মূল লেখায় যান
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
الحجر

সূরা আল-হিজর

পাথুরে উপত্যকা · সূরা নং ১৫ · ৯৯ আয়াত · ৬ রুকু · মাক্কী · পারা ১৪
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
الٓر ۚ تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ وَقُرْءَانٍۢ مُّبِينٍۢ ١
আলিফ লা-ম রা তিলকা আ-য়া-তুল কিতা-বি ওয়াকুরআ-নিম মুবীন
আলিফ-লাম-র, এগুলো কিতাবের এবং সুস্পষ্ট কুরআনে আয়াতসমূহ।
رُّبَمَا يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْ كَانُوا۟ مُسْلِمِينَ ٢
রুবামা ইয়াওয়াদ্দুল লাযীনা কাফারূ লাও কা-নূ মুসলিমীন
এমন একটা সময় আসবে যখন কাফিরগণ আক্ষেপ করে বলবে, ‘হায়, আমরা যদি মুসলিম হয়ে যেতাম!’
ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا۟ وَيَتَمَتَّعُوا۟ وَيُلْهِهِمُ ٱلْأَمَلُ ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ٣
যারহুম ইয়া’কুলূ ওয়ায়াতামাত্তা‘ঊ ওয়াইউলহিহিমুল আমালু ফাসাওফা ইয়া‘লামূন
ছেড়ে দাও ওদেরকে, ওরা খেতে থাক আর ভোগ করতে থাক, আর (মিথ্যে) আশা ওদেরকে উদাসীনতায় ডুবিয়ে রাখুক, শীঘ্রই ওরা (ওদের ‘আমালের পরিণতি) জানতে পারবে।
وَمَآ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا وَلَهَا كِتَابٌۭ مَّعْلُومٌۭ ٤
ওয়ামা- আহলাকনা মিন কারইয়াতিন ইল্লা ওয়ালাহা কিতা-বুম মা‘লূম
আমি যে জনপদকেই ধ্বংস করেছি তাদের জন্য ছিল লিখিত একটা নির্দিষ্ট সময়।
مَّا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَـْٔخِرُونَ ٥
মা তাসবিকু মিন উম্মাতিন আজালাহা ওয়ামা ইয়াসতা’খিরূন
কোন জাতিই তাদের নির্দিষ্ট কালকে অগ্র-পশ্চাৎ করতে পারে না।
وَقَالُوا۟ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِى نُزِّلَ عَلَيْهِ ٱلذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌۭ ٦
ওয়াকা-লূ ইয়া-আইয়্যুহাল লাযী নুয্যিলা ‘আলাইহিয যিকরু ইন্নাকা লামাজনূন
তারা বলে, ‘ওহে ঐ ব্যক্তি যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে! তুমি তো অবশ্যই পাগল।
لَّوْ مَا تَأْتِينَا بِٱلْمَلَٰٓئِكَةِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ٧
লাও মা তা’তীনা বিলমালা-ইকাতি ইন কুনতা মিনাস সা-দিকীন
তুমি সত্যবাদী হলে আমাদের নিকট ফেরেশতাদের হাজির করছ না কেন?’
مَا نُنَزِّلُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَمَا كَانُوٓا۟ إِذًۭا مُّنظَرِينَ ٨
মা নুনায্যিলুল মালা-ইকাতা ইল্লা বিলহাক্কি ওয়ামা কা-নূ ইযাম মুনযারীন
যথাযথ কারণ ছাড়া আমি ফেরেশতা পাঠাই না, পাঠালে কাফিরদেরকে আর কোন অবকাশ দেয়া হবে না।
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا ٱلذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ ٩
ইন্না নাহনু নায্যালনায যিকরা ওয়াইন্না লাহূ লাহা-ফিযূন
নিশ্চয় আমিই কুরআন নাযিল করেছি আর অবশ্যই আমি তার সংরক্ষক।
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ فِى شِيَعِ ٱلْأَوَّلِينَ ١٠
ওয়ালাকাদ আরসালনা মিন কাবলিকা ফী শিয়া‘ইল আওয়ালীন
তোমার পূর্ববর্তী জাতিগুলোর কাছেও আমি রসূল পাঠিয়েছিলাম।
وَمَا يَأْتِيهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَ ١١
ওয়ামা ইয়া’তীহিম মির রাসূলিন ইল্লা কা-নূ বিহী ইয়াসতাহযিঊন
তাদের কাছে এমন কোন রসূল আসেনি যাকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেনি।
كَذَٰلِكَ نَسْلُكُهُۥ فِى قُلُوبِ ٱلْمُجْرِمِينَ ١٢
কাযা-লিকা নাসলুকুহূ ফী কুলূবিল মুজরিমীন
এভাবে আমি এ রকম আচরণ পাপীদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দেই।
لَا يُؤْمِنُونَ بِهِۦ ۖ وَقَدْ خَلَتْ سُنَّةُ ٱلْأَوَّلِينَ ١٣
লা ইউ’মিনূনা বিহী ওয়াকাদ খালাত সুন্নাতুল আওয়ালীন
তারা এর প্রতি ঈমান আনবে না, পূর্ববর্তী লোকেদেরও এ নিয়ম-নীতি চলে এসেছে।
وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِم بَابًۭا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ فَظَلُّوا۟ فِيهِ يَعْرُجُونَ ١٤
ওয়ালাও ফাতাহনা ‘আলাইহিম বা-বাম মিনাস সামা-ই ফাযাল্লূ ফীহি ইয়া‘রুজূন
যদি তাদের জন্য আকাশের দরজা খুলে দেয়া হত, আর তারা তাতে উঠতে থাকত,
لَقَالُوٓا۟ إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَٰرُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌۭ مَّسْحُورُونَ ١٥
লাকা-লূ ইন্নামা সুক্কিরাত আবসা-রুনা বাল নাহনু কাওমুম মাসহূরূন
তারা অবশ্যই বলত, ‘আমাদের চোখকে বাঁধিয়ে দেয়া হয়েছে, বরং আমাদের উপর যাদু করা হয়েছে।’
وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِى ٱلسَّمَآءِ بُرُوجًۭا وَزَيَّنَّٰهَا لِلنَّٰظِرِينَ ١٦
ওয়ালাকাদ জা‘আলনা ফিস সামা-ই বুরূজাঁ ওয়াযাইয়্যান্না-হা লিন্না-যিরীন
আমি আকাশে গ্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টি করেছি আর দর্শকদের জন্য তা সুসজ্জিত করে দিয়েছি।
وَحَفِظْنَٰهَا مِن كُلِّ شَيْطَٰنٍۢ رَّجِيمٍ ١٧
ওয়াহাফিযনা-হা মিন কুল্লি শাইতা-নির রাজীম
আর প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়ত্বান থেকে সেগুলোকে সুরক্ষিত করে দিয়েছি।
إِلَّا مَنِ ٱسْتَرَقَ ٱلسَّمْعَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌۭ مُّبِينٌۭ ١٨
ইল্লা মানিসতারাকাস সাম‘আ ফাআতবা‘আহূ শিহা-বুম মুবীন
কিন্তু কেউ চুরি করে (খবর) শুনতে চাইলে উজ্জ্বল অগ্নিশিখা তার পশ্চাদ্ধাবণ করে।
وَٱلْأَرْضَ مَدَدْنَٰهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَٰسِىَ وَأَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ شَىْءٍۢ مَّوْزُونٍۢ ١٩
ওয়ালআরদা মাদাদনা-হা ওয়াআলকাইনা ফীহা রাওয়া-সিয়া ওয়াআমবাতনা ফীহা মিন কুল্লি শাইইম মাওযূন
আর পৃথিবী, আমি সেটাকে বিছিয়ে দিয়েছি আর তাতে পর্বতরাজি সংস্থাপিত করেছি আর তাতে সকল বস্তু উদগত করেছি যথাযথ পরিমাণে।
وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَٰيِشَ وَمَن لَّسْتُمْ لَهُۥ بِرَٰزِقِينَ ٢٠
ওয়াজা‘আলনা লাকুম ফীহা মা‘আ-য়িশা ওয়ামাল লাসতুম লাহূ বিরা-যিকীন
আর তাতে তোমাদের জীবন ধারণের ব্যবস্থা করেছি আর তাদেরও যাদের রিযকদাতা তোমরা নও।
وَإِن مِّن شَىْءٍ إِلَّا عِندَنَا خَزَآئِنُهُۥ وَمَا نُنَزِّلُهُۥٓ إِلَّا بِقَدَرٍۢ مَّعْلُومٍۢ ٢١
ওয়াইম মিন শাইইন ইল্লা ‘ইনদানা খাযা-ইনুহূ ওয়ামা নুনায্যিলুহূ ইল্লা বিকাদারিম মা‘লূম
এমন কোন জিনিসই নেই যার ভান্ডার আমার কাছে নেই, কিন্তু আমি সেগুলো আমার জ্ঞান মোতাবেক নির্দিষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করে থাকি।
وَأَرْسَلْنَا ٱلرِّيَٰحَ لَوَٰقِحَ فَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَسْقَيْنَٰكُمُوهُ وَمَآ أَنتُمْ لَهُۥ بِخَٰزِنِينَ ٢٢
ওয়াআরসালনার রিয়া-হা লাওয়া-কিহা ফাআনযালনা মিনাস সামা-ই মা-আন ফাআসকাইনা-কুমূহু ওয়ামা- আনতুম লাহূ বিখা-যিনীন
আমি বৃষ্টি-সঞ্চারী বাতাস প্রেরণ করি, অতঃপর আসমান থেকে পানি বর্ষণ করি আর তা তোমাদের পান করাই, তোমরা তার স্টোর কীপার নও।
وَإِنَّا لَنَحْنُ نُحْىِۦ وَنُمِيتُ وَنَحْنُ ٱلْوَٰرِثُونَ ٢٣
ওয়াইন্না লানাহনু নুহইয়ী ওয়ানুমীতু ওয়ানাহনুল ওয়া-রিছূন
আমিই জীবন দেই আর মৃত্যু ঘটাই আর আমিই চূড়ান্ত উত্তরাধিকারী।
وَلَقَدْ عَلِمْنَا ٱلْمُسْتَقْدِمِينَ مِنكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا ٱلْمُسْتَـْٔخِرِينَ ٢٤
ওয়ালাকাদ ‘আলিমনাল মুসতাকদিমীনা মিনকুম ওয়ালাকাদ ‘আলিমনাল মুসতা’খিরীন
তোমাদের মধ্যেকার যারা পূর্বে গত হয়ে গেছে আমি তাদেরকে জানি আর পরে যারা আসবে তাদেরকেও জানি।
وَإِنَّ رَبَّكَ هُوَ يَحْشُرُهُمْ ۚ إِنَّهُۥ حَكِيمٌ عَلِيمٌۭ ٢٥
ওয়াইন্না রাব্বাকা হুওয়া ইয়াহশুরুহুম ইন্নাহূ হাকীমুন ‘আলীম
অবশ্যই তোমার প্রতিপালক তিনি সববাইকে একত্রিত করবেন, তিনি মহাবিজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ।
وَلَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ مِن صَلْصَٰلٍۢ مِّنْ حَمَإٍۢ مَّسْنُونٍۢ ٢٦
ওয়ালাকাদ খালাকনাল ইনসা-না মিন সালসা-লিম মিন হামাইম মাসনূন
আমি কাল শুষ্ক ঠনঠনে মাটির গাড়া থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছি।
وَٱلْجَآنَّ خَلَقْنَٰهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ ٱلسَّمُومِ ٢٧
ওয়ালজা-ন্না খালাকনা-হু মিন কাবলু মিন না-রিস সামূম
এর পূর্বে আমি জ্বীনকে আগুনের লেলিহান আগুন থেকে সৃষ্টি করেছি।
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَٰٓئِكَةِ إِنِّى خَٰلِقٌۢ بَشَرًۭا مِّن صَلْصَٰلٍۢ مِّنْ حَمَإٍۢ مَّسْنُونٍۢ ٢٨
ওয়াইয কা-লা রাব্বুকা লিলমালা-ইকাতি ইন্নী খা-লিকুম বাশারাম মিন সালসা-লিম মিন হামাইম মাসনূন
স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন, ‘আমি কাল শুষ্ক ঠনঠনে মাটির কাদা থেকে মানুষ সৃষ্টি করছি।
فَإِذَا سَوَّيْتُهُۥ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِى فَقَعُوا۟ لَهُۥ سَٰجِدِينَ ٢٩
ফাইযা সাওয়াইতুহূ ওয়ানাফাখতু ফীহি মির রূহী ফাকা‘ঊ লাহূ সা-জিদীন
আমি যখন তাকে পূর্ণ মাত্রায় বানিয়ে দেব আর তাতে আমার পক্ষ হতে রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সাজদায় পড়ে যেও।
فَسَجَدَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ ٣٠
ফাসাজাদাল মালা-ইকাতু কুল্লুহুম আজমা‘ঊন
তখন ফেরেশতারা সবাই সাজদাহ করল।
إِلَّآ إِبْلِيسَ أَبَىٰٓ أَن يَكُونَ مَعَ ٱلسَّٰجِدِينَ ٣١
ইল্লা- ইবলীসা আবা- আন ইয়াকূনা মা‘আস সা-জিদীন
ইবলীস বাদে, সে সাজদাহ্কারীদের দলভুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানাল।
قَالَ يَٰٓإِبْلِيسُ مَا لَكَ أَلَّا تَكُونَ مَعَ ٱلسَّٰجِدِينَ ٣٢
কা-লা ইয়া-ইবলীসু মা লাকা আল্লা তাকূনা মা‘আস সা-জিদীন
আল্লাহ বলবেন, ‘হে ইবলীস! তোমার কী হল যে তুমি সাজদাহকারীদের দলভুক্ত হলে না?’
قَالَ لَمْ أَكُن لِّأَسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَهُۥ مِن صَلْصَٰلٍۢ مِّنْ حَمَإٍۢ مَّسْنُونٍۢ ٣٣
কা-লা লাম আকুল লিআসজুদা লিবাশারিন খালাকতাহূ মিন সালসা-লিম মিন হামাইম মাসনূন
ইবলীস বলল, ‘আমার কাজ নয় মানুষকে সাজদাহ্ করা যাকে তুমি পচা কর্দমের ঠনঠনে গাড়া থেকে সৃষ্টি করেছ।’
قَالَ فَٱخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌۭ ٣٤
কা-লা ফাখরুজ মিনহা ফাইন্নাকা রাজীম
তিনি বললেন, ‘বেরিয়ে যাও এখান থেকে, কারণ তুমি হলে অভিশপ্ত।
وَإِنَّ عَلَيْكَ ٱللَّعْنَةَ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٣٥
ওয়াইন্না ‘আলাইকাল লা‘নাতা ইলা ইয়াওমিদ দীন
বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার উপর থাকল লা‘নত।’
قَالَ رَبِّ فَأَنظِرْنِىٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ ٣٦
কা-লা রাব্বি ফাআনযিরনী ইলা ইয়াওমি ইউব‘আছূন
সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে সময় দিন।’
قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ ٱلْمُنظَرِينَ ٣٧
কা-লা ফাইন্নাকা মিনাল মুনযারীন
তিনি বললেন, ‘তোমাকে সময় দেয়া হল
إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْوَقْتِ ٱلْمَعْلُومِ ٣٨
ইলা ইয়াওমিল ওয়াকতিল মা‘লূম
সেদিন পর্যন্ত যার নির্দিষ্ট ক্ষণ আমার জানা আছে।’
قَالَ رَبِّ بِمَآ أَغْوَيْتَنِى لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ٣٩
কা-লা রাব্বি বিমা- আগওয়াইতানী লাউযাইয়্যিনান্না লাহুম ফিল আরদি ওয়ালাউগউইয়ান্নাহুম আজমা‘ঈন
সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! যেহেতু আপনি আমাকে ভ্রান্তপথে ঠেলে দিলেন, কাজেই আমিও পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপকাজকে অবশ্য অবশ্যই সুশোভিত করে দেখাব আর তাদের সবাইকে অবশ্য অবশ্যই বিভ্রান্ত করব।
إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ ٱلْمُخْلَصِينَ ٤٠
ইল্লা ‘ইবা-দাকা মিনহুমুল মুখলাসীন
কিন্তু তাদের মধ্যে আপনার বাছাই করা বান্দাহদের ছাড়া।’
قَالَ هَٰذَا صِرَٰطٌ عَلَىَّ مُسْتَقِيمٌ ٤١
কা-লা হা-যা সিরা-তুন ‘আলাইয়্যা মুসতাকীম
তিনি বললেন- (আমার বাছাই করা বান্দারা যে পথে চলছে) এটাই আমার কাছে পৌঁছার সরল সোজা পথ।
إِنَّ عِبَادِى لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَٰنٌ إِلَّا مَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْغَاوِينَ ٤٢
ইন্না ‘ইবা-দী লাইসা লাকা ‘আলাইহিম সুলতা-নুন ইল্লা মানিত তাবা‘আকা মিনাল গা-উঈন
আমার প্রকৃত বান্দাহ্দের উপর তোমার কোন আধিপত্য চলবে না, তোমাকে যারা অনুসরণ করে সেই বিভ্রান্তরা ছাড়া।
وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ ٤٣
ওয়াইন্না জাহান্নামা লামাও‘ইদুহুম আজমা‘ঈন
আর তাদের সবার জন্য অবশ্যই ওয়া‘দাকৃত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম।
لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَٰبٍۢ لِّكُلِّ بَابٍۢ مِّنْهُمْ جُزْءٌۭ مَّقْسُومٌ ٤٤
লাহা সাব‘আতু আবওয়া-বিল লিকুল্লি বা-বিম মিনহুম জুযউম মাকসূম
তার সাতটা দরজা আছে। প্রত্যেক দরজার জন্য তাদের মধ্যে শ্রেণী নির্দিষ্ট আছে।’
إِنَّ ٱلْمُتَّقِينَ فِى جَنَّٰتٍۢ وَعُيُونٍ ٤٥
ইন্নাল মুত্তাকীনা ফী জান্না-তিঁ ওয়া‘উইউন
অবশ্যই মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে আর নির্ঝরিণীগুলোর মধ্যে।
ٱدْخُلُوهَا بِسَلَٰمٍ ءَامِنِينَ ٤٦
উদখুলূহা বিসালা-মিন আ-মিনীন
তাদেরকে বলা হবে, ‘পূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তোমরা এতে প্রবেশ কর।’
وَنَزَعْنَا مَا فِى صُدُورِهِم مِّنْ غِلٍّ إِخْوَٰنًا عَلَىٰ سُرُرٍۢ مُّتَقَٰبِلِينَ ٤٧
ওয়ানাযা‘না মা ফী সুদূরিহিম মিন গিল্লিন ইখওয়া-নান ‘আলা সুরুরিম মুতাকা-বিলীন
তাদের অন্তর থেকে আমি বিদ্বেষ দূরীভূত করব, তারা ভ্রাতৃবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আসনে মুখোমুখী সমাসীন হবে।
لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌۭ وَمَا هُم مِّنْهَا بِمُخْرَجِينَ ٤٨
লা ইয়ামাস্সুহুম ফীহা নাসাবুঁ ওয়ামা হুম মিনহা বিমুখরাজীন
কোন ক্লান্তি তাদেরকে স্পর্শ করবে না, আর সেখান থেকে তারা কখনও বহিষ্কৃতও হবে না।
۞ نَبِّئْ عِبَادِىٓ أَنِّىٓ أَنَا ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٤٩
নাব্বি’ ‘ইবা-দী আন-নী আনাল গাফূরুর রাহীম
আমার বান্দাহদেরকে সংবাদ দাও যে, আমি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
وَأَنَّ عَذَابِى هُوَ ٱلْعَذَابُ ٱلْأَلِيمُ ٥٠
ওয়াআন্না ‘আযা-বী হুওয়াল ‘আযা-বুল আলীম
আর আমার শাস্তি- তা বড়ই ভয়াবহ শাস্তি।
وَنَبِّئْهُمْ عَن ضَيْفِ إِبْرَٰهِيمَ ٥١
ওয়ানাব্বি’হুম ‘আন দাইফি ইবরা-হীম
তাদেরকে ইবরাহীমের মেহমানের কাহিনী জানিয়ে দাও।
إِذْ دَخَلُوا۟ عَلَيْهِ فَقَالُوا۟ سَلَٰمًۭا قَالَ إِنَّا مِنكُمْ وَجِلُونَ ٥٢
ইয দাখালূ ‘আলাইহি ফাকা-লূ সালা-মান কা-লা ইন্না মিনকুম ওয়াজিলূন
তারা যখন তার কাছে উপস্থিত হল তখন তারা বলল, ‘তোমার প্রতি সালাম।’ তখন সে বলল, ‘তোমাদের দেখে আমরা শংকিত।’
قَالُوا۟ لَا تَوْجَلْ إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَٰمٍ عَلِيمٍۢ ٥٣
কা-লূ লা তাওজাল ইন্না নুবাশ্শিরুকা বিগুলা-মিন ‘আলীম
তারা বলল, ‘শংকা করো না, আমরা তোমাকে এক জ্ঞানী পুত্রের সুখবর দিচ্ছি।’
قَالَ أَبَشَّرْتُمُونِى عَلَىٰٓ أَن مَّسَّنِىَ ٱلْكِبَرُ فَبِمَ تُبَشِّرُونَ ٥٤
কা-লা আবাশ্শারতুমূনী ‘আলা- আম মাস্সানিয়াল কিবারু ফাবিমা তুবাশ্শিরূন
সে বলল, ‘বার্ধক্য যখন আমাকে স্পর্শ করেছে তখন তোমরা আমাকে সুখবর দিচ্ছ। আচ্ছা, তোমাদের সুখবরটা কী?’
قَالُوا۟ بَشَّرْنَٰكَ بِٱلْحَقِّ فَلَا تَكُن مِّنَ ٱلْقَٰنِطِينَ ٥٥
কা-লূ বাশ্শারনা-কা বিলহাক্কি ফালা তাকুম মিনাল কা-নিতীন
তারা বলল, ‘তোমাকে আমরা প্রকৃতই সুসংবাদ দিচ্ছি। কাজেই তুমি নিরাশদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।’
قَالَ وَمَن يَقْنَطُ مِن رَّحْمَةِ رَبِّهِۦٓ إِلَّا ٱلضَّآلُّونَ ٥٦
কা-লা ওয়ামান ইয়াকনাতু মির রাহমাতি রাব্বিহী ইল্লাদ দা-ল্লূন
সে বলল, ‘পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে তার প্রতিপালকের রহমাত থেকে নিরাশ হয়?’
قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا ٱلْمُرْسَلُونَ ٥٧
কা-লা ফামা খাতবুকুম আইয়্যুহাল মুরসালূন
সে বলল, ‘হে আল্লাহর প্রেরিতরা! তোমরা কোন্ কাজে আগমন করেছ?’
قَالُوٓا۟ إِنَّآ أُرْسِلْنَآ إِلَىٰ قَوْمٍۢ مُّجْرِمِينَ ٥٨
কা-লূ ইন্না- উরসিলনা- ইলা কাওমিম মুজরিমীন
তারা বলল, ‘আমরা এক অপরাধী জাতির বিরুদ্ধে প্রেরিত হয়েছি।
إِلَّآ ءَالَ لُوطٍ إِنَّا لَمُنَجُّوهُمْ أَجْمَعِينَ ٥٩
ইল্লা- আ-লা লূতিন ইন্না লামুনাজ্জূহুম আজমা‘ঈন
তবে লূতের পরিবার বাদে, তাদের সবাইকে আমরা অবশ্যই রক্ষা করব।
إِلَّا ٱمْرَأَتَهُۥ قَدَّرْنَآ ۙ إِنَّهَا لَمِنَ ٱلْغَٰبِرِينَ ٦٠
ইল্লামরাআতাহূ কাদ্দারনা- ইন্নাহা লামিনাল গা-বিরীন
তবে তার স্ত্রীকে নয়, আমরা (আল্লাহর নির্দেশক্রমে) তার জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছি যে, সে পেছনে থেকে যাওয়া লোকেদের মধ্যে শামিল থাকবে।’
فَلَمَّا جَآءَ ءَالَ لُوطٍ ٱلْمُرْسَلُونَ ٦١
ফালাম্মা জা-আ আ-লা লূতিনিল মুরসালূন
আল্লাহর প্রেরিতরা যখন লূত পরিবারের নিকট আসল,
قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌۭ مُّنكَرُونَ ٦٢
কা-লা ইন্নাকুম কাওমুম মুনকারূন
সে বলল, ‘আপনাদেরকে তো অপরিচিত লোক মনে হচ্ছে।’
قَالُوا۟ بَلْ جِئْنَٰكَ بِمَا كَانُوا۟ فِيهِ يَمْتَرُونَ ٦٣
কা-লূ বাল জি’না-কা বিমা কা-নূ ফীহি ইয়ামতারূন
তারা বলল, ‘আমরা তা-ই নিয়ে এসেছি যে ব্যাপারে এ লোকেরা সন্দেহে পতিত ছিল।
وَأَتَيْنَٰكَ بِٱلْحَقِّ وَإِنَّا لَصَٰدِقُونَ ٦٤
ওয়াআতাইনা-কা বিলহাক্কি ওয়াইন্না লাসা-দিকূন
তোমার কাছে আমরা সত্য নিয়েই এসেছি, আর আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।
فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍۢ مِّنَ ٱلَّيْلِ وَٱتَّبِعْ أَدْبَٰرَهُمْ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنكُمْ أَحَدٌۭ وَٱمْضُوا۟ حَيْثُ تُؤْمَرُونَ ٦٥
ফাআসরি বিআহলিকা বিকিত‘ইম মিনাল লাইলি ওয়াত্তাবি‘ আদবা-রাহুম ওয়ালা ইয়ালতাফিত মিনকুম আহাদুঁ ওয়ামদূ হাইছু তু’মারূন
কাজেই কিছুটা রাত থাকতে তুমি তোমার পরিবারবর্গকে নিয়ে বেরিয়ে পড় আর তুমি তাদের পেছনে পেছনে চলতে থাক। তোমাদের কেউ যেন পেছনে ফিরে না তাকায় বরং যেখানে যেতে বলা হচ্ছে চলে যাও।’
وَقَضَيْنَآ إِلَيْهِ ذَٰلِكَ ٱلْأَمْرَ أَنَّ دَابِرَ هَٰٓؤُلَآءِ مَقْطُوعٌۭ مُّصْبِحِينَ ٦٦
ওয়াকাদাইনা- ইলাইহি যা-লিকাল আমরা আন-না দা-বিরা হা-উলা-ই মাকতূ‘উম মুসবিহীন
আমি লূতকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলাম যে, সকাল হতে না হতেই সমূলে ধ্বংস করা হবে।
وَجَآءَ أَهْلُ ٱلْمَدِينَةِ يَسْتَبْشِرُونَ ٦٧
ওয়াজা-আ আহলুল মাদীনাতি ইয়াসতাবশিরূন
শহরের লোকেরা আনন্দ সহকারে (লূতের ঘরে) উপস্থিত হল।
قَالَ إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ ضَيْفِى فَلَا تَفْضَحُونِ ٦٨
কা-লা ইন্না হা-উলা-ই দাইফী ফালা তাফদাহূন
লূত বলল, ‘এরা আমার মেহমান, কাজেই তোমরা আমাকে লাঞ্ছিত করো না।
وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ ٦٩
ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়ালা তুখযূন
তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আমাকে লজ্জিত করো না।’
قَالُوٓا۟ أَوَلَمْ نَنْهَكَ عَنِ ٱلْعَٰلَمِينَ ٧٠
কা-লূ আওয়ালাম নানহাকা ‘আনিল ‘আ-লামীন
তারা বলল, দুনিয়াব্যাপী বিষয় নিয়ে কথা বলতে আমরা কি তোমাকে নিষেধ করিনি?’
قَالَ هَٰٓؤُلَآءِ بَنَاتِىٓ إِن كُنتُمْ فَٰعِلِينَ ٧١
কা-লা হা-উলা-ই বানা-তী ইন কুনতুম ফা-‘ইলীন
(লূত (আ.)) বলল, ‘তোমরা যদি কিছু করতেই চাও তাহলে এই আমার (জাতির) কন্যারা আছে।’
لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِى سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ ٧٢
লা‘আমরুকা ইন্নাহুম লাফী সাকরাতিহিম ইয়া‘মাহূন
তোমার জীবনের শপথ হে নাবী! তারা উন্মত্ত নেশায় আত্মহারা হয়ে পড়েছিল।
فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّيْحَةُ مُشْرِقِينَ ٧٣
ফাআখাযাতহুমুস সাইহাতু মুশরিকীন
সূর্যোদয়ের সময়ে এক প্রচন্ড ধ্বনি তাদের উপর আঘাত হানল।
فَجَعَلْنَا عَٰلِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ حِجَارَةًۭ مِّن سِجِّيلٍ ٧٤
ফাজা‘আলনা ‘আ-লিয়াহা সা-ফিলাহা ওয়াআমতারনা ‘আলাইহিম হিজা-রাতাম মিন সিজ্জীল
আর আমি সে জনপদকে উল্টে (উপর-নীচ) করে দিলাম আর তাদের উপর পাকানো মাটির প্রস্তর বর্ষণ করলাম।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّلْمُتَوَسِّمِينَ ٧٥
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিলমুতাওয়াস্সিমীন
এতে অবশ্যই অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকেদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।
وَإِنَّهَا لَبِسَبِيلٍۢ مُّقِيمٍ ٧٦
ওয়াইন্নাহা লাবিসাবীলিম মুকীম
এটি মানুষের চলাচল পথের পাশেই বিদ্যমান।
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ ٧٧
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিলমু’মিনীন
মু’মিনদের জন্য এতে বড়ই নিদর্শন রয়েছে।
وَإِن كَانَ أَصْحَٰبُ ٱلْأَيْكَةِ لَظَٰلِمِينَ ٧٨
ওয়াইন কা-না আসহা-বুল আইকাতি লাযা-লিমীন
আর আয়কাহবাসীরাও অবশ্যই যালিম ছিল।
فَٱنتَقَمْنَا مِنْهُمْ وَإِنَّهُمَا لَبِإِمَامٍۢ مُّبِينٍۢ ٧٩
ফানতাকামনা মিনহুম ওয়াইন্নাহুমা লাবিইমা-মিম মুবীন
কাজেই তাদের উপর প্রতিশোধ নিয়েছিলাম, এ দু’টো জনপদই প্রকাশ্য পথের উপর অবস্থিত।
وَلَقَدْ كَذَّبَ أَصْحَٰبُ ٱلْحِجْرِ ٱلْمُرْسَلِينَ ٨٠
ওয়ালাকাদ কায্যাবা আসহা-বুল হিজরিল মুরসালীন
হিজর-এর লোকেরাও রসূলদেরকে অমান্য করেছিল।
وَءَاتَيْنَٰهُمْ ءَايَٰتِنَا فَكَانُوا۟ عَنْهَا مُعْرِضِينَ ٨١
ওয়াআ-তাইনা-হুম আ-য়া-তিনা ফাকা-নূ ‘আনহা মু‘রিদীন
আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়েছিলাম কিন্তু তাত্থেকে তারা মুখ ফিরিয়েই রেখেছিল।
وَكَانُوا۟ يَنْحِتُونَ مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًا ءَامِنِينَ ٨٢
ওয়াকা-নূ ইয়ানহিতূনা মিনাল জিবা-লি বুইউতান আ-মিনীন
তারা পাহাড় খোদাই করতঃ ঘর তৈরি করে নিজেদেরকে নিরাপদ ভাবত।
فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّيْحَةُ مُصْبِحِينَ ٨٣
ফাআখাযাতহুমুস সাইহাতু মুসবিহীন
অতঃপর এক সকালে প্রচন্ড ধ্বনি তাদের উপর আঘাত হানল।
فَمَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ٨٤
ফামা- আগনা ‘আনহুম মা কা-নূ ইয়াকসিবূন
তাদের উপার্জন তাদের কোন কাজে আসল না।
وَمَا خَلَقْنَا ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَآ إِلَّا بِٱلْحَقِّ ۗ وَإِنَّ ٱلسَّاعَةَ لَءَاتِيَةٌۭ ۖ فَٱصْفَحِ ٱلصَّفْحَ ٱلْجَمِيلَ ٨٥
ওয়ামা খালাকনাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদা ওয়ামা বাইনাহুমা- ইল্লা বিলহাক্ক ওয়াইন্নাস সা-‘আতা লাআ-তিয়াতুন ফাসফাহিস সাফহাল জামীল
আমি আসমানসমূহ, যমীন আর এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে প্রকৃত উদ্দেশ্য ছাড়া সৃষ্টি করিনি। ক্বিয়ামাত অবশ্যই আসবে, কাজেই উত্তম পন্থায় (তাদেরকে) এড়িয়ে যাও।
إِنَّ رَبَّكَ هُوَ ٱلْخَلَّٰقُ ٱلْعَلِيمُ ٨٦
ইন্না রাব্বাকা হুওয়াল খাল্লা-কুল ‘আলীম
নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক তিনি সর্বস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
وَلَقَدْ ءَاتَيْنَٰكَ سَبْعًۭا مِّنَ ٱلْمَثَانِى وَٱلْقُرْءَانَ ٱلْعَظِيمَ ٨٧
ওয়ালাকাদ আ-তাইনা-কা সাব‘আম মিনাল মাছা-নী ওয়ালকুরআ-নাল ‘আযীম
আমি তোমাকে দিয়েছি পুনঃ পুনঃ আবৃত্ত সপ্ত আয়াত আর মহা কুরআন।
لَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَىٰ مَا مَتَّعْنَا بِهِۦٓ أَزْوَٰجًۭا مِّنْهُمْ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَٱخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِينَ ٨٨
লা তামুদ্দান্না ‘আইনাইকা ইলা মা মাত্তা‘না বিহী আযওয়া-জাম মিনহুম ওয়ালা তাহযান ‘আলাইহিম ওয়াখফিদ জানা-হাকা লিলমু’মিনীন
তুমি দুনিয়ার দ্রব্য সামগ্রীর প্রতি চোখ তুলে তাকিও না যা আমি তাদের বিভিন্ন লোকেদের দিয়েছি। (তারা ভুল চিন্তা ও ভুল কর্মের মাধ্যমে নিজেদের ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনছে, এমতাবস্থায়) তাদের জন্য তুমি দুঃখ করো না, আর মু’মিনদের জন্য তোমার (অনুকম্পার) ডানা মেলে দাও।
وَقُلْ إِنِّىٓ أَنَا ٱلنَّذِيرُ ٱلْمُبِينُ ٨٩
ওয়াকুল ইন্নী আনান নাযীরুল মুবীন
আর বলে দাও, ‘আমি তো স্পষ্ট ভাষায় সতর্ককারী মাত্র।’
كَمَآ أَنزَلْنَا عَلَى ٱلْمُقْتَسِمِينَ ٩٠
কামা- আনযালনা ‘আলাল মুকতাসিমীন
যে ধরনের সতর্কীকরণ পাঠানো হয়েছিল (আল্লাহর কিতাবকে) বিভক্তকারী (ইয়াহূদী ও খ্রীস্টান)দের উপর।
ٱلَّذِينَ جَعَلُوا۟ ٱلْقُرْءَانَ عِضِينَ ٩١
আল্লাযীনা জা‘আলুল কুরআ-না ‘ইদীন
যারা কুরআনকে (নিজেদের খেয়াল খুশিমত) ভাগ ভাগ করে ফেলেছে (যেটা ইচ্ছে মানছে, যেটা ইচ্ছে অমান্য করছে)।
فَوَرَبِّكَ لَنَسْـَٔلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ٩٢
ফাওয়ারাব্বিকা লানাসআলান্নাহুম আজমা‘ঈন
অতএব শপথ তোমার রব্বের! তাদের সববাইকে অবশ্য অবশ্যই আমি জিজ্ঞেস করব ।
عَمَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ٩٣
‘আম্মা কা-নূ ইয়া‘মালূন
তারা যা করছে সে সম্পর্কে।
فَٱصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ ٱلْمُشْرِكِينَ ٩٤
ফাসদা‘ বিমা তু’মারু ওয়াআ‘রিদ ‘আনিল মুশরিকীন
কাজেই তোমাকে যে বিষয়ের হুকুম দেয়া হয়েছে তা জোরে শোরে প্রকাশ্যে প্রচার কর, আর মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।
إِنَّا كَفَيْنَٰكَ ٱلْمُسْتَهْزِءِينَ ٩٥
ইন্না কাফাইনা-কাল মুসতাহযিঈন
(সেই) ঠাট্টা-বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য আমিই যথেষ্ট
ٱلَّذِينَ يَجْعَلُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ ۚ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ٩٦
আল্লাযীনা ইয়াজ‘আলূনা মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খার ফাসাওফা ইয়া‘লামূন
যারা আল্লাহর সাথে অন্যকেও ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে, (কাজেই শিরকের পরিণতি কী) শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।
وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّكَ يَضِيقُ صَدْرُكَ بِمَا يَقُولُونَ ٩٧
ওয়ালাকাদ না‘লামু আন-নাকা ইয়াদীকু সাদরুকা বিমা ইয়াকূলূন
আমি জানি, তারা যে সব কথা-বার্তা বলে তাতে তোমার মন সংকুচিত হয়।
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُن مِّنَ ٱلسَّٰجِدِينَ ٩٨
ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াকুম মিনাস সা-জিদীন
কাজেই প্রশংসা সহকারে তুমি তোমার প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা কর, আর সাজদাহকারীদের দলভুক্ত হও।
وَٱعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأْتِيَكَ ٱلْيَقِينُ ٩٩
ওয়া‘বুদ রাব্বাকা হাত্তা ইয়া’তিয়াকাল ইয়াকীন
আর তোমার রব্বের ‘ইবাদাত করতে থাক তোমার সুনিশ্চিত ক্ষণের (অর্থাৎ মৃত্যুর) আগমন পর্যন্ত।