মূল লেখায় যান
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
يوسف

সূরা ইউসুফ

নবী ইউসুফ (আ.) · সূরা নং ১২ · ১১১ আয়াত · ১২ রুকু · মাক্কী · পারা ১২
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
الٓر ۚ تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِ ١
আলিফ লা-ম রা তিলকা আ-য়া-তুল কিতা-বিল মুবীন
আলিফ, লাম-রা, এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াতসমূহ।
إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ قُرْءَٰنًا عَرَبِيًّۭا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ٢
ইন্না- আনযালনা-হু কুরআ-নান ‘আরাবিয়্যাল লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন
আমি তা অবতীর্ণ করেছি, আরবী ভাষার কুরআন, যাতে তোমরা ভালভাবে বুঝতে পার।
نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ ٱلْقَصَصِ بِمَآ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ هَٰذَا ٱلْقُرْءَانَ وَإِن كُنتَ مِن قَبْلِهِۦ لَمِنَ ٱلْغَٰفِلِينَ ٣
নাহনু নাকুস্সু ‘আলাইকা আহসানাল কাসাসি বিমা- আওহাইনা- ইলাইকা হা-যাল কুরআ-না ওয়াইন কুনতা মিন কাবলিহী লামিনাল গা-ফিলীন
আমি তোমার কাছে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, এ কুরআন তোমার কাছে ওয়াহী যোগে পাঠিয়ে, যদিও এর পূর্বে তুমি না-জানা লোকদের মধ্যেই শামিল ছিলে।
إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَٰٓأَبَتِ إِنِّى رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًۭا وَٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِى سَٰجِدِينَ ٤
ইয কা-লা ইউসুফু লিআবীহি ইয়া-আবাতি ইন্নী রাআইতু আহাদা ‘আশারা কাওকাবাঁ ওয়াশ্শামসা ওয়ালকামারা রাআইতুহুম লী সা-জিদীন
স্মরণ কর, ইউসুফ যখন তার পিতাকে বলেছিল, ‘হে আব্বাজান! আমি (স্বপ্নে) দেখেছি এগারটি তারকা আর সূর্য ও চন্দ্র; দেখলাম তারা আমাকে সাজদাহ করছে।’
قَالَ يَٰبُنَىَّ لَا تَقْصُصْ رُءْيَاكَ عَلَىٰٓ إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا۟ لَكَ كَيْدًا ۖ إِنَّ ٱلشَّيْطَٰنَ لِلْإِنسَٰنِ عَدُوٌّۭ مُّبِينٌۭ ٥
কা-লা ইয়া-বুনাইয়্যা লা তাকসুস রু’ইয়া-কা ‘আলা- ইখওয়াতিকা ফায়াকীদূ লাকা কাইদান ইন্নাশ শাইতা-না লিলইনসা-নি ‘আদুউম মুবীন
তার পিতা বললেন, ‘হে আমার পুত্র! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা করো না। যদি কর তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। শাইত্বান তো মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।
وَكَذَٰلِكَ يَجْتَبِيكَ رَبُّكَ وَيُعَلِّمُكَ مِن تَأْوِيلِ ٱلْأَحَادِيثِ وَيُتِمُّ نِعْمَتَهُۥ عَلَيْكَ وَعَلَىٰٓ ءَالِ يَعْقُوبَ كَمَآ أَتَمَّهَا عَلَىٰٓ أَبَوَيْكَ مِن قَبْلُ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْحَٰقَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ ٦
ওয়াকাযা-লিকা ইয়াজতাবীকা রাব্বুকা ওয়াইউ‘আল্লিমুকা মিন তা’উঈলিল আহা-দীছি ওয়াইউতিম্মু নি‘মাতাহূ ‘আলাইকা ওয়া‘আলা- আ-লি ইয়া‘কূবা কামা- আতাম্মাহা ‘আলা- আবাওয়াইকা মিন কাবলু ইবরা-হীমা ওয়াইসহা-ক ইন্না রাব্বাকা ‘আলীমুন হাকীম
(স্বপ্নে যেমন দেখেছ) এভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন, তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন এবং তিনি তাঁর অনুগ্রহ তোমার প্রতি আর ইয়া‘কূব পরিবারের প্রতি পূর্ণ করবেন যেভাবে তিনি তা পূর্বে তোমার পিতৃ-পুরুষ ইবরাহীম ও ইসহাকের প্রতি পূর্ণ করেছিলেন, নিশ্চয়ই তোমার রব্ব সর্বজ্ঞ, বড়ই প্রজ্ঞাবান।’
۞ لَّقَدْ كَانَ فِى يُوسُفَ وَإِخْوَتِهِۦٓ ءَايَٰتٌۭ لِّلسَّآئِلِينَ ٧
লাকাদ কা-না ফী ইউসুফা ওয়াইখওয়াতিহী আ-য়া-তুল লিস্সা-ইলীন
ইউসুফ আর তার ভাইদের ঘটনায় সত্য সন্ধানীদের জন্য অবশ্যই নিদর্শনাবলী আছে।
إِذْ قَالُوا۟ لَيُوسُفُ وَأَخُوهُ أَحَبُّ إِلَىٰٓ أَبِينَا مِنَّا وَنَحْنُ عُصْبَةٌ إِنَّ أَبَانَا لَفِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍ ٨
ইয কা-লূ লাইউসুফু ওয়াআখূহু আহাব্বু ইলা- আবীনা মিন্না ওয়ানাহনু ‘উসবাতুন ইন্না আবা-না লাফী দালা-লিম মুবীন
স্মরণ কর, যখন তারা (বৈমাত্রেয় ভাইগণ) বলাবলি করছিল, ‘নিশ্চয়ই ইউসুফ আর তার (সহোদর) ভাই আমাদের পিতার কাছে আমাদের চেয়ে বেশি প্রিয়, অথচ আমরা পুরো একটা দল, আমাদের পিতা স্পষ্ট ভুলের মধ্যে আছেন।
ٱقْتُلُوا۟ يُوسُفَ أَوِ ٱطْرَحُوهُ أَرْضًۭا يَخْلُ لَكُمْ وَجْهُ أَبِيكُمْ وَتَكُونُوا۟ مِنۢ بَعْدِهِۦ قَوْمًۭا صَٰلِحِينَ ٩
উকতুলূ ইউসুফা আউইতরাহূহু আরদাঁ ইয়াখলু লাকুম ওয়াজহু আবীকুম ওয়াতাকূনূ মিম বা‘দিহী কাওমান সা-লিহীন
তোমরা ইউসুফকে হত্যা করে ফেল কিংবা তাকে কোন ভূমিতে ফেলে আস, তাহলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি তোমাদের প্রতিই নিবদ্ধ হবে, তার পর তোমরা (তাওবাহ করে) ভাল লোক হয়ে যাবে।
قَالَ قَآئِلٌۭ مِّنْهُمْ لَا تَقْتُلُوا۟ يُوسُفَ وَأَلْقُوهُ فِى غَيَٰبَتِ ٱلْجُبِّ يَلْتَقِطْهُ بَعْضُ ٱلسَّيَّارَةِ إِن كُنتُمْ فَٰعِلِينَ ١٠
কা-লা কা-ইলুম মিনহুম লা তাকতুলূ ইউসুফা ওয়াআলকূহু ফী গায়া-বাতিল জুব্বি ইয়ালতাকিতহু বা‘দুস সাইয়্যা-রাতি ইন কুনতুম ফা-‘ইলীন
তাদের একজন বলল, তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো না, তোমাদেরকে যদি কিছু করতেই হয় বরং তাকে কোন অন্ধ কূপে ফেলে দাও, কোন যাত্রীদল তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে।’
قَالُوا۟ يَٰٓأَبَانَا مَا لَكَ لَا تَأْمَ۫نَّا عَلَىٰ يُوسُفَ وَإِنَّا لَهُۥ لَنَٰصِحُونَ ١١
কা-লূ ইয়া-আবা-না মা লাকা লা তা’মান্না ‘আলা ইউসুফা ওয়াইন্না লাহূ লানা-সিহূন
তারা বলল, ‘হে আমাদের আব্বাজান! কী ব্যাপার, আপনি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদেরকে বিশ্বাস করেন না কেন, অথচ আমরা অবশ্যই তার কল্যাণকামী।
أَرْسِلْهُ مَعَنَا غَدًۭا يَرْتَعْ وَيَلْعَبْ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ ١٢
আরসিলহু মা‘আনা গাদাঁ ইয়ারতা‘ ওয়ায়াল‘আব ওয়াইন্না লাহূ লাহা-ফিযূন
তাকে আগামীকাল আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দিন, সে আমোদ করবে আর খেলবে, আমরা তার পুরোপুরি দেখাশুনা করব।’
قَالَ إِنِّى لَيَحْزُنُنِىٓ أَن تَذْهَبُوا۟ بِهِۦ وَأَخَافُ أَن يَأْكُلَهُ ٱلذِّئْبُ وَأَنتُمْ عَنْهُ غَٰفِلُونَ ١٣
কা-লা ইন্নী লায়াহযুনুনী আন তাযহাবূ বিহী ওয়াআখা-ফু আন ইয়া’কুলাহুয যি’বু ওয়াআনতুম ‘আনহু গা-ফিলূন
পিতা বলল, ‘তোমরা যে তাকে নিয়ে যাবে সেটা আমাকে অবশ্যই কষ্ট দেবে আর আমি ভয় করছি যে, নেকড়ে বাঘ তাকে খেয়ে ফেলবে, আর তখন তার সম্পর্কে তোমরা বে-খেয়াল হয়ে থাকবে।’
قَالُوا۟ لَئِنْ أَكَلَهُ ٱلذِّئْبُ وَنَحْنُ عُصْبَةٌ إِنَّآ إِذًۭا لَّخَٰسِرُونَ ١٤
কা-লূ লাইন আকালাহুয যি’বু ওয়ানাহনু ‘উসবাতুন ইন্না- ইযাল লাখা-সিরূন
তারা বলল, ‘আমরা একটা দল থাকতে তাকে যদি নেকড়ে বাঘে খেয়ে ফেলে, তাহলে তো আমরা অপদার্থই বনে যাবো।’
فَلَمَّا ذَهَبُوا۟ بِهِۦ وَأَجْمَعُوٓا۟ أَن يَجْعَلُوهُ فِى غَيَٰبَتِ ٱلْجُبِّ ۚ وَأَوْحَيْنَآ إِلَيْهِ لَتُنَبِّئَنَّهُم بِأَمْرِهِمْ هَٰذَا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ١٥
ফালাম্মা যাহাবূ বিহী ওয়াআজমা‘ঊ আন ইয়াজ‘আলূহু ফী গায়া-বাতিল জুব্ব ওয়াআওহাইনা- ইলাইহি লাতুনাব্বিআন্নাহুম বিআমরিহিম হা-যা ওয়াহুম লা ইয়াশ‘উরূন
অতঃপর যখন তারা তাকে নিয়ে গেল, আর তাকে অন্ধ কূপে ফেলার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছল, এমতাবস্থায় আমি ইউসুফকে ওয়াহী করলাম- এক সময় আসবে যখন তুমি তাদেরকে তাদের এ কর্মের কথা অবশ্য অবশ্যই ব্যক্ত করবে।’ অথচ তারা (অর্থাৎ ইউসুফের ভাইয়েরা) মোটেই টের পাবে না।
وَجَآءُوٓ أَبَاهُمْ عِشَآءًۭ يَبْكُونَ ١٦
ওয়াজা-ঊ আবা-হুম ‘ইশা-আঁ ইয়াবকূন
রাতের প্রথম প্রহরে তারা তাদের পিতার কাছে কাঁদতে কাঁদতে আসল।
قَالُوا۟ يَٰٓأَبَانَآ إِنَّا ذَهَبْنَا نَسْتَبِقُ وَتَرَكْنَا يُوسُفَ عِندَ مَتَٰعِنَا فَأَكَلَهُ ٱلذِّئْبُ ۖ وَمَآ أَنتَ بِمُؤْمِنٍۢ لَّنَا وَلَوْ كُنَّا صَٰدِقِينَ ١٧
কা-লূ ইয়া-আবা-না- ইন্না যাহাবনা নাসতাবিকু ওয়াতারাকনা ইউসুফা ‘ইনদা মাতা-‘ইনা ফাআকালাহুয যি’বু ওয়ামা- আনতা বিমু’মিনিল লানা ওয়ালাও কুন্না সা-দিকীন
তারা বলল, ‘হে আমাদের আব্বাজান! আমরা দৌড়ের প্রতিযোগিতা করছিলাম, আর ইউসুফকে আমরা আমাদের জিনিসপত্রের কাছে রেখে গিয়েছিলাম, তখন তাকে নেকড়ে বাঘে খেয়ে ফেলল, কিন্তু আপনি তো আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না, আমরা সত্যবাদী হলেও।’
وَجَآءُو عَلَىٰ قَمِيصِهِۦ بِدَمٍۢ كَذِبٍۢ ۚ قَالَ بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنفُسُكُمْ أَمْرًۭا ۖ فَصَبْرٌۭ جَمِيلٌۭ ۖ وَٱللَّهُ ٱلْمُسْتَعَانُ عَلَىٰ مَا تَصِفُونَ ١٨
ওয়াজা-ঊ ‘আলা কামীসিহী বিদামিন কাযিব কা-লা বাল সাওয়ালাত লাকুম আনফুসুকুম আমরান ফাসাবরুন জামীলুঁ ওয়াল্লা-হুল মুসতা‘আ-নু ‘আলা মা তাসিফূন
তারা তার জামায় মিছেমিছি রক্ত মাখিয়ে নিয়ে এসেছিল। পিতা বলল, ‘না, বরং তোমাদের প্রবৃত্তি তোমাদেরকে একটা কাহিনী বানাতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ঠিক আছে, আমি পুরোপুরি ধৈর্য ধারণ করব, তোমরা যা বানিয়েছ সে ব্যাপারে আল্লাহই আমার আশ্রয়স্থল।’
وَجَآءَتْ سَيَّارَةٌۭ فَأَرْسَلُوا۟ وَارِدَهُمْ فَأَدْلَىٰ دَلْوَهُۥ ۖ قَالَ يَٰبُشْرَىٰ هَٰذَا غُلَٰمٌۭ ۚ وَأَسَرُّوهُ بِضَٰعَةًۭ ۚ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِمَا يَعْمَلُونَ ١٩
ওয়াজা-আত সাইয়্যা-রাতুন ফাআরসালূ ওয়া-রিদাহুম ফাআদলা দালওয়াহূ কা-লা ইয়া-বুশরা হা-যা গুলা-ম ওয়াআসার্রূহু বিদা-‘আহ ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিমা ইয়া‘মালূন
সেখানে একটা কাফেলা আসলো। তারা তাদের পানি সংগ্রহকারীকে পাঠালো। সে তার পানির বালতি নামিয়ে দিল। সে বলল, ‘কী খুশির খবর! এ যে দেখছি এক বালক!’ তারা তাকে পণ্য দ্রব্য জ্ঞানে লুকিয়ে দিল, আর তারা যা করছিল সে সম্পর্কে আল্লাহ খুবই অবহিত।
وَشَرَوْهُ بِثَمَنٍۭ بَخْسٍۢ دَرَٰهِمَ مَعْدُودَةٍۢ وَكَانُوا۟ فِيهِ مِنَ ٱلزَّٰهِدِينَ ٢٠
ওয়াশারাওহু বিছামানিম বাখসিন দারা-হিমা মা‘দূদাতিঁ ওয়াকা-নূ ফীহি মিনায যা-হিদীন
তারা তাকে স্বল্প মূল্যে- মাত্র কয়টি দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিল, তারা ছিল তাকে তুচ্ছ জ্ঞানকারী!
وَقَالَ ٱلَّذِى ٱشْتَرَىٰهُ مِن مِّصْرَ لِٱمْرَأَتِهِۦٓ أَكْرِمِى مَثْوَىٰهُ عَسَىٰٓ أَن يَنفَعَنَآ أَوْ نَتَّخِذَهُۥ وَلَدًۭا ۚ وَكَذَٰلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلِنُعَلِّمَهُۥ مِن تَأْوِيلِ ٱلْأَحَادِيثِ ۚ وَٱللَّهُ غَالِبٌ عَلَىٰٓ أَمْرِهِۦ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ٢١
ওয়াকা-লাল লাযিশতারা-হু মিম মিসরা লিমরাআতিহী আকরিমী মাছওয়া-হু ‘আসা- আন ইয়ানফা‘আনা- আও নাত্তাখিযাহূ ওয়ালাদা ওয়াকাযা-লিকা মাক্কান্না লিইউসুফা ফিল আরদি ওয়ালিনু‘আল্লিমাহূ মিন তা’উঈলিল আহা-দীছ ওয়াল্লা-হু গা-লিবুন ‘আলা- আমরিহী ওয়ালা-কিন্না আকছারান না-সি লা ইয়া‘লামূন
মিসরের যে লোক তাকে ক্রয় করেছিল, সে তার স্ত্রীকে বলল, ‘তার থাকার সুব্যবস্থা কর, সম্ভবতঃ সে আমাদের উপকারে আসবে কিংবা তাকে আমরা পুত্র হিসেবেও গ্রহণ করে নিতে পারি।’ এভাবে আমি ইউসুফকে সে দেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম তাকে স্বপ্ন ব্যাখ্যার কিছু জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার জন্য। আল্লাহ তাঁর কাজের ব্যাপারে পূর্ণ কর্তৃত্বশীল। কিন্তু অধিকাংশ লোকই (তা) জানে না।
وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُۥٓ ءَاتَيْنَٰهُ حُكْمًۭا وَعِلْمًۭا ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ ٢٢
ওয়ালাম্মা বালাগা আশুদ্দাহূ আ-তাইনা-হু হুকমাঁ ওয়া‘ইলমা ওয়াকাযা-লিকা নাজযিল মুহসিনীন
যখন সে তার পরিপূর্ণ যৌবনে পৌঁছল, তখন তাকে বিচার-বুদ্ধি ও জ্ঞান দান করলাম, আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।
وَرَٰوَدَتْهُ ٱلَّتِى هُوَ فِى بَيْتِهَا عَن نَّفْسِهِۦ وَغَلَّقَتِ ٱلْأَبْوَٰبَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ ۚ قَالَ مَعَاذَ ٱللَّهِ ۖ إِنَّهُۥ رَبِّىٓ أَحْسَنَ مَثْوَاىَ ۖ إِنَّهُۥ لَا يُفْلِحُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٢٣
ওয়ারা-ওয়াদাতহুল লাতী হুওয়া ফী বাইতিহা ‘আন নাফসিহী ওয়াগাল্লাকাতিল আবওয়া-বা ওয়াকা-লাত হাইতা লাক কা-লা মা‘আ-যাল্লা-হি ইন্নাহূ রাব্বী আহসানা মাছওয়া-য়া ইন্নাহূ লা ইউফলিহুয যা-লিমূন
যে মহিলার ঘরে সে ছিল, সে (মহিলাটি) তার থেকে অসৎ কর্ম কামনা করল। সে দরজাগুলো বন্ধ করে দিল আর বলল, ‘এসো’। সে (ইউসুফ) বলল, ‘আমি আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি। তিনি আমার রব্ব, তিনি আমার থাকার ব্যবস্থা কত উত্তম করেছেন, যালিমরা কক্ষনো সাফল্য লাভ করতে পারে না।
وَلَقَدْ هَمَّتْ بِهِۦ ۖ وَهَمَّ بِهَا لَوْلَآ أَن رَّءَا بُرْهَٰنَ رَبِّهِۦ ۚ كَذَٰلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ ٱلسُّوٓءَ وَٱلْفَحْشَآءَ ۚ إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُخْلَصِينَ ٢٤
ওয়ালাকাদ হাম্মাত বিহী ওয়াহাম্মা বিহা লাওলা- আর রাআ বুরহা-না রাব্বিহ কাযা-লিকা লিনাসরিফা ‘আনহুস সূআ ওয়ালফাহশা-আ ইন্নাহূ মিন ‘ইবা-দিনাল মুখলাসীন
সেই মহিলা তার প্রতি আসক্ত হয়েছিল আর সে (ইউসুফ)ও তার প্রতি আসক্ত হয়েই যেত যদি সে তার প্রতিপালকের নিদর্শন না দেখত। আমি তা দেখিয়েছিলাম তাকে অসৎ কর্ম ও নির্লজ্জতা থেকে সরিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে, সে ছিল বিশুদ্ধ-হৃদয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
وَٱسْتَبَقَا ٱلْبَابَ وَقَدَّتْ قَمِيصَهُۥ مِن دُبُرٍۢ وَأَلْفَيَا سَيِّدَهَا لَدَا ٱلْبَابِ ۚ قَالَتْ مَا جَزَآءُ مَنْ أَرَادَ بِأَهْلِكَ سُوٓءًا إِلَّآ أَن يُسْجَنَ أَوْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ٢٥
ওয়াসতাবাকাল বা-বা ওয়াকাদ্দাত কামীসাহূ মিন দুবুরিঁ ওয়াআলফায়া সাইয়্যিদাহা লাদাল বা-ব কা-লাত মা জাযা-উ মান আরা-দা বিআহলিকা সূআন ইল্লা- আন ইউসজানা আও ‘আযা-বুন আলীম
তারা উভয়ে দরজার দিকে দৌড় দিল আর স্ত্রীলোকটি পিছন হতে তার জামা ছিঁড়ে ফেলল। এ সময় স্ত্রীলোকটির স্বামীকে তারা দু’জনে দরজার কাছে পেল। মহিলাটি বলল, ‘যে তোমার পরিবারের সাথে অপকর্ম করতে চায় তাকে জেলে পাঠানো অথবা ভয়াবহ শাস্তি ছাড়া উপযুক্ত দন্ড কী আর দেয়া যেতে পারে?’
قَالَ هِىَ رَٰوَدَتْنِى عَن نَّفْسِى ۚ وَشَهِدَ شَاهِدٌۭ مِّنْ أَهْلِهَآ إِن كَانَ قَمِيصُهُۥ قُدَّ مِن قُبُلٍۢ فَصَدَقَتْ وَهُوَ مِنَ ٱلْكَٰذِبِينَ ٢٦
কা-লা হিয়া রা-ওয়াদাতনী ‘আন নাফসী ওয়াশাহিদা শা-হিদুম মিন আহলিহা- ইন কা-না কামীসুহূ কুদ্দা মিন কুবুলিন ফাসাদাকাত ওয়াহুওয়া মিনাল কা-যিবীন
সে (ইউসুফ) বলল, ‘সে-ই আমা হতে অসৎ কর্ম কামনা করেছে’। তখন মহিলাটির পরিবারের এক সাক্ষী সাক্ষ্য দিল- ‘যদি তার জামা সম্মুখ দিক থেকে ছেঁড়া হয়ে থাকে, তবে মহিলাটি সত্য বলেছে আর সে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
وَإِن كَانَ قَمِيصُهُۥ قُدَّ مِن دُبُرٍۢ فَكَذَبَتْ وَهُوَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ٢٧
ওয়াইন কা-না কামীসুহূ কুদ্দা মিন দুবুরিন ফাকাযাবাত ওয়াহুওয়া মিনাস সা-দিকীন
আর যদি তার জামা পেছন হতে ছেঁড়া হয়ে থাকে, তবে মহিলাটি মিথ্যে বলেছে আর সে সত্যবাদীদের অন্তুর্ভক্ত।’
فَلَمَّا رَءَا قَمِيصَهُۥ قُدَّ مِن دُبُرٍۢ قَالَ إِنَّهُۥ مِن كَيْدِكُنَّ ۖ إِنَّ كَيْدَكُنَّ عَظِيمٌۭ ٢٨
ফালাম্মা রাআ কামীসাহূ কুদ্দা মিন দুবুরিন কা-লা ইন্নাহূ মিন কাইদিকুন্না ইন্না কাইদাকুন্না ‘আযীম
স্বামী যখন ইউসুফের জামাটি পেছন হতে ছেঁড়া দেখতে পেল, তখন সে বলল, ‘এ সব হল তোমাদের নারীদের ছলনা, তোমাদের কূট কৌশল বড়ই কঠিন।
يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَٰذَا ۚ وَٱسْتَغْفِرِى لِذَنۢبِكِ ۖ إِنَّكِ كُنتِ مِنَ ٱلْخَاطِـِٔينَ ٢٩
ইউসুফু আ‘রিদ ‘আন হা-যা ওয়াসতাগফিরী লিযামবিকি ইন্নাকি কুনতি মিনাল খা-তিঈন
ওহে ইউসুফ! তুমি ব্যাপারটা উপেক্ষা কর, আর ওহে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা চাও, প্রকৃতপক্ষে তুমিই অপরাধী।’
۞ وَقَالَ نِسْوَةٌۭ فِى ٱلْمَدِينَةِ ٱمْرَأَتُ ٱلْعَزِيزِ تُرَٰوِدُ فَتَىٰهَا عَن نَّفْسِهِۦ ۖ قَدْ شَغَفَهَا حُبًّا ۖ إِنَّا لَنَرَىٰهَا فِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍۢ ٣٠
ওয়াকা-লা নিসওয়াতুন ফিল মাদীনাতিমরাআতুল ‘আযীযি তুরা-উইদু ফাতা-হা ‘আন নাফসিহী কাদ শাগাফাহা হুব্বান ইন্না লানারা-হা ফী দালা-লিম মুবীন
নগরীর কতক মহিলা বলল, ‘আযীযের স্ত্রী তার যুবক ক্রীতদাসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে, ভালবাসা তাকে উন্মাদ করে ফেলেছে, আমরা নিশ্চিতই তাকে প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে নিপতিত দেখছি।’
فَلَمَّا سَمِعَتْ بِمَكْرِهِنَّ أَرْسَلَتْ إِلَيْهِنَّ وَأَعْتَدَتْ لَهُنَّ مُتَّكَـًۭٔا وَءَاتَتْ كُلَّ وَٰحِدَةٍۢ مِّنْهُنَّ سِكِّينًۭا وَقَالَتِ ٱخْرُجْ عَلَيْهِنَّ ۖ فَلَمَّا رَأَيْنَهُۥٓ أَكْبَرْنَهُۥ وَقَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ وَقُلْنَ حَٰشَ لِلَّهِ مَا هَٰذَا بَشَرًا إِنْ هَٰذَآ إِلَّا مَلَكٌۭ كَرِيمٌۭ ٣١
ফালাম্মা সামি‘আত বিমাকরিহিন্না আরসালাত ইলাইহিন্না ওয়াআ‘তাদাত লাহুন্না মুত্তাকাআঁ ওয়াআ-তাত কুল্লা ওয়া-হিদাতিম মিনহুন্না সিক্কীনাঁ ওয়াকা-লাতিখরুজ ‘আলাইহিন্না ফালাম্মা রাআইনাহূ আকবারনাহূ ওয়াকাত্তা‘না আইদিয়াহুন্না ওয়াকুলনা হা-শা লিল্লা-হি মা হা-যা বাশারান ইন হা-যা- ইল্লা মালাকুন কারীম
মহিলাটি যখন তাদের চক্রান্তের কথা জানতে পারল, তখন তাদেরকে ডেকে পাঠাল আর তাদের জন্য হেলান দিয়ে বসার ব্যবস্থা করল, আর তাদের প্রত্যেককে একটা করে ছুরি দিল। অতঃপর ইউসুফকে বলল, ‘ওদের সামনে বেরিয়ে এসো।’ যখন তারা তাকে দেখল, বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেল আর নিজেদের হাত কেটে ফেলল, আর বলল, ‘আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন, এ তো মানুষ নয়, এতো এক সম্মানিত ফেরেশতা।’
قَالَتْ فَذَٰلِكُنَّ ٱلَّذِى لُمْتُنَّنِى فِيهِ ۖ وَلَقَدْ رَٰوَدتُّهُۥ عَن نَّفْسِهِۦ فَٱسْتَعْصَمَ ۖ وَلَئِن لَّمْ يَفْعَلْ مَآ ءَامُرُهُۥ لَيُسْجَنَنَّ وَلَيَكُونًۭا مِّنَ ٱلصَّٰغِرِينَ ٣٢
কা-লাত ফাযা-লিকুন্নাল লাযী লুমতুন্নানী ফীহি ওয়ালাকাদ রা-ওয়াত্তুহূ ‘আন নাফসিহী ফাসতা‘সামা ওয়ালাইল লাম ইয়াফ‘আল মা- আ-মুরুহূ লাইউসজানান্না ওয়ালায়াকূনাম মিনাস সা-গিরীন
মহিলাটি বলল, ‘এ হল সেই যার ব্যাপারে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করছ, আমিই তো তাকে ভুলাতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে নিজেকে নিষ্পাপ রেখেছে, আমি তাকে যে আদেশ করি তা যদি সে না করে, তাহলে তাকে অবশ্যই কয়েদ করা হবে, আর সে হীন লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
قَالَ رَبِّ ٱلسِّجْنُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِمَّا يَدْعُونَنِىٓ إِلَيْهِ ۖ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّى كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ ٱلْجَٰهِلِينَ ٣٣
কা-লা রাব্বিস সিজনু আহাব্বু ইলাইয়্যা মিম্মা ইয়াদ‘ঊনানী ইলাইহি ওয়াইল্লা তাসরিফ ‘আন্নী কাইদাহুন্না আসবু ইলাইহিন্না ওয়াআকুম মিনাল জা-হিলীন
সে (ইউসুফ) বলল, ‘হে আমার রব্ব! তারা আমাকে যে দিকে ডাকছে তার চেয়ে জেলখানা আমার কাছে অধিক প্রিয়। তুমি যদি আমা হতে তাদের অপকৌশল সরিয়ে না দাও তা হলে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব, আর অজ্ঞদের দলে শামিল হয়ে যাব।’
فَٱسْتَجَابَ لَهُۥ رَبُّهُۥ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ ٣٤
ফাসতাজা-বা লাহূ রাব্বুহূ ফাসারাফা ‘আনহু কাইদাহুন্ন ইন্নাহূ হুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম
তখন তার প্রতিপালক তার ডাকে সাড়া দিলেন আর তার থেকে তাদের কূট কৌশল অপসারিত করলেন, তিনি সব কিছু শুনেন, সব কিছু জানেন।
ثُمَّ بَدَا لَهُم مِّنۢ بَعْدِ مَا رَأَوُا۟ ٱلْءَايَٰتِ لَيَسْجُنُنَّهُۥ حَتَّىٰ حِينٍۢ ٣٥
ছুম্মা বাদা লাহুম মিম বা‘দি মা রাআউল আ-য়া-তি লায়াসজুনুন্নাহূ হাত্তা হীন
নিদর্শনবলী দেখার পর তাদের মনে হল যে, কিছু দিনের জন্য তাকে অবশ্য অবশ্যই কারারুদ্ধ করতে হবে।
وَدَخَلَ مَعَهُ ٱلسِّجْنَ فَتَيَانِ ۖ قَالَ أَحَدُهُمَآ إِنِّىٓ أَرَىٰنِىٓ أَعْصِرُ خَمْرًۭا ۖ وَقَالَ ٱلْءَاخَرُ إِنِّىٓ أَرَىٰنِىٓ أَحْمِلُ فَوْقَ رَأْسِى خُبْزًۭا تَأْكُلُ ٱلطَّيْرُ مِنْهُ ۖ نَبِّئْنَا بِتَأْوِيلِهِۦٓ ۖ إِنَّا نَرَىٰكَ مِنَ ٱلْمُحْسِنِينَ ٣٦
ওয়াদাখালা মা‘আহুস সিজনা ফাতায়া-নি কা-লা আহাদুহুমা- ইন্নী আরা-নী আ‘সিরু খামরাঁ ওয়াকা-লাল আ-খারু ইন্নী আরা-নী আহমিলু ফাওকা রা’সী খুবযান তা’কুলুত তাইরু মিনহু নাব্বি’না বিতা’উঈলিহী ইন্না নারা-কা মিনাল মুহসিনীন
তার সঙ্গে দু’যুবকও কারাগারে প্রবেশ করেছিল। তাদের একজন বলল, ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মদ তৈরি করছি।’ অন্যজন বলল, ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি মাথায় রুটি বহন করছি আর পাখী তাত্থেকে খাচ্ছে। আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলে দাও, আমরা দেখছি তুমি একজন সৎকর্মশীল লোক।’
قَالَ لَا يَأْتِيكُمَا طَعَامٌۭ تُرْزَقَانِهِۦٓ إِلَّا نَبَّأْتُكُمَا بِتَأْوِيلِهِۦ قَبْلَ أَن يَأْتِيَكُمَا ۚ ذَٰلِكُمَا مِمَّا عَلَّمَنِى رَبِّىٓ ۚ إِنِّى تَرَكْتُ مِلَّةَ قَوْمٍۢ لَّا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَهُم بِٱلْءَاخِرَةِ هُمْ كَٰفِرُونَ ٣٧
কা-লা লা ইয়া’তীকুমা তা‘আ-মুন তুরযাকা-নিহী ইল্লা নাব্বা’তুকুমা বিতা’উঈলিহী কাবলা আন ইয়া’তিয়াকুমা যা-লিকুমা মিম্মা ‘আল্লামানী রাব্বী ইন্নী তারাকতু মিল্লাতা কাওমিল লা ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াহুম বিলআ-খিরাতি হুম কা-ফিরূন
সে (ইউসুফ) বলল, ‘তোমাদেরকে যে খাবার দেয়া হয় তা আসার আগেই আমি তোমাদেরকে তার ব্যাখ্যা জানিয়ে দেব। আমার প্রতিপালক আমাকে যে জ্ঞান দান করেছেন এটা সেই জ্ঞানেরই অংশ। যে সম্প্রদায় আল্লাহতে বিশ্বাস করে না আর আখেরাতে অবিশ্বাসী, আমি তাদের নিয়ম নীতি পরিত্যাগ করেছি।
وَٱتَّبَعْتُ مِلَّةَ ءَابَآءِىٓ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ ۚ مَا كَانَ لَنَآ أَن نُّشْرِكَ بِٱللَّهِ مِن شَىْءٍۢ ۚ ذَٰلِكَ مِن فَضْلِ ٱللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ ٣٨
ওয়াত্তাবা‘তু মিল্লাতা আ-বা-ঈ ইবরা-হীমা ওয়াইসহা-কা ওয়ায়া‘কূব মা কা-না লানা- আন নুশরিকা বিল্লা-হি মিন শাই’ যা-লিকা মিন ফাদলিল্লা-হি ‘আলাইনা ওয়া‘আলান না-সি ওয়ালা-কিন্না আকছারান না-সি লা ইয়াশকুরূন
আমি আমার পূর্বপুরুষ ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়া‘কূবের আদর্শের অনুসরণ করি। আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করা আমাদের কাজ নয়। এটা আমাদের প্রতি ও মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ, কিন্তু অধিকাংশ লোকই শোকর করে না।
يَٰصَىٰحِبَىِ ٱلسِّجْنِ ءَأَرْبَابٌۭ مُّتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ ٱللَّهُ ٱلْوَٰحِدُ ٱلْقَهَّارُ ٣٩
ইয়া-সা-হিবায়িস সিজনি আআরবা-বুম মুতাফার্রিকূনা খাইরুন আমিল্লা-হুল ওয়া-হিদুল কাহ্হা-র
হে আমার জেলের সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপালক ভালো, না মহাপরাক্রমশালী এক আল্লাহ?
مَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِهِۦٓ إِلَّآ أَسْمَآءًۭ سَمَّيْتُمُوهَآ أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَٰنٍ ۚ إِنِ ٱلْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۚ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوٓا۟ إِلَّآ إِيَّاهُ ۚ ذَٰلِكَ ٱلدِّينُ ٱلْقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ٤٠
মা তা‘বুদূনা মিন দূনিহী ইল্লা- আসমা-আন সাম্মাইতুমূহা- আনতুম ওয়াআ-বা-উকুম মা- আনযালাল্লা-হু বিহা মিন সুলতা-ন ইনিল হুকমু ইল্লা লিল্লা-হ আমারা আল্লা তা‘বুদূ ইল্লা- ইয়্যা-হ যা-লিকাদ দীনুল কাইয়্যিমু ওয়ালা-কিন্না আকছারান না-সি লা ইয়া‘লামূন
তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যার ‘ইবাদাত করছ তা কতকগুলো নাম ছাড়া আর কিছুই নয়, যে নামগুলো তোমরা আর তোমাদের পিতৃ পুরুষরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। আল্লাহ ছাড়া কোন বিধান দাতা নেই। তিনি আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ‘ইবাদাত করবে না, এটাই সঠিক দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না।
يَٰصَىٰحِبَىِ ٱلسِّجْنِ أَمَّآ أَحَدُكُمَا فَيَسْقِى رَبَّهُۥ خَمْرًۭا ۖ وَأَمَّا ٱلْءَاخَرُ فَيُصْلَبُ فَتَأْكُلُ ٱلطَّيْرُ مِن رَّأْسِهِۦ ۚ قُضِىَ ٱلْأَمْرُ ٱلَّذِى فِيهِ تَسْتَفْتِيَانِ ٤١
ইয়া-সা-হিবায়িস সিজনি আম-মা- আহাদুকুমা ফায়াসকী রাব্বাহূ খামরাঁ ওয়াআম্মাল আ-খারু ফাইউসলাবু ফাতা’কুলুত তাইরু মির রা’সিহ কুদিয়াল আমরুল লাযী ফীহি তাসতাফতিয়া-ন
হে আমার জেলের সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের দু’জনের একজন তার প্রভুকে মদ পান করাবে আর অন্যজনকে শূলে দেয়া হবে, আর পাখী তার মস্তক ঠুকরে খাবে। তোমরা দু’জন যে সম্পর্কে জানতে চেয়েছ তার ফায়সালা হয়ে গেছে।’
وَقَالَ لِلَّذِى ظَنَّ أَنَّهُۥ نَاجٍۢ مِّنْهُمَا ٱذْكُرْنِى عِندَ رَبِّكَ فَأَنسَىٰهُ ٱلشَّيْطَٰنُ ذِكْرَ رَبِّهِۦ فَلَبِثَ فِى ٱلسِّجْنِ بِضْعَ سِنِينَ ٤٢
ওয়াকা-লা লিল্লাযী যান্না আন-নাহূ না-জিম মিনহুমাযকুরনী ‘ইনদা রাব্বিকা ফাআনসা-হুশ শাইতা-নু যিকরা রাব্বিহী ফালাবিছা ফিস সিজনি বিদ‘আ সিনীন
তাদের দু’জনের মধ্যে যে জন মুক্তি পাবে ব’লে সে (ইউসুফ) মনে করল তাকে বলল, ‘তোমার প্রভুর কাছে আমার সম্পর্কে বলিও।’ কিন্তু শয়তান তাকে তার প্রভুর কাছে ইউসুফের কথা উল্লেখ করতে ভুলিয়ে দিল। ফলে ইউসুফ বেশ কয়েক বছর কারাগারে আটক থেকে গেল।
وَقَالَ ٱلْمَلِكُ إِنِّىٓ أَرَىٰ سَبْعَ بَقَرَٰتٍۢ سِمَانٍۢ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌۭ وَسَبْعَ سُنۢبُلَٰتٍ خُضْرٍۢ وَأُخَرَ يَابِسَٰتٍۢ ۖ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمَلَأُ أَفْتُونِى فِى رُءْيَٰىَ إِن كُنتُمْ لِلرُّءْيَا تَعْبُرُونَ ٤٣
ওয়াকা-লাল মালিকু ইন্নী আরা সাব‘আ বাকারা-তিন সিমা-নিঁ ইয়া’কুলুহুন্না সাব‘উন ‘ইজা-ফুঁ ওয়াসাব‘আ সুমবুলা-তিন খুদরিঁ ওয়াউখারা ইয়া-বিসা-তিঁ ইয়া-আইয়্যুহাল মালাউ আফতূনী ফী রু’ইয়া-য়া ইন কুনতুম লির্রু’ইয়া তা‘বুরূন
রাজা বললেন, ‘আমি স্বপ্নে দেখলাম সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী, সাতটি জীর্ণশীর্ণ গাভী তাদেরকে খাচ্ছে। (আর দেখলাম) সাতটি সবুজ সতেজ শীষ আর অন্য সাতটি শুকনো। ওহে সভাষদগণ! আমার কাছে তোমরা আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা কর যদি তোমরা ব্যাখ্যা করতে পার।’
قَالُوٓا۟ أَضْغَٰثُ أَحْلَٰمٍۢ ۖ وَمَا نَحْنُ بِتَأْوِيلِ ٱلْأَحْلَٰمِ بِعَٰلِمِينَ ٤٤
কা-লূ আদগা-ছু আহলা-মিঁ ওয়ামা নাহনু বিতা’উঈলিল আহলা-মি বি‘আ-লিমীন
তারা বলল, ‘এতো অস্পষ্ট (অর্থহীন) স্বপ্নের কথা, আর আমরা এ ধরনের স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।’
وَقَالَ ٱلَّذِى نَجَا مِنْهُمَا وَٱدَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ أَنَا۠ أُنَبِّئُكُم بِتَأْوِيلِهِۦ فَأَرْسِلُونِ ٤٥
ওয়াকা-লাল লাযী নাজা মিনহুমা ওয়াদ্দাকারা বা‘দা উম্মাতিন আনা উনাব্বিউকুম বিতা’উঈলিহী ফাআরসিলূন
দু’জনের মধ্যে যে জন জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিল আর দীর্ঘকাল পর যার স্মরণ হল সে বলল, ‘আমি তোমাদেরকে তার ব্যাখ্যা বলে দেব, তবে তোমরা আমাকে (জেলখানায় ইউসুফের কাছে) পাঠাও।
يُوسُفُ أَيُّهَا ٱلصِّدِّيقُ أَفْتِنَا فِى سَبْعِ بَقَرَٰتٍۢ سِمَانٍۢ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌۭ وَسَبْعِ سُنۢبُلَٰتٍ خُضْرٍۢ وَأُخَرَ يَابِسَٰتٍۢ لَّعَلِّىٓ أَرْجِعُ إِلَى ٱلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَعْلَمُونَ ٤٦
ইউসুফু আইয়্যুহাস সিদ্দীকু আফতিনা ফী সাব‘ই বাকারা-তিন সিমা-নিঁ ইয়া’কুলুহুন্না সাব‘উন ‘ইজা-ফুঁ ওয়াসাব‘ই সুমবুলা-তিন খুদরিঁ ওয়াউখারা ইয়া-বিসা-তিল লা‘আল্লী আরজি‘উ ইলান না-সি লা‘আল্লাহুম ইয়া‘লামূন
সে বলল, ‘হে সত্যবাদী ইউসুফ! সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী, যাদেরকে খাচ্ছে জীর্ণশীর্ণ সাতটি গাভী আর সাতটি সবুজ সতেজ শীষ আর অন্যগুলো শুকনো। (আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা জানিয়ে দাও) যাতে আমি তাদের কাছে ফিরে যেতে পারি আর তারা জেনে নিতে পারে।’
قَالَ تَزْرَعُونَ سَبْعَ سِنِينَ دَأَبًۭا فَمَا حَصَدتُّمْ فَذَرُوهُ فِى سُنۢبُلِهِۦٓ إِلَّا قَلِيلًۭا مِّمَّا تَأْكُلُونَ ٤٧
কা-লা তাযরা‘ঊনা সাব‘আ সিনীনা দাআবান ফামা হাসাত্তুম ফাযারূহু ফী সুমবুলিহী ইল্লা কালীলাম মিম্মা তা’কুলূন
সে (ইউসুফ) বলল, ‘সাত বছর তোমরা এক নাগাড়ে চাষ করবে, অতঃপর যখন ফসল কাটবে তখন তোমরা যে সামান্য পরিমাণ খাবে তা বাদে শিষ সমেত সংরক্ষণ করবে।
ثُمَّ يَأْتِى مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ سَبْعٌۭ شِدَادٌۭ يَأْكُلْنَ مَا قَدَّمْتُمْ لَهُنَّ إِلَّا قَلِيلًۭا مِّمَّا تُحْصِنُونَ ٤٨
ছুম্মা ইয়া’তী মিম বা‘দি যা-লিকা সাব‘উন শিদা-দুঁ ইয়া’কুলনা মা কাদ্দামতুম লাহুন্না ইল্লা কালীলাম মিম্মা তুহসিনূন
এরপর আসবে সাতটি কঠিন বছর। এ সময়ের জন্য পূর্বে যা তোমরা সঞ্চয় করেছিলে তা লোকে খাবে, কেবল সেই অল্পটুকু বাদে যা তোমরা সঞ্চয় করবে।
ثُمَّ يَأْتِى مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ عَامٌۭ فِيهِ يُغَاثُ ٱلنَّاسُ وَفِيهِ يَعْصِرُونَ ٤٩
ছুম্মা ইয়া’তী মিম বা‘দি যা-লিকা ‘আ-মুন ফীহি ইউগা-ছুন না-সু ওয়াফীহি ইয়া‘সিরূন
এর পর আসবে একটা বছর যখন মানুষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে আর মানুষ প্রচুর ভোগবিলাস করবে।’
وَقَالَ ٱلْمَلِكُ ٱئْتُونِى بِهِۦ ۖ فَلَمَّا جَآءَهُ ٱلرَّسُولُ قَالَ ٱرْجِعْ إِلَىٰ رَبِّكَ فَسْـَٔلْهُ مَا بَالُ ٱلنِّسْوَةِ ٱلَّٰتِى قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ ۚ إِنَّ رَبِّى بِكَيْدِهِنَّ عَلِيمٌۭ ٥٠
ওয়াকা-লাল মালিকু তূনী বিহী ফালাম্মা জা-আহুর রাসূলু কা-লারজি‘ ইলা রাব্বিকা ফাসআলহু মা বা-লুন নিসওয়াতিল লা-তী কাত্তা‘না আইদিয়াহুন্ন ইন্না রাব্বী বিকাইদিহিন্না ‘আলীম
রাজা বলল, ‘তোমরা তাকে (ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো।’ দূত যখন তার কাছে আসলো তখন ইউসুফ বলল, ‘তোমার প্রভুর কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, সেই মহিলাদের ব্যাপারটি কী যারা তাদের হাত কেটে ফেলেছিল? আমার প্রতিপালক অবশ্যই তাদের কৌশল সম্পর্কে অবগত।’
قَالَ مَا خَطْبُكُنَّ إِذْ رَٰوَدتُّنَّ يُوسُفَ عَن نَّفْسِهِۦ ۚ قُلْنَ حَٰشَ لِلَّهِ مَا عَلِمْنَا عَلَيْهِ مِن سُوٓءٍۢ ۚ قَالَتِ ٱمْرَأَتُ ٱلْعَزِيزِ ٱلْـَٰٔنَ حَصْحَصَ ٱلْحَقُّ أَنَا۠ رَٰوَدتُّهُۥ عَن نَّفْسِهِۦ وَإِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ ٥١
কা-লা মা খাতবুকুন্না ইয রা-ওয়াত্তুন্না ইউসুফা ‘আন নাফসিহ কুলনা হা-শা লিল্লা-হি মা ‘আলিমনা ‘আলাইহি মিন সূ’ কা-লাতিমরাআতুল ‘আযীযিল আ-না হাসহাসাল হাক্কু আনা রা-ওয়াত্তুহূ ‘আন নাফসিহী ওয়াইন্নাহূ লামিনাস সা-দিকীন
রাজা মহিলাদের জিজ্ঞেস করল- ‘তোমরা যখন ইউসুফকে ভুলাতে চেষ্টা করেছিলে তখন তোমাদের কী হয়েছিল?’ তারা বলল, ‘আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন! আমরা তার মাঝে কোন দোষ দেখতে পাইনি।’ আযীযের স্ত্রী বলল, ‘এখন সত্য প্রকাশিত হয়ে পড়েছে, আমিই তাকে ভুলাতে চেষ্টা করেছিলাম, নিশ্চয়ই সে ছিল সত্যবাদী।’
ذَٰلِكَ لِيَعْلَمَ أَنِّى لَمْ أَخُنْهُ بِٱلْغَيْبِ وَأَنَّ ٱللَّهَ لَا يَهْدِى كَيْدَ ٱلْخَآئِنِينَ ٥٢
যা-লিকা লিয়া‘লামা আন-নী লাম আখুনহু বিলগাইবি ওয়াআন্নাল্লা-হা লা ইয়াহদী কাইদাল খা-ইনীন
(ইউসুফ বলল) ‘আমার উদ্দেশ্য এই যে, সে (অর্থাৎ আযীয) যেন জানতে পারে যে, তার অনুপস্থিতিতে আমি তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিনি আর আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের কৌশলকে অবশ্যই সফল হতে দেন না।’
۞ وَمَآ أُبَرِّئُ نَفْسِىٓ ۚ إِنَّ ٱلنَّفْسَ لَأَمَّارَةٌۢ بِٱلسُّوٓءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّىٓ ۚ إِنَّ رَبِّى غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ ٥٣
ওয়ামা- উবার্রিউ নাফসী ইন্নান নাফসা লাআম্মা-রাতুম বিস্সূই ইল্লা মা রাহিমা রাব্বী ইন্না রাব্বী গাফূরুর রাহীম
(সে বলল), ‘আমি নিজেকে দোষমুক্ত মনে করি না, নফস্ তো মন্দ কাজে প্ররোচিত করতেই থাকে, আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন সে ছাড়া। আমার প্রতিপালক বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।’
وَقَالَ ٱلْمَلِكُ ٱئْتُونِى بِهِۦٓ أَسْتَخْلِصْهُ لِنَفْسِى ۖ فَلَمَّا كَلَّمَهُۥ قَالَ إِنَّكَ ٱلْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌۭ ٥٤
ওয়াকা-লাল মালিকু তূনী বিহী আসতাখলিসহু লিনাফসী ফালাম্মা কাল্লামাহূ কা-লা ইন্নাকাল ইয়াওমা লাদাইনা মাকীনুন আমীন
রাজা বললেন, ‘তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করে নেব।’ অতঃপর সে (ইউসুফ) যখন তার সাথে কথা বলল, তখন রাজা বলল, ‘আজ তুমি আমাদের কাছে খুবই মর্যাদাশীল ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিগণিত।’
قَالَ ٱجْعَلْنِى عَلَىٰ خَزَآئِنِ ٱلْأَرْضِ ۖ إِنِّى حَفِيظٌ عَلِيمٌۭ ٥٥
কা-লাজ‘আলনী ‘আলা খাযা-ইনিল আরদি ইন্নী হাফীযুন ‘আলীম
সে (ইউসুফ) বলল- ‘আমাকে দেশের ধন-ভান্ডারের দায়িত্ব দিন, আমি উত্তম রক্ষক ও যথেষ্ট জ্ঞানের অধিকারী।’
وَكَذَٰلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِى ٱلْأَرْضِ يَتَبَوَّأُ مِنْهَا حَيْثُ يَشَآءُ ۚ نُصِيبُ بِرَحْمَتِنَا مَن نَّشَآءُ ۖ وَلَا نُضِيعُ أَجْرَ ٱلْمُحْسِنِينَ ٥٦
ওয়াকাযা-লিকা মাক্কান্না লিইউসুফা ফিল আরদি ইয়াতাবাওয়াউ মিনহা হাইছু ইয়াশা-আ নুসীবু বিরাহমাতিনা মান নাশা-উ ওয়ালা নুদী‘উ আজরাল মুহসিনীন
এভাবে আমি ইউসুফকে সে দেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম। দেশের যেখানে ইচ্ছে সে নিজের স্থান করে নিতে পারত, আমি যাকে চাই আমার রহমাত দিয়ে ধন্য করি, আমি সৎকর্মশীলদের কর্মফল কক্ষনো বিনষ্ট করি না।
وَلَأَجْرُ ٱلْءَاخِرَةِ خَيْرٌۭ لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَكَانُوا۟ يَتَّقُونَ ٥٧
ওয়ালাআজরুল আ-খিরাতি খাইরুল লিল্লাযীনা আ-মানূ ওয়াকা-নূ ইয়াত্তাকূন
আর আখেরাতের কর্মফল তাদের জন্য অবশ্যই উত্তম যারা ঈমান আনে আর তাকওয়া অবলম্বন করে কাজ করতে থাকে।
وَجَآءَ إِخْوَةُ يُوسُفَ فَدَخَلُوا۟ عَلَيْهِ فَعَرَفَهُمْ وَهُمْ لَهُۥ مُنكِرُونَ ٥٨
ওয়াজা-আ ইখওয়াতু ইউসুফা ফাদাখালূ ‘আলাইহি ফা‘আরাফাহুম ওয়াহুম লাহূ মুনকিরূন
ইউসুফের ভাইয়েরা আসল এবং তার কাছে হাযির হল। সে তাদেরকে চিনতে পারল, কিন্তু তারা তাকে চিনতে পারল না।
وَلَمَّا جَهَّزَهُم بِجَهَازِهِمْ قَالَ ٱئْتُونِى بِأَخٍۢ لَّكُم مِّنْ أَبِيكُمْ ۚ أَلَا تَرَوْنَ أَنِّىٓ أُوفِى ٱلْكَيْلَ وَأَنَا۠ خَيْرُ ٱلْمُنزِلِينَ ٥٩
ওয়ালাম্মা জাহ্হাযাহুম বিজাহা-যিহিম কা-লা তূনী বিআখিল লাকুম মিন আবীকুম আলা তারাওনা আন-নী ঊফিল কাইলা ওয়াআনা খাইরুল মুনযিলীন
সে যখন তাদের দ্রব্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল তখন সে বলল, ‘তোমরা তোমাদের সৎ ভাইকে আমার কাছে নিয়ে আসবে, তোমরা কি দেখছ না, আমি কীভাবে পাত্র ভরে দেই, আর আমি উত্তম অতিথি সেবক।
فَإِن لَّمْ تَأْتُونِى بِهِۦ فَلَا كَيْلَ لَكُمْ عِندِى وَلَا تَقْرَبُونِ ٦٠
ফাইল লাম তা’তূনী বিহী ফালা কাইলা লাকুম ‘ইনদী ওয়ালা তাকরাবূন
তোমরা যদি তাকে না নিয়ে আসো তাহলে আমার কাছে তোমাদের জন্য কোন শস্য বরাদ্দ হবে না, আর আমার কাছেও আসতে পারবে না।’
قَالُوا۟ سَنُرَٰوِدُ عَنْهُ أَبَاهُ وَإِنَّا لَفَٰعِلُونَ ٦١
কা-লূ সানুরা-উইদু ‘আনহু আবা-হু ওয়াইন্না লাফা-‘ইলূন
তারা বলল- ‘এ ব্যাপারে আমরা তার পিতাকে রাযী করাতে চেষ্টা করব আর আমরা তা করবই।’
وَقَالَ لِفِتْيَٰنِهِ ٱجْعَلُوا۟ بِضَٰعَتَهُمْ فِى رِحَالِهِمْ لَعَلَّهُمْ يَعْرِفُونَهَآ إِذَا ٱنقَلَبُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمْ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ٦٢
ওয়াকা-লা লিফিতইয়া-নিহিজ‘আলূ বিদা-‘আতাহুম ফী রিহা-লিহিম লা‘আল্লাহুম ইয়া‘রিফূনাহা- ইযানকালাবূ ইলা- আহলিহিম লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন
সে (ইউসুফ) তার খাদেমদেরকে বলল, ‘তারা যে পণ্যমূল্য দিয়েছে তা তাদের মাল পত্রের মধ্যে গোপনে রেখে দাও, যাতে তারা তাদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরে গিয়ে তা জানতে পারে, তাহলে তারা আবার আসবে।’
فَلَمَّا رَجَعُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَبِيهِمْ قَالُوا۟ يَٰٓأَبَانَا مُنِعَ مِنَّا ٱلْكَيْلُ فَأَرْسِلْ مَعَنَآ أَخَانَا نَكْتَلْ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ ٦٣
ফালাম্মা রাজা‘ঊ ইলা- আবীহিম কা-লূ ইয়া-আবা-না মুনি‘আ মিন্নাল কাইলু ফাআরসিল মা‘আনা- আখা-না নাকতাল ওয়াইন্না লাহূ লাহা-ফিযূন
তারপর যখন তারা তাদের পিতার কাছে ফিরে গেল তখন বলল, ‘হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য শষ্যের বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কাজেই আমাদের ভাইকে আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দিন, যাতে আমরা শস্যের বরাদ্দ পেতে পারি, আমরা অবশ্যই তার হিফাযাত করব।’
قَالَ هَلْ ءَامَنُكُمْ عَلَيْهِ إِلَّا كَمَآ أَمِنتُكُمْ عَلَىٰٓ أَخِيهِ مِن قَبْلُ ۖ فَٱللَّهُ خَيْرٌ حَٰفِظًۭا ۖ وَهُوَ أَرْحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ ٦٤
কা-লা হাল আ-মানুকুম ‘আলাইহি ইল্লা কামা- আমিনতুকুম ‘আলা- আখীহি মিন কাবলু ফাল্লা-হু খাইরুন হা-ফিযাঁ ওয়াহুওয়া আরহামুর রা-হিমীন
(পিতা) বলল, ‘আমি কি তার ব্যাপারে তোমাদেরকে তেমনি বিশ্বাস করব ইতোপূর্বে যেমন তোমাদেরকে তার ভাইয়ের ব্যাপারে বিশ্বাস করেছিলাম? আল্লাহই উত্তম সংরক্ষক আর তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
وَلَمَّا فَتَحُوا۟ مَتَٰعَهُمْ وَجَدُوا۟ بِضَٰعَتَهُمْ رُدَّتْ إِلَيْهِمْ ۖ قَالُوا۟ يَٰٓأَبَانَا مَا نَبْغِى ۖ هَٰذِهِۦ بِضَٰعَتُنَا رُدَّتْ إِلَيْنَا ۖ وَنَمِيرُ أَهْلَنَا وَنَحْفَظُ أَخَانَا وَنَزْدَادُ كَيْلَ بَعِيرٍۢ ۖ ذَٰلِكَ كَيْلٌۭ يَسِيرٌۭ ٦٥
ওয়ালাম্মা ফাতাহূ মাতা-‘আহুম ওয়াজাদূ বিদা-‘আতাহুম রুদ্দাত ইলাইহিম কা-লূ ইয়া-আবা-না মা নাবগী হা-যিহী বিদা-‘আতুনা রুদ্দাত ইলাইনা ওয়ানামীরু আহলানা ওয়ানাহফাযু আখা-না ওয়ানাযদা-দু কাইলা বা‘ঈরিন যা-লিকা কাইলুঁ ইয়াসীর
তারা যখন তাদের মাল-পত্র খুলল তখন দেখতে পেল যে, তাদেরকে তাদের পণ্যমূল্য ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা বলল, ‘হে আমাদের আব্বাজান! আমরা আর কী চাই। এই দেখুন, আমাদের পণ্যমূল্য আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে, আমরা আমাদের পরিবারের জন্য (আরো) খাদ্য আনব, আমাদের ভাইয়ের হিফাযাতও করব, আরো এক উট-বোঝাই মাল বেশি আনব, এ পরিমাণ সহজেই পাওয়া যাবে।’
قَالَ لَنْ أُرْسِلَهُۥ مَعَكُمْ حَتَّىٰ تُؤْتُونِ مَوْثِقًۭا مِّنَ ٱللَّهِ لَتَأْتُنَّنِى بِهِۦٓ إِلَّآ أَن يُحَاطَ بِكُمْ ۖ فَلَمَّآ ءَاتَوْهُ مَوْثِقَهُمْ قَالَ ٱللَّهُ عَلَىٰ مَا نَقُولُ وَكِيلٌۭ ٦٦
কা-লা লান উরসিলাহূ মা‘আকুম হাত্তা তু’তূনি মাওছিকাম মিনাল্লা-হি লাতা’তুন্নানী বিহী ইল্লা- আন ইউহা-তা বিকুম ফালাম্মা- আ-তাওহু মাওছিকাহুম কা-লাল্লা-হু ‘আলা মা নাকূলু ওয়াকীল
(পিতা) বলল- ‘আমি তাকে তোমাদের সাথে কিছুতেই পাঠাবো না যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর নামে শপথ কর যে, তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবেই যদি না তোমাদেরকে একযোগে ঘিরে ফেলা হয়।’ অতঃপর তারা যখন তার কাছে প্রতিজ্ঞা করল তখন সে বলল, ‘আমরা যে কথা বলছি আল্লাহই তার সাক্ষী ও অভিভাবক।’
وَقَالَ يَٰبَنِىَّ لَا تَدْخُلُوا۟ مِنۢ بَابٍۢ وَٰحِدٍۢ وَٱدْخُلُوا۟ مِنْ أَبْوَٰبٍۢ مُّتَفَرِّقَةٍۢ ۖ وَمَآ أُغْنِى عَنكُم مِّنَ ٱللَّهِ مِن شَىْءٍ ۖ إِنِ ٱلْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُتَوَكِّلُونَ ٦٧
ওয়াকা-লা ইয়া-বানিয়্যা লা তাদখুলূ মিম বা-বিঁ ওয়া-হিদিঁ ওয়াদখুলূ মিন আবওয়া-বিম মুতাফার্রিকাতিঁ ওয়ামা- উগনী ‘আনকুম মিনাল্লা-হি মিন শাইইন ইনিল হুকমু ইল্লা লিল্লা-হি ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া‘আলাইহি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মুতাওয়াক্কিলূন
পিতা বলল, ‘হে আমার সন্তানেরা! তোমরা এক দ্বার দিয়ে (মিসরে) প্রবেশ কর না, বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে (মানুষের সন্দেহ কিংবা কুদৃষ্টি এড়ানোর জন্য)। আমি আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে তোমাদের কোনই উপকার করতে পারব না। আল্লাহ ছাড়া হুকুম দাতা কেউ নেই, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি, যারা নির্ভর করতে চায়, তারা তাঁর উপর নির্ভর করুক।’
وَلَمَّا دَخَلُوا۟ مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُم مَّا كَانَ يُغْنِى عَنْهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِن شَىْءٍ إِلَّا حَاجَةًۭ فِى نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَىٰهَا ۚ وَإِنَّهُۥ لَذُو عِلْمٍۢ لِّمَا عَلَّمْنَٰهُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ٦٨
ওয়ালাম্মা দাখালূ মিন হাইছু আমারাহুম আবূহুম মা কা-না ইউগনী ‘আনহুম মিনাল্লা-হি মিন শাইইন ইল্লা হা-জাতান ফী নাফসি ইয়া‘কূবা কাদা-হা ওয়াইন্নাহূ লাযূ ‘ইলমিল লিমা ‘আল্লামনা-হু ওয়ালা-কিন্না আকছারান না-সি লা ইয়া‘লামূন
তাদের পিতা যেভাবে আদেশ করেছিল যখন তারা সেভাবে প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে তা তাদের কোন কাজে আসল না। তবে ইয়া‘কুব তার মনের একটা অভিপ্রায় পূর্ণ করেছিল মাত্র। আমার দেয়া শিক্ষার বদৌলতে অবশ্যই সে ছিল জ্ঞানবান, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ প্রকৃত ব্যাপার সম্পর্কে অবগত নয়।
وَلَمَّا دَخَلُوا۟ عَلَىٰ يُوسُفَ ءَاوَىٰٓ إِلَيْهِ أَخَاهُ ۖ قَالَ إِنِّىٓ أَنَا۠ أَخُوكَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ ٦٩
ওয়ালাম্মা দাখালূ ‘আলা ইউসুফা আ-ওয়া- ইলাইহি আখা-হু কা-লা ইন্নী আনা আখূকা ফালা তাবতাইস বিমা কা-নূ ইয়া‘মালূন
যখন তারা ইউসুফের কাছে হাজির হল, তখন সে তার সহোদর ভাইকে নিজের কাছে রাখল। আর বলল, ‘আমিই তোমার ভাই, কাজেই ওরা যা করত তার জন্য দুঃখ করো না।’
فَلَمَّا جَهَّزَهُم بِجَهَازِهِمْ جَعَلَ ٱلسِّقَايَةَ فِى رَحْلِ أَخِيهِ ثُمَّ أَذَّنَ مُؤَذِّنٌ أَيَّتُهَا ٱلْعِيرُ إِنَّكُمْ لَسَٰرِقُونَ ٧٠
ফালাম্মা জাহ্হাযাহুম বিজাহা-যিহিম জা‘আলাস সিকা-য়াতা ফী রাহলি আখীহি ছুম্মা আয-যানা মুআয্যিনুন আইয়্যাতুহাল ‘ঈরু ইন্নাকুম লাসা-রিকূন
অতঃপর ইউসুফ যখন তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন সে তার সহোদর ভাইয়ের রসদপত্রের ভিতর পান পাত্রটি রেখে দিল। তখন এক ঘোষক ঘোষণা দিল, ‘হে কাফেলার লোক! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’
قَالُوا۟ وَأَقْبَلُوا۟ عَلَيْهِم مَّاذَا تَفْقِدُونَ ٧١
কা-লূ ওয়াআকবালূ ‘আলাইহিম মা-যা তাফকিদূন
তারা তাদের দিকে ফিরে বলল, ‘তোমাদের কী হারিয়েছে?’
قَالُوا۟ نَفْقِدُ صُوَاعَ ٱلْمَلِكِ وَلِمَن جَآءَ بِهِۦ حِمْلُ بَعِيرٍۢ وَأَنَا۠ بِهِۦ زَعِيمٌۭ ٧٢
কা-লূ নাফকিদু সুওয়া-‘আল মালিকি ওয়ালিমান জা-আ বিহী হিমলু বা‘ঈরিঁ ওয়াআনা বিহী যা‘ঈম
তারা বলল- ‘আমরা রাজার পান পাত্র হারিয়েছি, (তাদের প্রধান ব্যক্তি বলল) যে তা এনে দিতে পারবে তার জন্য আছে এক উট-বোঝাই মাল। আর আমিই এ ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
قَالُوا۟ تَٱللَّهِ لَقَدْ عَلِمْتُم مَّا جِئْنَا لِنُفْسِدَ فِى ٱلْأَرْضِ وَمَا كُنَّا سَٰرِقِينَ ٧٣
কা-লূ তাল্লা-হি লাকাদ ‘আলিমতুম মা জি’না লিনুফসিদা ফিল আরদি ওয়ামা কুন্না সা-রিকীন
ইউসুফের ভাইয়েরা বলল, ‘আল্লাহর শপথ! তোমরা তো জান আমরা এ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে আসিনি, আর আমরা চোরও নই।’
قَالُوا۟ فَمَا جَزَٰٓؤُهُۥٓ إِن كُنتُمْ كَٰذِبِينَ ٧٤
কা-লূ ফামা জাযা-উহূ ইন কুনতুম কা-যিবীন
রাজকর্মচারীরা বলল, ‘তোমরা মিথ্যেবাদী হলে যে চুরি করেছে তার শাস্তি কী হবে?’
قَالُوا۟ جَزَٰٓؤُهُۥ مَن وُجِدَ فِى رَحْلِهِۦ فَهُوَ جَزَٰٓؤُهُۥ ۚ كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلظَّٰلِمِينَ ٧٥
কা-লূ জাযা-উহূ মান উজিদা ফী রাহলিহী ফাহুওয়া জাযা-উহ কাযা-লিকা নাজযিয যা-লিমীন
তারা বলল, ‘তার শাস্তি হল যার মালের ভিতর ওটা পাওয়া যাবে তাকেই ধরে রাখা হবে। সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে আমরা এভাবেই শাস্ত দিয়ে থাকি।’
فَبَدَأَ بِأَوْعِيَتِهِمْ قَبْلَ وِعَآءِ أَخِيهِ ثُمَّ ٱسْتَخْرَجَهَا مِن وِعَآءِ أَخِيهِ ۚ كَذَٰلِكَ كِدْنَا لِيُوسُفَ ۖ مَا كَانَ لِيَأْخُذَ أَخَاهُ فِى دِينِ ٱلْمَلِكِ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ ۚ نَرْفَعُ دَرَجَٰتٍۢ مَّن نَّشَآءُ ۗ وَفَوْقَ كُلِّ ذِى عِلْمٍ عَلِيمٌۭ ٧٦
ফাবাদাআ বিআও‘ইয়াতিহিম কাবলা উই‘আ-ই আখীহি ছুম্মাসতাখরাজাহা মিন উই‘আ-ই আখীহ কাযা-লিকা কিদনা লিইউসুফা মা কা-না লিয়া’খুযা আখা-হু ফী দীনিল মালিকি ইল্লা- আন ইয়াশা-আল্লা-হ নারফা‘উ দারাজা-তিম মান নাশা-আ ওয়াফাওকা কুল্লি যী ‘ইলমিন ‘আলীম
অতঃপর ইউসুফ তার নিজ ভাইয়ের মালপত্র তল্লাশির আগে অন্যদের মাল তল্লাশি শুরু করল। অতঃপর সেটি তার নিজ ভাইয়ের মালপত্র থেকে বের করল। এভাবে আমি ইউসুফের জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম। রাজার আইন অনুযায়ী সে তার সহোদর ভাইকে আটক করতে পারত না-আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত। আমি যার জন্য ইচ্ছে করি মর্যাদা উচ্চ করি, প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে আছেন একজন সর্বজ্ঞ।
۞ قَالُوٓا۟ إِن يَسْرِقْ فَقَدْ سَرَقَ أَخٌۭ لَّهُۥ مِن قَبْلُ ۚ فَأَسَرَّهَا يُوسُفُ فِى نَفْسِهِۦ وَلَمْ يُبْدِهَا لَهُمْ ۚ قَالَ أَنتُمْ شَرٌّۭ مَّكَانًۭا ۖ وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا تَصِفُونَ ٧٧
কা-লূ ইন ইয়াসরিক ফাকাদ সারাকা আখুল লাহূ মিন কাবল ফাআসার্রাহা ইউসুফু ফী নাফসিহী ওয়ালাম ইউবদিহা লাহুম কা-লা আনতুম শার্রুম মাকা-নাঁ ওয়াল্লা-হু আ‘লামু বিমা তাসিফূন
ইউসুফের ভাইয়েরা বলল, ‘সে যদি চুরি করে থাকে (তবে তা অসম্ভব নয়, কেননা) এর পূর্বে তার সহোদর ভাইও চুরি করেছিল। তখন ইউসুফ এ ব্যাপারটি তার মনেই গোপন রাখল, তা তাদের কাছে প্রকাশ করল না। সে (মনে মনে) বলল- তোমাদের অবস্থান তো আরো নিকৃষ্টতম, তোমরা যা বলছ সে সম্পর্কে আল্লাহ খুব ভালভাবেই অবগত।
قَالُوا۟ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْعَزِيزُ إِنَّ لَهُۥٓ أَبًۭا شَيْخًۭا كَبِيرًۭا فَخُذْ أَحَدَنَا مَكَانَهُۥٓ ۖ إِنَّا نَرَىٰكَ مِنَ ٱلْمُحْسِنِينَ ٧٨
কা-লূ ইয়া-আইয়্যুহাল ‘আযীযু ইন্না লাহূ আবান শাইখান কাবীরান ফাখুয আহাদানা মাকা-নাহূ ইন্না নারা-কা মিনাল মুহসিনীন
তারা বলল, ‘হে ‘আযীয! এর পিতা আছেন যিনি খুবই বৃদ্ধ, কাজেই তার স্থলে আমাদের একজনকে রাখুন, আমরা তো আপনাকে বড়ই সদাচারী লোকদের অন্তর্ভুক্ত দেখছি।’
قَالَ مَعَاذَ ٱللَّهِ أَن نَّأْخُذَ إِلَّا مَن وَجَدْنَا مَتَٰعَنَا عِندَهُۥٓ إِنَّآ إِذًۭا لَّظَٰلِمُونَ ٧٩
কা-লা মা‘আ-যাল্লা-হি আন না’খুযা ইল্লা মান ওয়াজাদনা মাতা-‘আনা ‘ইনদাহূ ইন্না- ইযাল লাযা-লিমূন
সে বলল, ‘যার কাছে আমাদের মাল পেয়েছি তাকে ছাড়া অন্যকে ধরার কাজ থেকে আল্লাহর পানাহ চাচ্ছি, তা করলে আমরা যালিম হিসেবে পরিগণিত হব।’
فَلَمَّا ٱسْتَيْـَٔسُوا۟ مِنْهُ خَلَصُوا۟ نَجِيًّۭا ۖ قَالَ كَبِيرُهُمْ أَلَمْ تَعْلَمُوٓا۟ أَنَّ أَبَاكُمْ قَدْ أَخَذَ عَلَيْكُم مَّوْثِقًۭا مِّنَ ٱللَّهِ وَمِن قَبْلُ مَا فَرَّطتُمْ فِى يُوسُفَ ۖ فَلَنْ أَبْرَحَ ٱلْأَرْضَ حَتَّىٰ يَأْذَنَ لِىٓ أَبِىٓ أَوْ يَحْكُمَ ٱللَّهُ لِى ۖ وَهُوَ خَيْرُ ٱلْحَٰكِمِينَ ٨٠
ফালাম্মাসতাইআসূ মিনহু খালাসূ নাজিয়্যান কা-লা কাবীরুহুম আলাম তা‘লামূ আন-না আবা-কুম কাদ আখাযা ‘আলাইকুম মাওছিকাম মিনাল্লা-হি ওয়ামিন কাবলু মা ফার্রাততুম ফী ইউসুফা ফালান আবরাহাল আরদা হাত্তা ইয়া’যানা লী আবী আও ইয়াহকুমাল্লা-হু লী ওয়াহুওয়া খাইরুল হা-কিমীন
যখন তারা ইউসুফের নিকট থেকে নিরাশ হয়ে গেল তখন তারা নির্জনে গিয়ে পরামর্শ করল। তাদের মধ্যে বয়সে সবার বড় ভাইটি বলল, ‘তোমরা কি জান না যে, তোমাদের পিতা তোমাদের থেকে আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করেছেন, আর এর পূর্বেও তোমরা ইউসুফের ব্যাপারে (তোমাদের কর্তব্য পালনে) ব্যর্থ হয়েছ, কাজেই আমি কিছুতেই এখান থেকে নড়বো না যতক্ষণ না আমার পিতা আমাকে অনুমতি দিবেন কিংবা আল্লাহ আমার ব্যাপারে কোন নির্দেশ দিবেন, কেননা তিনি হলেন সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।
ٱرْجِعُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَبِيكُمْ فَقُولُوا۟ يَٰٓأَبَانَآ إِنَّ ٱبْنَكَ سَرَقَ وَمَا شَهِدْنَآ إِلَّا بِمَا عَلِمْنَا وَمَا كُنَّا لِلْغَيْبِ حَٰفِظِينَ ٨١
ইরজি‘ঊ ইলা- আবীকুম ফাকূলূ ইয়া-আবা-না- ইন্নাবনাকা সারাকা ওয়ামা শাহিদনা- ইল্লা বিমা ‘আলিমনা ওয়ামা কুন্না লিলগাইবি হা-ফিযীন
তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও, গিয়ে বল, ‘হে আমাদের পিতা! আপনার ছেলে চুরি করেছে। আমরা যেটুকু জানি তারই চাক্ষুষ বিবরণ দিচ্ছি, চোখের আড়ালের ঘটনা তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা আমাদের নেই।
وَسْـَٔلِ ٱلْقَرْيَةَ ٱلَّتِى كُنَّا فِيهَا وَٱلْعِيرَ ٱلَّتِىٓ أَقْبَلْنَا فِيهَا ۖ وَإِنَّا لَصَٰدِقُونَ ٨٢
ওয়াসআলিল কারইয়াতাল লাতী কুন্না ফীহা ওয়াল‘ঈরাল লাতী আকবালনা ফীহা ওয়াইন্না লাসা-দিকূন
আমরা যে জনপদে ছিলাম তার বাসিন্দাদের জিজ্ঞেস করুন আর যে কাফেলার সঙ্গে আমরা এসেছি তাদেরকেও, আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’
قَالَ بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنفُسُكُمْ أَمْرًۭا ۖ فَصَبْرٌۭ جَمِيلٌ ۖ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَأْتِيَنِى بِهِمْ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْحَكِيمُ ٨٣
কা-লা বাল সাওয়ালাত লাকুম আনফুসুকুম আমরান ফাসাবরুন জামীলুন ‘আসাল্লা-হু আন ইয়া’তিয়ানী বিহিম জামী‘আ ইন্নাহূ হুওয়াল ‘আলীমুল হাকীম
ই‘য়াকুব বলল, ‘না, বরং তোমরা নিজেরাই একটা কাহিনী সাজিয়ে নিয়ে এসেছ, কাজেই ধৈর্য ধারণই আমার জন্য শ্রেয়, সম্ভবতঃ আল্লাহ তাদেরকে একত্রে আমার কাছে এনে দেবেন। তিনি হলেন সর্বজ্ঞ, বড়ই প্রজ্ঞাময়।’
وَتَوَلَّىٰ عَنْهُمْ وَقَالَ يَٰٓأَسَفَىٰ عَلَىٰ يُوسُفَ وَٱبْيَضَّتْ عَيْنَاهُ مِنَ ٱلْحُزْنِ فَهُوَ كَظِيمٌۭ ٨٤
ওয়াতাওয়াল্লা ‘আনহুম ওয়াকা-লা ইয়া-আসাফা ‘আলা ইউসুফা ওয়াবইয়াদ্দাত ‘আইনা-হু মিনাল হুযনি ফাহুওয়া কাযীম
তিনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন আর বললেন, ‘ইউসুফের জন্য বড়ই পরিতাপ।’ শোকে দুঃখে তার দু’চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল, আর সে অস্ফুট মনস্তাপে ভুগছিল।
قَالُوا۟ تَٱللَّهِ تَفْتَؤُا۟ تَذْكُرُ يُوسُفَ حَتَّىٰ تَكُونَ حَرَضًا أَوْ تَكُونَ مِنَ ٱلْهَٰلِكِينَ ٨٥
কা-লূ তাল্লা-হি তাফতাউ তাযকুরু ইউসুফা হাত্তা তাকূনা হারাদান আও তাকূনা মিনাল হা-লিকীন
তারা বলল, ‘আল্লাহর শপথ! আপনি ইউসুফের স্মরণ ত্যাগ করবেন না যতক্ষণ না আপনি মুমূর্ষু হবেন কিংবা আপনি মৃত্যুবরণ করেন।
قَالَ إِنَّمَآ أَشْكُوا۟ بَثِّى وَحُزْنِىٓ إِلَى ٱللَّهِ وَأَعْلَمُ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ٨٦
কা-লা ইন্নামা- আশকূ বাছ্ছী ওয়াহুযনী ইলাল্লা-হি ওয়াআ‘লামু মিনাল্লা-হি মা লা তা‘লামূন
সে বলল, ‘আমি আমার দুঃখ বেদনা আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি, আর আমি আল্লাহর নিকট হতে যা জানি, তোমরা তা জান না।
يَٰبَنِىَّ ٱذْهَبُوا۟ فَتَحَسَّسُوا۟ مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَا۟يْـَٔسُوا۟ مِن رَّوْحِ ٱللَّهِ ۖ إِنَّهُۥ لَا يَا۟يْـَٔسُ مِن رَّوْحِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلْقَوْمُ ٱلْكَٰفِرُونَ ٨٧
ইয়া-বানিয়্যাযহাবূ ফাতাহাস্সাসূ মিন ইউসুফা ওয়াআখীহি ওয়ালা তাইআসূ মির রাওহিল্লা-হি ইন্নাহূ লা ইয়াইআসু মির রাওহিল্লা-হি ইল্লাল কাওমুল কা-ফিরূন
হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও, গিয়ে ইউসুফ আর তার ভাইয়ের খোঁজ খবর লও, আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর রহমাত হতে কেউ নিরাশ হয় না।’
فَلَمَّا دَخَلُوا۟ عَلَيْهِ قَالُوا۟ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْعَزِيزُ مَسَّنَا وَأَهْلَنَا ٱلضُّرُّ وَجِئْنَا بِبِضَٰعَةٍۢ مُّزْجَىٰةٍۢ فَأَوْفِ لَنَا ٱلْكَيْلَ وَتَصَدَّقْ عَلَيْنَآ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ يَجْزِى ٱلْمُتَصَدِّقِينَ ٨٨
ফালাম্মা দাখালূ ‘আলাইহি কা-লূ ইয়া-আইয়্যুহাল ‘আযীযু মাস্সানা ওয়াআহলানাদ দুর্রু ওয়াজি’না বিবিদা-‘আতিম মুযজা-তিন ফাআওফি লানাল কাইলা ওয়াতাসাদ্দাক ‘আলাইনা- ইন্নাল্লা-হা ইয়াজযিল মুতাসাদ্দিকীন
যখন তারা ইউসুফের দরবারে উপস্থিত হল, তারা বলল, ‘হে আযীয! আমাদেরকে আর আমাদের পরিবারবর্গকে বিপদে ঘিরে ধরেছে, আর আমরা স্বল্প পুঁজি নিয়ে এসেছি, আমাদেরকে পূর্ণ ওজনের শষ্য দিন আর আমাদেরকে দান খায়রাত করুন। আল্লাহ দানশীলদেরকে পুরস্কৃত করেন।’
قَالَ هَلْ عَلِمْتُم مَّا فَعَلْتُم بِيُوسُفَ وَأَخِيهِ إِذْ أَنتُمْ جَٰهِلُونَ ٨٩
কা-লা হাল ‘আলিমতুম মা ফা‘আলতুম বিইউসুফা ওয়াআখীহি ইয আনতুম জা-হিলূন
সে বলল, ‘তোমরা কি জান তোমরা ইউসুফ আর তার ভাইয়ের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেছিলে, যখন তোমরা অজ্ঞ-মূর্খ ছিলে?’
قَالُوٓا۟ أَءِنَّكَ لَأَنتَ يُوسُفُ ۖ قَالَ أَنَا۠ يُوسُفُ وَهَٰذَآ أَخِى ۖ قَدْ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَيْنَآ ۖ إِنَّهُۥ مَن يَتَّقِ وَيَصْبِرْ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ ٱلْمُحْسِنِينَ ٩٠
কা-লূ আইন্নাকা লাআনতা ইউসুফু কা-লা আনা ইউসুফু ওয়াহা-যা- আখী কাদ মান্নাল্লা-হু ‘আলাইনা- ইন্নাহূ মান ইয়াত্তাকি ওয়ায়াসবির ফাইন্নাল্লা-হা লা ইউদী‘উ আজরাল মুহসিনীন
তারা বলল, ‘তাহলে তুমিই কি ইউসুফ?’ সে বলল, ‘আমিই ইউসুফ আর এটা হল আমার ভাই। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে আর ধৈর্যধারণ করে এমন সৎকর্মশীলদের কর্মফল আল্লাহ কক্ষনো বিনষ্ট করেন না।’
قَالُوا۟ تَٱللَّهِ لَقَدْ ءَاثَرَكَ ٱللَّهُ عَلَيْنَا وَإِن كُنَّا لَخَٰطِـِٔينَ ٩١
কা-লূ তাল্লা-হি লাকাদ আ-ছারাকাল্লা-হু ‘আলাইনা ওয়াইন কুন্না লাখা-তিঈন
তারা বলল, ‘আল্লাহর কসম! আল্লাহ তোমাকে আমাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন, আমরাই ছিলাম অপরাধী।’
قَالَ لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ ٱلْيَوْمَ ۖ يَغْفِرُ ٱللَّهُ لَكُمْ ۖ وَهُوَ أَرْحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ ٩٢
কা-লা লা তাছরীবা ‘আলাইকুমুল ইয়াওমা ইয়াগফিরুল্লা-হু লাকুম ওয়াহুওয়া আরহামুর রা-হিমীন
সে বলল, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনই অভিযোগ নেই, আল্লাহ তোমাদেরকে মাফ করুন! তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
ٱذْهَبُوا۟ بِقَمِيصِى هَٰذَا فَأَلْقُوهُ عَلَىٰ وَجْهِ أَبِى يَأْتِ بَصِيرًۭا وَأْتُونِى بِأَهْلِكُمْ أَجْمَعِينَ ٩٣
ইযহাবূ বিকামীসী হা-যা ফাআলকূহু ‘আলা ওয়াজহি আবী ইয়া’তি বাসীরাঁ ওয়া’তূনী বিআহলিকুম আজমা‘ঈন
তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও আর তা আমার পিতার মুখমন্ডলে রাখ, তিনি দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হয়ে উঠবেন, আর তোমাদের পরিবারের সবাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো।’
وَلَمَّا فَصَلَتِ ٱلْعِيرُ قَالَ أَبُوهُمْ إِنِّى لَأَجِدُ رِيحَ يُوسُفَ ۖ لَوْلَآ أَن تُفَنِّدُونِ ٩٤
ওয়ালাম্মা ফাসালাতিল ‘ঈরু কা-লা আবূহুম ইন্নী লাআজিদু রীহা ইউসুফা লাওলা- আন তুফান্নিদূন
যাত্রীদল যখন (মিসর থেকে) বেরিয়ে পড়ল এমন সময়ে তাদের পিতা (বাড়ীর লোকজনকে) বলল, ‘তোমরা আমাকে বয়োবৃদ্ধ দিশেহারা মনে না করলে (তোমরা জেনে রাখ) আমি অবশ্যই ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি।’
قَالُوا۟ تَٱللَّهِ إِنَّكَ لَفِى ضَلَٰلِكَ ٱلْقَدِيمِ ٩٥
কা-লূ তাল্লা-হি ইন্নাকা লাফী দালা-লিকাল কাদীম
বাড়ীতে উপস্থিত ব্যক্তিরা বলল, ‘আল্লাহর কসম! তুমি তো সেই তোমার পুরনো বিভ্রান্তিতেই আছ দেখছি।’
فَلَمَّآ أَن جَآءَ ٱلْبَشِيرُ أَلْقَىٰهُ عَلَىٰ وَجْهِهِۦ فَٱرْتَدَّ بَصِيرًۭا ۖ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّىٓ أَعْلَمُ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ٩٦
ফালাম্মা- আন জা-আল বাশীরু আলকা-হু ‘আলা ওয়াজহিহী ফারতাদ্দা বাসীরান কা-লা আলাম আকুল লাকুম ইন্নী আ‘লামু মিনাল্লা-হি মা লা তা‘লামূন
সুসংবাদদাতা যখন এসে হাযির হল, তখন সে জামাটি ই‘য়াকুবের মুখমন্ডলের উপর রাখল, তাতে সে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেল। সে বলল, ‘আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমি আল্লাহর নিকট হতে যা জানি তা তোমরা জান না।’
قَالُوا۟ يَٰٓأَبَانَا ٱسْتَغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَآ إِنَّا كُنَّا خَٰطِـِٔينَ ٩٧
কা-লূ ইয়া-আবা-নাসতাগফির লানা যুনূবানা- ইন্না কুন্না খা-তিঈন
তারা বলল, ‘হে আমাদের পিতা! আমাদের গুনাহসমূহ মাফির জন্য প্রার্থনা করুন। আমরাই ছিলাম অপরাধী।’
قَالَ سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّىٓ ۖ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٩٨
কা-লা সাওফা আসতাগফিরু লাকুম রাব্বী ইন্নাহূ হুওয়াল গাফূরুর রাহীম
সে বলল, ‘শীঘ্রই আমি আমার রবেবর কাছে তোমাদের ক্ষমার জন্য প্রার্থনা জানাব, তিনি তো বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।’
فَلَمَّا دَخَلُوا۟ عَلَىٰ يُوسُفَ ءَاوَىٰٓ إِلَيْهِ أَبَوَيْهِ وَقَالَ ٱدْخُلُوا۟ مِصْرَ إِن شَآءَ ٱللَّهُ ءَامِنِينَ ٩٩
ফালাম্মা দাখালূ ‘আলা ইউসুফা আ-ওয়া- ইলাইহি আবাওয়াইহি ওয়াকা-লাদখুলূ মিসরা ইন শা-আল্লা-হু আ-মিনীন
তারা যখন ইউসুফের কাছে উপস্থিত হল, সে তার পিতা-মাতাকে নিজের কাছে স্থান দিল এবং বলল, ‘আল্লাহর ইচ্ছেয় পূর্ণ নিরাপত্তায় মিসরে প্রবেশ করুন।’
وَرَفَعَ أَبَوَيْهِ عَلَى ٱلْعَرْشِ وَخَرُّوا۟ لَهُۥ سُجَّدًۭا ۖ وَقَالَ يَٰٓأَبَتِ هَٰذَا تَأْوِيلُ رُءْيَٰىَ مِن قَبْلُ قَدْ جَعَلَهَا رَبِّى حَقًّۭا ۖ وَقَدْ أَحْسَنَ بِىٓ إِذْ أَخْرَجَنِى مِنَ ٱلسِّجْنِ وَجَآءَ بِكُم مِّنَ ٱلْبَدْوِ مِنۢ بَعْدِ أَن نَّزَغَ ٱلشَّيْطَٰنُ بَيْنِى وَبَيْنَ إِخْوَتِىٓ ۚ إِنَّ رَبِّى لَطِيفٌۭ لِّمَا يَشَآءُ ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْحَكِيمُ ١٠٠
ওয়ারাফা‘আ আবাওয়াইহি ‘আলাল ‘আরশি ওয়াখার্রূ লাহূ সুজ্জাদাঁ ওয়াকা-লা ইয়া-আবাতি হা-যা তা’উঈলু রু’ইয়া-য়া মিন কাবলু কাদ জা‘আলাহা রাব্বী হাক্কাঁ ওয়াকাদ আহসানা বী ইয আখরাজানী মিনাস সিজনি ওয়াজা-আ বিকুম মিনাল বাদউই মিম বা‘দি আন নাযাগাশ শাইতা-নু বাইনী ওয়াবাইনা ইখওয়াতী ইন্না রাব্বী লাতীফুল লিমা ইয়াশা-আ ইন্নাহূ হুওয়াল ‘আলীমুল হাকীম
সে তার পিতা-মাতাকে সিংহাসনে উঠিয়ে নিল আর সকলে তার সম্মানে সাজদাহয় ঝুঁকে পড়ল। ইউসুফ বলল, ‘হে পিতা! এ-ই হচ্ছে আমার সে আগের দেখা স্বপ্নের ব্যাখ্যা। আমার রব্ব একে সত্যে পরিণত করেছেন, তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি আমাকে কয়েদখানা থেকে বের করে এনেছেন। আর শাইত্বান আমার আর আমার ভাইদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার পরও তিনি আপনাদেরকে মরু অঞ্চল থেকে এখানে (মিসরে) এনে দিয়েছেন। আমার রব্ব যা করতে ইচ্ছে করেন তা সূক্ষ্ণ উপায়ে বাস্তবায়িত করে থাকেন, তিনি বড়ই বিজ্ঞ, বড়ই প্রজ্ঞাময়।
۞ رَبِّ قَدْ ءَاتَيْتَنِى مِنَ ٱلْمُلْكِ وَعَلَّمْتَنِى مِن تَأْوِيلِ ٱلْأَحَادِيثِ ۚ فَاطِرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ أَنتَ وَلِىِّۦ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ ۖ تَوَفَّنِى مُسْلِمًۭا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّٰلِحِينَ ١٠١
রাব্বি কাদ আ-তাইতানী মিনাল মুলকি ওয়া‘আল্লামতানী মিন তা’উঈলিল আহা-দীছ ফা-তিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি আনতা ওয়ালিয়্যী ফিদ দুনইয়া ওয়ালআ-খিরাতি তাওয়াফ্ফানী মুসলিমাঁ ওয়াআলহিকনী বিস্সা-লিহীন
‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে রাজত্ব দান করেছ, আর আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিখিয়েছ। আসমান যমীনের সৃষ্টিকর্তা! তুমিই দুনিয়ায় আর আখেরাতে আমার অভিভাবক, তুমি মুসলিম অবস্থায় আমার মৃত্যু দান করো এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করো।’
ذَٰلِكَ مِنْ أَنۢبَآءِ ٱلْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ ۖ وَمَا كُنتَ لَدَيْهِمْ إِذْ أَجْمَعُوٓا۟ أَمْرَهُمْ وَهُمْ يَمْكُرُونَ ١٠٢
যা-লিকা মিন আমবা-ইল গাইবি নূহীহি ইলাইকা ওয়ামা কুনতা লাদাইহিম ইয আজমা‘ঊ আমরাহুম ওয়াহুম ইয়ামকুরূন
অদৃশ্য জগতের খবর থেকে এটা তোমাকে ওয়াহী করে জানালাম। ষড়যন্ত্র করার সময় যখন তারা তাদের কাজে জোটবদ্ধ হয়েছিল তখন তুমি তো তাদের কাছে ছিলে না।
وَمَآ أَكْثَرُ ٱلنَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ ١٠٣
ওয়ামা- আকছারুন না-সি ওয়ালাও হারাসতা বিমু’মিনীন
তুমি যত প্রবল আগ্রহ ভরেই চাও না কেন, মানুষদের অধিকাংশই ঈমান আনবে না।
وَمَا تَسْـَٔلُهُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌۭ لِّلْعَٰلَمِينَ ١٠٤
ওয়ামা তাসআলুহুম ‘আলাইহি মিন আজর ইন হুওয়া ইল্লা যিকরুল লিল‘আ-লামীন
তুমি তার জন্য তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছ না, এটা তো বিশ্বজগতের সকলের জন্য উপদেশ মাত্র।
وَكَأَيِّن مِّنْ ءَايَةٍۢ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ يَمُرُّونَ عَلَيْهَا وَهُمْ عَنْهَا مُعْرِضُونَ ١٠٥
ওয়াকাআইয়্যিম মিন আ-য়াতিন ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ইয়ামুর্রূনা ‘আলাইহা ওয়াহুম ‘আনহা মু‘রিদূন
আসমানে আর যমীনে বহু নিদর্শন আছে যেগুলোর উপর দিয়ে তারা (প্রতিনিয়ত) অতিক্রম করে কিন্তু এসব কিছু থেকে তারা অবজ্ঞা করছে।
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُم بِٱللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشْرِكُونَ ١٠٦
ওয়ামা ইউ’মিনু আকছারুহুম বিল্লা-হি ইল্লা ওয়াহুম মুশরিকূন
অধিকাংশ মানুষ আল্লাহতে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।
أَفَأَمِنُوٓا۟ أَن تَأْتِيَهُمْ غَٰشِيَةٌۭ مِّنْ عَذَابِ ٱللَّهِ أَوْ تَأْتِيَهُمُ ٱلسَّاعَةُ بَغْتَةًۭ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ١٠٧
আফাআমিনূ আন তা’তিয়াহুম গা-শিয়াতুম মিন ‘আযা-বিল্লা-হি আও তা’তিয়াহুমুস সা-‘আতু বাগতাতাঁ ওয়াহুম লা ইয়াশ‘উরূন
তারা কি নিশ্চিন্ত যে, আল্লাহর সর্বগ্রাসী ‘আযাব তাদের উপর এসে পড়বে না? কিংবা হঠাৎ ক্বিয়ামাত তাদের উপর এসে পড়বে না যা তারা টেরও পাবে না?
قُلْ هَٰذِهِۦ سَبِيلِىٓ أَدْعُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ ۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا۠ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِى ۖ وَسُبْحَٰنَ ٱللَّهِ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ١٠٨
কুল হা-যিহী সাবীলী আদ‘ঊ ইলাল্লা-হ ‘আলা বাসীরাতিন আনা ওয়ামানিত তাবা‘আনী ওয়াসুবহা-নাল্লা-হি ওয়ামা- আনা মিনাল মুশরিকীন
বল, ‘এটাই আমার পথ, আল্লাহর পথে আহবান জানাচ্ছি, আমি ও আমার অনুসারীরা, স্পষ্ট জ্ঞানের মাধ্যমে। আল্লাহ মহান, পবিত্র; আমি কক্ষনো মুশরিকদের মধ্যে শামিল হব না।
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًۭا نُّوحِىٓ إِلَيْهِم مِّنْ أَهْلِ ٱلْقُرَىٰٓ ۗ أَفَلَمْ يَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَيَنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۗ وَلَدَارُ ٱلْءَاخِرَةِ خَيْرٌۭ لِّلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ١٠٩
ওয়ামা- আরসালনা মিন কাবলিকা ইল্লা রিজা-লান নূহী ইলাইহিম মিন আহলিল কুরা- আফালাম ইয়াসীরূ ফিল আরদি ফায়ানযুরূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়ালাদা-রুল আ-খিরাতি খাইরুল লিল্লাযীনাত তাকাও আফালা তা‘কিলূন
তোমার পূর্বে জনপদবাসীদের মধ্যে যাদের কাছে ওয়াহী করতাম তারা পুরুষ মানুষ ব্যতীত ছিল না। তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করতঃ দেখে না যে, তাদের পূর্ববর্তী লোকেদের পরিণাম কী হয়েছিল? যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, নিশ্চিতই পরলোকের ঘর তাদের আরো উত্তম, তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
حَتَّىٰٓ إِذَا ٱسْتَيْـَٔسَ ٱلرُّسُلُ وَظَنُّوٓا۟ أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا۟ جَآءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّىَ مَن نَّشَآءُ ۖ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ ٱلْقَوْمِ ٱلْمُجْرِمِينَ ١١٠
হাত্তা- ইযাসতাইআসার রুসুলু ওয়াযান্নূ আন-নাহুম কাদ কুযিবূ জা-আহুম নাসরুনা ফানুজ্জিয়া মান নাশা-উ ওয়ালা ইউরাদ্দু বা’সুনা ‘আনিল কাওমিল মুজরিমীন
(হে নাবী! তোমার পূর্বেও এমন ঘটেছে যে,) শেষ পর্যন্ত রসূলগণ নিরাশ হয়েছে, আর লোকেরা মনে করেছে যে, তাদেরকে মিথ্যে কথা বলা হয়েছে, তখন তাদের (রাসূলদের) কাছে আমার সাহায্য এসে পৌঁছেছে, এভাবেই আমি যাকে ইচ্ছে রক্ষা করি। অপরাধী সম্প্রদায় থেকে আমার শাস্তি কক্ষনো ফিরিয়ে নেয়া হয় না।
لَقَدْ كَانَ فِى قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌۭ لِّأُو۟لِى ٱلْأَلْبَٰبِ ۗ مَا كَانَ حَدِيثًۭا يُفْتَرَىٰ وَلَٰكِن تَصْدِيقَ ٱلَّذِى بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَىْءٍۢ وَهُدًۭى وَرَحْمَةًۭ لِّقَوْمٍۢ يُؤْمِنُونَ ١١١
লাকাদ কা-না ফী কাসাসিহিম ‘ইবরাতুল লিউলিল আলবা-ব মা কা-না হাদীছাঁ ইউফতারা ওয়ালা-কিন তাসদীকাল লাযী বাইনা ইয়াদাইহি ওয়াতাফসীলা কুল্লি শাইইঁ ওয়াহুদাঁ ওয়ারাহমাতাল লিকাওমিঁ ইউ’মিনূন
এদের কাহিনীসমূহে বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় আছে। এ কুরআন কোন মিথ্যে রচনা নয়, বরং তাদের পূর্বে আগত কিতাবের প্রত্যয়নকারী আর যাবতীয় বিষয়ের বিস্তারিত বিররণে সমৃদ্ধ, আর মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য পথের দিশারী ও রহমাত।