বিকা হাতমাম মাকদিয়্যা
তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে জাহান্নাম অতিক্রম করতে হবে না, এটা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য ফয়সালা।
ثُمَّ نُنَجِّى ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوا۟ وَّنَذَرُ ٱلظَّٰلِمِينَ فِيهَا جِثِيًّۭا ٧٢
ছুম্মা নুনাজ্জিল লাযীনাত তাকাও ওয়ানাযারুয যা-লিমীনা ফীহা জিছিয়্যা
অতঃপর মুত্তাকীদেরকে আমি রক্ষা করব আর যালিমদেরকে তার মধ্যে নতজানু অবস্থায় রেখে দেব।
وَإِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتُنَا بَيِّنَٰتٍۢ قَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَىُّ ٱلْفَرِيقَيْنِ خَيْرٌۭ مَّقَامًۭا وَأَحْسَنُ نَدِيًّۭا ٧٣
ওয়াইযা তুতলা ‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা বাইয়্যিনা-তিন কা-লাল লাযীনা কাফারূ লিল্লাযীনা আ-মানূ আইয়্যুল ফারীকাইনি খাইরুম মাকা-মাঁ ওয়াআহসানু নাদিয়্যা
আমার স্পষ্ট আয়াত যখন তাদের নিকট আবৃত্তি করা হয় তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘দু’টি দলের মধ্যে মর্যাদায় কোনটি শ্রেষ্ঠ আর মজলিস হিসেবে অধিক উত্তম?’
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هُمْ أَحْسَنُ أَثَٰثًۭا وَرِءْيًۭا ٧٤
ওয়াকাম আহলাকনা কাবলাহুম মিন কারনিন হুম আহসানু আছা-ছাঁ ওয়ারি’ইয়া
আমি তাদের পূর্বে বহু মানব বংশকে ধ্বংস করেছি যারা উপায় উপকরণে আর বাইরের চাকচিক্যে তাদের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ছিল।
قُلْ مَن كَانَ فِى ٱلضَّلَٰلَةِ فَلْيَمْدُدْ لَهُ ٱلرَّحْمَٰنُ مَدًّا ۚ حَتَّىٰٓ إِذَا رَأَوْا۟ مَا يُوعَدُونَ إِمَّا ٱلْعَذَابَ وَإِمَّا ٱلسَّاعَةَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ شَرٌّۭ مَّكَانًۭا وَأَضْعَفُ جُندًۭا ٧٥
কুল মান কা-না ফিদ দালা-লাতি ফালইয়ামদুদ লাহুর রাহমা-নু মাদ্দা হাত্তা- ইযা রাআও মা ইউ‘আদূনা ইম্মাল ‘আযা-বা ওয়াইম্মাস সা-‘আতা ফাসায়া‘লামূনা মান হুওয়া শার্রুম মাকা-নাঁ ওয়াআদ‘আফু জুনদা
বল, যারা গুমরাহীতে পড়ে আছে, দয়াময় তাদের জন্য (রশি) ঢিল দিয়ে দেন, যে পর্যন্ত না তারা দেখতে পাবে যার ওয়া‘দা তাদেরকে দেয়া হচ্ছে- তা শাস্তিই হোক কিংবা ক্বিয়ামতই হোক।’ তখন তারা জানতে পারবে মর্যাদায় কে নিকৃষ্ট আর জনবলে দুর্বল।
وَيَزِيدُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ٱهْتَدَوْا۟ هُدًۭى ۗ وَٱلْبَٰقِيَٰتُ ٱلصَّٰلِحَٰتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًۭا وَخَيْرٌۭ مَّرَدًّا ٧٦
ওয়ায়াযীদুল্লা-হুল লাযীনাহতাদাও হুদা ওয়ালবা-কিয়া-তুস সা-লিহা-তু খাইরুন ‘ইনদা রাব্বিকা ছাওয়া-বাঁ ওয়াখাইরুম মারাদ্দা
যারা সৎপথ সন্ধান করে আল্লাহ তাদেরকে অধিক হিদায়াত দান করেন। আর স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার নিকট সাওয়াবের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ আর প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।
أَفَرَءَيْتَ ٱلَّذِى كَفَرَ بِـَٔايَٰتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالًۭا وَوَلَدًا ٧٧
আফারাআইতাল লাযী কাফারা বিআ-য়া-তিনা ওয়াকা-লা লাঊতায়ান্না মা-লাঁ ওয়াওয়ালাদা
তুমি কি লক্ষ্য করেছ সে ব্যক্তিকে যে আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছে আর সে বলে, ‘আমাকে অবশ্য অবশ্যই সম্পদ আর সন্তানাদি দেয়া হবে।’
أَطَّلَعَ ٱلْغَيْبَ أَمِ ٱتَّخَذَ عِندَ ٱلرَّحْمَٰنِ عَهْدًۭا ٧٨
আত-তালা‘আল গাইবা আমিত তাখাযা ‘ইনদার রাহমা-নি ‘আহদা
সে কি অদৃশ্য বিষয় জেনে ফেলেছে, নাকি দয়াময়ের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে?
كَلَّا ۚ سَنَكْتُبُ مَا يَقُولُ وَنَمُدُّ لَهُۥ مِنَ ٱلْعَذَابِ مَدًّۭا ٧٩
কাল্লা সানাকতুবু মা ইয়াকূলু ওয়ানামুদ্দু লাহূ মিনাল ‘আযা-বি মাদ্দা
কক্ষনো না, তারা যা বলে আমি তা লিখে রাখব আর আমি তার শাস্তি বাড়াতেই থাকব, বাড়াতেই থাকব।
وَنَرِثُهُۥ مَا يَقُولُ وَيَأْتِينَا فَرْدًۭا ٨٠
ওয়ানারিছুহূ মা ইয়াকূলু ওয়ায়া’তীনা ফারদা
সে যে বিষয়ের কথা বলে (তার সম্পদ-সরঞ্জাম ও জনবলের গর্ব করে) তা থাকবে আমার অধিকারে আর সে আমার কাছে আসবে নিঃসঙ্গ, একাকী।
وَٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ ءَالِهَةًۭ لِّيَكُونُوا۟ لَهُمْ عِزًّۭا ٨١
ওয়াত্তাখাযূ মিন দূনিল্লা-হি আ-লিহাতাল লিয়াকূনূ লাহুম ‘ইয্যা
তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করেছে যাতে তারা (অর্থাৎ ঐ কল্পিত মা‘বুদগুলো) তাদের জন্য পৃষ্ঠপোষক হয়।
كَلَّا ۚ سَيَكْفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُونُونَ عَلَيْهِمْ ضِدًّا ٨٢
কাল্লা সায়াকফুরূনা বি‘ইবা-দাতিহিম ওয়ায়াকূনূনা ‘আলাইহিম দিদ্দা
কক্ষনো না, তারা তাদের ‘ইবাদাত অস্বীকার করবে আর তাদের বিরোধী হয়ে যাবে।
أَلَمْ تَرَ أَنَّآ أَرْسَلْنَا ٱلشَّيَٰطِينَ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ تَؤُزُّهُمْ أَزًّۭا ٨٣
আলাম তারা আন-না- আরসালনাশ শায়া-তীনা ‘আলাল কা-ফিরীনা তাউয্যুহুম আয-যা
তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আমি কাফিরদের জন্য শয়ত্বানকে ছেড়ে রেখেছি তাদেরকে মন্দ কর্ম করতে প্ররোচিত করার জন্য।
فَلَا تَعْجَلْ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّمَا نَعُدُّ لَهُمْ عَدًّۭا ٨٤
ফালা তা‘জাল ‘আলাইহিম ইন্নামা না‘উদ্দু লাহুম ‘আদ্দা
কাজেই তাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করো না, আমি গুণে রাখছি তাদের জন্য নির্দিষ্ট (দিবসের) সংখ্যা।
يَوْمَ نَحْشُرُ ٱلْمُتَّقِينَ إِلَى ٱلرَّحْمَٰنِ وَفْدًۭا ٨٥
ইয়াওমা নাহশুরুল মুত্তাকীনা ইলার রাহমা-নি ওয়াফদা
যেদিন মুত্তাকীদেরকে দয়াময়ের নিকট একত্রিত করব সম্মানিত অতিথি হিসেবে।
وَنَسُوقُ ٱلْمُجْرِمِينَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ وِرْدًۭا ٨٦
ওয়ানাসূকুল মুজরিমীনা ইলা জাহান্নামা উইরদা
আর আমি অপরাধীদেরকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাব (যেভাবে পিপাসার্ত গরু বাছুরকে পানির দিকে তাড়িয়ে নেয়া হয়)।
لَّا يَمْلِكُونَ ٱلشَّفَٰعَةَ إِلَّا مَنِ ٱتَّخَذَ عِندَ ٱلرَّحْمَٰنِ عَهْدًۭا ٨٧
লা ইয়ামলিকূনাশ শাফা-‘আতা ইল্লা মানিত তাখাযা ‘ইনদার রাহমা-নি ‘আহদা
দয়াময়ের নিকট যে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে সে ছাড়া অন্য কারো সুপারিশ করার অধিকার থাকবে না।
وَقَالُوا۟ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحْمَٰنُ وَلَدًۭا ٨٨
ওয়াকা-লুত তাখাযার রাহমা-নু ওয়ালাদা
তারা বলে, ‘দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’
لَّقَدْ جِئْتُمْ شَيْـًٔا إِدًّۭا ٨٩
লাকাদ জি’তুম শাইআন ইদ্দা
(এমন কথা ব’লে) তোমরা তো এক ভয়ানক বিষয়ের অবতারণা করেছ।
تَكَادُ ٱلسَّمَٰوَٰتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ ٱلْأَرْضُ وَتَخِرُّ ٱلْجِبَالُ هَدًّا ٩٠
তাকা-দুস সামা-ওয়া-তু ইয়াতাফাত্তারনা মিনহু ওয়াতানশাক্কুল আরদু ওয়াতাখির্রুল জিবা-লু হাদ্দা
যাতে আকাশ বিদীর্ণ হওয়ার, পৃথিবী খন্ড খন্ড হওয়ার আর পর্বতমালা চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে পতিত হওয়ার, উপক্রম হয়েছে।
أَن دَعَوْا۟ لِلرَّحْمَٰنِ وَلَدًۭا ٩١
আন দা‘আও লির্রাহমা-নি ওয়ালাদা
কারণ তারা দয়াময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করে।
وَمَا يَنۢبَغِى لِلرَّحْمَٰنِ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا ٩٢
ওয়ামা ইয়ামবাগী লির্রাহমা-নি আন ইয়াত্তাখিযা ওয়ালাদা
অথচ দয়াময়ের মহান মর্যাদার জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন।
إِن كُلُّ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ إِلَّآ ءَاتِى ٱلرَّحْمَٰنِ عَبْدًۭا ٩٣
ইন কুল্লু মান ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ইল্লা- আ-তির রাহমা-নি ‘আবদা
আকাশ আর যমীনে এমন কেউ নেই যে, দয়াময়ের নিকট বান্দাহ হয়ে হাযির হবে না।
لَّقَدْ أَحْصَىٰهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّۭا ٩٤
লাকাদ আহসা-হুম ওয়া‘আদ্দাহুম ‘আদ্দা
তিনি তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন আর তাদেরকে বিশেষভাবে গুণে গুণে রেখেছেন।
وَكُلُّهُمْ ءَاتِيهِ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ فَرْدًا ٩٥
ওয়াকুল্লুহুম আ-তীহি ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফারদা
কিয়ামাতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে আসবে একাকী অবস্থায়।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ ٱلرَّحْمَٰنُ وُدًّۭا ٩٦
ইন্নাল লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুস সা-লিহা-তি সায়াজ‘আলু লাহুমুর রাহমা-নু উদ্দা
যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, দয়াময় তাদের প্রতি ভালবাসা দান করবেন।
فَإِنَّمَا يَسَّرْنَٰهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ ٱلْمُتَّقِينَ وَتُنذِرَ بِهِۦ قَوْمًۭا لُّدًّۭا ٩٧
ফাইন্নামা ইয়াস্সারনা-হু বিলিসা-নিকা লিতুবাশ্শিরা বিহিল মুত্তাকীনা ওয়াতুনযিরা বিহী কাওমাল লুদ্দা
আমি তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করেছি যাতে তুমি তার সাহায্যে মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দিতে পার আর ঝগড়াটে লোকেদেরকে সতর্ক করতে পার।
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هَلْ تُحِسُّ مِنْهُم مِّنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًۢا ٩٨
ওয়াকাম আহলাকনা কাবলাহুম মিন কারনিন হাল তুহিস্সু মিনহুম মিন আহাদিন আও তাসমা‘উ লাহুম রিকযা
তাদের পূর্বে আমি কত মানব বংশকে ধ্বংস করে দিয়েছি, তুমি তাদের একজনকেও কি (এখন) দেখতে পাও অথবা তাদের ক্ষীণতম আওয়াজও কি শুনতে পাও?